জীবনে বহু জীবনীগ্রন্থ পড়েছি তবে এমন আশ্চর্য জীবনীগ্রন্থ আর পড়িনি। এই মহান মানুষ ছিলেন একাধারে বিজ্ঞানী, দার্শনিক, চিকিৎসক এবং সাহিত্যিক। কতটুকু জ্ঞানী একটা মানুষ হতে পারে তার উত্তম উদাহরণ ইবনে সিনা।
ইবিনে সিনার 'আশ শেফা এবং আল কানুন' গ্রন্থ দুটি দর্শন এবং চিকিৎসা শাস্ত্রের বাইবেল। যদিও তার লেখা ৯৯টি গ্রন্থে তার বিভিন্ন শাখায় অগাধ পান্ডিত্যের পরিচয় পাওয়া যায়।
ইবনে সিনার লেখা কবিতাঃ
"পৃথিবীর ধূলি হতে আকাশের সপ্তদ্বার ভেদি শয়তান রয়েছে যেথা আপনার গর্বভরা বেদি উঠেছিনু সেথা আমি, পথিমধ্যে এক এক করে মীমাংসা করেছি সব আছে যত গ্রন্থি বাঁধা ডোরে কেবল পারিনি তারে— রহস্য দুর্জ্ঞেয় চিরকাল মানুষের মৃত্যু আর জীবনের ভাগ্যলিপি জাল।"
মৃত্যু আর ভাগ্যলিপির রহস্যের সমাধান কি কেউ করতে পারবে? ইবনে সিনা তারও প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন 🙂
আমার মহান মহান মনীষীদের জীবনীগ্রন্থ পড়ে শুধু একটা জীবনবোধ তৈরি হয়েছে,
এলাকার এক জনপ্রিয় লোক মারা গেছে। শোকাহত সবাই কফিন নিয়ে চললে গোর দিতে৷ এই কাতারে শামিল হয়েছিল ছোট্ট একটি ছেলে, যার নাম হোসায়েন। সবাই খানিকটা দূরে সরে গেলে, হোসায়েন কোনো এক বিচিত্র কারণে কফিনের মুখটি খুলে মৃতদেহটি দেখলো। ভয় নয়, কৌতূহল তাকে গ্রাস করলো। মানুষ কেন মারা যায়, আত্মার তাহলে কী হয় - এই দুটি প্রশ্ন ভাবতে ভাবতে বিভোর হলো ছোট্ট হোসায়েন। ভাবীকালে জগদ্বিখ্যাত এই বালকের নাম আবু আলি আল হোসায়েন ইবনে আবদুল্লাহ যিনি ইবনে সিনা নামে পরিচিত।
জীবনীগ্রন্থে মৌলিকতার ছাপ রাখা কঠিন। কিন্তু আবু কায়সার পেরেছেন৷ ভদ্রলোকের ভাষা এবং শব্দের বুনন অসম্ভব ভালো। তাই মাত্র ৪০ পাতার মাধ্যমে দার্শনিক, কবি এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের দ্বিতীয় শিক্ষক ইবনে সিনাকে পাঠকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।
এত ছোট পরিসরে ইবনে সিনার মতো ব্যক্তিত্ত্বকে ধারণ করা অসম্ভব। ক্ষুদে পাঠকের জন্য লেখা। তাই বড় পাঠক প্রত্যাশা নিয়ে বইটি পড়তে যাবেন না।
৪০ পেজের ছোট অথচ অসাধারণ বই। বিসাকের এই বইয়ের অনুবাদ দারুণ। ইবনে সিনার জীবনের নানা দিকের গল্প। দার্শনিক,কবি,চিকিৎসা ইবনে সিনার জীবনের অল্প অল্প অথচ খুটিনাটি বেশকিছু তথ্য পাওয়া যাবে এই বইয়ে। একই সাথে আল বেরুনী,সুলতান মাহমুদ, গাজ্জালী সহ বেশকিছু চরিত্র উপস্থিত এই বইয়ে। চিকিৎসা, দর্শন নিয়ে মুসলিম সমাজের উত্থান থেকে শুরু করে পাশ্চাত্যের গ্যালেনসহ অনেকে এই বইয়ের বিষয়।
(পাঠ পর্যালোচনা : ইবনে সিনা | আবু কায়সার) ◾ “মুসলিম সভ্যতার ভিত্তির ওপর ক্রয়োদশ শতাব্দীতেই গড়ে ওঠে ইউরোপীয় সভ্যতার বিশাল প্রাসাদ। ইউরোপের আদলটাই যায় পাল্টে। তবে বিস্ময়ের ব্যাপার এটাই যে, দু-তিন শো বছরের মধ্যেই ইউরোপ তার ত্রিসীমানা থেকে আরব সভ্যতা বহিরাবরণ পুরোপুরি মুছে ফেলে। ইউরোপকে আরব তথা মুসলিম-বিশ্ব কী শেখাল, বাইরের জগৎ থেকে সে-কথা বুঝবার কোনও উপায়ই আর থাকল না। তবে বাইরের পালিশ বদলে ফেললে হবে কী — ভেতরে ভেতরে সমগ্র ইউরোপে তার অপ্রতিহত প্রতিপত্তি চালিয়ে যেতেই থাকে।” ইউরোপীয়দের শক্তিই এটা, তারা আরবদের কাছ থেকে জ্ঞান ও বিজ্ঞানের শিক্ষা নিলেও নিজেদের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে নি। ইউরোপীয়রা বিভিন্ন দার্শনিক, বিজ্ঞানী ও বিদ্বানদের ধারণার উপর ভিত্তি করে নতুন নতুন চিন্তা ও গবেষণা করতে থাকে যার ফলে অন্য সভ্যতা থেকে যা গ্রহণ করেছে তার আদল বদলে নতুনভাবে নিজেদের ধারণা যুক্ত করে নিজেদের সভ্যতার বলে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। দু-তিন শো বছরের মধ্যে ইউরোপীয়রা পুরাতন ধারণার উপর নতুন যে চিন্তা উদ্ভাবন করে তাকে নিজেদের সংস্কৃতি, ভাষা ও মানসিকতার পোষাক পরিয়ে দিলে অন্যান্যরা সে পোষাক সহ চিন্তাগুলো গ্রহণ করে। অন্যদিকে মুসলিম সভ্যতার ধারকগণ নিজেদের চিন্তা, ধারণা ও আবিষ্কার যা গুণীজন দার্শনিক, বিজ্ঞানী ও বিদ্বানরা করে গেছেন তার উপর অনেককাল ধরে শুধু চর্বিতচর্বণই করে আসছে, নতুন চিন্তাভাবনার উদ্ভাবন যেন থেমেই গেছে।
ইউরোপীয় রেনেসাঁ'র অগ্রগতি শুরু হয় মুসলমানদের ইউরোপে পদচারণার মধ্য দিয়ে। ৭ম শতাব্দীত থেকে ১২শ শতাব্দী পর্যন্ত জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রত্যেক শাখায় শীর্ষস্থানীয় অবদান রাখেন মুসলিম মনীষাগণ, সমাজসংস্কারণে তাদের ভুমিকা ছিল সর্বোচ্চ। “1001 Inventions: Muslim heritage in our world” এ Professor Salim T S Al Hassani লিখেন, “Great Muslim man and women of the past-mathematicians, astronomers, chemists, physicians, architects, engineers, economists, sociologists, artists, artisans and educators. expressed they are religiosity through beneficial contributions to society and humanity. They did so with open mindedness and in many instances, positively and constructively worked alongside non-Muslims. This track record of cooperation over the centuries, although deeply rooted within early Muslim society, seems to have been foreducators. “অতীতের মহান মুসলিম বিদ্বানরা- যার মধ্যে আছেন গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদ, রসায়নবিদ, চিকিৎসাবিদ, বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, স্থাপত্যবিদ, অর্থনীতিবীদ, সমাজবিজ্ঞানী, শিল্পী এবং শিক্ষাবিদ। তারা সমাজ ও মানবতার প্রতি দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তাদের ধর্মীয় চেতনার স্বাক্ষর রেখেছেন। তারা মুক্ত মনের অধিকারী ছিলেন। অমুসলিমদের সাথে ইতিবাচক এবং সহযোগীতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করেছেন। প্রথম দিককার মুসলিম সমাজের নিহিত সহযোগিতার এই প্রমাণিত রেকর্ড আজ হারিয়ে গেছে।” হারিয়ে যাওয়ার একটি কারণ আমাদের পূর্বজনদের অবদানের কথা জানার আগ্রহ কমে যাওয়া। তাদের জীবন, চিন্তা, চেতনা, আবিষ্কার নিয়ে জানতে অনীহার সৃষ্টি। জানাজানির পথ সুগম রাখতে অনেকেই চেষ্টা করে যাচ্ছেন বিভিন্নভাবে। আবু কায়সার তার লেখার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন মুসলিম বহুবিদ্যাবিশারদ ইসলামি স্বর্ণযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসক, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, চিন্তক, লেখক এবং আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক ইবনে সিনার জীবনী।
▪ “এরই মধ্যে একদিন দুম করে হঠাৎ কোত্থেকে বোখারায় এসে হাজির হলেন ভবঘুরে পণ্ডিত আন নাতিলি। ইনি ছিলেন ছটফটে স্বভাবের লোক। যেন পায়ের তলায় সরষের মুড়মুড়ি লেগেই আছে।” তিনি একজায়গায় বেশিদিন থাকতেন না। কিন্তু জ্ঞানে গুণে ও শিক্ষকতাই সবাইকে টপকে ছিলেন তিনি। ইবনে সিনাকে পড়ানোর জন্য তার বাবা অর্থ ও বসবাসের যথাযোগ্য ব্যবস্থা করে কিছুদিন বোখারায় রাখেন। ইবনে সিনা পরম উৎসাহে উনার কাছে ফিকাহ, ন্যায়শাস্ত্র, জ্যামিতি, জ্যোতির্বিদ্যা ও দর্শনের পাঠ নেন। আন নাতিলির কাছে যা বিদ্যা ছিল সব নিয়ে নেন। “শিষ্য অতি অল্প সময়ে সবদিক গুরুকে ছাড়িয়ে গেলে পরাজয় স্বীকারে কুণ্ঠিত হননি আন নাতিলি।” নাতিলি বাবাকে বলেন আপনার ছেলে বড্ড বড় পণ্ডিত হবে৷ শিক্ষকের কথামতো ইবনে সিনা একসময় হয়ে উঠেন বহুবিদ্যাবিশারদ , যুগের শ্রেষ্ঠ চিকিৎসক ও দার্শনিক।
তর্কসাপেক্ষে প্রাক-আধুনিক যুগের সবচেয়ে প্রভাবশালী দার্শনিক আবু আলী ইবনে সিনা ছিলেন অ্যারিস্টটলীয় দর্শন দ্বারা প্রভাবিত একজন পেরিপেটিক দার্শনিক। এবং তিনি গ্যালেন ও হিপোক্রেটিসের দ্বারাও প্রভাবিত ছিলেন। “অনেকে মনে করেন, দর্শনে ইবনে সিনা ফারাবিকে ডিঙিয়ে বিশুদ্ধ অ্যারিস্টটলবাদীতে পরিণত হন। কিন্তু এ বক্তব্য খন্ডন করে অনেকেই আবার বলেন, তিনি কোন বিশেষ মতবাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেননি। বরং নিজের চিন্তাভাবনাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। হয়তো একারণেই একদিন প্রাচ্যের শ্রেষ্ঠ দার্শনিকে পরিণত হন ইবনে সিনা।” আবু কায়সার লিখেন, “ইবনে সিনার রচিত কিছু গ্রন্থে গ্যালেন ও অ্যারিস্টটলের প্রভাব স্পষ্ট।” ধারণা করা হয় তিনি ৪৫০টি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। এর মধ্যে ১৫০টি দর্শনশাস্ত্র বিষয়ক এবং ৪০টি চিকিৎসা বিজ্ঞান বিষয়ক রচনাসহ মোট ২৪০টি গ্রন্থ বর্তমানে টিকে রয়েছে। তার মধ্যে চিকিৎসাশাস্ত্রে ”কানুন ফিত্ তিব” (চিকিৎসাবিজ্ঞান পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয়। এটি বিশ্বে ১৮ শতক পর্যন্ত প্রামাণ্য গ্রন্থ হিসাবে ব্যবহৃত হত।) দর্শনশাস্ত্রে “কিতাবুস শিফা” উল্লেখযোগ্য।
খলিফা নুহ বিন মনসুর একসময় অসুস্থ হয়ে পড়লেন। রাজ্যের বাঘা-বাঘা চিকিৎসকরা কোন কূল খুঁজে পেলেন না, মোক্ষম চিকিৎসা পদ্ধতিও ব্যর্থ। রাজদরবারে তখন ডাক পড়লো আঠারো বছরের যুবক ধন্বতরি ইবনে সিনার। নির্ভয়ে ইবনে সিনা খলিফার চিকিৎসা শুরু করলে “খুব কম সময়ের মধ্যেই সেরে উঠলেন খলিফা! এই প্রথম (কর্মজীবনে) উন্নতির সূচনা হল ইবনে সিনার জীবনে। — বিমুগ্ধ দ্বিতীয় নুহ বললেন, তোমার অদ্ভুত হাতযশে আমি বিস্মিত। আর কত যে খুশি হয়েছি, তা বলে বোঝানো যাবে না। এখন বল, তুমি কী পুরষ্কার চাও। যা চাইবে, তাই পাবে। ইবনে সিনা শান্তভাবে জবাব দিলেন, আমি আপনার অমূল্য বইপত্রে-ভরা গ্রন্থাগারের সুনাম শুনেছি। যদি অনুগ্রহ করে সেই গ্রন্থাগারে অধমকে প্রবেশ করার অনুমতি দেন। খলিফা মৃদু হেসে বললেন, তুমি যখন খুশি, যতক্ষণ ইচ্ছে— ওই গ্রন্থাগারে বসে বই পড়তে পার।” এই গ্রন্থাগারের ভেতরে প্রবেশ করে অবাক হয়েছিলেন ইবনে সিনা। এমন সব বইয়ের সন্ধান তিনি সেখানে পেয়েছিলেন, যেগুলো এর আগেও কোনদিন দেখে নি। প্রবেশের পর তিনি অধ্যয়নে এমনই রত হয়ে পড়ে নাওয়াখাওয়ার কথাও ভুলে যেতেন।
“ইবনে সিনার আরবিতে লেখা কবিতায় নিজের দার্শনিক ভাবনার প্রতিফলন ঘটে।” নিজের মতবাদকে তিনি সেখানে রোমাঞ্চকর কাহিনির ছাঁচে ঢেলে প্রচার করেন। ইবনে সিনার মাতৃভাষা ফারসি হলেও তার প্রায় সব লেখাই আরবিতে কিন্তু কবিতাগুলো বেশিরভাগ লিখেছেন ফারসিতে৷ দুঃখের বিষয় উনার অনেক কবিতা অন্যজনের নামে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। ডা. এথি ইবনে সিনার যে কবিতাগুলোর খোঁজ পান ওখানের একটি ফিটজেরাল্ড আর হুইপ ফিল্ডের অনুবাদে সংগ্রথিত হয়ে ওমর খৈয়ামের নামে প্রায় প্রতিষ্ঠা পেয়ে গেছে। পরে অবশ্য ডা. এথি প্রমাণ করে ছেড়েছেন যে লেখাটি ইবনে সিনার। বিশিষ্ট গবেষক এম. আকবর আলী বিতর্কিত সে কবিতার অনুবাদ করেন,
“পৃথিবীর ধূলি হতে আকাশের সপ্তদ্বার ভেদি শয়তান রচেছে যেথা আপনার গর্বভরা বেদি উঠেছিনু সেথা আমি, পথিমধ্যে এক এক করে মীমাংসা করেছি সব আছে যত গ্রন্থি বাঁধা ডোরে কেবল পারিনি তারে— রহস্য দুর্জ্ঞেয় চিরকাল মানুষের মৃত্যু আর জীবনের ভাগ্যলিপি জাল।”
এলাকায় যেদিন মিহিরগর উৎসব সেদিন হোসাইনের বন্ধু মারা গেল। ছোট্ট হোসাইনকে লোকজন শেষকৃত্যে শামিল হতে না দিতে চাইলেও শামিল হলো হোসাইন। লোকজন কবর দিয়ে চলে গেলে হোসাইন বিচিত্র এক কারণে বন্ধুর কবরের ঢাকনা সরিয়ে কাফন খুলে বন্ধুর মুখখানা দেখে। প্রেম বা ভয় নয় বরং কৌতুহলে দেখে। প্রশ্নরা ভর করে হোসাইনের মন-মননে। মানুষের মৃত্যু কেন? আত্মার কী হয়? শুরুটা কী এবং শেষটা বা কী ও কেন? প্রশ্নের উত্তর খুঁজে জগদ্বিখ্যাত দার্শনিক, চিন্তক, শ্রেষ্ঠ চিকিৎসক, লেখক আবু আলী হোসাইন ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হাসান ইবনে আলী ইবনে সিনা।
▪ আবু কায়সার সাহেবের ছোট্ট পরিসরে লেখা জীবনীগ্রন্থ “ইবনে সিনা”য় প্রায় সবকিছুর সমাবেশ ঘটেছে। ছোট পরিসরে লিখে পুরো ইবনে সিনাকে ধারণ করা অসম্ভব তবুও আবু কায়সারের লেখা গ্রন্থে সুন্দর উপস্থাপন ও শব্দের বুননে ইবনে সিনাকে জানার মতো সবকিছু উঠে এসেছে। 〰 বই: ইবনে সিনা লেখক: আবু কায়সার ধরন: জীবনীগ্রন্থ প্রকাশক: বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মুদ্রিত মূল্য: ৳৬৫
▫ খোবাইব হামদান ৭ মাঘ ১৪২৮ | ৪:৪৭ গুলিয়াখালী, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম
পড়ে মনে হল ইবনে সিনা কে নিয়ে এপিক লেখা উচিৎ। যদিও Noah Gordon এর The Physician(1986) বইটার চুম্বক অংশ জুড়ে ইবনে সিনা, তবুও ঠিক, তাঁকে কেন্দ্র করে না, আর ঐতিহাসিক কিছু বিতর্ক তো আছেই। যাই হোক, খুব অল্প কথায়, সংক্ষিপ্তভাবে, বেশ চমৎকার করে লিখেছেন আবু কায়সার সাহেব।
মধ্যযুগকে ইউরোপে অন্ধকার যুগ বলা হলেও আরব মুসলিমদের জন্য তা ছিল স্বর্ণযুগ। সেই স্বর্ণযুগের অন্যতম বিজ্ঞানী ছিলেন ইবনে সিনা। তিনি একাধারে বিভিন্ন বিষয়ে পাণ্ডিত্য লাভ করেন। তার শৈশব থেকে যুবক বয়স ও শেষ বয়সের বিভিন্ন বর্ননা বইটিকে সমৃদ্ধ করেছে।