কুরআন আমাদের প্রতি আল্লাহর নাযিলকৃত প্রত্যাদেশ। এতে আমাদের জন্য রয়েছে হিদায়াত ও পথনির্দেশ। কুরআন নাযিলের অন্যতম উদ্দেশ্যই হলো বান্দা এর আয়াতগুলো নিয়ে ভাবনার সমুদ্রে ডুব দিবে। চিন্তার তলদেশ থেকে মনি-মুক্তো কুড়িয়ে আনবে। যারা নিজেদেরকে কুরআন তিলাওয়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে রাখে, কুরআনের আদেশ-নিষেধ-উপদেশ নিয়ে ভাবে না, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে তিরষ্কার করেছেন। কেউ যদি কুরআন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা না করে তবে বুঝতে হবে তার অন্তর তালাবদ্ধ হয়ে আছে। তার উচিত অবিলম্বে এই তালা খোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং আল্লাহর এই তিরষ্কারে পতিত হওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করা। কুরআন নিয়ে আমরা কিভাবে ভাববো, এই ভাবনা থেকে আমরা কী ধরনের স্বাদ আস্বাদন করতে পারব সেই বিষয়গুলোই তুলে ধরা হয়েছে 'কুরআন বোঝার মজা' বইটিতে। কুরআন কেন্দ্রিক বিভিন্ন ধরনের অনেকগুলো লেখার সমষ্টি এই বইটি, যা পাঠকের সামনে কুরআনের সৌন্দর্য ও শক্তি চমৎকারভাবে তুলে ধরবে ইনশাআল্লাহ।
কুরআন। কুরআন কোন সৃষ্টি নয়, এ হচ্ছে আল্লাহ্র কালাম। কুরআনের প্রতি ভালোবাসা নেই এমন মুসলিম পাওয়া যাবে না। তবে ভালোবাসা বর্তমানে এমনই রূপ ধারণ করেছে যে, আমরা খুউউব যত্নসহ ঘরের কোন উঁচু স্থানে সুন্দর করে গিলাফ দিয়ে ঢেকে রেখে দিই, একটুও আঁচড় পড়তে দিই না! অথচ কুরআন মানবজাতির জন্য হেদায়াতের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। কুরাআনকে বলা হয় নবীজির সা. এর সবচেয়ে বড় মুজেজা। ঈসা আ. এর যেমন মুজেজার মধ্যে একটি ছিল তিনি আল্লাহ্র ইচ্ছায় মৃত মানুষকে জীবিত করতে পারতেন, তেমনি এই কুরআন হচ্ছে আমাদের নবীজি সা. এর মুজেজা। কিন্তু তা আমাদের কাছে একটি শো-পিসের মতই অবস্থান নিয়ে নিয়েছে (নাউজুবিল্লাহ)। কুরআন শুধু তিলাওয়াতের জিনিসও নয়, এটি তিলাওয়াত ও তাদাব্বুর উভয়ের জন্যই। কুরআন নিয়ে যদি কেবল তিলাওয়াতেই সময় কাটান তাহলে এর মর্ম হয়ত আপনি উপলদ্ধি করতে ব্যর্থ হবেন। আর নিজেকে মুসলিম দাবি করা একজন কীভাবে নবীজির সা. এর সবচেয়ে বড় মুজেজা থেকে নিজেকে ফিরিয়ে রাখতে পারে! উল্লেখিত বইয়ের একটি চুম্বক অংশ হচ্ছে, "মনে রাখতে হবে, কুরআন নিজে থেকে সেধে গিয়ে কাউকে হিদায়াত গিলায় না। বরং বক্রতাকে দূরে ঠেলে তাঁর কাছে বিনীতভাবে আসলেই কেবল কুরআন নিজের আলো অন্যের ভেতর সঞ্চারিত করে।" কুরআন বাহ্যিকভাবে হয়ত মনে হতে পারে, "একটি বইই কেবল, আর যেহেতু আল্লাহ্র কিতাব সেহেতু মুসলিম হিসেবে না হয় বললাম সম্মানিত একটি বই"। না, বরং এমনটি নয়। কুরআন যেমন সাহিত্যের মানের দিক দিয়ে অত্যন্ত উচ্চ মানের তেমনি এটিতে রয়েছে অনেক ভবিষ্যৎবাণী। এটিতে রয়েছে অন্তরের আরোগ্য। কুরআন কেন আরবি ভাষায় নাযিল হল?, বিয়ে করতে কতটুকু সামর্থ্য থাকা দরকার?, কুরআনের চ্যালেঞ্জ, কুরআন কাদের জন্য হিদায়াত? এরকম আরও নানা রকমের বিষয় নিয়ে বইটি সাজানো হয়েছে মাশাআল্লাহ্। বইটি পড়ার অনুরোধ থাকবে, বইটি পড়ার পর প্রত্যেক মুসলিমের কাছেই ভালো লাগবে ইংশাআল্লাহ্।
কুরআন তো পড়া হয় আলহামদুলিল্লাহ! কিন্তু অধিকাংশ সময়ই স্রেফ পড়াই হয়৷ বুঝে ওঠা আর হয় না। হয়তো অধিক আলোচিত হয় এমন কিছু আয়াতে থামি, কিন্তু সেটাও বিশেষ কিছু বুঝে আসার আগেই অধৈর্য হয়ে পরের আয়াতে চলে যাই৷
আল্লাহ অন্তরের এই বিচলিত অবস্থা দেখেই হয়তো এই বইটা পড়বার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। কুরআনের সৌন্দর্য নিয়ে এরকম বই এর আগে পড়িনি। আল্লাহ আব্দুল্লাহ আল মাসউদ ভাইকে উত্তম প্রতিদান দিক।
ওয়াল্লাহি! বইটা আগাগোড়া খুব সুন্দর ব্যাখ্যায় পরিপূর্ণ। হৃদয়টা গলিয়ে দিয়েছে। ইন শা আল্লাহ পরবর্তীতে কুরআন পড়ার সময় আরেকটু সচেতন থাকবো। বইটার সবচেয়ে প্রিয় অধ্যায় হল ‘ইতিহাস ও বাস্তবতার দর্পণে কুরআনের চ্যালেঞ্জ’। এক অসাধারণ আলোচনা আছে এতে।
যাইহোক, ইসলামী প্রকাশনীগুলো, বইগুলো মূলধারায় কখনোই আলোচিত হয় না, অতীতেও হয়েছে বলে জানা নাই। বিশেষ করে এই চেতনা ব্যবসার দেশে। ধর্মীয় বই বলতে যে স্রেফ বারো চান্দের ফজিলত বুঝায় না, তার আরও একটা উদাহরণ এই বই৷
অভিযোগ কিঞ্চিৎ আছেই অবশ্য। বইটার সম্পাদনা অত্যন্ত বাজে হয়েছে৷ বানানের অবস্থা বেশ চোখে পরার মতো। ইন শা আল্লাহ, পরবর্তী সংস্করণে তা সংশোধন করে নিবেন।
কুরআন বোঝার মজা। নামটাই আসলে বলে দেয় বইটা কি নিয়ে। তাই, বইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে বিশেষভাবে কিছু বলার প্রয়োজন নেই।
এই বইয়ের মাধ্যমে লেখক সাধারণ মানুষের মাঝে তাদাব্বুর নিয়ে আগ্রহ তৈরি করতে চেয়েছেন। কেননা যখনই আমরা কুরআনকে বুঝতে পারবো তখনই আমাদের সামনে অনেক বিষয় স্পষ্ট হয়ে যাবে। সৃষ্টিকর্তা, মানবজীবন, ইসলাম বহু কিছু। আর এগুলো বোঝার জন্য কুরআনের চেয়ে ভালো কোনো বই হয় না। এছাড়া কুরআন বোঝার মাধ্যমে আমরা নিজেদের আত্মীক উন্নতি ঘটাতেও সক্ষম হবো। আমরা একজন উত্তম মানবসত্তা হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারবো।
বইটির আরেকটি চমৎকার দিক হলো, লেখক মাদ্রাসা পড়ুয়া হলেও তার বইয়ে তিনি এমন উদাহরণগুলোর মাধ্যমে কুরআনের আয়াতগুলো ব্যাখ্যা করেছেন যা সবার জন্য সহজে বোধগম্য হয়। এই জিনিসটা আমার বেশ ভালো লেগেছে। কারণ, অনেকের লেখার মাঝেই দেখা যায় তিনি যে স্থানের তিনি সেই প্রেক্ষাপটেই লেখার চেষ্টা করেন যার ফলে সব ধরনের পাঠক তার লেখা সমানভাবে বুঝতে পারে না। কিন্তু লেখক খুব সুকৌশলে এই জিনিসটা উৎরে গেছেন।
লেখকের লেখনীর প্রশংসা করতে হয়। বইটি পড়ার সময় এক মূহুর্তের জন্যও আমি বিরক্ত বোধ করিনি। কুরআন নিয়ে লেখার জন্য এমন লেখকই তো চাই। আল্লাহ ওনার কলমের শান বাড়িয়ে দিন এবং প্রকাশনীকেও এমন একটি বই প্রকাশের জন্য বারাকাহ দান করুন, আমিন।
পরবর্তীতে লেখকের আরো বই পড়ার ইচ্ছা আছে। সবাইকে বইটি পড়ার অনুরোধ করবো।
আমি বইটা পড়া যখন শুরু করি এর আগেও আমি কোরআনের অনুবাদ পড়েছি কিন্তু কোরআনকে কোরআনের মতো করে বুঝিনি তাই কোরআন বোঝার মজাটাও পাইনি। বইটা পড়ার পর আমি তাদাব্বুর করার চেষ্টা করছি কোরআন নিয়ে। আর আশ্চর্য হচ্ছি এটা দেখে যে আমি কোরআন সম্পর্কে কিছুই জানি না। যতই কোরআন নিয়ে ভাবছি আর মুগ্ধ হচ্ছি।মনে হচ্ছে কোরআন নিয়ে আমাকে আরও অনেক অনেক অধ্যয়ন করতে হবে। এই বই কোরআন নিয়ে তাদাব্বুর করার জন্য আমাকে অনেক সাহায্য করছে,কোরআনকে ভালোবাসতে শিখিয়েছে।দুনিয়ার সকল বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্তি পেতে কোরআনের গুরুত্ব বুঝিয়েছে। সবশেষ অসাধারণ
কুরআন আমাদের প্রতি আল্লাহর নাযিলকৃত প্রত্যাদেশ। এতে আমাদের জন্য রয়েছে হিদায়াত ও পথনির্দেশ। কুরআন নাযিলের অন্যতম উদ্দেশ্যই হলো বান্দা এর আয়াতগুলো নিয়ে ভাবনার সমুদ্রে ডুব দিবে। চিন্তার তলদেশ থেকে মনি-মুক্তো কুড়িয়ে আনবে। যারা নিজেদেরকে কুরআন তিলাওয়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে রাখে, কুরআনের আদেশ-নিষেধ-উপদেশ নিয়ে ভাবে না, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে তিরষ্কার করেছেন।
কেউ যদি কুরআন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা না করে তবে বুঝতে হবে তার অন্তর তালাবদ্ধ হয়ে আছে। তার উচিত অবিলম্বে এই তালা খোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং আল্লাহর এই তিরষ্কারে পতিত হওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করা। কুরআন নিয়ে আমরা কিভাবে ভাববো, এই ভাবনা থেকে আমরা কী ধরনের স্বাদ আস্বাদন করতে পারব সেই বিষয়গুলোই তুলে ধরা হয়েছে 'কুরআন বোঝার মজা' বইটিতে। কুরআন কেন্দ্রিক বিভিন্ন ধরনের অনেকগুলো লেখার সমষ্টি এই বইটি, যা পাঠকের সামনে কুরআনের সৌন্দর্য ও শক্তি চমৎকারভাবে তুলে ধরবে, ইন শা আল্লাহ।