পথিক বেছে নেয় পথ... ...নাকি পথই বেছে নেয় পথিককে? রাশেদের কথা ভাবলে অবশ্য প্রথমটাই সত্যি বলে ধরে নিতে হয়। নিজের হাতে খোঁড়া কবরে শুয়ে যে স্বপ্ন দেখে শ্বশুরের মৃত্যুর। আবার যদি ভাবি আরিয়ানের কথা তাহলে মনে হবে, ওর ভাগ্যের পথ যেন পুতুল বানিয়ে ছেলে-খেলা করে বেচারাকে নিয়ে। চাচার রহস্যময় খুন যার সামনে খুলে দিয়েছে অমিত সম্ভাবনার দ্বার। কিন্তু কে এই এস.আই. সাব্বির? কেন দু’পাশে হাত তুলে দাঁড়িয়ে আছে সে পথ আটকে? কেন বলছে উচ্চস্বরে: সময় এখন... ...থমকে যাবার!
জন্ম সিরাজগঞ্জে, ১৯৮৮ সালে। এসএসসি. পাশ করেন আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে, এইচএসসি-রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজ থেকে। এরপর শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সমাপ্ত করে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ থেকে। বর্তমানে কর্মরত আছেন কক্সবাজার জেলায়।
লেখালেখি শখের বসে, অনুবাদ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। প্রথম প্রকাশিত বই আদী প্রকাশন থেকে-ট্রল মাউন্টেন। সেই সাথে রহস্য পত্রিকায় টুকটাক লেখালেখি।
মার্ডার মিস্ট্রি, রহস্য-রোমাঞ্চ উপন্যাস, থ্রিলার, গোয়েন্দা কাহিনী- আপাতদৃষ্টিতে এক কাতারে দাঁড়া করাতে চাইলেও Genre এর চুলচেরা বিশ্লেষণে আলাদা আলাদা বিষয়। শুধুমাত্র থ্রিলার নিয়ে কথা বলতে চাইলেও একগাদা Subgenre চলে আসে- অ্যাকশন থ্রিলার, অ্যাডভেঞ্চার থ্রিলার, টেকনো থ্রিলার, সাইকোলজিকাল থ্রিলার, লিগাল/কোর্টরুম থ্রিলার, মেডিকেল থ্রিলার, ইন্ডাস্ট্রিয়াল থ্রিলার, পলিটিকাল কন্সপিরেসি, হিস্টোরিকাল....
চুলচেরা বিশ্লেষণ বাদ দেয়া যাক। আসল কথা হচ্ছে, থ্রিলার বলতেই "বুক ধড়ফড়", " টানটান উত্তেজনা" অথবা "এক নিশ্বাসে শেষ করে মাথা ঘুরে যাওয়া" ভাবলে ভুল হবে। Subgenere নিয়ে যে আলাপ শুরু করেছিলাম; জন গ্রিশামের লিগাল/কোর্টরুম থ্রিলারের কথাই ধরা যাক। এ ধরণের বইয়ে একটা প্রধান অংশ আবর্তিত হয় কোর্টকে কেন্দ্র করে। তবে সব সময়ই যে সেটা কোর্টরুমের ভেতরেই হতে হবে এমন কোন কথা নেই। সেটা জুরি রুম কেন্দ্রিকও হতে পারে, আবার অ্যাটর্নির অফিস কেন্দ্রিকও হতে পারে। অর্থাত্ এ ধরনের ফিকশনের কাহিনী বিচার ব্যবস্থার কোন একটি অংশকে হাইলাইট করে। একই সাথে এগোতে থাকে এন্টাগোনিস্ট/প্রটাগোনিস্টের নানাবিধ কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা, দৃষ্টিকোণ। থ্রিল অথবা সাসপেন্সের কমতি নেই, তবে এক্ষেত্রে প্রসিডিওরটাই মুখ্য হয়ে ধরা দেয়।
অথবা ধরা যাক, প্যাট্রিসিয়া কর্ণওয়েলের ফরেন্সিক থ্রিলার। পোস্টমর্টেম, করোনার এক্সামিনেশন, ইনকোয়েস্ট, এনালাইসিস- ধাপে ধাপে পাঠকের চোখের সামনে ধরা দেয় ফরেন্সিক মেডিসিনের সাহায্যে কীভাবে কেস সলভ করা হয়। গল্পে খুন থাকে, ভিক্টিম থাকে, সাসপেন্স থাকে- তবে এক্ষেত্রেও কিন্তু প্রসিডিওরটাই প্রধান।
সময় এখন থমকে যাবার- ফুয়াদ আল ফিদাহ ভাইয়ের চতুর্থ মৌলিক উপন্যাস। এই বইটাকে হার্ডকোর থ্রিলার না ধরে বরং প্রসিডিওরাল ক্যাটাগরিতে ফেলাটা বেশি যুক্তিযুক্ত। গল্পটা সাদামাটা, একদিকে ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে একটা পার্ফেক্ট ক্রাইমের প্রেক্ষাপট। কীভাবে, কোন পরিস্থিতিতে একটা সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে সেই গল্পটা বেশ সাবলীলভাবেই ফুটে ওঠে পাঠকের চোখের সামনে। গল্পটাকে অনুভব করা যায়, সহজেই মেলানো যায় সমাজের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে। ঠিক একই সাথে সমান্তরালভাবে এগোতে থাকে তদন্ত। পুলিশ প্রসিডিওর কীভাবে ধাপে ধাপে এগোয়, কীভাবে ছোট ছোট ক্লু জোড়া দিয়ে সত্য উদঘাটন করা হয়- সেই ব্যাপারগুলোও নিখুঁতভাবে বর্ণিত হয়েছে বইয়ের পাতায়। দ্রুগগতির থ্রিলার নয়; শ্বাসরুদ্ধকর মার্ডার মিস্ট্রি অথবা আগাথা ক্রিস্টি জাতীয় "হু ডান ইট" বললেও ভুল হবে। সব মিলিয়ে সময় এখন থমকে যাবার পাঠককে অপরাধতত্ত্বের ভেতরের দিকের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।
আরেকটা মজার ব্যাপার হচ্ছে, ক্যারেক্টার ক্রসওভার। লেখকের অন্য একটি সিরিজের মেজর ক্যারেক্টারের উপস্থিতি পাওয়া যাবে এই বইটায়। বেশ ভালোভাবেই।
রাত এগারোটা, নীল নক্সা অথবা চন্দ্রাহতের পর এটি লেখকের একটি ভিন্নধর্মী কাজ। চমৎকার প্রচ্ছদের ২০০ পৃষ্ঠার এই বইটি পাঠককে রোলার কোস্টার রাইডে না চড়ালেও, থমকে যেতে বাধ্য করবে। মেডিকেল/ মিথ বেজড থ্রিলারের পর এমন একটি সুখপাঠ্য বই উপহার দেয়ার জন্য ফুয়াদ আল ফিদাহ ভাইকে ধন্যবাদ।
ব্রাহ্মনবাড়িয়ায় খুন হন প্রখ্যাত নাকি কিখ্যাত রাজনীতিবিদ আলহাজ্ব খান মাতলুব। জনদরদি নেতা হিসেবে সুনাম থাকলেও তলে তলে যে তিনি কেমন মানুষ অনেকেরই জানা আছে। তাই নৃসংশ ভাবে যখন খুন হন অনেকেই অবাক হননি। তদন্তের দায়ীত্ব পরে এস আই সাব্বিরের ঘাড়ে। তদন্তে নেমে রীতিমত নাকানিচুবানী খাবার দশা হয়।
একই কাহিনীর সাথে প্যারালালি চলা অন্য একটি খুনের কাহিনী, যদিও এটার সময় প্রেক্ষাপট ভিন্ন। সিরাজগঞ্জ এলাকা। পয়সাআলা কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত কৃপন আবদুল মজিদ তালুকদার। পছন্দের কাজের মধ্যে একটা হল তার ঘরজামাইকে কথা শোনানো আর উঠতে বসতে গালির উপরে রাখা। জীবন রীতিমত বিষিয়ে উঠেছিল ঘরজামাই রাশেদুলের। এমনকি শ্বশুড়কে মেরে ফেলারও প্লান করেছিল। কিন্তু তার আগেই ডাকাতির কবলে পরে পটল তোলে তার শ্বশুড়। সম্পূর্ন সম্পত্তির মালিক বনে যায় সে।
খুন! দুইটা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে। ভিন্ন ভিন্ন যায়গায়। হয়ত ভিন্ন ভিন্ন মানুষ দ্বারা? তাহলে দুইটা সময়ে ঘটা আপদ দৃষ্টিতে কোন মিল না থাকা বা সংযোগবিহীন ঘটনা একই বই কি কারনে লিখা? কারণ খুজতে গেলে পড়তে হবে বই।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ মার্ডার মিস্ট্রি নয় বরং একটা খুনের তদন্ত কিভাবে করা হয় পুলিশের দৃষ্টিকোন থেকে ধাপে ধাপে উঠে এসেছে। টানটান উত্তেজনা খুজতে আসলে কেউ, হতাশ হবেন কিন্তু তার মানে কি একে বাড়েই ম্যাড়মেড়ে? তাও নয়। তবে কিছুটা যেন একঘেয়ে। কিছু কাহিনী ছোট করা যেত। কিছু কিছু যায়গায় যেন মনে হয়েছে টেনে চুইনগামের মতন বড় করা হয়েছে। সব মিলিয়ে খারাপ নয় কিন্তু আরো ভাল করার যায়গা ছিল।
কাহিনি সংক্ষেপঃ ২০১৩ সাল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বিখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব খান মাতলুব খুন হলেন। বৃদ্ধ এই মানুষটাকে নৃশংস কায়দায় খুন করে তাঁরই স্টাডিরুমে ফেলে রেখে গেছে খুনি। শুধু খুন করেই সে ক্ষান্ত হয়নি, খুনের পর পৈশাচিকভাবে ক্ষতবিক্ষত ও খণ্ডবিখণ্ড করেছে খান মাতলুবের শরীরটা। যেহেতু হাই-প্রোফাইল একটা খুনের কেস, সেহেতু পুলিশকেও স্বাভাবিকভাবেই নড়েচড়ে বসতে হলো। খান মাতলুবের খুনের তদন্তভার নিলেন ওসি ইশতিয়াক আরেফিন। আর এই তদন্তকাজে তাঁর সহায়ক হিসেবে নিযুক্ত করা হলো তরুণ এস.আই. সাব্বিরকে, যার নিজেরও রয়েছে এক অন্ধকারাচ্ছন্ন লজ্জাজনক অতীত।
মূলত ওসি আরেফিন পুরো তদন্তের ভাইটাল টাস্কগুলো এস.আই. সাব্বিরের কাঁধেই চাপিয়ে দিলেন। আর সাব্বিরও নিজের হারানো ইমেজ পুনরুদ্ধারে মোটামুটি বদ্ধপরিকর হয়েই কাজ করতে লাগলো। খুন হওয়া প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ খান মাতলুবের একমাত্র ভাতিজা আরিয়ান খান, ভাতিজি আলিয়া খান ও আলিয়া খানের স্বামী জায়েদ হোসেনও রয়ে গেলেন সন্দেহের আওতায়। এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কুখ্যাত কন্ট্রাক্ট কিলার বাবুইয়ের নামও জড়িয়ে গেলো পুরো কেসটার সাথে। নানাদিকে একইসাথে চোখ রেখে এই খুনের রহস্যের সমাধান করতে হবে এখন সাব্বিরকে।
সিরাজগঞ্জ। রাশেদুল একজন ঘরজামাই। আর দশজন ঘরজামাইয়ের সাথে যা হওয়ার কথা, তার সাথেও সচরাচর তাই হয়। ঘরজামাই থাকার দরুন শ্বশুরবাড়িতে কোন সম্মান নেই রাশেদুলের। সারাটা দিন শ্বশুর আব্দুল মজিদ তালুকদারের গঞ্জনা ও বাঁকা কথা শুনে দিন পার করতে হয় তার। একটা সময় ব্যাপারটা একরকম অসহ্য ঠেকে বীতশ্রদ্ধ রাশেদুলের কাছে। মনেপ্রাণে শ্বশুর আব্দুল মজিদ তালুকদারের মৃত্যু কামনা করতে থাকে সে। নিয়তিও হয়তো সেই ইচ্ছের পালে হাওয়া দিতে হাজির হয়ে যায়। দৃশ্যপটে এসে হাজির হয় কুখ্যাত হাসু ডাকাইত। খেলাটা কার পক্ষে চলতে থাকে, সেটা বোঝা একরকম কঠিনই হয়ে পড়ে শেষমেষ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সিরাজগঞ্জে ২০১৩ সালে ঘটে যাওয়া দুটো বিচ্ছিন্ন ঘটনার আপাত কোন সম্পর্ক আছে কি-না সেটা পরের প্রশ্ন। তবে দুটো ঘটনাই যেন দুটো জায়গার অনেক মানুষেরই স্বাভাবিক সময়কে থমকে দেয়। আর সেই থমকে যাওয়া সময় নিয়েই আমাদের এই গল্পটা এগিয়ে যেতে থাকে নিজ গতিতে।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ 'সময় এখন… …থমকে যাবার' লেখক মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ'র চতুর্থ মৌলিক থ্রিলার উপন্যাস। এর আগে তিনি পাঠকদের উপহার দিয়েছেন 'রাত এগারটা', 'নীল নক্সা' ও 'চন্দ্রাহত'। মূলত পুলিশ প্রোসিডিউরাল ধাঁচের 'সময় এখন… …থমকে যাবার'-এ লেখক খুনের ঘটনার বাংলাদেশ পুলিশের কয়েকজন সদস্যের কার্যক্রম স্টেপ বাই স্টেপ দেখিয়েছেন। উপন্যাসের শুরুটাই ছিলো রীতিমতো চমৎকার। মহাখালী বাসস্ট্যান্ডের একটা চায়ের দোকান থেকে কি অদ্ভুত একটা রোমাঞ্চকর গল্প শুরু হতে যাচ্ছে, তা আমি শুরুতে একেবারেই আন্দাজ করতে পারিনি। তরুণ এস.আই. সাব্বিরের কর্মকাণ্ডও খুব আগ্রহ নিয়ে পড়েছি। আর উপরি পাওনা হিসেবে লেখক মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ'র 'আর.এন.এ.' সিরিজের প্রাণপুরুষ এ.এস.পি. রাফসান ইবনে সেলিমকে কিছু সময়ের জন্য পাওয়াটা তো আলাদা একটা ব্যাপারই ছিলো।
'সময় এখন… …থমকে যাবার' উপন্যাসটা পড়তে গিয়ে যতোই এগিয়েছি ততোই আগ্রহ বেড়েছে। শেষের দিকে এসে যখন ট্যুইস্টের সময়টা উপস্থিত হলো, তখনো পর্যন্ত এই আগ্রহটা ধরে রাখতে পারায় বইটার সাথে পুরো যাত্রাটাই দারুন ছিলো। যারা যিরো এক্সপেকটেশন নিয়ে বইটা শুরু করবেন, তাঁদের কাছে বইটা আরো ভালো লাগবে বলে আমার বিশ্বাস।
মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ'র জীবন্ত ও সাবলীল লেখনী তাঁর পূর্ববর্তী মৌলিক কাজগুলোর মতোই চমৎকার ছিলো। ছোটখাটো কিছু ভুলভ্রান্তি ছিলো, তবে সেগুলো গুরুতর পর্যায়ের কিছু বলে মনে হয়নি। 'সময় এখন… …থমকে যাবার'-এর প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ দুই-ই জবরদস্ত লেগেছে। উন্নতমানের কাগজ ও শক্ত বাঁধাই বইটাকে টিকিয়ে রাখবে অনেক বছর। মার্ডার মিস্ট্রি ও ক্রাইম থ্রিলারের ভক্তরা চাইলে পড়ে ফেলতে পারেন 'সময় এখন… …থমকে যাবার'।
#পুতুলের_রিভিউ বইঃ সময় এখন থমকে যাবার লেখকঃ মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ প্রকাশনী:আদী প্রকাশনী প্রকাশকাল: ২০১৯ পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ২০০ মুদ্রিত মূল্যঃ ২৭৫ টাকা মাত্র
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মত একটা মফস্বল শহরে এক আততায়ীর হাতে নৃশংসভাবে খুন হয় এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের। শুধু খুন বললে ভুল হবে বলা উচিত বীভৎস একটা খুন!
হাতের আঙ্গুল, পায়ের আঙ্গুল কেটে আলাদা করা। চোখ খুলে গেলে গলিয়ে দেয়া হয়েছে। অণ্ডকোষ ফাটিয়ে দেয়া হয়েছে। যে অঙ্গটির জন্য ভিক্টিমকে পুরুষ বলা যায় সেটা তিন টুকরা করে কপালে আর বুকের দু পাশে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কপালের উপর ছুরি দিয়েই একটা ছুরির নকশা আঁকা। বুকেও অনেকগুলো ক্ষত। এলোপাথাড়ি ছুরি চালিয়ে বীভৎসভাবে খুন করা হয়েছে।কিন্তু এমন এক জনপ্রতিনিধি এমন বীভৎভাবে খুন হলো রাজনৈতিক নাকি ব্যক্তিগত কারণে সেই রহস্য উদঘাটন করার দায়িত্ব দেওয়া হলো এস.আই সাব্বিব আহমেদকে যার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে রয়েছে একটা বাজে অতীত। এজন্য চাকরিটা যেতে যেতেও যায়নি। আর তাই এই কেসটাই তার অতীতের গ্লানি মুছতে পারার একটা শেষ সুযোগ।
অন্যদিকে বইয়ের প্রথম থেকেই জুড়ে আছে সিরাজগঞ্জের বসবাসরত রাশেদ নামের মধ্যবিত্ত এক যুবকের ঘটনা। উঠে এসেছে গৃহশিক্ষক থেকে ঘরজামাই হয়ে পদে পদে অপমান মুখ বুজে সহ্য করে মনে মনে শ্বশুরের মৃত্যু কামনা করার গল্প। প্রতিনিয়ত অপমানিত হতে হতে একসময় রাশেদুল ছক আঁকতে থাকে শ্বশুরকে হত্যার। কিন্তু এর মাঝেই ভাগ্য যেন তার উপর সুপ্রসন্ন হয়ে উঠে। হঠাৎ একদিন তার শ্বশুরও হত্যার শিকার হয়। কিন্তু তাকে কে হত্যা করলো রাশেদুল নাকি অন্য কেউ?কারই বা সময় থমকে যাবে রাশেদুল,এস.আই সাব্বিরের নাকি অন্য কারো?তাছাড়া এই দুই খুনের সূত্রই কি এক? জানতে হলে পড়তে হবে “সময় এখন…..থমকে যাবার”
ফুয়াদ আল ফিদাহ-এর লেখা বইয়ের মধ্যে আমার পড়া প্রথম বই এটি। আংশিক থ্রিলার আর আশিংক মার্ডার মিস্ট্রি ধরনের বই।বইটা পড়া শুরু করলে আপনার সময় থমকে না গেলেও বইটা শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত আটকে রাখবে আপনাকে আর তার জোড়েই একদিনেই পড়ে শেষ করলাম বইটি। আমার কাছে বেশ লেগেছে বইটি যারা থ্রিলার বই পছন্দ করে তারা পড়তে পারেন বইটি আশা করি মন্দ লাগবে না।প্রিয় কিছু লাইন:
* মানুষ সামাজিক জীব, সমাজে টিকে থাকতে হলে তাকে অনেক কিছুই করতে হয়,হয়তো সেগুলো তার সহজাত প্রবৃত্তির সঙ্গে যায় না। তাই নিজেকে ঢাকতে সে সাহায্য নেয় মুখোশের, যে মুখোশটা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সারাজীবনেও খুলতে পারে না। * বাজে অভ্যাসগুলো এমনই, সহজে ধরে ফেলে, আরো সহজে বানিয়ে ফেলে নিজের ভৃত্য! * আঠারো বছর বয়েস যে জীবনকে ছারখার করে দেবার জন্যই আসে। সাত-পাঁচ না ভেবে যা মনে আসে, ওই বয়েসটায় তাই করে বসে মানুষ। *অস্পষ্টতা কিন্তু ক্ষেত্র বিশেষে একেবারে অজ্ঞানতার চাইতে ভালো কাজ দেয়। * নিজ গাঁয়ে কুত্তাও বাঘ। * মরতে তো হবে সবাইকেই, বাঁচার সময়টা একটু আয়েশ করে বাঁচা যাক। পরেরটা পরে দেখা যাবে। #বইয়ের_রেটিং:৪/৫
সময় সিরিজের পটভূমি মূলত মাদক স্মাগলিং কেন্দ্রীয় চট্টগ্রাম। কিন্তু সিরিজের প্রথম বই জোড়া খুনের রহস্য দিয়ে শুরু।
ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় পাওয়া গেছে এক বৃদ্ধের বিভৎস লাশ। পুলিশ ও মিডিয়াতে পড়ে গেছে হইচই, মৃত ব্যক্তি যে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার অঘোষিত নেতা। লাশের প্রকৃতি জানান দিচ্ছে অশুভ কিছুর। হত্যা রহস্য কিনারার দায়ভার এসে পড়ে অফিসার ইশতিয়াক আরেফিনের কাঁধে। এস. আই. সাব্বিরের সহায়তায় বের হয়ে আসে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার অজানা বহু কালো অধ্যায়! কিন্তু এখনও প্রশ্ন রয়ে যায় খুনি কে?
সিরাজগঞ্জে পাওয়া গেলো আরও একটি লাশ। ডাকাতের হামলার শিকার বাড়ির কর্তা। ডাকাতি ও খুনের মধ্যে যেন লুকিয়ে আছে কোনো অজানা রহস্য। সাব্বিরের মনে হতে থাকে খুন দুটির পিছে রয়েছে গভীর যড়যন্ত্র, কিন্তু কী?
সময় সিরিজের কেন্দ্রীয় চরিত্র সাব্বির। অতীতের করা একটি ভুলের মাশুল দিতে বারবার তার বদলি হয়ে থাকে। ভুলটি কি ছিল পাঠক নাহয় তা নিজে থেকেই জানুক। বদলির দরুন তাকে পাঠানো হয় ব্রাক্ষণবাড়িয়ায়। নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে সে জোড়া খুনের রহস্য সমাধানের মাধ্যমে। তারপর বদলে যায় সাব্বিরের জীবন, যোগ দেয় অগ্রদলে।
বইয়ে বেশ কিছু মেডিক্যাল টার্ম আছে। লাশের বর্ননাতেও এর প্রতিফলন দেখা যায়। দুটি হত্যাকান্ডের ঘটনা পারস্পরিকভাবেই চলে তারপরও গুলিয়ে ফেলার ভয় নেয়। কাহিনির মাঝামাঝি এসে কিছুটা আচ করা যায় হত্যাগুলোর পিছে কারা আছে। কিন্তু লাস্টের টুইস্ট অসাধারণ। খুনগুলো যে এভাবে হতে পারে ভাবিই নাই।
বইয়ের আর একটি দিক না বললেই নয়, সেটা হলো বইয়ের প্রতিটি চরিত্রের ছোট-বড় গল্প সিরিজে বলা হয়েছে। সেই চরিত্র যত ছোটই হোক না কেন। এর জন্য আবার বর্ণন��� বেশি হয়ে গেছে। অনেকের জন্য তা বিরক্তির কারণও হতে পারে কিন্তু আমার ভালো লেগেছে বিষয়টা।
সম্প্রতি সময়ে দেশের সেরা অনুবাদকদের কথা বলতে গেলে ফুয়াদ ভাইয়ার কথাও আসে। কিন্তু ভাইয়ার লেখনীর সাথে আমার পরিচয় তাঁর মৌলিক বই "নীল নক্সা"- র মাধ্যমে। লেখনশৈলী অন্যরকম মনে হয়েছে আমার কাছে, প্রতিটি কল্পপট ও চরিত্রের ডিটেইলস বর্ণনা সাথে যোগ হয়েছে বিভিন্ন মেডিক্যাল টার্ম। তবে সিরিজের একটি বিষয় বিরক্ত লেগেছে। বইয়ের বিভিন্ন চরিত্রকে 'যুবক' বলে সম্বোধন করা। প্রথম বইয়ে সাব্বির আর খুনি উভয়কেই যুবক বলে ডাকা, বাকি দু'বইয়েও সাব্বির, খ���নি, জবস, আল আমিন সহ বাকিদেরও যুবক বলা হয়েছে। কখন কার কথা বলা হচ্ছে দ্বিধায় পড়ে যাচ্ছিলাম।
দুটো কথায় শেষ করি। বইয়ের কন্টেন্ট অনুযায়ি, বইটা ৫০পেজের দারুণ একটা বড় গল্প হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অপ্রয়োজনীয় বর্ণনায় যেটাকে টেনে করা হয়েছে ২০০ পেজ। আর শুধু প্রোডাকশন কোয়ালিটি ভালো হলেই, একই পান্ডুলিপিতে বইটি ১৩০/১৪০ পেজের হতে পারতো। পৃষ্ঠার দুইপাশে এত্তবড় বিরক্তিকর মার্জিন দেয়া যে, বই খুললে লেখার চেয়ে মার্জিনের সাদা অংশই চোখে পড়ে বেশি। লাইন গ্যাপ, ওয়ার্ড স্পেসিং - সবকিছুই বাড়িয়ে বইটিকে নিখুঁত ব্যবসা উপযোগী করে তোলা হয়েছে।
লেখক ফুয়াদ আল ফিদাহ - এর চন্দ্রাহত এবং নীল নক্সা আগেই পড়া হয়েছে। লেখকের লেখনী পছন্দ বলেই - "সময় এখন থমকে যাবার" - সংগ্রহ করা। তবে এই বইয়ের ক্ষেত্রে কি ঘটেছে জানি না। হয় লেখক নিজের লেখার স্টাইলে কোনো এক্সপেরিমেন্ট চালিয়েছেন, নয়তো নেহাৎ দায়সারাভাবে তাড়াহুড়ো করে লিখে শেষ করেছেন।
ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় পাওয়া গেছে এক বৃদ্ধের বিভৎস লাশ। পুলিশ ও মিডিয়াতে পড়ে গেছে হইচই, মৃত ব্যক্তি যে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার অঘোষিত নেতা। লাশের প্রকৃতি জানান দিচ্ছে অশুভ কিছুর। হত্যা রহস্য কিনারার দায়ভার এসে পড়ে অফিসার ইশতিয়াক আরেফিনের কাঁধে। এস. আই. সাব্বিরের সহায়তায় বের হয়ে আসে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার অজানা বহু কালো অধ্যায়! কিন্তু এখনও প্রশ্ন রয়ে যায় খুনি কে?
সিরাজগঞ্জে পাওয়া গেলো আরও একটি লাশ। ডাকাতের হামলার শিকার বাড়ির কর্তা। ডাকাতি ও খুনের মধ্যে যেন লুকিয়ে আছে কোনো অজানা রহস্য। সাব্বিরের মনে হতে থাকে খুন দুটির পিছে রয়েছে গভীর যড়যন্ত্র, কিন্তু কী?
সময় সিরিজের কেন্দ্রীয় চরিত্র সাব্বির। অতীতের করা একটি ভুলের মাশুল দিতে বারবার তার বদলি হয়ে থাকে। ভুলটি কি ছিল পাঠক নাহয় তা নিজে থেকেই জানুক। বদলির দরুন তাকে পাঠানো হয় ব্রাক্ষণবাড়িয়ায়। নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে সে জোড়া খুনের রহস্য সমাধানের মাধ্যমে। তারপর বদলে যায় সাব্বিরের জীবন, যোগ দেয় অগ্রদলে।
"সময় এখন... ... থমকে যাবার", বইয়ে বেশ কিছু মেডিক্যাল টার্ম আছে; লাশের বর্ননা, ফরেনসিক প্রসিডিওর। দুটি হত্যাকান্ডের ঘটনা একই সাথে চলে তারপরও গুলিয়ে ফেলার ভয় নেয়। কাহিনির মাঝামাঝি এসে কিছুটা আচ করা যায় হত্যাগুলোর পিছে কারা আছে। কিন্তু লাস্টের টুইস্ট দারুণ। খুনগুলো যে এভাবে হতে পারে ভাবিই নাই।
এটাকে ঠিক উপন্যাস বলে মানতে কষ্ট হচ্ছে, বিশেষ করে লেখকের 'অহিংশের খেল' বইটা আগে পড়ে ফেলায়। তবে পুলিশ প্রসিডিউরাল পড়তে হয় তারিয়ে তারিয়ে। আবার, থ্রিলার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটা গল্প স্বাদু কি না, আসলেই গল্প হয়ে উঠল কি না-সে ব্যাপারও আছে। এই দুটো কারণে বইটাকে উপন্যাসের কাতারে না ফেললেও, উপন্যাসিকা বলে ধরে নেওয়া যায়।
মূল গল্পটা অবশ্য ভাল। প্যাঁচটা কষা হয়েছে চমৎকারভাবে। আর, সাব্বিরের গুরুর উপস্থিতি লেখকের আগের বইগুলোর পাঠকের জন্য এসেছে বাড়তি পাওনা হয়ে। আমার যেটা ভাল লেগেছে, গল্পের মূল ভিত্তিটা এত সাদামাটা, তবু অনেক দূর না গিয়ে ধরতে পারিনি। এটা লেখকের গল্প বলার ক্ষমতার প্রমাণ (কিংবা আমি যে টিউব লাইট, তার প্রমাণ :p)। ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টও বেশ ভাল। পরের বইটা (শূন্য কল্প) পড়তে মন্দ লাগবে না, আগেই বুঝতে পারছি।
ভালর সাথে মন্দও আছে। সময় এখন থমকে যাবার- কথাটা অযথাই বেশ কয়েকবার এসেছে বইয়ের ভেতরে। বাহুল্য হিসেবে আছে 'ঘটনাটা আমাকে আরেকবার বলো' ধাঁচের কথা-বার্তা। অপরাধীকে ইন্টারোগেট করা হচ্ছে ইট লাগিয়ে, অথচ সে হড়বড় করে কথা বলছে না। বলছে গুছিয়ে, অকারণে বাড়তি শব্দ ব্যবহার করে। (ডায়ালগগুলোকে ফেস ভ্যালুতে নিচ্ছি, কারণ, বেশ কিছু জায়গায় আঞ্চলিক ও চলতি শব্দের ব্যবহার সেরকমই ইঙ্গিত করে।) চন্দ্রাহতের পর এই বইটা পড়তে গিয়ে খানিকটা আফসোসই হয়েছে সেজন্য।
আর, আমার মতো গরিব পাঠকের জন্য বইয়ের ফন্ট, স্পেসিং, লাইন হাইট, মার্জিন ইত্যাদি বাড়িয়ে বইয়ের কলেবর বাড়ানোটা খুবই খারাপ। গল্পটা ১৬০ পৃষ্ঠায় এঁটে যেত আরাম করে। একটু ভাল মেকআপ দিলে আরো কমেও হয়ে যেত বোধ হয়। প্রকাশকের অসততা বলব এটাকে। ভাল লাগেনি।
সব মিলে ৩.৫ স্টার। দীর্ঘদিন রেশ লেগে থাকার মতো না (চন্দ্রাহত-এর রেশ কিন্তু রয়ে গেছে), তবে উপভোগ্য।
ক্যারিয়ারের শুরুতে নামের পাশে দগদগে কালো দাগ নিয়ে এ থানা থেকে ও থানা ঘুরে বেড়ানো এসআই সাব্বিরের পোস্টিং এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। এই শহরের মত একটা একঘেয়ে শহরে মাথা খাটানোর মত কেস কোথায়? কিন্তু এই মফস্বলে ঘটে গেলো এক বিভৎস খুন। লাশের শরীরকে নিয়ে যা ইচ্ছা তাই করেছে খুনি। হাত ও পায়ের সব আঙুল কেটে ফেলেছে। পেটের ও পিঠের বিভিন্ন স্থানের চামড়া তুলে ফেলেছে। চোখ দুটো উপড়ে গেলে দিয়েছে। অণ্ডোকোষ কেটে সেটাকে থেতলে দিয়েছে। সব শেষে পুরুষাঙ্গ কেটে তিন টুকরো করে দু টুকরো দুই কানের পাশে আর এক টুকরো কপালে রেখে গেছে। ভাবা যায়? কি ভায়াবহ নৃসংশতা! কিন্তু খুনের মোটিভ কী? ভিকটিম এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তি। একই সাথে ঝানু রাজনীতিবিদ। আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় খুনটা হলে সবচেয়ে বেশি লাভ তার ভাতিজা আরিয়ানের। ওদিকে শ্বশুরের নির্যাতনে কাবু হয়ে থাকা রাশেদ কী পরিকল্পনা করছে?
থ্রিলার বলতেই আমরা যেটা বুঝি এটা সেই গতানুগতিক ধারার থ্রিলার না। এটাকে থ্রিলারের চেয়ে বেশি ডিটেকটিভ জনরায় ফেলতে পছন্দ করবো আমি। যদিও থ্রিলারের সাব-জনরাগুলো সম্পর্কে ধারনা নেই বললেই চলে। সুতরাং এটা থ্রিলারের কোনো জনরা হতেও পারে। এত কথা বলছি কারন থ্রিলার বলতে আমরা যে ধরনের গল্প বুঝি এটা সেই ধরনের না। টানটান উত্তেজনা, বুক ধরফর করা, রোলার কোষ্টারে চড়া হবে না এই বইতে। এখানে যেটা পাওয়া যাবে তা হলো মাথা খাটানোর জায়গা। যদিও আমি ডিটেকটিভ বইয়ে মাথা খাটাই না। লেখক যখন কষ্ট করে মাথা খাটানোর কাজ একজনকে দিয়েছেন, কি দরকার খামোখা কষ্ট করা বাপু! লেখকের চতুর্থ মৌলিক এটা। পূর্বের বইগুলো থেকে এটা অনেক ব্যাতিক্রম। সাদামাটা একটা গল্প। চরিত্রগুলোকে সময় নিয়ে বিল্ড-আপ করা হয়েছে। প্রতিকুল পরিস্থিতিতে মানুষের চরিত্রে কেমন পরিবর্তন আসে সেটা বেশ দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন। তবে বেশকিছু বানান ভুল বেশ ভুগিয়েছে। আমি বুঝি না যে, বর্তমানে থ্রিলার বইগুলোতে কেন এত বানান ভুল থাকে! গত ২/৩ বছরে একটাও থ্রিলার পড়ি নাই যেখানে বানান ভুল ছিলো না। হোক সেটা মৌলিক বা অনুবাদ। এবং এই অভিযোগটা পাথক সমাজ বারবার করে আসলেও প্রকাশক বা লেখকদের মাথাব্যাথা আছে কিনা জানি না। একজন প্রুফ রিডারের কি এতই অভাব? নীলনক্সা আর চন্দ্রাহত পড়ার পর এটা ভিন্ন স্বাদ দিয়েছে। যদিও খুশি হতাম যদি গল্পটা আরেকটু লম্বা হতো। কিন্তু পড়ে ভালো লাগার মত একটা বই। পৃষ্ঠা, প্রিন্ট আর প্রচ্ছদে দশে দশ পাবে। চেয়ে থাকার মত প্রচ্ছদের জন্য একটা বিশেষ ধন্যবাদ প্রাপ্য ডিজাইনারের।
বীভৎস দৃশ্য! ব্রাহ্মনবাড়িয়ায় খুন হয়েছে একটা। এক এক করে কেটে ফেলা হয়েছে অন্ডকোষ... পুরুষাঙ্গ। হাত এবং পায়ের আঙুলও বাদ যায়নি। কপালের, পেটের এবং পিঠের চামড়া ডিজাইন মোতাবেক অনেকখানি তুলে ফেলা হয়েছে। চোখ উপড়ে গলিয়েও ফেলা হয়েছে। এরপর সদ্য খুন হওয়া রাজনৈতিক 'ধোয়া তুলসীপাতা' কিসিমের জননেতা আলহাজ্ব খান মাতলুবের শরীরের কেটে ফেলা খন্ড খন্ড অংশগুলো সুন্দর মতো সাজিয়ে রাখা হয়েছে।
বাস স্টেশন অদ্ভুত এক জায়গা। এখানে এসে অনেক অপরিচিতরাও নাকি বন্ধু হয়ে যায়! মহাখালী বাস টার্মিনালে এসে পুলিশের দুই এসআই সাব্বির আর লুতফরের মধ্যেও এমনটাই হয়েছে। যাইহোক, উপরোক্ত খান মাতলুবের বীভৎস হত্যাকান্ডের তদন্ত করছে এসআই সাব্বির। অবশ্য প্রধান তদন্তকারী হিসেবে না, উপরে আছেন আরেফীন স্যার নামের জনৈক পুলিশের বড়কর্তা। তদন্তের অবস্থা ভালো না। তেমন অগ্রগতি নেই। সন্দেহভাজন কিছু চরিত্র পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু মিলেও যেন মিলছে না কিছু একটা।
এদিকে রাশেদুলের কপালে কেবলই জুটে চলেছে মাত্রাতিরিক্ত অবহেলা আর অপমান। ঘরজামাই হওয়ার কুফল! শশুর আব্দুল মজিদ তালুকদার পয়সাওয়ালা মানুষ। অহংকারী, বড় ধরণের নার্সিসিস্ট। রাশেদুলের জীবনকে সে মোটামুটি দূর্বিষহ করে তুলেছে। মাসে একটা দিনই এই দূর্বিষহ গ্যাঁড়াকল থেকে নিস্তার পায় রাশেদুল। ঐ একদিন সে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকা যায় শশুরের বিশাল বাড়ির ভাড়া তুলতে, আর দারোয়ান রহমতের সাথে বিদেশি মদ গিলতে। বনানীর 'কাকতাড়ুয়া' নামের একটা বারের মেম্বার সে। মূল ঘটনার তাৎপর্যটা সেখানেই। কাকতাড়ুয়া রহস্য তো ঘুমোতে দেয় না এসআই সাব্বিরকে!
পুরোদস্তুর মার্ডার মিস্ট্রি। লেখক বইয়ের ভূমিকাতেই লিখে দিয়েছেন এটি একটি পুলিশ প্রসিডিউরাল জাতীয় বই। ফলস্বরূপ, পুরো বইতেই পুলিশের একচ্ছত্র আধিপত্য। আগের বইগুলোর মতো এখানেও লেখকের লেখা বেশ ভালোই মনে হয়েছে, তবে প্রায় সবখানেই কাহিনী বর্ণনার বাহুল্য ছিল অতিরিক্ত বেশি (অপ্রয়োজনীয় বর্ণনা কিছুটা বিরক্তিকর)। টুইস্টগুলো মোটামুটি প্রেডিক্টেবল, কিন্তু গল্পের গাঁথুনি ভালো। বেশ স্ট্রাকচারড; শেষমেশ না চমকালেও, পড়ে মোটামুটি মজা পাওয়া গেছে। পরিচ্ছন্ন মার্ডার মিস্ট্রি হিসেবে অনেক পাঠকের কাছেই ভালো লাগার সম্ভাবনা আছে, যদিও 'নীল নক্সা' কিংবা 'চন্দ্রাহত'র তুলনায় সবকিছু মিলিয়ে 'সময় হলেও... আমি ঠিক থমকে যেতে পারিনি'।
ব্রাহ্মনবাড়িয়ায় খুন হয়েছে একটা। এক এক করে কেটে ফেলা হয়েছে অন্ডকোষ... পুরুষাঙ্গ। হাত এবং পায়ের আঙুলও বাদ যায়নি। কপালের, পেটের এবং পিঠের চামড়া ডিজাইন মোতাবেক অনেকখানি তুলে ফেলা হয়েছে। চোখ উপড়ে গলিয়েও ফেলা হয়েছে। এরপর সদ্য খুন হওয়া রাজনৈতিক 'ধোয়া তুলসীপাতা' কিসিমের জননেতা আলহাজ্ব খান মাতলুবের শরীরের কেটে ফেলা খন্ড খন্ড অংশগুলো সুন্দর মতো সাজিয়ে রাখা হয়েছে। বাস স্টেশন অদ্ভুত এক জায়গা। এখানে এসে অনেক অপরিচিতরাও নাকি বন্ধু হয়ে যায়! মহাখালী বাস টার্মিনালে এসে পুলিশের দুই এসআই সাব্বির আর লুতফরের মধ্যেও এমনটাই হয়েছে। যাইহোক, উপরোক্ত খান মাতলুবের বীভৎস হত্যাকান্ডের তদন্ত করছে এসআই সাব্বির। অবশ্য প্রধান তদন্তকারী হিসেবে না, উপরে আছেন আরেফীন স্যার নামের জনৈক পুলিশের বড়কর্তা। তদন্তের অবস্থা ভালো না। তেমন অগ্রগতি নেই। সন্দেহভাজন কিছু চরিত্র পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু মিলেও যেন মিলছে না কিছু একটা। এদিকে রাশেদুলের কপালে কেবলই জুটে চলেছে মাত্রাতিরিক্ত অবহেলা আর অপমান। ঘরজামাই হওয়ার কুফল! শশুর আব্দুল মজিদ তালুকদার পয়সাওয়ালা মানুষ। অহংকারী, বড় ধরণের নার্সিসিস্ট। রাশেদুলের জীবনকে সে মোটামুটি দূর্বিষহ করে তুলেছে। মাসে একটা দিনই এই দূর্বিষহ গ্যাঁড়াকল থেকে নিস্তার পায় রাশেদুল। ঐ একদিন সে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকা যায় শশুরের বিশাল বাড়ির ভাড়া তুলতে, আর দারোয়ান রহমতের সাথে বিদেশি মদ গিলতে। বনানীর 'কাকতাড়ুয়া' নামের একটা বারের মেম্বার সে। মূল ঘটনার তাৎপর্যটা সেখানেই। কাকতাড়ুয়া রহস্য তো ঘুমোতে দেয় না এসআই সাব্বিরকে! পুরোদস্তুর মার্ডার মিস্ট্রি। লেখক বইয়ের ভূমিকাতেই লিখে দিয়েছেন এটি একটি পুলিশ প্রসিডিউরাল জাতীয় বই। ফলস্বরূপ, পুরো বইতেই পুলিশের একচ্ছত্র আধিপত্য। আগের বইগুলোর মতো এখানেও লেখকের লেখা বেশ ভালোই মনে হয়েছে, তবে প্রায় সবখানেই কাহিনী বর্ণনার বাহুল্য ছিল অতিরিক্ত বেশি (অপ্রয়োজনীয় বর্ণনা কিছুটা বিরক্তিকর)। টুইস্টগুলো মোটামুটি প্রেডিক্টেবল, কিন্তু গল্পের গাঁথুনি ভালো। বেশ স্ট্রাকচারড; শেষমেশ না চমকালেও, পড়ে মোটামুটি মজা পাওয়া গেছে। পরিচ্ছন্ন মার্ডার মিস্ট্রি হিসেবে অনেক পাঠকের কাছেই ভালো লাগার সম্ভাবনা আছে, যদিও 'নীল নক্সা' কিংবা 'চন্দ্রাহত'র তুলনায় সবকিছু মিলিয়ে 'সময় হলেও... আমি ঠিক থমকে যেতে পারিনি'।
সময়কে কখনো বেধে রাখা যায় না। সময় চলে তার আপন গতিতে। কথায়ই তো আছে “সময় ও নদীর স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না”। কিন্তু সাব ইন্সপেক্টর সাব্বির সময় কে যেনো আটকে রাখতে চাইছেন, বলছেন ‘সময় এখন থমকে যাবার'। কিন্তু কেনো? সেটাই লিখেছেন লেখক মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ।
প্রতিটা থ্রিলারপ্রেমীই মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহকে চিনেন। তাঁর লেখার সাথে সকলেই কম বেশী পরিচিত। এই বইটি আমাকে লেখকের সামর্থ্য সম্পর্কে নতুন ভাবে ভাবিয়েছে। প্রথম দুটি বই পড়ে আমি খুব বেশী সন্তুষ্ট হতে পারি নি। কিন্তু এই বইটি দিয়ে যেনো লেখক আগের কষ্টটুকু ভুলিয়েই দিলেন।
মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহর যে ব্যাপারটি আমাকে সবচেয়ে বেশী আকৃষ্ট করে তা হলো উনার গল্প বলার ঢং। খুব সহজ ভাষায় খুঁটিনাটি বর্ণনাগুলো অসাধারণ লাগে। যার কারণে পড়ার গতি কখনোই বাধাপ্রাপ্ত হয় না, যেটা অবশ্যই ভালো দিক।
প্রভাবশালী নেতা খান মতলুবের হত্যা মামলার তদন্ত ভার পড়ে একসময়কার সাসপেন্ড এস আই সাব্বিরের উপর। এ ছিলো তার নিজেকে প্রমাণ করার একটি সুযোগ। অন্যদিকে প্রত্যন্ত গ্রামের ঘরজামাই রাশেদুল চাইত শ্বশুরের করা সকল অপমানের সমুচিত জবাব দিতে। ঘটনার মাঝপথে এসে গল্পের মোড় বদলে দেয় খান মতলুবের ভাতিজা আরিয়ান। কিন্তু এই ঘটনার সাথে ভাড়াটে খুনি ‘বাবুই' এর কি সম্পর্ক! এই সকল প্যাচ একেএকে এস আই সাব্বির খুলতে শুরু করে, একসময় পেয়ে যায় এই প্যাচের শেষ গিট্টুটি।
‘সময় এখন থমকে যাবার’ বইটি শুরু করার পর মনে হচ্ছিলো সম্পূর্ণ দুটি গল্প একসাথে বলে চলছেন লেখক। কিন্তু হঠাৎ করেই যখন রাশেদুলের গল্পটা শেষ হয়ে শুধু খান মতলুবের গল্পটাই চলতে থাকলো তখন ভাবলাম মিলটা কিভাবে হবে! কানেকশন তো একটা থাকবেই। যাক, শেষ টুইস্টটা আমার কাছে যথেষ্ট চমকপ্রদ লেগেছে। তার থেকেও বড় কথা গল্পে অতিমানবীয় কোনো ঘটনা ঘটে নি।
এই বইটি লেখকের চতুর্থ বই। বইটি পড়েছি এবং বইটি আমার ভালো লেগেছে। ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে এর থেকেও দারুণ কিছু বই পাবো।
লেখকের এর আগে অনেক অনুবাদ বই পড়া হলেও এটা আমার পড়া প্রথম মৌলিক বই। বইটার প্রথমদিকে কাহিনি শুরু হয় একটা চায়ের দোকান থেকে তারপর যতই কাহিনি এগিয়েছে ততই শেষটা জানার আগ্রহ বেড়েছে। খুনের তদন্তে পুলিশের কাজ গুলো একদম স্টেপ বাই স্টেপ তুলে ধরা হয়েছে। তাতে কাহিনির ক্লু গুলো একদম স্পষ্ট ভাবেই চোখের সামনে ছিলো। এবং, শেষে এসে দুই অঞ্চলের কাহিনির মেলবন্ধনটাও চমৎকার হয়েছে।
এস আই সাব্বির চরিত্রটাকে প্রথমদিকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয় তাতে বুঝার উপায় নেই এই গল্পের প্রধান চরিত্র। কাহিনি যত এগোতে থাকে, এই চরিত্রটার প্রতি ভালো লাগাও বাড়তে থাকে। তাছাড়া লেখকের উপস্থাপন ভঙ্গিও ছিলো চমৎকার, একদম সহজ সরল।
সময় এবং জীবন দুটোই বয়ে চলে নিজের মত করে। কেউ কেউ সময়ের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয় আবার কেউ অতীতে ক্ষত কে আকড়ে ধরে বেচে থাকে। এভাবে জীবন কে এগিয়ে নিয়ে চলে তার আপন গতিতে।
এই সিরিজের প্রথম বই হচ্ছে সময় এখন.....থমকে যাবার। এই থ্রিলার বইটি আমি পড়ার সময় কোন ধরনের এক্সপেক্টেশন রাখিনি। তাই ভাল লেগেছে। যদিও তদন্তের ভাব গতি খুব ধীর। এটা থ্রিলার এর সাথে আমার কাছে বেমানান। শুধু অতীতের কথা বারবার টেনে এনে গল্পকে বড় করা হয়েছে। এটিকে আরও ইন্টারেস্টিং করা যেত।
মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ লেখা বা অনুবাদ আমি আগ্রহ নিয়েই পড়ি। তার কাছে কিছুটা আশা করা যায়। তবে এই বইটা আমার কাছে বিশেষ ভাল লাগেনি। পরের বইটি পড়ার অপেক্ষায়।
শেষ ভালো যার, সব ভালো তার। শুরুটা বর্ণনাময় হলেও অপ্রয়োজনীয় না। যাদের আগাথা ভালো লাগে তাদের জন্য এই বর্ণনা খুব একটা কষ্টদায়ক হবে না। বরং গল্পের শেষে এসে আপন মনে সন্তুষ্টির হাসি চলে আসবে মুখে।
লেখকের ৪র্থ বই এটা। প্রথম বই রাত এগারোটা থেকে সেই যে সময়ের পেছনে লেগেছেন তিনি, ওই রেষ ধরেই বোধয় এবার সময়কেই থমকে যেতে বললেন। শুরুতে বইটা সময়ের ধৈর্য পরীক্ষা নিলেও পরীক্ষার্থীরা পাস করলে ফলাফল চমৎকার পাবেন বলেই আশাকরি।
ধন্যবাদ লেখককে। ক্রসওভারের আইডিয়াটা ভালো ছিল। আর.এন.এ.#৩ কবে পাব সেই অপেক্ষা এখন।