This is a strange world. Normal people do not live in this strange world! Different types of mental imbalance in wandering. People. Some are a little sick, some more! Someone or psycho again! It floats in the middle of the night. Their screams. Psychiatrists and neurologists continue to be killed one after another in such a creepy, unusual environment! CID is in trouble! Strict interrogation cannot be done for the sake of humanity of the mentally ill. Meanwhile, the eyewitnesses of this murder are mentally angry! How to speak from their stomachs. Is it possible to get out? The baby boy was involved in the murder. Cuckoo. All the evidence, its unusual. Behavior repeatedly calls him a 'murderer'. But does this murder really have anything to do with dogs at all? Why are doctors being killed? He descended into this mystery. Officer Adhiraj Banerjee! What will be found in the end. The real killer? In the midst of this mystery - the darkness is formed by ‘khapa khuje khuje fere’.
সায়ন্তনীর গড়িয়ায় বাস। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ও কলকাতা ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির শখ। কবিতা ও গদ্য দুইই চর্চার বস্তু।ক্লাস সেভেনে প্রথম প্রকাশ সংবাদ প্রতিদিনের শনিবাসরীয় পাতায়'চশমা' ছোট গল্প। তারপর প্রতিদিন, বর্তমান, সুখী গৃহকোণ, আর ছোটদের পত্রিকা সাহানা আর বাংলা দেশের পত্রিকা ভোরের কাগজে লাগাতার লিখে যাওয়া।
সক্কাল থেকে মনটা থ্রিলার থ্রিলার করতেছিল আর ক'দিন আগে হরর, দুইয়ে মিলে মাথায় আসলো সায়ন্তনী পূততুন্ড :3 তাই আর সময় নষ্ট না করে "খ্যাপা খুঁজে খুঁজে ফেরে" নিয়ে বসা। এক বসাতেই শেষ করা যায় এমন থ্রিলার। পড়া শেষ করে এখন মনে হচ্ছে আশেপাশে ছয়ফুটি যুবকদল ঘুরে বেড়াচ্ছে (ছয় ফুট কথাটার পুনরাবৃত্তি এতটাই ছিল ¬_¬")
একটা পুরানা ব্রিটিশ আমলের পরিত্যক্ত বাড়িতে থাকে কিছু মানসিক রোগী, তাদের সেবক আর ডাক্তাররা মানে বাড়িখানা এখন একটা মেন্টাল অ্যাসাইলাম যার প্রতিষ্ঠাতা ডক্টর মনোহর চৌধুরী। মনোহর চৌধুরী এবং আরও কয়েকজন ডাক্তারদের প্রচেষ্টায় মেন্টাল অ্যাসাইলামটি চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন বয়সী মানসিক রোগীদের। এছাড়া উনাদের আওতায় বেশ ক'জন নৃশংস সিরিয়াল কিলার, সাইকোরাও রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল কিন্তু এরমাঝে অ্যাসাইলামের একজন ডক্টর খুন হয়ে যান। দেখা যায় ভিক্টিমের পাশেই রক্তমাখা ক্রিকেট ব্যাট আর ব্যাটটা অ্যাসাইলামের শিশু ওয়ার্ডের একজনের তবে কি বাচ্চা কেউ এ কাজটি করেছে কিন্তু ভিক্টিমের উচ্চতা ছ ফুটের বেশি, তাকে আবার মাথায় আঘাত করে মারা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে জটিল মনে হয় ফরেনসিক এক্সপার্ট চ্যাটার্জীর কাছে। কাজেই ডাক পড়ে চৌকস সুদর্শন ছ'ফুটি অফিসার অধিরাজের! আপনাকে স্বাগতম, এবার খোঁজাখুঁজি শুরু...
ভালোই লাগলো "খ্যাপা খুঁজে খুঁজে ফেরে", বেশ থ্রিলিং। তবে বর্ণনাগুলো যেন একটু কেমন কেমন লাগলো। ফরেনসিক এক্সপার্টের দাপাদাপি দেখে সনির সিআইডির সিন মাথায় আসতেছিল বারবার, কেন জানি এখন এগুলা ভাল লাগে না, মনে হয় লেখার মধ্যে জোর করে ঢুকিয়ে দেয়া সস্তা কমেডি। আর শুরুর দিকের বর্ণনাতেই কেন জানি ধরে ফেললাম কালপ্রিট কেমন হবে! লেখিকা বেশ পড়াশোনা করেই লিখেছেন। থ্রিলারপ্রেমীরা সময় করে পড়তেই পারেন।
নির্জন এলাকায় একটা পুরনো মেন্টাল হসপিটাল; নানা বয়সী, নানান রকমের মানসিক রোগী। কয়েকজন চিকিৎসক, নতুন রোগীর আগমণ, এবং থ্রিলারের সেই চিরাচরিত আবেদন.... খুন।
লিটারেচারের স্টুডেন্ট হয়েও লেখিকা ফরেনসিক মেডিসিন এবং সাইকিয়াট্রির জ্ঞানের এত চমৎকার প্রয়োগ দেখিয়েছেন, যাতে মুগ্ধ হতেই হয়। প্লট সেটিং এবং রহস্যের মারপ্যাচের কথা মাথায় রাখলে একদম টানটান উত্তেজনাপূর্ণ থ্রিলার।
আগাথা ক্রিস্টি অথবা প্যাট্রিসিয়া কর্ণওয়েল ফ্যানদের জন্য হাইলি রেকমেন্ডেড। থ্রিলার পড়তে যারা পছন্দ করেন,নিঃসন্দেহে হাতে তুলে নিতে পারেন বইটা।
বিপজ্জনক মানসিক রোগীতে ভরা একটি অ্যাসাইলামে খুন হলেন একজন ডাক্তার। খুনিকে যিনি দেখেছিলেন, তিনি মনোরোগী। তাঁর দেওয়া বর্ণনা শুনেও এগোনো প্রায় অসম্ভব। তাহলে কী হবে উপায়? সি.আই.ডি অফিসার অধিরাজ, তার সহকারী অর্ণব, এমনকি স্বয়ং ডক্টর চ্যাটার্জিকে মাঠে, থুড়ি অ্যাসাইলামে নামতে হল তদন্তের জন্য। তারপর হল আরও একটা খুন! কী চলছে এই অ্যাসাইলামে?
রহস্যভেদী অধিরাজের কঠিনতম কেসগুলোর মধ্যে পড়বে এটি। এও স্বীকার্য যে লেখক যে পরিমাণ পরিশ্রম, নিবিড় পাঠ এবং সহানুভূতি দিয়ে এই কাহিনির প্রতিটি চরিত্র, তাদের আচরণ, ক্রাইম ও মোটিভ নির্মাণ করেছেন— তা শিক্ষণীয়। এইরকম গল্প একবার পড়ার পর তার রেশ মনে থেকে যেতে বাধ্য। সত্যের সন্ধানে খ্যাপাকে যে খুঁজে ফিরতেই হয়— সেই কথাটা নিপুণ ও নির্মমভাবে ফুটিয়ে তুললেন সায়ন্তনী এই বইয়ে। তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। বইটা পেলে অবশ্যই পড়ুন।
একটি পুরনো পরিত্যক্ত বাড়ির মধ্যে একটি মেন্টাল অ্যাসাইলাম গড়ে তোলেন ডঃ মনোহর চৌধুরী। তিনি ও আরো কয়েকজন ডাক্তার, কিছু নার্স ও কর্মচারী মিলে এই অ্যাসাইলামটি চালান। তারপর একদিন দেখা দিল বিরাট বিপদ। হাসপাতালের করিডোরে মাথার আঘাতে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেল এক ডাক্তারকে। সব তথ্য প্রমাণ বলছে যে এ কোন বাচ্চার কাজ! এবারে পুলিশ মাঠে নামতে গিয়ে বুঝলো যে মানসিক রোগীদের বারবার জেরা করলে তাঁদের আরো ক্ষতি হতে পারে। হোমিসাইড ডিপার্টমেন্টের অফিসার অধিরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়, অফিসার অর্ণব ও ডঃ চ্যাটার্জি ছদ্মবেশে ঢুকে পড়েন সেই হাসপাতালে (কে কোন ছদ্মবেশে আছেন তা পাঠক ক্রমশ জানতে পারেন)। এদিকে খুন হয়ে গেলেন আরেকজন ডাক্তার!
এটা কি মানসিক ভারাম্যহীন কোন রোগীর কাজ? নাকি রোগীর বেশে লুকিয়ে আছে কোনও সুস্থ বুদ্ধিমান শয়তান খুনি?
সত্যিই কি কোন বাচ্চা খুনগুলো করছে? তার শরীরে এত শক্তি আসে কীভাবে?
কীই বা তার উদ্দেশ্য? কয়েকজন দেবতুল্য ডাক্তারকে খুন করে কার কী লাভ?
--- লেখিকা এই অধিরাজ সিরিজের বইগুলো লিখতে অনেক পড়াশোনা করেন সেটা বোঝা যায় এবং এইজন্য তাঁর সাধুবাদ প্রাপ্য।
এটা আমার পড়া অধিরাজ সিরিজের তৃতীয় বই।
'সর্বনাশিনী' ও 'চুপি চুপি আসছে' এই দুটি উপন্যাসে লেখিকা খুনির অবস্থাকে কিছু সহানুভুতির দৃষ্টিতে দেখিয়েছেন। তবে এই উপন্যাসে সেরকম সুযোগ নেই। বাকি দুটি বইয়ের মত এই কেসটিও খুবই প্যাঁচালো, কিন্তু তুলনামুলক কম নৃশংস। যারা ডিটেক্টিভ আর হরর বই পড়তে ভালোবাসেন আর এই সিরিজের খোঁজ এখনও পাননি তাঁরা শীঘ্রই এই বইগুলি সংগ্রহ করুন। গায়ে কাঁটা দেবে, মাথায় জট পাকিয়ে দেবে।
অনেকেই অধিরাজ সিরিজের সেরা বলতে 'সর্বনাশিনী' ও 'চুপি চুপি আসছে'র নাম করেন। ওই দুটি বই পড়ে যথেষ্ট ভালো লাগা সত্ত্বেও আমি এগিয়ে রাখবো 'খ্যাপা খুঁজে খুঁজে ফেরে'কে
খ্যাপা খুঁজে খুঁজে ফেরে বইটি শেষ করলাম, এবং এটি আমার মধ্যে মিশ্র অনুভূতি সৃষ্টি করেছে। গল্পের শুরুতেই একটি পুরনো ব্রিটিশ আমলের পরিত্যক্ত বাড়িকে মেন্টাল অ্যাসাইলামে রূপান্তরিত করার বর্ণনা আছে, যা আমার বেশ ভালো লেগেছে। ডক্টর মনোহর চৌধুরী এবং তার সহকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের মানসিক রোগীদের চিকিৎসা করছেন, এমনকি নৃশংস সিরিয়াল কিলারদেরও এখানে রাখা হয়েছে। এই সেটিংসটি আমাকে আকৃষ্ট করেছে, কারণ এটি গল্পে একটি ভৌতিক রহস্য যোগ করে।
গল্পের মূল রহস্য শুরু হয় যখন একজন ডাক্তার খুন হন এবং ঘটনাস্থলে রক্তমাখা একটি ক্রিকেট ব্যাট পাওয়া যায়। এই ব্যাটটি অ্যাসাইলামের শিশু ওয়ার্ডের একজনের, যা সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়। ফরেনসিক এক্সপার্ট ডক্টর চ্যাটার্জীর মতে, খুনির উচ্চতা প্রায় বাচ্চার সমান, কিন্তু এটা কি সম্ভব যে একটি বাচ্চা প্রায় ছ ফুটের একজন মানুষকে হত্যা করতে পারে?
এই জটিল কেস পুলিশের সমাধানের কম্য নয় তা আমরা সকলেই জানি আর সমাধানের জন্য চৌকস ছ'ফুটি সিআইডি অফিসার অধিরাজ মাঠে নামেন। এখান থেকেই শুরু হয় রহস্যের গভীরে প্রবেশ করার চেষ্টা। কাহিনীর মধ্যে যে থ্রিলের উপাদান রয়েছে তা প্রশংসনীয়, কিন্তু কিছু কিছু বর্ণনা আমার কাছে একটু অতিরিক্ত মনে হয়েছে। এছাড়া ফরেনসিক এক্সপার্টের দাপাদাপি দেখে বারবার হাসির বদলে বিরক্তই হচ্ছিলাম, এক জিনিস আর কতই-বা গেলা যায় আপনিই বলুন!
একই সময়ে, ইন্টার্ন ডাক্তার অর্চিষ্মান অ্যাসাইলামে যোগ দেন, সাথে নিয়ে আসেন একজন আত্মঘাতী রোগী এবং একজন কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার। এর কিছুদিন পরেই আবার একজন ডাক্তার খুন হন, এবং খুনি মার্ডার ওয়েপন হিসেবে আবারও ক্রিকেট ব্যাট ব্যবহার করে। ডক্টর অসীম চ্যাটার্জী আবারও জোর দিয়েই বলেন যে, খুনির উচ্চতা একটি বাচ্চার সমান ফলে কুক্কু এবং পুপু, যারা অ্যাসাইলামে থাকা নিঃশ্বাপ বাচ্চা হওয়া সত্ত্বেও সন্দেহের তালিকায় চলে আসে।
ইন্টার্ন ডাক্তার অর্চিষ্মান এবং আত্মঘাতী রোগীর আচরণ সন্দেহজনক হয়ে ওঠে। সিরিয়াল কিলারদের ফ্লোরে রাতে একজন অজ্ঞাত আগন্তুকের আনাগোনা শুরু হয়, যা রহস্যের মিশ্রণ আরও বাড়িয়ে দেয়।
উপন্যাসের একটি দিক যা আমার ভালো লাগেনি তা হল অতিরিক্ত চরিত্রের উপস্থিতি গল্পটিকে কিছুটা অগোছালো করে তুলেছে, এবং কিছু চরিত্রের যথেষ্ট বিকাশ ঘটেনি। শুরুর দিকেই কালপ্রিটের ধরণ কিছুটা বুঝতে পারা যায়, যা একটু হতাশার কারণ
সব মিলিয়ে, খ্যাপা খুঁজে খুঁজে ফেরে একটি আকর্ষণীয় বই যা সফলভাবে সাসপেন্স এবং রহস্য বজায় রাখতে সক্ষম। কিছু ছোটখাটো ত্রুটি সত্ত্বেও, এটি একটি পড়ার মতো বই, বিশেষত যারা মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার উপভোগ করেন তাদের জন্য।
রুদ্ধশ্বাসে পড়ে ফেললাম লেখিকা সায়ান্তনি পূততুন্ড এর লেখা একদম টানটান উত্তেজনাপূর্ণ থ্রিলার "খ্যাপা খুঁজে খুঁজে ফেরে"। উপন্যাসের সূত্রপাত এ আছে নির্জন এলাকায় অবস্থিত একটি মেন্টাল হসপিটাল; সেখানের ভিন্ন বয়সী, ভিন্ন প্রকারের মানসিক রোগী, তাদের অদ্ভুত, রহস্যময় আচরণ, কয়েকজন অভিজ্ঞ এবং বিচিত্র চরিত্রের চিকিৎসক, যা এই উপন্যাস এর রহস্যকে ঘনীভূত করে তুলে তাকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। আর হ্যা যেটা ছাড়া একটি থ্রিলার অসম্পূর্ণ, তাহলো খুন।
লেখিকা যে অসম্ভব রিসার্চ এবং পরিশ্রম করে থ্রিলার টি লিখেছেন, তা এই উপন্যাস এর দুর্দান্ত প্লট সেটিং এবং রহস্যের মারপ্যাচের ব্যাপারটি পড়েই বোঝা যায়। টুইস্ট আর টার্নিংগুলো দারুন লেগেছে। ভালো লেগেছে গোয়েন্দা অধীরাজ ব্যানার্জি এর চরিত্র টিকে। এই সিরিজ এর আরো থ্রিলার গুলি পড়ার ইচ্ছে রইলো। এই সিরিজের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো থ্রিলারের সাথে হিউমারের চমৎকার ব্যবহার, যা এই উপন্যাস কে এক অন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
থ্রিলারপ্রেমী বন্ধুরা যারা জমজমাট, টানটান- উত্তেজনাময় রহস্য উপন্যাস পড়তে পছন্দ করেন, তাদের জন্য হাইলি রেকমেন্ডেড। চুম্বকের মত আঁটকে রাখার সমস্ত উপকরণ রয়েছে এই বইয়ে। তাই যারা এখনও পড়েননি, তারা দায়িত্ব নিয়ে পড়ে ফেলুন বইটি।
বহু বছরের পুরনো অট্টালিকা! এক কথায় অভিশপ্ত! অনেক রক্তারক্তি কান্ড দেখেছে এই প্রাসাদ৷ অনেক খুনের ইতিহাস লেখা ওর পাঁজরে। এর বিষণ্ণ, অন্ধকারাচ্ছন্ন প্রতিটি করিডোরের বাঁকে বাঁকে লুকিয়ে আছে রহস্যময় অন্ধকার । কত কিছু ঘটে যায় সবার অজান্তেই। আলো আঁধারিতে কত কাহিনীর পরত খোলে। কেউ জানে না, কেউ শোনে না! একের পর এক খুন হচ্ছেন ডাক্তাররা। কাঠগড়ায় সম্ভাব্য খুনী হিসেবে এবার একটা বাচ্চা! বিরাট অ্যাসাইলামের তিনতলায় হেঁটে বেড়াচ্ছে সাইকো কিলাররা! তাদের পায়ের শিকল এই নৈঃশব্দের মধ্যে অদ্ভুত একটা আওয়াজ তুলছে! খুনী ফরেনসিককে বিভ্রান্ত করছে।কিন্তু কে?কনফিউশনের পর কনফিউশন! মোটিভ কী? কবে বন্ধ হবে এই হত্যালীলা! রাত বারোটা বাজলেই গোটা অ্যাসাইলাম যেন আতঙ্কে গুটিয়ে যায়। সবার মনেই এক প্রশ্ন–‘আজ কার পালা!’ ‘এক বাঁও মেলে না, দুই বাঁও মে–লে না!’ মিলবে কী? খ্যাপা খুঁজে খুঁজে ফেরে সম্পূর্ণ নতুন কলেবরে
লেখিকার আগের অধিরাজ গল্প গুলির তুলনায় এটি বেশি ভালো। শত ব্যস্ততার মাঝেও এক বসাতে গল্প শেষ করিয়ে দেওয়ার সম্মোহন আছে লেখিকার কলমে। বুদ্ধিমত্তার জন্য পুলিশমহলে প্রশংসিত অধিরাজ আর বল প্রদর্শন করে অভিযুক্তদের মুখ খোলার জন্য চর্চিত লাহিড়ীর মধ্যে একটা চোরা সংঘর্ষ/ব্যাঘাত দেখানোর হাতছানি লেখিকা সযত্নে এড়িয়ে গেছেন। তাই আর পাঁচটা বইয়ের থেকে এই বইটা আলাদা হয়েছে।
এবার আসি খারাপ লাগায়। পুরো গল্পজুড়ে প্রচুর অসঙ্গতি আর প্লটহলে গল্পের মজা অনেকটাই নষ্ট হয়েছে। লেখিকা হয়তো আগাথা ক্রিস্টিকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়েছেন এই বইয়ে । সেরকমই এক বিলাসবহুল প্রাসাদোপম বাড়ি। বিভিন্ন আনকোরা চরিত্রের একই জায়গায় সমাবেশ, যারা কেউই সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। আর একটা খুনের বিভীষিকা কাটতে না কাটতেই আরেকটা খুন। তার উপর এসে পড়েছে মানসিক রোগীদের মাঝে সারাদিন কাটানোর দমবন্ধতা । তবে এত বড় বিখ্যাত মানসিক হাসপা���াল যেখানে লালবাজার পুলিশ তাদের অভিযুক্তদের রেখে যায় সেখানে একটা সিসিটিভি নেই! খুনির হাইট নিয়ে পুলিশের এরকম ভ্রম হওয়া হাস্যকর। স্পয়লার এড়াতে আর অসঙ্গতি নিয়ে লিখলাম না। তাই ভালো রহস্য গল্প হওয়ার বেশ কিছু উপকরণ এখানে থাকলেও শেষমেষ তিন তারাই দিতে হলো ।
💫📚বহু বছরের পুরনো অট্টালিকা । এক কথায় অভিশপ্ত এই বাড়িটি বর্তমানে মেন্টাল অ্যাসাইলাম । অতীতে অনেক রক্তারক্তি কাগু দেখেছে এই প্রাসাদ । অনেক খুনের ইতিহাস লেখা ওর পাঁজরে । এর বিষণ্ণ অন্ধকারাচ্ছন্ন প্রতিটি গলিখুঁজিতে লুকিয়ে আছে রহস্যময় অন্ধকার । আলো - আঁধারিতে কত কাহিনির পরত খোলে । তার মধ্যেই একের পর এক খুন হচ্ছেন ডাক্তাররা । কাঠগড়ায় সম্ভাব্য খুনী হিসেবে একটি বাচ্চা ! বিরাট অ্যাসাইলামের তিনতলায় হেঁটে বেড়ায় নৃশংস সাইকো - কিলাররা । প্রত্যক্ষদর্শীরা মানসিক রোগী হওয়ার কারণে তাদের বয়ান পরস্পরবিরোধী । ফরেনসিক বিভাগ বিভ্রান্ত । রাত বারোটা বাজলেই গোটা অ্যাসাইলাম আতঙ্কে কুঁকড়ে যায় । এবার কার পালা ? কবে বন্ধ হবে এই হত্যালীলা ? অন্ধকার অ্যাসাইলামের রহস্যভেদ করতে পারবে কি অধিরাজ ?📚💫
শেষ হল, অধিরাজ সিরিজের স্বতন্ত্র বইগুলো সবকটা পড়া। একমাত্র এই বইটাই বাকি ছিল, লাইব্রেরীতে ঢুকে দেখতে পেয়ে আর দেরি করিনি তুলে নিতে।
যদি সময়কাল অনুযায়ী দেখা যায় তবে অধিরাজ সিরিজের স্বতন্ত্র উপন্যাস এটাই প্রথম, তারপর সর্বনাশীনি, চুপি চুপি আসছে ও ডেয়ার অর ডাই। অবশ্য বহুরূপী ১ ও ২ ও আছে সেগুলোতে শুধু অধিরাজের গল্প নেই, অন্য গল্পও আছে, কয়েকটি গল্পের সংকলন হিসেবে রয়েছে। আমি সময়কাল হিসেবে পড়িনি এই সিরিজ, সেটা আমার রিভিউগুলো দেখলেই বোঝা যায় তবে যদি কেউ সময়কাল অনুযায়ী পড়ে তাহলে সে কেস, অধিরাজ ও তার টিমের গ্রোথটা আরো ভালো ভাবে উপলব্ধি করতে পারবে। যদি পরপর নাও পড়েন তাও অনায়াসে বোঝা যায়।
এবার আসি কেসের কথায়, এই বইতে সমগ্র কেসটা ঘটছে একটা অ্যাসাইলামের মধ্যে, যেখানে খুন হলেন একজন ডাক্তার এবং কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে এক বাচ্চাকে যে ওই হাসপাতালের আরেকজন পেশেন্ট। সে কি আদৌ খুন করতে পারে? এই সন্দেহের অবসান করতেই কেস হাতে তুলে নেয় অধিরাজের টিম।
টানটান উত্তেজনায় আবারও রাত জাগাবে এই বই, লেখিকার কলমে এক অবর্ণনীয় জাদু আছে, ওনার বই ছেড়ে উঠে যাওয়ার সাধ্যি কারুর হবে না। পুরো বই একবারে শেষ না করতে পারলে মনে হবে 'গেল সবকটা চরিত্রই বোধহয় মারা পড়ে গেল'। কি অসম্ভব টান। আমি এখন থেকে ধরেই রাখি যেদিন ওনার বই পড়ব সেদিন আর কোনো কাজ হবে না আমার, বাড়িতেও জানিয়ে রাখি আগে থেকে। এই বইটায় মানসিক রোগের ডাক্তারদের কথা লেখিকা যেভাবে লিখেছেন তা সত্যিই আপনাকে ভাবতে বাধ্য করবে। আমাদের মধ্যে চিরকালই মনের রোগ নিয়ে এক তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার প্রবণতা আছে, অবশ্য সেটা আমাদের দোষ না। বংশানুক্রমে আমরা এটাই দেখে আসছি, মনও যে শরীরের মতোই খারাপ হতে পারে এবং সেই খারাপ হওয়ার পিছনে যে অনেকরকম কারণ থাকতে পারে তার কনসেপ্টই নেই বেশিরভাগ মানুষের কাছে। ফলে ট্রিটমেন্ট নেওয়ার কথা সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই সেই রোগের কাছে খুন হয়ে যান কত মানুষ। এরকম অবস্থায় দাঁড়িয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষগুলোর পাশে যারা দাঁড়ান সেই ডাক্তারদেরকেই বা বোঝে কজন, এখনও সাইকোলজিস্ট হবো বললে স্টুডেন্ট দের শুনতে হয় পাগলের ডাক্তার হয়ে কি করবি? এই বই এসব নিয়েও কথা বলে যায়। থ্রিলার লেখার একটা বিশাল সুবিধা হল উত্তেজনা ও রহস্য বজায় রেখে সমাজের সবকিছু ছুঁয়ে যাওয়া যায় অনায়াসে,অন্য অধিরাজের বইগুলোর মতো এই বইও তা করেছে পুরোদমে। তবে এবারেও প্রেডিক্টেবল ছিল ক্রিমিনাল অন্তত আমার জন্য। লেখিকার আরেকটি গুণ হল, শেষ অবধি আপনি সন্দেহ করবেন একজনকে আর অপরাধী বেরোবে ঠিক তার পাশের জন, তো এই ফর্মুলায় ফেললে মোটামুটি বোঝাই যায় কে অপরাধী বেরোবে। কিন্তু এখানে বলে রাখা দরকার এটা অধিরাজ সিরিজের প্রথম বই তাই এই ফর্মুলা খেটে গেছে যদিও ডেয়ার অর ডাইতেও এই ফর্মুলা খাটবে, বাকিগুলোতে খাটার চান্স কম। আর একটা ব্যাপার হল, ডক্টর চ্যাটার্জীর সবকিছুতেই ক্ষেপে ওঠাটা একটু বিরক্তিকর, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওটা ভাল লাগে কিন্তু সবজায়গায় ওনার ক্ষেপে ওঠাটা ভাড়ামো লাগে, তখন হাসিও পায় না। প্রচ্ছদটি এবারেও আমার ভালোই লেগেছে, বইটা পুরোটা পড়ার পর প্রচ্ছদের অর্থটা আরো পরিষ্কার হয়ে যায়। শেষে বলি থ্রিলার প্রেমী হলে অধিরাজ সিরিজ মাস্ট রিড। আর যদি থ্রিলার প্রেমী নাও হন তাহলেও পড়ে দেখুন ভালো লাগবে।
এর আগে আমি অধিরাজ সিরিজের 'ডেয়ার অর ডাই' বইটি পড়েছিলাম, ঠিকঠাকই লেগেছিল। ‘খ্যাপা খুঁজে খুঁজে ফেরে’ উপন্যাসটি কালকেই শেষ করলাম। উপন্যাসটি সংক্ষেপে স্পয়লার ছাড়া আলোচনা করার চেষ্টা করলাম। ঘটনার শুরু একটি মানসিক হাসপাতাল থেকে। যেটি আবার আগে একটি ভুতুড়ে জায়গা ছিল বলে জানা যায়। এখানে বিভিন্ন ফ্লোরে বিভিন্ন রকম মানসিক রোগীদের চিকিৎসা করা হতো। হসপিটালের একটি ফ্লোরে শুধুমাত্র কুখ্যাত সিরিয়াল কিলারদের রাখা হতো, যাদের ঠিক হওয়ার কোনো আশা নেই বললেই চলে। ওই ফ্লোরে যেতে যেকোনো ডাক্তার ভয় পেত কারণ ওই সিরিয়াল কিলারের না আছে মায়া দয়া, না আছে অপরাধবোধ। তারপর একদিন হঠাৎ একজন চিকিৎসক খুন হয়ে যান। তারপর যেরকমটা হয়, পুলিশ ব্যর্থ হয় এবং মাঠে নামেন সি আই ডি অফিসার অধিরাজ ব্যানার্জী এবং অবশ্যই সাথে ডক্টর চ্যাটার্জী ও জুনিয়র অর্ণব।
এদিকে অ্যাসাইলামে জয়েন করেন এক ইন্টার্ন ডক্টর অর্চিষ্মান। তার সাথে সাথে আসে একজন সুইসাইডাল ডিপ্রেশনে থাকা মানসিক রোগী এবং একজন কুখ্যাত সিরিয়েল কিলার। এরই মধ্যে অ্যাসাইলামে আবার একজন ডক্টর খুন হয়ে যায়। খুনি মার্ডার ওয়েপন হিসেবে ক্রিকেট ব্যাট ব্যবহার করছে। ফরেনসিক এক্সপার্ট ডক্টর অসীম চ্যাটার্জী বুঝতে পারেন যে, যেভাবে খুনি মাথার পেছনে আঘাত করেছে তাতে খুনির হাইট একটা বাচ্চার হাইটের সমান অর্থ্যাৎ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মতো তার উচ্চতা নয়। তাহলে সন্দেহ জাগে খুনি কি তাহলে কোনো বাচ্চা ? কিন্তু একজন বাচ্চার পক্ষে কি প্রায় ছয় ফুটের মানুষের তাকে খুন করতে পারে ? কুক্কু আর পুপু বইটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র এরাও এই হসপিটালে চিকিৎসাধীন। এরাও সন্দেহের তালিকায় চলে আসে। এদিকে ইন্টার্ন ডক্টর অর্চিষ্মান এবং সুইসাইডাল ডিপ্রেশনের এর রোগী এর গতিবিধি বেশ সন্দেহজনক হয়ে ওঠে। ওদিকে রোজ রাতে সিরিয়াল কিলারদের ফ্লোরে একজন আগন্তুকের আনাগোনা শুরু হয়। সব মিলিয়ে অনেক চরিত্র, অনেক প্রশ্নচিহ্ন। তাহলে অনেক প্রশ্ন উঠে আসে, কে খুনগুলো করছে ? কোনো ডক্টর , কোনো সিরিয়েল কিলার নাকি সত্যি সত্যিই কোনো বাচ্চা ? হঠাৎ এই ইন্টার্ন ডক্টরটি কেন এলো ? সুইসাইডাল এর রোগীটি কেনই বা সন্দেহজনক ? কুক্কু ও পুপু এর পারিবারিক ইতিহাস কি ? কেনই বা তারা এখানে থাকে ?
যেটা ভালো লাগেনি সেটা একজন সি আই ডি অফিসার কে সুদর্শন, বলিষ্ঠ অনেকটা সিনেমার হিরোর মতো বিবরণ দেওয়াটা কেমন যেন একটা। অনেক গুলো চরিত্র হয়ে যাওয়ায় গল্পের মধ্যে ঠিকমতো স্পেস পায়নি কেমন যেন হঠাৎ হঠাৎ চলে আসছে সব কিছু। জানি না কতজন ‘Orphan’ বলে একটি মুভি দেখেছেন, এটি ২০০৯ সালে রিলিজ করেছিলো । সেখানে দেখা যায় এক দম্পতি সন্তান হারানোর পর, একজন ৯ বছর বয়সী মেয়ে কে দত্তক নেয়। প্রথমে সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল কিন্তু কিছুদিন পর থেকে শুরু হয় সমস্যা যা একজন বাচ্চার পক্ষে সম্ভব নয়, কোনো পক্ষী কে নির্মম ভাবে হত্যা করা, স্কুলের সহপাঠীকে মেরে পা ভেঙে দেওয়া এবং খুন ও। পরে বোঝা যায় আসলে যাকে এতদিন ৯ বছর বয়সী বাচ্চা ভাবা হচ্ছিলো সে আসলে ৩৩ বছর বয়সী একজন মহিলা এবং সে একজন সিরিয়েল কিলার ও। তার হাইপোপিটুটারিসম ছিল তাই তার অন্যান্য প্রাপ্তবয়স্কদের মতো উচ্চতায় বেড়ে ওঠা হয়নি এবং দেখলেও বোঝা যেত না যে সে ৩৩ বছর বয়সী কোনো মহিলা।
যাই হোক এই বইটি পড়ে, আমার এই সিনেমাটির কথাই মনে পড়ে গেল। বইটি একবার পড়ার মতো ভালোই।
This entire review has been hidden because of spoilers.
একটা প্রাচীন ভগ্নপ্রায় অট্টালিকা। যেটা পরিমার্জিত করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একটি মেন্টাল অ্যাসাইলাম। বাড়িটির আনাচে কানাচে জমাটবদ্ধ কোনো অজানা অন্ধকার; আতঙ্ক। বিভিন্ন কক্ষে বিভিন্ন ধরনের মানসিক রোগী, চারতলায় শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা একাধিক সাইকো কিলার, যাঁরা নানান নৃশংস অপরাধের হোতা এবং এই মানসিক হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন। এমন এক পরিস্থিতিতে হঠাৎ মাথা ফাটিয়ে হত্যা হলো একজন ডাক্তার এর। প্রত্যক্ষদর্শীরা মানসিক রোগী এবং তাদের বয়ান বিভ্রান্তিকর। ফরেন্সিকদের হাতে আসছে নানান পরস্পর বিরোধী সূত্র। মানসিক হাসপাতালে পুলিশের তথাকথিত তদন্ত পদ্ধতি; রোগীদের মধ্যে এক ত্রাস সঞ্চার করতে শুরু করায় অফিসার অধিরাজ বন্দ্যোপাধ্যায় ছদ্মবেশে শুরু করেন তদন্ত... তদন্ত চলাকালীন ঘটে যায় দ্বিতীয় হত্যাকান্ড। একটা মারাত্মক টুইস্ট এই কাহিনীর প্রবহমানতা কে নিয়ে গেছে এক অসম্ভব মোড়ে, এবং দুর্দান্ত এক পরিণতির দিকে। মেন্টাল অ্যাসাইলম, সেখানের নানা রকমের মানসিক রোগী, তাদের বিচিত্র রোগ আর তার চিকিৎসা পদ্ধতির সুনিপুণ বিবরণের মোড়কে একটি টানটান ক্রাইম থ্রিলার রচনা করেছেন লেখিকা। ওনার পড়াশোনা, অধ্যবসায় ও দরদ দিয়ে নির্মিত প্রত্যেকটি চরিত্রের মূল্যায়ন কে কুর্নিশ। বাংলা থ্রিলার লেখকদের মধ্যে সায়ন্তনী পূততুণ্ড এক উজ্জ্বল নাম, এনার লেখার সাথে এই বইটি দিয়েই আমার পরিচয় এবং বলতে কোনো দ্বিধা নেই আমি যারপরনাই তৃপ্ত। ভবিষ্যতে এনার লেখা পড়বার জন্য মুখিয়ে রইলাম। এই বইটি রহস্যপিয়াসী পাঠকদের জন্য একটি অবশ্যপাঠ্য।
📗 বইয়ের নাম- খ্যাপা খুঁজে খুঁজে ফেরে 🖋️ লেখিকা- সায়ন্তনী পূততুণ্ড 🍁 মহাবিদ্রোহের সময়কালে তৈরী হওয়া হাওড়ার এক প্রসিদ্ধ হানাবাড়ি বর্তমানে সাইক্রিয়াটিস্ট ড: চৌধুরীর কল্যাণে এক মেন্টাল আস্যাইলাম এ পরিণত। এ বাড়ির একতলায় থাকে সাধারণ রোগীরা, দোতলায় স্কিজোফ্রেনিয়া, মাল্টি পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার, হ্যালুসিনেশন, ডিলুশন এ আক্রান্ত রোগীরা, তৃতীয় তলায় কিডস জোন এবং চতুর্থ তলায় বাস সিভিয়ার সাইকো কিলারদের যাদের হাত পা বেঁধে রাখা হয় মোটা লোহার শেকলে। 🍁 অতীতের অনেক হত্যালীলার সাক্ষী এই বাড়ি। কিন্তু এর বর্তমান কি? পরপর দুটো খুন হয়ে গেলো এই পুরীতে অথচ পুলিশ কোনো কিনারা করে উঠতে পারে না। দুজনেই ডাক্তার এবং প্রতিষ্ঠাতা ড: চৌধুরীর অত্যন্ত কাছের মানুষ। এরা দুজনেই কোনো কথা বলতে চেয়েছিলেন ডাক্তার চৌধুরী কে কিন্তু বলবার আগেই মারা যান। 🍁 অপরাধের দায়ে কাঠগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে দশ বছরের এক বালক। সব তথ্যপ্রমাণ তাকে খুনী হিসেবে চিহ্নিত করলেও এক বাচ্চার সাইকোলজির সাথে ঐ ধরণের খুন একেবারেই বেমানান। ফরেনসিক বিভাগ বিপর্যস্ত। এমতাবস্থায় এই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় বিখ্যাত সি আইডি গোয়েন্দা অধিরাজ ব্যানার্জী এবং তার টিমকে। অধিরাজ কি পারবে এই খুনের কিনারা করতে নাকি নিজেই হয়ে যাবে খুনীর শিকার? 🍁 লেখিকার লেখা এই প্রথম পড়লাম। থ্রিলার হিসেবে অসামান্য তো বটেই তবে সাইকোলজি সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা কে তিনি যেভাবে গুছিয়ে বর্ণনা করেছেন তা অনবদ্য। লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়ার ও ইচ্ছে রইলো।
সদ্য পড়ে শেষ করলাম সায়ন্তনী পূততুণ্ড এর লেখা অধীরাজ সিরিজের একটি বই যার নাম ক্ষেপা খুঁজে খুঁজে ফেরে। এই সিরিজের প্রায় বই-ই প্রাপ্তবয়স্ক মনষ্ক কিন্তু এই বইটা আমার আগে আমার দিদি পড়েছিল।তাকে জিজ্ঞেস করাতে সে বললো বইটা পড়তে।সেও রিভিউ দিয়েছে গতকাল ।আমি পড়তে শুরু করি এবং যত পাতার পর পাতা পড়ছিলাম তত উত্তেজনা অনুভব করেছি।লেখিকার এই বইটি প্রথম যেটা আমি পড়লাম।লেখিকা খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপনা করেছেন বইটার।অনেক কিছু জানতে পারলাম বইটা পড়ে।
মূল বিষয় - সাহেবি আমলের একটি পরিত্যাক্ত বাড়ি।যে বাড়ি প্রত্যক্ষ করেছে অনেক খুন বা হত্যা।সেই বাড়িটি পড়ে আসাইলেমে পরিণত হয়।সেই বড়ো আসাইলামে কিছুদিন পর দুই ডাক্তার মারা যান রহস্যজনকভাবে। কীভাবে হলো তাদের মৃত্যু?আত্মহত্যা নাকি খুন?সেইজন্য অবশ্যই পড়তে হবে আপনাদের এই বইটি।
আমার খুবই ভালো লেগেছে।আমি এইরকমই বই খুঁজি সচরাচর পড়ার জন্য।লেখিকাকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে বইটা লিখতে তা পড়লেই বোঝা যায়। এই ছিল আমার পাঠ প্রতিক্রিয়া এই বইটির ওপর।
ডক্টর মনোহর চৌধুরী একটি একটি পুরনো পরিত্যক্ত বাড়িতে মেন্টাল হেল্প অ্যাসাইলাম বানিয়েছিলেন! সেই অ্যাসাইলামে হটাৎ করে দুজন ডাক্তারের খুন হওয়া নিয়ে এক চাঞ্চল লোকের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় । যেহেতু মেন্টাল হেল্প অ্যাসাইলাম তাই এখানে বিভিন্ন ধরনের মানসিক রোগীদের রাখা হতো ,তাদের মধ্যে কেউ ডিপ্রেশনের রোগী আবার কারোর মতে সবাই তাকে খুন করতে চাই তাই সে নিজের জীবনের বাঁচাতে আগে থেকেই তাদের খুন করে। এছাড়া উনাদের আওতায় বেশ ক'জন নৃশংস সিরিয়াল কিলার, সাইকোরাও রয়েছে। সেই আসালামের দুজন রোগী পুপু ও কুক্কু। এরা স্টেপ ব্রাদার্স। ঘটনা ক্রমে কুক্কুর নামটাই বারবার ঘুরেফিরে খুনের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছিল। এই খুনের সমাধান করতে সি.আই.ডি অফিসার অধিরাজ, তার সহকারী অর্ণব, এমনকি স্বয়ং ডক্টর চ্যাটার্জিকে মাঠে, থুড়ি অ্যাসাইলামে নামতে হল তদন্তের জন্য, তাও আবার ছদ্মবেশে
অভিরাজ কি খুনিকে খুঁজে বার করবে নাকি কুক্কুই আসল খুনি এই নিয়ে টানটান উপন্যাস।
আমার পড়া লেখিকার দ্বিতীয় উপন্যাস এটি। তবে একটা জিনিষ লেখিকার ব্যাপারে না বললেই নয় তিনি ভালো রকম রিসার্চ করে উপন্যাস লেখেন, ফরেনসিক মেডিসিন এবং সাইকিয়াট্রির জ্ঞানের এত চমৎকার প্রয়োগ দেখিয়েছেন, যাতে মুগ্ধ হতেই হয়।
পারফেক্ট লকড রুম ম্যিষ্ট্রি বলতে যা বোঝায় এটা সেরকমই। গল্পের সূচনা কাল ১৯৯৯ হলেও এর ঘটনা প্রবাহ শুরু হয় ২০০৮ থেকে। এক প্রাচীন অট্টালিকায় গড়ে ওঠা একটি মেন্টাল আসাইলাম, সেখানেই ঘটে যাচ্ছে একের পর এক খুন । অথচ কি তার কারণ তারই ইনভেস্টিগেশন এর দায়িত্ব এসে পড়বে গল্পের কলকাতা পুলিশের সনামধন্য ক্রিমিনাল investigetor অধিরাজ এবং তার টিম এর ওপর। রহস্য আবিষ্কারের প্ল্যান হিসেবেই রোগী হিসেবেই গোয়েন্দাদের মানসিক হাসপাতালে ভর্তি গল্পের প্রধান চরিত্র।। এরপর নানান ওঠা নামা মধ্যে দিয়ে গিয়ে খুনি ধরা পড়া। খুব সুক্ষ মেডিক্যাল তথ্য নির্ভর এই গল্পের প্রথম থেকেই আলো আঁধারির ছড়াছড়ি। হাসপাতালের ডক্টর দের ও রেহাই নেই সেখানে, ৪ তলা ভবনের প্রত্যেক তলায় নানান ধরনের রোগীর সমাবেশ। তারই মধ্যে হয়ে গিয়েছে দুটি খুন । ওদিকে সন্দেহর তীর যার দিকে নির্দেশ করছে সেই মাত্র ১০ বছরের একটি বাচ্চা ।সেই কি তবে খুন গুলো করছে ?? সব কিছুই গল্পের শেষে খুব সুন্দর ভাবে উন্মোচন হয়েছে। সায়ন্তনী পুতুতুন্দুর আধিরাজ কে নিয়ে লেখা এই উপন্যাস সত্যি গায়ে কাঁটা দেবে পাঠক দের এটা হলপ করে বলা যায়।।।
💫📚বহু বছরের পুরনো অট্টালিকা । এক কথায় অভিশপ্ত এই বাড়িটি বর্তমানে মেন্টাল অ্যাসাইলাম । অতীতে অনেক রক্তারক্তি কাগু দেখেছে এই প্রাসাদ । অনেক খুনের ইতিহাস লেখা ওর পাঁজরে । এর বিষণ্ণ অন্ধকারাচ্ছন্ন প্রতিটি গলিখুঁজিতে লুকিয়ে আছে রহস্যময় অন্ধকার । আলো - আঁধারিতে কত কাহিনির পরত খোলে । তার মধ্যেই একের পর এক খুন হচ্ছেন ডাক্তাররা । কাঠগড়ায় সম্ভাব্য খুনী হিসেবে একটি বাচ্চা ! বিরাট অ্যাসাইলামের তিনতলায় হেঁটে বেড়ায় নৃশংস সাইকো - কিলাররা । প্রত্যক্ষদর্শীরা মানসিক রোগী হওয়ার কারণে তাদের বয়ান পরস্পরবিরোধী । ফরেনসিক বিভাগ বিভ্রান্ত । রাত বারোটা বাজলেই গোটা অ্যাসাইলাম আতঙ্কে কুঁকড়ে যায় । এবার কার পালা ? কবে বন্ধ হবে এই হত্যালীলা ? অন্ধকার অ্যাসাইলামের রহস্যভেদ করতে পারবে কি অধিরাজ ?📚💫
আজকাল শুনেছি লেখক লেখিকারা প্রচুর রিসার্চ করে লেখালেখি করেন। তা এত রিসার্চ করেও যদি এরকম গাঁজাখুরি মার্কা লেখা বেরোয় তাহলে তার থেকে তো পাল্প ফিকশনই ভালো। লেখিকা লেখার হাত ভালই। আগেও তার প্রমাণ পেয়েছি। কিন্তু এই অধিরাজ সিরিজই ওনাকে ডোবাবে।