Jump to ratings and reviews
Rate this book

হু কিলড মুজিব

Rate this book
"হঠাৎ হৈ হৈ করে বেরিয়ে গেল হু কিল ড মুজিব। তিন মাস বেস্টসেলারের কোটায় থাকতে থাকতে অতর্কিতে সে বই বেপাত্তা হয়ে গেল। পাকিস্তানে বেরিয়ে গেল অননুমোদিত উর্দু সংস্করণ। কপাল পুড়ল খতিবের। ন্যায্য পয়সার কিছুই সে পেলনা। সম্ভবত এ কারণেই ১৯৮৪ সালে দিল্লীতে খুন হন খতিব।" - কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়

256 pages, Hardcover

First published January 1, 1981

13 people are currently reading
198 people want to read

About the author

Abdul Latif Khatib

1 book2 followers
Abdul Latif Khatib was a well-known and respected journalist in Dhaka, Bangladesh during the 1950s and 1960s. Though he was originally from Maharashtra, India, Khatib fell in love with East Bengal and its people, and made a career for himself as a journalist in the region.

Khatib started his journalism career in Ceylon (Sri Lanka) and later moved to Karachi before settling in Dhaka in the mid-1950s, where he worked at publications like the Observer and Morning News. He was known as a bachelor who lived simply in the old press club building, surrounded by books and periodicals. Khatib was close friends with other notable Bengali intellectuals like Sanjeeb Dutta and Sayeed Atiqullah.

Khatib was a keen observer of the political and social developments in East Bengal, particularly the region's struggle to establish the rights of the Bengali people against the divisive communal philosophy of the Pakistani state. His 1981 book "Who Killed Mujib?" was a pioneering work that combined academic research and journalistic skill to provide a detailed, research-based analysis of the tragic assassination of Sheikh Mujibur Rahman, the founding President of Bangladesh.

In the book, Khatib not only contextualized Mujib's role in Bangladesh's independence struggle, but also meticulously re-enacted the events of August 15, 1975 and the roles of the individual killers. However, Khatib's narrative ended abruptly, as he passed away under dubious circumstances in 1984. The book became an instant bestseller but the publisher refrained from issuing new print runs, and it soon disappeared from bookshops, leaving many questions unanswered about Khatib's untimely death.

More:
1) “Who Killed Mujib?” A Narrative with a Difference: https://www.thedailystar.net/suppleme...
2) দুই মাস আগেই ভুট্টো জানতেন!: https://www.prothomalo.com/opinion/co...

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
13 (40%)
4 stars
12 (37%)
3 stars
5 (15%)
2 stars
2 (6%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 8 of 8 reviews
Profile Image for Mony Shamim.
9 reviews5 followers
November 7, 2016
‘মুজিব যেদিন খুন হলেন, সেদিন আমি দিল্লীতে। খতিবের চোখ থেকে আমি সেই প্রথম আগুন বেরোতে দেখি।’ সুভাষ মুখোপাধ্যায়।


এ এল খতিব বাঙালী ছিলেন না। বাংলা বুঝতেন, বলতে পারতেন না। সাংবাদিক ছিলেন, বইপড়ুয়া ছিলেন, অকৃতদার ছিলেন।দুই ট্রাঙ্ক ভর্তি বই ছাড়া আর কোন সম্পদ তিনি এই দেশ থেকে নিয়ে যেতে পারেন নি। দুই দশকেরও বেশি সময় তিনি কাটিয়েছেন এই বাংলায়। যতটা মমতা এবং পরিশ্রম দিয়ে তিনি মুজিব নামক চরিত্রকে বাঙালীর সামনে উন্মোচিত করেছেন আলোচ্য ‘হু কিলড মুজিব’ বইতে, সেটি আসলে অসাধারণ বললেও কম বলা হয়। মুজিবের হত্যা অবশ্যই এই বই লেখার মুল কারণ। কিন্তু এই বইয়ের মধ্যে দিয়ে আমরা যে মুজিবকে পেলাম তিনি ভালোবাসার কাঙাল, দয়ালু, পরোপকারি এবং ক্ষমাশীল একজন ব্যাক্তি যে গুনগুলি হয়ত পরোক্ষভাবে তাঁর মৃত্যুরও কারণ হয়ে দেখা দিয়েছিল। এই বইতে শেখ মুজিবের মৃত্যুর কারণ হিসেবে সামরিক বাহিনীকে নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি মোস্তাকের মীরজাফর গিরি, ভুট্টোর ষড়যন্ত্র, ভাসানির মুহুর্মুহু চরিত্র বদল, সামরিক বাহিনীর আস্ফালন, জাসদের বিপ্লব নামক রোমাঞ্চ, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী আর্থ-সামাজিক জটিলতা, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন, আওয়ামী লীগের ভেতর অন্তর্দন্দ্ব, তাজউদ্দীনের মনোজগতে রক্তপাত এবং এইসবের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে শেখ মুজিব নামক একজন দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়কের সংগ্রাম, তাঁর মনঃপীড়া, ব্যার্থতা- সাফল্য আলোচিত হয়েছে বিস্তারিত ভাবে।


হু কিলড মুজিব বইটি এক নিঃশ্বাসে শেষ করব বলেই বসেছিলাম। কিন্তু কন্যার পরীক্ষা, পুত্রের আব্দার কাম যন্ত্রণা, চাকরি বাকরি- নানান কারণে বেশ খানিকটা সময় লেগে গেল। বইটির কিছু কিছু জায়গা রুদ্ধশ্বাসে পড়বার মতন, কিছু কিছু জায়গায় ঘটনাক্রমে ধারাবাহিকতা নেই আবার কিছু কিছু অধ্যায়ে এত বেশী প্রসঙ্গ পরিবর্তিত হয়েছে যে লেখার সাথে তাল মিলিয়ে পড়া কঠিন। তবে বইটি ধারে বেশী ভারেও বেশী। একই লাইন অনেকবার পড়বার মতন উপযুক্ত তথ্য রয়েছে এই বইতে। অনুবাদ কর্মটি সব জায়গায় মনোগ্রাহী নয়, বানান বিভ্রাট রয়েছে অনেক। এত অসাধারণ একটি বই আরও মনোযোগ দাবী করে, আর যেহেতু দুই বছরের ব্যাবধানে এটি দ্বিতীয় মুদ্রণ, কাজেই অসাবধানতা আর গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

বইটিতে অসংখ্য উধৃতি রয়েছে। নানান বই থেকে মাল মশলা সংগ্রহ করা হয়েছে, নানান জনের উক্তি জায়গা পেয়েছে এই বইতে। বইটির শেষে একটি নির্ঘণ্ট থাকলে ভালো হত। কেননা অনেক উক্তি আছে সাধারণ পেশাজীবীদের। এইসব তথ্য উনি পেলেন কোথায় তার একটি রেফারেন্স থাকলে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ত।


কিছু কিছু জায়গায় উনি চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য দিয়েছেন পাঠকদের।


১। যখনই মোস্তাক মুজিবের বাড়িতে খাবার খেতেন তখন মুজিব কৌতুক করে তার স্ত্রীকে বলতেন, 'মোস্তাকের চেহারায় একটা দুর্বল আর ক্ষুধার্ত ভাব আছে। তার দিকে বিশেশ দৃষ্টি রাখবে, সে যেন কখনোই ক্ষুধার্ত না থাকে। সে দিনে মাত্র একবার খায়।'


মুজিব ছিলেন একজন উচ্ছল মানসিকতার ব্যাক্তি, যাঁর রসিকতায় ভরা হাসি সবার হৃদয়কে উষ্ণ করত। মোস্তাক ছিলেন একজন রেখে ঢেকে কথা বলা মানুষ, যার ধূর্ত হাসি যে কাউকে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল।


১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর পর জয়প্রকাশ নারায়ন মোস্তাকের কথা স্মরণ করে বলেন, 'একজন গড় উচ্চতার হালকা পাতলা লোক যার মাথায় সবসময় একটি অবাঙ্গালিসুলভ টুপি থাকত।' মোস্তাকের টুপি তার ব্যাক্তিত্বের অংশ ছিল। ঢাকার একজন ব্যাংকার মোস্তাক কে তার টুপির কারণে টুুপিওয়ালা বলে সম্বোধন করতেন। অনেকেই সে সময় টুপি পরতেন, কিন্তু মোস্তাকের টুপি ঐ ব্যাংকারকে পাকিস্তান আমলের কথা মনে করিয়ে দিত, যা তিনি সব সময় ভুলে থাকতে চাইতেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার অল্প কিছু সময় পরই ঐ ব্যাংকার তার কিছু শুভাকাঙ্ক্ষীকে বলেন যে, 'মোস্তাক এখনও একজন মুসলিম লীগার রয়ে গেছেন, একজন প্রাচীন পন্থী।'


২। মুজিব হত্যার পর ভাসানি মুজিব সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের সাহস দেখানোর জন্য মোস্তাকের প্রশংসা করে একটি টেলিগ্রাম মোস্তাকের কাছে পাঠিয়েছিলেন।


৩। অনেক আওয়ামী লীগের নেতাদের হতাশ করে ২৬ অক্টোবরের (১৯৭৪, তাজউদ্দীন পদত্যাগ করলেন) পরেও কয়েকবার মুজিব তাজউদ্দীনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এবং তাঁকে মন্ত্রীসভায় ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব করেছিলেন। তাজউদ্দীনের প্রস্তাবে মুজিব তার সাথে এমন একটি বৈঠকে চোখের পানি ফেলেছিলেন। কিন্তু তাজউদ্দীন এতটাই মর্মাহত হয়েছিলেন যে মুজিবের চোখের জলও তার মন গলাতে পারেনি।


৪। মুজিব অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ওসমানীকে বলেছিলেন যেন ওসমানী বাঙালী সেনা কর্মকর্তাদের যে কোন ঘটনার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন, কিন্তু ওসমানী বাঙালী সেনা কর্মকর্তাদের কাছে খালেদ মোশাররফের মাধ্যমে জানান তারা যেন পাকিস্তানীরা আঘাত হানার আগে কোন কিছুতে জরিয়ে না পরে।


৫। বঙ্গবন্ধু হত্যার দুই মাস আগে, ১৯৭৫-এর জুনে জুলফিকার আলী ভুট্টো কাকুলের পাকিস্তান সামরিক একাডেমিতে সেনা কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে বলেন, ‘এ অঞ্চলে শিগগিরই কিছু পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে।’


৬। ২৫ মার্চের রাতে বা পরদিন সকালে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হতে পারত। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি অংশ শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করতে চাইছিল, কিন্তু অনেক পাকিস্তানী জেনারেল ভাবছিলেন সেটা খুব বিপদজনক একটা কাজ হবে। ২৫ শে মার্চ রাতে ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত আদমজী স্কুলে শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরদিন ২৬ শে মার্চ সকালে তাঁকে যখন পাহারা দিয়ে বাথরুমে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন একটি বুলেট তার শরীর ঘেঁষে দেয়ালে আঘাত করে। তাঁর পাহারায় থাকা সেনারা তখনই তাকে ঘিরে ফেলে। এ অল্প পরেই শেখ মুজিবুর রহমানকে ফ্ল্যাগ স্টাফ হাউসে সরিয়ে নেয়া হয় এবং তিন দিন পর বিমানে করে করাচি নিয়ে যাওয়া হয়।


৭। ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানে প্রথমবারের মত সেনাশাসন কায়েম হওয়ার পর থেকেই সেনাবাহিনীর হাতে নিহত হওয়ার আতঙ্ক শেখ মুজিবুর রহমানের মনে ছিল। ১৯৭১ এর মার্চে তিনি ক্রমাগত সেনাবাহিনীর হাতে নিহত হওয়ার কথা বলছিলেন। অনেবারই তিনি জনতাকে তার অনুপস্থিতিতেও সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমান প্রায়ই বলতেন, কারাগার আমার কাছে দ্বিতীয় গৃহের মতো। শেখ মুজিবুর রহমানের স্ত্রী ও জ্যৈষ্ঠ কন্যা যখনই তাঁর গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কা থাকত তখনই তার ব্যাগ আগে থেকেই গুছিয়ে রাখতেন, এবং এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটতো। শেখ মুজিবুর রহমান একজন সাহসী এবং আত্মবিশ্বাসী নেতা ছিলেন, কিন্তু তাকে গোপনে থেকে রাজনীতি করেছেন এমন নেতা হিসেবে কল্পনা করাই কঠিন ছিল। যখন পঞ্চাশের দশকে তাঁর কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী তাকে পালিয়ে গিয়ে গোপনে রাজনীতি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন, জবাবে শেখ মুজিব বলেছিলেন, 'আমি মণি সিংহ নই।'


৮। নয় মাস কন্ডেম সেলে কারাবন্দী থাকা অবস্থায় শেখ মুজিবুর রহমানের ওজন ২০ কেজি কমেছিল এবং আট জানুয়ারি যখন শেখ মুজিবুর রহমান রাওয়ালপিন্ডি থেকে লন্ডন পৌঁছান তখনও তিনি ক্লান্ত আর বিদ্ধস্ত ছিলেন না। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমানের যে ক্ষয় ক্ষতি হয়েছিল তার তুলনায় স্বাস্থের এ অবনতি সামান্য। দুই মাসের বেশী সময় কন্ডেম সেলে বন্দী থাকার ফলে অনেক সময় বন্দীরা মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে যায়। এই দীর্ঘ কারাবাস শেখ মুজিবুর রহমানকে ভেঙ্গে না ফেললেও, যুদ্ধে অঙ্গ হারানো একজন সৈ��িকের মতোই তিনিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। কন্ডেম সেলে থেকেছেন এমন লোকের পক্ষেই শুধু ওই কষ্ট বোঝা সম্ভব।


৯। ২৬ শে মার্চ ১৯৭৫ সালে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে এক জনসভায় মুজিব বলেছিলেন তিনি চেষ্টা করেও একটি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেন নি। 'আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেম যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করবো। আমি সে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছি। আমি তাদের বিচারের মুখোমুখি করিনি। আমি তাদের ছেড়ে দিয়েছি, কারণ আমি এশিয়ায় এবং বিশ্বে বন্ধু তৈরি করতে চেয়েছি,' এ কথা বলে তিনি চুপ হয়ে যান, যেন এ বিষয়টি তার জন্য প্রচণ্ড বেদনাদায়ক ছিল।


শেখ মুজিব বার বার নিশ্চিত করেছিলেন, 'যদি শেখ মুজিবুর রহমান জীবিত থাকেন তাহলে এই বাংলাদেশের মাটিতেই যুদ্ধপরাধীদের বিচার হবে।' তিনি স্বীকার করেছিলেন এটি শুধু বাংলাদেশের মানুষের কাছে তার ঋণ নয় বরং মানবতার কাছেও তাই এবং পৃথিবীর কোনও শক্তিই এটা করা থেকে তাকে বিরত করতে পারবে না।


১০। একজন কমিউনিস্ট যিনি মুজিবের সাথে এক বছরেরও বেশী সময় কারাগারে ছিলেন, এ লেখককে বলেন, 'কারাগারেও তিনি একজন নেতা ছিলেন। তিনি কারো ওপর নিজেকে চাপিয়ে দিতেন না। তিনি আমাদের প্রেরণা দিতেন এবং আমরাও তার ওপর আস্থা রাখতাম। তিনি সহজেই মিশতে পারতেন। যখন তাঁকে ছেড়ে দেয়া হয় তখন কারাগারের কর্মীদের মধ্যে সবাই খুব খুশী হলেও, দুই একজনের চোখে জল ছিল। তিনি প্রচণ্ড স্নেহ পরায়ণ এবং দয়ালু ছিলেন। কারাগার মানুষের জন্য এক কঠিন পরীক্ষার মত, একজন মানুষের সব গুণ আর দুর্বলতা কারাগারে পরীক্ষার মুখে পরে যায়। আমার দীর্ঘ কারাবাসের সময় আমি শেখ মুজিবুর রহমানের মত কাউকে পাইনি। আমাদের কমিউনিস্ট নেতাদের মধ্যে এমনি কেউ থাকলে চমৎকার হত।'


১২। যখন ভুট্টো প্রথমবারের মত মুজিবকে দেখতে এসেছিলেন তখন মুজিব বেশ অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। 'আমি এখন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান সেনা প্রশাসক।' এ কথার জবাবে মুজিব বলেছিলেন, 'আপনাকে আবার কবে থেকে একজন জেনারেল বানানো হল?'


একজন বেসামরিক ব্যাক্তি কিভাবে প্রধান সেনা প্রশাসক হতে পারে তা কোনক্রমেই মুজিবের বোধগম্য হচ্ছিল না। ভুট্টো প্রানপনে চাইছিলেন পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের একটি সম্পর্ক থাকুক, আর তাই মুজিবের প্রতি তিনি খুব সহানুভূতিশীল আচরণ করেছিলেন। তিনি মুজিবকে একটি ট্রান্জিস্টর সেট উপহার দেন।

ততক্ষন পর্যন্ত মুজিব কি ঘটে গেছে তা সম্পর্কে শুধু ভুট্টোর ভাষ্যটিই জানতেন। ট্রান্জিস্টর টি পেয়ে তখন তার জন্য বাংলাদেশ সম্পর্কে কিছু নির্ভরযোগ্য সংবাদ শোনার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। সৌভাগ্যক্রমে তিনি প্রথম যে কণ্ঠটি শোনেন তা তার জ্যৈষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনার কণ্ঠ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও তার বাবার কোনও খবর পাওয়া যায়নি বলে হাসিনাকে খুব উদ্বিগ্ন মনে হচ্ছিল। তিনি সাক্ষাকার গ্রহিতাকে বলেন তার বিয়ের সময়েও তিনি কারাবন্দী ছিলেন এবং তার প্রথম পুত্রের জন্মের সময়েও তিনি কারাবন্দী ছিলেন। হাসিনা জানান, 'আমার বাবা বলেছিলেন যে আমার একটা ছেলে হবে এবং আমি জেন তার নাম রাখি জয়।' তিনি তার বাবাকে নিয়ে এতটাই উদ্বিগ্ন ছিলেন যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ঠিকমত কথা বলতে পারছিলেন না। মুজিব খুবই আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়ছিলেন, তার একটি নাতি হয়েছে, জয়। জয় বাংলা। হাসিনা নিরাপদে আছে। তার অন্য চার সন্তান, তার স্ত্রী এবং তার বৃদ্ধ পিতা মাতার কি অবস্থা?


১৩। বিহারিরা পাকিস্তানের প্রতি অনুগত ছিল রবং তারা বাংলাদেশের জন্য হুমকি স্বরূপ ছিল। তারপরেও তাদের মধ্যে যারা বাংলাদেশে থেকে যেতে চেয়েছিল তাদের কোনও প্রশ্নের মুখেও পড়তে হয়নি। এ বিষয়ে সন্দেহ ছিল এক প্রজন্ম পরেও এসব বিহারি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সাথে মানিয়ে নিতে পারবে কিনা, কিন্তু তারপরেও মুজিব তাদেরকে একটি মানবিক সমস্যা হিসেবে দেখেছিলেন এবং ভেবেছিলেন তিনি তাদের মন জয় করতে পারবেন।
Profile Image for Shadin Pranto.
1,487 reviews570 followers
December 6, 2016
এএল খতিব দীর্ঘসময় সাংবাদিক হিসেবে বাংলাদেশে কর্মরত ছিলেন। সাক্ষী ছিলেন এদেশে পথচলার নানা সাফল্য-ব্যর্থতার।বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে হত্যার ঘটনা ও ঘটনার অন্তরালের নানা ঘটনাকে উপজীব্য করে লিখেছেন "Who Killed Mujib"

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ফারুক,রশিদ,ডালিম গংদের মতো সেনাবাহিনীর মাঝারি শ্রেণীর নষ্টভ্রষ্টরা কোনো আন্তর্জাতিক অপশক্তির সাহায্য না নিয়েই হত্যা করেছিলো এটা ভাবার কোনো কারণ নেই এবং এটা অসম্ভব।
সেনাবাহিনীর ভেতর ষড়যন্ত্র হচ্ছে আর্মি ইন্টেলিজেন্স কিছুই জানতে পারে নি এটা কীভাবে সম্ভব?(!)

১৫ ই আগস্ট ভোরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ইউজিন বোস্টারের সহকর্মীরা তাকে বঙ্গবন্ধু হত্যার সংবাদ দিতে গেলে কোথাও পাওয়া যায় নি বোস্টারকে
।এতো সকালে কোথায় ছিলেন বোস্টার?

এতোদিন 'তেলধনী' সৌদি ৯০ শতাংশ মুসলিমদের বাসভূমি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় নি অথচ ১৫ ই আগস্ট তারা বিপুল উৎসাহ,উদ্দীপনা আর ভাবগাম্ভীর্য মধ্যে দিয়ে 'মুসলিম' বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

পাকিস্তানের দুষ্টচক্রের নেতা ভুট্টো বঙ্গবন্ধু হত্যার পর পরই ৫০০০০ মেট্রিকটন খাদ্যশস্য সহ অন্যান্য সামগ্রী পাঠিয়ে মোবারকবাদ জানান।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ক্ষমতায় বসে খন্দকার মোশতাক যার মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়টাই বিতর্কিত ভূমিকা ছিলো। যে বরাবরই বঙ্গবন্ধুকে তার সাফল্যের জন্য হিংসা করতেন। মোশতাক এমন এক দু'মুখো সাপ যে ১৯৫৫ তে যখন আওয়ামীলীগ থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেয়া হয়, তখন সে ওয়াকআউট করেছিলো। সে সবসময় অসাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ছিলো।পাকিস্তানেরর ভূত স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য মার্কিন লবির এ ভন্ডের সাথে ছিলো 'ভুয়া চাষী' মাহবুবুল আলম এবং তাহের ঠাকুর। এ ত্রয়ী মুক্তিযুদ্ধের সময়ও নানা ষড়যন্ত্রে সক্রিয় ছিলো।

আনোয়ার সাদাতের বন্ধুত্বের স্বরূপ দুনিয়ায় এতো কিছু থাকতে ট্যাংক দেয়ার কারণ কী? অথচ সে সময়ে ট্যাংকের চেয়ে একটি সদ্য স্বাধীন দেশে কী প্রয়োজন তা সাদাত ভালোই বুঝতেন।
রক্তস্নাত বাংলার স্বাধীনতাকে অনেকেই মেনে নিতে পারে নি, অনেকেই বাহাত্তরের সংবিধানের চার মূলনীতির বিরোধী ছিলো ঠিক সে গোষ্ঠীগুলোর সমন্বিত চক্রান্তে স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিনবছরের মাথায় জাতির পিতাকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিজয়রথ উল্টো দিকে ঘুরতে শুরু করে।
Profile Image for Abrar.
29 reviews1 follower
August 21, 2020
১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সালে ঘটে যাওয়া ঘটনাসমূহ নিয়ে একজন অবাঙালির লেখা তথ্যবহুল ও বিশ্লেষণধর্মী একটি বই। বঙবন্ধু হত্যা মূল প্রেক্ষাপট হলেও সমসাময়িক বিভিন্ন ঘটনা, ব্যাক্তিবর্গের কথা উঠে এসেছে প্রাসঙ্গিকভাবে। মূলত এই বইয়ের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে আন্তর্জাতিক মহলের কতটুকু হাত ছিল তা সম্পর্কে ধারনা পেয়েছি, আমার পড়া অন্যান্য বইয়ে যেটির অভাব ছিল। যেমন- বঙ্গবন্ধু হত্যার দুই মাস আগে, ১৯৭৫-এর জুনে জুলফিকার আলী ভুট্টো কাকুলের পাকিস্তান সামরিক একাডেমিতে সেনা কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে বলেন, ‘এ অঞ্চলে শিগগিরই কিছু পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে।’
অনেক 'শকিং' উদ্ধৃতি ছিল যা রেফারেন্সের অভাবে কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য বুঝতে পারছিলাম না, থেকে থেকে মনে হচ্ছিলো হুমায়ুন আহমেদের লেখনী৷ 'মাওবাদী মাওলানা' অধ্যায়ের এ��টি প্যারা ছিল এমন - মাওলানা ভাসানীর মধ্যে একটি নিষ্ঠুরতার প্রবণতা ছিল। একজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে হঠাৎ বলেছিলেন, 'আপনি মারা গেলে অন্তত ৫০০ লোক খুশি হবে'। 'আমি কী অপরাধ করেছি' ঐ ম্যাজিস্ট্রেট সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন করেছিলেন। 'কিছুই না' জবাবে ভাসানী বলেছিলেন, 'কিন্তু আপনি একজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, এটিই যথেষ্ট।'
কয়েকটি জায়গায় অনুবাদ একটু খাপছাড়া মনে হয়েছিল, ত্রুটির মধ্যে এই যা। সব মিলিয়ে সংরক্ষনে রেখে বারবার পড়ার মত একটি বই।
Profile Image for Ripa.
1 review56 followers
March 15, 2018
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ,কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ এর "রেখেছ বাঙালি করে, মানুষ কর নি" কথাটি বাংলাদেশের মানুষ ভুল প্রমানিত করেছে।
কিন্তু আমরা এই ভুলটা শুধরে নিতে খুব বেশী দেরী করেছি কি?
যাই হোক, এখন দেখার বিষয় কবিগুরু কে পুনরায় ভুল প্রমানিত করার আর কোন সুযোগ আছে কি না আমাদের কাছে।

বইটা সম্পর্কে আমার যে ব্যক্তিগত মতামত তা হল, অনেকটা সময় ধরে আমরা যে ইতিহাস শুনে এসেছি তার অনেকটাই যে বিকৃত সেটার কিছুটা প্রমান মিলে বইটা পড়লে। সবগুলো তথ্যই রেফারেন্স দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে বলে দ্বিধান্বিত হওয়ার কোনো সুযোগই ছিল না।
Profile Image for Prithvi Shams.
111 reviews107 followers
December 26, 2024
No reference is cited for the alleged events and quotes mentioned in this book. This is more of an impassioned diatribe than rigorous journalism.
Profile Image for Abhishek Saha Joy.
191 reviews56 followers
May 17, 2020
১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট,বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কের দিন।বঙ্গবন্ধু হত্যার পটভূমি,হত্যার পরবর্তী পরিস্থিতি,জেল হত্যাসহ তৎকালীন অন্ধকার সময়ের একটি সার্বিক বিবরণ উঠে এসেছে এ এল খতিবের লেখনীতে।১৯৭২-১৯৭৫,এই সময়টুকু জানতে আগ্রহী সকলের জন্যেই বইটি অবশ্যপাঠ্য।
Profile Image for Nasim Bin Jasim.
116 reviews4 followers
October 18, 2022
ভালই কিন্তু কলেবর বৃদ্ধি টা আমার পছন্দ হয়নি ।
Displaying 1 - 8 of 8 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.