কমলকুমার মজুমদারকে দুর্বোধ্য লেখক বললে বোধ হয় বেশি বলা হয় না। তাঁর 'গল্পসমগ্র'-তে গোটা তিরিশেক ছোটগল্প অর্থাৎ তাঁর লেখা সব গল্পই স্থান পেয়েছে; তিনি লিখেছেন খুব কম। আজ থেকে দিন দশেক আগে পড়া শুরু ক'রে মাঝপথে অর্থাৎ পনেরোটি গল্প প'ড়ে যারপরনাই ক্লান্ত লাগছে। সংকলনের প্রথম দিকের গল্পগুলো থেকে পরের দিকে তিনি যেন নিজেকে আরো দুর্বোধ্য ক'রে তোলায় মত্ত হয়েছিলেন। ক্রমেই আরো obscure হয়েছেন, চলিত থেকে সাধুর দিকে ঝুঁকে পড়েছেন, ক্রিয়াপদ্গুলো এক উদ্ভট বা অভিনব রূপ নিয়েছে, তা ছাড়া তাঁর বাক্যগঠন বরাবরই খেয়ালখুশিমত, সেখানে কোন প্রচলিত লেখকের 'ব্যাকরণ' মানেননি। তবে গল্পগুলোতে যথেষ্ঠ ধার আছে, মানুষের প্রতি মমত্ব আছে, গ্রামের মানুষের চরিত্রের উপর দারিদ্রের প্রভাব প্রস্ফুটিত হয়েছে। 'লাল জুতো' গল্পে যেমন যুবক-যুবতীর প্রেমের হাতছানি আছে, 'মল্লিকা বাহার' গল্পে একটা সমকামিত্বের (Lesbianism) আভাস আছে, তবে তা খুবই সন্তর্পণে। 'জল', 'তেইশ' ও 'নিম অন্নপূর্ণা' গল্পগুলোতে দারিদ্র্যের ট্রিট্মেন্ট ও উপস্থাপন হৃদয়ে আঘাত ক'রে যায়। 'তাহাদের কথা', 'রুক্মিণিকুমার' গল্পে স্বদেশী আন্দোলনে বিধ্বস্ত পরিবারের, মানুষের চমৎকার বর্ণনা পাই, 'কয়েদখানা'-য় পাই নব্যসামন্তের অত্যাচার ও গরীবের বিদ্রোহের ইংগিত। 'মতিলাল পাদরী' religious delusion এবং আশাভঙ্গের জটিলতাসম্বলিত একটা গল্প।
এখানে এসে আপাতত ক্ষান্ত। পরে আবার বইটা নিয়ে বসব হয়তো কোনোদিন, হয়তো না। কমলকুমার মজুমদারদেরই বোধ হয় বলে Writers' writer.