একজন নিঃসঙ্গ মানুষ। তিনটি যুবতী। একজন নিশিকন্যা। পাঁচজনের অতি বিচিত্র গল্প। তিন যুবতী নিজেদের সব সময় বোরকায় ঢেকে রাখে। নিঃসঙ্গ মানুষটার সঙ্গে হঠাৎ হঠাৎ যখন দেখা হয় তারা একসঙ্গে হাসে। তারা কেন একসঙ্গে হাসে সেটা তারাও জানে না। নিঃসঙ্গ মানুষটা একদিন একজন নিশিকন্যাকে তার বাসায় নিয়ে এলো। শুরু হলো বাসরের গল্প।
Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
গল্পটা বিপত্নীক আহসানের। চার বছর আগে মারা যাওয়া স্ত্রী তারিনের টুকরো স্মৃতি নিয়ে দিন যাপন করা একলা পুরুষ। একেবারেই একলা বলা যায় না, তারিনের স্মৃতি আছে। তারিন তথাকথিত হুমায়ূনীয় নায়িকাদের মতো অতি রূপবতী নয়, লম্বা- রোগা মতোন একটি মেয়ে যার খেয়ালিপনা আছে; অন্তিম সময়েও কবিতা আওড়ায় - "Since there is no help come let us kiss and part." তবে কি স্মৃতির পাতা উল্টিয়েই সময় কাটে আহসানের?
আহসানের বাড়িওয়ালা করিম সাহেবের পাঁচ মেয়ে; এদের মধ্যে বড় তিনজন- বেগম, শাহজাদী, মহল।এদের ছোট দু'বোন স্কুলে যায় আর এরা শুধু ঘরে বসে থাকে কিংবা বিয়ের জন্য অপেক্ষা করে। ঘরে না বসে থেকে বাইরে কোথাও গেলে এই বোনত্রয় হাত ধরাধরি করে যায়। করিম সাহেবের মতে তার বড় মেয়েরা বোকার হদ্দ। অন্যদিকে আহসানের শ্যালিকা জেরিন সুন্দরী সাথে মেধাবী, প্রতিভাবান।
কি আর এমন বয়স আহসানের! তাছাড়া ছোট্ট একটা ছেলেও তো আছে। আহসানের বাবা তাই চিঠি লিখেন বেয়াই মশাইকে; মা জেরিনের সাথে আহসানের বিয়েটা ঘটতেই পারে! তাতে কি! আহসানেরও পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে, বাড়িওয়ালার মেয়েটির নাম বলে পার পেয়ে যাওয়া যায়। মিলনে আর বিরহে অভ্যস্ত না হয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা যেহেতু নেই তাই আবারও বাঁধা পড়া যায়। কিন্তু..... তারিন কি তার স্মৃতিতে আসবে না! হুড খোলা রিকশায় কোনো রমণীকে দেখলেই আহসানের হঠাৎই মনে হয় ঐতো তারিন যাচ্ছে! যার কারণে সেদিকটায় তাকিয়ে থাকতে হয় একদৃষ্টিতে যতক্ষণ তাকে দেখা যায়। কিংবা রাতে ভাড়া বাসায় ফেরার সময় এক নিশিকন্যাকে দেখে হঠাৎই বুকের ভেতরে ধক করে ওঠে, মনে হয় কোথাও যেন তারিনের সাথে মিল; হাসিতে নাকি!? কিংবা ক্লাসে রোল কল করার সময় কোনো এক ছাত্রীর কণ্ঠস্বর শুনে মনে হয় অবিকল তারিনের গলা! হায়....
“তোমারে যে চাহিয়াছে ভুলে একদিন, সে জানে তোমারে ভোলা কি কঠিন। ”
পুঁচকু বই "বাসর" যার মূল কথা হয়তো নজরুল সাহেবের ঐ লাইনদ্বয় কিংবা মানুষ কখনও নিঃসঙ্গতায় বাঁধা পড়ে না। রি-রিড করেছিলাম গেল আগস্টে। অংবং লিখা ছিল। ভাবলাম রচনা লিখে ফেলি :3
থাকে না কিছু ব্যাপার? ধরেন, কিচ্ছু ভালো লাগতেছে না,এমন সময় আসলো আপনার একটা বন্ধু, এর সাথে কথা বললে আপনার মন ভালো হওয়ার চান্স নেই,তাও আপনি কথা বলতেছে এবং অবাক করার বিষয় অল্প সময় পরে আপনি নিজেকে আবিষ্কার করলেন একজন খুশি মানুষ হিসেবে। মন খারাপ ভ্যানিশ। হুমায়ূন পড়া শুরু করলে আমার ঠিক এমনটা ই হয়।
হুমায়ূন দিয়ে আমার স্থায়ী ভাবে বই পড়া শুরু হয়েছিল,যতদিন আমার পাঠক স্বত্বার অস্তিত্ব থাকবে,ততদিন আমি হুমায়ূন পড়ে যাব। তো, আমার এত দিনের হুমায়ূন পাঠের অভিজ্ঞতা দিয়ে যা জানলাম,হুমায়ূন সাসপেন্স রাখতে পছন্দ করেন। তাঁর উপন্যাসের অধিকাংশ ই পড়ার পর মনে হবে,"দূর এটা আরো বাড়তে পারত,নিসন্দেহে কয়েকশ পেইজ। হুদায় তাড়াহুড়ো কইরে শেষ করে দিল! " আদতে তা না,হুমায়ূনের লেখার শৈলীই এমনতর। বিশেষ করে নভেলা গুলো, হুট করে শেষ! এই প্রথম একটা নভেলা পেলাম,যেটার সমাপ্তি আছে বলে আমার মনে হলো এবং খুবই চমৎকার...
নভেলার নাম " বাসর "। গল্পটা আহসানের। সদ্য স্ত্রী বিয়োগ হয়েছে ভদ্রলোকের। তার স্মৃতি নিয়েই বেঁচে আছেন তিনি। এর মধ্যেই ঘটতে থাকে নানা ঘটনা যা আহসান বার বার তারিনের কাছে নিয়ে যায়। তারিন ই আহসানের জীবনে একমাত্র সত্য....
৭১ পৃষ্ঠার ছোট্ট একটা বই যার ৭০পৃষ্ঠায় গিয়ে আমি এক লাইন বার বার পড়ছিলাম যাতে বইটি শেষ না হয়ে যায় যেসব বই এর শেষে এমন মনে হয় সেসব বই ই কি সেরা না???
"Since there is no help come let us kiss and part".
স্নিগ্ধতায় ভরা হাসিমাখা মুখ, যার হাসির শব্দ কানে বাজে সারাক্ষন, সে তারিন, আহসানের গত হওয়া স্ত্রী।
রেবা নামের একজন নিশিকন্যার মধ্যে আহসান তার হারানো তারিনের দেখা পায়, কিন্তু এ দেখাতে রেবার কিছু আসে যায় না।
তারিনের ছোটো বোন, জেরিন। সুন্দরী এবং মেধাবী। সে তারিনকে অনেক হিংসা করে, মৃত মানুষকেও হিংসা করা যায় তাহলে! জেরিন যে মনে মনে আহসান কে পছন্দ করেন।
করিম সাহেবের বাসায় ভাড়া থাকেন আহসান। করিম সাহেবের পাঁচটি মেয়ে, ছোটো দুইটি মেয়ে স্কুলে যায় আর বড় তিনটি মেয়ে বাড়িতেই থাকে, তারা হলেন- বেগম, শাহজাদী আর মহল। তিনজনের মধ্যে কেউ একজন আহসান কে পছন্দ করেন, করিম সাহেব শেষমেশ এর একটা সমাধান করতে চাইছিলো।
সমাধান হয়ে যায় কিনা জানিনা, তবে কাউকে ভুলে যাওয়ার মত কঠিন কাজকে আগলে ধরে সামনে আগাইতে থাকে আহসান।
বাসর, হুমায়ূন আহমেদের ২০০২ সালে প্রকাশিত একটি উপন্যাস। সময়ের হিসেবে আজ থেকে ১৮ বছর আগে। তখনও কি ভালোবাসাগুলো এমন ছিল!
পৃষ্ঠা সংখ্যা যেমনই হোক, হুমায়ূনের বই পড়তে কোন কষ্ট হয়না, নিমিষেই শেষ হয়ে যায়! বারবার পড়া বইও পড়তে ভালো লাগে।
এখানে মূল চরিত্র আহসান যে কিনা কোন একটা প্রাইভেট কলেজের শিক্ষক; বিপত্নীক এবং একটি পুত্র সন্তানের জনক। কিন্তু পুত্র মারুফ তার কাছে থাকেনা, পুত্র থাকে তার নানীর কাছে। এখানেও বেশ কিছু দারুণ দৃশ্য কথা আছে!
উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র তারিন, যে কিনা মৃত হয়েও পুরো উপন্যাস জুড়েই উপস্থিত। তবে এই বইতে কোথাও "অপূর্ব রূপবতী" তারিন লেখা নেই! বরং রোগা, পাতলা, লম্বা একটা মেয়ে তারিন। যে কিনা দারুণ প্রানবন্ত! প্রাণের উচ্ছলতাই এখানে তারিনের চরিত্রের বৈশিষ্ট্য।
করিম সাহেবের বাড়িতে ভাড়া থাকে আহসান। করিম সাহেব ৩ কন্যার জনক; বেগম, শাহজাদী এবং ছোটটি মহল। বেশ অদ্ভুত নাম! বেগমের কিছু কথা থাকলেও, মহল এখানে একটি "চমক চরিত্র"! তবে শাহজাদী কে নিয়ে কোন কথা নেই।
এখানেও নিশিকন্যা রেবা বা পারুলের সাথে হাসানের দেখা হয়, কথা হয়। হাসান পারুলকে সাহায্য করতে চেষ্টা করে কিন্তু পারুল তা নেয় না। বরাবরই হুমায়ূন আহমেদের গল্পগুলোতে এমন চরিত্ররা খুব আত্মসম্মানবোধ দেখায়, তারা সহজে নিজেদের সম্মানের জায়গাটা নষ্ট করে না বা লেখক তা করতে দেন না!
এখানে আহসান মূলত তারিনের মৃত্যুর পর তার স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে। বিয়ের মাত্র দেড় মাসের মাথায় বাচ্চা হতে গিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তারিন মারা যায়; (যাকে মেডিকেলীয় ভাষায় বলা হয় "পিপিএইচ" বা 'পোস্ট পারটাম হেমোরেজ"!) গল্পে বলা আছে ৭ ব্যাগ রক্ত দিয়ে তারিনকে বাঁচানো যায়নি। (হয়তো এখন হলে বাঁচানো যেত! অন্তত hysterectomy তো করা যেত! এছাড়া সায়েবাস মেথড তো আছেই!)
তারিনের ছোট বোন জেরিন। ঘটনাচক্রে একদিকে জেরিন অন্যদিকে মহল আহসানকে পছন্দ করে বসে এবং অন্যান্য গল্পের মত একটি বিয়োগান্তক সমাপ্তি না টেনে বারবার হাহাকার জাগিয়ে শেষে একটি মোটামুটি বাস্তব সমাপ্তি টানা হয়েছে।
এত ভালোবাসা, এত মায়া তাও একদিন ফিকে হয়ে আসে! অবশেষে ভালোবাসার ছায়া খুঁজে নেয় মানুষ অন্যকোন আশ্রয়ে!
This entire review has been hidden because of spoilers.
মহল! জি। একটা গল্প বলো। মহল বিস্মিত হয়ে তাকাচ্ছে. গল্প জানো না? মহল তার উত্তর দিল না। মুখ ঘুরিয়ে দেয়ালের দিকে তাকাল। সেখানে তারিনের ছবি। সে যেন হাসি- হাসি মুখে দেখছে এদের দু'জনকে। মহল! জি। এই লাইনের মানে জানো?.... Since there is no help come let us kiss and part. মহল উত্তর দিল না। আহসান কোমল গলায় বলল, ঐ লাইনটির মানে তোমার জানার প্রয়োজন নেই। —
উপন্যাসের শুরুতে সেই এলাকাটার উল্লেখ দেখে থমকে গিয়েছিলাম বটে। সে মুহূর্তে ওই এলাকার একজনের কথাই ভাবছিলাম কাকতালীয়ভাবে। একটা ঘোরের মাঝে পুরোটা শেষ হয়ে গেলো। খুবই সাধারণ এবং লিনিয়ার ঘটনাপ্রবাহ। তবুও, বইটা শেষ করেও মনে হচ্ছিলো এতো জলদি শেষ না হলেও পারতো!
প্রত্যেক ভালবাসায় দুইজন সুখী হলেও তৃতীয় একজন অবশ্যই কষ্ট পাবেই, এটাই হয়তো প্রকৃতির নিয়ম। আর সেই নিয়মকে খুব বেশি ভাবে ফুটে উঠতে দেখা যায় হুমায়ুন আহমদের লেখায়। বাসর গল্পটিও তাঁর ব্যাতিক্রম নয়। গল্পের প্রধান চরিত্র আহসান, পেশায় অধ্যাপক, বিপত্নীক। ৫ বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল সে তারিনকে। ৪ বছর আগে সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মারা গিয়েছে সে। সেই সন্তান এখন বড় হচ্ছে তারিনের বাড়িতে।
মাস দুই আগে সে বাড়ি ভাড়া নিয়েছে করিম সাহেবের বাড়িতে। যাঁর ৫ মেয়ে। ছোট মেয়ে দুটি স্কুলে যায়। আর বড় তিনটিকে সবসময় একত্রে দেখা যায়। ছোট মেয়েটির নাম মহল। এই মেয়েগুলির সঙ্গে মামুলি কথাবার্তা ছাড়া আলাদা আলাপ পরিচয় নেই আহসানের কিন্তু তার মাঝে মাঝে মনে হয়, করিম সাহেবের অন্য উদ্দেশ্য আছে।
এক দিনে আহসান বাড়ি ফিরে শুনতে পায় বাড়িওয়ালা করিম সাহেবের অক্সিডেন্ট হয়েছে। বাঁচার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আর সেই দিনেই আহসানের পরিচয় হয় 'রেবা কিংবা পারুল' নামের এক নিশি কন্যার সঙ্গে। যাকে এক ঝড় বৃষ্টির রাতে নিজের বাড়ি নিয়ে যায় আহসান। পড়তে দেয় তারিনের শাড়ি। কোনও সম্পর্ক কি গড়ে ওঠে তাঁদের মধ্যে?
অন্যদিকে, পাঠকের পরিচয় হয় জারিনের সঙ্গে। সম্পর্কে সে তারিনের ছোট বোন। কিন্তু স্বভাবে কোনও মিল নেই। ৪ বছর আগে মারা যাওয়া বোনের উপর জারিনের রাগ করা দেখে অবাক হয় আহসান। একই সঙ্গে বারবার বুঝতে পারে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে তেমন পছন্দ করে না। তারই মধ্যে আহসানের বাবা চিঠি পাঠায় তারিনের বাবাকে। জারিনের সঙ্গে আহসানের বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া সেই চিঠি পরিবেশ আরও ভারী করে তোলে। জারিন, আহসানকে প্রথমে অপমান করলেও পরে আকারে - ইঙ্গিতে নিজের ভালোবাসার কথা জানায়।
আহসান সেই ভালোবাসায় সাড়া দেবে কি? নাকি মৃত্যুপথযাত্রী করিম সাহেব ভুল বুঝে যে প্রস্তাব দিয়েছেন তাতে সম্মতি দেবে? ১১ ই শ্রাবণ বিয়ে ও বাসর হয়েছিল তারিন ও আহসানের। ৫ বছর পর আবারও কি সেই রকম কিছ�� ঘটবে? নতুন বাসর রাত কি সেজে উঠবে আহসানের জন্য? জারিন, মহল, 'রেবা কিংবা পারুল' নামের নিশিকন্যা, নাকি মন জুড়ে থাকা তারিন- শেষ পর্যন্ত কাকে আহসান বলবে – ‘Since there’s no help, come let us kiss and part.’
কিছু কিছু গল্প হয় নদীর মত। অনুভূতির স্রোতে ভেসে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। এই গল্পটি ও ঠিক সেই রকম। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত জীবনের বিভিন্ন ঘটনায় আহসানের অনুভূতিই এই গল্পের মূল বিষয়। আর সেই বিষয়টি পাঠককে বিরক্ত করে না। বরং শেষ পর্যন্ত আহসান কি সিদ্ধান্ত নেবেন তা জানার আগ্রহ তৈরি হয়।
বাসর নামটা শুনলে একটা অন্য টাইপ ফিলিং আসে। অনেকে মুখ টিপে হাসে,ভাবে বাজে টাইপের বই হবে হয়তো। কিন্তু হুমায়ূন আহমেদের এই বাসর উপন্যাস এমন না। এটা একজন একাকী মানুষের গল্প যার জীবনে অনেকেই আছে,আবার কেউ নেই। যে সবার মাঝে খুঁজে ফেরে একটিই মুখ,যে বিশেষ একটা জায়গায় আবিষ্কার করে একটা গন্ধ।
অদ্ভুত এক ফুলের গন্ধ দিয়ে গল্পটা শুরু। গন্ধটা বিশেষ এক জায়গায় গেলেই পাওয়া যায় আর কোথাও না।
নিঃসঙ্গ ও একাকী জীবন আহসানের। চার বছর আগে স্ত্রী তারিনের মৃত্যু এখনো পীড়া দেয়। এই জীবনে তারিন ছাড়া কিছু নেই। মাঝে মাঝেই স্মৃতি উস্কে দেয় তারিনের হাজারো কথা। প্রতি মুখের মাঝে তারিনকে খুঁজে পায় সে। মৃত স্ত্রীর টুকরো টুকরো স্মৃতি নিয়ে সে বাঁচে। হঠাৎ হঠাৎ এমন কারোর দেখা পায় যারা অবিকল তার স্ত্রীর মতো হাসে, হঠাৎ হঠাৎ এক ঝলকে তাদের তারিন বলে ভুল হয়।
কিন্তু আহসানের বয়স তো বেশি না। এক সন্তানের বাবা। আহসানের বাবার ইচ্ছা, একমাত্র শালী জেরিনকে বিয়ে করে আবার সংসারী হোক ছেলে। ওদিকে বাড়ীওয়ালার ইচ্ছে বড় মেয়েকে আহসানের সাথে বিয়ে দেওয়ার। কিন্তু আহসানকে পছন্দ করে ছোট মেয়ে।
যেই তারিনের স্মৃতিতে সময় পেরিয়ে যায়, সেই স্মৃতি ভোলা যায় না। তারপর আহসান জানে না, জীবনের গতি কোথায় গিয়ে থামবে। তারিনেই থমকে থাকবে? না অন্য কারো কাছে গিয়ে নতুন জীবনের গল্প লিখবে?
আহসান সাহেব একটি কলেজের প্রফেসর। তার স্ত্রী তারিন এর মৃত্যু হয়েছে তাদের ছেলের জন্ম দেয়ার সময়। তারিন এর সাথে আহসান এর সম্পর্ক খুব ভালো ছিলো কিন্তু বেশিদিন তার সঙ্গ পাওয়া হয়নি। আহসান থাকে করিম সাহেব এর ভাড়া বাড়িতে। করিম সাহেব ধর্মভীরু মানুষ। তার ৫ মেয়ে। সবাই কঠিন পর্দা করে চলে। সম্প্রীতি করিম সাহেব এর এক্সিডেন্ট হয়েছে। বাঁচা মরার ব্যাপার। এই গল্পে আহসান বিভিন্ন মেয়েদের মধ্যে তারিনকে খুজে পায়। তারিন এর সাথে মিল আছে এমন কিছু খুজে পায়। এরকম এক ঝড়ো রাতে এক নিশিকন্যার সাথে আহসান এর পরিচয় হয়। ঝড় এর সে রাতে আহসান তাকে বাসায় থাকতে দিয়েছিলো। এই গল্পে তারিন এর ছোট বোন এর কিছু ভূমিকা রয়েছে। অসম্ভব মেধাবী সেই মেয়েটি হয়তো আহসান এর প্রেমে পড়েছিলো। এছাড়াও বাড়িওয়ালার ৩ নং মেয়ে মহল যার নাম, সে আহসানকে খুব পছন্দ করে। এক ঝড়ো রাতে আহসান মহলকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। মহলকে তার সিদ্ধান্ত জানাতে বলে এক কাপ চা আনতে বলে। মহল চা নিয়ে আসে অনেকক্ষণ পর। মহল শাড়ি পড়েছিলো, সেজেছিলো। তার সাথে মহল এর বড় ২ বোনও শাড়ি পড়ে এসেছিলো মহল এর সাথে। এই ৩ বোন সব কিছু একসাথে করে।
This entire review has been hidden because of spoilers.
হুমায়ূন স্যারের উপন্যাসগুলোতে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছাপটিই উঠে এসেছে বইয়ে। মূল চরিত্র আহসানের জীবনের সাথে জড়িয়ে থাকা কয়েকজন মানুষের ঘটনা ছোট্ট পরিসরে বর্ণিত হয়েছে; বলাই বাহুল্য আরেকটু বেশি কিছু আশা করছিলাম, কোন চমক! কিন্তু না, লেখক এমন জাদুকরী মহিমায় সাধারণভাবে বইটি লিখেছেন যে বইটি ছেড়ে উঠতেও ইচ্ছে হচ্ছিল না। এটিকে ভালোবাসার বই বলব? হুম, বলা যায় বোধহয়। মায়ায় পড়ে যাওয়া আর ঘটনার আকস্মিকতায় বলতেই পারি, শীতের রাতে কম্বল মুড়ি দিয়ে বসে পড়ার জন্য বইটি মন্দ না!
"একজনের সংগে অন্য একজনের মিলের ব্যাপারটা বোধহয় মনগড়া। আসলে তেমন কোন মিল থাকে না। মিল কল্পনা করা হয়। আমরা একজনের চোখে অন্য একজনের ছায়া দেখি।"
"Since there’s no help, come let us kiss and part. Nay, I have done, you get no more of me; And I am glad, yea glad with all my heart, That thus so cleanly I myself can free." -Michael Drayton
This entire review has been hidden because of spoilers.
বাইরে বেশ ভালোই ঝড়বৃষ্টি,এই ভোলাভালা ডিসেম্বরে এসেও বৃষ্টি হচ্ছে দেখে আমার মন খারাপ হওয়ার কথা ছিলো কিন্তু আমার মন খারাপ হয়নি,হোস্টেলের অন্য সবাই যে যার রুমে আড্ডা দিচ্ছে,আমি ফরিদপুরের এই তীব্র শীতের মধ্যেও জানালা খুলে বৃষ্টির শব্দ শুনছি।আড্ডা দেয়ার বদলে অডিও বুকে হালকা মেজাজের কোনো বই খুঁজছিলাম,বাসর সামনে এলো।শুনেও ফেললাম।হুমায়ূন আহমেদের মোস্ট হাইপড বইগুলোর মধ্যে এই নামটি নেই বোধহয় থাকলে আরো আগেই পড়া হতো হয়তো।বাইরে বৃষ্টি, এক কাপ র চা এবং অডিও বুকে বাসর।প্রচন্ড স্ট্রেসফুল জীবনে এটুকু পজ দেয়াই যেতে পারে।জীবন সুন্দর এই কথাটা আমি অসংখ্যবার বলেছি,আবারো বলছি জীবন আসলেই সুন্দর। বইয়ের রিভিউ হলোনা এটা।যাইহোক,বইয়ের রিভিউ এর চেয়ে এই মুহুর্তের রিভিউ টা আমার কাছে বেশি জরুরী ছিলো। ৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ঝিলটুলি,ফরিদপুর!!
ব্যক্তিগত রেটং ৩/৫। তবে এটা অবশ্য ৪ বা ৪.৫/৫ আশা করে। কারন সর্বশেষে বলছি।
অদ্ভুত ব্যাপার হলো এই পর্যন্ত পড়া হুমায়ূন আহমেদ এর উপন্যাস গুলোর ভিতর 'বাসর' পড়ে কেন যেনো মন খারাপ ব্যাপারটা আসেনি। একান্তই ব্যক্তিগত মতামত, হুমায়ূন আহমেদ এর লেখা পড়ার পর শুধু আমারই কিনা জানিনা এক অদ্ভুত শূন্যতা গ্রাস করে নেয় সমগ্র সত্তা। নিজস্ব ভাবনার যায়গা করে নেয় প্রতিটি চরিত্র, গল্প শেষ হবার আগেই কল্পনার একটা জগত আপনাআপনিই তৈরি হয়ে বসে থাকে। বিষন্নতা সুন্দর, কিন্তু অন্য উপন্যাসের এর মত কোন সুন্দর বিষন্নতা দিতে পারেনি বাসর, এজন্যই কিনা এত ভালো লেগেছে বইটা। হ্যাঁ, খারাপ লাগার একটা ব্যাপার পেয়েছি- উপন্যাসটির দৈর্ঘ্য খুবি ছোট। আরেকটু সামনে গল্প আগালে মন্দ হত না। তবে প্রফেসর আহসান এবং মহল এর শেষ কথপোকথন দিয়ে শেষ হয়ে যাওয়াটাও বেশ। এজন্যই রেটিং ৩/৫। ★★★ হ্যাপি রিডিং।
ভালোবাসার নানান রূপ। সে হবে হয়তোবা আপনার মৃতা স্ত্রী, কিংবা স্ত্রীর বোনের জন্য, কিংবা বাড়িওয়ালার তিন নম্বর মেয়ের জন্য,কিংবা কোনো অজানা অচেনা নিশিকন্যার জন্য! স্ত্রী বিয়োগের পর স্ত্রীর চেহারা পুরোপুরি ভুলে যাওয়ার পর ই আরেক বিয়ে করতে পারবেন এমন শর্ত আপনার না মানলেও চলবে,কিন্তু মৃত্যুর এক সপ্তাহ পরেও চোখ বন্ধ করে মৃতা স্ত্রীর ���েহারা মনে না করতে পারলেও আরোও হাজারো দিন স্ত্রীর স্মৃতি সাথে করে নানা ছায়ায় স্ত্রীর অবয়ব খুজতে থাকার নাম কি ভালোবাসা? জীবনের নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আমরা কতজনকে খুজে পাই, তবে সবার সাথেই কি আকস্মিক বাসর সাজানো হয়?ভালোবাসা উপচে পড়লেই হয়তোবা মাত্র তেরো মাসের বিবাহ বন্ধনের পরেও মৃত্যুকে সহজ ও সাধারণ ভাবে গ্রহণ করে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা যায়। আরোও কিছুটা বড় কেন হয় না গল্পগুলো?
লেখক সাহেব বেচে থাকলে তার উপর খুব রাগ করতাম। গল্পের ধারা টা খুব ভালো লাগছিলো তবে হঠাতই দেখি বই শেষ হয়ে গেলো। আরেকটু বড় হলে ভালো লাগতো আরো। কেনো জানি মনে হলো শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে বইটা। - তারিন মারা যাবার পর আহসান সবসময় প্রতিটা মানুষের মধ্যে তারিনের মিল খোজার চেষ্টা করে। আর মিল খুজে পেলে কেনো যেন সেই মানুষগুলোর প্রতি তার খুব মায়া কাজ করে। - যাইহোক অনেকদিন পর হুমায়ুন আহমেদ লেখা পড়ে অন্যরকম একটা ভালো লাগা কাজ করলো। লেখার মধ্যে তার এত সারল্য এবং লেখাগুলো হয় একদম বাস্তব জীবনের সাথে যায় এমন হয়। এজন্যই হয়তো হুমায়ুন স্যারের লেখাগুলো অদ্ভুত ভালোলাগা কাজ করে।
হুমায়ূন আহমেদের অধিকাংশ ছোটো উপন্যাসগুলোয় সমস্যা যেটা হয়, একইসাথে কথার ফাঁকে ফাঁকে কল্পনার অলিগলি বেয়ে বিভিন্ন ঘটনায় চলে যান তিনি। তারপর আবার ফেরত আসেন। অধিকাংশই কথার খেলা। স্যার এবং চেনাপরিচিত বোনেরা, এই গল্পও বেশ কমন। প্রায়ই মনে হয়, এই উপন্যাসগুলো যদি আরও দীর্ঘ হতো, দেড়শ দুশো পেজ, তাহলে হয়ত ভালোভাবে উপভোগ করতে পারতাম। তবুও বাসের সিটে এক কোণায় চিপকে আসতে আসতে শুনছিলাম, বাসর। কী এক বিষন্নতা যেন দুয়েকবার ঘিরে ধরল। মানুষ ভর্তি বাসে কানে ইয়ারফোন গোঁজা কোনো যুবকের চোখে পানি কোনো স্বাভাবিক বিষয় না, এই জেনে আর কোনো অস্বাভাবিকতার দিকে গেলাম না।
হুমায়ূন আহমেদের বেশিরভাগ গল্পেরই থিম প্রায় একই রকমই হয়। বোহেমিয়ার কোনো ছেলে যার কোনো টান নেই সংসারের প্রতি। কিন্তু এই অগোছালো, বেখেয়ালি একটা ছেলের প্রতি সবার আকর্ষণ থাকবে তীব্র। বাসর গল্পটার মধ্যে এর কোনো ব্যতিক্রম নেই।
এটা কে উপন্যাস না বলে বড় একটা গল্প বললেই সম্ভবত ভালো হবে। যথারীতি হুমায়ূন আহমেদ সামাজিক পটভূমিতে চমৎকার একটা গল্প লিখেছেন। যেটা পড়তে শুরু করলে শেষ না করা পর্যন্ত ওঠা যায় না। আমিও প্রায় একটানায় পড়ে গেলাম প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত। বেশ ভালো লেগেছে। তবে মনে হয় এই গল্পের বইটা আমি আগেও পড়েছি। তবে আগে কবে পড়েছি সেটা এখন আর খেয়াল নেই।