সমাজের উঁচু স্তরের প্রভাবশালী কিছু মানুষ একে একে মারা যাচ্ছে। দূর্ঘটনা, হত্যা না কি অন্য কোনো রহস্য? মৃত্যুর কারণ জানতে পেরে ফরেনসিক ইনচার্জ আদনান বিস্মিত। হোমিসাইডের ক্যাপ্টেন কায়সার জীবনে প্রথমবার টের পেল ভয় কাকে বলে। চোখের সামনে আততায়ী অদৃশ্য হয়ে গেল। মৃত্যুর নীল ছোবল এরপর কার দিকে ধেঁয়ে আসবে, সেটাও অজানা। সত্য? না কি পুরোটাই গুজব? প্রাচীন কুসংস্কার যখন ঘুরে ফিরে আসে তদন্তে, তখন থমকে যেতেই হয়। রাজনীতি, লৌকিক বিশ্বাস আর নেশার রাজ্যের অন্তরালে লুকিয়ে আছে কোন সত্য? কোন অতীতের সুরে গর্জে প্রতিশোধের হুঙ্কার?
পড়া হলো বাপ্পি খান ভাইয়ার হিমঘুম। হিমঘুম শব্দটার সাথেই সাপ জড়িত এজন্যই অনেকে ধারণা করতে পারেন বইটা সাপ নিয়ে, কিন্তু এরকম কিছু ভেবে থাকলে ভুল হবে। . আমি ভেবেছিলাম সাপকে কেন্দ্র করে কোন বই হবে, বিভিন্ন মিথ থাকবে সাপ নিয়ে কিন্তু এসব ধারণার মাথা থেকে বের করার আগেই পড়া হয়ে গেল দারুণ একটা ক্রাইম থ্রিলার অথবা সাসপেন্স থ্রিলার যেটাই বলি না কেন এবং এক কথায় অসাধারণ একটা বই। . প্রায় ৪০০ পৃষ্ঠার বই হলেও অনেক বেশি গতিশীল, অনেক ব্যস্ততার মধ্যেও মাত্র দুই দিনের শেষ করেছিলাম বইটা। বইটাতে বেশ কয়েকজন পরিচিত বাস্তব চরিত্র আছে, প্রয়োজন অনুযায়ী লেখক তাদেরকে যথাযথভাবে বইয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন। . বইয়ে ছোট-বড় বেশ কয়েকটা টুইস্ট আছে, কয়েকটা বেশ মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো। অনেকেই হয়তো টাশকি খেয়ে যাবেন। সবকিছু চোখের সামনে থাকার পরেও লেখকের টুইস্টগুলো একদম ঠিকঠাকমতো দেয়ার কারনে বিস্মিত হতে হয়েছে। সব চোখের সামনেই ছিল অথচ বুঝে উঠতে পারিনি, টুইস্টগুলো জানার পর মনে হয়েছে সব চোখের সামনেই ছিল অথচ....। . আমার কাছে সত্যিকার অর্থেই বইটা অনেক ভালো লেগেছে। বইটা নিয়ে বিশেষ কিছু বলবনা কারন কাঁচা হাতের রিভিউ, কিছু লিখতে গেলেই আবার স্পয়লার দিয়ে দিব।🤭 . আমার কাছে এখন পর্যন্ত বাপ্পি ভাইয়ের সেরা কাজ হিমঘুম। আশা করি আপনাদেরও ভালো লাগবে। অন্ধকার সিরিজের পর গত বছর ক্ষ্যাপা দিয়ে নতুন জনরায় লেখার পর, এই বছর আবারো নতুন জনরার একটা বই হিমঘুম এবং আমার কাছে মনে হয়েছে আগের কাজগুলোকেও ছাড়িয়ে গেছেন। আশা করি লেখক নিয়মিত এসব জনরায় লেখালেখি করবেন।
উপন্যাস টা থ্রিলার জনরায় বলে আমার প্রতিক্রিয়া টা আসলে মিক্সড। মোটামুটি বিরক্ত লেগেছে প্লট বিল্ডিং এর সময় টা আর প্রথম ২৫০ পেজ ধরে সাপের এনসাইক্লোপিডিয়া৷ হয়তো স্টোরি লাইন বিল্ডিং এর জন্য দরকার ছিল কিছুটা মন্থর গতি। সেক্ষেত্রে একটা ক্যারেক্টর বিল্ডাপ এর এক্সপেকটেশানস থাকেই। আর এই দিকেই লেখকের দূর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে।
সকল থ্রিলার টুইস্ট দিতে দিতে উল্টাই দিবে এমন কোনো কথা নেই। কিন্তু উপন্যাসের পূর্নতা দিতে হলে অপ্রয়োজনীয় মেদ লাগিয়ে ৩৫০ পেজ করতে হবে এই ধারনা থেকে লেখকের বের হয়ে আসা উচিত ছিল।
তবে লেখকের লেখনী বেশ ভালো ছিল তার প্রথম বই হিসাবে৷ দারুন সাবলিল ছিল লেখার ধরন। বাপ্পী ভাই এর কাছ থেকে পরবর্তী বই গুলোতে আরো ভালো কিছু আশা করছি৷
সারসংক্ষেপ :
আমার চোখে হিমঘুমের ভালো লাগার কারন : ★ লেখকের লেখনী ও স্টোরি টেলিং এ দক্ষতা ★ রিভেঞ্জ থ্রিলার এ ইউনিক প্লট দিয়ে এক্সিকিউশন ★ টুইস্ট এর থেকে সাসপেন্স ধরে রাখার চেষ্টা ★ রেফারেন্স ও সত্যি কিছু ঘটনা আমাদের সামনে নয়ে আসা
আমার কাছে হিমঘুম এর দূর্বলতা : ★ ক্যারেক্টর বিল্ডাপ এ দূর্বলতা ★ টুইস্ট এর এলিমেন্ট গুলা খুব বেশিই বড় হয়ে চোখে লাগছিল যা টুইস্ট দিতে ব্যার্থ হয়েছে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে৷ ★ গল্পের শুরুতে মেদ যুক্ত বর্ননা।
N:B : " নিনাদ " এর জন্য সত্যিই আগ্রহী আমি। কে যানে হয়তো "হিমঘুমে" যা অপূর্ন ছিল তা নিনাদে পূর্নতা পাবে!
অনেকদিন পর দারুণ একটা রিভেঞ্জ থ্রিলার পড়লাম। সেইসাথে তদন্ত প্রক্রিয়াও দারুণভাবে দেখানো হয়েছে। ছিল অপরাধী পুলিশের রীতিমত ইঁদুর বিড়াল দৌড়। গল্পের কাহিনী মূলত কিছু প্রভাবশালীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। ওই ব্যক্তিগুলোর প্রত্যেকের মৃত্যুই হয়েছে বিভিন্ন বিষধর সাপের কামড়ে। এই কেসের তদন্তে নামে হোমিসাইড ক্যাপ্টেন কায়সার। কে বা কারা করছে এই ভয়ঙ্কর খুনগুলো? খুনির উদ্দেশ্য-ই বা কি? বেশ জটিল একটা প্লটের ওপর গল্প লিখেছেন লেখক। কিন্তু গল্পটা বলে গেছেন একেবারে সাবলীলভাবে। চোখের সামনে ভেসে উঠছিল প্রত্যেকটা দৃশ্য। এত বড় পরিসরে জটিল উপন্যাস লিখতে গেলে দেখা যায় কাহিনী ঝুলে যায় বা গতিশীলতা কমে যায়। কিন্তু হিমঘুমে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্তই গতিশীলতা ও সাসপেন্স বজায় ছিল। কাহিনী ঝোলেনি কোথাও। সবকিছু একপাশে সরিয়ে হিমঘুমের সফলতা এখানেই। বইয়ে বিভিন্ন ধরনের বিষধর সাপ সম্পর্কে অনেক তথ্য ও মিথ রয়েছে। যেগুলো উপভোগ-ই করেছি। শেষের টুইস্টগুলোও ভালো, তবে টুইস্টের থেকে পুরো বইয়ের সাসপেন্স-ই ভালো লেগেছে। আর হ্যাঁ, পুরো বইয়ে অসংখ্য পরিচিত রেফারেন্স আছে। সাসপেন্স/রিভেঞ্জ থ্রিলার যাদের পছন্দ তারা পড়ে ফেলতে পারেন হিমঘুম।
বেশ অনেকদিন পর চমৎকার একটা রিভেঞ্জ থ্রিলার পড়লাম । লেখক বাপ্পী খানের লেখার সাথে একদমই পরিচিত না। মাত্র দুখানা বই গতমাসে সংগ্রহ করেছি। তার প্রথম খানাতেই লেখক বাজিমাত করে দিল। টুইস্ট, প্লট, সাসপেন্স সবকিছু মিলিয়ে আস্ত একটা রোলারকোস্টার থ্রিলার। সম্ভবত কায়সার সাহেবকে নিয়ে আরো একটা থ্রিলার সামনে পেতে যাচ্ছি। সেটার অপেক্ষায় থাকলাম আপাতত।
উল্লেখ্য: প্রথম বই হিসেবে মন ছুঁয়ে যাওয়ার জন্য একটি তাঁরা বেশিই দিলুম ।ভালোলাগার নিদর্শন হিসেবে।।
বইয়ের নাম : হিমঘুম লেখক : বাপ্পি খান জনরা : সাসপেন্স থ্রিলার প্রকাশনি : বাতিঘর
কাহিনী সংক্ষেপ : "ভয়" ব্যান্ডের এক সদস্য সুজনের মৃত্যু হয় অতিরিক্ত মাদক সেবনে।সুজন ছিল সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বোরহান লতিফের ছেলে।মিডিয়ার তোলপাড়,কানাঘুঁষা চলছে যে অতিরিক্ত মাদক সেবনের ফলেই সুজনের মৃত্যু হল নাকি অন্য কোন নিগূঢ় রহস্য আছে এতে??
বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইকবাল হোসেন, জনপ্রিয় সংবাদভিত্তিক চ্যানেল "সমাজ" এর মালিক মাহমুদ রহমান,শহরের সবচেয়ে বড় স্বর্ণ ব্যবসায়ী অসীম পাল এবং মোটিভেশনাল স্পিকার শোয়েব তপন চারজন এ তারা প্রত্যেকেই বন্ধু এবং ব্যবসায়ীক পার্টনার।হঠাৎ করেই এই তিন হোমড়া চোমড়া ব্যাক্তি শোয়েন তপন,অসীম পাল এবং মালিক মাহমুদ খুন হতে লাগলেন একে একে!তদন্তে নামল হোমিসাইড ডিপার্টমেন্টের অফিসার ক্যাপ্টেন কায়সার।প্রত্যকেরই বডি তে সাপের কামড়ের দাগ!হোমিসাইড প্রধান ক্যাপ্টেন কায়সার এবং ফরেনসিক ইনচার্জ ড.আদনান প্রথমে ভাবল নিশ্চয় নিছক দূর্ঘটনা!কিন্তু ঢাকা শহরেই এই আভিজাত্য জায়গায় সাপ আসবে কিভাবে?কেউ তাহলে ইচ্ছে করে সাপ এনে খুন করছে তাদের?নোংরা রাজনীতি এবং নেশার রাজ্যের অন্তরালে লুকিয়ে আছে কোন সত্য??তাহলে পুলিশ আর সাপের লড়াই কি দেখব "হিমঘুম" বইটিতে??
পাঠ-প্রতিক্রিয়া :
পুলিশ এবং সাপের লড়াই না দেখলেও সাপের মত খোলস বদলানো কিছু মানুষের নোংরা রাজনৈতিক কূটচাল,একচ্ছত্র আমলাতন্ত্র,ক্ষমতার লোভ এবং অপব্যবহার,তরুণ সমাজের মূল্যবোধের অবক্ষয়,প্রতিশোধ সবকিছু দারুণভাবে লেখক দেখিয়েছেন গল্পটিতে।
কি দা���ুণ রিভেঞ্জ থ্রিলার একটা! কি দারুণ লেখনী!সাধারণত বড় কলেবরের বই (৩০০-৫০০ পৃষ্ঠার)আমার শেষ করতে ৪-৫ দিন লাগে কিন্তু এই বইটা মাত্র দুই রাতেই আমি শেষ করে ফেলেছি।চুম্বকের মত পেইজের পর পেইজ উলটে গেছি।মনে হয়েছে গল্পটি শেষ হতেই মিরপুর চিড়িয়াখানা তে গিয়ে সাপ দেখে আসি কয়েকটা!!
পজিটিভ দিক :
অস্যংখ পজিটিভ দিক আছে।প্রথমেই লেখককে লেটার মার্ক গল্প বলার স্টাইল এর জন্য।সুন্দরভাবে তিনি গল্পটি কে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।এক জায়গা থেকে হুট করেই আরেক জায়গায় চলে যান নি।বেখাপ্পা লাগে এমন কিছুও গল্পে সংযোজন বা বিয়োজন করেন নি।শব্দচয়ন এবং বাক্যগঠন ছিল অপূর্ব।
মূল প্রোটাগনিস্ট এর চরিত্র টা ছিল দেখার মত। হোমিসাইড প্রধান হিসেবে কায়সার এর তৎপরতা গল্পে সুন্দরভাবে দেখিয়েছেন লেখক।তদন্ত প্রক্রিয়া,বিচক্ষণতা,বুদ্দীদীপ্তি সবকিছু ছিল একেবারে টপ নচ চরিত্রটিতে।কোন এক্সট্রা হিরো গিরি দেখানো হয় নি।গল্পের প্রয়োজনে যতটুকু দরকার ততটুকুই ছিল।
এছাড়া গল্পের প্রত্যেকটা মুখ্য চরিত্র ইনক্লুডিং ভিলেন কেও যথেস্ট সময় দেওয়া হয়েছে ক্যারেক্টর ডেভেলপমেন্ট এর জন্য।একটা থ্রিলার গল্পে এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।তাড়াহুড়োর ছাপ ছিল না গল্পে কোথাও।কনস্টেবল থেকে শুরু করে ডিআইইজি ছোট ছোট চরিত্রগুলো একেক জন গল্পের প্রয়োজনে একেক সময় এসেছে যে জিনিসটা খুব ভাল লেগেছে।
গল্পের শেষ টুইস্ট টা ছিল মারাত্মক। আসলেই এত মজে ছিলাম গল্পের মধ্যে আমি টুইস্ট টা ধারণা করতে পারিনি যে অইটা হতে পারে।তবে হ্যাঁ শেষ দিকে টুইস্ট ছিল কিন্তু দুইটা এবং শেষের টা প্রথম টুইস্টটার চেয়েও মারাত্মক।
এত এত সাপের বর্ননা ছিল যে আমি সত্যিই শেষ দিকে গুলিয়ে ফেলছিলাম! এতদিন "অজগর" এবং অ্যানাকোন্ডা এই দুইটা সাপের নাম ই জানতাম!এই বইটি পড়ার পর আসলেই সাপ সম্পর্কে অনেক জ্ঞান লাভ হয়েছে বিশেষ করে বইয়ের শেষ অংশে কিউয়ার কোডটির সৌজন্যে।বইটি পড়ার পর অবশ্যই কোডটী স্ক্যান করে দেখবেন সাপ সম্পর্কে জানার জন্যে।
নেগেটিভ দিক :
যে কোন মার্ডার মিস্ট্রির ক্ষেত্রে ক্রাইম সিন পর্যবেক্ষণ এবং ফরেনসিক তথ্য বিশ্লেষণ এই দুইটা জিনিস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয়েছে যে খুনের জায়গায় বিশেষ করে শেষের দিকে ঠিকঠাক ভাবে এই জিনিসটা গল্পে দেখানো হয় নি। আরো নিখুঁতভাবে দেখানো হলে ভাল হত। ফরেনসিক ইনচার্জ ড.আদনান এর চরিত্র টাও দূর্বল লেগেছে।এই চরিত্রটিকে আরো ফোকাস করলে ভাল হত।ফরেনসিক তথ্য গুলো আরো বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করলে দারুণ হত।
প্রথম তিনটি খুনের সময় খুনী কিভাবে সাপ দিয়ে হত্যা করেছে বা কিভাবেই বা ক্রাইম স্পটে ঢুকল এবং নিরুদ্দেশ হল সেটার ব্যাখ্যা পেলাম না যদিও কায়সার অনুমান করেছে তবে সেটা পুরোপুরি ভাবে ক্লিয়ার করে দিলে বেটার হত।
কেন বইটি পড়বেন :
সাউথ ইন্ডিয়ান মুভি "I" আমার দেখা অন্যতম সেরা একটা রিভেঞ্জ থ্রিলার মুভি(যদিও এটা বইয়ের গ্রুপ তাও বললাম)।আর "হিমঘুম"হচ্ছে আমার পড়া অন্যতম রিভেঞ্জ থ্রিলার মৌলিক গল্প।মৌলিক বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্যাতিক্রমি প্লটের উপর কোন পেইজ টার্নার রিভেঞ্জ থ্রিলার পড়তে চান তাহলে মাস্ট মাস্ট রীড এই বইটি।
প্রচ্ছদ : দুর্দান্ত!গল্পের থিম এর সাথে মিল রেখে মনে হচ্ছে এই মাত্রই কুন্ডলি পাকিয়ে সাপটি যেন শীতনিদ্রায় আছে!
বাইন্ডিং :
বাইন্ডিং ঠিকঠাক। হালকা টাইট বাট আমার জন্য চলনসই।
বানান এবং সম্পাদনা :
বাতিঘর এর ভুল বানান তূলনামূলক এই বইটিতে কম হলেও "নানা" এর জায়গায় "না না" প্রায় বেশিরভাগ জায়গায় ই দেখা গেছে। এছাড়া দুই এক জায়গায় চরিত্রই বদলে ফেলেছে!আর ছোটোখাট অল্পবিস্তর বানান ভুল ছিল। অসাধারণ লেখনশৈলীর কারণে তেমন বাধাগ্রস্ত হই নি পড়ার সময়।
পরিশিষ্ট ;
এই বছর মেলায় বের হওয়া অন্যতম সেরা মৌলিক একটি বই। যদি প্রতিশোধ জিনিসটার সাথে থ্রিলার এর মিশ্রণ ভাল লাগে তাহলে অব্যশই আপনাকে "হিমঘুম" এ স্বাগতম। অপেক্ষায় আছি "নিনাদ" এর জন্য।
❝Revenge is a dish best served cold❞― Old Proverb - ❛হিমঘুম❜ - কায়সার, সরকারের হোমিসাইড ডিপার্টমেন্টের একজন অফিসার। মিলিটারি ট্রেনিং থাকায় তাকে ডিপার্টমেন্টে অনেকে "ক্যাপ্টেন কায়সার" নামে ডাকে। হঠাৎ তার কাছে এসে পড়ে এক হাই প্রোফাইল কেস। যেই কেস তদন্ত করতে গিয়ে সে বুঝতে পারে সমাজের নানা প্রভাবশালী ব্যক্তি অদ্ভুভাবে বিভিন্ন প্রজাতির সাপের কামড়ে মারা যাচ্ছে।
মাহফুজ এবং অনন্যা, "ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক রেস্কিউ" টিম" এর দুইজন সদস্য। এই হাই প্রোফাইল কেসে সাপের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের ডেকে আনা হয় সহায়তার জন্য। কিন্তু যে সকল সাপের চিহ্ন ঘটনাস্থলে পাওয়া যায় তা দেখে তারাও বিস্মিত হয়ে যায়। এখন কে বা কারা এই হত্যাকান্ডগুলো ঘটাচ্ছে এবং ক্যাপ্টেন কায়সার আর তার দলবল এই হত্যাকান্ডগুলোর রহস্য উদঘাটন করতে পারে কীনা তা নিয়েই লেখক বাপ্পী খানের সাস্পেন্স থ্রিলার ঘরানার ❛হিমঘুম❜ বইটি লেখা। - ❛হিমঘুম❜ বইটি মূলত সাস্পেন্স এবং রিভেঞ্জ থ্রিলার ঘরানার একটি বই। লেখক এই বইতে তার জনপ্রিয় লেখার ধারা অতিপ্রাকৃত জনরার বাইরে গিয়ে পুরোদস্তুর থ্রিলার উপন্যাস লেখার চেষ্টা করেছেন এবং এই ব্যপারে তিনি মোটামুটি সফল বলা যায়। গল্পে সাস্পেন্সের সাথে সাথে সাপ সম্পর্কিত নানা ধরনের মিথ এবং তথ্য বইকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। বইটা পড়ার পরে পাঠকদের সাপ সম্পর্কিত একটি বেসিক কোর্সও করা হয়ে যাবে বলা যায়। লেখক যে এই সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত জোগাড় করতে বেশ খাটুনি করেছেন তার প্রমাণ গল্পে স্পষ্ট। গল্পের শেষে একটি Qr code দেওয়া হয়েছে যা স্ক্যান করলেই পাঠকেরা গল্পে উপস্থিত সকল সাপের ছবি পেয়ে যাবেন। - ❛হিমঘুম❜ বইয়ের চরিত্রের দিক থেকে ক্যাপ্টেন কায়সার, ল্যাবের আদনান, স্নেক রেসকিউ টিমের মাহফুজ এবং অনন্যা, ড্রাগন টিমের আরহাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তার বন্ধুগণ- সবার চরিত্রায়ন ছিল পরিমিত পরিমাণে। লেখকের আগের সিরিজ যারা পড়েছেন তারা সত্য কলামের একজন সাংবাদিককেও কিছু সময়ের জন্য পাবেন। গল্পে কাহিনির মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে নানা কারণে আলোচনায় থাকা কয়েকজন ব্যক্তি এবং চাঞ্চল্যকর ঘটনার উপরেও আলোকপাত করা হয়েছে, আগ্রহী পাঠকদের একটু মনযোগ দিয়ে পড়ার সময়েই সেই টাই-ইন গুলো বুঝতে পারার কথা। বইয়ের নামকরণটিও বেশ ইন্টারেস্টিং, গল্পটি শেষ করার পরে এর নামকরণের স্বার্থকতা বোঝা যায়। - ❛হিমঘুম❜ বইতে লেখকের লেখনশৈলী গল্পের সাথে খাপ খেয়েছে, বেশ পেইজ টার্নার থ্রিলার বলা যায় এটিকে। বর্তমান সময়ে দেখা যায় অনেক মৌলিক থ্রিলারে তাড়াহুড়ো করে কয়েক পেইজের ভেতরে ক্লাইমেক্স টেনে শেষ করে দেওয়া হয়। এই বইতে ক্লাইমেক্স প্রচুর সময় নিয়ে বিল্ড করা হয়েছে এবং যথোপযুক্ত ফিনিশিং দেওয়া হয়েছে, তা ভালো লেগেছে। তবে একেবারে শেষদিকে যেভাবে ঘটনাপ্রবাহ দেখানো হয়েছে তা ঘটার সম্ভাবনা আমার মতে হাইলি আনলাইকলি, কাহিনির খাতিরে তা অবশ্য মেনে নিয়েছি। এই ব্যপারটা বাদ দিলে বইটা পড়ার পরে কাহিনির দিক থেকে আমি মোটামুটি স্যাটিসফাইড বলা যায়। - ❛হিমঘুম❜ বইয়ের প্রোডাকশন টিপিক্যাল বাতিঘর প্রকাশনীর অন্যান্য বইগুলোর মতোই। এই বইয়ের মিনিমালিস্টিক প্রচ্ছদ ভালো লেগেছে আমার। তবে সম্পাদনা এবং প্রুফ রিডিং এ কিছু খামতি চোখে পড়েছে। টুকটাক টাইপিং মিস্টেক সরিয়ে রাখলেও "নানা" শব্দটিকে প্রতিবার "না না" লেখার কারণ বোধগম্য হয়নি আমার কাছে। আশা করি পরবর্তী সংস্করণে এই ছোটখাটো টাইপিং মিস্টেকগুলো ঠিক করে ফেলা হবে। - এক কথায়, কিছু ছোটখাটো ব্যপার বাদ দিলে সাস্পেন্স থ্রিলার হিসেবে "হিমঘুম" বেশ ভালোই লাগলো। যারা বাংলা মৌলিক মিস্ট্রি/সাসপেন্স/রিভেঞ্জ থ্রিলার পড়তে পছন্দ করেন তাদের কাছে ❛হিমঘুম❜ বইটি রিকমেন্ড করা থাকলো। লেখক গল্পের শেষদিকে যেহেতু সিক্যুয়ালের আভাসও দিয়েছেন তাই সেই পর্বটিও পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।
হিমঘুম আপাতদৃষ্টিতে রাজনৈতিক থ্রিলারের খাতায় সহজেই ফেলা যায়,কিন্তু সেসব থেকে অনেক উর্ধ্বে এই বইটা.....। কিছুটা রাজশাহী বেসড,মাদক নিয়ে চলা আড়ালের গল্প,সেখান থেকে সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি অবলা প্রানীদের গল্প,অহেতুক কুসংস্কারে প্রাণ হারানো সাপেদের গল্প...... আমি নিজে সাপ পছন্দ করি বলে একদেখাতে বইটা নিয়েছিলাম। ঠিক তেমনি এক বসাতে শেষও করে ফেলেছি। একবারে নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়ে পড়া যাকে বলে,সত্যিকার অর্থেই তাই....
আমার মতে,যে কোনো ক্ষুধার্ত প্রাণী যখন সামনে আসে,হয়ত আল্লাহ তাআলা একটা সুযোগ দেন পাপের বোঝা কমানোর.... ❤️
Deep Ecology And Snake Rescue Foundation কে স্বাগতম আর শুভকামনা ❤️ লেখক Bappy Khan ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ ❤️ "" গহীন অরণ্যের হাহাকার, অবলা প্রাণীদের রক্তাক্ত নিনাদ থামুক এবার "" "হিমঘুম" পড়ে যদি ১০জন মানুষেরও অবলা প্রাণীর প্রতি ভালবাসা যদি আসে,হিমঘুম সার্থক❤️
বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস করার জন্য মূল কারিগর মাদক। মাদকের নেশায় পড়ে কত ভবিষ্যত যে অচিরেই শেষ হয়ে যায়! উচ্চশ্রেণীর তরুণদের মধ্যে এর চাহিদা ব্যাপক হয়ে ধরা দিয়েছে। আর এই সুযোগটা নেয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। মানুষের জীবনের চেয়ে, সমাজকে গড়ে তোলার চেয়ে তাদের কাছে অর্থই মুখ্য। যে একবার অর্থ ও ক্ষমতার সুবাতাস পায়, তাকে আর কিছুতেই ফিরিয়ে আনা যায় না। এর চক্রবুহ্যে বারবার ঘুরপাক খেতে থাকে। এতে কারও ক্ষতি হলে হোক, কিছুই যায় আসে না!
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এক নারী কেলেংকারিতে তোলপাড় পুরো দেশ। তাকে তার অবস্থান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সংসার ভেঙে গিয়েছে। বড়ো ছেলে দুই পা হারিয়ে বিদেশ বিভূঁইয়ে। আর ছোটো ছেলে এসব মানতে না পেরে নেশার ভুবনে নিজেকে সপে দিয়েছে। মাদকের ওভার ডোজে কত প্রাণ যে নিয়মিত হারায়! তার আরেকটি উদাহরণ সুজন। নতুন এক ড্রাগ বাজারে এসেছে। যা শরীর ও মনকে শান্ত করে। আর এই শান্তির পরশ পেতে, সব ভুলে থাকতে একটু অন্যরকম কিছুর চেষ্টা! ফলাফল সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছোটো ছেলে তার প্রাণ হারিয়েছে।
স্ত্রী ছেড়ে চলে গিয়েছে, বড়ো ছেলে বিদেশে, ছোটো ছেলে মৃ ত; এমন মানসিক চাপে থেকে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছুটে এসেছে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায়। এখানে আড্ডা হয়। সেই আড্ডায় ভুলে থাকতে চায় সব দুঃখ। এখানে আরও তিনজন বন্ধুপ্রতিম মানুষ উপস্থিত। যারা দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তারা আশ্বাস দেয়, এর মূল উপড়ে ফেলবে। যারা দোষী, তারা উপযুক্ত শাস্তি পাবে।
কিন্তু নিজেদের যারা বাঁচাতে পারে না, তারা অন্যের জন্য কতটা কী করতে পারবে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তিন বন্ধু একে একে সবাই বীভৎস হ ত্যাকাণ্ডের সাক্ষী। ঢাকার বধ্য পরিবেশে সাপের আনাগোনা অবাক জায়গায়। তাই এত প্রভাবশালী মানুষের বাসায়! সাপের দংশনে প্রাণ হারায় বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় মোটিভেশন স্পিকার, টিভি চ্যানেলের একজন প্রতিষ্ঠাতা আর প্রচুর সম্পদের মালিক একজন ব্যবসায়ী। আর এতে সারাদেশে তোলপাড় হওয়া অস্বাভাবিক না। সেই সাথে সাপের আতঙ্ক। এমন সাপগুলো কোথা থেকে আসছে? এর রহস্য কী?
গালিব মির্জাকে মানুষ চিনে এক জনদরদী মনিয়া হিসেবে। যে তার পৈতৃক সম্পত্তির প্রায় অনেকটাই দান করছে। নিজে স্বল্প দামের জামাকাপড় ভ্যানে করে বিক্রি করছে গরীবদের সুবিধার্থে। এমন একজন মানুষ এই রহস্যে জড়িয়ে পড়ল কীভাবে? সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বড়ো ছেলে দেশে ফিরে এসেছে। অতীতের নির্মম যে সত্য জানতে পেরেছিল, তার প্রতিশোধ নিতে হবে। এখন সময় আগত। কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না।
হোমিসাইড ডিপার্টমেন্টের ক্যাপ্টেন কায়সার ও তার দল খাবি খাচ্ছে এমন এক রহস্য সমাধানে। সাপের রহস্যটাই ঠিকঠাক মাথায় নেওয়া যাচ্ছে না। ঢাকা শহরে এমন বিষধর সাপ! এ-ও সম্ভব? এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বন্ধুদের এভাবে অকালে মৃ ত্যু চাপ সৃষ্টি করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পছন্দের ড্রাগন টিমের চৌকষ অফিসার আরহামকে এই কেসে নিয়োগ দেওয়া হয়। সাথে আছে সাপ রেসকিউ দলের দুই তরুণ-তরুণী। কেউ যেন দিশা পাচ্ছে না।
তারা তো আর জানে না এর বীজ লুকিয়ে আছে অনেক আগের এক গবেষণায়। সুন্দরবনের গহীন এক চরে যে গবেষণা এক অসাধু মানুষকে লোভী করে তুলেছিল। এর মূল লুকিয়ে আছে দেশীয় এক রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে। একে একে সব উন্মুক্ত হবে। কিন্তু দোষী কি ধরা পড়বে?
▪️পাঠ প্রতিক্রিয়া :
বাপ্পী খানের “হিমঘুম” বইটিকে মোটাদাগে রিভেঞ্জ থ্রিলার বলা যায়। এক প্রতিশোধ প্রবণতা দিয়েই গল্পের সূত্রপাত, শেষটাও হয়েছে এর মধ্য দিয়ে। মাঝে সাপের ছুটাছুটি, এক ষড়যন্ত্রের আভাস, দেশের অভ্যন্তরে থাকা সামাজিক কিছু সংকটের মধ্য দিয়ে লেখক গল্পটিকে ছুটিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।
যদি আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়, কেমন লাগল বইটি। আমার তখন মিশ্র অনুভূতি বয়ান করতে হয়। কিছু জিনিস ভালো লেগেছে। কিছু বিষয় আরও বেটার হতে পারত বলে মনে হয়েছে। অনেক জায়গায় দারুণ কিছু হওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু সেই সুযোগটা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। হয়তো লেখকের গল্প বলার ধরনের কারণেই এমন।
লেখকের গল্প বলার ধরন বর্ণনামূলক। প্রয়োজনের বাইরে সংলাপের ব্যবহারও তিনি করেন না। তার এই বর্ণনামূলক গল্প বলার ধরনের কারণে অনেক কিছুরই ভিজুইলাইজেশন হয় না। ফলে গল্পের মধ্য দিয়ে লেখক যা ফুটিয়ে তুলতে চাচ্ছেন, পাঠকের সাথে সেখানে সংযোগ স্থাপন ব্যাহত হচ্ছিল। ব্যক্তিগতভাবে আমার এই সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। বিশেষ করে কিছু আক্রমণ দৃশ্য লেখক এমনভাবে বর্ণনা করেছেন, আমি ঠিক সেই জায়গায় উপভোগ করতে পারিনি। একঘেয়ে পাঠের মতো পড়ে গিয়েছি। ফলে যে অংশে অ্যাড্রেনালিন রাশের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সুযোগ ছিল, সেখানে উত্তেজনা থিতিয়ে গিয়েছে। বরং কিছু অংশে তাড়াহুড়ো লেগেছে ভীষণ।
তবে এভাবে গল্প বলার ক্ষেত্রে একটা ভালো দিক আছে। অতিরিক্ত ইনফো ডাম্পিং হয় না। লেখক গল্প বলার ক্ষেত্রে যেহেতু বর্ণনামূলক বাচনভঙ্গির আশ্রয় নিয়েছেন, এতে কাহিনি বিল্ডআপে কিছুটা সময়ক্ষেপণ করা হয়। ফলে গল্পের ভিত দারুণভাবে গড়ে ওঠে। মাঝেমাঝে গল্পের গতি কিছুটা ধীর হতে পারে। যদিও আমার কাছে ধীর মনে হয়নি। বরং কাহিনি বিল্ডআপের কারণে শুরুতেই গল্পের অবস্থান পরিষ্কার হয়েছিল। এরপর কেবল এর এগিয়ে যাওয়া।
এখানে লেখক রিভেঞ্জ থ্রিলারের পাশাপাশি রাজনৈতিক থ্রিলারের বিষয়ও যুক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর পড়েই দেশের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী স্বরাষ্টমন্ত্রী। এই চেয়ারের লোভ অনেক বেশি মারাত্মক। এর কারণে কত ছলনা, ষড়যন্ত্র করা হয় তার ইয়াত্তা নেই। আর এই ষড়যন্ত্রের মূল গল্পতেই “হিমঘুম” জড়িয়ে গিয়েছে। একই সাথে মাদক, সমাজের অবক্ষয়ের কিছু ঘটনা, নারী ঘটিত বিষয়, ধ র্ষ ণ, নিজের আখের গোছাতে হয়ে জনগণের কথা ভাবনাতে না আনা, আইনের মারপ্যাচে ক্ষমতাবানদের নিষ্কৃতির মতো বিষয় লেখক উপস্থাপন করেছেন। মোদ্দাকথা লেখক তার গল্পের মাধ্যমে সমাজের অসঙ্গতি, ক্ষমতার কাছে সমাজের অসহায়ত্বকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
খু ন, হ ত্যার মতো বিষয় যখন সামনে আসে তখন পুলিশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এখানে হোমিসাইড ডিপার্টমেন্টের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। লেখক তাদের ভূমিকা খুব ভালো মতোই দেখাতে পেরেছেন। বিশেষ করে যখন লড়াইটা বুদ্ধিমান অদেখা কোনো প্রতিপক্ষের সাথে, তখন খেলাটা জমে যায়। আমি এই ব্যাটেল ভীষণ উপভোগ করেছি।
বই পড়তে গিয়ে কিছু প্রশ্নের উদয় হয়েছিল। ধীরে ধীরে সে রহস্য লেখক উন্মুক্ত করেছেন। গল্পে চমক ভালো মতোই উপস্থিত। যদিও অপরাধী কে, আগে থেকেই জানিয়ে দিয়েছেন লেখক। ঘটনাক্রমে মূল ঘটনা সূত্রের কাহিনিও জানা যায়। তারপর কেবল ইঁদুর-বেড়াল খেলা। অপরাধীকে খুঁজে বের করার মিশন যেন বইয়ের আকর্ষণ বাড়িয়েছে। এবং শেষের দিকের ঘটনাগুলো বড্ড তাড়াতাড়ি ঘটছিল, তবুও যেন কোনোভাবেই কাহিনি ঝুলে যায়নি। যদিও আমার ব্যক্তিগত অভিমত, আরেকটু ধীরস্থির ভাবে এগোনো গেলে ভালো হতো।
▪️চরিত্র :
একটি বইয়ের মূল বিষয় চরিত্র। অসংখ্য চরিত্রের আনাগোনা থাকলে সবগুলো চরিত্রকে ঠিকঠাক ফুটিয়ে তুলতে দক্ষতার প্রয়োজন। “হিমঘুম” বইতে অসংখ্য চরিত্র রয়েছে। ভিকটিম, অপরাধী, পুলিশের লোকজন ছাড়াও বেশকিছু চরিত্র এখানে গুরুত্ব পেয়েছে।
যারা ভিকটিম, তাদেরকে লেখক বেশ দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন। তাদের অতীত ও এই পরিণতির কারণ এখানে উপজীব্য। একই সাথে এই গল্পের মূল অপরাধী যারা, তাদেরকেও তাদের অতীতের সাথে সংযুক্ত করে লেখক ভালো মতোই স্থান দিয়েছেন। এতে করে চরিত্রগুলোর প্রতি পাঠকের এক ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি পাওয়া যেতে পারে। সেটা হতে পারে ভালো, কিংবা খারাপ
তবে মূল যে চরিত্র কায়সার, তাকে কেন যেন ঠিকঠাক ফুটিয়ে তোলা গেল না বলেই মনে হলো। সে কেবল মূল গল্পেই উপস্থিত ছিল। তার ব্যক্তিগত জীবন, অতীত, তার স্বভাব কিছুই ফুটে উঠেনি। শুধু তাকে গল্পের খাতিরে চৌকষ ও বুদ্ধিমান এক পুলিশ অফিসার মনে হয়েছে। তাকে আরো ভালো করে ফুটিয়ে তোলা যেত।
এছাড়া মাহফুজ ও অনন্যাও যেন সেভাবে স্থান নিতে পারেনি। আমি মাঠ পর্যায়ে তাদের আরো কাজ প্রত্যাশা করেছিল। যতটুকু ছিল, আমার কাছে যথেষ্ট ছিল না। তবে হোমিসাইড ডিপার্টমেন্টের লোকজনদের কাজকর্ম, পারস্পরিক বোঝাপড়া, একে অপরকে সম্মান দেখানো, এই বিষয়গুলো ভালো লেগেছে।
আরহাম নামের এক চরিত্রের উপস্থিতি এখানে ভালো গুরুত্বপুর্ণ ছিল। তার কাজকর্ম ভালো লেগেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাউকে কোনো কেসে অন্তর্ভুক্ত করলে তার মধ্যে এক ধরনের ঔদ্ধত্য ভাব এসে যায়। কিন্তু এখানে আরহামের বিনয়ী ভাব গল্পের সাথে মানানসই। যদিও শেষের চমকটা অপ্রত্যাশিত ছিল। ধারণা করছিলাম, তা-ও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল।
এই বইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ চরিত্র বোধহয় সাপ। সাপের একাধিক প্রজাতি এখানে স্থান পেয়েছে। তাদের স্বভাব, তাদের বিষক্রিয়া, তাদের ইতিহাস সম্পর্কে অনেক কিছুই জানতে পেরেছি। গ্রামাঞ্চলে মুখে মুখে সাপ নিয়ে বেশকিছু কিংবদন্তি, কুসংস্কার প্রচলিত আছে। সেগুলো ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন লেখক। মজার বিষয় হলো, লেখক এত বেশি তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, আমার কাছে বিন্দুমাত্র বাহুল্য মনে হয়নি। বরং মনে হয়েছে রিসার্চ করার মাধ্যমে লেখক যে তথ্য বইতে দিয়েছেন, তা যথাযথ ও পর্যাপ্ত।
▪️স্পয়লার আলোচনা :
এই অংশে কিছুটা স্পয়লার আছে। চাইলে এড়িয়ে যেতে পারেন।
“হিমঘুম” বইয়ের মূল উপজীব্য বিষয় একটি বিশেষ শ্রেণীর মাদক। যার আবিষ্কার হয়েছে নিতান্তই ভাগ্যক্রমে। সুন্দরবনের গহীনে এক চরে সাপের বিষ দিয়ে এক গবেষণায় অজ্ঞাত বশে এমন এক মাদকের ফর্মুলা আবিষ্কার হয়। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, সাপের বিষ নিয়ে কী ধরনের গোপন গবেষণা হচ্ছিল? এই বিষয়টা আমার কাছে পরিষ্কার না। ফলে যে ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে এই উপন্যাস, তাকে কিছুটা দুর্বল মনে হয়েছে। সেই গবেষণার বিস্তারিত দিয়ে অতীতকে আরও পোক্ত করা যেত।
আরেকটা বিষয়, শুরুর দিকে যে চেয়ারম্যানের উপর আক্রমণ হয়, যার স্ত্রী হুট করেই হারিয়ে যায়। এরপর আর কোনো খবর নেই। শেষে একটা তথ্যের মাধ্যমে উন্মুক্ত করা হয়েছিল। এই ঘটনাটা আরেকটু বিস্তারিত দেখানো যেত।
টুকরো টুকরো কিছু বিষয় থাকে, যা অপ্রয়োজনীয় মনে হলেও গল্পের প্রয়োজনে এর গুরুত্ব আছে। এই গুরুত্বপুর্ণ বিষয়গুলোর দিকে নজর দিলে বই আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
▪️বানান, সম্পাদনা ও অন্যান্য :
“হিমঘুম” বইটা বাতিঘরের হলেও আমি পড়েছি বইঘর ইবুক অ্যাপে। বেশকিছু বানান ভুল চোখে পড়েছে। যেমন যথেষ্টকে সব জায়গায় যঠেষ্ট লেখা ছিল। কি/কী এর ভুল ব্যবহার লক্ষ্য করেছি। এছাড়া ন/ণ বিভিন্ন জায়গায় ভুল ছিল। কিছু সাধারণ বানানের ভুল চোখে পড়লে ভীষণ মর্মাহত হই। এই দিকে চাইলেই নজর দেওয়া যায়।
ইবুক অ্যাপগুলোর মধ্যে বইঘরকে আমার ইউজার ফ্রেন্ডলি মনে হয়। পড়তে আরাম লাগে। এত বড়ো একটা বই পড়তে তাই কষ্ট হয়নি তেমন।
▪️পরিশেষে, এই সমাজে আসলে কোনটা অপরাধ বলে গণ্য হয়? যারা অপরাধ করে পার পেয়ে যায়, তাদের? না-কি আইনের ফাঁক হলে বেরিয়ে আসা এসব অপরাধীর মাথায় মৃ ত্যুর পরোয়ানা জারি করে, তাদের? আপনাদের কাছে কার প্রকৃত শাস্তি পাওয়া উচিত? জানাতে ভুলবেন না যেন।
কোন mysterious কিছু না। সোজা সাপটা প্রতিশোধের গল্প। কিছু জায়গায় একটু অতি প্রাকৃতিক হয়ে গেছে যদিও ব্যাপারটা। চোখের সামনে কোন সন্দেহ ছাড়াই সিনথিয়ার পলায়ন ও ওই রকমই আরেকটি অতিপ্রাকৃতিক ব্যাপার। তাও পড়তে যেহেতু মজা পেয়েছি তাই পুরো মার্কসই দিয়ে দিলাম।
সমাজের উঁচু স্তরের প্রভাবশালী কিছু মানুষ একে একে মারা যাচ্ছে। দূর্ঘটনা, হত্যা না কি অন্য কোনো রহস্য? মৃত্যুর কারণ জানতে পেরে ফরেনসিক ইনচার্জ আদনান বিস্মিত। সাপের দংশনে মৃত্যু! তদন্তের দায়ভার এসে পড়ে হোমিসাইডের কায়সারের ওপর। প্রতিটি ঘটনাস্থলেই সাপ। কিন্তু সাপকে তো আর কাঠগড়ায় দাঁড় করানো সম্ভব নয়। আসল কালপ্রিটকে খুঁজতে হবে। অথচ প্রধান সন্দেহভাজনকে তাড়া করতে গেলে সামনে থেকেই যেন কর্পূরের মতো উবে যায় সে। আবারও পাওয়া যায় সাপ! তাহলে কি কিংবদন্তির সর্পমানবের আগমন ঘটল? এদিকে সিসিটিভি ফুটেজ থেকেও অদৃশ্য হয়ে যায়, কিন্তু এন্ট্রি লগে স্পষ্ট পাওয়া যায় তার স্বাক্ষর? কীভাবে সম্ভব? কায়সার কি খুঁজে পায় প্রতিশোধপরায়ণ এই রহস্যমানবকে?
জনরা হিসেবে বইটি রিভেঞ্জ থ্রিলার বলা চলে। সাপের মাধ্যমে প্রতিশোধ। নতুন এই আইডিয়া নিয়ে চমৎকার এক গল্প ফেঁদেছেন লেখক বাপ্পী খান। ডিপ ইকোলজি ও স্নেক রেস্কিউ টিমের একজন সদস্য হওয়ায় সাপ সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান তার আছে। এই বইটা যেন তার অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানেরই প্রতিচ্ছবি। ছোটো ছোটো অধ্যায় আর ফাস্ট পেসড লেখার সুবাদে কাহিনি এগিয়েছে তরতর করে। রহস্যের বিল্ডআপ আর জট খোলা হয়েছে সুদক্ষ হাতে। অনেকগুলো টুকরো টুকরো সূত্র একমালায় গেঁথে গেছেন লেখক সুনিপুণভাবে। লেখকের লেখনশৈলীও আগের চেয়ে অনেক পরিণত। তবে এই কাহিনি থেকে আমার একমাত্র টেক-অ্যাওয়ে হলো এর সোশাল কমেন্টারি। বেশ কয়েকটা সাবপ্লট আছে কাহিনিতে। সাবপ্লটগুলোর অধিকাংশই বাস্তব কিছু ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত। রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্ধকার দিকটা ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক এই সাবপ্লটগুলোর আড়ালে। যদি সংবাদপত্র পড়ার অভ্যাস থাকে আর সামসময়িক ঘটনাবলি সম্পর্কে জ্ঞাত থাকেন তবে সেগুলো নিশ্চয়ই ধরতে পারবেন আশা করি। এছাড়া সাপ সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য জানা হলো, কিছু মিথ্যা ধারণা ভেঙে দিলেন লেখক। কিছু ইস্টার এগ আছে। সিম্বলিজমের ব্যবহারও বেশ ভালো লেগেছে। শুধু একটা চ্যাপ্টারে মনে হয়েছে ইনফো ডাম্প করা হয়েছে। সাপ নিয়ে জানতে গিয়ে কায়সার সাহেব গুগল করে কিছু তথ্য পায় সেটাই দেখানোর চেষ্টা করেছেন লেখক সেই চ্যাপ্টারে, তবে আমার মনে হয়েছে অন্যভাবে উপস্থাপন করা গেলে ভালো হতো। টুকটাক কিছু টাইপো আছে আর কয়েক জায়গায় কিছু সংলাপ একটু cheesy লেগেছে। তবে এর পরিমাণ অল্পই, গল্প উপভোগে তেমন একটা বাধা সৃষ্টি করবে না। পরিশেষে, বইয়ের নাম হিসেবে “হিমঘুম” সার্থকতার পরিচয়ই দিয়েছে।
বাপ্পী খানের বই এই প্রথম পড়লাম। লেখকের গল্প বলার ধরন আপনার মনোযোগকে গল্পে আটকে রাখবে। কাহিনীর একের পর এক রহস্য যেভাবে তিনি জালের মতো ছড়িয়ে আবার এক এক করে গুটিয়ে এনেছেন সেটা সত্যিই অনবদ্য। তবে গল্পের রোমাঞ্চের চেয়েও বইটিকে আমি অন্য দুটি কারনে অপরাপর থ্রিলারের চেয়ে আলাদা করে রাখব।
প্রথমত সাপ নিয়ে এত দারুণ থ্রিলার বাংলা সাহিত্যে আর আছে নাকি আমার জানা নেই। সাপ নিয়ে আমাদের কুসংস্কার আর ভয়ের সীমা নেই। এইসবের কারনে এই প্রাণীটির অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। বইটি আমাদের সাপদের নিয়ে সচেতন করার পাশাপাশি অনেক মিথকে ভেঙ্গে দিয়েছে। তাছাড়া বইতে দেওয়া সাপের বর্ণনা অনেককে বিষধর সাপ সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে এবং তরুণদের সাপ রিস্কিউয়ার হতে অনুপ্রাণিত করবে।
দ্বিতীয়ত বইটিতে সাম্প্রতিক দুটি দুঃখজনক এবং লজ্জাজনক ঘটনার রেফারেন্স নিয়ে এসেছেন লেখক। টেকনাফে র্যাবের গুলিতে নিহত হওয়া একরামুল হক এবং সোহাগী জাহান তনুর ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড এর ঘটনা দুটি আমার মতো অনেকই ভুলে গেছে হয়ত। কিন্তু লেখক ঠিকই আমাদের চোখে আংগুল দিয়ে মনে করিয়ে দিয়েছেন এই বইতে। বইয়ের চরিত্ররা সুবিচার(!) পেলেও বাস্তবের চরিত্রগুলোর সে সুযোগ হয় নি। লেখক তার বইতে এই হতভাগ্য মানুষগুলোকে বইয়ে স্থান দিয়ে তাদের বিচারের দাবীকে বাচিয়ে রাখার ব্যবস্থা করেছেন, এটি অবশ্যই একটা স্যালুটের দাবীদার।
এবার আসি বইয়ের কিছু নেগেটিভ দিক নিয়ে । বইটির একটি চরিত্রের বড় রকমের একটি অসংগতি রেখে দিয়েছেন লেখক। এটার জন্য বইটি আমি পড়ব না বলে মাঝপথে রেখে দিয়েছিলাম। কিন্তু এত চমৎকার গল্পের শেষটা জানার কৌতুহলে আবার পড়া শুরু করি। মনকে প্রবোধ দিয়েছিলাম, এই অসংগতির ব্যাখা লেখক নিশ্চয় শেষে দিবেন। কিন্তু বইটি শেষ করেও আমার এই অতৃপ্তিটি রয়ে গেল। আশা করি পরবর্তী সংস্করনে লেখক এই ছোট অসংগতিটি সংশোধন করবেন।
edit: লেখক সাহেব এর কাছ থেকে ব্যাপারটার খুব সুন্দর ব্যাখা পেয়েছি। Now I can sleep peacefully :D . পরবর্তী বই নিনাদ এর অপেক্ষায় রইলাম।
সাপ খোপ নিয়া চলতাছিলো কাহিনী স্লো পেসে , প্রথমে স্টিং ঘুলা খাপছাড়া লাগাছিলো, মাঝে একটু রিপিটেট লাগছে , সাপ নিয়া পড়া শুনা করার মাঝে একটু ইচ্ছাও জাগায় ফেলছিলো । আমার সাহসী মন দুই তিন বার গুগলে সার্চ মাইরা আশা ছাইড়া দিছে, প্লট রিভিল টা বলা যায় ভালোই ছিলো কিন্ত শেষে হুদাই ম্যে বি ফর্মা বাড়াইছে টাইপ লাগলো , যদিও আমি নুব রিডার সো ইগ্নোর ইট। বাপ্পি ভাই এর সাথে দেখা হইছো এইবার , নেস্টে তার সিরিজ শেষ করার ইচ্ছা আছে ।
সুন্দর গল্প, লাস্টের টুইস্টা বেশি সুন্দর। কত বেশী মানুষের আবির্ভাব। সাপ নিয়ে ভালোই লিখেছেন, তবে বইটার কাহিনী এত লম্বা না করলেই হইতো, কিছু জায়গায় মাত্রারিক্ত টানা হইছে, বাদ বাকি সব ওকে। পড়ার মত সুখপাঠ্য।
দুর্বল প্লট, জোড়াতালিতে ভরপুর। ক্যাপ্টেন কায়সারের চরিত্র অত্যন্ত বিরক্তিকর। সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে বইয়ের শেষে কিউ আর কোড স্ক্যান করে ছবি দেখে সাপ চেনা।
যেথায় প্রতিশোধের ঘ্রান পাওয়া যায়, সেথায় অন্যায়ের বাস থাকে, থাকে হীনতার। তাই প্রতিশোধ প্রকৃতির এক অদ্ভুত নিয়ম যেথায় অসংখ্য অপরিশোধিত ঋন পরিশোধ হয়।
শেষ করলাম দীর্ঘ সময় ধরে আগ্রহের বই হিমঘুম। এটি আমার বাপ্পী খানের পড়া প্রথম বই আর আমার মনেহলো বেশ একটা বড় রোলার কোস্টার থেকে নামলাম। বলাই বাহুল্য যে বইটির প্রতিটি পাতায় "থ্রিলার" নামক অনুভুতি কে খুজে পেয়েছি। থ্রিলার শব্দের মর্যাদা তিনি রেখেছেন। আর হিমঘুমের মাধ্যমে সাপের মত ভীতিকর এক বস্তুর প্রতি আমার জ্ঞান বেড়েছে যা নিঃসন্দেহে বেশ উপকারী এক দিক ও বটে।
এক মাদক, এক ভুল ধাবিত করে বেশ কিছু খুনের। ভয়ংকর এক মাদকে খুন হন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছোট ছেলে, আর তাই যেনো ধীরে ধীরে শুরু করে সকল খেলার। ইকবাল সাহেব, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, যার যেনো ক্ষুধার অন্ত নেই, নেই কাম, মোহ, লালসার। এক অদম্য ক্ষুধা নিবারনে প্রয়োজন এক বিরাট রাষ্ট্র। আর লেগে থাকে সাধারন মানুষের অব্যাক্ত হাহাকার। হঠাৎ করে খুন হন তার এক ঘনিষ্ট বন্ধু। কেস সামলান হোমিসাইডের দক্ষ অফিসার কায়সার সাহেব। কিন্তু এই কেস তার জীবন পালটে দিচ্ছে। তারপর? তারপর শুরু হয় এক এক করে সৈন্যের পতন আর চেকমেটের অন্তিম আগ্রাস। সাপের মত শীতল এক লড়াই, যার মাঝে আছে টানটান উত্তেজনা আর হিমঘুমের অপেক্ষা।
থ্রিলার পাঠকদের আসর গ্রুপ থেকে উপহার পাওয়া বই হিমঘুম এই ছুটিতে পড়ে আরাম পেলাম। শুরুটা বেশ আনকমন ছিলো যা সচরাচর দেখা মেলেনা। রহস্যের ঘনত্ব আর জট কে যখনি ভেবেছি খুলে যাচ্ছে তখন ই হাজির হয় আরেক নতুন জট। তবে স্টোরিলাইন কে গ্রিপিং রাখতে লেখক সফল হয়েছেন। স্মুথ আর ফাস্ট পেসড হওয়ায় আমি গল্পের মাঝে হারিয়ে যাই।
ক্যারেক্টার বিল্ডিং আর ডেভেলপমেন্ট ও প্রশংসনীয়। কিন্তু এখানে মূলত নেগেটিভ ক্যারেক্টার বেসড করে লেখা হয়েছে আমার মতে আর এইখানকার এই নেগেটিভ চরিত্র গুলো পজিটিভের থেকেও বেশি মন জয় করেছে। তাদের দক্ষতা আর দৃঢ়তা যেনো পুরো গল্পটাকে আরো জীবন্ত করে তুলেছে। তার মানে এই না যারা রহস্যের জট খুলেছে তারা কোনো অংশে কম। আমার কাছে তাদের "যঠেষ্ট" ভালো মনে হয়েছে।
হিমঘুমের এক বিরাট মুদ্রাদোষ "যঠেষ্ট"। আর না না জায়গায় এই যঠেষ্ট আমাকে " না না" ভাবে বিরক্ত করেছে আর করেছে ভুক্রুটির কারন। ইহাকে আমি অক্ষমাযোগ্য বলে ঘোষনা করছি আর বাপ্পী খানের কাছে বিচার পেশ করছি ( নট সিরিয়াস) তবে প্রুফরিডিং এ বেশ কিছুটা ল্যাকিংস ছিলো যা আমার মতে আরো ইম্প্রুভ হতে পারতো।
বাপ্পী খানের বিখ্যাত "অন্ধকার ট্রিলজি" পড়া হয়নি যা এখন আমার বেশ কিছুটা আফসোসের জোগান দিচ্ছে। এখন পকেটে কিভাবে আটে তার ফন্দি ফিকির চলছে। তবে বাপ্পীভাই কে একটা কথা বলতে চাই, " You nailed it"
আমার রিভিউ ফুরালো, নুটে গাছটিও মুরোলো।
বইয়ের নামঃ হিমঘুম লেখকঃ বাপ্পী খান প্রকাশনাঃ বাতিঘর প্রকাশনী পার্সোনাল রেটিংঃ ৪.৫/৫ (যঠেষ্ট ও না না)
এক কথায় অসাধারন বই। সর্প জগৎ এমন থ্রিলটাইপ একটা ভাইব নিয়ে যে গোটা উপন্যাস লিখে ফেলা যায় তা সত্যি অভাবনীয়।লেখক তার দক্ষতা যথোপযুক্তভাবে নির্ভুলতার সাথে উপস্থাপন করেছেন। সময় স্বল্পতার কারনে উপন্যাসেত চারিত্রিক বিশ্লেষণ এ যাচ্ছিনা। হ্যাপি রিডিং
বাপ্পী খানের লেখা আগে পড়া হয়নি, এটা দিয়েই শুরু করলাম। সাপ নিয়েও যে একটা থ্রিলার বই লেখা সম্ভব সেটা এই বইটা না পড়লে জানতাম না! সাপ নিয়ে অনেক কিছু বলা হয়েছে, নতুন কিছু বিষয় জানাও হলো। বাঘ, সিংহের মত সাপকেও সবসময় ভয় পাই। বই পড়তে গিয়ে গায়ে কাঁটাও দিয়েছে!
টুইস্টগুলো ভালই ছিল। তবে কিছু কিছু জায়গায় একটু বেশি নাটকিয়তা মনে হয়েছে আমার কাছে, বাস্তবে এত সুন্দরভাবে আসলে ঘটে না হয়ত! আর সাপ নিয়ে বর্ণনাটা একটু বেশি লেগেছে, বইয়ের কাহিনীর প্রয়োজনে তা দরকার ছিল কিন্তু আরেকটু কম লেখা হলে হয়ত ভাল হত এই আর কি। তবে বই শেষ করে আমি যথেষ্ট সন্তুষ্ট চিত্তে বলব যে বইটা আমার কাছে ভাল লেগেছে।
মারা যাচ্ছে একের পর এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। মৃত্যুর কারণ খুন নাকি দুর্ঘটনা, তা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হোমিসাইড ডিপার্টমেন্টের। সত্য যখন উন্মোচিত হলো, তখন চিন্তার পরিমাণ হয়ে দাঁড়াল দ্বিগুণ। কারণ এরকম এক কেস তাদের হাতে এসেছে, যা আট-দশটা কেসের মতো নয়...
পড়ে শেষ করলাম, রিভেঞ্জ থ্রিলার - হিমঘুম।
বইটা শুরু থেকেই মনযোগ ধরে রাখতে বাধ্য করেছে, যার অন্যতম কারণ ছিল ব্যতিক্রমী প্লট। সাপের মতো ধূর্ত এক সরীসৃপ প্রাণীকে মুখ্য ভূমিকায় রেখে এরকম একটা প্লট ভাবার জন্য, লেখক অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখেন। এই বইয়ে সাপ সংক্রান্ত অনেক তথ্য লেখক গল্পের ছলে তুলে ধরেছেন, যার অধিকাংশই সাধারণ মানুষের কাছে অজানা।
এই বইয়ের একটা ভাল লাগা দিক ছিল– আমাদের সমাজের কিছু পরিচিত মুখকে লেখক তার গল্পে বিভিন্ন রুপে নিয়ে এসেছেন, যা গল্পটাকে আরো বেশি বাস্তবসম্মত করে তুলেছিল।
চরিত্রায়নে কমতি চোখে পড়ে নি। এই বইয়ের পছন্দের দুটি চরিত্র ছিল, ক্যাপ্টেন কায়সার এবং গালিব মির্জা। এদের দু'জনের মধ্যকার ইঁদুর বিড়াল খেলা বইটাকে করে তুলেছিল রোমাঞ্চকর।
সম্পাদনা জনিত কিছু ত্রুটি বইয়ের ভেতর রয়েছে। যেমন– বানান ভুল, স্পেসিং প্রবলেম। আশা করি পরবর্তী মুদ্রণে সেগুলো ত্রুটি মুক্ত হিসেবে উঠে আসবে।
সব শেষে বইয়ের কিছু পছন্দের লাইন দিয়ে রিভিউ শেষ করছি–
" সমাজের চোখে সাধু সেজে থাকা ইকবাল হোসেনের মতো মানুষদের ভিন্ন একটা রুপ থাকে, যে পৈশাচিক রুপটা প্রায়ই শুধু বিছানাতেই প্রকাশ পায়। "
নাম : হিমঘুম লেখক : বাপ্পী খান জনরা : সাসপেন্স থ্রিলার প্রকাশনী : বাতিঘর পৃষ্ঠা : ৩৫১
বইটা হাতে এসেছে বেশ কিছুদিন আগে। কিন্তু সাপ প্রাণীটাকে আমিও ক্যাপ্টেন কায়সার এর মতোই অনেক ভয় পাই। বই এর প্রচ্ছদ দেখেই আর বই ধরার সাহস পাচ্ছিলাম না। হিমঘুম নামটা কি সুন্দর। কিন্তু এর সাথে জড়িয়ে আছে সাপ। তাও বিষধর সাপ যারা কিনা আবার জড়িত একের পর এক মানুষ হত্যায়। যারা কিনা আবার সমাজের উপরের স্তরের ক্ষমতাশীল মানুষ। আর তাই ডাক পরে হোমিসাইড ডিপার্টমেন্ট এর। কিন্তু একের পর এক হাজির হচ্ছে সাপ। কেনো জানতে হলে আমার মতো ভয় না পেয়ে বইটি পড়ে ফেলুন। বইটি প্রথম দিকে পড়তে যেয়ে আমার মনে হয়েছে জানালা দিয়ে এখনই একটা সাপ আসছে। এতোটাই জীবন্ত ছিলো ঘটনার বর্ননা। "ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ ফাউন্ডেশন" নামে যে একটা চমৎকার সংস্থা আছে এটাও আমার জানা ছিলোনা। সাপ নিয়ে আছে প্রচুর তথ্য, যা কাহিনীর কারণেই এসেছে আর এই জন্যই বইটা শেষ হলে.... না থাক আর না বলি। সময়কে সুন্দরভাবে উপভোগের জন্য একটি চমৎকার বইই অনেক কিছু। বই পড়ুন, সময়কে কাজে লাগান।
বাপ্পী খানের এই নিয়ে চারটি বই পড়া হয়েছে এখন পর্যন্ত। লেখকের লেখার সবচেয়ে শক্ত দিক হলো, চমৎকার গল্পের প্লট নিয়ে আসা। দূর্বল দিক? আমি বলবো, ক্যারেক্টার বিল্ডআপ। বইয়ের গল্পের তুলনায় চরিত্রগুলো মাঝে মাঝেই ম্লান মনে হয়। আর এই বইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটা চরিত্রের বিল্ডআপে বেশ বড় আকারের অসঙ্গতি আছে, যেটার জন্যে এক পর্যায়ে বইটাই আর পড়তে চাইনি। কিন্তু ঐ যে বললাম, চমৎকার গল্প? ওইটাই টেনে নিয়ে গিয়েছে।
'অন্ধকার ট্রিলজি' পড়ার পর থেকে লেখকের কাজে এক্সপেক্টেশান আগের থেকে অনেক বেড়ে গিয়েছে। আমি বলবো্, অপ্রয়োজনীয় কিছু কথা কেটে ছেঁটে আরেকটু মেদহীভাবে ক্যারেকটার বিল্ডআপ যদি করা যায়, তাহলে বেশ ভালো হয়।
বইয়ের প্রচ্ছদ দেখেই হয়ত অনেককিছু আন্দাজ করা যায়। প্রচ্ছদে বিশাল এক সাপের ছবি, আর বইয়ের নাম হিমঘুম। সাপ-রিলেটেড কিছুই হওয়ার কথা। পুরো বইটা সাপ রিলেটেড-ই। তবে সাপের কোনো মিথলজি বেজড কাহিনী নয়, ফ্যাক্ট বেজড ফিকশন। বইটা লেখার জন্য বাপ্পী খানকে যে পরিমাণ গবেষণা করতে হয়েছে, তা আসলেই প্রশংসার দাবিদার।
বইয়ের কাহিনী এবং ঘটনাপ্রবাহ আসলেই চমৎকার। যেভাবে কাহিনী এগিয়েছে, সবকিছু আসলেই সারপ্রাইজিং মনে হয়েছে। কিন্তু এই পর্যন্তই।
লেখনী খুবই ইমম্যাচিউর। এর আগে বাপ্পী খানের নিশাচর পড়েছিলাম। সেখানে লেখনী বেশ সাবলীল মনে হয়েছিল। কিন্তু এই বইয়ে এসে সেই সাবলীলতা রূপ নিয়েছে অপটুতায়। লেখনীর কারণে পড়ে সামনে আগানোই যাচ্ছিল না। এই কারণে বেশ কিছুদূর পড়ে রেখে দিয়েছিলাম। বেশ অনেকদিন পর আবার ধরেছি। কাহিনীতে চরিত্রায়ন, ঘটনার বর্ণনা, কোনোকিছুই ঠিকঠাকভাবে হয় নি। কাহিনী যেভাবে এগিয়েছে, থ্রিলের তুঙ্গে থাকার কথা। কিন্তু থ্রিল মোটেও পাইনি। সেটা হয়েছে দুর্বল লেখনীর কারণেই। আর সেই সাথে অনেক জায়গা চরিত্রগুলোর নামের অসঙ্গতির কারণে নিজে নিজে আবার ফিগার আউট করে নিতে হয়েছে, “আচ্ছা এ মনে হয় ও”। এই কারণে বেশ বিরক্ত লাগছিল।
এর পরেও তিন তারকা দিচ্ছি, কারণ বইয়ের প্লটটা আসলেও খুব সুন্দর। প্লট এবং টুইস্টগুলোর জন্যই পুরোটা পড়ে শেষ করতে পেরেছি। একই কারণে এক তারকা বেশী দিচ্ছি।
ফ্ল্যাপের কাহিনী পড়লেই বোঝা যায়, সাপেদের দ্বারা খুন করানো হচ্ছে। এটার ইনভেস্টিগেশনই হচ্ছে প্লট। কারও কাছে যদি লেখনী ম্যটার না করে, প্লট এবং টুইস্ট-ই আসল হয়, তাহলে পড়ে দেখতে পারেন।
অন্ধকার সিরিজ এর পর ভাইয়ার আরেকটি সিরিজ বুনো এর প্রথম বই হিমঘুম। কুটিল ও নোংরা রাজনীতি , চক্রান্ত, প্রতিশোধের গল্প এই রিভেঞ্জ থ্রিলার। সর্বোপরি, সাপের নানান বর্ণনা আর পরিবেশ রক্ষায় বন্য প্রাণীর প্রয়োজনীয়তা বিষয়গুলা ভালো লেগেছে। A good read indeed!
◑নাম: হিমঘুম ◑লেখক: বাপ্পী খান ◑জনরা: রিভেঞ্জ থ্রিলার ◑প্রচ্ছদ: বাপ্পী খান ◑প্রকাশনী: বাতিঘর ◑প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০২২ ◑পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৫১ ◑মুদ্রিত মূল্য: ৪০০/-
❝শীত আসছে। সাপেরা আড়ালে লুকাবে। হিমঘুমের সময় সমাগত... এখন সাপেরা শিকারে ব্যস্ত।❞
কাম, ক্রোধ, লোভ, মদ, মোহ ও মাৎসর্য— মানুষের ছটি শত্রু, ষড়রিপু। সহজাত দোষ যার জালে ফেঁসে যায় আমরা। অনিয়ন্ত্রিত আবেগ ডেকে আনে অনিবার্য বিপর্যয়...
● আখ্যান —
জীবন কতটা ঠুনকো আর মৃত্যু কতটা শক্তিশালী...
দেশের বিশিষ্ট মোটিভেশনাল স্পিকার শোয়েব তপনের রহস্যময় লাশ পাওয়া গেছে তার নির্জন শহরের বাসায়। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট চমকে দেয় ডক্টর আদনানকে। সাপের কামড়ে মারা গেছেন শোয়েব তপন! শহরে সাপ? তাও যেনতেন সাপ নয়... কিং... কিং কোবরা!
হোমিসাইড ক্যাপ্টেন কায়সার কবির রহস্যময় কেসের কিনারা করতে যখন হিমশিম খাচ্ছেন তখন পাওয়া যায় আরও একটি লাশ! এবারের গুপ্ত আততায়ী আর কেউ নয়... রাসেলস ভাইপার! একে একে মারা যেতে থাকে দেশের প্রভাবশালীরা! মৃত্যুর কারণ সাপের কামড়... খুন নাকি দুর্ঘটনা? নীল বিষাক্ত আঁধার যেন ঘিরে ধরতে শুরু করেছে শহরকে... অজানা আতঙ্কে বারবার কেঁপে উঠে কায়সার। সাপের হঠাৎ আক্রমণ কেন? পরবর্তী শিকার কে হবে? আর উধাওই বা হয়ে যাচ্ছে কীভাবে আততায়ী? রহস্যময় রক্তাক্ত ছোবল জানান দেয় অতীতের গুপ্ত যড়যন্ত্রের! প্রতিশোধের নেশায় মত্ত প্রাণঘাতী সাপেরা... কিন্তু সাপেরা কি পারে প্রতিশোধ নিতে?
● পর্যালোচনা ও প্রতিক্রিয়া —
সলিড একটা থ্রিলার কিন্তু প্রথম একশত পেজ পর্যন্ত বারবার মনে হয়েছে ভৌতিক আর অতিপ্রাকৃতিক কিছু বিষয় তো অবশ্যই রয়েছে। যেভাবে খুন হচ্ছে আর সাপ গায়েব! তবে আরও একটা কারণ আছে, অন্ধকার সিরিজের নাফিস আর সত্য-কলাম। তবে রহস্যের জট ছড়ানো শুরু হলে জাস্ট তব্দা খেয়ে গেছি। টুইস্টগুলো মারাত্মক!
রাজনীতি, মাদক, যড়যন্ত্র, সম্পর্কের টানাপোড়েন, খুন, লালসা বিষয়গুলোর উপর বেজড করে ঘটনা ঘটতে থাকে একের পর এক। ময়ালের কারণে মারা যায় সুজন তারপর থেকে কাহিনীর সূত্রপাত। ❝ময়াল❞- এর মানে কি জানা আছে? তবে বইয়ে ময়াল বলতে অন্য কিছুকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। প্রথমে চরিত্রগুলোকে আবছাভাবে দেখানো হয়েছে তারপর ধোঁয়াশা কেটে গেলেই খুন। কায়সার, আদনান, আরহাম, মাহফুজ, অনন্যা, রাজিবুলের টিমওয়ার্ক দারুণ ছিল। প্রথম ২৬০ পেজ পড়ার পর খুনি আর খুনের কারণ তো পরিষ্কার তাহলে বাকি ৯০ পেজে আছে কী? আসলে বইয়ে দুটা প্রতিশোধের গল্প আছে। প্রথমটা খুন-খুনির উপর থেকে পর্দা তুললেও শেষে ❝কিন্তু❞ রেখে দেয়। যার জবাব আছে পরেরটায়। তবে আমার কাছে প্রথমটাই বেশি ভালো লেগেছে। কিন্তু বইয়ের সেরা অংশ এর সমাপ্তি, এরথেকে তৃপ্তিদায়ক সমাপ্তি আর হতে পারে না। ❝অন্যায়ের প্রতিশোধ নেওয়া কি অন্যায়?❞- শেষ পর্যন্ত এই প্রশ্নটায় পাঠকের মনে ঘুরবে। ইউনিক প্লট সাথে ইউনিক অস্ত্র দিয়ে শিকার বধ। সেইসাথে ক্যাপ্টেন কায়সারের অভিযান যে শেষ হয়নি টুক করে লেখক কিন্তু এটাও বলে গেছেন।
তিনটি বিষয়ে একটু খটকা আছে। ১১০, ১১১ পেজে সজলের হাঁটা আর দৌঁড়ানোর উল্লেখ আছে কিন্তু এটা তো সম্ভব না যেহেতু সে পঙ্গু। ২৮০ পেজে বলা হয়েছে কায়সারদের, কয়েকদিন আগেই চরে ঘুরতে এসেছিল গালিব আহসানের স্ত্রীর ছোটবোন। কিন্তু এটা তো কয়েকবছর আগের ঘটনা! ৩৩৬, ৩৩৭ পেজে একবার বলা হয়েছে জসীমের লাশ পানিতে তো আবার নৌকায়! এটা ঠিক বুঝলাম না।
● লেখনশৈলী ও বর্ণনা —
প্রচুর খোঁজখবর নিয়ে যে লেখা হয়েছে ❝হিমঘুম❞ সহজেই বিষয়টা চোখে পড়ে। সহজ-সাবলীল উপস্থাপনা। বইয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কাহিনী চলেছে একই গতিতে। পুলিশি প্রসিডিওরগুলোর বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে তবে ফরেনসিক টার্মগুলোর তেমন নেই। সমাপ্তি অংশ যেভাবে টানা হয়েছে, এককথায় অদ্ভুত সুন্দর। পারিপার্শ্বিক আলোচনা খুঁটিনাটি করা হয়েছে। অনেকের কাছে এটা বোরিং লাগতে পারে কারণ কাহিনী লম্বা হয়েছে এরজন্য। এত হাই সিকিউরিটির ফাঁক গলে সাপরা কীভাবে শিকারের কাছে পৌঁছাচ্ছে এইটা আরও একটু খোলসা করলে ভালো হতো।
● চরিত্রায়ন —
বইয়ে বহু চরিত্রের উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মূল চরিত্র কিন্তু সাপেরা। বিভিন্ন প্রজাতির, বিভিন্ন দেশের সাপের বর্ণনা রয়েছে। সাপের প্রকৃতি নিয়ে মোটামুটি বিস্তারিত আলোচনাই করা হয়েছে বইয়ে। সেইসাথে আছে সাপ নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কার আর লৌকিক বিশ্বাস।
হোমিসাইড ক্যাপ্টেন কায়সার, কেসের শুরু থেকেই যুক্ত। পরবর্তীতে যোগ দেয় আরহাম। এই চরিত্র আমার কাছে বেশ ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছে। তবে সজলের কথাও না বললে নয়। বইয়ের এমন এক চরিত্র যে বারবার দ্বিধায় ফেলে দিচ্ছিল। কলেবরে যেহেতু ছোট নয় ❝হিমঘুম❞, চরিত্রের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়।
● প্রোডাকশন —
সচারাচর বাতিঘরের প্রোডাকশন যেমন তেমনটাই এই বইয়েও। বাঁধাই, পেজ, হার্ডকভার, বইয়ের জ্যাকেটের মান ভালোই।
● বানান ও সম্পাদনা —
পরপর বাতিঘরের কয়েকটা বই পড়ে মনে হলো কিছু শব্দের সেম সমস্যা। নানা, নাকি, তত্ত্ব, উচ্ছ্বাস, নেই/নেয়, নাহলে, র/ড়, ঘড়/ঘর, আলোচ্ছ্বটা, চিৎকার এমন আরও কিছু শব্দ হয় ভেঙে গেছে নয়তো ভুল হয়েছে। কিছু জায়গায় মাহমুদ আর আরহামের বানানে ভুল আছে। বিরামচিহ্নেও টুকিটাকি কিছু ভুল আছে।
● প্রচ্ছদ ও নামলিপি —
চোখে পড়ার মতো একটা প্রচ্ছদ। সিম্পলের মধ্যে বেশ সুন্দর। কাহিনীর মূল হাতিয়ারই বলতে গেলে প্রচ্ছদে, দেখে কেমন জানি গা শিউরে ওঠে। নামলিপিও সুন্দর। অভিযান পাবলিশার্সের প্রচ্ছদটাও দারুণ। সাপগুলো দেখতে কিউট লাগে। কালার বেশ ভাইব্রান্ট।
কিছু সমাপ্তি অসমাপ্ত তৃপ্তি দেয়। শুধু এটাই বলবো ভালো লেগেছে।
পড়ে শেষ করলাম সুবৃহৎ রিভেঞ্জ থ্রিলার বাপ্পী খানের হিমঘুম। দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন হিসাবে অবতীর্ণ হয়েছেন গল্পের চরিত্ররা।
কাহিনী শুরু হয় এক ব্যান্ডের গায়ক এবং তৎকালীন মন্ত্রীর এক ছেলের ড্রাগ ওভারডোজ হয়ে মৃত্যু দিয়ে। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে গিয়ে কৌতূহলী হয়ে ওঠে মিডিয়া এবং প্রশাসন।
এরপর হঠাৎই মৃত্যু হতে শুরু হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিজনেস পার্টনারদের। মৃত্যুর কারণ খুঁজতে গিয়ে হোমিসাইড ডিপার্টমেন্ট জানতে পারে তাদের মৃত্যু হচ্ছে সাপের কামড়ে। কিন্তু ঢাকা শহরে কিভাবেই বা সাপে কামড়াবে, নাকি কেউ সাপ রেখে তাদের মৃত্য ঘটানোর জন্য প্রত্যক্ষভাবে দায়ী সেটা খুঁজতেই শুরু হয়ে যায় তৎপরতা। ধীরে ধীরে বেশ কিছু নতুন চরিত্রের সমাগম হয় যেগুলো পাঠক পড়তে পড়তে তাদের সাথে পরিচিত হবেন।
ভালোলাগা: লেখক একজন ভালো গল্পকার নিঃসন্দেহে এবং রিভেঞ্জ থ্রিলার হিসাবে বেশ ইউনিক প্লট। সাসপেন্স বজায় রাখার যথাযত চেষ্টা ���রেছেন লেখক যেটা প্রশংসাযোগ্য। সাপ সম্পর্কে বেশ কিছু মিথ তুলে ধরেছেন যেগুলো সাধারণত গ্রামবাংলার দিকে চালু থাকে। এবং অবশ্যই এমন সুন্দর প্রাণীদের নিয়ে যে সোশ্যাল মেসেজ দিয়েছেন সেটা রীতিমতো প্রশংসাযোগ্য।
ব্যক্তিগত মতামত অনুসারে দুর্বলতা: ক্যারেক্টার বিল্ড করার ক্ষেত্রে লেখক আরেকটু সচেতন হতে পারতেন। ক্রাইম সিনে ফরেনসিক ডিপার্টমেন্ট একটা মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে সেখানে গল্পের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের চরিত্রে আরো কিছুটা ফোকাস করা উচিত ছিল। প্রথম দিকের গল্পের বর্ণনা ছিল বেশ মেদবহুল যেটা মেদবর্জিত করা যেত। সাপ কামড়ানোর ক্ষেত্রে সবসময় সাপের বিষের একটা মাত্রা থাকে যেটা থেকে সুনিশ্চিত হয় যে সাপে কামড়ানো ব্যক্তি বাঁচবেন কি না। এই বিষের মাত্রাকে বলা হয় লেথাল ডোজ। সাপ সাধারণত ড্রাই বাইট দেয় বিষ বাঁচানোর ক্ষেত্রে ঠিকই তবে একবার কামড়ে বিষ ঢালার পর দ্বিতীয় কামড়ে বিষ থাকে না সাধারণত। তাই পরের কামড় প্রায় ক্ষেত্রেই হয় ড্রাই বাইট। সাপ কখনো শীতঘুম বা হাইবারনেশনে যায়না, ব্রুমেশনে যায় যেটা শীতঘুমের কাছাকাছি তবে শীতঘুম নয়। ঘুম এবং জেগে থাকার একটা মাঝামাঝি অবস্থা এবং ডিহাইড্রেশন এড়াতে সাপ মাঝে মাঝে সূর্যের আলো নেওয়ার জন্য গর্ত থেকে বেরিয়ে আসে। কারণ সূর্যের আলোই ইক্টোথার্মিক প্রাণীদের বাহ্যিক তাপের একমাত্র উৎস। ইক্টোথার্মিক প্রাণীরা থার্মোরেগুলেশন করতে অক্ষম। অর্থাৎ শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য তাদের বাহ্যিক উৎস প্রয়োজন। তাই সাপের কৃত্রিম হাইবারনেশন ব্যাপারটা আমার অযৌক্তিক লেগেছে গল্পে। ঘরে কিভাবে সাপ রাখা হলো সেটার ব্যাপারে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি একমাত্র কায়সারের কিছু অনুমান করা ছাড়া। 20 ফুট একটা ময়াল সাপ বইতে কম করে 25 ফুট লেন্থের পাত্রের প্রয়োজন, জানিনা কিভাবে উনি ম্যানেজ করেছিলেন বইতে। প্লট প্রেডিক্টেবল হয়েছে কারণ লেখক এমন কিছু লুপহোলস রেখেছেন যেটা নিয়ে সহজে সন্দেহর তালিকায় পড়ে গেছেন দু'একটা চরিত্র।
"রাক্ষসের অন্যায়ের প্রতিবাদে যুগে যুগে বার বার কেউ না কেউ প্রতিবাদী হয়, দংশন করে।"
সাপের সাথে বসবাস করলাম কয়েকটা দিন। না, সরাসরি বসবাস না। লেখক বাপ্পী খানের লেখা "হিমঘুম" বইয়ের সাপগুলোর সাথে কল্পনায় বসবাস বলা যায়। সাপের নাম শুনলেই কেমন একটা অদ্ভুত গা শিরশির অনুভূতি জেগে উঠে। সেখানে সাপ নিয়ে লেখা বই পড়তে হবে ভেবে ভয়ে বইটা বছরখানেক ধরে ফেলে রেখেছিলাম। এবার "অপু-দশ-বিশ" গুনে এটাই বেছে নেই পড়ার জন্য।
পাঠ-প্রতিক্রিয়া: সত্যি বলতে আমি খুব হতাশ। নিজের উপর। প্রচলিত মারমার-কাটকাট থ্রিলারের বাইরে সাপ নিয়ে লেখা এতো দূর্দান্ত একটা রিভেঞ্জ থ্রিলার বছরের পর বছর ফেলে রেখেছিলাম আমি! আফসোস!
গল্পের প্রথমেই পরিচয় ঘটে "ময়াল" নামক একটা নতুন মাদকের সাথে। সাপের বিষ থেকে তৈরী এই মাদকের মাধ্যমে সাবেক মন্ত্রীর ছেলের মৃত্যু ঘটে। এখান থেকেই ঘটনার শুরু। কাহিনীর বিস্তার রাজধানী ঢাকা থেকে সুদূর সুন্দরবন পর্যন্ত গড়িয়েছে। যত এগিয়েছে তত নতুন নতুন চরিত্র এসেছে গল্পে। সাথে এসেছে রঙ-বেরঙের সাপ! নানা রকম সাপ সম্পর্কে জানলাম। সাপ নিয়ে কিছু প্রচলিত কুসংস্কার নিয়েও সঠিক তথ্য তুলে ধরেছেন লেখক।
হোমিসাইড তদন্ত কর্মকর্তা চরিত্র "কায়সার" কে বুদ্ধিমান এবং বিচক্ষণ ভাবে উপস্থাপন করাটা ছিলো পারফেক্ট। অতিমানবীয় ক্ষমতা না দেখানোয় চরিত্রটা স্বাভাবিক ভাবেই ভালো লেগেছে। সাথে স্নেক রেস্কিউ টিমের "মাহফুজ ও অনন্যা" চরিত্রের মাধ্যমে তাদের টিমের কার্যাবলী সুন্দর ভাবে দেখানো হয়েছে। স্নেক রেস্কিউ টিম কত রিস্কি একটা কাজ দক্ষতার সাথে করে আসছে এতো বছর ধরে, সেটার একটা ঝলক এই বইয়ের মাধ্যমেই জানতে পারবে পাঠক।
কোনো থ্রিলার বইয়ে মূল বিষয়টাই থাকে "থ্রিল অনুভূব করা"। হিমঘুম খুবই রোমাঞ্চকর লেগেছে আমার কাছে। প্রতিটা অধ্যায় ছিলো টুইস্টে ভরপুর। লেখনশৈলী এক কথায় অসাধারণ। প্রতিটা বাক্য যেন মেপে মেপে লেখা। বাহুল্য দোষ নাই, অতিরিক্ত কোনো বর্ণনা নাই, প্রাঞ্জল ভাষা। কোন ঘটনার পর কোনটা আসবে, কি প্রতিক্রিয়া হবে- সেটাও ছিলো পারফেক্ট ভাবে সাজানো।
পুরো বইটা একটা থিম ফলো করে লেখা হয়েছে। উদাহরণ দিয়ে বোঝাই। অনেকেই দেখবেন ঘর বা অফিস সাজায় কোনো রঙের থিমে। দেখতে ভালো লাগে, গোছানো মনে হয়। এক্ষেত্রেও পুরো গল্পটা সাজানো হয়েছে "সাপ" কে থিম করে। গল্পের পাতায় পাতায়, প্রতিটা টুইস্টে ছিলো বিভিন্ন রকমের সাপ। থিম ফলো করে লেখাটা আমি বিদেশী নামকরা লেখকদের বইয়ে নিয়মিত পেলেও মৌলিকে সচরাচর দেখি না। হিমঘুম সার্থক একটা থিম বেইজ থ্রিলার।
কিছু বিষয়ের বিস্তারিত বিশ্লেষণের অভাববোধ করেছি। সাপগুলো নিয়ে এন্টাগনিস্টদের কার্যকলাপগুলোর পেছনের দৃশ্য তুলে ধরলে আরো ভালো হতো।
পরিশেষে: কতই তো রিভেঞ্জ থ্রিলার পড়ি। সেখানে মূখ্য থাকে খুনের কারন, খুনী খোঁজা- এইসব। এবারে পড়া রিভেঞ্জ থ্রিলার "হিমঘুম" কিছুটা ব্যতিক্রম। বইটা মনে দাগ কেটেছে একটা প্রাণীর কারনে, সাপ। অদ্ভুত না? বেশীরভাগ পাঠকই হয়তো বইটা পড়েছেন, বাকিরা যারা পড়েন নি, তাদের জন্য রেকমেন্ডেশন থাকবে। চেনা প্রকৃতির ভেতরেই অচেনা এক প্রকৃতিতে থ্রিলার উপভোগ করার।
বই: হিমঘুম লেখক: বাপ্পী খান প্রকাশনি: বাতিঘর প্রচ্ছদ: বাপ্পী খান
থ্রিলার পাঠকদের আসর গ্রুপে পলিটিকাল থ্রিলারের সাজেশন চাওয়ায় কেউ একজন এই বইটা সাজেস্ট করে। তবে কাঠামোগত ভাবে বইটা রিভেঞ্জ থ্রিলার৷ তাতে পলিটিকাল থ্রিলারের রং লাগানো হয়েছে।
বাপ্পী ভাইয়ের লেখনি বেশ স্মুথ। আরামে পড়া যায়। ক্ষ্যাপা বইটা পড়ে এটা লক্ষ্য করেছি। এই বইটাও তার ব্যতিক্রম নয়।
সমাজের উচু স্তরের কিছু মানুষ খুন হচ্চে রহস্যময় ভাবে। খুনের ধরন বলে দিলে সেটা স্পয়লার হয়ে যায় তাই বলছি না।
তো স্বাভাবিকভাবেই খুনের তদন্তে ডাক পড়ে হোমিসাইডের। আসলে কেসটা গছিয়ে দেয়া হয় তাদের কাছে। কারণ পুলিশ কোনো কূলকিনারা পায়নি কেসের।
হোমিসাইডের ক্যাপ্টেন কায়সারের উপরে পড়ে দায়িত্ব। কেসের অগ্রগতিতে কায়সার বুঝতে পারে শুধু ফরেনসিক টিম দিয়ে হবে না। এখানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের এক্সপার্ট দরকার। এবং কায়সার এক্সপার্টের সাহায্য নেয়। সংশ্লিষ্ট বিষয়ের নাম বলে দিলে স্পয়লার হয়ে যাবে,তাই বলছি না।
তো এখানে কায়সার ধুরন্ধর প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করে।
এই হলো বইয়ের কাহিনি সংক্ষেপে। বাকিটা রকমারিতে সার্চ দিলে পাওয়া যাবে বলে লিখছি না।
বইটার ভালো দিক হলো স্মুথ লেখনী এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের খুটিনাটি জ্ঞান।
রিভেঞ্জ থ্রিলার হিসেবে বইটা পাস মার্ক পেয়ে গেছে।
বইটায় রাজনৈতিক পার্ট যতটুকু ছিল তাতে আমি সন্তুষ্ট না। লেখক ইচ্ছা করেই রাজনৈতিক পার্ট সংক্ষিপ্ত করে বইটাকে রিভেঞ্জ থ্রিলার বানানোর চিন্তা করে থাকলে অন্য কথা।
বইটার বাজে দিক হলো ক্যারেক্টর বিল্ডাপ পছন্দ হয়নি। সমাজের উচুতলার কিছু মানুষ বইটার চরিত্র। যারা খুন হন।
বইটায় মাঝে মাঝেই তাদেরকে বেশ ক্ষমতাশালী এবং দেশের অন্যতম ধনী ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দে���়া হয়েছে কিন্তু তাদের জীবনযাপন এবং তাদের আশেপাশের জগৎ সেভাবে বর্ণনা করা হয়নি। তারা যেভাবে মারা যায় সেটাও বিশ্বাসযোগ্য হয়নি।
এছাড়াও এন্টাগনিস্ট সেভাবে ডেভেলপড হয়নি। খুন করার প্রস্তুতিসুলভ কাজকর্ম আড়ালেই থেকে গেছে।
চরিত্রগত সমস্যা বাদ দিলে দুর্দান্ত একটা প্লটের বই। পলিটিকাল থ্রিলার ভেবে পড়া শুরু করে দুর্দান্ত একটা রিভেঞ্জ থ্রিলার পড়লাম।
সময়ের আলোচিত একটা বিষয়ের নাম 'রাসেলস ভাইপার'। সোশ্যাল মিডিয়ায় কল্যাণে এখন এই নামটা যেমন সবার মুখেমুখে তেমন এটার ব্যাপারে প্রাথমিক ধারণাও সবার হয়েছে। অন্তত যতটুকু না হলেই নয় ততটুকু ধারণা সচেতন মানুষ যিনি তিনি নিয়েছেন বলেই আমার ধারণা।
আমাদের দেশে এমনভাবে কোনোকিছু নিয়ে তুমুল আলোচনা হলে তা ধারাবাহিকতা রক্ষা করে বেশ কয়েকদিনই চলতে থাকে। যে মানুষ একদম কিছুই জানে না, দেখা যায় সেও ঐ বিষয়টা নিয়ে তুমুল সরব থাকে। আবার দেখা যায়– বিষয়টা খতিয়ে দেখলে বেরিয়ে আসে কোনো ষড়যন্ত্র বা অপকর্মের জাল। রাসেলস ভাইপার নিয়েও কি এমনটা হবে? জানি না।
আজকের দিনটা রাসেলস ভাইপারের হলেও কদিন আগেই দেদারসে চলেছে মিল্টন সমাদ্দারের গুঞ্জন। রাজ্যের ভালো কাজের আড়ালে তিনি কতটা পৈশাচিক কর্মকাণ্ড করেন, বা কতখানি ভয়ংকর এবং লোভী মানুষ তার নমুনাও স্বচ্ছ। এগুলো কি শুধু মিল্টন সমাদ্দার পর্যন্তই সীমাবদ্ধ নাকি এর বিস্তৃতি আরো প্রশস্ত সেই প্রশ্নে আপাতত যেতে চাচ্ছি না। এবং এও চিহ্নিত করতে চাই না যে সমাদ্দার সাব কিসের তাড়নায় এমন কর্মকাণ্ড করেছেন। তবে বলতে চাই, কেউ যদি সমাদ্দার এবং ভাইপারকে এক কাতারে ভেবে গল্প ফাঁদে, উপন্যাসের প্লট হিসেবে চিন্তা করে তখন কেমন হবে গোটা বিষয়টা? কোনো রমরমা থ্রিলার হয়ে যাবে নিশ্চয়!
হ্যাঁ, এনন একটা রমরমা-জম্পেশ থ্রিলার বইয়ের কথাই বলতে এসেছি আজ। যে বইটার পরতে পরতে শুধু ভাইপার একাই না বরং তার অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীও আছে এবং সমাদ্দার সাবের মতো 'ভালোর আড়ালে কালো' ঘটানো বা ফলানোর মানুষও রয়েছে সমানতালে। বলছিলাম– বাপ্পী খানের লেখা হিমঘুম বইটার কথা। বইটাকে এক বাক্যে যদি উপস্থাপন করতে চাই 'সমাদ্দার ও ভাইপারের সংসার' বলতে পারি। এবং এই বলাটা খুব একটা অযৌক্তিকও হবে না অন্তত কাছাকাছি সময়ের দুইটা আলোচিত বিষয়ের কারণে।
রাসেলস ভাইপারসহ আরো বিভিন্ন সাপ সম্মন্ধে প্রাথমিক ধারণা তো পাওয়াই যাবে পাশাপাশি আমাদের দেশে রাজনীতির কেমন ভয়াবহ খেলা চলে, কেমন করে কেউ তার স্বার্থ উদ্ধার করে নেয় রাজনৈতিক এবং ক্ষমতার জোরে তার ধারণাও মিলবে। লোভের তাড়নায় কোন পদ্ধতিতে কেউ নেশার পসরা সাজিয়ে ধ্বংস করে দেশের যুবকশ্রেণী, সেইসাথে একজন মানুষ কেমন করে সংগ্রামী হয়ে ওঠে, কেমন করে সে মুখোমুখি হয় শত্রুদলের, কেমনভাবেই বা শত্রুপক্ষকে নাকানিচুবানি খাওয়ায় তাও সব উঠে এসেছে হিমঘুমে। হাড়হাভাতে শব্দজানতা হলে এই বইটা নিয়ে দারুণ রিভিউ লিখে ফেলার লোভটাকে আমি প্রশ্রয় দিতাম।
তবে যারা একদম রমরমা থ্রিলার পড়তে পছন্দ করেন, তারা হিমঘুম পড়তে পারেন। একবার শুরু করলে গল্পের গতিই আপনাকে শেষ পর্যন্ত সম্মোহিত করে টেনেটুনে রাখবে। শেষ না করে ছাড়তে পারবেন না। পড়বার সময় মনে হবে– কখন শেষ হবে আর কখনই বা টুইস্টটা জানবো? কিন্তু শেষ হয়ে গেলে বইটা আলগোছে আগলে ধরে বলবেন– ইশ আরেকটু বড় হতো যদি! লেখক সত্যি দারুণ মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন তার এই লেখায়। যেমন গল্পের গতিময়তা তেমনই তার লেখার মাধুরি। সবমিলিয়ে পড়বার মতো, আলোচনা করবার মতোই একটা বই। পড়লে জিতবেন। এখনো বসে আছেন? যান, পড়তে বসেন হিমঘুম!
উল্লেখ্য, যারা হার্ডকপি সংগ্রহ করতে পারবেন না আমার মতো তারা Boighor থেকে পিডিএফ কিনে নিতে পারেন। উনাদের পেইজে ঘাটলে প্রোমোকোড পাবেন, বাড়তি ছাড়েও কিনে নিতে পারেন। ধন্যবাদ।
~ চব্বিশের চব্বিশে জুন, সোমবার, দুপুর এগারোটা ত্রিশ ~ রুসাইফা, মক্কা, সৌদি আরব থেকে মাসুম বিল্লাহ হামীম
একের পর এক বিশিষ্ট ব্যক্তির খুন, তাও সাপের কামড়ে!! এসব সাপ বনেই পাওয়া দুষ্কর, সেইগুলো এই মহানগরীতে এলো কী করে?
স্নেইক আইল্যান্ড ছাড়া ইদানীং সাপের বিষয়ে কিছু দেখেছি কিনা মনে পড়ছে না (ইউটিউবে একটা সার্চ দিতে পারেন, হেব্বি ইন্টারেস্টিং ব্যাপার)। আগের কালে মায়েদের প্রিয় সিনেমা ছিল মানুষরুপী কালনাগিনীর গপ্পো; সেইসব মনে পড়লে এখনো হাসি। এমনকি ডিপ ইকোলজি এন্ড স্নেক রেস্কিউ ফাউন্ডেশনের কথা জেনেছি এক সর্পভীতুর কাছে থেকে!
এমন একটা সময়ে থ্রিলারটা আমার কাছে বেশ ভিন্নরকমের লেগেছে। শুরুর দিকে যাই ঘটছিল, তা বিশেষ চমক দিতে পেরেছে তা না, তবে শেষপর্যন্ত রিভেঞ্জ থ্রিলার হিসেবে ভালোই একটা সমাপ্তি ছিল।
৩৫০ পেজের এইবইটা বেশ দ্রুতগতির ছিল এবং আমার আগ্রহ ধরে রাখতে পেরেছে যদিও বেশকিছু ব্যাপার আগেই বুঝে ফেলাটা কঠিন কিছু ছিল না, বিশেষ করে কিছু চরিত্রের টুইস্ট আগেই ধরে ফেলেছি। তাও পড়ে গেছি শেষপর্যন্ত প্রতিশোধ কীভাবে এগিয়ে যায় দেখার জন্যে।
আরো যা ভালো ছিল, কিউয়ার কোডের আইডিয়াটা। আমি সাধারণত বর্ণনার মাঝে গুগলে দেখে নেই, তবে এবার সব একজায়গাতেই পাওয়া গেছে! মাঝে বিভিন্ন সাপের বর্ণনার সাথে যে জ্ঞান হজম করতে হয়েছে তা পরিমিত ছিল, অতিরিক্ত লাগেনি।
কিন্তু যেই জিনিসটা চোখে লেগেছে, মনে হয় না আর বলে লাভ হবে তাও বলে ফেলি, সেইটা হচ্ছে; বানাল বুল! দেখছেন? বিরক্ত লাগে না? চোখে ধাক্কামত লাগে। বাতিঘর এবিষয়ে একটু সর্তক হলে বইটার রেটিং আরেকটু ভালো দিতে পারতাম
"শীত আসছে। সাপেরা আড়ালে লুকাবে। হিমঘুমের সময় আগত... এখন সাপেরা শিকারে ব্যস্ত।"
প্রতিশোধ নেওয়ার এক শীতল স্পৃহাই ফুটে উঠেছে বইটিতে। ছত্রাকের মতো গড়ে উঠা ক্ষমতালোভী প্রভাবশালীরা নেমে এসেছে খাদ্য শৃঙ্খলের নিচের ধাপে। পরিণত হয়েছে সাপের শিকারে।
সাপ নিয়ে আগ্রহের কমতি ছিল না কখনো। দেশের সাপগুলো নিয়ে একটু আধটু জানা থাকায় আগ্রহের পারদ বেশিই ছিল। এর পর কোন সাপটা আসবে ধরনের একটা চিন্তা পুরো বই জুড়েই উপস্থিত ছিল।
টুইস্টগুলোকেও সাদামাটা বলা চলে না। চমক লেগে গেছে বারবার। বিশেষ করে শেষ টুইস্টটার মারাত্মক ছিল।
বাপ্পী খানের লেখা এই প্রথম পড়া। খুবই সাবলীল সাজানো গুছানো ছিমছাম। একটা বিশেষ ধন্যবাদ তার প্রাপ্য বইয়ের ফাঁকে ফাঁকে সাপ সম্পর্কিত তথ্যগুলো দ্বারা পাঠকদের অবহিত করার জন্য।
চার তারকা দিচ্ছি বইয়ের প্রোডাকশনের জন্য। পাতায় পাতায় বানান ভুল, শব্দের মাঝে গ্যাপ এসে অর্থটাই বদলে গেছে, চরিত্রগুলোর নাম হয়ে গেছে ওলট পালট।
অপেক্ষায় রইলাম সিরিজের পরের বইয়ের জন্য। আশা করি এবার বইমেলাতেই হাতে পাবো।