সেনাবাহিনী ছেড়ে আসা রুক্ষ ও পোড়খাওয়া রুদ্র আফসারের জীবনে ঘটতে থাকে একের পর এক অস্বাভাবিক ঘটনা। সে নিজ চোখে দেখে এক ভয়ংকর, ছাগলের মাথাওয়ালা দুপেয়ে প্রাণী—যার কপালে জ্বলজ্বল করছে রক্তাক্ত ত্রিভুজ! দুঃস্বপ্ন নাকি বাস্তব? কিন্তু যখন তার দুই কাছের বন্ধুও সম্মুখীন হয় অপার্থিব ও ভয়াল কিছু ঘটনার, তখন সবকিছু আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে। ছয় বছর আগে পুরোনো এক ডায়েরি পড়ে সিলেটের গহীন অরণ্যে যাত্রা কি কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে? হঠাৎ ঘাড়ের পেছনে ভেসে ওঠা চোখের আকৃতির চিহ্ন দেখে রুদ্র বুঝতে পারে— "উই হ্যাভ বিন মার্কড!" কিন্তু কেন? চিহ্নিত মানুষের সংখ্যা কি গণনাযোগ্য? এসআই রশীদ ও আদ্রিয়ানকে ফাঁকি দিয়ে মিলিয়ে যাওয়া এক অবিনশ্বর মানবী যখন দৃশ্যপটে হাজির হয়, উঠে আসে এক বিস্মৃত ভয়াল ইতিহাস—যা প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয় মানব অস্তিত্বকেই! একটি ইতিহাস, যা একই সঙ্গে বদলে দিতে পারে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ। রশীদ ও আদ্রিয়ান কি পারবে সেই অভিশপ্ত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি থামাতে? নাকি এটি কেবল এক অনিঃশেষ আঁধারের সূচনা? যেখানে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে রুদ্র, সিজার ও আরশাদের জীবন—শুধুই কি ওদের? নাকি গোটা পৃথিবীর আয়ুরেখা? আমাদের এই 'পৃথিবী' কি আদৌ একা? এই কাহিনি কি শুধুই আমাদের পরিচিত পৃথিবীর, নাকি সমান্তরালে ছুটে চলা অসংখ্য দুনিয়ার সলিল সমাধির সাক্ষী হতে চলেছি আমরা? "কৃষ্ণকায়া" আপনাকে নিয়ে যাবে এক অনিঃশেষ, অন্তহীন জগতে—যেখানে প্রবেশের পর আপনাকে মুখোমুখি হতে হবে এক চূড়ান্ত প্রশ্নের... মৃত্যু নাকি অমরত্ব?
এই ভদ্রলোক ভায়োলেন্স জিনিসটাকে অন্য এক মাত্রায় নিয়ে গেছেন। বইটাকে আমি বাংলা সাহিত্যের সাহসী আর পরীক্ষাধর্মী রচনা হিসেবেই দেখব। টাইম লুপ, টাইম ট্রাভেল, প্যারালাল ইউনিভার্স, অলটার্নেট রিয়েলিটি সবকিছু মিলিয়ে মাথা পুরো হ্যাং করার মতো। সচরাচর এসব গল্পে মাঝখানে স্লো হয়ে যায়, কিন্তু এইটা রীতিমত রোলারকোস্টার। ১০০ পৃষ্ঠার পর বই রেখে উঠতে পারিনি। এখন পরবর্তী খন্ডের অপেক্ষায় থাকি।
আমরা সাধারণত গল্প পড়ি বাস্তব থেকে পালাতে। কিন্তু এমন কিছু গল্প আছে, যেগুলো বাস্তবের মতোই আপনাকে কামড়ে ধরে। সাজ্জাদ সিয়ামের ‘কৃষ্ণকায়া’ ঠিক তেমন একটি বই যেটি ডাকে না, টানে। আর যখন আপনি সাড়া দেন, তখন সেটা আর বই থাকে না, হয়ে যায় এক ধরণের ছায়া, যা আপনার কাঁধে বসে দীর্ঘক্ষণ ফিসফিস করে। আপনাকে নিয়ে যায় এক ভয়ংকর সুড়ঙ্গে যেখানে আটকে আছে আদিম ভয় যা আপনার শরীরে ঢুকিয়ে দিত প্রস্তুত।
‘অবিনশ্বর’ যেখানে শেষ হয়েছিল, ‘কৃষ্ণকায়া’ সেখানে শুরু হয় না বরং তাকে ছাপিয়ে সময়ের দেহ ভেঙে দেয়। অতীত আর বর্তমানের রেখা এখানে ঝাপসা। বইয়ের প্রথম তিনটি অধ্যায়ই পাঠককে একেবারে জালে জড়িয়ে নিতে বাধ্য করবে। তিনটি অধ্যায়, তিনজন নতুন মুখ,তিনটি প্রাণী আর তিনটি ঘটনার মাঝ দিয়ে আমরা দেখি রুদ্র, সিজার, আরশাদকে। ডায়েরি, ঘাড়ের চিহ্ন, পুরনো চেনা ভয় সব মিলিয়ে তৈরি হয় প্রবল এক ভয় যা চেনা কিন্তু বিপজ্জনক।
কয়েকটি টাইনলাইনে বইয়ের কাহিনী এগিয়েছে বর্তমানের তিন বন্ধু, আদ্রিয়ান,পুলিশের অমীমাংসিত কেস। লেখক কোনোটাতেও জট পাকাননি বরং অনেক ক্লিফহ্যাংগার মুহূর্তে উত্তর না দিয়ে পাঠককে দিকনির্দেশনা দিয়ে উত্তরের দিকে চালিয়ে নেন। টাইম ট্রাভেল আর প্যারালাল ইউনিভার্সের মতো বড় থিমগুলোকে সাবলীল ও ধীরে ধীরে উপস্থাপন করেছেন। আগের বইয়ের কৃষ্ণকায়া নিয়ে তো এক চিন্তা ছিলই এই বইয়ে এসে জুড়বে আরেক অপভ্রংশ। দুইয়ের মাঝে কে একটু কম খারাপ তাই ভাবাবে আপনাকে।
‘কৃষ্ণকায়া’তে ভয় আছে, কিন্তু সেটা ভূতের ভয় না। এটা এমন এক ভয়, যা আসে মানুষের স্মৃতি থেকে, অপরাধবোধ থেকে, আর সবচেয়ে বড় কথা অজানাকে জানতে চাওয়ার ছেলেমানুষি জেদ থেকে। একেকটি পৃষ্ঠা যেন টান দিয়ে বলে, "আরেকটু এগিয়ে দেখো" তবে আগেই বলে রাখি, সব দেখায় আনন্দ হয় না।
সাজ্জাদ সিয়ামের লেখনীতে একটা নাটকীয় গাঢ়তা আছে পাঠক হিসেবে সেটা আপনাকে আটকে রাখে, মুক্তি দেয় না। সংলাপ-নির্ভরতা কখনো কখনো ক্লান্তিকর মনে হলেও চরিত্রের জ্যান্ত হয়ে ওঠায় সেটা গিলে নেওয়া যায়। ভায়োলেন্সের মাত্রা এবার বেড়েছে সেই অজানা ছায়াদের থেকে, মানুষ থেকে কমই বেড়েছে কিন্তু যেগুলো আছে তা গল্পের ব্রুটালিটি অন্যমাত্রায় নিয়ে গিয়েছে।
লেখক সব প্রশ্নের উত্তর দেন না। তিনি যেন বলেন, “তোমার দুঃস্বপ্নটাকে আমিই বানিয়ে দেই, বাকি অংশ তুমি নিজেই তৈরি করো।”
শেষের দিকে মনে হয়েছে, কিছু আবেগ কম পড়ে গেছে, কিছু চরিত্র একটু বেশি সংলাপে নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে, এবং সহিংসতার উপস্থিতি কখনো কখনো বডি হরর-এ গা গুলিয়ে দেয়ার মতো হয়েছে।
বইয়ের কয়েকটা দারুণ জায়গা আছে। কিংবদন্তী দুইটা চরিত্রকেও নিয়ে এসে দারুণ একটা সাবপ্লট বানিয়েছেন লেখক। তাদের আসল বৈশিষ্ট্যকে কাটাছেড়া না করে বরং সেটাকে নিয়ে সুন্দর একটা গল্প, বইয়ে দুটো ডায়ারির লেখা ছিল যার মধ্যে একটা ডায়েরির লেখাগুলো ভয়ংকর। ভয়ংকর বলছি কারণ সেই লেখাগুলোই একটা বইয়ের খলচরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপারটা তুলে এনেছে। শেষ যেটা ভালো লেগেছে সেটা হচ্ছে কৃষ্ণকায়া আর অপভ্রংশের মাঝের সংলাপ গুলো। দুজন দুজনের যুক্তি দিয়ে একে অন্যকে সাবধান করছে কেন তারা অদ্বিতীয়। দুজনের এই সংলাপটা সবচেয়ে বেশিই সেরা ছিল। বইয়ের সেরা কিছু বললে অনেকে বলবে ভায়োলেন্স কিন্তু আমি এই দুজনের এই বাকবিতণ্ডাকেই সেরা বলব। বইয়ের পরের অংশের জন্য অপেক্ষায় রইলাম।
সবশেষে বলব কৃষ্ণকায়া পড়া মানে সাহসিকতার পরীক্ষা। এটা গল্প না, একটা অভিজ্ঞতা একটা লালসা, যা শেষ হওয়ার পরও পাঠককে নিঃশ্বাস নিতে দেয় না। আর কৃষ্ণকায়া পড়ার আগে 'অবিনশ্বর' পড়তেই হবে।
আরশাদ, রুদ্র ও সিজার। ছয় বছর আগে তাঁরা চারজন ছিলেন। অবিনশ্বরের নারকীয় অভিজ্ঞতার পর এখন ছন্নছাড়া যাপনের তিনজন। সাজ্জাদ সিয়ামের 'অবিনশ্বর' যাদের ভালো লেগেছিলো সেই সব পাঠকের 'কৃষ্ণকায়া'য় আবার এক ডার্ক হরর থ্রিলারের যাত্রায় যোগ দিতে হবে।
উপন্যাসটি গতিশীল। গত পর্বে লেখক যেমন অনেক প্রশ্নের কোন উত্তর না দিয়ে তাঁর পাঠকের আগ্রহ জিইয়ে রেখেছিলেন সেই সবের উত্তর এ আখ্যানে মিলতে পারে। সাজ্জাদ সিয়াম সময় পরিভ্রমণসহ বিভিন্ন প্রকরণ এখানে নিয়ে এসেছেন।
পুরো বই একশনে টানটান। অমীমাংসিত কিছু বিষয়ের মিমাংসায় তিন বন্ধু এবং আরো কয়েকটি চরিত্র একদম দৌড়ের উপর থাকে। সাজ্জাদ সিয়ামের কল্পনা প্রতিভা উল্লেখযোগ্য। তিনি ভিন্ন ভিন্ন বৈজ্ঞানিক, মিথলজিক্যাল, ঐতিহাসিক ধারণাকে এক বইয়ে জায়গা দিয়েছেন।
হররে অতি বিভৎসতা ঠিক আমার প্রিয় টেস্টের বিষয় নয়। পুরো বইজুড়ে যে পরিমাণ গা গুলানো সহিংসতা, নৃশংসতা আছে তা নিয়ে লিখতে গেলে নিশ্চিত ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড ভঙ্গ হতে পারে। আবার সিয়ামের লেখালেখির এই ধরণ অনেকের পছন্দের।
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় লেখকের দুটি চরিত্রকে উপন্যাসে সাজ্জাদ সিয়াম যেভাবে নড দিয়েছেন তা এন্টারটেইনিং ছিলো। অবিশ্বরের সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার / ডার্ক হরর জনরা কৃষ্ণকায়ায় এসে ভিন্ন এক লেভেলে ডালপালা মেলে।
বইয়ের অতি সংলাপ নির্ভরতা আমার কাছে উপন্যাসটির এক দুর্বল দিক মনে হয়েছে। তাছাড়া এপিক এক দ্বৈরথের যেরূপ সূচনা হলো তা এই সংলাপ নির্ভরতার কারণে এপিক মনে হয় নি। সাজ্জাদ সিয়ামের লেখনিতে অতি নৃশংসতা থাকেই। এটা তাঁর স্টাইল তবে জম্বি গল্পের মতো একই রূপান্তরের পুনরাবৃত্তি আমার কাছে ভালো লাগেনি। উপন্যাসের কিছু জায়গায় বিশেষ কিছু চরিত্রের ভয়ানক ও বেদনাদায়ক কিছু ঘটনায় আবেগহীন থাকাটাও একটু জানি কেমন লেগেছে।
তবে সব মিলিয়ে অবিনশ্বরের সিক্যুয়েলটি অনেকের কাছে শুধুমাত্র বিনোদনের জন্যেও ভালো লাগতে পারে। আজকাল আমি কোন বই পড়া শেষে নিজেকে প্রশ্ন করি, "এ বইয়ে কি আমার ফিরে আসা হবে?"
কৃষ্ণকায়ার ক্ষেত্রে উত্তরটি হবে খুব সম্ভবত না। হয়তো অনলাইন স্পিয়ারে অনেকদিন ধরে গল্প লিখে চলা সাজ্জাদ সিয়ামের কাছে আমার প্রত্যাশা একটু বেশি-ই।
বই রিভিউ
নাম : কৃষ্ণকায়া লেখক : সাজ্জাদ সিয়াম প্রথম প্রকাশ : বইমেলা ২০২৫ প্রকাশক : ঋদ্ধ প্রকাশ রিভিউয়ার : ওয়াসিম হাসান মাহমুদ
মৃত্যু! মানুষের জীবনের অন্তিম লক্ষ্য, যাতে মানুষ হারিয়ে যায় কালের অন্ধকারে। মানুষ চায় বেঁচে থাকতে। এই পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে ফিরে যেতে চায় না। কিন্তু সত্যের মতো নির্মম আর কী হতে পারে? এই নির্মমতার কাছে হেরে যেতে হয়। মৃত্যু জিতে চাই অচিরেই।
কিন্তু অসীম জীবনের লোভ মানুষ ছাড়তে পারে না। তাই খুঁজে চলে অমরত্বের মশাল। হয়তো পেয়েও যায়। কিন্তু এই প্রকৃতি যে বিরুদ্ধচারণ পছন্দ করে না। তাই যখনই এই পৃথিবীর বুকে স্বাভাবিকতার বাইরে কিছু ঘটে, তখনই বিশাল কিছু এগিয়ে আসে।
হতে পারে সে কৃষ্ণকায়া, যাকে জাগিয়ে তুলতে পারলে অমরত্বের মতন অসীম সাধনা পাওয়া যাবে। কিংবা অপভ্রংশ! মৃত্যুই যার কাছে শেষ কথা। মহাপ্রলয়ের বিভীষিকায় ধ্বংসের মধ্যে দিয়ে যার চাওয়া এই পৃথিবীর কর্তৃত্ব।
মৃত্যু কিংবা অমরত্ব, দুই বিপরীত মেরু যখন মুখোমুখি দাঁড়িয়ে; তখন কী ঘটবে? কেউ কি জানে?
◾কাহিনি সংক্ষেপ :
তিন বন্ধু — রুদ্র, সিজার আর আরশাদ। কোনো এক রাত যখন গভীরে প্রবেশ করছে, তিনজনের সাথেই ভিন্ন ভিন্ন কিছু বিস্ময়কর ঘটনা ঘটছে। যার আসলে কোনো ব্যাখ্যা হয় না। সিজার দেখছে অজস্র কুকুর দাঁড়িয়ে আছে তার বাসার সামনে। সমানে ডেকে যাচ্ছে, যা ভীতি ধরায়। সিজারের মানসিক অবস্থা স্বাভাবিক নয়। ভয়ের তীব্র মুহূর্তে প্যানিক অ্যাটাক উঠে। এখন সেই অন্তিম মুহূর্তের দ্বারপ্রান্তে সে। এমন অবস্থায় সে যা দেখছে, তাকে বাস্তব মনে করার কোনো কারণ নেই। পাশের ফ্ল্যাটের হাবিবুর রহমান ও তার স্ত্রীর মাথা যেন ঘাড় থেকে প্রায় আলাদা হয়ে গিয়েছে। এই অবিশ্বাস্য ঘটনা দেখে সিজার তাই দিশেহারা। সত্য দেখছে? না-কি তার মানসিক রোগের কারণ?
সিজারের সাথে যখন এমন ঘটনা ঘটছে, তখন বন্ধু আরশাদ প্রেমের বিচ্ছেদে বড্ড অসহায়। দশ বছরের সম্পর্ক এক নিমিষে শেষ। গভীর রাতে আরশাদ যখন হাঁটছে, তখন অসংখ্য বিড়াল নজরে আসে। কুকুর সংঘবদ্ধ থাকলেও বিড়ালকে তেমন দেখা যায় না। তারপরও এতগুলো বিড়াল যখন তাড়া করে, আত্মারাম খাঁচা ছাড়া হবে স্বাভাবিক। ঠিক তখন টহল পুলিশের সাথে টক্কর! জাকির নামের সেই পুলিশকে আরশাদের নিজের বাবা বলে ভ্রম হয়। এরপর যা দেখে, বিশ্বাস করা সম্ভব? আরশাদের ব্যাগ থেকে একটি গোলক বের হয়, গোলক ঠিক না; খন্ডিত মস্তক। যা আরশাদের প্রেমিকার অবয়ব। এক বিশালসদৃশ বিড়াল তাকে খাবলে খেয়ে নিতেও দ্বিধা করে না।
ওদিকে রুদ্র শক্ত সমর্থ বিশালদেহী সাবেক সেনা সদস্য। যে বিশেষ এক কারণে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছে। তার একটাই সমস্যা, প্রবল রাগ। তাই প্রতিবেশী সায়মা ও তার মেয়ের সাথে অশালীন ব্যবহার করে পার পায় না কেউ। সেই রুদ্র দেখছে অদ্ভুত কিছু দৃশ্য। সায়মাদের বাসাতে ছুটে বেড়াচ্ছে তিনটি শিশুর মস্তক, যার কোনো দেহ নেই। বিশাল এক ছাগল যেন দৃশ্যপটে হাজির হয়। প্রত্যেকের ঘরের পেছনে ত্রিভুজাকৃতির চোখের অবয়ব ফুটে ওঠে। জ্বালা ধরে। ইঙ্গিত দিচ্ছে কোনো এক অতীতের।
কুকুর, বিড়াল, ছাগল…. ছয় বছর আগের একটা ঘটনা, যাকে রীতিমতো ভুলে থাকার চেষ্টা করেছে ওরা। তাই যেন আবার সামনে আসছে। আবারও ফিরে আসছে সে বিভীষিকা, যাকে অগ্রাহ্য করার উপায় নেই। তাহলে? কী ঘটবে এবার? কোন অশুভ শক্তির মায়াজালে জড়িয়ে পড়েছে ওরা? এর থেকে মুক্তির উপায় কী?
রশীদ কিংবা আদ্রিয়ান… মনে আছে এদের কথা? কিংবা হামিদা বেগমের কথা? অবিনশ্বর মানবী হামিদা বেগম আবার ফিরে আসছে। রশীদ হারিয়ে গিয়েছিল। ঠিক কোন জায়গা সে চলে গিয়েছে? কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাকে? আমাদের চেনা পরিচিত জগতে, না-কি অন্য কোনো পৃথিবীতে? আদ্রিয়ান-ই বা কেমন আছে? ২০২২ থেকে ২০১২ এর আদ্রিয়ান কেমন ছিল? তার ভূমিকা কী? কিংবা কায়সার? সে কি ফিরে আসবে এই কৃষ্ণকায়ার জগতে?
একজন মানুষ যখন চোখের সামনে একধিক মৃত্যু দেখে তখন তার অনুভূতি কেমন হয়? হয়তো মনস্তত্ত্বে ঝড় ওঠে। তাতেই বদলে যায় সে। কোনো এক ঐশ্বরিক শক্তি অর্জন করে অজান্তেই। যে শক্তি তাকে ভিন্ন সময়ে, ভিন্ন জগতে পরিভ্রমণ করতে সাহায্য করে। যা দেখে, তা-ই হয়তো সত্য হয়ে ওঠে অন্য কোনো সময়ে। একটু একটু করে বদলে যায় সময়। রুদ্র, সিজার কিংবা আরশাদের কথা আমরা শুনেছি। তিন অন্তরঙ্গ বন্ধুর পাশে আরেকজন ছিল… অপরাজিত। কোনো এক অজ্ঞাত কারণে তাকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা তিন বন্ধুর। কী হয়েছিল অপরাজিত’র সাথে?
এক গভীর রাতে যে নারকীয় অস্তিত্বের দুয়ার খোলা হয়েছিল, তার মাশুল দিতে হবে কীভাবে? ১৯৭৫, ২০০৬, ২০১২ কিংবা ২০২২ — সবকিছু এক বিন্দুতে মিলিত হচ্ছে। যেখানে ভয়ংকর কিছু ঘটতে চলেছে, যা পৃথিবীর অস্তিত্ব, পৃথিবীর মানুষের অস্তিত্ব হুমকির মুখে তুলে দিয়েছে। কী হবে এরপর?
◾পাঠ প্রতিক্রিয়া :
“অবিনশ্বর” যেখান থেকে শুরু হয়েছে, “কৃষ্ণকায়া”র শুরুটা সেখান থেকে হয়নি। মূলত তার কয়েক বছর পেছনে ঘটনার সূত্রপাত। “অবিনশ্বর” থেকে আমরা জানি, যে অমরত্বের কথা বলা হয়, তার রিচুয়াল ষোলো বছর পরপর সংগঠিত হয়। কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ২০০৬ সালে সেই রিচুয়াল পূর্ণ হয়নি, যা টেনে নেওয়া হয় ২০২২ সালে। ঠিক কী কারণে ২০০৬ সালে ব্যর্থ হতে হয়েছিল, তারই ব্যাখ্যা যেন “কৃষ্ণকায়া” বইটি।
এই উপন্যাসের টাইমলাইন একটু কনফিউজিং। মূলত দুইটি টাইমলাইন এখানে দেখা গেলেও, আদতে এখানে টাইমলাইন চারটা। যা এক বিন্দুতে মিলেছে। ২০২২ সময় থেকে ১৯৭৪ সালে ফিরে যাওয়া। ২০১২ সাল কিংবা ২০০৬ সাল! এত এত সময়কালে একটু খেই হারিয়ে ফেলেছিলাম। কখন সময়ে কোন ঘটনা ঘটছে, সেই ধারা বুঝতে একটু বেগ পেতে হচ্ছিল। তবে মূল সময়কাল আপাতত দুইটির মধ্যেই আবদ্ধ।
২০০৬ সালের ছয় বছর পর। আর ২০২২ সালের ৪৮ বছর আগে। একদিকে রশীদ, আরেকদিকে আদ্রিয়ান। তবে “অবিনশ্বর” বইয়ের দুই প্রধান চরিত্রের ভূমিকা এখানে কিছুটা ক্ষীণ। তারচেয়ে নতুন চরিত্রের ভূমিকা এখানে বেশ গুরুত্ব পেয়েছে। একটি ডায়েরির কাহিনি দিয়ে ঘটনার সূত্রপাত হলেও, এই ডায়েরির কথা আমরা জানতে পারি পরে। একটি গ্রাম, যার প্রত্যেকে অমর; সেই গ্রামের খোঁজে ছুটে চলে বন্ধুরা। কিন্তু সেখানে যে ঘটনা মঞ্চায়িত হয়, সবকিছু যেন বদলে যায়। হিসেবী হিসেবে পরিচিত রুদ্রও বেহিসাবী হয়ে ওঠে।
লেখক যে বিষয়ের অবতারণা বইতে করেছেন, তা বেশ জটিল। এখানে ভৌতিক-অতিপ্রাকৃত সংযোগ তো ঠিকই আছে, সেই সাথে প্যারালাল ইউনিভার্স, মানুষের অসীম ক্ষমতা পাওয়ার লোভ, আজীবন বেঁচে থাকার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যেন বইটিকে অন্য এক মাত্র দিয়েছে। যা বুঝতে গেলে মস্তিষ্ক সচল (কিংবা অচল) হয়ে ওঠে। সচল বললাম এই কারণে, মস্তিষ্কের নিউরন এতকিছু বুঝতে গিয়ে ভীষণ দৌড়ঝাঁপ করে। আর দৌড়ঝাঁপ করতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে অচল হয়ে যাওয়া অসম্ভব নয়। এছাড়া সবকিছু ছাপিয়ে আছে নৃশংসতা! “অবিনশ্বর”-এ যা ছিল, এই বইটি পড়ে আমার কাছে তা কেবল ট্রেলারই মনে হয়েছে।
এখানে লেখকের কল্পনার তারিফ করতে হয়। তিনি যেভাবে গল্পের পরিচালনা করেছেন, একাধিক বিষয় উপস্থাপন করেছেন, তাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছেন, সেগুলোর প্রশংসা করাই যায়। বর্ণনা সাবলীল লেগেছে। তবে সংলাপের ক্ষেত্রে একটু অভিযোগ আছে আমার। সংলাপের অনেকক্ষেত্রেই বর্ণনা ও সংলাপের মধ্যে পার্থক্য করা যায়নি। বর্ণনা যেমন হয়, সংলাপ তেমনই মনে হচ্ছিল (বর্ণনামূলক)। বিশেষ করে যখন রশীদকে তার অন্য জায়গায় আসার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়। লেখকের লেখার গতি পরিমিত। যখন গতির প্রয়োজন হয়েছে, গল্প ছুটেছে। আবার মাঝে মাঝে লাগাম টেনে ধরেছেন। ফলে এ���ন ভয়াবহ এক গল্পের জন্য মস্তিষ্ক শান্ত রাখার ক্ষেত্রে যে সময়ের প্রয়োজন সে সময় পাওয়া গিয়েছে। তবে অপরাজিত’র গল্প বলার সময় গতি একটু বেশি ধীর হয়ে গিয়েছিল। তাছাড়া গল্পের মাঝে মাঝে অতীতকে টান দিয়ে ব্যাকস্টোরির মাধ্যমে বর্তমানের সাথে সংযোগ ঘটানো ভালো লেগেছে। ফলে কাহিনির মূল বুঝতে সুবিধা হয়েছে।
উপন্যাসটি পড়ার সময় কিছু প্রশ্নের উদয় হয়েছিল। সেই প্রশ্নের উত্তর লেখক কিছু অংশে ব্যাখ্যা করেছেন। আবার কিছু অংশে লেখক ব্যাখ্যা না করলেও সূক্ষ্ম সূত্র ছড়িয়ে দিয়েছেন। ২০২২ সাল থেকে আদ্রিয়ান কীভাবে ২০০৬তে গেল, ২০১২ থেকে রুদ্র তার দলবল নিয়ে কীভাবে ২০০৬ এ প্রবেশ করল, এর ব্যাখ্যা বইতে নেই। কিন্তু কারণ উল্লেখ করা আছে। আবার অতিরিক্ত নৃশংসের কারণ ঠিক বুঝতে পারছিলাম না। কেন মস্তিষ্ক থেকে এক বা একাধিক শুঁড় বেরিয়ে আসছিল, তার ব্যাখ্যা লেখক যেভাবে দিয়েছেন যথাযথ মনে হয়েছে। অনেক কেন-এর উত্তর ঠিকঠাক বুঝতে বেগ পেতে হয়। লেখকের জটিল প্লট এখানে বাঁধা সৃষ্টি করে।এছাড়া রশীদের কেন এর পিছিয়ে যাওয়া, এর সঠিক উত্তর পেলাম না। তাছাড়া সায়মাদের কী হলো সেই ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি।
এখানে লেখক মানব চরিত্রের একাধিক অন্ধকার দিক তুলে ধরেছেন। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে অভিহিত করা হলেও কতটা সেরা? বরং নিকৃষ্টতার উদাহরণ রেখে যায়। যেকোনো অভিযোগ, অনাচার, ঘটনায় মানুষ হিংস্র হয়ে ওঠে। যার ফলে প্রতিপক্ষকে প্রতিনিয়ত নিকেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করে। মৃত্যুই এখানে অবধারিত। ধর্মের বিরোধ, মতের বিরোধ; যা-ই হোক না কেন, প্রতিপক্ষের উপর হামলে পড়া ছাড়া আর কোনো কাজ নেই। অপরাজিত’র অন্য ইউনিভার্সের যাওয়ার মধ্য দিয়ে এই সমাজের বেশকিছু গুরুত্বপুর্ণ মুহূর্ত লেখক জীবন্ত রেখেছেন। নিমতলী অগ্নিকাণ্ড, তনুর উপর নির্মম অত্যাচার, রানা প্লাজা বা জুলাই বিপ্লব লেখকের লেখায় এসেছে কল্পনার মধ্য দিয়ে।
এই গল্পের মূল চরিত্র রুদ্র, সিজার কিংবা আরশাদ। যাদেরকে লেখক যেভাবে শুরুর দিকে চিত্রায়িত করেছেন, শেষদিকে এসে চরিত্র ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। ভালো করতে চাওয়ার মধ্যে কখনও কখনও অজান্তেই অন্যের খারাপও হয়ে যায়। রুদ্রকে বেশ মনে ধরেছে। অতিমাত্রায় রাগ নিয়ন্ত্রণের সময় নির্মম হলেও, অন্য সময়ের রুদ্র বন্ধুদের জন্য যে নিবেদিত প্রাণ, এমন এক চরিত্রকে ভালো না লেগে উপায় নেই। বন্ধুকে ভালো রাখার জন্য সবকিছু করতে পারে রুদ্র। তবে অপরাজিত কিংবা সিজারের চরিত্র মানুষের অন্ধকার দিকেরই প্রতিনিধিত্ব করে। যারা নিজেদের স্বার্থের জন্য বন্ধুকেও পরোয়া করে না।
সিরিজের প্রথম বইয়ের চরিত্রগুলো এই বইতে খুব একটা জায়গা পায়নি। তারা ছিল যদিও, তবে গৌণ হিসেবে। মূল চরিত্র হিসেবে নতুন চরিত্রগুলোকে বেশ ভালোভাবেই লেখক ব্যবহার করেছেন। তারা হয়তো এই গল্পের পর আর জায়গা পাবে না, কিন্তু তাদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি “কৃষ্ণকায়া”কে উজ্জ্বল করেছে। কিছু চরিত্র এসেছে, আবার গল্পের প্রয়োজন শেষে হারিয়ে গিয়েছে।
আমাদের চেনা জগতের সমান্তরালে হয়তো অনেক জগতের বিচরণ। যে জগতে আমার মতোই কেউ থাকে ভিন্ন কোনো নামে। সেই প্যারালাল ইউনিভার্সের ব্যাখ্যা ঠিকঠাক বোধগম্য হয়নি আমার। রুদ্র বা রশীদ কীভাবে সেই পৃথিবীতে গেল, তারও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। শুধু এক ডিস্টোপিয়ান পৃথিবী যা প্রায় ধ্বংসের প্রাক্কালে, সেই পৃথিবীকে আরেকটু স্পষ্ট অদল দেওয়া যেত মনে হয়েছে।
◾বানান, সম্পাদনা ও অন্যান্য :
এই বইটির সবচেয়ে দারুণ বিষয় ছিল, খুব বেশি বানান ভুল চোখে পড়েনি। হয়তো দুয়েকটা ছিল, তাও চোখ এড়িয়ে গিয়েছে গল্পের খাতিরে। এমন নির্ভুল বই পড়তে আরাম লাগে। সম্পাদনাও ঠিকঠাক। তবে ওই দুয়েক জায়গায় বাক্যগঠন একটু সমস্যা চোখে লেগেছে।
এই প্রচ্ছদটা সেই! সম্ভবত এবারের বইমেলার সেরা তিন প্রচ্ছদের একটা। দেখলেই এক ভয়াল মহাপ্রলয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ডিস্টোপিয়ান এক সময়ের মহাপ্রলয়।
ঋদ্ধ প্রকাশের প্রোডাকশন কোয়ালিটি নিয়ে অভিযোগ করার কোনো জায়গা নেই। বরাবরের মতো দুর্দান্ত
◾পরিশেষে, শেষটাও কেমন ধোঁয়াশা, ঠিক অবিনশ্বরের মতো। অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর মিলল না। তবে লেখক তার মঞ্চ প্রস্তুত করে রেখেছেন। পুরোনো চরিত্রগুলো নতুন রূপে তৈরি হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে অপভ্রংশ। কৃষ্ণকায়া যার মুখোমুখি হবে। খারাপ তো প্রত্যেকেই। কম খারাপের বিজয়ে হয়তো পৃথিবী কিছুটা স্বস্তি পাবে। মৃত্যু ও অমরত্বের এই লড়াইয়ে জিতবে কে?
◾বই : কৃষ্ণকায়া ◾লেখক : সাজ্জাদ সিয়াম ◾প্রকাশনী : ঋদ্ধ প্রকাশ ◾প্রকাশ সাল : বইমেলা ২০২৫ ◾ পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৩২০ ◾মুদ্রিত মূল্য : ৫০০ টাকা ◾ব্যক্তিগত রেটিং : ৪.২/৫
"মস্করা করতেসো! অই রিচুয়াল তোমারে এক্সাইটেড করে ফেলসে! স্বপ্নে দেখসো তিন বার! সাকিব!!! তোমার ব্রুটালিটিতে প্লিজিং ফিল পাওয়াটা দিন দিন উইয়ার্ড হচ্ছে না?", আধকাপ কফি মগের চিপা থেকে চিন্তার সুর পাওয়া যাচ্ছে। যার গলায় চিন্তার সুর পাওয়া যাচ্ছে তিনি অবশ্য আমার লাইফের হামিদা বেগম নন। ভদ্রমহিলা অরোরার ছায়া বলতে পারেন। আপনারা অরোরাই পড়ুন কেমন? লিটারেলি অরোরা নয়। জাস্ট অরোরা!
"না ম্যাডাম ডার্কেস্ট ডিজায়ারকে আপনি উইয়ার্ড ফেটিস বলে প্রশ্ন বিদ্ধ করতে পারেন না!!! That's just not fucking fare! JUST NOT!" আমার উত্তরের ধাচ হয়তো অরোরার কানে শেলের মতো বিঁধেছে। এক্সাইটেড হয়ে গেলে ভুলভাল ইংরেজিতে বলাটা উনার যে পছন্দ হয়নি চোখ মুখ আর ভ্রুকটিতেই স্পষ্ট ভেসে উঠেছে। কষ্ট করে লাল চোখে চশমা লাগিয়ে আর দেখতে হচ্ছে না! কিন্তু এতটা এক্সাইটেড হওয়ার তো কথা ছিল না আমার! একটা বই এভাবে মানসিক ভাবে একটা মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে! Holy SHIT!! "What's fascinate you The most?”, আমার বেলাই আমারেই মেয়াও করতেছে ব্যাপারটা আমারও কান এড়ালো না! আই ডিজার্ভ দ্যাট! “বোদ্ধাদের মতো বলা আমার কোনো কালেই সাজে নাই ম্যাডাম! বাট দাগ কেটেছে কনসেপ্ট! লেইসার এভিল আর ওর্ষ্ট এভিলের অদ্ভুত এক মায়া জাল। ছিন্ন করা টাফ।“, আমার এইটুকু উত্তরে খুশি নাকি বেজার বোঝা যাচ্ছে না। এই মুহুর্তে যেন সামনের মানুষটা আমার সামনেই নেই! নেই মানে একেবারে ছায়া আর কায়ার মাঝামাঝি ধোয়াশায় ঝুলে আছে! ফাক! হ্যালুসিনেশন হচ্ছে নাকি! আরে ধুর এক বইয়ের ঝাল নিতে পারবো না! দুই দিনের বৈরাগী হলে কথা ছিল! কিন্তু………………
“তুমি কিছুদিন এসব থেকে দূরে থাকো! জুলাইয়ের ট্রমা থেকে বের হওয়ার জন্য তোমাকে লাইট মুভি সিরিজ সাজেশন করলাম! তুমি রিওয়াচ দিলা ডেক্সটার! এখন আবার এসব বই!”, গলায় নিখাদ টেনশন! That’s not her. Feels like she if from another world! অরোরার গলায় আমার জন্য চিন্তা! পুরাই লা হাওয়া ওয়া কুয়াতা ইল্লাবিল্লাহ অবস্থা! নাকি আমার অবস্থাটাই এমন! ব্রুটালিটিতে মজা পাওয়া শুরু করে দিলাম না তো! ডেক্সটারের ডিটেইলিং কিংবা রুদ্রের ধিপধাপ! এসবে চোখের আরাম আর মনের সুখ পাওয়াটা কী সুস্থ স্বাভাবিকতার লক্ষণ?
“কিন্তু আপনি তো ঠিকই আমারে অবিনশ্বর পড়াইছিলেন? তখন তো এত গীত গান নাই!”, উত্তর জানা থাকলেও মাঝেমধ্যে প্রশ্ন করার যে শান্তিটা পাওয়া যায় সেটার কেমন বুঝতে পারার আগেই কথার বাণ তেরে এলো আমার দিকে! “কারণ অবিনশ্বর ডার্ক সাইকোলজিকাল থ্রিলার ছিল! আর এইটার তুলনায় ঐটা শিশু সমতুল্য! যে পরিমাণ ডিটেইলিং ভায়োলেন্স শব্দে শব্দে মেলে ধরা হইসে ঐটা তোমার কন্ডিশনের জন্য খারাপ এইমুহুর্তে”, নিখাদ টেনশন অ��োরার গলায়। আমি কিছু বলতেসিনা এইমুহুর্তে। সারাদিন রোজার পর এই লাচ্চির সাথে হালিমের সাথে উনার টেনশন বিরিয়ানির এলাচের মতো জিহবায় লাগতেসে। “কিছু সিকোয়েন্সে আমার গা গুলিয়ে উঠেছে। চার পাঁচ টা সিন আছে এত্ত ব্রুটাল আর লার্জার স্ক্লে করা ভাবতেও গা শিওরে উঠেছে!”, অরোরার চোখে ভেসে উঠেছে রুদ্রের সেই সিন!? নাকি অল্টারনেট ওয়ার্ল্ডের হরিফাইং সেই ডিটেইলিং! Who knows! “আপনি ব্রুটালিটির আড়ালে কিন্তু আসল কথাই বলছেন না!”,টানা দুইটা নান শেষ করে এখন পরের লটে আসা পরোটার দিকে হাত বাড়াচ্ছি! হালিমের বাটিতে যা আছে এখনো দুই তিনটা পরোটা অনায়াসে চালান করে দেয়া যাবে! “কী আসল কথা?”, জিজ্ঞাসা করলেন অরোরা। “মাল্টিপল টামলাইন, মাল্টিপল ইউনিভার্স এসবের ওয়েল প্লেইন্ড এক্সিকিউশন তো বইয়ের আসল ইনগ্রেডিয়েন্ট! আর টাইমলুপের যে গোটা ব্যাপারটা! এইভাবে ক্রিটিকালি সব এলিমেন্ট গোছানো আর প্রায় জলবত তরলং করে দেয়াটাই তো বইয়ের আসল ক্যালমা! অহেতুক ফিলোসফি। আর ইনফরমেশন ডাম্পিং এর মতো অযাচিত আরোপিত বোঝা চাপিয়ে দেন নি।", থামলাম আমি। “বুঝতে পারসি! এবারে ব্যাকল্যাশিং আর খামতির পরিমাণ একেবারেই কম! এটা আমিও বুঝেছি!”, নিপাট সহমত ভাই হয়ে গেছেন এইমুহুর্তে! “ডার্ক তো দেখসিলেন! সেখানে যে মিরর ডাইমেনশনের গল্পের স্পেশালিটি কী ছিল?? একেবারে আয়নার মতই না? এই বইতে অল্টারনেট ইউনিভার্সের সবচেয়ে সিনিফিকেন্ট হচ্ছে ইউনিভার্স ভেদে গল্পের চরিত্রের কিছুটা চেঞ্জ!”, শেষ হয়ে আশা পরোটা একেবারে পেটে চালান করে দিয়ে চিবুচ্ছি! হালিমটা শেষ হয়েছে খানিক আগেই। কফি খেয়ে দান শেষের আশায় বসে আছি দুইজনেই। গ্রীন ভিলেজের কফি! ঠেকা কাজ চালানো যায় আরকি! “এসবের বাইরে কিছু জাম্প মোমেন্ট ছিল আমার কাছে। একেবারে রিয়াল মোমেন্ট। ট্রিবিউট দেয়াটা বেশ লাগছে!”, চোখ কিঞ্চিত ভিজে এলো আমার। “তোমার দেখি আসলেও ভালো লাগসে!”, কিঞ্চিত বিস্ময় অরোরার গলায়! এখনো মানতে পারছেন না এই মার মার কাট কাট জিনিস আমি দুই বসায় কেমনে হজম করে ফেলেছি! এমন পেজ টার্নার বই মার্চেই প্রথম পেলাম রীতিমত গুজবাম্প দিয়ে গেছে। দ্যা ডেভিলের অধ্যায়টার পরে আর ঘুমাতেই পারিনি বই ফেলে। প্রত্যেকটা সিনের এত সুন্দর বর্ণনা যেন শরীরে লেপ্টে থাকে। রক্তের গাঁ গুলানো গন্ধ বইয়ের পাতা ভেদ করে এসে লাগে নাকে মুখে হাতে। একেবারে জীবন্ত যেন। “তুমি কিছুদিন এই জনরা থেকে দূরেই থাকো! ব্রুটালিটি থেকে কেমন!”, গলায় এবার অনুনয়ের সুর! আমি উত্তর না দিয়ে মুচকি হাসি দিলাম! আমার হাসি দেখে হাসছে আকাশ, হাসছে বাতাস হাসছে এ ধরণীও। আচ্ছা, এ নিগূঢ় মুচকি হাসির রহস্য কী? আমি জানি না। কৃষ্ণকায়া জানতে পারে! নাকি অপভ্রংশ জানবে? Who knows!
লেখক সাজ্জাদ সিয়ামের পাঠক সমাদৃত সাইকোলজিক্যাল ও হরর থ্রিলার "অবিনশ্বর" এর দ্বিতীয় সিকোয়েন্স হলো "কৃষ্ণকায়া"। তবে, এই বইটি এর প্রথম সিকোয়েন্স "অবিনশ্বর" - এর মতো শুধুমাত্র মানুষের সাইকোলজিক্যাল ত্রুটির কারণে ঘটা অপরাধ বা রহস্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, "কৃষ্ণকায়া" - এর গণ্ডি আমাদের এই অতি পরিচিত পৃথিবীর সীমানা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে এক অজানা ও অসীম মহাবিশ্ব তথা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের রহস্যের গোলকধাঁধায়...
কাহিনী সংক্ষেপ: "কৃষ্ণকায়া" হলো এক অসীম ক্ষমতার অধিকারী অবিনশ্বর সত্তা, যে আমাদের এই চেনা পরিচিত পৃথিবীতে অবতরণের মাধ্যমে এই পৃথিবীর মানুষকে তথা তার অনুসারী 'কায়া' গোষ্ঠীর সদস্যদের প্রদান করবে মৃত্যুকে জয় করার ক্ষমতা অর্থাৎ অবিনশ্বর হওয়ার ক্ষমতা। কাহিনীর সূত্রপাত ঘটে তিন ভ্রাতৃসম বন্ধুদের জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু নৃশংস ও অকল্পনীয় ঘটনাবলীর মাধ্যমে, যার সুতোর ডোর ছিল তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া অতীতের এক কালরাত্রির মধ্যে। গল্প যত সামনে এগোতে থাকে, কাহিনীর দৃশ্যপট ততো বীভৎস থেকে বীভৎসতর হতে থাকে। সেই তিন বন্ধুর সাথে ঘটা সেই অকল্পনীয় ঘটনার সমাধান বের করতে গিয়ে তাদের সাথে দেখা হয় "অবিনশ্বর" বইয়ের কেন্দ্রীয় চরিত্র 'আদ্রিয়ান' - এর।
একটা সময় গল্পের কাহিনী মোড় নেয় এমন এক পর্যায়ে, যেটি আমাদের চিন্তারও অতীত। টাইম ট্রাভেল থেকে শুরু করে প্যারালাল ইউনিভার্স, জীবন্ত মানুষ থেকে জন্ম নেওয়া নারকীয় জন্তু, নিশ্চিত মৃত্যু থেকে কাঙ্খিত অবিনশ্বরতা - সবকিছুর মিশেলে লেখক রচনা করেছেন এমন একটি মাস্টারপিস, যেটি বহুবছর ধরে পাঠকের স্মৃতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব সৃষ্টি করতে সক্ষম। শেষ পর্যন্ত মানুষ কি সক্ষম হবে অবিনশ্বরতা লাভ করতে? নাকি কালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে আমাদের এই মানব সভ্যতাসহ সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ড! উত্তর জানতে নিমগ্ন হতে হবে "কৃষ্ণকায়া" -র পাতায়।
ব্যক্তিগত অভিমত: "কৃষ্ণকায়া" এমন একটি বই, যেটি পড়তে গিয়ে পাঠক নিঃশ্বাস নিতে ভুলে যাবে। ভিতরে অস্বাভাবিক ভয়াবহতা কাজ করলেও শেষ পর্যন্ত যে বইটি পড়ে শেষ করতে পেরেছি, সেটা আমার নিজের কাছেও আশ্চর্যকর লেগেছে। লেখক এত দক্ষতার সাথে ও সাবলীল ভাষায় গল্পে ঘটা অকল্পনীয় ও অচিন্ত্যনীয় ঘটনাগুলোকে ফুটিয়ে তুলেছেন যে, আমার মনে হচ্ছিল যেন হলিউডের কোনো হরর/থ্রিলার মুভির স্ক্রিপ্ট পড়ছি। যতবার বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাচ্ছিলাম, মনে হচ্ছিল আমি জাগতিক দুনিয়া থেকে বহুদূরের কোন অচেনা জগতে চলে যাচ্ছিলাম। "অবিনশ্বর" বইটি পড়ার পরে মনে যে ধোঁয়াশা থেকে গিয়েছিল, তার অধিকাংশই চলে গিয়েছে এই বইটি পড়ার পরে। মনের মধ্যে থাকা অনেক প্রশ্নের উত্তর আমি বইটি পড়তে গিয়ে পেয়েছি। বইটি এতো ভালো লাগার পিছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে প্যারালাল ইউনিভার্স ও টাইম ট্রাভেলের গভীর কিন্তু সাবলীল বর্ণনা, যেটি বরাবরই আমার অত্যন্ত আগ্রহের বিষয়। তবে, বইটির মধ্যে যে বর্বর ও নৃশংস দৃশ্যাবলীর বর্ণনা রয়েছে, সেটি দুর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য অনুপযুক্ত বলে আমার মনে হয়। তাই সেই প্রকৃতির পাঠকদের কাছে বিশেষ অনুরোধ থাকবে বইটি পড়ার আগে দ্বিতীয়বার চিন্তা করে নিবেন।
"যে যে জন্মেছে, তার মৃত্যু নিশ্চিত। তবে মরণের শেষ নয়; কর্মই ভবিষ্যৎ জীবন নির্ধারণ করে।" গৌতম বুদ্ধ।
"কুল্লু নাফসি যায়িকাতুল মউত।" কুরআন শরীফ।
কৃষ্ণকায়া লিখেছেন সাজ্জাদ সিয়াম।
প্রত্যেকটি জীবকেই একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে—এ সত্যই ধরনীর একমাত্র অনিবার্য নিয়তি। তবে এই অমোঘ সত্যটিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল একদল মানুষ। মৃত্যুর মিছিল, গভীর সাইকোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার এবং এক রহস্যময় গুপ্ত সংগঠনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত হয়েছিল বই ‘অবিনশ্বর’। এক শহরের সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে আসে এক অদ্ভুত কালো ছায়া। বহু অজানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে পাঠককে ছুটে যেতে হয় এক প্রত্যন্ত গ্রামে। হতাশা, ভয়, এবং গভীর একটি প্রশ্নের সঙ্গে শেষ হয় সেই গল্প।
আর ‘কৃষ্ণকায়া’ সেই ধারাবাহিকতারই দ্বিতীয় সংকলন।
সত্যজিৎ রায়ের ‘আগুন্তক’ সিনেমার এক দৃশ্যের কথা মনে পড়ে—উৎপল দত্ত আলতামিরা গুহার বাইসেন আঁকা ছবির কথা শুনে আর্ট করা ছেড়ে দেন। ‘কৃষ্ণকায়া’ তেমনই একটি জায়গা দখল করতে চলেছে এ দেশের সাহিত্যে। এমন কিছু লেখা মাঝে মাঝে আসে, যা পরবর্তী প্রজন্মের লেখকদের কলম চালানোর আগে দশবার ভাবতে বাধ্য করে।
আমরা যেমন ডিটেকটিভ গল্প পড়ার সময় বলি—‘এটা তো সার্লকের মতো নয়’, থ্রিলার পড়ার সময় বলি—‘ড্যান ব্রাউনের মতো হলো না’, কিংবা হরর গল্পের ক্ষেত্রে ভাবি—‘কিং-এর মতো হয়নি’, ঠিক তেমনই, এ দেশে যখন কেউ টাইম ট্রাভেল বা প্যারালাল ইউনিভার্স নিয়ে লিখতে বসবে, তখন তাকে একবার ভাবতেই হবে—‘কৃষ্ণকায়া’র মতো হচ্ছে তো?’
সাহসী কল্পনাশক্তি, নির্মোহ দর্শন আর বাস্তবতার সীমারেখা মুছে দেওয়া এক সাহিত্যিক সাহসের নাম—‘কৃষ্ণকায়া’।
গল্পের দু-তিন লাইন উপন্যাসের পিঠ থেকে:
"সেনাবাহিনী ছেড়ে আসা রুক্ষ ও পোড়খাওয়া রুদ্র আফসারের জীবনে ঘটতে থাকে একের পর এক অস্বাভাবিক ঘটনা। সে নিজ চোখে দেখে এক ভয়ংকর, ছাগলের মাথাওয়ালা দুপেয়ে প্রাণী—যার কপা��ে জ্বলজ্বল করছে রক্তাক্ত ত্রিভুজ! দুঃস্বপ্ন নাকি বাস্তব? কিন্তু যখন তার দুই কাছের বন্ধুও সম্মুখীন হয় অপার্থিব ও ভয়াল কিছু ঘটনার, তখন সবকিছু আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে।"
আমি যখন ‘অবিনশ্বর’ পড়ছিলাম, তখন কখনও কল্পনাও করিনি যে এই গল্পের পরবর্তী অধ্যায় এত বড় একটি মোড় নিতে পারে। যে মোড় আমাদের নিয়ে যাবে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এক গভীর প্রশ্নের মুখোমুখি—‘আমরাই কি একা?’। পড়া শুরুর সময় ভেবেছিলাম, এটিও হয়তো একটি স্ল্যাশার ঘরানার থ্রিলার হবে। রোলার কোস্টার রাইডের মতো উত্তেজনা আর কিছু রহস্যের জট খুলবে। সেই ভেবেই খানিকটা ঢিলাঢালাভাবে বইটি পড়া শুরু করেছিলাম।
শুরুটাও অবিনশ্বর এর মত ছিলো। কিন্তু ১৫০ পাতার পর, হে সাজ্জাদ ভাই এ আপনি আমায় কোথায় নিয়ে গেলেন? আমি লিটারেলি সব জায়গায় এই বইটাকে নিয়ে ঘুরে বেরিয়েছি।
একটা অসম্ভব ভালো থ্রিলার স্ল্যাশার থেকে কৃষ্ণকায়া হয়ে উঠেছে মাস্টারপিস! আমি সচরাচর কোন জিনিসকে মাস্টারপিস বলার আগে ১০০ বার ভাবি এবং কৃষ্ণকায়া সেই জায়গাটা অর্জন করেছে।
এই বাংলাদেশে কেউ Dark লেভেলের স্টোরি পুলঅফ করতে পারবে আর তাও সেটাকে সম্পুর্ন ঠিক রেখে এইটা আমি কল্পনাও করতে পারি নাই। Dark আমার পার্সোনাল অলটাইম ফেভারিট সিরিজ। তাই অবশ্যই খুবই সেন্সিটিভ একটা জায়গায় সেটার অবস্থান। একটুও গর্বর হলে আমি এই উপন্যাসকে অনেক অনেক বাংলায় ঝারতাম। কারন অনেক পটেনশিয়াল থাকা কোন জিনিস নষ্ট হলে আমার মন মেজাজ অনেক খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে হই নাই। বরং অজান্তেই চোখের কোনা দিয়ে এক ফোটা আনন্দের অস্রু বেড়িয়ে এসেছে। কেন জানেন?
কারন আমি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের এমন একটি পর্যায়ে রয়েছি যেখানে একটা বড় ট্রানজিশন হচ্ছে। "Maybe one of the greatest transitions ever."
অবিনশ্বর কে ৫/৫ দিয়েছিলাম আর কৃষ্ণকায়াকে মাপার স্কেল আমার কাছে নেই, কারও কাছে থাকলে জানাবেন।
সাজ্জাদ সিয়াম নামটা আমি প্রথম শুনেছিলাম “অবিনশ্বর” বইটা নিয়ে লোকজন অনলাইনে হইচই শুরু করার পর। ভাবছিলাম নতুন লেখক, হয়তো সেই পুরনো থ্রিলার ঘরানার জিনিস হবে। কিন্তু আইডিয়া পাওয়ার জন্য শুরুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় সাজ্জাদ সিয়ামের লেখা ছোটগল্পগুলো পড়া শুরু করে বুঝলাম, না ব্রো, এই লোক ঠিক “পুরনো ধাঁচের” কিছু লেখে না। বরং উদ্ভট ক্রিপি বিষয় আশয়, রহস্য, কাল্ট, শেষ মুহূর্তের টুইস্টের মাঝে দিয়ে গল্পের জনরাই পরিবর্তন করে ফেলা— এসব এই লোকের জন্য নিত্যদিনের কাজ। আর এমন এক ব্যক্তির লেখা স্ল্যাশার হরর থ্রিলার ইত্যাদির মিক্সচার সিরিজ হাইপ তোলাটাই স্বাভাবিক তা বুঝে গিয়েছিলাম তখনি।
পরবর্তীতে একসাথে সিরিজের দুইটা বইই নেয়ার ইচ্ছে থাকলেও বিভিন্ন কারণে সম্ভব হচ্ছিলো না। তবে গত মাসে যখন বই দুইটা অবশেষে হাতে আসলো তখন আর দেরি না করে পড়তে বসে গিয়েছিলাম অবিনশ্বর। রক্তের নেশায় বুঁদ এক সিরিয়াল কিলারের আবির্ভাবে তটস্থ শহরের পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এর এসআই রশীদের সাথে স্কুল টিচার আদ্রিয়ানের অভিযান রক্তহিম করা সাইকোলজিক্যাল স্ল্যাশার থ্রিলারের স্বাদ দেবে যে কোনো পাঠককে। স্ল্যাশার থ্রিলার বিষয়টা যদিও বাংলা ফিকশনের জগতে খুব অপ্রচলিত সংযোজন। মনোয়ারুল ইসলামের গল্পে কিছুটা থাকলেও আর কেউ তেমন কাটাকুটি বা ভায়োলেন্সে ভরপুর গল্প লিখেছেন বলে চোখে পড়েনি। সাজ্জাদ সিয়াম অবিনশ্বর বইয়ের মাধ্যমে সেই অভাব পূরণ করে দিয়েছেন বলেই মনে হবে অবশ্য। মাঝে গল্পের বিভিন্ন অংশে অনেক প্রশ্ন মাথায় প্রশ্ন আসলেও বইয়ের শেষ নাগাদ কিছু প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন আর বাকি প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া যাবে সিরিজের পরের বইগুলোতে। সব মিলিয়ে পাঠককে একেবারে শেষ ক্লাইম্যাক্স পর্যন্ত ঘোরের মাঝে রাখবে "অবিনশ্বর", বিশেষ করে কে আসল খুনী তা এতটাই আনপ্রেডিক্টেবল যে ক্লাইম্যাক্সে এসে বেশিরভাগ পাঠকই তব্দা খেয়ে যাবেন।
তবে অবিনশ্বর শেষ করে যখন "কৃষ্ণকায়া" পড়া শুরু করলাম, তখন কিছুটা ঝামেলা লেগে গেলো। একবার মনে হলো—আরে, এই যে হালকা “ডার্ক” সিরিজ এর গন্ধ পাইতেসি, এই যে টাইমলাইন গুলায় গোল পাকাচ্ছে, এটা তো বাংলা থ্রিলারে আগে খুব একটা পাইনি! এরপরে মনে হলো, একবার এই সময়ে এই চরিত্রের কথা হচ্ছে আবার পরের চ্যাপ্টারেই অন্য চরিত্র নিয়ে ভিন্ন একটা সময়ের কথা হচ্ছে, আবার তার পরের চ্যাপ্টারে একই চরিত্র অতীত বা ভবিষ্যতের অন্য সময়ে দৌড়াচ্ছে, এই কাহিনী তো তাল ঠিক রাখছে না। মাঝে মাঝেই অসংখ্য লুপহোল তৈরি হয়ে যাচ্ছে মনে হচ্ছে যার উত্তর বইতে পরবর্তীতে আসলেও আবার নতুন প্রশ্নের উদ্ভব ঘটাচ্ছে। সব মিলিয়ে আগের বই থেকে শুরু করে কৃষ্ণকায়া পর্যন্ত বইয়ের গল্প সাধারণ থ্রিলার হিসেবে শুরু হয়ে স্ল্যাশার সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, মিস্ট্রি ও হরর হয়ে শেষ পর্যন্ত সুপারন্যাচারাল ও ফ্যান্টাসির হালকা ছিটেফোঁটা সম্পন্ন এমন এক মিশ্র জনরার ইউনিভার্স তৈরি করেছে যে পাঠকের মাথায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হিসেবে আগে এটাই আসবে, "এই লেখক মাথায় আসলে কী নিয়ে ঘুরে?"
মজার বিষয় হলো সমগ্র এই সাসপেন্স স্টোরির মাঝে মানবজাতির নিজস্ব এক্সিস্ট্যান্স, মানবজাতির এই পৃথিবীতে আগমনের হেতু, কীসের প্রেরণায় মানুষ সারভাইভ করছে ও জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে কী থাকা উচিত বা কী অর্জন করা উচিত মানবজাতির আল্টিমেট গোল হিসেবে সেই সংক্রান্ত ভালো কিছু ফিলসফি আছে। মিস্ট্রি থ্রিলার, সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার এসব সাব জনরায় ফিলসফির টাচ থাকলেও হরর থ্রিলার বা ভায়োলেন্স সম্পন্ন সাসপেন্স সুপারন্যাচারাল থ্রিলারের মাঝে যে দর্শন ফুটিয়ে তোলা সম্ভব তা বাংলা সাহিত্যে মনে হয় এর আগে কেউ এভাবে ইমাজিন করেন নাই।
সোজা কথায়, অবিনশ্বর ও কৃষ্ণকায়া বই দুইটি একসাথে মিলে আমার অভিজ্ঞতাটি হয়েছে এমন- যার মাঝে ভয় আছে, সাসপেন্স আছে, রহস্য আছে, অবাক হওয়ার বিষয় আছে, গা গুলানো ক্রিপি ভায়োলেন্স আছে আর সবকিছুর মাঝে লুকিয়ে আছে কিছু দার্শনিক প্রশ্ন।
অবিনশ্বর এর শুরুটা হয় ভয়ঙ্করভাবে—একটা শহর, একের পর এক মাথা কাটা লাশ, আর পুলিশের প্রায় কেঁদে পড়ার দশা- এই রকম সাইকো নাকি আগে দেখেনি তারা। এসআই রশীদের ভাষায় রক্তচোষা সাইকো।
এইদিকে আমাদের গল্পের শুরুতে দেখানো প্রধান চরিত্র আদ্রিয়ান, সে একেবারে বিপরীত মেরুর লোক। একটা স্কুলের ম্যাথ টিচার, ক্রনিক ডিপ্রেশনে ভোগে, মানুষ এড়িয়ে চলে, কেন যেন লেখক সাজ্জাদ সিয়াম এই চরিত্রে নিজেকেই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন বলে মনে হলো। তো ঘটনাক্রমে সে জড়িয়ে পড়ে এই খুনের রহস্য সমাধানে, আর এখান থেকেই শুরু হয় তার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অধ্যায়।
তবে এটা শুধুই সামান্য সিরিয়াল কিলিং না, এখানে আছে এক গোপন কাল্ট, যারা অমর হতে চায়। তাদের পেছনে আছে এক অদ্ভুত অতিপ্রাকৃত শক্তি যে হয়তো দেবে তাদের অমরত্ব। এই সব মিলিয়ে বুঝা যায় গল্পটা আর কেবল পুলিশের ফাইল নয়, এটা এক অন্ধকার জগতের দরজায় কড়া নাড়া মাত্র।
"অবিনশ্বর" শেষ করতে করতে মনে হলো, ভাই, মানুষ যে মাঝে মাঝে খুব ভয় পাওয়া দুঃস্বপ্ন দেখে তা তো আমি ওভাবে কখনো দেখিনি, কিন্তু দুঃস্বপ্ন দেখলে তা কেমন হতো তা মনে হয় বুঝলাম। আর লেখকের বুনোন এমন, যে পাঠক হিসেবে আপনি ঠিক প্রেডিক্ট করতে পারবেন না পরের পাতায় কী আসছে— ফলে একটা অস্বস্তিকর উত্তেজনা সবসময় গায়ে মাখা থাকে���
ত�� "অবিনশ্বর" যেখানে থামে, "কৃষ্ণকায়া" ঠিক সেখান থেকেই শুরু হয় না আর দশটা সিক্যুয়েলের মতো। একটু ভিন্ন সময়কালে কৃষ্ণকায়া যাত্রা শুরু করে। তবে এবার ক্যারেক্টার চেঞ্জ—এসে পড়ে রুদ্র, সাবেক এক সেনা, যার জীবন রাতারাতি অদ্ভুত হয়ে যায়। সে দেখে ছাগলের মাথাওয়ালা এক দানব, যার কপালে লাল ত্রিভুজ। স্বপ্ন নাকি বাস্তব, সে-ও বুঝে না।
তার বন্ধুদেরও একই অভিজ্ঞতা—আর ঘাড়ের পেছনে ভেসে ওঠা এক অদ্ভুত চোখের চিহ্ন যেন ঘোষণা দেয়, “তোমরা সবাই চিহ্নিত।” তখনই উঠে আসে পুরনো এক ডায়েরির গল্প, সিলেটের গহীন অরণ্যে ঘুরে আসা এক কাল্পনিক ট্রিপ, যার রেশ পড়ে এখনকার জীবনে।
এই বইয়ে আগের পরিচিত চরিত্র আদ্রিয়ান আর রশীদ আবার আসে, সাথে আসে সেই অবিনশ্বর মানবী, যে প্রথম বইতে মিলিয়ে গিয়েছিল। তার মুখ দিয়ে উঠে আসে নতুন আরেক ভয়ঙ্কর অতিপ্রাকৃত শক্তির অস্তিত্বের গল্প।
তবে এখানে গল্প ��েবল সাইকো থ্রিলার নয়, বরং সাথে হালকা ফ্যান্টাসি ও সাইফাইয়ের এলিমেন্ট সহ সম্পূর্ণ অতিপ্রাকৃতের জগতে ডানা মেলে দেয়। মজার বিষয় হলো টাইম ট্রাভেল, সমান্তরাল টাইমলাইন, মাল্টিভার্স—যে বিষয়গুলোর ব্লেন্ড আমরা নেটফ্লিক্সের সিরিজে দেখি, সেইসব এই বইতে একেবারে বাংলায় পড়তে পারছি!
তবে একাধিক অতিপ্রাকৃত শক্তির মাঝে মানবজাতির পক্ষ নিবে কোন অন্ধকার শক্তি? কৃষ্ণকায়া পড়ার পর এই দুই বইয়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ আমার কাছে হলো—এখানে কোনো “হিরো বনাম ভিলেন” ক্লাসিক টেমপ্লেট নেই। কৃষ্ণকায়া আর অপভ্রংশ—দুইই অশুভ শক্তি। কিন্তু সারভাইভ করার জন্য মানুষকে বেছে নিতে হবে, কে কম খারাপ? কে একটু হলেও রেহাই দিতে পারে?
এই দারুণ দ্বন্দ্বটা সিরিজটাকে শুধু “একটা থ্রিলার” না রেখে, বরং একটা ফিলোসফিক্যাল কনফ্লিক্ট বানিয়ে দেয়। মানুষের কি কখনো আসলে অমর হওয়া উচিত? নাকি মৃত্যুই আমাদের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ?
প্রথম বই নাকি দ্বিতীয়? কোনটা বেশি জমেছে? "অবিনশ্বর" ছিল টানটান, চমকে দেওয়া, একদম পেজ টার্নার। পড়তে পড়তে মনে হতো, কোথা থেকে কী আসবে বুঝতেই পারছি না। কনসেপ্ট ক্লিয়ার, ভয় জেনুইন।
এই জায়গায় "কৃষ্ণকায়া" ছিল অনেক বেশি অ্যাম্বিশাস। একাধিক টাইমলাইন, অতিপ্রাকৃত শক্তির উপস্থিতি, অতীত ও ভবিষ্যতের ইমপ্যাক্ট—সব একসাথে জুড়ে দিতে গিয়ে মাঝে মাঝে কনফিউশন লাগতে পারে। এরকম কিছু কনফিউশনের জায়গা নিয়ে চেষ্টা করবো ভিডিও এপিলগে আলাপ করতে। তবে এই বইটা ছিল আসলে এক্সপ্লোরেশনের জায়গা—যেখানে লেখক চেয়েছেন “আরও বড় গল্প” বলতে। আর জুড়ে থাকা কনফিউশনগুলোও পরবর্তী পর্বগুলোতে হয়তো নিজেদের গিঁট খুলে ফেলে উন্মুক্ত করবে রহস্যের জাল।
শতভাগ নিখুঁত না হলেও, কৃষ্ণকায়া অবশ্যই বাংলা থ্রিলারের ইতিহাসে সাহসী একটা অ্যাটেম্পট।
এই সিরিজটি স্রেফ একটা থ্রিলার ছিল না। সাজ্জাদ সিয়ামের লেখায় একটা বিষয় স্পষ্ট, তা হলো—উনি সাহিত্যের ঘরানার বাঁধাধরা নিয়ম মানতে আগ্রহী না। কখনো সাইকোলজিকাল থ্রিলার, কখনো হরর, কখনো ভিন্ন এক ওয়ার্ল্ড এর হালকা গ্লিম্পস—সব মিলিয়ে একটা স্পেসিফিক জনরার বাইরে যেয়ে কিছু বানাতে চেয়েছেন। সিরিজটি বাস্তবের ছায়ায় দাঁড়িয়ে নেই, বরং এটা পুরোপুরি এক অন্ধকার ও বিকট জগতে পা রাখে—যেখানে আপনার জ্বরের ঘোরে দেখা অস্বাভাবিক দুঃস্বপ্নের চেয়েও ভয়ংকর কিছু ঘটে বাস্তবেই।
“অবিনশ্বর” আর “কৃষ্ণকায়া” তাই শুধু ভয় পাওয়ার গল্প নয়—এটা এক বিশাল জগতের শুরু, যেখানে সামনে অপেক্ষা করছে অপভ্রংশ বনাম কৃষ্ণকায়া, অমরত্ব বনাম মৃত্যু, আর মানবজাতির জন্য হয়তোবা শেষ লড়াইয়ের আভাস।
প্রথম বইটি ২০২৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ঋদ্ধ প্রকাশ থেকে। পরবর্তীতে ২০২৫ এর বইমেলায় বইটির দ্বিতীয় মুদ্রণ ও কৃষ্ণকায়া প্রকাশিত হয়েছে। মেলায় সিরিজটি এতটাই হাইপ তৈরি করেছিল মেলাতেই প্রথম পর্বের দ্বিতীয় মুদ্রণ শেষ হয়ে যায়। আর এই জায়গায় প্রকাশনীর প্রশংসা করতেই হবে। চমৎকার ঝকঝকে ছাপা, সুন্দর মানের কাগজ, আকর্ষণীয় প্রচ্ছদ, প্রায় নির্ভুল এডিটিং সব মিলিয়ে বর্তমান বাজারের হিসেবে টপ নচ প্রোডাকশন উপহার দিয়েছে তারা। দুইটি বইয়ের প্রচ্ছদই করেছেন পরাগ ওয়াহিদ। ইন্টারেস্টিংলি ভালোভাবে অবজার্ভ করলে দুইটি বইয়ের থিমই তাদের প্রচ্ছদ দেখলে টের পাওয়া যায়। ভালো অবজার্ভাররা এটা শুরুতেই খেয়াল করতে পারেন, আবার কেউ কেউ বই পড়ে শেষ করার পরেও টের পেতে পারেন।
This entire review has been hidden because of spoilers.
ঘাড় থেকে অর্ধেক ছিড়ে ডান দিকে কাত হয়ে কোনো রকমে চামড়ার সাথে ঝুলতে থাকা একটা মানুষের মাথা,সেই গলার ছেঁড়া খালি অংশটুকু থেকে আরেকটা শরীর ফুঁড়ে বের হওয়া কুকুরের মাথা, বৃহদাকৃতির অস্বাভাবিক দেহের ভয়ংকর মাংসাশী বিড়াল, ২ ফুট লম্বা শিংওয়ালা, পিঠের ছাল-চামড়া সহ মাংস সব শরীরের দু পাশে ঝুলে থাকা এবং মুখ থেকে বাইরে বের হওয়া আধহাত জিহ্বা সহ বিভৎস এক ছাগল। একটা চোখ,একটা ত্রিভুজ আর সেই ত্রিভুজের ভেতরে চোখসহ একটা ছবি,একটা ত্রিকোনাকার কবর সদৃশ গর্ত কিসের যোগসূত্র এদের মধ্যে?? কয়েকজন বন্ধুর ভয়ঙ্কর সব পরিকল্পনা, অভিযান,বিশ্বাস ঘাতকতা,মায়া-মততার বেড়াজাল, দুই বা ততোধিক প্যারালাল ইউনিভার্সের সাথে আমাদের এই স্বাভাবিক পার্থিব জগতের সূক্ষ্ম যোগসূত্র, পার্থিব জগতের অন্তরালে ঘটে যাওয়া সব অপার্থিব কর্মকাণ্ড, অপ্রভংশ আর অমরত্বের লড়াই, না চাইতেই একসাথে জুড়ে যাওয়া অনেকগুলো প্রান,মহাজাগতিক ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাড়িয়েও অনেকগুলো খন্ড খন্ড দিবসের সংযোগ, অজস্র বলিদান এবং অতঃপর সবকিছুর একই বিন্দুতে এসে মিলিত হওয়ার এক অসম্ভব বিভৎসতায় পূর্ন ঘটনারই সাক্ষ্য এই বই, " কৃষ্ণকায়া"
★ঘটনা সংক্ষেপে : সিজার, আরশাদ এবং রুদ্র নামের তিনজন বন্ধুর সাথে আলাদা আলাদা ভাবে হঠাৎ একদিন গভীর রাতে ঘটতে থাকে অস্বাভাবিক সব কর্মকান্ড যার কোনো ব্যাখা নেই। সিজারের সামনে বিভৎসতা নিয়ে এসেছিলো হঠাৎই মাঝরাতে একসাথে ডেকে ওঠা অর্ধশত কুকুকের বিকট আর্তনাদের চিৎকার,সাহায্যের জন্য পাশের ফ্লাটের ব্যাংকার হাবিবুর রহমান এবং তার ডাক্তার স্ত্রীর কাছে গেলে সেখানের তার সাথে ঘটতে থাকে ভয়ংকর সব অঘটন।হাবিবুর রহমান এবং তার স্ত্রীর ঘাড় থেকে অর্ধেক ছিড়ে ডান দিকে কাত হয়ে কোনো রকমে চামড়ার সাথে ঝুলতে থাকা একটা মানুষের মাথা,সেই গলার ছেঁড়া খালি অংশটুকু থেকে আরেকটা শরীর ফুঁড়ে বের হওয়া কুকুরের মাথা এবং সিজারের চোখের সামনেই তারা খেয়ে ফেলতে থাকে আস্ত মানুষ দুটোকে। প্রতিটি কুকুরের মাথার ২ চোখের মাঝে কপালের নিচে একটা করে ত্রিভুজ আর মাংস চামড়াসহ ঝুলে থাকা মানুষের মাথাগুলোর দু'চোখের মাঝেও গভীর করে হাড়ঁ মাংস কেটেঁ একে দেওয়া হয়েছে তৃতীয় আরেক চোখ। ঠিক একই সময়ে নিজের প্রেমিকার সাথে ১০ বছরের সম্পর্কের ইতি টেনে মাঝরাতে বাড়ি ফিরছিলো আরশাদ আর তখনি তাকে মুখোমুখি হতে হয় সেই ভয়ংকর দানব আকৃতির হিংস্র ঝাকে ঝাকে আরশাদের দিকে ধেয়ে আশা একপাল অগনিত অস্বাভাবিক বিড়ালের যেনো এক ঝাক অশুভ শক্তি যারা আরশাদের চোখের সামনেই চিবিয়ে খেয়ে ফেলছিলো তার প্রেমিকা তিথির হাড়ঁ,মাংস সহ কাটা মাথা। এবং দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সেই ঘটনার সাক্ষী হয়ে দাড়ায় তিনজন পুলিশ অফিসার যার মধ্যে একজন একমই আরশাদের বাবার মতোন যার নাম জাকের। বাকি রইলো রুদ্র আফসার এর কথা। তাকে দুঃস্বপ্নের মতো বিভৎসতায় নিয়ে যায় ফুট লম্বা শি��ওয়ালা, পিঠের ছাল-চামড়া সহ মাংস সব শরীরের দু পাশে ঝুলে থাকা এবং মুখ থেকে বাইরে বের হওয়া আধহাত জিহ্বা সহ বিভৎস এক ছাগল। তিন জন বাচ্চার কাটা মাথা এবং সেগুলো থেকে বের হওয়া লম্ব নলী যা রুম থেকে দরজা পর্যন্ত বিস্তৃত। এ যেনো সাক্ষাৎ নরক দর্শনের সমান। অপর পাশে কোনো এক প্যারালাল ইউনিভার্সের গোলক ধাঁধায় আটকে পড়া রশীদ যে দিগ্বিদিক হয়ে খুঁজে চলেছে সদ্য মৃত্যুর মুখ থেকে বাঁচিয়ে আনার আদ্রিয়ানকে। তাহলে সে কিভাবে পৌঁছে গেলো ২০২২ সাল পেরিয়ে এক অন্য মহাজাগতিক শক্তির ফলে টাইম ট্রাভেল করে কোনো এক প্যারালাল ইউনিভার্সের ১৯৭৪ সালে?? যেখানে নেই স্বাধীন বাংলাদেশের কেনো অস্তিত্ব। সে ওখানে কেনো, কখন এবং কিভাবে পৌঁছেছিলো। কেনই বা তাঁকে বাঁচিয়ে রাখছিলো রিক্টার,ফ্রেয়া আর অ্যালরিক এডরফ নামক ৩ জন রহস্যমানব?? যাদের মধ্যে একজনের এক চোখ নেই,সম্পূর্ণ মুখমন্ডল সতর্কতার সাথে আড়াল কড়া অথচ গালের একপাশে কোনো মাংস নেই। দাঁতের চোয়াল এবং হাড়গুলো স্পষ্ট করে বোঝা যাচ্ছে যা খুবই বিভৎস। রশীদের সাথে তাদের কি এমন প্রয়োজন থাকতে পারে আর রশীদই না কিভাবে ফিরে যাবে তার নিজের জগতে?? নাকি ওই অপার্থিব জগতেই কোনো অশুভ কিছু ঘটতে চলেছে তার সাথে?? উঁচু পাহাড়ের ওপর তীব্র বিদ্যুৎ চমকের আলোয় সবকিছু ঝলসে গিয়ে আবির্ভাব ঘটলো এক ছায়ামানবী যে নিজেকে প্রকাশ করছে অরোরা নামে।।কিন্তু সে কেনো সময়ের লুপ পেরিয়ে দেখা করতে এসেছে ইজিকিয়েল এর সাথে? কি এবং যোগসূত্রের দ্বায়ে অসম্ভবকে সম্ভব করার নেশায় তারা ছুটে বেড়াচ্ছে?? হঠাৎ ৬ বছর আগের কবর দেওয়া এক বিভৎস অভিশাপ ২০০৬ সালেই তো শেষ হওয়ার কথা অথচ তবুও কিভাবে তারা আবারো ২০২২ সাথে ফিরে এলো। কোন মহাজাগতিক শক্তি আবারো সেই বিধ্বংসী অশুভ শক্তিকে ফিরিয়ে আনতে চাইছে?? কি ঘটেছিলো ২০০৬ সালে রুদ্র, সিজার ও আরশাদের সাথে?? কেনো তারা প্রানপনে পালিয়ে বাঁচতে চায়,সব ঘটনা কেনো স্মৃতি থেকে মুছে ফেলতে চায়। কি এমন বিভৎসতার মুখোমুখি হয়েছিলো তারা যার জন্য তাদের সাজানো গোছানো সবকিছু ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলো?? কেনো তারা নিজেদের ৩ বন্ধু বলে দাবী করে,কোন এমন নরকের মুখোমুখি তারা হয়েছিলো যে কারনে তারা তাদের প্রানের প্রিয় বন্ধু অপরাজিত কে অস্বীকার করতে চায় সর্বক্ষণ? অথচ যার ছিলো এক অসীম চরম মহাজাগতিক শক্তি। কৃষ্ণকায়া মূলত কি?? কি সম্পর্ক কৃষ্ণকায়া আর অপ্রভংশের মধ্যে? সেটা কি আদৌ লড়াই নাকি বন্ধুত্ব। এমন কি রিচুয়ালে ২০০৬ সালে ব্যার্থ হয়েছলো হামিদা এবং আবারো ২০২২ সালেও তাকে ব্যার্থ করে দেওয়া হয়েছিলো। কোন অশুভ ছায়ার উপাসনা করেন তিনি যার জন্য তছনছ করেছিলো অতীত বর্তমান এবং ভবিষ্যতের ইতিহাস। কি যোগসূত্র আছে ইজিকিয়েল, অরোরা এবং হামিদা বেগমের মধ্যে যার তারা সাবার কাছ থেকে লুকিয়ে রাখে সন্তর্পণে? প্রতি ১৬ বছর পরপর কি এমন মহাপ্রলয় আসন্ন থাকে যা রুখতে প্রানপনে লড়ে চলেছে কিছু মানুষ। ভেঙে ফেলছে সময়ের সীমাবদ্ধতা, নিয়মের বেড়াজাল,দায়িত্বের দ্বায়বদ্ধতা? ১০৭৪ সাল,২০০৬সাল,২০১২ সাল এবং ২০২২ সালের মধ্যে কি এমন রহস্য লুকিয়ে আছে যে কারনে নরকের দরজা খোলা হয়েছে আবার; ডেকে আনা হয়েছে মহাপ্রলয়?? কিভাবে এসব বিভৎসতায়র অংশ হয়ে গেলো আদ্রিয়ান আর তানজির সাহেব। আদ্রিয়ান আর রুদ্র, আরশাদ,সিজার একই বয়সী হওয়া সত্বেও কেনো হুট করে কমে গিয়েছিলো আদ্রিয়ান এর বয়স? আদৌও কি আদ্রিয়ান কোনো মহাজাগতিক শক্তির উৎস বা বাহক?? নাকি নিতান্তই স্বাভাবিক একজন মানুষ। তাহলে এই নারকীয় ঘটনায় আদ্রিয়ান কেনো এতো গুরুত্বপূর্ণ?? তবে কি অমরত্ব আর ধ্বংসের লাড়াইয়ের কেন্দ্র বিন্দুতেই বসে আছে কৃষ্ণকায়!! পাঠ প্রতিক্রিয়া : এই বই নিয়ে লিখতে গেলে মূলত ছোটোখাটো আরেকটা বই লেখা হয়ে যাবে। এক বসায় শেষ করার মতো চমৎকার আছে এর মধ্যে। প্রত্যেক পাতায় রহস্য, প্রশ্ন, হা শিউরে ওঠা থমথমে মূহুর্ত সবকিছু মিলিয়ে দারুন উপভোগ্য মনে হয়েছে। যদিওনা আমার ভয় কম বরং রহস্যময়ই মনে হয়েছে বেশি। এমনিতেই নৃশংসতা আমার পছন্দ সেই হিসেব নিঃসন্দেহে কম কৃষ্ণকায়া অনন্য একটা উদাহরন। বারবার মনে হচ্ছিললো শেষ পর্যন্ত কৃষ্ণকায়া কি আসবে মর্ত্যে? ৪ জন বন্ধুর মধ্যে কে বা কারা এবং কেনো করেছিলো বিশ্বাসঘাতকতা। সায়না,শায়লা আর রুবাইয়াৎ বেগমের কি পরিনতি হয়েছিলো, কে এই অপ্রভংস, অমরত্ব আর ধ্বংসের লড়াইয়ে কে জিতেছিলো শেষ পর্যন্ত? শরীদ কি পেরোতে পেরেছিলো সময়ের লুপ আর খুঁজে পেয়েছিলো তার আদ্রিয়ানকে?? কৃষ্ণকায়াকে কারা চাইছে এই মর্তে ফিরিয়ে আনতে আর কেনোইবা চাইছে? শুধুই কি অমরত্বের লোভ নাকি আরো গোপন কোনো সন্ধি। সে কি শুভ নাকি অশুভ!! নাকি কোনো শুভ-অশুভের মিশ্রণে তৈরী নিখুঁত মহাজাগতিক মহাশক্তি। হতে পারো নরকেরও কীট!! এই রহস্যের সমাধান কে দেবে?? আদৌ কি এর কোনো শেষ আছে বা পাওয়া যাবে শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান!! সাথে খুব সু-কৌশলে গল্পের লুপে মিসির আলি এবং হিমুকে নিয়ে এসেছিলেন লেখক। সেটা চমৎকার ছিলো।।এক মুহুর্তের জন্যে চমকে গিয়েছিলাম একটা বাক্যে গিয়ে,, " পানি লাগবে কারো, পানি?"। মুগ্ধের সেই কন্ঠটা বারবার কানে ভাসছিলো। এরপর পুরান ঢাকার নিমতলা ট্রাজেডি,আমাদের বোন তনুর বিষয়গুলো খুব সূক্ষ্ম ভাবেই লেখক তুলে এনেছিলেন তার লেখার মধ্যে। এছাড়াও ছিলো আরো ছোটো ছোটো অনেক গুলো চরিত্র, খন্ড খন্ড বিচ্ছিন্ন, ঘটনা যেগুলো নিয়ে আলোচনা করলে আসলে শেষ হবে না। এবং সর্বোপরি এতোসব প্যারালাল ইউনিভার্স, এতোগুল আলাদা আলদাসময়,আলাদা আলদা মানুষ, এতো বিচ্ছিন্ন ঘটনা সবকিছু গল্পের শেষে সাজিয়ে একটা লুপের মধ্যে নিয়ে আাসাটা লেখকের দূরদর্শীতা এব অসম্ভব দক্ষতার একটা প্রাকান্ড উদাহরন। রুদ্ধশ্বাস একটা টানটান উত্তেজনা, থ্রিল আর রহস্যময় ডার্ক সাইকোলজিক্যাল থ্রীলার বই শেষ করলাম অবশ্যই রেকমেন্ডেড।
মৃত্যু হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সত্য। এই সত্যকে এড়িয়ে যাবার কোন উপায় নেই। পৃথিবীর সব কিছুই নশ্বর। একদিন সব কিছুর শেষ হবে। মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে নিতে হবে। প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাধ গ্রহণ করতে হবে। এর চেয়ে বড় সত্য এই পৃথিবীতে আর কিছুই নেই। মৃত্যুর চেয়ে আর কোন সত্য নেই এই পৃথিবীতে।
অমরত্বের লোভ কে ছাড়তে পারে। কে আছে এমন যে অসীম জীবনের প্রত্যাশা না করে। বেচে থাকতে চায় যুগের পর যুগ। অমরত্বের স্বন্ধান করে চলে সব সময়। কিন্তু আদৌ কি অমর হওয়া সম্ভব। আজ পর্যন্ত কেউ কি অমর হতে পেরেছে। স্বন্ধান পেয়েছে সেই অসীমের। হতে পেরেছে কি অমর বা অসীম ক্ষমতার অধিকারী।
আলো আর আধার যেমন পাশাপাশি থাকে। ঠিক তেমনি জীবন এবং মৃত্যু পাশাপাশি থাকে। আধার যখন ভারি হয়ে আসে, আলো তখন তার সমহিমায় উজ্জল হয়ে ওঠে। জীবনের যেমন নিজস্ব দিক আছে, ঠিক তেমননি মৃত্যু তার দিক নিয়ে উজ্জল হয়ে আছে। এরা কে অন্যের পরিপূরক। যারা সব সময় মুদ্রার এপিঠ এবং ওপিঠে অবস্থান করে থাকে।
কখনও কখনও জীবন আর মৃত্যুর চেয়েও অনেক বড় কিছু পৃথিবীতে সত্যি হয়ে ওঠে। হয়ত কেউ অসীম ক্ষমতার লোভে তাকে জাগিয়ে তোলে। আবার কেউ থামাতে চায় পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা ধ্বংসলীলা। নাকি ইতিমধ্যে ধ্বংসের শুরু হয়েছে। ফিরে এসেছে সে, যাকে জাগিয়ে তোলার জন্য কেউ কেউ যুগের পর যুগে অপেক্ষা করে আছে। তিনি আর কে, কৃষ্ণকায়া নাকি অপভ্রংশ।
কাহিনী সংক্ষেপঃ
তিন বন্ধু রুদ্র,সিজার এবং আরশাদ। একদিনে প্রায় একই সময়ে সবার সাথে অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। যার ব্যাখ্যা হয়ত আছে আবার নেই। অদ্ভুত সব ঘটনার আসলে ব্যাখ্যা হয় না। তবুও কিছুতো আছে। যা হয়ত ব্যাখ্যা করতে পারবে এই ঘটনা গুলোকে। কেউ তো আছে যিনি এই সব কিছুর ব্যাখ্যা জানেন।
রুদ্র সিজার এবং আরশাদ তিন জনই যে ঘটনার সাক্ষী হয়েছে তা কোন অপার্থিব নয়। পুরো টাই বাস্তব। একজনের দশ বছরের সম্পর্ক শেষ হয় অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে। আবার একজন প্যানিকড হয়ে করে বসে অবাস্তব এক কর্মকান্ড, সেই সাথে শুরু হয় হ্যালুসিনেশন। আর একজন তো পাড়ার মাস্তান কে শাসিয়ে আসে পর দেখে যাদের জন্য সে লড়াই করেছে তারা কেউ নেই। যেন উধাও। তার জায়গাতে অদ্ভুত ঘটনারটির আবির্ভাব ঘটেছে।
অপর দিকে রশীদ আর আদ্রিয়ান। মনে আছে তো তাদের কথা। তারা কিন্তু এখনও থেমে থাকেনি। তবে তারাও যে একে বারে বাস্তব জগতে আছে এমন নয়। সেই সাথে হামিদা বানু কথা ভুলে গেলে চলবে না। যিনি অবিনশ্বর হবার চেষ্টায় যিনি ধ্বংলীলা চালিয়েছেন। তবে কি তারা আবার ফিরে আসবে? কোথায় হারিয়ে গেল তারা? এবার কি পৃথিবীকে বাচাতে পারবে ধ্বংসের হাত থেকে।
যে রাতে নরকের দুয়ার খুলে গিয়েছিল, তার মাশুল কি দেয়া যাবে? নাকি আবার শুরু হবে শুরু থেকে। ১৯৭৫, ২০০৬, ২০১২, কিংবা ২০২২ সব কিছু কি এক বিন্দুতে মিলিত হবে। নাকি এমন ভয়ংকর কিছু ঘটতে চলেছে যা কেউ কল্পনা করতে পারছে না। শুরু হবে ধ্বংসের এক ভয়াবহ খেলা। পৃথিবীর অস্তিত্ব যেখানে সংকটের সেখানে নিজের জীবন বাজি রেখে কে রক্ষা করবে?
পাঠ পর্যালোচনাঃ
পড়ে শেষ করেছি সাজ্জাদ সিয়ামের লেখা “কৃষ্ণকায়া”। কৃষ্ণকায়া মুলত অবিনশ্বরের দ্বিতীয় অংশ। কিন্তু কাহিনী শুরু হয়েছে তারও কয়েক বছর আগে থেকে। যেখানে ২০০৬ সালের যে রিচুয়াল ব্যর্থ হয়ে সেটাই উঠে এসেছে এই বইটিতে। মুলত ২০০৬ সালে যা পূর্ণতা পাওয়ার কথা সেটা সেই সময়ে পূর্ণতা না পাওয়ার কারণ এবং কি হয়েছিল সেটা নিয়ে লেখা হয়েছে “কৃষ্ণকায়া”।
এই বইটা পড়ার সময় একটু কষ্ট করতে হবে। পাঠকের কিছুটা দ্বিধার মধ্যে পড়তে হবে। আপনার মনে হতে পারে এখানে প্যারালাল ভাবে দুটি টাইম লাইনে যাচ্ছে। কিন্তু এখানে চারটি টাইম লাইন নিয়ে কথা হয়েছে। তাই প্রতিটি অধ্যায় আপনাকে একটু সময় নিয়ে পড়তে হবে। যার কারণ হচ্ছে টাইম লাইন গুলো ধরতে সময় লাগবে।
তবে লেখক এখানে তার কল্পনা শক্তিকে বেশ ভাল ভাবে কাজে লাগিয়েছেন। কয়েকটি টাইম লাইন একই সাথে টেনে নিয়ে যাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য কাজ। কিন্তু তিনি বেশ দারূণ ভাবেই কাজটি করেছেন। এতে করে গল্প কোথায়ও হালকা হয়ে যায়নি। তবে রশীদ এবং আদ্রিয়ানের অংশটুকু কিছুটা হলেও গতি কমিয়েছে। হয়ত এই জায়গাতে একটু ভাল করা যেত। কারণ এই অংশ এসে গল্পের গতি কিভাবে যেন ধীর হয়ে গিয়েছে।
আগের বইটির মত এখানেও কিছু প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে। যেমন সায়মাদের কি হয়েছে? সুক্ষ্ম কিছু বিষয় যেমন আদ্রিয়ান ২০০৬ কিভাবে পৌছে গেল, অথবা ২০১২ থেকে হুট করে রুদ্ররা ২০০৬ এ চলে আসল। আবার কিছু কিছু উত্তর বেশ জটিল মনে হয়েছে যার ব্যাখ্যা সবাই হয়ত ধরতে পারবে না। কিন্তু এই জায়গাতে লেখা আর একটু সহজ করতে পারতেন। আর ভায়োলেন্স এর জায়গা থেকে যদি বলি এটা প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ঠিক আছে। সম্ভবত ছোট বয়সের কেউ বা অনেক প্রাপ্ত বয়স্ক কিছু নিতে পারবে না বলে মনে হয়। তবে ভায়োলেন্সও যে লেখার মাধ্যমে সুন্দ্র ভাবে তুলে ধরা সম্ভব তা লেখক দারূণ ভাবে করেছেন।
লেখক মুলত মানুষের মনের গভীরে থাকা অন্ধকারে বাস করা অতৃপ্ত বাসনার কথা উল্লেখ করেছেন। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, তবে আসলেই কি সেরা? কতটুকু সেরা। মানুষ হিংস্র, তার হিংস্রতার কোন শেষ নেই। কতটুকু হিংস্র মানুষ হতে পারে। স্বার্থ, লোভ আর ক্ষমতার জন্য মানুষ কত দূর যেতে পারে। কে কতটুকু ভাল, আর কে কতটুকু খারাপ। নাকি কে কম খারাপ আর কে বেশি খারাপ। এই নিয়েই হয়ত যুদ্ধটা চলে।
আসলে আমরা কেউ জানি না আমাদের জগতে বাইরে কোন জগত আছে কিনা। আর থাকলেও তা কিভাবে চলছে, কতটুকু চলছে। কোন সময় ধরে চলছে এই জগত আসলে কেউ বলতে পারে না। আমাদের চেনা জগতের সমান্তরালের জগত তো হয়ত আমাদের চেয়েও এগিয়ে রয়েছে। কে তা বলতে পারে। আলো আর আধার যেমন পাশাপাশি থাকে। দুটি জগতের ভিন্নতা থেকেও তারা পাশাপাশি আছে। এটাই হয়ত সময়।
পরিশেষে বলতে হয় যে বইটি এর আগের অংশ “অবিনশ্বর” এর মত শেষ হয়েছে। এর মানে হচ্ছে “কৃষ্ণকায়া” বইটি শেষ হয়েও যেন শেষ হয়নি। লেখক তার পুরনো চরিত্র গুলোকে ফিরিয়ে এনেছেন। সেই সাথে এসেছে “অপভ্রংশ”। কে কতটুকু খারাপ তা কেউ বলতে পারে না। বলতে হয় কে কম খারাপ এখন সেটাই দেখার বিষয়। এই লড়াইয়ে কে জয়ী হবে সময় হয়ত তার উত্তর দেবে। সেই অপেক্ষায়!
বই : কৃষ্ণকায়া লেখক : সাজ্জাদ সিয়াম প্রকাশনী : ঋদ্ধ প্রকাশ পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৩২০ মুদ্রিত মূল্য : ৫০০ টাকা
মাঝে মাঝে অতীতের স্মৃতি মানুষের জীবনকে এমনভাবে বদলে দেয় যে, যে জীবন স্বাভাবিক হওয়ার কথা ছিলো সে জীবন বিষাদ আর হতাশায় ভরে উঠে। সেই হতাশা আর বিষাদ মাঝে মাঝে অতীতের মানুষগুলোকে জীবনে আবারও ফিরিয়ে এনে আরো তীব্র করে তুলে, তখন ব্যাথাটাও আরো বেড়ে যায়।
রুদ্র, আরশাদ আর সিজার তেমনই এক সিলেটের কালডাঙার ভয়াল রাতের অতীতকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে বহুবছর ধরে। এক রহস্যময় ডায়েরি তাদের দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলো সেই ভয়াল রাতের অন্ধকারের সত্তার সামনে। তিন বন্ধু সেই দিনের কথা নিজেদের সাথে ভুলে থাকার অভিনয় করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু বহুবছর পর একটা রাত বদলে দিলো সবাইকে। অতীত ফিরে আসতে যাচ্ছে আবারও, এ যেনো কিয়ামতের দিন ঘনিয়ে আসছে।
এক রাতের শেষ প্রহরে নরক থেকে যেনো উঠে এসেছে বিভৎস সব বিড়াল, কুকুর আর ছাগল। ঘাড়ের পিছনে চোখের আকৃতির চিহ্ন ভেসে উঠেছে সবারই। চিহ্ন দেখে বুঝতে ভুল হলো না রুদ্রের, 'উই হ্যাভ বিন মার্কড'
এসআই রশীদ আর আদ্রিয়ানকে ফাঁকি দিয়ে মিলিয়ে যাওয়া সেই অবিনশ্বর মানবী যখন দৃশ্যপটে হাজির হলো, উঠে এলো বিস্মৃত এক ভয়াল ইতিহাস। যা প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল সবার নশ্বর অস্তিত্বকেই। যে ইতিহাস একই সময়ে বদলে দেয়ার ক্ষমতা রাখে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ!
যে অভিশপ্ত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি থামানোর আপ্রাণ চেষ্টায় লড়ে গিয়েছিল রশীদ আর আদ্রিয়ান, তা কি আদৌ থামাতে পেরেছিল তারা! নাকি তা ছিল অনিঃশেষ আঁধারের প্রারম্ভ মাত্র, যার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে রুদ্র, সিজার আর আরশাদের জীবন! শুধুই কি ওদের জীবন, নাকি গোটা পৃথিবীর আয়ুরেখা!
আমাদের এই 'পৃথিবী' কি আদৌ একা! এই গল্প কি শুধুই আমাদের চির-পরিচিত এই পৃথিবীর? নাকি সমান্তরালে ছুটে চলা দুটো, তিনটে কিংবা অসংখ্য দুনিয়ার সলিল সমাধি হতে চলেছে কালের গহ্বরে! কৃষ্ণকায়া আপনাদের পরিচয় করাবে এক অনিঃশেষ, অন্তহীন জগতের, যেখানে প্রবেশের পরপর সম্মুখীন হবেন এক অমোঘ প্রশ্নের। মৃত্যু নাকি অমরত্ব!
কৃষ্ণকায়া শেষ করার পর প্রথমেই আমার মাথায় এসেছে লেখক তার লেখা বইগুলোর মাঝে সবচেয়ে দুর্দান্ত বইটা লিখেছেন। ডার্ক মাল্টিভার্স ডাইমেনশন আর টাইম ট্রাভেলার্স সাথে এক্সট্রিম লেভেলের বিভৎসতার বর্ণনা এতো সুনিপুণভাবে দিয়েছেন যে মুগ্ধ হয়েছি আমি।
লেখক গল্পের শুরু থেকে একেবারে শেষ পর্যন্ত গল্পকে ��মনভাবে টেনে নিয়েছেন যে, এখানে পাঠকের কোনো ধারণা করারও সুযোগ রাখেনি শেষটা কি হতে চলেছে। এবং কী গল্প বর্ণনায়ও সুনিপুণ দক্ষতা দেখিয়েছেন যে কোথাও একটুও আনাড়িপনা, অতিরঞ্জিত এবং মেদযুক্ত মনে হয়নি। তারপর গল্পের প্লট এতো জটিল, কল্পনাতীত বর্ণনা আর ইউনিক যে পড়ে দারুণ উপভোগ করেছি।
এ গল্পের সাথে অবিনশ্বরের সংযোগ থাকলেও এবার গল্পের মূল ভূমিকায় সেইসব চরিত্র খুব একটা ছিলো না বরং গল্প এগিয়েছে রুদ্রকে এবং অন্যান্য নতুন চরিত্রকে সামনে রেখে। এবার আদ্রিয়ান আর রশিদের ভূমিকা নেই বললেই চলে। তবে গল্প শেষে অনুমান করা যায় পরের খন্ডে এই চরিত্রগুলো দারুণ কিছু দেখাবে। গল্পে হিমু, মিসির আলী চরিত্রের বর্ণনা সাথে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া কিছু ট্রাজেডি লেখক যেভাবে গল্পে ইনপুট দিয়েছেন এই বিষয়টা বেশ ভালো লেগেছিলো।
কৃষ্ণকায়ার গল্প, অবিনশ্বরকেও ছাড়িয়ে গেছে। তবে অবিনশ্বর যদি কেউ না পড়ে থাকে তাহলে তাঁর প্রথমেই কৃষ্ণকায়া পড়া উচিত নয়। এতে অবিনশ্বর বইটি পড়ে পড়লে যেমন উপভোগ্য লাগবে না আবার কৃষ্ণকায়া পড়ার সময় গল্পের ধারাবাহিকতা ধরতে সমস্যা হবে। এছাড়াও বিভৎস বর্ণনার ক্ষেত্রে লেখকের কল্পনাশক্তি প্রশংসানীয়, যা পড়ে কিছুটা হলেও থমকে যেতে হবে।
তবে একটা জায়গায় আরশাদ সিজার রুদ্ররা, তানজীরের সাথে আদ্রিয়ানের বাড়িতে দেখা করতে গিয়ে হামিদা বেগমের দরজা খুলে দেওয়ার ব্যাপারটা ঠিক বোধগম্য হয়নি। যারা অবিনশ্বর পড়েছেন তারা ব্যাপারটা ধরতে পারবেন। তাছাড়া আরো অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে, আশাকরি শীঘ্রই লেখক সেসব প্রশ্নের উত্তর দিবেন পরের খন্ডে। বইটির প্রোডাকশন, সম্পাদনা, বানান বিন্যাস বেশ চমৎকার হয়েছে। প্রচ্ছদটাও বই পড়ার পর মনে হয় মানানসই।
কৃষ্ণকায়া – সাজ্জাদ সিয়াম "নরকের অন্ধকার, মহাজাগতিক রহস্য, হরর এবং সাসপেন্সের এক চূড়ান্ত যাত্রা। একবার পড়লে থামানো যায় না!"
“কৃষ্ণকায়া” এমন এক নাম যা পাঠককে নিয়ে যায় এক গভীর, বিভৎস রহস্য, অন্ধকার এবং মানসিক চাপপূর্ণ ভ্রমণের মাধ্যমে অশুভতার এক জগতে। গল্পটি মূলত তিনজন বন্ধু—সিজার, আরশাদ এবং রুদ্র—এর সাথে ২০১২ সালের কোন এক মাঝরাতে ঘটে যাওয়া অস্বাভাবিক ও ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এগিয়ে চলে। মানুষের ছিন্ন-মস্তক, হিংস্র দানবাকৃতি প্রাণী, অসংখ্য অশুভ শক্তির মুখোমুখি সংঘর্ষ—সব মিলিয়ে প্রতিটি পাতায় আছে হঠাৎ ঘটতে থাকা ভয়ংকর দৃশ্য, শিউরে ওঠার মতো মুহূর্ত এবং গভীর প্রশ্ন, যা পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখে। আর তারপর সেখানে দেখা মেলে ‘অবিনশ্বর’-এর সেই আদ্রিয়ান এর। যে কি-না রশীদ কে নিয়ে ২০২২ সালে ৪ সেপ্টেম্বরের সেই বীভৎস রাতের পর ভোরের আলো ফোটার মুর্হূতে রেশাদ ও মীরাকে নিয়ে হারিয়ে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্সর খোজঁ করতে গিয়ে ব্ল্যাকহোলের ভেতরে হারিয়ে গিয়েছিল। এরপর ২০১২ থেকে গল্প ২০০৬ সালের অতীতে ফিরে যায় যেখানে জানা যায়, সিজার, আরশাদ এবং রুদ্র—এরা মূলত ছিল চার বন্ধু এবং চতুর্থ জন হলো অপরাজিত এবং ২০০৬ সালে তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিশ্বাসঘাতকতা, মহাজাগতিক লড়াই, প্যারালাল ইউনিভার্স এবং সময়ের লুপের খেলা গল্পটিকে করে তুলে আরো রোমাঞ্চকর। শেষ পর্যন্ত দেখা মেলে অপারাজিত বনাম অদ্রিয়ানের লড়াই। যাদের একজনের কাজ হলো এই নশ্বর পৃথিবীতে মৃত্যুর মিছিল তৈরী করে এই ভূমন্ডলকে ধ্বংসস্তুপে পরিনত করা আর অপর জনের কাজ হলো নশ্বর পৃথিবী থেকে মৃত্যুকে দূর করে মানুষকে অমরত্ব প্রদানের মধ্যেমে এর অবনশ্বর পৃথিবীতে পরিণত করার প্রচেষ্টা করা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই লড়াই কতদূর পর্যন্ত এগিয়ে যায় তা জানার জন্য “কৃষ্ণকায়া” পড়তে হবে।
সাজ্জাদ সিয়ামের এই কৃষ্ণকায়ার কাহিনী ডার্ক সাইকোলজি, হরর এবং সুপারন্যাচারাল থ্রিলার–এর একটি সমন্বয়, যা সাহসী পাঠকের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা। গল্পের অশুভতা এবং রহস্যময়তা এতোটাই গভীর যে, একবার পড়ে শুরু করলে শেষ না করা পর্যন্ত পাঠককে থামতে দেয় না। এতে স্থান পেয়েছে অমরত্ব, ধ্বংস, মহাজাগতিক রহস্য, টাইম ট্রাভেল এবং প্যারালাল ইউনিভার্স–এর লড়াই। ২০০৬, ২০১২ এবং ২০২২ সালের মধ্যে ঘটে যাওয়া রহস্যময় ঘটনাগুলো গল্পের সাসপেন্সকে বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে। পাঠক বারবার প্রশ্ন করতে বাধ্য হয়—কারা এই মহাজাগতিক খেলায় নিয়োজিত, কেনো ঘটছে এই বিভৎসতা, কি চায় তারা, আর আদ্রিয়ান কি সত্যিই সাধারণ মানুষ নাকি কোনো অশুভ শক্তির বাহক? এটি পাঠককে এক উত্তেজনাপূর্ণ এবং আতঙ্কে ভরা অভিজ্ঞতা দেয়।
যারা হরর, সুপারন্যাচারাল থ্রিলার এবং মানসিক চাপপূর্ণ রহস্যপ্রেমী, তাদের জন্য কৃষ্ণকায়া অবশ্যপাঠ্য। একবার পড়ে শুরু করলে থামানো সহজ নয়—এটি পাঠককে পুরোপুরি গল্পের জগতে আবদ্ধ করে রাখে। তবে এই গল্পের ইজিকিয়েল ও অরোরা, অপভ্রংশ ও কৃষ্ণকায়ার মধ্যাকার কথাগুলো আমার খুবই ভালো লেগেছে। বর্তমান সমাজ জীবনের মনুষ্যজাতির বাস্তাব কথাগুলো উঠে এসছে এদের উক্তিগুলোর মাধ্যমে। যা নিম্নরূপঃ
ইজিকিয়েলকে উদ্দেশ্য করে অরোরা-র বলা উক্তিঃ “মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু কে জানো? মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু হচ্ছে সময়। সময়কে যদি মানুষ পোষ মানাতে পারত তবে এই ঠুনকো বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সবকিছুই মানুষ নিয়ন্ত্রণ করতে পারত। কিন্তু সময় কখনোই মানুষকে সেই সুযোগ দেয়নি। যার অপেক্ষায় আমরা দিনের পর দিন, বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ তৃষ্ণার্ত জীবস্মৃতের মতো অপেক্ষায় অপেক্ষায় বেঁচে আছি, সময় যদি আমাদের পক্ষে থাকত, সে অপেক্ষার অবসান বহু বহুকাল আগেই হয়ে যেত।”
কৃষ্ণকায়াকে উদ্দেশ্য করে অপভ্রংশের বলা উক্তিঃ “সুন্দরতম সৃষ্টি? মানুষ? নির্বোধ কায়া!” “এই মানুষের চেয়ে অভিশপ্ত কোনো প্রাণীর সৃষ্টি হয়নি আজ অব্দি। সৃষ্টিকে ধ্বংস করাই এই মানবজাতির কাজ। সুন্দর এই জগতকে বিষাক্ত করাই তাদের উদ্দেশ্যহীন এই জীবনের লক্ষ্য! এই মানুষ নিজেরা নিজেদের নৃশংসভাবে হত্যা করে, নিজেরা নিজেদের হাতে গড়া সৃষ্টিকে মাটিতে মিশিয়ে দেয়! ওরা ধর্মের ভেদাভেদ করে নিজেরা নিজেরা মরছে, ওরা শরীরের চামড়ার রঙ নিয়ে ভেদাভেদ করে, রক্ত ঝরায়! ওরা সাজানো গোছানো দুনিয়াটাকে এই নরকে পরিণত করছে। নিজেরাই! তবে কেন এই মানুষ বাঁচার অধিকার রাখে?"
অপভ্রংশকে উদ্দেশ্য করে কৃষ্ণকায়া-র বলা উক্তিঃ “কারণ মানুষই সৃষ্টি করে শিল্প। মানুষই রচনা করে দর্শন। মানুষই স্বপ্ন দেখে, মানুষই ভালোবাসে, ভালোবাসতে শেখায়। তারা কষ্ট পায়। তারা কাঁদে। তারা হেরে যায়, বারবার হেরে গিয়ে মাটিতে মিশে গিয়েও লড়াই করার উদ্যম হারায় না! এই মানুষদের অপূর্ণতাই তাদেরকে পূর্ণ করেছে! মানুষই এই দুনিয়ার সৌন্দর্য!”
পরিশেষে বলবো, “মানুষ” সৃষ্টিকর্তার এমন এক সৃষ্টি যা এই দুনিয়ার সবচেয়ে হিংস্র জন্তুর চাইতেও ভয়ঙ্কর হতে পারে। আবার এই “মানুষ”-ই হলো এই দুনিয়ার সুন্দর সৃষ্টি যা কি-না সদ্য প্রস্ফুটিত ফুলের চাইতেও সুন্দর ও কোমল হতে পারে।
বই : কৃষ্ণকায়া লেখক : সাজ্জাদ সিয়াম ব্যক্তিগত রেটিং : ১০/১০ সাজেশন : যারা ব্রুটালিটি, ডার্ক সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, টাইম ট্রাভেল, অলটারনেট রিয়্যালিটি, প্যারাডক্স, প্যারালাল ইউনিভার্স নিয়ে পড়তে ভালোবাসেন তাদের মস্তিষ্কের জন্য উৎকৃষ্ট খাবার এটা। আর অবশ্যই এটা পড়ার আগে অবিনশ্বর বইটা পড়তে হবে কারণ আগের রেফারেন্স আর কাহিনি উঠে এসেছে। এটা অবিনশ্বরেরই সেকেন্ড পার্ট। ইন্ডিভিউজ্যুয়ালিও বইয়ের বিল্ডআপ যেমন তাতে কাহিনি ধরতে অসুবিধা হবে না হয়তো, তবে পুরোপুরি উপভোগের জন্য অবিনশ্বর পড়া মাস্ট।
বি.দ্র: এটা কোনো রিভিউ না, নিজেকে রিভিউ লেখার যোগ্য আমি কখনোই মনে করি না। এটা শুধুই নিজের জন্য টুকে রাখা। বইয়ের ব্যাপারে আমার মনকথা। তাই স্পয়লার থাকবেই। বইটা না পড়ে থাকলে বাকি লেখাটুকু আপনার জন্য না৷
বইয়ের ব্যাপারে : একটা বই নিয়ে কতটা এক্সাইটেড থাকলে মানুষ হাতে পাওয়ার সাথে সাথে ৫৩ পেজ পড়ে ফেলে আমি জানি না। এবং এতোদূর পড়ার পর মনে হয়েছে যে পেজ থেকে বই নিয়েছি তাদের রিভিউ দেওয়া দরকার,ছবি অবদি তুলিনি । গতকাল দুপুরে বই হাতে পেয়ে রাতের মধ্যে বই শেষ করে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেছি। কৃষ্ণকায়া নামটাই যথেষ্ট ফ্যাসিনেটিং ছিলো আর প্রথম পার্ট এতো রোমাঞ্চকর হওয়ার পর দ্বিতীয় পার্টের প্রতি অন্যরকম এক্সপেক্টেশন থাকে। সেই আশা পূরণ হওয়ার থেকেও অনেকটা বেশি ছিলো এই বই। চরিত্রের আর গল্পের বিন্যাস বরাবরের মতোই আমাকে বিমোহিত করেছে। বইয়ে রশীদ, রুদ্র, আদ্রিয়ান, জাকের, সিজার, আরশাদ, অপরাজিত এবং অন্যান্য সব ক্যারেক্টারের যে বিল্ডাপ আর স্পেস সেটা এক কথায় অসাধারণ। আদ্রিয়ানের আবির্ভাব হওয়ার মূহুর্তটা ; হিমু-মিসির আলির সংযোগ, গল্পের ধারাটায় অন্যরকম মাত্রা যোগ করেছিলো। লেখকের নিয়মিত পাঠক হওয়ার ফলে তার লেখার প্যাটার্ন জানি। উনার লেখার বিশেষত্ব টুইস্ট৷ আমার ভাবনাকে আর প্রেডিকশন ৩৬০° ঘুরিয়ে ফেলার জন্যই হয়তো আমি উনার ফ্যান। তবে আমি বা কোনো পাঠকই হয়তো এই বইয়ে জুলাই ২৪, তনুকে আশা করেনি। অপভ্রংশ বা অপরাজিত যখন মুগ্ধর রেফারেন্স টেনেছিলো তখন আমার গায়ের সব লোম খাড়া হয়ে গিয়েছে। টাইমলাইন চেঞ্জ হয়ে সর্বোচ্চ ধ্বংসাবশেষ, অগ্নিকাণ্ডই হয়তো ভাবা সম্ভব ছিলো। এতো গভীরে গিয়ে ঘটনাকে সম্পৃক্ত করতে সত্যিই মাথা লাগে।
আমি উনার লেখা সব বইয়ের জন্যই এভাবে অপেক্ষা করবো।
This entire review has been hidden because of spoilers.
"মৃ*ত্যু...অমরত্ব...জীবন" মাথার ভেতর কে যেন অনবরত ক্রুদ্ধ গর্জন করে চলেছে। কেউ একজন নিজেকে মুক্ত করতে চাইছে এই গর্জন থেকে। পারছে না!! হাত দুটো তুলে ধরলো চোখের সামনে। ফিসফিস করে বলে উঠলো: আমিই... আমিই কৃষ্মকায়া।
ওরা চারজন। রুদ্র, সিজার, আরশাদ এবং অপরাজিত। শহুরে কোলাহল কিছুদিনের জন্য দূরে থাকতে তারা একদিন সিদ্ধান্ত নেয় সিলেট ট্যুরে যাবে। যেই ভাবা সেই কাজ। এডভেঞ্চার এর নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা চার যুবক সিলেটের অচেনা এক জায়গায় এসে পড়ে। এরপর তাদের সাথে ঘটে যায় ভয়ংকর এক ঘটনা। কি সেই ঘটনা?? যে ঘটনার জন্য তাদের অতীত, ভবিষ্যৎ, বর্তমান উলটপালট হয়ে যায়।
বলছিলাম ঋদ্ধ প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত সাজ্জাদ সিয়াম এর লেখা "কৃষ্মকায়া"-র কথা। "অবিনশ্বর" এর পরের পার্ট। সো, অবিনশ্বর অবশ্যই আগে পড়তে হবে। না হলে টাইমলাইন বুঝতে অসুবিধা হবে।
"টাইমলাইন" এর কথা যেহেতু উঠেছে, বলে রাখা ভালো "ডাইমেনশন শিফটিং" এর একটা ব্যাপার আছে গল্পে। এখানে লেখক বেশ ভালো চমক দেখিয়েছেন। তাড়াহুড়ো করেন নি। সময় নিয়েছেন। যার ফলে গল্পের ফ্লো টাও ছিল দারুণ এবং উপভোগ্য। বিরক্তি আসে নি। এরপর আসি ভায়োলেন্স এ। সাজ্জাদ সিয়াম আর ভায়োলেন্স হলো একে অন্যের পরিপূরক। উনার লেখায় ভায়োলেন্স থাকবে না তা কি করে হয়। পড়তে গিয়ে একটু অস্বস্তিতে পড়েছিলাম ঠিকই। এমন "র" বর্ণনা দিয়েছেন উনি মাঝেমধ্যে মনে হয়েছিল আমার চারপাশেই ঘটনাগুলো ঘটছে।
ফিলোসোফিক্যাল কিছু বিষয় আছে। গল্পের প্রয়োজনে সেগুলোর প্রয়োজন ছিল। প্রাঞ্জলতা ছিল গল্পে। কঠিন বাক্য/শব্দের ব্যবহার তেমন দেখা যায় নি।
প্রজেন্স টাইম এর অনুসারে ছোট বড় অনেক ক্যারেক্টর ই এসেছে। তাদের মধ্যে আমার যে ক্যারেক্টর কে প্রমিজিং মনে হয়েছে সেটা হলো "অ্যালরিক রুডলফ"। প্রেজেন্স টাইম ছিল খুবই কম। কিন্তু ইমপ্যাক্ট ছিল বিশাল। ঠিক " ঘাত বল" এর মত।
গল্প কিন্তু এখানেই শেষ না। থার্ড এবং লাস্ট এক্ট এ হয়তো রশীদ আর আদ্রিয়ান কে... থাক আর না বলি। বাকিটুকু বই পড়ে বুঝে নিবেন।
কৃষ্ণকায়া সাজ্জাদ সিয়াম ঋদ্ধ প্রকাশ ৩২০ পৃষ্ঠা বইমেলা ২০২৫
কাহিনী সংক্ষেপ :-
ছয় বছরের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বর্তমানে থাকা তিন বন্ধুর জীবনে ফিরে আসছে অতীতের কালো থাবা। একটি ডায়েরি, একটি অতীত, একটি হারানো গল্প। বর্তমানে রুদ্র দাঁড়িয়ে আছে এক দ্বিধার প্রান্তে। ভ্রম আর আসলে ফারাক করতে গিয়ে টের পাচ্ছে সে একা নয়–এই জালে জড়িয়ে পড়েছে বাকি দুজন ও। হঠাৎ করে ঘাড়ের উপর আবিষ্কার করছে চোখের চিহ্ন। কিন্তু কেন? কোথা থেকে আসলো এই চিহ্ন?
ব্যাখ্যাতীত ঘটনার মাঝেই ফিরে আসে অবিনশ্বরের গল্প। চিরচেনা দুই চরিত্র এসে দাঁড়ায় বর্তমানে; আদ্রিয়ান আর রশীদ। উঠে আসে আরেকটিবার সেই অভি*শপ্ত ইতিহাস। যাকে থামাতে এতকিছু সে কি থেমেছিল? সমাপ্তির সুর নাকি সৃষ্টির সূচনা–কৃষ্ণকায়া বলে গেছে এক নতুন পৃথিবীর কথা, যেখানে জড়িয়ে গেছে গোটা পৃথিবীর মানুষ। কেমন হবে যদি নিজের অস্তিত্বই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে যায়?
পাঠ্য প্রতিক্রিয়া :-
২০২৩ সালের বইমেলায় প্রকাশিত পাঠকপ্রিয় বই "অবিনশ্বর" এর সিক্যুয়েল হলো "কৃষ্ণকায়া"। তবে এবারের কাহিনীর ব্যপ্তি ছিলো আরও বড়,আরও ভয়ঙ্কর। সময়,রিয়্যালিটি,ইউনিভার্সের পর্দা ভেদ করে কাহিনীর ব্যপ্তি পৌছেছে আরও দূর অবধি। সাথে লেখক তার মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন ভায়ো**লেন্স বর্ণনায়। পুরো বইটাই ভায়ো**লেন্স দিয়ে ভর্তি কিন্তু সবগুলোই এসেছে কাহিনীর প্রয়োজনে,ফোর্সফুলি লাগেনি কোনটাই। যে কারণে পুরোটা সময় বইটা উপভোগ করেছি। বইয়ে পানি নিয়ে একটা বিশেষ রেফারেন্স ছিলো যেটা ভালো লেগেছে, লেখককে এটার জন্য আলাদাভাবে ধন্যবাদ দিবো। সবমিলিয়ে কৃষ্ণকায়া আমার জন্য ছিলো একটা ফানরাইড। তবে বইয়ে অতিরিক্ত ভায়ো**লেন্সের জন্য সবার পছন্দ নাও হতে পারে। এই বইটারও সিক্যুয়েল আসবে, লেখকের প্রতি অনুরোধ রইলো সিক্যুয়েলটি খুব শীঘ্রই আনার জন্য।
প্রথম উপন্যাস "অবিনশ্বর" শেষ হয়েছিল দয়া-মায়াহীন যে নিষ্ঠুর এক অশুভ জগতের আভাস দিয়ে, দ্বিতীয় উপন্যাস "কৃষ্ণকায়া" -র মধ্য দিয়ে লেখক সাজ্জাদ সিয়াম তার সেই অঙ্গীকার রক্ষা করেছেন। জনরা শিফ্ট করে এবারের পর্ব কসমিক হরর/ডার্ক ফ্যান্টাসি। আদ্রিয়ানের সাথে রুদ্���, সিজার, আরশাদকে নিয়ে প্যারালালে ইউনিভার্স, অল্টারনেট রিয়ালিটি, টাইম ট্রাভেল, প্যারাডক্স নিয়ে এক রোলার-কোস্টার রাইডের নাম "কৃষ্ণকায়া"। অধ্যায়ের পর অধ্যায় ব্লাড-গোর, লাভক্র্যাফ্টিয়ান ইমেজেরিতে পাঠক শিহরিত হতে বাধ্য। ঘটনাপ্রবাহের জটে অধ্যায়ের ক্রম নির্বাচনে লেখক মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। স্বল্প সময়েও বেশ ভালোভাবেই মূল চরিত্রদের বিকাশ ঘটেছে, সেইসাথে পার্শ্ববর্তী চরিত্র, ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে অকারণ কালক্ষেপণ হয়নি। এছাড়াও ঐতিহাসিক ও সমসাময়িক বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার উদ্ধৃতি লেখাকে প্রাসঙ্গিক রেখেছে। এ উপন্যাসে লেখকের মৌলিক সত্তার স্পষ্ট প্রকাশ ঘটেছে... "অবিনশ্বর" পেরিয়ে লেখক "কৃষ্ণকায়া" -র এই গল্পটাই বলতে চেয়েছেন, এবং সার্থকতার সাথে বলতে পেরেছেন।
° কাহিনীর শুরু হয়, তিন বন্ধু - সিজার, আরশাদ এবং রুদ্রকে নিয়ে। তাদের জীবনে ঠিক ৬ বছর আগে ঘটে যাওয়া এক অলৌকিক বিভীষিকা যা তাদের জীবনকে করে ফেলে সম্পুর্ন দুর্বিষহ। এমন ঘটনা তাদের আশেপাশে ঘটতে শুরু হয় যেগুলো কি আদৌ বাস্তব কিনা তা নিয়ে দ্বিধায় পরে যায় তারা। বন্ধুদের মাঝে সবচেয়ে সাহসী রুদ্র কি পারবে তার বন্ধুদের রক্ষা করতে? কি এমন হয়েছিল ৬ বছর আগে যা আবার ফিরে এসেছে তাদের জীবনে এক অভিশপ্ত গল্প হয়ে। একই সাথে ভিন্ন রুপে এইবারের কাহিনীতে ফিরে আসে আগের বই 'অবিনশ্বর' এর আদ্রিয়ান এবং এসপি রশীদ। ভিন্ন রুপে ভিন্ন সময়ে তাদের এই আবির্ভাব কি শুধুই কাকতালীয় নাকি তারাও জড়িয়ে পড়েছে এই অভিশপ্ততায়?
~
কি ছিল না এই বইতে? ব্রুটাল মার্ডার, হরর, সাই-ফাই, প্যারালাল ইউনিভার্স, টাইম লুপ একসাথে এক বইতে সব কিছু দিয়েছেন লেখক। ভয় লাগছিল, শেষে সব মিলে জগা খিচুড়ি হয় কিনা, কিন্তু 'অবিনশ্বর' পড়ার জন্য সাজ্জাদ ভাইয়ের উপর ভরসা ছিল যে সব প্রশ্নের উত্তর শেষে সুন্দর মত পাওয়া যাবে, আর পেয়েছিও। কিছু রহস্য অবশ্য রেখে দিয়েছেন পরবর্তী পর্বের জন্য। আর একটা বিষয় আসলেই লক্ষনীয়, সাধারণত হরর, সাই-ফাই, সাইকোলজিক্যাল হরর, মার্ডার মিস্ট্রি থ্রিলার ইত্যাদি সব সময় একটা প্যারালাল থিম নিয়ে চলে, যেটাতে হয়ত চরিত্র নিয়ে চিন্তা করার জায়গা থাকে কারন সমাজের চরিত্র নিয়েই গল্প লেখা হয়ে থাকে কিন্তু চিরায়ত অথবা সমকালীন উপন্যাসের মতন কাহিনী এবং তার প্রেক্ষাপট নিয়ে ভাবনার জায়গা খুব বেশি থাকে না। এক্ষেত্রে সাজ্জাদ সিয়াম ভাইয়ের অবিনশ্বরে যেমন পেয়েছিলাম, কৃষ্ণকায়াতেও একই রকম একটা ধাচ লক্ষনীয়। উনি চেষ্টা করেছেন একই সাথে তার লেখনীর মাধ্যমে একটা হরর সাইকোলজিক্যাল আবহ তৈরি করতে আবার ফিলোসোফিক্যাল চিন্তা ভাবনা লেখনীতে দিতে, যে জায়গায় আমি বলব তিনি সম্পুর্ন সফল। যেমনঃ বইতে একটি বিশেষ চরিত্রের ডায়রিতে কিছু লিখা আছে যেটা আপনি পড়তে পড়তে মনে হবে হ্যা এরকম ঘটনা আমরা তো পত্রিকাতে পড়ি অথচ গ্রাহ্য করি না কিন্তু আপনি যখন এই বইতে পড়বেন আপনি গ্রাহ্য তো করবেনই সাথে শিউরে উঠবেন। এছাড়া বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া খুব মর্মান্তিক কিছু ঘটনার ব্যাপারও কাহিনীতে উঠে উঠেছে। চরিত্রগুলোর একে অপরের সাথে চিন্তা করার মতন ফিলোসফিক্যাল কথাবার্তা তো আছেই। শেষের ২০-৩০ পৃষ্ঠা খুব প্যাচালো লাগতে পারে যেটা কাহিনীর জন্যই প্রয়োজন ছিল, তাই বইটি পড়ার সময় শেষের পৃষ্ঠা গুলো ধীরে পড়ার পরামর্শ থাকল।
এবং আবারো 'অবিনশ্বর' - এর মতন বলব এই বইটি সবার জন্য নয় আর সবাই আসলে এই বইটি নিতে পারবে না। তাই যদি আপনি ব্রুটাল সাইকোলজিক্যাল লেখা নিতে পারেন, তাহলে বলব অবশ্যই পড়ে ফেলুন 'কৃষ্ণকায়া'। সময়টা আশা করি সুন্দর যাবে। 😊
অবিনশ্বরের মত একটা গ্রাউন্ডেড সিরিয়াল কিলিং থ্রিলার প্লট কিভাবে কসমিক হরর ফ্যান্টাসিতে সফল ভাবে ট্রান্সফর্ম হতে পারে তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ কৃষ্ণকায়া। লেখকের ইমাজিনেশন ক্ষমতাকে স্যালুট! আর ভায়োলেন্স! সম্ভবত বাংলা সাহিত্যের মোস্ট ভায়োলেন্ট ব্লাডেড সাগা হচ্ছে অবিনশ্বর এবং কৃষ্ণকায়া। ওর্থ রিডিং। হাইলি রিকমেন্ডেড।
Perhaps one of the most complex cosmic horror in Bengali literature. The storyline is crafted way too neatly. Terrific experience. Breathtaking horror sequences, a mesmerizing storyline. Worthy successor of অবিনশ্বর
দ্য ডেভিল- অপরাজিতের ডাইরি কৃষ্ণকায়ার সবচেয়ে ভালো লাগার অধ্যায়, মৃত্যু আছে, ধর্ষন আছে, মানুষের খারাপ প্রবৃত্তির উদাহরণ আছে, মানুষ হয়ে মানুষ জাতির প্রতি ঘৃনা আছে এবং এতো কিছুর পরেও মানবিকতার গল্প আছে। ভায়োলেন্স ছাড়াও যে সিয়াম সুন্দর গল্প লিখতে পারে এই অধ্যায় টা তার উদাহরণ।
এমন বিভৎস বর্ণনা কল্পনা করতে অস্বস্তি লাগতে পারে। জেনে শুনে পড়তে হবে। একের পর প্যাঁচ যখন খুলে যাচ্ছে বেশ উপভোগ করছিলাম! বিশেষ করে অধ্যায় ২২ থেকে বাকিটুকু শেষ না করা পর্যন্ত অধৈর্য্য লাগে বলতে গেলে।