হঠাৎ দেখি পড়া বইটার রেটিং দেওয়া হয় নি। তাই এটায় রেটিং দিয়ে দিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশের সেরা কমিক আর্টিস্টের একজন মেহেদী হক ভাই। উনার আকা নিঃসন্দেহে দুর্দান্ত। গল্পটাও দারুণ ছিলো। এই সিরিজের আরো বই চাই।
বাতিঘর গেলাম (কারণ ঢাকা যাব আর বাতিঘর যাব না, তাই হয় নাকি?)। হাতে করে ইরাবতী নিয়ে বেরোলাম (মীনপিশাচ পড়েই নিহিলিন ক্লাবের ফ্যান আমি)। বাংলামোটর মোড়ে অপেক্ষা করতে করতে পড়ে ফেললাম।
একশয় একশ!
মাত্র ৫২ পেইজের মাঝে কাহিনী ডেভেলপ করে, তদন্তসুদ্ধ পরিণতি টানা — জোস কাজ।
নিহিলিন ক্লাব সিরিজটা আমাদের চেনা সব সিরিজের স্বাদ একসাথে নিয়ে আসে। দলটা গোস্ট বাস্টারদের মতো, তার মাঝে ইন্সপেক্টর সাদী হলেন দলের মিসির আলী, আর রহস্যগুলো ক্লাসিক বাংলা ভূতের গল্পের স্বাদ দেয়। যেমন ইরাবতী পড়তে গিয়ে আমার তারানাথ তান্ত্রিকের 'শ্রীপদ' গল্পটা মনে পড়ছিল। অত্যাচারী জমিদারের পাপের ফল একে একে ভোগ করতে হয় তার বংশধরদের। একেক বংশধরকে দেখা দেয় প্রতিশোধকামী আত্মা, তার কিছুদিন পর মৃত্যু হয় বংশধরের। শ্রীপদের গল্পটা এমনই।
সে জায়গায় 'ইরাবতী'র গল্প শুরু হয় ব্রিটিশ আমলে, শ্মশানে। জমিদারের গৃহবধু, ইরাবতীকে অন্যায়ভাবে সতীদাহ করতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গায়ে আগুন নিয়ে উঠে দাঁড়ায় মৃতদেহ, অভিশাপ উচ্চারণ করে জমিদারের প্রতি- "ঝাড়েবংশে নির্বংশ হবি তুই!"
বর্তমান কাল। জমিদারের বংশধরের বাড়িতে আমন্ত্রিত হয়েছেন ইন্সপেক্টর সাদী। ভূতের তদন্ত করতে হবে, কারণ : ফিরে এসেছে ইরাবতী!
জারুলিয়ায় ১৯৪৭ সালে ঘটেছিলো এক মহাঅন্যায়। মূলত অনেক অন্যায়ের পরম্পরায় এই পাপের পথে পা বাড়িয়েছিলেন রাধিকামোহন, দেবিকাপ্রসাদের পিতামহ।
নিজ পূত্রবধুকে কারো কারো মতে জীবিত অবস্থায় শ্মশানে পাঠিয়েছিলেন রাধিকামোহন। তবে সেই রাতের ঘটনায় জন্ম নেয় নতুন এক মিথের।
এক অভিশাপের মতো আবির্ভূত হন ইরাবতী বর্তমান সময়ে সম্পত্তির উত্তরাধিকারি প্যারিমোহনের ( দেবিকাপ্রসাদ ) জীবনে।
জারুলিয়া ঠিক আগের গ্রামটি নেই। অনেক কিছুই পরিবর্তিত হয়ে গেছে, যাচ্ছে। এমতাবস্থায় প্রাণ বাচাতে অকৃতদার দেবিকাপ্রসাদ হাজির হন এসব বিষয়ে সত্যানুসন্ধানী রাদী হকের কাছে।
ভূতের কান্ড নাকি মানুষের চিরায়ত অদ্ভুত লিপ্সা কাজ করছে এ সকল কিছুর পিছনে? তদন্তে নেমে রাদী হক জারুলিয়ায় আজব সব কাজকারবারের মাঝে পড়ে যান।
কমিক্স গল্প হিসেবে 'ইরাবতী' গতিশীল। প্লট সেই 'Whodunit' ঘরাণার তবে এর মাঝেও আরো ব্যাপার আছে।
হানিফ ড্রাইভারের চরিত্রটি মজাদার ছিলো। অঙ্কনে মেহেদী হক বরাবরের মতোই মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন, কিছু জায়গায় ইন্টেন্সিটি ছিলো, বিশেষ করে ঐ সার্কাসের দৃশ্যে। তবে আমাদের পরিচিত শার্লক কিংবা মিসির আলির ব্লেন্ডিঙে মেহেদী হক ভার্শনের ব্যাকগ্রাউন্ড আরেকটু জানা থাকলে ভালো হতো।
নাকি রাদী হকের আরো অভিযান আছে?
কমিক্স বই রিভিউ
নাম : ইরাবতী আঁকা ও লেখা : মেহেদী হক কমিক্স আর্টিস্ট : সব্যসাচী চাকমা প্রকাশনী : ঢাকা কমিক্স জনরা : মিস্ট্রি, হরর। রিভিউয়ার : ওয়াসিম হাসান মাহমুদ
ইরাবতি আমার পড়া ঢাকা কমিক্সের ২য় বই। কয়েকদিন আগেই এই সিরিজের মিনপিশাচ পড়েছিলাম, ঐ বইটির থেকে এই বইটি কলেবড়ে বড়। মাত্র ৫২ পৃষ্ঠার হলেও কাহিনী সুন্দর। যদিও প্রেডিক্ট করা যাচ্ছিলো সামনে কি হবে তবুও স্টোরি বিল্ডআপ চমৎকার। ভূতের গল্প হিসেবে শুরু হলেও মাঝখানে ছিলো বাস্তব যুক্তির প্যাঁচ আবার একেবারে শেষ পৃষ্ঠায় একটা রহস্য রেখেই কাহিনীর সমাপ্তি। গল্পটা ভালো লাগার আরেকটা কারন হলো এর দারুণ ইলাস্ট্রেশন। একেবারে নিখুঁত চরিত্র চিত্রণ। মেহেদী হক বর্তমান সময়ের বাংলাদেশের অন্যতম সেরা কমিক্স আর্টিস্ট। তার মৌলিক কাজ বাদে সে যদি বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত গল্পগুলো নিয়ে এরকম কমিক্স স্ট্রিপ আকারে বের করে তাহলে বিষয়টা সেই উপভোগ্য আর মজাদার হবে।
@dhakacomics এর নিহিলিন ক্লাবের কমিক্স "ইরাবতী"!! @mehedi.haque.cartoons ভাইয়ার লেখা আর আঁকা! স্টোরি প্লটটা সিম্পল বাট বাট টুইস্ট আর আর্ট গুলো ছিলো একদম অন লেভেল আর লাস্টের টুইস্টা!! খুব সম্ভবত এটা একটা সিরিজ ডিটেইলস জানিনা তবে কমিক্সটা এই বছরের না কিন্তু বেশ ভালো কারোর পড়া না থাকলে পড়ে নিতে পারেন সাজেস্ট রইলো!
না, ডিসাপয়েন্ট করে নি। সেরা ছিলো। তিন স্টার দিয়েছি কারণ গল্পটি কিছুটা cliché লেগেছে। এন্ডিংটা প্রিডিক্টেবল ছিল। কিন্তু ওসব বাদে, খুবই ভালো লাগলো এটি পড়ে। আর্ট স্টাইলটি দারুণ ছিল!!
এক বসায় পড়ার জন্যে ছোটো খাটো উপভোগ্য একটি কমিক্স। ঢাকা কমিক্স এর অন্যান্য কমিক্স গুলো নিউজপ্রিন্টের হলেও এটা গ্লোসি প্রিন্ট এর ছিল। তাই এইরকম জিনিস হাতে নিয়ে পড়ার অনুভুতিটাও একটা প্লাস পয়েন্ট হিসেবেই ধরা যায়। স্টোরি বেশ প্রেডিকটাবল।