প্রাচীন যুগে চীন ছিল একটি বিচ্ছিন্ন অঞ্চল। এখানে হোয়াং হো আর ইয়াং জে কিয়াং নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল কৃষিভিত্তিক নগর-সভ্যতা। কয়েকটি রাজবংশের শাসনামলে চীনে এক উন্নত সভ্যতার বিকাশ ঘটে। প্রাচীন চীনা সভ্যতা নানা ক্ষেত্রে বিশ্বকে প্রভাবিত করেছিল। সেই প্রাচীন চীন সভ্যতা নিয়ে লেখা এই বই প্রাচীন সভ্যতা সিরিজের পঞ্চম বই। লেখার সঙ্গে রয়েছে রঙিন ছবি।
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় ১৯৬০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তাঁর জন্ম। পৈতৃক নিবাস বিক্রমপুরের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার গনাইসার গ্রামে। পিতা মরহুম মোসলেম চোকদার ও মা মরহুমা রেজিয়া বেগম। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে১৯৮২ ও ১৯৮৩ সালে যথাক্রমে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট থেকে ফারসি ভাষায় সার্টিফিকেট কোর্স সম্পাদন করেন। ১৯৮৫ সালে। ফোর্ড ফাউন্ডেশনের বৃত্তি নিয়ে ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পি.এইচ.ডি. অর্জন করেন ১৯৯৪ সালে। সত্তর ও আশির দশকে ‘শাহনাজ কালাম’ লেখক নামে ছড়া ও গল্প লিখিয়ে হিসেবে পরিচিত হলেও পেশা জীবনে এসে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পাঠক্রমভিত্তিক গ্রন্থ রচনা এবং শিল্প-সংস্কৃতি ও প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ক গ্ৰন্থ ও প্ৰবন্ধ লেখায় বিশেষ মনোনিবেশ করেন। ড. শাহনাওয়াজের রচিত ও সম্পাদনাকৃত গ্রন্থের সংখ্যা অর্ধশতাধিক। এক যুগের বেশি সময়কাল ধরে তিনি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে রাজনীতি ও সমাজ-সংস্কৃতি বিষয়ক কলাম লিখে আসছেন।
সুন্দর সুন্দর ছবি সম্বলিত প্রাঞ্জল ভাষায় রচিত এই ধরনের বই পড়তে সবসময়ই ভালো লাগে। "প্রাচীন সভ্যতা সিরিজ" এর ৫ নম্বর বই "চীন"টাও মজা করে পড়েছি। পাঁচে পাঁচ। তবে একটু কথা আছে, বিজ্ঞান ভিত্তিক ব্যাপার স্যাপারে আমি একটু খুঁতখুঁতে। বইয়ে চীনাদের নিয়ে বিজ্ঞান ভিত্তিক কতগুলো বাক্য সঠিক হয়নি। ভুল হয়েছে তা না বলে বলতে হবে বাংলা ভাষায় উপস্থাপনে ত্রুটি হয়েছে। তবে আমি তো এখানে সিরিয়াস বিজ্ঞানের বই পড়ছি না, পড়ছি প্রত্ন-ইতিহাসের বই। একটু ছাড় তো দেয়া যেতেই পারে। রেটিং পাঁচে পাঁচই থাকুক!
শিশু কিশোরদের পৃথিবীর ইতিহাস জানানোর জন্য নিঃসন্দেহে ভাল একটা উদ্যোগ। কিন্তু মহাচীনের বিশালতার তুলনায় বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা নেহায়তই অল্প। তাছাড়া বইটিকে সামাজিক কাঠামো, অর্থনৈতিক কাঠামো- এরকম বিভিন্ন অধ্যায়ে ভাগ না করে হয়ত যুগ অনুসারে গল্পের আকারে বিবরণ দিলে আর একটু সুখপাঠ্য হত। বইয়ের রঙিন ছবিগুলো ভাল লেগেছে।
বইটি খুবই ছোট কিন্তু কম সময়ে চীন সম্পর্কে যে হালকা ধারণা পেতে চায় তার জন্য ঠিক আছে। বিশেষ করে মাধ্যমিক স্তরের ছেলেমেয়েদের জন্য বইটি খুবই উপযুক্ত। ৩১ পৃষ্ঠাতেই চীনের রাজবংশ, তাদের উত্থান-পতন, সেই সময়কার চীনের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা সম্বন্ধে হালকা ধারণা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আর প্রতিটি পৃষ্ঠাতেই রয়েছে রঙ্গিন ছবি।
বইয়ে এক জায়গায় লেখা আছে, বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন চাঁদ থেকে চীনের মহাপ্রাচীর দেখা যায়? এটা কতটুকু সত্য?