যা-তা। মনে হলো ক্লাস সিক্স পড়ুয়া ইঁচড়েপাকা কেউ কীবোর্ড হাতে পেয়ে আবেগ সামলাতে না পেরে অপরিণত শব্দচয়ন ও বাক্যগঠনে হড়বড় করে অনেক কিছু লিখে গেছে। কলকাতার নতুন থ্রিলার লেখকদের অনেকেরই কাহিনী অগোছালো এবং গল্পের-চেয়ে-লেকচার-বেশি হলেও অন্তত লেখার ধরণ ভাল বলে পড়ে যাওয়া যায়, কিন্তু এর বেলায় সেই ছাড়টুকুও দেয়া যাচ্ছে না। আরেকটা ব্যাপার থ্রিলার বা গোয়েন্দা সাহিত্যের লেখকেরা মনে রাখতে পারেন--স্কুল পালালেই যেমন রবিঠাকুর হওয়া যায় না, তেমনি মুখ্য চরিত্র সব জায়গায় পাকামি আর হামবড়া ভাব দেখালেই শার্লক হোমস হয়ে যায় না; সেটাকে বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য লেখার জোর থাকতে হয়। প্রথমে আসলে ভুল বলেছিলাম; এই লেখকের চেয়ে ক্লাস থ্রি-তে পড়ুয়া বাচ্চাও সম্ভবত আরেকটু সুন্দরভাবে অনুচ্ছেদ লিখতে পারবে। এনার বাক্যগঠনে আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতা, বাক্যের এই তিনটি অংশ প্রায় কোথাওই একসাথে নেই, এবং এনার উচিত শিশুশ্রেণীতে ভর্তি হয়ে শব্দ ও বাক্য গঠনের মৌলিক নিয়মকানুনগুলো আয়ত্ত্ব করে প্রথমে ছোট ছোট অনুচ্ছেদ লিখতে শেখা, এরপর নাহয় গল্প লেখা শুরু করবেন!
শুরুতে একে একটি সম্ভাবনাময় রহস্য কাহিনি বলেই মনে হয়েছিল। ক্রমে পুলিশের তরফে একের পর এক বে-আইনি কাজ হচ্ছে এবং যাচ্ছেতাই টাইপের রহস্যভেদীটির স্তুতির বন্যা বইছে দেখে মনে হল, সাধু সাবধান। তারপর এল নব্য লেখকদের ব্রহ্মাস্ত্র— ইনফো-ডাম্পিং। তাতে যুক্ত হল আবেগের শ্রাদ্ধ। সিরিয়াল কিলিং বা এল.জি.বি.টি নিয়ে গবেষণালব্ধ তথ্যের বদলে ওয়েব-সিরিজ থেকে জানা জিনিসের চাষ হল পাতায়-পাতায়। সম্ভাবনাময় গল্পটা যা-তা হয়ে শেষ হল।
একজন উভলিঙ্গ মানুষকে নিয়ে লেখা এক অন্য ধরনের হরর মিস্ট্রি থ্রিলার ৮৯,হারান লাহিড়ী লেন। এক বিখ্যাত কবি ও তার সাথে থাকা তিন জন মহিলা হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায়।পুলিশ হাজর সোর্স লাগিয়েও খুঁজে বের করতে ব্যর্থ ওদিকে মিডিয়ার চাপে এই কেস গিয়ে পরে কলকাতা গোয়েন্দা সংস্থার হাতে।ইনভেস্টিগেশন এর দায়িত্ব নেন দীপঙ্কর দত্ত ,চৌধুরী আবদুল রহমান ,প্রদীপ চৌধুরী ও হেমন্ত জানা সমেত গোয়েন্দা দপ্তরের দক্ষ অফিসারেরা।। ক্রাইম রিপোর্টার ডি.কে দাগার পরামর্শে গোয়েন্দা পুলিশের সাথে সাথে এই কাজে নিয়োগ করা হয় মুম্বাই নিবাসী এক অদ্ভুত চরিত্রের মানুষ কে ।।
🍁মন্দিরের প্রসাদের ঝুড়িতে মোড়া লাশের টুকরো(বেশ তন্ত্রের গন্ধ). দরজায় ঝোলানো প্লাস্টিকে এক অচেনা মহিলার কাঁটা মাথা।(sabka badla lega Tera yeh fazal) মুম্বাই থেকে আগত সেই যুবকের আশার পর থেকেই ক্রমে খুনের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। শেষ পর্যন্ত কার মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়াবেন তিনি? এমন কোন সত্যের সন্ধান পাবেন যা গোপন করবেন গোয়েন্দা প্রধানের থেকেও।।
🍁পাঠ প্রতিক্রিয়া -------- সদ্য পড়ে শেষ করলাম বুদ্ধ দেব হালদার এর লেখা
" ৮৯ হারান লাহিড়ী লেন " মূলতঃ হরর ক্রাইম থ্রিলার বা নেক্রফেলিক ক্রাইম থ্রিলার এটি। কাহিনীর শুরু থেকে শেষ এক টানা পড়ার মত একটি উপন্যাস যেখানে খুন রয়েছে, রয়েছে তাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়ায় জটিল ধাঁধা । *কাহিনীর শুরুতে একটু অগোছালো লেগেছে যদিও তবে পরে গিয়ে কাহিনী একটু হলেও ঠিক পথে এগিয়েছে।। মানে ওই পুরো সোজা পুকুর পাড়ে গিয়ে ' ধপাস '
সব থেকে আসল বিষয় হলো এই কাহিনীর অপরাধীর চরিত্র টিকে লেখক একবারে শেষে গিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন তাই একটা সাসপেন্স প্রথম থেকেই থেকে যাচ্ছে যে খুনি বা অপরাধী আদতে মানুষ হিসেবে কিরকম ? তার মনস্তত্ত্ব বোঝানোর ক্ষেত্রে লেখক কিছুই পুরো গল্পে লেখেন নি।।
কেন লিখলেন না এটাই রহস্য??????
পুরো উপন্যাসে খুনের বর্ণনা ও বর্ণিত নানান দৃশ্য সত্যিই সুন্দর ও রোমাঞ্চকর এবং কিছুটা ভীতি সঞ্চার করে মনে।। তাই এই বই ছোটদের জন্যে একেবারেই নয়।।
✨কাহিনীর প্লট ও স্টোরি বিল্ডিং খুব সুন্দর ও যথেষ্ঠ অর্থবহ হলেও যত গল্প এগিয়েছে কৃষ্ণনগর লোকাল সোনারপুর স্টেশন এ চলে এসেছে✨
গল্পের ক্লাইম্যাক্স কে বেশি অতিরঞ্জিত না করে একদিকে ভালই করেছেন । যেভাবে সমাপ্ত হাওয়া দরকার গল্পের জন্যে ঠিক সেভাবেই করেছেন অযথা বেশি নাটকীয়তা নেই।
🍁 ভালো লাগেনি যেই বিষয় গুলো -
গল্পের শুরু টা একটু অগোছালো লেগেছে , গোয়েন্দা দপ্তর থেকে ইনভেস্টিগেশন হচ্ছে ভিক্টিমের বাড়ির খাটের তলায় ডাইরি কেউ ওই দেখতে পেল না এতদিন 😂 আবার খালি ডাইরি নাকি।
বাকি তিন মহিলা যারা কিনা নিখোঁজ তাদের সমন্ধে খুব কম তথ্যই দেওয়া হয়েছে।। মানে ওরা দু দু ভাত।।
গল্পের মূল গোয়েন্দা চরিত্রর এত কম বয়স ওদিকে বাপের বয়েসি অফিসার গুলো এত খাতির করে কথা বলবে এগুলো বাড়াবাড়ি।। পুরো ইনভেস্টিগেশন প্রসেস জুড়েই এই একটা বিষয় খুব হাস্যকর লেগেছে।।🤣🤣🤣🤣🤣
ইনভেস্টিগেশন সংক্রান্ত নানান পরীক্ষা নিরীক্ষার রেজাল্ট এত রাতারাতি হয়না, অন্তত ডি এন এর ক্ষেত্রে।। সময় সাপেক্ষ ব্যাপার সেগুলো । থ্রিলার লেখক হিসেবে এসব অজানা থাকে কি করে ????🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣
আর খুনি বাবা জীবন পদবী পরিবর্তন করলেন এই তথ্য কলকাতা গোয়েন্দা দপ্তর খুঁজে পেল না আগে।। এই কি ইয়ার্কি নাকি।।🤣🤣🤣🤣
আর কোন মহাপুরুষ এই গোয়েন্দা চরিত্র যিনি এক রাতের মধ্যে ৮০০ পাতার বই পড়ে শেষ করেন।। 🤣🤣🤣🤣🤣
এত গুলো ইয়াবা ট্যাবলেট কি মুদি দোকান থেকে কিনছে???🤣🤣🤣🤣🤣🤣
উফ সারাদিন ধরে বুড়ো সেজে ঘুরল কেউ চিনতেই পড়লো না কি মেকাপ মাইরি।।🤣🤣🤣🤣🤣
শেষ টা আরও ব্যাপক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী "ফোন" করে নাকি ধন্যবাদ দিয়েছে উফফ পাগলা জ্বালিয়ে দিল পুরো।।🤣🤣🤣🤣
সব শেষে পাবলিশার্স কে বলি ধন্যবাদ এত সুন্দর একটা অভিজ্ঞতা দেওয়ার জন্যে।।
কিন্তু তবুও বলবো ,অতন্ত ভালো এবং মনে রাখার মত একটি উপন্যাস , আগামী দিনে লেখকের হাত থেকে এরকম আরও উপন্যাস বের হবে আশা করি।।
🍂একজন উভলিঙ্গ মানুষকে নিয়ে লেখা অন্য ধরণের হরর মিস্ট্রি থ্রিলার ‘৮৯, হারান লাহিড়ি লেন'। এক বিখ্যাত কবি-সহ তিনজন মানুষ হঠাৎ করে একই দিনে একই সময়ে নিরুদ্দেশ। পুলিশ হাজার চেষ্টা করেও কোনো রাস্তা পাচ্ছে না! একাধিক সোর্স কাজে লাগিয়েও তল পাওয়া যায় না ঘটনার। আটমা�� কেটে যাওয়ার পর হঠাৎ করে মিডিয়ার বাড়াবাড়ির ফলে বিপাকে রাজ্যপুলিশ। শুরু হয়ে যায় রাজনৈতিক চাপানউতর। আবার নতুন করে পুলিশি তদন্ত। ইনভেস্টিগেশনের পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে দীপঙ্কর দত্ত, চৌধুরী আবদুল রহমান, প্রদীপ চৌধুরী, হেমন্ত জানা সমেত গোয়েন্দা বিভাগের দুদে পুলিশ অফিসারদের ওপর। পাশাপাশি বিখ্যাত ক্রাইম রিপোর্টার মিস্টার ডি.কে. দাগার পরামর্শে ও ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের গোয়েন্দাপ্রধান সৌমেন চক্রবর্তীর প্রচেষ্টায় এই কেসে বাইরে থেকে এমন একজনকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করা হয় যিনি অদ্ভুত চরিত্রের এক যুবক। মন্দিরের প্রসাদের ঝুড়িতে শালপাতায় মোড়া লাশের টুকরো... দরজায় ঝোলানো প্লাস্টিকে এক অচেনা মহিলার কাটা মুণ্ডু... সেই যুবক মুম্বাই থেকে সোজা কলকাতায় পা রাখতেই শুরু হল ঘটনার পিছনের ঘটনা অনুসন্ধান। একের পর এক খুন, যাদের সঙ্গে মূল ঘটনার কোনও লিঙ্ক পাওয়া মুশকিল। শেষপর্যন্ত কার মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়াবেন তিনি? এমন কোন সত্যের সন্ধান পাবেন যা তিনি নিজেও গোপন রাখতে চাইবেন গোয়েন্দাপ্রধানের কাছে? লেখকের লেখা এই প্রথম পড়লাম, এই উপন্যাস দিয়ে! যদিও এটা second part =[৮৯,হারান লাহিড়ী লেন] First part= {১৪ ফেব্রুয়ারি} তার আগের কাহিনী ! সদ্য পড়ে শেষ করলাম লেখক বুদ্ধদেব হালদারের লেখা বর্ণদীপ সিরিজের প্রথম উপন্যাস ‘৮৯, হারান লাহিড়ি লেন’।এটি একটি রহস্য / থ্রিলার উপন্যাস,গল্পের বুনট আমার অসাধারণ লেগেছে। টানটান উত্তেজনায় ভরপুর এই উপন্যাস!উপন্যাসের শুরুতেই আমাদের আলাপ হয় বর্ণদীপ এর সাথে। মুম্বাই থেকে ডেকে আনা হয়েছে বর্ণদীপকে এই কেসটির সহায়তা করার জন্য। আজ আট মাস পর কেসটি আবার রিওপেন করা হয়েছে। বিখ্যাত কবি রজতেন্দ্র এবং তিনজন মহিলা ১৪ই ফেব্রুয়ারী হঠাৎ করে উধাও হয়ে যান কলকাতা থেকে। অনেক চেষ্টা করেও এই রহস্যের কিনারা করতে পারেননি কলকাতা পুলিশ। বর্ণদীপ কি পারবে এই রহস্যের কিনারা করতে? জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে উপন্যাস টি!লেখক কে অসংখ্য ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটা থ্রিলার উপহার দেওয়ার জন্য! যারা থ্রিলার পড়তে ভালোবাসেন তারা অবশ্যই বইটি পড়তে পারেন। আবার বর্ণদীপের সিরিজ পরবর্তী পার্ট এর অপেক্ষায় রইলাম!🍂
বইটা নিয়ে যতটা আশা করেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি ভালো লেগেছে। বেশ কয়েকবার পড়ার মতো থ্রিলার। এই বইটার প্রথম পার্ট(১৪ই ফেব্রুয়ারি ও তার আগের কাহিনি) দুবছর আগে পড়েছিলাম। সেখানে উপন্যাসের শেষ পাতায় দেখা যাচ্ছে মানসিক রোগগ্রস্ত এক বিখ্যাত কবি মাঝরাস্তায় চলন্ত বাস থেকে হঠাৎ লাফিয়ে নেমে পড়ছে। আর তাকে তাড়া করছে একটা হাঁস। তিনি দৌড়চ্ছেন। হাঁসটা তাকে অনুসরণ করছে। এখানেই আগের উপন্যাসটা শেষ হয়ে যায়। যেহেতু এই থ্রলারটি তারই সিক্যুয়েল হিসেবে লেখা তাই ভেবেছিলাম গল্পের শুরুটা সেখান থেকেই হবে। কিন্তু এই উপন্যাসটা শুরু হয়েছে এমন চমৎকারভাবে যে মনে হবে এটা সম্পূর্ণ আলাদা একটা গল্প। পড়তে পড়তে একবারও আগের বইয়ের গল্প বা ক্যারেকটারগুলোর কথা মনে পড়েনি। কিন্তু গল্পের শেষে এসে এত সুন্দরভাবে আগের গল্পের সঙ্গে এই গল্পটা মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে তা ভীষণই ভালো লেগেছে। '৮৯, হারান লাহিড়ি লেন' খুব অন্যরকমের একটা থ্রিলার মনে হয়েছে। এই উপন্যাসের নায়ক তেইশ বছরের ছেলে বর্ণদীপ নন্দী। তার প্রধান বৈশিষ্ঠ হচ্ছে সে একজন 'বইপোকা'। প্রচুর বই পড়ে। সদ্য পড়াশোনা শেষ করে চাকরিবাকরি করার কথা ভাবছে। ঠিক এমন সময় একটা তদন্তের সঙ্গে সে যেন নিয়তির নির্দেশেই ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে। বম্বে থেকে কলকাতায় ছুটে আসতে হয় তাকে। তার সঙ্গ দেন নিউ আলিপুর থানার ওসি মিস্টার দীপঙ্কর দত্ত। কিন্তু কিছুদূর তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর তার সঙ্গ ত্যাগ করতে হয়। এরপর তার সঙ্গ দিতে আসেন গোয়েন্দা বিভাগের নামজাদা অফিসার চৌধুরী আবদুল রহমান। কলকাতা থেকে গল্পের স্থান সরিয়ে আনা হয় গঙ্গাতিরবর্তী মফস্বল কোন্নগরের ৮৯ হারান লাহিড়ি লেনের ঠিকানায়। গা শিউরে ওঠার মতো একের পর এক খুনের ঘটনা রয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে খতরনাক চরিত্রটি হল সবিতেন্দ্র ওরফে ইলা মিত্র। ইনি একজন উভলিঙ্গ নেক্রোফাইল সিরিয়াল কিলার। বাকি আর কিছু বলা যাবে না। যারা থ্রিলার পড়তে ভালোবাসেন অবশ্যই পড়ুন।
বই - ৮৯,হারান লাহিড়ি লেন লেখক - বুদ্ধদেব হালদার প্রকাশক - পালক পাবলিসার্স মুদ্রিত মূল্য - ২৯৯ টাকা