মৃণালিনী দাঁড়িয়ে ছিল কলেজের কাছের বাসস্টপে। আজ হঠাৎ কলেজ ছুটি হয়ে গেছে। বাড়ির গাড়ি আসবে ঘণ্টাচারেক পরে। অতি রক্ষণশীল এবং ধনী পরিবারের মেয়ে। দেখতেও রূপসী।
কলেজে ঢোকার পর এই প্রথম বাসে উঠবে সে। তার বাড়ি যথেষ্ট কাছে, কয়েকটা মাত্র স্টপ, তবু তার বুক ঢিপঢিপ করছিল।তার বাসের নাম্বার টু, সেটুকু সে জানে।
এইসময় দূরে একটা বাস দেখা দিল। নাম্বার টু কি? তাহলে সোজা উঠে পড়বে, বাড়ির কাছে নেমে যাবে। বাসটা যখন কাছাকাছি চলে এসেছে, একটা গলা শোনা গেল, ‘টু বি অর নট টু বি?’
ঘুরে দাঁড়াতেই সে ছেলেটিকে দেখতে পেল। সাধারণ শার্টপ্যান্ট পরা একুশ বাইশের তরুণ। ছেলেটি এগিয়ে এল এক পা, ‘তাহলে নট টু বি। কোনও কোয়েশ্চেন নেই। আপনার বাস শুধু নাম্বার টু। তাই তো?? চোখ বন্ধ করল মৃণাল।...শুরু হয়ে গেল অসামান্য রোম্যান্টিক উপন্যাস 'হায় সজনি’।
আর সবচেয়ে বড় কথা, বরেণ্য ঔপন্যাসিকের এই অপূর্ব প্রেমকাহিনি পূর্বে কোথাও প্রকাশিত হয়নি। সরাসরি পাণ্ডুলিপি থেকে চলে এল পত্রভারতীর বই হয়ে।
Samaresh Majumdar (Bangla: সমরেশ মজুমদার) was a well-known Bengali writer. He spent his childhood years in the tea gardens of Duars, Jalpaiguri, West Bengal, India. He was a student of the Jalpaiguri Zilla School, Jalpaiguri. He completed his bachelors in Bengali from Scottish Church College, Kolkata. His first story appeared in "Desh" in 1967. "Dour" was his first novel, which was published in "Desh" in 1976. Author of novels, short stories and travelogues, Samaresh received the Indian government's coveted Sahitya Akademi award for the second book of the Animesh series, 'Kalbela".
সমরেশ মজুমদার-এর জন্ম ১০ মার্চ ১৯৪৪। শৈশব কেটেছে ডুয়ার্সের চা-বাগানে। জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের ছাত্র। কলকাতায় আসেন ১৯৬০-এ। শিক্ষা: স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স, পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম.এ। প্রথমে গ্রুপ থিয়েটার করতেন। তারপর নাটক লিখতে গিয়ে গল্প লেখা। প্রথম গল্প ‘দেশ’ পত্রিকায়, ১৯৬৭ সালে। প্রথম উপন্যাস ‘দৌড়’, ১৯৭৫-এ ‘দেশ’ পত্রিকায়। গ্রন্থ: দৌড়, এই আমি রেণু, উত্তরাধিকার, বন্দীনিবাস, বড় পাপ হে, উজান গঙ্গা, বাসভূমি, লক্ষ্মীর পাঁচালি, উনিশ বিশ, সওয়ার, কালবেলা, কালপুরুষ এবং আরও অনেক। সম্মান: ১৯৮২ সালের আনন্দ পুরস্কার তাঁর যোগ্যতার স্বীকৃতি। এ ছাড়া ‘দৌড়’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার হিসাবে বি এফ জে এ, দিশারী এবং চলচ্চিত্র প্রসার সমিতির পুরস্কার। ১৯৮৪ সালে ‘কালবেলা’ উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার।
"বরেণ্য সাহিত্যিকের কলমে মিষ্টি প্রেম কাহিনী" পড়তে বসে মাথা চুলকোনোর উপক্রম। এ ঠিক কি লিখেছেন সমরেশ মজুমদার, উনি নিজেই জানেন। কতকটা জোলো, অন্তঃসারশূন্য, পঞ্চাশের দশকের বায়োস্কোপ মার্কা এই গল্পের বুনোট ভীষণ মাত্রায় নড়বড়ে। দায়সারা গোছের লেখনী, অযত্নের সঙ্গে পরিবেশিত। পড়তে পড়তে বারংবার তাল কেটে যাওয়া। মানুষটি যেন উপন্যাসে থেকেও নেই।
এহেন বইটিকে, লেখকের শারীরিক ত্রুটি এবং বয়সজনীত কারনবশত, যাই হোক, একটা পাসিং মার্কস দিতে চাওয়ার ইচ্ছেটা বৈধ। কিন্তু বাধ সাধে উপন্যাসের নামচরিত্ররা। গল্পের নায়ক অমিতের মতো একটি স্পাইনলেস, মেরুদন্ডহীন ছেলে, শেষ কবে কোন উপন্যাসের পাতায় নজরে এসেছিল মনে পড়ে না। নায়িকার কথা আর নাই বললাম, কারণ তাকে দেখতে পাওয়াই ভাগ্যের ব্যাপার। কোনো চরিত্রের, একটি ছোটগল্পেও এর চেয়ে বেশি প্রেজেন্স থাকে। লেখকের মর্জিতে মৃণালিনী পর্দানশীন। তার সাথে সাথে মিষ্টি প্রেমটাও। সত্যি বলছি, প্রেমের কাহিনীতে প্রেম খুঁজতে থানায় ডায়েরি করার কথা দু-একবার মাথায় আসলেও আসতে পারে।
উপন্যাসে ভালোর মধ্যে, লেখকের কলমে মফস্বলী জীবনযাপন, বড় শহরে বড় হওয়া, খানিকটা উত্তরবঙ্গের ছোঁয়া। পড়তে খারাপ লাগে না। লেখনী অতিরিক্ত আলগা হলেও এ জিনিস সমরেশ মজুমদারের একচেটিয়া। এই বইথেকে ওটুকুই যা পাওনা। মোটের ওপর ভালো স্বর্ণাভ বেরার করা প্রচ্ছদখানিও। তবে কভারের ওই জমকালো মুখ দেখে আবার হড়কে যাবেন না যেন।
বার্তা জনস্বার্থে প্রচারিত। আমি আমার দায়িত্ব পালন করে চললুম। বাকিটা আপনার ওপর। পাঠ শুভ হোক।
সমরেশ মজুমদার একজন সুপ্রতিষ্ঠিত পুরনো লেখক। ওনার লেখার ধরণ আমরা জানি, উনি সামাজিক ও জীবন মুখী লেখা লেখেন এবং ভালো লেখেন। এই বইটিও তার ব্যাতিক্রম নয়। বইয়ের দুটি কেন্দ্রীয় চরিত্র রয়েছে একটি পুরুষ চরিত্র একটি মহিলা চরিত্র। পুরুষ চরিত্র যেটি রয়েছে সে খুব হেল্পফুল, এবং শুধুই হেল্পফুল নয় সে বিনিময়ে কিছু চায়না। যখন সে কাউকে সাহায্য করে সেই বিনিময়ে সে কিছু আশা করে না। এটা একটা চরিত্রটার খুব ভালো দিক। আরও একটি মফসল থেকে উঠে আসা একটি নিম্নবর্তী ঘরের ছেলে তার কলকাতায় একা থাকা ও জীবন সংগ্রামের গল্প । এবং এই ধরনের গল্পে লেখক খুব ভালো চরিত্র গুলিকে ফুটিয়ে তোলেন। পুরুষ চরিত্রে আরও একটি দিক সে বেশি টাকার বেতন ছেড়ে কম টাকার বেতনের চাকরিতে যোগ দেয়, যাতে তার গবেষণা ভালো ভাবে হয়। একাডেমিকস্ এর প্রতি যাদের ভালো বাসা আছে তাদের এই গল্পের এই চরিত্রটি আশা করি ভালো লাগবে। . এবার আসি মহিলা চরিত্রে, এমন একটি মহিলা যে ভালো আর খারাপের মাঝের ধূসর জায়গাটি থাকে সেই জায়গায়, অর্থাৎ এই মহিলা চরিত্রের মধ্যে গোটা গল্পটা জুড়ে একটা দ্বন্দ্ব চলেছে , যে সে ভালো না খারাপের মাঝের কোথায় দাঁড়াবো। কারণ গল্পে তাকে আমরা এমন কিছু কিছু কাজ করতে দেখছি যা একজন মহিলা করলে আমাদের সমাজ ভালো চোখে নেয় না। কাজ গুলি আমি বর্ণনা করলাম না, এছাড়াও কোনো কাজের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও সে কাজে লাগাচ্ছে না, অর্থাৎ সে সুযোগসন্ধানীও নয়। চরিত্রটা কিছুটা নকলও লেগেছে অর্থাৎ সবটা বোঝাও যাবে না আমাদের দাড়ায়। অনেক টা সেই দুর থেকে সর্ষেফুল ঘনও লাগার ব্যাপারটা। . . এবার আসি গল্পের ব্যাপারে, গল্পটি শুরুতে বলা হয়েছে যে একটু রোমান্টিক গল্প, যেটি শুরুতে লেখক লিখেছেন কিন্তু গল্পটি পড়ে আমি কোথাও খুঁজে পেলাম না বিষয়টি। শুধুই যদি পাঠক ওপর ছেড়ে দেওয়া হতো যে তারা বিচার করুক তাহলে হয়তো বেশি ভালো হতো। আমার অভ্যাস বইয়ের শুরু থেকে সব পড়া, এবং পড়ে লেখক যে বলেছেন রোমান্টিক বা ভালোবাসা রয়েছে এই রকম কোনদিক নেই গল্পে, এই বিষয়টা না জেনে পড়লে হয়তো আরোও একটু বেশি এনজয় করতাম। এছাড়াও কোনো সিনেমা বা সিরিয়াল এ খুব একটা ভালো সিন দেখাচ্ছে হঠাৎ এ ব্রেক পড়ে গেলো এবং আগ্রহটা নষ্ট করে দেয় বইটি পড়েও সেই রকম লাগলো। হঠাৎ কোন দিক থেকে কোন দিকে চলে যাচ্ছি বুঝলাম না। . . রেটিং :- ৩/৫
সত্যি বলছি অনেক আশা নিয়ে বইটি পড়তে বসেছিলাম। কিন্তু দু-চার পাতা পড়ার পর মনে হলো আরও কিছুটা পড়লে হয়তো মূল গল্পে ঢুকতে পারবো। এই আশা নিয়ে আরও কিছুটা পড়লাম। এরপর একসময় এতটাই উৎসাহ হারিয়ে ফেললাম যে মনে হলো কতক্ষণে শেষ হবে। কোনো বই পড়া শুরু করলে মাঝপথে ছেড়ে দিতে পারি না বলে কোনোরকমে গলাধঃকরণ করলাম। পড়া শেষে যে অনুভূতি হয়েছে আমার তা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। পড়তে পড়তে বারবার এটাই মনে হয়েছে যে এই বই কি সত্যিই সমরেশ মজুমদার এর লেখা!!! ওঁনার লেখা "সাতকাহন" পড়ে এতটাই অভিভূত হয়েছিলাম যে তার রেশ বেশ কিছুদিন রয়ে গেছিলো।
গল্পের বিষয়বস্তু বলার মতো কিছুই নয়। আমি পড়লাম ঠিকই কিন্তু বুঝলাম না ঠিক কি চলছিল। চরিত্রদের কে কখন কোথায় যাচ্ছে, কি করছে বোঝা মুশকিল। চরিত্ররা বর্তমান সময় থেকে দুম করে কখন তিরিশ-চল্লিশ বছর পেছনে চলে যাচ্ছে আপনি ঠাহর করতে পারবেন না। এছাড়া অসংখ্য ভুলভ্রান্তি রয়েছে। অনেকটা ঘষামাজা প্রয়োজন ছিল। বইয়ে লেখাও আছে এটি পাণ্ডুলিপি থেকে সরাসরি বই হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। তবে সব শেষে এটাই বলবো সম্পূর্ণটাই আমার ব্যক্তিগত অনুভূতি। সবার যে খারাপ লাগবে এমন নাও হতে পারে।
It's my first read of this year and I have to say this was a different kind of read for me.
I felt like the story was written in a hurry, the story could have been much well written or maybe the author could have chosen a theme or a few themes to work on and then constructs the story around it all.
The FMC(Female Main Character) could have been given more depth and more premise to unfold. Unfortunately which was not at all the case in this book. Whereas the book indeed takes us to think of lives which intertwine at the most sudden instance and then keep on intersecting each other but never to exactly meet yet meets in unexpected turn .
But indeed it's a very peculiar read for me which I can't exactly say is a bad read just a ' Sesh hoyeo hoilo na Sesh' feeling type read....
অনেকদিন বাংলা উপন্যাস পড়া হয়নি। অনেকের থেকে শুনেছিলাম সমরেশ মজুমদারের এই বইটি নাকি ভীষণ ভালো। ভাবলাম, এর চেয়ে ভালো সময় আর কী হতে পারে। পড়ে একটু হতাশই হলাম। ভীষণ গড়পড়তা। কিছু জায়গায় অতীব অতিরঞ্জিত। লাইনগুলোও তেমন মনে দাগ কাটেনি। মৃণাল বা অমিত কাউকেই পছন্দ করতে পারলাম না। এক অধ্যাপকের উল্লেখ আছে কিছু জায়গায়, ওনাকে খানিকটা ভালো লেগেছে। তবে সেই চরিত্রটিও ভীষণ, যাকে বলে, স্টিরিওটিপিকাল। যাগ্গে, পড়ে স্বাদবদল হলো, তবে ভালো লাগেনি, এতটুকুও না। আর প্রকাশকের গাফিলতিতে বানান, বিরাম চিহ্নের ভুল চোখে ��ন্ত্রণা এনে দেয়। জানিনা, বইটা অহেতুক এত পপুলারিটি কীভাবে পেল।
অনেকদিন পরে একটি বাংলা প্রেমের উপন্যাস পড়লাম। তবে বর্তমান ২০২৩ সালে এসে প্রেমের গল্প খুব একটা জমেনা বলে আমার ধারণা। এখন সময় অনেক বদলে গেছে এবং প্রেম বা ভালোবাসার এই বিষয়টা পূর্বের সময় যেরকম ছিল এখন তার ছিটে ফোঁটাও আছে বলে আমি মনে করি না। তবে বইটি ভালো ছিল।।
গল্পের মূল নায়ক অমিত মিত্র ঘটনাক্রমে মৃণাল নামের একটি মেয়ের সাথে তার কথা হয়। কথা হয় বললে ভুল হবে কেননা অমিত সেই মেয়েটিকে দেখে প্রথম তার কথা বলার আগ্রহ জাগে। মেয়েটি অমিতের কথায় কোন রেসপন্স করেনি এবং ঠিক সেখান থেকে এই গল্পের শুরু। মৃণাল নামের মেয়েটির মাসীমার সাথে তার পরিচয় হয় এই সূত্রেই। ধীরে ধীরে অবচেতন মনেই হোক আর অনিচ্ছাকৃতভাবেই হোক অমিত মৃণালের ব্যক্তিগত জীবনে জড়িয়ে পড়ে তবে সেটা পরোক্ষভাবে। উপন্যাসটির এই জায়গাটাতে আমার একটু বলতে ইচ্ছে করছে কারো ব্যক্তিগত জীবনে না জড়ানো ভালো তবে চরিত্রের প্রয়োজনে যেভাবে লেখক লিখেছেন সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু আমি তো চরিত্রটিকে আরো সুন্দরভাবে বা আরো স্পষ্টভাবে তুলে ধরা যেত। আর মৃণাল নামের মেয়েটি যে ধরনের এক রোখা চরিত্রের সেটা একটা মেয়ের ক্ষেত্রে মানায় সেটা বলাই যায়। তবে এখানেও এই চরিত্রটিকে নিয়ে আরেকটু কাজ করা যেত বলে মনে হয়। তবে যাই হোক গল্প এগিয়ে যায় এবং শেষের যে কাহিনী সেটা বেশ ড্রামাটিক এবং আগের প্রেমের গল্প বা সিনেমা বা ছবিতে এ ধরনের সমাপ্তি আমরা দেখেই থাকি।।
গল্পটিকে ছোট করছি না তবে ভালো ছিল। অনেকদিন পরে প্রেমের উপন্যাস পড়লাম। তবে আমার জন্য যে প্রেমের উপন্যাস না সেটা আমি আবারও এই বইটি পড়ার পরে বুঝতে পারলাম; সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত মতামত। ধন্যবাদ।।
২০২২ এর বইমেলাতে কেনা এই গল্পটা ও উজাড় এই বই দুটো দিয়েই সমরেশ মজুমদারের গল্প পড়া চালু হয়। শুধু এটুকু বলব যে পরবর্তী কালে এনার লেখা উত্তরাধিকার ও কালবেলা না শুনলে এনাকে নিতান্তই থার্ড ক্লাস লেখক ভাবতাম। হ্যাঁ আমি যা বললাম ভেবে চিন্তেই বললাম। লেখক মহলে এনার অনেক নামডাক শুনেই এনার লেখা পড়তে চেয়ে ছিলাম, আমার ভাগ্য খারাপ যে কিছু না জেনেই এই ফালতু দুটো বই দিয়েই আমার জার্নি চালু করি। তার জন্য আমি দায়ী।