সেই সময়, একা এবং কয়েকজন এসমস্ত বই গপগপিয়ে পড়লেও ১১৩৪ পৃষ্ঠার এই বৃহৎ কলেবরের উপন্যাস এত সহজে পড়া সম্ভব হয়নি কারণ হিস্টরিক্যালি বইটি বেশ এনরিচড।যেমন বৃহৎ প্রথম আলোর পরিসর ঠিক তেমনি কাহিনি চরিত্রায়ন সময় সবকিছু মিলিয়ে একটি মহাকাব্য ই সুনীল লিখেছে। ঐতিহাসিক এই উপন্যাসের ৯০ শতাংশ চরিত্ররা এসেছে ইতিহাস থেকে। প্রথম আলো উপন্যাস রচনার পটভূমি ১৮৮৩ থেকে ১৯০৭ সাল। সময়ের হিসাবে বলতে গেলে প্রায় দুই যুগ,আর ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের অন্ধকার অধ্যায়কে স্তিমিত করতে প্রদীপের প্রথম আলো জ্বেলেছিল সেই সময়ের নবজাগরণের নায়কেরা।
প্রথম আলোর যাত্রা শুরু হয় পরাধীনতার শেকল পরা সমগ্র ভারতবর্ষের একমাত্র স্বাধীন রাজ্য ত্রিপুরার রাজা বীরচন্দ্র মানিক্যের হাত ধরে। ত্রিপুরা রাজ্যের সূত্র ধরে গল্পের বিশেষ চরিত্র রাজা বীরচন্দ্রের অবৈধ পুত্র ভরত। রাজা বীরচন্দ্র ছিলেন অতিশয় সৌখিন, সাহিত্য - কাব্য অনুরাগী।শশীভূষণ ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্যের একজন নগণ্য শিক্ষক। ত্রিপুরা থেকে গল্প এগিয়ে চলে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের অন্যতম সন্তান রবীন্দ্রনাথের কাছে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সুনীল উপন্যাসের বিশেষ থেকে বিশেষ আসনে স্থান দিয়েছেন;দেখিয়েছেন রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিজীবন, সাহিত্যজীবন ও কর্মজীবন।
উপন্যাসে রবীন্দ্রনাথ যখন কাঁচা হাতে লেখালেখি করতেন ঠিক তখন থেকে লেখায় সিদ্ধহস্ত হয়ে ওঠা, তাঁর মনস্তত্ত্ব, তাঁর দাম্পত্য জীবন, তাঁর ভাবানুভূতি, পছন্দ অপছন্দ, উপন্যাস-গান-কবিতা সবমিলিয়ে সার্বিক রবীন্দ্রনাথের পূর্ণাঙ্গ জীবনটাই যেন সাবধানে সংক্ষিপ্ত আকারে সুনীল লিখেছেন। আমার কাছে মনে হয়েছে রবীন্দ্রনাথ তখনকার সময় থেকে মনস্তত্ত্বের দিক থেকে বেশ আধুনিক ছিলেন সেই সাথে বনেদি ঠাকুর পরিবারের ঔজ্জ্বল্য তাঁকে অনন্য একটি উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে।
প্রথম আলো পড়লে শুধুমাত্র রবীন্দ্রনাথ নয় বরং ঠাকুরবাড়ির বেশ খুঁটিনাটি অবধি জানার সুযোগ মেলে। মহাকাব্যে রবীন্দ্রনাথ, জ্যোতিন্দ্রনাথ, কাদম্বরী দেবী, মৃণালিনী দেবী, জ্ঞানদানন্দিনী, দ্বারকানাথ, দেবেন্দ্রনাথ, ইন্দিরা, সরলা সহ আরো বহু পরিচিত নামের সাথে আরও পরিচয় বাড়িয়ে দেবে।
উপন্যাসে স্থান পেয়েছে বিশিষ্ট হিন্দু যোগসাধক রামকৃষ্ণ পরমহংস। উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে তাঁর জীবন, আধ্যাত্মবাদ আর ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি। রামকৃষ্ণ পরমহংসের তীব্র ভালোবাসার ফলে নগণ্য এক গরীব যুবক নরেন্দ্রনাথ দত্ত থেকে স্বামী বিবেকানন্দ হয়ে ওঠার দৃশ্যপট তুলে এনেছেন সুনীল। পরবর্তীতে বিবেকানন্দের প্রবাস জীবন, তাঁর মতাদর্শ, চিন্তা, যুক্তিবাদ ও আধ্যাত্মবাদ নিয়ে সময় গড়িয়ে চলে। বিবেকানন্দের ভারত প্রত্যাবর্তনের পর আইরিশ তরুণী নিবেদিতা স্বামীজির দীক্ষা গ্রহণ করেন এবং রামকৃষ্ণমিশন স্থাপনের উদ্যোগ নেন।
উপন্যাসে স্থান পেয়েছে তৎকালীন সমাজের থিয়েটারের নাট্যকার ও কলাকুশলীদের। বিখ্যাত গিরীশ ঘোষ,অমরনাথ,বিনোদিনী দাসী, অর্ধেন্দু শেখর,অমরেন্দ্রনাথ দত্ত সহ অনেকেই তাদের মঞ্চ নাটক দিয়ে মাতিয়ে রাখতো সমাজকে।
ইংরেজদের পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্তি পেতে বলগঙ্গাধর তিলক, হেমচন্দ্র বসু ,সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, জানকীনাথ ঘোষাল, সরলা ঘোষাল, বারিন্দ্রকুমার ঘোষ প্রমুখ প্রতিবাদের সলতেতে আগুন ধরিয়েছিলেন। উপন্যাসে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ টগবগে কিশোর ক্ষুদিরামের উপস্থিতিও দেখা যায়।প্রতিবাদের এ ভাষা পরবর্তীতে যোগ সূত্রতা স্থাপন করে মহাত্মা গান্ধীর রাজনৈতিক আন্দোলনের সাথে। কংগ্রেসের অধিবেশন ও স্বাধীনতা আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে নানান ঘটনার মাধ্যমে।ইংরেজ শাসন থেকে মুক্তি লাভের আশায় যারা প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছিল সেই সমস্ত ইতিহাসের উঁচু আসনে স্থান পাওয়া নেতাদের বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরেছেন লেখক। দেশ ও জাতীয়তাবাদের প্রসঙ্গে স্বাধীনতাকামী মানুষের একেরপর এক ভূমিকা রাখতে দেখিয়েছেন তিনি। প্রদীপে প্রথম আগুন জ্বালিয়ে মানুষের মাঝে স্বাধীনতার স্বপ্নের বীজ বুনেছিল যারা তাদের যেন ইতিহাস থেকে বাস্তবে তুলে এনেছেন লেখক।
উপন্যাসের আরেকটি বিশেষ দিক ধর্ম এবং বিজ্ঞান। তৎকালীন হিন্দু সমাজের ভ্রান্ত ধারনা, কুসংস্কারাচ্ছন্ন নানাদিক লেখক তুলে এনেছেন। মানুষের ভুল এবং ভ্রান্ত ধারণাকে বদলাতে যারা কাজ করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম চরিত্র ডাক্তার মহেন্দ্রলাল। এছাড়াও উপন্যাসে বিজ্ঞানমনস্ক গবেষক জগদীশ চন্দ্র বসুর বিজ্ঞানচর্চা , বিদেশে গবেষণা উপস্থাপন ও বাঙলার মানুষের বিজ্ঞান চর্চার প্রতি অনিহা, বিজ্ঞানীকে প্রাপ্য সম্মান দিতেও তারা প্রায়শই ব্যার্থ এই দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
উপন্যাস যখন নতুন শতাব্দীতে পা দেয় তখন বিজ্ঞানের যে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ভারতবর্ষকে আচ্ছন্ন করে। বিজ্ঞানের দরুন মোটরগাড়ি, বিদ্যুতের ঝলকানি যেন ভারতের মানুষের কাছে এক অলৌকিক ঘটনা।
উগ্র হিন্দুত্ববাদ, মুসলিম সমাজের গোঁড়ামি ইত্যাদি ধর্মভিত্তিক সমস্যার ফলশ্রুতিতে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায়শই দাঙ্গা লাগতে শুরু করে উপন্যাসের শেষের দিকে। ইংরেজদের বিরুদ্ধে বাঙালির শক্তি সঞ্চয়ের জন্য বঙ্গভঙ্গের প্রশ্ন উত্থাপিত করা হয়।বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে যখন বাংলার মানুষের ধর্মের ভিত্তিতে একই প্রশ্নে দুই রকম উত্তর আসে তখন বড়লাট divide & rule পলিসি গ্রহণ করে বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত পাকাপোক্ত করে। এরই পরিপ্রক্ষিতে শুরু হয় বঙ্গভঙ্গরদ আন্দোলন। ভারতবর্ষ হয়ে পড়ে অস্থিতিশীল।
গল্পের বিশেষ কল্পিত নারী চরিত্র ভূমিসুতা। ভূমিসুতার জীবন যেন শুধু দুঃখ দিয়ে ভরা। একদম ছোট বয়স থেকে বেঁচে থাকার তাগিদে অসংখ্য পথ পাড়ি দেয় সে, যাত্রাপথের মাঝে ভরতের সাথে পরিচয়, আশ্রয় এবং দিনশেষে তাঁদের মধ্যকার সম্পর্ক গাঢ় হয়ে ওঠে। কল্পিত ভরত ভূমিসুতা এই দুই নরনারীর চরিত্র দুটি গল্পের গতি বাড়িয়ে দেয়।
উপন্যাসের রাজনৈতিক শিল্প সাহিত্য ছাড়াও সেই সময়টায় ঘটে যাওয়া অসংখ্য দুর্ঘটনায় কবলিত হয় ভারতবর্ষ। ইংরেজ আগ্রাসনের পাশাপাশি দুর্ভিক্ষ, ভূমিকম্প ও সংঘাত বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটায়।
কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজে পরিবর্তন আনার জন্য একেরপর এক কাজ করে যাওয়া যেন খুব কঠিন একটি কাজ কেননা বাঙালি জাতির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অভ্যাসকে আঁকড়ে ধরে কোনমতে বাঁচতে চাওয়া। পরিবর্তনের প্রতি ভয়, নৈরাশ্যবাদ ও ভাগ্যের উপর ছেড়ে দেয়া মানসিকতা, কর্মস্পৃহার অভাব ইত্যাদি বিষয়াদি আমার মনে হয়েছে সেই ভারতবর্ষ থেকে এখন অবধি চলমান।
বাঙ্গালীর মনস্তত্ত্ব নিয়ে একটি এক্সিলেন্ট কোট :
"ভরত বলল, বাঙালিরা কি রকম জাত তুমি শোনো তাহলে। বাঙালিরা ধর্ম নিয়ে মাতামাতি করে ধর্মসংস্কারের ব্যাপারে কেউ কিছু বলতে গেলেই গেল গেল রব তোলে , কিন্তু এ বাঙালিরাই ব্যক্তিজীবনে ধর্মের প্রায় কোনই নির্দেশ মানে না। সততা, পবিত্রতা, সেবা এইসব ব্যাপারে তারা প্রায় অধার্মিক। বাঙালিরা খুব পরের সমালোচনা করে, পরনিন্দা করে কিন্তু আত্ম সমালোচনা করে না। বাইরে খুব উদার মত প্রচার করে কিন্তু নিজের পরিবারের মধ্যে অতিরক্ষণশীল। খবরের কাগজে তর্জন গর্জন দেখলে মনে হবে খুব সাহসী আসলে অত্যন্ত ভীরু। নিজের মা বোন স্ত্রীকে যদি কোন দস্যু চোখের সামনে ধর্ষণ করে যায় তাহলেও বাধা দিতে সাহস করবে না। বাঙ্গালীদের কিছু কিছু গান-বাজনা সত্যি ভালো বটে কিন্তু কত রকম বিকট শব্দকে যে এই সমাজ প্রশ্রয় দেয় তা ঠিক নেই। তুমি তো এখন মাঝরাতে বল হরি হরি বোল রব শোনোনি হরির নাম শুনলে ভয়ে পেলে চমকে ওঠে। মোট কথা হল বাঙালিরা বাইরে যতই উদাস শিক্ষাভিমানী রুচিশীল ভাব দেখাক আসলে তারা ভেতরে ভেতরে ভন্ড। মুখে যা বলে নিজে তা বিশ্বাস করে না এমন ভন্ড তুমি আর কোথায় পাবে!"
Personal Observation:
ব্যক্তিগতভাবে উপন্যাসটি আমার খুবই ভালো লেগেছে। প্রতিটি ঐতিহাসিক চরিত্রদের এভাবে পাশাপাশি রেখে ইতিহাসের আদলে উপন্যাস নির্মাণ আসলেও অনবদ্য একটি কাজ। সুনীলের লেখা সবসময় গপগপিয়ে পড়া যায় ভেবেছিলাম তবে সত্যি বলতে প্রায় ১২০০ পেজের বই টা পড়তে আমার বেশ সময় লেগেছে। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় প্রত্যেকটি চরিত্রকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে লিখেছেন বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথ এবং স্বামী বিবেকানন্দ।
আলাদা করে বলতে হবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং স্বামী বিবেকানন্দ র জীবনধারা, আর থিয়েটারের বিষয়াদি কিছু ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় বিস্তৃত হওয়ায় এটি বিরক্তিকর লেগেছে। আমার কাছে মনে হয়েছে এত বৃহৎ পরিসর মনে হয় না হলেই ভালো হত।এদিকটা একটু সংক্ষেপ করে স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার অংশটুকুকে আরেকটু বেশি প্রাধান্য দেয়া যেত। আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করলাম সেই সময় উপন্যাসে রবীন্দ্রনাথের জন্ম এরপর প্রথম আলো এত বড় উপন্যাসে সমস্ত চরিত্ররা রবীন্দ্রনাথ কে ঘিরে আছে অথচ একটি বারও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মায়ের নাম গন্ধ কিছুই পেলাম না। এটি আমার অদ্ভুত লেগেছে ( নাকি আমি ই মিস করে গেছি বুঝলাম না)।
কাল্পনিক দুই চরিত্র ভরত- ভূমিসুতার প্রণয় বিচ্ছেদের গল্প পাঠককে গল্পের শেষ অবধি পর্যন্ত ধরে রাখতে বাধ্য । তবে ভরতের দুর্ভাগ্য নিয়ে জন্মানো জিনিসটা গল্পের সাথে খাপ খেয়ে গেছে কিন্তু ভুমিসুতার বেলায় লেখক যেন একটু বেশিই biased হয়ে পড়েছিলেন, ক্ষেত্রবিশেষে বাস্তবতা বিবর্জিত লাগছিল।
আর বেসিক্যালি সেই সময়ের পর প্রথম আলোতে ও তেমন করে বাঙ্গালী সমাজে নবজাগরণ বা রেনেসাঁর দেখা পেলাম বলে মনে হলো না। শিল্প সাহিত্য আধুনিকতা ও প্রযুক্তির যেটুকু ছটা ভারতবর্ষ ছুঁয়েছিল তা শুধুমাত্র ছিল উচ্চবিত্ত জমিদার বা রাজা কিংবা ইংরেজদের গন্ডির ভেতর। তাঁদের আরাম আয়েশ সুযোগ সুবিধা ইত্যাদির দেখভাল করা ছিল দরিদ্র শ্রেণী পেশার মানুষের কাজ। দেশের খেটে খাওয়া মজুর, কৃষক বা দরিদ্র শ্রেণীর জীবনে কোনো revolution দেখা যেত না।
ইংরেজদের দুশো বছরের শাসনকালের অন্ধকার অধ্যায়ের চিরনির্বাপন করতে মুক্তির পথ দেখানোতে প্রথম আলোক প্রজ্জ্বলন করেছিল স্বাধীনতাকামী মানুষেরা। সেই সূত্রে উপন্যাসের নামকরণ শতভাগ সার্থক।
এত বিশাল বইয়ের অসংখ্য চরিত্র আর ঘটনাবলীর মধ্যে আমার কাছে ত্রিপুরা রাজ্যের সৌন্দর্য্য, রাজার ত্রিপুরা রাজ্যের প্রতি ব্যাকুলতা এসমস্ত ব্যাপার গুলো বেশ ভালো লেগেছে। এত বড় উপন্যাসের সবকিছু নিয়ে লিখে শেষ করা সম্ভব না।
একজন বলেছিল সুনীলের তিনখান বই না পড়লে ষোলআনা বাঙালিয়ানা ঠিকঠাক হয়ে ওঠে না। কথা টা মনে হয় সত্যিই! ভারতবর্ষের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে শুরু করে কলকাতা হয়ে ধারাবাহিকভাবে সমগ্র ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়া জাতীয়তা ও জাতিসত্ত্বাবোধকে জাগিয়ে তুলে, বাঙ্গালী সাহিত্য - সংস্কৃতির কর্ণধারদের নিয়ে বাঙালির ভালো লাগার মতই বেগবান ঐতিহাসিক মহাকাব্য প্রথম আলো। ইচ্ছা ধৈর্য্য আর শক্তি( বইয়ের ওজন অনেক) থাকলে অবশ্যই পড়বেন।