2.5 stars! লেখকের লেখার হাত চমৎকার। কিন্তু গল্পের শেষটা এলোমেলো। দুইটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেলাম না। ১. ভূপতিবাবুর ছেলেকে দেখে তারানাথ আগে কেন বুঝল না যে তার সময় ঘনিয়ে এসেছে? ২. রাধারাণী যদি জেনেই থাকে যে তার স্বামী কোথায় তাহলে তারানাথের কাছে গেল কেন?
বৃষ্টির দিন.. ধোঁয়া ওঠা ফুলুরি আর পাসিং শো এর সাথে মটলেনের বাড়িতে তারানাথের গল্প (পড়ুন অভিজ্ঞতা) জমে উঠবে না তা কি হয়? তারানাথ এবার নলহাটির এক গ্রামে, সেখানে ঘটে চলেছে বজ্রপাতের প্রভাবে একের পর এক মৃত্যু। এই মৃত্যু কি স্বাভাবিক? না কোনো ষড়যন্ত্র? হংসপরমেশ্বর পুঁথিতেই বা কি লেখা রয়েছে? তারানাথ কি পারবে গ্রামের মানুষদের রক্ষা করতে নাকি তারাও একে একে মৃত্যুবরণ করবে।
সবার প্রথমেই বলে রাখি বইটি একটি ফ্যান ফিকশন...তো সেভাবেই পড়বেন সবাই বইটি...এবার আসা যাক গল্পে... গল্প অত্যন্ত সরল এবং খুব সহজেই নিষ্পত্তি হয়েছে.. তবে হ্যাঁ লেখকের লেখনী ক্ষমতা ভালো তাই পড়তে গিয়ে কোথাও ক্লান্তি বা একঘেয়েমি আসবে না। গল্পটি ভালো হলেও গল্পের বাঁধন বেশ নড়বড়ে লেগেছে এবং শেষটা হতাশ করেছে, তারানাথ তান্ত্রিক সুলভ সেই সাসপেন্স বা থ্রিল এর অভাব বোধ করেছি। বইটিকে কখনোই বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বা তারাদাস বন্দোপাধ্যায়ের তারানাথ তান্ত্রিকের সাথে তুলনা করা যাবে না। বর্তমানে অনেকেই ফ্যান ফিকশন লিখেছেন তারানাথকে নিয়ে কিন্তু এই বইটিকে তাদের তুলনায় অতটা ভালো লাগেনি। গল্প পড়তে গিয়ে অনেক চরিত্রের সঙ্গে মিল খুঁজে পেতে পারেন (ব্যক্তিগত মতামত)। সামগ্রিকভাবে এটি একবার পড়ার মত গল্প।
আমি হরর খুব কম পড়েছি। বলা যায় একদম না এর পর্যায়ে। তবুও কিছু কিছু সময় পড়ার চেষ্টা করি। এই দিকে তারানাথ আমার প্রিয় চরিত্র। এই চরিত্র আমার কাছে কেন জানি সব সময় একটা রহস্যময় হয়ে থাকে।
ত্রিজিৎ কর এর লেখা আবার তারানাথ বইটি শুরু যখন করি তখন ভাবিনি কাহিনী কতটুকু। শুধু এটাই ভেবেছি যে এটা পড়তে হবে। যদিও পড়ার শেষ একটু হতাশ হয়েছি। গল্পটি বেশি ভাল হলেও কেন জানি একটু নড়বড়ে লাগল। হরর হলেও সেটা আবার হরর হল না।
লেখাটা পড়ে ভাল লেগেছে। বিশেষ করে শেষে উপসংহার অংশটা বেশ ভালো হয়েছে। যদিও প্রথমদিকে লেখাটা বেশ এলোমেলো লাগছিল কিন্তু কয়েক পৃষ্ঠা পরেই লেখাটা গুছিয়ে উঠেছে।
লেখার মাঝখানে পাঠককে ডেকে এটা ওটা দেখানোটা আসলে শোভনীয় কিছু না। আলাদা করে দেখানোর কিছু নেই, পাঠকরা তো লেখা পড়ছেই। প্রথমদিকে লেখক কেন এই ভুলটা করেছেন সেটা বোধগম্য হলো না। শেষের ফিনিসটা খুব চমৎকার হয়েছে। সে কারণেই চারটা স্টার দিলাম।