প্রথমেই বলে রাখি, আমি কিন্তু হিমুপ্রেমী নই। এমনকি হুমায়ূন আহমেদ আমার প্রিয় লেখকও নন। কিন্তু হিমু সিরিজ এমন একটা হালকা ধরণের সিরিজ, আপনি যে মুডেই পড়তে বসুননা কেন, ঠোঁটে মুচকি হাসি আসবেই। তাই আমি মাঝেমাঝে হিমু সিরিজের বইগুলো পড়ি, হাসি এবং ভুলে যাই।
মাজেদা খালার জরুরী তলবে হিমু এসেছে তার বাসায়। তলবের কারণ হল, এক হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বিনিময়ে ওকে একটা বাচ্চা যোগাড় করে দিতে হবে। অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী খালার এক বান্ধবীর কোন সন্তান নেই। তাই তিনি বাংলাদেশ থেকে একটা বাচ্চা দত্তক নিতে চান। (সেই বাচ্চার স্পেসিফিকেশন লিস্ট দেখে মনে হচ্ছিল অর্ডার দিয়ে বানানো লাগবে 😒)
যাই হোক, হিমুর ডিকশনারিতে তো অসম্ভব নামে কোন শব্দ নেই। সে খুলে ফেলল, “হিমু শিশু সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড “! তারা এক্সপোর্ট কোয়ালিটির শিশু সাপ্লাই করে। 😂
এদিকে হিমু একটা টিনের চাল আর নারিকেল গাছওয়ালা বাসা খুঁজে পেয়েছে। ওই বাসায় সে বৃষ্টি হলেই বৃষ্টির শব্দ শুনতে আসে। বাসার মালিক হাবিবুর রহমান সাহেবের হিমুকে খুব একটা পছন্দ নাহলেও তার স্ত্রী ফরিদার খুব পছন্দ। সে ওর নাম দিয়েছে বৃষ্টি ভাই। সেই ফরিদার হার্টের সমস্যা, হাসপাতালে ভর্তি। এক লক্ষ টাকা লাগবে অপারেশন করতে। নাহলে ওকে বাঁচানো যাবেনা।
সেই ফরিদা আর হাবিবুর রহমানের ছেলে ইমরুলকেই সে এক্সপোর্ট (!) করে ফরিদার চিকিৎসার টাকা যোগাড় করার কথা ভাবছে। কিন্তু মিসেস আসমা হকের ইমরুলকে পছন্দ হয়নি। তাহলে এখন উপায়?
মাজেদা খালার হাজবেন্ড, মানে খালুসাহেবের কথা বন্ধ হয়ে গেছে। কোন কিছুতেই মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছেনা। চিকিৎসার জন্য সিংগাপুর যাবেন ঠিক করেছেন। কিন্তু হিমু নিয়ে এল সহজ সমাধান। তারা মামা নামক এক মহিলা পীরের থেকে এক পুরিয়া গাঁজা খাওয়ালেই খালু সাহেবের কথা ফুটবে। খালু সাহেব পুরিয়া খেতে রাজি হলেই কেল্লাফতে।
শেষ পর্যন্ত কার কপাল কি ঘটলো, সেটা জানতে হলে এক বসায় পড়ে ফেলুন এই ছোট্ট বইটা। ভাল লাগবেই। বলা যায়না, শেষ পাতায় চোখ থেকে এক ফোটা জলও গড়িয়ে যেতে পারে।
অনেককে বলতে দেখেছি, এটা হিমু সিরিজের বেস্ট বই। পড়ে বুঝলাম, কথাটা খুব একটা ভুল না। বেশ কিছু হিমু পড়ে ফেলেছি, কিন্তু কোনটার স্টোরি মনে এত দাগ কাটেনি। অন্যগুলোর কাহিনী অলমোস্ট কিছুই মনে নেই, কিন্তু এটা অনেকদিন মনে থাকবে মনে হচ্ছে। স্পেশালি এন্ডিংটা জাস্ট অসাম!
রিডিং ব্লকে থাকলে ভাবনা-চিন্তা না করে বসে যান। আশা করি ব্লক কাটবে। হ্যাপি রিডিং!
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৮/১০