একাত্তরে পরিবার হারানো এক শিশু, একের পর এক উত্থান পতনে তার বেড়ে উঠা। কখনও আলবার্ট পিন্টো, কখনও পিন্টু কিংবা গৌরহরি, জীবনের সব কিছু দেখতে দেখতে, স্রোতের সাথে এবং বিপরীতে সাঁতার কাটতে কাটতে জীবন তাকে কোথাও স্থির হতে দিতে চায় না। কিন্তু সে তো শেকড়ের সন্ধান চায়, চায় স্থিরতা, বাকি সব সাধারণ মানুষের মতো সাধারণ জীবন। যেখানে তাকে অভিনয় করতে হবে না। সেই জীবন কী শুধুই বাতাসে ভেসে বেড়ানো এক কল্পনা।
পূরবী, অনেক বড় স্বপ্ন মেয়েটার। পিন্টু কিংবা পিন্টোর সমান্তরালে তার জীবনে কালো ঝড়ের মতো আসে সেলিম খান। তার স্বপ্ন কী পূরণ হয়েছিল? কিংবা...
আবু জামশেদ, চ্যালেঞ্জ নিয়েছে কেস সমাধান করবেই। ব্রক্ষপুত্র নদীর তীরে পোড়া যে মৃতদেহ, সেটা আসলে কার?
‘বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ’ শরীফুল হাসানের ভিন্ন ধাঁচের একটি উপন্যাস।
Shariful Hasan hails from Mymensingh, Bangladesh. He has spent his childhood by the banks of Brahmaputra river. He completed his Masters in Sociology from University of Dhaka and is currently working in a renowned private organization.
Shariful's first novel was published on 2012 titled Sambhala. With two other books, this captivating fantasy trilogy has received widespread acclimation both within and beyond the borders of Bangladesh. The Sambhala Trilogy was translated in English and published from India.
Although his inception consisted of fantasy and thriller, he has later worked on a variety of other genres. These works have been received fondly by the Bangladeshi reader community. Lot of his works have also been published from different publications in West Bengal.
Award- Kali O Kalam Puroshkar 2016 for 'অদ্ভুতুড়ে বইঘর'
গল্পটা আলবার্ট পিন্টো বা গৌরহরি সাহা বা আবু সালেহ চৌধুরী পিন্টুর। সাথে গল্পটা বাংলাদেশের সত্তর, আশি বা নব্বই দশকের উত্তাল সময়ের; এই অস্থির জনপদ ও এর অসহায় বাসিন্দাদের। মোটাদাগে থ্রিলার ঘরানার হলেও "বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ " হয়ে উঠেছে তার চেয়ে বেশিকিছু। প্রবহমান ইতিহাসকে কোনো বিখ্যাত ব্যক্তি বা ঘটনা নয় ; বরং নিতান্তই সাধারণ মানুষদের যাপিত জীবন ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন শরীফুল হাসান। ১৯৪১ সালে এদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ ছিলো মোট জনসংখ্যার ২৮.৩% আর ২০১১ তে এসে তা দাঁড়িয়েছে ৮.৫% এ!* এর পেছনের রাজনীতি ও ভয়ের সংস্কৃতির কিছু অংশ উপন্যাসে বিশ্বস্ততার সাথে চিত্রিত হয়েছে। দুই ভিন্ন সময়রেখার গল্প বেশ দক্ষতার সাথে শেষে একাকার করে দিয়েছেন লেখক। পুরো কাহিনির আবহ ও বিয়োগান্ত পরিণতি মন বিষণ্ণ করে দ্যায়। পিন্টো হয়তো খুব সাধারণ একটা জীবন চেয়েছিলো। সে এক দেশ থেকে আরেক দেশে, স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায়, এক ঘাট থেকে অন্য ঘাটে তরী ভিড়িয়েছে সুখ আর ভালোবাসার খোঁজে। কিন্তু...
জীবনানন্দ হয়তো পিন্টোদের জন্যই লিখে গিয়েছেন, "যেখানেই যাও চলে, হয় নাকো জীবনের কোনো রূপান্তর ; এক ক্ষুধা এক স্বপ্ন এক ব্যথা বিচ্ছেদের কাহিনী ধূসর ম্লান চুলে দেখা দেবে যেখানেই বাঁধো গিয়ে আকাঙ্ক্ষার ঘর! বলিল অশ্বত্থ সেই নড়ে চড়ে অন্ধকারে মাথার উপর।"
ছায়াসময় পড়ার পর মনে হয়েছিল এরপর শরীফুল হাসান ভাইয়ার নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে বেশ কসরত করতে হবে। কিন্তু ভাবনাটা নিতান্তই অমূলক। বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ আবারো প্রমাণ করলো লেখক হিসেবে শরীফুল হাসান ভাই কতটা শক্তিমান। নতুবা এরকম বিশাল ব্যপ্তির একটা এপিককে এভাবে সামলানো? সবার কম্ম নয়। আপনার কাছে যে জঁরের বইই ভালো লাগুক না কেন, বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ আপনার মনে দাগ কাটতে বাঁধত। পিন্টু/গৌরহরি, পূরবী, সুস্মিতা চরিত্রগুলো সাথে রয়ে যাবে বহুদিন।
হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতোই একটি বই হচ্ছে ❛বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ❜। বাংলাদেশের স্বাধীনতার কিছু সময় পর থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত বাংলাদেশের নানা ঘটনার পটভূমিতে লেখা এক অসাধারণ পিরিওডিক্যাল উপন্যাস বলা যায় এটিকে। তাই সেই সময় নানা সামাজিক এবং রাজনৈতিক অবস্থার এক অনন্য প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে বইটিতে।
❛বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ❜ বইয়ের নানা নামধারী মূল চরিত্রের কাহিনির সাথে একেবারে মিশে গিয়েছিলাম বইটা পড়ার সময়। বইয়ের লেখনশৈলী কিংবা সংলাপ গল্পের ধরণ অনুসারে বেশ ভালো লেগেছে। বইয়ের চমৎকার প্রচ্ছদটিও খাপ খেয়ে গিয়েছে কাহিনির সাথে।
এক কথায়, ❛ বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ❜ উপন্যাসটি আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। তাই যারা এ ধরনের পিরিওডিক্যাল ফিকশন পড়তে পছন্দ করেন তারা বইটা পড়ে দেখতে পারেন।
❝এই উপন্যাসটা লেখার সময় বারবার মনে হয়েছে, জীবনকে আমি কতটা কাছ থেকে দেখেছি? কতটা উপলব্ধি করেছি? তার কতটুকু আমি আমার লেখায় আনতে পারবো? সকালে ঘুম থেকে উঠে রাতে যাকে নিয়ে কিছু লিখেছিলাম, তার কথা ভেবে আমার মধ্যে চাপা এক দুশ্চিন্তা ভর করে। উপন্যাসের চরিত্রগুলো তাদের সময় আর বাস্তবতার সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছিল আর আমি নিজে একটু একটু করে অসহায়বোধ করছিলাম। অনেক লেখার সময় আনন্দবোধ হয়, এই লেখার সময় আনন্দ, হতাশা, বিষণ্ণতা, রাগ-ক্ষোভ সব মিলেমিশে এক হয়ে গিয়েছিল।❞ -- শরিফুল হাসান
লেখকের ভূমিকা পড়লেই বোঝা যায় বই এর সাথে কতটা একাত্ম হয়ে গিয়েছিলেন। কি অসাধারণ লেখনী, অসাধারণ সব কিছুই। লেখক বার বার নিজেকে টপকে নিজের গন্ডির বাইরে চলে যান। ছায়া সময়, যেখানে রোদেরা ঘুমায় যখন যেটা পড়েছি তখন পড়ার সময় মনে হয়েছে এই ঘরনায় এর থেকে বেটার সম্ভব না!
বৃষ্টি আমার কাছে বড্ড প্রিয়। বিষাদ গুলোকে যেন বৃষ্টির ফোটায় অস্ত্বিত্বের মেলে। বৃষ্টির ঘ্রাণ যেন স্মৃতির সাথে আত্মার একাত্বতা প্রকাশ করে।
পূরবী'র মতো আমারও দম বন্ধ হয়ে আসছিল। চোখের কোণে জমা হচ্ছিল বিন্দু বিন্দু জলকনা।
গতবার ' যেখানে রোদেরা ঘুমাই ' বইটি পড়ার পর খুব আশা ছিল হয়তো এরকম লেখা ভবিষ্যতে আরো পাবো লেখকের থেকে। তাই বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর আর বিন্দুমাত্র দেরি করিনি। সোজা সংগ্রহ আর পড়া দুটো কর্মই সেরে ফেললাম। তবে প্রচন্ড মন খারাপ। সেটা এই বইয়ের প্রত্যেকটা পাঠকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে বলে মনে করি।
একাত্তরের এক ক্ষণে এতিম হয়ে যাওয়া পিন্টুর আশ্রয় হয় এক গির্জার পাদ্রির কাছে। কিন্তু অভাগার সাগর শুকিয়ে যাবে না তা কি হয়? পাদ্রির মৃত্যু হয়। ভাগ্য পিন্টুকে আশ্রিত করে এক হিন্দু পরিবারে। এতিমের আবার ধর্ম কী? যেখানে যেমন সেভাবে চলতে হয়। পিন্টুর নতুন নাম হলো গৌরহরী সাহা। তাদের স্বর্ণের গয়নার দোকানেই কাজ করা শুরু পিন্টুর। একসময় ময়মনসিংহ এসে পিন্টু ওরফে গৌরহরী সাহার ভাগ্যে জড়িয়ে যায় একটি তরূনীর নাম- পূরবী। ওদিকে স্কুল শিক্ষক সামাদ নদীর তীরে খুঁজে পেল একটি অগ্নিদগ্ধ লাশ। কার সে লাশ? পুলিশ কেন হতবাক? কী লিখা ছিল সেই লাশের পকেটে থাকা চিরকুটে? বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ- শরীফুল হাসান ভাইয়ের সাম্প্রতিকতম এবং বেশ দীর্ঘ কলেবরের সামাজিক আবহে লিখা উপন্যাস। লেখক গত বেশ কয়েক বছর ধরেই নিজের পছন্দমতো একটা ধারায় নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন। মেঘ বিষাদের গল্প-রাত্রি শেষের গান, জনারণ্যে একা কয়েকজন, ছায়াসময়, যেখানে রোদেরা ঘুমায় এবং এরপর এইটা- বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ। মেঘ বিষাদের গল্প থেকে চালিয়ে যাওয়া নিরীক্ষা অবশেষে একটি পূর্ণাঙ্গ এবং সফল ধারায় রূপ পেয়েছে বলেই আমার বিশ্বাস। চরিত্রগুলোর আবেগের গভীরতা, অহেতুক চাকচিক্যহীন, রূঢ় বাস্তবঘেষা কাহিনী এবং তার বিন্যাস, এবং সেইসাথে শরীফুল হাসান ভাইএর কাব্যিক লেখনশৈলী- সবমিলিয়ে দারুন।
১৯৭৫-১৯৯০, এই সময়কে উপজীব্য করে লেখা মূল গল্প এগিয়েছে দুটো টাইমলাইনের মাধ্যমে। বেশ ভালোমতোই লেখক সামলে নিয়েছেন এই দুই ভিন্ন সময়ের আবহ। পাঠকের কল্পনাপ্রবণ মনের সাথে বেশ ভালোই লুকোচুরি খেলেছে গল্পের গতিপথ। গল্পের কিছু জায়গায় মনে হয়েছে ৮০-৯০ দশকের বাংলাদেশের মফস্বল এলাকাগুলোর বিভিন্ন পরিস্থিতির ওপর 'হোমেজ' দেয়া বা বিশেষ আলোকপাত করা হয়েছে, এ ব্যাপারটা খানিক নস্টালজিক আমেজ নিয়ে এসেছে গল্পে। বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ- লেখকের অন্যান্য বইগুলোর মতোই পাঠকপ্রিয়তা পাবে, এটা আশা রাখি। শরীফুল হাসান ভাইকে অভিনন্দন ও ভালোবাসা, তার এই স্বার্থক প্রচেষ্টার জন্য। ফ্যান্টাসি, হিস্টোরিকাল কাল্ট থ্রিলার, সামাজিক থ্রিলার- ভবিষ্যতে আর কী ধারা উঠে আসতে চলেছে তার লেখায়, সেটাই দেখার আগ্রহ এখন।
জীবন বড়ই অদ্ভুত। এই জীবনে মানুষের সকল চাওয়া পাওয়া মিটেনা, হয়ত বা মানুষ নিজের অজান্তে কাউকে চেয়ে বসে কিন্বা এমন জীবন পায় যা সে কখনো চায়নি। জীবনের চাওয়া পাওয়ার মাঝের গল্পগুলো খুব সহজ সরল সাধারণ। কিন্তু এই সাধারণের মাঝেই আবার কিছু মানুষ অসাধারণ। জীবন বিষয়ক লেনদেন সমীকরণ সমীক্ষা এসবে না গিয়ে চলুন নতুন বই নিয়ে আলোচনা করি।
বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ, সুলেখক শরীফুল হাসানের এর নতুন বই, এসেছে অন্যধারা প্রকাশনীর ব্যানারে। এই বইয়ের গল্প খুবই সহজ সরল সাধারণ কিন্তু লেখকের লেখার কৌশলে আমি মুগ্ধ। গল্পের নায়ক পিন্টো অথবা পিন্টু, যে একাত্তরের হারিয়েছেন মা বাবা আর একমাত্র ভাইকে, তারপর থেকে তার আশ্রয় এক গির্জার পাদ্রির কাছে। কিন্তু পাদ্রির মৃত্যুর পর সে আবার হারিয়ে বসে নিজের আপনজনকে। তারপর পিন্টু রওনা হয় ঢাকার উদ্দেশ্যে। ঘটনা ক্রমে পিন্টু হয়ে যায় গৌরহরী সাহা। ঢাকায় আসার জন্য পিন্টুকে সাহায্য করে বিশ্বনাথ সরকার নামের এক ছেলে, আর ব্যাস পিন্টু মায়া সেও কাটাতে পারেনা৷ তাকে নিয়ে আসেন নিজের বাসায়৷ তারপর পিন্টু ঠিকানা হয় এই সরকার বাড়িতেই৷ বিশ্বনাথ সরকার তার বড় ভাই বিষ্ণুনাথ সরকার আর তাদের মা রাঙ্গা মায়ের কাছেই পিন্টু বড় হয়। সরকার বাড়িতে থেকেই পিন্টুর বড় হওয়া আর বেড়ে উঠা, সেই সাথে সরকারদের জুয়েলারি দোকান দেখা শুনা করা৷
এগল্পের দ্বিতীয় টাইমলাইন পিন্টুর বড় হওয়ার পর, পিন্টু কেন জানি অনেক দূর ময়মনসিংহে চলে আসে৷ কিন্তু কেন, সরকার বাড়িতে তো সে ভালোই ছিলো। ময়মনসিংহ এ এসে বেশ ছিলো যতক্ষণ না পরিচয় হলো পূরবীর সাথে। পূরবী তখন মেট্রিক পরীক্ষা দিবে, সেই সময় পূরবীর পিন্টু তথা গৌরহরী সাহা কে পছন্দ করে ফেলে৷ কিন্তু পিন্টুর ভয়৷ ঘটনাচক্রে আরো অনেক কিছু ঘটে পিন্টুর জীবনে। সেই ঘটনায় জড়িয়ে থাকে পূরবী।
আর গল্পের শুরুটা সামাদ নামের এক স্কুল মাস্টার এর নদীর তীরে মাছ ধরার মধ্য দিয়ে। সামাদ দেখতে পায় নদীর ঢালে হেলান দিয়ে বসে আছে একটা পোড়া মানুষ। হ্যাঁ আগুনে পোড়া মানুষ। থানায় খবর হলে ওসি আমিন উদ্দিন আসেন এবং লাশটার পকেট থেকে একটা চিরকুট পায় তাতে লেখা " আবু সালেহ চৌধুরী পিন্টু "। তাহলে কে এই পোড়া মানুষ?
বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ গল্পটি একটি সামাজিক উপন্যাস। গল্পের টাইমলাইন একটি ১৯৭৫ অন্যটি ১৯৯০। দুই টাইমলাইনে লেখক গল্পটি এগিয়েছেন একই চরিত্র কে কেন্দ্র করে৷ আবু সালেহ চৌধুরী পিন্টু অথবা অ্যালবাট পিন্টো কিনবা গৌরহরী সাহা। জীবনের প্রয়োজনে এই পিন্টু বারবার বদল করতে হয়েছে তার নাম৷
সুলেখক শরীফুল হাসানের অন্যমত বেস্ট একটি বই বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ। বইটি আমার যথেষ্ট পরিমাণ ভালো লেগেছে৷ পিন্টু চরিত্রটি, পিন্টু চরিত্র এর উত্থান পতন, তার নিজ পরিচয়, তার ভিতরের দুঃখ কষ্ট ইত্যাদি বিষয়গুলো লেখক এতো সুনিপুণ হাতে তৈরি করেছেন যে পাঠক হিসাবে যে কেউই পিন্টুর মায়ায় জড়িয়ে যাবে৷ গল্পের অন্য চরিত্র গুলোও দারুণ সুস্মিতা, পূরবী, বিশ্বনাথ, বিষ্ণুনাথ, রাঙামা সহ সরকার বাড়ি কিনবা যগেশ্বর বাড়ির সকলেই বেশ দারুন। লেখকের গল্প বলার কৌশল অসাধারণ ছিলো শুরুতে একটা রহস্য এর মাঝে পাঠকে হুক করে দিয়ে ডাবল টাইমলাইনে সুন্দর ভাবে এগিয়ে এগিয়ে চলা সত্যি প্রশংসার দাবিদার। আর সবচে বড় কথা পুরো গল্প জুড়ে এতো সুন্দর ভাবে বর্ননা আর কাহিনির বিন্যাস সত্যি অসাধারণ।
আমি দীর্ঘ প্রায় ১ মাস বই পড়া থেকে দূরে ছিলাম৷ এই বই হাতে নিয়ে আমার রিডার্স ব্লক বলি আর ব্যস্ততার কারনে পড়তে না পড়াই বলি সব ফিকে হয়ে গেছে। নতুন করে আবার বই পড়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছে এই বইটি৷ বইটি এতোটা টেনেছে যে রেখে উঠতেই ইচ্ছে হচ্ছিলো না। কিন্ত বড় বই শেষ করতে সময় লাগবে এটাই স্বাভাবিক৷ সত্যি বলতে দারুণ ছিলো৷ কিন্তু বইটি এখনো রকমারি বেস্ট সেলার এর তালিকায় নেই৷ জানি না পাঠক ইদানীং কি পড়ে৷ সত্যি বলতে শরীফুল হাসান ভাই এর আমি যে কয়টা সামাজিক বই পড়েছি প্রতিটাই সুন্দর। বিষয় করে ছায়া সময়, যেখানে রোদেরা ঘুমায়, রাত্রি শেষের গান, মেঘ বিষাদের গল্প প্রতেকটিই সুন্দর ছিলো৷ তবে সবার উপরে আমার কাছে বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ। লেখকের জন্য অবশ্যই শুভ কামনা এমন বই আবারও পাঠকে উপহার দিবেন।
অন্যধারা প্রকাশনীর বই এর বাইন্ডিং অসাধারণ। খুবই হেব্বি শক্ত৷ এবং কভারও বেশ শক্ত, জ্যাকেটও বেশ শক্ত। এছাড়া কাগজের মান যথেষ্ট ভালো, অপসেট এর থেকে মোটা পেজ, তবে পেজ ক্রিমকালার হলে জোস হতো। এই বই এর সম্পাদনা প্রুফ রিডিং বেশ ভালো ভাবেই করেছে প্রকাশনী, তবুও খুত থেকেই যায়, শেষ কয়েকটা অধ্যায়তে বানান কিছু ভুল পেয়েছি। তানিয়া সুলতানা আপার করা প্রচ্ছদটিও দারুন মাননসহ, তার বেশ কিছু আকাঁ চিত্র কর্ম আমি দেখেছি ফেসবুকে দারুন আঁকেন তিনি, এছাড়াও তার কয়েকটি বই আমি পড়েছি, তার জন্যও শুভ কামনা৷ এছাড়া সব কিছু বেশ ভালো।
তো সর্বোপরী বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ নিয়ে আমার সময় দারুন কেটেছে, এই বই আমার ভিতরে একটি ঘোর সৃষ্টি করে দিয়েছে, সেই ছায়া সময় এর মতো এই গল্প এতো সহজে ভোলার না৷ পাঠক আশাকরি আপনাদেরও মন্দ লাগবে না৷।
ফিরে দেখা , বইয়ের নাম : বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ লেখক : শরীফুল হাসান। প্রচ্ছদ : তানিয়া সুলতানা। জনরা : সামাজিক উপন্যাস , প্রকাশনী : অন্যধারা। প্রকাশকাল : বইমেলা ২০২২ পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৪১৭ পেজ। মূদ্রিত মূল্য : ৬৪০ টাকা।।
আবারো মুগ্ধ হলাম ভীষণ মায়াবী লেখনশৈলীর জন্য। আরো একবার মুগ্ধ করলেন লেখক। আরও একবার লিখেছেন এমন এক বই, কন্টেম্পরারী/সমকালীন সাহিত্যের বিচারে যা সর্বোচ্চ বললে অত্যুক্তি হয় না। পড়ার সময় আমি পাতার পর পাতা উল্টে গেছি উপন্যাসের। উপন্যাস টা Shirshendu Mukhopadhyay বা Bibhutibhushan Bandyopadhyay এর সেই সমস্ত উপন্যাসের মতো, যেখানে আমার মোটেই ইচ্ছা করে না পেজ তাড়াতাড়ি উলটে দেখে আসি কি হয়েছে। বরঞ্চ ইচ্ছে করে চলুক এ উপন্যাস। উপন্যাস টা কিংবা সেই পটভূমির বৃষ্টিস্নাত সেই পরিবেশ টা আমার জন্য অনেক আবেগের। কারন আমার বন্ধন ব্রহ্মপুত্রের সাথে জন্মগত। আমার জন্ম ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে।
এ উপন্যাসে নিজের যাপিত জীবনের অভিজ্ঞ্যতার ঝুলি পাঠকের সামনে খুলে দিয়েছেন বলে আমার মনে হয়েছে। আবারো তার একটা উপন্যাসে বাধা পড়েছে রাজনৈতিক চলমান সংস্কৃতি, অন্যায় অবিচার, নেশা,মাদক, তৎকালীন সময়ে যুব সমাজের অবস্থা ও একটি খুন। এই উপন্যাস টা ঠিক এমন উপন্যাস যেটা কি হতে যাচ্ছে বুঝে গিয়েও আমি লেগে থেকেছি আঠার মতো কারন আমি অনুভব করেছি, মোটাদাগের একটা রহস্যের সমাধানের এক লাইন বলার জন্য এই উপন্যাস না। এই উপন্যাস টা মূলত এই দেশের একটা সময়ের। একটা যুগ বা একটা সময়কে উপন্যাস টা অভিজ্ঞ্যতার দলিল হিসেবে ধারণ করে বলা যেতে পারে। উপন্যাসের আলাদা নামের আলাদা বেশ অনেক অধ্যায় আমাকে ভাবিয়েছে অনেকটা সময়।
উপন্যাসের প্লট মাথায় কশাঘাত দেওয়ার মতো। আমাদের চিন্তাচেতনা, লেখালেখি বা পড়াশুনায় যে সেন্সেটিভ ফিচার টা আসে সেটা হলো 'যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা'. কিন্তু যে ফিচার টা নিয়ে আমরা কথাবার্তা কম বলি সেটা হইলো 'যোদ্ধাহত শিশু' বা যোদ্ধাহত কিশোর। এই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র যোদ্ধাহত কিশোর যা শুরুতেই আমাকে আঠার মতো আটকে দিলো উপন্যাস টার সাথে।
কালভেদে, সময়ের স্রোতে সমাজের টানাপোড়েন পালটায় অল্প অল্প করে। এতে আমরা আসলে ঠিক কোন দিলে এগোই? সুশীলতা স্বশিক্ষার দিকে না শিক্ষিত অনৈতিকতার দিকে? মূলত এক সময়ে এদেশে এসিড নিক্ষেপ, চাদাবাজি, ইভটিজিং ফেনসিডিল জাতীয় নেশা দ্রব্য ইন্ট্রোডিউস হয়েছে, সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় পালিয়ে বিয়ে করা, জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া, ভিন্ন ধর্মের কারো সাথে জড়িয়ে পড়ার পরে পরিবার থেকে মেনে না নেওয়া- উলটো হুমকি ধামকি মারামারি, সংখ্যালঘু হিন্দুদের উৎপাত ও খেদানোর চেষ্টা এবং এসব নিয়ে সমাজ টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে। সে সমস্ত গল্প এই উপন্যাসে বলা হয়েছে এবং বলার ঢং মসৃণ চামড়ার মতো। উপন্যাসে কোনো একটা চরিত্র কোনো একটি কাজ করেছে। পরবর্তীতে সে কাজ জাস্টিফাই করতে থাকে সেটা বাহুল্য মনে হয়।
সবচেয়ে বড় কথা, বিষন্নতার যে স্ফুলিঙ্গ এ উপন্যাসে তৈরি করা হয়েছে, সেটার ফলে উপন্যাস টা মনঃমুগ্ধকর। উপন্যাসের প্রতিটি গল্পে সাহিত্যরস ব্যাপকভাবে আস্বাদন করেছি।
লেখকের তীক্ষ্ম অবজারভেশান পাওয়ারের ছাপ আছে পেয়েছি পুরো উপন্যাসেই। উৎকণ্ঠা আছে। অনিশ্চয়তা আছে। শিরোনামগুলো অধ্যায়গুলোর সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মায়া মায়া ভাব আছে অনেক গুলোতেই। অধ্যায়ের শিরোনাম গুলোর মধ্যে 'বিসর্জন' শিরোনাম, আর সে অধ্যায়ের তার শেষ লাইন আমাকে সবচেয়ে বেশি ছুয়ে গেছে। মনে হয়েছে যা লেখক বলতে চাচ্ছিলেন এক্সাক্টলি সেটাই তিনি বলেছেন। বিচক্ষণতার সঙ্গে উপন্যাস লিখেছেন যে, আমার মনে হয়েছে, বাংলা সাহিত্য অভিমুখে কালোত্তীর্ণ কোনো যাত্রায় শরীক হয়ে গেছেন তিনি।
ভালোবেসে দুটো মানুষ বিয়ে করলো। ধর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে বাঁধা পরিবারের ক্ষেত্রে। কিন্তু ছেলেটি তার তোয়াক্কা করলো না। সোমলতার হাত ধরে চলে গেল ছেলেটি খুলনা। হ্যাঁ সোমলতা মেয়েটি হিন্দু পরিবারের। মুসলমান শ্বশুরবাড়িতে ঠাঁই হলো না। বাপের বাড়িও পর। খুলনায় ভালোই চলছিল সংসার। কিন্তু একাত্তরের মুক্তিযু*দ্ধ সবকিছু শেষ করে দিলো। দুই ছেলেকে নিয়ে রাতের অন্ধকারে পালাতে ছুটলো বাবা মা। একজন ছিল বাবার কোলে। ছোট্ট শিশুটির শুধু এইটুকু মনে আছে বাবা তাকে কোলে নিয়ে দৌড়াতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেল। আবার উঠে দৌড়ানো শুরু করলো।
যু*দ্ধ কেবল বিজয়ের কথাই জানে, বিজয়ের গল্পই লেখে। ইতিহাস লেখা হয় জয়ীদের দ্বারা। যারা হেরে যায়, কিংবা হারিয়ে যায় তাদের কথা কয়জনই বা জানতে চায়? যু*দ্ধ জয় পরাজয় দেয়। কিন্তু একাত্তরের মুক্তিযু*দ্ধে যারা জীবন দিয়েছে, যারা স্বজন হারানোর বেদনায় নীলাভ সময় কাটিয়েছে তাদের হারানোর মতো যে কতকিছু রয়েছে পরবর্তীতে কে খোঁজ রেখেছে। র*ক্তক্ষয়ী মুক্তিযু*দ্ধের সময় যারা শরনার্থী শিবিরে ছিল তারা খুব আনন্দে ছিল না। বরং আরো বেশি মানবেতর জীবনযাপন করেছে। খাদ্যের অভাবে ম*রতে হয়েছে। অপুষ্টি, নানান রোগের লক্ষণ তো আছেই। সেই যে শিশুটি তার কথা ভুলে গেলেন? নাহ ভুলে গেলে আমরা জীবনের গল্প শুনতে পারবো না। যে জীবনে শুধু টিকে থাকতে গিয়ে শিশুটিকে কত সংগ্ৰাম করতে হয়েছে। বেঁচে থাকার জন্য ধর্মের উর্দ্ধে যেতে হয়েছে। যার নেই কোনো শেকড়, তার জীবনে জাত,ধর্ম এসব মূখ্য হয় না। শুধু বেঁচে থাকার লড়াইয়ে নেমেছে সে।
"আবছায়া চলে যায় হিজলের দিন অভিমান জমে জমে আমি ব্যথাহীন আহারে জীবন, আহা জীবন জলে ভাসা পদ্ম যেমন"
জলে ভাসা পদ্মের মতো টলটলে পানিতে ভেসে চলে জীবন আসলেই। সময়ের স্রোত কাকে কোথায় নিয়ে যায় কে বলতে পারে। যাকে ধরে রাখতে চায় মন সে হয়তো দেখা যায় চলে যায় জীবন থেকে কোনো কারণে। জীবন সেখানে থমকে থাকে না আবার চলতে হয় নতুন করে বাঁচার তাগিদে। জীবনের এই ছুটে চলা কতদিনের? মাঝে মাঝে তো ক্লান্ত লাগে। সবকিছু ছেড়েছুড়ে দিতে মন চায়। জীবনের সাথে দৌড়ের পাল্লায় বড় হাঁপিয়ে ওঠে মন। সেই ছোট্ট শিশুটির গল্পটা অনেকটা এমনই।
🎀ছোট্ট শিশুটির কথা🎀
পিন্টু, আলবার্ট পিন্টো কিংবা গৌরহরি সাহা। আমাদের গল্পের সেই শিশুটির কত নাম। শিকড়ের টান নেই, বংশ পরিচয় জানে না। সে শুধু মানুষ। তার কোনো জাত নেই, ধর্ম নেই। সে আলাদা। সবার চেয়ে আলাদা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযু*দ্ধের সময়ে শরনার্থী শিবিরে জীবনের সবকিছু হারিয়ে ফেলে সে। বাবা মা কিংবা বড় ভাই কেউ নেই তার সাথে। কতই বা বয়স তখন তার, চার পাঁচ বছর।ভাগ্য সহায় ছিল বলেই বোধহয় একটা আশ্রয় জুটলো তার। ভারতের এক জায়গায় খ্রিস্টান চার্চে। সেখানেই বড় হতে থাকলো শিশুটি। পিন্টু থেকে হয়ে উঠল আলবার্ট পিন্টো। সেখানেও স্থায়ী হতে পারল না। কারণ মাথার উপর বটবৃক্ষ হয়ে যে ছিল সে এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছে। একটা সময় সেখান থেকেও ছুটে চলা।
কিন্তু কোথায় যাবে সে? যে চাকরটি এসেছিল পিন্টুকে বাংলাদেশে যাবার ব্যবস্থা করে দিতে সে পিন্টুকে রেখে পালিয়ে যায়। সেখান থেকে ঠাঁই মেলে আরেক নিশিকন্যার বাড়িতে। সেই বাড়িতে এক লোকের সহযোগিতায় শিকড়ের টানে হোক বা অন্য কোনো কারণে, আবারও সেই বাংলাদেশে ফিরে আসা। লক্ষ্য, নিজের পরিচয় বের করা। কারণ শরনার্থী শিবিরে যখন পিন্টুকে খুঁজে পাওয়া যায় তার পকেটে এক টুকরো কাগজে বাংলাদেশের ঠিকানা লেখা ছিল। তবে কীভাবে আট নয় বছরের বাচ্চা ছেলে পিন্টু নিজের শেকড় খুঁজে বের করবে এটা বড় প্রশ্ন।
বাংলাদেশে এসে পরিচয় বদলে, ধর্ম বদলে হয়ে উঠল এক নতুন মানুষ। নাম তার গৌরহরি সাহা। ঠাঁই হলো পুরান ঢাকার তাঁতিবাজারের এক হিন্দু ব্যবসায়ী পরিবারে। এ বাড়ির ছেলে বিশ্বনাথ পিন্টুকে কুড়িয়ে পেয়ে আশ্রয় দিলো। ধীরে ধীরে এই বাড়ি হয়ে উঠলো তার আপন ঠিকানা। এ বাড়ির প্রতিটি মানুষের প্রতি পিন্টু কৃতজ্ঞ। নাহলে জীবন কোথায় যে নিয়ে যেত তাকে!
🎀পূরবীর কথা🎀
পূরবীর চারিপাশ কেমন যেন অন্ধকারে ঢেকে গিয়েছে। সেই অন্ধকার আরও কালো করে আসছে অভিশাপ, সেলিম খান। এই অভিশাপ থেকে বাঁচবে কী করে? কে বাঁচাবে তাকে? সেলিম খান ময়মনসিংহের প্রভাবশালী হামিম খানের কুপুত্র। অল্প বয়সে বখাটে বদমাইশ তৈরি হয়েছে। এলাকার বহু মেয়েদের সর্বনাশ সে করেছে। এবার ধরেছে পূরবীকে। অথচ পূরবীর দুচোখে স্বপ্ন জীবনে বড় হবার। লেখাপড়া খুব মন দিয়ে করে পূরবী। স্বপ্ন দেখে একদিন ডাক্তার হয়ে বাবার সম্মান আরো বাড়িয়ে দেবে। বাবাকে গর্বিত করতে চায় সে।
কিন্তু এই সেলিম খান যেভাবে দিনরাত বিরক্ত করে পূরবীর খুব ভয় হয়। কারণ সে তো সেলিম খানকে চেনে। আহা! কেউ যদি এমন থাকতো পূরবীর যে তাকে এই বদমাইশটার হাত থেকে বাঁচতে পারতো! পূরবী মনে মনে ভাবে এসব। ভাবনার রঙিন জগতে বিচরণ করে। একদিন কেউ আসুক ভালোবাসা নিয়ে তার জীবনে। তাকে আগলে রাখুক বাইরের ওই ভয়াল চোখের ছোবল থেকে।
🎀ইন্সপেক্টর জামসেদ���
ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে লাশ পাওয়া গেছে। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে জ্বলজ্যান্ত মানুষকে। কে মারল এভাবে? এমন নির্দয় নির্মমভাবে কেউ কাউকে মারে? লাশের পকেটে পাওয়া গেল ছোট্ট একটি চিরকুট। ওসি আমিন সাহেব তদন্ত কী আর করবেন বরং দেখতে দেখতে ওসি আমিন উদ্দিনের অবসরের সময় চলে এলো। বিদায় সংবর্ধনার দিন নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আবু জামসেদকে দিয়ে গেলেন চ্যালেঞ্জ। যে করেই হোক, এই কেস সলভ করতে হবে। খুঁজে বের করতে হবে পুড়ে যাওয়া সেই ব্যক্তিটিকে।
কিন্তু খড়ের গাদায় সুঁচ খুঁজতে গিয়ে আবু জামসেদ পড়লেন আরো রহস্যময় পরিস্থিতির মধ্যে। কারণ পুড়ে যাওয়া লাশের পরিচয় খুঁজতে গিয়ে একের পর এক উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বেচারার শ্যাম রাখি না কুল রাখি অবস্থা। তখনকার সময় তো এত উন্নত প্রযুক্তি ছিল না। তাই বলা যায় আবু জামসেদ বেশ হিমশিম খাচ্ছেন। শেষমেষ চ্যালেঞ্জ পূরণ করতে সক্ষম হলে হলো।
🎀বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ🎀
গল্পটা তিনটি আলাদা আলাদা সময়ের। গল্পটা সেই ছোট্ট শিশুটির। জলে ভাসা পদ্মের মতো আজ এখানে, কাল ওখানে কর�� যার জীবন চলে যায়। সে জীবনে ভালোবাসাও আসে। কেউ একজন উজাড় করে ভালোবাসে পিন্টুকে। কিন্তু পিন্টু সেই ভালোবাসা খুঁজে পায় না। আবার যখন দ্বিতীয়বার ভালোবাসা এসে কড়া নাড়ে দরজায় পিন্টু সাহস করে সেই ভালোবাসা যেন গ্ৰহণ করতে পারে না শঙ্কায়।
মাঝে মাঝে পিন্টুর মনে হয় সে বেঁচে আছে কেন! বেঁচে থাকার অর্থ কী? যার শেকড়ের সন্ধান নেই, ধর্মের ঠিক নেই, জাতের ঠিক নেই এই অনিশ্চিত জীবন এখনো কেন টিকে আছে? নাহ আর পারা যাচ্ছে না। বড্ড ক্লান্ত হয়ে গেছে পিন্টু। বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ নিতে মন চায়। কাউকে নিয়ে ভালোবাসায় বাঁচতে মন চায়। বাতাসে লা*শের গন্ধ নয় বরং বৃষ্টির ঘ্রাণ নিতে আকুল মনটা।
"আহা পারতাম, যদি পারতাম আঙুলগুলো ছুঁয়ে থাকতাম বিষাদেরই জাল টালমাটাল এ কোন দেয়াল, এ কোন আড়াল"
🎀পাঠ প্রতিক্রিয়া🎀
আমি সহসা বই পড়ে কাঁদি না। খুব শক্ত মনের নই তবে হয়তো বড়জোর মন খারাপ হয়। কিন্তু "বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ" পড়ে অজান্তেই চোখের কোণে খেয়াল করলাম পানি জমেছে। এই বইয়ের সবচেয়ে বিষাদময় অধ্যায়টা আমি জানি না লেখক কীভাবে লিখেছেন তবে আমার তো চোখে পানি এনে দিয়েছে। এত বিষাদময়! গুমড়ে গুমড়ে যেন ছড়িয়ে আছে দুঃখ প্রতিটি পৃষ্ঠায়। বাস্তবটা কল্পনায় ভেসে আসে। এমন তো আসলেও হয়। তখন আসলেই বড় মায়া হলো তার জন্য। মুখ থেকে বেরিয়ে এলো বড় করে "আহা!" কেন এমন হয়। জীবন কেন মানুষের মাঝে মাঝে এমন নিষ্ঠুর পরীক্ষা নিয়ে নেয়?
উপন্যাসের ভূমিকায় লেখক লিখেছেন, উপন্যাসটি লিখতে গিয়ে লেখকের অসহায়বোধ হচ্ছিল। এছাড়া আনন্দ, হতাশা, বিষণ্ণতা, রাগ-ক্ষোভ সব এক হয়ে গিয়েছিল। আমিও ঠিক একই অনুভূতিগুলো অনুভব করছিলাম। সেই সাথে যোগ হয়েছিল অভিমান ও আক্ষেপ। কিন্তু আসলেই এই গল্পটা বাস্তবে ঘটে। এমন হাজারো গল্প রয়ে যায় আড়ালে। এই ঘুনে ধরা সমাজে কখনো স্বপ্ন দেখতে নেই। এই সমাজ সবার স্বপ্ন সত্যি হতে দেয় না। আহারে! আমি কী জানতাম বইটা শেষ করার পরও চরিত্রগুলো এভাবে আমার মনে রয়ে যাবে!
আমার কাছে প্রশ্ন এসেছিল "বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ" নাকি "ছায়া সময়" কোনটাকে আমি এগিয়ে রাখবো। আমি তখন সবে ছায়া সময় পড়েছিলাম তাই উত্তরটা দিতে পারিনি। এবার আসলে বলা যায় আমি "বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ" কে এগিয়ে রাখছি। শরীফুল ভাইয়ের লেখা বইগুলো আমার ভালো লাগে। অনেকে বলে তার সামাজিক উপন্যাসগুলো প্রেক্ষাপট একই রকম। তবে আমি বলবো লেখকের লেখনী দিয়ে তিনি উত্তরে যেতে পারবেন অনায়াসে। এর আগেও অনেকগুলো পড়েছি কিন্তু "বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ" নিয়ে আসলে কথা হবে না। লেখকের মাস্টারপিস বই এটা। তাই আমার মনে হয় সব লেখকদের এমন কিছু বই থাকা উচিত যেটা তার সাহিত্যের নিদর্শন হিসেবে থাকবে।
বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ উপন্যাসটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় ছিল টাইমলাইন। বিভিন্ন সালের গল্প বিভিন্নভাবে এগিয়েছে। শেষে এক সুতোয় মিলেছে। এখানে লেখককে সাধুবাদ দিতেই হয়। তিনটি সময়কে এক করে ধাপে ধাপে গল্প বলা। এবং গল্পের খেই হারিয়ে যায়নি কিন্তু এক মূহুর্তের জন্যও। এবং যখন তিন সময়ের শেষ পরিণতি এলো লেখক খুব সুন্দরভাবে সাজিয়ে দিলেন এক আশায় সাজানো সমাপ্তির মাধ্যমে।
১৯৭৫ থেকে ১৯৯৮ সালের গল্প। কেমন ছিল, সে সময়ের বাংলাদেশ? তা ফুটিয়ে তুলতে সাধ্য মতো চেষ্টা করেছেন লেখক। সেই সময়ের উত্তল রাজনীতির দিকটিও তুলে এনেছেন লেখক। এবং অতিরঞ্জিত বর্ণনা কম। এইজন্য স্বস্তি পেলাম। কারণ এমনিতেই বড় কলেবরে বইয়ের প্লট সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত কথা ভালো লাগতো না।
আমার হাসবেন্ডের থেকে ভূয়সি প্রশংসা শুনে বইটা মূলত পড়া। ওর কথার সাথে যেন মিল খুঁজে পাচ্ছিলাম সবটা। শরীফুল ভাইয়ের উপর অবশ্য রাগ লাগছিল কেন তিনি এমনটা করলেন। কিন্তু হাসবেন্ড বোঝালো তিনি ক্লাইম্যাক্স এমন লিখেছেন বলেই বইটি পাঠকের মনে থেকে যাবে।
🎀 আনুসাঙ্গিক সব🎀
তানিয়া আপুর করা প্রচ্ছদটা এত সুন্দর। বইয়ের নামের সাথে মিলে যায় খুব। এবং অন্যধারার প্রোডাকশন কোয়ালিটি ভালো। বইটা আমাদেরটা পুরনো এডিশন কিন্তু এখনো অবস্থা দেখলে নতুন মনে হবে। পুরনো এডিকশনের পেইজ কোয়ালিটিটাও বেশ। জানি না নতুন এডিশন কেমন।
"ছাই হয় গোধূলি কারে যে বলি এ কোন শ্রাবণ আজ বয়ে চলি। আহারে জীবন, আহা জীবন জলে ভাসা পদ্ম যেমন"
আহারে জীবন! সবার জীবনের গল্প এক হয় না। পিন্টুর মতো কারো জীবন জলে ভাসা পদ্ম হয়ে রয়। সে শুধু ভেসে চলে। খুঁজে পায় না কোনো ঠাঁই। "বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ" নিয়ে ভালো থাকুক এমন জীবনের মানুষগুলো।
গল্পটা যথেষ্ট ভালো। তিনটা আলাদা সময়কে আগে-পিছে করে এবং পাঠককে হালকা ধোঁয়াশায় রেখে গল্প এগিয়ে নেওয়ার কায়দাটাও ভালো। কিন্তু গদ্যভাষা ভীষণ সাদামাটা। এই দিকটায় বোধহয় লেখকেরও তেমন নজর নেই। ‘সাম্ভালা’ থেকে ‘বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ’, মাঝখানে দশ বছর, এই দশ বছরে শরীফুল হাসানের গদ্যে বিশেষ কোনো উন্নতি আসেনি, একই রয়ে গেছে।
কতদিন পর এত ভালো একটা বই পড়লাম! এছাড়া এই রিভিউ এ আর কিছুই বলার নাই আমার।
আমার পড়ার স্পীড মাশাআল্লাহ বেশ ভালোই। চারশ পেইজের বই এক বসায় ই পড়ে ফেলতে পারবো। কিন্তু এই বইটা আমি একমাস ধরে পড়লাম, আজকে শেষ করলাম শেষমেশ। শুরুতে স্লো পড়ছিলাম কারণ সময় ছিল না একদমই। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এই বইটা সময় নিয়েই পড়া উচিত, ভাগ্যিস আমি একটানে শেষ করার সময় পাইনি। অনেকদিন ধরে দেখতে থাকা পছন্দের কোনো সিরিজের শেষ এপিসোডটা দেখার পর আমার খুব খালি খালি লাগে কিছুদিন। বইটা শেষ করে ওরকম ই ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। পিন্টু বা পিন্টো বা গৌরহরি আর কী কোনদিন বৃষ্টির ঘ্রাণ পেয়েছিল বাতাসে?
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এতো দারুণ ছিলো যে একটা জায়গায়ও বোরিং লাগে নাই। চুম্বকের মতো টেনে নিয়ে গেছে। আর সবগুলা চরিত্রের চরিত্রায়ন এতো দারুণ, তা বলার বাহিরে। পূরবী, পিন্টো, পিন্টু বা গৌরহরি, বিশ্বনাথ, সুস্মিতাকে বেশি ভালো লাগছে। লেখকের লেখনী খুবই ভালো। শেষ পর্যন্ত বইটা পড়ে পরিতৃপ্তি নিয়ে শেষ হলেও মনের একটা অংশে কিছুটা বিষণ্নতার ছায়া পড়েছে। আমার মতে অবশ্যই মাস্টরিড একটা বই।
আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের যে ইতিহাস তার একটি বড় অংশ হচ্ছে একাত্তরের যুদ্ধ শিশু।কিন্তু যুদ্ধ শিশু নিয়ে আমাদের দেশে গল্প উপন্যাস আমার মনে হয় খুব কমই লেখা হয়েছে,অন্তত আমার চোখে পরে নি। একজন যুদ্ধ শিশুর জীবনের তিনটি পর্যায়ের সাথে জড়িয়ে পরা অনেক মানুষের জীবনের গল্প নিয়েই শরীফুল হাসানের এই উপন্যাস "বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ"। যুদ্ধ শিশু পিন্টু কালের পরিক্রমায় কখনো হয়েছে পিন্টো,কখনো হয়েছে গৌরহরি।পিন্টুর গল্প বলতে গিয়ে লেখক নিয়ে এসেছেন আমাদের দেশের রাজনীতির আরো একটা সময়, যে সময় ছিলো স্বৈরশাসকের, নব্বই দশকে দেশের রাজনীতিতে যে চরম অরাজকতার সৃষ্টি হয়েছিল তার খুব সুন্দর এক দৃশ্য ফুটে এসেছে উপন্যাস টি তে। উঠে এসেছে অসম প্রেম, ভ্রাতৃত্ববোধ এর এক ছবি।একদিকে যেমন এসেছে সংখ্যালঘুদের অনিশ্চয়তা, ভীতি আবার আরেকদিকেই এসেছে একে অপরের পাশে থাকার তাড়না।আর এ সব কিছু কীভাবে এক পিন্টোর জীবন দিয়েই লেখক বুঝিয়েছেন এটাই এই উপন্যাসের সবচেয়ে সুন্দর দিক। গল্পের প্রয়োজনে অনেক চরিত্রই এসেছে কিন্তু কাউকেই অবাঞ্চিত লাগে নি।সবার জীবন যে একই সুতোয় গাঁথা।পিন্টুর জীবনের বিভিন্ন পর্যায় গুলোও খুব সুন্দর ভাবেই বর্ণনা করে হয়েছে,পড়তে গিয়ে হোঁচট খাই নি।যে লেখা লেখক শুরু করেন পিন্টুর জীবনের গল্প নিয়ে সেই লেখাই কীভাবে যেন রেভারেন্ড হেনরী,রাঙা মা,বিষ্ণু,বিশ্বনাথ,সুস্মিতা,আযাদ,পূরবী,পপি, লাবনী কিংবা সেলিম খান সবার জীবনের গল্প বলে ফেলে। কিছু চরিত্রের পরিনতি কী হতে পারে বা গল্প কোনদিকে আগাচ্ছে সেটা আঁচ করা গেলেও এর জন্য শেষ পর্যন্ত পড়তে দ্বিধা হয় না।শুধু একটাই আক্ষেপ মন্টুর কী হলো জানা গেলো না।মায়া হয় পিন্টোর জন্য যার জীবনে এত ভালোবাসার মানুষ থাকা সত্ত্বেও আসলে তার কেউ নেই।সারাজীবন একটা মানুষের অভিনয় করেই কেটে গেলো নাকি আসলে অভিনয় না জীবনের প্রয়োজনে খাপ খাইয়ে নেয়া হয়তো একেই বলে।যার কেউ নেই তার জন্য আছেন ঈশ্বর উপন্যাসের শেষটুকু হয়তো সেই কথাই আরেকবার মনে করিয়ে দেয়।
বইটা পড়ে খুব খারাপ লাগতেছে, কারন বইয়ের রিভিউ লিখতে পারি না...পড়ার পর অনেকক্ষণ বসে ছিলাম...ভাবছিলাম কিভাবে সুন্দর করে গুছিয়ে রিভিউ লিখবো..পারি নি...তবে শরিফুল হাসান ভাইয়া কে সত্যি সাধুবাদ জনাই এরকম চমৎকার বইয়ের জন্যে...অনেক ব্যস্ততার মধ্যে গেছে গত একটা মাস..যে কারনে এর দেরি হলো পড়তে...খুব বেশি ভাল লেগেছে বইটা আমার কাছে...
মস্ফল শহর এবং একান্নবর্তী পরিবারের সামাজিক জীবনের চিত্র এই উপন্যাস। কিন্তু সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল ছিলো পিন্টু ওরফে গৌরহরি সাহা চরিত্র টি। লেখক সরল ভাষায় একটা সাধারণ চরিত্রকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছেন। জীবনে সুখের আশায় বসে থাকি আমরা কিন্তু আদৌ কি আশা পূরণ হয়? জীবন চলছে জীবনের নিয়মে। ৭১ এর পর বিভিন্ন সময়ে একটা চরিত্র আর তার চারপাশের অস্থিতিশীল পরিবেশ নিয়ে লেখক খুব সুন্দর করে উপন্যাসটি রচনা করেছেন। এক বসায় শেষ করেছি তৃপ্তি ভরে।
অত্যন্ত সাবলীল ভঙ্গিতে লেখা একটি বই। বড় আকারের সামাজিক উপন্যাস লেখা মোটেই সহজ কাজ নয়। আরও সহজ নয় সম্পুর্ন বইয়ে পাঠককে প্রতিটি পাতায় আকর্ষিত করে রাখা। লেখক নিঁখুত ভাবে তা করতে পেরেছে। সব মিলিয়ে প্রত্যাশার থেকেও ভালো ছিল বইটি। আশা করছি লেখক আরও অনেক সুন্দর বই উপহার দিবে ভবিষ্যতে।
গতরাতে বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ শেষ করেছি। কেমন লেগেছে? জানিনা! কেমন যেনো মিশ্র অনুভূতি। বইটার টাইমলাইন ইন্টারেস্টিং! লেখক এক সময় থেকে অন্য সময়ে কোনো ঝামেলা ছাড়াই পৌঁছে দিয়েছেন। বইয়ে যুদ্ধ, এ পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থা উঠে এসেছে। নব্বইয়ের দশকের রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল, তখনের অরাজকতা ইত্যাদি তুলে ধরেছেন৷ লেখক নব্বই দশকের কাহিনী ভালো লেখেন,যেটা যেখানে রোদেরা ঘুমায় বইয়ে দেখেছি।
কাহিনী শুরু হয় এক মৃত্যুর রহস্য দিয়ে।এর রেশ নিয়ে যায় আমাদের পিন্টু/পিন্টোর রহস্যে।ধীরেধীরে কাহিনী এগুতে থাকে আমরা পিন্টু,পিন্টো,গৌরহরি -এর সাথে জড়িয়ে যেতে থাকি। এতো বড় উপন্যাস পড়লাম-ধরতে গেলে একবসাতেই(খেতে উঠেছিলাম),এক বারের জন্যও মনে হয়নি বাহুল্য কিছু আছে। ধর্ম আর সমাজ-কাউকে রেহাই দেয়না। সংখ্যালঘুদের যে অবস্থা উঠে এসেছে বইয়ে তা শুধুই বাস্তবতার জানান দেয়।পূরবীকে নিয়ে কীভাবে কথা বলবো জানিনা।একজন বুলি কতটা ভয়ংকর এবং মেয়েদের জীবন কতোটুকু দুর্বিষহ করে তুলতে পারে তা ঠিকঠাক লিখে গেছেন। আমার মাথা সকাল থেকেই এলোমেলো হয়ে আছে। চিন্তাগুলো গোছাতে পারছিনা। তাই সকাল বেলাতেই আবোলতাবোল বলা শুরু করেছি বইটা নিয়ে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিবার হারায় পিন্টু। এরপর থেকে সে মানুষ হয় এক ফাদারের কাছে। তার নাম হয় আলবার্ট পিন্টু। ফাদার মারা যাওয়ার আগে পিন্টুকে একটা চিরকুট দিয়ে যায়। সেই চিরকুটে পিন্টুর আপন জনদের ঠিকানা ছিল। ফাদারের মৃত্যুর পর পিন্টু নতুন করে গৌরহরি সাহা নামে জীবন শুরু করে। প্রথমে তার আশ্রয় হয় সরকার বাড়িতে। সে সরকার বাড়িরই একজন হয়ে ওঠে। এরপর সরকার বাড়ির থেকে দূরে সরে গিয়ে যঞ্জেশ্বর শিল্পালয়ে কাজ করা শুরু করে। সেই বাড়ির বড় মেয়ে পুরবী মেডিকেলের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। তার ওপর বদ নজর পড়ে পাড়ার দুর্ধর্ষ মাস্তান সেলিম খানের যে এই পর্যন্ত আরো অনেক মেয়ের ক্ষতি করেছে। এরই টানাপোড়েনে পুরবীকেও প্রাণ হারাতে হয়। তার বেশ কিছু দিন পর স্কুল শিক্ষক সামাদ নদীর তীরে একটা অগ্নি দগ্ধ লাশ খুঁজে পায়। ক্লোজ হয়ে যাওয়া এই কেসগুলো অনেক বছর পর চেলেন্জ হিসেবে নিয়ে আবার কাজ শুরু করেন আবু জামশেদ। আর শেষে কী পরিনতি হয় গৌরহরী সাহা ছদ্মনামে থাকা পিন্টুর?
এক কথায় অসাধারণ একটা বই। অনেক দিন পর এমন মনোমুগ্ধকর একটা বই হাতে পেলাম। লেখকের পড়া আমার প্রথম বই এটা। লিখনশৈলী সাবলীল আর স্পষ্ট। উপন্যাসের একদম শেষ পর্যন্ত কোন একঘেয়েমি ছাড়াই এগিয়ে নিয়ে গেছে ।লেখকের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
১৯৭১ সাল! মুক্তিযুদ্ধ! এই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আমাদের জীবনে অনেক অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করে। এই মুক্তিযুদ্ধের ফলে আমরা পেয়েছি স্বাধীন ভূখণ্ড। পেয়েছি একটি মানচিত্র আর লাল-সবুজের পতাকা। হারিয়েছি বর্বর পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকে। বিজয় ছিনিয়ে এনেছি বীরের বেশে। এই বিজয়ের পেছনে কিছু গল্প থাকে। এই গল্পগুলো কখনো আনন্দের, কখনোবা তীব্র বেদনার। এই বিজয়ের গল্প লেখার পেছনে কত রক্ত ঝরেছে, তার খবর কেউ রাখে না। কত মানুষ হারিয়ে গিয়েছে, তার কথা কেউ জানে না। যুদ্ধ কেবল বিজয়ের কথাই জানে, বিজয়ের গল্পই লেখে। ইতিহাস লেখা হয় জয়ীদের দ্বারা। যারা হেরে যায়, কিংবা হারিয়ে যায় তাদের কথা কয়জনই বা জানতে চায়? দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মানুষ যেমন তাদের প্রিয়জন হারিয়েছে, হারিয়েছে তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইও। সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পাড়ি জমিয়েছে ওপারের শরণার্থী শিবিরে। যুদ্ধ শেষে আবার ফিরেও এসেছিল প্রিয় জন্মভূমি টানে। কিন্তু কিছু মানুষ তো ফিরতেও পারেনি। হয় মৃত্যুর ভয়াল থাবায় হারিয়ে গেছে, নয়তো গভীর রাতের মতো তীব্র অন্ধকারে নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে। তাদের গল্প কেউ জানতে চায় না। তারা যেন উদ্বাস্তু। বিজয়ের গল্পে এক অনর্থক বস্তু। তবুও তাদের গল্প লিখতে হয়। কাউকে না কাউকে লেখার দায়িত্ব নিতে হয়। জীবনের গল্পে তারা কোথায় হারালো জানতে হয়, জানাতে হয়।
জীবন! আহা জীবন! এই জীবন এক অদ্ভুত জিনিস। যেখানে মানুষের ভালো থাকার আকুতি, বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা সব মিলেমিশে এক হয়ে যায়। তবুও কি মানুষ ভালো থাকে? হয়ত থাকে। কিংবা অভিনয় করে। জীবন যুদ্ধে লড়াই চলে। সেই লড়াইয়ে কেউ জেতে, কেউ হেরে যায়। অনেকে আবার জীবনের থেকে পালিয়ে বেড়াতে ব্যস্ত। কতটা পথ পেরিয়ে একটু ভালো থাকার চেষ্টা করে। সবসময় কি পারে? কখনো খড়কুটোর মতো ভেসে চলে যেতে হয় দূর বহুদূর। সেখানে একটু থিতু হওয়ার চেষ্টা। কিন্তু, যার জীবন নদীর স্বচ্ছ জলে কচুরিপানার মতো ভেসে চলতে শিখে গেছে, সে কি স্থির হতে পারবে? জীবন কোনো বাঁধ মানে না। জীবন ছুটে চলে আপন গতিতে, কখনও তীব্র গতিতে দৌড়ায়। অসীমের পথে, অজানার পথে।
• কাহিনি সংক্ষেপ :
তার নাম পিন্টু। আবার আলবার্ট পিন্টো কিংবা গৌরহরি সাহা। তার প্রকৃত পরিচয়, সে মানুষ। তার কোনো জাত নেই, ধর্ম নেই। সে আলাদা। সবার চেয়ে আলাদা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বাবা-মায়ের সাথে বাংলাদেশ থেকে ভারতের শরণার্থী শিবিরে ঠাঁই পেয়েছিল। কিন্তু নিয়তি খারাপ থাকলে যা হয়! বাবা-মা দুইজনকে হারিয়ে অনাথ হয়ে পড়ে। বড়ো এক ভাই ছিল, সেও পালিয়ে গেল তার মতো চার-পাঁচ বছরের শিশুকে একা রেখে। অনাথ, অসহায় হয়ে যাওয়া পিন্টুর নতুন ঠিকানা ভারতের একটি চার্চ। পিন্টু থেকে হয়ে উঠল আলবার্ট পিন্টো। সেখানেও স্থায়ী হতে পারল না। একটা সময় সেখান থেকেও ছুটে চলা। শিকড়ের টানে হোক বা অন্য কোনো কারণে, আবারও সেই বাংলাদেশে ফিরে আসা। লক্ষ্য, নিজের পরিচয় বের করা। চাইলেই কি তা সহজে করা যায়? যেই দেশের মাটিতে প্রথম পা রাখল, সেখানে আট-নয় বছরের শিশু কীভাবে খুঁজে পাবে তার বংশ পরিচয়? সবকিছু ওলট পালট হয়ে গেল। বাংলাদেশে এসে পরিচয় বদলে, ধর্ম বদলে হয়ে উঠল এক নতুন মানুষ। নাম তার গৌরহরি সাহা। নতুন এ জীবন বেশ আপন করে নিয়েছে সে। নতুন পরিবেশে বেশ কিছু প্রিয় মানুষের সানিধ্য পেয়েছে। যাদের খুব কাছের মানুষ মনে হয়। যারা খুব ভালোবাসে তাকে। তাদের ঋণ শোধ করবে কীভাবে ভেবে পায় না। কিন্তু ভেসে যাওয়া জীবন নিয়ে কত কী আর করা যায়! এই এখানে তো ওই সেখানে। এভাবেই তো চলল এতগুলো বছর। তাই এবারও হারিয়ে যাওয়া। বিশাল এই জীবন নামক সমুদ্রে মাঝিবিহিন নৌকার মতো এবার তাকে কোথায় যেতে হবে, কে জানে?
দু'চোখ জুড়ে স্বপ্ন নিয়ে মেয়েটা বড়ো হচ্ছে। এই স্বপ্ন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার। নিজেকে সবার উপরে দেখতে চাওয়ার। পূরবী চায় ডাক্তার হতে। গায়ে অ্যাপ্রন জড়িয়ে, স্টেথোস্কোপ হাতে নিয়ে সে যখন বাবার সামনে দাঁড়াবে, বাবা নিশ্চয়ই খুব খুশি হবেন। স্কুল জীবন থেকেই তাই পড়াশোনায় মনোযোগী পূরবী। বয়ঃসন্ধিকাল পেরিয়ে যাচ্ছে। এই সময়টা একটি মেয়ের পরিবর্তনের সময়। পূরবীরও পরিবর্তন হচ্ছে। মানসিক পরিবর্তন। সে এখন স্বপ্ন দেখে। সেই স্বপ্নের ডানায় ভেসে বেড়াতে চায়। চায় এমন একজন পাশে থাকুক, যাকে মন খুলে সব বলতে পারবে। ভালোবেসে কাঁধে মাথা রেখে নির্ভার থাকতে পারবে। এমন কেউ কি আছে? কাউকে ভালো লাগে পূরবীর? হতে পারে। সেই ভালো লাগা কি ভালোবাসা? পূরবী জানে না। শুধু জানে, সেই স্বপ্নের মানুষকে সে চোখে হারায়। বারবার দেখতে চায়। পাশে থাকতে চায়। অনুভব করতে চায়। কিন্তু সব স্বপ্ন যে পূরণ হয় না। স্বপ্ন তো থাকেই ভাঙার জন্য। পূরবীর স্বপ্ন একদিন ভেঙে গেল। সেই ভেঙে যাওয়া মনে ঝড় উঠেছে। কালো মেঘের আনাগোনা চারিদিক। পূরবীর চারিপাশ কেমন যেন অন্ধকারে ঢেকে গিয়েছে। সেই অন্ধকার আরও কালো করে আসছে অভিশাপ, সেলিম খান। এই অভিশাপ থেকে বাঁচবে কী করে? কে বাঁচাবে তাকে?
ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে লাশ পাওয়া গেছে। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে জ্বলজ্যান্ত মানুষকে। কে মারল এভাবে? এমন নির্দয় নির্মমভাবে কেউ কাউকে মারে? লাশের পকেটে পাওয়া গেল ছোট্ট একটি চিরকুট। এই রহস্য উদঘাটন করতে চাইছে ওসি আমিন উদ্দিন। কোনো কূলকিনারা খুঁজে পাচ্ছে না। সামান্যতম সূত্র নেই। এভাবেই চলে গেল কয়েকটা মাস। কেসের মীমাংসা হয়নি। দেখতে দেখতে ওসি আমিন উদ্দিনের অবসরের সময় চলে এলো। বিদায় সংবর্ধনার দিন আবু জামসেদকে দিয়ে গেলেন চ্যালেঞ্জ। যে করেই হোক, এই কেস সলভ করতে হবে। খুঁজে বের করতে হবে পুড়ে যাওয়া সেই ব্যক্তিটিকে। চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন আবু জামসেদ। তদন্ত শুরু করলেন। যতটা না চ্যালেঞ্জের জন্য, তার চেয়েও বেশি নিজের স্বস্তির জন্য। খোঁজ নিতে গিয়ে আবু জামসেদ জানতে পারলেন, এর শিকড় লুকিয়ে আছে পুরনো এক কেসে। আবু জামসেদের ধারণা সে সত্যের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। সত্যিটা কি ধরা দিবে এবার? না-কি অমীমাংসিত থেকে যাবে এই রহস্য?
পূরবী, না সুস্মিতা? কে বেশি সত্যি? গৌরহরি ভাবে তার জীবনের লক্ষ্য কী! এভাবে ভেসে বেড়ানো জীবন নিয়ে কার কাছে ঠাঁই পাবে? একটু ভালো থাকার আশায়, ভালোবাসা পাওয়ার আশায় এ পথ থেকে ও পথে ছুটে যাওয়া। কার ভালোবাসায় জীবন থামবে এবার, সে জানে না। যে গল্পের শুরু হয়েছিল বৃষ্টিতে, বৃষ্টিতেই যেন তার পরিসমাপ্তি। মুষলধারে ঝরে পড়া বৃষ্টিতে ভেসে যাচ্ছে সব আবেগ, গুনগুনিয়ে গেয়ে ওঠে বিষাদের সুর। এক সময় বৃষ্টি থামে। সব ভাসিয়ে নিয়ে যায়। রেখে যায় কেবল বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ।
• পাঠ প্রতিক্রিয়া :
উপন্যাসটি কেমন লাগল তা জানানোর আগে লেখক শরীফুল হাসানকে একটা ধন্যবাদ দিতে চাই, এমন এক উপন্যাস আমাদের উপহার দেওয়ার জন্য। পাঠ প্রতিক্রিয়ায় কী জানাবো সেটা ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। উপন্যাসটি শেষে কেমন যেন ঘোরের মধ্যে ছিলাম। অনেকদিন পর তৃপ্তি নিয়ে একটি বই শেষ করলাম। যার রেশ দীর্ঘক্ষণ মাথার মধ্যে ছিল। এর অবদান পুরোপুরি লেখকের। এত সুন্দর করে সব সাজিয়েছেন, যা সত্যিই মনে ধরার মতো। বিশেষ করে চরিত্র। সবগুলো চরিত্রকে মনে হয়েছে খুব আপন। খুব প্রিয়।
উপন্যাসের ভূমিকায় লেখক লিখেছেন, উপন্যাসটি লিখতে গিয়ে লেখকের অসহায়বোধ হচ্ছিল। এছাড়া আনন্দ, হতাশা, বিষণ্ণতা, রাগ-ক্ষোভ সব এক হয়ে গিয়েছিল। আমিও ঠিক একই অনুভূতিগুলো অনুভব করছিলাম। সেই সাথে যোগ হয়েছিল অভিমান ও আক্ষেপ। এই অভিমান কার প্রতি, বা আক্ষেপ কীসের প্রতি জানা নেই। হয়ত সমাজের প্রতি। কিংবা জীবনের প্রতি। যে জীবন ক্ষণে ক্ষণে রং বদলায়। যে সমাজ বেঁচে থাকার শেষ ইচ্ছাটাও মেরে ফেলে। সেই সমাজ বা জীবনের প্রতি আক্ষেপ, অভিমান দেখানো অযৌক্তিক?
এছাড়া সম্পর্কের বন্ধন কিংবা টানাপোড়েন ভালো মতো ফুটিয়ে তুলেছেন। আমি আগে থেকেই লেখকের বর্ণনার অনেক বড়ো ভক্ত। তার বর্ণনাগুলো পড়লে মনে হয়, যেন চোখের সামনে সবকিছু ভেসে উঠছে। এই বইতেও তেমন অনুভূতি ছিল। বর্ণনাগুলো আরও পরিণত হয়েছে বলে মনে হয়েছে। লেখকের শব্দচয়নে পরিপক্কতা লক্ষ্য করেছি। আরেকটা বিষয় ভালো লেগেছে, লেখকের ইংরেজি শব্দ ব্যবহার কম করে পারিভাষিক শব্দের ব্যবহার করেছেন। একটা উদাহরণ দেই, এয়ার কন্ডিশন বা এসি-কে নব্বই শতাংশ লেখক-ই এসি লিখবেন। কিন্তু এখানে লেখক শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র লিখেছেন। ব্যাপারটা বেশ ভালো লেগেছে। বাংলা সাহিত্যের উপন্যাস লেখার ক্ষেত্রে লেখকদের যথাসম্ভব বাংলা অক্ষরে ইংরেজি শব্দের আধিক্য পরিহ���র করা উচিত বলে আমার মনে হয়। এতে সাহিত্যের মান বজায় থাকে। তবে অনেক ইংরেজি শব্দ বাংলা ভাষায় বহুল ব্যবহৃত। সেগুলোর বিষয় আলাদা। তবে কিছু ক্ষেত্রে যেসকল শব্দের প্রচলিত পারিভাষিক শব্দ রয়েছে, সেগুলো কেন ইংরেজিতে লিখতে হবে তা বোধগম্য হয় না। অন্যের অবস্থা জানি না, আমার অত্যন্ত বিরক্ত বোধ হয়।
বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ উপন্যাসটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় ছিল টাইমলাইন। বিভিন্ন সালের গল্প বিভিন্নভাবে এগিয়েছে। শেষে এক সুতোয় মিলেছে। এখানে লেখককে সাধুবাদ দিতেই হয়। প্রতিটি অধ্যায় শুরুর পূর্বে অধ্যায়ের নামগুলো ভালো লেগেছে। পাঠক শুরুতে অধ্যায়ের নাম পড়বে, গল্প কেমন হতে পারে তা অনুভব করবে, এরপর গল্পের ভেতর প্রবেশ করবে। অন্তত আমি সেভাবেই পড়েছি। আর এভাবে উপন্যাসটি আরও বেশি উপভোগ্য হয়ে উঠেছিল।
বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ একটি সামাজিক উপন্যাস। এখানে সমাজের বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৮ সালের গল্প। কেমন ছিল, সে সময়ের বাংলাদেশ? তা ফুটিয়ে তুলতে সাধ্য মতো চেষ্টা করেছেন লেখক। সেই সময়ের উত্তল রাজনীতির দিকটিও তুলে এনেছেন লেখক। বিশাল কলেবরের উপন্যাসে সমস্যা যেটা হয়, তা হচ্ছে টেনে লম্বা করা বা অপ্রাসঙ্গিক কিছু রচনা। উপন্যাসে তেমন কিছু লক্ষ্য করিনি। যেখানে যতটুকু প্রয়োজন, ঠিক ততটুকুই বর্ণনা করা হয়েছে।
এই বইয়ে আমার অসংখ্য প্রিয় বাক্য আছে, সেগুলো আলাদা করে দিলাম না। পাঠক বইটি পড়ে প্রিয় লাইনগুলো খুঁজে বের করবে।
• গল্পবুনন ও চরিত্রায়ন :
বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ ভিন্ন ভিন্ন টাইমলাইনে রচিত একটি উপন্যাস। যার শুরু হয়েছিল ১৯৭৫ সালে। কখনো ১৯৯০ এ গিয়ে লেখক গল্প করেছেন, আবার ১৯৯৫ এর দৃশ্যপট তুলে এনেছেন। বিভিন্ন টাইমলাইনে গল্প এগুলেও, সবকিছুকে লেখক খুব সাবলীলভাবে এক সুতোয় বেঁধেছেন। প্রতিটি অধ্যায়ের সাল ভিন্ন ছিল, ভিন্ন ছিল গল্পগুলো। সবগুলো অধ্যায়ের শুরুতে নামগুলো বেশ মনে ধরেছে। এতে ভাবনার এক জগৎ তৈরি হয়েছে। যে জগতে পূর্বে পাঠকের ও পরে গল্পের প্রবেশ ঘটেছে।
লেখকের লিখনপদ্ধতি বেশ সাবলীল। বাচনভঙ্গি কিংবা বর্ণনা খুব সহজেই পাঠককে আকৃষ্ট করে। থ্রিলার উপন্যাস না হয়েও বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ যেভাবে আকৃষ্ট করেছিল, তার জন্য লেখক সাধুবাদ পেতেই পারেন। লেখক সংলাপ বলার চেয়ে গল্প বলার দিকে বেশ মনোযোগ দিয়েছেন।
গল্পের চরিত্রগুলো নিয়ে বিশেষ কিছু বলা প্রয়োজন। বিশাল এই উপন্যাসে নানান সময় ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র এসেছে। সবগুলোই স্বতন্ত্র, প্রয়োজনীয়। কিছু কিছু চরিত্র যেমন অপরিহার্য, আবার কেউ কেউ গল্পের প্রয়োজন মিটিয়ে হারিয়ে গিয়েছে। পিন্টু, আলবার্ট পিন্টো বা গৌরহরি এই গল্পের প্রধান আকর্ষণ। ছোটো থেকে বড়ো হওয়া, জীবনের অনেকগুলো দিক দেখতে পাওয়া পিন্টু বড়ো হতে হতে বুঝতে শিখেছে জীবনকে।
সুস্মিতা কিংবা পূরবী মেয়ে দুটো আলাদা হলেও কোথাও যেন এক। আবার অনেকখানি আলাদা। দুজনেই ভালোবাসতে জানে, দুজনেই বড়ো হওয়ার স্বপ্ন দেখে। দুজনেই নিজেদের স্বল্প পূরণ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। কিন্তু অন্যদিকে আবার আলাদা। সুস্মিতা যেমন অনেক চঞ্চল, ডানপিটে; অন্যদিকে পূরবী শান্ত ধীরস্থির।
বিশ্বনাথ, বিষ্ণু, রাঙা মা, ওসি আমিন উদ্দিন, সেলিম খান, আবু জামসেদ প্রমুখ সবাই ভিন্ন মানুষ। ভিন্ন তাদের চরিত্র। প্রত্যেকেই সমাজের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছে। সবকিছু ছাপিয়ে আমার পূরবী চরিত্রটা বেশ মনে ধরেছে। এমন এক মেয়ে, সব প্রতিবন্ধকতা, বাঁধা পেরিয়ে নিজের লক্ষ্যে গিয়ে মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করতে সচেষ্ট।
• বানান ও সম্পাদনা :
এই বিষয় নিয়ে আসলে বেশি কিছু বলার নেই। প্রকাশনা জগতে সম্পাদনা আর প্রুফ রিডিংয়ে কেন এত উদাসীনতা সেটা ঠিক বুঝে উঠতে পারি না। বানান ভুলের আধিক্য প্রচুর না থাকলেও বেশ কিছু ছিল। যা বইয়ের মন কমিয়ে দিতে যথেষ্ট। কিছু জায়গায় বাক্য গঠনে সমস্যা লক্ষ্য করেছি। কি/কী এর ভুল ব্যবহার ছিল বেশ কয়েক জায়গায়। একটা জায়গায় লক্ষ্য করেছি সুপর্ণাকে গৌরহরির ভাবী হিসেবে সম্বোধন করা হয়েছে। কিন্তু হিন্দু পরিবারে তা বৌদি হওয়ার কথা। যদিও পরবর্তীতে শুধরে নেওয়া হয়েছে।
এগুলোর জন্য আমি লেখককে দোষ দিতে নারাজ। এত বড়ো উপন্যাস লেখার ক্ষেত্রে লেখক একটু আধটু ভুল করতেই পারেন। সেগুলো ঠিক করার দায়িত্ব প্রকাশনীর। কিন্তু আমাদের প্রকাশনীগুলো সেটা করবে না। চমকপ্রদ প্রচ্ছদ, দুর্দান্ত বাইন্ডিংস, বেস্ট প্রোডাকশনের নাম ভাঙিয়ে প্রকাশনীগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েই নজর দেয় না। সম্পাদনা আর প্রুফ রিডিং। ফলে ভালো বইগুলোর গুণগত মান কমে যায়।
• প্রচ্ছদ ও প্রোডাকশন :
বইয়ের প্রচ্ছদ অনেক সুন্দর। বৃষ্টির দিনে ঝোড়ো হাওয়া যেমন সবকিছু ওলট পালট করে দেয়, প্রচ্ছদে তেমন আবহ আছে। নামলিপিও বেশ। সাধারণ, তবুও অসাধারণ। বইয়ের বাঁধাই চমৎকার ছিল। বিশাল কলেবরের এই উপন্যাস পড়তে বিন্দুমাত্র অসুবিধা হয়নি। পৃষ্ঠা যেমন খুলে আসেনি, তেমনই বই খুলে আরামে পড়া গিয়েছে।
পরিশেষে, লেখক শরীফুল হাসানের সাম্ভালা বাংলা সাহিত্যে এক মাইলফলক সৃষ্টি করেছে। অনেকের কাছে তাঁর সেরা কাজ ছায়া সময়। আমার বিশেষ পছন্দের উপন্যাস যেখানে রোদেরা ঘুমায়। এই তালিকায় এখন বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণও যুক্ত হলো। এই বইটি সবার পড়া উচিত। লেখকের ভিন্ন কাজ, ভিন্ন আঙ্গিকে লেখা উপন্যাসটি নিয়ে মতামত জানানো উচিত। আশাকরি উপন্যাসটির সাথে সময় খারাপ কাটবে না।
বই : বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ লেখক : শরীফুল হাসান প্রকাশনী : অন্যধারা প্রচ্ছদ : তানিয়া সুলতানা নামলিপি : সালমান সাকিব জিশান প্রকাশকাল : একুশে বইমেলা ২০২২ পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৪১৫ মুদ্রিত মূল্য : ৬৪০ ব্যক্তিগত রেটিং : ৫/৫
"বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ" নামটির মতন বইটিও হৃদয় ছুঁয়ে যাবার মতন-ই। "Art of Revenge" বিষয়টা লেখক বেশ ভালোমতন-ই ফুটিয়ে তুলেছেন উপন্যাসটিতে। বইটি একই সাথে সুন্দর, প্রশান্তিময় আবার হতাশাপূর্ণ ও বটে৷ অদ্ভুত এই জীবনে মানুষের চাহিদার শেষ নেই। কাঙ্ক্ষিত জীবনের আশায় হয়তো মানুষের মিলে যায় আকাঙ্ক্ষার থেকেও বেশি কিছু। তবে জীবনের এই গল্পগুলো বেশ সরল ও সাধারণ। সাধারণ জীবনেও আমাদের দেখা মেলে অসাধারণ কিছু মানুষের সাথে। এই আবু সালেহ চৌধুরী পিন্টু, কারোর জীবনের অ্যালবার্ট পিন্টো বা গৌরহরি সাহা এই ধাঁচেরই একজন মানুষ। সুখ আর ভালোবাসার খোঁজে মানুষটি পাড়ি দিয়েছে এদেশ থেকে ওদেশ। ভালোবাসা তাকে বারংবার ছুঁয়ে গেলেও, পূর্ণতা পায়নি কখনোই। একাত্তরের যুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া সংগ্রামী এই চরিত্রটি প্রতিটি পাঠকের মনে জায়গা করে নেবার মতন। গল্পটিতে অনেক জটিল সমীকরণের সমন্বয় থাকলেও পড়তে গিয়ে হোঁচট খাওয়ার মতন অবস্থা তৈরি হয়নি৷ অনেকগুলো চরিত্র থাকা সত্ত্বেও প্রত্যেকটা মানুষের গল্প এবং পিন্টুর জীবনের প্রত্যেকটি পর্যায় বেশ সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। পিন্টুর জীবনকে বর্ণনা করতে গিয়ে পূরবী, সুস্মিতা, রেভারেন্ড, মাধবী, বিশ্বনাথ, পপি সবার জীবন একই সূত্রে গাঁথার চেষ্টায় লেখক সফল বলা যায়। আর সত্যি বলতে প্রতিটি চরিত্রই মনে ধরে রাখার মতন। বইটি নিঃসন্দেহে শরীফুল হাসানের লেখা আমার পঠিত শ্রেষ্ঠ বই। অনেকদিন মনে গেঁথে থাকবে বইটি, অ্যালবার্ট পিন্টো এবং অন্যান্য চরিত্রগুলো।
বিষাদমাখা, বিষণ্ণ সুন্দর বইটি পড়া শেষ করার পর আল্লামা রুমির একটি কথাই বার বার মনে হচ্ছে, "Out beyond ideas of wrongdoing and rightdoing, there is a field. I'll meet you there."
বিষাদময় জীবন লোকটার। কারো কাছে আলবার্ট পিন্টো, কারো কাছে গৌরহরি সাহা আবার কারো কাছে আবু সালেহ চৌধুরী নামে পরিচিত। সংগ্রামময় জীবন তার। ভালোবাসা তাকে বারবার ছুঁয়ে চলে গেছে। আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করেও পারেনি। তবুও বেঁচে থেকেছে।
নাম : বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ লেখক : শরীফুল হাসান জনরা : উপন্যাস প্রকাশনা : অন্যধারা পৃষ্ঠা : ৪১৫ প্রথমেই বইয়ের প্রচ্ছদ যিনি করেছেন তানিয়া সুলতানা কে আমার ভালোবাসা জানাই। এতো সুন্দর প্রচ্ছদ, বইটা হাতে পাওয়ার পর শুধু তাকিয়েই ছিলাম।
আমি আমার চাকরিসুত্রে বাংলাদেশের বেশ কিছু জেলায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। বইটা পড়ার সময় ময়মনসিংহ শহর, ব্রহ্মপুত্র নদীর পার, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সার্কিট হাউজ পার্ক, হালুয়া ঘাট, কতোয়ালী থানা। সব যেনো চোখের সামনে দেখছিলাম। একজন পাঠকের জন্য ২০২২ এ বসে ১৯৯৪,৯৫, ৯৮, সালে ভ্রমণ করে আসা এ এক অন্য রকম অনুভূতি।লেখক কে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমার খুব প্রিয় একটা শহর ময়মনসিংহ। বইয়ের প্রতিটি পৃষ্ঠা যেনো বিষাদ মাখা। আমি মাঝে মাঝে ভাবি সব ছেড়ে ছুড়ে দিয়ে একদিন উধাও হয়ে যাবো, আসলে কি তা কোনো দিন পারবো। আলব্যার্ট পিন্টো, আবু সালেহ চৌধুরী পিন্টু, গৌরহরি সাহা যেই হোক না কেনো এই চরিত্রটাকে লেখক এতো সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন যে চরিত্রের কষ্ট গুলো যেনো অনুভব করা যাচ্ছিলো। আসলে জীবনে কোনো কিছুই থেমে থাকেনা। শুধু ইচ্ছে শক্তির জোরে অনেক অনেক দূর যাওয়া যায়। পিন্টুর মতো ছেলেরা যাদের পিছুটান নেই তবুও শুধু মাত্র ইচ্ছে শক্তির জোড়েই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন চরিত্রে বিভিন্ন জায়গায় জীবন যাপন করতে হয়েছে। পূরবী, সুষ্মিতা, রাঙা মা, বিশ্বনাথ বাবু প্রতিটি চরিত্র ই মমতা আর স্নেহ দিয়ে বানানো। পুলিশ চরিত্র গুলোকেও অতিরঞ্জিত করা হয় নি কোথাও। আইনের চোখে সবাই সমান। কিন্তু এর পর ও কিছু কথা থেকে যায়। আর এসব কিছু জানতে হলে বইটি শেষ পর্যন্ত যেতে হবে। আপনার কষ্ট করতে হবে না। বই প্রেমী মানুষ গুলোকে এই বই নিজেই টেনে ধরে রাখবে। লেখককে ধন্যবাদ এতো চমৎকার কিছু বই আমাদের দেওয়ার জন্য। কিছুদিন আগেই পড়েছিলাম "যেখানে রোদেরা ঘুমায় " সেখানে পাপের যে পটভূমি দেখানো হয়েছে সেটা যেমন সত্যি এই বই এ যেটা দেখানো হয়েছে সেটাও কি সত্যি না.....
সবশেষে আজ #nationalbookloversday পৃথিবীর সমস্ত বই প্রেমীদের জানাই ভালোবাসা। বই পড়ুন, সময়কে কাজে লাগান।
ছায়া সময়, যেখানে রোদেরা ঘুমায় খ্যাত কথা সাহিত্যিক শরীফুল হাসান ভাইয়ের আরেকটা অনন্য সৃষ্টি বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ।
বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ বইয়ের গল্পটা আসলে কার? অ্যালবার্ট পিন্টোর নাকি গৌরহরি সাহার নাকি আবু সালে চৌধুরী পিন্টুর। গল্পটা কিন্তু সুস্মিতা বা পূরবীর হতে পারে যেটা জানার জন্যই কথা সাহিত্যিক শরীফুল হাসান ভাইয়ের এই বছরের বই বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ। বইয়ের সময় বাংলাদেশের সব থেকে উত্তাল সময়ের। ১৯৭১ থেকে শুরু এর পরে এরশাদ এর শাসন এর পরে ১৯৯১ এর বিএনপির সময় এর পরে ১৯৯৬ এর আওয়ামী লীগের। রাজনীতি নিয়ে লেখক কিছু সাহসী লাইন যুক্ত করেছে বইয়ে, " সামরিক শাসন এরশাদের সাথে কেউ নির্বাচন করবে না বলেও শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নির্বাচন করে" অসাধারণ।
বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ স্বাধীনতা যুদ্ধের এক যুদ্ধ শিশুর আখ্যান যার শুরু খুলনা থেকে এর পরে ভারত, বাংলাদেশ, ঢাকা, ময়মনসিংহ এর পরে জীবনের শেষ সময় ভারতে। বইটা একটা সামাজিক উপন্যাস কিন্তু শুরুতে আপনাকে ধাঁধাতে ফেলে দিয়ে একটা আগুনে পোড়া লাশ, এইটা আসলে সামাজিক উপন্যাস নাকি থ্রিলার। ১৯৯০ দিকে সময় আমাদের মত যারা সব কিছু বোঝার বয়সে ছিল তাদের কাছে বইটা পড়ার সময় সব কিছু চোখে ভাসবে কারন লেখক ঐসময় সব সত্য কাহিনী গুলো বইয়ের পাতাতে তুলে নিয়ে আসছে।
আসলে এই বই নিয়ে কিছু লেখার সাহস আমার নাই। একটা আফসোস এই বছর রকমারিতে বইমেলার সময় যে বেস্টসালার তালিকা দেওয়া হয়েছে যেখানে এই বই নেই। আমাদের দেশের পাঠকরা আসলে কি পড়ে সেটা নিয়ে আমি চিন্তিত। এক লেখক বলেছিলো বাংলাদেশের পাঠক দের নাকি মহামারী চলছে কথাটা ঠিক। যারা বই পড়ে তাদের সবার এই পড়া উচিৎ।
কিছু গল্প শুরু হয় শূন্যতা দিয়ে এবং এর সমাপ্তিও ঘটে অসীম এক শূন্যতা দিয়েই। 'বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ' যেন পূর্ণতা পেয়েছে অসীম এক 'শূন্যতা' দ্বারাই।
'একটা যুদ্ধ' বদলে দেয় অনেক কিছু। বিসর্জনের মাধ্যমে যে অর্জন তা যুদ্ধই যেন আমাদের খুব সুন্দর ভাবে বুঝিয়ে দেয়।
'স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন'-- গল্পটি পড়তে পড়তে এই প্রবাদটি বারবার মনে পড়ছিল। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে যে অস্থিতিশীলতা বা অরাজকতার শুরু হয়েছিল তা আদৌ কী শেষ হয়েছে? শতশত প্রাণের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, সেই স্বাধীন দেশ কী বাস্তবিক পথশিশুদের আশ্রয় দিতে পেরেছে? এমনই এক অসহায় পথশিশুর গল্প এটি।
যে শিশুটি কখনও সামাজিক পদমর্যাদা দ্বারা পিষ্ট, কখনও বা ধর্মের শেকল দ্বারা আবদ্ধ। সে কী মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান, না শুধুই একজন মানুষ! গল্পের নানান বাঁকে পিন্টু নামের ছেলেটির পরিচয় পাই ভিন্নধর্মী কয়েকটি নাম দ্বারা। আলবার্ট পিন্টো, গৌরহরি কখনওবা আবু সালেহ চৌধুরী।
গল্পটি কয়েকটি সময়কালে দেখানো হয়েছে এবং পাঠক খুব সহজেই সেই সময়গুলোর সাথে রিলেট করতে পারবে। বইয়ে উঠে এসেছে রাজনৈতিক এবং আর্থ-সামাজিক ব্যাপারগুলো যা দ্বারা তৎকালীন অস্থিরতা বা সমাজব্যবস্থা সম্পর্কে পাওয়া যায়।
একজন পাঠক হিসাবে আমার কাছে বইয়ের অন্যতম আকর্ষণ চরিত্রায়ন। ব্যক্তি জীবনেও আমার কৌতূহলের বস্তু এই মনুষ্য সম্প্রদায়। তাই কোনো গল্পের চরিত্রের বৈচিত্র্যতা আমাকে অন্যরকম আনন্দ দেয়। আর এই বইটি ভালো লাগার অন্যতম কারণ চরিত্রায়ন। না এই গল্পে খুব আকর্ষণীয় কোনো চরিত্র নেই, কিন্তু আমাদের ঠিক আশেপাশের মানুষগুলোই যেন এই বইয়ে উঠে এসেছে। ক্ষমতাধর, ক্ষমতাসীন, লোভী-লম্পট, স্বার্থপর, বিবেকবান অথবা সবকিছুর সংমিশ্রণ, কোন চরিত্রটি এই বইয়ে নেই। চাঞ্চল্যে ভরপুর কিশোরী তথা তরুণীর যেমন দেখা মেলে,ঠিক তেমনি শান্ত, বুদ্ধিদীপ্ত ব্যক্তিত্ববান তরুণীকেও খুঁজে পাওয়া যাবে এই গল্পে। রাঙা মা মমতাময়ী এক নারী - বারবার মনে হচ্ছিল গল্পে এই মহিলার আনাগোনা আরেকটু থাকলে বেশ হতো। লোলু���, অর্থ��ান হামিম খান এবং সেলিম খান এই চরিত্রগুলো যেন সমাজের কলঙ্ক হিসাবে ফুটে উঠেছে। আবার এর উল্টো চিত্র পাওয়া যায়। মানিকচন্দ্র বা হামিদ খানের মতো বিবেকবান চরিত্রেরও দেখা মেলে। কিন্তু পাঠক হিসাবে আমার একান্ত নিজস্ব মতামত এই বইয়ের সবচেয়ে স্বার্থপর চরিত্র বিশ্বনাথ সরকার। মানুষ যেমন পয়সা দিয়ে শিকারী কুকুর কিনে ঠিক সেরকম সে যেন এক অনাথ পথশিশুকেও কিনে নিয়েছিল। আপাতদৃষ্টিতে অথবা অনেক পাঠক হয়তো এ ব্যাপারে আমার সাথে দ্বিমত পোষণ করবেন কিন্তু বিশ্বনাথ সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপের মাধ্যমে লোকটিকে স্বার্থপর ছাড়া কিছুই ভাবতে ইচ্ছা করেনি।
গল্পের মূল চরিত্র পিন্টু নামের অসহায় এক পথশিশু। যে ছেলেটি ৭১'র যুদ্ধে বাবা-মা, ভাইকে হারিয়েছে। মৃত্যু মুখোমুখি সময়ে তার মা তাকে ছোট্ট এক চিরকুট দেয়। সেখানে জ্বলজ্বল করে লেখা আছে তার অস্তিত্বের শেকড়। সে কী খুঁজে পাবে তার শেকড়কে? তারা কী তাকে সহজ ভাবে গ্রহণ করবে অথবা সে কী তাদের সহজ ভাবে গ্রহণ করতে পারবে? নাকি রক্তের সম্পর্ক থেকে বড় হয়ে যাবে আত্মার সম্পর্কগুলো?
পিন্টু এই চরিত্রটি শূন্যতার অপর নাম যেন। কামার যেমন লোহা পিটিয়ে দা তৈরি করে, ঠিক তেমন ভাবে পিন্টু নানারকম ঘাত-প্রতিঘাতে ছুরির ফলার মতো ধারালো হয়, কখনও বা শোকের ছায়ায় ডুবে যায়। ছেলেটির জীবনে প্রেমও এসেছিল। কখনো উদ্দাম হীন ঝড়ের মতো কখনওবা শান্ত দীঘির জলের মতো। যদিও বইটি উত্তম পুরুষে লেখা নয় তারপরও লেখক এই চরিত্রটির মাধ্যমেই গল্পের বেশির ভাগ অংশ বলে গিয়েছেন। হয়তো এই কারণে বইটি পড়তে পড়তে গাঢ় বিষাদে মন অবসন্ন হয়ে পড়ে।
বইটির ব্যাপারে আমার অভিযোগ খুবই সামান্য। কথোপকথনে আঞ্চলিকতার টান থাকলে আরও ভালো লাগতো। যেমন পুরান ঢাকার ভাষা বা কলকাতার পটভূমিতে ভাষাটা ওদের একসেন্টে হলে আরও ভালো লাগতো।
গল্পের প্রতিটি বাক চমৎকারভাবে সাজানো। পড়তে একটুও ক্লান্ত লাগবে না। শেষ হওয়ার পর পূর্বের কথাই বলতে হয়, মন ভারাক্রান্ত হবে এবং অনুভব করবেন অসীম শূণ্যতা।
সুলেখক শরীফুল হাসান আমার তখন থেকেই প্রিয় যখন আমি 'সাম্ভালা' পড়েছি। বাংলা সাহিত্যে 'ফ্যান্টাসি' জনরা পাঠকপ্রিয়করনে তাঁর ভুমিকা অপরিসীম। আশা করি সামাজিক বা সমকালীন উপন্যাসেও উনি সমান ভাবে সাফল্য পাবেন।
জীবনে বাতাস আসে, বাতাস যায়, আসে বৃষ্টি-ঝড়-ঝঞ্ঝা। কিছু বৃষ্টি আপনের জীবনের সাথে এমনভাবে আষ্টেপৃষ্টে থাকব, অনেক অনেকদিন পরও যার গন্ধ আপনের মস্তিষ্ক মনে রাখব।
কিছু ঝড় আপনের পারিপার্শ্বিক অবস্থায় সৃষ্ট, যেইখানে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আপনের হাত আছে। আবার কিছু ঝড়ে আপনে কেন আপনের বাপ-দাদা-চৌদ্দ গোষ্ঠীর কারও হাত নাই!
কিন্তু কন তো, সবথাইকা বড়ো বড়ো ঝড়গুলো চলে কোনহানে?
—আপনের মস্তিষ্কে, প্রতিনিয়ত।
এহন এই মুহুর্তে যে অবস্থানে আপনে আছেন, সেই অবস্থান থেইকা আপনে কিছু কিছু পরিবর্তন আনতে চাইতাছেন আপনের জীবনে, যাতে জড়িত থাকেন আপনে নিজে, আপনের প্রিয় মানুষেরা। মনে মনে ভাবতাছেন, বিলিভ করতাছেন, স্বপ্ন দেখতাছেন, প্লান করতাছেন কিন্তু... কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু বাতাস-বৃষ্টি-ঝড় আইসা আপনার সমস্ত পরিকল্পনারে এলোমেলো কইরা দিয়া যাইতাছে।
এইডাই কি আমাগো জীবন না?
বিষয়টা এমুন না হইয়া এমুনও তো হইবার পারত, সময়ডা কেন আমার হইল না—মুহুর্মুহু আপনেরে চিন্তার ভেলায় ভাসায়, কাগজ পোড়াইতে বাধ্য করে।
একাত্তরের যুদ্ধের পরিমণ্ডলে ছোটো শিশুগো পরবর্তীতে মানসিক বিকাশ বা পারিবারিক গোলকধাঁধায় বাইড়া ওঠনের একখানা সচিত্র তৈলচিত্র আঁকছেন লেখক পুরো বই জুইড়া।
চমৎকার টাইমলাইন—প্রোটাগনিস্ট এর দারুণ ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট—অনেকগুলো দ্বন্দ্ব—নিজস্ব ইনসাইটের সংমিশ্রণ — সব মিলায়া বেশ আনন্দ দিছে বইটা।
অ্যালবার্ট পিন্টো থাইকা গল্পটা কীভাবে সবার হয়ে গেল, আবার সবার হইতে হইতে কীভাবে শুধুমাত্র পিন্টু আর গৌরহরির হইল — এই বিষয়টা উপন্যাসের সার্থকতা আইনা দিছে।
ভদ্রলোকের ইনসাইট চমৎকার। আরও চমৎকার সহজ ভাষায় প্রকাশ করার ভঙ্গি। ই-এন চত্বরে সবডির পাশাপাশি লেখকের সাথে রাজনীতি-অর্থনীতি-ধর্ম-যুদ্ধ-কৃষ্টি-কালচার-পৃথিবী নিয়া খানিক গ্যাজাইতে পারলে কী আনন্দই না হইত!
ভাবি, ভাবতে ভালো লাগে। আপনিও তো ভাবেন, ভাবেন না?
লেখক কী সুন্দর কইরাই না কইলেন, "পৃথিবী খুব দ্রুত বদলাচ্ছে। আগে মানুষের হিংস্রতা ফুটে উঠত যুদ্ধের ময়দানে। এখন প্রতিদিনই যুদ্ধ চলে। সভ্যতার আড়ালে যুদ্ধ, সভ্যতা টিকিয়ে রাখার যুদ্ধ। বাজারে, সংসারে, চাকরিক্ষেত্রে সব জায়গাতে অঘোষিত যুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধে কেউ জেতে না সাধারণত। তবে সবাই চেষ্টা করে যায়।"
২১৬ পৃষ্ঠায় ছোটোখাটো বাট ব্যক্তিগতভাবে বিরক্তিকর লাগা একখানা ভুল আছে। আর আছে কিছু টাইপো। পরবর্তী সংস্করণে হয়তো আরও নির্ভুল হবে আশা করতাছি।
সব মিলায়া বইটারে সুখপাঠ্য কওন যায় কি না?
—আলবত।
দ্রষ্টব্য: লেখকের ফ্যাক্ট উল্লেখ করার দৃষ্টিভঙ্গি কেউ কেউ আওয়ামী পন্থী হিসেবে ধইরা নিলে অবাক হমু না।
রেকমেন্ড করমু কি না?
—হ হ! তবে রেকমেন্ড করতাছি সবাথাইকা বেশি তাগো, যারা দিনের পর দিন স্বপ্ন সাজায়, স্বপ্ন ভাঙতে দেখে, আবার স্বপ্ন সাজায়। চায় না সাজাতে, তবুও সাজায়া ফেলে যখন অবচেতন মন সচেতন মনের চাইতে বেশি শক্তিশালী হইয়া দেখা দেয়।
ধন্যবাদ সাধারণত আমি সবাইরেই দেই, বোবা-কালা ভ্যানওয়ালা শহীদুল ভাই থেকে শুরু করে একেবারে ছোট্টো ৮ মাসের সাদকে পর্যন্ত। শুধু ধন্যবাদ দেই না একেবারে আপন, কাছের বড়ো ভাইগো। তাই তানজিম ভাইরেও ধন্যবাদ দিলাম না।
বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ কয়েকজন বিশাল হৃদয়ের মানুষের গল্প অথবা মানুষরুপী কিছু পশুর উপাখ্যান। পিন্টু অথবা পিন্টো অথবা গৌরহরির অমোঘ নিয়তির টানে ভেসে বেড়ানোর গল্প। পূরবীর ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের গল্প। সুস্মিতার আবেগের বাস্তবতার কাছে হেরে যাওয়ার গল্প। জামশেদ সাহেবের চ্যালেঞ্জ নিয়ে হার না মানার গল্প। এক মায়ের গল্প, সেই মা এর নাম রাঙা মা। বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ সময়ের গল্প,২৩ বছরের অস্থির সময়ের গল্প। যে গল্প চলেছে তার আপন গতিতে পাহাড়ি নদীর মতো, মেঘ আর কুয়াশার চাদর জড়িয়ে।
অদ্ভুত বিষন্নতার একটা ঘোর লাগা অবস্থায় শেষ করলাম বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ। পিন্টু, যে কিনা বেচে থাকার তাগিদে কখনো হয় পিন্টো, কখনো হয় গৌরহরি। প্রকৃতি শূন্যস্থান পছন্দ করেনা বলেই হয়তো তার জীবনে আসে রেভারেন্ড হেনরী সরকার অথবা গোপাল। এরপর খুব সল্প সময়ে মাতৃরুপী মাধুরীর মায়ার অপুর্নতা পুরনে চলে আসে রাঙা মা। বিষ্ণু আর বিশ্বনাথকে দিয়ে পুরন হয়ে যায় ভাইয়ের শুন্যতা। ভালোবাসা আর দ্বায়িত্ববোধের কঠিন জালেও আটকে থাকেনা পিন্টুর নিয়তি..... এর চেয়ে বেশি বললে সম্ভবত স্পয়লার দেওয়া হয়ে যা��ে।
কিছু চরিত্র মনে দাগ কেটে গেছে খুব গভীরভাবে। মানুষের মনের একদম গভীরতম অনুভুতি গুলো নিয়ে এরকম অসাধারন বিশ্লেষণ সত্যিই অনেকদিন পাইনি। মায়া নামক এক অদৃশ্য বাধন ছিলো একদম ৪১৫ পৃষ্ঠা জুড়েই। তিনটি ভিন্ন সময়ে বয়ে চলা গল্প পড়ার সময় মনে হচ্ছিলো চলে গেছি সেই সোনালী সময়ে। প্রতিটা অধ্যায়ের নাম আমাকে আমাকে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করেছে। ভিন্ন টাইমলাইন গুলো অসাধারন সুন্দরভাবে ম্যানেজ করা হয়েছে।
অনেক বছর আগে সুনীলের পূর্ব-পশ্চিম আর সেই সময় পড়ে যেরকম অনুভূতি হয়েছিল, বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রান পড়েও সেই এক ই রকম অনুভূতি হচ্ছে। নিঃসন্দেহে এযাবৎকালের অন্যতম সেরা উপন্যাসের খুব সংক্ষিপ্ত তালিকা করতে গেলেও আমি সেই তালিকায় বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ কে রাখবো।
শুরুতেই বলেছিলাম মেঘ আর কুয়াশার চাদরে মোড়া এক যাত্রা এটি, নামকরন যে কতটুকু পার্ফেক্ট সেটা বই শেষ না করে বুঝতেই পারবেন না। প্রডাকশন কোয়ালিটি একদম টপ নচ। এরকম কাভার আর বাইন্ডিং খুব কম দেখা যায়। বানান ভুল নেই বললেই চলে।
শরীফুল ভাইয়ের লেখনী সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই। বাংলা ভাষায় এই মুহুর্তে উনার চেয়েও ভার্সেটাইল আর কেউ কি আছে? আমার জানা নেই। যেখানে অন্যান্য লেখকদের একটা বড় অংশ নিজের কম্ফোর্ট জোনের বাইরে যেতে চায়না, সেখানে এই ভদ্রলোক প্রতিটা লেখায় এক্সপেরিমেন্ট করেই যাচ্ছে। ম্যাজিক্যাল লেখনী আর বৃত্তের বাইরে যাওয়ার এই প্রবনতার জন্য উনাকে স্যাল্যুট। আর জীবনের নির্মম বাস্তবতা কে নির্দয়ভাবে তুলে এনে এভাবে এক অদ্ভুত বিষন্নতায় মনকে এভাবে আক্রান্ত করার ক্ষমতা খুব কম লেখক ই দেখাতে পারে। এটার মতো জীবনঘনিষ্ঠ একটা লেখা অনেক বছর পর পর ই আসে।
এই বইটার সবচেয়ে প্রিয় লাইনটা লিখে শেষ করছি,
"পৃথিবীতে ভালোবাসা যখন দেখানোর তখনি দেখাতে হয়। না হলে সময় এত বদমাশ যে, দ্বিতীয়বার আর সুযোগ দেয়না কখনো। "
সামনে চাকরির পরীক্ষা, পড়তে বসলেই বইয়ের চরিত্র গুলো মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। আমার একবার কোনো চরিত্র ভাল লাগল বইয়ের শেষে তারা যেন হ্যাপি থাকে তা চাই, বই শেষ হয়ে গেলেই তো চরিত্র গুলোও শেষ। তাই চরিত্র গুলোকে হাসিমুখে বিদায় দিতে ইচ্ছে হয়। আগে অবশ্য এতটা আবেগী রিডার ছিলাম না। যাই হোক; পিন্টু, পূরবী, রাঙা মা চরিত্রগুলো খুব ভাল লেগেছিল। এদের কি হবে, সুস্মিতার কি হলো এসব ভাবতে ভাবতে চাকরির পড়া হচ্ছিল না।
বইটার মাঝামাঝি এসেও মনে মনে একটা দারুন রিভিউ দিবো বলে ঠিক করে রেখেছিলাম। কিন্তু এখন আর ইচ্ছে করছে না। কয়েকটা চরিত্রের পরিণতি মানতে কষ্ট হয়েছে, আর আমাদের আসে পাশের বেশ কিছু মানুষেরও যে এমন পরিণতি হয়েছে টা ভাবলেও মানুষ জাতির উপর ঘেন্না আসে।
বিভীষিকা ও বিসর্জন অধ্যায় দুটো পড়তে খুব কষ্ট হয়েছে, মন খারাপ হয়েছে। এরপর আর বইটা কন্টিনিউ করার ইচ্ছাও মরে গিয়েছিল। এই জন্যেই এক তারা কমিয়ে দিলাম। হয়ত কোনো এক সময় পাঁচ তারা করে দিব।