Rabindranath Tagore (1861-1941) was aware of the potentially volatile contet of Char Adhyay, his last and thirteenth novel, written when he was seventy two. Who is a real patriot? Is liberation to be achieved by rhetorical slogans, ascetic militarism, conformity and ruthless external discipline? How can one be true to one's self in the making of a nation? Questions that make this tragic story of two lovers central to our times. The only existing English translation (edited ruthlessly for a foreign readership) was serialised in 1936 and came out as a book as late as 1950. This is the first complete translation of the Bangla novel. The Afterword by Rimil Bhattacharya relates the controversial history of the novel and draws the reader's attention to the poetry in this book.
Awarded the Nobel Prize in Literature in 1913 "because of his profoundly sensitive, fresh and beautiful verse, by which, with consummate skill, he has made his poetic thought, expressed in his own English words, a part of the literature of the West."
Tagore modernised Bengali art by spurning rigid classical forms and resisting linguistic strictures. His novels, stories, songs, dance-dramas, and essays spoke to topics political and personal. Gitanjali (Song Offerings), Gora (Fair-Faced), and Ghare-Baire (The Home and the World) are his best-known works, and his verse, short stories, and novels were acclaimed—or panned—for their lyricism, colloquialism, naturalism, and unnatural contemplation. His compositions were chosen by two nations as national anthems: India's Jana Gana Mana and Bangladesh's Amar Shonar Bangla.
গুরুদেবের শেষ উপন্যাস। অনেক ভালো লাগাইতে চাইছিলাম। দিনশেষে ভালোতেই আটকে থাকল। হয়ত যে প্রেক্ষাপটের উপর ভিত্তি করে উপন্যাসটি লেখা তা নিয়ে জ্ঞানের অভাব। তবে শেষ হইয়াও হইল না শেষ টাইপের একটা ব্যাপার আছে। আরও বোধগম্যতার জন্য ভবিষ্যতের কাছে জমা রাখলাম।
তখন উপমহাদেশ জুড়ে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের তৃতীয় ধাপ চলছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখলেন তার শেষ উপন্যাস চার অধ্যায়। স্বদেশী যুগের হিংসাত্মক আন্দোলনের কথা স্মরন করিয়ে দিবে সহজ ও ছোট শ্রেনীর এই উপন্যাস। সাধারন জনগণ এনার্কিষ্ট দলের কীর্তি বলে যা মনে করে তার ছবি এই উপন্যাসে পাওয়া যায়। একদা লেখাটির ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন খ্যাতনামা সাহিত্যিকগণ অভিহিত করেছিলেন তত্ত্ব প্রচারমূলক উপন্যাস নামে। রবীন্দ্রনাথ তখন কৈফিয়ত দিয়েছিলেন, "আমার চার অধ্যায় গল্পটি সম্বন্ধে যত তর্ক ও আলোচনা উঠেছে তার অধিকাংশই সাহিত্যবিচারের বাইরে পড়ে গেছে। এই গল্পের যে ভূমিকা সেটা রাষ্ট্রচেষ্টা-আলোড়িত বর্তমান বাংলাদেশের আবেগের বর্ণে উজ্জ্বল করে রঞ্জিত। আমরা কেবল যে তার অত্যন্ত বেশি কাছে আছি তা নয় তার তাপ আমাদের মনে সর্বদাই বিকীরিত হচ্ছে। এইজন্যেই গল্পের চেয়ে গল্পের ভূমিকাটাই অনেক পাঠকের কাছে মুখ্যভাবে প্রতিভাত।" ব্যাক্তি স্বাধীনতার যুগে স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমির রচনা আলোচনা অপ্রাসঙ্গিক তাই আমার আলোচ্য বিষয় "সাহিত্যরূপ"। ওই অধুনাতন কালের চিত্ত-আন্দোলন দূর অতীতে সরে গিয়ে এখন ইতিহাসের উপাত্তবিহীন আলোচ্য বিষয়মাত্রে পরিণত হয়েছে এখন পাঠকের কল্পনা অনাসক্তভাবে গ্রহন করতে বাঁধা পাবে না অর্থাৎ এখন লেখাটির সাহিত্যরূপ স্পষ্ট হতে পারবে।
এই বইয়ের অন্যতম আখ্যানবস্তু বলা যেতে পারে এলা ও অতীন্দ্রের ভালোবাসা। নরনারীর ভালোবাসার গতি ও প্রকৃতি কেবল যে নায়ক-নায়িকার চরিত্রের বিশেষত্বের উপর নির্ভর করে তা নয়, চারি দিকের অবস্থার ঘাত প্রতিঘাতের উপড়েও। নদী আপন নির্ঝরপ্রকৃতিতে নিয়ে আসে আপন জন্মশিখর থেকে, কিন্তু সে আপন বিশেষরূপ নেয় তটভূমির প্রকৃতি থেকে। ভালোবাসারও সেই দশা, এক দিকে আছে তার আন্তরিক সংরাগ আর একদিকে তার বাহিরের সংবোধ। এই দুইয়ে মিলে তার সমগ্র চিত্রের বৈশিষ্ঠ্য। এলা ও অতীনের ভালোবাসার সেই বৈশিষ্ট্য এই গল্পে মূর্তিমান করা হয়েছে। কালের বিবর্তনে প্রকৃতপক্ষে চার অধ্যায় যে পৌণঃপুনিক পাঠযোগ্য হতে পেরেছে, তার অন্যতম কারন রবীন্দ্রনাথের বেদনাময় চৈতন্য ও তার কবিত্বগুণ। তার তীক্ষ্ণ অনুভূতিময় মননশীল ও চেতনাতল উচ্চারিত বাকশিল্প উপন্যাসটিকে প্রাসঙ্গিক করে রেখেছে।
বাংলা সাহিত্যের গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ, তার রচনা আমার দেহে মনে শৌখিনতার রং লাগিয়েছে দেউলে দিনান্তের মেঘের মতো, যেন আকাশ থেকে কোন এক অপরূপ পাখি ছোঁ মেরে নিয়ে যায় আমার চিরদিনটাকে। সাহিত্যরসের বাইরেও রবীন্দ্র রচনা আমার মস্তিস্কপুষ্ট করে যে দুটি উপাদানের মাধ্যমে তা হলো 'দর্শন ও সংলাপ'। যেকোন ডিসিপ্লিনের জ্ঞানের সর্বোচ্চ উচ্চতায় থাকে তার দর্শন। সেই হিমালয় শৃঙ্ঘের চূড়ায় পাওয়া জ্ঞানকে রবীন্দ্রনাথ ব্যবহার করেছেন অকৃপনভাবে। তার যেকোন রচনার প্রতিটি পাতায় ছড়িয়ে আছে জীবন দর্শনে অসংখ্য মনি মুক্তা। যা পাঠক হিসেবে আমাকে দেয় "Ostensible means of livelihood".
আগ্রাসী জাতীয়তাবাদ ও সন্ত্রাসবাদের কবলে নররারীর আপন স্বরূপ কিভাবে বিপর্যস্ত হয়ে যায় তারই মর্মদস্তু কাহিনি নিয়ে লেখা "চার অধ্যায়" উপন্যাসটি। অতীন্দ্র ও এলার সেই ব্যর্থতার কথা এ উপন্যাসে মাত্র চারটি অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে। অন্তু - এলা তথাকথিত দেশসেবার দেউলে নিজেদের মানবধর্ম বিসর্জন দিয়েছিল,সেই সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের বড়ো আঘাত এলো মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের ওপর।
স্বদেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধের বিকারটাই তাঁর চোখে বড়ো বেশি ধরা পড়েছে,এর পিছনে যে আত্মত্যাগের রক্তিম পরিচয় রয়েছে তার গৌরবময় দিকটি তিনি এই উপন্যাসে উপেক্ষা করেছেন। সে যাই হোক, বার্ধক্যে লেখা "চার অধ্যায়ে"র ভাষা অতিশয় কৃত্রিম হয়ে পড়েছে,ঘটনাসনিবেশে কোনও প্রকার সংগতি দেখা যায় না,সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত চিত্রগুলোও অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়।
ব্যক্তিগতভাবে আমার রাজনৈতিক উপন্যাস একদম ভালো লাগে না। মাঝে মাঝে তো মনে হয়েছে মাঝপথেই ছেড়ে দিই উপন্যাসটি... বড্ড বিরক্ত লেগেছে পড়তে। রবীন্দ্রনাথ যে এত রসকষহীন লেখা লিখেছেন "চার অধ্যায়" উপন্যাসটি না পড়লে জানতেই পারতাম না।
বইয়ের নামঃ চার অধ্যায় লেখকঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বইয়ের ধরণঃ ঐতিহাসিক উপন্যাস প্রকাশনাঃ আফসার ব্রাদার্স পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৪৭ মূল্যঃ ৬০ টাকা (২৫% ছাড়ে)
ইতিহাস মানুষের জীবনের নানা দিক তুলে ধরে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। প্রতিটি দৃষ্টিকোণের বর্ণনা কখনোই এক ও অভিন্ন হয় না, হতে পারে না। এসব ভিন্ন ভিন্ন সকল দৃষ্টিকোণ মিলেই গড়ে ওঠে এক পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস।
এরকম এক ভিন্নধর্মী গল্প নিয়ে লেখা বইয়ের নাম "চার অধ্যায়"। ভারত উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনামল চলাকালে স্বদেশী আন্দোলন নামে এক আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। বঙ্গভঙ্গের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ আন্দোলন শুরু হলেও এক পর্যায়ে এ আন্দোলন এক সহিংস আন্দোলনের রূপ নেয়। এ কারণে এই আন্দোলন নিয়ে দুই বিরোধী পক্ষের জন্ম হয়। বিদ্রোহীদের ধরবার জন্য সরকার মরিয়া হয়ে ওঠে। সরকারকে সহযোগিতা করবার নিমিত্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে আলাদা এক শ্রেণীর জন্ম হয়। বিদ্রোহীদের কাছে এরা "টিকটিকি" নামে পরিচিত। উক্ত সময়কালের দুই বিরোধী পক্ষের বিরোধের গল্পকে ঘিরেই এগিয়েছে এ উপন্যাসের গল্প।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ইন্দ্রনাথ ও কিশোরী এলার কথোপকথন দিয়ে। শুরুতে এলার কিশোরী বয়সের গল্প এ আলাপের মধ্য দিয়ে উঠে আসে। কিন্তু উপন্যাসের গল্প শুধু তার কৈশোরের গল্পে থেমে থাকেনি। বরং উপন্যাসের ভিন্ন ভিন্ন অধ্যায়ের সাথে জীবনের অধ্যায়েও পরিবর্তন এসেছে। এ গল্পের মধ্য দিয়ে ছোট্ট এলা একসময় বড় হয়ে ওঠে। একসময় যাকে সবাই ছোট এলাচি বলে ক্ষ্যাপাত, একসময় সে-ই হয়ে ওঠে সকলের প্রিয় এলাদি। এ শুধু সম্ভাষণ বদলের নিছক কোনো গল্প নয়; বরং এ যেন পুরো জীবন চিত্র বদলের-ই এক গল্প! পাশাপাশি বিদ্রোহ সাধারণ মানুষের জীবনে আনে বিরাট পরিবর্তন। এ পরিবর্তনের আঁচ শুধু দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলেই সীমাবদ্ধ থাকে না; সে আগুনের উত্তাপ নিজের চেনা গণ্ডি পেরিয়ে আশেপাশের মানুষকেও সচেতন করে দেয় প্রতিনিয়ত। এ নিয়ে এগোতে থাকে উপন্যাসের গল্প। নানা ঘটনাচক্রে ক্রমেই ক্ষণে ক্ষণে বদলাতে থাকে জীবনের নানা রঙ! অধ্যায় বদলায় আর এগিয়ে যায় জীবনের গল্প।
এবার আসি চরিত্রগত আলোচনায়। ঐতিহাসিক গল্প নিয়ে লেখা এ উপন্যাসের প্রধান চরিত্রে রাখা হয়েছে এলাকে। এ চার অধ্যায় যেন একান্তই তার নিজের জীবনের চারটি পৃথক অধ্যায়ের গল্প। এলাচি থেকে এলাদি হয়ে উঠবার গল্প। যে মেয়েটি একসময় আর দশটি সাধারণ মানুষের মত সাদাসিধে জীবনের স্বপ্ন দেখত, সে মেয়ে একসময় ভিন্ন স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। পরিস্থিতি তাকে কতটা বদলে দেয়, তার প্রমাণ এ উপন্যাসের গল্প। পরিস্থিতির শিকার হয়ে সে মানসিক দিক থেকে ক্রমশ বদলে যেতে বাধ্য হয়। প্রিয়জনের সাথে ঘর বাঁধবার স্বপ্ন তার একসময় ফিকে হয়ে আসে। দেশমাতৃকার আহ্বান তার কাছে তখন বড় হয়ে ওঠে। এ দ্বন্দ্বে কাছের মানুষেরা একসময় তার কাছ থেকে দূরে চলে যায়। এভাবেই গল্প এগিয়ে যায় এক অমোঘ পরিণতির দিকে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছে অতীন্দ্রনাথ। এলার রাজনৈতিক সহযোদ্ধা হিসেবে এ উপন্যাসে তার উপস্থিতি চোখে পড়ে। শুরুতে তাকে শুধু এলার একজন সহযোদ্ধা হিসেবে দেখানো হয়েছে এ বইটিতে। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, সে শুধু এলার সহযোদ্ধা-ই নয়, তার সবচেয়ে আপনজন। কিন্তু বাস্তবতা তাদেরকে এক হবার সুযোগ দেয় না। দেশপ্রেমে বলিয়ান যুবক অতীন্দ্রনাথ দেশপ্রেমের কাছে নিজের প্রেমকে বিসর্জন দিতে কুণ্ঠাবোধ করে না একটুও! জীবন বাস্তবতা তাকে এক নতুন মানুষে পরিণত করে। এলার মত তার জীবনেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে থাকে প্রতিটি ধাপে ধাপে। বদলে যেতে থাকে জীবনের নানা চিত্রপট, বদলাতে থাকে জীবনের গল্প!
উপর্যুক্ত দুইটি চরিত্র বাদেও আরো কিছু চরিত্র এ উপন্যাসে রয়েছে। এসব চরিত্রের মধ্যে অখিল, বটু, ইন্দ্রনাথ, সতীনাথ প্রমুখের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এসব চরিত্র গল্পের প্রয়োজনে সৃষ্টি করেছেন ঔপন্যাসিক। ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস হলেও এ উপন্যাসে কোনো ঐতিহাসিক বাস্তব চরিত্র ব্যবহার করা হয়নি। সম্পূর্ণ কল্পিত এসব চরিত্রের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে উপন্যাসের গল্প। এসব চরিত্র চিত্রণের ক্ষেত্রে বেশ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন ঔপন্যাসিক। কেননা, এতে সাহিত্য মানের কোনো অবনতি আজোবধি কোথাও ঘটতে দেখিনি আমি।
এবার উক্ত উপন্যাসের ভাষা ও গঠন নিয়ে কিছু কথা হোক বলা। রবি ঠাকুরের অনেক বই-ই সাধুভাষায় রচিত হলেও এদিক থেকে এ বইটিতে ভিন্নতা রয়েছে। চলিত ভাষায় হবার ফলে এ যুগের সাধারণ পাঠকের জন্য সহজবোধ্যতা নিশ্চিত হয়েছে একপ্রকার। এছাড়া গঠনরীতিতেও বেশ চমক দেখিয়েছেন রবি ঠাকুর। ঐতিহাসিক গল্পের পাশাপাশি নিজস্ব অনেক জীবনবোধ এ গল্পে নিজস্ব স্থান দখল করে রয়েছে। এ সংযোজন উপন্যাসের গল্পে আলাদা এক মাত্রা যুক্ত করেছে। এ বিষয়টা পাঠক হিসেবে বেশ ভালোই লেগেছে আমার। তবে কোথাও কোথাও অর্থ বুঝতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে আমাকে। পাশাপাশি কিছু ভাষার প্রয়োগ দুর্বোধ্য মনে হওয়ায় তার অন্তর্হিত অর্থ ধরতে পারাটাও এক বড় চ্যালেঞ্জ।
পরিশেষে, এ কথা বলা আবশ্যক যে, সার্বিক বিবেচনায় বইটি মন্দ লাগেনি সব মিলিয়ে। তবে কিছু কিছু বিষয়ে মন্দলাগা ছিল। এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে একজন পাঠক বইটি পড়লে নিশ্চয়ই উপকৃত হবেন বলে আমার বিশ্বাস।
উপন্যাসটা আমার ভালো লাগতে যেয়েও ভালো লাগেনি। কারণ এখানে কাহিনীর চেয়ে অনেক বেশি ডায়ালগ ছিল। আমার আবার এই টাইপ বই খুব বেশি জমে না। বেশিরভাগই ছিল দার্শনিক আলাপ।
শুনেছি 'চার অধ্যায়' প্রকাশের পর রবীন্দ্রনাথকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। অনেকে মনে করেছিলেন, কবি তৎকালীন তরুণ বিপ্লবীদের (যেমন মাস্টারদা সূর্য সেন বা ভগত সিং-দের আত্মত্যাগ) খাটো করে দেখিয়েছেন।
তবে উপন্যাসটা পড়ে যা বুঝলাম, রবীন্দ্রনাথ বিপ্লবীদের সাহসের বিরোধী ছিলেন না, তিনি বিরোধী ছিলেন হিংসা, সন্ত্রাস এবং অন্ধ অনুকরণের। আজকের দিনে দাঁড়িয়েও এর রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট একদম খাপ খেয়ে যায়।
ইন্দ্রনাথ চরিত্রটি যেভাবে তরুণদের ব্রেইনওয়াশ করে নিজের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে, আজকের দিনেও আমরা দেখি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, উগ্র মতাদর্শ বা সোশ্যাল মিডিয়া 'কাল্ট'গুলো ঠিক একইভাবে তরুণ প্রজন্মকে অন্ধ অনুসারী বানিয়ে ফেলছে।
আবার অতীন্দ্র নিজের নীতি, বিবেক এবং মানবিকতা বিসর্জন দিয়ে কেবল একটা দলের অন্ধ কর্মী হয়ে উঠেছিল। এই চিত্র কি আমাদের পরিচিত নয়? আজকের দিনেও আমরা দেখি যে দলের একনিষ্ঠ কর্মী হয়ে ওঠার জন্য মানুষ তার ব্যক্তিগত বিবেক হারিয়ে ফেলে। দল যা বলছে, তা-ই অন্ধের মতো বিশ্বাস করছে। যেন ব্যক্তি এখানে গৌণ, দল বা গোষ্ঠীই মুখ্য। এটা কিন্তু কেবল রাজনৈতিক দল না, ভার্সিটির ক্লাবের ক্ষেত্রেও দেখা যায় :p
এখনো ঠিক করতে পারি নি কেমন লাগল বইটা। এলার চরিত্রটা দারুণ- এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু তার আর অতীন্দ্রের প্রেমের গল্পের মধ্যে দিয়ে তো প্রকাশ পেয়েছে রবি ঠাকুরের পলিটিক্স আর সেখানে আমি তাঁর সাথে পুরোপুরি একমত না। মানে টেররিজ্ম নিয়ে নানাজনের নানা মতামত, তা স্বাভাবিক। এ গল্পে যেভাবে তাদের দেখানো হচ্ছে, তা মাঝেমধ্যে ক্যারিকেচরের পর্যায় চলে যায়। আর বাংলার টেররিজমের মাধ্যমে যে সারা বিশ্বের দেশাত্বোবোধক আন্দোলনগুলোকে বোঝা যায় তাও আমি মানতে নারাজ। সব মিলিয়ে বলতে গেলে একটু বেশি প্রোপাগ্যান্ডিস্ট লাগল বইটা, কিন্তু এলা আর অতীন্দ্রের প্রেমের যে গল্পটা সেটা মনে দাগ কাটল ঠিকই।
"প্রহর শেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্রমাস, তোমার চোখে দেখেছিলেম আমার সর্বনাশ"। ব্রিটিশ শাসনামলে দেশের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থার মধ্যে অন্তু ও এলার প্রেম কাহিনীকে ঘিরে রাজনৈতিক চিত্র ও তার বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরা হয়েছে। সেই সময়েও রাজনৈতিক কর্মীদের উপর নেতাদের আধিপত্য ও তাদের ব্যক্তিগত জীবনকে উপেক্ষা করে দেশের কাজে জীবনকে উৎসর্গ করার শপথ গ্রহন করিয়ে তাদের উপর নেতাগিরি ফলানোর দৃষ্টান্ত এখনকার সমাজচিত্রের সাথে অনেকটা মিলে যায়। দেশের কাজে নিজেকে উৎসর্গ করার প্রত্যয়ে নেতার নিকট আবদ্ধ তেমনি দুজন কর্মী অন্তু ও এলা,ভালোবেসে ফেলে পরষ্পরকে। দলের সহকর্মীদের বিশ্বাসঘাতকতা, উপর মহলের নিষেধাজ্ঞা,আর নিজেদের শপথের কাছে আবদ্ধ এলা ও অন্তুর মিলন কি শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়েছিলো? পড়ে দেখুন, কিছু কিছু জায়গায় বিরক্তি আসলেও সর্বোপরি আশাকরি নিরাশ হবেন না।
ভালোলাগা কিছু লাইনঃ
স্বভাবের প্রতিবাদ করাও যা আর তপ্ত লোহায় হাত বুলিয়ে তাকে ঠাণ্ডা করতে যাওয়াও তাই, তাতে বীরত্ব থাকতে পারে কিন্তু আরাম নেই।
মেয়েদের বিয়ের আগেকার কান্না প্রভাবে মেঘডম্বরং।
জঞ্জাল ফেলার সবচেয়ে ভালো ঝুড়ি বিবাহ।
নির্দয় হবে না, কিন্তু কর্তব্যের বেলা নির্মম হতে হবে।
বরং ভুল করে সন্দেহ করা ভালো, কিন্তু সন্দেহ না করে ভুল করা সাংঘাতিক।
ভালোবাসা তো বর্বর! তার বর্বরতা পাথর ঠেলে পথ করবার জন্যে। পাগলাঝোরা সে, ভদ্রশহরের পোষ-মানা কলের জল নয়।
যা অত্যন্ত করে চেয়েছি তার গায়ে মোটা অঙ্কের দাম লেখা ছিল বর্তমানের ফাঁকির কলমে, যা অত্যন্ত করে হারিয়েছি তার গায়ে দুদিনের কালি লেবেল মেরে লিখেছে অপরিসীম দুঃখ।
পিছনে মরণের কালো পর্দাখানা নিশ্চল টানা রয়েছে অসীমে, তারই উপর জীবনের কৌতুকনাট্য নেচে চলছে অন্তিম অঙ্কের দিকে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "চার অধ্যায়" তার দ্বিতীয় রাজনৈতিক উপন্যাস| অন্ধ দেশাত্মবোধ ও নেতার প্রতি বিচারবুদ্ধিহীন আনুগত্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলা হয়েছে এখানে| আর রাজনীতির আড়ালে অন্তু-এলার প্রেম-কাহিনী কে দেখানো হয়েছে এই উপন্যাসে|
যেমন ব্রিটীশ সরকার এই বইকে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-এর বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে, তেমনই স্বাধীনতার পরও এর সমালোচনা হয়েছে|
কথোপকথনের মধ্যে দিয়েই গল্প এগিয়েছে - যেটা কখনো কখনো বিরক্তি আনতে পারে|
তোমার চোখের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্র মাস তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ। অন্তু আর এলার গল্প হল চার অধ্যায়। অত্যন্ত দুর্বোধ্য মনে হয়েছে মাঝেমাঝে। উচ্চমার্গীয় চিন্তাভাবনা। আমি কিছু না বুঝলেই উচ্চে রাখি। এটাকে পরীক্ষামূলক লেখা বলব। নতুন দেশের জন্য মানুষের আশা ভালবাসা লোভ লালসা সততা হিংসার গল্প এটি। শেষে শুরুর কবিতার মত সর্বনাশ হয়? নাকি সবই ভালবাসা? ভালবেসে জমজ মৃত্যু!