প্রাচীন একটি বাড়ি। গুজব আছে, কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে জয়ী পা-বদের একটি গোপন ঘাটি ছিল একটা ছবি বানানোর সংস্থা ভাড়া নিল। শুট্যিং এ দেখা দিতে লাগল একের পর এক বিপত্তির। বাধ্য হয়ে ওরা শরণাপন্ন হল একজন আধিভৌতিক বিশেষজ্ঞের। রহস্যময় একজন মানুষ। একা থাকে। সুপারন্যাচারালে যেমন আছে, ঠিক তেমনি আছে ভয়ের বশে হ্যালুসিনেশন। এর পৃথককরণ, এবং সমস্যার মূলে পৌঁছানোই মূল চ্যালেঞ্জ। আসলেই কী কোন ম্যাস হ্যালুসিনেশনে ভুগছে সবাই? নাকী আসলেই আছে কোন আধিভৌতিক অস্তিত্ব?
Rafat Shams has spent all of his years in the city of Dhaka. The underbelly of the city always intrigued him and such is reflected in his writing. He goes for a bold, unabashed approach in his writing.
৯৬ পাতার ছোট্ট একটা নভেলা। লেখকের প্রথম কাজ, কিন্তু সেই "প্রথম" এর ছাপ খুব বেশি জায়গায় নেই। ছোট ছোট বাক্যে সাবলীল ধরণের লেখা। বর্তমান সময়ের সাথে মহাভারতের কিছু উপাদান এবং আরবান ফ্যান্টাসির সংমিশ্রণ আসলেও প্রশংসনীয়। শেষ করার পর মনে হচ্ছে যেন বরফখণ্ডের ওপরের চুড়োটুকু দেখলাম কেবল, এখনও অনেক কিছু দেখা(পড়া) বাকি। ^_^
চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটা প্রাচীন জমিদার বাড়িতে শ্যুটিং করতে গিয়ে বিপদে পড়ে গেল শ্যুটিং ইউনিট ‘শ্বাপদ।’ একের পর এক বিপত্তি আসতে থাকলে নাওয়া খাওয়া হারাম হয়ে গেল সবার। ঘটনার কারন, উৎপত্তি বা করণীয় কেউ না জানলেও ভয়ঙ্কর অতিপ্রাকৃত কিছু একটার অস্তিত্ব অনূভব করলো সবাই। দুর্ঘটনা মারাত্বক মোড় নিল যখন স্ত্রী’কে মেরে আত্মহত্যা করে বসলো বাড়িটির বর্তমান মালিক। এরপর এলো ভৌতিক বাঁজ পাখির আক্রমন, শ্যুটিং স্পটে পোষ মানা ঘোড়াটাও যখন ধ্বংসাত্মক আচরন শুরু করলো তখন ডাক পড়লো আধিভৌতিক বিশেষজ্ঞ প্রফেসর সাইফের। কিছুটা আত্মকেন্দ্রিক, ঘরকুনো প্রফেসর বুঝলেন, সমস্যার মূলে ভৌতিক ব্যাপার যেমন আছে, তেমনি আছে বিভ্রম। এদুটোকে আলাদা করে সমস্যার মূলে পৌছুনোটাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়ালো। কি হলো তারপর? বিভ্রম নাকি অতিপ্রাকৃত কিছু, কে রয়েছে মূলে? লেখক ‘রাফাত শামস’ এর গল্পে পাঠক জানতে পারবেন সেই গোপন সত্য।
এরকমই একটা ছোট্ট, সুন্দর প্লটকে কেন্দ্রকরে গল্পটা এগিয়েছে। সাথে ‘বাণ’ এর আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে ‘ডিলান’এর অসাধারণ প্রচ্ছদ। হলুদের মধ্যে ইলাস্ট্রেশন এলিমেন্ট আর হাঁতে আঁকার কম্বিনেশন অসম্ভব ভালো লেগেছে। বলতে দ্বিধা নেই এই একটা কারনেই বইটি আমি সংগ্রহে রাখবো। সামান্য কিছু বানান ভুল আর কিছু শব্দের মধ্যকার স্পেস মিছিং অনিচ্ছাকৃত, এটা হতোই। কাগজ, কম্পোজ আর বাঁধাই বরাবরের মতোই উন্নত। লেখক তড়িৎপ্রকৌশলে স্নাতক হলেও সিনেমা বানানো নিয়ে ভালো জ্ঞান রাখেন বোঝা যায়, এ তথ্যগুলো কাজের। আবির, সাদি, নায়না’র চরিত্রায়ন ভালো ছিল। বাকিরা যখন ভালো, তখন গল্পের প্রয়োজনে একজনকে কিছুটা বেপরোয়া হতেই তো, অরণ্যের চরিত্র তাই এ দিক দিয়ে ব্যালেন্সড্। অনেকটা perfect man for the job. ভৌতিক বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রফেসর সাইফ তার চারপাশে রহস্যের জাল সফলতার সাথেই ছড়াতে পেরেছেন, লেখক এক্ষেত্রেও প্রশংসার দাবি রাখেন।
প্রচুর সংলাপ ছিল বইটিতে। লেখক বর্নণা স্কিপ করে শুধু সংলাপ দিয়েই অনেক অধ্যায় শেষ করেছেন। লেখায় কিছুটা অপরিণত ভাব লক্ষনীয়। ছোট একটা গল্পকে টেনে-টুনে অহেতুক ‘নভেলা’য় রূপ দেয়া হয়েছে। আঞ্চলিক ভাষায় যত্রতত্র ব্যাবহার মাঝে মাঝেই বিরক্তি বাড়িয়েছে। ‘যাউকগা, থাউকগা - এ শব্দগুলো স্বাভাবিক বাচনভঙ্গি হলেও সাহিত্যে সরাসরি ব্যবহার কতোটা স্বার্থক তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। কাহিনীতেও তেমন নতুনত্ব চোখে পড়েনি। গুগলে horror stories লিখে সার্চ দিলে একই প্লটের একাধিক গল্প চোখে পড়বে। শেষের দিকে এসে লেখক একটু বেশীই তাড়াহুড়ো করেছেন বোঝা যায়। ডেব্যুটার্ন লেখা হিসেবে ‘বাণ’ উৎরে গেলেও মাত্রাতিরিক্ত সমন্বয়হীন ‘প্রথম মৌলিক’ মানসম্পন্ন সাহিত্যের কোন ক্যাটাগরি হতে পারেনা। লেখক পরবর্তী লেখাতে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন আশা করি।
যারা ভৌতিকের মিশেলে আরবান ফ্যান্টাসি পড়তে ভালোবাসেন তাদের ‘বাণ’ ভালো লাগবে। ছোট খাটো কিছু খটকা এড়িয়ে গেলে এক বসাতেই শেষ করা যাবে বইটি। মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা ৯৪ এর সাথে মানানসই ১৪০ টাকা মুদ্রিত মূল্যের ‘বাণ’ ২০১৮ বইমেলায় প্রকাশ করেছে ‘বাতিঘর প্রকাশনী।’
কাহিনি সংক্ষেপঃ আবির, অরণ্য ও সাদি নামের তিন তরুণ শ্বাপদ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার। ঐতিহাসিক এক কাহিনি নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। শুটিংয়ের জন্য প্রাচীন একটা বাড়ির সন্ধান করতে করতেই উত্তরাঞ্চলে এমনই একটা বাড়ি পাওয়া গেলো। জনশ্রুতি আছে এই বাড়িটা ছিলো মহাভারতের পঞ্চপাণ্ডবের হাইড আউট গুলোর মধ্যে একটা।
যথারীতি শুটিং শুরু হলো। আর শুরু থেকেই ঘটতে শুরু করলো ব্যাখ্যার অতীত কিছু ঘটনা। হঠাৎ করেই খেপে গেলো শুটিংয়ে ব্যবহৃত একটা ঘোড়া। ডিরেক্টর অরণ্যকে উদ্দেশ্য করে দৌড়ে এলো ওটা। প্রাণ বাঁচানোই দায় হয়ে পড়লো। পুরো শুটিং স্পট জুড়ে ছড়িয়ে পড়লো আতঙ্ক। সন্দেহের তীর যার দিকে সে আর কেউ না, এই চলচ্চিত্রের নায়িকা নায়না।
এখানেই শেষ না। সপরিবারে রহস্যজনক মৃত্যু হলো প্রাচীন এই বাড়িটার মালিকের। আর মৃত্যুর আগে অদ্ভুত এক উইল করে গেলো সে। শুটিং স্পটে ঘটে যাওয়া নানা আধিভৌতিক ঘটনা থেকে বাঁচতে আবির মামুনুর রশীদ নামের প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটরের শরণাপন্ন হলো। এই মানুষটা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্তে নামতেই বেরিয়ে আসতে লাগলো অভাবনীয় সব ব্যাপারস্যাপার। এগিয়ে চললো গল্প। আর তার সাথে তাল রেখেই গল্পে আগমন ঘটলো জিশনু নামের এক সুপ্রাচীন ডিমনের।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ 'বাণ' রাফাত শামসের প্রথম প্রকাশিত নভেলা। এই নভেলাতে তিনি আধিভৌতিক একটা রহস্যের অবতারণা করার পাশাপাশি সমাবেশ ঘটিয়েছেন ফ্যান্টাসি ও রোমাঞ্চের। তবে পঞ্চপাণ্ডবদের ব্যাপারে তেমন কোন তথ্য এই বই থেকে পাওয়ার আশা করলে ভুলই হবে বোধহয়। একইসাথে 'বাণ' নভেলার নামকরণের সার্থকতাটাও বুঝে উঠতে পারিনি।
প্লটটা দারুন ছিলো। এই প্লটকে ডেভেলপ করে পুরোদস্তুর একটা উপন্যাস লিখে ফেলাটাও সম্ভব ছিলো। তবে প্রথম কাজ হিসেবে রাফাত শামস বেশ ভালো করেছেন। ধীরে ধীরে তাঁর লেখনীতে আরো পরিপক্বতা আসবে, এটা আমার বিশ্বাস। তাঁর জন্য শুভকামনা।
বেশ অনেকগুলো টাইপিং মিসটেক লক্ষ্য করেছি। মাত্র ৯৪ পৃষ্ঠার একটা নভেলায় এতো পরিমাণ ভুল দৃষ্টিকটু। প্রচ্ছদ নজরকাড়া। ডিলান সাহেবকে জানাই সাধুবাদ। আগ্রহীরা চাইলে পড়তে পারেন 'বাণ'।
নাম জেনেই পড়ার প্রতি আগ্রহ জন্মেছিল, সাথে ছিল বইয়ের পিছনের কাহিনী সংক্ষেপ। কিন্তু বই হাতে পেয়ে ভাবলাম এতো পাতলা বই? যাই হোক পড়া শুরু করলাম। কাহিনী ভালোই ছিল কিন্তু পান্ডবদের গোপন ঘাঁটি নি���়ে খুব বেশি কিছু পেলাম না তবে আশা করেছিলাম।
নায়না, নখড়া শব্দগুলো যতদূর জানি বিজাতীয় ভাষা। দেশীয় শব্দ ব্যবহার করলেই ভালো হত বলেই মনে হয়।
আবিরকে বেশি ভালো লেগেছে, করিতকর্মা/করিৎকর্মা ছেলে। সাদি-ও ভালো। আর অরণ্যকে মনে হয়েছে যে যেমন সে তেমন। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মামুন সম্পর্কে আরও জানার ইচ্ছে ছিল। সিক্যুয়েল/প্রিক্যুয়েলে জানা যাবে নাকি?
শ্বাপদ মিডিয়া প্রডাকশন। বাংলাদেশের সিনেমা জগতে ভালই নাম ডাক। সিনেমার লোকেশন হিসেবে ঠিক করল চাপাই নবাব গঞ্জের একটা প্রাচীন বাড়িকে। কিন্তু শুটিং শুরু করতে গিয়েই বিপদে পড়তে হল তাদের। শ্বাপদ মিডিয়ার ৩ কর্নধারের একজনের সাথে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটতে শুরু করল। খোঁজ নিয়ে দেখা গেল আগে থেকেই ভূতুড়ে ব্যাপার সাপার ঘটত বাড়িটিকে ঘিরে। বাড়ির মালিকেরা মালিকানা পাওয়ার দুই বছরের মাথায় আত্মহত্যা করে বউকে খুন করে। ভূত তাড়ানোর জন্য ডাকা হল তান্ত্রিককে। নাহ তিনি আগের আমলের কোন তুকতাকওয়ালা তান্ত্রিক নন। রীতিমত উচ্চশিক্ষিত একজন মানুষ। তিনি আসার পর কাহিনী দ্রুত এগোতে থাকল (একটি বেশিই দ্রুত -_-)
পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ কাহিনীর শুরুটা কিছুটা প্রমিসিং ছিল কিন্তু অতিমাত্রায় প্লটহোল কাহিনীকে ডুবাইছে। আর কাহিনী পড়ে মনে হয়েছে উপন্যাস লিখতে গিয়ে লেখক তড়িহড়ি করে নভেলায় রূপান্তরিত করেছেন। প্রথম লেখা হিসেবে অবশ্য উৎরে যায়।
একটি প্রাচীন বাড়ি । অনেক অনেক কাল আগের। স্বর্ণালি অতীতকে ধারণ করে টিকে আছে এখনো। একটি সিনেমা হাউজ বাড়িটি ভাড়া নিল সিনেমার শুটিং এর জন্য। কিন্তু শুটিং এর সময় ঘটতে থাকলো নানা বিপত্তি। খুব অশুভ অতীতও নাকি আছে এ বাড়িটির। এরই মধ্যে ঘটে এক ভয়ংকর ঘটনা। শরণাপন্ন হতে হল এক আধিভৌতিক বিশেষজ্ঞ এর। তারপর?
পাঠ পতিক্রিয়া- হরর পড়া একদমই হতো না আমার। অল্পকিছুদিন আগে শুরু করেছি। তাই এখনো এ জনরার ব্যাপারে বেশি কিছু জানি না। তবে যদি বলতে হয় তাহলে বলব বইটি উপভোগ্য। লেখনী ভালো লেগেছে। প্রথম বই হিসেবে বেশ ভালোই।
বছরের প্রথম পড়া বই! তাও আবার মৌলিক বাংলা সাহিত্য! - নতুন লেখক,কিন্তু পড়ে মনে হয়নি যে নতুন কারও প্রথম উপন্যাস পড়ছি।আবির এবং সাইফ চরিত্র দুটিকে ভালো লেগেছে বেশ! - তবে বইমেলার জন্য হলেও প্রুফ রিডিং এর ব্যবস্থা রাখলে মন্দ হতোনা! -_-