ঢাকা। পর্দার আড়ালে থেকে মাফিয়া সিন্ডিকেটের হাতে সারা দেশের নিয়ন্ত্রণ । পুলিশ, ডিটেক্টিভদের মত প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও রয়েছে ছদ্মবেশী মাফিয়া স্পাই । এমনই কিছু ডিটেক্টিভ পুলিশের হয়ে ভুয়া কেস রিপোর্ট লেখে নীহারিকা । অন্যায় কাজ করতে চায় না, চাকরী ছাড়তে চায়। কিন্তু হুমকি ধামকি খেয়ে ছাড়তে পারে না । আইনের পথে থেকে বৈধভাবে অন্যায়গুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করার চেষ্টা করতে থাকে ।
অন্যদিকে হঠাৎই আবির্ভাব হয় এক দুর্ধর্ষ অপরাধীর । কোনও এক বিশেষ কারণে সে শুধু আইনের চোখেই অপরাধী নয়, মাফিয়ার চোখেও তাই ! ওর সম্পর্কে তেমন কোন তথ্য কারও কাছেই নেই । সবাই শুধু ওর নামটা জানে, দুর্জয় ।
আস্তে আস্তে তিনটা শক্তি একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ল । মাফিয়া আর দুর্নীতিবাজ কিছু ক্ষমতাবান লোকের বিরুদ্ধে আইনী লড়াই লড়ছে নীহারিকার মত কিছু মানুষ যারা এখনও সত্যান্বেষী, বিশ্বাস করে মন্দের বিরুদ্ধে ভালোর জয় হবেই । আর ভাল-মন্দ কোনকিছুর পরোয়া না করে স্রেফ একটা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মত এক এক করে মাফিয়ার সব চক্রব্যুহ ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে তছনছ করে চলেছে একা দুর্জয় । ওকে আটকানোর জন্যে চার হাত-পা এক করে চেষ্টা চালাতে লাগল অন্য দুইটি শক্তি, ভাল আর মন্দ উভয়ে ।
আধুনিক সমসাময়িক বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তরুণ কার্টুনিস্ট তৌহিদুল ইকবাল সম্পদ এর অনবদ্য ক্রাইম-ফিকশন গ্রাফিক নভেল দুর্জয়
আমি আমার জীবনে খুব কম কমিকস পড়িনি। তার মধ্যে বাংলা কমিকসের সংখ্যাও অনেক। শিশুকালে ক্লাস থ্রি-ফোর থেকে সমানে গোগ্রাসে গেলা শুরু ভারতীয় ডায়মন্ড কমিকসের যাবতীয় সিরিজগুলো, আরেকটু বড় হয়ে ধরেছি হার্জের অমর সৃষ্টি টিনটিন সিরিজের বাংলা অনুবাদ, লী ফাল্কের ফ্যান্টম এবং রেনে গোসিনির এস্টেরিক্স। এর মাঝেই নিয়মিত ভাবে না পড়া হলেও বাংলা কমিকসের দিকপাল নারায়ণ দেবনাথের নন্টে-ফন্টে, হাঁদা-ভোঁদা, বাটুল দি গ্রেট ইত্যাদি সিরিজও আমার শৈশব-কৈশোরের আনন্দময়তাকে পূর্ণ করেছিল। এছাড়া অনেক বছর বাংলাদেশের একমেবদ্বিতীয়ম স্বঘোষিত "বানানভুল সর্বস্ব পত্রিকা" হিসেবে গর্বিত আমাদের সবার আজন্মপ্রিয় 'উন্মাদ' পত্রিকার নিয়মিত পাঠক হবার বদৌলতে আহসান হাবীব সহ আরো অনেক প্রতিভাধর বিখ্যাত কার্টুনিস্টের অসাধারণ সব কমিকস্ট্রিপের ছিলাম বিশাল ভক্ত। তারিকুল ইসলাম শান্তর টুটু-পুটু-কুটু, আহসান হাবীবের পটলা-ক্যাবলা, রনবীর 'টোকাই' কার্টুনও নিয়মিত পড়া হত ছোটবেলায়, আরো কি কি অগণিত কমিকস যে পড়েছি তার হিসেব নেই, মনেও নেই আর। কিন্তু অবধারিতভাবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে কমিকস পড়া কমে গেল, কমতে কমতে একসময় থেমেই গেল। কারণ একটাইঃ বয়সের উপযুক্ত মানসিক পরিপক্কতার সাথে মানানসই তেমন কমিকস বাংলায় না পাওয়া। এরপরে অনেক বছর বাংলা কমিকসের কোন সংস্পর্শে ছিলাম না, খোঁজখবরও রাখতাম না। কালের আবর্তনে ইংরেজি থ্রিলার ও বিভিন্ন গল্পের বইয়ের নিয়মিত পাঠক হবার পাশাপাশি আবার কমিকস পড়া শুরু হল ধুমিয়ে, তবে এবার ইংরেজি কমিকস, ডিসি-মার্ভেল-ডার্ক হর্স প্রভৃতি কমিকস কোম্পানী থেকে প্রকাশিত হাজারো সুপারহিরো কমিকস সেই সাথে অ্যালান মুর-ফ্র্যাঙ্ক মিলার-মার্ক মিলার-ব্রায়ান কে ভন-গ্র্যান্ট মরিসন সহ অসংখ্য বিশ্বখ্যাত জনপ্রিয় কমিকস আর্টিস্ট-লেখকদের তৈরি করা রঙ্গিন কল্পনার জগতে আবার ডুবে গেলাম।
গত ৩-৪ বছরে যখন এভাবে কমিকস পড়ার নেশাটা আবার চাগিয়ে উঠেছে তখনি বছরখানেক আগে ঘটনাক্রমে জানতে পারলাম আমাদের দেশেও বর্তমানে কিছু কিছু নতুন কমিকস প্রকাশনী জেগে উঠছে। ছোটবেলায় যেসব বাংলা কমিকস পড়েছি তার বেশিরভাগই ছিল ভারতীয়, দেশী বলতে এক সূচীপত্র কমিকসের বিভিন্ন শিশুতোষ কমিকস আর উন্মাদ পত্রিকাকেই বুঝতাম, কিন্তু স্বস্তির সাথে দেখতে পেলাম বর্তমানে যেসব কমিকস একটু একটু করে পদচারণা শুরু করছে তারা শুধু শিশুতোষ কাহিনীতেই আটকে নেই, বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে সকল বয়সের পাঠকদের উপযোগী কমিকবুক প্রকাশ করতে তারা সচেষ্ট। কেবল হাস্যকৌতুককরই নয়, অ্যাকশন-থ্রিলার-ক্রাইম-সায়েন্সফিকশন-অ্যাডভেঞ্চার সবধরনের কাহিনীই সেগুলোতে উঠে আসছে, আর কমিকস বলতে এখন শুধু এক পৃষ্ঠার খন্ড কৌতুকের ইলাস্ট্রেশনই বোঝায় না, রীতিমত কমিকস উপন্যাস হিসেবে পূর্ণ দৈর্ঘ্যের গ্রাফিক নভেলও প্রকাশিত হওয়া শুরু হয়েছে! সেই সূত্রেই মাস কয়েক আগে পড়লাম পাঞ্জেরী প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত এসময়ের জনপ্রিয় কার্টুনিস্ট শাহরিয়ারের হাস্যরসাত্মক গ্রাফিক নভেল "লাইলী", আর আজ পড়লাম ঢাকা কমিকস থেকে প্রকাশিত তৌহিদুল ইকবাল সম্পদের গ্রাফিক নভেল দুর্জয়।
'দুর্জয়' পড়ে প্রথম কথাই যেটা বলতে হয় তা হল এই প্রথম আমি যেন রীতিমত ইংরেজিতে বড়দের জন্য লেখা সিরিয়াস ডার্ক কাহিনীওয়ালা কমিকস পড়ার মজা পেলাম নিজের মাতৃভাষায়। তৌহিদুল ইকবাল সম্পদ কমিকসের জগতে নতুন নাম নয়, শিশুকাল থেকেই নিয়মিত দারুন সব কমিকস্ট্রিপ লিখতেন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়। মাঝে অনেকগুলো বছর গ্যাপ দিয়ে তিনি ফিরে এলেন এই দুর্জয় দিয়ে, আর বলা যায় এসেই জয় করে নিলেন বাংলা কমিকসকে! বইটা হাতে পেয়ে আমি প্রথমে উল্টেপাল্টে দেখে বিমোহিত, স্তম্ভিত হয়ে গেছিলাম এটার আল্ট্রা-রিয়েলিস্ট্রিক, নিখুঁত, জীবন্ত সর্বোপরি অপূর্ব সুন্দর রঙ্গিন আর্টওয়ার্ক দেখে। এত অসাধারণ দৃষ্টিনন্দন চোখঝলসানো ডিসি-মার্ভেল কমিকসের সাথে পাল্লা দেয়া ইলাস্ট্রেশন যে বাংলাদেশের কোন কমিকসেও সম্ভব এটা সত্যিই বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল। সেই সাথে অতি উন্নত পেপারকোয়ালিটির ৫২ পৃষ্ঠার ক্রাইমফিকশন গ্রাফিক নভেলটা হাতে নিয়ে যে তৃপ্তিবোধ হয়েছিল, নিজের দেশের নবীন কমিকসসাহিত্যের অগ্রগামিতায় যে গর্ববোধ হয়েছিল তার বুঝি কোন তুলনা চলে না। কমিকসটা শেষ করার পরও সেই তৃপ্তিবোধ কমেনি, বরং সম্পদের হাত থেকে আগামীতে আরো কী মাইন্ডব্লোয়িং কমিকস উপহার পাব সে চিন্তাই রোমাঞ্চিত করে তুলছে আমাকে।
বইয়ের কমতি বলতে গল্পের প্লট তেমন শক্ত নয়, বইটা শেষ করার পর আক্ষেপ থেকেই যায় মাত্রই জমতে থাকা কাহিনীটা হুট করে শেষ হয়ে যাওয়ায়। গৎবাঁধা বাংলাদেশী ভাল বনাম খারাপ আখ্যান, সেই গ্যাংস্টার মাফিয়া ডন, দূর্নীতিপরায়ণ পুলিশ, প্রতিবাদী যুবক, এসবের মাঝে অসহায়া রমণী। গল্পের পরিবেশনে কিছুটা যে নতুনত্ব নেই তা বলব না, নাম 'দুর্জয়' হলেও প্রায় পুরো গল্পটাই মূল নারী চরিত্র নীহারিকা'র দৃষ্টিকোণ থেকে আবর্তিত হয়েছে, আর সেই দুর্জয় ও নীহারিকা দু'জনের চরিত্রায়ণ বেশ ভালই হয়েছে, মূল চরিত্র দুর্জয়কে কেবলই ক্লিনকাট ধোয়া তুলসীপাতা না দেখিয়ে কিছুটা রহস্যময় ও ডার্কভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেটা প্রশংসনীয়। যেটা খুব একটা প্রশংসনীয় নয় সেটা হল নেগেটিভ চরিত্র সবগুলোই একেবারে ফ্ল্যাট ও গভীরতাবিহীন। আর আগে যা বললাম এন্ডিং যেন একটু তাড়াহুড়ো করে হয়ে গেছে, আরো জমিয়ে সুচারুভাবে শেষ করলে মনে হয় বেশি ভাল লাগত। যাহোক, এসবই খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ। ৫২পৃষ্ঠার মাঝে এতকিছু চাওয়াও বাতুলতা, তবে লেখক ওয়ার্ল্ডক্লাস লেভেলের ইলাস্ট্রেটেড একটা কমিকস উপহার দিয়েই আসলে চাহিদাটা আপনাআপনি বাড়িয়ে দিয়েছেন। অ্যাকশনদৃশ্যগুলো অবশ্য এককথায় মারাত্মক ছিল, এমন ভিজুয়াল প্রেজেন্টেশনে যেমনটি দরকার ঠিক তেমনই রোমাঞ্চকর, এনার্জেটিক এবং টানটান উত্তেজনাময়। আর বলতেই হচ্ছে, দুর্জয় ওরফে কবির মনসুর চরিত্রটা আমার বেশ পছন্দ হয়েছে, একটি কমিকবুক সিরিজ চালিয়ে নেয়ার কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে যথেষ্ট মানানসই, আশা করছি অদূর ভবিষ্যতে দুর্জয়কে আরো অনেক অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গিয়ে আর্টওয়ার্কের সাথে পাল্লা দেয়ার মতই জটিল ও বুদ্ধিদীপ্ত সব গল্প আমাদের উপহার দিবেন লেখক।
পরিশেষে এটুকু বলতে পারি দুর্জয় আমাকে বর্তমান বাংলা কমিকসকে যেন নতুন দৃষ্টিতে চিনিয়েছে। ঢাকা কমিকসের প্রকাশিত আরো কিছু এমন পরিণতমনষ্ক কমিকস পড়তে আমি ইতোমধ্যেই আগ্রহী হয়ে ওঠেছি। কমিকস মানেই যে বাচ্চাদের জন্য না, শিশুতোষ না, দীর্ঘদিনের এই ভুল ধারণা থেকে বের হয়ে এসে কমিকসবিশ্বের সাথে পায়ে পা মিলিয়ে চলতে শুরু করেছে আমাদের দেশের কমিকস সাহিত্য। ঢাকা কমিকস ও তাদের মত আজকের নবীন সব কমিকস প্রকাশনাদের আমি সেজন্য আন্তরিক সাধুবাদ জানাই আর মনে প্রাণে আশা করি একদিন আমাদের দেশের বাংলা কমিকস-ভান্ডারও ইংরেজি কমিকসের মত অসংখ্য এপিক সব গ্রাফিক্যাল উপাখ্যানে পরিপূর্ণ থাকবে, কোন সিরিজটা বাদ দিয়ে কোনটা পড়ব, কোন সিরিজ কোথা থেকে পড়া শুরু করব, কোন স্টোরিআর্কটা না পড়লেই নয় এসব ভাবতেই হিমশিম খেয়ে যাবে আমাদের পরবর্তি জেনারেশন, সেই ���াথে আমাদের মত বুড়োরাও! প্রয়োজন শুধু একটু মুক্তমণা চিন্তাধারার, এবং সৃজনশীল বিকাশের।
দুর্জয় লেখক+আঁকিয়েঃ তৌহিদুল ইকবাল সম্পদ প্রকাশনীঃ ঢাকা কমিকস প্রকাশকালঃ জুন ২০১৫ পৃষ্ঠাঃ ৫২ মূল্যঃ ১০০টাকা আমার রেটিংঃ আর্টওয়ার্ক - ১০/১০, কাহিনী - ৬/১০, ওভার অল - ৮.৫/১০
ফান ফ্যাক্টঃ শুনেছি লেখক মূল চরিত্রের পূর্ণ নাম "কবির মনসুর" নিয়েছেন লেখক কাজী আনোয়ার হোসেনের দুই অমর সৃষ্টি মাসুদ রানা ও কুয়াশা সিরিজ থেকে, মাসুদ রানার জন্মশত্রু কবির চৌধুরী ও কুয়াশা ওরফে মনসুর আলীর নাম মিশিয়ে তিনি এই দু'জন লার্জার দ্যান লাইফ চরিত্রের মতই কিছুটা অন্ধকারে কিছুটা আলোয় আইনের ওপারে বিচরণ করা কবির মনসুর ওরফে দুর্জয়কে তৈরি করেছেন।
দুই-একটা বেসিক আলী আর টিনটিন ছাড়া তেমন কমিকস পড়া হয়নি।তাছাড়া কমিকস ফ্যানও না আমি।বেসিক আলী যেমন পুরোটাই হিউমারে ভরপুর দুর্জয় তেমন না।দুর্জয় গ্যাংস্টার থ্রিলার টাইপের সিরিয়াস একটা কমিকস।
একজন মাফিয়া,তার পা চাটা প্রশাসনের লোক এবং একজন দুর্জয় আর একজন নীহারিকাকে নিয়ে গল্প।বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দারুণ প্লট।ইলাস্ট্রেশন অসাধারণ।সবকিছু চোখের সামনে যেন ভেসে উঠছিলো ইলাস্ট্রেশন দেখতে দেখতে।
তাই বলে খামতি নেই বিষয়টা এরকম না।সংলাপ আরও যত্ন নিয়ে তৈরি করা যেতো,বইটার দৈর্ঘ্য আরও বড় করে গল্পের গভীরতা বাড়ানো যেতো।আশা করছি,সামনের পর্বগুলোতে লেখক এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠবেন!
বইটি বেশ ভাল লেগেছে। চমৎকার আর্টওয়ার্ক। যদিও ব্যাকগ্রাউণ্ড আর্টের অভাব চোখে পড়ার মত। কাহিনী স্রেফ শুরু হয়েছে, তাই বেশি কিছু আশাও করিনি। সমাপ্তিও ঠিক আছে। শুধু নায়ক দুর্জয়ের ভাষা-কথা আমার পছন্দ হয়নি, আরও একটু মার্জিত হলে পারত।
যাই হোক। দুর্জয় কমিক্সটি এক কথায় খারাপ নয়। নাইকাও বেশ চটপটে আছে।
প্লটটার প্রাসঙ্গিকতা আছে। আঁকাও বেশ ভাল। কিন্তু স্টোরিলাইন এত দুর্বল, এগজিকিউশন এতই অবিশ্বাস্য আর ডায়ালগ এত নিম্নমানের যে কিছুতেই ১-এর বেশি উঠতে পারলাম না।
বইয়ের মূল আকর্ষনই হচ্ছে এর তৌহিদুল ইকবালের দুর্দান্ত আকার হাত। গল্পের চরিত্রগূলোকে দেখে মনে হয় না গ্রাফিক নোভেল পড়ছি, মনে হয় মুভিতে চরিত্রগুলোকে দেখছি, এতোটাই জীবন্ত। বিশেষ করে গল্পের মেয়ে চরিত্রটার ( নায়িকা বলা যাবে না, লুতুপুতু প্রেম নাই) উপর ক্রাশ খেয়ে গেছি। কাহিনীর ডেপথ বেশি নাই। ৫০ পৃষ্ঠায় আর কতটুকুই বা আনা যায়। তবে এর সিক্যুয়েল আসবে মনে হয় কারন গল্পের কিছু অস্পষ্ট ব্যাপার আছে। সামনে হয়তো খোলাসা হবে। একশনদৃশ্যগুলা চরম ছিলো। আন্ডারওয়ার্ল্ড মাফিয়ার উপর নায়কের প্রতিশোধ নেয়াকে কেন্দ্র করেই প্লট।
বই শেষে লেখক কমিক আকার কিছু নিয়ম বলে দিয়েছেন।সেটাও ভালো লেগেছে। আমি ভয়ঙ্কর রকমের জঘন্য আঁকিয়ে না হলে চেষ্টা করে দেখতাম আকার।
ভালোই লাগলো। এক সময় প্রচুর গ্রাফিক নভেল পড়তাম। ব্যাটম্যান: লঙ হ্যালোউইন, ডেথ ইন দ্য ফ্যামিলি, ডার্ক নাইট রিটার্নস, কোর্ট অব আওস, ইনজাস্টিস খুব প্রিয় কমিক স্টোরি আর্ক। এখন বাংলাদেশেও ইয়াং অ্যাডাল্টদের জন্য কমিক তৈরি হচ্ছে এটাই আশার সংবাদ। তবে ডায়লগ খুব দুর্বল। একটা ক্যারেক্টারও ফ্লেশড আউট না। জয়নাল তালুকদার কেন ভয়ংকর তাও বুঝলাম না। দুর্জয় হুট করে কীভাবে তার আস্তানার খোঁজ পেল সেসব তথ্য ক্লিয়ার না। সবকিছুতে খুব তাড়াহুড়ো ছিল। খুব শীঘ্রই পরের কিস্তি পড়বো। আশা করি সেটা এর চেয়ে ভালো হবে।
তৌহিদুল ইকবাল সম্পদ, মাত্র ৮-৯ বছর বয়স থেকে এক পাতার মজার কমিক্স কাঁচা কিন্তু গোছানো দক্ষতার হাতে এঁকে পাঠাতো 'কিশোর পত্রিকা'-তে। খুব শীঘ্রই কিশোর পত্রিকার নিয়মিত কমিক্স আঁকিয়ে হয়ে গেল সম্পদ। শেষের দিকে একই পত্রিকায় একাধিক কমিক্স থাকতো তার আঁকা। তারপরে কিশোর পত্রিকা প্রকাশ বন্ধ করতে বাধ্য হলো সেবা প্রকাশনী, ছোটদের পত্রিকা ভর্তুকি দিয়েও চালানো মুশকিল হয়ে পড়ছিলো নাকি। আমি তখন হয়তো স্কুল পাশ করে কলেজে পড়ি।
বহুদিন হুট করে মনে পড়ায় আমি আর আমার ভাই আলোচনা করেছি, আচ্ছা সেই ছোট ছেলেটার কী হলো? বাংলাদেশে তো কমিক্স বের হয় না সেভাবে, সম্পদ কি আর কমিক্স আঁকে?
ঢা��া কমিক্সের মাধ্যমে সম্পদের কাজ আবার দেখা গেল। ইচ্ছা ছিলো আগেই পড়ার, গত বছর আমার ভাই কিনেছে 'দুর্জয়' সিরিজ, এখন আমি পড়া শুরু করলাম। সম্পদের আঁকার মান দেখে ভালো লাগলো। সেই ছোট সম্পদের আঁকা সব কমিক্স সব কিশোর পত্রিকাগুলো এখনো আছে আমাদের কাছে।
❝দুর্জয়❞ কমিকটি ভালো। কমিকটির আর্ট ও ডায়ালগ গুলোও ভালো ছিল।
কিন্তু কমিকটির কাহিনী খুব দ্রুত এগিয়ে নিয়েছেন লেখক। এছাড়া নীহারিকা চরিত্রটি কমিকের প্রেক্ষাপটে ততটা যুতসই মনে হলো না। তাছাড়া জয়নালের মতো আন্ডারওয়ার্ল্ডের এত বড় ডনকে দুর্জয় সেভাবে কাবু করে ফেললো, তা সত্যিই বাড়াবাড়ি ছিল। লেখক দুর্জয়ের সাহস আর ক্ষমতা দেখাতে গিয়ে একটু বাড়াবাড়ি করেই ফেলেছেন।
বাংলাদেশী প্রেক্ষাপটে এরকম কমিক সত্যিই দারুণ ছিল। এর জন্য লেখক ও ঢাকা কমিক্সকে অসংখ্য ধন্যবাদ এবং ভবিষ্যতে এর থেকেও আরো ভালো ভালো কমিক পাবো- এই আশাই করি।
I liked the story plot and specifically, the drawing of each characters in the book. The framing and each scene was really good.
This is the first issue of the series and has cliffhanger for the other ones. I would recommend to have at least first 10 issues of the series to begin with for discovering the story flow.
আমার খুব পছন্দের একটি কমিক্স । কাহিনী, চরিত্র এবং চিত্রায়ন, সবই অত্যন্ত চমৎকার । সিরিজের প্রত্যেকটা বইয়েই লেখক তার মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন । বাংলাদেশে এই মানের কমিক্স আমাদেরকে উপহার দেওয়ার জন্য লেখক ও প্রকাশনীর অবশ্যই বাহবা প্রাপ্য ।
অনেকদিন পর কমিক্স/গ্রাফিক নভেল পড়লাম। বাংলা ভাষায় লেখা। শুরুটা অনেক ভালো হয়েছে। অর্ধশত পৃষ্ঠার মধ্যে প্রথম পর্ব শেষ করা হয়েছে। চরিত্রগুলোর অংগভংগী, অভিব্যক্তি, একশন দৃশ্যগুলো চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। শুধুমাত্র ব্যাকগ্রাউন্ডয়ে কেমন যেন শূণ্যতা রয়েছে।
প্রথম পর্ব হিসেবে কাহিনীর শুরুর অংশই দেখানো হয়েছে বলতে হবে, ৫০ পৃষ্ঠায় যতটুকু সম্ভব সেটাই আর কি... পরের পর্বে কি হবে জানার আগ্রহ হচ্ছে। হয়তো কিছুদিনের মধ্যে বাকি পর্বগুলোও পড়া শুরু করতে পারবো। লেখক+আঁকিয়ে-কে ধন্যবাদ, ক্রাইম-একশন জনরার কমিক্স নিয়ে কাজ শুরু করার জন্য। একই প্রকাশনীর ভৌতিক কমিক্সও আছে। সেগুলোও হয়তো সময় করে পড়ে নিবো।
'Boitoi' এপে ১৯ টাকা দিয়ে 'দুর্জয় ১' পড়লাম। এপ্লিকেশনটায় পুরানো বই এর সংখ্যাই বেশি, নতুন নতুন বই যোগ করা হচ্ছে। আরো নিত্যনতুন বই এর অপেক্ষায় রইলাম।
দুর্জয় একজন আন্ডারগ্রাউন্ড স্ট্রীট ফাইটার , যে টাকার বিনিময়ে জীবন বাজি রেখে লড়াই করে। কিন্তু একদিন লড়াই করতে গিয়ে তার হাতে ঘটে যায় এক বিশাল অঘটন। ফলস্বরূপ এক মাফিয়া সর্দারের প্রবল রোষের মুখে পড়তে হয় তাকে। সে দুর্জয়ের জীবন কে নরক করে তোলে। শেষ পর্যন্ত দুর্জয় কিভাবে ঘুরে দাঁড়ায় এবং প্রতিশোধ নেয় তার ওপর হওয়া অন্যায়ের; তার কথাই আছে এই কমিক্স বইটিতে।
বইয়ের গ্রাফিক্স এর কাজ বেশ ভালো এবং কমিক্সে রঙের ব্যবহারও খুব সুন্দর ভাবে করা হয়েছে। ঝকঝকে পাতা এবং মূল গল্পটিও বেশ টানটান। যারা অ্যাকশন ভিত্তিক কমিক্স পছন্দ করেন তাদের বেশ ভালো লাগবে এই কমিক্স সিরিজটি।
তৌহিদুল ইকবাল সম্পদের আঁকা সত্যিকার অর্থেই দুর্ধর্ষ হয়েছে। কালারিংও চমৎকার হয়েছে, যদিও কিছু কিছু জায়গায় চোখে লেগেছে। হোয়াইট প্রিন্টে চাররঙা ছাপাও হয়েছে দারুন ঝকঝকে! তবে আর্টওয়ার্ক যতটা মুগ্ধ করেছে, স্টোরিলাইন ততটাই হতাশ করেছে। তবে যেহেতু ধারাবাহিক কাহিনি, পরের পর্বগুলোয় আশা করি আরও ভাল হবে।