Jump to ratings and reviews
Rate this book

কাকতাড়ুয়া

Rate this book
সারা পৃথিবীর অস্ত্রের ইতিহাস পাল্টে দেওয়ার মতো একটি বন্দুকের ডিজাইন; নাম এম.ডি-২।
ঘটনাচক্রে এসে পড়লো মুসা ও বঙ্কিমের হাতে।
ওদিকে কারা যেন খুন করেছে রামপুরার ড্রাগ ডিলার কাইয়ূমকে।
ডিজাইনটা কেড়ে নেয়ার জন্যে ওত পেতে আছে সবাই!
পুলিশ আর মাফিয়ার চোখে ধুলো দিয়ে নক্সা বিক্রির পরিকল্পনা আঁটছে বঙ্কিম।
কিন্তু প্রতিপক্ষ আগে থেকেই আন্দাজ করে নিচ্ছে তার সব চাল।
এম.ডি-২ যেন এক নিরীহ দর্শন অভিশাপ!
কীভাবে নিজেদেরকে এই মৃত্যুদূতের কাছ থেকে মুক্ত করবে মুসা আর বঙ্কিম?

256 pages, Hardcover

Published December 25, 2020

4 people are currently reading
76 people want to read

About the author

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
8 (12%)
4 stars
37 (57%)
3 stars
18 (28%)
2 stars
1 (1%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 23 of 23 reviews
Profile Image for Ishraque Aornob.
Author 29 books403 followers
February 26, 2021
মৃত্যু দূত নামক ইন্ডিয়ার একটি দামী অস্ত্রের ডিজাইন দেশে ঢুকেছে। অস্ত্রের খোঁজে রয়েছে একাধারে আর্মি, এনএসএফ, পুলিশ ও মাফিয়ারা। কিন্তু ঘটনাচক্রে অস্ত্রের ডিজাইনটা হাতে এসে পড়ল দুই তরুণ, উঠতি গুণ্ডা বঙ্কিম ও মুসার হাতে। ওরা কী পারবে এতগুলো শকুনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জায়গামত ডিজাইনটা বেঁচতে নাকি মারা পড়তে হবে?

মুশফিক উস সালেহীনের নতুন মৌলিক কাকতাড়ুয়া। শুরু থেকেই ইঁদুর বিড়াল দৌড়। মূলত সাসপেন্স এর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে প্লটটা। পুরো বই জুড়েই সাসপেন্স ছিল। যদিও মাঝখানে সামান্য ঝুলে গেছিল কাহিনী, কিন্তু শেষে দারুণভাবে রিকভার করেছেন। লেখকের বর্ণনাভঙ্গী দারুণ। একটানা পড়া যায়। এন্টি হিরো বেজড উপন্যাস। এনএসএফের মিশনের খুঁটিনাটি ভালোমত তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন লেখক। শেষে হালকা টুইস্টও দিয়েছেন। মোটামোটি ভালোই লেগেছে বইটা।
Profile Image for তান জীম.
Author 4 books279 followers
June 19, 2022
জাস্ট ওয়াও!

প্লটটা আহামরি কিছু না হলেও এক্সিকিউশন লেভেল একদম টপ নচ, মানে একদম কোন কথা হবে না। আমার পড়া লেখকের এটাই প্রথম বই। আর ওনার নাম শুনলেও আমি বই পড়ে যা ফিল করেছি ওরকম ভাবে শুনিনি৷ তাই বই শুরু করার আগে বলতে গেলে মিডিওকোর একটা এক্সপেক্টেশন। কিন্তু তা যে মুশফিক উস সালেহীন ভুল প্রমাণ করে আমাকে পাঁচ তারা দিতে বাধ্য করতে পারেন এটা ভাবিনি। তিনি পুরো বইটা জুড়ে পাঠককে একদম টান টান উত্তেজনা দিয়ে গেছেন। পাঠক পড়া মাত্রই ভাববে এরপর কি হবে? আর সাসপেন্সের এই জায়গাগুলো আরো জমে উঠেছে লেখকের সাবলীল লিখনশৈলীর জন্য। সেই সাথে আরেকটা জিনিস আমার বেশ ভালো লেগেছে। তা হলো ক্যারেক্টারাইজেশন। উপন্যাসের মূল চরিত্র বঙ্কিমকে তিনি যেভাবে এঁকেছেন তাতে আমি যেন একদম সামনাসামনি বঙ্কিমকে দেখতে পাচ্ছিলাম। ওদিকে একের পর এক সুতো ছেড়ে আস্তে আস্তে যেভাবে মেলালেন তাতে বই শেষ করে লেখককে বাউ করলেও অত্যুক্তি হবে না।

সবমিলিয়ে বইটা খুবই সুখপাঠ্য ছিলো। যারা টান টান অ্যাকশান ক্রাইম, আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ে লেখা বই পড়তে ভালোবাসেন তারা এখুনি বই সংগ্রহ করে বসে পড়ুন।
Profile Image for Zahidul.
450 reviews95 followers
April 15, 2021
There comes a time when one must take a position that is neither safe, nor politic, nor popular, but he must take it because conscience tells him it is right. - Martin Luther King Jr.
-
"কাকতাড়ুয়া"
-
রহমান সাকী, এক্স আর্মির অফিসার এবং বর্তমানে দোকানদার। হঠাৎ এনএসএফ এর এক কাজে ডাক পড়ে তার। তাকে কেন্দ্র করে একটি সিক্রেট টিম গঠন করা হয়। দেশে আসা এক মহামূল্যবান অস্ত্রের ডিজাইনের খোঁজ শুরু করে সে ও তার টিম।

মুসা, ঢাকা শহরের এক আঞ্চলিক ড্রাগলর্ড কাইয়ূমের আন্ডারে কাজ করে। একদিন বঙ্কিম নামের এই লাইনে কাজ করা আরেকজন লোক তার কাছে এক বড় কাজের অফার নিয়ে আসে। এই কাজ করতে গিয়ে তারা নজরে পরে রহমান সাকী এবং তার টিমের রাডারে।

ধীরে ধীরে বঙ্কিম এবং রহমান সাকী এর টিমের ভিতরে শুরু হয় এক ইঁদুর-বিড়াল খেলা। এ খেলায় যুক্ত হয় বিভিন্ন শ্রেণির ড্রাগলর্ড, রাজনৈতিক দলের নেতা এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা। এখন এই ইঁদুর-বিড়াল খেলায় কে জয়ী হবে আর এসবকিছুর সাথে "কাকতাড়ুয়া" নামটির কি সম্পর্ক তা জানতে হলে পড়তে হবে লেখক মুশফিক উস সালেহীন এর ক্রাইম থ্রিলার ভিত্তিক উপন্যাস "কাকতাড়ুয়া"।
-
"কাকতাড়ুয়া" লেখকের লেখা চতুর্থ উপন্যাস হলেও আমার পড়া লেখকের প্রথম বই। বইটির মূল রহস্য এক ধরনের অস্ত্রের ডিজাইন নিয়ে। কাহিনির প্রয়োজনে দেশের আন্ডারওয়ার্ল্ডের একটি দিক তুলে ধরা হয়েছে। বইতে বেশ প্যাচানো প্লট থাকলেও লেখকের বর্ণনাভঙ্গির কারনে পড়তে তেমন অসুবিধা হয়নি।
-
"কাকতাড়ুয়া" বইয়ের প্লটলাইন প্রথম থেকেই আকর্ষণীয়। তবে কিছু কিছু যায়গায় একটু বেশি সিনেম্যাটিক মনে হয়েছে। গল্পের মাঝে মাঝে কিছু ঘটনা এবং ঘটনার ব্যাখ্যা একটু বেশিই কাকতালীয় মনে হয়েছে, যদিও ঘটনাগুলো বেশ ভালোভাবেই উপভোগ করা গেছে তাতে।

"কাকতাড়ুয়া" বইয়ের চরিত্রগুলোর ভিতরে বঙ্কিম চরিত্রকে ভালো লেগেছে সবচেয়ে বেশি তবে বয়সের তুলনায় তাকে একটু বেশিই পরিপক্ক মনে হয়েছে। বইয়ের কলেবরের তুলনায় চরিত্রের পরিমান বেশি হওয়ায় কয়েকটি চরিত্র তেমন একটা ফুটে উঠতে পারেনি বইতে। তবে বইয়ের ফিনিশিংটা বেশ ভালো লাগলো, সারা বইতে খোঁজ করা কিছু প্রশ্নের উত্তর তাতে পাওয়া গেছে।

দেশের গ্যাংস্টার/আন্ডারওয়ার্ল্ড ভিত্তিক থ্রিলারের ভিতরে আমার খুবই পছন্দের একটি সিরিজ হচ্ছে "বেগ-বাস্টার্ড"। এই সিরিজটি পড়ার পরে তেমন লেভেলের স্বার্থক কোন ক্রাইম থ্রিলার আমার পড়া হয়নি বাংলা ভাষায়।"কাকতাড়ুয়া" বইটি ঠিক বেগ বাস্টার্ড সিরিজের লেভেলের না হলেও অনেক দিক থেকে "বেগ-বাস্টার্ড" সিরিজের ধারেকাছে যেতে পেরেছে বলে মনে হয়েছে।

"কাকতাড়ুয়া" বইটির প্রোডাকশনের দিক থেকে চিরকুট প্রকাশনীর বাধাঁই, কাগজের মান, বইয়ের ফন্ট সাইজ সবই বরাবরের মতোই ভালো। তবে প্রচ্ছদ তেমন একটা ভালো লাগেনি। বইয়ের সম্পাদনা মোটামুটি ভালোই হয়েছে, বানান ভুল বা প্রিন্টিং মিস্টেক তেমন একটা চোখে পড়লো না।
-
এক কথায়, দেশীয় গ্যাংস্টার/আন্ডারওয়ার্ল্ড ভিত্তিক থ্রিলারের ভিতরে এক নতুন সংযোজন হচ্ছে "কাকতাড়ুয়া"। যারা বেগ-বাস্টার্ড টাইপ ক্রাইম থ্রিলার পড়তে চান তারা বইটি পড়ে দেখতে পারেন।
Profile Image for Afrin Nimmi.
4 reviews1 follower
May 7, 2021
" মানুষ অনিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্যে পরিকল্পনা করে। কিন্তু নিশ্চিত মৃত্যুর জন্যে তাদের কোনো আয়োজন থাকে না। ভাবনা থাকে না, তোয়াক্কা থাকে না। "

বলছিলাম মুশফিক উস সালেহীন এর লেখা কাকতাড়ুয়া বইটির তিনটি লাইনের কথা। লেখকের সাথে পরিচয় তার "ঋ" বইটির হাত ধরে। ঋ আমাকে পড়ার মাঝেও থেমে থেমে বারবার ভাবতে বাধ্য করেছিল লেখকের লেখনীতে অসাধারণ কিছু জীবনবোধের কারণে। কিন্তু এখন সেকথা তোলা থাক। আজ বলবো কাকতাড়ুয়া'র কথা।

শুরুতেই বলতে হবে লেখকের প্রাঞ্জল বর্ণনাভঙ্গির কথা। মূলত তার লেখনীর প্রতি ভালোলাগা থেকেই ঋ এর পর কাকতাড়ুয়া পড়ার ইচ্ছা জেগেছিল। তবে এই বইয়ে মাঝের দিকে বেশ কিছুটা অংশ ঝুলে যাওয়ায় কিছুদিন বিরতি নিয়ে আবার পড়া শুরু করতে হয়েছে। শেষদিকে বেশকিছু টুইস্ট এবং অনেকটা সময় সাসপেন্স দিয়ে আটকে ফেলার কারণে ফেরার পর অবশ্য এক বসায় শেষ করে ফেলেছি।
বইয়ের প্লটলাইন বেশ আকর্ষণীয় হলেও কিছু কিছু জায়গায় কাকতাল ব্যাপারটি চোখে লাগছিল। ক্যারেক্টার বিল্ডাপ নিয়েও আরও কিছু কাজ করার জায়গা হয়তো ছিল। "বঙ্কিম" চরিত্রটি তার বয়স এবং পারিপার্শ্বিকতার তুলনায় যতটা পরিপক্কতা দেখিয়েছে, তার ব্যাক স্টোরি নিয়ে আরেকটু কাজ করলে হয়তোবা চরিত্রটিকে এতটা সিনেম্যাটিক বা অবাস্তব বলে মনে হতো না।
দু একটা চরিত্র ছিল যাদের প্রতি কিছুটা অন্যায় করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে। হতে পারে এটি পাঠক মনের আবদার ছাড়া আর কিছুই না। 😅
লেখক বলেছিলেন এটি তার সবচেয়ে বেশি সময় হাতে নিয়ে করা কাজ, একারণেই হয়তো প্রত্যাশার পাল্লাটাও একটু ভারী হয়ে গিয়েছিল। তবে সামগ্রিক দি�� বিবেচনা করলে কাকতাড়ুয়া সুখপাঠ্য একটি বই।
শুরু থেকেই অনেকগুলো প্রশ্ন পাঠকের মনে উদয় হতে থাকবে, জট খুলবে শেষে গিয়ে, আর এই পুরো সময়টা�� জার্নিতে লেখক তার বর্ণনাভঙ্গি এবং সাসপেন্স দিয়ে পাঠককে আটকে রাখতে যে পারদর্শিতা দেখিয়েছেন, দিনশেষে এটাই তার সার্থকতা।
Profile Image for Rihan Hossain.
109 reviews2 followers
May 28, 2021
আহা! অত্যন্ত উপাদেয় একখানা সাসপেন্স থ্রিলার।
লেখকের প্রতি বইতেই উন্নতি লক্ষনীয়!
কাকতাড়ুয়া পড়ার পর বঙ্কিমের ফ্যান হয়ে গেলাম।
Profile Image for Peal R.  Partha.
211 reviews13 followers
June 19, 2021
⚈ স্পয়লার-ফ্রি রিভিউ— ❛কাকতাড়ুয়া❜

❝না হারলে অহংকার জন্মায়। তখন আর জেতার আনন্দ পাওয়া যায় না।❞

ক্ষমতার লোভ! এই লোভ বড়ো-ই ভয়ংকর। একবার যদি মাথাচাড়া দিয়ে উঠে তাহলে নামানো মুশকিল। সেটা হতে পারে যে-কোনো সেক্টরে। আর যেখানে ক্ষমতা থাকে সেখানে নাটকীয়তাও থাকে। ভাগ্যের সাথে যেখানে জুয়া খেলা হয়। ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে নিজেকে স্বার্থপর হিসেবে স্থাপিত করতে হয়। কারও তোয়াক্কা তখন করা হয় না, এমনকি পরিবারেরও না!

রাজনীতি! রাজ্যের রীতিনীতির নির্ভরযোগ্য জায়গা। আমার মতে, এই দেশে অন্তত সে-ই রীতি বা নীতির ধার ধারে না। বাস্তবতা এখানে মরুভূমির মতো রুক্ষ। যেখানে লড়াই চলে জায়গা দখলের, এলাকা দখলের, রাজ্য দখলের। জেতার আনন্দ যখন ক্ষমতার লোভে পরিণত হয়; তখন অহংকারের জন্ম নেয়, আর অহংকার ধাবিত করে পতনের দিকে। এই পতন ঠেকানোর জন্য কত যজ্ঞ, কত মৃত্যু। তারপরেও এর শেষ নেই। একদল অবসরের আয়োজন শেষ না করতেই, আরেকদল অধিকার আদায় করার তাগাদা দেয়। এইভাবে চলতে থাকে রাজনীতির নোংরা খেলা। যে রাজনীতি করে রাজ্যের উন্নতি হয় না, সে রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা কী? ধ্বংস যদি মূল লক্ষ্য হয় তাহলে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা কি মৃত্যুর ব্লু-প্রিন্ট, না-কি অন্যকিছু?

❝মানুষ অনিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করে। কিন্তু নিশ্চিত মৃত্যুর জন্য তাদের কোনো আয়োজন থাকে না।❞

ভবিষ্যতের ভাবনা ভাবাই জ্ঞানীর কাজ। তাহলে সেটা কেন অনিশ্চিত হবে? অনিশ্চিত হয় না, অনিশ্চিত বানানো হয়। সাধারণ থেকে অসাধারণ সকল শ্রেণির লোকের জন্য এই অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ গঠন করা হয়। একদল সে নিয়ম বানিয়ে অন্যদের আকৃষ্ট করে, মাকড়সা যেভাবে জাল বিস্তার করে শিকার ধরে৷ তারা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিনিময়ে মৃত্যুর আয়োজনে নিজেদের সামিল করছে। যে আয়োজনে সকলে আমন্ত্রিত। কারণ মৃত্যুর ওপরে নির্ভর করে বেঁচে থাকে ক্ষমতা!

❝মুখের কালির দিকে যত বেশি তাকাবে, কালি তত স্পষ্ট হয়ে উঠবে।❞

ক্ষমতালোভী মানুষরা মুখের কালি এড়িয়ে চলে। তাদের মুখের কালি থেকে অন্তরে জমে থাকা লোভ বহুগুণ বেশি। মুখের কালির তোয়াক্কা করার সময় তাদের নেই। কিন্তু নতুন বা তরুণ প্রজন্ম যখন এই ক্ষমতাকে সিন্দুকে লুকানো গুপ্তধন মনে করে হন্য হয়ে খোঁজা শুরু করে তখন পরিস্থিতি কেমন হয়? নিজেদের উৎসর্গ করে এমন কিছু হিংস্র মানুষের পদতলে যাদের সাথে শয়তানও হয়তো পেরে উঠবে না। আত্মা যেমন শয়তানের কাছে বিক্রি করে ঠিক এই তরুণ প্রজন্ম নিজেদের অস্তিত্ব ক্ষমতালোভী প্রাণীদের কাছ বিকিয়ে দেয়। দাসত্ব শিকার করে নেয়, কেউ হয়তো এই শিকল থেকে মুক্ত হতে পারে কিন্তু ক্ষমতার লোভ থেকে না। ❛কাকতাড়ুয়া❜ তেমনই দুই তরুণের যাত্রা যেখানে প্রভুত্ব ছিন্ন করে রাজত্ব জয় করার পথ বেছে নেওয়া হয়।

শুধুমাত্র কাহিনি হিসেবে এই উপন্যাস আপনাকে থ্রিল দিলেও বাস্তবতা নিয়ে ভেবে দেখুন, সমাজের নগ্ন চিত্র আপনমনে ভেসে উঠবে। দুর্নীতির কালো থাবা কতটা প্রকট সেটাও অনুধাবন হয়ে যাবে।

❝বেশ্যা হইলো কাঁটা ছাড়া ফুল। যার গন্ধ আছে, রূপ আছে, যার ওপরে দখল আছে, কিন্তু দায় নাই৷ পয়সা ফেললেই সব দায় খতম।❞

❛কাকতাড়ুয়া❜ উপন্যাসে মুসা ও বঙ্কিমের পাশাপাশি এমন এক নারী চরিত্রের দেখা পাওয়া যাবে, যে পেশায় পতিতা। পতিতার জীবনচক্র কেমন এবং তাদের কীভাবে পরিচালিত করা হয় সবকিছু স্পষ্ট চিত্র রয়েছে। সম্মান ও দায়দায়িত্ব যখন কোনো পতিতাকে দেওয়া হয় তখন বিষয়টি কেমন হয় সেটাও দেখতে পাবেন। মোদ্দা কথা, সমাজে সর্বস্তরের মানুষের প্রয়োজনীয়তা আছে৷ অবহেলা করার পাত্র কেউ নয়, কখন কাকে কোন কাজে লাগবে এইটা সময় বলে দেয়।

পতিতা নিয়ে আপনার ভাবনা কী? পতিতার কাছে যায় তো পুরুষরা-ই; তারপরেও সমাজ নারীদের নিয়ে গসিপ করতে পছন্দ করে৷ অথচ সে-ই নারীর খদ্দেরদের নিয়ে কোনো আলোচনা হয় না৷ একপাক্ষিক বিচার-বিবেচনা দিয়ে আর কতদূর? নারীরা স্ব-ইচ্ছায় কোনো কাজ করলে তারা থার্ড ক্লাস, চরিত্রহীন, ব্লা ব্লা ব্লা! নিজেরা সাধু? ধর্ষক ট্যাগ কিন্তু পুরুষদের পাশে লাগানো হয়, কেউ শরীর বেচে আয়-রোজগার করলে খারাপ আর জোর করে শ্লীলতাহানি করলে বীরত্ব? হিপোক্রেসির একটা লিমিট থাকে। মানুষ মুক্ত চিন্তার অধিকারী যতক্ষণ না হবে, এই সমাজ দুর্গন্ধময় মনে হবে। কারণ তাদের চিন্তা-চেতনা নিকৃষ্ট, ডাস্টবিনে রাখা ময়লার মতো।

সব পেশার মানুষদের সম্মান করাটা মনুষ্যত্ব। দিন শেষে সবাই মানুষ, আর কর্ম-ই ধর্ম। যার যার কর্ম তার কাছে ধর্ম, এই নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি না করাটাই উত্তম।

➲ আখ্যান—

সারা পৃথিবীর অস্ত্রের ইতিহাস পাল্টে দেওয়ার মতো একটি বন্দুকের ডিজাইন; নাম এম.ডি-২।

ঘটনাচক্রে এসে পড়লো মুসা ও বঙ্কিমের হাতে।

ওদিকে কারা যেন খুন করেছে রামপুরার ড্রাগ ডিলার কাইয়ূমকে।
ডিজাইনটা কেড়ে নেয়ার জন্যে ওত পেতে আছে সবাই!
পুলিশ আর মাফিয়ার চোখে ধুলো দিয়ে নক্সা বিক্রির পরিকল্পনা আঁটছে বঙ্কিম।

কিন্তু প্রতিপক্ষ আগে থেকেই আন্দাজ করে নিচ্ছে তার সব চাল।
এম.ডি-২ যেন এক নিরীহ দর্শন অভিশাপ!

কীভাবে নিজেদেরকে এই মৃত্যুদূতের কাছ থেকে মুক্ত করবে মুসা আর বঙ্কিম?

➤ পাঠ প্রতিক্রিয়া ও পর্যালোচনা—

❛কাকতাড়ুয়া❜ উপন্যাস অনেকের কাছে নাটকীয়তা মনে হবে আবার অনেকের কাছে কাকতালে ভরপুর। একজন লেখক যখন কোনো উপন্যাস লেখে, হোক সেটা ফিকশন কিন্তু সেখানেও বাস্তবতার ছাপ থাকে। লেখকের দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজের আনাচেকানাচে লুকিয়ে থাকা এমন অনেক কিছু উপলব্ধি করতে পারবেন যেটা আমি বা আপনি খালি চোখ ঠাহর করতে পারব না৷ যে-কোনো উপন্যাসে একটা গল্প থাকে, সে গল্পে কাহিনি থাকে। কিন্তু এই কাহিনি শুধু নাটকীয়তা বা কাকতালের জন্ম দেয় না, দেয় বাস্তবতার। ❛কাকতাড়ুয়া❜ উপন্যাসকে আমি উপলব্ধি করেছি লেখকের দৃষ্টিকোণ ও দর্শন থেকে। উনি যে প্লট আর ক্যারেক্টার বিল্ডাপ করেছেন সেইসব বাস্তবেও রয়েছে। নিজ দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে না এমন মানুষের অভাব নেই, তারা স্বার্থপর। দেশের চিন্তা বা উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জায়গায় নিজেদের ক্ষমতা আর লালসা নিয়ে মেতে থাকতে তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। শুধু যে ভিলেন খারাপ তা-ও না, কিছু সময় রক্ষকও যখন ভক্ষকের রোল প্লে করে তখন কবি এমনিতেই নীরব হয়ে যায়।

● প্রারম্ভ—

গল্পের শুরুটা হয় এক পতিতালয় থেকে। কাহিনি মোচড় নেয় ড্রাগ ডিলার কাইয়ূম খুন হওয়ার পরপর-ই। কাইয়ূমের সাথে মুসা ও বঙ্কিমের গভীর সম্পর্ক রয়েছে কিন্তু কী সেটা? কাইয়ূমের মরার পেছনে কার হাত আছে? অন্যদিকে এম.ডি-২ নিয়ে পুরো কাহিনি আবর্তিত হয়েছে। যে বন্দুক সারা পৃথিবীর অস্ত্রের ইতিহাস পাল্টে দিতে যাচ্ছে, সে-ই বন্দুকের নকশা পাওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে সি‌আইডি, আর্মি থেকে অনেক ক্ষমতাশালী লোকেরা। কেন করছে?

ইঁদুর-বিড়ালের খেলাটা শুধু দুদলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জড়িয়ে আছে পুরো রাষ্ট্রের স্তম্ভ! যেখানে পান থেকে চুন খসলে লেগে যাবে যুদ্ধ!

● গল্প বুনন—

❛কাকতাড়ুয়া❜ উপন্যাসের প্লট বেশ বিস্তৃত। চরিত্র দিয়ে ঠাঁসা। চরিত্র যত বেশি, গল্পের লেয়ার তত ছড়ানো। বিষয় হচ্ছে এতসব কিছু সেটাপ করা কম ঝক্কি-ঝামেলার না। লেখক এই জায়গায় ভজকট পাকিয়ে ফেলেননি। ধাপে ধাপে প্রত্যকটি সিকুয়েন্স সাজিয়েছেন, কোন ঘটনার পর কোনটি আসবে সেটাও গুছিয়ে প্রেজেন্ট করেছেন।

অপ্রোয়জনীয় গল্প ঢুকিয়ে ট্র‍্যাক নষ্ট করেননি। মাইন্ড গেম বেশ ভালোই খেলেছেন। চরিত্রদের সাথে পাঠকদেরও নাকানিচুবানি খেতে হবে, তাই মাথা ঠান্ডা রেখে এই উপন্যাস নিয়ে বসা ভালো৷ না হয় প্লটে প্যাচানোর জায়গায় চরিত্রদের ফাঁদে পড়ে আটকে যাবেন। তাই স্থির থাকুন।

● লেখনশৈলী—

লেখকের এই বিস্তৃত আর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দারুণভাবে উপভোগ করার জন্য লেখনশৈলীর প্রশংসা অবশ্যই করতে হয়৷ সুন্দর আর সাবলীলভাবে পুরোটা গল্প দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন। বাস্তবতার সাথে নাটকীয়তা মিলেমিশে উপভোগ্য কাহিনি তৈরিতে লেখনশৈলী দারুণ ভূমিকা রেখেছেন। শব্দ চয়ন ও বাক্য গঠনের দিকে সুদৃষ্টি ছিল বলেই আরও উপভোগ্য লেগেছে।

❛কাকতাড়ুয়া❜ উপন্যাস প্রায় সংলাপ নির্ভর বলা যায়। চরিত্রদের ফোকাস এখানে বেশি। কারণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্লট বলে হয়তো গতানুগতিক লাগতে পারে, তামিল-তেলেগু সিনেমাতে এমন প্লট অহরহ দেখা যায়। তবে লেখক মনে হয় সেদিকটা ছাড়িয়ে স্পেনের পথে যাত্রা করেছেন। অন্তর ক্যারেক্টার বিল্ডাপের দিকে। কেন সেটা পরে বলছি।

কিন্তু লেখক নিজের স্বকীয়তা বজায় রেখেছেন লেখনশৈলী দিয়ে৷ দেশিয় প্রেক্ষাপটে এইরকম খোলামেলা ফিকশন লেখা সাহসিকতার পরিচয় বহন করে। যারা পড়েছেন আর যারা পড়বেন তারা বিষয়টি আন্দাজ করতে পারবেন।

● বর্ণনাভঙ্গি—

পুরো কাহিনি সাজানোর পাশাপাশি পারিপার্শ্বিক বর্ণনা, এম.ডি-২ বন্দুকের ডিজাইন থেকে চরিত্রদের বিল্ডাপ যথার্থ ছিল। ঘটনাপ্রবাহের বর্ণনা সাবলীল ভাবে দেখানো হয়েছে। পরিবেশের বর্ণনা বেশি ভালো লেগেছে। শুরুতে দেওয়া পতিতালয়ের বর্ণনার কারুকাজ, প্রত্যকটি সিকুয়েন্স, চরিত্রদের ভঙ্গিমা সবকিছুই সহজভাবে কল্পনায় মেলে ধরতে পেরেছি। একটি ঘটনা থেকে আরেকটি ঘটনার দূরত্ব ব্যালেন্স করা ছিল। সহজ বাক্যের প্রয়োগের সাথে চিন্তা করার মতো শক্তিশালী পাঞ্চলাইন ছিল যা কাহিনির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

● চরিত্রায়ন—

❛কাকতাড়ুয়া❜ উপন্যাসের আরেকটি শক্তপোক্ত দিক। হাতে গোনা কয়েকটি চরিত্র কিছুটা আড়ালে গেলও প্রয়োজনীয় চরিত্ররা ভালো স্পেস পেয়েছে। বিশেষ করে বঙ্কিম ও মুসার ব্যাকগ্রাউন্ড ডেভেলপ করা হয়েছে ভালোভাবে। মুখ্য দুই চরিত্র ঠিকঠাক ছিল।

বঙ্কিম চরিত্রে আমি ‘মানি হেইস্ট’ বা ‘লা কাসা ডি পাপেল’ সিরিজের প্রফেসরের সাদৃশ্যতা পেয়েছি। জানি না লেখক ইন্সেপায়ার্ড হয়েছেন কি-না। তবে চালচলন আমার তেমনই মনে হয়েছে। ফেস কাটিং, চোখে চশমা আর বুদ্ধিদীপ্ত আচরণ। মাইন্ড গেমে এই ব্যাটা অনেক পারদর্শী।

❛কাকতাড়ুয়া❜ উপন্যাস কোনোভাবেই ব্যাংক ডাকাতির প্লট না, কিন্তু যে জিনিস ডাকাতি করার প্ল্যান আছে সেটাও কম ভয়ঙ্কর না। এই প্লটে জড়িয়ে আছে রাষ্ট্রের সবকিছু। সেদিক থেকে চিন্তা করলে তুলনা করা যায়।

যা-ই হোক, বঙ্কিম আর মুসার পাশাপাশি এমন আরও বাঘা বাঘা চরিত্র রয়েছে যাদের ক্ষমতা অকল্পনীয়। ২৪০ পেজের উপন্যাসে এর থেকে বেটার চরিত্রায়ন সম্ভব নয়।

● সমাপ্তি—

যদি ❛কাকতাড়ুয়া❜ উপন্যাসের সিক্যুয়েল আসে তাহলে কাহিনি এখানে শেষ নয়। তবে স্ট্যান্ড অ্যালোন ধরলে পুরো কাহিনি যেভাবে ছক এঁকেছে সেটা ঠিকঠাকমতো সম্পূর্ণ হয়েছে। অবশ্যই নাটকীয়তা রয়েছে আসলে এইটা ফাঁকফোকর। পৃথিবীর সবকিছুতে ফাঁকফোকর রয়েছে না হয় সিস্টেমকে ধোঁকা দেওয়া সম্ভব নয়। সব ক্রিয়ার-ই প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এখানেও সেটার বিপরীত ঘটেনি। সবমিলিয়ে উপভোগ্য। টুইস্ট আছে, সাসপেন্স কিছুটা কম লেগেছে। থ্রিল তেমন অনুভব করিনি। স্নায়ুচাপ নরমাল ছিল।

● খুচরা আলাপ—

দেশের অভ্যন্তরে কতকিছু ঘটে তা আমাদের সাধারণ মানুষদের চিন্তার বাইরে। কে দেশকে বিক্রি করছে আর কে রক্ষা করছে সেটাও জটিল ধাঁধা। আইনের হাত যত লম্বা হোক দিনশেষে সেটা গুটিয়ে নিতে হয়। চোরাচালানকারী, মাদকদ্রব্য পাচার, অস্ত্র ব্যবসা এইসব নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। কারা জড়িত আর কে এদের সাপোর্ট দিচ্ছে সেটাও অজানা নয়। দেশকে ভালোবাসার নামে যে ইজ্জত লুটেপুটে খাচ্ছে সেটাকে পতিতালয়ের সাথে তুলনা করলে খুব বেশি ভুল হবে না। দেশটা পতিতালয়ের বিগ স্ক্রিন, এখানেও দেহ নামের ক্ষমতার ব্যবসা হয়।

❛কাকতাড়ুয়া❜ উপন্যাস আপনার সম্মুখে রূঢ় বাস্তবতা তুলে ধরবে। চরম সত্য কিন্তু নির্মম বাস্তবতা। দিন শেষে এমন ক্ষমতা আমরা কেউ-ই চাই না, যে ক্ষমতা দেশ ও মানুষের ক্ষতি করে।

➢ লেখক নিয়ে কিছু কথা—

‘ঋ’ উপন্যাস দিয়ে সালেহীন ভাইয়ের লেখার সাথে যাত্রা শুরু। ওনার গল্প বলার ঢঙ ও লেখনশৈলী পার্সোনালি আমার পছন্দের, প্লট আর ক্যারেক্টর বিল্ডাপের যে ঘাটতি ‘ঋ’ উপন্যাসে ছিল সেটা অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন। প্রেক্ষাপট বিশাল হলেও মেদহীন ও সিনেম্যাটিক উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে পুরোটা দক্ষ হাতে সামলে নিয়েছেন। তার জন্য আলাদা ‘ক্ল্যাপ’ উনি ডিজার্ভ করে। এই প্লট নিয়ে লেখতে হলে সাহস লাগে, যেটা উনি সাহসিকতা ও মানসিকতা দুদিক থেকেই সর্বোচ্চ দিয়েছেন। অভিযোগ করার কিচ্ছু নেই, শুধু গল্পে প্রবেশ করে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া। একটাই কথা—নাটকীয়তা মনে করে বাস্তবতাকে অবহেলা করা ঠিক হবে না। গভীরে পর্যবেক্ষণ করুন, বইকে শুধু বই মনে করে বিচার করলে ঠকবেন।

এছাড়া ওনার ‘জাদুকর’ ও ‘ইন্দ্রলিপি’ এখনও পড়া হয়েনি। ‘রাজগড়’ এসে গেলে পড়ে ফেলব।

● সম্পাদনা ও বানান—

পাঞ্জাবী, ইতিমধ্যে, কাহিনী, বেঈমানি, রঙ, কোনটাই, মনপূত, চাকরী উক্ত বানান ভুল-সহ প্রচলিত টুকটাক ভুল নজরে এসেছে। পরিমাণে কম, পড়ায় কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে না।

পৃ : ১৬ - আজ লক্ষ্য করলেন রহমান সাকী। [এইখানে লক্ষ্য না ‘লক্ষ’ হবে। লক্ষ্য হচ্ছে উদ্দেশ্য, লক্ষ অর্থ খেয়াল করা। আবার ‘লাখ’ বোঝাতে লক্ষ ব্যবহার হয়।]

পৃ : ১৪০ - ‘কাল তোর মাছ জন্য রাঁধবোনে। আলুও আছে।’ [সঠিক বাক্যটি হবে—কাল তোর জন্য মাছ রাঁধবোনে।]

পৃ : ১৪২ - জেঠিমারা চলে যাওয়ার পর থেকে গোটা বাড়িতে একা আছেন এই মহিলা। [’জেঠিমারা’ শব্দটা আলাদা করা দরকার ছিল। এখন মনে হচ্ছে জেঠি মারা গিয়েছে। যদি, জেঠিমা’রা চলে যাওয়ার... লেখা হতো তাহলে কনফিউশান ক্রিয়েট হতো না।]

পৃ : ১৭৫ - আমাদের দেশে কোনো সিনেমার দুইদিনে হায়েস্ট ইনকাম কত হয়? দুটো সিনেমা মিলিয়ে? শুধু জানতে চাচ্ছি হিসাব মিলানোর জন্য।

● প্রচ্ছদ, লেটারিং—

❛কাকতাড়ুয়া❜-এর লেটারিং পছন্দ হয়েছে অনেক। ফন্ট কাভারে দাবার গুটি থেকে ক্যারামের গুটি’র প্রয়োজনীয়তা বেশি ছিল। ব্যাক কাভারে পারফেক্ট কম্বিনেশন রয়েছে। বইয়ের পুরো ভাইবটা ফন্ট থেকে ব্যাকে বেশি ফুটিয়ে উঠেছে। সবমিলিয়ে সজল ভাইয়ের আরেকটি সিম্পলের মধ্যে গর্জিয়াস কাজ।

● মলাট, বাঁধাই, পৃষ্ঠা—

প্রোডাকশন নিয়ে কোনো কথা হবে না। চিরকুট প্রকাশনার বই পড়ে আরাম পাওয়ার মূল কারণ তাদের প্রোডাকশন। যে-কোনো প্রকারে পড়া যায়। মলাট থেকে বাঁধাই সবই ঠিকঠাক, ক্রিম কালারের পৃষ্ঠা, ফন্টের সাইজ, লাইন গ্যাপ পারফেক্ট।

➠ বই : কাকতাড়ুয়া | মুশফিক উস সালেহীন
➠ জনরা : ক্রাইম থ্রিলার
➠ প্রথম প্রকাশ : ডিসেম্বর ২০২০
➠ টাইপোগ্রাফি ও প্রচ্ছদ : সজল চৌধুরী
➠ প্রকাশনা : চিরকুট প্রকাশনী
➠ মুদ্রিত মূল্য : ৪০০ টাকা মাত্র
➠ পৃষ্ঠা : ২৪২
Profile Image for Dhiman.
178 reviews14 followers
April 22, 2025
ভাল বই। সিম্পল প্লট বাট এক্সিকিউশন দারুন। বুদ্ধির খেলা গুলো মজা লাগে৷ লীড ক্যারেক্টার বাদে বাকি চরিত্রগুলো তে ডেপ্টথ নেই৷ ঝরঝরে লেখা। শেষ অংশটা একটু খটমট। কিন্তু এত জাগায় হিন্দু ছেলে হিন্দু ছেলে বলার কারনটা ঠিক বুঝলাম না। এক দুইজাগায় ব্যবহার করলে ঠিক আছে। কিন্তু এত জাগায় ব্যবহার করা হয়েছে যে চোখে লাগে। এটার কারন কি?
Profile Image for Junaed Alam Niloy.
86 reviews10 followers
February 11, 2021
দূর্দান্ত। অসাধারন।
অনেকদিন পড় চমৎকার একটা মৌলিক থ্রিলার পড়লাম।
Profile Image for Zakaria Minhaz.
261 reviews23 followers
June 22, 2024
#Book_Mortem 174

#কাকতাড়ুয়া

পৃথিবীর ইতিহাস পালটে দেয়ার মতো একটি অস্ত্রের ডিজাইন চুরি হয়ে গেল খোদ আর্মীর হাত থেকেই। সেটাকে দ্রুত উদ্ধার করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হলো আর্মীর চৌকস একটা টিমকে। এদিকে ভাগ্যক্রমে সেই ডিজাইন দুই মাদক ব্যবসায়ীর হাতে এসে পড়লো। ডিজাইনটার পিছনে লেগে রয়েছে ঢাকার কুখ্যাত এক মাফিয়াও। এর বাইরেও আড়াল থেকে কে যেন কলকাঠি নেড়ে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত জিতবে কে?

মুসফিক উস সালেহীনের কাকতাড়ুয়া কে গ্যাংস্টার, আন্ডারওয়ার্ল্ড ক্রাইম থ্রিলার বলা যায়। চমৎকার শুরুর পরেও দিনশেষে বইটা থেকে হতাশার প্রাপ্তিই বেশী।

দ্য ফান পার্ট

আরো একবার লেখকের লিখনশৈলীতে মুগ্ধ হলাম। এই লোকের লেখার হাত দারুণ। আর সে কারনেই পুরো গল্পটাকে বেশ কমপ্লেক্স ওয়েতে উপস্থাপন করলেও, তা পড়তে বিন্দুমাত্র খারাপ লাগেনি। শুরুর কিছু প্রয়োজনীয় ব্যাকস্টোরির পর, গল্পটা এগিয়েছে মোটামুটি বঙ্কিম ও মেজরের পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে। গল্পটা শুরু থেকেই বেশ একটা সাসপেন্স ধরে রেখে এগুতে থাকে। লেখক টাইমলাইনকে একটু আগে পরে করে, কিছু আনএক্সপেক্টেড টার্নস দিয়ে বেশ জমিয়ে ফেলেছিলেন শুরু থেকেই। মেজর এবং বঙ্কিমের মধ্যে দারুণ একটা দ্বৈরথের আভাস ছিল। বুদ্ধির খেলায় কে কাকে কীভাবে ধরাশায়ী করতে পারে সেটা দেখার অপেক্ষায় ছিলাম। মোদ্দাকথা সবকিছু মিলে বইয়ের এন্ডিং এ গ্রান্ড একটা কিছু আশা করছিলাম। যদিও জানতাম অতোটা পূরণ হবে না। আমাদের দেশের মৌলিক লেখকেরা বরাবরই এন্ডিং এ তালগোল পাকানোতেই বরং বেশী দক্ষতা দেখিয়েছেন। তবে তাই বলে এতোটাও খারাপ হবে আশা করিনি।

দ্য ব্যড পার্ট

বঙ্কিমের সাথে রাজীবের দেখা হওয়ার অংশ থেকেই বইটার এতোক্ষণের সাসপেন্সের ইতি ঘটে। এবার শুধু সব গুছিয়ে শেষের সুতো টানা। কিন্তু সেটুকুর জন্য লেখক খরচ করে ফেলেছেন প্রায় ৯০টা পাতা। আর গল্পটাও এ সময়ে বেশ খানিকটা ঝুলে যায়। এন্ডিংটাও সুবিধার হয়নি। সেই "নির্দিষ্ট দিনের ঘটনার" প্রস্তুতিতে লেখক যতটা সময় দিলেন, ঘটনার দিনটা তার তুলনায় নিতান্তই সাদামাটা হয়ে গেল। তবুও সব মেনে নেয়া যেত যদি অন্তত বঙ্কিমের কারেক্টারাইজেশনটা ঠিকঠাক হতো। পুরো বইতে বঙ্কিমকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, আমি ধরেই নিয়েছিলাম শেষে এসে একটা ব্যাকস্টোরি থাকবে তার। যেখানে তার এতো বুদ্ধিমত্তা, প্ল্যানিং এবং জ্ঞানের একটা ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে। সে একাই মাফিয়া কিংবা আর্মীদের সব খবর জানে, বুঝে ফেলে তাদের প্ল্যানিং, দর কষাকষি করে তাদের সাথে, বুদ্ধির খেলায় হার মানতে বাধ্য করে প্রত্যেককে, তার ব্লাফিং ধরতে পারে না পোড় খাওয়া গোয়েন্দা কর্মকর্তা কিংবা মাফিয়া সর্দার নিজেও, সে সকলের মনের অলিগলির খবরও জেনে বসে আছে। নিশ্চয়ই এমন অল্পবয়সী একটা ছেলের এতো দুর্ধর্ষ হয়ে উঠবার পিছনে কোনো যৌক্তিক ব্যাকস্টোরি থাকবে। কিন্তু কোথায় কি! সে একজন অনুর্ধ ১৮ দাবা চ্যাম্পিয়ন, তাই তার এতো বুদ্ধি; এটাই ছিল লেখকের এক্সপ্লেনেশন!! জ্বী স্রেফ এতোটুকুই!! দাবা খেলায় ভালো বলেই তার সাথে বুদ্ধিতে পেরে উঠে না বাংলাদেশের সেরা গোয়েন্দা ডিপার্টমেন্টের লোকজন কিংবা আন্ডারওয়ার্ল্ড সামলানো মাফিয়ারাও!!!

এছাড়া চিরন্তন আকাশ থেকে পাওয়া সৌভাগ্যের ব্যাপার স্যাপার আর প্লটহোল তো আছেই। তবে প্লটহোলগুলো বেশ ভালোভাবেই ঢেকে রাখতে পেরেছেন লেখক। বই শেষ করার পর যখন পুরো ঘটনাগুলো আবার মনের পর্দায় সাজাবেন তখন অসঙ্গতিগুলো ধরা পড়বে। আর একদম শেষে মহা মহা যে টুইস্টটা লেখক দিয়েছেন সেটাও আসলে হজম হয়নি ঠিকঠাক।

ব্যক্তিগত রেটিং: ০৬/১০ ( বইটার পাঠ অভিজ্ঞতা ভালো, সেটা অস্বীকার করবো না। তবে শেষ করার পর তৃপ্তিদায়ক অনুভূতিটা হয়নি আমার। এ ধরণের মৌলিক বই যে কয়টাই পড়লাম, সবগুলারই একই অবস্থা। গল্পে এমন একজন থাকে যার অঢেল ক্ষমতা/বুদ্ধি কিংবা প্রতিপত্তি, কিন্তু তার এই ক্ষমতা প্রাপ্তির কোনো ব্যাখ্যা থাকে না বইয়ে )

প্রোডাকশন: চিরকুটের বইয়ের প্রোডাকশন নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার নেই আসলে। এ জায়গায় তারা বরাবরই সবচেয়ে সেরা।

🪤 লেখক: মুসফিক উস সালেহীন
🪤 প্রচ্ছদ: সজল চৌধুরী
🪤 প্রকাশনী: চিরকুট প্রকাশনী
🪤 পৃষ্টা সংখ্যা: ২৪০
🪤 মূদ্রিত মূল্য: ৪০০ টাকা
Profile Image for Shahriar  Fahmid.
113 reviews14 followers
April 18, 2023
“মানুষ অনিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্যে পরিকল্পনা করে। কিন্তু নিশ্চিত মৃত্যুর জন্যে তাদের কোনো আয়োজন থাকে না। ভাবনা থাকে না, তোয়াক্কা থাকে না।”

দূর্দান্ত প্লট। টপ নচ স্টোরিটেলিং।মনে হচ্ছিলো যেন কোনো ওয়েব সিরিজ দেখছি যেখানে গল্পের ভিলেনই সর্বেসর্বা।পুরো বইজুড়ে লেখক বঙ্কিমকে আনপ্রেডিক্টেবল রেখে গল্প বলে গিয়েছেন।বহুদিন পর আমি কোনো উপন্যাসের চরিত্রে ঢুকে যেতে পেরেছি।ভালো কলেবরের উপন্যাস পড়ার একটা খুব ভালো উপায় হলো কোনো চরিত্রের ভেতরে প্রবেশ করতে পারা।ওই ক্যারেক্টারের ডায়লগ গুলো নিজে নিজেই ডেলিভারি করতে পারলে উপন্যাস পড়তে বেশ উপভোগ্য হয়।অনেকদিন পর এটা করতে পারলাম দেখে ভালো লাগছে।

লেখকের পড়া দ্বিতীয় বই। ঋ এর পর কাকতাড়ুয়া দুটোই দারুণ।রিকমেন্ড করার মতো।

রেটিংসঃ ৪.৭/৫
Profile Image for Saima  Taher  Shovon.
525 reviews193 followers
January 26, 2022
৪.৫

কী হবে এবার! কে জিতছে!কার চাল কে জানে! এইসব ভাবতে ভাবতে বই শেষ। একরাতে সামান্য পড়েছিলাম,এরপর দুপুরের ভাতঘুমের বদলে এইখানি নিয়ে বসেছিলাম। মাঝখানে 2বার আজান আর বাবাকে চা দেয়ার সময়টুকু ছাড়া রুদ্ধশ্বাসে পড়েছি বলা চলে।
Profile Image for Mehedi Hasan.
123 reviews30 followers
April 18, 2021
মৌলিক থ্রিলার ভালো লেগেছে, আন্ডারওয়ার্ল্ড সম্পর্কে আগ্রহ থাকলে পড়তে পারেন।
Profile Image for Morsalin Osama.
23 reviews3 followers
April 5, 2021
***স্পয়লার ফ্রী***

সবাইকে একটা অনুভূতির কথা মনে করিয়ে দিতে চাই, সেটা হলো শৈশবে বা কৈশোরে আমরা কম বেশি বাংলা চলচ্চিত্র দেখেছি নিশ্চয় !
এখন আমি যে বইটির পাঠ প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করবো, সে বইটি পড়াকালিন এবং পড়া শেষ করে ঠিক ঐ সময়ে যে থ্রীল টা অনুভব করতাম , একই থ্রীল এতোদিন পর এসে আবার পেয়েছি মতোই লাগলো ৷

বইটির নাম হলো "কাকতাডুয়া " .. ...
আমি বেশ অনেকদিন ধরেই কোন বইই পুরো শেষকরে উঠতে পারছিলাম না কেন জানি, মজা পেতাম না , তাই অনেক বই জমে আছে ৷
কাকতাড়ুয়া যখন থেকে শুরু করেছি , বিশ্বাস করবেন না' প্রথম পাতা থেকেই আমাকে চুম্বকের মতো আকর্ষণ করে রেখেছিলো ৷ বাসা থেকে বের হলেই চিন্তা হতো, কবে পুরো বইটা পড়ে শেষ করবো ৷

প্রশ্ন হলো এ গল্পে এমন কি পাবেন, যা আপনাকে এমন চুম্বকের মতো আকর্ষণ করে রাখবে ?
উত্তর জানলে হয়তো মনে হবে এ আর এমন কি ! !
কারণটা খুবই সাদামাটা, সাধারণ আটপৌরে একটি মেয়ের জোহরা আশ্রমে এসে পৌছা ৷
সেখান থেকেই গল্পটা শুরু।
তারপরে পাবেন গা ঢাকা দেওয়া একজন আর্মি অফিসার , যিনি একটি মুদি দোকান করেন ৷ তারপরে পাবেন একজন লোকাল ড্রাগ ডিলার ৷
এভাবেই ধীরে ধীরে একটা একটা চরিত্রের সাথে পরিচিত হতে থাকবেন ৷ ভালোই লাগবে ৷

এ গল্পে আমার সব চাইতে ভালো লেগেছে কি জানেন?
গল্পটা যে প্লটে তৈরী ৷ অর্থাৎ চরিত্রগুলো , ঘটনার প্রেক্ষাপট , জায়গা গুলো ৷ এসব আমাদের আশেপাশেরই ৷ মনে হবে চরিত্রগুলো তো কেমনজানি চেনা মনে হচ্ছে ! আরে ! জায়গাটা তো আমি চিনি!

এভাবেই পরিচিত একটি টাইমলাইনে অপরিচিত কিছু ঘটনার ধারাবাহিকতা ৷

গল্পে একটি বিষয় খুবই বেখাপ্পা লেগেছে, সেটি হলো অপরাধ জগতের মুকুটহীন সম্রাট সম্রাজ্ঞী কে কিছুটা ধার্মিক রুপে চিত্রায়ন ৷ যারাই পড়বেন দেখবেন বিষয়টা কেমন জানি অদ্ভুত একটা অনুভুতির সৃষ্টি করছে ৷ এক্ষেত্রে এটাও লেখকের অন্যতম বার্তার একটি বলে আমি মনে করি।

বই : কাকতাড়ুয়া
লেখক : মুশফিক উস সালেহীন
প্রকাশনী : চিরকুট
মুদ্রিত মূল্য : ৪০০ টাকা
Profile Image for Nizam Uddin.
38 reviews
March 3, 2021
বইয়ের নামঃ কাকতাড়ুয়া
লেখকঃ মুশফিক উস সালেহীন
প্রকাশকঃ চিরকুট
জনরাঃ ক্রাইম থ্রিলার
মুদ্রিত মূল্যঃ ৪০০
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ২৪০
পার্সোনাল রেটিংঃ ৩.৫/৫

কাহিনী সংক্ষেপঃ মৃত্যু দূত-২ নামের ভারতীয় এক আধুনিক অস্ত্রের ডিজাইন ও স্যাম্পল ঢুকেছে দেশে। এর পিছনে পড়েছে একই সাথে আর্মি, এনএসএফ ও লোকাল মাফিয়ারা। কিন্তু এই ডিজাইন গিয়ে হাতে পরে সাধারণ দুইজন মাদক ব্যবসায়ী মূসা ও বঙ্কিমের হাতে। কি করবে তারা এই ডিজাইনের? সঠিক জায়গায় কি বিক্রি করতে পারবে তারা? নাকি মারা পরবে মাফিয়া বা আর্মির হাতে? জানতে হলে বইটি পড়তে হবে।

পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ মুসফিক উস সালেহীন ভাইয়ের বইগুলোর একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো উনার বইয়ের কিছু চরিত্র মাথায় আটকে যায় যেমন জাদুকর সিরিজে শোয়েব, ঋ তে রিফাত হাসান এবং এই বইয়ে বঙ্কিম। বইয়ের একদম প্রথম থেকেই একটা টান টান উত্তেজনা বিরাজমান। গল্পের প্লট খুবই জটিল এবং ইউনিক। ব্রেইন গেম, লজিক, কাউন্টার লজিক টোপ সবকিছুই খুব ভালো ছিল। অস্ত্র সম্পর্কে খুব ডিটেইল তথ্য দেওয়া হয়েছে। টুইস্টটাও খুব ভালো ছিল। কিন্তু বইটায় বেশ কিছু লুপ হোল রয়েছে। তাছাড়া চরিত্রায়নও আরো ভালো হওয়া উচিত ছিল। বিশেষ করে বঙ্কিম চরিত্রটা সম্পর্কে আরো ডিটেইলে বললে ভাল হতো। চিরকুটের প্রডাকশন বরাবরই বেস্ট সেটা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। সর্বোপরি, খুব ভালো মানের একটা বই এবং খুব থ্রিলিং। তাই আর দেরি না করে বইটি পড়ে ফেলুন।
Happy Reading
Profile Image for Asiful Haque Tomal.
36 reviews
December 7, 2023
কাকতাড়ুয়া Is a good deal but not a good package.
লেখকের চতুর্থ বই কাকতাড়ুয়া মূলত NSF, ড্রাগ ডিলার এবং আর্মস ডিলারের ত্রিমুখী ইঁদুর দৌড় খেলা । ভারতের একটি গোপন অস্ত্রের ডিজাইন বাংলাদেশে এসে বেহাত হয়ে যায় । এই ডিজাইনের দখল নেওয়ার কৌশলী কার্যক্রমেই গল্প এগিয়েছে । সহ সাবলীল লেখা। সিম্পল কিন্তু ইন্টারেস্টিং প্লট । গল্পের গতি ভালো । শেষের টুইস্টাও বেশ ভালো । গল্প মাঝে কিছুটা স্লো হয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত টেনে ধরে রেখেছে । সুতরাং ইটস আ গুড ডিল, বলাই যায় ।
কিন্তু,
লেখক এখানে বেশ আনপপুলার একটা কাজ করার চেষ্টা করেছেন । সেটা হলো এন্টিহিরোইক পার্সপেকটিভে প্লট উপস্থাপন । আর এটা করতে গিয়েই মনে হয়ে কিছুটা তালগোল পেকেছে । এন এস এফ, আর্মি ইন্টেলিজেন্স এর চেয়েও NDC এর সেরা দাবারু , ছোট একটা অনভিজ্ঞ ছেলেকে বেশি ইন্টেলিজেন্ট দেখাতে গিয়ে বেশ কিছু প্লটহোল তৈরী হয়েছে । এবং তার ক্যারেকটার ডেভেলপমেন্ট হয়েছে এক প্রকার কোনো ফাউন্ডেশন ছাড়াই। সুতরাং ইটস নট আ গুড প্যাকেজ ।
Profile Image for Kaleidoscope5150.
36 reviews
April 24, 2023
দারুণ দারুণ দারুণ।
বলিউড বা হলিউডি মুভি, টিভি সিরিজ দেখে কারো যদি আগ্রহ জাগে নিজদেশের আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ে কোনও ফিকশন "গেলার", তার জন্যে পারফেক্ট হবে বইটা।
ড্রাগ সিন্ডিকেট থেকে শুরু করে রেড লাইট ডিস্ট্রিক্ট, আর্মস, স্মাগলিং, আর্মি, রাজনীতি, প্রশাসনের দুর্নীতি, সিক্রেট সার্ভিস সব উঠে এসেছে গল্পটায়। প্রচ্ছদের কিং, বিশপ আর পন শুধু প্রটোগনিস্টের দাবার ব্যাকগ্রাউন্ড নয়, বরং পুরো গল্পটাকে তুলে ধরেছে। বিশ্বাসঘাকতা আর ক্ষমতার লোভের বিষয়টা মারাত্মকভাবে তুলে ধরেছেন লেখক। সিকোয়েল আসবে কিনা জানি না, ততে দিনে এতো কমপ্লেক্স গল্প মনেও থাকার কথা না, তবে অপেক্ষায় রইলাম।
Profile Image for Muntasir Nabil.
20 reviews1 follower
May 5, 2021
২৪০ পৃষ্ঠার একটা বইকে পারফেক্ট বলতে যা যা প্রয়োজন সব ই আছে এই বই এ।
ঢাকা শহরের পরিচিত সব এলাকা, পরিচিত রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে খুব গোছানো একটা গল্প। বাস্তবতার চেয়ে সিনেমাটিক বর্ণনা বেশি, তবে সেটাই উপভোগ করেছি।
এক কথায় ' পেইজ টার্নার' একটা বই।।

ভালো না লাগার দিক-বঙ্কিম কে শুধু মাত্র দাবা খেলায় ভালো হওয়ার কারণে সিলেক্ট করার বিষয় টা খুব একটা জোরালো যুক্তি মনে হয়নি।
এই বই এর সিক্যুয়েল বের হবে কিনা জানিনা,তবে হলে খুশি হবো।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Rakib Shikdar.
12 reviews3 followers
May 4, 2021
একজন ড্রাগ ডিলার এর সহযোগী, নটরডেম কলেজের চেস চ্যাম্পিয়ন ছেলে কিভাবে দেশের আর্মি ইন্টেলিজেন্স থেকে শুরু করে আন্ডারগ্রাউন্ড অস্ত্র ব্যবসায়ী নাকানিচুাবানী খাইয়ে নিজের অস্তিত্ব গড়ে তুলে নিজেই সবকিছু হাতিয়ে নেয় তার এক উপযোগী আখ্যান ''কাকতাড়ুয়া''

সব নাটকীয় মনে হলেও পড়ে বেশ উপভোগ করার মত বই।👌
Profile Image for Ibnathism.
25 reviews7 followers
August 20, 2021
কাহিনী লম্বা করার জন্য অহেতুক ক্রিন্জ টপিক এনে ভরিয়ে ফেলা হয়নি একদমই। এজন্যই মূলত ভালো লেগেছে!

অনেকাংশ জুড়ে খুবই স্লো পেসে আগালেও ক্লাইম্যাক্সটা ভালো ছিল !
Profile Image for Nadia.
115 reviews
June 16, 2023
First half পড়ে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা মাথায় এসেছিল, তাও জোর করে আরো দুই পৃষ্ঠা পড়লাম। ওই দুই পৃষ্ঠাই গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শে��ের অর্ধেক অনেক বেশি ভালো ছিল।
Profile Image for Imtiaz Rifat.
13 reviews2 followers
January 27, 2022
একটা ক্রাইম থ্রিলার যেখানে প্রায় সব কিছুই আছে।খুন থেকে শুরু করে ড্রাগ ,আর্মস,মাফিয়া,রাজনীতি এমনকি মিলিটারি ও সিক্রেট সার্ভিস।কাহিনি শুরু থেকেই বেশ দ্রুত ও আকর্ষণীয়ভাবে এগিয়ে গেছে তবে মাঝখানে কেমন ইন্টারেস্টিং ছিল না আর কিছু প্লট হোল।তবে সে তুলনায় শেষটা বেশ ভাল ছিল।সব মিলিয়ে মোটামোটি ভাল লেগেছে।
Profile Image for Parvez Alam.
306 reviews12 followers
March 21, 2021
ভিলেন যেখানে বেশি শক্তিশালী আর চালাক। সবকিছু ভাল ছিলো কিন্তু শেষটা একটু সাদামাটা হয়ে গেছে।
Displaying 1 - 23 of 23 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.