ভারতের মাটিতে ধরা পড়লো অজ্ঞাত এক ব্যক্তি। সন্দেহের তীর এসে পড়লো বাংলাদেশের দিকে। তোলপাড় পরে গেল দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোতে। ডিজিএফআই-এর ডিরেক্টর জেনারেল শওকত হামিদ তার অধিনস্তদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসলেন। অসংখ্য প্রশ্নবাণে জর্জরিত হলেন ব্রিগেডিয়ার আমিন চৌধুরী। ধীরে ধীরে উন্মোচিত হতে লাগলো অজানা সব তথ্য। এদিকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করলো। কি ঘটতে যাচ্ছে দুই দেশের মানুষের ভাগ্যে?
"ব্ল্যাকগেট" এক মিলিটারি এসেটের কর্তব্য, আবেগ এবং ভালোবাসার গল্প। ঘটনার বিস্তৃতি কসোভো, ভারত, আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তান, মায়ানমার এবং বাংলাদেশে।
Javed Rasin (Bengali: জাবেদ রাসিন) is a Bangladeshi poet & fiction writer. He was born in Mymensingh but has raised in Dhaka from childhood. Javed completed his graduation & post-graduation in law from the University of Dhaka. He likes the charm of prosody and playing with words which fits into poetry. Shunno Pother Opekkhay (শূন্য পথের অপেক্ষায়) was his maiden published poetry.
Also the world of fiction, especially thriller & horror fiction fascinated him and he started writing in this genre. His first published thriller fiction novel was Blackgate (ব্ল্যাকগেট), co-authored with Tarim Fuad. His other works are horror novel Tomisra (তমিস্রা) & conspiracy novel Circle (সার্কেল). He continued to produce poetry and to work on fiction novels.
'সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট'– শব্দগুলো একইসাথে দুর্দান্ততা, শক্তি আর অহঙ্কার প্রকাশ করে। একেকজন এজেন্ট দেশের জন্য একেকটি মূল্যবান অ্যাসেট। 'প্রশ্নহীন কর্তব্য' পালনের জন্যই এদের মূল্য বেশি।
এমনই একজন অ্যাসেট; কি-নেম স্কারলেট; তাকে নিয়ে আবর্তিত হয়েছে গল্পটি। দুর্ধর্ষ এই এজেন্ট বাংলাদেশের মিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি। কাজের প্রতি তার সীমাহীন আনুগত্য। এবং বাস্তব জীবনে যারা যত রোবট, তত আচমকাই বোধহয় তাদের জীবনে প্রেমের বান আসে। আসলো; কিন্তু তার আবেগের সাথে তার উধ্বর্তন বিরাট প্রতারণা করে বসে। তার উর্ধ্বতনেরও দোষ সামান্য–সে নিজের এজেন্সির অন্য অ্যাসেটকে বাঁচাতে এই কাজ করে। ওই অ্যাসেটও নিরুপায়–বাংলাদেশের সীমান্তে ভারতের ইউরেনিয়াম খোঁড়াখুঁড়ির ফলাফলই সে জানতে গিয়েছিল এবং র তাকে ধাওয়া করে।
কিন্তু স্কারলেট এতসব না জানায় বিপজ্জনক এক পরিকল্পনা করে। ব্যক্তিস্বার্থ ও জাতীয় স্বার্থের মধ্যে প্রথমটিকেই বেছে নেয়।
▪️▪️▪️
সামান্য রোমান্টিকতা পছন্দ করি। কিন্তু এই বইয়ে সেটা খুবই একঘেয়ে হয়ে গেছে। একজন স্মার্ট এজেন্টের কাছ থেকে "ভালোবাসা দিবি কিনা বল"-টাইপ ব্যবহার আশাই করা যায় না, হোক না সে প্রথম মেয়ে মানুষ দেখেছে। অসংখ্য বানান ভুল। কিছু প্যারা বাচ্চাদের লেখার মতো। অধ্যায় ২৪-এর পর ২৭ দেওয়া।
লাইন খুবই ছোটো ছোটো। চমক আছে। মোড় সুন্দর। ঘটনাপ্রবাহ তথ্যবহুল ও সুনির্দিষ্ট গতির। মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স বিষয়টিই আকর্ষণীয়। এই সবই বইটি তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। সবমিলিয়ে মধ্যম মানের। সিরিজের আর দুটি বই পড়ে নেওয়া যাক.....
আমি জানিনা এই বইটা অন্যদের কেমন লাগবে?? কিন্তু আমার কথা বলতে গেলে আমি পুরো আগাগোড়া বইটা এনজয় করেছি। বিকেলে বইটা শুরু করার পর একটু ভেতরে যেতেই কাহিনীর ভেতরে ঢুকে গিয়েছি। এরপর টানা পড়ে শেষ করলাম।
বাংলাদেশের মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স ডিজিআইএফ কে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে বইটার কাহিনী। আরো বিশেষ করে বলতে গেলে এর একজন কর্মকর্তা আর তার স্পেশাল এক এজেন্ট এর কাহিনী। লেখকদ্বয় এরকম একটা বই লেখার আগে এইসব ব্যাপার নিয়ে যথেষ্ঠ ঘেটেছেন বোঝাই যায়। কাহিনীর বিস্তার বাংলাদেশ ভারত বার্মা সীমান্ত বাদেও কসোভা, আফগানিস্তানেও। কাহিনীর সাথে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত সমস্যা, র। বেশী কিছু বলতে গেলে স্পয়লার হয়ে যাবে।
এই ধরণেই বই এর ক্ষেত্রে যদি উত্তেজনা না থাকে তাহলে অনেকটাই পানসে হয়ে যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে লেখকদ্বয় সফল কারণ পুরো বই জুড়েই উত্তেজনা ছিল। কোথাও ঝুলে যায়নি। বই এর প্লট এর পাশাপাশি বিল্ড-আপ ও চমতকার্। খুব কমই খুঁত চোখে পড়েছে। বাতিঘরকে ধন্যবাদ এরকম একটা বই প্রকাশ এর সাহস করার জন্য।
গল্প ভালো ছিল। সবচেয়ে বড় টার্ন অফ ছিল বইয়ের বানান ভুলগুলো। বাতিঘর প্রকাশনীর বইগুলোর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আগেও দেখেছি, এখন নিজে আবার ভুক্তভোগী হলাম। গল্প বলার ধরণ সত্যি বলতে ভালো লাগে নি। মনে হচ্ছিল কোন বিদেশী বইয়ের কাঁচা হাতের করা আক্ষরিক বাংলা অনুবাদ পড়ছি। বাক্যগুলো কেমন যেন ফরমাল ভাবে লিখা, মানে পড়ে গল্পের চেয়ে বেশি সংবাদপত্রের রিপোর্ট পড়ছি। বেশি অপ্রয়োজনীয় তথ্য ছিল বিভিন্ন বিষয়ে যেগুলো রোমাঞ্চকর পরিস্থিতি বর্ণনার মাঝে বিরক্তি সৃষ্টি করেছে। লেখকযুগলের প্রথম উপন্যাস যে, তা লেখা থেকে বোঝা যায়। তবে গল্পের বিন্যাস আর প্রবাহ খুব ভালো ছিল। তাই সব মিলিয়ে খারাপ লাগে নি।
এস্পিওনাজ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির ধূসর জগতের পটভূমিতে থ্রিলার লেখার ব্যাপারটা যে পশ্চিমের সাহিত্যিকদের একচেটিয়া নয়, এটা গত দেড় দশকে প্রমাণিত হয়েছে। নাবিল মুহতাসিমই আমাদের চমকে দিয়েছেন তাঁর 'বাজি' ট্রিলজি দিয়ে। আলোচ্য বইটিও অত্যন্ত গতিময় ও উপভোগ্য। তবে মাইকেল ফ্রস্ট বেকনারের গল্প অবলম্বন করে বানানো, রবার্ট রেডফোর্ড ও ব্র্যাড পিট অভিনীত 'স্পাই গেমস'-এর এই আত্তীকরণটি বড়ো বেশি গাঁজাখুরি টাইপের হয়ে গেছে। মানছি, তথাকথিত থ্রিলারগুলো এইরকমই হয়। ঠিক সেজন্যই মৌলিক থ্রিলারের জগতে নতুন আলো দেখানো বাতিঘরের কাছে একটু অন্যরকম উপন্যাস আশা করেছিলাম। হতাশই হলাম বলা চলে।
হঠাৎ করেই হাতে আসা উপন্যাস ব্লাকগেট৷ পড়া শুরু করে বুঝলাম স্পাই থ্রিলার। আমাদের দেশে ইদানিং এই সেক্টরটা জম্পেশ যাচ্ছে মনে হচ্ছে। আগেই বলে নেই এটা আসলে ট্রিলজি একটা। প্রথম উপন্যাস হল এইটি। ভাললাগা দিয়েই শুরু করি। লেখা ভাল। সাবলীল উপস্থাপনা। কয়েকটা টাইমলাইন নিয়ে লেখা হলেও পড়তে অসুবিধা হয় নাই৷ লেখক পড়াশোনা করেই বইটি লিখেছেন। তার ছাপ পরতে পরতে আছে৷ আর্মি ইকুইপমেন্ট আর অপারেশন পদ্ধতিতে এক্সপার্ট বর্ননাও আছে৷ এবার আসি খারাপ লাগায়। প্লট খুবই সিম্পল। মূলত একজন স্পাই গড়ে উঠার গল্পই এটা। প্লটটা বেশ কয়েকটা অপারেশন জোড়া দিয়ে বানানো হয়েছে৷ প্রেম নিয়ে এসে আরো বোরিং হয়ে গিয়েছে৷ শেষে কি হবে তাও খুবই সহজেই অনুমেয়। সবমিলিয়ে বিশেষ কিছু পাই নি। সে যাই হোক না কেন ট্রিলজির প্রথম হিসেবে মেনে নেওয়া গেল।
বাতিঘরের মৌলিক থ্রিলার অনেকগুলা থাকলেও এতোদিন কোন স্পাই থ্রিলার পড়ি নি। আমার কাছে থ্রিলারের এই শাখাটাই সবচে বেশি থ্রিলিং মনে হয়। ব্ল্যাকগেটই প্রথম মৌলিক স্পাই থ্রিলার ধরছি বাতিঘরের। সে হিসেবে অসাধারণ একটা থ্রিলিং বই হয়েছে। লেখকদ্বয় প্রচুর পড়াশুনা,ঘাটাঘাটি করে লিখেছেন সেজন্য তারা প্রশংসার দাবিদার। দুজন লেখকের লেখায় তারতম্য খুজে পাবেন না। টান টান একটা উত্তেজনা পুরো বইয়ে রাখতে চেয়েছিলেন লেখকদ্বয়।সেক্ষেত্রে প্রায় পুরোটাই সফল।প্লটটা বাস্তবসম্মত ছিলো।
বইয়ের একমাত্র খারাপ দিক হচ্ছে, শাফাতের মতো এমন ট্রেইনড একজন স্পাই প্রেমে পড়ে অনেকটা লুল টাইপ হয়ে গেছিলো। কাজে মন বসে না,বাংলা ছবির নায়ক টাইপ। বাতিঘরের থ্রিলারে প্রেম গুলা বরাবরই কেনো এমন দৃষ্টিকটুরকমের ন্যাকা ন্যাকা আসে সেটা বোধগম্য নয়।
বইটাকে আন্ডাররেটেড মনে হয়েছে।নতুন দুজন লেখক এরকম নতুন জনরার দারুন সূচনার জন্য ৪ দিতে গিয়েও ৫ দিলাম��� ন্যাকা প্রেম না থাকলে আর মাথাঘুরানো কোনো টুইস্ট থাকলে নিশ্চিন্তেই ৫ দিতাম।
লেখকদ্বয়ের এই জনরায় লিখে যাবার জন্য অনুরোধ করছি :-)
বইটা খুব সম্ভব ২০১৬ কি ১৭ সালে পড়েছিলাম। এবং তখন থেকেই এই বই খুব পছন্দের বইয়ের লিস্টে চলে আসে। আমার পছন্দ হয়ে গেলে আবার বিপদ আছে, যে বা যাদের বই পড়তে দেখি তাদের সবাইকে ঘাড় ধরে সেই পছন্দের বই পড়ানোর প্রাণপণ চেষ্টা করতে থাকি। গুডরিডসে কিছুদিন আগেও অতো এক্টিভ ছিলাম না, এক্টিভ হওয়ার পরও ক্যান রেটিং দেয়া হইলো না ক্যান জানে! আজকে পাপ খন্ডাইলাম। এই বই খুব বেশি আলোচনায় কেন আসেনি, জানি না। অসম্ভব সুন্দর এবং খুব প্রিয় একটা সিরিজ।
বইটা ভাল ছিল। শাফাতের অতিআবেগীয় হয়ে উঠার অংশটুকু বিরক্তিকর লেগেছে। যদিও এই অতি আবেগের ফলাফলই ছিল গল্পের শেষ চমকটা। গল্পের পটভূমি দাঁড় করাতে বৈশ্বিক রাজনীতির তথ্যবহুল উপস্থাপনা ছিল প্রায়শই। সিআইএ, কসোভো, আফগানিস্তান, র', বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত স্পর্শকাতর সব নামগুলো নিয়ে কাহিনী জমছিল প্রতিমুহূর্তে। এসব ব্যাপারে বেশ আগ্রহ থাকায় শেষ পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৫/৫ না দিয়ে পারলাম না।
বইটার কাহিনী মৌলিক হলে নিঃসন্দেহে এই কথা বলা যেত যে, এটি এখন পর্যন্ত দেশীয় থ্রিলার বইগুলোর ভেতর অন্যতম সেরা। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একটুও বিরক্ত লাগে নি কাহিনীর সাবলীল বর্ণনার জন্য। বইটার গুডরিডস রেটিং আন্ডাররেটেড মনে হয়েছে। লেখকদ্বয় কাহিনীর জন্য মূল লেখকের (মাইকেল ফ্রস্ট বেকনার) প্রতি শুরুতেই কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে নিয়েছেন। মূল গল্পের কাহিনীর মুভি অ্যাডাশন Spy Game (2001)। লেখকদ্বয় কোথাও দাবী করেন নি এটা মৌলিক বরং ফেসবুকে বই লাভার্স গ্রুপ এর মাধ্যমে জানতে পারলাম বইয়ের একজন লেখক(তাকরীম ফুয়াদ) নিজেই বলেছেন এটা অ্যাডাশন। নেহায়েৎ অ্যাডাশন হিসেবে নিলেও বইটা চমৎকার হয়েছে, তাই আন্ডাররেট করার আমি কোন কারন খুঁজে পেলাম না। তবে আশা রইলো ভবিষ্যতে লেখকদ্বয় আমাদের মৌলিক কিছু উপহার দেবেন।
আমি বুঝলাম না, বইটি সম্পর্কে পাঠকের রিভিউ এত খারাপ কেন! আমার তো বেশ ভালোই লেগেছে। পড়ার সময় মনে হয়েছে আমি বোধহয় কোন বই পড়ছি না, হলিউডের কোন ধুন্ধুমার অ্যাকশন মুভি দেখছি!
বাংলাদেশে ভাল মানের এস্পিওনাজ থ্রিলার খুবই কম। তাদের মধ্যেও যে ক'টি কাজ উল্লেখযোগ্য সেখানে অন্যতম উজ্জ্বল তারকা হল জাবেদ রাসিন এবং তাকরীম ফুয়াদের মিলিত প্রচেষ্টার ফলাফল 'সার্কেল' ট্রিলজি। এদেশের প্রেক্ষাপটে লেখা, এদেশের মাটিতে ঘটা, এদেশিয় চরিত্রদের নিয়ে এমন রুদ্ধশ্বাস স্পাই থ্রিলার খুব একটা নেই। ১ম বইটি মূলত চরিত্র চিত্রায়ন এবং প্লট ডেভেলপমেন্টের পিছনে বেশি সময় নিয়েছে বিধায় এখানে ঘটনার ঘনঘটা অপেক্ষাকৃত কম (তাও যা আছে মন্দ নয়), ব্যাকস্টোরিতেই ব্যয় হয়েছে অনেকখানি অংশ কিন্তু পরের দু'টি বই 'সার্কেল' এবং 'ডগমা' এর কাহিনী মেলে ধরতে এটি অগ্রগণ্য ভূমিকা রেখেছে।
প্রশংসা তো করলাম এবার দোষগুলোও উল্লেখ করি। কাহিনীকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে গেলে বইয়ের ভাষা প্রাঞ্জল হওয়া বাঞ্চনীয়। কিন্তু এ বইয়ের ভাষা মারাত্নক রসকষহীন, বেশ কিছু জায়গায় বাহুল্য দোষে দুষ্ট। বই থেকে কয়েকটি লাইন তুলে দিচ্ছি (কোন স্পয়লার নয়, বইটি পড়লেই বুঝতে পারবেন) -
"এক প্রভাবশালী লোকের ছেলেকে কিডন্যাপ করে বান্দরবানে নিয়ে যাওয়া হয়। লোকটি প্রভাবশালী হওয়ায় সেনাবাহিনীকে তলব করা হয় ছেলেটিকে উদ্ধারের জন্য। ওই মিশনে আটজন সৈন্যসহ আমিনকে পাঠানো হয় ছেলেটিকে উদ্ধারের জন্য।"
মাত্র তিনটি বাক্যে 'প্রভাবশালী' এবং 'ছেলেটিকে উদ্ধারের জন্য' - এ দু'টি কথা এতবার কেন! এতে রচনার শিল্পগুণ নষ্ট হয়েছে। এভাবেও তো লেখা যেতে পারত - "একজন প্রভাবশালী লোকের ছেলেকে কিডন্যাপ করে বান্দরবানে নিয়ে যাওয়া হয়। সাধারন হিসেবে, ছেলেটিকে উদ্ধারের দায়িত্ব পড়ার কথা র্যাব এবং পুলিশবাহিনীর হাতে। কিন্তু বান্দরবানের মত দুর্গম এলাকা এবং বিশেষত, ছেলেটির বাবা প্রভাবশালী হওয়াতে উদ্ধারকার্যের ভার পড়ে সেনাবাহিনীর উপর। ওই মিশনে যে আটজন দক্ষ সৈনিক অংশ নিয়েছিলেন, কর্নেল আমিন ছিলেন তাদের একজন। তখন অবশ্য তিনি কর্নেল ছিলেন না, ছিলেন একজন সাধারন ক্যাপ্টেন।"
একজন সাধারন পাঠক হিসেবে আমি যদি এটুকু লিখতে পারি তাহলে তো লেখক সাহেবের আরও একশগুণ পারার কথা৷ তার সাহিত্যজ্ঞান নিঃসন্দেহে আমার চেয়ে অনেক ভাল। কিন্তু বইয়ের পুরোটা জুড়েই এমন কাঠখোট্টা ভাষার ছড়াছড়ি। এ হিসেবে ডা: তৌফির হাসান উর রকিব সাহেবের প্রশংসা করি, তাঁর লেখায় তিনি উপমা এবং প্রতিশব্দ ব্যবহার করতে কখনো কার্পন্য করেন না, এতে তাঁর সাহিত্যের ভাষা জোরালো হয়, পড়ার সময় দৃশ্যপট চোখের সামনে ভেসে ওঠে, পাঠকের মনে সুখানুভূতি হয়।
Spy Games মুভির মধ্যম মানের এডাপ্টেশন। স্পাই টাইপের গল্পের অন্যতম আকর্ষণ ক্ষুরধার কোন সংলাপ পেলাম না। আসলে কিছু কিছু জায়গায় third person narrative এর বদলে first person narrative করলে মনে হয় বেশি ভালো লাগতো। যাই হোক-ট্রিলজির প্রথম লেখা হিসেবে খারাপ না , এই সিরিজের সামনের বই গুলোর ও প্রশংসা শুনেছি ,হোপ সেগুলো এটার চেয়ে ভালো হবে।
পড়ার শুরু করার আগেই গুডরিডস রিভিউ থেকে জানলাম 'Spy Games' মুভির এডাপটেশন। মুভি আমি কম দেখি। তই এক নাক বন্ধ রেখেই পড়তে শুরু করলাম।
কিন্তু আমি বিস্মিত! মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিজিএফআই)-কে, নির্দিষ্ট করে বললে একজন এজেন্ট শাফাত রায়হান (স্কারলেট)-কে ঘিরে কাহিনী আবর্তিত হয়। এর সাথে জড়িত সিআইএ, কসোভো, ভারত, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, মায়ানমার এবং বাংলাদেশ।
লেখকদ্বয় দারুণ কাজ দেখিয়েছেন এটা আমার এই ছোট মাথা দিয়েই বলতে পারলাম। প্রচুর খেটেছেন এটা ভালোভাবেই টের পেয়েছি। সাধারণত পশ্চিমা স্পাই থ্রিলারে আমার আবেগি ব্যাপার-স্যাপার কমই দেখি। কিন্তু আমরা বাঙালি! সেই হিসেবে আদ্রিতার জন্য স্কারলেটের 'আবেগ' স্বাভাবিক মনে হয়েছে।
ওভারঅল, মিলিটারি আার স্পাই থ্রিলার হিসেবে বইটা চমৎকার। অন্ন্তত আমার মনে হয় এটা এক্সপেকটেশন অনেকটাই পূরণ করতে পেরেছে। ট্রিলজির পরবর্তী বইগুলো নিয়ে শুনেছি। খুব শীঘ্রি পড়ে ফেলব।
হুট করে ভারতে ধরা বাংলাদেশী এক নাগরিক।শান্তি আলোচনার মাঝে এমন এক ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কে টানা পোড়নের সৃষ্টি করে।ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মীকে বাচাতে আর দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে অনেক ত্যাগ তিতিক্ষা করতে হচ্ছে সবাইকে।
এসপিওনাজ থ্রিলার এর জগৎ টা বেশ টানটান উত্তেজনার।কখন কি থেকে কি হবে তা বলা মুশকিল।
গল্প বলার ধরণ টা বেশ কাচা মনে হল।লেখনী টা সম্ভবত কাচা হাতের লিখা।তখন বোধয় নতুন নতুন লিখছিলেন। তখন পড়লে বোধয় ৮/১০ দিতাম কিন্তু এখন এতবছর পরে বই টার রেটিং অবশ্যই কমে যাবে।
আমাদের দেশে খুব ভাল এসপিওনাজ থ্রিলার তেমন নেই ও বোধয় , সো এক ধাক্কায় পড়ে ফেলতে পারেন।
রেটিং : ৬.৫/১০
তবে মোটামুটি ভাল একটা রোলার কোস্টার রাইড পার করলাম 🤍
প্রথমে ব্ল্যাকগেট বইটিকে তিন তারা দিবো ভেবেছিলাম।কাহিনী সাদামাটা হওয়ায় এর কারণ।তাছাড়া লেখনী কেমন যেন আড়ষ্ট। তবে কাহিনী যত এগিয়েছে ভাষার জড়তাও কেটে গেছে। সম্ভবত যৌথ ভাবে লেখা বলেই লেখনীর ভিন্নতা। মোট তিন ভাগে ভাগ করা গল্পটির শেষ ভাগ থেকে শুরু হয় টানটান উত্তেজনা যেকারণে চার তারা দিলাম। এন্ডিং টা ভালো হয়েছে।ট্রিলজির বাকি ২টি বই পড়ার আগ্রহ বেড়ে গেল। মাস্ট রিড বলব না,তবে স্পাই থ্রিলারের ভক্ত হলে পড়ে দেখতেই পারেন। সময়টা মন্দ কাটবে না।
This is the first book of the "Circle" series. Good introductory book for the series. It introduces us to the lead protagonist of the series, "Shafayet Jamil". Various events of his adventurous life in Bangladesh Army is delineated here. It's pretty much introductory book. So, the plot was a bit slow and can be speculated much earlier.
দুইজন লেখক মিলে একটা বই লিখতেছে, তাও একটা বই থেকে আগাগোড়া কপি করে লেখা লাগে? দুইজন মিলেও ক্রিয়েটিভ কিছু করতে পারল না! আসলটার নাম "স্পাইগেম"। বইটা পড়ি নাই, মুভি দেখছি। মুভিটা অনেক জোস। আসলটার রাইটার কোনদিন এই সস্তা "প্যারোডি" (প্যারোডিই মনে হইছে স্রেফ) পড়লে "দোয়া চাই, মাফ চাই" বলে লেখালেখিই ছেড়ে দিত হয়তো।
বইটা অনেক দিন পরে প্রিন্ট হয়ে আসে, আগেরটা বাতিঘর থেকে প্রকাশ হয়ে ছিলো নতুন করে প্রকাশ হবার পরে আশা করেছিলাম বানান ভুল থাকবে না, কিন্তু দেখা গেলো বাতিঘরের মতই বানান ভুল রয়ে গেছে। রেটিং ৪ কিন্তু ১ স্টার কম দিলাম বানানের জন্য।
বইয়ের নামঃ ব্ল্যাকগেট বইয়ের ধরণঃ স্পাই থ্রিলার / গুপ্তচরভিত্তিক রোমাঞ্চোপন্যাস। লেখকঃ তাকরীম ফুয়াদ ও জাবেদ রাসিন প্রচ্ছদঃ দিলান প্রকাশনীঃ বাতিঘর প্রকাশন প্রকাশকালঃ ২০১৫ পৃষ্ঠাঃ ২২১ মুল্যঃ ২০০ টাকা
সার-সংক্ষেপঃ ভারতের মাটিতে ধরা পড়ল এক অচেনা ব্যক্তি। সন্দেহের তীর এসে পড়ল বাংলাদেশের দিকে। তোলপাড় পড়ে গেল দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোতে। ডিজিএফআই-এর ডিরেক্টর জেনারেল শওকত হামিদ তার অধিনস্তদের নিয়ে জরুরী বৈঠকে বসলেন। প্রশ্নবাণে জর্জরিত হলেন ব্রিগেডিয়ার আমিন চৌধুরী। ধীরে ধীরে উন্মোচিত হতে লাগল অজানা সব তথ্য। এদিকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। কি ঘটতে যাচ্ছে দুই দেশের মানুষের ভাগ্যে?
পাঠ-প্রতিক্রিয়াঃ তথ্যবহুল বই। বাস্তবধর্মী প্লট। টানটান উত্তেজনা। মাসুদ রানা ব্যতিত প্রথম কোন বাংলা থ্রিলার যেখানে মিলেটারী ইন্টেলিজেন্স সম্পর্কে এতটা বিশদভাবে লেখা হয়েছে। তার উপর কাহিনীর প্লট বাস্তব সংস্থা ও ঘটনার উপর নির্ভরশীল হওয়ায় তা আরও জীবন্ত হয়ে উঠেছে। তবে বইয়ের কিছু কিছু বিষয় তুলে না ধরলেই নয়...
১। গল্পটি ২ জন মানুষের লেখা এটা পড়ার সময় খুব একটা বোঝাই যায় না। লেখকদ্বয় কাহিনী প্রবাহটা অত্যন্ত সুন্দরভাবেই ধরে রাখতে পেরেছেন। তবে যারা নিয়মিত বই পড়তে অভ্যস্ত, তারা হয়ত বইয়ের মাঝামাঝি গিয়ে একটি সূক্ষ্ম কলম পরিবর্তন বুঝতে পারবেন। ২। পুরোপুরি থ্রিলার পাঠে যারা অভ্যস্ত, তাঁদের কাছে বইটি কিছুটা একঘেয়ে লাগতে পারে। কারণ, বইটিতে কিছুটা ভালবাসার গল্পও তুলে ধরা হয়েছে। তবে আমার কাছে থ্রিলারের সাথে একটু ভালবাসার মিশ্রণটা ভালোই লেগেছে। ৩। বইয়ের যে দিকটি সব থেকে বেশী খারাপ লেগেছে, সেটি হলো নাটকীয়তা। বইটি পড়ার সময় থ্রিলার বইয়ের পরিবর্তে হলিউড সিনেমার কথা মনে হচ্ছিল। বইয়ের কাহিনী কিছুটা হলিউডি সিনেমা টাইপ মনে হয়েছে। ৪। আধুনিক থ্রিলার লেখনীর নিয়মানুসারে বইয়ের প্লট বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। তবে প্লট পরিবর্তন করে লেখার ক্ষেত্রে লেখকদ্বয়কে আরেকটু স্বচ্ছতা দেখানো উচিত ছিল। কেমন যেন তাড়াহুড়ো করে ঘটনাগুলো ঘটে গেছে বলে মনে হয়েছে।
তবে এতকিছুর পরেও গল্পটির কিছু কিছু দিক আসলেই ভালো লাগার মত...
১। গল্পের কাহিনী বিস্তৃত হয়েছে অনেক বড় পরিসরে। কয়েকটি দেশ মিলিয়ে। এতো বিশাল বিস্তৃতির পরেও লেখকদ্বয় সেকুয়েন্স মেইনটেইনিং এ উল্লেখযোগ্য কোন ভুল করে বসেন নি। অথচ নতুন লেখক হিসেবে ভুল করাটা নিতান্ত স্বাভাবিকই ছিল। ২। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র শাফাতকে দেখে অনেকেই নিজের সাথে মিলিয়ে নিতে পারেন। ৩। আদ্রিতা চরিত্রটি আসলেই প্রেমে পড়ার মত একটা চরিত্র। ৪। গল্পের সবথেকে শক্তিশালী চরিত্রটি ছিল ব্রিগেডিয়ার আমিন চৌধুরী। গোটা গল্প জুড়ে তাঁর দৃঢ় অবস্থান আসলেই চোখে পড়ার মত! ৫। বইটির সবচেয়ে মজার দিক হল, বইটি আসলে কোন টাইপের উপন্যাস কে রিপ্রেজেন্ট করে, এইটা বুঝতে পাঠককে রীতিমতো হিমশিম খেতে হবে। খালি চোখে দেখলে, এইটা থ্রিলার...... অর্ধেক খালি চোখে এবং অর্ধেক চশমা দিয়ে দেখলে, এইটা একটা অতি প্রেমময় উপন্যাস......... আবার একটু বেশি পাওয়ারের চশমা লাগিয়ে দেখলে, এর পুরোটাই পলিটিকাল!!!
সব কিছু মিলিয়ে থ্রিলার পাঠকদের জন্য ব্ল্যাকগেট একটি অসাধারণ বই। কারণ- "এখানে ফুটে উঠেছে এক মিলিটারি অ্যাসেট-এর গল্প; তার কর্তব্য, আবেগ এবং তার দেশ, ভালবাসা!" তাই যারা যারা এখনও পড়েন নি দ্রুত পড়ে ফেলুন। নাহলে সত্যিই চমৎকার একটি বই মিস করবেন! উল্লেখ্য যে, এই বইটির সিক্যুয়াল বের হয়েছে ২০১৬ সালের বইমেলায়। নাম "সার্কেল"। বইটি ইতমধ্যেই পাঠকের কাছে সমাদৃত হয়েছে।
গল্পটা গতান��গতিক স্পাই কাহিনী, আহামরি কিছুও না, সাথে অনেক প্লটহোলসও আছে। তবে দুঃখের বিষয়, গল্পটা মৌলিকও না, কোন এক হলিউড মুভির ছায়া অবলম্বনে নাকি। তবে সেটাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসাটা হয়েছে ভালোভাবে। ঘটনাগুলো বেশ গোছানো ছিল। গল্পে থ্রিলও খারাপ ছিল না। আর প্লটের সব এলিমেন্ট নিয়ে লেখকদ্বয় বেশ ঘেটেছেন বোঝা যাচ্ছে। ন্যারেটিভের ক্ষেত্রে লেখকদ্বয় বোধহয় ফ্রেডরিক ফরসাইথ থেকে অনুপ্রাণিত ছিল, সেটা কিছু কিছু জায়গায় ভালোই করেছে। যেমন শুরুর দিকে একগাদা ঘটনা মোটামুটি ভালো এগিয়ে গিয়েছে এটার জন্য। তথ্যগুলোর উপস্থাপনাও ভালো হয়েছে।
তবে এই বইয়ের গদ্য, এক কথায় বিলো এভারেজ। লেখনীর দূর্বলতার জন্য পুরো গল্পটাই কেমন যেন নিস্তেজ হয়ে গেছে। চরিত্রগুলোকে মনে হচ্ছিল রোবট। অ্যাকশন সিকুয়েন্সও হয়ে গেছে ম্যাড়ম্যাড়া। যাইহোক, থ্রিলার গল্পে লেখনীকে যারা গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না, তাদের আসলে এই 'ব্ল্যাকগেট' টাইপের বই পড়ে বোঝা উচিত, থ্রিলার বইয়ে গদ্যের গুরুত্ব। এই বইয়ের সিক্যুয়েল দুটোও আমার রিড লিস্টে আছে, আশা করি ওগুলোতে লেখকদ্বয় ইমপ্রুভ করেছেন। আর এই গল্পের মূল সিনেমাটাও দেখে নিতে হবে।
📚 বইয়ের নাম : ব্ল্যাকগেট
📚 লেখক : জাবেদ রাসিন, তাকরীম ফুয়াদ
📚 বইয়ের ধরণ : স্পাই থ্রিলার, মিলিটারি থ্রিলার, অ্যাকশন থ্রিলার
'বাতিঘর' একটা নিজস্ব ধারনা থেকে প্রকাশনীর উদ্ভব। বাংলা ভাষায় থ্রিলার খুব একটা বেশি দেখা যায়না৷ যেটা দেখা যাক সেটা দেখা যায় অনুবাদ৷ বাংলা ভাষাভাষী লেখকদের এই মৌলিক থ্রিলার লেখার হাত একেবারে কাঁচা। ব্ল্যাকগেট বাংলা ভাষার একটা থ্রিলার। একজন এসএসএফ সদস্যের এসেট হয়ে উঠা এবং প্রতিবেশীদেশের এক ক্যাম্পে ধরা পড়া নিয়ে এগিয়ে যায় কাহিনী। কাহিনী প্রতিটা পড়তে পড়তে দেখা যায় নানা রকম রোমাঞ্চকর কাহিনী। টুইস্টে ভরপুর। অনেক আগ্রহ নিয়ে নাওয়া খাওয়া ভুলে বইটা নিয়ে মেতে ছিলাম। ২২০ পৃষ্টা যেন চোখের পলকে পড়ে ফেললাম। এত অসাধারণ কাহিনী ছিল যে অন্য দিকে মন দিতে পারিনী। পুরো বইটা পড়ার মত মনে হলো বাংলা ভাষায় এমন থ্রিলার রচনা করতে পারে কে এই লেখক। তার চিন্তা ভাবনা কোন লেভেলে বিলং করে এই চিন্তা থেকে লেখকের পরিচয় জানার জন্য বইয়ের প্রথম দিকে চলে আসলাম। সব রোমাঞ্চ মাটি করে দিল তখন বইয়ের উৎসর্গ পত্রে নিচে দুই লাইনের একটা নোট দেখলাম "বিদেশী গল্পের ছায়া অবলম্বনে"।