What do you think?


কয়েকটি মৃত্যু
আব্বার জায়নামাজটা কোথায়? নিয়ে এসো তো। জায়নামাজ দিয়ে কি করবে? বিস্ময়ভরা দৃষ্টিতে স্বামীর মুখের দিকে তাকালো বড় বৌ। মনসুর আলী সংক্ষেপে জবাব দিলো-- নামাজ পড়বো। সেকি! আজ হঠাৎ নামাজ পড়তে চাচ্ছো? না মানে কিছুক্ষণ ইতস্তত করলো মনসুর আলী। তার পর স্ত্রীর উপর রেগে গিয়ে চিৎকার করে উঠলো সে। তোমার ওই মুখে মুখে তর্ক করার অভ্যেসটা এখোনো গেলো না। যা বলছি তাই করো। জায়নামাজটা কোথায় আছে খুজে নিয়ে এসো। অনেক্ষন ধরে একটা বইয়ের পাতা উল্টাচ্ছেন মেঝো ছেলে আহসান কিন্তু কিছুতেই বইয়ে মন বসছে না তার। অথচ ঘুমও আসছে না।মেঝো বউ কিছুক্ষণ পাশে দাঁড়িয়ে উসখুস করে বললো-- হ্যাগো। তুমি না একটা ইন্সিওরেন্স করেছিলে? হ্যা করেছিলাম তো। কিন্তু কেনো বলো তো? না এমনি। হঠাৎ মনে পড়লো তাই তোমাকে জিজ্ঞেস করলাম। বইটা বন্ধ করে স্ত্রীর মুখের দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইলো আহসান। ধীরে ধীরে একটা মৃদু হাসি জেগে উঠলো তার ঠোটের কোনে। বাড়ির সেজোছেলে মকবুল একটা সিগারেট ধরিয়ে ঘন ঘন টানছে আর হিসেবের খাতা দেখছে। ছোটবউ তার পিঠের কাছে এসে দাঁড়ালো। মাথার মধ্যে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো-- কই উত্তর দিলে না? কিসের উত্তর? আমি মারা গেলে তুমি আরেকটা বিয়ে করবে তাই না??? কিন্তু এ বাড়ি এমন ছিলো না। ছেলে বৌ নাতি নাতনী নিয়ে সুখের সংসার ছিল আহমদ আলী শেখের। সেদিন রাতের সের ভয়াবহ ঘটনার আগেও সব ঠিকই চলছিল। না, কোন মৃত্যু না, এমনকি পুরো কাহিনীতে কোন মৃত্যুই নেই! তবে...! তবে কি ছিল সেই ভয়াবহ ঘটনা???
28 pages, Hardcover
First published January 1, 1998
About the author
জহির রায়হান
46 books447 followersZahir Raihan (Bangla: জহির রায়হান) was a Bangladeshi novelist, writer and filmmaker. He is perhaps best known for his documentary Stop Genocide made during the Bangladesh Liberation War.
He was an active worker of the Language Movement of 1952. The effect of Language Movement was so high on him that he made his legendary film Jibon Theke Neya based on it. In 1971 he joined in the Liberation War of Bangladesh and created documentary films on this great event.
He disappeared on January 30, 1972 while trying to locate his brother, the famous writer Shahidullah Kaiser, who was captured and killed by the Pakistan army. Evidences have been found that he was killed by some armed Bihari collaborators and disguised soldiers of Pakistan Army.
He was an active worker of the Language Movement of 1952. The effect of Language Movement was so high on him that he made his legendary film Jibon Theke Neya based on it. In 1971 he joined in the Liberation War of Bangladesh and created documentary films on this great event.
He disappeared on January 30, 1972 while trying to locate his brother, the famous writer Shahidullah Kaiser, who was captured and killed by the Pakistan army. Evidences have been found that he was killed by some armed Bihari collaborators and disguised soldiers of Pakistan Army.
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 30 of 95 reviews
July 26, 2023
মানুষ মৃত্যুকে ভয় পায় নাকি অজানা একাকিত্বকে? যাদের জন্ম আছে তাদের মৃত্যুও আছে তারপরও আমরা মেনে নিতে পারি না এই চরম সত্যকে! মৃত্যুর পর কী হবে, কবরে একা থাকবো কী করে, কী আছে ভাগ্যে এসব ভেবেই আমরা ভীত হয়ে যায়। স্বপ্নে হঠাৎ করে নিজের বা প্রিয়জনের মৃত্যু কি আতংকিত করে না?
ছোট্টো একটা বই কিন্তু বড় তার ভাবার্থ। স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, ছেলেদের বউ, সন্তানদের নিয়ে সুন্দর সাজানো-গোছানো একটা সংসার আহমদ আলী শেখের। বড় পরিবার হওয়ার পরও তাদের মধ্যে ভালোবাসার কোনো কমতি ছিল না। "ছিল না" বলছি কারণ একটা স্বপ্নের দরুন সম্পর্কে ভাঁটা পড়ে যায়। তারপর?
শুরুর অংশে মনে হচ্ছিল কি মিষ্টি একটা পরিবারের গল্প! পার্ফেক্ট ফ্যামিলি যাকে বলে। কিন্তু স্বপ্নের পরিণতির পাল্লায় পড়ে ধীরে ধীরে যখন বদলে যেতে থাকে তখন একটু রাগ হলেও পরক্ষণেই মনে হয় এটাই তো স্বাভাবিক! মৃত ব্যক্তি যতোই আপন হোক না কেন কারো জন্য তো জীবন থেমে থাকে না। আর ভবিষ্যতের চিন্তা মানুষকে কখনও সখনও কঠোর করেই তোলে। সমাপ্তি একদমই অপ্রত্যাশিত। জহির রায়হানের সহজ লেখনশৈলীর বদৌলতে গল্পটা যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে। ভেবেছিলাম মন খারাপ নিয়ে পড়া শেষ হবে কিন্তু... টুইস্ট!
ছোট্টো একটা বই কিন্তু বড় তার ভাবার্থ। স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, ছেলেদের বউ, সন্তানদের নিয়ে সুন্দর সাজানো-গোছানো একটা সংসার আহমদ আলী শেখের। বড় পরিবার হওয়ার পরও তাদের মধ্যে ভালোবাসার কোনো কমতি ছিল না। "ছিল না" বলছি কারণ একটা স্বপ্নের দরুন সম্পর্কে ভাঁটা পড়ে যায়। তারপর?
শুরুর অংশে মনে হচ্ছিল কি মিষ্টি একটা পরিবারের গল্প! পার্ফেক্ট ফ্যামিলি যাকে বলে। কিন্তু স্বপ্নের পরিণতির পাল্লায় পড়ে ধীরে ধীরে যখন বদলে যেতে থাকে তখন একটু রাগ হলেও পরক্ষণেই মনে হয় এটাই তো স্বাভাবিক! মৃত ব্যক্তি যতোই আপন হোক না কেন কারো জন্য তো জীবন থেমে থাকে না। আর ভবিষ্যতের চিন্তা মানুষকে কখনও সখনও কঠোর করেই তোলে। সমাপ্তি একদমই অপ্রত্যাশিত। জহির রায়হানের সহজ লেখনশৈলীর বদৌলতে গল্পটা যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে। ভেবেছিলাম মন খারাপ নিয়ে পড়া শেষ হবে কিন্তু... টুইস্ট!
September 4, 2024
বইটির ব্যাপ্তি স্বল্প
কিন্তু ভাবার্থ বিশাল
বার বার জহির রায়হানে মুগ্ধ হই!
কিন্তু ভাবার্থ বিশাল
বার বার জহির রায়হানে মুগ্ধ হই!
July 23, 2020
একটি একান্নবর্তী আপাতদৃষ্টিতে সুখী পরিবারের কর্তা বুড়ো আহমদ আলী শেখ।একদিন তিনি খারাপ স্বপ্ন দেখলেন,যে স্বপ্ন দেখার একদিন পরই তার বাবা আর মেজো ভাই মারা গিয়েছিলো।আহমদ আলী শেখের সাথে সাথে বাড়ির সবার মনেই আসলো মৃত্যুভয়।একে একে খুলে যেতে থাকলো সুখী পরিবারের বাহিরের মুখোশ।ফুটে উঠলো স্বার্থের দ্বন্দ্ব আর লোভ।মাত্র ২৮ পৃষ্ঠায় জহির রায়হান অসাধারণভাবে দেখিয়ে দিয়েছেন মানুষের ভেতরের অসারত্বকে।হ্যাটস অফ!
July 1, 2023
A book containing only 28 pages yet so many messages.
January 20, 2022
একটা সময় ছিলো যখন কারোর মৃত্যুর সংবাদ শুনলে মনটা ইমানদার হয়ে যেত কিছুদিনের জন্য। নামাজ ধরতাম, কত ভয় ভীতি। ইদানিং এমন হয়না। বয়সের দোষ নাকি মনে সিলমোহর মেরে দিয়েছেন সৃষ্টিকর্তা সেটা তিনিই ভালো জানেন।
ছোট্ট একটা গল্প বড়সড় পরিবারের। আচ্ছা মানুষ যদি ভবিষ্যৎ জানতো? ভবিষ্যত না জানায় হয়তো বেশি ভালো ব্যাপার। কারন একটা নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে অজানা আগ্রহ থাকে। অনেক কিছু ভাবা যায়। অনেক ভাবে কল্পনা করা যায়। মানুষ চেনা যায়। মানুষের ভেতরের রূপ জানা যায়। আরো অনেক কিছুই হয় বলতে গেলে। যাক সেসব কথা।
গল্পটা কার কাছে কেমন লাগবে সেসমন্ধে যদিও জানা নেই তবে এই ছোট্ট গল্পটার মর্মার্থ বুঝতে চেষ্টা করলে কেউ নিরাশ হবেনা এটুকু বলায় যায়।
শত-শত আশা, আকাংক্ষা গুলোকে এভাবে ধুলোর সাথে মিশিয়ে দেওয়াটা কেমন লাগলো? :3
ছোট্ট একটা গল্প বড়সড় পরিবারের। আচ্ছা মানুষ যদি ভবিষ্যৎ জানতো? ভবিষ্যত না জানায় হয়তো বেশি ভালো ব্যাপার। কারন একটা নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে অজানা আগ্রহ থাকে। অনেক কিছু ভাবা যায়। অনেক ভাবে কল্পনা করা যায়। মানুষ চেনা যায়। মানুষের ভেতরের রূপ জানা যায়। আরো অনেক কিছুই হয় বলতে গেলে। যাক সেসব কথা।
গল্পটা কার কাছে কেমন লাগবে সেসমন্ধে যদিও জানা নেই তবে এই ছোট্ট গল্পটার মর্মার্থ বুঝতে চেষ্টা করলে কেউ নিরাশ হবেনা এটুকু বলায় যায়।
শত-শত আশা, আকাংক্ষা গুলোকে এভাবে ধুলোর সাথে মিশিয়ে দেওয়াটা কেমন লাগলো? :3
আশ্চর্য। আমি মরে গেলে আমার মৃত্যুটা তার কাছে বড় নয়। বড় হলাে কেমন করে সে খাবে। পরবে। বাঁচবে।
বাহরে দুনিয়া। বাহ।
September 20, 2021
যতই জহির রায়হানের বই পড়ছি ততই তাঁর সাথে একান্তে দেখা করার ইচ্ছাটা প্রবল হচ্ছে। যদিও আফসোস, তা আর সম্ভব নয়। এটা আমার তিন নম্বর, ঠিক করেছি এ মাসের মধ্যে তাঁর সব উপন্যাস (উপন্যাসিকা বলা ভালো আমার মতে) পড়ে শেষ করব।
July 17, 2026
প্রিয় লেখক জহির রায়হানের 'কয়েকটি মৃত্য' উপন্যাসিকাটির কাহিনী প্রৌঢ় আহমদ আলি শেখের একান্নবর্তী পরিবারকে ঘিরে। বৃদ্ধ আহমদ আলি শেখ মৃত্যু নিয়ে স্বপ্ন দেখেন যেই স্বপ্ন প্রায় বিশ বছর আগে তার বাবা দেখেছিলেন এবং স্বপ্ন দেখার দুই দিন পর তিনি সহ পরিবারের দুই জন সদস্য মারা যান। এই মৃত্যু স্বপ্ন ঘিরে কাহিনী এগিয়ে যেতে থাকে। স্পয়লার চলে আসবে তাই কাহিনীর আর কিছু বললাম না।
জহির রায়হান নিঃসন্দেহে একজন জাদুকর। অল্প পরিসরেও যে অনেক গভীর ভাবে ভাবা যায় তার প্রমান এই বইখানি। চমৎকার প্রাঞ্জল, মেদহীন লেখায় উপন্যাসিকাটি অনেক কিছু ভাবায়।
এক নজরে:
বইয়ের নাম: কয়েকটি মৃত্যু
লেখক: জহির রায়হান
প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ
প্রকাশনী: অনুপম প্রকাশনী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২
মুদ্রিত মূল্য: ৮০ টাকা
জহির রায়হান নিঃসন্দেহে একজন জাদুকর। অল্প পরিসরেও যে অনেক গভীর ভাবে ভাবা যায় তার প্রমান এই বইখানি। চমৎকার প্রাঞ্জল, মেদহীন লেখায় উপন্যাসিকাটি অনেক কিছু ভাবায়।
এক নজরে:
বইয়ের নাম: কয়েকটি মৃত্যু
লেখক: জহির রায়হান
প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ
প্রকাশনী: অনুপম প্রকাশনী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২
মুদ্রিত মূল্য: ৮০ টাকা
July 16, 2017
জহির রায়হান তো ম্যাজিক, তাই না ?
কীভাবে থাপ্পড় মেরে দিল বিবেকের গালে !
কীভাবে থাপ্পড় মেরে দিল বিবেকের গালে !
March 26, 2023
এতো ছোট্টো একটা বই এতো সুন্দর করে কিভাবে কেউ লিখত পারে, ভাবলেই অবাক লাগে
October 5, 2014
হাহ্ মানুষ, স্বার্থপর মানুষ!
একগাদা স্বার্থপর মানুষের গল্প বলে লেখক শেষ করলেন এটা বলে।-
মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য অপমান তার এই স্বার্থপরতা...সেটাই মনে হয় বুঝিয়ে দিলেন।
একগাদা স্বার্থপর মানুষের গল্প বলে লেখক শেষ করলেন এটা বলে।-
"আল্লাহ তায়ালা বলিলেন- হে ফেরেস্তা-শ্রেষ্ঠ ইবলিশ। আমি তামাম জাহানের শ্রেষ্ঠ জীব ইনসানকে পয়দা করিয়াছি। ইহাকে সেজদা করো। ইবলিশ তবু রাজি হইলো না। তবু সেজদা করিল না।"
মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য অপমান তার এই স্বার্থপরতা...সেটাই মনে হয় বুঝিয়ে দিলেন।
October 22, 2023
চিরচেনা সেই বাঙালি যৌথ পরিবারের চিত্র যেমন হয়। একাধিক সন্তান সন্তানের বৌদের মধ্যকার সম্পর্ক আর তাদের চিন্তাভাবনা। সেই চিরচেনা চিত্রের মধ্যে যখন যুক্ত হয় মৃত্যু তখন আসলে সেই পরিবারটার অবস্থা কেমন হবে? সেটারই সামান্য উপস্থাপন যেন এই 'কয়েকটি মৃত্যু'।
তবে লেখক শেষে অবাক করে দিয়েছেন অন্য এক উপায়ে তবে তার আগে তিনি পাঠকদের চোখে আঙুল দিয়ে অনেক সত্যগুলো দেখিয়ে দিয়েছেন।
তবে লেখক শেষে অবাক করে দিয়েছেন অন্য এক উপায়ে তবে তার আগে তিনি পাঠকদের চোখে আঙুল দিয়ে অনেক সত্যগুলো দেখিয়ে দিয়েছেন।
November 26, 2020
মানুষ জাতটা এতো স্বার্থপর হতে পারে...মৃত্যুকে সামনে রেখে জহির রায়হান দেখিয়েছেন তাই।
বাবা মারা গেলে সম্পত্তির কি হবে...স্ত্রী মারা গেলে স্বামী দ্বিতীয়বার বিয়ে করে তাকে ভুলে যাবে...স্বামী মারা গেলে স্ত্রীর কি হবে,ছেলেমেয়ের কি হবে...বাবা ভাবে তার বাড়ির লক্ষ্মী ছেলের বৌ গুলো মারা গেলে তো আবার বিয়ে দিয়ে নতুন বৌ আনতে পারবে কিন্তু ছেলে গেলে তো পাবে না।সে দোয়া করে আল্লাহর কাছে সে যেন ছেলেদের পরিবর্তে ছেলের বউদের মেরে ফেলে...এমনকি বিয়ের পরে সুখে সংসার করছে তখনও একজন মানুষ তার পুরনো ভালোবাসার মানুষের সুখের কথা শুনে কষ্ট পায়।সে ভাবে তার অনুপস্থিতিতে ঐ মানুষটা কিভাবে সুখে থাকে...
যদিও লেখক মায়ের চরিত্র কে এমন স্বার্থপর ভাবে প্রকাশ করেন নি। এক্ষেত্রে লেখক মাতৃ্ হৃদয় এর চিরাচরিত চিত্রায়ন করেছেন। মা দোয়া করেন সে বেচে থাকতে যেন তার কোন সন্তান মারা না যায়...সে যেন তার স্বামীর কোলে মাথা রেখে মৃত্যু বরণ করতে পারেন...
বাবা মারা গেলে সম্পত্তির কি হবে...স্ত্রী মারা গেলে স্বামী দ্বিতীয়বার বিয়ে করে তাকে ভুলে যাবে...স্বামী মারা গেলে স্ত্রীর কি হবে,ছেলেমেয়ের কি হবে...বাবা ভাবে তার বাড়ির লক্ষ্মী ছেলের বৌ গুলো মারা গেলে তো আবার বিয়ে দিয়ে নতুন বৌ আনতে পারবে কিন্তু ছেলে গেলে তো পাবে না।সে দোয়া করে আল্লাহর কাছে সে যেন ছেলেদের পরিবর্তে ছেলের বউদের মেরে ফেলে...এমনকি বিয়ের পরে সুখে সংসার করছে তখনও একজন মানুষ তার পুরনো ভালোবাসার মানুষের সুখের কথা শুনে কষ্ট পায়।সে ভাবে তার অনুপস্থিতিতে ঐ মানুষটা কিভাবে সুখে থাকে...
যদিও লেখক মায়ের চরিত্র কে এমন স্বার্থপর ভাবে প্রকাশ করেন নি। এক্ষেত্রে লেখক মাতৃ্ হৃদয় এর চিরাচরিত চিত্রায়ন করেছেন। মা দোয়া করেন সে বেচে থাকতে যেন তার কোন সন্তান মারা না যায়...সে যেন তার স্বামীর কোলে মাথা রেখে মৃত্যু বরণ করতে পারেন...
This entire review has been hidden because of spoilers.
November 23, 2025
জহির রায়হান মাত্র ২৮ পৃষ্ঠায় জগতের সবচেয়ে নির্মম সত্য তুলে ধরেছেন—
মানুষ স্বার্থপর , মৃত্যু ব্যাতীত আর কিছুই সত্য নয়।
লেখা অল্প , ভাবার্থ বিশাল।
লেখকের লেখা পড়ার সময় প্রতিবার আফসোস হয় এই ভেবে কেন আর কিছু দিন বেঁচে থাকলেন না।
মানুষ স্বার্থপর , মৃত্যু ব্যাতীত আর কিছুই সত্য নয়।
লেখা অল্প , ভাবার্থ বিশাল।
লেখকের লেখা পড়ার সময় প্রতিবার আফসোস হয় এই ভেবে কেন আর কিছু দিন বেঁচে থাকলেন না।
August 22, 2020
মৃত্যুর ভয় বড় ভয়...
মৃত্যুর কথা চিন্তা করলেই শতরকমের অনিশ্চয়তা, ভয়, হতাশা আপনাকে ঘিরে ধরবে। আপনি হয়ত মৃত্যুর কথা ভুলেই গিয়েছিলেন। বেশ সুন্দরভাবে যাপিত জীবন উপভোগ করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ কিছু দ্বারা যখন মৃত্যুর কথা মাথায় আসবে তখন পুরো অতীতের অপকর্ম, খারাপ পথে অর্জিত অর্থ, লোভ, অহংকার, সবকিছু মুহূর্তে চোখের সামনে চলে আসবে এবং আপনার অনুভব হবে এই জীবনের কোন মূল্য ই নাই, সব পাপের জন্যে আপনার মাথা নত হয়ে আসবে।
জহীর রায়হান আবারও প্রমাণ করলেন যে, সহজ মেদহীন ভাষাতে/ভারি শব্দের ব্যবহার ছাড়া/কঠিন বাক্য ছাড়াও কিভাবে অসাধারণ একটি গল্প বলে মানুষকে গল্পে ডুকিয়ে ফেলা যায়, মানুষকে ভয় লাগানো যায়।
উনি ছোট একটি গল্পে যেভাবে ডার্ক পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন এবং এত philosophy দেখিয়েছেন তা সত্যি অভাবনীয়!
তিনি তুলে ধরেছেন কঠিন সত্যকে, এই সত্যগুলো বেশ খারাপ লাগার মতন।
অনেক দিকে ভাবিয়েছে এই গল্পটি আমাকে।
আসলে আমরা মানুষ জাতিটা কতটা স্বার্থপর আর লোভী তাইনা??
মৃত্যুর কথা চিন্তা করলেই শতরকমের অনিশ্চয়তা, ভয়, হতাশা আপনাকে ঘিরে ধরবে। আপনি হয়ত মৃত্যুর কথা ভুলেই গিয়েছিলেন। বেশ সুন্দরভাবে যাপিত জীবন উপভোগ করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ কিছু দ্বারা যখন মৃত্যুর কথা মাথায় আসবে তখন পুরো অতীতের অপকর্ম, খারাপ পথে অর্জিত অর্থ, লোভ, অহংকার, সবকিছু মুহূর্তে চোখের সামনে চলে আসবে এবং আপনার অনুভব হবে এই জীবনের কোন মূল্য ই নাই, সব পাপের জন্যে আপনার মাথা নত হয়ে আসবে।
জহীর রায়হান আবারও প্রমাণ করলেন যে, সহজ মেদহীন ভাষাতে/ভারি শব্দের ব্যবহার ছাড়া/কঠিন বাক্য ছাড়াও কিভাবে অসাধারণ একটি গল্প বলে মানুষকে গল্পে ডুকিয়ে ফেলা যায়, মানুষকে ভয় লাগানো যায়।
উনি ছোট একটি গল্পে যেভাবে ডার্ক পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন এবং এত philosophy দেখিয়েছেন তা সত্যি অভাবনীয়!
তিনি তুলে ধরেছেন কঠিন সত্যকে, এই সত্যগুলো বেশ খারাপ লাগার মতন।
অনেক দিকে ভাবিয়েছে এই গল্পটি আমাকে।
আসলে আমরা মানুষ জাতিটা কতটা স্বার্থপর আর লোভী তাইনা??
March 2, 2023
বাচ্চাছেলেটা ঘুম ঘুম চোখে পরীক্ষার পড়া মুখস্থ করছে, "এবং ফেরেশতাদের ডেকে বলিলেন- হে ফেরেস্তাগণ, তোমরা ইহাকে সেজদা করো"। তামাম জাহানের শ্রেষ্ঠ জীব, ইনসান, মানুষ।
এক বাঙালী মধ্যবিত্ত পরিবার। আহমদ আলী শেখ, বড়কর্তা। আছেন গিন্নী জোহরা খাতুন, ৩ ছেলে, তাদের ৩টি বউ, ১ মেয়ে নিয়ে একটা রাত্রের গল্প। আছে গৃহভৃত্য আব্দুল, আর তার স্ত্রী। সহসা দেখা অদ্ভুত স্বপ্নে আহমদ আলী শেখকে ঘিরে রাখে চারটি মূর্তি। তারা কি জীবন শেষের ঘোষণা নিয়ে আসলো?
আমরা দেখি ৫টি ভিন্ন দৃষ্টি থেকে এই সময়টাকে। ইনসান এর জীবনের সার্থকতা কোথায়? মৃত্যুতে? নাকি বেঁচে থাকাতে? সারা দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ প্রাণ আমরা। বুড়ো আব্দুল, মানুষ হিসেবে আমাদের শ্রেষ্ঠত্বকে কুর্ণিশ!
শেষ অংশটুকু বলি-
" আল্লাহতায়ালা বলিলেন- হে ফেরেস্তা-শ্রেষ্ঠ ইবলিশ। আমি তামাম জাহানের শ্রেষ্ঠ জীব ইনসানকে পয়দা করিয়াছি। ইহাকে সেজদা করো। ইবলিশ তবু রাজি হইলোনা। তবু সেজদা করিল না"
৪/৫
রিকমেন্ডিং
এক বাঙালী মধ্যবিত্ত পরিবার। আহমদ আলী শেখ, বড়কর্তা। আছেন গিন্নী জোহরা খাতুন, ৩ ছেলে, তাদের ৩টি বউ, ১ মেয়ে নিয়ে একটা রাত্রের গল্প। আছে গৃহভৃত্য আব্দুল, আর তার স্ত্রী। সহসা দেখা অদ্ভুত স্বপ্নে আহমদ আলী শেখকে ঘিরে রাখে চারটি মূর্তি। তারা কি জীবন শেষের ঘোষণা নিয়ে আসলো?
আমরা দেখি ৫টি ভিন্ন দৃষ্টি থেকে এই সময়টাকে। ইনসান এর জীবনের সার্থকতা কোথায়? মৃত্যুতে? নাকি বেঁচে থাকাতে? সারা দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ প্রাণ আমরা। বুড়ো আব্দুল, মানুষ হিসেবে আমাদের শ্রেষ্ঠত্বকে কুর্ণিশ!
শেষ অংশটুকু বলি-
" আল্লাহতায়ালা বলিলেন- হে ফেরেস্তা-শ্রেষ্ঠ ইবলিশ। আমি তামাম জাহানের শ্রেষ্ঠ জীব ইনসানকে পয়দা করিয়াছি। ইহাকে সেজদা করো। ইবলিশ তবু রাজি হইলোনা। তবু সেজদা করিল না"
৪/৫
রিকমেন্ডিং
May 3, 2017
টুক করে কিছু একটা পড়ে ফেলতে ইচ্ছে হচ্ছিল, তাই পড়া ...
মৃত্যু চিন্তার সাথে আমাদের বেঁচে থাকার তীব্র আকাঙ্ক্ষা , বাস্তবতা, জীবনের হিসেব-নিকেশ , স্বার্থপরতা , move on এর বাস্তব প্রেক্ষাপট গুলো অনেক কমপ্যাক্ট একটা ফ্রেমে ধরা হয়েছে।
টু দ্য পয়েন্ট টাইপের লেখা । transition গুলো আরেকটু smooth হলে ভাল হত ~
মৃত্যু চিন্তার সাথে আমাদের বেঁচে থাকার তীব্র আকাঙ্ক্ষা , বাস্তবতা, জীবনের হিসেব-নিকেশ , স্বার্থপরতা , move on এর বাস্তব প্রেক্ষাপট গুলো অনেক কমপ্যাক্ট একটা ফ্রেমে ধরা হয়েছে।
টু দ্য পয়েন্ট টাইপের লেখা । transition গুলো আরেকটু smooth হলে ভাল হত ~
February 1, 2020
মৃত্যু!খুব সহজেই সাজানো গোছানো জীবনের অঙ্কগুলো কে গুবলেট করে দেয় এই একটি শব্দ,চেনা মানুষের চেহারার পেছনে ফুটে ওঠে এক অচেনা স্বার্থপরতার প্রতিচ্ছবি, খুব ছোট দুটো শব্দ কিন্তু কি নির্মম তার সত্যি!
June 13, 2020
ইবলিশ কেন মানুষকে সেদিন সেজদা করলো না?
January 3, 2023
ছোট বই কিন্তু কি অসাধারণ জীবনবোধ!
December 2, 2022
এই বছরে পড়া সেরা বইগুলোর অন্যতম! শব্দের ধার! বাপরে বাপ! ❤️
May 7, 2026
আজ আরেকবার আনন্দের সাথে বলতে ইচ্ছা হচ্ছে, জহির রায়হান আমার প্রিয় লেখক। এতো ছোট আয়তনে, এতো দারুণ একটা কনসেপ্ট তুলে ধরা! মারাত্মক রকমের দক্ষতা না থাকলে সম্ভব হতো না এই কাজ। আধা ঘন্টা আগেও আমি জানতাম না জহির রায়হান আমাকে আরেকবার অবাক করবেন! খেয়ালের বশে বইটা হাতে নিয়ে এখন অভিভূত হয়ে বসে আছি।
"মৃত্যুচিন্তা আসলে কি?" এই প্রশ্ন নিয়ে আমি এর আগেও বহুবার ভেবেছি, নিজের চিন্তার সাথে লেখকদের চিন্তাকে তুলনা করে দেখেছি। এই চিন্তা কেনো জন্ম থেকে ক্ষুধা,তৃষ্ণার মতো সহজাতভাবে আমাদের মাঝে সারাজীবন ধরে কাজ করে না? সৃষ্টিকর্তা চাইলেই কি এই গুণ মানুষের মাঝে দিয়ে দিতে পারতেন না?
জহির রায়হান একটা বাচ্চার মুখে পড়তে শোনালেন কয়েকটি বাক্য, সেজদা,
" করিলো না শুধু একজন, তাহার নাম ইবলিশ। আল্লাহ তা'আলা বলিলেন - হে ইবলিশ, আমি তামাম জাহানের সর্বশ্রেষ্ঠ জীব ইনসানকে পয়দা করিয়াছি। ইহাদের সেজদা কর। ইবলিশ তবু রাজি হইলো না।"
অর্থাৎ আল্লাহর নির্দেশ না মেনে নিয়ে একদা ইবলিশ হয়েছিলো শয়তানদের মধ্যে সেরা৷ আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করায় সে আল্লাহর অভিশাপ নিজের ঘাড়ে নিলো। আর তার শ্রেষ্ঠ জীব, ইনসান? তারা আল্লাহকে সেজদা না করে তাহলে কি প্রমাণ করে প্রতিনিয়ত?
তারা এসব বিষয় জানে না, তা নয়! জহির রায়হান ঠিক এই ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন যাতে পাঠক তুলতে না পারে, তাই ওই ছোট বাচ্চাটার দুনিয়াবি পরীক্ষায় আসা প্রশ্নের উত্তর রুপে ইবলিশের সেই গল্প বার বার পড়ালেন। তার দাদা আবার তাকে স্মরণও করিয়ে দিলেন, ভালো করে পড়তে, পরীক্ষায় আসবে তাই! অথচ তার ঘরের ছেলেরা আল্লাহর দরবারে সেজদা করে না, এক ছেলে ওকালতির পেশায় হরহামেশা মিথ্যাচার করে। অর্থাৎ এরাও ছোটবেলায় না বুঝে ওই বাক্যগুলো কেবক মুখস্তই করে গেছে। পেয়েছে দুনিয়াবি সব রকমের সুখ।
ইনসেইন একটা সিনারিও৷হরহামেশা শোনার পরও তাদের সেই মৃত্যু পরবর্তী সময়ের চাইতেও, বেশি চিন্তা দুনিয়ায় টিকে থাকলে কি হবে তা নিয়ে৷ শেষে যা হলো, তাতে তারা যেনো অনেকখানি বেঁচে গেলো। পরক্ষণেই আবারো সেই ইবলিশের গল্প পড়া শুনিয়ে দিয়ে জহির রায়হান ভাবালেন আমাদের, যে গল্পটা শেষ হয়নি। অথচ এরা নিজেদের ভুলিয়ে রাখছে। ইবলিশ যেমন সেজদা করলো না, এরাও করলো না। মানুষের চিরায়ত অভ্যাসের স্বরুপও ফুটে উঠলো।
ব্রড সেন্সে, আমরাও কিন্তু সবসময় মৃত্যুকে স্মরণ করি না। মৃত্যুচিন্তা নির্দিষ্ট ঘটনা ছাড়া আমাদের মাথায় আসে না। আর দুনিয়াবি ছেলেখেলায় মেতে গিয়ে আমরা আবার তা কিছুক্ষণের মধ্যে,উপন্যাসের মতো এক রাতের মাথায়ই ভুলে যাই।কতো গভীর একটা চিন্তা, অথচ মাত্র বত্রিশ পাতার একটা লেখা। একেই তো বলে আসল ট্যালেন্ট!যাকে বাঙালি জাতি হারিয়ে ফেললো।
আহ! জহির রায়হানের জন্য আমি বোধ হয় সারাজীবন আফসোস করবো। বাংলাদেশের অপূরণীয় ক্ষতি কি, কারো সন্দেহ থাকলে এক জহির রায়হানকে মনোযোগ দিয়ে পড়লেই হয়।
"মৃত্যুচিন্তা আসলে কি?" এই প্রশ্ন নিয়ে আমি এর আগেও বহুবার ভেবেছি, নিজের চিন্তার সাথে লেখকদের চিন্তাকে তুলনা করে দেখেছি। এই চিন্তা কেনো জন্ম থেকে ক্ষুধা,তৃষ্ণার মতো সহজাতভাবে আমাদের মাঝে সারাজীবন ধরে কাজ করে না? সৃষ্টিকর্তা চাইলেই কি এই গুণ মানুষের মাঝে দিয়ে দিতে পারতেন না?
জহির রায়হান একটা বাচ্চার মুখে পড়তে শোনালেন কয়েকটি বাক্য, সেজদা,
" করিলো না শুধু একজন, তাহার নাম ইবলিশ। আল্লাহ তা'আলা বলিলেন - হে ইবলিশ, আমি তামাম জাহানের সর্বশ্রেষ্ঠ জীব ইনসানকে পয়দা করিয়াছি। ইহাদের সেজদা কর। ইবলিশ তবু রাজি হইলো না।"
অর্থাৎ আল্লাহর নির্দেশ না মেনে নিয়ে একদা ইবলিশ হয়েছিলো শয়তানদের মধ্যে সেরা৷ আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করায় সে আল্লাহর অভিশাপ নিজের ঘাড়ে নিলো। আর তার শ্রেষ্ঠ জীব, ইনসান? তারা আল্লাহকে সেজদা না করে তাহলে কি প্রমাণ করে প্রতিনিয়ত?
তারা এসব বিষয় জানে না, তা নয়! জহির রায়হান ঠিক এই ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন যাতে পাঠক তুলতে না পারে, তাই ওই ছোট বাচ্চাটার দুনিয়াবি পরীক্ষায় আসা প্রশ্নের উত্তর রুপে ইবলিশের সেই গল্প বার বার পড়ালেন। তার দাদা আবার তাকে স্মরণও করিয়ে দিলেন, ভালো করে পড়তে, পরীক্ষায় আসবে তাই! অথচ তার ঘরের ছেলেরা আল্লাহর দরবারে সেজদা করে না, এক ছেলে ওকালতির পেশায় হরহামেশা মিথ্যাচার করে। অর্থাৎ এরাও ছোটবেলায় না বুঝে ওই বাক্যগুলো কেবক মুখস্তই করে গেছে। পেয়েছে দুনিয়াবি সব রকমের সুখ।
ইনসেইন একটা সিনারিও৷হরহামেশা শোনার পরও তাদের সেই মৃত্যু পরবর্তী সময়ের চাইতেও, বেশি চিন্তা দুনিয়ায় টিকে থাকলে কি হবে তা নিয়ে৷ শেষে যা হলো, তাতে তারা যেনো অনেকখানি বেঁচে গেলো। পরক্ষণেই আবারো সেই ইবলিশের গল্প পড়া শুনিয়ে দিয়ে জহির রায়হান ভাবালেন আমাদের, যে গল্পটা শেষ হয়নি। অথচ এরা নিজেদের ভুলিয়ে রাখছে। ইবলিশ যেমন সেজদা করলো না, এরাও করলো না। মানুষের চিরায়ত অভ্যাসের স্বরুপও ফুটে উঠলো।
ব্রড সেন্সে, আমরাও কিন্তু সবসময় মৃত্যুকে স্মরণ করি না। মৃত্যুচিন্তা নির্দিষ্ট ঘটনা ছাড়া আমাদের মাথায় আসে না। আর দুনিয়াবি ছেলেখেলায় মেতে গিয়ে আমরা আবার তা কিছুক্ষণের মধ্যে,উপন্যাসের মতো এক রাতের মাথায়ই ভুলে যাই।কতো গভীর একটা চিন্তা, অথচ মাত্র বত্রিশ পাতার একটা লেখা। একেই তো বলে আসল ট্যালেন্ট!যাকে বাঙালি জাতি হারিয়ে ফেললো।
আহ! জহির রায়হানের জন্য আমি বোধ হয় সারাজীবন আফসোস করবো। বাংলাদেশের অপূরণীয় ক্ষতি কি, কারো সন্দেহ থাকলে এক জহির রায়হানকে মনোযোগ দিয়ে পড়লেই হয়।
June 30, 2026
মানব জীবনের সবচেয়ে বড় নির্মম সত্যতা কী? মৃত্যু! এরচেয়ে সত্যের আর কিছু হতে পারে। এই জাগতিক সমস্ত সুখ-দুঃখ, অর্থ-প্রাচুর্য সবকিছু থাকার পরও মৃত্যুই অবধারিত সত্য। যা একদিন আচমকা চলে আসবে। কখনও হয়তো স্বপ্নের ঘোরে জানান দিবে তার আগমনী বার্তা। আর তখন মানুষের দিশেহারা ভাব, বেঁচে থাকার প্রাণান্তকর চেষ্টাও বিফলে যাবে।
আহমদ আলী শেখের বসতবাড়ি যেন এক টুকরো চাঁদের হাট। যৌথ এ পরিবারের আহমদ আলী শেখের চার সন্তান, তিন সন্তানের বউ, দশজন নাতি নাতনির সাথে নিজের সহধর্মিণীকে নিয়ে যে সংসার, তাতে কোনো বিভক্তি নেই। সবাই একসাথে, এক হয়ে দিনযাপন করে।
কিন্তু একটি স্বপ্ন যেন তাদের মনের নগ্ন চিত্রটা তুলে ধরেছে। আহমদ আলী শেখ যে স্বপ্ন দেখেছে, আরও বিশ বছর আগে সে স্বপ্ন দেখেছিল তার বাবা। মৃত্যুর দূত যেন ইশারা দিয়ে গিয়েছে। এই সংসারে হানা দিতে চলেছে। একই স্বপ্ন দেখেছে অসুস্থ ছোট ছেলেও। তাই ভয় দানা বাঁধে। বিশ বছর আগে এমন স্বপ্নের পর দুইজন তাদের জীবনকে ইতি জানিয়েছিল। এবার কয়জন?
মানুষ সবসময় জাগতিক বিষয় নিয়েই মাথা ঘামায়। মৃত্যু বা পরকাল নিয়ে তাদের চিন্তা নেই। কিন্তু যখন সম্ভাবনা থাকে মারা যাওয়ার, তখন কেউ হয়তো ধর্মকর্মে মন দেয়। কেউ চিন্তা করে সম্পত্তির। কেননা, বাড়ির কর্তার কিছু হলে সবচেয়ে বেশি ঝামেলা হয় সম্পত্তি নিয়ে।
মানুষ জন্মগতভাবে স্বার্থপর। যতই স্বার্থহীন ভাব দেখাক না কেন, অজান্তেই হয়তো স্বার্থপরতা মানুষের মনে চলে আসে। স্বার্থহীন কেবল মা-ই যেন হতে পারে।জহির রায়হানের ছোট্ট এই গল্পের যে ভাবার্থ, মানুষের ভাবনায় আঘাত করার যে শক্তি; বইয়ের প্রাণ আমার কাছে এটিই মনে হয়েছে।
যৌথ পরিবারের চিত্র এই গল্পতে খুব ভালোভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। বাড়ির কর্তার জাঁদরেল মনোভাব, একটু কিছু হলেই হল্লা করা, সবাইকে ঝাড়ির উপর রাখা, আবার প্রয়োজনে কাছে টেনে নেওয়াই তো বাড়ির কর্তার বড় গুণ। সম্মান এখানে গুরুত্বপুর্ণ। মনের মধ্যে যা-ই থাকুক, প্রকাশ্যে সবার মধ্যেই একতা রয়েছে। যা এই পরিবারকে এক সুতোয় বেঁধে রেখেছে।
আরেকটা বিষয় নিয়ে কথা বলি। এই বাড়ির মেয়ের বিয়ে হয়। যদিও আগে এক প্রেম ছিল। কিন্তু পরিবারের পছন্দে নিতান্তই অনিচ্ছায় বিয়ে করতে হয়। নতুন সংসারে সে ভালোই আছে। স্বামী ভালোবাসে, চোখে হারায়। কিন্তু তারপরও যখন সাবেক প্রেমিকের বিয়ে হওয়ার খবর শুনে সব দায় তার উপর চাপিয়ে দেওয়া বোধহয় এই সমাজের চিত্র। নিজের পরিবর্তনকে চোখে না দেখে অন্যের পরিবর্তন হওয়াটা তখন বড় হয়ে ধরা দেয়। ফলে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে গালমন্দ করা অনিবার্য হয়ে পড়ে। এমনটা কি হওয়া উচিত? প্রশ্ন থেকে যায়।
শেষটা ভালো লেগেছে। পারিবারিক যে বন্ধন দেখিয়েছে, আজকাল এমন যৌথ পরিবার দেখা যায় না। অবশ্য যে সময়ের গল্প, তখন এমন পরিবারের সংখ্যা ছিল অগণিত। খুবই ছোট্ট একটা বই। তাই বেশি কিছু বলতেই পারছি না। মোদ্দাকথা, বইটা ভীষণ ভালো লেগেছে। ছোট এই বইয়ের গভীর ভাবনার যে খোরাক, তা-ই এই বইটার শক্তি। সেই সাথে রয়েছে জহির রায়হানের সাবলীল ও শক্তিশালী লেখনশৈলী। ঘণ্টাখানেক লাগবে বইটা শেষ করতে। কিন্তু তারপর কাহিনীর গভীরতা মাথায় থেকে যাবে।
▪️বই : কয়েকটি মৃত্যু
▪️লেখক : জহির রায়হান
▪️প্রকাশনী : অনুপম প্রকাশনী
▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ৪.৫/৫
আহমদ আলী শেখের বসতবাড়ি যেন এক টুকরো চাঁদের হাট। যৌথ এ পরিবারের আহমদ আলী শেখের চার সন্তান, তিন সন্তানের বউ, দশজন নাতি নাতনির সাথে নিজের সহধর্মিণীকে নিয়ে যে সংসার, তাতে কোনো বিভক্তি নেই। সবাই একসাথে, এক হয়ে দিনযাপন করে।
কিন্তু একটি স্বপ্ন যেন তাদের মনের নগ্ন চিত্রটা তুলে ধরেছে। আহমদ আলী শেখ যে স্বপ্ন দেখেছে, আরও বিশ বছর আগে সে স্বপ্ন দেখেছিল তার বাবা। মৃত্যুর দূত যেন ইশারা দিয়ে গিয়েছে। এই সংসারে হানা দিতে চলেছে। একই স্বপ্ন দেখেছে অসুস্থ ছোট ছেলেও। তাই ভয় দানা বাঁধে। বিশ বছর আগে এমন স্বপ্নের পর দুইজন তাদের জীবনকে ইতি জানিয়েছিল। এবার কয়জন?
মানুষ সবসময় জাগতিক বিষয় নিয়েই মাথা ঘামায়। মৃত্যু বা পরকাল নিয়ে তাদের চিন্তা নেই। কিন্তু যখন সম্ভাবনা থাকে মারা যাওয়ার, তখন কেউ হয়তো ধর্মকর্মে মন দেয়। কেউ চিন্তা করে সম্পত্তির। কেননা, বাড়ির কর্তার কিছু হলে সবচেয়ে বেশি ঝামেলা হয় সম্পত্তি নিয়ে।
মানুষ জন্মগতভাবে স্বার্থপর। যতই স্বার্থহীন ভাব দেখাক না কেন, অজান্তেই হয়তো স্বার্থপরতা মানুষের মনে চলে আসে। স্বার্থহীন কেবল মা-ই যেন হতে পারে।জহির রায়হানের ছোট্ট এই গল্পের যে ভাবার্থ, মানুষের ভাবনায় আঘাত করার যে শক্তি; বইয়ের প্রাণ আমার কাছে এটিই মনে হয়েছে।
যৌথ পরিবারের চিত্র এই গল্পতে খুব ভালোভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। বাড়ির কর্তার জাঁদরেল মনোভাব, একটু কিছু হলেই হল্লা করা, সবাইকে ঝাড়ির উপর রাখা, আবার প্রয়োজনে কাছে টেনে নেওয়াই তো বাড়ির কর্তার বড় গুণ। সম্মান এখানে গুরুত্বপুর্ণ। মনের মধ্যে যা-ই থাকুক, প্রকাশ্যে সবার মধ্যেই একতা রয়েছে। যা এই পরিবারকে এক সুতোয় বেঁধে রেখেছে।
আরেকটা বিষয় নিয়ে কথা বলি। এই বাড়ির মেয়ের বিয়ে হয়। যদিও আগে এক প্রেম ছিল। কিন্তু পরিবারের পছন্দে নিতান্তই অনিচ্ছায় বিয়ে করতে হয়। নতুন সংসারে সে ভালোই আছে। স্বামী ভালোবাসে, চোখে হারায়। কিন্তু তারপরও যখন সাবেক প্রেমিকের বিয়ে হওয়ার খবর শুনে সব দায় তার উপর চাপিয়ে দেওয়া বোধহয় এই সমাজের চিত্র। নিজের পরিবর্তনকে চোখে না দেখে অন্যের পরিবর্তন হওয়াটা তখন বড় হয়ে ধরা দেয়। ফলে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে গালমন্দ করা অনিবার্য হয়ে পড়ে। এমনটা কি হওয়া উচিত? প্রশ্ন থেকে যায়।
শেষটা ভালো লেগেছে। পারিবারিক যে বন্ধন দেখিয়েছে, আজকাল এমন যৌথ পরিবার দেখা যায় না। অবশ্য যে সময়ের গল্প, তখন এমন পরিবারের সংখ্যা ছিল অগণিত। খুবই ছোট্ট একটা বই। তাই বেশি কিছু বলতেই পারছি না। মোদ্দাকথা, বইটা ভীষণ ভালো লেগেছে। ছোট এই বইয়ের গভীর ভাবনার যে খোরাক, তা-ই এই বইটার শক্তি। সেই সাথে রয়েছে জহির রায়হানের সাবলীল ও শক্তিশালী লেখনশৈলী। ঘণ্টাখানেক লাগবে বইটা শেষ করতে। কিন্তু তারপর কাহিনীর গভীরতা মাথায় থেকে যাবে।
▪️বই : কয়েকটি মৃত্যু
▪️লেখক : জহির রায়হান
▪️প্রকাশনী : অনুপম প্রকাশনী
▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ৪.৫/৫
September 11, 2021
৪৭ এর দেশ ভাগের সময় কালের কথা। আহমদ আলী শেখ চব্বিশ পরগনার ভিটেমাটি ছেড়ে চলে আসনেন ঢাকাতে। নিজের বাড়ীর বিনিময়ে তিনি ঢাকাতে একটি বাড়ী পেয়েছেন যদিও একটু লোকসান হয় কিন্তু অচেনা জায়গাতে এসে থাকতে হবে তাই মনে করে তিনি মানিয়ে নিলেন।
চার ছেলে এক মেয়ে নিয়ে সুখী সুন্দর পরিবার আহমদ আলী শেখের। মেয়ে থাকেন করাচিতে জামাই সহ। তিনছেলে বিয়ে দিয়ে নাতি নাতনি নিয়ে ভরপুর সংসার।
তবে সে সুখের সংসারে হঠাৎ ই আসে দুঃশ্চিতার ছাপ!
তবে কি আর এই সুখ টিকলো না?
এক মধ্যবিত্তপরিবারের গল্প। সহজ ভাবে এগিয়ে গিয়ে তাতে সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো উঠে এসেছে।
চার ছেলে এক মেয়ে নিয়ে সুখী সুন্দর পরিবার আহমদ আলী শেখের। মেয়ে থাকেন করাচিতে জামাই সহ। তিনছেলে বিয়ে দিয়ে নাতি নাতনি নিয়ে ভরপুর সংসার।
তবে সে সুখের সংসারে হঠাৎ ই আসে দুঃশ্চিতার ছাপ!
তবে কি আর এই সুখ টিকলো না?
এক মধ্যবিত্তপরিবারের গল্প। সহজ ভাবে এগিয়ে গিয়ে তাতে সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো উঠে এসেছে।
April 17, 2022
কে তামাম জাহানের শ্রেষ্ঠ জীব আর কেই বা আসলে প্রকৃত ইবলিশ...?
সহজ বয়ানে গভীর দর্শন। খুব উপভোগ করলাম।
সহজ বয়ানে গভীর দর্শন। খুব উপভোগ করলাম।
July 30, 2022
মৃত্যু। প্রাত্যহিক জীবনে আমরা ভুলে যাই মৃত্যুর কথা, ভুলে যাই পরকালের কথা।
স্বার্থপর আর লোভী মানুষের মৃত্যুর কথা তখনই মনে হয়, যখন কারো মৃত্যু সংবাদ কানে আসে। 'কয়েকটি মৃত্যু' জহির রায়হানের একটি ছোটগল্প। একবসায় শেষ করার মতো।
স্বার্থপর আর লোভী মানুষের মৃত্যুর কথা তখনই মনে হয়, যখন কারো মৃত্যু সংবাদ কানে আসে। 'কয়েকটি মৃত্যু' জহির রায়হানের একটি ছোটগল্প। একবসায় শেষ করার মতো।
April 11, 2020
গল্পটা অবসরপ্রাপ্ত আহমদ আলী শেখ এর। স্ত্রী, চার ছেলে আর তিন ছেলের-বৌ এবং নাতি-নাতনী নিয়ে এক সুখের পরিবার। বেশ সচ্ছল এমন সংসার নিয়ে আহমদ আলী শেখও বেশ আনন্দিত।একদিন তার মেয়ে, আলি শেখের মামা-মামিকে নিয়ে করাচী থেকে ফিরেন।মামা-মামি চলে যাওয়ার পর আলি শেখ রাতে ভয়ংকর স্বপ্ন দেখেন।সেই স্বপ্ন দেখে আতংকিত হয়ে যখন সকলকে জানান তার পরে কি হই সেই নিয়ে ঘটনা।
জগত সংসারের সকল আনন্দই যে সীমিত, যেমনটা দুঃখ-কষ্ট গুলোও। কঠিন বাস্তবতার সম্মুখে দাঁড়ালে সবাই হয়ে যায় ঘোরতর স্বার্থপর। আর এমন কিছু অপ্রিয় সত্যগুলোই ফুটে ওঠেছে ২৮ পৃষ্ঠার এই লেখায়।তার অন্যান্য উপন্যাসের মত এই উপন্যাসটিতেও তিনি তুলে ধরেছেন আমাদের চারপাশের কথা। উপন্যাসটি পড়ার সময় মনে হচ্ছিল এ যেন পাতায় ছাপানো কোন অক্ষরগুচ্ছ নয়, আমাদের সমাজেরই একটি প্রতিচ্ছবি।আমাদের সমাজের দৃষ্টিভংগি তিনি এক লাইনে দেখিয়েছেন,
""আল্লাহ-তায়ালা বলিলেন-হে ফেরেস্তা শ্রেষ্ঠ ইবলিশ,আমি তামাম জাহানের শ্রেষ্ঠ জীব ইনসানকে পয়দা করিয়াছি।ইহাকে সেজদা কর।ইবলিশ তবু রাজি হইল না।তবু সেজদা করিল না।""
এক কথায়, চমৎকার একটি উপন্যাস এই ‘কয়েকটি মৃত্যু’। প্রত্যেক বইপ্রেমীদের এই বইটি পড়া উচিৎ বলে বোধ করছি। আশা করি হতাশ হবেন না। শুভ কামনা।
জগত সংসারের সকল আনন্দই যে সীমিত, যেমনটা দুঃখ-কষ্ট গুলোও। কঠিন বাস্তবতার সম্মুখে দাঁড়ালে সবাই হয়ে যায় ঘোরতর স্বার্থপর। আর এমন কিছু অপ্রিয় সত্যগুলোই ফুটে ওঠেছে ২৮ পৃষ্ঠার এই লেখায়।তার অন্যান্য উপন্যাসের মত এই উপন্যাসটিতেও তিনি তুলে ধরেছেন আমাদের চারপাশের কথা। উপন্যাসটি পড়ার সময় মনে হচ্ছিল এ যেন পাতায় ছাপানো কোন অক্ষরগুচ্ছ নয়, আমাদের সমাজেরই একটি প্রতিচ্ছবি।আমাদের সমাজের দৃষ্টিভংগি তিনি এক লাইনে দেখিয়েছেন,
""আল্লাহ-তায়ালা বলিলেন-হে ফেরেস্তা শ্রেষ্ঠ ইবলিশ,আমি তামাম জাহানের শ্রেষ্ঠ জীব ইনসানকে পয়দা করিয়াছি।ইহাকে সেজদা কর।ইবলিশ তবু রাজি হইল না।তবু সেজদা করিল না।""
এক কথায়, চমৎকার একটি উপন্যাস এই ‘কয়েকটি মৃত্যু’। প্রত্যেক বইপ্রেমীদের এই বইটি পড়া উচিৎ বলে বোধ করছি। আশা করি হতাশ হবেন না। শুভ কামনা।
March 4, 2016
It will make you think about death and then make you think what happens after death.
January 8, 2022
ছোট্ট বই, বিকেলের চায়ের সাথে শেষ করার মতো। অথচ কতো গভীর!
August 6, 2026
মৃ*ত্যুর মুখোমুখি মানুষের আসল মুখোশটা খুলে পড়ে। এই পৃথিবীতে জীবনের লড়াই যেমন হোক, সহজে কেউ ম*রতে চায় না। জহির রায়হানের "কয়েকটি মৃ*ত্যু" বইটি যেন সেই কথাটাই আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আসলে দিনের শেষে আমরা সবাই স্বার্থপর। যে যার স্বার্থটা আগে চিন্তা করি। নিজের সমস্যা অন্যের কাঁধে চাপিয়ে দিতে পছন্দ করি। যেন ক্ষতিটা অন্যের হোক নিজে আগে বাঁচি।
জহির রায়হান বাংলা সাহিত্যের এমন একজন কথাশিল্পী, যিনি সমাজবাস্তবতা, মানুষের মনস্তত্ত্ব এবং মধ্যবিত্ত জীবনের সংকটকে অত্যন্ত সংযত অথচ তীক্ষ্ণ ভাষায় উপস্থাপন করেছেন। তার লেখা "কয়েকটি মৃ*ত্যু" উপন্যাসও সেই ধারারই একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। আকারে ছোট হলেও এই উপন্যাসের ভাবগত বিস্তার অনেক বড়। এখানে মৃ*ত্যু কেবল একজন মানুষের জীবনের সমাপ্তি নয়, বরং মানুষের ভেতরে লুকিয়ে থাকা স্বার্থপরতা, ভয়, ভণ্ডামি এবং মূল্যবোধের ক্ষয়ের প্রতীক হিসেবে উপস্থিত হয়েছে।
উপন্যাসটির মূল ঘটনাপ্রবাহ একটি যৌথ পরিবারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। পরিবারের কর্তা মৃ*ত্যুর আশঙ্কায় আক্রান্ত হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের আচরণ ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে। কেউ উদ্বিগ্ন হয় ভালোবাসার মানুষটির কথা থেকে, কেউ বা ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা ভেবে, আবার কেউ সম্পত্তি ও উত্তরাধিকারের হিসাব কষতে শুরু করে। এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই লেখক মানুষের মনোজগতের জটিলতা উন্মোচন করেছেন। ফলে উপন্যাসটি বাহ্যিক ঘটনাপ্রবাহের চেয়ে অন্তর্জগতের সংঘাতকে বেশি গুরুত্ব দেয়।
জহির রায়হানের লেখনীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য তার সংলাপ ও পর্যবেক্ষণ। তিনি অল্প কথায় চরিত্রের ভেতরের অস্থিরতা প্রকাশ করতে পারেন। "কয়েকটি মৃত্যু" বইটিতেও দেখা যায়, চরিত্রগুলোর মুখের ভাষা এবং আচরণের সূক্ষ্ম পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তাদের প্রকৃত স্বরূপ প্রকাশিত হয়েছে। কোথাও অতিনাটকীয়তা নেই, বরং বাস্তব জীবনের স্বাভাবিক কথাবার্তা থেকেই মানুষের ভয়, লোভ ও অসহায়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই সংযমী বর্ণনাশৈলী উপন্যাসটিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে। একদিকে বাপ শুধু স্বপ্ন দেখেছে তাতেই সন্তানদের একেকজন একেক রকম চিন্তা নিয়ে পড়েছে। চার ভাইয়ের তিন বড় ভাই ধরেই নিয়েছে ছোট ভাই যেহেতু বাপের মতো স্বপ্ন দেখে ফেলেছে তারমানে হয়তো সেও চিরবিদায়ের পথে।
উপন্যাসটিতে রূপকের ব্যবহার বেশ লক্ষণীয়। বইয়ের নামের শিরোনামে ব্যবহৃত "মৃ*ত্যু" শব্দটি কেবল শারীরিক মৃ*ত্যুকে নির্দেশ করে না। এখানে নৈতিকতার মৃ*ত্যু, পারিবারিক আন্তরিকতার মৃ*ত্যু, বিশ্বাসের মৃ*ত্যু এবং মানবিক মূল্যবোধের মৃ*ত্যুও সমানভাবে উপস্থিত। লেখক যেন বলতে চেয়েছেন, একজন মানুষের মৃ*ত্যুর আগেই সমাজে বহু অদৃশ্য মৃ*ত্যু ঘটে যায়, যা চোখে দেখা যায় না, কিন্তু মানুষের সম্পর্ককে ভেতর থেকে ধ্বংস করে দেয়। এই প্রতীকী নির্মাণ উপন্যাসটিকে একটি গভীর দার্শনিক মাত্রা দিয়েছে। তাই বইটিতে নাম হয়েছে কয়েকটি মৃ*ত্যু। কারণ মৃ*ত্যু তো এখানে শুধু একজনের হয়নি!
সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলনও উপন্যাসটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। যৌথ পরিবারের ভাঙন, সম্পত্তিকেন্দ্রিক সম্পর্কের অবক্ষয় এবং আত্মীয়তার আবরণে লুকিয়ে থাকা স্বার্থপরতা সমান প্রাসঙ্গিক। মানুষের মৌলিক প্রবৃত্তির মধ্যে ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা, নিরাপত্তাহীনতা ও মৃ*ত্যুভীতি যে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে বদলে যায় না, লেখক তা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন। অথচ শুধু ঘটেছে সামান্য স্বপ্ন দেখার বিষয়। কিন্তু তাতেই রাতারাতি যেন পরিবারের সকল সদস্যদের স্বভাব বদলে গেছে। তারা নিজেদের স্বার্থের কথা চিন্তা শুরু করেছে। অথচ শেষমেশ কী হবে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেনা।
ভাষার দিক থেকেও "কয়েকটি মৃ*ত্যু" বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। জহির রায়হানের গদ্য সহজ, সংক্ষিপ্ত এবং অলংকারবর্জিত। কিন্তু এই সরলতার মধ্যেই রয়েছে গভীর শিল্পবোধ। অপ্রয়োজনীয় বর্ণনার পরিবর্তে তিনি দৃশ্য, সংলাপ ও নীরবতার মাধ্যমে অর্থ তৈরি করেন। যাতে পড়তে পড়তে চরিত্রগুলোর মানসিক টানাপোড়েনও অনুভব করা যায়। ছোট একটা বই অথচ কী গভীর চিন্তাধারা।
"কয়েকটি মৃত্যু" কেবল একটি পারিবারিক উপন্যাস নয়, এটি মানুষের নৈতিক সংকট ও অস্তিত্ববোধের এক গভীর শিল্পিত অনুসন্ধান। মৃ*ত্যুকে কেন্দ্র করে মানুষের আসল পরিচয় কীভাবে প্রকাশিত হয়, সেই চিরন্তন প্রশ্নের সাহিত্যিক উত্তর খুঁজেছেন জহির রায়হান। আকারে সংক্ষিপ্ত হলেও বিষয়ের গভীরতা, মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং প্রতীকী তাৎপর্যের কারণে বইটি আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে।
🪻 বইয়ের নাম: "কয়েকটি মৃ*ত্যু"
🪻 লেখক: জহির রায়হান
🪻 প্রকাশনা: অনুপম প্রকাশনী
জহির রায়হান বাংলা সাহিত্যের এমন একজন কথাশিল্পী, যিনি সমাজবাস্তবতা, মানুষের মনস্তত্ত্ব এবং মধ্যবিত্ত জীবনের সংকটকে অত্যন্ত সংযত অথচ তীক্ষ্ণ ভাষায় উপস্থাপন করেছেন। তার লেখা "কয়েকটি মৃ*ত্যু" উপন্যাসও সেই ধারারই একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। আকারে ছোট হলেও এই উপন্যাসের ভাবগত বিস্তার অনেক বড়। এখানে মৃ*ত্যু কেবল একজন মানুষের জীবনের সমাপ্তি নয়, বরং মানুষের ভেতরে লুকিয়ে থাকা স্বার্থপরতা, ভয়, ভণ্ডামি এবং মূল্যবোধের ক্ষয়ের প্রতীক হিসেবে উপস্থিত হয়েছে।
উপন্যাসটির মূল ঘটনাপ্রবাহ একটি যৌথ পরিবারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। পরিবারের কর্তা মৃ*ত্যুর আশঙ্কায় আক্রান্ত হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের আচরণ ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে। কেউ উদ্বিগ্ন হয় ভালোবাসার মানুষটির কথা থেকে, কেউ বা ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা ভেবে, আবার কেউ সম্পত্তি ও উত্তরাধিকারের হিসাব কষতে শুরু করে। এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই লেখক মানুষের মনোজগতের জটিলতা উন্মোচন করেছেন। ফলে উপন্যাসটি বাহ্যিক ঘটনাপ্রবাহের চেয়ে অন্তর্জগতের সংঘাতকে বেশি গুরুত্ব দেয়।
জহির রায়হানের লেখনীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য তার সংলাপ ও পর্যবেক্ষণ। তিনি অল্প কথায় চরিত্রের ভেতরের অস্থিরতা প্রকাশ করতে পারেন। "কয়েকটি মৃত্যু" বইটিতেও দেখা যায়, চরিত্রগুলোর মুখের ভাষা এবং আচরণের সূক্ষ্ম পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তাদের প্রকৃত স্বরূপ প্রকাশিত হয়েছে। কোথাও অতিনাটকীয়তা নেই, বরং বাস্তব জীবনের স্বাভাবিক কথাবার্তা থেকেই মানুষের ভয়, লোভ ও অসহায়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই সংযমী বর্ণনাশৈলী উপন্যাসটিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে। একদিকে বাপ শুধু স্বপ্ন দেখেছে তাতেই সন্তানদের একেকজন একেক রকম চিন্তা নিয়ে পড়েছে। চার ভাইয়ের তিন বড় ভাই ধরেই নিয়েছে ছোট ভাই যেহেতু বাপের মতো স্বপ্ন দেখে ফেলেছে তারমানে হয়তো সেও চিরবিদায়ের পথে।
উপন্যাসটিতে রূপকের ব্যবহার বেশ লক্ষণীয়। বইয়ের নামের শিরোনামে ব্যবহৃত "মৃ*ত্যু" শব্দটি কেবল শারীরিক মৃ*ত্যুকে নির্দেশ করে না। এখানে নৈতিকতার মৃ*ত্যু, পারিবারিক আন্তরিকতার মৃ*ত্যু, বিশ্বাসের মৃ*ত্যু এবং মানবিক মূল্যবোধের মৃ*ত্যুও সমানভাবে উপস্থিত। লেখক যেন বলতে চেয়েছেন, একজন মানুষের মৃ*ত্যুর আগেই সমাজে বহু অদৃশ্য মৃ*ত্যু ঘটে যায়, যা চোখে দেখা যায় না, কিন্তু মানুষের সম্পর্ককে ভেতর থেকে ধ্বংস করে দেয়। এই প্রতীকী নির্মাণ উপন্যাসটিকে একটি গভীর দার্শনিক মাত্রা দিয়েছে। তাই বইটিতে নাম হয়েছে কয়েকটি মৃ*ত্যু। কারণ মৃ*ত্যু তো এখানে শুধু একজনের হয়নি!
সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলনও উপন্যাসটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। যৌথ পরিবারের ভাঙন, সম্পত্তিকেন্দ্রিক সম্পর্কের অবক্ষয় এবং আত্মীয়তার আবরণে লুকিয়ে থাকা স্বার্থপরতা সমান প্রাসঙ্গিক। মানুষের মৌলিক প্রবৃত্তির মধ্যে ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা, নিরাপত্তাহীনতা ও মৃ*ত্যুভীতি যে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে বদলে যায় না, লেখক তা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন। অথচ শুধু ঘটেছে সামান্য স্বপ্ন দেখার বিষয়। কিন্তু তাতেই রাতারাতি যেন পরিবারের সকল সদস্যদের স্বভাব বদলে গেছে। তারা নিজেদের স্বার্থের কথা চিন্তা শুরু করেছে। অথচ শেষমেশ কী হবে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেনা।
ভাষার দিক থেকেও "কয়েকটি মৃ*ত্যু" বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। জহির রায়হানের গদ্য সহজ, সংক্ষিপ্ত এবং অলংকারবর্জিত। কিন্তু এই সরলতার মধ্যেই রয়েছে গভীর শিল্পবোধ। অপ্রয়োজনীয় বর্ণনার পরিবর্তে তিনি দৃশ্য, সংলাপ ও নীরবতার মাধ্যমে অর্থ তৈরি করেন। যাতে পড়তে পড়তে চরিত্রগুলোর মানসিক টানাপোড়েনও অনুভব করা যায়। ছোট একটা বই অথচ কী গভীর চিন্তাধারা।
"কয়েকটি মৃত্যু" কেবল একটি পারিবারিক উপন্যাস নয়, এটি মানুষের নৈতিক সংকট ও অস্তিত্ববোধের এক গভীর শিল্পিত অনুসন্ধান। মৃ*ত্যুকে কেন্দ্র করে মানুষের আসল পরিচয় কীভাবে প্রকাশিত হয়, সেই চিরন্তন প্রশ্নের সাহিত্যিক উত্তর খুঁজেছেন জহির রায়হান। আকারে সংক্ষিপ্ত হলেও বিষয়ের গভীরতা, মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং প্রতীকী তাৎপর্যের কারণে বইটি আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে।
🪻 বইয়ের নাম: "কয়েকটি মৃ*ত্যু"
🪻 লেখক: জহির রায়হান
🪻 প্রকাশনা: অনুপম প্রকাশনী
August 19, 2026
বুড়ো আহমদ আলী শেখ দেখলেন তার বিছানার চারদিকে চারটি মূর্তি এসে দাঁড়িয়েছে। তিনি দেখলেন তাঁর মৃত বাবাকে, মৃত চাচাকে, মৃত ভাইকে তারপর অসংখ্য আত্মীয়স্বজনকে। দেখলেন ওরা তাকে ঘিরে দাড়িয়ে আছে আর বলছে 'আহ! আমাদের ছেলে এবার আমাদের কাছেই ফিরে আসবে।'
আহমদ আলী শেখ ভয়ে তরতর করে কাঁপছেন, মৃত্যু কী তবে দরজায় এসে দাঁড়ালো!!!
জহির রায়হানের কয়েকটি মৃত্যু পড়লাম, খুবই অল্প পৃষ্টার বই। একে সম্ভবত উপন্যাসিকা বলা যেতে পারে। কিন্তু যেটাই বলা হোক না কেন গল্পটা চমৎকার। এ এমন এক গল্প, যেখানে মৃত্যুর চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছিলো পারিবারিক সম্পর্কেগুলো আর সাথে এক রাতের মৃত্যুর সাথে সাক্ষাতের মুহূর্তগুলো।
এই গল্পের কেন্দ্রে আছেন বাড়ির কর্তা বুড়ো আহমদ আলী শেখ। বয়স তাকে ধীরে ধীরে এমন এক জায়গায় নিয়ে এসেছে, যেখানে নিজের শরীরের চেয়ে পরিবারের মানুষগুলোকেই আজকাল বেশি করে দেখতে শুরু করেন তিনি। তার সন্তান, পুত্রবধূ, নাতি নাতনি সবাইকে ঘিরে তার সংসার, কিন্তু একই ছাদের নিচে থেকেও প্রত্যেকের পৃথিবী যেন আলাদা। তবুও তাদের দিকে তাকালেই তার প্রাণটা জুড়িয়ে যায়।
বৃদ্ধ হলেই হয়তো মানুষকে মৃত্যুর ভয় ঘিরে ধরে। মৃত্যুর আগে স্বপ্নযোগে তার ইঙ্গিতও পাওয়া যায় এমনটা আমরা প্রায়ই শুনি। একসময় বৃদ্ধ কর্তার মনেও সেই ভয়টা খুব গভীরভাবে জায়গা করে নেয়। নিজের মৃত্যু, প্রিয় মানুষদের হারানোর ভয়, সংসার ভেঙে যাওয়ার ভয়, নিজের এতদিনের গড়ে তোলা পৃথিবীটা হয়তো একদিন আর থাকবে না এই উপলব্ধি তাকে তাড়া করতে থাকে।
এরপর জহির রায়হান গল্পের সেই বৃদ্ধের সন্তানদের ভেতরের অদৃশ্য দেয়ালগুলোকে দেখাতে শুরু করেন। যেখানে আমাদের উপলব্ধি করতে শেখান যে মানুষটাকে খুব আপন মনে হয়, তারও হয়তো নিজের একান্ত হিসাব নিকাশ আছে। যে সম্পর্কটাকে আমাদের চিরস্থায়ী মনে হয়, তারও রূপ বদলায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে।
জহির রায়হানের বইটির অসাধারণত্ব সম্ভবত এখানেই, তিনি বড় কোনো ঘটনা দিয়ে পাঠককে চমকে দেননি। বরং একটা পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের আমাদের নিত্যদিনের চেনা কোনো এক মুহূর্তকেই মলাটবন্দি করে দিয়েছেন, মান অভিমান, স্বার্থ আর নীরবতার মধ্য দিয়ে মৃত্যুর একটা অদৃশ্য ছায়া তৈরি করেছেন।
কয়েকটি মৃত্যু নামটা শেষ পর্যন্ত শুধু মানুষের মৃত্যুর কথা বলে না। বইটা পড়তে পড়তে মনে হয়, আমরা হয়তো প্রত্যেকেই জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে কিছু একটা হারাতে হারাতে একটু একটু করে মৃত্যুর দিকেই এগিয়ে যাই সেই কথাও বলে। আমাদের এই অমোঘ সত্য মৃত্যু কী এই ইহজগতে শূণ্যতা তৈরি করতে পারে! হয়তো কেউ কেউ পারে, কেউ কেউ পারে না। কিন্তু এ তো সত্য পৃথিবীতে শূণ্যস্থান বলে কিছু নেই, সবকিছুই যেন নতুন এক গল্পের সূচনা। জীবন বড্ড রহস্যময়, এখানে সবকিছু পরিকল্পনা মাফিক হয় না কিংবা আমাদের চিন্তার সাথে সবসময় সবকিছু মিলেও না। কয়েকটি মৃত্যু তেমনই এক দৃশ্যের অবতারণা করেছেন জহির রায়হান। এক দীর্ঘ রজনীর জীবনের খন্ডচিত্র 'কয়েকটি মৃত্যু'।
আহমদ আলী শেখ ভয়ে তরতর করে কাঁপছেন, মৃত্যু কী তবে দরজায় এসে দাঁড়ালো!!!
জহির রায়হানের কয়েকটি মৃত্যু পড়লাম, খুবই অল্প পৃষ্টার বই। একে সম্ভবত উপন্যাসিকা বলা যেতে পারে। কিন্তু যেটাই বলা হোক না কেন গল্পটা চমৎকার। এ এমন এক গল্প, যেখানে মৃত্যুর চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছিলো পারিবারিক সম্পর্কেগুলো আর সাথে এক রাতের মৃত্যুর সাথে সাক্ষাতের মুহূর্তগুলো।
এই গল্পের কেন্দ্রে আছেন বাড়ির কর্তা বুড়ো আহমদ আলী শেখ। বয়স তাকে ধীরে ধীরে এমন এক জায়গায় নিয়ে এসেছে, যেখানে নিজের শরীরের চেয়ে পরিবারের মানুষগুলোকেই আজকাল বেশি করে দেখতে শুরু করেন তিনি। তার সন্তান, পুত্রবধূ, নাতি নাতনি সবাইকে ঘিরে তার সংসার, কিন্তু একই ছাদের নিচে থেকেও প্রত্যেকের পৃথিবী যেন আলাদা। তবুও তাদের দিকে তাকালেই তার প্রাণটা জুড়িয়ে যায়।
বৃদ্ধ হলেই হয়তো মানুষকে মৃত্যুর ভয় ঘিরে ধরে। মৃত্যুর আগে স্বপ্নযোগে তার ইঙ্গিতও পাওয়া যায় এমনটা আমরা প্রায়ই শুনি। একসময় বৃদ্ধ কর্তার মনেও সেই ভয়টা খুব গভীরভাবে জায়গা করে নেয়। নিজের মৃত্যু, প্রিয় মানুষদের হারানোর ভয়, সংসার ভেঙে যাওয়ার ভয়, নিজের এতদিনের গড়ে তোলা পৃথিবীটা হয়তো একদিন আর থাকবে না এই উপলব্ধি তাকে তাড়া করতে থাকে।
এরপর জহির রায়হান গল্পের সেই বৃদ্ধের সন্তানদের ভেতরের অদৃশ্য দেয়ালগুলোকে দেখাতে শুরু করেন। যেখানে আমাদের উপলব্ধি করতে শেখান যে মানুষটাকে খুব আপন মনে হয়, তারও হয়তো নিজের একান্ত হিসাব নিকাশ আছে। যে সম্পর্কটাকে আমাদের চিরস্থায়ী মনে হয়, তারও রূপ বদলায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে।
জহির রায়হানের বইটির অসাধারণত্ব সম্ভবত এখানেই, তিনি বড় কোনো ঘটনা দিয়ে পাঠককে চমকে দেননি। বরং একটা পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের আমাদের নিত্যদিনের চেনা কোনো এক মুহূর্তকেই মলাটবন্দি করে দিয়েছেন, মান অভিমান, স্বার্থ আর নীরবতার মধ্য দিয়ে মৃত্যুর একটা অদৃশ্য ছায়া তৈরি করেছেন।
কয়েকটি মৃত্যু নামটা শেষ পর্যন্ত শুধু মানুষের মৃত্যুর কথা বলে না। বইটা পড়তে পড়তে মনে হয়, আমরা হয়তো প্রত্যেকেই জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে কিছু একটা হারাতে হারাতে একটু একটু করে মৃত্যুর দিকেই এগিয়ে যাই সেই কথাও বলে। আমাদের এই অমোঘ সত্য মৃত্যু কী এই ইহজগতে শূণ্যতা তৈরি করতে পারে! হয়তো কেউ কেউ পারে, কেউ কেউ পারে না। কিন্তু এ তো সত্য পৃথিবীতে শূণ্যস্থান বলে কিছু নেই, সবকিছুই যেন নতুন এক গল্পের সূচনা। জীবন বড্ড রহস্যময়, এখানে সবকিছু পরিকল্পনা মাফিক হয় না কিংবা আমাদের চিন্তার সাথে সবসময় সবকিছু মিলেও না। কয়েকটি মৃত্যু তেমনই এক দৃশ্যের অবতারণা করেছেন জহির রায়হান। এক দীর্ঘ রজনীর জীবনের খন্ডচিত্র 'কয়েকটি মৃত্যু'।
Displaying 1 - 30 of 95 reviews




















![Profile Image for Arnab Mohajan Shaptarshi [ অর্ণব মহাজন সপ্তর্ষি ].](https://i.gr-assets.com/images/S/compressed.photo.goodreads.com/users/1658754239i/137887372._UX200_CR0,18,200,200_.jpg)









