Mashiul Alam was born in northern Bangladesh in 1966. He graduated in journalism from the Peoples’ Friendship University of Russia in Moscow in 1993. He works at Prothom Alo, the leading Bengali daily in Bangladesh. He is the author of a dozen books including Second Night with Tanushree (a novel), Ghora Masud (a novella), Mangsher Karbar (The Meat Market, short stories), and Pakistan (short stories).
নামগল্পটি আগে পড়া ছিল। বেশ স্যাটিসফাইং ফিনিশিং ছিল। 'আকালুর খিয়ারযাত্রা' গল্পে খেসারি কলাইয়ের ঘণ্ট, সবুজ কাঁচা মরিচ আর কাঁচা পেয়াজ দিয়ে গামলা ভরা ধবধবে সাদা ভাত খাওয়ার বর্ণনা, 'মধুপুরের বুশের খেলা'র সাসপেন্স কিংবা 'কোকিল ডেকে যায়' গল্পে ভূতেদের স্ত্রীলিঙ্গের মানুষ খাওয়ার নির্বিকার গল্প মন্দ লাগেনি। ভাষা বেশ মেদহীন আরামদায়ক।
“দুধ”। মশিউল আলমের এই গল্পগ্রন্থে মোট সাতটি গল্প আছে। পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিয়ানব্বই। বইটা পড়তে বেশি সময় লাগে না। মোটামুটি একদিনেই পড়ে ফেলা যায়। মশিউল আলমের গল্প বলার ভঙ্গীকে ঠিক কীভাবে ব্যখ্যা করবো চিন্তা করছিলাম। Interestingly, তখন সম্প্রতি বি টি এস ব্যান্ডের শোনা একটা গানের লিরিক্স মনে পড়লো- “Smooth like butter”! মানে, এক বাক্যের শেষ থেকে পরের বাক্যের শুরুর যে transition, সেই যাত্রাটা খুব মসৃণ।
“দুধ” গল্পগ্রন্থের প্রতিটি গল্প তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের জীবনের টানাপোড়ন এবং গ্রামীণ সমাজকে কেন্দ্র করে রচিত। সংলাপে রয়েছে আঞ্চলিক ভাষার বহুল ব্যবহার। যেহেতু আমার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা ঢাকাতে, সেহেতু অনেক সময় আমি গ্রামবিষয়ক গল্পের সাথে রিলেট করতে পারি না। ফার্মের মুরগীর মতো খোপে বন্দী শহরের গল্প পড়তে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কিন্তু মশিউল আলমের এই গল্পগ্রন্থের সাফল্য হচ্ছে, পরিবেশ এবং চরিত্রদের বর্ণনা এতোটাই জীবন্ত যে পড়তে গিয়ে একবারও একঘেয়ে লাগেনি! সেরকম একটা বর্ণনা উদ্ধৃত করছি –
“সবাই যখন কুকুরটির অন্তিম ছটফটানির দিকে বড় বড় চোখে চেয়ে আছে, তখন সলিমুদ্দির শিথিল মুঠি থেকে কোদালটি প্রায় নিঃশব্দে খসে পড়েছে খড়ের উপর; আর মাথার চারপাশে বৈরী জোনাকিদের ঝলকানিসহ চক্কর-মারা এক মুহূর্ত দেখার পরেই তার চোখদুটি আস্তে বুঁজে এল; মৃদু একটা টাল খেয়ে তার দেহকাণ্ডটা আলগা হয়ে যেতেই কামলাদের চোখে পড়ল তার দিকে”।
“দুধ” গল্পগ্রন্থের সমালোচনায় বলবো যে, কয়েকটা গল্প হুট করে শেষ হয়ে গিয়েছে। শুরু আছে। কিন্তু শেষ নেই। যেমনঃ “মধুপুরে বুশের খেলা” গল্পের পয়েন্ট আমি বুঝতে পারিনি। একদল কিশোর যুদ্ধ যুদ্ধ খেলছে। সবাই সাদ্দাম হতে চাইছে। কেউ বুশ হতে আগ্রহী নয়। সরল জব্বারকে বুশ সাজিয়ে আক্রমণ করে কিশোরের দল। খেলার শেষে হাঁ-করা জব্বার মার খেয়ে কাঁদে না, কিন্তু ছেঁড়া লুঙ্গির জন্য ঘ্যানর ঘ্যানর করতে থাকে। এই ধরনের গল্প পড়লে আমার এক ধরনের অস্বস্তি হয়। মনে হয়, এটা কোনো উপন্যাসের অংশ।
“দুধ” গল্পটি এক কথায় দুর্দান্ত। Surrealism দিয়ে গল্পটা শেষ হলেও, মূলত রিয়েলিজমের প্রাধান্য দেখি। “দুধ” গল্পে একজন কুকুর-মাতার সাথে একজন মানব শিশুর দুধের সম্পর্ক এবং মানুষের অপ্রয়োজনীয় নিষ্ঠূরতা দেখে প্রশ্ন করি – আসলে কে মানুষ? কে পশু? এই যে “আশরাফুল মাখলুকাত” হওয়ার দম্ভ করি আমরা, সেই দাবী তো ফাঁপা জোর-জবরদস্তি ছাড়া আর কিছু নয়! Alternate reality দিয়ে গল্পের শেষ হয়। যেন পাঠক একটা সান্ত্বনা পায়, এই নিষ্ঠূরতার পৃথিবী একমাত্র নয়। হয়তো এই চেনা-জানা পৃথিবীর বাইরেও এক বাস্তবতা আছে, যেখানে জ্যোৎস্নালোকিত দুধের সাগরে মহা-উল্লাসে সাঁতার কাটে সলিমুদ্দির ছেলেটা; আর তার পাশে রাজরানির মতো গা ভাসিয়ে দিয়েছে সেই কুকুর!
“আকালুর খিয়ারযাত্রা” গল্পে ভাতের জন্য আকালুর আকুতির বয়ান যে কখনো একবেলা না খেয়ে থাকেনি, তাকেও ভাতের কষ্ট অনুভব করাবে।
আমার কাছে মনে হয়েছে, “দুধ” গল্পগ্রন্থের সার্বিক থিম হচ্ছে ক্ষুধা। মানুষের মোটিভেশন নিয়ে Abraham Maslow -এর একটা থিয়োরি আছে "Maslow's hierarchy of needs"। মানুষের চাহিদার পিরামিডের প্রথম ধাপে থাকে ভাত-কাপড়। যে মানুষের পেটে সবসময় দাউ দাউ চুল্লি, তার অন্য চাহিদার দিকে তাকানোর সময় কোথায়? তবু “অনুগমন” গল্পের জয়নালকে দেখি, ভাত-কাপড়ের পিরামিড টপকে সে Maslow's hierarchy- এর তৃতীয় ধাপ “Love and Belongingness” – এ পৌঁছে গিয়েছে। বউটার জন্য তীব্র প্রেমে সে ক্ষিধা ভুলে যায়। বাঁচতে ভুলে যায়।
“আবেদালির মৃত্যুর পর” গল্পের মূল চরিত্র আবেদালি একমাত্র মরে গিয়েই পত্রিকার পাতায় স্থান পায়। অথচ জ্যান্ত আবেদালি রাষ্ট্রের কাছে পিষে ফেলা পিঁপড়ার মতো তুচ্ছ।
“হাঁটকুরা” গল্পে সাইদুর, মোমেনা আর মালেকের ত্রিভুজ জটিলতার করুণ পরিণতি যেন একটা কথাই মনে করায়- ভালোবাসা আর ঘৃণার সীমানা খুব অস্পষ্ট। গ্রামের সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা খেসারি ডাল দিয়ে ভাত খাওয়ার মতোই নিত্যদিনের ঘটনা। নারীকে “খেয়ে” দেয়া যায়। বিনা কারণেই নারীকে পেটানো যায়। কিন্তু তবু মোমেনা সংসারের নিরাপত্তাবোধ ছাড়তে পারে না। এই গল্পের শুরু, ঘটনার প্রবাহ, এবং শেষ একদম clear-cut বা সুস্পষ্ট। একটা পূর্ণাঙ্গ গল্প।
“কোকিল ডেকে যায়” গল্পের রিকশাচালক মধু “গরীবের মধ্যে গরীব, ছোটলোকের মধ্যে আরও বেশী ছোটলোক”। রাস্তার বেওয়ারিশ পশুদের চেয়েও অধম জীবন ছিল যার, তার মরণটাও সেরকম হয়। প্রথম বিশ্বের একটা কুকুর তৃতীয় বিশ্বের একজন দরিদ্র মানুষের চেয়ে ভালোভাবে বেঁচে থাকে।
সব মিলিয়ে, মশিউল আলমের গল্পগ্রন্থ “দুধ” সুখপাঠ্য। তবে আপনি যদি এক পটভূমি বা context – এর গল্প একটানা পড়তে একঘেয়ে বোধ করেন, তাহলে এই বইটি ভালো না-ও লাগতে পারে।
আমার মতে, “দুধ” একটা চমৎকার গল্পগ্রন্থ। ম্যাজিক রিয়েলিজম এবং রিয়েলিজমের দারুণ কম্বিনেশন!
❛দুধের বাচ্চার দুধ খাওয়ার বয়স পেরোনোর আগেই মায়ের বুকের দুধ শেষ হয়ে গেলো। দুঃখে মা বললেন, আল্লাহ এটা কী করলা?!❜ এদিকে দুগ্ধবতী কুকুরের কতগুলো সন্তান রোষের মুখে র ক্তা ক্ত হয়ে প্রাণ হারালো। কুকুরের ছানার দুঃখে কুকুর মাতার বিলাপ গ্রামের মনুষ্য সমাজের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ সংসারে মনোযোগ দেয়ার মতো আরো কঠিন বিষয় আছে। মায়ের বুকের দুধ শুকিয়ে গেলেও ছোট্ট ত ত ত অবুঝ শব্দ করা শিশুর খাওয়ার অভাব হলো না। সৃষ্টিকর্তা একদিকে নিলে আরেকদিকে পূরণ করে দেন। ভাতের মাড় দিয়েও সে খিদে মেটানো যায়। কিন্তু ছোট্ট ওই শিশুর সাথে সন্তানহারা ঐ কুকুর মাতার কিসের সংযোগ। সলিমুদ্দি লাঠি তুলে নেয়ার পরের ঘটনাগুলো বাস্তব থেকে পরাবাস্তবের দিকেই না নিয়ে যায়? পাঠ প্রতিক্রিয়া: ❝দুধ❞ মশিউল আলমের সাতটা ছোটো গল্পের সমারহে তৈরি সংকলন। দুধ শিরোনামের গল্পটিই পড়া হয়েছে। মশিউল আলমের লেখা আমার পছন্দ। ডিস্টোপিয়ান জনরার উপন্যাস পড়েছিলাম। এবার ছোটো গল্প পড়া হলো। গল্পটা ছোটো হলেও উপভোগ্য। মানুষের বাচ্চার সাথে কুকুরের সম্পর্কটা দারুণ এক উপায়ে দেখিয়েছেন। শেষটা পরাবাস্তব কোনো কাহিনির মতোই লেগেছে।
এক ঝলক উত্তরের বাতা��� । সেই বাতাসে মিশে আছে উত্তরের মানুষের জীবনের ভাজে ভাজে লুকিয়ে থাকা ঘটনার হদিস আর কোথায় যেন একটু জাদুবাস্তবতার রেশ । এই তো চাই ।