“কথা ছিলো ’আমাদের ধর্ম হবে ফসলের সুষম বন্টন’,
আমাদের তীর্থ হবে শস্যপূর্ণ ফসলের মাঠ।
অথচ পান্ডুর নগরের অপচ্ছায়া ক্রমশ বাড়ায় বাহু
অমলিন সবুজের দিকে, তরুদের সংসারের দিকে।
জলোচ্ছাসে ভেসে যায় আমাদের ধর্ম আর তীর্থভূমি,
আমাদের বেঁচে থাকা, ক্লান্তিকর আমাদের দৈনন্দিন দিন।”
-- রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
প্রতিদিনের শঙ্কা, উৎকন্ঠা, অরাজকতা, অবিচার, শোষণ, ধর্ষণ, জোর, অন্যায় দেখতে দেখতে শব্দগুলো উঠে এসেছে অভিধানের মূল পাতায়। সুখ, প্রশান্তি, নিরাপত্তা শব্দগুলোর ঘটছে বিলুপ্তি। চলছে গাড়ি সিসিমপুরে। দেখছি হাওয়া, খাচ্ছি বাতাস। আমি মাঝেমধ্যেই বলি, আমাদের সমাজে স্বাভাবিক বেঁচে থাকাটা একটা মিরাকল। এখানে সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যু ডালভাত। মা-মেয়ে-বোন-বউ তথাপি নারী, যাদের দেখলে শুধুমাত্র দুপুরবেলা একটু সেক্স উঠে, একটু ধর্ষণ/মলেস্ট হয়েই যায় কোনো এক ভিনগ্রহী দোহাই দিয়ে তারা। শিক্ষায় মরবেন, প্রতিবাদ করলে মরবেন, রাজনীতি করলে মরবেন। ছিনতাই হবেন, চুরি যাবে। দস্যুরা কল্লা ফেলে দেবে... সবচাইতে বড় সন্ত্রাস নাকি পুলিশ! এসব শুনতে শুনতে কান পচে গেছে, না? বাদ্দেই তাহলে...
মশিউল আলমকে মাঝেমধ্যে একজন কঠোর পিতার মতো মনে হয়। এই যেন ঠাস করে গালে চড় বসিয়ে দেবেন রূঢ় সত্যটি বলে দিয়ে। কঠোর পিতার মেটাফোরটা আসলে ঠিক হলো কিনা কে জানে। শুনেছি ডাক্তাররা মৃত মানুষ দেখতে দেখতে অনূভুতি হারিয়ে ফেলেন। লেখক পেশায় একজন সাংবাদিক। প্রতিদিনের অরাজকতা লিখতে লিখতে লেখকও বোধহয় ফ্যাব্রিকেট করতে ভুলে গেছেন। ১৯৮০-৯০ এর দশকে লেখা গল্পগুলো এখনো সত্য। কি আশ্চর্য এই দেশের মানুষের নিয়তি। ক্ষমতা বদলায়, আবহাওয়া বদলায়, মানুষ বদলায়। বদলায়না অমানবিকতা। প্রতিটি গল্পেই ভিন্নতা আছে। এতো স্পষ্ট, এত প্রগাঢ় অনূভুতি দিয়ে লেখেন লেখক, দম বন্ধ হয়ে আসে। ভায়োলেন্স আছে বেশ কিছু গল্পে। সতর্কীকরণ।
লেখক মশিউল আলমকে প্রচারবিমুখ প্রচারবিমুখ বলতে বলতে সব বিমুখও প্রচার হয়ে গেছে। ভালো একজন লেখক কেনো লাইমলাইটে আসছেন না, সেসব কথাও থাক! এটাও বাদ্দেই!!
তারচেয়ে বরং ওনার একটা লাইন উদ্ধৃত করে শেষ করি...
“বানানো গল্পই নাকি 'উত্তম শিল্প'- সমালোচকেরা বলল। তারা বলে আর্ট কথাটার মানে কৃত্রিম, আগাগোড়াই বাস্তব হলে শিল্প হয়না।... একটা সামান্য খবরের গায়ে রঙ চড়িয়ে আমি এমন গল্প লিখি যে সমালোচকরা হাততালি দিয়ে বলে ওঠে, বাহঃ এই তো ম্যাজিক রিয়ালিজম!...”