Jump to ratings and reviews
Rate this book

গজমুক্তা

Rate this book
ধান ভানার সময় নাকি শিবের গীত গাওয়া মানা। অথচ আমি এক ধান-ভানানিয়া'কে জানতাম যে শুধু ঐ অবকাশেই শিবের গীত গাইত। বেচারির যুক্তিটা উড়িয়ে দিতে পারিনি। সে বলত-ঐ সময় শিবের গীত গাইলে আর পাঁচটা ধান-ভানানিয়া তার গান শোনে, তাল দেয়, মাথা নাড়ে-এমনকি মাঝে-মাঝে গুগুন্ করে সুরে সুর মেলায়।, অথচ কাজের পরে একতারা নিয়ে সাড়ম্বরে গান গাইতে বসে সে দেখেছে শ্রোতারা দল আর বসে গান শুনতে রাজি নয়। তারা কাজের মানুষ-দিনভর খাটনির পর যে-যার বাড়ি-পানে হাঁটা দেয়! ধরুন বার্নার্ড শ মশায়ের কথাটাই! অতি বিচক্ষণ ব্যক্তি-এ-কথা তো মানবেন? ভদ্রলোক বলতেন, তাঁর নাটকটা গৌণ, মুখ্য বক্তব্যটুকু আছে মুখ-বন্ধে। তবে নাকি শুধু ভূমিকা ছাপালে বই কেউ কিনবে না তাই নাটকটা লেজুড় হিসাবে জুড়ে দেওয়া। অমন বুদ্ধিমান শ-কেও কিন্তু শেষ পর্যন্ত বুদ্ধ বানানো হয়েছে। সম্প্রতি শ-য়ের একটি কম্পিট ওয়ার্কস্ দু'খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। তার একখণ্ডে তাঁর যাবতীয় নাটক, অপরখণ্ডে ভমিকা-গুলি।

194 pages, Kindle Edition

First published October 1, 1969

7 people are currently reading
149 people want to read

About the author

Narayan Sanyal

153 books205 followers
Narayan Sanyal (bn: নারায়ণ সান্যাল) was a well-known & versatile writer of modern Bengali literature. He received several awards for literature including Rabindra Puraskar for Aporupa Ajanta (Bangla: অপরূপা অজন্তা) in 1969, Bankim Puraskar for Rupmonjori (Bangla: রূপমঞ্জরী) in 2000, and Narasingha Dutta Award. Many of his books were filmed and he won the Best Film Story Writer Award for Shotyokam (Bangla: সত্যকাম) by Bengal Film Journalists.

Sanyal wrote numerous books that dealt with many topics, such as children, science, art and architecture, travels, psychiatry, technology, refugee problems, history, biographical pieces, encyclopedia of animals, social novel and Devadasi-related. He also wrote a series of detective fiction called the Kanta (Thorn) series, the framework of which was borrowed from the Perry Mason series of novels by Erle Stanley Gardner. Some of the stories were inspired from popular Agatha Christie novels like Mousetrap, ABC Murders, etc.

Interestingly, this talented author also preferred writing books on deep shadow of many world famous works. One of the most popular Sci-Fictions Nakshatraloker Debatatma (Bangla: নক্ষত্রলোকের দেবাত্মা) is based on the transformation of human race from primitive creature to civilized intelligent species controlling the whole earth. Then it deals with Jupiter exploration and a super intelligent Computer HAL. The three parted book is a clear shadow of 2001: A Space Odyssey by Arthur C. Clarke. In his book, NS renamed HAL as 'Jantra-Na.' In his mother tongue Bangla, it means 'Not a Machine'.

His most popular work is Biswasghatak (Bangla: বিশ্বাসঘাতক) written about the Manhattan project that developed the first US Atom Bomb. This book is based on the shadow of Brighter than a Thousand Suns: A Personal History of the Atomic Scientists (1970), by Austrian Robert Jungk. Not a shadow, but almost translation in some parts. Few of the illustrations in this book have been taken from few Russian school level books.

Another book Timi Timingil (Bangla: তিমি তিমিঙ্গিল) is on Whales. This stands on an article published in Readers Digest. But while NS accepted this for Timi Timingil, he never mentioned or thanked authors of 2001 or Brighter.

Most of the "Kanta" series stories were copied or heavily inspired from Perry Mason novels. For example, "Ristedar-er Kanta" was copied from The case of the beautiful beggar, "Abhipurbak Ni-Dhatu Au-er Kanta" was inspired from The case of the restless redhead. Some of the stories were inspired from Agatha Christie stories. For example, "Dress Rehearsal-er Kanta" was inspired from Three Act Tragedy. NS acknowledged his inspirations in his first few "Kanta" series books, but forgot to do so for the latter ones.

Thousands of NS fans feel sorry of this as a man of his talent could have developed something even better instead of just 'Copying' and retouching others works while he had indeed produced some excellent works himself.

But it is undoubtedly accepted by all that NS was one of the finest authors in Bengali and he was a class apart from the flock of contemporary Bengali writers those who too dependent on sentiment and emotional overdose in their writings and too dependent on monopolist Bengali media/publication groups in commercial front.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
42 (44%)
4 stars
34 (36%)
3 stars
15 (15%)
2 stars
2 (2%)
1 star
1 (1%)
Displaying 1 - 6 of 6 reviews
Profile Image for তান জীম.
Author 4 books279 followers
January 7, 2024
নারায়ণ সান্যাল এর লেখার একটা স্পেশাল ব্যাপার আছে। উনি নন-ফিকশনের তথ্যগুলোকে ফিকশনের মধ্যে ব্লেন্ড করে এত চমৎকার ভাবে লেখেন, তথ্যের কচকচানি জানতে না চাওয়া মানুষও গল্প পড়তে পড়তে কখন যে মাথার মধ্যে এত তথ্য নিয়ে ফেলে, সেটা সে টেরই পায় না। 'গজমুক্তা' বইটাও একই রকম। ফরাসি কনস্যুলেটের এক্স চাকুরীজীবী এক ভদ্রলোক জাঁ ক্যুভিয়ে, হাতি নিয়ে নারায়ণ সান্যালকে একটা গল্প শোনাতে চান। কিংবদন্তি গজমুক্তার গল্প, যেটার ব্যাপারে জানতে পেরে বেশ আগ্রহী হয়ে উনি ছুটে গিয়েছিলেন আসামের গৌড়পুরে, লালচাঁদ বরগোঁহাই এর কাছে। বলা হয়, জমিদার পরিবার হলেও তাদের সাথে জড়িয়ে ছিলো হাতি; ওই সময়ে তিনি এবং তার বড় ভাই ওঙ্কারনাথ বরগোঁহাই ছিলেন ভারতের হাতি বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মাঝে অন্যতম। ছোটজন প্র্যাকটিক্যাল জ্ঞান রাখেন আর যত রকমের থিওরিটিক্যাল জ্ঞান আছে তা রাখেন বড় জন। সভ্যজগত থেকে দূরে অরণ্যাবাসে লালচাঁদজীকে না পেলেও (জাঁ ক্যুভিয়ের আসার খবর পাওয়ার আগে তিনি বেশ কিছুদিনের জন্যে চলে যান গহীন অরণ্যে) পেয়ে যান তার কন্যা কুহু দেবী, হাতি বিষয়ক চলমান এনসাইক্লোপিডিয়া ওঙ্কারনাথ আর অসমীয়া ভাষী মাহুত (হাতি চালক, রক্ষক) গণেশ ঠাকুরকে। ব্যস, এরপর শুরু হয়ে যায় গল্পটা।

এক মাসেরও বেশি সময় ঐ অরণ্যালয়ে থেকে ক্যুভিয়ে হাতি বিষয়ে জানতে পারেন একদম গোঁড়া থেকে। লক্ষ বছর আগে বিবর্তনের কোন ধারা পেরিয়ে হাতি আজকে এই বর্তমানে এসে পৌঁছেছে, হাতির প্রকারভেদ কতগুলো, কিভাবে অতিকায় ম্যামথের সৃষ্টি হয়েছে এবং কিভাবে তার বিলুপ্ত হয়েছে, তা বেশ সুন্দর করে চিত্রিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রাণী হিসেবে বন্য হাতি কতটা বুদ্ধিমান, নিজেদেরকে কিভাবে রক্ষা করে তারা, সন্তানসম্ভবা হবে পড়লে কিভাবে দলবদ্ধ হাতি দলছুট হয়, মানুষের সাথে হাতির সম্পর্ক, হাতি ধরার যত রকম কায়দা কানুন এবং তা যে কতটা বিপদ সংকুল এসব নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলাপ হয়েছে এই বইতে। এর পাশাপাশি উঠে এসেছে, হাতি পরিচর্যাকারী মাহুত এর কথা। হাতি ধরতে গিয়ে তারা যে ঝুঁকিটা নেয়, এটাকে প্রাচীন স্পেনের গ্ল্যাডিয়েটরের সাথে তুলনা করা হয়েছে। তবে ওখানে থাকে একটা হিংস্র প্রাণী, তার বিরুদ্ধে যে মানুষটি যুদ্ধে নামে তিনি থাকেন অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত। কিন্তু মাহুতরা খালি হাতে মোকাবেলা করে এক পাল বন্য হাতির, যেখানে হাতির সংখ্যা থাকে ৫০-৭০টি এবং কখনো ১০০টির বেশিও। অতি ক্ষুদ্র কোন ভুলও এখানে হতে পারে প্রাণনাশী। শুধু হাতির সাথে সংগ্রামই নয়, বইতে উঠে এসেছে এই লো-পেইড গোষ্ঠীর জীবন সংগ্রাম আর সামাজিক রীতি নীতির গল্প। আর উঠে এসেছে বেশ কিছু মিষ্টি প্রেমের গল্প৷ বড়ামাঈ হাতির সাথে লালচাঁদজীর প্রেমের গল্প, পুন্ডরীকের সাথে সারিনের প্রেমের গল্প আর এক মানব-মানবীর প্রেমের গল্প। আর সবশেষে সেই কিংবদন্তী গজমুক্তার গল্প।

বইতে এতটাই ডুবে গিয়েছিলাম যে মনে হয়েছে, আসলেই কি আমি এখন ২ কোটি মানুষের এই দমবন্ধ করা শহরে আছি? নাকি আছি গহীন কোন অরণ্যে, হাতির পিঠে বসে। কখনো চমৎকৃত হয়েছি, দাঁত যে নন-কন্ডাক্টর সেটার বিষয়ে হাতির জ্ঞান দেখে। কখনো না চোখের কোন ভিজে গেছে হাতির কষ্টে। প্রভুকে বাঁচাতে না পারার কষ্টে তার ব্যথিত হওয়া আমাকেও স্পর্শ করে গেছে। ৩ দিন লেগেছে ১৯০ পৃষ্ঠার এই বইটি পড়তে, কারণ বইয়ে থাকা বিভিন্ন তথ্য ঠেলে দিচ্ছিলো আরো জানার অনন্ত পথে। বইটা পড়াকালীন সময়েই আমার কয়েকবার মনে হয়েছে, সকল বন্ধন ছিন্ন করে এই অরণ্যাবাসে ১ মাস কাটিয়ে না আসলে আমি বোধহয় আফসোসেই মারা যাবো। তারপর সে ইচ্ছাকে চাপা দিয়ে আবারো বইয়ে ডুবে গেছি৷ এখব বই শেষ করার পরে, বুঝতে পারছি এ ইচ্ছাকে কীভাবে চাপা দেবো।

শুরুতেই বলেছিলাম, নারায়ণ সান্যালের লেখার স্পেশালিটি হচ্ছে, নন-ফিকশনকে ফিকশনের সাথে দারুণ ব্লেন্ডিং৷ এতটাই চমৎকার যে বোঝাও যায় না, ফিকশনে কোন অংশটুকু আসলেই বাস্তব৷ তাই সে দায় থেকে, আমি যতটুকু পারি জানিয়ে দিচ্ছি। তবে এর ক্রেডিট আবিদের। ও না জানালে, এটুকু হয়তো এড়িয়ে যেতাম।

হাতি নিয়ে যত তথ্য আছে তা তো বাস্তব (বিজ্ঞানসম্মত) এর পাশাপাশি লালচাঁদ বড়গোঁহাই চরিত্রটিও বাস্তব। তার আসল নাম প্রকৃতীশ বড়ুয়া, ওয়াইল্ডফোরামে যাকে সবাই 'লালজী' নামে চেনে। আসামের গৌরীপুর রাজবাড়ীর এই পুরুষ জন্মেছিলেন ১৯১৪ সালের ১লা মে। ৭ বছর ১০ মাস বয়সে একটু প্যাডি বার্ড শিকারের মধ্য দিয়ে তার শিকারী জীবনের সূত্রপাত। ১২ বছর বয়সে শিকার করেছেম বাঘ। তার শিকারের ঝুলিতে আছে ৩৪১ টি বাঘ, ১০০র বেশি লেপার্ড। আর ১০০৯ টি হাতি শিকারে তিনি নিজেকে কিংবদন্তীতে পরিণত করেছেন। হত্যা নয়, শিকার। বুনো হাতিকে পোষ মানানোতে তিনি ছিলেন গডগিফটেড প্রতিভার অধিকারী। লোকে বলতে, হাতির ভাষা বুঝতেন তিনি। তার এই গুনটি পেয়েছে তার ছোট কন্যা পার্বতী বড়ুয়া। ফাঁদ দিয়ে হাতি শিকারী একমাত্র নারী হিসেবে তাকে ডাকা হয়, কুইন অফ এলিফ্যান্ট। লালজী মারা যান, ১৯৮৮ সালের ২রা এপ্রিল। শেষ জীবনে লিখে গিয়েছিলেন 'হাবিজাবি' নামে ৪২০ পাতার একটা বই, যেটাতে পাওয়া যাবে; তার শিকারের ইতিহাস, হাতি চেনার কৌশল, হাতির খাবার, হাতির নানা রোগের ভেষজ ওষুধ, মাহুতের কর্তব্য, শিকারের ১৮ দফা শর্ত বা নীতি এবং হাতিশিক্ষার দুর্লভ গান। বাংলা, হিন্দি ও অসমিয়া ভাষায় লেখা গানগুলো লোকসাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। এই গান গেয়েই মাহুতরা হাতিদের শিক্ষা দিতেন। অপ্রকাশিত এই বইটা রয়েছে প্রকৃতীশ বড়ুয়ার আসামের বাসস্থান 'হাওয়ামহল' এ।
Profile Image for Muhammad .
152 reviews12 followers
February 28, 2016
পুরোপুরি গজময় এক উপন্যাস 'গজমুক্তা'! হাতিদের জীবন, আচার, সমাজ ইত্যাদিই এই উপন্যাসের উপজীব্য। নারায়ণ সান্যাল মূলত উপন্যাস এর ছলে হাতির একটি ছোটখাট এন্সাইক্লোপিডিয়া তুলে দিয়েছেন পাঠকদের হাতে। কি নেই সেখানে? পৌনে চার কোটি বছর আগের 'মরিথেরিয়াম' বিবর্তনের মধ্য দিয়ে আজ কীভাবে 'লক্সডন্টা আফ্রিকানা' (আফ্রিকান হাতি) ও 'এলিফাস ম্যাক্সিমাস' (এশীয় হাতি) এ দুটি প্রজাতির জন্ম দিল সেই ছক থেকে শুরু করে প্রস্তর যুগের উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের 'লোমশ ম্যামথ' এর মাথার খুলির বিবরণ, হাতি ধরবার নানা যুগের নানা অদ্ভুত কৌশল, পনের-সতের শতকের ইয়োরোপিয়ানদের কাছে একেবারেই অপরিচিত এই প্রাণীর লোকমুখে শুনে শুনে আঁকা হাস্যকর সব চিত্র, এদেশের মাহুতদের অসমসাহসিক বৈচিত্র্যময় জীবন; বিচিত্র সব তথ্যের ভিড়ে প্রেমের উপন্যাসের ফাঁকে ফাঁকে হাতিদের অন্য এক জগতে কিছু সময়ের জন্য আচ্ছন্ন করে রাখল বইটি।

বইটিতে হাতিদের বিস্ময়কর বুদ্ধির পরিচয় পাওয়া যায়। কীভাবে বন্য হাতি ধরবার জন্য পোষা হাতি ব্যবহার করা হয় তা জানলে সতিই আশ্চর্য হতে হয়। সদ্যপ্রাপ্ত জ্ঞান জাহির করবার লোভ সামলাতে পারছিনা! ছোট করে এখানে একটু লিখে রাখি। হাতি ধরার অন্যতম একটি পদ্ধতি হল 'খেদা' পদ্ধতি। যেখানে একসাথে ত্রিশ-চল্লিশটি হাতিকে তাড়িয়ে এনে একটি 'খেদা' বা বাঁশের তৈরী শক্ত ঘরে আটকে রাখা হয়। দু-তিনদিন খাবার পানি বিশেষ দেয়া হয়না। এ সময় হাতিগুলো একটু দুর্বল হয়ে পড়লে, পোষা মাদী হাতি খুব সাবধানে খেদায় ঢুকিয়ে দেয়া হয়। দুটি মাদী হাতি একসাথে একটি মদ্দা হাতির সাথে ভাব জমানোর চেষ্টা করতে থাকে। মদ্দা হাতিটি বেশীরভাগ সময়ই এ ডাকে সাড়া দেয়। মাদী হাতি গুলো এমন ভাব করতে থাকে যেন ওদেরও একসাথে এনে আটকে রা��া হয়েছে! বুনো হাতি যখন 'সিডিউসড' হচ্ছে, তখন শুরু হয় মাহুতের কেরামতি। হাতিদের ঘ্রাণশক্তি অসম্ভব তীব্র। ২ মাইল দূর থেকে ওরা মানুষের গায়ের গন্ধ টের পায়। তাই মাহুত দের খেদায় ঢুকতে হয় সারা গায়ে হাতির নাদ ও কাদা মেখে। বুনো মদ্দা হাতি যখন সদ্যপ্রাপ্ত বান্ধবীদ্বয়ের আপ্যায়ণে ব্যস্ত, মাহুত আর চল্লিশটা হাতির চোখ এড়িয়ে সেই মদ্দা হাতির সামনের আর পেছনের একটা একটা করে পা বেঁধে দেয় রশি দিয়ে যার আরেক দুই মাথা পোষা দুই মাদী হাতির বুকের সাথে বাঁধা থাকে। এরপর মাহুতের বিশেষ সংকেতের অপেক্ষা কেবল। দুই দিক থেকে দুই পোষা হাতি প্রবলবেগে টানতে থাকে বুনো হাতিকে। পায়ে বাঁধা থাকায় হাতি বিশেষ জোরও পায়না, ওদিকে বুকের সাথে বাঁধা থাকায় পোষা হাতি দুটো সর্বশক্তিতে টানতে পারে। এভাবে ক্রমেই সেই হাতিকে তার দল থেকে সরিয়ে আনা হয় আশ্চর্য 'ট্রেনিং কক্ষে' যেখানে এক বছরের মধ্যে সেও পূর্বের হাতিদ্বয়ের মতো মাহুতের একান্ত বাধ্য হয়ে উঠবে। অবাক ব্যাপার এই যে, কোন পোষা হাতিই স্বজাতিকে ধরে আনবার এই কৌশলে বিদ্রোহী হয়ে ওঠেনি কখনো। হাতির এমন অবাক করা বুদ্ধির আরো অনেক নমুনা বইটিতে রয়েছে। আছে হাতির অপত্য স্নেহের মর্মস্পর্শী বর্ণনাও। পড়ার সময় যা মনকে এমনিই একটু চঞ্চল করে দেয়!

মাহুতদের ব্যাপারে ক'টি কথা না বললেই নয়। অসম্ভব কঠিন তাদের জীবন যাত্রা। একেবারেই 'আন্ডার পেইড' এ মাহুত সমাজ নিজেরাও সম্ভবত জানেনা তাদের সাহসের শেষ সীমা কোথায়। যে খেদা পদ্ধতির কথা বললাম, সেটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি কাজ। লেখক নারায়ণ সান্যাল এ বিষয়ে একজন ইয়োরোপীয় লেখকের উদ্ধৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন স্পেনের ম্যাটাডোররা বুলফাইটে একবারে একটিমাত্র পাগলা ষাঁড় এর মুখোমুখি হন। কিন্তু এই মাহুতরা এই খেদায় একসাথে পঞ্চাশ বা অধিক বুনো হাতির সামনে থাকেন একেবারে নিরস্ত্র অবস্থায় (ম্যাটাডোর এর হাতে তরবারি থাকে) নেংটি পরে গায়ে কাদা আর হাতির নাদ এর 'ছদ্মবেশ', এই কেবল তার একমাত্র আত্নরক্ষার অবলম্বন। আর এতো গেলো কেবল মাত্র একটি বিশেষ কায়দায় হাতি ধরবার কথা। আরো কত যে কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে তাদের যেতে হয় তা তো জানাই হলনা।

হাতিদের বিচিত্র জীবন পদ্ধতি মোটামুটি ভাবে জানবার জন্য বেশ উপকারী একটি বই 'গজমুক্তা', আর সাথে তো নারায়ণ সান্যাল এর অদ্ভুত গল্প বলার ভঙ্গিটা আছেই। নিঃসন্দেহে সংগ্রহে রাখার মত একটি বই, দুই এক সময় যা 'রেফারেন্স' বই হিসেবেও কাজে লেগে যেতে পারে।
Profile Image for Tamal Mitra.
36 reviews1 follower
February 28, 2025
ফিকশন আর নন-ফিকশনের সমন্বয় যে এমন ভাবে ঘটানো যায়, তা এই বইটি না পড়লে বুঝতে পারতাম না। আদ্যোপান্ত তথ্য-নির্ভর একটি উপন্যাস যা লেখনীর গুনে দারুণ ভাবে উপভোগ্য হয়ে ওঠে। একবার শুরু করলে শেষ না করে থাকা যায় না।
12 reviews1 follower
August 25, 2020
হাতি নিয়ে তথ্যবহুল একটা উপন্যাসের মধ্যে একটা চিরন্তন লাভস্টোরি
Profile Image for Subhanjan Basu.
3 reviews2 followers
January 6, 2019
হাতিকে নিয়ে প্রচন্ড দরকারি কিছু তথ্য সুন্দর একটা গল্পের মধ্যে দিয়ে প্রকাশিত। শুধু প্রকাশিত বললে হয়তো কম বলা হয়। গল্পে হাতির সাথে উঠে এসেছে আসামের প্রত্যন্ত এক জঙ্গল, সেখানকার মাহুতদের গল্প, জমিদারের গল্প।

গল্পের গতি অসামান্য। পরপর মনে হয় ছবির মতন সাজানো।
শুধু কিছু কিছু জায়গায় সিনেমার কাট শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। সিনেমার খুঁটিনাটি বিমুখ কোনো পাঠকের পক্ষে সেই জায়গায় মুহূর্তটা ধরা হয়তো কঠিন হতে পারে।

বাকি সব অসামান্য
Displaying 1 - 6 of 6 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.