টাঙ্গাইল শহর পরিণত হয়েছে এক আতঙ্কের নগরীতে। রহস্যময় এক চর্মরোগের শিকার হয়ে ঝরে পড়ছে একটার পর একটা অমূল্য প্রাণ। সহকারী জেলা প্রশাসক জনাব আফজার সাহেব এবং ডাক্তাররা যথাসাধ্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই দূরারোগ্য ভয়ানক রোগে আক্রান্তদের বাঁচাতে। ভালো মানুষ আফজার সাহেবের কাছে হাজির হয়েছেন দুরসম্পর্কের এক আত্মীয় কাশেম, একই রোগে আক্রান্ত নিজের ছেলে রতনের চিকিৎসার জন্যে। এদিকে শহরে নানাজনে নানা কথা বলছেন। সমস্যাটা কোন মহামারী নয়, সমস্যাটা এরচেয়েও ভীতিকর। আতঙ্কিত মানুষজনের মাঝে শহর ছাড়ার হিড়িক লেগেছে। কিন্তু এই অভিশপ্ত শহর অনেকের মতো আফজার সাহেব এবং তাঁর দুই ছেলেমেয়ে আদিবা ও রাদিবকে পালাতে দিচ্ছে না। প্রতিটি ভৌতিক কাহিনির পিছনেই আছে এক এনসিয়েন্ট ব্যাকস্টোরি বা আদিগল্প। হাজার হাজার বছর ধরে ভালো শক্তি যেমন আছে ঠিক তেমনি আছে অন্ধকারের শক্তি। আজ থেকে ঠিক আড়াই হাজার বছর আগে এক রাজার যুদ্ধজয়ের অভিলাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিয়মনিষ্ঠ সাধু এবং যোগীরা। খুলে যায় প্রেত জগতের এক অন্ধকার জানালা বা পোর্টাল।
তৎকালীন ভালো শক্তি সাময়িক সময়ের জন্যে এই অন্ধকারের শক্তিকে হারিয়ে দিলেও টাঙ্গাইলের একটি ঘটনা আবার খুলে দেয় প্রেত জগতের দুয়ার। ভয়ানক সব প্রেত এসে হাজির হতে থাকে। তাদের মানুষের শরীর লাগবে, অন্য ভাষায় হিউম্যান হোস্ট। যতো মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াবে ততো প্রেতশক্তির ক্ষমতা বৃদ্ধি হতে থাকবে। বহু বছর ধরে এই ভয় ও আতঙ্ক ধামাচাপা দেয়া টিম "সংঘ" যার সদস্যরা পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন তাদের লাগবে কারণ "তিনি" আসছেন।
ঘটনাচক্রে আফজার সাহেবের সন্তানরা অর্থাৎ আদিবা ও রাদিব এই নারকীয় খেলায় জড়িয়ে পড়েন। ক্ষণে ক্ষণে এক্সপোনেনশিয়ালী ক্ষমতা বেড়ে যাচ্ছে প্রেতশক্তির। এমনকি সংঘও এই অন্ধকারের দানোদের সামনে যেন দূর্বল। শেষ লড়াই সমানে সমানে হচ্ছে না।
সময় কেটে যায়। আফজার সাহেবের ফ্যামিলী এখনো সেই বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা ভুলতে পারেনি। লড়াই শেষ হয়নি, নতুন শক্তি নিয়ে ফিরে আসছে পিশাচরা। পিশাচ কাহিনির ১, ২, ৩ পর্বে এমন কিছু ঘটনা ঘটে গেছে যে পিছ ফিরে আসার সুযোগ নেই। আফজার সাহেবের দুই ছেলেমেয়েই মানসিকভাবে কমবেশি ভুগছেন সেই দুঃস্বপ্নের স্মৃতি নিয়ে। এদিকে ভালো শক্তি নতুন রূপে কাজ করছে। "সংঘ" এমন একটি টিম এসেম্বল করতে চায় যা বিজ্ঞান এবং মিস্টিক ক্ষমতাধারীদের সমন্বয়ে ঠেকাতে যাচ্ছে আরো ভয়ানক ক্ষমতাধর দানবকে। এই মিশনে তাদের মৃত্যু মোটামোটি নিশ্চিত। জিতার কোন ক্ষীণ আশা তৈরি করতে হলে তাদের প্রয়োজন রাদিবাকে।
লেখক মেহেদী হককে বাংলাদেশী কমিক্স অনুরাগীদের কে না চিনে তাঁর সুন্দর সব স্টোরিটেলিঙের জন্যে। তিনি এই পিশাচ কাহিনি সাগাতে দুর্দান্ত গল্প লিখেছেন। আর এড্রিয়ান অনীকের কথা আর কি বলবো! তাঁর অঙ্কন চমৎকার, চমৎকার ও চমৎকার। এই দুইজনের প্রচেষ্টা দারুণ হয়েছে কারণ এই পিশাচ কাহিনি সাগা পড়ে আমি ভয় পেয়েছি। অনেক চমক দেয়া ভয় অপেক্ষা করছে আপনাদের জন্যে এই স্টোরিলাইনে। এই সাগা পড়ে মনে হলো গল্প এখনো শেষ হয়নি। হাজার বছর ধরে চলে আসা আলো এবং অন্ধকারের শক্তির যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। "তিনি" এখনো এসে পৌছেন নি।
A fun and interesting Bangla comic in the urban fantasy/horror genre. It features a mix of Bangladeshi Bangla with different characters speaking sadhu bhasa and ancholique bhasa from different areas. This picks up the story of characters from the previous Pisach Kahini comics, and ends on a cliffhanger.
হাজার শত কমিক করলেও,এ বইটা ঢাকা কমিক এর একটা মাইল ফলক কমিক বা proper comics বলা চলে।
মেহেদী হকের লেখার গল্পের ফ্লো সঠিক ছিল এখানে,গোছানো একটা বই । আর্টিস্ট অনিক খেলা দেখিয়েছে,কারন horror আর action আর্ট এ উনি পাক্কা। ওয়ান শট comics এর উদাহরণ হিসেবে এটাই পারফেকট । মাস্ট রিড । ঢাকা কমিক এর টপ কমিক এর মধ্যে এটা বলা যাবে
প্রযুক্তির প্রবেশ মায়াবী জগৎটাকে খেলো করে দিয়েছে। হ্যারি পটারের জগৎটা মিথ্যা আমরা জানি। কিন্তু জে কে রাউলিং প্রযুক্তির এমন মানানসই ব্যবহার করেছেন, চোখে লাগে না। তাছাড়া ভালোই।
ভালো লাগে নাই। ক্লাসিক পিশাচ কাহিনী আর প্রযুক্তির লেম ব্যবহার। ঢাকা কমিক্সের স্ট্যান্ড এলোন বই বলা যায় নাইই। ব্যাপারটা ভালো লাগে না। সবকিছু টেনে বড় করা অনুচিত।