What do you think?


ইশতেহার
ঢাকার অভিজাত এলাকার এক বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে অবিশ্বাস্য কিছু একটা দেখে ফেলল চোর। যা প্রকাশ পেলে দেশে গৃহযুদ্ধ লেগে যাওয়াও বিচিত্র না।
ড. আসাদ কায়সার—বাংলাদেশের নিকট ইতিহাসে তাঁর মতো জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা আর আসেনি। তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। ঠিক তখনই তাঁকে হত্যা করার জন্য নিয়োগ দেওয়া হলো অভিজ্ঞতায় আনাড়ি এক কন্ট্রাক্ট কিলারকে।
প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি সিক্রেট শ্যাডোর কাছে এলো অদ্ভুত এক ফোনকল। কলারের লোকেশন ট্রেস করে মিলল কেবল একটা সেলফোন। কিন্তু সেই সেলফোনটাই যেন এক আস্ত ধাঁধা।
এদিকে বহু বছর আগে রোপণ করা এক বিষবৃক্ষে আজ ফল ধরেছে। আঠারো কোটি মানুষকে আক্রান্ত করার আগেই উপড়ে ফেলতে হবে শেকড়সহ। মঞ্চে আবির্ভূত হলো মেজর সাইফ হাসান।
অসংখ্য প্রশ্ন, একের পর এক হামলা আর ইঁদুর-বিড়াল খেলায় কালঘাম ছুটে যাচ্ছে মেজর সাইফের।
আর হ্যাঁ, এত কিছুর মধ্যে ওই কালো গাড়ির রহস্যটাই বা কী?
দুরন্ত গতির এই থ্রিলার আপনাকে ঘুরিয়ে আনবে রাজনীতি আর ষড়যন্ত্রের অন্ধকার ভুবন থেকে।
Information Added By SAZIB2021
ড. আসাদ কায়সার—বাংলাদেশের নিকট ইতিহাসে তাঁর মতো জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা আর আসেনি। তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। ঠিক তখনই তাঁকে হত্যা করার জন্য নিয়োগ দেওয়া হলো অভিজ্ঞতায় আনাড়ি এক কন্ট্রাক্ট কিলারকে।
প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি সিক্রেট শ্যাডোর কাছে এলো অদ্ভুত এক ফোনকল। কলারের লোকেশন ট্রেস করে মিলল কেবল একটা সেলফোন। কিন্তু সেই সেলফোনটাই যেন এক আস্ত ধাঁধা।
এদিকে বহু বছর আগে রোপণ করা এক বিষবৃক্ষে আজ ফল ধরেছে। আঠারো কোটি মানুষকে আক্রান্ত করার আগেই উপড়ে ফেলতে হবে শেকড়সহ। মঞ্চে আবির্ভূত হলো মেজর সাইফ হাসান।
অসংখ্য প্রশ্ন, একের পর এক হামলা আর ইঁদুর-বিড়াল খেলায় কালঘাম ছুটে যাচ্ছে মেজর সাইফের।
আর হ্যাঁ, এত কিছুর মধ্যে ওই কালো গাড়ির রহস্যটাই বা কী?
দুরন্ত গতির এই থ্রিলার আপনাকে ঘুরিয়ে আনবে রাজনীতি আর ষড়যন্ত্রের অন্ধকার ভুবন থেকে।
Information Added By SAZIB2021
- GenresThrillerSpy Thriller
192 pages, Hardcover
Published March 1, 2021
About the author
Abul Fatah
28 books132 followersAbul Fatah is a Bangladeshi writer. He become famous by writing story at social networks.
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 30 of 46 reviews
May 18, 2026
জাতীয় নির্বাচনের আগে সারাদেশে নতুন দল জনবন্ধু পার্টির ক্যারিশমাটিক নেতা ডক্টর আসাদ কায়সারের জনপ্রিয়তা নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অর্ধশতক ধরে দেশে স্বৈরতন্ত্র ও গৎবাঁধা কয়েকটি রাজনৈতিক দলের ক্ষমতার পালাবদল দেখতে দেখতে মানুষ যখন ক্লান্ত, তখন রাজনীতিতে পাণ্ডিত্যপূর্ণ উপস্থিতি নিয়ে উঠে আসা আসাদ কায়সারের মাধ্যমে দেশ নতুন আশার আলো দেখতে শুরু করেছে। তবে এরই আড়ালে অন্দরমহলে শুরু হয়ে গেছে এক গভীর ষড়যন্ত্র। একজন অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ চোর চুরি করতে ঢুকে পড়ে ঢাকার অভিজাত এলাকার একটি বাড়িতে। কিন্তু সেখানে চুরি করতে গিয়েই সে জানতে পারে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের কথা।
অন্যদিকে নির্বাচনী প্রচারণায় নামার পর ডক্টর আসাদ কায়সারের ওপর একের পর এক প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। তবে ভাগ্যক্রমে প্রতিবারই তিনি বেঁচে যান। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় তার নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রাইভেট ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি সিক্রেট শ্যাডো-কে। এরই মধ্যে আনাড়ি কন্ট্রাক্ট কিলার সেলিমকে ব্যবহার করে আবারও আসাদ কায়সারকে হত্যার চেষ্টা করা হয়, তবে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। তখন সিক্রেট শ্যাডোর প্রধান এজেন্ট মেজর সাইফ হাসান বুঝতে পারে, সেলিমকে কেবল ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করে পেছন থেকে পুরো খেলাটা চালাচ্ছে অন্য কেউ। আর সেই ব্যক্তির সঙ্গেই জড়িয়ে আছে মূল ষড়যন্ত্রের রহস্য।
এরই মধ্যে সিক্রেট শ্যাডোর কাছে আসে এক রহস্যময় ফোনকল। অদ্ভুত এক উপায়ে হলেও সেই অজ্ঞাত কলার বিশ্বাসযোগ্যভাবে তাদের দেশে আসন্ন ভয়ংকর বিপদের ব্যাপারে সতর্ক করতে সক্ষম হয়। কিন্তু সেই কলারকে খুঁজতে গেলেই সামনে আসে একদল ভয়ংকর মানুষের উপস্থিতি। কে এই চোর? কী-ই বা দেখেছে সে? কারাই-বা দেশের বিরুদ্ধে এই গভীর ষড়যন্ত্র রচনা করছে? সিক্রেট শ্যাডোর এজেন্ট সাইফ ও তার টিম কি পারবে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের রহস্য উদ্ঘাটন করে তা মূলোৎপাটন করতে? বাংলাদেশের ভাগ্যে কী অপেক্ষা করছে? এসব জানতে হলে পড়তে হবে আবুল ফাতাহ-এর স্পাই কনস্পিরেসি থ্রিলার ‘ইশতেহার’।
লেখক আবুল ফাতাহের স্পাই-কাম-পলিটিক্যাল কনস্পিরেসি থ্রিলার বই ‘ইশতেহার’। বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি কাল্পনিক ভূরাজনৈতিক ষড়যন্ত্রকে ঘিরেই মূলত বইয়ের কাহিনী গড়ে উঠেছে। গল্পের মূখ্য ভূমিকায় রয়েছে লেখকের পূর্বে সৃষ্ট চরিত্র মেজর সাইফ হাসান আর তার সিক্রেট শ্যাডো এজেন্সি। এর আগে লেখকের সমকালীন উপন্যাস ‘প্রহর শেষে’ পড়েছিলাম। থ্রিলার না হলেও বইটি বেশ ভালো লেগেছিল। লেখকের গদ্যশৈলী ছিল সাবলীল ও প্রাঞ্জল। এই বইয়েও তার লেখনীর সেই স্বচ্ছন্দতা বজায় আছে।
গল্পটি বেশ সুন্দর, আর সেটিকে বেশ গোছানোভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ছোট পরিসরের এই বইয়ে লেখক অপ্রয়োজনীয় কোনো উপাদান যুক্ত করেননি। বরং মূল ষড়যন্ত্রের রহস্য উদঘাটন এবং সেই পথে প্রোটাগনিস্টের সামনে আসা নানা বিপদের মোকাবিলাকেই তুলে ধরা হয়েছে এতে। এক কথায়, এই গল্পের এক্সিকিউশন দুর্দান্ত হয়েছে। মেদহীন কাহিনী, দক্ষ উপস্থাপনা এবং চমৎকার লেখনশৈলীর কারণে বইটি হয়ে উঠেছে বেশ গতিশীল ও উপভোগ্য। প্লটনির্ভর গল্প হওয়ায় চরিত্রগুলো খুব বেশি বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়নি। তবে এর মধ্যেও লেখক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোকে গল্পে তাদের ভূমিকা অনুযায়ী সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
এটাও ভালো লেগেছে যে, শুধু মূল চরিত্র সাইফ হাসান নয়, বরং পুরো গল্পজুড়ে এই ষড়যন্ত্র উন্মোচনে তার সিক্রেট শ্যাডো এজেন্সির অন্যান্য এজেন্টদেরও ভূমিকা রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির গঠন ও কার্যক্রম খুব বেশি বিস্তারিতভাবে না এলেও বেশ ভালোভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। গল্পে বেশ কয়েকটা হালকা ধাঁচের অ্যাকশন দৃশ্য রয়েছে, যেগুলো বিশাল কিছু না হলেও পাঠের উপভোগ্যতা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি কাহিনির মধ্যে অল্প হলেও লেখক বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার একটি অংশ তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। বিষয়টি আহামরি কিছু না হলেও মন্দ লাগেনি। এছাড়া দেশের এক ভণ্ড চেতনা-ব্যবসায়ীকে গল্পের একটি চরিত্রের মাধ্যমে খানিকটা ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করতে দেখে বেশ মজা পেয়েছি।
মূল চরিত্র সাইফ হাসান এবং তার প্রাইভেট ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি সিক্রেট শ্যাডোজ নির্মাণে লেখক যে অনেকাংশেই মাসুদ রানা আর তার রানা এজেন্সি থেকে অনুপ্রাণিত, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে অধিকাংশ বই বিদেশি গল্পের অ্যাডাপ্টেশন হওয়ায়, মাসুদ রানার অভিযানগুলো শেষ পর্যন্ত দেশীয় প্রেক্ষাপটে পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে না। সেই দিক থেকে, মাসুদ রানা ও তার রানা এজেন্সির অনুকরণে তৈরি মেজর সাইফ এবং তার সিক্রেট শ্যাডোজ-কেও দেশীয় বাস্তবতায় কিছুটা বেখাপ্পা লাগে। তবু ফিকশনাল উপস্থাপনার মধ্যেও নিজের দেশের এমন দক্ষ ও দেশপ্রেমিক এজেন্টদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেখা এবং মাসুদ রানার ধাঁচের একটি স্পাই গল্পকে দেশীয় মৌলিক রূপে পেয়ে ভালো লাগলো।
আমি বইটা একটা মোটামুটি ডিসেন্ট স্পাই কনস্পিরেসি থ্রিলারের প্রত্যাশা নিয়ে পড়ছিলাম। সবকিছু ঠিকভাবে শেষ হলে আমি হয়তো এটাকে চার তারাও দিতাম। তবে কিছু বিষয় বেশ হতাশ করেছে আমাকে। মূল ষড়যন্ত্র উন্মোচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত গল্পটি বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছিল। কিন্তু সেটা প্রকাশের পর প্রধান এন্টাগনিস্টদের যেরকম শক্তিশালী দেখানো দরকার ছিল, পরিস্থিতি যেভাবে আরও ভয়ংকর ও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠার কথা ছিল, যা শেষ পর্যন্ত একটা টানটান ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছাত, সেরকমটা খুব বেশি হয়নি।
প্রথমত, কনস্পিরেসি থিওরিটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কিছুটা অবাস্তব মনে হয়েছে। গল্পের ভেতরে এটি ফিকশনালভাবে উপস্থাপিত হলেও, এই দেশে এর ভয়ংকর প্রভাব এবং বিস্তৃতি যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। ফলে পুরো বিষয়টি বেশ খাপছাড়া মনে হয়েছে। এরপর কোনোভাবে একটা ক্লাইম্যাক্স তৈরি করে সেখানে একটি ছোট অ্যাকশন দৃশ্য যুক্ত করে সবকিছু শেষ করার চেষ্টা করা হয়েছে। পরবর্তীতে মাত্র আধা পৃষ্ঠার শেষ অধ্যায়ে খুবই তড়িঘড়ি করে ও অসংগঠিতভাবে এই বইয়ের সমাপ্তি টানা হয়েছে, যা গল্পের সাথে পুরোপুরি জাস্টিস করতে পারেনি। তাই পুরো বইটি খুব উপভোগ্য হলেও শেষের দিকে এসে বেশ হতাশ করেছে। তবুও সব মিলিয়ে বলবো, ‘ইশতেহার’ একটি উপভোগ্য স্পাই কনস্পিরেসি থ্রিলার; সময় কাটানোর জন্য এটি পড়া যেতে পারে।
📚 বইয়ের নাম : ইশতেহার
📚 লেখক : আবুল ফাতাহ
📚 বইয়ের ধরন : স্পাই থ্রিলার, কন্সপিরেসি থ্রিলার, পলিটিকাল থ্রিলার
📚 ব্যক্তিগত রেটিং : ৩.৫/৫
অন্যদিকে নির্বাচনী প্রচারণায় নামার পর ডক্টর আসাদ কায়সারের ওপর একের পর এক প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। তবে ভাগ্যক্রমে প্রতিবারই তিনি বেঁচে যান। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় তার নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রাইভেট ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি সিক্রেট শ্যাডো-কে। এরই মধ্যে আনাড়ি কন্ট্রাক্ট কিলার সেলিমকে ব্যবহার করে আবারও আসাদ কায়সারকে হত্যার চেষ্টা করা হয়, তবে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। তখন সিক্রেট শ্যাডোর প্রধান এজেন্ট মেজর সাইফ হাসান বুঝতে পারে, সেলিমকে কেবল ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করে পেছন থেকে পুরো খেলাটা চালাচ্ছে অন্য কেউ। আর সেই ব্যক্তির সঙ্গেই জড়িয়ে আছে মূল ষড়যন্ত্রের রহস্য।
এরই মধ্যে সিক্রেট শ্যাডোর কাছে আসে এক রহস্যময় ফোনকল। অদ্ভুত এক উপায়ে হলেও সেই অজ্ঞাত কলার বিশ্বাসযোগ্যভাবে তাদের দেশে আসন্ন ভয়ংকর বিপদের ব্যাপারে সতর্ক করতে সক্ষম হয়। কিন্তু সেই কলারকে খুঁজতে গেলেই সামনে আসে একদল ভয়ংকর মানুষের উপস্থিতি। কে এই চোর? কী-ই বা দেখেছে সে? কারাই-বা দেশের বিরুদ্ধে এই গভীর ষড়যন্ত্র রচনা করছে? সিক্রেট শ্যাডোর এজেন্ট সাইফ ও তার টিম কি পারবে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের রহস্য উদ্ঘাটন করে তা মূলোৎপাটন করতে? বাংলাদেশের ভাগ্যে কী অপেক্ষা করছে? এসব জানতে হলে পড়তে হবে আবুল ফাতাহ-এর স্পাই কনস্পিরেসি থ্রিলার ‘ইশতেহার’।
লেখক আবুল ফাতাহের স্পাই-কাম-পলিটিক্যাল কনস্পিরেসি থ্রিলার বই ‘ইশতেহার’। বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি কাল্পনিক ভূরাজনৈতিক ষড়যন্ত্রকে ঘিরেই মূলত বইয়ের কাহিনী গড়ে উঠেছে। গল্পের মূখ্য ভূমিকায় রয়েছে লেখকের পূর্বে সৃষ্ট চরিত্র মেজর সাইফ হাসান আর তার সিক্রেট শ্যাডো এজেন্সি। এর আগে লেখকের সমকালীন উপন্যাস ‘প্রহর শেষে’ পড়েছিলাম। থ্রিলার না হলেও বইটি বেশ ভালো লেগেছিল। লেখকের গদ্যশৈলী ছিল সাবলীল ও প্রাঞ্জল। এই বইয়েও তার লেখনীর সেই স্বচ্ছন্দতা বজায় আছে।
গল্পটি বেশ সুন্দর, আর সেটিকে বেশ গোছানোভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ছোট পরিসরের এই বইয়ে লেখক অপ্রয়োজনীয় কোনো উপাদান যুক্ত করেননি। বরং মূল ষড়যন্ত্রের রহস্য উদঘাটন এবং সেই পথে প্রোটাগনিস্টের সামনে আসা নানা বিপদের মোকাবিলাকেই তুলে ধরা হয়েছে এতে। এক কথায়, এই গল্পের এক্সিকিউশন দুর্দান্ত হয়েছে। মেদহীন কাহিনী, দক্ষ উপস্থাপনা এবং চমৎকার লেখনশৈলীর কারণে বইটি হয়ে উঠেছে বেশ গতিশীল ও উপভোগ্য। প্লটনির্ভর গল্প হওয়ায় চরিত্রগুলো খুব বেশি বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়নি। তবে এর মধ্যেও লেখক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোকে গল্পে তাদের ভূমিকা অনুযায়ী সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
এটাও ভালো লেগেছে যে, শুধু মূল চরিত্র সাইফ হাসান নয়, বরং পুরো গল্পজুড়ে এই ষড়যন্ত্র উন্মোচনে তার সিক্রেট শ্যাডো এজেন্সির অন্যান্য এজেন্টদেরও ভূমিকা রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির গঠন ও কার্যক্রম খুব বেশি বিস্তারিতভাবে না এলেও বেশ ভালোভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। গল্পে বেশ কয়েকটা হালকা ধাঁচের অ্যাকশন দৃশ্য রয়েছে, যেগুলো বিশাল কিছু না হলেও পাঠের উপভোগ্যতা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি কাহিনির মধ্যে অল্প হলেও লেখক বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার একটি অংশ তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। বিষয়টি আহামরি কিছু না হলেও মন্দ লাগেনি। এছাড়া দেশের এক ভণ্ড চেতনা-ব্যবসায়ীকে গল্পের একটি চরিত্রের মাধ্যমে খানিকটা ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করতে দেখে বেশ মজা পেয়েছি।
মূল চরিত্র সাইফ হাসান এবং তার প্রাইভেট ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি সিক্রেট শ্যাডোজ নির্মাণে লেখক যে অনেকাংশেই মাসুদ রানা আর তার রানা এজেন্সি থেকে অনুপ্রাণিত, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে অধিকাংশ বই বিদেশি গল্পের অ্যাডাপ্টেশন হওয়ায়, মাসুদ রানার অভিযানগুলো শেষ পর্যন্ত দেশীয় প্রেক্ষাপটে পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে না। সেই দিক থেকে, মাসুদ রানা ও তার রানা এজেন্সির অনুকরণে তৈরি মেজর সাইফ এবং তার সিক্রেট শ্যাডোজ-কেও দেশীয় বাস্তবতায় কিছুটা বেখাপ্পা লাগে। তবু ফিকশনাল উপস্থাপনার মধ্যেও নিজের দেশের এমন দক্ষ ও দেশপ্রেমিক এজেন্টদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেখা এবং মাসুদ রানার ধাঁচের একটি স্পাই গল্পকে দেশীয় মৌলিক রূপে পেয়ে ভালো লাগলো।
আমি বইটা একটা মোটামুটি ডিসেন্ট স্পাই কনস্পিরেসি থ্রিলারের প্রত্যাশা নিয়ে পড়ছিলাম। সবকিছু ঠিকভাবে শেষ হলে আমি হয়তো এটাকে চার তারাও দিতাম। তবে কিছু বিষয় বেশ হতাশ করেছে আমাকে। মূল ষড়যন্ত্র উন্মোচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত গল্পটি বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছিল। কিন্তু সেটা প্রকাশের পর প্রধান এন্টাগনিস্টদের যেরকম শক্তিশালী দেখানো দরকার ছিল, পরিস্থিতি যেভাবে আরও ভয়ংকর ও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠার কথা ছিল, যা শেষ পর্যন্ত একটা টানটান ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছাত, সেরকমটা খুব বেশি হয়নি।
প্রথমত, কনস্পিরেসি থিওরিটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কিছুটা অবাস্তব মনে হয়েছে। গল্পের ভেতরে এটি ফিকশনালভাবে উপস্থাপিত হলেও, এই দেশে এর ভয়ংকর প্রভাব এবং বিস্তৃতি যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। ফলে পুরো বিষয়টি বেশ খাপছাড়া মনে হয়েছে। এরপর কোনোভাবে একটা ক্লাইম্যাক্স তৈরি করে সেখানে একটি ছোট অ্যাকশন দৃশ্য যুক্ত করে সবকিছু শেষ করার চেষ্টা করা হয়েছে। পরবর্তীতে মাত্র আধা পৃষ্ঠার শেষ অধ্যায়ে খুবই তড়িঘড়ি করে ও অসংগঠিতভাবে এই বইয়ের সমাপ্তি টানা হয়েছে, যা গল্পের সাথে পুরোপুরি জাস্টিস করতে পারেনি। তাই পুরো বইটি খুব উপভোগ্য হলেও শেষের দিকে এসে বেশ হতাশ করেছে। তবুও সব মিলিয়ে বলবো, ‘ইশতেহার’ একটি উপভোগ্য স্পাই কনস্পিরেসি থ্রিলার; সময় কাটানোর জন্য এটি পড়া যেতে পারে।
📚 বইয়ের নাম : ইশতেহার
📚 লেখক : আবুল ফাতাহ
📚 বইয়ের ধরন : স্পাই থ্রিলার, কন্সপিরেসি থ্রিলার, পলিটিকাল থ্রিলার
📚 ব্যক্তিগত রেটিং : ৩.৫/৫
September 9, 2021
মূলত ৪.৫ স্টার।
পলিটিক্যাল কন্সপিরেসি থ্রিলার হিসেবে ছোট পরিসরে এককথায় দারুণ। টু দ্য পয়েন্ট লেখা, কোনো বাড়তি প্যাঁচাল নেই। শুরু থেকেই গতিশীল, মিস্ট্রিটাও ভালো, কন্সপিরেসির জালটাও ভালোভাবেই বুনেছেন লেখক। একটু স্পাই/অ্যাকশন থ্রিলারের স্বাদও আছে। সবমিলিয়ে বেশ উপভোগ্য। রিকমেন্ডেড।
পলিটিক্যাল কন্সপিরেসি থ্রিলার হিসেবে ছোট পরিসরে এককথায় দারুণ। টু দ্য পয়েন্ট লেখা, কোনো বাড়তি প্যাঁচাল নেই। শুরু থেকেই গতিশীল, মিস্ট্রিটাও ভালো, কন্সপিরেসির জালটাও ভালোভাবেই বুনেছেন লেখক। একটু স্পাই/অ্যাকশন থ্রিলারের স্বাদও আছে। সবমিলিয়ে বেশ উপভোগ্য। রিকমেন্ডেড।
June 10, 2021
ফাস্ট পেসড পলিটিকাল থ্রিলার। একটানে পড়ে ফেলা যায়।
তবে কিছু একশন সিকোয়েন্সে অতি নাটকীয়তা আছে, দু-একটা জায়গায় আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব ঘটনা ঘটে গেছে অতি অনায়াসে। দুর্দান্ত শক্তিশালী শত্রুরাও বশ মেনে গেছে আপনা-আপনি। অবশ্য ভরপুর একশন থ্রিলারে প্রটাগনিস্টকে কিছুক্ষেত্রে সুপার হিউম্যান না দেখালে ঠিক জমে না। সেই হিসেবে 'মাইনাসে মাইনাসে প্লাস' বলাই যায়।
আমার মতে, মেজর সাইফ সিরিজের সেরা বই। লেখকের অন্যান্য বইগুলোর চেয়েও ইশতেহারকে এগিয়ে রাখব।
প্রচ্ছদ পছন্দ হয়নি।
তবে কিছু একশন সিকোয়েন্সে অতি নাটকীয়তা আছে, দু-একটা জায়গায় আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব ঘটনা ঘটে গেছে অতি অনায়াসে। দুর্দান্ত শক্তিশালী শত্রুরাও বশ মেনে গেছে আপনা-আপনি। অবশ্য ভরপুর একশন থ্রিলারে প্রটাগনিস্টকে কিছুক্ষেত্রে সুপার হিউম্যান না দেখালে ঠিক জমে না। সেই হিসেবে 'মাইনাসে মাইনাসে প্লাস' বলাই যায়।
আমার মতে, মেজর সাইফ সিরিজের সেরা বই। লেখকের অন্যান্য বইগুলোর চেয়েও ইশতেহারকে এগিয়ে রাখব।
প্রচ্ছদ পছন্দ হয়নি।
September 15, 2021
Truth is stranger than fiction, but it is because Fiction is obliged to stick to possibilities; Truth isn't. - Mark Twain
-
ইশতেহার
-
ড. আসাদ কায়সার, বর্তমান সময়ের খুবই জনপ্রিয় একজন উঠতি রাজনীতিবিদ। নতুন এক দল গঠন করলেও রাতারাতিই জনপ্রিয়তা পেয়ে যান তিনি। কিন্তু নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসলে তার উপর ঘটতে থাকে একের পরে এক প্রাণঘাতী হামলার প্রচেষ্টা। তাই বাধ্য হয়েই প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি "সিক্রেট শ্যাডো" এর শরণাপন্ন হন তিনি।
-
সাইফ হাসান, আর্মির প্রাক্তন অফিসার এবং সিক্রেট শ্যাডোর অন্যতম প্রধান ব্যক্তি। হঠাৎ তাদের কাছে একটি বেনামী কল আসে যে দেশে খুব বড় কোন অঘটন ঘটতে যাচ্ছে। এখন কী সেই অঘটন? এর সাথে আসন্ন নির্বাচন কীভাবে সম্পর্কিত? সিক্রেট শ্যাডো কী সেই অঘটন ঘটার আগেই থামাতে পারবে? তা জানার জন্য পড়তে হবে লেখক আবুল ফাতাহ এর পলিটিক্যাল থ্রিলার ঘরানার উপন্যাস "ইশতেহার"।
-
"ইশতেহার" বইটি মূলত পলিটিক্যাল থ্রিলার এবং কিছুটা এসপিওনাজ ধারার মিশ্রণ। এই বইয়ের সবথেকে ভালো দিক এর দুরন্ত গতি, খুবই ফাস্ট পেসড বই এটি। এই ধরণের বইয়ের ক্ষেত্রে যেরকম গতিশীল কাহিনি এবং বর্ণনার দরকার বইটি ঠিক সেভাবেই লেখা হয়েছে। তাই একটু সময় নিয়ে বসলে এক বসায় পড়ে ফেলার মতোই বই এটি।
-
"ইশতেহার" বইয়ের কাহিনি খুবই গতিশীল হওয়ায় এখানে ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের জায়গা ছিল খুবই কম। এর আগে মেজর সাইফ হাসান সিরিজের একটি বই পড়ায় চরিত্রটি সম্পর্কে আগেই ধারণা ছিল। এবারে তাকে কিছু জায়গায় একটু অতিমানবীয় ভাবেই দেখানো হয়েছে। সিক্রেট শ্যাডোর বাকি সদস্যরা অবশ্য মোটামুটি ভালোভাবেই মিশে গেছে কাহিনির সাথে। বইতে অ্যাকশন দৃশ্য ছিলো বেশ কয়েকটি, সেগুলোর কিছু জায়গায় দৃশ্যগুলো আরো ভালোভাবে বর্ণনা করা যেত বলে মনে হলো। বইয়ের ডায়লগ, সাসপেন্স এবং হিউমারের প্রয়োগ উৎরে যাওয়ার মতোই।
-
"ইশতেহার" বইটির প্রোডাকশন মোটামুটি চলনসই। প্রচ্ছদও এভারেজ লাগলো বইয়ের কাহিনির তুলনায়। বইয়ের কিছু জায়গায় "ও কার" এর বদলে সরাসরি "ও" এসেছে। এ ছাড়াও কিছু টাইপিং মিস্টেক ছিল, সেগুলো পরবর্তী সংস্করণে ঠিক করে ফেলা হবে আশা করি।
-
এক কথায়, বাংলা মৌলিক থ্রিলারের পটভূমিতে বেশ দুরন্ত গতির এক পলিটিক্যাল থ্রিলার হচ্ছে "ইশতেহার"। যারা বাংলা ভাষার মৌলিক পলিটিক্যাল থ্রিলার কিংবা এসপিওনাজ ঘরানার বই পড়তে পছন্দ করেন তারা বইটি পড়ে দেখতে পারেন। মেজর সাইফ হাসান সিরিজের পরবর্তী বই পড়ার জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।
-
ইশতেহার
-
ড. আসাদ কায়সার, বর্তমান সময়ের খুবই জনপ্রিয় একজন উঠতি রাজনীতিবিদ। নতুন এক দল গঠন করলেও রাতারাতিই জনপ্রিয়তা পেয়ে যান তিনি। কিন্তু নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসলে তার উপর ঘটতে থাকে একের পরে এক প্রাণঘাতী হামলার প্রচেষ্টা। তাই বাধ্য হয়েই প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি "সিক্রেট শ্যাডো" এর শরণাপন্ন হন তিনি।
-
সাইফ হাসান, আর্মির প্রাক্তন অফিসার এবং সিক্রেট শ্যাডোর অন্যতম প্রধান ব্যক্তি। হঠাৎ তাদের কাছে একটি বেনামী কল আসে যে দেশে খুব বড় কোন অঘটন ঘটতে যাচ্ছে। এখন কী সেই অঘটন? এর সাথে আসন্ন নির্বাচন কীভাবে সম্পর্কিত? সিক্রেট শ্যাডো কী সেই অঘটন ঘটার আগেই থামাতে পারবে? তা জানার জন্য পড়তে হবে লেখক আবুল ফাতাহ এর পলিটিক্যাল থ্রিলার ঘরানার উপন্যাস "ইশতেহার"।
-
"ইশতেহার" বইটি মূলত পলিটিক্যাল থ্রিলার এবং কিছুটা এসপিওনাজ ধারার মিশ্রণ। এই বইয়ের সবথেকে ভালো দিক এর দুরন্ত গতি, খুবই ফাস্ট পেসড বই এটি। এই ধরণের বইয়ের ক্ষেত্রে যেরকম গতিশীল কাহিনি এবং বর্ণনার দরকার বইটি ঠিক সেভাবেই লেখা হয়েছে। তাই একটু সময় নিয়ে বসলে এক বসায় পড়ে ফেলার মতোই বই এটি।
-
"ইশতেহার" বইয়ের কাহিনি খুবই গতিশীল হওয়ায় এখানে ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের জায়গা ছিল খুবই কম। এর আগে মেজর সাইফ হাসান সিরিজের একটি বই পড়ায় চরিত্রটি সম্পর্কে আগেই ধারণা ছিল। এবারে তাকে কিছু জায়গায় একটু অতিমানবীয় ভাবেই দেখানো হয়েছে। সিক্রেট শ্যাডোর বাকি সদস্যরা অবশ্য মোটামুটি ভালোভাবেই মিশে গেছে কাহিনির সাথে। বইতে অ্যাকশন দৃশ্য ছিলো বেশ কয়েকটি, সেগুলোর কিছু জায়গায় দৃশ্যগুলো আরো ভালোভাবে বর্ণনা করা যেত বলে মনে হলো। বইয়ের ডায়লগ, সাসপেন্স এবং হিউমারের প্রয়োগ উৎরে যাওয়ার মতোই।
-
"ইশতেহার" বইটির প্রোডাকশন মোটামুটি চলনসই। প্রচ্ছদও এভারেজ লাগলো বইয়ের কাহিনির তুলনায়। বইয়ের কিছু জায়গায় "ও কার" এর বদলে সরাসরি "ও" এসেছে। এ ছাড়াও কিছু টাইপিং মিস্টেক ছিল, সেগুলো পরবর্তী সংস্করণে ঠিক করে ফেলা হবে আশা করি।
-
এক কথায়, বাংলা মৌলিক থ্রিলারের পটভূমিতে বেশ দুরন্ত গতির এক পলিটিক্যাল থ্রিলার হচ্ছে "ইশতেহার"। যারা বাংলা ভাষার মৌলিক পলিটিক্যাল থ্রিলার কিংবা এসপিওনাজ ঘরানার বই পড়তে পছন্দ করেন তারা বইটি পড়ে দেখতে পারেন। মেজর সাইফ হাসান সিরিজের পরবর্তী বই পড়ার জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।
September 19, 2021
এবছর হঠাৎ করে আলোচনায় চলে আসে ইশতেহার লেখকের দেয়া একটা পোস্টের পর পরই। লেখক জানিয়েছেন সেখানে এই বইটায় তিনি অনেক পরিশ্রম দিয়েছেন। তিনি কনফিডেন্টলি চাইলেন লেখা টা পাঠকরা পড়ুক। সাধুবাদ প্রথমেই লেখককে সাহসী পদক্ষেপের জন্য।
বইটাকে মূলতঃ পলিটিক্যাল থ্রিলার বলা হচ্ছে। এটা মেজর সাইফ হাসান সিরিজের বই। পলিটিক্যাল থ্রিলার বলতে আমি যে এক্সপেক্টেশনটা রাখি বইটাইয় সেই ধাঁচের কোনো রাজনৈতিক ঘোরপ্যাচ সংক্রান্ত গল্পের চাইতে এস্পিওনাজ অংশই বেশি। একটা ফাস্ট পেসড চেসিং ছিলো পুরো বইটা জুড়েই। একদম ঝরঝরে লেখা লেখকের। এক কথায় বই নামিয়ে রাখার সুযোগ নেই। গল্পটা নির্বাচন কে কেন্দ্র করে, এক নতুন নেতার নির্বাচনে অংশগ্রহণের গল্পকে বিল্ডাপ করে। ইশতেহার নামটা দারুণ চয়েজ ছিলো বইটার জন্য। কাহিনী পড়লে জানতে পারবেন।
বইটা আমার ভালোই লেগেছে, তবে আমার মনে হয় আরও ভালো হওয়া সম্ভব ছিলো। মূল এন্টাগোনিস্ট কে হতে পারে সেটা একটা সহজ আন্দাজ ছিলো। টুইস্ট টা এখানে জমেনাই। তবে টুইস্টের পেছনে একটা গল্প আছে। যেটা আসল বিষয়বস্তু এই গল্পের। সেটা কিছুটা অদ্ভুত হলেও আন্দাজ করার মতো ছিলোনা। এই পার্টটা জমেছে আসলে!
বইটায় আমার অপছন্দের ব্যাপরটা ছিলো মিডিওকোর ধাঁচের চেসিংটা। দেশীয় প্রায় ধরণের থ্রিলারেই এমন করে স্টোরি আগায়। কোনো সূত্র নাই, আন্দাজে আগাতে আগাতে বিশাল কাহিনী বেড়িয়ে আসে। অথচ এই গল্পটা টুইস্টের মাধ্যমে না বলে রাজনীতির মাঠে নেতাদের মাধ্যমে সরাসরি কাহিনী আগালে গল্পটা কি দারুণ অভিনব হতো। তাতে হয়তো আবেগী প্রোটাগোনিস্টের পার্ট থাকতো অনেক কম। তবে সেটা হতো একটা যথাযথ পলিটিক্যাল থ্রিলার। এরপর গল্পে আশরাফ জামান কিংবা আকমল বশিরের একশন কিন্তু যথেষ্ঠ প্রশ্ন উদ্রেককারী।
তারপর, একটা (প্রায়) ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি 'সিক্রেট শ্যাডো' (নামটাও কেমন যেনো) যেটা একই সাথে স্বায়ত্বশাসিত , আবার সরকারি মদদ আছে, যেটা সরাসরি দেশের প্রধানমন্ত্রীকে রিপোর্ট করে, অন্যান্য দেশে আবার তাদের শাখা আছে, আবার তাদের সাথে ইন্টারপোলের সাথে রিলেশনও আছে!! কেমন যেনো খাপছাড়া একটা ব্যাপার। আবার এতো স্ট্রং একটা ফোর্স, তাদের প্রায় সব কিছুই নায়ক এক সাইফ হাসান একহাতেই সামলান। প্রায় সব ব্রেকথ্রু তার মাধ্যমেই।
প্লটহোল ছিলো বেশ কিছু, সেসব আলাপে যেতে চাচ্ছিনা। বইটা পড়ে আমি একবার খুবই মজা পাচ্ছিলাম, আমার হতাশও হচ্ছিলাম কোথাও কোথাও। সব মিলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আসলে। সুতো অনেক ছড়িয়েছে, তবে ছেঁড়া সুতো আর মেলেনি আমার মতে। আমি আশা করবো আমার মতামতে লেখক/পাঠক কেউ আঘাতপ্রাপ্ত হবেন না। একেবারেই আমার ব্যক্রিগত মতামত এগুলো।
ওহ, তবে আমি একেবারেই বিরক্ত বইয়ের প্রোডাকশনের উপর। এই বইটা রীতিমতো যুদ্ধক্ষেত্র থেকে তুলে আমাকে পাঠানো হয়েছে। বইয়ের বাইরে দুমড়ানো মোচড়ানো, স্পাইন আর ব্যাকের অবস্থা তো ভয়াবহ। আর ভেতরের ১৫-১৬ পেইজ পুরো দুমিড়ানো মোচড়ানো, ভাঁজ, পায়ের ছাপ আর ছেঁড়া। তার উপর ১৪০ পেইজের পর ১৬১ পেইজ। আবার ১৭৬ পেইজের পরে আবার হানো পেইজগুলো। খুবই বিরক্তিকর এক্সপেরিয়েন্স।
যাহোক, পড়ে দেখতে পারেন পলিটিক্যাল থ্রিলার 'ইশতেহার'।
বইটাকে মূলতঃ পলিটিক্যাল থ্রিলার বলা হচ্ছে। এটা মেজর সাইফ হাসান সিরিজের বই। পলিটিক্যাল থ্রিলার বলতে আমি যে এক্সপেক্টেশনটা রাখি বইটাইয় সেই ধাঁচের কোনো রাজনৈতিক ঘোরপ্যাচ সংক্রান্ত গল্পের চাইতে এস্পিওনাজ অংশই বেশি। একটা ফাস্ট পেসড চেসিং ছিলো পুরো বইটা জুড়েই। একদম ঝরঝরে লেখা লেখকের। এক কথায় বই নামিয়ে রাখার সুযোগ নেই। গল্পটা নির্বাচন কে কেন্দ্র করে, এক নতুন নেতার নির্বাচনে অংশগ্রহণের গল্পকে বিল্ডাপ করে। ইশতেহার নামটা দারুণ চয়েজ ছিলো বইটার জন্য। কাহিনী পড়লে জানতে পারবেন।
বইটা আমার ভালোই লেগেছে, তবে আমার মনে হয় আরও ভালো হওয়া সম্ভব ছিলো। মূল এন্টাগোনিস্ট কে হতে পারে সেটা একটা সহজ আন্দাজ ছিলো। টুইস্ট টা এখানে জমেনাই। তবে টুইস্টের পেছনে একটা গল্প আছে। যেটা আসল বিষয়বস্তু এই গল্পের। সেটা কিছুটা অদ্ভুত হলেও আন্দাজ করার মতো ছিলোনা। এই পার্টটা জমেছে আসলে!
বইটায় আমার অপছন্দের ব্যাপরটা ছিলো মিডিওকোর ধাঁচের চেসিংটা। দেশীয় প্রায় ধরণের থ্রিলারেই এমন করে স্টোরি আগায়। কোনো সূত্র নাই, আন্দাজে আগাতে আগাতে বিশাল কাহিনী বেড়িয়ে আসে। অথচ এই গল্পটা টুইস্টের মাধ্যমে না বলে রাজনীতির মাঠে নেতাদের মাধ্যমে সরাসরি কাহিনী আগালে গল্পটা কি দারুণ অভিনব হতো। তাতে হয়তো আবেগী প্রোটাগোনিস্টের পার্ট থাকতো অনেক কম। তবে সেটা হতো একটা যথাযথ পলিটিক্যাল থ্রিলার। এরপর গল্পে আশরাফ জামান কিংবা আকমল বশিরের একশন কিন্তু যথেষ্ঠ প্রশ্ন উদ্রেককারী।
তারপর, একটা (প্রায়) ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি 'সিক্রেট শ্যাডো' (নামটাও কেমন যেনো) যেটা একই সাথে স্বায়ত্বশাসিত , আবার সরকারি মদদ আছে, যেটা সরাসরি দেশের প্রধানমন্ত্রীকে রিপোর্ট করে, অন্যান্য দেশে আবার তাদের শাখা আছে, আবার তাদের সাথে ইন্টারপোলের সাথে রিলেশনও আছে!! কেমন যেনো খাপছাড়া একটা ব্যাপার। আবার এতো স্ট্রং একটা ফোর্স, তাদের প্রায় সব কিছুই নায়ক এক সাইফ হাসান একহাতেই সামলান। প্রায় সব ব্রেকথ্রু তার মাধ্যমেই।
প্লটহোল ছিলো বেশ কিছু, সেসব আলাপে যেতে চাচ্ছিনা। বইটা পড়ে আমি একবার খুবই মজা পাচ্ছিলাম, আমার হতাশও হচ্ছিলাম কোথাও কোথাও। সব মিলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আসলে। সুতো অনেক ছড়িয়েছে, তবে ছেঁড়া সুতো আর মেলেনি আমার মতে। আমি আশা করবো আমার মতামতে লেখক/পাঠক কেউ আঘাতপ্রাপ্ত হবেন না। একেবারেই আমার ব্যক্রিগত মতামত এগুলো।
ওহ, তবে আমি একেবারেই বিরক্ত বইয়ের প্রোডাকশনের উপর। এই বইটা রীতিমতো যুদ্ধক্ষেত্র থেকে তুলে আমাকে পাঠানো হয়েছে। বইয়ের বাইরে দুমড়ানো মোচড়ানো, স্পাইন আর ব্যাকের অবস্থা তো ভয়াবহ। আর ভেতরের ১৫-১৬ পেইজ পুরো দুমিড়ানো মোচড়ানো, ভাঁজ, পায়ের ছাপ আর ছেঁড়া। তার উপর ১৪০ পেইজের পর ১৬১ পেইজ। আবার ১৭৬ পেইজের পরে আবার হানো পেইজগুলো। খুবই বিরক্তিকর এক্সপেরিয়েন্স।
যাহোক, পড়ে দেখতে পারেন পলিটিক্যাল থ্রিলার 'ইশতেহার'।
September 20, 2021
প্রথাগত সব নিয়মের বেড়াজাল ভেঙ্গে একদম আনকোরা দলের হয়ে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন ড. আসাদ শিকদার। তার বজ্রকণ্ঠ আর দৃঢ় প্রত্যয়ে উত্তাল জনতা মন্ত্রমুগ্ধ হতে বাধ্য। জং ধরা সিস্টেমকে ঘষে-মেজে দুর্নীতিহীন উন্নত বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হতে আর এক কদম পিছিয়ে তিনি৷ ধুমসে চলছে নির্বাচনী প্রচারণা, তবে বিপত্তি বাঁধল সেইদিন যখন আসাদ শিকদারের প্রাণনাশের চেষ্টা চালায় এক কন্ট্রাক কিলার। মেজর সাইফ ও তার ইনভেস্টিকেশন এজেন্সি 'সিক্রেট শ্যাডো' এর দক্ষতায় আসাদ শিকদারকে রক্ষা করা গেল, শুরু হলো মূল পরিকল্পনাকারীকে বের করার প্রচেষ্টা। এদিকে একটা অপরিচিত কল সতর্ক করে দিল এজেন্সিকে আগত বিভীষিকা নিয়ে। কী হতে চলেছে সামনে, কেঁচো খুড়তে গিয়ে কেউটে সাপের দেখা পাবে কি মেজর আসাদ। পারবে কি ভয়াবহ ষড়যন্ত্র থেকে দেশকে বাঁচাতে।
পলিটিক্যাল থ্রিলার পড়ার অভিজ্ঞতা আমার স্মৃতিতে নেই বিধায় বেশ উৎসাহ ও প্রত্যাশা নিয়েই শুরু করেছিলাম 'ইশতেহার'। যে পাহাড়চুম্বী প্রত্যাশা ছিল বইটার প্রতি, তা লেখক পূরণ করতে ষোল আনা সফল হয়েছেন।
শুরু থেকেই কাহিনী দ্রুত গতিতে এগোচ্ছিল, গল্পে বিন্দুমাত্র বাহুল্য চোখে পড়েনি। বেশ ইন্টারেস্টিং ঠেকছিল, সামনে কী হবে তার জন্যে তাড়না অনুভব করছিলাম। প্রথম প্রথম গড়পড়তা মানের কাহিনী মনে হলেও সব রহস্য খোলাসা হওয়ার পর বুঝতে পারি কাহিনীর গভীরতা। এত সুন্দর এবং বাস্তবধর্মী আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মানানসই ঠেকেছে, বাংলাদেশকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক শক্তিকে কেন্দ্র করে এভাবে পলিটিক্যাল ফিকশন উপস্থাপনা সত্যি প্রশংসার দাবিদার। প্রতিটা একশন সিন বেশ উপভোগ করেছি, আমার ব্যক্তিগতভাবে সেখানে নাটকীয়তা মনে হয়নি। একশন দিয়ে গল্পের শুরু, একশন দিয়েই শেষ। প্রথমাংশে টুইস্ট আগেভাগেই গেস করতে পেরেছিলাম, শুধু ঘটনার প্রেক্ষিতে কারণটা জানা বাকি ছিল। শেষে যে অদ্ভুত টুইস্ট দিয়ে সব রহস্য খোলাসা হলো তা আসলেই বাকরুদ্ধ করেছে আমায়। প্লটটার জন্যেই লেখকে সালাম ঠুকবো আমি।
চরিত্রায়নের ব্যাপার বলতে গেলে, মেজর সাইফকে নিয়ে বেশিরভাগই একশন সিন ছিল। আমি খুব করে চাচ্ছিলাম তাকে আরেকটু বেশ উপলব্ধি করতে, ভবিষ্যতের বইয়ে সাইফ চরিত্রটা আরেকটু খোলতাইভাবে দেখতে চাই। তবে গল্পে টিমওয়ার্ক থাকায় পুরো ইনভেসটিকেশন উপভোগ করেছি। তাছাড়া, প্রোটাগনিস্টের তুলনায় এন্টাগনিস্টদের বেশ দূর্বল মনে হয়েছে, খুব সহজেই কাবু হয়ে যাচ্ছিল কেন জানি। শেষ ফাইটটা নিয়ে এক্সপেক্টেশন এককাঠি বেশ ছিল, তবে কেন যেন কাহিনী তড়িৎবেগে শেষ হয়ে গেল।
পরিশেষে, পলিটিক্যাল থ্রিলার হিসেবে ‘ইশতেহার’ নিঃসন্দেহে মানসম্পন্ন বই। আন্তর্জাতিক দিকে মোড়, কন্সপিরেসি, অপ্রত্যাশিত সমাপ্তি– সব-ই মনঃপুত হয়েছে। একটা দীর্ঘশ্বাস আর নতুন দিনের স্বপ্ন নিয়েই শেষ করেছি ‘ইশতেহার’।
বইয়ের নাম- ইশতেহার
লেখক- আবুল ফাতাহ
প্রকাশনী- ভূমি প্রকাশ
মুদ্রিত মূল্য- ৩২০ টাকা
পলিটিক্যাল থ্রিলার পড়ার অভিজ্ঞতা আমার স্মৃতিতে নেই বিধায় বেশ উৎসাহ ও প্রত্যাশা নিয়েই শুরু করেছিলাম 'ইশতেহার'। যে পাহাড়চুম্বী প্রত্যাশা ছিল বইটার প্রতি, তা লেখক পূরণ করতে ষোল আনা সফল হয়েছেন।
শুরু থেকেই কাহিনী দ্রুত গতিতে এগোচ্ছিল, গল্পে বিন্দুমাত্র বাহুল্য চোখে পড়েনি। বেশ ইন্টারেস্টিং ঠেকছিল, সামনে কী হবে তার জন্যে তাড়না অনুভব করছিলাম। প্রথম প্রথম গড়পড়তা মানের কাহিনী মনে হলেও সব রহস্য খোলাসা হওয়ার পর বুঝতে পারি কাহিনীর গভীরতা। এত সুন্দর এবং বাস্তবধর্মী আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মানানসই ঠেকেছে, বাংলাদেশকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক শক্তিকে কেন্দ্র করে এভাবে পলিটিক্যাল ফিকশন উপস্থাপনা সত্যি প্রশংসার দাবিদার। প্রতিটা একশন সিন বেশ উপভোগ করেছি, আমার ব্যক্তিগতভাবে সেখানে নাটকীয়তা মনে হয়নি। একশন দিয়ে গল্পের শুরু, একশন দিয়েই শেষ। প্রথমাংশে টুইস্ট আগেভাগেই গেস করতে পেরেছিলাম, শুধু ঘটনার প্রেক্ষিতে কারণটা জানা বাকি ছিল। শেষে যে অদ্ভুত টুইস্ট দিয়ে সব রহস্য খোলাসা হলো তা আসলেই বাকরুদ্ধ করেছে আমায়। প্লটটার জন্যেই লেখকে সালাম ঠুকবো আমি।
চরিত্রায়নের ব্যাপার বলতে গেলে, মেজর সাইফকে নিয়ে বেশিরভাগই একশন সিন ছিল। আমি খুব করে চাচ্ছিলাম তাকে আরেকটু বেশ উপলব্ধি করতে, ভবিষ্যতের বইয়ে সাইফ চরিত্রটা আরেকটু খোলতাইভাবে দেখতে চাই। তবে গল্পে টিমওয়ার্ক থাকায় পুরো ইনভেসটিকেশন উপভোগ করেছি। তাছাড়া, প্রোটাগনিস্টের তুলনায় এন্টাগনিস্টদের বেশ দূর্বল মনে হয়েছে, খুব সহজেই কাবু হয়ে যাচ্ছিল কেন জানি। শেষ ফাইটটা নিয়ে এক্সপেক্টেশন এককাঠি বেশ ছিল, তবে কেন যেন কাহিনী তড়িৎবেগে শেষ হয়ে গেল।
পরিশেষে, পলিটিক্যাল থ্রিলার হিসেবে ‘ইশতেহার’ নিঃসন্দেহে মানসম্পন্ন বই। আন্তর্জাতিক দিকে মোড়, কন্সপিরেসি, অপ্রত্যাশিত সমাপ্তি– সব-ই মনঃপুত হয়েছে। একটা দীর্ঘশ্বাস আর নতুন দিনের স্বপ্ন নিয়েই শেষ করেছি ‘ইশতেহার’।
বইয়ের নাম- ইশতেহার
লেখক- আবুল ফাতাহ
প্রকাশনী- ভূমি প্রকাশ
মুদ্রিত মূল্য- ৩২০ টাকা
April 14, 2021
ঢাকার অভিজাত এলাকার এক বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে অবিশ্বাস্য কিছু একটা দেখে ফেলল চোর। যা প্রকাশ পেলে দেশে গৃহযুদ্ধ লেগে যাওয়াও বিচিত্র না।
ড. আসাদ কায়সার—বাংলাদেশের নিকট ইতিহাসে তাঁর মতো জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা আর আসেনি। তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। ঠিক তখনই তাঁকে হত্যা করার জন্য নিয়োগ দেওয়া হলো অভিজ্ঞতায় আনাড়ি এক কন্ট্রাক্ট কিলারকে।
প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি সিক্রেট শ্যাডোর কাছে এলো অদ্ভুত এক ফোনকল। কলারের লোকেশন ট্রেস করে মিলল কেবল একটা সেলফোন। কিন্তু সেই সেলফোনটাই যেন এক আস্ত ধাঁধা।
এদিকে বহু বছর আগে রোপণ করা এক বিষবৃক্ষে আজ ফল ধরেছে। আঠারো কোটি মানুষকে আক্রান্ত করার আগেই উপড়ে ফেলতে হবে শেকড়সহ। মঞ্চে আবির্ভূত হলো মেজর সাইফ হাসান।
অসংখ্য প্রশ্ন, একের পর এক হামলা আর ইঁদুর-বিড়াল খেলায় কালঘাম ছুটে যাচ্ছে মেজর সাইফের।
আর হ্যাঁ, এত কিছুর মধ্যে ওই কালো গাড়ির রহস্যটাই বা কী?
দুরন্ত গতির এই থ্রিলার আপনাকে ঘুরিয়ে আনবে রাজনীতি আর ষড়যন্ত্রের অন্ধকার ভুবন থেকে।
পুরো উপন্যাসটি থ্রিল আর টুইস্টে ভরপুর। লেখক সাবলীলভাবে রাজনীতি আর ষড়যন্ত্রের গল্প বলে গেছেন। বইটি পড়ে বিরক্ত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা শূন্য। ইশতেহার পড়ার আগে লেখকের দুটি বই পড়া হয়েছে-দ্য এন্ড, এই নগরের পথে। দ্য এন্ড খুব ভালো লেগেছিল আর এই নগরের পথে বিলো এভারেজ টাইপ মনে হয়েছে। ইশতেহার লেখকের আগের সব উপন্যাস কে ছাড়িয়ে গেছে। সিক্রেট শ্যাডো আর মেজর সাইফ হাসান কে নিয়ে এখন পর্যন্ত দুটি বই লেখা হয়েছে। আশা করি লেখকের কাছ থেকে ভবিষ্যতে সিক্রেট শ্যাডো নিয়ে আরও উপন্যাস পাবো।
ড. আসাদ কায়সার—বাংলাদেশের নিকট ইতিহাসে তাঁর মতো জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা আর আসেনি। তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। ঠিক তখনই তাঁকে হত্যা করার জন্য নিয়োগ দেওয়া হলো অভিজ্ঞতায় আনাড়ি এক কন্ট্রাক্ট কিলারকে।
প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি সিক্রেট শ্যাডোর কাছে এলো অদ্ভুত এক ফোনকল। কলারের লোকেশন ট্রেস করে মিলল কেবল একটা সেলফোন। কিন্তু সেই সেলফোনটাই যেন এক আস্ত ধাঁধা।
এদিকে বহু বছর আগে রোপণ করা এক বিষবৃক্ষে আজ ফল ধরেছে। আঠারো কোটি মানুষকে আক্রান্ত করার আগেই উপড়ে ফেলতে হবে শেকড়সহ। মঞ্চে আবির্ভূত হলো মেজর সাইফ হাসান।
অসংখ্য প্রশ্ন, একের পর এক হামলা আর ইঁদুর-বিড়াল খেলায় কালঘাম ছুটে যাচ্ছে মেজর সাইফের।
আর হ্যাঁ, এত কিছুর মধ্যে ওই কালো গাড়ির রহস্যটাই বা কী?
দুরন্ত গতির এই থ্রিলার আপনাকে ঘুরিয়ে আনবে রাজনীতি আর ষড়যন্ত্রের অন্ধকার ভুবন থেকে।
পুরো উপন্যাসটি থ্রিল আর টুইস্টে ভরপুর। লেখক সাবলীলভাবে রাজনীতি আর ষড়যন্ত্রের গল্প বলে গেছেন। বইটি পড়ে বিরক্ত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা শূন্য। ইশতেহার পড়ার আগে লেখকের দুটি বই পড়া হয়েছে-দ্য এন্ড, এই নগরের পথে। দ্য এন্ড খুব ভালো লেগেছিল আর এই নগরের পথে বিলো এভারেজ টাইপ মনে হয়েছে। ইশতেহার লেখকের আগের সব উপন্যাস কে ছাড়িয়ে গেছে। সিক্রেট শ্যাডো আর মেজর সাইফ হাসান কে নিয়ে এখন পর্যন্ত দুটি বই লেখা হয়েছে। আশা করি লেখকের কাছ থেকে ভবিষ্যতে সিক্রেট শ্যাডো নিয়ে আরও উপন্যাস পাবো।
September 14, 2021
বইটাকে পলিটিকাল থ্রিলার হিসেবে পাঠকের হাতে তুলে দেয়া হলেও আদতে এটা এস্পিয়োনাজ থ্রিলার। এবং মোটামুটি উপভোগ্যও বটে। গল্পে গতি আছে। ইনভেস্টিগেশন পাঠকের চোখের সামনে ঘটেছে। যেটা বেশির ভাগ বইয়ে ঘটে না। সুতরাং এক্ষেত্রে লেখক বাহবা পেতেই পারেন।
এবার আসি যা ভালো লাগেনিঃ
০১. রানা টাইপ রাইটিং। অর্থাৎ স্পাই বিজনেস টাইপ ব্যাকস্ট্যাবিং প্রফেশনেও সব পাত্র-পাত্রীদের মধ্যে প্রফেশনাল কম পার্সোনাল সম্পর্ক বেশি। (অনেকের কাছে এগুলো ভালো লাগতে পারে। নো-অফেন্স বাট আমার কাছে যাস্ট ক্লিশে মনেহয়।)
০২. কোট খুলে সাদা পোষাকে ইনভেস্টিগেট করতে যাচ্ছে সাইফ, অথচ তার শোল্ডার হোলস্টারে বন্দুক। (পৃষ্ঠা ৩৯ এবং পৃষ্ঠা ৪৭,৪৮)
০৩. এক লাইনে বলা হলো গাড়ির সবগুলো কাচ নামানো। ঠিক পরের লাইনে বলা হলো একটা কাচ নেমে যাচ্ছে। (পৃষ্ঠা ৪৮)
০৪. সিসি ক্যামেরা, ডিভিআর, মনিটর সব ধ্বংস হয়ে যাক, হার্ডডিস্ক ধ্বংস না হলে ভিডিও ফুটেজ হারাবে না। (যদিও পরে হার্ডডিস্ক থেকে ফুটেজ রিকভার করা হয়। আরেকটা ব্যাপার হলো পিসির সাথে সিসি ক্যামেরা লাগানো প্রাচীন আমলের প্রযুক্তি। গত দশ বছর যাবৎ দেশে খুব কম দামে ভালো মানে ডিভিআর, এক্সভিআর, এনভিআর পাওয়া যায়।) (পৃষ্ঠা ৪৮)
০৫. প্রথমে কফিশপের মালিক বলল স্কুল ছুটির আগে ভিডিও ফিড অন করা হয় না। পরে সত্তুর পৃষ্ঠায় দেখা গেল তারা সকাল থেকে ফিড পরীক্ষা করছে। (পৃষ্ঠা ৪৩ এবং পৃষ্ঠা ৭০)
০৬. চ্যাপ্টার সাত এবং আট দুবার লেখা হয়েছে, যেটা আগেও এক পাঠক উল্লেখ করেছেন। এছাড়া, আরোহী বানান বারবার আরওহী লেখার কারণ বুঝলাম না।
০৭. হঠাৎ করে আকমল বশির কেন আসাদ কায়সারকে খুন করতে চাইল? ইভেন আকমল বশির ধরা পরার পরও মূল পার্পিট্রেটরের বিরুদ্ধে কোন সলিড প্রমান ছিল না। তাহলে সে স্বেচ্ছায় নিজের পরিচয় প্রকাশ করলো কেন?
মোদ্দা কথা হলো, প্রত্যেকটা বইয়ের উচিৎ তার সেটিংস যে ওয়ার্ল্ডে সেখানকার সাথে তথ্য, চরিত্র এবং পরিবেশগত সামঁজস্য রাখা।
এবার আসি যা ভালো লাগেনিঃ
০১. রানা টাইপ রাইটিং। অর্থাৎ স্পাই বিজনেস টাইপ ব্যাকস্ট্যাবিং প্রফেশনেও সব পাত্র-পাত্রীদের মধ্যে প্রফেশনাল কম পার্সোনাল সম্পর্ক বেশি। (অনেকের কাছে এগুলো ভালো লাগতে পারে। নো-অফেন্স বাট আমার কাছে যাস্ট ক্লিশে মনেহয়।)
০২. কোট খুলে সাদা পোষাকে ইনভেস্টিগেট করতে যাচ্ছে সাইফ, অথচ তার শোল্ডার হোলস্টারে বন্দুক। (পৃষ্ঠা ৩৯ এবং পৃষ্ঠা ৪৭,৪৮)
০৩. এক লাইনে বলা হলো গাড়ির সবগুলো কাচ নামানো। ঠিক পরের লাইনে বলা হলো একটা কাচ নেমে যাচ্ছে। (পৃষ্ঠা ৪৮)
০৪. সিসি ক্যামেরা, ডিভিআর, মনিটর সব ধ্বংস হয়ে যাক, হার্ডডিস্ক ধ্বংস না হলে ভিডিও ফুটেজ হারাবে না। (যদিও পরে হার্ডডিস্ক থেকে ফুটেজ রিকভার করা হয়। আরেকটা ব্যাপার হলো পিসির সাথে সিসি ক্যামেরা লাগানো প্রাচীন আমলের প্রযুক্তি। গত দশ বছর যাবৎ দেশে খুব কম দামে ভালো মানে ডিভিআর, এক্সভিআর, এনভিআর পাওয়া যায়।) (পৃষ্ঠা ৪৮)
০৫. প্রথমে কফিশপের মালিক বলল স্কুল ছুটির আগে ভিডিও ফিড অন করা হয় না। পরে সত্তুর পৃষ্ঠায় দেখা গেল তারা সকাল থেকে ফিড পরীক্ষা করছে। (পৃষ্ঠা ৪৩ এবং পৃষ্ঠা ৭০)
০৬. চ্যাপ্টার সাত এবং আট দুবার লেখা হয়েছে, যেটা আগেও এক পাঠক উল্লেখ করেছেন। এছাড়া, আরোহী বানান বারবার আরওহী লেখার কারণ বুঝলাম না।
০৭. হঠাৎ করে আকমল বশির কেন আসাদ কায়সারকে খুন করতে চাইল? ইভেন আকমল বশির ধরা পরার পরও মূল পার্পিট্রেটরের বিরুদ্ধে কোন সলিড প্রমান ছিল না। তাহলে সে স্বেচ্ছায় নিজের পরিচয় প্রকাশ করলো কেন?
মোদ্দা কথা হলো, প্রত্যেকটা বইয়ের উচিৎ তার সেটিংস যে ওয়ার্ল্ডে সেখানকার সাথে তথ্য, চরিত্র এবং পরিবেশগত সামঁজস্য রাখা।
April 22, 2025
#পাঠপ্রতিক্রিয়া
পলিটিক্যাল থ্রিলার জনরা।
ঢাকার অভিজাত এলাকায় একজন সখের অথচ শিল্পীর ন্যায় চোরের চুরি করতে গিয়ে হাতে পরে এমন কিছু ডক্যুমেন্টস যা একটা দেশের ইতিহাসে বদল আনতে পারে, লাগাতে পারে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ।
লেখার ভাষা জড়তাহীন, গতি টান টান। মুখ্য চরিত্রটি ঢেলে সাজানো। লেখক প্রশংসার দাবী রাখে দুর্দান্ত ক্লাইমেক্স এর জন্যে। কাহিনী যে ওইদিকে টার্ন করবে আশাতীত ছিল। পাকিস্তানের হালকা চালে কিছু বর্ণনা ভালো লেগেছে, সচারাচর যা অন্যান্য বইয়ে দেখা যায় না।
"ভূমি প্রকাশনী"র আরও একটি জমজমাট বই। যদিও ২০২১ এ প্রকাশিত কিন্তু এইবারের বইমেলা উপলক্ষ্যে সংগ্রহ। লেখকের লেখা আগেও পড়েছি, মৌলিক এই প্রথম।
কিন্তু একটাই আফসোস, লেখক শেষে যেন ধপ করে উপসংহার টানলেন। আমার মনে হয় পাঠক আরও কয়েক পাতা গিলতে মোটেও দু:খবোধ করতো না।
ব্যক্তিগতভানে প্রচ্ছদ এর কাজ ভাল লেগেছে।
শুভ কামনা লেখকের জন্য।
#সাহিত্যানুশীলন
------------
বই: ইশতেহার
লেখক: আবুল ফাতাহ Abul Fattah Munna
প্রকাশনা: ভূমিপ্রকাশ BhumiProkash
পৃষ্ঠা: ১৯২
------------
পলিটিক্যাল থ্রিলার জনরা।
ঢাকার অভিজাত এলাকায় একজন সখের অথচ শিল্পীর ন্যায় চোরের চুরি করতে গিয়ে হাতে পরে এমন কিছু ডক্যুমেন্টস যা একটা দেশের ইতিহাসে বদল আনতে পারে, লাগাতে পারে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ।
লেখার ভাষা জড়তাহীন, গতি টান টান। মুখ্য চরিত্রটি ঢেলে সাজানো। লেখক প্রশংসার দাবী রাখে দুর্দান্ত ক্লাইমেক্স এর জন্যে। কাহিনী যে ওইদিকে টার্ন করবে আশাতীত ছিল। পাকিস্তানের হালকা চালে কিছু বর্ণনা ভালো লেগেছে, সচারাচর যা অন্যান্য বইয়ে দেখা যায় না।
"ভূমি প্রকাশনী"র আরও একটি জমজমাট বই। যদিও ২০২১ এ প্রকাশিত কিন্তু এইবারের বইমেলা উপলক্ষ্যে সংগ্রহ। লেখকের লেখা আগেও পড়েছি, মৌলিক এই প্রথম।
কিন্তু একটাই আফসোস, লেখক শেষে যেন ধপ করে উপসংহার টানলেন। আমার মনে হয় পাঠক আরও কয়েক পাতা গিলতে মোটেও দু:খবোধ করতো না।
ব্যক্তিগতভানে প্রচ্ছদ এর কাজ ভাল লেগেছে।
শুভ কামনা লেখকের জন্য।
#সাহিত্যানুশীলন
------------
বই: ইশতেহার
লেখক: আবুল ফাতাহ Abul Fattah Munna
প্রকাশনা: ভূমিপ্রকাশ BhumiProkash
পৃষ্ঠা: ১৯২
------------
March 5, 2023
বেশ অনেকদিন পর একটা থ্রিলার পড়লাম, তাও পলিটিকাল কন্সপিরেসি থ্রিলার! বেশ ভালো পেজ টার্নার। মোটামুটি এক বসায় পড়ে ফেলার মতন। যদিও সময় স্বল্পতায় আমার ২/৩ দিন লাগসে৷ বহুদিন আগে ফেইসবুকে বইটির একটি পেজ পড়ে তখন থেকেই এইটার পিছে লেগে ছিলাম পড়ার জন্য। অবশেষে রিফাতের কল্যাণে বইটি যোগার হলো। রিফাতকে ধন্যবাদ। তবে বইটার ডাউনসাইড হচ্ছে সবার নাম এত বেশী কাছাকাছি যে প্রায়ই গুলায় ফেলি!
August 23, 2021
আমার পড়া বেস্ট বইগুলোর মধ্যে একটা ইশতেহার!
কালকে বইটা পড়া শুরু করি এবং কালকেই শেষ করেছি! লেখা এতটাই টেনেছিল আমায় যে এক মুহুর্তের জন্য ছাড়তে পারছিলাম না। লাস্টের দুই অধ্যায়! কি বলবো আর, উত্তেজনার চোটে বুক পুরো কাঁপছিলো!
মাঝে মাঝে কয়েকটা জায়গায় অবশ্য বেশ হেসেছি বটে!
সবাইকে বইটা পড়ার আমন্ত্রণ রইলো.....
কালকে বইটা পড়া শুরু করি এবং কালকেই শেষ করেছি! লেখা এতটাই টেনেছিল আমায় যে এক মুহুর্তের জন্য ছাড়তে পারছিলাম না। লাস্টের দুই অধ্যায়! কি বলবো আর, উত্তেজনার চোটে বুক পুরো কাঁপছিলো!
মাঝে মাঝে কয়েকটা জায়গায় অবশ্য বেশ হেসেছি বটে!
সবাইকে বইটা পড়ার আমন্ত্রণ রইলো.....
October 10, 2023
বই: ইশতেহার
লেখক: আবুল ফাতাহ
প্রকাশনি: ভূমিপ্রকাশ
প্রচ্ছদ: সজল চৌধুরী
১৯২ পৃষ্ঠার থ্রিলার উপন্যাসটি একটি রেসিং কার গতির থ্রিলার; এই পরিচয় পেয়ে এবং ফ্ল্যাপ পড়ে বইটি নিয়ে আগ্রহী হয়েছিলাম।
দুর্দান্ত থ্রিল, মনোহর বাক্যগঠন আর শব্দচয়ন, আকর্ষণীয় কিছু চরিত্র, জমজমাট একটি প্লট; সবমিলিয়ে লেখক শেষ পর্যন্ত দিতে পেরেছেন দুর্দান্ত এক্সিকিউশন।
বিভিন্ন রিভিউয়ে বইটিকে পলিটিক্যাল, স্পাই থ্রিলার ট্যাগ দেয়া হয়েছিল। তবে বইটার বেশিরভাগই আসলে ক্রাইম থ্রিলার। শেষে কিছু এসপিওনাজ এবং অবশ্যম্ভাবী পলিটিক্যাল ফ্লেভার এয়েচে। জনরা ফ্যাক্ট নয়, তবে শেষের দিকে এসে এসপিওনাজের অংশটুকু আসলে টুইস্টের মতো হয়ে ধরা দিয়েছে।
ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি সিক্রেট শ্যাডোর মেজর সাইফকে লেখক যথাযথ পোট্রে করেছেন। বুদ্ধিমান, বিশ্লেষণী, সাহসী একজন ইনভেস্টিগেটর। তবে যেটা ভালো লাগেনি, সিক্রেট শ্যাডোকে লেখক প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন একটা শক্তিশালী ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি হিসেবে, মাসুদ রানার বিসিআই যেমন তামাম দুনিয়ায় সবচেয়ে মশহুর, অনেকটা অমন। কিন্তু সেটা 'টেল' হয়েছে, 'শো' হয়নি। এই জায়গায় আরেকটু সময় নিলে সিক্রেট শ্যাডো ওই লেভেলে দাঁড়িয়ে যেত।
প্রজেক্ট বাওবাব নিয়ে বলার কিছু নেই। লা জাওয়াব। সাইফের পাকিস্তান সফরের অংশটুকুও ভালো লেগেছে।
এবং শেষে লেখক যেই টুইস্ট দিয়েছেন, একদম যথাযথ হয়েছে।
সব মিলিয়ে দুর্দান্ত একটা থ্রিলার উপন্যাস। এক দুই বসায় শেষ করার মতো পয়সা উসুল একটা বই।
প্রচ্ছদ করেছেন সজল চৌধুরী ভাই। বরাবরের মতোই দুর্দান্ত এবং বইয়ের সাথে একদম মানানসই।
রেটিং ৪.৫/৫
লেখক: আবুল ফাতাহ
প্রকাশনি: ভূমিপ্রকাশ
প্রচ্ছদ: সজল চৌধুরী
১৯২ পৃষ্ঠার থ্রিলার উপন্যাসটি একটি রেসিং কার গতির থ্রিলার; এই পরিচয় পেয়ে এবং ফ্ল্যাপ পড়ে বইটি নিয়ে আগ্রহী হয়েছিলাম।
দুর্দান্ত থ্রিল, মনোহর বাক্যগঠন আর শব্দচয়ন, আকর্ষণীয় কিছু চরিত্র, জমজমাট একটি প্লট; সবমিলিয়ে লেখক শেষ পর্যন্ত দিতে পেরেছেন দুর্দান্ত এক্সিকিউশন।
বিভিন্ন রিভিউয়ে বইটিকে পলিটিক্যাল, স্পাই থ্রিলার ট্যাগ দেয়া হয়েছিল। তবে বইটার বেশিরভাগই আসলে ক্রাইম থ্রিলার। শেষে কিছু এসপিওনাজ এবং অবশ্যম্ভাবী পলিটিক্যাল ফ্লেভার এয়েচে। জনরা ফ্যাক্ট নয়, তবে শেষের দিকে এসে এসপিওনাজের অংশটুকু আসলে টুইস্টের মতো হয়ে ধরা দিয়েছে।
ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি সিক্রেট শ্যাডোর মেজর সাইফকে লেখক যথাযথ পোট্রে করেছেন। বুদ্ধিমান, বিশ্লেষণী, সাহসী একজন ইনভেস্টিগেটর। তবে যেটা ভালো লাগেনি, সিক্রেট শ্যাডোকে লেখক প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন একটা শক্তিশালী ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি হিসেবে, মাসুদ রানার বিসিআই যেমন তামাম দুনিয়ায় সবচেয়ে মশহুর, অনেকটা অমন। কিন্তু সেটা 'টেল' হয়েছে, 'শো' হয়নি। এই জায়গায় আরেকটু সময় নিলে সিক্রেট শ্যাডো ওই লেভেলে দাঁড়িয়ে যেত।
প্রজেক্ট বাওবাব নিয়ে বলার কিছু নেই। লা জাওয়াব। সাইফের পাকিস্তান সফরের অংশটুকুও ভালো লেগেছে।
এবং শেষে লেখক যেই টুইস্ট দিয়েছেন, একদম যথাযথ হয়েছে।
সব মিলিয়ে দুর্দান্ত একটা থ্রিলার উপন্যাস। এক দুই বসায় শেষ করার মতো পয়সা উসুল একটা বই।
প্রচ্ছদ করেছেন সজল চৌধুরী ভাই। বরাবরের মতোই দুর্দান্ত এবং বইয়ের সাথে একদম মানানসই।
রেটিং ৪.৫/৫
October 20, 2021
কেমন লেগেছে তা এক শব্দে বলা যায়—ভালো। তবে বিস্তারিত বলতে গেলে ঝামেলা পাকাবো।
দারুণ একটা প্লট। কলেজ লাইফে আমার নিজের একটা আইডিয়ার সাথে কিঞ্চিত মিলেও গেছে! :3 তবে এই প্লটের এক্সিকিউশন আরও বড় পরিসর দাবি করে বলেই মনে হয়েছে। অনেক ঘটনাই ঘটেছে, তবে কেমন যেন হুটহাট-ধুপধাপ। উপভোগ করেছি, কিন্তু বারবার মনে হয়েছে কিছু একটা মিসিং। সেটা কী, ধরতে পারিনি।
সব মিলিয়ে বাংলা মৌলিক থ্রিলারের জগতে ইশতেহার ভালো একটা সংযোজন। থ্রিলার প্রেমী হলে রেকমেন্ড করব।
প্রচ্ছদ খুব প্রাসঙ্গিক হলেও নজর কাড়েনি। প্রোডাকশন ভালো।
দারুণ একটা প্লট। কলেজ লাইফে আমার নিজের একটা আইডিয়ার সাথে কিঞ্চিত মিলেও গেছে! :3 তবে এই প্লটের এক্সিকিউশন আরও বড় পরিসর দাবি করে বলেই মনে হয়েছে। অনেক ঘটনাই ঘটেছে, তবে কেমন যেন হুটহাট-ধুপধাপ। উপভোগ করেছি, কিন্তু বারবার মনে হয়েছে কিছু একটা মিসিং। সেটা কী, ধরতে পারিনি।
সব মিলিয়ে বাংলা মৌলিক থ্রিলারের জগতে ইশতেহার ভালো একটা সংযোজন। থ্রিলার প্রেমী হলে রেকমেন্ড করব।
প্রচ্ছদ খুব প্রাসঙ্গিক হলেও নজর কাড়েনি। প্রোডাকশন ভালো।
May 7, 2021
Finally done it
August 1, 2022
রেটিং: 3.5 ⭐
এটা মেজর সাইফ হাসান সিরিজের বই।গল্পটা মোটামুটি লেগেছে, খুব ভালোও না আবার খারাপও না। এটা ফাস্ট পেসড পলিটিকাল থ্রিলার। পলিটিক্স, সাসপেন্স, উত্তেজনা, টুইস্ট, একশন ইত্যাদি অনেক উপাদান গল্পটায় আছে। বেশ কয়েকটা টুইস্ট ছিল দেখে গল্পটা শেষ করার আগ্রহ বেড়ে গিয়েছিল। মেজর সাইফ এর চরিত্র দুর্দান্ত লেগেছে। তবে কিছু জায়গায় একটু খাপছাড়া মনে হয়েছে। যদি পলিটিক্যাল থ্রিলার ভালো লাগে তাহলে বইটা পড়তে পারেন, ভালো লাগবে।
এটা মেজর সাইফ হাসান সিরিজের বই।গল্পটা মোটামুটি লেগেছে, খুব ভালোও না আবার খারাপও না। এটা ফাস্ট পেসড পলিটিকাল থ্রিলার। পলিটিক্স, সাসপেন্স, উত্তেজনা, টুইস্ট, একশন ইত্যাদি অনেক উপাদান গল্পটায় আছে। বেশ কয়েকটা টুইস্ট ছিল দেখে গল্পটা শেষ করার আগ্রহ বেড়ে গিয়েছিল। মেজর সাইফ এর চরিত্র দুর্দান্ত লেগেছে। তবে কিছু জায়গায় একটু খাপছাড়া মনে হয়েছে। যদি পলিটিক্যাল থ্রিলার ভালো লাগে তাহলে বইটা পড়তে পারেন, ভালো লাগবে।
April 17, 2021
💢 পাঠ প্রতিক্রিয়া 💢
💥 আবুল ফাতাহ মুন্না ভাইয়ের লেখা পলিটিকাল থ্রিলার "ইশতেহার" প্রকাশিত হয়েছে এবারের বই মেলায় ভূমি প্রকাশ থেকে। বইটি প্রকাশের আগে কাহিনী সংক্ষেপ পড়েই বইটি কিনবো বলে ঠিক করে ফেলি।
💥 লেখকে সুন্দর লেখনশৈলীতে রাজনীতি, রহস্য, একশন, সাসপেন্স সবই বিদ্যমান ছিল। একদম মেদহীন ঝরঝরে লেখা। একটা সয়ংসম্পূর্ন থ্রিলার বলতে যা বুঝি, তার সবই পেয়েছি ইশতেহার এ। গল্পের মুল কিছু চরিত্র যেমন মেজর সাইফ হাসান, আসাদ কায়সার, আশরাফ জামান, বিশ্বজিৎ এদেরকে জীবন্ত মনে হচ্ছিল। আমার কাছে গল্পের প্লটটা ভালো লেগেছে।
💥 শুরুর দিকের বেশ কিছু পৃষ্ঠা স্লো হলেও শেষটা ছিল টানটান উত্তেজনার। বইয়ের কিছুটা পড়ার পর, এর পরে কি হবে / পরের কাহিনি কি এসব জানার আগ্রহ তৈরি হয়ে গিয়েছিল। এক বসায় ইশতেহার শেষ করেছি, অবশ্য শেষ না করে উঠতে মন চাচ্ছিল না। প্রথমে মনে হয়েছিল সামনে কি হবে আমি ধরতে পেরেছি। কিন্তু শেষটায় একটু অবাকই হয়েছি।
💥 যদিও শেষটা একটু দ্রুতই শেষ হয়ে গেছে বলে আমার মনে হয়। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি সিক্রেট শ্যাডো এই কেস এর সফল সমাধান ও রহস্যের জট বেশ ভালো ভাবেই খুলেছে। রহস্যে ভরা দুরন্ত গতির এই থ্রিলার বইটা থ্রিলার প্রেমীদের জন্য মাস্টরিড।
💟 ভালো লাগা কয়েকটা লাইন 💟
⏩ ‘’ এবার ‘জনবন্ধু’ নামে কোন দলের মার্কা ব্যালট পেপারে ছাপা হবে না। থাকবে পঞ্চাশ বছর ধরে টিকে থাকা সেই পুরোনো মার্কাগুলোই ‘’
⏩ "আজ থেকে দেশটাকে মা নয়, সন্তান ভাবতে শিখুন। বয়স পঞ্চাশ হলেও যে সন্তান সবে হাঁটতে শিখেছে। তার হাত ছেড়ে দেবেন না , আঙুল ধরে দৌঁড়াতে শেখান, কোলেপিঠে করে গড়ে তুলুন । দেশ বড় হলে সেও একদিন আপনার সমস্ত ভালাবাসা ফিরিয়ে দেবে সন্তানের মতই।"
🆘 সজল চৌধুরী ভাইয়ার তৈরি প্রচ্ছদটি গল্পের সংগে একদম মানানসই। বইটির প্রোডাক্টশন খুব ভালো হয়েছে। বানান ভুল, ওয়ার্ড মিসিং তেমন একটা ছিল না। পেইজ কোয়ালিটি ও বান্ডিং ভালো ছিল। 👍👍
💗 চাইলে পড়ে ফেলতে পারেন পলিটিকাল থ্রিলার "ইশতেহার" আশাকরি ভালো লাগবে..😁
💥 আবুল ফাতাহ মুন্না ভাইয়ের লেখা পলিটিকাল থ্রিলার "ইশতেহার" প্রকাশিত হয়েছে এবারের বই মেলায় ভূমি প্রকাশ থেকে। বইটি প্রকাশের আগে কাহিনী সংক্ষেপ পড়েই বইটি কিনবো বলে ঠিক করে ফেলি।
💥 লেখকে সুন্দর লেখনশৈলীতে রাজনীতি, রহস্য, একশন, সাসপেন্স সবই বিদ্যমান ছিল। একদম মেদহীন ঝরঝরে লেখা। একটা সয়ংসম্পূর্ন থ্রিলার বলতে যা বুঝি, তার সবই পেয়েছি ইশতেহার এ। গল্পের মুল কিছু চরিত্র যেমন মেজর সাইফ হাসান, আসাদ কায়সার, আশরাফ জামান, বিশ্বজিৎ এদেরকে জীবন্ত মনে হচ্ছিল। আমার কাছে গল্পের প্লটটা ভালো লেগেছে।
💥 শুরুর দিকের বেশ কিছু পৃষ্ঠা স্লো হলেও শেষটা ছিল টানটান উত্তেজনার। বইয়ের কিছুটা পড়ার পর, এর পরে কি হবে / পরের কাহিনি কি এসব জানার আগ্রহ তৈরি হয়ে গিয়েছিল। এক বসায় ইশতেহার শেষ করেছি, অবশ্য শেষ না করে উঠতে মন চাচ্ছিল না। প্রথমে মনে হয়েছিল সামনে কি হবে আমি ধরতে পেরেছি। কিন্তু শেষটায় একটু অবাকই হয়েছি।
💥 যদিও শেষটা একটু দ্রুতই শেষ হয়ে গেছে বলে আমার মনে হয়। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি সিক্রেট শ্যাডো এই কেস এর সফল সমাধান ও রহস্যের জট বেশ ভালো ভাবেই খুলেছে। রহস্যে ভরা দুরন্ত গতির এই থ্রিলার বইটা থ্রিলার প্রেমীদের জন্য মাস্টরিড।
💟 ভালো লাগা কয়েকটা লাইন 💟
⏩ ‘’ এবার ‘জনবন্ধু’ নামে কোন দলের মার্কা ব্যালট পেপারে ছাপা হবে না। থাকবে পঞ্চাশ বছর ধরে টিকে থাকা সেই পুরোনো মার্কাগুলোই ‘’
⏩ "আজ থেকে দেশটাকে মা নয়, সন্তান ভাবতে শিখুন। বয়স পঞ্চাশ হলেও যে সন্তান সবে হাঁটতে শিখেছে। তার হাত ছেড়ে দেবেন না , আঙুল ধরে দৌঁড়াতে শেখান, কোলেপিঠে করে গড়ে তুলুন । দেশ বড় হলে সেও একদিন আপনার সমস্ত ভালাবাসা ফিরিয়ে দেবে সন্তানের মতই।"
🆘 সজল চৌধুরী ভাইয়ার তৈরি প্রচ্ছদটি গল্পের সংগে একদম মানানসই। বইটির প্রোডাক্টশন খুব ভালো হয়েছে। বানান ভুল, ওয়ার্ড মিসিং তেমন একটা ছিল না। পেইজ কোয়ালিটি ও বান্ডিং ভালো ছিল। 👍👍
💗 চাইলে পড়ে ফেলতে পারেন পলিটিকাল থ্রিলার "ইশতেহার" আশাকরি ভালো লাগবে..😁
April 1, 2022
আবুল ফাতাহ মুন্না ভাইর লেখার হাত দারুণ। যাই লিখেন, পড়তে বেশ আরাম লাগে। 'ইশতেহার'ও তার ব্যতিক্রম নয়। ১৯২ পৃষ্ঠার ছোট এই বইটিতে মুন্না ভাইয়ের লেখা এত স্মুথ যে একটানে পড়ে ফেলা সম্ভব। ওদিকে দেশীয় পটভূমিতে প্লটটাও দারুণ। তবে দারুণ লিখনশৈলীর দারুণ প্লটের বইটি দারুণ হলো না স্রেফ কিছু জিনিস রিলেট না করতে পারার কারণে। যেমন : বই পড়তে গিয়ে আমার বারবার মনে হয়েছে সাইফ হাসানের ভাগ্য খুব বেশিই ভালো। খানিকটা অতিমানবীয় পর্যায়ের ভাগ্য তার। আবার ভাগ্য ভালো ছাড়াও অ্যাকশান যেগুলা দেখানো হয়েছে বা যে মিশনগুলা সাইফ হাসান পরিচালনা করেছে তাতে তিনি রীতিমত সুপারম্যানীয় পারফর্মেন্স দেখিয়েছেন, মানে সাইফ হাসানের পারফরমেন্স এর কাছে দেশীয় গ্যাংস্টার, স্টাইলিশ চোর, বিদেশী চর কেউ পাত্তা পায়নি। লেখন সাইফ হাসানকে নিয়ে এতটাই অবসেশানে ছিলেন যে, দেশের মধ্যে বছরের পর বছর অন্য দেশের স্লিপার এজেন্ট থাকাটা ডিজিএফআই কিংবা অন্য কোন এজেন্সীর নজরে ফেলারও প্রয়োজন মনে করেননি। এই স্লিপার এজেন্ট যে জনগণের আড়ালে ছিলো, তাও কিন্তু না। কিন্তু সিক্রেট শ্যাডো ধরার আগে কেউ জানতো না। দেশে যেন একমাত্র সিক্রেট শ্যাডোই আছে, আরো ইনভেস্টিগেশন এজেন্সী নেই। তো এই ব্যাপারগুলা আমি মেলাতে পারিনি। লেখায় খানিকটা ভুল যে রয়ে যায়নি তাও না। যেমন : সিসিটিভির টাইমিং এর ব্যাপারটা। এটাকে প্লটহোলও বলা যায় কারণ এটার ওপর অনেক কিছু ডিপেন্ডেড ছিলো। আবার সন্দেহভাজন ব্যক্তি শেষে কেন গল্পের একটা প্রধান চরিত্রকে হত্যা করতে চাইলো, সেটা পরিষ্কার না। এরকম উপন্যাসের আরো কিছু জায়গায় সুতা ছিঁড়ে গেছে, লেখক সে সুতা মেলাতে পারেননি। সে কারণে গাঁথুনি ছিলো দূর্বল। তবে শুরুতেই যা বললাম, পড়তে কষ্ট হবেনা কিংবা পড়ে 'একদম ভালো না' এমনও মনে হবে না। সো, চাইলে একটা ট্রাই করতেই পারেন।
October 18, 2021
৩.৫/৫
ফাতাহ ভাইয়ের লেখা সুন্দর, স্টোরিটেলিং চমৎকার। বইটা শুরু থেকেই গতিময় এবং গল্পও ভাল, আটকে রেখেছে শেষ পর্যন্ত।
তবুও ৩.৫ দিলাম কারন বইটাতে ৩ টা খুব বড়-সড় প্রবলেম আছে।
১. ক্যারেক্টার গুলোতে প্রবলেম। প্রতিটা রাজনৈতিক ক্যারেক্টার এবং প্রতিটা ইনভেস্টিগেটরের ক্যারেক্টার আমার কাছে একই রকম মনে হয়েছে। মানে সব রাজনীতিবীদদের চরিত্র একই রকম ছিল, আবার সব ইনভেস্টিগেটর দের চরিত্রও প্রায় একই রকম ছিল। নাম ভাল ভাবে মনে না রাখলে আমি আলাদা করতে পারতাম না তাদের।
২. বইটায় সব রকম মশলা ছিল, কিন্ত কেন যেন সব মশলা একসাথে ঠিক ভাবে মিশেনি। ইনভেস্টিগেশনের কিছু কিছু ব্যাপার খুব সহজে হয়ে যাচ্ছিল। ক্লু গুলো সহজে পেয়ে গেল, যেখানে যাচ্ছে সেখানেই প্রায় সফল হয়ে ফিরে আসছে ইত্যাদি।
৩. গল্পে নারী চরিত্রের অভাব। একটা সিংগাল নারী চরিত্রও নাই এমন বই এই প্রথম পড়লাম আমি। একজন অবশ্য ছিল, তারও আবার নাম আমরা জানিনা! মাত্র ২ পাতার জন্যে আসছিল সে।
ফাতাহ ভাইয়ের লেখা সুন্দর, স্টোরিটেলিং চমৎকার। বইটা শুরু থেকেই গতিময় এবং গল্পও ভাল, আটকে রেখেছে শেষ পর্যন্ত।
তবুও ৩.৫ দিলাম কারন বইটাতে ৩ টা খুব বড়-সড় প্রবলেম আছে।
১. ক্যারেক্টার গুলোতে প্রবলেম। প্রতিটা রাজনৈতিক ক্যারেক্টার এবং প্রতিটা ইনভেস্টিগেটরের ক্যারেক্টার আমার কাছে একই রকম মনে হয়েছে। মানে সব রাজনীতিবীদদের চরিত্র একই রকম ছিল, আবার সব ইনভেস্টিগেটর দের চরিত্রও প্রায় একই রকম ছিল। নাম ভাল ভাবে মনে না রাখলে আমি আলাদা করতে পারতাম না তাদের।
২. বইটায় সব রকম মশলা ছিল, কিন্ত কেন যেন সব মশলা একসাথে ঠিক ভাবে মিশেনি। ইনভেস্টিগেশনের কিছু কিছু ব্যাপার খুব সহজে হয়ে যাচ্ছিল। ক্লু গুলো সহজে পেয়ে গেল, যেখানে যাচ্ছে সেখানেই প্রায় সফল হয়ে ফিরে আসছে ইত্যাদি।
৩. গল্পে নারী চরিত্রের অভাব। একটা সিংগাল নারী চরিত্রও নাই এমন বই এই প্রথম পড়লাম আমি। একজন অবশ্য ছিল, তারও আবার নাম আমরা জানিনা! মাত্র ২ পাতার জন্যে আসছিল সে।
June 29, 2021
অনিল কাপুর অভিনীত 'নায়ক' মুভি তো দেখেছেন? একদিনের জন্য মুখ্য মন্ত্রী হয়ে দেশ কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। জং ধরা সিস্টেমকে পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন। কী অসাধারণই না ছিল!
আবার, মার্ক রুফালো অভিনীত 'Now you see me' তে কি আউটস্ট্যান্ডিং কৌশলে চুরি করে। চুরি বললে মনে হয় একটু অবিচার হয়ে যায়। হাইস্ট করে অসাধারণ সব টেকনিকে। হাইস্টের এতসব অভিনব কৌশল দেখে একসময় তো মনে হয়েছিল আমি নিজেই চোর হয়ে যাই। কিন্তু সিঁধ কাঁটা চোরের বেশি কিছু হতে পারব না বলে সেই ইচ্ছা মাটিচাপা দিয়ে দিলাম।
একজন চোর। যেনতেন চোর না। আবার 'Money Heist' এর মতো দল নিয়ে রাগঢাক করেও চুরি করে না। স্মার্ট চোর রাতের আঁধারে অভিজাত এলাকার জানালা দিয়ে ঢুকে কাঙ্খিত জিনিস নিয়ে আবার নেমে যায় জানালা দিয়ে। এক রাতে ঢাকার অভিজাত এলাকার এক বাড়িতে চুরি করতে ঢুকে সম্মুখীন হয় এমন এক বিষবৃক্ষের, যা উপড়ে না ফেললে দেশে নেমে আসবে অকল্পনীয় বিপদ। গৃহযুদ্ধ লাগলেও অবাক করা কিছু হবেনা। কী সেই তথ্য?
ঢাকার নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল সায়েন্সের অধ্যাপক। বর্তমানে দেশের লাইমলাইটে এসেছেন সরকারের করা এক আত্মঘাতী চুক্তির বিরুদ্ধে লিখে। তার লেখা রীতিমত জনগণের কাছে হটকেক। জনগণের তুমুল সাপোর্টে মিডিয়ার সাহায্য ছাড়াই একেবারে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে এসেছেন। পিতৃতুল্য আশরাফ জামানের কথায় রাজনীতিতে পা রাখলেন সারাদেশে হাইপ সৃষ্টি করা ড. আসাদ কায়সার। সরকারী-বিরোধীদলের মাঝে তৈরি হলো নতুন এক রাজনৈতিক দল 'জনবন্ধু'। পার্টির নেতা হাইপ সৃষ্টি করা এই লোকটি। আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়া এখন যার সময়ের ব্যাপার মাত্র। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের জং ধরা রাজনীতিতে পরিবর্তনের ছোঁয়া আসবে এই আশায় বুক বেধেছে দেশের সাধারণ জনগণ। কিন্তু ভালো কাজ কি রক্তপাত ছাড়া হয়েছে? আসাদ কায়সারের জন্যও পথটা মসৃণ না। পিছু নিয়েছে আনাড়ি কন্ট্রাক্ট কিলার সালাম। কার্য হাসিল হবে কি?
দেশীয় প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন সংস্থা 'সিক্রেট শ্যাডো'। খ্যাতি রয়েছে বেশ। হাতে তুলে নিয়েছে দেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী আসাদ কায়সারের নিরাপত্তার দায়িত্ব। পারবে কি রক্ষা করতে?
সিক্রেট শ্যাডোর কাছে এলো এক অদ্ভুত ফোনকল। দেশের সামনে সমূহ বিপদ। মজা করার ছলে কেউ এমন কল করল না কি তা বলা যায়না। কারণ কলারের কন্ঠে ছিল ভয়। সাহায্য করার জন্য ছেড়ে গেছে কিছু ক্লু। পারবে কি ক্লু গুলোকে গ্লু দিয়ে জোড়া দিতে?
মেজর সাইফ হাসান সিক্রেট শ্যাডোর হেড অব অপারেশন। দেহাকৃতি, চাল-চলন ও কাজে একেবারে জেমস বন্ড বললে ভুল হবে না। নীতিতে অটল এই ব্যক্তিটি সাবেক আর্মি। সমাধানে নেমেছে দুইটি কেসের। এক, জনসভায় আসাদ কায়সারের উপর হামলাকারী আনাড়ি সালামকে নিযুক্ত করেছে কারা তাদের হদিস পেতে হবে। দুই, অদ্ভুত কলারের থেকে পাওয়া একটা স্মার্টফোন। যার সূত্র ধরে খুঁজে পেতে হবে তাকে। জানতে হবে আসন্ন বিপদের কথা। আদতে সে শুধুমাত্র একটা স্মার্টফোন দিয়ে কী বোঝাতে চাইছে? যেখানে মেলেনি কোন ফিঙ্গারপ্রিন্ট। গোটা স্মার্টফোনটাই কী নির্দেশ করে?
কলারের থেকে পাওয়া এই সূত্র থেকে আরো সূত্রের ডালপালার খোঁজ পেতে কাজ করে যাচ্ছে সিক্রেট শ্যাডোর আরো দুই একপার্ট সাবের ও আবির।
ওদিকে আসন্ন নির্বাচনে প্রচারণার জন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন আসাদ কায়সার। তাকে নিরাপত্তা দিতে ব্যস্ত সিক্রেট শ্যাডোর আরেক এজেন্ট মাসুদ। এরই মাঝে আশরাফের ড্রাইভার থেকে মাসুদ জানতে পারে এক চমদপ্রদ তথ্য। যার সূত্র সে দেয় সাইফকে। ঘটনা মোড় নেয় একেবারে ১৮০° কোণে।
সাবের আর আবিরের ট্যালেন্টে অদ্ভুদ কলারের হদিস মেলে ঠিকই কিন্তু সত্য জানার আগেই সব এলোমেলো করে দেয় সেই কালো এসইউভি গাড়ি। সাইফ কি জানতে পেরেছিল আসন্ন বিপদের কথা? অদ্ভুত কলারের ভাগ্যে কী ঘটেছিল? তার দেয়া প্রচ্ছন্ন ক্লু কি সাইফ পেরেছিল জানতে?
মাসুদের দেয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে সিক্রেট শ্যাডোর আরেক এজেন্ট সাজ্জাদকে সাইফ পাঠায় আশরাফ জামানের ঠিকুজি বের করতে। মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ধারী জাঁদরেল এই ব্যবসায়ীর অতীত নিয়ে একটা গল্প সবাই জানে। কিন্তু তার গ্রামের ফজলুল নামক এক মুরগী ব্যবসায়ী ঠিক উলটো কথা বলে আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট আশরাফ জামান সম্পর্কে। আশরাফ জামান আসলে কে?
দুইটা ভিন্ন কেস নিয়ে চলতে চলতে মেজর সাইফ এমন এক সত্যের মুখোমুখি হয় যা নাড়িয়ে দিতে পারে গোটা দেশকে। দ্রুত এই বিষবৃক্ষ উপরে না ফেললে যার ফল একেবারে লন্ডভন্ড করে দেবে দেশের মানুষকে। বিষবৃক্ষটা আসলে কী ছিল? এসব কিছুর মাস্টারমাইন্ড কে? মেজর সাইফ কি পারবে তার সমাধান করতে?
নির্বাচনে আসাদ কায়সার কি পেরেছিলেন জয়ী হয়ে পঞ্চাশ বছরের একঘেয়ে স্বার্থপরতার রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে নতুন সূর্যোদয় ঘটাতে? না-কি সেই আজব উটের পিঠেই দেশের অসীম যাত্রা অব্যাহত রয়েছে?
#পাঠ_প্রতিক্রিয়া:
ভালো দিক:
লেখকের প্রথম কোন বই পড়লাম। পলিটিক্যাল, এনেস্পিওনাজ থ্রিলার বলতে যা বোঝায় তার পুরোটাই ১৯২ পৃষ্ঠার বইতে ছিল। প্রথম অধ্যায় থেকে যে থ্রিল দিয়ে শুরু করেছিলেন একেবারে উপসংহার পর্যন্ত সেই থ্রিল ধরে রেখেছিলেন। অধ্যায় দুই এ দেয়া বর্ণনাতে ঠিক এত পরিমাণ টুইস্ট ছিল, নার্ভ ধরে রাখা কঠিন ছিল। এইটুক অংশ আমি দুইবার পড়েছি। একশন দৃশ্যটা এক কথায় অনবদ্য লেগেছে। সংকোচ ছাড়াই এক বসায় পড়ে ফেলার মতো যথেষ্ট উপাদান ছিল বইতে। একই ধরনের কী হয় কী হয় ফিলিংস হয়েছে বইয়ের শেষের দুই অধ্যায়ে। হিন্দি সিরিয়াল হলে ব্যাকগ্রাউন্ডে যেন ধুম তানানানা, বজ্রপাতের শব্দ হয় ঠিক তেমন মনে হচ্ছিল।
চরিত্রায়ন আমার কাছে ভালো লেগেছে। প্রতিটা চরিত্রকে আপন আলোয় জ্বলার স্পেস দেওয়া হয়েছিল। যেটুকু বর্ণনা দরকার ঠিক সেইটুকুই দিয়েছেন। চরিত্রদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ছিল চোখে পড়ার মতো। যেমন: সাইফকে আবির যখন ফোড়ন কেঁটে বলে 'আমি সকালে পরোটা আর ভাজি দিয়ে নাস্তা করেছি' এই অংশটুক পড়ে এত হাসি পেয়েছে। আবিরের করা নিছক মজাগুলো হাসির উদ্রেক করেছে। রিসোর্টে সব গাড়ির হাওয়া বের করে সাজ্জাদের দেয়া উক্তিটাও বেশ মজার ছিল।
যেমন হাসির কিছু কথা ছিল তেমন ছিল কিছু কষ্ট। হারানোর কষ্ট। শেষের টুইস্টে সাইফ যখন বলেছিল 'এটা মুশতাকের জন্য' এই অংশটুক যথেষ্ট ইমোশনাল ছিল।
মেজর সাইফকে আমার অনেক ভালো লেগেছে। সিক্রেট শ্যাডো টিমটাও আমার অনেক পছন্দ হয়েছে। আশা করি লেখক সিক্রেট শ্যাডোকে ভবিষ্যতে আরো সমৃদ্ধ করবেন।
হোয়াইট হোল ব্যাপারটা বেশ লেগেছে। সাদা সবসময়ই যে সুখকর বা সৌন্দর্যের বস্তু হয়না হোয়াইট হোল তার প্রমাণ।
খারাপ দিক:
বইটা আরেকটু বড়ো হতে পারত। শেষের দিকে খুব দ্রুত এগিয়েছে। শেষে কেমন একটা বিমর্ষ ভাব রয়ে গেছে।
বানান ভুল তেমন নজরে পরেনি। তবে 'আরোহী' কে আরওহী লিখেছেন অনেক জায়গায়। প্রিন্টিং মিস্টেক তেমন দেখিনি তবে কিছু শব্দের প্রিন্ট ঝাপসা ছিল।
#প্রচ্ছদ:
প্রচ্ছদ এভারেজ লেগেছে। বইয়ের উলটোপিঠের এলিমেন্ট গুলো বইয়ের সাথে মিলে গেছে ভালো। তবে প্রচ্ছদের সামনের ভাগ তেমন ভালো লাগেনি।
আবার, মার্ক রুফালো অভিনীত 'Now you see me' তে কি আউটস্ট্যান্ডিং কৌশলে চুরি করে। চুরি বললে মনে হয় একটু অবিচার হয়ে যায়। হাইস্ট করে অসাধারণ সব টেকনিকে। হাইস্টের এতসব অভিনব কৌশল দেখে একসময় তো মনে হয়েছিল আমি নিজেই চোর হয়ে যাই। কিন্তু সিঁধ কাঁটা চোরের বেশি কিছু হতে পারব না বলে সেই ইচ্ছা মাটিচাপা দিয়ে দিলাম।
একজন চোর। যেনতেন চোর না। আবার 'Money Heist' এর মতো দল নিয়ে রাগঢাক করেও চুরি করে না। স্মার্ট চোর রাতের আঁধারে অভিজাত এলাকার জানালা দিয়ে ঢুকে কাঙ্খিত জিনিস নিয়ে আবার নেমে যায় জানালা দিয়ে। এক রাতে ঢাকার অভিজাত এলাকার এক বাড়িতে চুরি করতে ঢুকে সম্মুখীন হয় এমন এক বিষবৃক্ষের, যা উপড়ে না ফেললে দেশে নেমে আসবে অকল্পনীয় বিপদ। গৃহযুদ্ধ লাগলেও অবাক করা কিছু হবেনা। কী সেই তথ্য?
ঢাকার নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল সায়েন্সের অধ্যাপক। বর্তমানে দেশের লাইমলাইটে এসেছেন সরকারের করা এক আত্মঘাতী চুক্তির বিরুদ্ধে লিখে। তার লেখা রীতিমত জনগণের কাছে হটকেক। জনগণের তুমুল সাপোর্টে মিডিয়ার সাহায্য ছাড়াই একেবারে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে এসেছেন। পিতৃতুল্য আশরাফ জামানের কথায় রাজনীতিতে পা রাখলেন সারাদেশে হাইপ সৃষ্টি করা ড. আসাদ কায়সার। সরকারী-বিরোধীদলের মাঝে তৈরি হলো নতুন এক রাজনৈতিক দল 'জনবন্ধু'। পার্টির নেতা হাইপ সৃষ্টি করা এই লোকটি। আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়া এখন যার সময়ের ব্যাপার মাত্র। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের জং ধরা রাজনীতিতে পরিবর্তনের ছোঁয়া আসবে এই আশায় বুক বেধেছে দেশের সাধারণ জনগণ। কিন্তু ভালো কাজ কি রক্তপাত ছাড়া হয়েছে? আসাদ কায়সারের জন্যও পথটা মসৃণ না। পিছু নিয়েছে আনাড়ি কন্ট্রাক্ট কিলার সালাম। কার্য হাসিল হবে কি?
দেশীয় প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন সংস্থা 'সিক্রেট শ্যাডো'। খ্যাতি রয়েছে বেশ। হাতে তুলে নিয়েছে দেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী আসাদ কায়সারের নিরাপত্তার দায়িত্ব। পারবে কি রক্ষা করতে?
সিক্রেট শ্যাডোর কাছে এলো এক অদ্ভুত ফোনকল। দেশের সামনে সমূহ বিপদ। মজা করার ছলে কেউ এমন কল করল না কি তা বলা যায়না। কারণ কলারের কন্ঠে ছিল ভয়। সাহায্য করার জন্য ছেড়ে গেছে কিছু ক্লু। পারবে কি ক্লু গুলোকে গ্লু দিয়ে জোড়া দিতে?
মেজর সাইফ হাসান সিক্রেট শ্যাডোর হেড অব অপারেশন। দেহাকৃতি, চাল-চলন ও কাজে একেবারে জেমস বন্ড বললে ভুল হবে না। নীতিতে অটল এই ব্যক্তিটি সাবেক আর্মি। সমাধানে নেমেছে দুইটি কেসের। এক, জনসভায় আসাদ কায়সারের উপর হামলাকারী আনাড়ি সালামকে নিযুক্ত করেছে কারা তাদের হদিস পেতে হবে। দুই, অদ্ভুত কলারের থেকে পাওয়া একটা স্মার্টফোন। যার সূত্র ধরে খুঁজে পেতে হবে তাকে। জানতে হবে আসন্ন বিপদের কথা। আদতে সে শুধুমাত্র একটা স্মার্টফোন দিয়ে কী বোঝাতে চাইছে? যেখানে মেলেনি কোন ফিঙ্গারপ্রিন্ট। গোটা স্মার্টফোনটাই কী নির্দেশ করে?
কলারের থেকে পাওয়া এই সূত্র থেকে আরো সূত্রের ডালপালার খোঁজ পেতে কাজ করে যাচ্ছে সিক্রেট শ্যাডোর আরো দুই একপার্ট সাবের ও আবির।
ওদিকে আসন্ন নির্বাচনে প্রচারণার জন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন আসাদ কায়সার। তাকে নিরাপত্তা দিতে ব্যস্ত সিক্রেট শ্যাডোর আরেক এজেন্ট মাসুদ। এরই মাঝে আশরাফের ড্রাইভার থেকে মাসুদ জানতে পারে এক চমদপ্রদ তথ্য। যার সূত্র সে দেয় সাইফকে। ঘটনা মোড় নেয় একেবারে ১৮০° কোণে।
সাবের আর আবিরের ট্যালেন্টে অদ্ভুদ কলারের হদিস মেলে ঠিকই কিন্তু সত্য জানার আগেই সব এলোমেলো করে দেয় সেই কালো এসইউভি গাড়ি। সাইফ কি জানতে পেরেছিল আসন্ন বিপদের কথা? অদ্ভুত কলারের ভাগ্যে কী ঘটেছিল? তার দেয়া প্রচ্ছন্ন ক্লু কি সাইফ পেরেছিল জানতে?
মাসুদের দেয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে সিক্রেট শ্যাডোর আরেক এজেন্ট সাজ্জাদকে সাইফ পাঠায় আশরাফ জামানের ঠিকুজি বের করতে। মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ধারী জাঁদরেল এই ব্যবসায়ীর অতীত নিয়ে একটা গল্প সবাই জানে। কিন্তু তার গ্রামের ফজলুল নামক এক মুরগী ব্যবসায়ী ঠিক উলটো কথা বলে আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট আশরাফ জামান সম্পর্কে। আশরাফ জামান আসলে কে?
দুইটা ভিন্ন কেস নিয়ে চলতে চলতে মেজর সাইফ এমন এক সত্যের মুখোমুখি হয় যা নাড়িয়ে দিতে পারে গোটা দেশকে। দ্রুত এই বিষবৃক্ষ উপরে না ফেললে যার ফল একেবারে লন্ডভন্ড করে দেবে দেশের মানুষকে। বিষবৃক্ষটা আসলে কী ছিল? এসব কিছুর মাস্টারমাইন্ড কে? মেজর সাইফ কি পারবে তার সমাধান করতে?
নির্বাচনে আসাদ কায়সার কি পেরেছিলেন জয়ী হয়ে পঞ্চাশ বছরের একঘেয়ে স্বার্থপরতার রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে নতুন সূর্যোদয় ঘটাতে? না-কি সেই আজব উটের পিঠেই দেশের অসীম যাত্রা অব্যাহত রয়েছে?
#পাঠ_প্রতিক্রিয়া:
ভালো দিক:
লেখকের প্রথম কোন বই পড়লাম। পলিটিক্যাল, এনেস্পিওনাজ থ্রিলার বলতে যা বোঝায় তার পুরোটাই ১৯২ পৃষ্ঠার বইতে ছিল। প্রথম অধ্যায় থেকে যে থ্রিল দিয়ে শুরু করেছিলেন একেবারে উপসংহার পর্যন্ত সেই থ্রিল ধরে রেখেছিলেন। অধ্যায় দুই এ দেয়া বর্ণনাতে ঠিক এত পরিমাণ টুইস্ট ছিল, নার্ভ ধরে রাখা কঠিন ছিল। এইটুক অংশ আমি দুইবার পড়েছি। একশন দৃশ্যটা এক কথায় অনবদ্য লেগেছে। সংকোচ ছাড়াই এক বসায় পড়ে ফেলার মতো যথেষ্ট উপাদান ছিল বইতে। একই ধরনের কী হয় কী হয় ফিলিংস হয়েছে বইয়ের শেষের দুই অধ্যায়ে। হিন্দি সিরিয়াল হলে ব্যাকগ্রাউন্ডে যেন ধুম তানানানা, বজ্রপাতের শব্দ হয় ঠিক তেমন মনে হচ্ছিল।
চরিত্রায়ন আমার কাছে ভালো লেগেছে। প্রতিটা চরিত্রকে আপন আলোয় জ্বলার স্পেস দেওয়া হয়েছিল। যেটুকু বর্ণনা দরকার ঠিক সেইটুকুই দিয়েছেন। চরিত্রদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ছিল চোখে পড়ার মতো। যেমন: সাইফকে আবির যখন ফোড়ন কেঁটে বলে 'আমি সকালে পরোটা আর ভাজি দিয়ে নাস্তা করেছি' এই অংশটুক পড়ে এত হাসি পেয়েছে। আবিরের করা নিছক মজাগুলো হাসির উদ্রেক করেছে। রিসোর্টে সব গাড়ির হাওয়া বের করে সাজ্জাদের দেয়া উক্তিটাও বেশ মজার ছিল।
যেমন হাসির কিছু কথা ছিল তেমন ছিল কিছু কষ্ট। হারানোর কষ্ট। শেষের টুইস্টে সাইফ যখন বলেছিল 'এটা মুশতাকের জন্য' এই অংশটুক যথেষ্ট ইমোশনাল ছিল।
মেজর সাইফকে আমার অনেক ভালো লেগেছে। সিক্রেট শ্যাডো টিমটাও আমার অনেক পছন্দ হয়েছে। আশা করি লেখক সিক্রেট শ্যাডোকে ভবিষ্যতে আরো সমৃদ্ধ করবেন।
হোয়াইট হোল ব্যাপারটা বেশ লেগেছে। সাদা সবসময়ই যে সুখকর বা সৌন্দর্যের বস্তু হয়না হোয়াইট হোল তার প্রমাণ।
খারাপ দিক:
বইটা আরেকটু বড়ো হতে পারত। শেষের দিকে খুব দ্রুত এগিয়েছে। শেষে কেমন একটা বিমর্ষ ভাব রয়ে গেছে।
বানান ভুল তেমন নজরে পরেনি। তবে 'আরোহী' কে আরওহী লিখেছেন অনেক জায়গায়। প্রিন্টিং মিস্টেক তেমন দেখিনি তবে কিছু শব্দের প্রিন্ট ঝাপসা ছিল।
#প্রচ্ছদ:
প্রচ্ছদ এভারেজ লেগেছে। বইয়ের উলটোপিঠের এলিমেন্ট গুলো বইয়ের সাথে মিলে গেছে ভালো। তবে প্রচ্ছদের সামনের ভাগ তেমন ভালো লাগেনি।
March 13, 2024
A Perfect Political Thriller.
Fast Paced, to the point story. Very good & unique plot. Loved the storyline overall.
বইয়ের বেস্ট পার্ট হল: আজাইরা প্যাচাল, মেকি সাসপেন্স ক্রিয়েট করার জন্য ১৯২ পেজের বইকে ৩৯২ পেজ করা হয় নি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গল্পের থ্রিল ধরে রাখা 👌
২০২১ সালের বই। ২২ সালে বাংলাবাজারে গেছিলাম কেনার প্ল্যান রেখে, তখন প্রকাশনীর স্টলে বইটা স্টক আউট ছিল। অবশেষে ২৩ এর বইমেলায় সংগ্রহ করা। এরপর ব্যস্ততায় আর আলসেমিতে বই ধরা হয় নি আর।
২৪ সালে নতুন নেয়া বইগুলোর হাতছানি এড়িয়ে, আগের বই হাতে নেয়ার জন্য হতাশ হতে হয় নাই একেবারেই! 🔥
Fast Paced, to the point story. Very good & unique plot. Loved the storyline overall.
বইয়ের বেস্ট পার্ট হল: আজাইরা প্যাচাল, মেকি সাসপেন্স ক্রিয়েট করার জন্য ১৯২ পেজের বইকে ৩৯২ পেজ করা হয় নি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গল্পের থ্রিল ধরে রাখা 👌
২০২১ সালের বই। ২২ সালে বাংলাবাজারে গেছিলাম কেনার প্ল্যান রেখে, তখন প্রকাশনীর স্টলে বইটা স্টক আউট ছিল। অবশেষে ২৩ এর বইমেলায় সংগ্রহ করা। এরপর ব্যস্ততায় আর আলসেমিতে বই ধরা হয় নি আর।
২৪ সালে নতুন নেয়া বইগুলোর হাতছানি এড়িয়ে, আগের বই হাতে নেয়ার জন্য হতাশ হতে হয় নাই একেবারেই! 🔥
April 15, 2025
What an ending!
ভূমিপ্রকাশ এটার রিপ্রিন্ট আনলেও, এই বইটা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক আবহের সাথেই বেশি যুৎসই।
ভূমিপ্রকাশ এটার রিপ্রিন্ট আনলেও, এই বইটা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক আবহের সাথেই বেশি যুৎসই।
April 22, 2022
Basically a 3.5/5. A fast paced thriller, but some plot holes are present. Also, it seemed to me that the writer didn't do proper justice to the climaxes, the climaxes should've been given more time. But overall, this book is a good read, as I said earlier, a fast paced one.
September 30, 2021
দেশের অধিকাংশ জনগণের কাছে প্রতি নির্বাচনের আগে প্রকাশিত এক গুচ্ছ মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভর্তি কিছু কাগজ মূলত "ইশতেহার" নামে পরিচিত, যেগুলো নিয়ে তাদের আগ্রহ নেই বললেই চলে। কিন্তু যদি হঠাৎ এক ভোরে সবকিছু বদলে দেওয়ার শপথ নিয়ে কারো আবির্ভাব হয় যিনি সবাইকে নতুন করে ভাবান যে "হ্যাঁ আসলেই দিনবদল সম্ভব"। যিনি দেশটাকে মায়ের মতো না ভেবে সন্তানের মতো আগলে রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। হয়ে উঠেন সবার নয়নের মণি হয়ে তার কথার যাদু দিয়ে, বনে যান দেশের সর্বোচ্চ আসনের প্রার্থী। প্রতিপক্ষদের চোখের বিষ হতেও দেরী হয়না। তবে আসলেই কি সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যারা আছেন তারাই তার প্রকৃত প্রতিপক্ষ? নাকি অন্য কেউ? চুরি করতে গিয়ে পাওয়া সেই দলিলের ভূমিকাই বা কি? দেশের নামকরা তদন্ত সংস্থা কি পারবে আসন্ন ভয়ানক বিপদকে রুখতে?
লিখছি আবুল ফাতাহ এর "ইশতেহার" নিয়ে। দ্রুতগতির, একশন প্যাকড এবং গোছানো লেখার একটি বই যেখানে নেই কোনো অপ্রয়োজনীয় বর্ণনা। চেজিং কিংবা ফাইটের অংশগুলো পড়ার সময় মনে হচ্ছিলো বাংলাদেশী বিগ বাজেটের কোনো একশন মুভি দেখছি। এমন ফাস্ট পেসড একটা বইতে ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট নিয়ে লেখক তেমন আগ্রহ দেখাননি। হিউমারাস আর চিন্তার উদ্রেক ঘটানোর মতো লাইনগুলো অনেক ভালো লেগেছে। লেখকের সেন্স অফ হিউমার এবং চিন্তাধারা, দুটোই প্রশংসনীয়।
কিন্তু বইটা শেষের দিকে এসে দ্বিগুণ গতির হয়ে যায়।একের পর এক সূত্র মিলে যেতে থাকে ঢাকার রাস্তায় চেজিং সিনের চেয়েও দ্রুতগতিতে। যদিও লেখক সূত্রগুলো লজিক্যালি মিলিয়েছেন। তবুও আমার আক্ষেপের কারণ, বইতে যে ইন্টারেস্টিং চরিত্রগুলো ছিলো তাদের পিওভি থেকে আরো কিছু আশা করেছিলাম। বেশীরভাগ অংশ সাইফের পিওভি থেকে লেখা হলেও মেইন এন্টাগনিস্টদের পিওভি থেকে কিছু পাইনি, যেখানে তাদেরকে নিয়ে আমার আগ্রহের শেষ ছিলো না। মাঝের রিসোর্ট মিশনের অংশটা বড় হলেও এর আউটকাম দরকারী মনে হয়নি আমার কাছে, কারণ সাইফ মূল সূত্রগুলো এর পর থেকেই পেতে শুরু করে। আর যেই সেলফোনের ধাঁধা নিয়ে এতো কিছু সেটার উত্তর এমন সহজ হবে ভাবিনি। বইয়ের এন্ডিং ভালো লাগলেও একেবারে শেষের টুইস্টটা উপসংহার পর্যন্ত চলে আসায় হতাশ হয়েছি।
তবুও শেষদিকের দ্বিগুণ গতি অনেক হাইপ সৃষ্টি করেছিলো বলে বইটা আশাহত করেনি। মেজর সাইফের চরিত্রটাও আমার পছন্দ হয়েছে। আর চুরি করতে আসা সেই চোর কি আসলেই চোর নাকি তার ভূমিকা আরো বড়? বহু বছর আগের রোপণ করা সেই বিষবৃক্ষটাই কি? আসাদ কায়সারের পেছনে ষড়যন্ত্রের কলকাঠি কারা নাড়ছে তা জানতে চাইলে পড়ে ফেলতে পারেন "ইশতেহার" আর পড়া শেষে আমার মতো ভাবতে পারেন "ইশ, তেহারীর মতো বইটাও এমন হুট করে শেষ হলো কেন?"
লিখছি আবুল ফাতাহ এর "ইশতেহার" নিয়ে। দ্রুতগতির, একশন প্যাকড এবং গোছানো লেখার একটি বই যেখানে নেই কোনো অপ্রয়োজনীয় বর্ণনা। চেজিং কিংবা ফাইটের অংশগুলো পড়ার সময় মনে হচ্ছিলো বাংলাদেশী বিগ বাজেটের কোনো একশন মুভি দেখছি। এমন ফাস্ট পেসড একটা বইতে ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট নিয়ে লেখক তেমন আগ্রহ দেখাননি। হিউমারাস আর চিন্তার উদ্রেক ঘটানোর মতো লাইনগুলো অনেক ভালো লেগেছে। লেখকের সেন্স অফ হিউমার এবং চিন্তাধারা, দুটোই প্রশংসনীয়।
কিন্তু বইটা শেষের দিকে এসে দ্বিগুণ গতির হয়ে যায়।একের পর এক সূত্র মিলে যেতে থাকে ঢাকার রাস্তায় চেজিং সিনের চেয়েও দ্রুতগতিতে। যদিও লেখক সূত্রগুলো লজিক্যালি মিলিয়েছেন। তবুও আমার আক্ষেপের কারণ, বইতে যে ইন্টারেস্টিং চরিত্রগুলো ছিলো তাদের পিওভি থেকে আরো কিছু আশা করেছিলাম। বেশীরভাগ অংশ সাইফের পিওভি থেকে লেখা হলেও মেইন এন্টাগনিস্টদের পিওভি থেকে কিছু পাইনি, যেখানে তাদেরকে নিয়ে আমার আগ্রহের শেষ ছিলো না। মাঝের রিসোর্ট মিশনের অংশটা বড় হলেও এর আউটকাম দরকারী মনে হয়নি আমার কাছে, কারণ সাইফ মূল সূত্রগুলো এর পর থেকেই পেতে শুরু করে। আর যেই সেলফোনের ধাঁধা নিয়ে এতো কিছু সেটার উত্তর এমন সহজ হবে ভাবিনি। বইয়ের এন্ডিং ভালো লাগলেও একেবারে শেষের টুইস্টটা উপসংহার পর্যন্ত চলে আসায় হতাশ হয়েছি।
তবুও শেষদিকের দ্বিগুণ গতি অনেক হাইপ সৃষ্টি করেছিলো বলে বইটা আশাহত করেনি। মেজর সাইফের চরিত্রটাও আমার পছন্দ হয়েছে। আর চুরি করতে আসা সেই চোর কি আসলেই চোর নাকি তার ভূমিকা আরো বড়? বহু বছর আগের রোপণ করা সেই বিষবৃক্ষটাই কি? আসাদ কায়সারের পেছনে ষড়যন্ত্রের কলকাঠি কারা নাড়ছে তা জানতে চাইলে পড়ে ফেলতে পারেন "ইশতেহার" আর পড়া শেষে আমার মতো ভাবতে পারেন "ইশ, তেহারীর মতো বইটাও এমন হুট করে শেষ হলো কেন?"
August 2, 2021
🎭একজন পেশাদার চোর৷ না, হাড়িপাতিল চুরি করা পেশাদার সিঁদেল চোর নয়। বড় বড় লোকের লকারে লুকানো নগদ টাকা আর গয়নাই যার মূল টার্গেট। একরাতে এমনই কোন বড়লোকের লকার ঝাড়তে গিয়ে আবিষ্কার করে অত্যন্ত গোপন তথ্য। যার কারণে পুরো দেশ, দেশবাসী হুমকির মুখে। এখনই ষড়যন্ত্র থামানো না গেলে, ভয়ানক ক্ষতি হয়ে যাবে৷
🎭একজন শিক্ষক। ঢাকার কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল সায়েন্স ডিপার্টমেন্টের প্রধান। পত্রিকায় যার কলামগুলো রীতিমতো হটকেক। এছড়াও তার নতুন এক পরিচয় হয়েছে। সরকার দলীয় এবং বিরোধী দলীয় পার্টিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দেশে গঠন হয়েছে তৃতীয় কোন পার্টির। সেই পার্টির প্রধান আসাদ কায়সার। নির্বাচিত হলে দেশকে নতুন করে সাজানোর স্বপ্ন দেখেন তিনি। তার সেই স্বপ্নে বিভোর থাকে সতের কোটি মানুষ।
🎭একজন সাবেক মেজর। নাম সাইফ হাসান। কোন এক প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির চিফ অব অপারেশন, সেকেন্ড ইন কমান্ড। নীতির প্রশ্নে অটল, ন্যায়ের কাজে বলিষ্ট। তাই, ছাড়তে হয়েছে সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদ। দেশের জন্যে "নো কম্প্রমাইজ" নীতি যার শিরা উপশিরা দিয়ে বয়ে চলেছে।
🤔পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
থ্রিলার এমন হওয়া উচিত, যাতে পাঠক দম ফেলার চান্স না পায়। দুর্বার গতিতে ছুটবে কাহিনী, ছুটবে পাটকের চোখ। মাঝে আসবে নতুন সাসপেন্স, নতুন টুইস্ট।
♟️বইয়ের জনরা ছিল পলিটিক্যাল থ্রিলার। এই জনরার মধ্যে পড়া আর একটি বইই পড়েছি বলে মনে আছে। তাও অনেক আগে। যায় হোক, টপিক থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। ১ম ৫০ পাতা পড়লাম। শুরুটা বেশ ভালো। এরপর পড়ে যাচ্ছি, পড়ে যাচ্ছি। কিন্তু, পলিটিক্যাল থ্রিলারের কিছু পেলাম না। ভাবলাম, শুধু থ্রিলার লিখলেই তো হতো। পলিটিক্যাল থ্রিলার লেখার কি দরকার ছিল? ক্রমশ সে ভাবনা বদলাতে বদলাতে শেষ দিকে এসে একেবারেই উবে গেল।
📜এবার আসি লেখক ও লেখনীতে। আবুল ফাতাহ ভাইয়ের এটা ছাড়া শুধু আর একটি মাত্র বইই পড়া ছিল আমার। তাও এই সিরিজের প্রথম বই। (সিরিজ বলতে কাহিনীর ধারাবাহিকতা নেই শুধু মূল চরিত্রই দুটো বইয়ে উপস্থিত।)
উপরে থ্রিলারে গতির কথা বলছিলাম। গতি অনেক কিছুর উপরই নির্ভর করে। তার মধ্যে একটি লেখার সাবলীলতা। সে দিক দিয়ে দুইটা বইই সাবলীল। পড়তে পড়তে আটকে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। কিছু কথা হাসির উদ্রেক করে। এছাড়াও আরও যাবতীয় মশলায় সঠিকভাবে সিদ্ধ থ্রিলার ইশতেহার।
সমাপ্তি নিয়ে কিছু বলি। আরেকটু নাটকীয় হয়তো করা যেত। আরেকটু পরিধি বাড়ানো যেত।
সমাপ্তি তো শুধু সমাপ্তি নয়, নতুন শুরুর ইঙ্গিতও বটে। ইশতেহার নিয়ে আরও অনেক কথা বলা যেত। তাতে স্পয়লার হওয়ার ভয় থাকে।
📒হ্যাপি রিডিং।
🎭একজন শিক্ষক। ঢাকার কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল সায়েন্স ডিপার্টমেন্টের প্রধান। পত্রিকায় যার কলামগুলো রীতিমতো হটকেক। এছড়াও তার নতুন এক পরিচয় হয়েছে। সরকার দলীয় এবং বিরোধী দলীয় পার্টিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দেশে গঠন হয়েছে তৃতীয় কোন পার্টির। সেই পার্টির প্রধান আসাদ কায়সার। নির্বাচিত হলে দেশকে নতুন করে সাজানোর স্বপ্ন দেখেন তিনি। তার সেই স্বপ্নে বিভোর থাকে সতের কোটি মানুষ।
🎭একজন সাবেক মেজর। নাম সাইফ হাসান। কোন এক প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির চিফ অব অপারেশন, সেকেন্ড ইন কমান্ড। নীতির প্রশ্নে অটল, ন্যায়ের কাজে বলিষ্ট। তাই, ছাড়তে হয়েছে সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদ। দেশের জন্যে "নো কম্প্রমাইজ" নীতি যার শিরা উপশিরা দিয়ে বয়ে চলেছে।
🤔পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
থ্রিলার এমন হওয়া উচিত, যাতে পাঠক দম ফেলার চান্স না পায়। দুর্বার গতিতে ছুটবে কাহিনী, ছুটবে পাটকের চোখ। মাঝে আসবে নতুন সাসপেন্স, নতুন টুইস্ট।
♟️বইয়ের জনরা ছিল পলিটিক্যাল থ্রিলার। এই জনরার মধ্যে পড়া আর একটি বইই পড়েছি বলে মনে আছে। তাও অনেক আগে। যায় হোক, টপিক থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। ১ম ৫০ পাতা পড়লাম। শুরুটা বেশ ভালো। এরপর পড়ে যাচ্ছি, পড়ে যাচ্ছি। কিন্তু, পলিটিক্যাল থ্রিলারের কিছু পেলাম না। ভাবলাম, শুধু থ্রিলার লিখলেই তো হতো। পলিটিক্যাল থ্রিলার লেখার কি দরকার ছিল? ক্রমশ সে ভাবনা বদলাতে বদলাতে শেষ দিকে এসে একেবারেই উবে গেল।
📜এবার আসি লেখক ও লেখনীতে। আবুল ফাতাহ ভাইয়ের এটা ছাড়া শুধু আর একটি মাত্র বইই পড়া ছিল আমার। তাও এই সিরিজের প্রথম বই। (সিরিজ বলতে কাহিনীর ধারাবাহিকতা নেই শুধু মূল চরিত্রই দুটো বইয়ে উপস্থিত।)
উপরে থ্রিলারে গতির কথা বলছিলাম। গতি অনেক কিছুর উপরই নির্ভর করে। তার মধ্যে একটি লেখার সাবলীলতা। সে দিক দিয়ে দুইটা বইই সাবলীল। পড়তে পড়তে আটকে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। কিছু কথা হাসির উদ্রেক করে। এছাড়াও আরও যাবতীয় মশলায় সঠিকভাবে সিদ্ধ থ্রিলার ইশতেহার।
সমাপ্তি নিয়ে কিছু বলি। আরেকটু নাটকীয় হয়তো করা যেত। আরেকটু পরিধি বাড়ানো যেত।
সমাপ্তি তো শুধু সমাপ্তি নয়, নতুন শুরুর ইঙ্গিতও বটে। ইশতেহার নিয়ে আরও অনেক কথা বলা যেত। তাতে স্পয়লার হওয়ার ভয় থাকে।
📒হ্যাপি রিডিং।
May 1, 2023
বুক রিভিউ
বই: ইশতেহার
লেখক: আবুল ফাতাহ
ঘরানা:পলিটিকাল থ্রিলার
প্রকাশনী: ভূমিপ্রকাশ
প্রচ্ছদ:সজল চৌধুরী
প্রথমপ্রকাশ: মার্চ২০২১
পৃষ্ঠা: ১৯২
মুদ্রিত মূল্য ৩২০টাকা।
কাহীনী সংক্ষেপঃ
ড. আসাদ কায়সার, বাংলাদেশের বর্তমান ইতিহাসে এমন জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা আগে আসেনি।জনপ্রিয় এই নেতার প্রধানমন্ত্রী হওয়া কেবল মাত্র সময়ের দাবী।জনপ্রিয়তা বাড়ার সাথে সাথে তাকে হত্যার চেষ্ঠা করা হয়।অনভিজ্ঞ এক কন্টাক কিলারকে নিয়োগ দেওয়া ও হয়
এদিকে প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি সিক্রেট শ্যাডো ছিলো আসাদ কায়সার এর নিরাপত্তায়।সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো তাকে জনসমাগমে হামলা করার আগেই সিক্রেড শ্যাডো কে সাবধান করে কে বা কারা।
এই হামলা কে ই করালো তবে?
আর হামলা করানোর আগে আগেই নিরাপত্তাবাহীনি কি সর্তক করলো কে বা কারা?
এমন সময় ই ঘটনায় আবির্ভাব ঘটে মেজর সাইফ হাসান এর! ঘটনা ক্রমানয়ে মোড় নিতে থাকে।
এদিকে ঢাকার এক অভিজাত বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে চোর অবিশ্বাস্য এমন কিছু খুঁজে পায়,যার কারনে দেশে গৃহযুদ্ধের মত পরিস্থিতি হতে পারে।
এদিকে চোর এটা জানার পর থেকেই একটা কালো গাড়ি তাকে ফলো করে।কিন্তু কেন?
দুইটি আলাদা ঘটনা,কিন্তু প্রায় এক ই সময় হাতে পায় সিক্রেড শ্যাডোর চিফ অফ হেড মেজর সাইফ।
দুটো ঘটনা কি কাকতালীয়? নাকি কোন জায়গায় এক?
মেজর সাইফ সিক্রেড শ্যাডো টিম কে নিয়ে নেমে পড়েন রহস্য উন্মোচনে।
একের পর এক রহস্য জোট খোলার সাথে সাথে বেরিয়ে আসতে শুরু করে কঠিন সব সত্য।
ইশতেহার, যার শুরু সেই মুক্তিযুদ্ধ কাল থেকে।কিন্তু যুদ্ধের পঞ্চাশ বছর অপেক্ষার পর কি এমন হলো যে সব রহস্য বের হতে শুরু করলো?
অনেক প্রশ্ন,উত্তর জানতে হলে পড়তে হবে "ইশতেহার"।
থ্রিলার প্রেমিরা এই বইয়ের মাধম্যে ঘুরে আসবে রাজনীতির ভেড়াজাল ও ষড়যন্ত্রের অন্ধকার জগৎ!
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
মেজর সাইফ সিরিজের ২য় বই এই "ইশতেহার"। লেখক আবুল ফাতাহ ভাই তার লিখায় খুব কম ফাঁকফোকর রেখেছেন।প্রশ্ন রাখার অবকাশ দেন নি।নতুন লেখক হিসেবে প্রতিনিয়ত যে তিনি ভালো থেকে ভালো লিখা উপহার দিচ্ছেন তার শেষ নমুনা " ইশতেহার"।
আমি এর আগে তেমন কোন রাজনৈতিক থ্রিলার পড়িনি,কিন্তু লেখক তার লেখার ধারায় এমনভাবে ধরেছিলো যে বইটি পড়তে বিরক্তি আসেনি।
বইয়ের মাঝে কয়েকটি বানান ভুল ছাড়া আর কোন ত্রুটি চোখে পড়েনি।দারুন প্রচ্ছদ,অসাধারণ গল্পের প্লট,সুন্দর বাঁধাই।সব মিলিয়ে দারুন একটি বই উপহার দিলো ভূমিপ্রকাশ।
হ্যাপি রিডিং।
বই: ইশতেহার
লেখক: আবুল ফাতাহ
ঘরানা:পলিটিকাল থ্রিলার
প্রকাশনী: ভূমিপ্রকাশ
প্রচ্ছদ:সজল চৌধুরী
প্রথমপ্রকাশ: মার্চ২০২১
পৃষ্ঠা: ১৯২
মুদ্রিত মূল্য ৩২০টাকা।
কাহীনী সংক্ষেপঃ
ড. আসাদ কায়সার, বাংলাদেশের বর্তমান ইতিহাসে এমন জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা আগে আসেনি।জনপ্রিয় এই নেতার প্রধানমন্ত্রী হওয়া কেবল মাত্র সময়ের দাবী।জনপ্রিয়তা বাড়ার সাথে সাথে তাকে হত্যার চেষ্ঠা করা হয়।অনভিজ্ঞ এক কন্টাক কিলারকে নিয়োগ দেওয়া ও হয়
এদিকে প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি সিক্রেট শ্যাডো ছিলো আসাদ কায়সার এর নিরাপত্তায়।সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো তাকে জনসমাগমে হামলা করার আগেই সিক্রেড শ্যাডো কে সাবধান করে কে বা কারা।
এই হামলা কে ই করালো তবে?
আর হামলা করানোর আগে আগেই নিরাপত্তাবাহীনি কি সর্তক করলো কে বা কারা?
এমন সময় ই ঘটনায় আবির্ভাব ঘটে মেজর সাইফ হাসান এর! ঘটনা ক্রমানয়ে মোড় নিতে থাকে।
এদিকে ঢাকার এক অভিজাত বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে চোর অবিশ্বাস্য এমন কিছু খুঁজে পায়,যার কারনে দেশে গৃহযুদ্ধের মত পরিস্থিতি হতে পারে।
এদিকে চোর এটা জানার পর থেকেই একটা কালো গাড়ি তাকে ফলো করে।কিন্তু কেন?
দুইটি আলাদা ঘটনা,কিন্তু প্রায় এক ই সময় হাতে পায় সিক্রেড শ্যাডোর চিফ অফ হেড মেজর সাইফ।
দুটো ঘটনা কি কাকতালীয়? নাকি কোন জায়গায় এক?
মেজর সাইফ সিক্রেড শ্যাডো টিম কে নিয়ে নেমে পড়েন রহস্য উন্মোচনে।
একের পর এক রহস্য জোট খোলার সাথে সাথে বেরিয়ে আসতে শুরু করে কঠিন সব সত্য।
ইশতেহার, যার শুরু সেই মুক্তিযুদ্ধ কাল থেকে।কিন্তু যুদ্ধের পঞ্চাশ বছর অপেক্ষার পর কি এমন হলো যে সব রহস্য বের হতে শুরু করলো?
অনেক প্রশ্ন,উত্তর জানতে হলে পড়তে হবে "ইশতেহার"।
থ্রিলার প্রেমিরা এই বইয়ের মাধম্যে ঘুরে আসবে রাজনীতির ভেড়াজাল ও ষড়যন্ত্রের অন্ধকার জগৎ!
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
মেজর সাইফ সিরিজের ২য় বই এই "ইশতেহার"। লেখক আবুল ফাতাহ ভাই তার লিখায় খুব কম ফাঁকফোকর রেখেছেন।প্রশ্ন রাখার অবকাশ দেন নি।নতুন লেখক হিসেবে প্রতিনিয়ত যে তিনি ভালো থেকে ভালো লিখা উপহার দিচ্ছেন তার শেষ নমুনা " ইশতেহার"।
আমি এর আগে তেমন কোন রাজনৈতিক থ্রিলার পড়িনি,কিন্তু লেখক তার লেখার ধারায় এমনভাবে ধরেছিলো যে বইটি পড়তে বিরক্তি আসেনি।
বইয়ের মাঝে কয়েকটি বানান ভুল ছাড়া আর কোন ত্রুটি চোখে পড়েনি।দারুন প্রচ্ছদ,অসাধারণ গল্পের প্লট,সুন্দর বাঁধাই।সব মিলিয়ে দারুন একটি বই উপহার দিলো ভূমিপ্রকাশ।
হ্যাপি রিডিং।
August 20, 2021
❝জগতে সব কিছু চেনা সহজ হলেও সঠিক মানুষ চেনা খুব কঠিন।❞
✪শেষ করলাম ভূমিপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত ❝ইশতেহার❞ বইটি। অসাধারণ একটা যাত্রা শেষ করলাম। আসলে সাধারণত যেকোন বই শুরু করার আগে বিন্দুমাত্র এক্সপেকটেশন না নিয়েই শুরু করার চেষ্টা করি। যাতে বই খারাপ হলেও আমার খারাপ না লাগে। কিন্তু এ বইটা শুরু করার সময় আমি অনেক বেশিই এক্সপেকটেশন নিয়ে শুরু করি। এখন কথা হলো কেন এতো বেশি এক্সপেকটেশন নিয়ে বই শুরু করলাম?
✪আমি আবুল ফাতাহ মুন্না ভাইয়ের লেখা প্রথম বই পড়ি ❝একজন অভ্র এবং বখতিয়ারের জ্বিন❞। বইটা যদিও অভ্র সিরিজের ৫ম বই আর এ পর্যন্ত সিরিজের প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে এটাই শেষ বই। তবে সিরিজের শেষ বই দিয়ে আমি সিরিজটা পড়া শুরু করি। আমার ক্লাসমেট/বড়ভাই আমাকে পুরো সিরিজটা দেয় পড়তে। আমি অলসতা করে বইগুলো ৪ দিন ব্যাগে রেখে দিই। ওনি যখন জানতে পারে তখন বলে যে তুমি পুরো সিরিজটা পড়ার দরকার নেই শুধু শেষ বইটা পড়ো, ওনার কথামতো একদিন মাগরিবের পর বইটা শুরু করলাম। পুরো রাত বইটা পড়ে শেষ করার পর ওনার লেখা এতো পছন্দ হয় যে পুরো সিরিজের সব বই ২ বা ৩ দিনের মধ্যেই শেষ করি। এরপর আরো ২ বন্ধুকে পড়তে দিই। তার মধ্যে এক বন্ধু রীতিমতো ❝চন্দ্রিমা❞ চরিত্রের সাথে হাবুডুবু খেতে শুরু করলো।
এটাই হলো এতো এতো এক্সপেকটেশন নিয়ে বই শুরু করার কাহিনী।
✪যতটুকু এক্সপেকটেশন নিয়ে শুরু করেছিলাম বলতে গেলে তার চেয়েও বেশী উপভোগ করেছি বইটি। পলিটিক্যাল থ্রিলার (মৌলিক) খুব কমই চোখে পড়েছে আমার। বাট সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে এ বইটি।আর দুঃখজনক বিষয় হলো বইটি নিয়ে কোন আলোচনা হয় না বললেই চলে। আরো অবাক করা বিষয় হলো বইটা আমি গতকালকে শুরু করার পর মেসেঞ্জারে স্টোরি দিতে গিয়ে ফেসবুকে দেখলাম এই বই সম্পর্কে লেখক পোস্ট করেছেন😳 কাকতালীয় নয় কি??
এক পলকে :-
⊕বই :- ইশতেহার
⊕লেখক :- আবুল ফাতাহ মুন্না
⊕ধরণ :- পলিটিক্যাল থ্রিলার
⊕প্রকাশনী :- ভূমিপ্রকাশ
⊕প্রচ্ছদ :- সজল চৌধুরী
⊕মলাট মূল্য :- ৩২০ টাকা
✪শেষ করলাম ভূমিপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত ❝ইশতেহার❞ বইটি। অসাধারণ একটা যাত্রা শেষ করলাম। আসলে সাধারণত যেকোন বই শুরু করার আগে বিন্দুমাত্র এক্সপেকটেশন না নিয়েই শুরু করার চেষ্টা করি। যাতে বই খারাপ হলেও আমার খারাপ না লাগে। কিন্তু এ বইটা শুরু করার সময় আমি অনেক বেশিই এক্সপেকটেশন নিয়ে শুরু করি। এখন কথা হলো কেন এতো বেশি এক্সপেকটেশন নিয়ে বই শুরু করলাম?
✪আমি আবুল ফাতাহ মুন্না ভাইয়ের লেখা প্রথম বই পড়ি ❝একজন অভ্র এবং বখতিয়ারের জ্বিন❞। বইটা যদিও অভ্র সিরিজের ৫ম বই আর এ পর্যন্ত সিরিজের প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে এটাই শেষ বই। তবে সিরিজের শেষ বই দিয়ে আমি সিরিজটা পড়া শুরু করি। আমার ক্লাসমেট/বড়ভাই আমাকে পুরো সিরিজটা দেয় পড়তে। আমি অলসতা করে বইগুলো ৪ দিন ব্যাগে রেখে দিই। ওনি যখন জানতে পারে তখন বলে যে তুমি পুরো সিরিজটা পড়ার দরকার নেই শুধু শেষ বইটা পড়ো, ওনার কথামতো একদিন মাগরিবের পর বইটা শুরু করলাম। পুরো রাত বইটা পড়ে শেষ করার পর ওনার লেখা এতো পছন্দ হয় যে পুরো সিরিজের সব বই ২ বা ৩ দিনের মধ্যেই শেষ করি। এরপর আরো ২ বন্ধুকে পড়তে দিই। তার মধ্যে এক বন্ধু রীতিমতো ❝চন্দ্রিমা❞ চরিত্রের সাথে হাবুডুবু খেতে শুরু করলো।
এটাই হলো এতো এতো এক্সপেকটেশন নিয়ে বই শুরু করার কাহিনী।
✪যতটুকু এক্সপেকটেশন নিয়ে শুরু করেছিলাম বলতে গেলে তার চেয়েও বেশী উপভোগ করেছি বইটি। পলিটিক্যাল থ্রিলার (মৌলিক) খুব কমই চোখে পড়েছে আমার। বাট সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে এ বইটি।আর দুঃখজনক বিষয় হলো বইটি নিয়ে কোন আলোচনা হয় না বললেই চলে। আরো অবাক করা বিষয় হলো বইটা আমি গতকালকে শুরু করার পর মেসেঞ্জারে স্টোরি দিতে গিয়ে ফেসবুকে দেখলাম এই বই সম্পর্কে লেখক পোস্ট করেছেন😳 কাকতালীয় নয় কি??
এক পলকে :-
⊕বই :- ইশতেহার
⊕লেখক :- আবুল ফাতাহ মুন্না
⊕ধরণ :- পলিটিক্যাল থ্রিলার
⊕প্রকাশনী :- ভূমিপ্রকাশ
⊕প্রচ্ছদ :- সজল চৌধুরী
⊕মলাট মূল্য :- ৩২০ টাকা
September 12, 2021
এস্পিওনাজ থ্রিলার এর আগেও অনেকগুলো পড়া হয়েছে বাংলায়। তবে এটার মধ্যে একটা বিশেষ অনন্যতা রয়েছে, যেটা হলো compactness. ২০০ পৃষ্ঠার বই হলেও থ্রিল এবং পেস দুইটাই খুব ভালোভাবে বজায় রাখা হয়েছে। টুইস্টগুলোর মাত্রা খুব বেশি বড় না হলেও এক্সেকিউশন ভালো ছিল। কোথাও গল্প ঝুলে যায়নি। একশন সিকুয়েন্সগুলোও চমৎকার হয়েছে। একদম ঝরঝরে মেদবিহীন বই। আরেকটা পজিটিভ দিক হলো এখানে কোনো ওয়ান ম্যান আর্মি নেই। এজেন্সির প্রত্যেককেই কম বেশি ফুটেজ দেয়া হয়েছে। ছোট্ট সময়ের জন্য উপস্থিতি এমন চরিত্রগুলোও সবল গুরুত্ব রেখেছে। বইয়ের শেষাংশে শিবব্রত বর্মণের একটা গল্পের ছায়া আছে। কোনটা সেটা বলবোনা, স্পয়লার হয়ে যায়।
সব মিলিয়ে পলিটিক্যাল+এস্পিওনাজ এই থ্রিলারটা একেবারেই সময় উশুল। আর মেজর সাইফ আর সিক্রেট শ্যাডোকে আবারো বইয়ের পাতায় দেখতে চাই।
সব মিলিয়ে পলিটিক্যাল+এস্পিওনাজ এই থ্রিলারটা একেবারেই সময় উশুল। আর মেজর সাইফ আর সিক্রেট শ্যাডোকে আবারো বইয়ের পাতায় দেখতে চাই।
July 27, 2022
বইটা পড়তে গিয়ে প্রথমেই মাথায় আসবে মাসুদ রানার কথা। তবে সাইফ হাসান চরিত্রটা ইন্সপায়ার্ড হলেও তার স্বকীয়তা আছে। বইটা পড়ে আফসোস হয়েছে, কেন বইটা আরও বড় হল না? এত দুর্দান্ত একটা প্লট ছিল। এই প্লটে আরও বড় আকরে একটা থ্রিলার লেখা যেত।বিশেষ করে শেষের দিকটা তাড়াহুড়ো করে শেষ করা হয়েছে। ওভার অল এ বইটাকে ছোট প্যাকেটে বড় ধামাকা বলাই যায়। খুবই দ্রুত গতির একটা থ্রিলার। যারা রিডার্স ব্লকে আছেন তারা এ বইটা ট্রাই করতে পারেন।
May 28, 2025
One of the finest political thrillers.
It was thrilling from the very first page till the ending. I liked the way writer asked to take our country as our kid, not as our mother. But I would have appreciated a bit more political insiders and stories as it's from that genre. Apart from that it's a nice read.
It was thrilling from the very first page till the ending. I liked the way writer asked to take our country as our kid, not as our mother. But I would have appreciated a bit more political insiders and stories as it's from that genre. Apart from that it's a nice read.
Displaying 1 - 30 of 46 reviews






























