একটা জাতির সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তারুণ্য। তরুণদের পরিচর্যা করতে হয়। সমাজকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হয়। তাদের ভীত তৈরি করতে হয় সততা, মেধা, দক্ষতা ও দায়িত্ববোধ দিয়ে। তাদের ভিতর থেকে বের করতে হয় সম্ভাবনা। তরুণদের সম্ভাবনা বের করতে সমাজে তৈরি করতে হয় যুগোপযোগী বিভিন্ন ক্ষেত্র। যে দেশে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ নেয়ার মতো তরুণ সমাজ আছে, সে দেশটাই বিশ্বে উন্নত। আর এই তরুণদের গড়তে প্রয়োজন বিশ্বমানের শিক্ষা, বিদ্যালয় ও শিক্ষক। বিশ্বমানের প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ নেয়ার মতো তরুণ জনগোষ্ঠী কালক্রমে সামাজের সবচেয়ে ত্যাগী এবং অভিজ্ঞ একটা জনশক্তিতে পরিণত হয়। তাদের হাত দিয়ে আবার গড়ে উঠে অনাগতকালের নতুন প্রজন্ম। গড়ে উঠে কালোত্তীর্ণ তারুণ সমাজ তৈরির এক সংস্কৃতি। স্বাধীনতার অর্ধশত বছরে দাঁড়িয়ে, বাংলাদেশের স্বপ্ন চোখে সেই তারুণ্যকে গড়ার ফোকাস থাকতে হবে গভীর। থাকতে হবে সুস্পষ্ট ও নির্দিষ্ট রূপরেখা। অণুপ্রবন্ধের এই বইটিতে, পাঠক সেই রূপরেখারই কিছু সাবলীল বর্ণনা খুঁজে পাবেন।
এটি একটি অণুপ্রবন্ধের বই, মোট ৫২টি অণুপ্রবন্ধ নিয়ে বইটি রচিত। বইটিতে বিবিধ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। দেশের গবেষণা ব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাভাবনা, নারী শিক্ষা, নারীর কর্মসংস্থান, জনশক্তি, রেমিট্যান্স, ধর্ষণ, ছাত্র রাজনীতি, গনতন্ত্র, বিশ্ববিদ্যালয় এবং আরো অনেক বিষয় নিয়ে লেখক ছোট তবে ভালো মানের অনেক কথাই লিখেছেন বইটিতে। লেখকের ২য় বই এটি, খুবই ভালো মানের লেখা, সচেতন নাগরিক গড়ে তুলতে এমন বই দেশের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। . লেখক বইটিতে বারবার দেশে ভালো মানের গবেষণা ব্যবস্থা তৈরি করার কথা বলেছেন। এই শতাব্দীতে উন্নত দেশ হতে হলে গবেষণা এবং উদ্ভাবনী রাষ্ট্র হওয়া খুবই জরুরি। সামরিক খাতে যতোই ব্যয় করা হোক, একটি দেশের গবেষণা ব্যবস্থা দুর্বল হলে সর্বোপরিভাবে দেশটিও দুর্বল। লেখক খুবই সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন বইটিতে যে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেনো বৈশ্বিক মন্ডলে এতো পিছনের সাড়িতে থাকে, কিভাবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উন্নত মানের করা যায়, কিভাবে ছাত্রছাত্রীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস তৈরি করা যায়। আমাদের দেশের মেধাবীগুলো কিভাবে অকালে ঝড়ে পড়ছে, যারা টিকে থাকছে তারাও বিদেশে গিয়ে কেনো ফিরে আসছেনা, বিসিএস এর চক্করে পড়ে কিভাবে শেষ মেধাবীগুলোও নিঃশেষ হয়ে পড়ছে তারও রয়েছে বিবরণ। আমেরিকাকে বলা হয় ল্যান্ড অব অপরচুনিটি। কেনো বলা হয়? তারা কেনো বিশ্বের এতো এতো দেশের মেধাবীদের নিজ দেশে নিয়ে নিচ্ছে? কেনো চীন এবং ভারত দেশ থেকে এতো মেধাবীরা সেই দেশে পড়তে যায়, গবেষণা করতে যায় তারও উল্লেখ্য রয়েছে বইটিতে। . বইটির একটি অণুপ্রবন্ধ " কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক" নিয়ে কথা বলি, এখানে কলেজের শিক্ষক নিয়োগে প্রক্রিয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলা হয়েছে। উনার মতে কলেজের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াতে বিষয়ভিত্তিক পরিক্ষা নেওয়াই বেশি যুক্তিযুক্ত। এছাড়াও কলেজের শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের থেকেও বেশি কষ্ট করে থাকে। তারা ইন্টারমিডিয়েট, স্নাতক এবং স্নাতকোত্তরের ক্লাস নিয়ে থাকে কিন্তু তাদের প্রমোশন হয় খুবই ধীরে, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পায় দ্রুত। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষদের ক্ষোভ তৈরি হয় আমলাদের বেতন-ভাতা নিয়ে আর কলেজের শিক্ষকদের তৈরি হয় অন্য ক্যাডারদের থেকে তাদের দিকে নজর কম দেওয়াতে। কিন্তু উচ্চশিক্ষার জন্য কলেজের শিক্ষকদের দিকেই আগে নজর দেয়া উচিত, তারা শিখে আসতে পারলে তাদের দ্বারা হাজারও তরুণ-তরুণী মেধাবী হিসেবে তৈরি হবে। . বইটি পড়তে পারেন, খুবই ভালো মানের একটি বই।
মাস্টরিড, মাস্টরিড এবং মাস্টরিড বুক। আমি পারলে দেশের প্রত্যেকটা মানুষকে এই বইটা গিফ্ট করে— পড়তে বলতাম। রউফুল আলম স্যার অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী নিয়ে এই বইটিতে আলোচনা করেছেন।
বইটাকে লেখকের আগের বই 'একটা দেশ যেভাবে দাঁড়ায়' এর সিকুয়েল বললে খুব একটা ভুল হবে না। তবে আগের বইতে যেমন গতানুগতিক ধারার সাধারণ কিছু মোটিভেশন ছিল এই বইতে সেটা নেই। দেখে ভালো লাগলো।
একটি জাতির সোপান বলা চলে তারুণ্যকে! তারুণ্য যখন বিমুখ হয়ে যায় প্রকৃত শিক্ষা থেকে একটি জাতির তখন এগিয়ে চলাটা দুষ্কর হয়ে পড়ে! যে যুবক গবেষণা করবে, নতুন কিছুর চিন্তা করবে সে জড়িত তথাকথিত ছাত্ররাজনীতির সাথে! বৈশ্বিক বিশ্ব যেখানে গবেষণা, শিক্ষা খাতে নতুন নতুন উদ্ভাবন আবিষ্কার করে নিজেদের জাতিকে করছে উন্নত সেখানে ক্ষুদ্র বাঙালি জাতি জ্ঞানহীন!
আমাদের নেই কাঠামোবদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থা। শহরের মত অপরিকল্পিত হয়ে গড়ে উঠেছে বাংলার শিক্ষাব্যবস্থার। এ বাংলা থেকেই অনেক তরুণ ছুঁটে যাচ্ছে বিদেশ বিভূঁইয়ে নিজের মেধা ছাড়াতে। কেন তারা বাংলাদেশে পারছে না এ প্রশ্নটি যেমন লেখকের তেমনি আমারও বৈকি।
যে ছেলেটা ছোট বেলায় কোন যন্ত্রপাতি দেখলে খুলে দেখতে চাইতো এর ভিতরে কি আছে সে ছেলেটা বড় হয়ে কেন এত বিমুখ গবেষণা করতে একটি ছোট ফ্রিজের ভিতর কোন কোন উপাদান ঘিরে আছে?
"বাংলাদেশের স্বপ্নচোখ" লেখক বাংলার ছেলেদের কেমন করে স্বপ্ন দেখতে হয় তার কথা জানিয়েছেন। তিনি কিছু ভালো লেখকদের উদাহরণ টেনেছেন, গ্রাম বাংলার চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন, আমাদের শিক্ষা বিমুখতা, ছাত্ররাজনীতির কালো অধ্যায় তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি কাপর্ন্য করেন নি জানাতে বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান যদি হয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়া কোনো ছাত্র তাতে বিজ্ঞানের অগ্রগতি কল্পনা করা ও দুষ্কর। এটি কেবল সম্ভবপর বাংলাদেশে নামক দেশেই।
আমাদের সংস্কৃতিতে ঢুকে যাওয়া শিক্ষকদের রাজনীতি, তাদের গবেষণা বিমুখতা, কিভাবে আমরা সম্পদ গুলোকে ধ্বংস করে দিচ্ছি, বাবার পরিচয়, রাজনৈতিক পরিচয়ে নিজেকে বড় করে দেখা এই তরুণ সমাজের কথা বলতে ভুলে যান নি।
আমরা যে ভাগ্য হত্যাকারী একটি জাতি। যে দেশের মাঝে কেউ মাথায় হাত বুলিয়ে বলে না তুমি পারবে। কেউ জানতে চায় না, কি শিখেছ? সবাই জানতে চায় তোমার নাম্বার কত? তোমার সিজিপিএ কত? তুমি কি শিখেছ, তুমি যে সাবজেক্ট টি চার বছর অধ্যায়ন করলে তোমার শিক্ষা তাতে কতটা কেউ জানতে চায় না।
এদেশের ভার্সিটি গুলোতে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বড় প্রশ্ন। আমার তো আছে, সাথে লেখকের আমার থেকে প্রবল প্রশ্ন, পোস্টডক, পিইচডি করা শিক্ষক কেন নিয়োগ দেওয়া হয় না?
অসাধারণ একটি বই! জানা উচিত। কিছু জিনিস মাথায় নিয়ে ঘুরলে নক্ষত্রগুলো খসে যাবে। জীবনে বৈচিত্র্যময় জিনিসের সাথে সাক্ষাৎ করে আমি মরতে চাই না। বইটি সুন্দর ও বৈচিত্র্যময়।
লেখকের ২য় বই এটি। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ভালো ও মন্দ দিকগুলো তিনি তুলনা করেছেন আমেরিকার শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে। বাংলাদেশের গবেষণা খাতের দুর্বল দশা ও তুলে ধরেছেন বইটিতে। পাশাপাশি এই দশা থেকে উত্তরণের কিছু পথ ও উন্মোচন করেছেন বইটিতে।
"একটি দেশ যেভাবে দাঁড়ায় " বইটি সিকুয়েল বাংলাদেশের স্বপ্নচোখ। লেখক রউফুল আলমের ২য় বই। বইটিকে বিয়ে বলার কিছু নেই, প্রথম বইটির মত এটিও মুল বিষয় ছিল শিক্ষা, গবেষণা। বইটিকে শিক্ষা ব্যবস্থার দিকনির্দেশনা বলা যায়। যারা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করেন, শিক্ষার নীতিনির্ধারক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী বা তরুণ প্রজন্মের জন্য বই আসলেই একটি দিকনির্দেশনা।
বাংলাদেশের স্বপ্নচোখ’ বইয়ে লেখক রউফুল আলম শুনিয়েছেন বাংলাদেশ নিয়ে তার ভাবনা। দূর পরবাসে থেকেও বাংলাদেশকে লালন করে চলেছেন হৃদয়ের গভীরে। ৫২টি অণুপ্রবন্ধ দিয়ে সাজানো হয়েছে বইটি। যার বেশিরভাগই বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এই অণুপ্রবন্ধগুলোতে তুলে ধরা হয়েছে প্রিয় মাতৃভূমির সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, এবং আনুষঙ্গিক বেশ কিছু সমস্যা। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের কিছু পথও তিনি দেখিয়েছেন। যেকোনো চিন্তাশীল পাঠক নিঃসন্দেহে বইটি পড়তে গিয়ে কখনো আনন্দে উদ্ভাসিত হবেন, কখনো বা চিন্তার জগতে হারিয়ে যাবেন, মাঝে মাঝে হয়তো অজানা কোনো আশঙ্কায় শিহরিতও হবেন।
বইটি লেখক রউফুল আলমের অনেকগুলো আর্টিকেলের সমন্বয় লেখা।বেশ কিছু আর্টিকেল পড়ে অনেক কিছু জানতে পেরেছি। তবে কিছু আর্টিকেল একদম সাধারণ ছিল আর কিছু আর্টিকেলে সরকারকে বার বার তৈল মর্দন করায় একদম ভালো লাগেনি। তাই রেটিং একটু কম দিতে বাধ্য হয়েছি।