বইয়ের নামটা আমাকে চুম্বকের মতো আকর্ষণ করে রেখেছিলো কেনার আগেই।" মেলো ইয়েলো, শিউলিগাছ আর বারান্দা হচ্ছে" নামের "হচ্ছে"টা হচ্ছে সৃষ্টি হওয়া, নির্মিত হওয়া। আর এই গল্পগ্রন্থে সৃষ্টি হচ্ছে বিচিত্র, বহুবর্ণিল এক জগৎ। গল্পের চরিত্র হিসেবে মোহাম্মদপুরের সাধারণ এক দম্পতি, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থেকে শুরু করে উঠে আসছে মধ্যযুগের চিত্রকর, মাতাল অরণ্য, শেখ মুজিব, শহরের ধুলাবালি, রানি ময়নামতি, ধ্যানী ভিক্ষু, ঝিঁঝিঁপোকা, করপোরেট বাণিজ্য, বিষণ্ণ তরুণী, নিঃসঙ্গ গৃহিণী, মিতালি অথবা জান্নাত, দাফন অথবা দাহ। আর গল্পের নামগুলো কী অদ্ভুত সুন্দর - ইশতেহার ও অলপ্পেয়ে, ঝিঁঝিঁপোকারা যা বলে থাকে, মেলো ইয়েলো শিউলিগাছ আর বারান্দা হচ্ছে, মোহাম্মদপুর যেভাবে নির্লিপ্ত! মন্ময় ও তন্ময় দুই ধরনের গল্পেই ইশরাত তানিয়ার কণ্ঠস্বরের স্বকীয়তা ও স্বাচ্ছন্দ্য টের পাওয়া যায়। সবক্ষেত্রে সফল না হলেও বিষয়বৈচিত্র্য চোখে পড়ার মতো। এই লেখিকার অন্য বইগুলো পড়ার ইচ্ছে রইলো।
(আসমা আঁখি আপুকে ধন্যবাদ বইয়ের খোঁজ দেওয়ার জন্য।)
'মেলো ইয়েলো শিউলিগাছ আর বারান্দা হচ্ছে' - নামটা কি সুন্দর! অদ্ভুত মেলানকোলিক আর নস্টালজিয়ায় হুহু করে উঠে বুকটা। প্রতিটা গল্পই অসাধারণ। শেষ গল্পটা মনে খুব দাগ কেটে রয়ে গেছে।
আচ্ছা আমরা কি জানি মেলো ইয়েলো মানে কি? না জানলে বইটা পড়েই জানবেন।
ইশরাত তানিয়া আপু প্রচন্ড প্রচারবিমুখ একজন মানুষ। তাই আপুর বইয়ের নাম গুটিকয়েকজন ছাড়া আর কেউই জানেনা। আমি চাই আমরা সবাই আপুর বই কিনে পড়ি এবং নিজেদেরকে অসম্ভব সুন্দর গল্প গুলো থেকে বঞ্চিত না করি।
অটোগ্রাফে আপু আমাকে একটা 'বারান্দা' দিয়েছেন। আপুকে অনেক ধন্যবাদ।
ইশরাত তানিয়ার গল্পের জগৎ এত অনুভবময়! লেখিকার অন্তরঙ্গ আর গভীর বয়ানে গল্পগুলো নিউরনে সজীব সচিত্র সচল হয়ে উঠে। নামগল্পটি সহ বেশ কয়েকটি গল্প আমাকে কিছুক্ষণের জন্য আবিষ্ট করে রেখেছিলো। একটা গহীন নির্লিপ্ত শুন্যতায় মন খোয়া গিয়েছিলো। লেখিকার স্বকীয়তা বেশ প্রশংসাযোগ্য। দু'তিনটি গল্প বাদে পুরো বই বেশ ভালো লেগেছে।গল্পগুলোর চমৎকার সব নাম আর হঠাৎ হঠাৎ দারুণ সব উপমা মুগ্ধকর। ইশরাত তানিয়া আরো পড়বার আগ্রহ আছে।
বইয়ের নামখানা অনেক সুন্দর। সুন্দর নামের মতন বইয়ের গল্পগুলাও বেশ!
ইশরাত তানিয়ার গল্পের স্পেশালিটি হচ্ছে, গল্পের প্লট ইউনিক। এক একটি গল্পের প্লট, বিষয়বস্তু, ধরন আলাদা। সাধারণ জীবন থেকে শুরু করে ইতিহাসের দোর পর্যন্ত হেঁটেছেন লেখিকা। রেকমেন্ডেড!
এই আধুনিক লেখিকার "মেলো ইয়েলো.. শিউলিগাছ আর বারান্দা হচ্ছে" নাম গল্পসহ বাকী গল্প গুলো যেন আমাকে একটা বেড়াজালে জড়িয়ে রেখেছে ! এমন কানেকটেড ফিল করেছি পড়তে গিয়ে... চরিত্রগুলি , জায়গাগুলি আমার নাগালে মনে হলো এই যেমন "কর্পোরেট মাছ " পড়তে গিয়ে স্টিকি নোটের ছোট্ট কাগজে লিস্ট করে ফেললাম আজকে অফিস থেকে ফেরার পথে আমার কেনা লাগবে পেঁয়াজ,আলু ,ডাল ...ইত্যাদি খেয়াল করে দেখলাম আমার গায়ের জামা মেলো ইয়েলো... সন্ধ্যায় ফিরে স্টুডেন্ট কে পড়ালাম- নির্মুলেন্দুর কবিতা স্বাধীনতা, এ শব্দটি আমাদের কীভাবে হলো । ৭ই মার্চ আর বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে একটা কবিতার রেশ "পুনরুত্থানের সময় " তে এসে আরো গভীর হলো। "দাফন অথবা দাহের কিছু আগে " গল্পের অরূপ বাবুর মত আমিও বৃষ্টি থামার অপেক্ষায় ...
সব মিলিয়ে ৩.৫ /৫ দিচ্ছি ।
হারুন ভাইয়ের বইয়ের গোডাউন থেকে এই বই আমায় পড়তে দিয়েছিলেন। সেইজন্যে অনেক ধন্যবাদ তাকে!!
অদ্ভুত সুন্দর ন্যারেটিভ, প্রতিটি গল্প পড়েই চমকে উঠতে হয়। আমাদের নিত্যদিনের দুনিয়ার গল্পগুলো যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে এই স্নিগ্ধ ন্যারেটিভের জন্য। বইটি পড়ার সময় বার বার মনে হবে গল্পগুলো শেষ না হোক।
সাধারনত ফেসবুকীয় লেখকদের এড়িয়ে চলি, তার উপর এইরকম উদ্ভট(?) নামের বই। @Harun Ahmed ভাই পড়তে না দিলে হয়তো পড়তাম না কখনোই। লেখিকার পরবর্তী বইয়ের অপেক্ষায় থাকব।
কখনো কখনো মনে হয় মানুষের সব গল্প হয়তবা বলা হয়ে গেছে। আবার অনেক সময় মনে হয় যা বলা হয়েছে তার চেয়ে ঢের বেশি গল্প হয়তো এখনো বলার আছে। এই বইয়ের গল্পগুলো নিয়ে বলতে হ'লে বলব এখানে নতুন গল্প হয়ত পাইনি, কিন্তু নতুনভাবে বলার চেষ্টা দেখতে পেয়েছি। বইয়ের নামটা বেশ অস্বস্তি জাগানো। এই 'হচ্ছে' দিয়ে কি কিছু হওয়া বুঝানো হয়েছে? যেমনভাবে ফুল বা ফল গাছে হয়? কে জানে? হয়ত পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য এমন নাম। গল্পগুলো বেশ।
বইয়ের নামের মতো এই গল্প সংকলনের ১২টি গল্পও ভিন্ন স্বাদের। প্রতিটা গল্পই ভালো লেগেছে। এমন ছোটোগল্পের বইগুলো খুঁজে খুঁজে সবার পড়া উচিত। গল্পের ভাষা যেমন চিত্ররূপময় তেমনি আইডিয়াও অভিনব।
কিছু গল্প আমাদের নস্টালজিক করবে, কিছু গল্প আমাদের শহর আর মনকে নির্লিপ্ত করে দিবে, পল গগ্যাঁর 'নোয়া নোয়া' গল্পের তাহিতি দ্বীপের গল্প বলবে, বঙ্গে বুদ্ধ ধর্মের উদ্ভব আর বিনাশের ইতিহাস বলবে, আর কিছু গল্প ভবিষ্যৎ ডিস্টোপিয়ান পৃথিবীর কথা বলবে। পাশাপাশি গার্মেন্টস শ্রমিকের ধুলাবালি, একজন গল্পপ্রেমিকের লেখকের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা আর দ্রোহের গল্প বলবে।
যারা একদম স্বতন্ত্র, মনে রাখার মতো ছোটোগল্পের বই খুঁজছেন তাদের জন্য অবশ্যপাঠ্য মনে করি। প্রতিটা গল্পই পাঠকের সম্পূর্ণ মনোযোগ দাবি করবে। এই বইয়ের প্রতি পাঠকের ভালোবাসা তৈরি হোক।
ইশতেহার ও অলপ্পেয়ে একটি শব্দের পোস্ট রিয়েলিটি গজ্ঞা ঠাকুরের সুগন্ধি মোহাম্মদপুর যেভাবে নির্লিপ্ত পুনরুত্থানের সময় মেলো ইয়েলো, শিউলিগাছ আর বারান্দা হচ্ছে ধুলাবালি প্যাকেজ ময়নামতি (সেটেরিস প্যারিবাস) ঝিঁঝিপোকারা যা বলে থাকে করপোরেট মাছ ডি-ওয়ানের একজন দাফন অথবা দাহের কি��ু আগে
এখানে যে বারোটা শিরোনাম, অসাধারণ বারোটা শিরোনাম, এগুলো সব ক'টা একেকটি গল্পের নাম। গল্পের নামকরণও একটা শিল্প হতে পারে। এই প্রমাণ! আমার বইটা পড়া হয়েছে বেশ কিছুদিন আগে। লেখা হয়নি তখন এ নিয়ে। মোহাম্মদপুর যেভাবে নির্লিপ্ত, দাফন অথবা দাহের কিছু আগে, করপোরেট মাছ আর বইয়ের নামগল্প গল্পগুলো উল্লেখযোগ্য ভালো লেগেছে। সমস্যা হল, বিষাদ ছেয়ে যায়। বিষাদ ছেয়ে যায় ব্যস্ততায়, বিষাদ ছোঁয় অপ্রাপ্তিতে, বিষাদ ছোঁয় ক্লান্তিকর ধুলোমাখা শহুরে জীবনে। সেগুলো আরো নাড়াচাড়া দিয়ে ওঠে অমন গল্প পড়লে। একটু মনোযোগ দিয়ে পড়তে হয়েছে, মনোযোগ আসলে নিয়েছে বইটা। ইতিহাস থেকে কর্পোরেট, বিষয়বস্তুর ভেলকিবাজি না থাকলেও বিশেষত্ব ছিল। সবগুলো গল্প আবার হৃদয় ছুঁতে পারেনি। কিছু গল্প বোধহয় ধরতে পারিনি ঠিকঠাক লেখিকা কি বোঝাতে চাইছেন। তবে সব মিলিয়ে ভালো লেগেছে। সব শূন্যতাই বুঝতে পারার কথা নয়। অসীম শূন্যতার কোথাও ম্যাজিক্যাল শিউলি ফুটবে, কোথাও বারান্দা নির্মান হবে...এমনটাই নিয়ম।
লেখিকার আরেকটি বই সংগ্রহে আছে আমার। সেটিও পড়ার আগ্রহ প্রকাশ করছি শীঘ্রই। দুটো বইয়ের সন্ধানই আমি পেয়েছি আসমা আঁখি আপুর কাছ থেকে। আপুকে ধন্যবাদ।
নামটা সুন্দর, মোড়ক টাও, তাই দেখে কেনা। কাকতালীয় ভাবে, কেনার পরপরই দেখলাম গুডরিডস এ ইতিবাচক রিভিউ। কিন্তু আমার ফোরসড প্রোকাস্টিনেশন এর জন্য পড়া হয়ে উঠেনি। এই মাসে শুরু করলাম। প্রথম গল্পটা পড়ে বুঝেছি, সময় নিয়ে পড়তে হবে। সুন্দর কিছু গল্প আচছে, কিছু এক্সপেরিমেন্টাল মনে হয়েছে। গল্প গুলা ভাবাবে খুব। কিছু কিছু কন্টেন্ট কারো কারো কাছে ইনএপ্রোপ্রিয়েট মনে হতে পারে, সেটা নিতান্তই ব্যক্তিগত। পড়ে দেখতে পারেন। সামথিং নিউ।
অফিসে রেখে দিয়েছি শেলফে। সময় পেলেই পড়ে নেই দুয়েক পাতা।