আগামীকাল মীরুর বিয়ে। যে কোনো মূল্যে তাকে ঘুমাতে হবে। কিন্তু ঘুমের ওষুধ খাওয়া সত্ত্বেও তার ঘুম আসছেনা। বিয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তায় কি? অবশ্য দুশ্চিন্তা হওয়া স্বাভাবিক।
বিয়ে হবে কাজীর অফিসে গিয়ে। পরিবারের অমতে। মীরু যে ছেলেকে বিয়ে করবে তার নাম বারসাত। বৃষ্টির নামে নাম। বারসাত অদ্ভুত ধরণের ছেলে। মীরুর কঠিন পরিবার কি তাকে আদৌ মেনে নিবে?
Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
টিপিক্যাল হুমায়ূনীয় কাহিনী- এক ভ্যাগাবন্ড প্রেমিক, তার প্রেমে ডুবে থাকা হিউমারওয়ালা প্রেমিকা, প্রেমিকার স্বামী ভক্ত মা, প্রেমিকার গুরু গম্ভীর বাবা, প্রেমিকার জন্য সুপাত্র খোঁজা আত্নীয় এবং প্রেমিকার শোভাকাঙ্ক্ষী হয়ে ঘুরঘুর করা সুপাত্র।
এই বইতে প্রেমিকাটির নাম মরিয়ম/মীরু/ঐন্দ্রিলা/ঐ। প্রেমিক প্রবরের নাম বারসাত আলী। প্রেমিকার মা হচ্ছেন জাহেদা, বাবা আফজল সাহেব। সুপাত্র খোঁজা আত্নীয়টি হচ্ছেন ফুপু পবিত্র মহিলা। শোভাকাঙ্ক্ষী ছেলেটি ব্যবসায়ী টাক পড়া জাহাঙ্গীর ওরফে নাসের।
আমি তখন গ্রামের স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ি। কোন বিভাগে ভর্তি হব তা নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল পরিবার থেকেই, আমার কিছু বলার ছিল না তাতে। তাছাড়া জীববিজ্ঞান পড়তে ভালোই লাগত। আমাদের স্কুলটা দারুণ সুন্দর ছিল, বেশ বড় মাঠ, মাঠের পাশেই পুকুর, পুকুরের ওপারেই গার্লস স্কুল, তারা পুকুরের ওপাশ থেকে তাকিয়ে থাকত আর আমরা এপাশ থেকে, মাঝখানে সসীম পারাবার; মানে এক কথায় অপূর্ব।
এই অপূর্ব সময়ের মাঝেও কিন্তু চাঞ্চল্যকর একটা ঘটনা আমাদের সবাইকে নাড়িয়ে দিল। দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের কৃতি ছাত্র লাবলু ভাই ফেল করে বসল টেস্ট পরীক্ষায়।
সারা গ্রামে বলতে গেলে একেবারে বিনা মেঘে সাইক্লোন বয়ে গেল।
লাবলু ফেল করেছে??? কীভাবে তা সম্ভব?
স্কুল কমিটির লোকেরা হায় হায় করতে লাগলেন, যে ছেলের এ প্লাস পাওয়ার কথা সেই ছেলে করেছে ফেল? গ্রামের মাতব্বরেরা চায়ের দোকানে এই নিয়ে আলাপ করতে লাগলেন কাপের পর কাপ উড়িয়ে।
লাবলু ভাই কিন্তু এসব ব্যাপারে একেবারে বুদ্ধ সেজে বসে থাকলেন, নির্বিকার- নির্লিপ্ত; শুধু তিনি দুষলেন আমাদের অঙ্কের শিক্ষক কাশেম স্যারকে। সে সময় আমাদের স্কুলের স্যারদের কাছে কেউ পড়ত না, সবাই যেত পাশের গ্রামের বিখ্যাত আমজাদ স্যারের কাছে অঙ্ক পড়তে (উদ্দেশ্য ম্যাট্রিকের প্র্যাক্টিক্যালে নাম্বার পাওয়া)। সবাই ধারণা করল নিশ্চয় কাশেম স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়ে না দেখেই লাবলুকে তিনি ফেল করিয়েছেন।
সবাই আমার আর আমার বন্ধুর দিকে কেমন কেমন করে যেন তাকাতে লাগল (কেননা সে সময় আমরা এই দুইজনই মাত্র কাশেম স্যারের কাছে পড়তাম)। লাবলু ভাই আমাদের দিকে তাকিয়েও তাকাতেন না, ভাবখানা দেখে মনে হতো আমরাই যেন স্যারের কাছে বলে তাঁকে ফেল করিয়েছি। স্যারের বাড়িতে তখন মাঝ রাত্তিরে ঢিল পড়ে। লাবলু ভাই মনের দুঃখে পড়াশোনা ছেড়ে দিলেন। তখন শোনা গেল তিনি উপন্যাস লিখবেন। এবং বছর ঘুরতে না ঘুরতেই তিনি তা লিখেও ফেললেন। উপন্যাসের নাম, “বৈরী বসন্ত”।
প্রকাশ হতে না হতেই এই উপন্যাস আমাদের এবং আশপাশের দশ গ্রামে বেস্ট সেলারে পরিণত হল। গ্রামে গ্রামে সাড়া পড়ে গেল, সবার ঘরে ঘরে তখন এই বই, মুখে মুখে তখন এই বই নিয়ে আলোচনা। লাবলু ভাই সেই উপন্যাসে একেবারে আমাদের স্যারের নাম সহকারে নিজের সমগ্র জীবনকাহিনী তুলে ধরলেন, কীভাবে তিনি প্রেমে পড়েছিলেন স্যারের মেয়ের, কীভাবে তাঁকে ফেল করিয়েছে স্যার, এইসব ইতং বিতং নানান কথা। স্যার দুঃখ পেয়ে বললেন- “আমি ওকে পাশ করিয়ে দিলাম, কিন্তু ও যদি ম্যাট্রিক পাশ করতে পারে তখন আমার সাথে দেখা করতে বলিস। আমি নিজের ইচ্ছায় আমার মেয়ের বিয়ে ওর সাথে দিয়ে দেব”।
আফসোস, লাবলু ভাই আজ পর্যন্তও ম্যাট্রিক পাশ করতে পারেন নাই। তিনি এখন কাতার থাকেন।
বই বলতে তখন আমার কাছে কেবল ছিল গোটা বিশেক জাফর ইকবালের বই আর নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের টেনিদার সাথে কিছু কমিক্স; আর আমার বন্ধুর কাছে ছিল কে এম ফিরোজের লেখা , “ভালোবেসে কেউ সুখী হয় না” আর “ভালোবেসে ভূল করেছি” টাইপের উপন্যাসগুলো। এমন সময় শোনা গেল বান্ধবীর বাসায় বেশ কতকগুলো বই আছে। সেই বই আনতে যেয়ে কীভাবে নাজেহাল হয়েছিলাম সে গল্প তো আগেই করেছি। তো হুমায়ূন আহমেদের “রোদনভরা এ বসন্ত” বইটা যখন প্রথম দেখি তখন আমি আর আমার বন্ধু একে অপরের দিকে তাকিয়ে বলেছিলাম- “লাবলু ভাইয়ের বই থেকে চুরি করে নাম দিয়েছে হুমায়ূন আহমেদ”। কাহিনী যদিও মনে করেছিলাম এক কিন্তু ভেতরে দেখি “বৈরী বসন্ত”-এর মত ততটা চিত্তাকর্ষক নয়। অর্থাৎ সেসময় পড়ে বেশ হতাশ হয়েছিলাম আর কি।
ইফতেখার ভাই খুব সুন্দর একটা পোস্ট দিয়েছিলেন “হুমায়ূন আহমেদের গল্প” নিয়ে। হুমায়ূন আহমেদের লেখা নিয়েও যে এভাবে ভাবা যায় তা হয়তো এ জীবনে ভাবা হত না সেই পোস্ট না পড়লে। অনেকসময় হয় না, কাছের জিনিসকে আমরা দেখি না, চোখের সামনে তবু অদেখা। “দেখা হয় নাই চক্ষু মিলিয়া” টাইপ বলেও তো অনেক কিছু থাকে।
অনেকদিন পর আবার পড়লাম, “রোদনভরা এ বসন্ত” উপন্যাসটি। আমি হুমায়ূন আহমেদের কিছু কিছু বইকে “ওল্ড ওয়াইন ইন আ নিউ বটল” বলে চিহ্নিত করি। এই উপন্যাসটিও সেই ক্যাটাগরির মাঝে পড়ে। চরিত্রগুলোর নাম পাল্টে আলাদা উপন্যাস বলে চালানো। সেই একই বেকার- রোগেভোগা- প্রেমিক যুবক, বারসাত; সেই একই বুদ্ধিমতী-চঞ্চল- মায়াবতী প্রেমিকা, মরিয়ম বা ঐন্দ্রিলা বা মীরু। মীরু ভালোবাসে বারসাতকে। বারসাতও ভালোবাসে মীরুকে। কিন্তু সমস্যা হয় নায়ক বেকার হওয়াতে। উপন্যাসটি বেশ রোম্যান্টিক।
হুমায়ূন আহমেদের প্রেমের উপন্যাসে প্রেমের বড় অভাব। বাঁধভাঙা প্রেমের উচ্ছ্বাস নেই তাঁর কোন প্রেমের উপন্যাসে। নরনারীর শারীরিক প্রেম তিনি দেখান না। তাঁর চাইতে তিনি দেখান মায়া, মমতা, শ্রদ্ধা, একে অপরের প্রতি টান এই সমস্ত জিনিস। শরীরী চাহিদাকে সবসময় গৌণ করে দেখিয়েছেন তিনি। উল্লেখ করতে হয়, “চৈত্রের দ্বিতীয় দিবস” বইয়ের কথা। সেখানে নায়িকা নায়কের ছোঁয়া পাবার জন্যে এক ধরণের অভিনয় করে, বলে, “আমার কপালে হাত দিয়ে দেখ তো আমার জ্বর আছে কি না?” এই যে শরীরের স্পর্শ নিচ্ছে তাতেও কিন্তু এক ধরণের নাটকীয়তা আছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রেম করতে থাকা নরনারীরা এ ধরণের নাটক করে কি না তা আমার জানা নেই। আবার “কোথাও কেউ নেই”-এর মুনার সাথে তাঁর প্রেমিক যখন জোর করে শরীরী চাহিদা চায় তখন তিনি তা বাঁধা দেন। কেমন যেন এক লজ্জা। এ কি তাঁর মধ্যবিত্ত মানসিকতার প্রকাশ নাকি সময়ের সংস্কার তিনি ধরে রাখতে চেয়েছেন তাঁর লেখায়?
উপন্যাসটি কাল্পনিক সংলাপে বড় বেশি মুখর। নায়িকা কল্পনা করছে, নায়ক কল্পনা করছে, সবার কল্পনাই কেমন যেন একটা তরলতায় ভরা, চিন্তাশীলতার ছাপ সেখানে অনুপস্থিত। মানা গেল কল্পনায় আমরা খুব একটা শক্ত জিনিস চিন্তা করি না, তবু সিরিয়াস বিষয় নিয়ে চিন্তা করার সময় অন্তত সিরিয়াসভাবেই তো চিন্তা করি, তাই নয় কি? মীরু কল্পনায় নায়ক বারসাতের সাথে বাবা মায়ের ইন্টার্ভিউয়ের কথাবার্তায় যেমন তরলতার আশ্রয় নেয় ঠিক তেমনইভাবে ফুপুর সাথে তাঁর পালিয়ে বিয়ে করার ব্যাপারে কথা বলার সময়ে সেই একই তরলভাব�� চিন্তা করে।
হুমায়ূন আহমেদ মানুষজনের বিভিন্ন নাম দিতে পছন্দ করতেন। বৃক্ষমানব, দয়াময়ী এই ধরণের অসংখ্য নাম তিনি তাঁর চারপাশে থাকা মানুষজনকে দিয়েছেন। এই নাম দেয়া ব্যাপারটা এই বইতেও চলে এসেছে, বেশ প্রকটভাবে। উপন্যাসে বিভিন্ন নামের ছড়াছড়ি- “পবিত্র মহিলা”, লাথি সহ্য করে দেখে নাম “লাথি কন্যা”, কথায় কথায় তাল দেয় বলে “তালেবান মা”, ঘুম পায় বলে সোফার নাম “ঘুম সোফা”, প্রতিজ্ঞা করে বলে নাম “প্রতিজ্ঞাবতী”, চোখে জল এসেছে বলে নাম “অশ্রুবতী”, “ডুবন্ত কন্যা”, “ভাসন্ত কন্যা”, “অক্সিজেন সেন্টার” এই ধরণের নামে পুরো উপন্যাস জর্জরিত।
Myrphy’s Law এখানেও দারুণ ভাবে কাজে লাগিয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ- “ ভেজার উদ্দেশে বৃষ্টিতে নামলেই বৃষ্টি কেন জানি কমে যায়”। “অসুস্থ অবস্থায় কটকটা হলুদ রঙ চোখে লাগে।” “ জ্বর বেশি হলে মানুষের মাথায় উদ্ভট চিন্তা বেশি আসে”।
আমার বন্ধু তখন সদ্য কবিতা লেখা আরম্ভ করেছে। প্রতিদিন রাশি রাশি কবিতা লিখে এনে আমাকে দেখায়। আমি বাহবা দেই। কবিতার তখন কিই বা বুঝি? একবার চাচাতো বোনকে দেখালাম তাঁর লেখা বিখ্যাত কবিতা- “বিদায়বেলা”, সেই কবিতার একটা অংশে প্রেমিকা চলে যাচ্ছে প্রেমিককে ছেড়ে। এই অংশ পড়ে আপা হেসেই খুন। আমরা দুজন দুজনার মুখের দিকে তাকাই। কাহিনী কি? তখন আপা দেখায় এই লাইনটি- “সে আমারে ছাড়ি চলে যাবির চায়”। আমরা বুঝতে পারি না, ঠিকই তো আছে, আপা হাসে কেন? আপা তখন বলে, “তোরা বুঝতে পারবি না, এখানে তোর লেখা আঞ্চলিকতায় দুষ্ট। “যাবির চায়” বলে কোন শব্দ হয় না, যাবার চায় বললেও হতো, যেতে চায় বললেও হতো, কিন্তু “যাবির চায়” এটা আঞ্চলিকতায় দুষ্ট। তোর চোখ এড়িয়ে গেছে কারণ তুই এভাবে বলে অভ্যস্ত তাই এভাবেই লিখে দিয়েছিস”। হুমায়ূন আহমেদের লেখাতেও আঞ্চলিকতা বেশ লক্ষণীয়। লেখক লিখেছেন- “বৃষ্টি বাদলার সময় মাছি উড়ে না”। আসলে এখানে “ওড়ে না” শব্দটাই যথোপযুক্ত কারণ “উড়ে” একটি অসমাপিকা ক্রিয়া কিন্তু লেখকের আঞ্চলিকতায় এই শব্দটা “উড়ে না” হয়ে গিয়েছে। নেত্রকোনা ময়মনসিংহের লোকেরা “ও”-কে “উ”-এর মতন বলে অভ্যস্ত।
পারসপেক্টিভের ব্যাপারে আরেকটু সতর্ক হলে বোধ হয় ভালো হতো। উপন্যাসের এক জায়গায় দেখা যায় নায়িকা তাঁর ফুপুর ঠিক করে দেয়া পাত্রের সাথে টেলিফোনে কথা বলছে, দৃশ্যটা দেখানো হচ্ছে মরিয়মের পারসপেক্টিভে সেখানে হঠাৎ করে একটা লাইন এমন দেখা যায়। “নাসের জবাব দিচ্ছে না। তাকিয়ে আছে”। ব্যাপারটা একটু অন্যরকম হয়ে গেল। এটা মীরুর বয়ানে জানা সম্ভব না যে নাসের সাহেব তাকিয়ে আছেন নাকি চোখ বন্ধ করে কথা বলছেন।
“রোদনভরা এ বসন্ত” ট্রাজেডি হতে হতে বেশ ভালো রকমের এক রোমান্টিকতায় মোড় নেয়া উপন্যাসের নাম। প্রায় সময়ই দেখা যায়, হুমায়ূন আহমেদ তাঁর উপন্যাসের চরিত্রগুলোর ব্যাপারে দয়ামায়হীন। কিন্তু এক্ষেত্রে বেশ দয়াশীলতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। পড়া শেষে সবার ভালো লাগবে এমন আশা করা যায়।
কিছু বই আছে মনে তেমন দাগ কাটেনা, চরিত্রগুলো বিরক্তিকর মনে হয়, কোনো গভীরতা থাকেনা। মনে হয় এই গল্প, এই চরিত্র, এই এন্ডিং তো আগেও মিনিমাম দশবার পড়েছি! মোটকথা বইটা 'মোটামুটি'রও এক ডিগ্রী নিচে থাকে। 'রোদনভরা এ বসন্ত' তেমন একটা বই।
ঘুষখোর বাবা আর স্বামীভক্ত মায়ের দুই নম্বর সন্তান মীরু। যথেষ্ট বিরক্তিকর, গ্লুমি, আনলাইকেবল ক্যারেকটার। তার গোপন প্রেমিক বারসাত - যে ভালো পোর্ট্রেট আঁকতে পারে এবং উড়াধুরা জীবন-যাপন করে। হুমায়ূন জোর করে মজার একটা চরিত্র বানাতে গিয়ে একেও বিরক্তিকর বানিয়ে ছেড়েছেন। বাকি থাকলো মীরুর প্রচন্ড ধর্মভীরু এক ফুফি, কাহিনীতে যার কোনো গুরুত্ব নেই। গুরুত্ব যদি কারো থাকে সে হলো নাসের। টেকোমাথার ব্যবসায়ী। হিউমার সেন্সওয়ালা মোটামুটি ব্যতিক্রম একটা ক্যারেকটার। 'হাম দিল দে চুকে সনম' এর অজয় দেবগনের মতো 'হলেও হতে পারতো বৌ' কে প্রেমিকের হাতে তুলে দিচ্ছে!
মেয়ে বড়লোক বাপের একগুঁয়ে সন্তান, গোপন প্রেম করে এক ভ্যাগাবন্ডের সাথে, চুরি করে কাজী অফিসে বিয়ে করবে, ফ্যামিলির কারো সাথে বনিবনা হয়না, কেউ জানেওনা, হুট করে দুয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষী জুটে তার মাঝে একজন মেয়েটার এরেঞ্জড ম্যারেজের বর - এই হলো বইটার কাহিনী। টিপিকাল হুমায়ূনীয় কাহিনী, অলরেডি দশবারের ওপর এই প্লট বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহৃত হয়েছে।
টিপিকাল হুমায়ূন আহমেদ লেখনী! অবাস্তব প্রেম কাহিনী! শুধুমাএ প্রেমে পড়লেই এই ধরনের উপন্যাস পড়তে ভালো লাগে। আর স্বাভাবিক অবস্থায় এগুলাকে নিতান্তই অখাদ্য মনে হয়! আর বিচ্ছেদের পর পড়লে 💀, আর বললাম না!!
হুমায়ুন স্যার এর বই হাতে নিলেই নিজেকে নেশা গ্রস্থ মনে হয়। প্রতিটা পাতায় যেন কোন নেশা লেপটে থাকে। প্রতিটা পাতার প্রতিটা লাইন পড়তে ভালো লাগে। বই শেষ হয়ে গেলে মনে আর কয়েকটা লাইন লিখলে কি এমন ক্ষতি হতো? এমনটা সবার বই পড়তে গেলে হয়না।
সাধারন একটা ভালোবাসার গল্প। গল্পের মাঝে একটুখানি মোড় ঘুরে যাওয়া। আর ম্যাজিকাল এন্ডিং। আগেই পড়েছিলাম, ভালোবাসার মানুষটাকে উপহার দেয়ার জন্য আবার কিনেছি। আমাদের গল্পটাও যেন অনেক সুখের হয়, এই দুয়া প্রার্থনা করি। 😊
কিছু বই আছে পড়ার পর অনেকক্ষণ যাবৎ থম মে-রে বসে থাকতে ইচ্ছে হয়। না, অতিরিক্ত ভালোলাগার ফলে নয়, বরং হতাশায়। এই বইটাও অনেকটা তেমনই। খুবই সাধারণ ঘরনার গল্প। যেন শুরুর ঘটনা দিয়েই বইটির শেষ। আমার তো মনে হচ্ছে কাহিনিও শুধু শুধু ওতো দূর টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু কাহিনি কি সত্যিই তৈরি হয়েছিল? সামান্য একটা টপিক নিয়েই তো পুরো বই। পালিয়ে বিয়ে করা, এই যা!
মেয়েটির চারটা নাম। মরিয়ম থেকে মীরু এবং ঐন্দ্রিলা থেকে ঐ! বাবা-মায়ের দ্বিতীয় সন্তান। একগুঁয়ে, জেদি প্রকৃতির অনেকটা, তবে স্ট্রেইট ফরওয়ার্ডও বটে! মেয়েটির প্রেমিকের নাম বারসাত। দুঃখজনক হলেও বলতে হচ্ছে, লেখক চমৎকার একটি চরিত্র তৈরি করতে গিয়ে, অতিরিক্ত রসিকতা ঢালতে গিয়ে চরিত্রটিকে তার স্বকীয়তা থেকে অনেকটা দূরে নিয়ে গিয়েছেন। বাউন্ডুলে, হাস্যরসাত্মক চরিত্র থেকে বারসাত বিরক্তিকর চরিত্রে পরিণত হয়েছে জাস্ট! তবে মীরুর জন্য ওর ফুপুর পছন্দ করা পাত্র টাক মাথার নাসের যথেষ্ট আকর্ষণীয় একটা চরিত্র ছিল।
বইটির শুরু হয় বারসাত ও মীরুর লুকিয়ে বিয়ে করার প্ল্যানিং দিয়ে। কিন্তু বাবার অসুস্থতার কারণে সেইবার আর বিয়ে করা হলো না তাদের। পর পর দু'বার তাদের বিয়ের প্ল্যানিং ভেস্তে যায়। একবার বাবার অসুস্থতার জন্য, আরেকবার স্বয়ং প্রেমিকের অসুস্থতার জন্য। তবে যেই সেই অসুস্থতা নয়, একেবারে বড়সড় অসুখ!
সত্যি কথা বলতে বইটায় মূল কাহিনির থেকে কল্পকাহিনী বেশি ছিল। মানে হিরোইন ঘুমোতে ঘুমোতে মা, বাবা, ফুপু, প্রেমিক সবার সাথেই কল্পনায় কথা সেরে ফেলছে। আবার আমাদের হিরোও কিন্তু কম যান না। সেও জ্বরের ঘোরে মা, বাবা এমনকি মীরুর সাথেও কথা বলছে। আমার ধারণা পুরো বইয়ের অর্ধেক শুধুমাত্র কাল্পনিক কথোপকথনেই ভরপুর। আর অনেস্টলি বলছি, সেইসব কথোপকথনে সামান্যতমও মজা পাইনি আমি। বরং, বিরক্তি ধাপে ধাপে বেড়ে যাচ্ছিল। শেষটাও কেন যেন আশানুরূপ হয়নি। বইটি পড়ে হতাশই হতে হলো কেবল।
ঐ, মরিয়ম, মীরু বা ঐন্দ্রিলা মেয়েটা স্বপ্ন দেখে খারাপ স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন দূর করার জন্য আবার ছোট ফুপু তাবীজ দিয়েছে যে কি না হজ্জ্ব ফেরত মহিলা। বারসাত নামের ছেলেটা কাকভেজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঐ এর অপেক্ষায়, তাদের বিয়ে হওয়ার কথা। মিনি সিঙ্গারা তাদের বিয়ের খেজুর এর বিকল্প হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার কথা। কিন্তু ঐ এর আসা হয়ে উঠলো না। আর যখন ঐ অপেক্ষায় ছিলো তখন আবার বারসাতের ভাগ্য সহায় হলো না।
হুমায়ুন স্যারের বেশ কিছু বই আছে যা ৫ স্টার এর উপরে কিন্তু কিছু বই আছে যা ১/২ স্টার এর নিচে !
এসব বইয়ের সবগুলোতেই আলগা প্রেম পিরিতি থাকে , মধ্যবিত্ত পরিবারের মা যে স্বামী ভক্ত খুব রাগী , ৩য় কোনো পুরুষ বা নারী থাকে যার সাথে বিবাহ বা প্রেম তৈরি হয়ে যায় অবশেষে মূল চরিত্রের কেউ মারা যায় ! এই !
এই সব অধিকাংশই সস্তা প্রেম বোঝাই বই ছাড়া আর কিছুই না অথবা বাংলা ৯০ এর কোনো সিনেমার স্ক্রিপ্ট !
রোদনভরা এ বসন্ত বইটা আমার কিছু comfort বই গুলোর মধ্যে একটা। আমার এর storyline টা খুব ভাল্লাগে। আর বইটা পরতে পরতে খুব চন্নচেতেদ হয়ে গেছিলাম। এন্দিং এ একটু প্লট টুইস্ট আছে ;) সব মিলিয়ে ভালো বই, আমার পছন্দের একটা বই।
মীরু রাতে ঘুমাতে পারছে না। মাথা ব্যাথা করছে। আবার চিন্তাও হচ্ছে আগামীকালকে নিয়ে। কারণ আগামীকাল তার বিয়ে বারসাত নাম এর একজন এর সাথে। বিয়েটা কাজী অফিসে গিয়ে করা হবে। এর আগে মীরুর বড় বোন পালিয়ে বিয়ে করে ডিভোর্স হয়ে গেছে, তাকে ত্যাজ্য কন্যা ঘোষনা করেছে তার বাবা। মীরুর সাথেও একইরকম হওয়ার কথা। মীরুর বাবাকে মীরু তেমন একটা পছন্দ করেন না, ঘুষ খেয়ে বড়লোক হয়েছে। মীরুর মা আদর্শ বউ, তার স্বামীর হ্যা এর সাথে হ্যা মিলাবে টাইপ। এদিকে মীরুর ফুপু মীরুকে নাসের নাম এর একজন এর সাথে বিয়ে দিতে চায়।
বিয়ের দিন ভোরবেলা মীরুর বাবার হার্ট এটাক হয়। যার দরুন মীরু আর বিয়ে করতে যেতে পারেনি। এদিকে বারসাত কাজী অফিসে সাক্ষি সহ বসে আছে, মীরুর দেখা নাই। কিছুটা অবাক আর অনেকখানি বিষন্ন হয়ে বারসাত বৃষ্টিতে ভিজে চলে যায় তার মামার বাগানবাড়িতে। অনেক জ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্রায় মৃত্যুমুখি হয়ে যায় বারসাত।
এদিকে মীরুর পরিচয় হয় নাসের এর সাথে। মীরুর ফুপু পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। নাসের মীরুকে খুবই পছন্দ করেছিলো। এই নাসেরকে নিয়েই মীরু বিকাল ৫ টায় কাজী অফিসে যায়, কিন্তু বারসাতকে আর পাওয়া যায়নি।
মীরু বারসাতকে অনেক পছন্দ করে তা পুরো গল্পেই বুঝা যাচ্ছিলো। বারসাত খুব সুন্দর করে কথা বলে আর খুবই অদ্ভুত ধরণের মানুষ।
বারসাত যে মেসে ফিরে এসেছে এই খবরও দিয়েছে নাসের। মীরু বারসাত এর সাথে দেখা করে বারসাতকে প্রচন্ড রুগ্ন অবস্থায় পায়। সেদিনই মীর বিয়ে করতে চেয়েছিলো, কিন্তু বারসাত ২ দিন সময় চায়, এই ২ দিন এর মধ্যে সে পালিয়ে যায়। আসলে বারসাত এর হেপাটাইটিস বি হয়েছিলো, তাই অল্প সময় এর জন্য বিয়ে করে মীরুর জীবন নষ্ট করতে চায়নি। গল্পের শেষটা মীরুর দেয়া। সে বারসাতকেই খুঁজে বের করে বিয়ে করে।
This entire review has been hidden because of spoilers.