Manik Bandopadhyay (Bengali: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়) was an Indian Bengali novelist and is considered one of the leading lights of modern Bangla fiction. During a short lifespan of forty-eight years, plagued simultaneously by illness and financial crisis, he produced 36 novels and 177 short-stories. His important works include Padma Nadir Majhi (The Boatman on The River Padma, 1936) and Putul Nacher Itikatha (The Puppet's Tale, 1936), Shahartali (The Suburbia, 1941) and Chatushkone (The Quadrilateral, 1948).
১৩-খানা বউয়ের গল্প। অস্বীকার করিব না, নারী হইয়া পড়িবার সুবাদে আগ্রহটা বউ ব্যতীত বরগুলির পানেই অধিক নিবদ্ধ ছিল। ১৩টি বউ ১৩ রকমের; রমণী-হৃদয় এত বিচিত্র জানিয়া আশ্চর্যান্বিত হইলাম। অথচ ১৩জন বরের পেশা বাদ রাখিয়া উল্লেখযোগ্য ভিন্ন পার্থক্য দৃষ্টিগোচর হইল না। ব্যাপারখানা দেখিয়া মনে মনে বেশ দমিয়া গেলাম। হেতু এই যে, নারী চরিত্রগুলির অত্যধিক সুস্পষ্ট প্রকাশে নিজ আবছায়া দেখিয়াই বুঝিয়া লইয়াছি, লেখক কি নিগূঢ় সত্যই না প্রকাশ করিয়া দিয়াছেন! তবে তো পুরুষদিগের মতিগুলিও মিথ্যে নয়... ইহা ভাবিয়াও মনোবেদনায় ভুগিয়াছি।
মধ্যবিত্ত সমাজে অন্তরীণ নারীর রুদ্ধ আবেগ, সীমাবদ্ধতা এবং তদ্বিপরীতে জড়িত সামাজিক চাপের গভীর বিশ্লেষণে দ্বন্দ্বে পতিত হইলাম। সংসার আদতেই সমরাঙ্গন বোধ হইল। বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের নিরীক্ষাধর্মী লেখাগুলি আমার মস্তক ঘুরাইয়া দেয়। তথাপি বইখানা আগাগোড়াই বাস্তবধর্মী। তৎকালীন সমাজের অপ্রকাশিত নারী জীবনের অবর্ণনীয় ভাবাবেগ ইহার মতো কোথাও নাই।
বইয়ের নাম দেখে যতখানি হতভম্ব হয়েছিলাম তার থেকে বেশি হয়েছি সূচিপত্র দেখে । অমুকের বউ ,তমুকের বউ , পুরো বই ভরতি শুধু বউ আর বউ । বাঙালি বউদের বৈবাহিক জীবনে কত ঝামেলা সামলাইতে হয় আর তারপরেও তারা কিভাবে সারভাইভ করে সংসার টিকিয়ে রাখে তার বিশাল আখ্যান এই বউ এর বইয়ে আছে ... খবরদার আপনার বউ কে এই বই পড়তে দিয়েন না । নাইলে কিন্তু শুধু উনুনে নয় সংসারেও জ্বলবে.........বাংলার বেশিরভাগ বউয়েরা তো গান্ধীবাদ মানে এক গালে থাপ্পড় দিলে আরেক গাল পেতে দেওয়ায় বিশ্বাসী । এই বই পড়ার পর কিন্তু মুহাম্মদ আলী তে বিশ্বাস করা শুরু করবে। তবে বাংলার বউরা এখন আগের মতো যে খুব নিরীহ আছে তাও কিন্তু না।বাতাস একটা সময়ে উল্টো দিকেও বহে । ওটা বাতাসেরও দোষ নয় আবার দিকের ও নয় । এটাই নিয়ম । আমাদের ভাড়া বাসার পাশে থাকে এক ভদ্রলোকরে চিনতাম যারে রাত এগারোটার সময় তার বউ ঝগড়া করে ঘর থেকে বের করে দিয়েছিলো । তার অপরাধ- সে রাত্রে বাড়ি ফেরার সময় অনেক গুলো কই মাছ কিনে এনেছিলো উফফফফ (দীর্ঘনিঃশ্বাসের শব্দ) ভদ্রলোক রাত তিনটা পর্যন্ত রাস্তায় পায়চারি করেছেন আর একটু পরপর বাসার নীচে গিয়ে কাতর কন্ঠে বলছিলেন ''ঘরে ঢুকতে দাও প্লিজ আর কখনো রাত করে মাছ আনবো না '' উনার এই কাকুতি মিনতি বারান্দায় দাঁড়ায়ে শুনার পর কিভাবে যেন কথাটা আমার মাথায় ঢুকে গেলো । তারপরের কয়েকদিন যেইখানেই যাই পরিস্থিতি একটু শান্ত হলেই আমার কানে বাজতো - ঘরে ঢুকতে দাও প্লিজ আর কখনো রাত করে মাছ আনবো না ঘরে ঢুকতে দাও প্লিজ আর কখনো রাত করে মাছ আনবো না ঘরে ঢুকতে দাও প্লিজ আর কখনো রাত করে মাছ আনবো না কি বীভৎস !
জগতে কেবল দু:খ, আর মানসিক জটিলতার যদি কোন শিল্পী থাকেন, তবে তিনি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মত করে অন্তর বাহির ছিড়েখুঁড়ে আপনাকে নাঙ্গা করে দিতে কেউ পারবে না, অন্তত বাংলা সাহিত্যে তো নয়ই।
আমি একটা একটা করে গল্প পড়েছি। বেশি পড়লে নেওয়া যায় না। স্নায়ুর উপর চাপ পড়ে।
বাংলার নারীজাতি লক্ষ্মীপ্রতিমা। না, ভুল বললাম, দূর্গা। একহাতে অভয় দেন, আর বাকি হাতে কিন্তু হে হে.... সুতরাং বউ সাহিত্যরসিক হলে এই বই তার হাতে দিয়েন না, কপালে কষ্ট আছে। তবে তাদের লক্ষ্মীশ্রীর পরিচয়ও আছে কিছু গল্পে।।
অনেক ভদ্রলোক নারীর মন বুঝতে চান, এই বইটি তাদের অবশ্যপাঠ্য।
আমার লেখালেখির দোষ আছে, আর আমিও খানিকটা দু:খবিলাসী। মানিক আমার কাছে আইডল৷ প্রতিটা গল্পেই এমন কোন মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা, আর্থিক সমস্যা এমনভাবে তুলে ধরেছেন যে গায়ে কাঁটা দেয়।
বইয়ের নাম দেখে হাসবেন না। ভেতরে যা আছে, তা আপনাকে শিওর বিরাট বড় বড় ধাক্কা দেবে।ম্যাচিউর হতে চান?মানিক পড়ুন।
বউ,বইটি অবশেষে পড়ে শেষ করলাম।বউ বইয়ের মধ্য লেখক অনেক ধরনের বউদের নিয়ে লিখেছেন -এইখানে রাজার বউয়ের যেমন বর্ণনা আছে ঠিক তেমন জুয়াড়ির বউয়ের ও বিবরণ পাবেন। বউরা যে কত রকম ছলা কলা করে স্বামীর মন পাবার জন্য, তা এই বই না পড়লে বুজতাম না। বাঙালি মেয়েরা স্বামী বলতে অজ্ঞান কিন্তু তাই বলে কী সবাই এমন তা কিন্তু নয়। বউ মানে নারী-এই বউ সময়ের সাথে সাথে কখনো মা,শাশুড়ী, মামী কিংবা খালা নাহলে আরও কত কিছু হয় কিন্তু তার এই বউ পরিচয় টা এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে অনেক কিছু। আমরা মানুষ যেমন আলাদা, আমাদের চাওয়া পাওয়া ও আলাদা। তাই অমুকের বউ-তমুকের বউয়ের সুখে থাকার মন্ত্র ও আলাদা। নারীর মনের যাতনা-বেদনা এত সুন্দর করে তুলে ধরেছেন লেখক যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। দাম্পত্য জীবনটা অনেক জটিল, সব কিছু উপেক্ষা করে যে সহে সেই রহে। ভালো লেগেছে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের,বউ।যারা পড়তে চান তারা সময় নিয়ে পড়তে পারেন।
কোন বিষয় নিয়ে লিখতে গেলে, উক্ত বিষয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা থাকতে হয় কিংবা ভালোভাবে বিষয়টির সাথে মিশতে হয়।
কৌতূহলবশত রুমমেইট অন্যান্য বইয়ের সাথে প্রখ্যাত লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বউ বইটিও কিনে বাসায় নিয়ে আসে। সূচি দেখেই, চোখ কপালে উঠার মতো অবস্থা। দোকানির বউ হতে শুরু করে, সাহিত্যিক কিংবা সর্ববিদ্যাবিশারদের বউ, রাজার বউ ইত্যাদি মোট ১৩ টি গল্প নিয়ে সাজানো বইটি। আপনি যদি গ্রামেই বেড়ে উঠে থাকেন, তাহলে উক্ত গল্প গুলোর প্রায়ই চারপাশের বউ(পাশের বাসার আন্টি)'র কথাবার্তা, চিন্তা-ভাবনা, রাগে-অভিমান, ঝগড়া ইত্যাদি অনেক কিছুর সাথে আশ্চর্যজনক ভাবে মিল খোঁজে পেতে বাধ্য। সব গল্পই খুব সুন্দর ভাবে সাজানো, আপনাকে পরের গল্পটাও পড়ার জন্য টেনে নিয়ে যাবে। গল্পগুলোতে দোকানি, কেরানি, সাহিত্যিক 'স্বামী' পেশা ও আচার-আচরণে, বউয়ের (মূল ভূমিকা) আচরণগত কিংবা মানসিক ভাবে কিধরনের পরিবর্তন আসে, তা ফুটিয়ে তুলার চেষ্টা করা হয়েছে।
কার 'বউ' কিরকম আচরণ করে, তা যদি জানার জন্য মৃদু পরিমাণ আগ্রহ থেকে থাকে আপনার, তাহলে বইটি পড়ুন....
বইটি বিভিন্ন পেশাজীবীর বউদের বিভিন্ন অবস্থাতে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব, অনুভুতি ,আবেগের ছোট খাটো একটি থিসিস পেপার বলা যেতে পারে। দুঃখের কথা হচ্ছে এই যে, সফটওয়্যার কর্মীর বউ নিয়ে কোন গল্প ছিল না, থাকলে একটু আগাম ধারণা নিয়ে রাখতে পারতাম🤦♂️।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি ছোটগল্পের সংকলন ‘বউ’। লেখকের জীবনের প্রথম দিককার গ্রন্থ এটি। বইটি নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই, গল্পগুলোর নাম দেখলে বই সম্পর্কে কিছুটা অনুমান করা যায়।
বইটি পড়ে আমি মানবিক দিকের নতুন কিছু দিক চেনেছি। একেকটা গল্পটি একেকটা মাত্রার, একেক জনের জীবন যাত্রার উপরে লেখা। লেখকের বলার ভঙ্গী আকর্ষণীয়। মানবীর মনের নানা দিক উঠে এসেছে বইটাতে। খুবই মজা পেয়েছি পড়ে।
জননী এবং বউ এ মানিক বন্দোপাধ্যায়ের নারীদের মনস্তাত্বিক বিষয়াবলি সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা পড়ার সময় আমার একটিবারের জন্যেও মনে হয়নি লেখক একজন পুরুষ! কি চমৎকার, কি সুন্দর সাবলীল সহজ ভাষায় একজন নারীর মনে নানান পরিস্থিতিতে কেমন ভাব হয় তা বর্ণনা করে গেলেন। বেশ ভালো!