তৈমুর সাহেবের লেখা আমার সবসময়ই পছন্দের। রসবোধ, ইতিহাস, তন্ত্র-মন্ত্র, অতিপ্রাকৃত বিষয় সবমিলিয়ে বেশ উপভোগ্য। কালো জাদু বা অমল কান্তির চাকরী নভেলাটাও উপভোগ করলাম। গল্পে কালো জাদুর হিস্ট্রি সেইসাথে সাসপেন্স ও হালকা ভ্রমণ কাহিনীর ছাপ আছে। সেইসাথে ঝরঝরে লেখনশৈলী। যদিও হুট করেই শেষ হয়েছে, তবে হুট করেই শেষ না হলে ভালো লাগত না। শেষের আইরনিটা অদ্ভুত।
একবসায় পড়ার মতো দারুণ একখানা উপন্যাসিকা। ইতিহাস, মিথ, অতিপ্রাকৃত, তন্ত্র-মন্ত্রের মিশেলে দারুণ গল্প। টানা পড়ে যাওয়ার মতো দারুণ লেখনী। চুম্বের মতো গল্প টেনে নিয়ে হুট করেই শেষ হয়ে গেলো। কিন্তু দারুণ উপভোগ্য ছিল। এন্ডিংও চমৎকার!
শুরুর দিকে ঘটনা প্রবাহ খুব সুন্দর ছিল।ঢাকার গুলিস্তানের বর্ণনা থেকে শুরু করে চরিত্রগুলোর বৈশিষ্ট্য, যান্ত্রিক জীবন,বেকারত্ব, মানুষের জীবনের আর্থিক অনটন, সব কিছুই উঠে এসেছে।উপভোগ্য ছিল, কিন্তু বইটির অর্ধেকের পর থেকে বইটির বর্ণনাগুলো হতাশ করেছে। কাহিনীর প্রবাহ অনেকটাই কমে গিয়েছে সেদিক থেকে।তবে শেষে গিয়ে লেখক ফিনিশিং এনেছেন , মনে হলো হুট করে শেষ হয়ে গেলো বইটি!শেষের দিকে লেখক চাইলে স্টোরিলাইন আরো স্বতঃস্ফূর্ত করতে পারতেন!
এটা দারুণ! আলমগীর তৈমূরের সব লেখাতেই ইতিহাস, মিথ ইত্যাদি নিয়ে খুব আলোচনা থাকে যেটা অনেকের কাছেই অযাচিত মনে হয়। আমি এটা সবসময়ই উপভোগ করি। সাথে তার অসাধারণ গদ্য তো আছেই পাশাপাশি গল্পটাও খুব আগ্রহ জাগানিয়া।
অনেক সময় নিয়ে ঘুড়ি বানালাম, যত্ন করে সুতায় মাঞ্জা লাগালাম, লাটাই টিউনিং করলাম, কিন্তুক উড়াতে গিয়ে দেখলাম বেলা শেষ। এ বইয়ের হালহলিকত দেখে সেটাই মনে হলো।
এক বৈঠকে পড়া ওঠার মত চমৎকার একটা রহস্যময় উপাখ্যান। বইটি অনেক ছোট এবং কাহিনি গতিশীল, টান টান হওয়া সত্ত্বেও দুই দিন ধরে পড়লাম। সে যাকগে, আলমগীর তৈমুর স্যারের যে কয়টা গল্প এখন পর্যন্ত পড়লাম সবই টান টান উত্তেজনা আর সাসপেন্সে ভরপুর। তাঁর লেখা প্রায় প্রত্যেকটা কাহিনিতেই ইতিহাস, মিথ, অতিপ্রাকৃত, তন্ত্র-মন্ত্র আর রহস্যময় আবহ পটের এক কম্বো প্যাকেজ থাকে। ইতিহাস প্রেমি হওয়ার কারনে তাঁর লেখার এই বৈশিষ্ট্যটিই আমার সবথেকে বেশি ভালো লাগে। কালো জাদু বইটিও এর ব্যাতিক্রম নয়।
"কালো জাদু" নাম শুনেই বুঝতে পারা যায় বইটির প্রধান বিষয়বস্তু কি? এক বেকার যুবক অমল আর এক রহস্যময় চরিত্র মৃণাল কান্তী। একদিন এক পার্কে মৃণাল বাবুর সাথে অমলের দেখা হয়, অমলের চাকরি নেই শুনে মৃণাল কান্তী অমলকে একটি লোভনীয় চাকরির অফার করে, তবে একটা শর্ত দেয় চাকরিটা পেতে হলে অমলকে একটা ধাঁধার সমাধান করতে হবে। সমাধান করতে পারলেই আরো কিছু শর্ত সাপেক্ষে অমল চাকরিটা পাবে। অমল সমাধান করে মৃণাল কান্তীর কাছে যায় এবং চাকরিটা নেয়। চাকরিটা আসলে কিসের? সামান্য একটা ধাঁধার বিনিময়ে অমলকে কেন ই বা এত চড়া বেতনের চাকরি দিলো মৃণাল? নিজেকে কেন রহস্যময় হিসাবে উপস্থাপন করে সে? তার উদ্দ্যশ্যে এবং অমলের জীবনের পরিনতিই বা কি? এতসব প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে সাসপেন্সে পরিপূর্ণ এই বইটি।
এই বইটিতে বিস্তৃত ভাবে কালো জাদুর ইতিহাসের বর্ণনা আছে, প্রাচীন ব্যবিলন থেকে ইউরোপ বা ভারতীয় উপমহাদেশের কালো জাদু করা এবং এর প্রক্রিয়া সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জন করতে পেরেছি এই বইটি পড়ে। ডার্ক আর্টের বিভিন্ন দেব দেবীর কথাও এতে বর্ণিত আছে। বইয়ের এন্ডিংটাও সুন্দর ছিলো, এবং এটিই প্রত্যাশা করেছিলাম। যাইহোক শুরু থেকেই বইটি পাঠককে ধরে রাখবে। ডার্ক আর্ট, ব্লাক ম্যাজিক, তন্ত্র-মন্ত্র নিয়ে যদি আপনার আগ্রহ থাকে তাহলে বইটি আপনার জন্য।
অমল কান্তি—ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি করতো—মাসের টার্গেট পূরণ করতে না পারায় চাকরি হারায়। পার্কে বেকার সময় কাটানোর সময় এক সাদা পাঞ্জাবি পরা ভদ্রলোকের সঙ্গে দেখা। অমলের চাকরি নেই শুনে বললেন, অমল যদি এক ধাঁধার উত্তর দিতে পারে তবে তিনি তাকে চাকরি দিবেন। অনেক চিন্তা-ভাবনা করে ধাঁধার সঠিক উত্তর দিয়ে চাকরি পেয়ে গেল অমল কান্তি। চাকরির প্রথম দিন চাকরিদাতার কাছে থেকে অমল শুনল কালো জাদুর প্রাচীন ইতিহাস। ইতিহাস বলার কারণ চাকরিদাতা বিরল এক ব্যাধিতে আক্রান্ত, তাই তিনি কালো জাদুর সাহায্যে অন্য মানুষের আয়ু কিনে নেন। আর এইবার তিনি অমল বাবুর থেকে ১০ বছরের আয়ু কিনতে চান।
ভালো লাগল না। কারণ—উপন্যাসিকার তিন ভাগের দুই ভাগই খেয়ে ফেলেছে অযাচিত ইতিহাস ও মিথ—যেটা পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে লেকচার পড়ছি। যা খুবই বিরক্তিকর লেগেছে। মোট কথা কালো জাদুর কোন আসরই আমার উপরে পড়েনি। এবং এই বছরের প্রথম বড় হতাশা।
দুপুরটা কাটাবার জন্য এই বইটা শুরু করেছিলাম, কিন্তু বৃথা সময় নষ্ট হলো। হাবিজাবি কথায় পরিপূর্ণ। যে "হারুৎ মারুৎ" এর কথা বলা আছে তারা কারা সেটাও বুঝলাম না।ছিন্নমস্তা বা বগ্লামুখির প্রসঙ্গ যখন উঠলো একবার ভাবলাম এবার বুঝি গল্প জমলো কিন্তু নাহ্। প্রথমদিকেটা অতিরিক্ত ফালতু লেখা হয়েছে, অতিরিক্ত বর্ণনা আছে যার কোনো প্রয়োজনই ছিল না, দশম অধ্যায় থেকে তবু পড়তে ভালো লাগে।
কাহিনী সংক্ষেপ : এক ব্যক্তিকে চাকরির শর্তে একটা ধাঁধা দেওয়া হয়, সেটার উত্তর বার করতে পারলেই তার চাকরি বাঁধা। ধাঁধার উত্তর দিয়ে সেই ব্যক্তি চাকরি পান। কিন্তু চাকরির কাজ বুঝিয়ে দেবার আগে চাকরিদাতা তাকে এক ইতিহাস শোনান(কালো জাদু সংক্রান্ত)। এত ইতিহাস শোনাবার উদ্দেশ্য যে তিনি কালা জাদু করে হিন্দু দেবীর সহায়তায় তার দুরারোগ্য ব্যাধি সরিয়ে অন্য লোকের আয়ু গ্রহণ করবেন, এবং সেইমতো প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেটিই এই বইএর মূল গল্প।
ছোট একটা গল্প। ৭০ পেইজের মত। এর মধ্যেও আলমগীর তৈমুর লেখার যে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন সত্যই চমৎকার!
অমল কান্তি,পেশায় ইনসুরেন্সের এজেন্ট। হটাৎ একদিন চাকরীটা চলে গেলো। কস্টে মনে খারাপ করে বসে ছিলেন পার্কে। আর তখনি দেখা মৃণালের সাথে। সব শুনে মৃণাল অফার করলো একটি হ্যান্ডসাম এমাউন্টের চাকুরি। কিন্তু সমাধান করতে হবে একটি ধাধা। প্রাচীন গ্রীসে মানুষের বিচক্ষণতার পরীক্ষা নেয়া হতো ধাধার মাধ্যমে।
একটা ধাধার সমাধান থেকে অমল কান্তি কি করে জড়িয়ে যায় ভয়ংকর কালো জাদূর সাথে লেখক সুনিপুণ ভাবে বর্ণনা করে গেছেন। প্রাসঙ্গিক ভাবে জাদু বিদ্যার ইতিহাস লিখেছেন। পড়তে পড়তে কখন গল্পে ডুবে যাবেন টের পাবেন না।
বইটি ম্যাজিক৷ ডার্ক আর্ট নিয়ে কারো আগ্রহ থাকলে পড়ে ফেলবেন।
অতিপ্রাকৃত গল্প, তবে গল্পের মূল কাহিনী চাইতে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় অনেক কিছু টেনে এনে গল্পটাকে বড় করা হয়েছে। লেখক প্রচুর স্টাডি করেন এবং অনেক বিষয়ে জানেন এটা বুঝা যাচ্ছে। হারুত ও মারুত নিয়ে নিয়ে যে কাহিনী বলেছেন, সেটা ইহুদিদের বানানো কাহিনী, এটা সত্য নয়। এমনকি সোলাইমান নবীকে নিয়ে যে কাহিনীটা বলেছেন, এটাও ইহুদিদের বানানো কাহিনী। নবীরা কখনো জাদুর সাথে জড়িত ছিলেন না। অতি প্রাকৃত গল্পের অংশটা ছোট হলেও পূজার অংশটার বিবরণ ছিল চমৎকার। ফিনিস উনি ছোটগল্পের নিয়ম অনুসারে শেষ করেছেন। এ যেন শেষ হলেও শেষ হয় না। নভেলা খারাপ লাগেনি পড়তে।
এত চমৎকার লেখা। এত সুন্দর প্লটের গড়ন। তাও কেন জানি মন ভরে না। আমি ইদানীংকালে যত দেশী লেখকের লেখা পড়েছি তাদের মধ্যে এই লেখকের লেখা খুবই ভাল লেগছে। কিন্তু লম্বা গল্প আর সুন্দর ফিনশিং কিছুতেই হচ্ছে না। কালো যাদুকর বইটা আমি একধরনের মুগ্ধতা নিয়েই পড়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু আয়তনতার জন্য আফসোস হচ্ছে খুব। অপেক্ষায় রইলাম আশা পূরণের।
গল্পের শুরুটা ভালো হলেও মাঝখানে ব্ল্যাক-আর্ট চর্চার ইতিহাস বিরক্তিকর। আর যে আসল কারণে গল্পের মুখ্য দুই চরিত্রের পরিচয় সেইটা আদৌ সফল হলো কিনা তার উত্তর পাওয়া গেলো না। একদম শেষের মোচড়টা বেশ ছিলো। মোটের উপর এই গল্প অডিও স্টোরি হিসেবে শুনতে হয়তো বেশী ভালো লাগবে, পড়তে গিয়ে জমলো না।
দারুন একটা শুরু খুব ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছিলো। কিন্তু আদতে সাদামাটা প্লট, অহেতুক ফ্যাক্টস আর মিথ এবং শীতের ঝুপ করে পড়ে যাওয়া বিকেলের মত অপ্রত্যাশিত সমাপ্তি- অপ্রত্যাশিত, কিন্তু 'যথেষ্ট' না। আফসোস এখানেই যে, আরেকটু প্রয়াস থাকলে এই প্লটে আরো interesting কিছু করা যেতো আসলে।
অনেক চেষ্টা করেও চাকরিটা রক্ষা করতে পারেনি অমল কান্তি। হতাশ মনে গুলিস্তানের পার্কে বসে যখন সময় কাটাচ্ছিল তখন হঠাৎই অদ্ভুত এক আগন্তুকের দেখা পায়। চাকরি দেবে আগন্তুক কিন্তু একটি ধাঁধার উত্তর দিতে হবে! নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উত্তর না দিতে পারলে দ্বিতীয় কোনো সুযোগ হবে না। পারবে কি অমল?
৭০ পৃষ্ঠার ছোট গল্পটা ইতিহাস, মিথ, বেকারত্ব, অতিপ্রাকৃতের মিশেলে লেখা। পিচ্চি ছেলের 'খুব শিক্ষিত সাব' অমলের সাদামাটা জীবনটা যে এইভাবে আমূল পাল্টে দেবে সেটা কীভাবে শেষ না করা পর্যন্ত আসলে বুঝা যাবে না। শুরুটা ভালোই ছিল কিন্তু মাঝে এসে টানা একের পর এক ইতিহাস, মিথ নিয়ে বিবরণ বিরক্ত লেগেছে। সমাপ্তি সংক্ষিপ্ত কিন্তু টুইস্ট দারুণ। ওভারঅল মোটামুটি ভালোই লেগেছে।
যথাবিহিত সম্মান প্রদর্শন করেই বলছি, মুহম্মদ আলমগীর তৈমূর-এর প্রায় প্রতিটি গল্প/উপন্যাসিকার-ই প্লট ভাল। সেই প্লট মোটামুটি তিনি নিজ হাতে ধ্বংস করেন অতি বর্ণনার মাধ্যমে। একটা লোক চাকরীতে যোগদান করল আর চাকরীদাতা তাকে মুখস্তবিদ্যার মত একনাগাড়ে ইতিহাস বয়ান করতেই থাকল, করতেই থাকল। এবং শেষের দিকে গিয়ে যখন কাহিনীটা একটু জমে উঠতে শুরু করে, ঠিক তখনই গল্প/উপন্যাসিকাটি শেষ। এ পর্যন্ত প্রায় প্রতিটা গল্প/উপন্যাসিকাতেই একই প্যাটার্ন লক্ষ করছি। অতিরিক্ত বর্ণনার লুপ থেকে বেরুতে না পারলে আসলে পাঠকদের মন জয় করার মত গল্প তৈরি হবে না। লেখকদের একটা বাঁধাধরা বক্তব্য থাকে, আর তা হল- তারা নিজের সন্তুষ্টির জন্য লিখেন। ব্যাপারটা পুরোপুরি ঠিক নয়। বরং উল্টোটাই অনেকাংশে সত্যি। তা না হলে কোন ল���খাই প্রকাশের প্রয়োজন দেখা দিত না। আশা করি, সমালোচনা ইতিবাচক/গঠনমূলক দৃষ্টিতে দেখবেন।