Jump to ratings and reviews
Rate this book

কাচের দেওয়াল

Rate this book
বৃষ্টির আজ আঠারো। আঠারো বছর বয়সটা বৃষ্টির কাছে এল সুকান্তর সেই কবিতার থেকেও যেন আরও দুঃসহ, আরও স্পর্ধিত এক চেহারায়। এল অদ্ভুত এক খেলার প্ররোচনা হয়ে। মাকে না-মানার, বাবাকে যাচাই করার একরোখা এক খেলা। সেই খেলাতেই মাতবে এবার বৃষ্টি। সেই বৃষ্টি, বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় জিতে যাকে নিজের হেফাজতে রাখাবার অধিকার অর্জন করে নিয়েছিল মা জয়া রায়। সেই বৃষ্টি, আলিপুর জজকোর্টের বারান্দায় দাঁড়িয়ে যার বাবা সুবীর রায় শাসিয়েছিল জয়াকে— দেখে নেব, মেয়ের আঠারো বছর বয়স হলে কীভাবে তাকে তুমি আটকে রাখতে পারো। সেই বৃষ্টির আজ আঠারো। একদিকে আঠারো বছরের বৃষ্টি অন্যদিকে সম্পর্কছিন্ন দুই নরনারী; একদিকে অনন্য জীবন, অন্যদিকে নিজেদের মতো করে সেই জীবনের মানে খুঁজে-ফেরা একদল মানুষ এক আশ্চর্য টানাপোড়েনের টানটান কাহিনী ‘কাচের দেওয়াল’। যেমন জোরালো কলম সুচিত্রা ভট্টাচার্যের, তেমনই বিরলস্বাদ এই উপন্যাস। সাম্প্রতিক হয়েও চিরন্তন।

183 pages, Hardcover

Published January 1, 2000

17 people are currently reading
329 people want to read

About the author

Suchitra Bhattacharya

160 books241 followers
Her writing focuses on contemporary social issues. She is a perceptive observer of the changing urban milieu and her writing closely examines the contemporary Bengali middle class. Crisis in human relationships and the changing values of the present era along with degeneration of the moral fibre of the society in the backdrop of globalisation and consumerism are depicted in her prose. Exploitations and sufferings of women regardless of their social or economic identities find a distinct voice in her writing. While she is famous for her writing on women's issues, she does not consider herself as a feminist. She took up many odd jobs in her early youth and finally joined the public service which she left in 2004 to become a fulltime writer. Her long career is reflected in many of her stories and novels.

Over the past two decades, Suchitra has written about 24 novels and a large number of short stories in different leading Bangla literary magazines. Some of her acclaimed novels are Kachher Manush (Close to Me), Dahan (The Burning), Kacher Dewal(The Wall Of Glass), Hemonter Pakhi(Bird of Autumn), Neel Ghurni, Aleek Shukh(Heavenly happiness), Gabhir Ashukh (A Grave Illness), Uro Megh(Flying Cloud), Chhera Taar, Alochhaya(Shadows Of Light), Anyo Basanto(Another Spring), Parabas, Palabar Path Nei, Aami Raikishori, Rangin Pritibi and Jalchhobi among others. Her novels and short stories have been translated into many Indian languages such as Hindi, Tamil, Telugu, Malayalam, Oriya, Marathi, Gujarati, Punjabi and English. She also writes novels and short stories for children. Her novel Dahan was made into a movie by famous Bengali director, Rituparno Ghosh.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
75 (26%)
4 stars
134 (46%)
3 stars
63 (22%)
2 stars
10 (3%)
1 star
4 (1%)
Displaying 1 - 30 of 36 reviews
Profile Image for Nusrat Mahmood.
594 reviews736 followers
December 5, 2023
আমি ভাঙ্গা ঘরের সন্তানদের খুব কাছের থেকে দেখেছি। দেখেছি না বলে দেখছি বলা ভালো! আমার খুব কাছের কিছু মানুষজন কে আমি বাবা মা নিয়ে একত্রে বসবাস করতে দেখিনা। এরা হাসে খেলে খায় দায় ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু দিন শেষে বুকে বিশাল এক খালি জায়গা নিয়ে ঘুমাতে যায়। ঘুম কি এদের আদৌ আসে? কপালে মায়ের চুমু জুটলে বাবার হাতের ছোঁয়া মেলেনা নাহলে ভাইস ভারসা! সুচিত্রা ভট্টাচার্যের কাচের দেওয়াল ও এমন একজনকে নিয়ে। বাব মা এর আলাদা থাকা , তাদের কোন একজনের নতুন সংসার, নতুন পরিবারকে মেনে নেওয়া, নিঃসঙ্গতা, মানসিক চাপ, ক্রমশ হতাশার চাপে অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া সবকিছু খুব চমৎকার ভাবে উঠে এসেছে এই উপন্যাসে।

কাহিনীর প্রতিটা ধাপ মনেই হয়না কল্পনার আশ্রয় নিয়ে লেখা। কারণ এরকম হরদম হচ্ছে আজকাল। চারপাশে ঘর ভাঙ্গার শব্দ শোনা যায়, সে ঘরের দীর্ঘশ্বাস গুলোর শব্দ কয়জন শুনতে পায়? ভাঙ্গা মনগুলোর বাস্তব গল্প এমন করে কয়জন লেখে। আমি বহুদিন এমন বাস্তবঘেঁষা কনটেম্পোরারি নভেল পড়িনি। বাবা বা মায়ের মধ্যে যেকোনো একজনকে অপ্রাপ্তবয়স্ক মনে বেছে নেওয়ার গল্প এত সুন্দর করে আগে কেউ বলেছে বলে মনে পরেনা।

সবথেকে সুন্দর বোধয় সমাপ্তিটা। হ্যাঁ! আমাদের প্রত্যেকের নিজস্ব দুঃখ কষ্ট আছে এবং আমাদের কাছে আমাদের এই নিজস্ব দুঃখটাই সবচেয়ে কষ্টের সবচেয়ে দুর্বিষহ যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা অন্যের কষ্টে থাকার গল্পটা না জানি। অন্যের জুতা পরে মাইল কে মাইল না হাঁটলে কখনোই বোঝা যায়না তারা কিসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এবং জীবনের একটা পর্যায়ে যখন মনে হবে আমি হারিয়ে যাচ্ছি ক্রমশ, আর নিতে পারছিনা এই দুঃখের ভার ঠিক তখনই অন্যদের কষ্টেও হাসিমুখে সারভাইভের গল্পগুলোই হয়তো নিজেদেরকে হাত ধরে আলোয় নিয়ে আসে। কাচের দেওালের সমাপ্তিটাও ঠিক এমন।

এই বইটা পড়ে খুব আফসোস হয়, সুচিত্রা দেবীর কাছ থেকে এমন চমৎকার আরও কত লেখা পেতে পারতাম। অনেক সম্ভাবনা হারিয়ে গেল।
Profile Image for Harun Ahmed.
1,671 reviews441 followers
January 11, 2022
"জীবন তো একটাই।সেই জীবন কতভাবেই না ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখছে মানুষ। জীবনের মানে খুঁজছে।নিজেদের মত করে।"

বহু বছর পর সুচিত্রার উপন্যাস পড়লাম।গুটিকয় মিতিন মাসী পড়া হয়েছিলো অবশ্য।খুব একটা আকর্ষণ করেনি(ভালোই কিন্তু না পড়লেও চলে টাইপ।)মাঝখানে আমি ভুলেই গিয়েছিলাম "কাছের মানুষ" এর স্রষ্টা আমার কতো প্রিয় লেখিকা।এই উপন্যাসের জয়া,বৃষ্টি, সুবীর,বাবলু,রাজা,রীতাদের আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি।সুচিত্রার ব্যাপারটাই এমন,তার উপাখ্যানে মোটাদাগে মন্দ বা ভালোমানুষ নেই,আছে রক্তমাংসের দোষে গুণে ভরা সাধারণ মানুষ।
ক্যারিয়ারের জন্য সুবীরের অবিশ্রান্ত ছোটাছুটি, জয়ার আপাত উদাসীনতা বা অসহায়ত্ব,বাবা মায়ের প্রতি বৃষ্টির তীব্র তীক্ষ্ণ বুনো রাগ,বাবা মায়ের সাথে সন্তানের সম্পর্কের অদ্ভুত দ্বৈরথ-সবই আমাদের পরিচিত।গল্প নিয়ে কিছু বলতে গেলে স্পয়লার হয়ে যাবে।তবু বলি,এ গল্পের যে জীবনবোধ, যে বাণী -তা শাশ্বত। নিজের জীবনকে আমি কীভাবে দেখবো সেটা ভাবার দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত আমার নিজেরই,অন্য কারো নয়।"কাচের দেওয়াল" হয়তো নীতিগল্পই হয়ে দাঁড়িয়েছে শেষ বিচারে কিন্তু সব উপাখ্যানেরই জটিল বা উচ্চাভিলাষী হওয়ার প্রয়োজন নেই,সরল মানবিক গল্পও আমাদের দরকার।

আসুন,সুবীরকে স্মরণে রেখে রফিক আজাদের কবিতা পড়ি,
বালক জানে না তো সময় প্রতিকূল
ফুলের নামে কতো কাঁটারা জেগে থাকে।
.....
বালক জানে না তো,কতোটা হেঁটে এলে,
ফেরার পথ নেই,থাকে না কোনোকালে।
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 24 books1,868 followers
June 4, 2015
আমার বড় হওয়ার সময়টায়, মানে যখন আনুষ্ঠানিক ভাবে স্কুলের সীমা ছাড়িয়ে কলেজে যাওয়ার, আর তখনও পর্যন্ত নিষিদ্ধ থাকা অনেক কিছু জানতে পারার সুযোগ আসে, তখন আসরে পাত্তা পেতে গেলে দুটো সমকালীন বই পড়া বাধ্যতামূলক ছিল: (১) বাণী বসুর "একুশে পা", (২) সুচিত্রা ভট্টাচার্যের "কাঁচের দেওয়াল"। আমিও পড়েছিলাম, কষ্ট পেয়েছিলাম, অনেক রকম দ্বিধা আর সংশয়ে আচ্ছন্ন হয়েছিলাম, কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে যে অনুভূতিটা হয়েছিল, তা ছিল মুগ্ধতার। এরপর সুচিত্রা ভট্টাচার্য আরও কতশত লেখা লিখেছেন, কিন্তু ছোট্টর মধ্যে এমন "প্রতি অঙ্গ লাগি" বই, উনি আর একটিও লেখেননি।

না পড়ে থাকলে, পড়ে ফেলুন প্লিজ।
Profile Image for Shom Biswas.
Author 1 book49 followers
May 31, 2023
যখন এই বইটাকে প্রথম পড়েছিলাম, তখন আমার বয়স কুড়ি। নিম্নগামী পরীক্ষা পারফরমেন্সধারী একদা-কৃতি-ছাত্র। বৃষ্টির সঙ্গে খুব আইডেন্টিফাই করতে পেরেছিলাম - কিছুটা ঝাঁকুনিও খেয়েছিলাম বলাই বাহুল্য। হয়তো বইটা চার পাঁচবার পড়েছিলাম।
আজকে, এতদিন পরে, এই চল্লিশে, মনে পড়ে গেলো যে এখন হয়তো আমি সুবীরকে পুরোপুরি বুঝতে পারি। বইতে একটা জায়গা আছে না - একটা এঁদো পাড়া থেকে উঠে এসে ছেলেটা শুধু দৌড়োচ্ছে দৌড়োচ্ছে , সেলস সেলস - কেরিয়ার , আরো আরো আরো চাই। ছিটকে ছিটকে আশপাশ থেকে বহু চরিত্র তার দৌড়ের রাস্তায় আসছে, আবার ছিটকে চলে যাচ্ছে। দৌড় থামছে না। ... আর আছে ক্লান্তি । আর আছে একবাক্স যাচ্ছেতাই এক্সিস্টেনশিয়াল প্রশ্ন, যেগুলোর উত্তর হয়তো হয়, কিন্তু প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার সাহস হয় না। গড্ডালিকাপ্রবাহগামী ভীতু লোকের কাছে প্রশ্ন থাকাও যা না থাকাও তাই ।

সুবীরকে বুঝতে পারি।

বইটা আবার পড়লে হয়। নাগভারার বাড়িতে রয়েছে বোধহয় ...
Profile Image for সালমান হক.
Author 67 books1,983 followers
January 21, 2022
সাহচর্য অদ্ভুত একটা জিনিস। কিছু বিশেষ মানুষের সাহচর্যেই আমরা আমাদের ভেতরে অচেনা এক স্বত্ত্বাকে খুঁজে পাই, যা সেই মানুষটার অবর্তমানে লুকিয়ে পড়ে আবারো খোলসের ভেতরে। বইয়ের ক্ষেত্রেও বোধহয় কথাটা প্রযোজ্য। একেকটা বই পড়ার সময় আমাদের মাথায় আসে ভিড় করে একেক ধরণের চিন্তা। সেই বইটা রেখে দেয়ার পর হয়তো চিন্তাগুলোও মুখ লুকায় দেয়ালের আড়ালে। এক কাঁচের দেয়াল। এধরণের দেয়াল অনাহূত আগন্তুককে অগ্রসর হতে বাঁধা দেয় ঠিকই, কিন্তু বাইরে থেকে কাঁচ ভেদ করে ঠিকই দেখা যায় সবটা। কাঁচের দেয়াল শহুরে সমাজের এক ভাঙ্গন ধরা সংসারের গল্প। যেখানে নিজেদের ভালোবাসার ফসলকে ভালোবাসার ক্ষেত্রে জয়া আর সুবীর প্রত্যেকেই অবস্থান নেয় কাঁচের দেওয়ালের পেছনে। কিন্তু অহমের প্রতিযোগীতায় হেরে যায় দু'জনই।
Profile Image for Hamima Afroz Lopa.
30 reviews123 followers
December 14, 2016
“বিষুব রেখা থেকে শুরু করে দুজন মানুষ যদি দুই মেরুর দিকে হাঁটতে শুরু করে, তবে তারা কোনদিন মিললেও মিলতে পারে। কিন্তু যদি তারা পাশাপাশি দুটো রেলের লাইন ধরে হেঁটে চলে তবে তারা হাঁটতেই থাকে অনন্তকাল, মেলে না কখনই, দূরত্বও কমে না এক চুল।”

এই উপন্যাসের জয়া আর সুবীর হচ্ছে স��ই দুজন…পাশাপাশি থেকে দূরত্ব বৃদ্ধির চাইতে দূরে থেকে নিজেদের পছন্দের লাইফস্টাইলটাকে প্রাধান্য দেওয়াই শ্রেয় - এই মতবাদেই বিশ্বাসী এই দুজন…সবকিছুই চলছিল ঠিকমত…দুজন নিজের নিজের জীবনে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল পুরোপুরি…কিন্তু মাঝখান থেকে তারা আবিষ্কার করলো তাদের একমাত্র মেয়ে বৃষ্টি তিলেতিলে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে তাদেরই চোখের সামনে…আর তাদের নিরুপায় হয়ে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কোন উপায়ই নেই…একটা ফেইলড ম্যারেজের জন্য স্বামী-স্ত্রীর থেকেও সব থেকে বেশি অ্যাফেক্টেড হয় বাচ্চাগুলো...তাদের অনেক কাছের মানুষগুলোও বুঝতে পারে না যত হাসি-খুশিই থাকুক না কেন দিন শেষে তারা রাজ্যের দুঃখের ঝুলি আঁকড়ে ঘুমাতে যায়...জীবনের সাথে তারা এক সময় অভ্যস্ত হয়ে যায়...সমঝোতা করে নেয় এই পরিস্থিতির সাথে...কিন্তু কখনও কখনও সেটাও কেউ করতে চায় না বা করতে পারে না...জেনে কিংবা অজান্তে ভুল পথে পা বাড়ায়...

বৃষ্টি কি কখনও পারবে সেই ভয়ংকর পৃথিবী থেকে বেরিয়ে আসতে?...বৃষ্টিকে সেখান থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য সুবীরও কি ত্যাগ করতে পারবে তার স্ত্রী রীতা এবং ছেলে রাজাকে?...নাকি সেটা আদৌ উচিত হবে?...আর এমন অন্যায় আবদার করাটাও কি উচিত ছিল বৃষ্টির?...অবশ্যই নয়, বৃষ্টির এমন করুণ পরিণতির পরও নয়...বৃষ্টির এই পরিণতির জন্য কি জয়াই দায়ী?...কিন্তু সেটাই বা কিভাবে হয়?...একজন সিঙ্গেল মা-ই জানেন একজন ছেলে বা মেয়েকে বড় করার পিছনে কত কষ্টই না করতে হয়, কত ত্যাগই না স্বীকার করতে হয়…তাহলে দায়ীটা কে?...বৃষ্টি নিজে?

মানুষ যখন পৃথিবীতে নিজেকে একা ভাবতে শুরু করে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তখনই সে দিকভ্রষ্ট হয়ে পড়ে…বৃষ্টির ক্ষেত্রে হয়েছে সেটাই…কিন্তু নিজেকে একা ভাবলেই কি সে একা হয়ে যায়?…কতজনই তো আছে বৃষ্টির জন্য - মা, বাবা, ভালমামা, জেঠু আর... ... ...আর আছে সায়নদীপ!!!...কোথায় সে একা?...কতজনই তো আছে তার কথা ভাবার জন্য, তাকে ভালবাসার জন্য…কিন্তু তারপরও…

“কেন এমন হয়? আজ যাকে মনে হয় ভালবাসি কাল সে অসহ্য হয়ে পড়ে? তবে কি মানুষ নিজেকে ছাড়া আর কাউকেই ভালবাসে না? অন্যকে ভালবাসা শুধুই ভ্রান্তি?”
Profile Image for ♡ Diyasha ♡.
503 reviews20 followers
March 1, 2023
• 𝐑𝐄𝐕𝐈𝐄𝐖 • 𝐁𝐎𝐎𝐊 • কাচের দেওয়াল •

সুচিত্রা ভট্টাচার্য এর লেখনী এবং জীবনী, দুই ই অসাধারণ. এক মেয়ের জীবন্ত মেয়েবেলা, তার উত্থান পতন এমন কি তার চরিত্রের এক প্রাণবন্ত দিক তুলে ধরতে ও তিনি সমান পারদর্শী.

"কাচের দেওয়াল" আসলে দৃষ্টিকোন পরিবর্তনের ইতিহাস বলে. দুই পক্ষের দিক তুলে ধরে প্রশ্ন করতে বাধ্য করে - সমাজ কি নীরব দর্শক মাত্র!? বৃষ্টি ওরফে SHINJINI তার মা বাবা কে দায়ী করে - তার একাকীত্ব এর জন্য, অভাব এর জন্য. অভিযোগ এ অভিযুক্ত করে তার চারপাশকে...কিন্তু প্রশ্ন এটাই যে এখানে সব কিছু মেনে নেওয়া স্বাভাবিক কি মানিয়ে নেওয়া! সমস্ত কিছুর পরিবর্তন ঘটে সায়নদ্বীপ এর আসার পরে.

গল্পের মোড়কে সুচিত্রা ভট্টাচার্য নতুন গল্প জুড়ে দিয়ে গেছেন.. শেষে বলতে মন চায় "শেষ হয়েও হইলো না শেষ".
Profile Image for Saiful.
18 reviews6 followers
February 25, 2017
সুচিত্রা ভট্টাচার্যের লেখনীতে একটা জাদু আছে।একটানা অনেকক্ষণ আটকে রাখার জাদু।
Profile Image for Swajon .
134 reviews76 followers
November 8, 2017
সম্পর্ক, সম্পর্কের স্মৃতি আর সম্পর্কের সম্ভাবনা, সবগুলো ব্যাপারই একই সাথে একজন মানুষকে তাড়িত করে। সে হিসেব মেলানোর চেষ্টা করে অনেক কিছুর, মেলবন্ধন ঘটাতে চায় বাস্তবতার সাথে স্বপ্ন আর আকাঙ্ক্ষার। এতসবের মাঝখানে তাকে নির্ভর করে বেঁচে থাকা মানুষগুলো পরিণতি হিসেবে কি পায়? পরিণতির পরেই হয়তো বা সে জানতে পারে।
বৃষ্টি তার সমস্ত অভিমান, রাগ আর অভিযোগ নিয়ে নতুন করে বাবা মায়ের মুখোমুখি হয়। বিবাহবিচ্ছেদের যে ইফেক্ট কোন পরিবারের ওপর পড়ে, নির্দ্বিধায় বলা যায় তার প্রথম ভুক্তভোগী হয় ঐ পরিবারের ছেলেমেয়েরা।
নির্মম প্রতিশোধ নিতে গিয়ে বৃষ্টি হারিয়ে ফেলে তার সংযম, ঐটুকু বয়সে তার পক্ষে বোঝা সম্ভব হয় না যে, অন্তত সম্পর্কের বেলায় আছে এবং নেই দ্বারা চূড়ান্ত কোন অবস্থান নির্ধারিত হয় না। সে এক সময় দেখতে পায় যে, বিচ্ছেদের পর এত বছর পেরিয়ে গেলেও বাবার কাছে যত্ন করে রাখা আছে তার মায়ের হাতে আঁকা একটা ছবি, আর বাবার সংকটাপন্ন অবস্থায় মায়ের উদ্বেগও বৃষ্টিকে ভাবিয়ে তোলে এতদিন ধরে তার নিজের চিন্তার একরৈখিকতা সম্পর্কে।
প্রতিটি মানুষই মানবিকতা দ্বারা পরস্পরের সাথে যুক্ত। মায়াই বাঁচিয়ে রেখেছে এই সম্পর্ককে। স্বার্থপরতা থাকবে, থাকবে জেদ, কখনো স্বেচ্ছাচার। আবার সেই একই মানুষ পুড়বে তীব্র অপরাধবোধের আগুনে, খানখান হয়ে যাবে লজ্জায়, নতুন করে এগোতে থাকবে ছিঁড়ে যাওয়া সম্পর্কের দিকে, উপড়ে উঠে যাওয়া শিকড়ের দিকে।

" হয়তো সম্পর্কের নিয়মই এরকম। অসংখ্য ঝুরিনামা বৃদ্ধ বট ভাবে সমস্ত ঝুরিগুলো তারই অংশ। এদিকে ঝুরিরা নিজেদের প্রাণরস নিজেরাই মাটি থেকে আহরণ করে চলেছে। তাদের মধ্য দিয়েই বেঁচে আছে বৃদ্ধ বট। কখন যে তার নিজের কাণ্ড মরে গেছে, সে খেয়ালও নেই। তাছাড়া পুরোপুরি কোনও সম্পর্ক বোধহয় ছেঁড়েও না। অদৃশ্য তন্তুতে কোথাও রেশ থেকেই যায়। "
Profile Image for Farzana Raisa.
533 reviews240 followers
May 27, 2020
অনেক দিন আগের পড়া। এটা ছিল সুচিত্রা ভট্টাচার্যের লেখা আমার পড়া দ্বিতীয় বই। বলাই বাহুল্য, কাছের মানুষ পড়ে যেরকম মুগ্ধ হয়েছিলাম এই বইটা পড়ে সুচিত্রা ভট্টাচার্যের লেখনীর প্রতি মুগ্ধতা বরং আরও বেড়ে গেছে।
Profile Image for   Shrabani Paul.
397 reviews23 followers
August 27, 2022
🍂📖উপন্যাসের নাম - কাচের দেওয়াল📖🍂
✍️লেখিকা - সুচিত্রা ভট্টাচার্য
🖨️প্রকাশক - আনন্দ পাবলিশার্স
📑আনন্দ বাজার পত্রিকা (উপন্যাস শতবর্ষ সংকলন)📑

🍂🎭প্রথমেই আমাদের আলাপ হলো উপন্যাসের বিশেষ চরিত্র গুলির সাথে সুবীর এবং জয়া ! তারা ডিভোর্স তাদের এক মেয়ের বৃষ্টি মায়ের কাছেই থাকে। কিন্তু বড় হতে হতে তার মধ্যে একটা হতাশা জেগেছে, একটা চাপা রাগ অভিমানও আছে বাবা মার উপরে। যেহেতু সে একটা ব্রকেন হোম এর অংশ। এখানে দেখা যায় বৃষ্টির জন্মদিনের দিন বৃষ্টি দেখা করতে যায় তার বাবার সাথে, তার আগে সকালবেলা যখন মায়ের সাথে দেখা হয় তার সাথেও অত্যন্ত রুঢ় ভাবে কথা বলে বৃষ্টি। উল্লেখযোগ্য হচ্ছে আজ বৃষ্টির 18 বছরের জন্মদিন। সে অ্যাডাল্ট হয়ে গেছে, বৃষ্টি নিজের বাবাকে একটা শর্ত দেয় , সে বলে সে সুবীরের সাথে থাকতে চায়, কিন্তু একটা শর্তে সুবীরের নতুন পরিবার মানে দ্বিতীয় স্ত্রী ও ছোট ছেলের সাথে থাকতে বৃষ্টি রাজি নয় । বৃষ্টি থাকবে শুধু তার বাবার সাথে, শুনেই খুব চিন্তায় পড়ে যান সুবীর! বৃষ্টি এখনো একটা অন্তর্দ্বন্দ্বের মধ্যে রয়েছে, তার মা বাবার ডিভোর্স সে কোনো দিন ও মেনে নিতে পারেনি।তার বাবার আর একটা সংসার পাতা আরো বেশি মানতে পারেনি । আর তার সাথে তার মায়ের কোনদিনই বেশি অ্যাটাচমেন্ট হয়নি, কারণ তার মা নিজের 🎨 art এর ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত । এদিকে জয়া ও বুঝতে পারছে দিন দিন তার মেয়ের ব্যবহার তার প্রতি রুঢ় থেকে রুঢ়তর হয়ে উঠেছে । এর পর কি হয়, কোন দিকে এগিয়ে যাই গল্পের মোড় সেটা জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে উপন্যাসটি ।🎭🍂

🍁🎀🍁উপন্যাসের কিছু লাইন তুলে ধরলাম যা বাস্তবের সাথে খুব ভালোভাবে মিলে যায় ----

🌟একেক সময় নিজের মনকেও কেন যে এত অচেনা লাগে!
🌟ভাবতেই পুরনো অভিমানটা সারা বুকে ছেয়ে গেল বৃষ্টির সেই পুরনো পাথরচাপা অভিমান !!
🌟আজ যাকে মনে হয় ভালবাসি , কাল সে অসহ্য হয়ে পড়ে ? তবে কি মানুষ নিজেকে ছাড়া আর কাউকেই ভালবাসে না ? অন্যকে ভালবাসা শুধুই ভ্রান্তি ?
হৃদয়ের জমা কষ্ট হৃদয়েই রয়ে গেল । থাক । অভিমান আর যন্ত্রণার দানা না হয় মুক্তো হয়েই জমা থাক বুকে !!

#কাচের_দেওয়াল #সুচিত্রা_ভট্টাচার্য #আনন্দ_পাবলিশার্স
#আনন্দ_বাজার_পত্রিকা #উপন্যাস_শতবর্ষ_সংকলন
Profile Image for Jannat E Jahan.
23 reviews6 followers
June 12, 2021

এক সদ্য আঠারোয় পা দেয়া কিশোরীর গল্প বলার ছলে লেখক আসলে বিচ্ছেদ-পরবর্তি এক সাবেক দম্পতির প্রতিদিনকার দোটানা গুলোই ধরতে চেয়েছে কাচের দেওয়াল। কিশোরি বৃষ্টির মা-বাবার বিচ্ছেদ ঘটে তার ছোট বেলাতেই, তাই বাবা-মা কে একসাথে পাওয়ার আনন্দ সে বলতে গেলে পায়ই নি। যতটা তার স্মৃতিতে আছে, তার অধিকাংশই ঘাত-প্রতিঘাতের ভগ্নাংশ, কারণ ততদিনে ভালোবাসার ধাপ পেরিয়ে বাবা-মা পৌঁছে গিয়েছিলেন একে অপরকে অফুরন্ত ঘৃণা করার ধাপে।


মা 'জয়া' একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী, নামকরা আঁকিয়ে। দেশ-বিদেশে যার ডাক পরে। জয়ার প্রতিভা এবং পরিশ্রম এই দুইয়ে মিলেই তার ক্যরিয়ার দাঁড়িয়ে গিয়েছিল, ডিভোর্সের পরও কখনো নিজেকে নিয়ে অসহায় বোধ করেনি সে। সে খাঁটি শিল্পী, একজন শিল্পীসত্বার নিজেকে বুঝতে হলে অনেক ক্ষেত্রেই নিজেকেই অধিকাংশ সময় দিতে হয়। এটা শিল্পের দাবি, সেখানে পরিবার-পরিজন কেউই মুখ্য নন। এটা যুগে যুগে ইতিহাসই দেখিয়ে গেছে। জয়া একজন শিল্পী বলেই ডিভোর্সের পর সে ডুব দিয়েছে নিজের মাঝে, অন্য কোন কিছু নিয়েই তার মাথাব্যথা ছিলো না। মেয়ে কে নিয়েও নয়।



বৃষ্টির বাবা 'সুদীপ' এখন উচ্চপদস্থ মার্কেটিং অফিসার। নতুন করে বিয়ে করে সংসার পেতেছেন তিনি। একটি ছেলে এবং বাধ্যগত স্ত্রীকে নিয়ে ছিমছাম সংসার। জয়ার তরফ থেকে যে একান্ত মালিকানা তিনি পাননি, ২য় স্ত্রী রীতা তাকে সেই পুর্ণ মালিকানা দিয়েছেন। কিন্তু তার সেই বহু আকাঙ্খিত সুখ কখনোই ধরা দেয়নি।



উপন্যাসের মূল চরিত্র বৃষ্টি হলেও, তাকে একেবারেই ভাল লাগেনি। অবশ্য ভাললাগার জন্য Suchitra Bhattacharya লেখেনও নি। বৃষ্টি একটি পরিপক্ক (ইঁচড়ে পাকা যাকে বলে) এবং অতি আবেগি চরিত্র। বাবা-মা'র বিচ্ছেদের পর তাদের অতি আদর এবং উদাসীনতা তাকে ক্রমে দূরে ঠেলে দিয়েছে পরিবার থেকে। বছরের পর বছর সে একটি স্বাভাবিক পরিবারের জন্য গুমরে মরেছে কিন্তু তাকে কখনওই হয়তবা বুঝিয়ে বলা হয়নি, বাবা-মা কেন আলাদা হলেন, না হলে পরিস্থিতিটা কি দাঁড়াত। তার মা যে আর সাধারণ মায়েদের মতো না, তার বাবার যে সুখী থাকা টা অন্যায্য নয় এগুলো কিছুই সে গভীরভাবে ভেবে দেখেনি। গভীরভাবে ভাবাটা হয়ত ওর বয়সের পক্ষে আশা করাও যেত না, কিন্তু একই উপন্যাসে লেখক দেখিয়েছেন বৃষ্টি হয়ত আরেকটু গভীরভাবে ভাবতে পারত। সায়নদীপ, দেবাদিত্য তো ভেবেছিল। গা ভাসিয়ে দেয়নি। বৃষ্টি ভাবেনি।



জয়ার চরিত্রটা ভালো লেগেছে তার ব্যক্তিত্ব, শিল্পের প্রতি নিষ্ঠা, নিজের জন্য লড়াই করবার ক্ষমতা আর সচরাচর বাঙালি মেয়ে না হয়ে ওঠার শক্তির জন্য। নিখিলের চরিত্রটি ভালো লেগেছে তার নিপাট বন্ধুত্বের জন্য। সায়নদীপকে ভালো লেগেছে তার আত্মশক্তির জন্য। বিরক্তি ছিল বৃষ্টির বন্ধুদের দলটার প্রতি। কাদের সাথে বন্ধুত্ব করা উচিত না সেটার খুব ভালো উদাহরণ পাওয়া যায় এখান থেকে।



খুব ছোট একটা উপন্যাস, এক বসায় পড়ে উঠার মত। কিন্তু সমসাময়িক একটা গল্প। পড়লে আনন্দই হবে আশা করি, পড়ার আনন্দ।

Profile Image for Sahed Hossain Cyclone.
21 reviews34 followers
August 31, 2022
"জীবন তো একটাই।সেই জীবন কতভাবেই না ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখছে মানুষ। জীবনের মানে খুঁজছে।নিজেদের মত করে।"

আসলেই জীবন একটাই আর একটা জীবনে কত মানুষ কতভাবে ছুঁয়ে যায়। সুবীর যেমন জয়ার জীবনে ছুঁয়ে গেছে , সায়নদীপ যেমন ছুঁয়ে যায় বৃষ্টির জীবনে । কোন সম্পর্ক গড়ে উঠা , তার স্মৃতি আর সম্পর্ক এর পরিণতির সম্বাবনা সকল কিছুই মানুষকে তাড়িত করে ফেরে ।

গল্পের বৃষ্টি হচ্ছে সুবীর আর জয়ার বিচ্ছেদ পরবর্তী সন্তান এক্ষেত্রে আমাদের সমাজের অনেক ভেঙ্গে পড়া সংসার এর চিত্র এই দেখা যায়। বাবা মা আলাদা সংসার গড়ে তুলে আর মা একা হাতে বড় করে তুলে বৃষ্টিকে আর মায়ের এই বড় করে তোলার জন্য মেয়েকে কখনো সময় দিতে না পারা মেয়ের মনে জমা হয় বাবা মার প্রতি কষ্ট । বাবা মার স্মৃতি যতটুকু আছে তা তাকে সুধু বাবা মাকে ঘৃণা করতে শিখায় ।

মা জয়া নামকরা চিত্রশিল্পী , ডিভোর্স এর পর ভেঙ্গে না পড়ে নিজের কাজের মাঝে ডুব দেন তিনি, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে তোলেন । আর এই প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে ভুলে যেতে হয় মেয়েকে পর্যন্ত । এটাই শিল্পের দাবি সব কিছু ভুলে শিল্প এর জন্য আত্মত্যাগ

বাবা সুবীর এক বড় কোম্পানির মার্কেটিং সেলস অফিসার । নিজের ক্যারিয়ার এর জন্য তিনি সব করতে রাজি ছিলেন। তিনি নতুন করে বিয়ে করে সুখী ছিলেন । তার রয়েছে মেয়ের প্রতি দুর্বলতা ।

“বিষুব রেখা থেকে শুরু করে দুজন মানুষ যদি দুই মেরুর দিকে হাঁটতে শুরু করে, তবে তারা কোনদিন মিললেও মিলতে পারে। কিন্তু যদি তারা পাশাপাশি দুটো রেলের লাইন ধরে হেঁটে চলে তবে তারা হাঁটতেই থাকে অনন্তকাল, মেলে না কখনই, দূরত্বও কমে না এক চুল।”

মানুষ যদি কখনো পাশাপাশি হেটেও যদি কখনো একে অন্যের মধ্যে দুরুত্ত দুর করতে না চায় তাহলে কখনো তাদের মধ্যে মিল হবে না । আর এখানে জয়া আর সুবীর হলো তেমন ব্যাক্তি জারা নিজের পছন্দের লাইফ স্টাইল কেই বেশি গুরুত্ব দেয় পাশাপাশি থেকে দুরুত্ত কমানোর চাইতে । আর এরই প্রেক্ষিতে তারা দুইজন দুই পথে আলাদা হয়ে যায় আর এরই ভাঙন এর বলি হয় বৃষ্টি।

তাদের সামনে ই একটু একটু করে নিঃশেষ হতে থাকে তাদের এই মেয়ে বৃষ্টি , তাদের চেয়ে চেয়ে দেখার ছাড়া আর কিছু করার থাকে না ,জীবন এক সময় এমন অবস্থা চলে যায় যে তখন আর কেউ চাইলে আর সমঝোতায় আসতে পারে না বা আর চায় না।

বৃষ্টি চরিত্র টা প্রধান চরিত্র হলে একদম বিরক্ত লেগেছে মনে হয়েছে ইঁচড়ে পাকা বাচ্চা , যে কার কথা শুনে না । বাবা মার বিচ্ছেদে তার এই পরিণতি বুজতে চেষ্টা করে নি কেন তারা আলাদা হয়েছে , বা তাকে কেউই বুজিয়ে বলে নি । বুজিয়ে বললে হয়তো তার এই পরিণতি হত না । তার মা যে তাকে কষ্ট করে বড় করে তুলছেন আর তার বাবা বিয়ে করা যে খারাপ কিছু না সে স্বাভাবিক ভাবেই নিত ।
এখানে বৃষ্টির বিপরীত চরিত্��� দেখা যায় সায়নদীপ এর মাঝে সে বাবা মারা জাওয়ার পরেও অতিআবেগে গা ভাসিয়ে দেয় নি। নিজেকে শক্ত করে তুলেছে ,বৃষ্টি তা করে নি

এক বসায় পড়া সুন্দর একটা বই , সুচিত্রা এর লেখায় সবসময় কেমন দুখী দুখী ভাব থাকে ,কিন্তু সুন্দর ।

“কেন এমন হয়? আজ যাকে মনে হয় ভালবাসি কাল সে অসহ্য হয়ে পড়ে? তবে কি মানুষ নিজেকে ছাড়া আর কাউকেই ভালবাসে না? অন্যকে ভালবাসা শুধুই ভ্রান্তি?”
Profile Image for Baishali Datta.
25 reviews51 followers
August 13, 2020
দুই দেহ এক আত্মা.. এই ধারনা(আবেগ) থেকে আরেকটি দেহের জন্ম। সেই ছোট্ট জীবন বেড়ে উঠতে উঠতে অভিন্ন আত্মা টুকরো টুকরো হয়ে যায়। যার রঙ্গীন পৃথিবী মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখার কথা তার সম্মুখীন হতে হয় অদ্ভুত এক প্রশ্নের। কে বেশি ভালো? মা না বাবা? অদ্ভুত প্রতিযোগিতা।
ভাঙ্গা পরিবারের সন্তানদের খুব কাছ থেকে দেখা হয় নি। তবে এই লকডাউনে বারান্দায় দাড়ালে প্রতিটি পরিবারের উঁচু স্বর কানে এসেছে। কে কাকে পেয়ে কতটা বঞ্চিত এই হিসেব বোধহয় প্রায় পরিবারের নিত্যকার হিসাবের খাতায় তোলা থাকে।

কেউই নিজ ইচ্ছায় পৃথিবীতে আসে না। যারা আনে তারাই একসময় ভুলে যায় তাদের(!) ভরসায় কেউ ভবিষ্যৎ দেখতে শিখছে। সুন্দর জীবন সাজাতে চাইছে। কোথাও পড়েছিলাম সন্তানের পিতামাতা বাছাই করার সুযোগ নেই। আপনিই পারেন আপনার অনাগত সন্তানের যোগ্য কাউকে বাছাই করতে। (আবোলতবোল ভাবনা)

"বিষুবরেখা থেকে শুরু করে দুজন মানুষ যদি দুই মেরুর দিকে দিকে হাটঁতে শুরু করে, তবে তারা কোনও দিন মিললেও মিলতে পারে। কিন্তু তারা যদি পাশাপাশি দুটো রেললাইন ধরে হেঁটে চলে তবে তারা হাঁটতেই থাকে অনন্তকাল, মেলে না কখনোই, দুরত্বও কমে না এক চুল। "
"একই পৃথিবীতে একরকম দুজন মানুষ থাকতেই পারে কিন্তু এক ছাদের নীচে এদের স্থান হওয়া কঠিন, এক বিছানায় দূর্বিষহ। এইধরনের নিকটতম সম্পর্কের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ধ্বংসের বীজ। যে বিষিয়ে ওঠা সম্পর্ক থেকে এই বীজের আবির্ভাব, সে বিষের ছায়াভতো বীজে পড়বেই। সেই ছায়াই বোধহয় ফুটে ওঠে পরবর্তী প্রজন্মের অসন্তোষের মধ্যে দিয়ে।"


সুচিত্রা ভট্টাচার্যের কাছের মানুষ কিংবা কাচের দেওয়াল.. বড় বেশি নগ্ন বাস্তব। তবুও আত্ম উপলব্ধির জন্য অবশ্যই পাঠ্য।
Profile Image for সৌমিত্র বিশ্বাস.
115 reviews6 followers
January 20, 2021
বৃষ্টির আজ আঠারো।
আঠারো বছর বয়সটা বৃষ্টির কাছে এল সুকান্তর কবিতার থেকেও যেন আরও দুঃসহ, আরও স্পর্ধিত এক চেহারায়। এল অদ্ভুত এক খেলার প্ররোচনা হয়ে। মাকে-না মানার, বাবাকে যাচাই করার একরোখা এক খেলা। সেই খেলাতেই মাতবে এবার বৃষ্টি। সেই বৃষ্টি, বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় জিতে যাকে নিজের হেফাজতে রাখবার অধিকার অর্জন করে নিয়েছিল মা জয়া রায়। সেই বৃষ্টি, আলিপুর জজকোর্টের বারান্দায় দাঁড়িয়ে যার বাবা সুবীর রায় শাসিয়েছিল জয়াকে-দেখে নেব, মেয়ের আঠারো বছর বয়স হলে কীভাবে তাকে তুমি আটকে রাখতে পারো।
সেই বৃষ্টির আজ আঠারো।
একদিকে আঠারো বছরের বৃষ্টি অন্যদিকে সম্পর্কছিন্ন দুই নরনারী; একদিকে অনন্য জীবন, অন্যদিকে নিজেদের মতো করে সেই জীবনের মতো করে সেই জীবনের মানে খুঁজে –ফেরা একদল মানুষ- এক আশ্চর্য টানাপোড়নের টানটান কাহিনী ‘কাচের দেওয়াল’। যেমন জোরালো কলম সুচিত্রা ভট্টাচার্যের, তেমনই বিরলস্বাদ এই উপন্যাস। সাম্প্রতিক হয়েও চিরন্তন।

উপন্যাসের মলাটের পাতায় উপন্যাস সম্পর্কে এই শেষ কথাটি “সাম্প্রতিক হয়েও চিরন্তন”ই যেন উপন্যাসটির মূল্য সম্পর্কে চূড়ান্ত মূল্যায়ণ। উপন্যাসের শুরু থেকেই নামকরণের স্বার্থকতা খুঁজতে খুঁজতে শেষ পৃষ্ঠায় গিয়ে যেন দেখা মিলল তার। উপন্যাসের প্রতিটি সম্পর্কের মাঝে সত্যিই যেন এক অদৃশ্য কাচের দেয়াল দাঁড়িয়ে আছে। সেই দেয়ালকে টপকে কেউ কারো কাছে যেতে পারছে না। অবশেষে ভাঙ্গল সেই দেয়াল, কিন্তু তার জন্য যে কঠিন মূল্য দিতে হল বৃষ্টিকে। শান্ত, সুন্দর, নিষ্পাপ বৃষ্টি একটু একটু করে নিজেকে নষ্ট করতে করতে একসময় আবিষ্কার করল—বেঁচে থাকার জন্য অন্যেরা তার সঙ্গে কি রকম আচরণ করছে তার ওপরেই নির্ভর করা মানেই নিজের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা, কাপুরুষতা। বৃষ্টি তখন নিজেকে প্রশ্ন করে, “সে কি একটা শিশু? বাবা হাঁটতে হাঁটতে হাত ছেড়ে দিলে, সে পড়ে গেল। মা হাত ধরে দাঁড় করিয়ে রাখল, বৃষ্টি দাঁয়ে রইল। যেন নিজের অস্তিত্ব নিয়ন্ত্রণের কোন ক্ষমতাই গড়ে ওঠেনি তার।”
কিন্তু সেই ক্ষমতা গড়ে দিল একজন। তারই বয়সী পিতৃহারা সংগ্রামী এক তরুণ সায়নদীপ। নিজের কৃতকর্মের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে যখন বৃষ্টি জানালো বাবা মায়ের ডিভোর্সের পর বাবা আবার বিয়ে করেছে, একটা ছেলেও হয়েছে, মার নেহাত হয়ে ওঠেনি তাই। সে তাদের কে? ফালতু।
সায়নদীপ তখন জবাবে বলে, “ও। সেই জন্য তুমি মদ খাও? ড্রাগ নাও? একটা গ্রোনআপ মেয়ে তার এতটুকু বোধ নেই, কোন মানুষই শুধু স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে থাকতে পারে না। নিজের মত করে আরেকবার জীবনটা গড়ে তুলতে চাওয়া অন্যায়? অন্যের মুখের দিকে তাকিয়ে সারা জীবন আপস করে চলতে হলে তার পরিনতি কি হয় জানো? জানো না। আমি জানি। তুমি তো জান আমার বাবা মারা গেছে, কিভাবে মারা গেছে জানো?”
এবার কঠিন এক সত্য সামনে তুলে ধরে সায়ন। লোভী আর স্বার্থপর মায়ের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে সায়নের বাবা ঘুষ নিতে শুরু করেছিলেন, এরপর ক্যাশ থেকে চুরি। ধরা পড়ে চুরির অপরাধে জেল। তারপর জেল থেকে বের হয়ে ট্রেনে গলা দিলেন। এরকম বাবার সন্তান হওয়ার সত্ত্বেও সায়ন তো তার মত ড্রাগে আসক্ত হয়নি কিংবা মায়ের প্রতি সামান্যতম অবজ্ঞাও দেখায়নি কখনও।
সায়নদীপের ভাষায়-“আমি তো সেই পুরনো দুঃখ আঁকড়ে ধরে বসে থাকিনি। একটাই তো জীবন মানুষের। সেটাও যদি অন্যের অপরাধের বিচার করতে গিয়ে, প্রতিশোধ নিতে গিয়ে শেষ করে ফেলি তবে আমার রইল কি? বাবা মার ডিভোর্স হয়ে গেছে বলে তোমার বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে হয়ত অস্বস্তি হয়েছে, এড়িয়ে যেতে চাও তাদের আর আমার বাবার অ্যারেস্ট হওয়ার খবর নিউজপেপারে বেরিয়েছিল। স্কুলে সবাই আমার দিকে আঙুল তুলে দেখাত। যেমন চিড়িয়াখানায় দেখায় আর কি। একটা বন্ধুও ছিল না আমার। নট এ সিঙ্গল ওয়ান। কাউকে মনের কথা বলতে পারিনি। নিজের মাকেও না। এ পাড়ায় এসে তাও দু-একজনের সঙ্গে মিশতে পারি, কথা বলতে পারি। কতটা রাগ হওয়া উচিত ছিল আমার? বাবা মার ওপর?”
সে তুলনায় কি এমন ঘটেছে বৃষ্টির জীবনে যে তাকে ড্রাগ নেওয়ার অপরাধে পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে থানায়?
অজান্তেই চোখের পাতা ভিজে গেল বৃষ্টির। এক পশলা বৃষ্টির পর প্রকৃতি যেমন নির্মল, সজীবতায় ভরে ওঠে। বৃষ্টির জীবন তেমনি আবার সুন্দর এক স্বপ্ন ঘীরে ডানা মেলতে চায় আকাশে।
Profile Image for Aiman .
73 reviews
November 1, 2024
"আজ যাকে মনে হয় ভালোবাসি কাল সে অসহ্য হয়ে পড়ে?তবে কি মানুষ নিজেকে ছাড়া আর কাউকেই ভালবাসে না?অন্যকে ভালোবাসা শুধুই ভ্রান্তি?"

কাহিনি সারসংক্ষেপ:
বৃষ্টির আর আঠারো।আজ বৃষ্টি নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারবে।বাবা-মাকে যাচাই করে নেয়ার পালা এই আঠারো,বাবা কে যাচাই করা,মায়ের কথা না শোনার আঠারো।যে খেলায় দুজন মেতেছিল বৃষ্টি ছোট্ট থাকতে সেটা সে নিজে এখন খেলবে দুজনের সাথে।

আদালত বলেছিল আঠারোতে বৃষ্টি বেছে নিতে পারবে যেকোন একজন কে,সেটা কে হবে?যার সাথে আঠারো পর্যন্ত আসলো সেই মা?নাকি যে বাবার জন্য পাগল ছিল এতদিন সেই বাবা?নাকি সে নতুন এক খেলায় মেতে উঠবে দুজন কে নিয়ে?সম্পর্কের এই টানাপোড়নের খেলা নিয়েই 'কাচের দেওয়াল' বইটি।

পাঠপ্রতিক্রিয়া:
বাবা-মা এই দুটা শব্দ আমাদের পুরো টা জীবন জুরেই বিরাজমান।ছোট বেলায় তাদের হাত ধরে চলা থেকে শেষ বয়সে বাবা-মাকে হাত ধরে চালানো পর্যন্ত।একটা পরিবারের এই দুটা মানুষের উপর প্রতিটা ছেলে-মেয়ের চিন্তা ভাবনা,জীবনে ছোট ছোট দিক গুলো নির্ভর করে থাকে।

একটা জিনিস লক্ষ্য করে দেখবেন যে পরিবারের বাবা-মায়ের মধ্যে সম্পর্কটা খুব ভালো থাকে।তাদের মাঝে দুনিয়ার বুঝ বলেন,পরিবার বলেন প্রতিটা জিনিসের সঠিক জ্ঞান থাকে,সন্তান কে কিভাবে বুঝালে,কিভাবে রাখলে সন্তানে জন্য ভালো হবে এটার সঠিক জ্ঞান থাকে সেই সব ছেলে-মেয়েদের মাঝে আলাদা একটা কনফিডেন্স থাকে।দুনিয়ার কোন কিছু তাদের দমিয়ে রাখতে পারে না।তেমনি যে পরিবারের বাচ্চা গুলো ছ��ট থেকেই বাবা-মায়ের মধ্যে ঝগড়া,রেশারেশি দেখে বড় হয়েছে তাদের পুরো জীবন টা কাটে কোন না কোন ট্রমার মাঝে।আশেপাশের কিছু মানুষ দেখলেই এটার প্রমাণ পেয়ে যাবেন।

'কাচের দেওয়াল' উপন্যাস টা ঠিক তেমনই,যে মেয়েটা একদম ছোট বেলায় বুঝ হবার আগেই বাবা-মায়ের ডিভোর্স,তাকে নিয়েই ভাগাভাগি দেখেছে তার মনের মাঝে কী চলবে?সে কাকে বেছে নিবে?বাবাকে?নাকি মা'কে?

ছোট একটা বই কিন্তু কত কিছুই না বুঝিয��ে গেলো।বাহির থেকে দেখা মানুষ আর ভিতরে থাকা মানুষ টা এক নয়।আমরা সব সময় একটা মুখোশ পড়ে থাকি।যেন ভিতরের মানুষ টাকে কেউ দেখতে না পায়।

সুচিত্রা ভট্টাচার্য আমার ভিষণ প্রিয় একজন লেখিকা।তার যে বইটাই ধরি না কেন কোনটাই হতাশ করেনি।নতুন ভাবে কিছু না কিছু শিখিয়ে গেছে,তেমনই কাচের দেয়াল।
যদি গল্পের মতো ভাবি খুব সাধারণ গল্প লাগবে কিন্তু যদি একটু গভিরে নিয়ে যাই তাহলে বুঝতে পারা যাবে আমাদের আশেপাশেরই কিছু পরিবারের ভিতরে ভিত তুলে ধরা হয়েছে শুধু।

নিজের কাছে মনে হয় বাবা-মা হবার আগে অন্তত কিছু শিক্ষা নিজেদের মাঝে নিয়ে আসা দরকার যেন আমার সন্তান ভিতরে ভিতরে আজীবন ট্রমার মাঝে থাকতে না হয় আমার জন্য বা আমাদের জন্য,আমার সন্তান যেন কখনো এটা না ভাবে বাবা-মা আমার আপন হতে পারলো না,মনের কথা গুলা বলার মতো আপন।নিজেদের রেশারেশিতে যেন সন্তান ভুগতে না হয়।

প্রিয় লাইন:
★জীবন তো একটাই।সেই জীবন কতভাবেই না ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখছে মানুষ।জীবনের মানে খুঁজছে।নিজেদের মত করে।
★পরিস্থিতির কাছে মানুষ বড় অসহায়।

বই: কাচের দেওয়াল
লেখক: সুচিত্রা ভট্টাচার্য
জনরা: সামাজিক
মলাট মূল্য: ৯০৳
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৩
পারসোনাল রেটিং ৫/৫
Profile Image for Susmita Basak.
93 reviews13 followers
May 21, 2022
আমি "বইতরণী" গ্রুপেও রিভিউ দিই। চাইলে সেখানেও দেখতে পারেন।

#পাঠ_প্রতিক্রিয়া

সদ্য শেষ করলাম সুচিত্রা ভট্টাচার্যের এই আশ্চর্য পারিবারিক টানাপোড়েনের কাহিনী বর্ণিত উপন্যাসটি।

উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দু বৃষ্টি, জয়া ও সুবীরের একমাত্র কন্যা। তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের মামলায় জিতে গিয়ে মেয়েকে নিজের হেফাজতে রাখার অধিকার অর্জন করেছিল জয়া। আর সুবীরের মেয়ের সাথে দেখা করার অধিকার ছিল সপ্তাহে মাত্র একদিন। মেয়ের কাস্টাডি না পাওয়ায় সেই রাগে সে কোর্টের বারান্দায় দাড়িয়ে জয়াকে শাসিয়ে বলেছিল, "দেখে নেব। দেখে নেব মেয়ের আঠারো বছর বয়স হলে কিভাবে তুমি তাকে আটকে রাখতে পারো। "

চিত্রশিল্পী জয়া নিজের কর্মব্যস্ততার দরুন ছোটো থেকেই মেয়েকে সেভাবে সময় দিতে না পারায় মায়ের প্রতি তার অভিমান জমতে শুরু করে। সেই অভিমানের বহিঃপ্রকাশ ঘটে বৃষ্টি আঠারো বছরে পদার্পণ করলে।

আঠারো বছর বয়সটা বৃষ্টির জীবনে আমূল পরিবর্তন ঘটায়। মায়ের প্রতি অভিমানের দরুন সে সিদ্ধান্ত নেয় যে সে মায়ের ওপর প্রতিশোধ নেবে। সাথে চায় বাবার ভালোবাসাকেও যাচাই করে নিতে, বলতে গেলে একপ্রকার শায়েস্তা করতে চায় সে বাবাকেও। মেয়ের আবদারে সুবীর মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে থাকে, এর কারণ তার দ্বিতীয় বিয়ে ও তাদের সন্তান। এদিকে কাছের মানুষের প্রতি প্রতিশোধস্পৃহায় বৃষ্টি মড়িয়া হয়ে ওঠে, ধীরে ধীরে পদার্পণ করতে থাকে এক অন্ধকার জগতে।

অন্যদিকে এই সময় তার পরিচয় ঘটে সায়নদ্বীপের সাথে। সে ছোটো থেকে নানান সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার পরও তার লক্ষ্যে স্থির রয়েছে। সে চাইলেই বৃষ্টির মতো অন্ধকার জগতে চলে যেতে পারতো। কিন্তু সে তা না করে, দুঃখ কষ্টকে সরিয়ে নিজের লক্ষ্যে স্থির থেকেছে। বৃষ্টি কি পারবে সায়নদ্বীপের সহযোগীতায় অন্ধকার জগৎ থেকে বেরিয়ে আসতে নাকি চিরকালের মতো ডুবে যাবে অন্ধকারের সাগরে?

শৈশবকালে কোনো সন্তান যদি তার বাবা মায়ের বিচ্ছেদের শিকার হয়, তাহলে তার মনের ওপর দিয়ে যে কি ঝড় বয়ে যায়, কি করুণ অবস্থা হয়, সেটাই ফুঁটে উঠেছে এই উপন্যাসে। আঠারো বছর বয়সের বৃষ্টি, অন্যদিকে সম্পর্কচ্ছিন্ন দুই নরনারী, প্রত্যেকের আলাদা জীবন, নিজেদের মতো করে সেই জীবনের মানে খুঁজে ফেরা এক আশ্চর্য টানাপোড়েনের কাহিনী বর্ণিত উপন্যাস এটি। এককথায় অসাধারণ লেগেছে উপন্যাসটি।

তবে শেষে এটাই বলবো যেই কারণেই হোক না কেন, প্রতিশোধের আগুন মনের মধ্যে পুষে না রাখাই ভালো। কারণ প্রতিশোধস্পৃহার আগুনে অন্যকে পোড়াতে গিয়ে শেষে নিজেকেও পুড়তে হয়।

"একটাই তো জীবন মানুষের। সেটাও যদি অন্যের অপরাধের বিচার করতে গিয়ে, প্রতিশোধ নিতে গিয়ে শেষ করে ফেলি তবে আমার রইল কি? "
Profile Image for Arghadipa Chakraborty.
183 reviews6 followers
June 13, 2024
🍁 উপন্যাস:- কাঁচের দেয়াল
🍁 লেখিকা:- সুচিত্রা ভট্টাচার্য
🍁 প্রকাশক:- আনন্দ পাবলিশার্স
🍁 বর্তমান মূল্য:- ২৫০ টাকা

সুবীর আর জয়ার বিবাহ বিচ্ছেদের পর মেয়ে বৃষ্টি ওরফে শিঞ্জীনিকে নিজের কাছে রাখবার অধিকার কোর্ট থেকে অর্জন করে নেয় জয়া। সুবীর তাকে শাসায়,"দেখবো মেয়ের ১৮ বছর বয়স হলে কিকরে আটকে রাখতে পারো"। ছোটো থেকেই মায়ের কর্মব্যস্ততার কারণে মায়ের সঙ্গ ঠিকমতো পায়নি বৃষ্টি। সেই থেকেই তার অভিমান জমার শুরু। ১৮ বছর বয়সে এসে বাবার ভালোবাসাও যাচাই করে নিতে চায় বৃষ্টি। কিন্তু অন্য একটি সংসার আর সন্তানের মায়ায় আবদ্ধ সুবীর অসহায় হয়ে পরে মেয়ের চাহিদার কাছে। একাকীত্ব আর প্রতিশোধের আগুনে পুড়ে বৃষ্টি নিজেই অন্ধকারে তলিয়ে যেতে থাকে।

আমরা জানি, একটা ভালো বন্ধু ১০০ টা ভালো বইয়ের সমান। এই উপন্যাসে তার মূর্ত প্রতীক সায়নদ্বীপ, যার খারাপ হওয়ার হাজার টা কারণ থাকলেও সে নিজের জীবনের লক্ষ্যে স্থির। সায়নদ্বীপের সাহচর্যে বৃষ্টির জীবন কোনদিকে মোড় নেবে তা জানতে পড়ে ফেলতে হবে এই উপন্যাসটি।

দাম্পত্য সমস্যার কারণে ডিভোর্স আজকাল খুবই সাধারণ একটা ঘটনা। এতে দুজন ব্যক্তি হয়তো শান্তি পায়, গুছিয়েও নেয় তাদের জীবন। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত তৃতীয় ব্যক্তির জীবন কোনদিকে বাঁক নেয়? ঐ সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য কেমন থাকে? তারই গল্প বলবে সুচিত্রা ভট্টাচার্য এর "কাঁচের দেওয়াল"।

এই উপন্যাস শুধু এক সামাজিক ব্যাধির আখ্যান নয়, এ এক কঠোর বাস্তব যাকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না। লেখিকার শক্তিশালী কলমে এ এমন এক উপন্যাস যা এতদিন পরেও মনে রয়ে গেছে। যাঁরা সামাজিক উপন্যাস পড়তে ভালোবাসেন, তারা একবার পড়ে দেখতেই পারেন।
Profile Image for Sajid Elahi.
13 reviews
November 8, 2020
এই দেওয়াল সবার থাকে। কিন্তু এই দেওয়াল কাচের হলেই বিপদ কারণ এই দেওয়ালের ওপারে এপারে কি আছে সবই দেখা যায়, উপলব্ধি করা যায়। আর দেওয়াল নামের সম্পর্কগুলা বাধা থাকে কিছু মানুষ দিয়ে। কিন্তু মানুষগুলা নিজের জায়গা থেকে প্রত্যেকেই নায়ক, লড়াকু সৈনিক সবাই। কিন্তু নিজেকে ভাল প্রমাণ করতে পারার অহমে ভেঙে চুরমার হয়ে যায় সবথেকে ভালবাসার জিনিস।
সুবীর আর জয়ার ভালবাসার ফসলকে ভালবাসার প্রতিযোগিতায় হেরে যায় দুজনেই। তাদের পাপ,দায়িত্বহীনতা, অাত্মঅহমিকার কারণে জলীয়বাষ্প হয়ে উড়ে যায় সন্তানের প্রতি স্নেহ,মায়া, মমতা। এগুলোর রেশ সমাজের চোখে নিকৃষ্ট হয়ে ঝরে পড়ে ঝুপঝাপ বৃষ্টির মত। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি চলে যায় হাসি মুখে মেনে নেওয়া হাজারো কষ্টের বাহক সায়নের কাছে।
Profile Image for Al- Mubin.
62 reviews1 follower
February 22, 2025
অসাধারণ লেখনী।
একটি ব্রোকেন ফ্যামিলিতে প্রতিটি সদস্য কিসের মধ্যে দিয়ে যায়, তারা কি রকম পরিস্থি��ির সম্মুখীন হয় বা সেই পরিবারের শিশুরাই কিসের মধ্যে দিয়ে যায়, তার বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে জয়া, সুবীর আর বৃষ্টির চরিত্রের মধ্যে। দূরে গিয়েও যে খুঁজে ফেরা কিংবা আক্ষেপ নিয়ে দিন পার করা যে কতটা কঠিন আর নিষ্ঠুরভাবে আঘাত করে তারই প্রমাণ লেখিকার এই কাচের দেওয়াল।

জয়া-সুবীরের সাথে চলে এসেছে রীতা আর রাজার জীবন। পটভূমির শেষ দিকে সুবীরকে নিয়ে সবার যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা, সেটাই প্রমাণ করে, পারিবারিক টান কি জিনিস আর ভালোবাসা কি জিনিস। সর্বোপরী, অসাধারণ একটি লেখনী এটি। পাঠক প্রতিটি পাতায় পাতায় রোমাঞ্চ অনুভব করবে, এটা সুনিশ্চিত।
1 review
October 9, 2018
This book is good
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Dhiman.
186 reviews16 followers
June 25, 2024
রাহাত ফাতেহ আলি খানের গানটা মনে পরে গেল - মোহাব্বাত ভি জারুরি থা, বিছারনা ভি জরুরি থা!
Profile Image for Biva Podder.
58 reviews3 followers
Read
January 25, 2025
Started with audiobook then read the pdf to know the full story . So many perspective so many angle of a single situation .
Profile Image for Disha Ganguly.
8 reviews3 followers
January 30, 2025
এত সুন্দর একটা উপন্যাস এতদিন যে কেন পড়া হয়নি এটা ভেবে আফসোস করার সময় ও পেলাম না। এক নিঃশ্বাসেই শেষ হয়ে গেলো বইটা...
Profile Image for Nujat Nur.
5 reviews
March 9, 2025
সুচিত্রা ভট্টাচার্যের লেখা বরাবরই বেশ ভালো লাগে।এটাও বেশ সুন্দর একটা উপন্যাস ছিলো।জীবনকে নতুন করে দেখতে শেখানোর মতো ক্ষমতা আছে এ উপন্যাসের।
Must recommended.
Profile Image for Gain Manik.
365 reviews4 followers
April 14, 2025
জাদুকরী লেখনী, পড়ার সময় ইরানি মুভি এ সেপারেশনের কথা বারবার মনে পড়ে গেছে যদিও গল্প আলাদা আলাদা।
মা বাবার ডিভোর্স হয়ে গেছে কিন্তু তাদের মেয়ের কি হবে। এই দোলাচলে চলে এই উপন্যাস। অনেক ভাল!
Profile Image for Anika Shamsi.
22 reviews
October 11, 2025
ভাল লেগেছে অনেক তবে শুরুর দিকে একটু গতানুগতিক লাগছিলো। শেষটা বেশ ভালো।সুচিত্রা ভট্টাচার্যের লেখা বরাবরই খুব প্রিয়।
Displaying 1 - 30 of 36 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.