Jump to ratings and reviews
Rate this book

অবরোধবাসিনী

Rate this book
Abarodh basini or Oborodh Basini, a spirited attack on the extreme forms of purdah that endangered women's lives and thoughts.

Unknown Binding

First published January 1, 1931

22 people are currently reading
316 people want to read

About the author

Rokeya Sakhawat Hossain

46 books112 followers
Begum Roquia Sakhawat Hussain, popularly known as Begum Rokeya, was born in 1880 in the village of Pairabondh, Mithapukur, Rangpur, in what was then the British Indian Empire and is now Bangladesh.

Begum Rokeya was an inspiring figure who contributed much to the struggle to liberate women from the bondage of social malaises. Her life can be seen in the context of other social reformers within what was then India. To raise popular consciousness, especially among women, she wrote a number of articles, stories and novels, mostly in Bengali.

Rokeya used humor, irony, and satire to focus attention on the injustices faced by Bengali-speaking Muslim women. She criticized oppressive social customs forced upon women that were based upon a corrupted version of Islam, asserting that women fulfilling their potential as human beings could best display the glory of Lord. She wrote courageously against restrictions on women in order to promote their emancipation, which, she believed, would come about by breaking the gender division of labor. She rejected discrimination for women in the public arena and believed that discrimination would cease only when women were able to undertake whatever profession they chose. In 1926, Begum strongly condemned men for withholding education from women in name of religion as she addressed the bengal women's education conference:

"The opponents of the female education say that women will be unruly...fie !they call themselves muslims and yet go against the basic tenet of islam which gives equal right to education. If men are not led astray once educated, why should women?"

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
230 (52%)
4 stars
128 (28%)
3 stars
59 (13%)
2 stars
14 (3%)
1 star
11 (2%)
Displaying 1 - 30 of 82 reviews
Profile Image for Aishu Rehman.
1,102 reviews1,080 followers
September 6, 2019
সন্দেহ নেই, এটি ঐতিহাসিক দস্তাবেজ হিসেবে অতি উচ্চ মানের। এই বইটিকে কেন্দ্র করে এবং বেগম রোকেয়াকে ঘিরে অনেক ভুল ধারণার প্রচার আছে। বেগম রোকেয়া নারী-জাগরণ চাইতেন। কোন প্রেক্ষাপটে কী ধরনের জাগরণ চাইতেন, সেটা না জানলে এই প্রচার বহাল থাকবে। তৎকালে এ অঞ্চলে পর্দার নামে নারীদের ওপর যে ধরনের অত্যাচার হতো, তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া যে কোনো সচেতন মানুষেরই কর্তব্য ছিল। বেগম রোকেয়া সচেতন মানুষ হিসেবে নিজের কর্তব্যকর্ম পালন করেছেন মাত্র।

বইটিতে তিনি সে যুগে পর্দার নামে যেসব হাস্যকর ধরনের বাড়াবাড়ি করা হতো, সেসব ধারাবাহিকভাবে লিখেছেন। অপিনিয়ন বা মতামত ব্যক্ত করেছেন সামান্যই।যেসব ঘটনার বিবরণ তিনি দিয়েছেন, সেসবের কিছু তিনি নিজে দেখেছেন, কিছু বিভিন্নজনের কাছে শুনেছেন, আর কিছু পত্র-পত্রিকায় পড়েছেন। সেসব মারাত্মক ধরনের প্রথার ধর্মীয় ভিত্তি যেমন নেই, যৌক্তিক ভিত্তিও নেই।

সে যুগে পর্দা পালনে অত্যধিক বাড়াবাড়ি কেবল মুসলিম নারীদের মধ্যে ছিল, তা কিন্তু নয়। অমুসলিম নারীদের মধ্যেও কিছুমাত্র কম ছিল না। তেমনই একটি ঘটনা: ‘পশ্চিম দেশের এক হিন্দু বধূ তাহার শাশুড়ী ও স্বামীর সহিত গঙ্গাস্নানে গিয়াছিল। স্নান শেষ করিয়া ফিরিবার সময় তাহার শাশুড়ী ও স্বামীকে ভীড়ের মধ্যে দেখিতে পাইল না। অবশেষে সে এক ভদ্রলোকের পিছু চলিল। কতক্ষণ পরে পুলিশের হল্লা। সেই ভদ্রলোককে ধরিয়া কনস্টেবল বলে, “তুমি অমুকের বউ ভাগাইয়া লইয়া যাইতেছ।” তিনি আচম্বিতে পিছনে ফিরিয়া দেখেন, আরে! এ কাহার বউ পিছন হইতে তাঁহার কাছার খুঁটি ধরিয়া আসিতেছে! প্রশ্ন করায় বধূ বলিল, সে সর্বক্ষণ মাথায় ঘোমটা দিয়া থাকে— নিজের স্বামীকে সে কখনও ভাল করিয়া দেখে নাই। স্বামীর পরিধানে হলদে পাড়ের ধূতি ছিল, তাহাই সে দেখিয়াছে। এই ভদ্রলোকের ধূতির পাড় হলদে দেখিয়া সে তাঁহার সঙ্গ লইয়াছে!’ [অবরোধ-বাসিনী ১১]

কী সাঙ্ঘাতিক হাস্যকর পর্দা পালন! এই ঘটনা প্রমাণ করে এসব সমস্যা শুধু সে যুগের মুসলিম সমাজে ছিল না। এই সমস্যা সেই যুগের সামগ্রিক সমস্যা। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে নারীদের মধ্যে বাড়াবাড়ি ধরনের পর্দাপ্রথা বিদ্যমান ছিল। এমন পর্দা, যা চর্মচক্ষে আপন স্বামীকে দেখতে সঙ্কোচ তৈরি করে।
Profile Image for Nabila Tabassum Chowdhury.
375 reviews275 followers
January 29, 2015
বেগম রোকেয়া! যা বলতে চাচ্ছি তা তাঁর নামেই অনেকখানি বলা হয়ে যায়। ফোর-ফাইভে থাকতে আমি যখন প্রথম জেনেছিলাম ওনার অবদানের কারণেই ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম মেয়েদেরকে স্কুলে যেতে হচ্ছে, বড্ড খেপেছিলাম ওনার উপর।

ছোট্ট একটা বই। সারকাজম টোনে লেখা বইটি। বিদঘুটে অবরোধ প্রথাকে ব্যঙ্গ করে, প্রথা মেনে নেয়া নারীদের কে ব্যঙ্গ করে, প্রথা চাপিয়ে দেয়া পুরুষতান্ত্রিক সমাজকে ব্যঙ্গ করে লেখা বই। ছোট ছোটো দুই-এক প্যারা করে ৪৭ টি ছোট ছোট কাহিনী আছে অবরোধ প্রথার স্বীকার নারীদের। বইটা শুরু করতেই বেগম রোকেয়ার প্রতি সম্মান সতেজ হয়ে ওঠে যখন তিনি বইটির নিবেদন অংশ "আমার তো প্রত্যেকটা লোম গুনাহগার; সুতরাং পুস্তকের দোষ-ত্রুটির জন্য এবার পাঠক-পাঠিকাদের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিলাম না" বলার মাধ্যমে নিজের দৃষ্টিভঙ্গির স্পষ্টতা এবং প্রখরতা পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন।

অবরোধের যাঁতাকলে এবং ট্রেনের নিচে পৃষ্ট হয়ে যাওয়া বেগম রোকেয়ার মামীর ঘটনা আছে। আছে ছোট্ট তাহেরার পিতার অযৌক্তিক লাঞ্ছনায় ভয়ে দুঃখে চলে যাওয়া। আছে গঙ্গা স্নানের বদলে অবরোধ বাসিনীর পালকি স্নানের ঘটনা। কিন্তু আমাকে সবচেয়ে যে গল্পটি নাড়া দিয়েছে সেটা হল তিন মা মেয়ের গাড়িতে পেঁচানো পর্দার ফুটো দিয়ে বাহিরটা কাড়াকাড়ি করে দেখার ঘটনা। বাকি ঘটনা গুলোতে আমি মোটামুটি ধরেই নিয়েছিলাম যে এই মেয়েদের আর এতে কিছু যায় আসে না, তারা আসলে অবরোধের মাঝেই তাদের জীবনকে, আকাঙ্ক্ষাকে বশ করে নিয়েছে। ওখানেই তাদের স্বস্তি। মানব মস্তিষ্ক ও কর্মক্ষমতার অপচয়, কিন্তু অবরোধবাসিনীর স্বস্তি। কিন্তু তা তো না, এরা তো ডানা বশ মানেনি। এরা উড়তে চায়। পর্দায় ছোট ফুটো দিয়ে হলেও।

আরেকটা জিনিস আবিষ্কার করলাম, বাড়াবাড়ি রকম পর্দার ঘটনা গুলো উচ্চবিত্তদের মাঝেই বেশী। এমনকি সাধারণ নারীদের থেকে উচ্চবিত্তরা তাদের ঘরের মেয়েদের পর্দার আড়ালে রাখা সম্মান বলেই মনে করতেন। হঠাৎ একটা শঙ্কা জাগলো, এটা কি আবার উচ্চবিত্তদের হাত ধরেই ফিরে আসছে। আমি এতদিন এটাকে রঙ্গিন স্কার্ফের টেম্পোরারি ট্রেন্ড মনে করতাম। কিন্তু হঠাৎ খেয়াল করলাম, উচ্চবিত্তদের মাঝেই এই রঙ্গিন স্কার্ফের ট্রেন্ট পাকাপোক্ত জায়গা করে নিচ্ছে। রঙ্গিন স্কার্ফের হাত ধরে এসেছে চওড়া পায়ের পাজামা। সেই পাজামার প্রশস্ততায় বেগম রোকেয়ার উল্লেখ করা ঘটনার মেয়েরা চলতে চলতে হোঁচট খাচ্ছিল।

এতক্ষণ প্রশংসাই করলাম, এখন ধুয়ে ফেলার পালা। না বেগম রোকেয়াকে নয়। বরং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রকে। বইটির মুল কন্টেন্ট শুরু হবার আগে লেখিকার নিবেদন রয়েছে। তাছাড়াও আব্দুল করিম একটি ভূমিকা লিখেছেন। এরপর বইয়ের শুরুতে জাকির তালুকদারের ৫ পৃষ্ঠা দীর্ঘ "বেগম রোকেয়া ও 'অবরোধ-বাসিনী' " শীর্ষক ভূমিকা জাতীয় আরেকটি লেখা ঢুকিয়ে দেবার কোনো মানেই হয় না। এবং তখন তো নাই-ই যখন লেখাটার টোন লেখিকার মুল গ্রন্থের শার্প টোনের সাথে কনফ্লিক্টিং। বেগম রোকেয়ার বলা কিছু ঘটনা তিনি হুবহু তুলে দিয়েছেন। এরপরে বলার চেষ্টা করেছেন বেগম রোকেয়া আসলে পর্দা প্রথার বিরুদ্ধে অবস্থান ছিলনা, তার অবস্থান ছিল "ভারসাম্যপূর্ণ এবং পরিশীলিত"। জাকির তালুকদার, ভাই থামেন এবং বাড়ি যান। আপনি সুশীল তাই বেগম রোকেয়াকে সুশীল মনে করার কোনো কারণ নাই। তাঁর চিন্তার উন্মুক্ততা আপনার বোধের বাইরে। আপনি ব্যালেন্সিং চান বলে উনিও ব্যালেন্সিং চান সেটা মনে করারও কোনো কারণ নাই, উনি খুব স্পষ্ট করেই বলেছেন উনি ওনার লেখা কিছুর জন্য ক্ষমাপ্রার্থী নন।

যাই হোক, বইটির খুব বেশী অবাঞ্ছিত একটা অংশের জন্য বইটিকে কম রেট করা যায় না। হয়তো বা শুধু বিশ্বসাহিত্যকেন্দ্রের এই সংস্করণটির জন্য দুটো তারা কেটে রাখা যেত। কিন্তু গুডরিডসে অবরোধবাসিনীর রেটিং এটাই প্রথম, তাই কেটে রাখছি না। তবে দেয়া পাঁচ তারার কানাকড়িও ওই পাঁচটি পৃষ্ঠা পাবে না।

শেষ করি নিবেদন অংশে লেখিকার দেয়া হজরত রাবিয়া বসরীর একটা উদ্ধৃতি দিয়ে। (আমি ওনাকে চিনি না, তবে এক উদ্ধৃতিতে ফ্যান হয়ে গেছি।)

"ইয়া আল্লাহ! যদি আমি দোজখের ভয়ে এবাদত করি, তবে আমাকে দোজখে নিক্ষেপ কর; আর যদি বেহেশতের আশায় এবাদত করি তবে আমার জন্য বেহেশত হারাম হউক।"

Profile Image for ~Rajeswari~ Roy.
153 reviews42 followers
March 8, 2021
হায় অবরোধ,হায় মেকি সম্মানবোধ।এই অবরোধ শুধু নারীর কেন?পুরুষের কি পর্দা প্রয়োজন নেই?
নারী নিয়ে এই ছোয়াছুয়ি বাতিক বড়ই কষ্টদায়ক।তবুও সুখের সংবাদ,যুগে যুগে বেগম রোকেয়ার মতো মানুষের জন্য আজ নারীরা কিছুটা হলেও স্বাধীন।নারী যে বস্তু নয়,নিজেই একজন পরিপূর্ণ সৃষ্টি তা বোঝার সময় এসে গেছে...
Happy Women’s Day to all the women out there💜
Profile Image for Ësrât .
515 reviews85 followers
March 31, 2021
"পতির পূনে‍্য সতীর পূন‍্য
পর্দা় ঘেরা বঙ্গনারীর জীবনের ষোল আনাই স্ব��দশূন‍্য বেরঙ্গে পূর্ন"

বঙ্গদেশে ললনা থেকে লাস‍্যময়ী,জায়া থেকে জননী,ভীত সন্ত্রস্ত হরিনী থেকে বাঘিনী হয়ে উঠার গল্প আজ জনে ক্ষনে ক্ষনে সমরে শান্তিতে সব সময়ই শতকন্ঠে শুনে আসা এই প্রজন্মের কাছে অবরোধবাসিনী দের এই আড়ালে আবডালে অগুনতি আশ্চর্য হওয়ার মতো ঘটনা গুলো শুনে মনেই হতে পারে

এরা কি অবরোধে অবোধ শিশু হয়ে ছিলো, না কি এদের অবলা প্রবোধে বসুধার মতো সহিঞ্চু হওয়ার মন্ত্র পুথিপাঠের মতো শৈশব থেকে পাচন আকারে কিংবা পাঁচফোড়নের মাপ শিখাতে শিখাতে গেলানো হত!

নারী মানেই কাপড়ে জড়ানো জড়বস্তু, তাদের সম্মতি মানেই যেখানে "হুঁ,হুম"এ সীমাবদ্ধ,পূন‍্য স্নান হোক বা চির প্রস্থান নীরবতাই যেযুগে প্রধান অস্ত্র,সে আগুনে পুড়ে মরলো কি ডাকুতে ঘরে ঢুকে সব লুটলো কিংবা বিনা দোষে জাগতিক বন্ধন ছিন্ন করে পরপারে পাড়ি জমানো ও যেখানে বাক‍্যব‍্যয় বস্তু রক্ষার সাথে সাথে বাস্তুভিটা সুরক্ষা এক ঢিলে দুই পাখির মত সহজেই বিদ্ধ হয়,সেখানে বিজ্ঞ রমনীকূল বধিররূপে বোবা থেকে বস্ত্রবস্তায় সর্ব অবস্থায় নিজের বিস্তার প্রচার প্রসার পরিচয় মনে করতেন

ত্রেতা সত‍্যযুগের না হয়েও যারা অসূর্যস্পশ‍্যা,নিজের ত্রাতা না হয়ে বরং তোতাপাখির মতো শেখানো বুলি কপচানো সমাজে শত লোকের বিরাগভাজন হয়েও বেগম রোকেয়া যে সাহসী পদক্ষেপে আজকের এই #coolnarisomaj" যে আয়োজনে আড়ম্বরে নারী "দি বস"বছরান্তে একবার পালনে তুষ্ট হয়ে আবার পাতাকপি মোড়ানো ফুলকপিতে সাজানো আটপৌরে নানা অনিয়মের নিয়মে বন্দী জীবনে ফিরে যায় তাদের জন্য আবার আমার লিখতে ইচ্ছে হয়

"এযুগের আধুনিক অবরোধবাসিনী"

যারা কামিনী হয়ে ফুটে থাকতেই বেশি স্বচ্ছন্দ‍্য,অথচ বিশ্ব যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল‍্যানকর নরনারী মিলিয়া করিলে ভরিবে এ ভুবন একথা বেমালুম ভুলে বসে আছে!

রেটিং:🌠🌠🌠🌠.৫০
Profile Image for Tusar Abdullah  Rezbi.
Author 11 books55 followers
July 31, 2023
বেশি কিছু বলব না। সে কালে মেয়েদের পর্দা নিয়ে একটু অধিকমাত্রায় বাড়াবাড়ি করা হয়েছিল৷ বর্তমানে এসব তেমন কিছুই দেখি না। সেইকালে পর্দার বিষয়ে কঠোরতার বিষয়গুলো লেখিকা ভালোভাবেই তুলে ধরেছেন বইটাতে। বেগম রোকেয়া সাখাওয়াতের চিন্তা শক্তিও প্রখড় ছিল সেই সময়ের তুলনায় অনেক এগিয়ে। লেখার ধাঁচও মারাত্মক। এই বইটার লেখাগুলোও একটু বেশিই ডার্ক মনে হয়েছে। যদিও মজা পেয়েছি। ডার্ক হিউমার বলে কথা। চোরদের ঘটনা গুলো একটু বেশিই হাসি পেয়েছিল। বিশেষ করে কানের দুলের জন্য কান কাঁটার বিষয়টা জোস। কোনো পর্দাশীল নারীর ঘরে চোর ঢুকতে পারলে চোরদের তখন শান্তি, সোনায় সোহাগা একদম। যদিও যুগ পাল্টেছে। 🌸
Profile Image for Opu Hossain.
158 reviews27 followers
Read
May 5, 2023
ইংরেজিতে misquote নামে একটি শব্দ আছে মানে কারো কথাকে ভুল ভাবে উপস্থাপন করা বুঝায়। সম্ভবত পর্দা প্রথার বিরুদ্ধে বাঙালী যে লেখিকাকে সবচেয়ে সোচ্চার ভাবে অপব্যবহার করা হয় তিনি বেগম রোকেয়া। অবাক হচ্ছেন? বিশ্বাস আমার নিজেরও ছিল অবাকও লাগতো তৎকালীন সময়ে যিনি সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে এতটা সজাগ, পর্দা তথা শালীন পোশাক বিরুদ্ধে তিনি কেন আঙ্গুল তুললেন। আমার এই তথাকথিত বঙ্গীয় ধারনাকে চূর্ণ করে বেগম রোকেয়া নিজেই তার লেখনী 'মতিচূর' গ্রন্থের "বোরকা " তে পর্দা তথা পোশাকের শালীনতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন, সেই সঙ্গে নানা সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণেও বিশেষ ভুমিকা রেখেছেন । সে কথার প্রমান একটু পরেই দিচ্ছি, তার আগে দু'কথা বলে নেইঃ

সাধারন দৃষ্টিতে বেগম রোকেয়ার “অবরোধবাসিনী” পড়ে মনে হতে পারে তিনি যেন ধর্মীয় রীতি পর্দাপ্রথার বিরুদ্ধ্বে সোচ্চার। কিন্তু একটু গভীর দৃষ্টি মেললে আমরা দেখতে পাই তিনি মূলত ধর্মীয় রীতি নয় বরং ধর্মীয় অবয় নেয়া বিভিন্ন সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সুদৃঢ়।

পরিতাপের বিষয় একবিংশ শতাব্দীতে এসেও স্বল্প নয় বরং আমাদের উচ্চ শিক্ষিতদের অধিকাংশই সামাজিক কুসংস্কার থেকে নির্দিষ্ট ইসলামিক বিধান বা ইসলামের নামে ঠাই নেওয়া কুসংস্কারকে আলাদা করার যোগ্যতা রাখিনা বিধায় নির্দিষ্ট বিধানের সাথে যখন কুসংস্কার লেপে যায় আর জনপ্রিয় লেখনীতে যখন আমরা তা খুঁজে পাই তখন সে নির্দিষ্ট ধর্মীয় বিধানও অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারাতে থাকে। যেমন ইসলামিক বিধান অনুসারে পর্দা করা মানে কি ও তার বৈশিষ্ট গুলো কি এই সাধারন প্রশ্নের জবাবও অসংখ্য শিক্ষিতের দিতে না পারারই কথা সেখানে অধিকতর বিশ্লেষণমূলক বিধানের কাটছাঁট বা কুসংস্কারযুক্ত রূপ থেকে সঠিক রূপটি আলাদা করতে পারা আরও দুরূহই বটে। ফলস্বরুপ আমাদের অবচেতন মন অনেক ক্ষেত্রেই কাটছাঁট মার্কা কুসংস্কার মিশ্রিত বিধানকে কাব্যিক বা সাহিত্যিক ভাষায় খুঁজে পেলে সঠিক বিধান ভেবে নিয়ে নিরুৎসাহিত হয়ে যায়। এভাবে শিক্ষিত একটি শ্রেনীও ধর্মীয় অজ্ঞতায় ডুবে যায়, ব্যাপারটা অনেকটা ধর্মান্ধদের মতই। পার্থক্য এই যে এক দল গোঁড়ামি বা অশিক্ষার জন্য ধর্মান্ধ আরেক দল শিক্ষিত হয়েও ধর্মান্ধদের কর্মকেই মনে করে ধর্ম।

বেগম রোকেয়াকে মনে হয়েছে এই দুদলের মাঝামাঝি তার প্রমান আমরা পাই বাংলা একাডেমীর প্রকাশিত “দি মুসলমান পত্রিকায় রোকেয়া প্রসঙ্গ” বইয়ের বিভিন্ন স্থানেই যেমন তিনি বলেছেনঃ Allah has made no distinction in the general life of male and females-both are equally bound to seek food, drink, sleep etc. necessary for animal life. সুতরাং এমন নয় যে উনি ভেবেছেন ধর্মীয় বিধান পুরুষকে স্বেচ্ছাচারিতা দিয়ে নারীকে পর্দার নামে ঘরবন্দী করেছে বরং উপমহাদেশীয় কুসংস্কারের হাত থেকেই রক্ষা পাওয়ার প্রয়াস মাত্রই বুঝা যায় লেখনীতে।

এটি আরও স্পষ্ট হয় যখন আমরা তার কথায় আরও খুঁজে পাই Our great prophet has said.. (i.e. it is the bounden duty of all Muslim males and females to acquire knowledge). But our brothers will not give us our proper share in education. তিনি পরিষ্কার করেছেন ইসলামিক বিধান অনুসারে নারী পুরুষ সমান এবং জ্ঞানার্জন বাধ্যতামূলক হওয়া সত্ত্বেও এক শ্রেনীর মানুষ সে অধিকার থেকে নারীদের বঞ্চিত করছে। এ থেকে এটা প্রতীয়মান হয় যে, সে যুগে ধর্মীয় অজ্ঞতার কারনে সমাজে নানা দিক থেকে বিশেষ করে নারীরা বঞ্চিত হয়েছে আর এটাও ভুলে গেলে চলবেনা যে এটি ছিল উপনিবেশ যুগ যেখানে উপমহাদেশ জুড়ে নানা অজুহাতে ব্রিটিশরা মানুষকে বিভিন্ন অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রেখেছিল। বেগম রোকেয়া চেয়েছিলেন বঞ্চিত নারীদের শিক্ষিত করে তুলতে, সেটা ধর্মীয় এবং সামাজিক উভয় ক্ষেত্রেই।

এবার আমরা বেগম রোকেয়া পর্দা প্রথার বিরুদ্ধে না পক্ষে সুদৃঢ় ছিলেন তার অবস্থান তার নিজের লেখার কিছু quote দিয়েই প্রমান করিঃ

"পৃথিবীর অসভ্য জাতীরা অর্দ্ধ-উলঙ্গ অবস্থায় থাকে। ইতিহাসে জানা যায়, পূর্বের অসভ্য ব্রিটনেরা অর্দ্ধনগ্ন থাকিত। ঐ অর্দ্ধনগ্ন অবস্থার পূর্বের গায় রঙ মাখিত! ক্রমে সভ্য হইয়া তাহারা পোষাক ব্যবহার করিতে শিখিয়াছে। "

"উচ্চশিক্ষা প্রাপ্ত ভগ্নীদের সহিত দেখা সাক্ষাৎ হইলে তাঁহারা প্রায়ই আমাকে "বোরকা" ছাড়িতে বলেন। বলি, উন্নতি জিনিষটা কি? তাহা কি কেবল বোরকার বাহিরেই থাকে?"

"কেহ কেহ বলেন যে ঐ উচ্চশিক্ষা লাভ করিতে হইলে এফ, এ, বি,এ পরীক্ষার জন্য পর্দা ছাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে university hall-এ) উপস্থিত হইতে হইবে। এ যুক্তি মন্দ নহে! কেন? আমাদের জন্য স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় (university) হওয়া এবং পরীক্ষক স্ত্রীলোক হওয়া কি অসম্ভব?"

"কেহ কেহ বোরকা ভারী বলিয়া আপত্তি করেন। কিন্তু তুলনায় দেখা গিয়াছে ইংরেজ মহিলাদের প্রকান্ড হ্যাট অপেক্ষা আমাদের বোরকা অধিক ভারী নহে।"

"যাঁহারা ঘরের ভিতর চাকরদের সম্মুখে অর্দ্ধনগ্ন অবস্থায় থাকেন, তাঁহাদের অপেক্ষা যাঁহারা ভালমতে পোষাক পরিয়া মাঠে বাজারে বাহির হন, তাহাদের পর্দা বেশী রক্ষা পায়।"

"এদেশের যে ভগ্নীরা বিলাতী সভ্যতার অনুকরণ করিতে যাইয়া পর্দা ছাড়িয়াছেন, তাঁহাদের না আছে ইউরোপীয়দের ম��� শয়নকক্ষের স্বাতন্ত্র্য (bedroom privacy) না আছে আমাদের মত বোরকা!"

"এমন পবিত্র অবরোধ- প্রথাকে যিনি "জঘন্য" বলেন, তাঁহার কথার ভাব আমরা বুঝিতে অক্ষম। সভ্যতা (civilization)ই জগতে পর্দা বৃদ্ধি করিতেছে! যেমন পূর্বের লোকে চিঠিপত্র কেবল ভাঁজ করিয়া পাঠাইত, এখন সভ্য (civilized) লোকে চিঠির উপর লেফাফার আবরণ দেন। চাষারা ভাতের থালা ঢাকে না; অপেক্ষাকৃত সভ্য লোকে খাদ্যসামগ্রীর তিন চারি পাত্র একখানা বড় থালায় (tray-তে) রাখিয়া উপরে একটা "খানপোষ" বা "সরপোষ" ঢাকা দেন; যাঁহারা আরও বেশী সভ্য তাঁহাদের খাদ্য বস্তুর প্রত্যেক পাত্রের স্বতন্ত্র আবরণ থাকে। এইরুপ আরও অনেক উদাহরণ দেওয়া যাইতে পারে, যেমন টেবিলের আবরণ, বিছানার চাদর, বালিশের ওয়াড় ইত্যাদি।"

"এদেশে আমাদের অবরোধ- প্রথাটা বেশী কঠোর হইয়া পড়িয়াছে। যেমন অবিবাহিতা বালিকাগণ স্ত্রীলোকের সহিতও পর্দা করিতে বাধ্য থাকেন! কখন কোন প্রতিবেশিনী আসিয়া উপস্থিত হইবে এই ভয়ে নবম বর্ষীয়া বালিকা প্রাঙ্গণে বাহির হয় না। "

"আমাদের ধর্মতো ভঙ্গপ্রবণ নহে, তবে অন্য ধর্মাবলম্বিনী স্ত্রীলোকের সঙ্গে দেখা হইলে ধর্ম নষ্ট হইবে, এরুপ আশঙ্কার কারণ কি?"

"যাহা হউক, পর্দা কিন্তু শিক্ষার পথে কাঁটা হইয়া দাঁড়ায় নাই। এখন আমাদের শিক্ষয়িত্রীর অভাব আছে। এই অভাবটি পূরণ হইলে এবং স্বতন্ত্র স্কুল কলেজ হইলে যথাবিধি পর্দা রক্ষা করিয়াও উচ্চশিক্ষা লাভ হইতে পারে। প্রয়োজনীয় পর্দা কম করিয়া কোন মুসলমানই বোধ হয় শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রসর হইবেন না।
আশা করি, এখন আমাদের উচ্চশিক্ষা-প্রাপ্তা ভগ্নীগণ বুঝিতে পারিয়াছেন যে বোরকা জিনিসটা মোটের উপর মন্দ নহে। "

আশা করি পাঠক এখন বুঝতে বেগ পাওয়ার কথা নয় বেগম রোকেয়াকে আসলে পর্দা প্রথার বিরুদ্ধে যে ভাবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয় তা কতটা ভিত্তিহীন, যে ভিত্তি সে নিজেই চূর্ণ করে দিয়েছেন। শুধু তাই নয় তিনি পর্দা প্রথার নামে বাড়াবাড়ি বা সামাজিক রীতির নামে যে সব কুসংস্কার সমাজে সয়লাব ছিল তা দূরীকরণেও শক্ত হাতে কলম ধরেছিলেন।
Profile Image for Nu Jahat Jabin.
149 reviews241 followers
January 12, 2016
বইটা পড়ে কিছু জায়গায় সত্যি হাসি আসছে (যদিও দুঃখবোধ হওয়া উচিত ) বেগম রোকেয়া সাখাওয়াতের হিউমারের প্রশংসা করতে হয় । সে যাক গে জাস্ট একটা প্রশ্ন অবরোধবাসিনীরা কি আসলেই মুক্ত হতে পেরেছে ? মনে হয় না।
নারী স্বাধীনতা নিয়ে বেগম রোকেয়াও গাইল খাইছে (যদিও এখন মাথায় তুলে নাচে) কিন্ত মনে হয় না সমাজে নারীর তাতে উনিশ বিশ কিছু একটা হইছে । এখন ও একটা মেয়ে যে জাজ করার জন্য সবাই হাঁ করেই বসে থাকে ।
পড়াশুনা ক্যান করে ? মেয়ে মানুষ এত পড়ে কি হবে? মেয়ে হয়ে এইটা ক্যান করবে ? মেয়ে হইছে মুখে অমুক তমুক মাখ বিয়া করতে সুবিধা হবে -_- মেয়ে হইছে হিজাব কই , হিজাব পড়লে হিজাবে এত ভাঁজ কেন ?
প্রিয় বেগম রোকেয়া মনে হয় না আপনার সুযোগ্য ভগ্নীগন গভীরভাবে চিন্তা করলেও কিছু একটা হবে :) সমাজের অর্ধ অঙ্গ হইলেই খালি হয় না বাকি অর্ধ অঙ্গ কে মেনে নিতে হয় যে আপনার ভগ্নীগন আসলেই সমাজের অর্ধ অঙ্গ ।

Profile Image for Fatema-tuz    Shammi.
126 reviews21 followers
September 7, 2020
বেগম রোকেয়ার লেখনী শৈলী সুন্দর। হাস্যরস এর পাশাপাশি করুণ অভিব্যক্তি ও সহজে বোধগম্য।

আমি ভাবছি এমন একটা সমাজে অবস্থান করে তিনি এসব নিয়ে লিখার কথা ভাবছিলেন কিভাবে? যেখানে এসব মনে আসলে ও মুখে বলার মতো সাহস ও পাওয়ার কথা না৷

পড়তে গিয়ে যেমন হাস্যকর মনে হচ্ছিল আবার ভাবছিলাম আহারে তখনকার যুগে কি করুণ ই না ছিল এই নারীদের অবস্থা। মেয়েরা যেমন পর্দার নামে ভয়ংকর বাড়াবাড়ি করতো তেমনি এক প্রকার পঙ্গু ও করে রাখা হয়েছিল তাদেরকে। ঘরে আগুন লেগে গেছে, ঘর থেকে বের হচ্ছেন না দরজায় পুরুষ লোক দেখে।এমনকি মুখে ও কথা বলছেন না!শেষমেশ আগুনে আত্মাহুতি। চিন্তা করা যায়!!এরকম প্রত্যেকটা কাহিনি পড়ে মনে হয়েছে পর্দা তো আছেই তারচে বেশি তারা ছিল পঙ্গু ( শারীরিক ভাবে ঠিক থেকেও)

আসলে নারী পুরুষ সবাইকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। শুধু জেন্ডারের ভিত্তিতে কাউকে দূর্বল আর ছোট করা উচিত না। এখনো আমাদের সমাজে ছেলে ও মেয়েদের সমান গুরুত্ব দেয়া হয়না। তবু ভালো বেগম রোকেয়া দের সমসাময়িক সময়ে জন্মায়নি😑। এ ভয়ংকর আর রীতিমতো হাস্যকর জিনিস থেকে একটু হলেও রেহাই পেলাম *_*
Profile Image for Maysha Maliha  Mite.
8 reviews3 followers
June 9, 2021
"কেন আসিলাম হায়! এ পোড়া সংসারে,
কেন জন্ম লভিলাম পদ্দা-নশীন ঘরে!"

বেগম রোকেয়ার 'অবরোধ-বাসিনী' বইটি ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়। ঘটনাগুলোও তৎকালীন সময়ের বা তার কছু বৎসর আগের। পূর্বে মেয়েদের পর্দার কড়াকড়ি ছিল জানতাম কিন্তু এই বিংশ শতাব্দীতেও এতটা ভয়াবহ ভাবে অবরোধ প্রথা মানা হতো সেটা জেনে ভীষন অবাক হয়েছি। একটি নিষিদ্ধ বস্তুর মতো লুকিয়ে লুকিয়ে রাখা হতো মেয়েদের। তখনকার দিনের বাঙালি নারীরা অঅসূর্যম্পশ্যাই ছিলেন বটে!
৪৭ টি ঘটনার প্রেক্ষিতে বইটিতে অবরোধ-বাসিনীদের অবরোধ প্রথা ফুটে উঠেছে। শতবর্ষের পূর্বেই বঙ্গে এ অবস্থার অনেকখানি পরিবর্তন হওয়াতে আমি বেশ কৃতার্থ বোধ করছি।

হ্যাপি রিডিং😊
০৯.০৬.২০২১
Profile Image for Sukanya Naz Naz Islam.
19 reviews4 followers
February 14, 2021
বেগম রোকেয়া মানুষটিকে আমার ভারী পছন্দ। উনার হাস্যরসাত্মক বর্ণনার মধ্যে দিয়ে সত্যি কথা গুলো বলে দেওয়ার স্টাইল টা দারুন লাগে।

তৎকালীন পর্দাপ্রথার বর্ণনা শুনে হেসে কুটিকুটি হয়েছি। এই বইটি নিয়ে অনেক পাঠকের মধ্যেই ভ্রান্ত ধারণা আছে। মূলত এররকম ধারণা সংবলিত পোস্ট পড়েই বইটা পড়ার ইচ্ছা জাগে৷ সব বিশদে লিখে রিভিউ দিতে হবে।
Profile Image for Abhishek Saha Joy.
191 reviews56 followers
October 20, 2020
" আমার ত প্রত্যেকটি লোম গুনাহগার;সুতরাং পুস্তকের দোষ ত্রুটির জন্যে এবার পাঠক-পাঠিকাদের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিলাম না।"
উপরের বাক্যগুলো লেখিকা বইয়ের উৎসর্গপত্রে লিখেছেন।এতেই বুঝা যায় তৎকালীন পরিস্থিতি কতোটুকু প্রতিকূল ছিলো আর তিনি কি পরিমাণ সাহস সঞ্চয় করে তার কাজ চালিয়ে গেছেন।বাংলাদেশের ফেমিনিজমের গুরু যদি কাউকে বলতে হয় তবে নিঃসন্দেহে সেটা বেগম রোকেয়া!
বইটিতে মোট ৪৭ টি অণুগল্প,লেখিকার ভাষায় 'সত্য' অণুগল্প স্থান পেয়েছে।বেশিরভাগ গল্পই হাসির।কিন্তু পড়ে হাসার পর আপনি যখন একটু ভাবতে বসবেন তখন দেখবেন কি ভয়াবহ অত্যাচারের স্বীকার হয়েছেন আমাদের নারীরা।তাদের অবস্থার কথা ভাবলে গা শিউরে উঠে।এই নারী স্বাধীনতার যুগে নারীদের লাঞ্ছনার ইতিহাস সবার জানা প্রয়োজন।সেজন্যেই বইটি অবশ্যপাঠ্য!
Profile Image for Humaira Tihi.
79 reviews28 followers
November 15, 2018
পড়ে মনে হচ্ছিল রূপকথা পড়ছি! এমন ও যুগ গেছে সত্যি? এমন করে অবরোধ-বাসিনী হয়ে বেঁচে থাকত�� তারা! এমন প্রবল স্রোতের সম্মুখে পড়েও বেগম রোকেয়া কি করে যে ভেসে গেলেন না! কি করে যে নিজের দৃঢ় অবস্থান অব্যাহত রাখলেন! আগে তাঁর গল্প শুনতাম, কিন্তু এত কিছু ভেবে দেখতাম না। বই টা পড়ে সময়ের প্রেক্ষাপট এমনকি বিশ্বাস করতেও সময় লেগেছে!

দূর থেকে দেখার ব্যাপার সত্যি কি না জানি না। যদি সত্যি হয় বেগম রোকেয়া হয়তো খুশিমনে আজকের মেয়েগুলিকে দেখছেন! তাঁর এক সময়ের সংগ্রাম কোথায় এ��ে দিয়েছে সবকিছু! পুরো দৃশ্যপটটাই বদলে গেছে আমূলে!
Profile Image for Abu Rayhan Rathi.
108 reviews
April 18, 2021
সত্যি-ই তখনকার সময়ে পর্দার ব্যাপারে বেশিই বারাবাড়ি করা হয়েছিলো।আরেকটা বিষয় খেয়াল করলাম তখনকার চোরেরা একটু বেশিই আরামে ছিলো 😂।
Profile Image for Raida.
12 reviews27 followers
August 13, 2023
বিদ্যালয়ের পাঠ্যবইয়ে বেগম রোকেয়ার "চাষার দুক্ষু" পড়িবার পরে ইহাই আমার দ্বিতীয়বার তাহার লেখা পড়া।

১৯২০-৩০ এর সময়কালে জন্মিলে কী দুঃখেই না পড়িতে হইতো! চিন্তা করিতেছি, এই করোনাকাল প্রত্যক্ষ করা উহার চাইতে কিছুটা স্বস্তিদায়ক কীনা! কোন সন্তোষজনক উত্তর পাইতেছি না।


লেখিকা যেভাবে বর্ণনা দিয়াছেন, ভয় পাওয়া অবান্তর নহে। তৎকালীন বিভীষিকাময় পর্দাপ্রথার বলি হইতে আট বৎসর এর বালিকারাও রেহাই পায় নাই। লেখিকা তাহার স্বভাবজাত ব্যঙ্গাত্মক রসে প্রতিটি ঘটনার বর্ণনা দিয়াছেন। পড়িলেই বুঝিবেন কীরূপ ভয়ানক। থাক, আর ভয় পাওয়াইয়া দিতে চাহি না।


সাধু ভাষায় প্রথম লেখা।ভুলত্রুটি মার্জনীয়। 🙏
Profile Image for Shadin Pranto.
1,475 reviews559 followers
May 31, 2017
বেগম রোকেয়ার চাইতে বড় ফেমিনিস্ট এখন পর্যন্ত বঙ্গে জন্মায় নাই, জন্মানোর লক্ষণও দেখি না।
Profile Image for Najifa.
2 reviews2 followers
June 27, 2023
অবরোধবাসিনী পড়ে সেই সময়কার মেয়েদের অবস্থা শুনে যা মনে হল, তারা সেসময় একজন মুসলিম নারী হিসেবে যে পর্দা পালন করা উচিত তাই কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতো। কিন্তু সেই সময়কার মেয়ে হিসেবে বেগম রোকেয়া যে এই টাইপের একটা বই লিখতে পেরেছে এবং এই টাইপের বই লেখার সাহস পেয়েছে সেটাই আমাকে অবাক করেছে । অনেকে তাকে হয়তো এই কারণেই নাস্তিক বলে।
Profile Image for Md Shariful Islam.
258 reviews84 followers
February 8, 2021
বেগম রোকেয়ার নাম জানে না এমন বাঙালি পাওয়া ভার। আলোচনা-সমালোচনা, তর্ক-বিতর্ক ইত্যাদি তাঁকে নিয়ে লেগেই থাকে। ফেরেশতা থেকে শয়তান – এই দুই মেরুর দুই বিশেষণ-ই তাঁকে দেওয়া হয়। তবে তিনিই যে প্রথম বাঙালি মুসলিম নারীদের শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছেন তাতে কারও দ্বিমত থাকার কথা না। শিক্ষিত ও সচেতন একজন মানুষ হিসেবে তিনি তৎকালীন সমাজকে দেখেছেন গভীরভাবে, নানা বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন । এই বইটাও তেমনি এক সংস্কারের দাবি নিয়ে লেখা ; এবাবের বিষয় নারীদের অবরুদ্ধ করে রাখার প্রতিবাদ।

মূলত উচ্চবিত্ত মুসলিম সমাজে পর্দাপ্রথার স্বরূপ নিয়ে বইটা লিখেছেন তিনি। পর্দার নামে যেভাবে নারীদের দুনিয়ার সমস্ত পুরুষ থেকে এমনকি নিকটাত্মীয় বাদে অন্যান্য নারীদের থেকেও পৃথক করে রাখা হতো সেদিকটাই তুলে ধরেছেন তিনি। সাথে দু-একটা ঘটনা বলার মাধ্যমে এটাও দেখিয়েছেন যে তখন সময়টাই ছিল অবরোধের ; কেননা হিন্দু নারীরাও প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতেন। ভূমিকাতে যেমনটা বলেছেন লেখিকা, ঘটনাগুলোর বেশিরভাগই হাসির উদ্রেগ করে কিন্তু সাথে সাথে একটা সমবেদনা আর সহানুভূতিও খেলা করে মনে।

চোরের সাথে কথা বলতে হবে দেখে গায়ের অলঙ্কার খুলে দেওয়া, পরপুরুষ গলার স্বর শুনে ফেলবে ভেবে আগুনে পুড়ে মরা, পরপুরুষ গায়ে হাত দেবে আশঙ্কায় ট্রেনে কাঁটা পড়ার মতো ঘটনা যেমন উল্লেখ করেছেন লেখিকা তেমনি অবরুদ্ধ থাকায় নারীদের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা, নিজেদের নাম হারিয়ে ফেলা, বাস্তবজ্ঞানহীনতার কথাও বলেছেন। বিশ্বাস করা শক্ত হলেও বেশিরভাগ ঘটনাই লেখিকার নিজে দেখা ; সাথে কিছু শোনা এবং বইয়ে পড়া ঘটনাও রয়েছে।

বইটা একটা কালের দলিল। একশ বছর আগেও বাংলার পরিস্থিতি কেমন ছিল সেটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছে বইটা। বর্তমানের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অবাস্তব মনে হতে পারে অনেক ঘটনা-ই কিন্তু সব ঘটনাই সত্য। পর্দাপ্রথার ভারে ক্লান্ত এক নারী সখেদে অথচ হাস্যরসাত্মকভাবে বর্ণনা করেছেন সেই সময়টাকে। অবরোধের মাত্রাটা কতটা ভারী ছিল সেটা স্পষ্ট হয় লেখিকার লাইন দুটো থেকেই :
‘কেন আসিলাম হায়! এ পোড়া সংসারে, কেন জন্ম লভিলাম পর্দানশীন ঘরে!’
Profile Image for Anjum Haz.
285 reviews69 followers
June 25, 2023
রোকেয়ার লেখা স্কুলের পর এই প্রথম পড়লাম। স্কুলে থাকতে প্রথম পড়েছিলাম "অর্ধাঙ্গী"। তখন ভালো লেগেছিল। কিন্তু ওই সময় হয় তো ওরকম লেখা বোঝার বয়স হয় নি।

"অবরোধবাসিনী" পড়তে পড়তে মনে হয়েছে, সত্যি তো, সে যুগের কোনো মেয়ে ঘরের আসবাবের মতো জীবনযাপন করতো।

সেই প্রথা ভাঙার মতো মানসিকতা আর সাহস যাঁর আছে, এমন মানুষ হলেন প্রকৃত আধুনিক। নিজ জাতির এই অবরোধের ইতিহাস না জানলে অনেক কিছু বুঝতে পারতাম না। রোকেয়াকে ধন্যবাদ আমাদের সেই ইতিহাস জানানোর জন্য। উনার মতো আধুনিক চিন্তা-চেতনা আমাদের সমাজকে গতি দিয়েছে।
Profile Image for Nuhash.
221 reviews8 followers
March 25, 2023
নারীর বদ্ধ ঘরের থেকে আলো দেখুক বেগম রোকেয়া শুধু তা চেয়েছেন, এবং বইটিতে কিছু নির্মম সত্য ঘটনা তিনি তুলে ধরেছেন। তার দু'চোখে নারীর পাখা উড়ানো স্বপ্ন ছিল। তিনি এই বইটিতে করুণ কিছু অবরোধ থাকা নারীদের জীবন কথা উল্লেখ্য করেছেন। সবচেয়ে হৃদয়ে ব্যথা দেয় দুটো ঘটনা, এক, রেলে কাটা পড়ে নারীটা মারা যায় তবুও কোন পুরুষের সাহায্য সে চায় না। দুই, চোর যাতে নারীকে না দেখে অলংকার দেওয়ার জন্য কাঁন কেটে দিয়ে দেয়। তবু নারী কোনো উচ্চবাচ্য করে না। এমন প্রথা দিয়ে হবে কি? কিসের মুক্তি চায় মানুশ! এদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন বেগম রোকেয়া।

সমাজ শত প্রথা, নিয়ম নীতি প্রণেতা পুরুষ। তাদের যে কাজে সুবিধা হয় তারা সে কাজ করতে দ্বিধা করে না। নারীর শক্তি নেই, নারী দূর্বল, তাদের বুদ্ধি শক্তি কম কিন্তু সবকিছুর উধ্বে তাদের উপরে উঠার সাহায্য করুন। তাদের বুদ্ধি কম বুঝলাম, কিন্তু তাদের একলা বাঁচতে দিন। যেখানে মুক্তির জন্য বারবার বন্দী হতে হয় সে মুক্তি নিতে চান না তিনি।

মশারির ভেতর, পালকির ভিতর, বস্তার ভিতর নারীকে জড়িয়ে না রেখে মুক্ত লোকে বিচরণ করতে দিতে তিনি আহবান করেছেন।

আদিম সভ্যতার যখন উদ্ভব হয় তখন নারী তো কারো অধিকারে ছিল না। হঠাৎ করে নারী পুরুষের সম্পদে রুপান্তরিত হওয়ার পেছনের কারণ আজও কোনো ফেমিনিস্ট কিংবা তাত্ত্বিকরা বের করে আনতে পারি নি। নারীবাদ একটি মতবাদ, কিন্তু তাতে দাঁড়ানোর মত শক্তি ও যুক্তি এখনো নারীর নেই। সুশীল সমাজ বলতে আমরা যাদের বুঝি তারা নারী মুক্তি কথা মুখে বলে, অন্তরে বিশ্বাস করে না। মানুষকে শত বুঝিয়েও লাভ নেই, কারণ যে যা বিশ্বাস করে এবং তার দৃষ্টিভঙ্গি যেমন সে তা সেভাবেই গ্রহণ করবে।

বইটি খুব সুন্দর। বিস্তারিত তুলে ধরলে কিংবা প্রবন্ধ আঁকারে তিনি যদি বলতেন তাহলে আরও মর্মস্পর্শী হত।
Profile Image for Hanif.
159 reviews5 followers
April 9, 2023
"কেন আসিলাম হায়! এ পোড়া সংসারে,
কেন জন্ম লভিলাম পর্দ্দা-নশীন ঘরে!"

নারী-জাগরণ উচ্চারণ করলেই বর্তমান সমাজেও ধর্মের দোহাই দিয়ে বিদ্রোহ শুরু হয়ে যায়।
নারী জাগরণের অগ্রদূত বা বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের পথিকৃৎ এবং প্রথম বাঙালি নারীবাদী হিসেবে পরিচিত- বেগম রোকেয়াকে নিয়েও অনেক ভুল ধারণ সমাজে প্রচলিত রয়েছে।
বেগম রোকেয়া ধর্মের বিরুদ্ধে ছিল না, ধর্মের দোহাই দিয়ে, পর্দা করার নামে নারীদেরকে যে অত্যাচার করা হতো, কিংবা স্বাধীনতা হতে বঞ্চিত করা হতো, সেসবের বিরুদ্ধেই তিনি সোচ্চার ছিলেন।
অবরোধ-বাসিনী বইটিতে বাস্তব জীবনে ঘটে যাওয়া, এমন ঘটনাগুলোকে একত্রিতকরণ করা হয়েছে।
এ দেশে এখনো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গ্রামঞ্চলে, যেখানে পর্দার নামে নারীদেরকে শিক্ষার অধিকার, মত প্রকাশের অধিকার ইত্যাদি হতে বঞ্চিত করা হচ্ছে, সেখানে আজ হতে প্রায় ১০০ বছরকার আগের পর্দার নামে যে-প্রথা প্রচলিত ছিল, তা নিতান্তই অভাবনীয় এবং হাস্যকরই মনে হবে।
তাছাড়া, পর্দাটা শুধু বাঙ্গালি মুসলিম সমাজে ছিল তা নই, হিন্দু সমাজেও প্রচলিত ছিল- এমন একটি ঘটনা ও বইটিতে উল্লেখ করা হয়।
Profile Image for Salman Sakib Jishan.
274 reviews159 followers
May 17, 2020
কলেজে 'চাষার দুক্ষু' ছাড়া বেগম রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন-এর আর কোন লেখা পড়া হয়েছে কিনা মনে পড়েনা। 'অবরোধ বাসিনী' পড়ার ইচ্ছা ছিলো তখন থেকেই। আসলে উনি বলসেন টা কি? কি এমন লিখসেন?
আজকে ১৯২৮ সালে প্রকাশিত বইটা শেষ করে আমি যারপরনাই বিস্মিত!
হবোনা কেন আসলে? ওই যুগের পরিস্থিতিতে উনি যে সাহস টা দেখিয়েছিলেন, সেরকম একজনও এই যুগে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ আছে।
বইটা স্যাটায়ার করে ৪৭টা ছোটখাটো ঘটনার উদাহরণ দিয়ে অবরুদ্ধতার অবস্থা তুলে ধরেছেন লেখিকা। শেষে আবার যুক্তি খন্ডন পর্বও ছিলো। ওনার রসবোধের সাথে নারীদের করুণাবস্থা তুলে ধরার প্রক্রিয়াটা খুব সহজ সুন্দর। আসলেই কোন অবস্থা থেকে উনি কি বলেছেন, কি করেছেন!!
এইযুগের ফেমিনিস্ট নিয়ে আমার তেমন কোন অভিযোগ ছিলোনা কোন কালে। আজকে মনে হলো ফেমিনিজম চর্চা হলে, এমন হওয়া উচিৎ! ওনার কিছু কথা এখনকার বিবেচনায় অনেকের অতীত মনে হতে পারে। মূল বক্তব্য তো বদলে যায়নি!! শুধু গৎবাঁধা বুলি না, আগে নিজে শিক্ষিত হোন। সেকালের মতো একালেও আপনাদের দোষ আপনাদের নিজেদেরই বেশি...
Profile Image for Abrar.
29 reviews1 follower
Read
September 20, 2020
ছোট ছোট ঘটনা নিয়ে লিখিত এক অকল্পনীয় সমাজের গল্প। পড়তে পড়তে আষাঢ়ে গল্প পড়ছি ভেবে হেসে দিচ্ছিলাম, পরমুহূর্তে এসব যে আসলেই বাস্তব ঘটনা মনে পড়তেই অস্বস্তি লেগে উঠছিল। এই সমাজে বিয়ের ছ'মাস আগে থেকে মেয়েদের বন্দি থাকতে হয়ে বদ্ধ দরজা জানালার ঘরে(যার দরুন অন্ধ হয়ে যায় অনেকে), সম্পূর্ণ পাল্কি পানিতে চুবিয়ে করতে হয় গঙ্গাস্নান, পাল্কিযোগে কোথাও যাওয়ার সময় দেওয়া হয় চারস্তর সেলাই করা মোটা কাঁথার নিরাপত্তাবেষ্টনী যা শুধুমাত্র গন্তব্যস্থলে পৌছানোর পরই কাটা হয় আর বের করে আনা হয় ভেতরে অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকা যাত্রীদের, প্ল্যাটফর্মে ছিটকে পড়ে ট্রেনের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হওয়ার পরও অন্য কারো সাহায্য নেয়া যায়না কেননা পরপুরুষের স্পর্শ জীবনহানির চেয়েও ভয়ংকর!
Profile Image for Jesan.
141 reviews5 followers
April 18, 2021
কী দারুনভাবেই না সে সময়ের বাড়াবাড়ি পর্দাপ্রথার উপহাস করেছেন!!ভারতবর্ষে মেয়েদের অনেকভাবে পরপুরুষদের চোখ থেকে বাচানোর নাম করে পর্দা দেয়া হত,অনেক সময় হাটতেও দিতোনা,সাথে মেয়েদের কথার প্রাধান্য দেয়া হতো না।তিনি ব্যঙ্গ করেছেন এইসব নীতির। আসলে আমার কাচগে তিনি যুগেরও অনেক আগের চিন্তার মানুষ।হিন্দু সমাজে সেসময় নারী স্বাধীনতা কিছুটা পাওয়া গেলেও মুসলিম সমাজে তা ছিল না হয়তো রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন না থাকলে আরও হতো না। খুবই দারুন উপস্থাপনা...!!

বিদ্রঃ সে সময় চোরেরাও অনেক সুখে ছিল।
Profile Image for Chiro Pipashito T H.
317 reviews2 followers
January 5, 2017
Hilarious but poignant. What Begum Rokyea wrote a century ago, is relevant to this day.
Profile Image for Ali Ahnaf Zunayed .
21 reviews2 followers
November 2, 2020
হাস্যরসাত্মকভাবে লেখা হলেও সে যুগের নারীদের কষ্টটা কিছুটা অনুভব করতে পেরেছি। বলতেই হয়, বঙ্গদেশের নারীরা অনেক দূর এগিয়েছে এখন। তবে এখনো অনেক পথ পাড়ি দেওয়া বাকি!
Profile Image for Mahrin Ferdous.
Author 8 books208 followers
June 18, 2022
১৯৩১ কি ২০২২, বহুকিছু আজও মিলে যায়। কারণ পৃথিবীর সকল অন্ধকারের রঙ কালো...
Profile Image for saif.
164 reviews16 followers
December 6, 2023
i don't think i have anything new to add to this conversation but that this should be a mandatory read for everyone, feminist or not
Profile Image for Sazid Shahriar.
51 reviews1 follower
August 25, 2025
ব্যান হওয়ার আগেই পড়ে নিলাম xD
Profile Image for প্রজাপতি মৌ.
15 reviews6 followers
March 21, 2019
কিছু হাসি আছে করুণ হাসি, দেখতে হাসি বলে মনে হলেও আসলে কান্না। অবরোধ-বাসিনী হচ্ছে সেই করুণ হাসির গল্প, গল্পই বা বলছি কেন, সত্যি সব ঘটনা। তাও বেশিদিন আগের না ৮০/৯০ বা ১০০/১৫০ বছর আগের। বেগম রোকেয়ার লেখা কেবল টেক্সটবুকেই পড়েছিলাম, এর বাইরে কখনো পড়া হয় নি, আর টেক্সটবুক মনোযোগ দিয়ে পড়েছি এমন মিথ্যে দাবী আমি করতে পারি না, যতোই মিথ্যেবাদী হয়ে থাকি না কেন। বরং স্কুল জীবনে একজন স্যার ক্লাসে বলেছিলেন বেগম রোকেয়া এতো নারীবাদী হলে নামের শেষে সাখাওয়াত হোসেন মানে স্বামীর নাম পদবী লাগিয়েছিলেন কেন, ভেবেছিলাম তাই তো? এখন বুঝি সেকালের সেটাই নিয়ম ছিলো, তিনি যতোটুকু করে গিয়েছেন, একালের কয়টি মেয়ে তা করতে পারে। অবরোধ শুধু পোশাকের পর্দা বা বোরকা না, শতাব্দীর পর শতাব্দী নারী জাতির উপর চাপিয়ে দেয়া মনের পর্দাও। বেগম রোকেয়া (সাখাওয়াত হোসেন টা বাদ ই দেই) সেই অবরোধে থাকা অসংখ্য নারীর গুটিকয়ের করুণ কিছু কাহিনী তুলে ধরেছেন। বোরকা আটকে যে অবরোধবাসীনী ট্রেন থেকে নামার সময় পড়ে গিয়েছিলেন, তাকে সাহায্য করার অধিকার ছিলো না কোন পুরুষের কারণ সেটা ধর্ম সমর্থন করে না, শেষে ট্রেনে কাটা পড়েই মরলো, আট পেরিয়ে নয়ে পা দেয়া মেয়ে কেবল মইয়ের দুই ধাপ উঠেছিলো বলে বাপের মার খেয়ে মর্ত্যলোকের মায়া ত্যাগ করলো, বিয়ের আগে মাসের পর মাস মাইয়াখানায় বাস করে অন্ধ হয়ে গেলো বিয়ের কনে, কিংবা পালকীতে উঠিয়ে দেশ ���েখতে যাবার সময় কিয়েক প্রস্থ প্যাকিং করে মালগাড়ীতে চললো বিবিদের দল, ভাবা যায়? গঙ্গা স্নানে গিয়ে পালকী শুদ্ধ পানিতে চুবানো কিংবা মেয়ে স্কুলের গাড়ীকে জাল আর পর্দা দিয়ে ঘিরে আলমারী বিশেষ বানানো, আবার সেই দোষে ধর্মের ঝান্ডাধারীদের চরমপত্র পাঠানো হাসিই লাগে তবে, করুণ হাসি। একবার পত্রিকায় পড়েছিলাম ইরানে নাকি সিনেমাতেও হয়তো আগুন লেগেছে এমন দৃশ্যে কোন পর পুরুষ কোন নারীকে হাতে ধরে উদ্ধার করছে এ দৃশ্য দেখানো যায় না, কেননা পর্দাপ্রথার বিরোধী হয়ে যায় সেটা, এই বই পড়ে বুঝলাম এই কড়াকড়ি মোটেই ওসব দেশে অবাস্তব নয়।মেয়েদের পর্দা শুধু পর পুরুষের সামনে ছিলো না, ছিলো মেয়েদের সামনেও, পাঠান নারীর সামনে পড়ে পর্দা নষ্ট হয়ে গেলো কেননা সে নাকি পাজামা পড়েছিলো পুরুষদের মতো, ভাবা যায়? পর্দা প্রথা কি এখন আর তেমনভাবে নেই? হ্যা অনেকটাই বাস্তসম্মত হয়েছে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে, তবে কলের চাকা উল্টো ঘুরতে কদিন লাগবে? তালিবান শাসনে কিংবা এখনো আফগানিস্তানে মেয়েরা কিভাবে আছে বা থাকে এই বই পড়ে সেই কথাই কল্পনা করলাম, একদিন এই দেশেও সেই দৃশ্য আবার দেখা যেতে পারে। তবুও একদল মানুষ বোরকা, পর্দা সমর্থন করেই যাবে, এমনকি মেয়েরাও। যেদিন মেয়েরা পুতুল থেকে মানুষ হবে সেদিন বোধহয় এই অবরোধ খসে পড়বে, তবে তার আগে মনের অবরোধটা খসে পড়া দরকার, জানিনা সেই সুদিন আদৌ আসবে কিনা, বা আসলেও আগামী শ, দুশো বছরের মধ্যে আসবে কিনা।
Displaying 1 - 30 of 82 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.