বাংলাদেশের অনিয়ম আর অবিচারের সমাজ বদলে দেওয়ার জন্য নানা মুনির আছে নানা মত। কেউ মনে করেন গণতন্ত্রের সঠিক প্রয়োগ জনগণকে এ থেকে মুক্তি দেবে, কেউ ভাবেন ইসলামি প্রজাতন্ত্রই একমাত্র সমাধান। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই ছাত্র মনে করলো ভিন্ন কিছু। তাদের বিশ্বাস, নষ্ট হয়ে যাওয়া সিস্টেমকে একেবারে ধ্বংস করেই গড়ে তুলতে হয় নতুন কিছু।
দেশ যখন উত্তাল নানা চেতনার ফেরিওয়ালাদের তর্জনীর ইশারায় অথবা বিশ্বাসে অন্ধ মেজরিটির অঙুলিহেলনে, ওরা বেছে নিলো সম্পূর্ণ নতুন পথ। গড়ে তুললো গুপ্তসঙ্ঘ "জাদুঘর"।
সিস্টেমকে একেবারে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য হাত নোংরা করতে হয়। হাত ওরা নোংরা করলোও। রক্ত ঝরলো। অপবিত্র রক্ত! রাজধানীর দেওয়ালে লেখা হলো বিখ্যাত শিশুতোষ ছড়ার বিকৃতরূপ।
জাদুঘর পাতা আছে এই এখানে রক্তের ঝিকিমিকি আঁকা যেখানে।
Kishor Pasha Imon is a famous Bangladeshi crime writer.
Musa Ibne Mannan, known by the pen name KP Imon, is an accomplished writer who initially gained recognition through his short stories on social media. Over the course of his career, he has written over 220 short stories, captivating his online audience with his vivid imagination and storytelling skills. Building on his success in the digital realm, Imon went on to establish himself as a prominent novelist, with his works being published in both Bangladesh and India.
His regular publishers are Batighar publications, Abosar Prokashona Songstha, and Nalonda in Bangladesh. Abhijan Publishers solely publish his books in India. He is the author of 13 novels and translated 9 books to Bengali till date (5/10/23).
He graduated from the Department of Mechanical Engineering at Rajshahi University of Engineering & Technology. Presently, he resides in Dallas, TX, focusing on his PhD studies in Mechanical Engineering at UT Dallas after completing his MS at Texas State University.
His other addictions are PC gaming, watching cricket, and trekking.
ব্যাক্তিগত মতামতঃ . বইটা আমার কাছে ভালোই লেগেছে কিন্তু মনে হয়েছে অনেক জায়গায় ঘুরিয়ে পেচিয়ে বারবার একই ধরনের কথা বলা হয়েছে। মূল চরিত্র কিংবা জাদুঘরের আদর্শ, সমাজের বিভিন্ন সমস্যা এবং দূর করা নিয়ে বিভিন্ন মতবাদ আমার কাছে মনে হয়েছে একই কথাগুলো বারবার বলা হয়েছে, যে কারনে পড়তে একটু সমস্যা হয়েছে। এছাড়া রিসোর্টে অ্যাকশন এর বর্ণনাটা অতিরঞ্জিত মনে হয়েছে, কারন আনাড়ি একজন প্রায় ২৮ জন কে একা মেরে ফেললো যেখানে রিসোর্টের সিকিউরিটি গার্ড কিংবা যাদের মারার জন্য রিসোর্টে এত আয়োজন কেউ তেমন কিছু করতে পারলো না, গুলির শব্দে সিকিউরিটি গার্ড চলে এসেছে, ভেবেছে বড়লোকের ছেলেরা বন্দুক ফুটিয়ে উৎযাপন করছে, কিন্তু গাজীপুরে অনেকগুলো রিসোর্ট আছে এবং এসব এলাকায় মানুষ থাকে যতদূর জানি। শুধু রিসোর্ট, এছাড়া সম্পূর্ণ এলাকা ফাঁকা এমনও না,ঐখানে গুলির শব্দে গার্ডের উৎযাপন ভাবা এগুলো একটু বেশি অতিরঞ্জিত মনে হয়েছে। . যাইহোক, নেগেটিভ কিছু বলে ফেলেছি, বইটার বাকি দিকগুলো আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। পাহাড়ের দৌড়ঝাঁপ কিংবা শূন্য থেকে জাদুঘরের এত বড় কিছু করে ফেলা সবকিছু খুব উপভোগ্য ছিল। ক্যাম্পাস লাইফের দিনগুলো ও বেশ ভালো লেগেছে। শেষের দিকের টুইস্টটাও ভালো লেগেছে। হীরকখণ্ড পড়ে লেখকের লেখা খুব ভালো লেগেছিল, আশা করি জাদুঘরের পরের পর্ব আরো ভালো লাগবে।
স্পয়লার অ্যালার্টঃ লাস্টের টুইস্টটার সাথে 'ফাইট ক্লাব' এর টুইস্টটার মিল একটু বেশিই লেগেছে। আমি জানিনা এটা শুধু আমার কাছেই লেগেছে কিনা, কেউ আছেন যিনি ২টা বই ই পড়েছেন এবং এই ব্যাপারে বলতে পারবেন?
. 'জাদুঘর পাতা আছে এই এখানে' লেখকঃ কিশোর পাশা ইমন প্রচ্ছদঃ বাপ্পী খান বাতিঘর প্রকাশনী
"বাংলাদেশের অনিয়ম আর অবিচারের সমাজ বদলে দেওয়ার জন্য নানা মুনির আছে নানা মত। কেউ মনে করেন গণতন্ত্রের সঠিক প্রয়োগ জনগণকে এ থেকে মুক্তি দেবে, কেউ ভাবেন ইসলামি প্রজাতন্ত্রই একমাত্র সমাধান। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই ছাত্র মনে করলো ভিন্ন কিছু। তাদের বিশ্বাস, নষ্ট হয়ে যাওয়া সিস্টেমকে একেবারে ধ্বংস করেই গড়ে তুলতে হয় নতুন কিছু।
দেশ যখন উত্তাল নানা চেতনার ফেরিওয়ালাদের তর্জনীর ইশারায় অথবা বিশ্বাসে অন্ধ মেজরিটির অঙুলিহেলনে, ওরা বেছে নিলো সম্পূর্ণ নতুন পথ। গড়ে তুললো গুপ্তসঙ্ঘ "জাদুঘর"।
সিস্টেমকে একেবারে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য হাত নোংরা করতে হয়। হাত ওরা নোংরা করলোও। রক্ত ঝরলো। অপবিত্র রক্ত! রাজধানীর দেওয়ালে লেখা হলো বিখ্যাত শিশুতোষ ছড়ার বিকৃতরূপ।
জাদুঘর পাতা আছে এই এখানে রক্তের ঝিকিমিকি আঁকা যেখানে।"
এই বইয়ের রিভিউ লেখা আসলে সহজ কাম না। আর সে কঠিন কামের আউটপুটটাও হুদা ৪০০-৫০০ ওয়ার্ডে লেখা আমার পক্ষে সম্ভব না। তার থেকেও বড় কথা, পুরা বইটা এতটাই ভাস্ট যে একবার পইড়া রিভিউ লিখলে আমি শিওর কোন না কোন মেজর পয়েন্ট মিস কইরা যামু। অন্য বইয়ের হিসাব আলাদা কিন্তু এই বইয়ের ক্ষেত্রে আমি আসলে কোন পয়েন্ট মিস করতে চাই না। সো প্রথমবার পড়ার লিগা পড়লাম, আরেকবার পড়মু এই বই নিয়া আমার ধারণা, মতামত শেয়ার করনের লাইগা। তবে রিভিউ লেখি আর না লেখি পাঠকগো এইডা বলতে পারি, এই বইটা আপনাগো অবশ্যপাঠ্য বই।
রিভিউ দিবো না। খালি একটা জিনিসই বলি, এ বই আপনার মনকে আলোকিত না করলেও নরকের সম্মুখীন করবে। মাঝেমধ্যে নরক ঘুরে আসা দরকার। শাহাদুজ্জামানের চিন্তাশীল প্রবীণ বানরও আমরা হইতে পারি নাই, তবে দিনরাত তো খুব চিন্তা করতেসি, তাই না? এইখানে মূল ঘাপলাটা একমাত্রিক চিন্তাভাবনার, এইটাকে বহুমাত্রিক রূপ দিতে হবে। সেইজন্য নরক ঘুরে আসা দরকার, নিজ জাতিকে ভিলেন হিসাবে দেখা দরকার, সাইকোপাথের কাজে লজিক খোঁজা দরকার, আপাতদৃষ্টিতে পাগলামি লাগে এমন জিনিস নিয়া গবেষণা দরকার। কেপি ইমন এই কাজটাই করতে চাইসে এই বইয়ে। ওর প্রতি শুভকামনা রইলো, সামনে এই লেখকের আরও অনেক অনেক বই পড়তে হবে। এতো সাহসী খুব বেশি লেখক হইতে পারবেন না।
পুনশ্চ: বইটার নামের সাথে একটা জনপ্রিয় সিনেমা+উপন্যাসের নাম খুব বেশি উচ্চারিত হয়। সেইজন্য বিগেস্ট ট্যুইস্টটা প্রথম পেইজেই ধরে ফেলসিলাম। এরপরও অসাধারণ লাগলো!
এই পর্যন্ত তো কম আন্দোলন করল না বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন, কোটা সরানোর আন্দোলন; কিন্তু কোনো আন্দোলনে বিশেষ কোনো লাভ হয়নি। এক্ষেত্রে দোষটা মূলত সিস্টেমের। এই সিস্টেমকে ঠিক করতে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুইজন ছাত্র এগিয়ে এলো। তারা মনে করল সিস্টেমকে ঠিক করতে হলে একেবারে সব ধ্বংস করে এরপর গোড়া থেকে সব শুরু করতে হবে। সেই চিন্তা থেকেই তারা গড়ে তুলল একটি গুপ্ত সংগঠন; "জাদুঘর।" . পুরো দেশে সিস্টেম ঠিক করার জন্য, এবং সবাইকে ন্যায়ের পথে নিয়ে আসার জন্য সকল ধরনের দুর্নীতিগ্রস্থ মানুষকে একে একে হঠানো শুরু করল তারা। এক্ষেত্রে দেশের মানুষজনও বিভক্ত হয়ে গেলো দুইটি ভাগে। অনেকে মনে করছে জাদুঘর যা করছে ঠিকই করছে। ন্যায়ের মূর্ত প্রতীক স্থাপন করছে তারা। অন্যদিকে অনেকেই মনে করল নির্মম ভাবে হত্যা করা ছাড়া অন্য উপায়ও আছে দেশে নিয়ম শৃঙ্খলা নিয়ে আসার, হয়ত সব জায়গায় আইন ঠিকঠাক ভাবে কাজ করে না, হয়ত দুর্নীতি সব জায়গায় দমন করা যায় না সঠিকভাবে কিন্তু তবুও নির্বিচারে, নির্বিঘ্নে এভাবে মানুষ হত্যা করাও তো যায়েজ হয়ে যায় না। . অন্যদিকে সিআইডি সহ অন্য গোয়েন্দা সংস্থা পাগলের মতো খুঁজে বেড়াচ্ছে জাদুঘরের মূল উদ্যোক্তাকে। এইভাবেই কাহিনী এগিয়ে যেতে থাকে। . পাঠ্য-প্রতিক্রিয়াঃ অ্যানিমে দেখেন? না দেখলেও সমস্যা নেই। 'ডেথ নোটের' নাম নিশ্চয়ই শুনেছেন। যারা অ্যানিমে দেখে না তাদের মাঝে অনেকেই ডেথ নোট দেখেছেন চোখ বন্ধ করে বলতে পারি। এই বইয়ের পাঠ্য-প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অ্যানিমের মতো অপ্রাসঙ্গিক বিষয় কেন টেনে আনছি তা একটু পরেই বুঝবেন। . এই অ্যানিমেটার কাহিনী একটু বলি। হাইস্কুলের ছাত্র লাইট দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার উপর ত্যাক্ত-বিরক্ত। হরহামেশাই মানুষ অপরাধের সাগরে ডুব দিচ্ছে তাও যেন কারো পরোয়া নেই। এমন সময়েই তার হাতে আসে একটি ডায়েরি। সেই ডায়েরির পেছনের বর্ণনা শুনে বুঝতে পারে এই ডায়েরিতে যার নামই লেখা হবে সে-ই মারা যাবে। এভাবে লাইটের হাতে চলে আসে এক অবর্ননীয় শক্তি। একে একে হত্যা করে সকল অপরাধীদের। নিজের একটি নতুন নাম নিলো; 'কিরা'। এক্ষেত্রেও মানুষ পক্ষে-বিপক্ষে দুইটি দলে বিভক্ত হয়ে যায়। এবং অন্যদিকে সিআইএ, এফবিআই এর মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠান খুঁজে বেড়াচ্ছে তাকে। . বইটি পড়ার সময় পুরোটা সময় আমি ডেথ নোটের সাথে প্রচুর সামঞ্জস্য পেয়েছি আমি। কাহিনির কিছু মিল তো আছেই একই সাথে অন্যান্য ২/১ টা বিষয়ে মিল পেয়েছি। যেমন ধরুন লাইট এতসব ক্ষমতা পাওয়ার পর নিজের নাম দিয়েছিলো 'কিরা'। অন্যদিকে এই গল্পের মূল চরিত্র, জাদুঘরের উদ্যোক্তা শওকতকে, তার বান্ধবী তমালিকা (যে কিনা সবকিছু জানত;) ডাকত 'কিরি' বলে। . এছাড়া বইয়ের বেশ কিছু জিনিস আমার ভালো লাগেনি যেমন মাঝখানের অনেক লম্বা একটা অংশ জুড়ে থ্রিলার গল্প পড়ছি বলে মনে হয়নি। ক্যারেক্টার বিল্ড আপও আমার যথেষ্ট দূর্বল লেগেছে। আর এসব বাদে মেয়েদের শরীর নিয়ে অযাচিত বর্ননাও (যেসবের একদমই কোনো দরকার ছিলো না) পড়তে অসহ্য লেগেছে। সব মিলিয়ে এই বইটি একদমই সুখপাঠ্য ছিলো না। . শুধুমাত্র একটি জিনিস ভালো লেগেছে সেটি হলো গল্পের মধ্যে সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের সিস্টেমের কিছু দোষ-ত্রুটি, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনে মিলিটারির নিয়ন্ত্রণ এবং আরো কিছু জাতীয় সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে। লেখক এইসব লিখতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করেননি।সত্যটি নির্দ্বিধায় তুলে ধরেছেন তিনি। এটি ছাড়া আর বিশেষ ভালো কিছু বলতে পারছি না এই বই নিয়ে। . যদিও এটির খুব সম্ভবত একটি সিকুয়েল ও আসবে। সেটি পড়ার অপেক্ষায় রইলাম। . বিদ্রঃ এটি পুরোপুরি ভাবে আমার ব্যক্তিগত মতামত। অনেকের ভালো লাগতেও পারে বইটা। এই বই নিয়ে আমি অনেক ভালো ভালো রিভিউ দেখেছি। এটা পুরোই যার যার ব্যাপার। বইয়ের গল্পটি ভালো লাগেনি আমার। হয়ত আরো বড় হয়ে পড়লে আরো ভালোমতো বুঝব। কিন্তু কোনো দিক থেকে লেখককে অসম্মান করছি না আমি। লেখকের প্রতি শুভকামনা রইলো।
আমাদের চারপাশে কতোরকম অসঙ্গতি ঘটে যায়। সেসব অসঙ্গতি কেন বা উৎস কী সেসবের উত্তর না খুঁজে আমরা কেবলি সিস্টেমের উপর দোষ চাপিয়ে এসেছি। কখনও ভাবতে চাইনি এসব থেকে পরিত্রাণের উপায় কী। অন্যদের মতো আড্ডায় বসে রাজা উজির মেরে আর যা-ই হোক দেশ বা সমাজ যে পরিবর্তন করা যাবে না সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া দুই তরুণ। মসলিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের এক তরুণের মাথায় প্রথম খেলে যায় এই অভাবনীয় আইডিয়া। কিছু একটা করতে হবে। দেশ অনেক বড় একটা ব্যাপার। চারপাশেই তো ঘটে যাচ্ছে কতো অনিয়ম। সেটার একটা বিহিত করতে হবে। আগে ছোট্ট পরিসরে কাজ করে দেখতে হবে সাফল্য আসে কি না.. তারপর দেশ.. তারপর না হয় দেশ পেরিয়ে বিশ্ব৷
শুরু হলো প্রাথমিক প্রচেষ্টা। কিন্তু নতুন কোন কিছু তো আর এমনি এমনি চলে আসবে না.. যে কোন কিছুর শুরু হয় রক্তপাতের মাধ্যমে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যার শিকার হয় নিরীহ ব্যক্তিরা। কিন্তু এবারে ঘটল ব্যতিক্রম। রক্ত ঝড়ল তবে সেটা অপবিত্র রক্ত৷ শুরু হলো সংস্কারের কাজ৷ কার পরে কে??
আহসান হাবীবের রূপকথা কবিতাটা পড়েছেন? সেটারই বিকৃত রূপ ছড়িয়ে পড়তে লাগল সবখানে... 'জাদুঘর পাতা আছে এই এখানে, রক্তের ঝিকিমিকি আঁকা যেখানে..'
শেষ নয় এখানেই... বইয়ের শুরুতেই পালাতে দেখা যায় বইয়ের একটি চরিত্র রকিবকে৷ ওর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় পাহাড়িরা। রকিবের সাথের যাত্রায় লেখক ধীরে ধীরে পরিচয় করিয়ে দেন পাহাড়ি জীবনযাত্রার সাথে। প্রসঙ্গক্রমে উঠে আসে বাঙ্গালি-পাহাড়ি সম্পর্ক। স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে কতোটা ভালো আছে তারা?
জাদুঘর বইটিতে শুধু যে সিস্টেম চেঞ্জের লড়াইয়ের কথা বলা হয়েছে তা কিন্তু নয় দেখিয়ে দেয়া হয়েছে নানান অসঙ্গতিগুলোও। অসঙ্গতিগুলো হয়তো আমাকে আপনাকে প্রায়ই ভাবায়.. তরুণ বয়সী এই পাগলাটে প্রকৌশলীর সুবিশাল প্ল্যান কতোটুকু যৌক্তিক আর কতোটুকু অযৌক্তিক সে প্রশ্ন না হয় তোলা থাকল। ৪৪৬ পৃষ্ঠায় এসে এই বিশাল প্রেক্ষাপটের আপাত সমাপ্তি ঘটলেও রয়ে গেছে বেশ কিছু প্রশ্ন৷ সেসব প্রশ্নের উত্তরের জন্য দ্বিতীয় খণ্ডের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া গতি নেই
এই লেখকের বই পড়তে গেলে প্রতিবার ই যেই কথা প্রথমে মাথায় আসে, তা হলো, এর তো বেশ সাহস! বরাবরের মতই প্রচন্ড বোল্ড লিখনশৈলী। তুলে ধরলেন সমাজের অসঙ্গতি এবং অসঙ্গতি দূরের কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার পদ্ধতি! আদিবাসী দের জীবন সংগ্রাম নিয়েও বেশ ভালো একটা কাভার আপ আছে বইতে। শেষের টুইস্ট টাও বেশ ভালো ধরনের আনএক্সপেকটেড ছিলো। অভারওল, লেখকের লেখনী প্রতিবারই ছাড়িয়ে যাচ্ছে নিজেকে। নিজস্ব ধরাণার ইউনিক থ্রিলার গুলো আমাদের জন্য এক ধরণের গিফট। শুভকামনা কেপি ভাইয়ের জন্যে। সুপাঠ্য।
ইন্ট্রোডাক্টরী স্পীচে লেখক লিখেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে যে বিতর্কিত বা নোংরা ইতিহাস ঘটনা প্রেক্ষিতে এসেছে তা পুরোটাই সত্যি শুধু নাম কাল স্থান পাত্র পরিবর্তিত হয়েছে। গৌতম নামের চরিত্রের বর্ণিত শৈশবের চরম ভায়োলেন্স এবং শোষণের অধ্যায়গুলোও নাকি সত্যি! রেফারেন্সও ম্যানশান করেছেন। সাধারণত ইন্ট্রোডাক্টরি স্পীচ স্কিপ করি টু বি অনেস্ট। কিন্তু অথার যখন কেপি, তখন কিছু আসলে বাদ দেওয়া যায়না। তো ইন্ট্রোডাক্টরী স্পীচে এই কথা পড়েই পাগলানো শুরু। বই আগিয়েছে আস্তে আস্তে পাগলায় গেছি। এই রেশ কয়দিন থাকবে আল্লাহ মালুম।
আগেই বলেছিলাম, কিছু বই আছে, ওয়ান্স ইন আ লাইফটাইম একবার পড়াটা আবশ্যক বই পাগল মানুষগুলার। সে নন ফিকশান লাভার হোক বা ফিকশান, কিছু অনস্বীকার্য ইতিহাস, রাজনীতি, নাড়িয়ে দেওয়া সমাজব্যাবস্থা তাকে সুন্দর ভাবে দেখাইতে পারে এই জিনিসগুলা। সেন্সেটিভ ইশ্যু থাকার কারনে আমি অনুরোধ করবো বই এর স্টোরিলাইন পাব্লিক প্লেসে সার্চ না করে নিজে পড়ে নিতে।
বইটা পড়বার জন্য আপনার অবশ্যই উন্মুক্ত ফিকশনাল দৃষ্টিভঙ্গি লাগবে। তা নয়তো নিতে পারবেন না। ব্যাখ্যা করে বলছি। Love, Sex, Friendship, Politics, Psychology, Social System, Education, Religion সম্পর্কে প্রচন্ড উন্মুক্ত দর্শন উপস্থাপিত হয়েছে। তা উপস্থাপিত হয়েছে চরিত্রের খাতিরেই। সাথে আছে পার্বিত্য চট্টগ্রামের 'True Dirty Story.' যা যেকোনো বাঙ্গাকীর আতে ঘা লাগতে পারে। আমি যথেষ্ট সন্দিহান বাংঙ্গালি এই বইটা এক্সেপ্ট করার মতো ম্যাচুরিটিতে এখনো পৌছেছে কি না।
ফ্রি উইলার রেড, ফ্রি উইলার ব্লু, কমিউনিকেশান রেড শাহেদ, একটি সরকারী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যাম্পাস লাইফ, পাহাড়ি প্রকৃতি-ওখানকার জীবনব্যাবস্থা-চাকমাদের সামাজিক অবস্থা-জীবনবোধ, খুন, হত্যা, রাজনীতি, তমালিকা, সামিনা হক _ আমি জীবনের দীর্ঘ সময় মনে রাখবো এই কুশীলব আর ঘটনাগুলোকে।
একটি প্রশ্ন। যদিও অনেক প্রশ্নের উত্তর পরের সিলুয়েলে পাওয়া যাবে লেখক জানিয়েছেন, এটি ভিন্ন রকমের। কাহিনীর প্রেক্ষিতে এক পর্যায়ে একটা প্রমাণ বেরিয়ে আসে। সেটা খুব হাইলি সেন্সেটিভ ছিলো। সেই হাইলি সেন্সেটিভ প্রমাণ টা নাকি পর্ব আকারে পেপারে আসা শুরু হয়। আমি জানিনা এটা কতখানি যৌক্তিক এরকম একটি প্রমাণ পুলিশ মিডিয়ায় যাইতে বাধা দিলো না। না দিলেও তার পেছনে লজিক থাকে সেকারনে জিনিস টা পরিষ্কার হইলোনা।
Ah! The Greatest Political Fiction/Conspiracy Thriller i have ever read. এই একটা বাক্যের আগে বা পরে আর কিছু বলার প্রয়োজন হয় না পাঠ প্রতিক্রিয়া বুঝাইতে। এই বাক্য বললাম শুধু এইজন্যেই, খুব সম্ভবত লেখকের গল্পের পেছনের একটা ডিপ বার্তা আমি ধরতে পেরেছি।
লেখকের বড্ড প্রেমে পড়ে গেলুম। গল্প বলার ঢং এতো দারুণ, চুম্বকের মতো এটে ছিলাম দুটো সেশন ( প্রতি সেশনে কমপক্ষে ৫ ঘন্টা)। বইটা আবার পড়তে হবে। এসব বই একবার পড়ে আশ মেটে না।
বইয়ের কনসেপ্ট চমৎকার। কাহিনীর শুরুটাও অসাধারণ, চরিত্রগুলো বেশ আগ্র��উদ্দীপক। ঘটনাগুলো মাঝখান পর্যন্ত খুবই উত্তেজনাকর ছিল কিন্তু তার পরই সবকিছু মিডিওকার হতে শুরু করে। কাহিনীর ডিটেইলিংয়ে বড়সড় ঘাটতি আছে৷ সব ভুলভ্রান্তি মেনে কাহিনীটা এঞ্জয় করা যেতে পারত, কিন্তু কেপি সাহেব মূল চরিত্রকে রীতিমত সুপারহিরো হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, আর অন্যান্য চরিত্রদের, স্পেশালি পুলিশদেরকে বানিয়েছেন বোকার হদ্দ। এতে হয়ত কাহিনীতে থ্রিল এসেছে কিন্তু গল্পটা খেলো হয়ে গেছে। কিছু ভুল দেখিয়ে না দিলেই নয় -
(১) জাদুঘরের ১ম চারটি কাজই মসলিন বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে (ছাত্রনেতা সাইমুমকে হত্যা, এক শিক্ষককে থ্রেট দেওয়া, আরেক ছাত্রনেতা তাজুলের ঘরে বিস্ফোরন এবং ফাইনালি নীলফুল রিসোর্টে তাজুলকে হত্যা)। সেখানকার ছাত্র-শিক্ষকরাই জাদুঘরের প্রথমদিকের ভিক্টিম। এটুকু ঠিকভাবে চিন্তা করলে যেকোন ইন্সপেক্টরেরই বুঝতে পারার কথা যে জাদুঘর নামক অর্গানাইজেশনের উৎপত্তিও মসলিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই। অথচ দেশে এত গোয়েন্দা থাকতে ফরেন্সিক এক্সপার্ট মূর্তজা ছাড়া আর কেউ এই ব্যাপারটা বুঝতেই পারলনা, আশ্চর্য! যারা এ বইয়ের এত প্রশংসা করছে তারাও কী এ দিকটা ভাবেনি? কাহিনীর সবচেয়ে দুর্বল পয়েন্ট এটাই।
(২) শওকত কীভাবে একটা রিসোর্টে গোপনে আগ্নেয়াস্ত্র স্মাগলিং করালো? মানলাম সেখানে ক্ষমতাসীনদের বখাটে ছেলেরা বন্দুক নিয়ে চলাফেরা করে, কিন্তু সম্পূর্ণ সাধারন একজন ভার্সিটি স্টুডেন্টের এই কাজ করতে পারার কোন ব্যাখ্যা নেই। তাও যা তা বন্দুক না, একটা কাস্টম H&K MP5 সাবমেশিনগান, সাথে ড্রাম ম্যাগাজিনও রয়েছে একটানা অনেকক্ষণ ফায়ার করার জন্য। এই জিনিস একজন ভয়ংকর অপরাধীও যেখানে সেখানে ক্যারি করতে পারবেনা, রিসোর্টের মত পাবলিক প্লেস তো দূরের কথা।
(৩) H&K MP5 সাবমেশিনগানের ফায়ার রেট এতই হাই যে এটা দিয়ে কয়েক সেকেন্ড ফায়ার করলেই সাধারন একজন মানুষের কাঁধ খুলে আসার মত পেইন হবে। যে ছেলে আগে কখনো বন্দুক ধরেই দেখেনি সে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গার্ডদেরও বিনা বাধায় কাবু করে ফেলল! এটা কাহিনীর অন্যতম দুর্বল দিক।
(৪) কাহিনীতে ইন্টেলিজেন্সের কোন এক্টিভিটি দেখানো হয়নি। যেন এদেশে এনএসআই, র্যাব, ডিজিএফআই প্রভৃতি বাঘা বাঘা বাহিনীর কোন অস্তিত্ব নেই। এক পুলিশ ইন্সপেক্টর জোয়ার্দার আর ফরেন্সিক এক্সপার্ট মূর্তজাকেই কেন জাদুঘরের কেস দেওয়া হল? জঙ্গিবাদ দমনের জন্য সবচেয়ে এক্টিভ র্যাব, তাদের একবারের জন্যও দেখা গেলনা। মাঝখানে সোয়াট নিয়ে wild goose chase হল, তারা ব্যর্থ হল, তারপরও ইন্টেলিজেন্স বাহিনীর হাতে কেসটা গেলনা কেন?
(৫) দেশের ভেতর একের পর এক লঙ্কাকাণ্ড ঘটিয়ে চলল জাদুঘর অথচ দেশের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী পরিষদ এদের কোন প্রতিক্রিয়া দেখা গেলনা! নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ক্ষমতাসীনেরা জাদুঘরের বিরুদ্ধে কোন প্রপাগান্ডা করলোনা। নকল জাদুঘর সেজে গুন্ডা দিয়ে নিরপরাধ মানুষদের মেরে জাদুঘরের নামে কালিমা লেপে দেওয়া যেত। কিংবা পাবলিকলি জাদুঘরের নেতার নামে কোন এক নামহীন লোককে এক্সিকিউট করেও প্রপাগান্ডা করা যেত। কিন্তু না, এদেশের পলিটিশিয়ানরা খুব ভাল? তারা এসব ডার্টি ট্রিক্স করেনা, তারা একজন ভার্সিটি স্টুডেন্টের কাছে বারেবারে মার খায়।
(৬) জাদুঘর কোথা থেকে সন্ত্রাসী ভাড়া করে? না মানে, আমার প্রশ্নটা হল, দেশে মন্ত্রী-এমপিদের মত হাই সিকিউরিটি পার্সোন্যালদের রক্ষাবুহ্য ভেদ করে তাদের হত্যা করার মত খুনে বাহিনী কোথায় আছে? শওকত মোবাইলের একটা এপ খুলে একের পর এক কিল অর্ডার দিয়ে চলে, আর কোন এক অদৃশ্য শক্তি তার হুকুম তামিল করে ফেলে, গোটা বইজুড়ে জাদুঘরের এক্টিভিটি ছিল বেসিক্যালি এই। কীভাবে? কেন? এরকম অনেক প্রশ্ন তৈরী হয়েছে এবং সেগুলোর কোন ব্যাখ্যা নেই।
(৭) ভাড়াটে খুনি হিসেবে রকিব মহাকুখ্যাত, কাহিনীতের প্রথম দিকে বলা আছে। অথচ তা সত্ত্বেও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আফজালকে হত্যা করার পরও তার পেছনে পুলিশ লাগলনা! জাদুঘরের সাথে এই হত্যাকান্ডের কানেকশন আছে কিনা তা বের করার জন্য পুলিশ, ডিবি কিংবা র্যাবের কোন তৎপরতাই দেখা গেলনা। আবারও আশ্চর্য হলাম।
(৮) পুলিশ হেডকোয়ার্টার গুলিস্তানে, আর সোয়াটের নিজস্ব হেডকোয়ার্টার মিন্টো রোডে। তাহলে জুন্নুন কেন ওই সাইক্রিয়াটিস্ট মহিলাকে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে নিয়ে গেল? একজন সোয়াট যদি কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় তবে নিজেদের সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়াই কি স্বাভাবিক না?
(৯) পুলিশ হেডকোয়ার্টারের টর্চার সেল কী কখনো এমন ফ্লোরে হতে পারে, যেখানে বাইরের একটা বিল্ডিং থেকে স্নাইপিং করা যায়? কাউকে টর্চার করতে প্রয়োজন আটমোস্ট প্রাইভেসি, আর সেসব কাজের জন্য এমন রুম দরকার যেখানে কোন জানালা নেই, এজন্যে অনেক টর্চার সেল তৈরী করা হয় বেজমেন্টে। অথচ এ বইতে কী হল? সোয়াট অফিসার জুন্নুন একজন মহিলাকে টর্চার করছে, এই দৃশ্য রকিব স্নাইপার রাইফেলের স্কোপ দিয়েই দেখে ফেলল। ইভেন মুভি/সিরিজে যে টর্চার সেলগুলো দেখানো হয়, তাতেও কোন জানালা থাকেনা। এই সিনারিওতে কাহিনী বেশ ইন্টেন্স ছিল কোন সন্দেহ নেই, কিন্তু ভুল সিদ্ধান্তের জন্যে পুরো গল্পটা এখানে ঘেঁটে গেছে।
সবমিলিয়ে লাস্টের দিকে ভুলভ্রান্তির জন্যে উপভোগ করতে পারিনি, ৩/৫। এটাও হয়তো বা বেশি দিয়ে ফেলেছি।
কোনো একটা কুকাম করে রাঙামাটিতে পালিয়ে এসেছে রকিব। কিন্তু এখানে এসেই তার মেমরি লস হয়ে গেছে। কি করেছে মনে নেই। স্থানীয় মাইকেল চাকমার সাথে নিয়ে জড়িয়ে গেল আরেক ঝামেলায়। কি করেছিল রকিব যে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে তাকে? দেশের নামকরা ভার্সিটির দুজন ছাত্র মিলে খুলে ফেলল একটি ওয়েবসাইট। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই ওরা দেশের মধ্যকার জঞ্জাল, দুর্নীতি হটানোর মিশনে নেমেছে। পারবে কি ওরা এই দুর্গম পথ পাড়ি দিতে?
কিশোর পাশা ইমনের এবারের মেলার বই, জাদুঘর পাতা আছে এখানে। বরাবরের মতোই ঢাউস আকারের বই। কিশোর পাশা ইমন আমার মতে বর্ন স্টোরিটেলার। একজন পারফেক্ট গল্প বলিয়ে। উনি এমনভাবে গল্পগুলো লেখেন মনে হয় গল্প ও চরিত্রগুলো জীবন্ত হয়ে উঠেছে। এই বইয়ের ক্ষেত্রেও সেটা ঘটেছে। সব চরিত্র, পরিস্থিতিগুলো জীবন্ত হয়ে উঠেছিল। কয়েক জায়গায় পরিস্থিতির এত বেশি ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে, যে পুরো ব্যাপারগুলো স্পষ্ট হয়ে গেছে। পুরো বইটা যথেষ্ট থ্রিলিং। দারুণ কনসেপ্ট। দুজন ভার্সিটির ছাত্রের দেশ বদলে দেয়ার লড়াই, ওদের সাইকোলজি, দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনের ওপর মনোভাব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। একশন সিকোয়েন্সও ভালো ছিল। শেষে ভালোই একটা টুইস্ট আছে। মোটকথা ভালো লেগেছে জাদুঘর পাতা আছে এই এখানে।
জাদুঘর পাতা আছে এই এখানে কিশোর পাশা ইমন বাতিঘর প্রকাশনী পৃষ্টা: ৪৪৮ প্রচ্ছদ: বাপ্পী খান
জাদুঘর পাতা আছে এই এখানে রক্তের ঝিকিমিকি আঁকা যেখানে। - জাদুঘর পাতা আছে এই এখানে - অর্ণব, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এক তরুণ। সি.এস.ই এর প্রথম বর্ষেই তার সাথেই পরিচয় হয় আরেক স্বপ্নবাজ তরুনের। সেই তরুণ জানায় তার স্বপ্নের কথা। অর্ণবও বাড়িয়ে দেয় তার সাহায্যের হাত। দুজন মিলে শুরু করে এক গুপ্তসংঘ গঠনের কাজ। - রকিব, স্মৃতিভ্রষ্ট এক লোক যে কি���া এসে পরে রাঙামাটিতে। এখানে তাকে আশ্রয় দেয় মুরংমা নামের স্থানীয় এক লোক। সেখানে বসেই সে শুরু করে তার অতীতের স্মৃতি খোঁজা। এদিকে সে না চাইতেও জড়িয়ে পরে স্থানীয় নানা ঘটনার ভিতরে। - এখন মসলিন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই স্বপ্নবাজ তরুণ কি এমন গুপ্তসংঘ চালু করলো যার কারণে সরকার থেকে আন্তর্জাতিক মহল পর্যন্ত তাদের পিছনে লাগলো? "জাদুঘর" নামের সেই গুপ্তসংঘ আসলে কি প্রতিষ্ঠা করতে চায���? এ সব কিছুর সাথে রকিব কিভাবে জড়িয়ে যায়? তা জানতে হলে পড়তে হবে লেখক কিশোর পাশা ইমনের কন্সপিরেসি ঘরানার উপন্যাস "জাদুঘর পাতা আছে এই এখানে"। - "জাদুঘর পাতা আছে এই এখানে" ৪৪৮ পৃষ্ঠার বিশাল এক উপন্যাস। দুই টাইমলাইনের উপর ভিত্তি করে এগিয়ে গেছে বইয়ের কাহিনী। এই দুই টাইমলাইনের ভিতরে পার্সোনালি রাঙামাটির ঘটনার থেকে মসলিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা বেশি ভালো লেগেছে। অবশ্য পার্বত্য এলাকায় ঘটনাগুলোর কিছু কিছু নানা মাধ্যমে পড়েছিলাম দেখে সম্যক কিছু আইডিয়া ছিল। তারপরেও যেভাবে ঘটনাগুলোর বর্ণনা দেয়া হয়েছে সেটি বেশ সাহসিকতার কাজ মনে হয়েছে। এই পার্টটি পড়তে গিয়ে গত বছর পড়া লেখক সুহান রিজওয়ানের "পদতলে চমকায় মাটি" বইটির কথা বারবার মনে পড়ছিল। - "জাদুঘর পাতা আছে এই এখানে" বইটির মূল চরিত্র "ফ্রি-উইলার রেড" কে পুরো বই জুড়ে ভালোভাবেই চিত্রিত করা হয়েছে। অন্যান্য চরিত্রগুলোও মোটামুটি মিলে গেছে কাহিনীর সাথে। তবে এই বইয়ের সবচেয়ে উল্লেখ্যযোগ্য দিক এর লেখনী, একেবারেই আনপুটডাউনেবল ধাঁচের। বর্তমান সময়ের থ্রিলার ঘরানার লেখকদের ভিতরে লেখনীর বিচারে নিঃসন্দেহে প্রথমদিকেই লেখকের নাম থাকবে। লেখক বইতে সমাজের নানা ধরণের অসঙ্গতির বিষয়ে যে মেসেজটি দিতে চেয়েছেন সেটা লাউড এন্ড ক্লিয়ার। তবে এ মেসেজটি দিতে গিয়ে লেখক কিছু জায়গায় জেনারালাইজড করে ফেলেছেন মনে হয়েছে। বইয়ের শেষের দিকের টুইস্টগুলো অবশ্য আগেই আন্তাজ করতে পারছিলাম, সিক্যুয়ালের আভাস দিয়েই লেখক বইটি শেষ করেছেন। - "জাদুঘর পাতা আছে এই এখানে" বইটিতে বেশ কিছু টাইপো এবং প্রিন্টিং মিস্টেক দেখতে পেয়েছি। অনেক জায়গায় কয়েকটি শব্দের মাঝে কোন স্পেস ছাড়াই লেগে যাচ্ছিলো, বেশির ভাগ টাইপো ইগনোর করলেও বারবার নিজের সাবজেক্ট "সি.এস.ই" কে সিএসি লেখা দৃষ্টিকটু লাগছিলো। প্রচ্ছদ কাহিনী অনুসারে চলনসই। বইয়ের বাধাই একটু আঁটসাঁট ই লাগলো। সামনে এদিকগুলায় একটু খেয়াল রাখলে ভালো হয়। - এক কথায়, বর্তমান সময়ের বিচারে বেশ সাহসী এক কাজ "জাদুঘর পাতা আছে এই এখানে"। বইটির সিক্যুয়ালের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকলাম।
শুরুতে থ্রিল ছিল।মাঝে কাহিনি এত প্যাচাইসে যে খেই হারায় ফেলেছিলাম।শেষে আবার থ্রিল ছিল।মোটকথা কেপির বই সবসময়ই ব্যতিক্রম হয়ে থাকে ও অসাধারণ হয়।আগের গল্পের মত এটাতেও সেনসিটিভ টপিক তুলে ধরা হয়েছে।এক কথায় অসাধারন।
সাইকোপ্যাথ বা সোসিওপ্যাথ চরিত্র নিয়ে আমার বিশেষ আগ্রহ আছে। বলা চলে বই-ডকুমেন্টারি সব গিলি। বাংলায় এরকম লেখা খুব একটা পাইনি। এই বই সেই অভাব পূরণ করে দিল।
প্রতিটা চরিত্র খুব সুন্দর করে ডেভেলপ করা, মূল চরিত্র একেবারেই নজরকাড়া। সেই সাথে প্লট এবং সাবপ্লটও সব ভালভাবেই মিশে যায়। প্রতিটা দৃশ্য সমানভাবে এগিয়েছে আর বিরক্তিকর বা অপ্রয়োজনীয় কিছুই ছিল না প্রায় সাড়ে চারশ পেজে।
ইন্টারেস্টিং প্লট, টান টান উত্তেজনা,প্রতিটি পাতায় চুম্বকের মতো ধরে রাখার ক্ষমতা আছে বইটির। বেশ সময় নিয়ে, স্টাডি করে তৈরি করা হয়েছে থ্রিলারটি। পুরো সিরিজ পড়ার পর হয়তো রিভিউ লিখতে বসব। কিন্তু প্রথম পর্ব পড়ে কেন জানি ফাইট ক্লাব আর Mr. Robot এর বাংলাদেশি ভার্সনের জগাখিচুরি মনে হলো।
খুবই সংবেদনশীল একটা ব্যাপারে হাত দেয়ার জন্য লেখকের প্রশংসার দাবিদার। আর সাথে অসাধারণ দক্ষতায় কাহিনী আগানোও খুব ভাল লেগেছে। মাঝে কিছু জায়গায় জাদুঘর সংঘটা আগানোর ব্যাপারে সময় খুব দ্রুত জাম্প করেছে যেটার সাথে অভ্যস্ত হতে একটু সময় লেগেছে। তাও সব মিলিয়ে অসাধারণ
This entire review has been hidden because of spoilers.
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সমাজের সকল প্রতিষ্ঠানে, রাজধানীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর ভবন থেকে শুরু করে দূর্গম পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত সুদৃশ্য কোন বুকশপের মতো থরে থরে সাজানো আছে অনিয়ম, দূর্নীতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো চরম সব অবিচার। সাধারণ মানুষজন এক এক ঘটনার পর ক্ষেপে ওঠে এরপর পরবর্তি ইস্যু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। নতুন এক ইস্যুর জগদ্দল পাথরের নিচে চাপা পড়ে যায় পুরনো কোন ইস্যু। এভাবে বছরের পর বছর ধরে অন্যায় এবং অনিয়ম এই রাষ্ট্রের অলিখিত বিধিতে পরিণত হয়। ৫০ বছর ধরে এরকম-ই হয়ে আসছে। কখনো ধর্মের নামে আবার কখনো জাতীয়তাবাদের নাম ব্যবহার করে নেমে এসেছে সাধারণ মানুষজনের উপর নির্মম অত্যাচার। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষজন হয়েছেন তথাকথিত "কোলাটেরাল ড্যামেজে" এর শিকার। অগ্রসরমান চিন্তাধারার যারা ভিন্ন ভাবে ভাবতে শিখেছেন, বুঝে উঠতে পেরেছেন যে এই সমাজ একটি কুসংস্কার ছাড়া আর কিছু নয় তাঁরা পরিণত হয়েছেন সংখ্যালঘুদেরও সংখ্যালঘু।
এক এক জন বিশেষজ্ঞ এদেশকে এক একরকমভাবে ঠিক করতে চান। কেউ মনে করেন ধর্মের ভিত্তিতে গড়া সরকার দেশকে পরিণত করবে স্বর্গে, আবার কেউ মনে করেন গনতন্ত্র-ই মনে হয় এদেশকে আমূল পাল্টে দেয়ার স্বর্ণের চাবিকাঠি। রোমান্টিক চিন্তাধারার মানুষজনও কম নেই এদেশে। এক বিপ্লব এসে সবকিছু ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে দেবে বলে মনে করেন এই নস্টালজিয়ায় ভোগা মানুষজন। একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দারুন মেধাবী দু'জন ছাত্র প্র্যাক্টিকাল কিছু করতে চায়। সিস্টেমকে আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে তাঁরা দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় প্রপার অর্ডার। কিন্তু ক্যাওস পরিপূর্ণ যৌবন না পেলে কি অর্ডার আসে? যখন সাধারণ মানুষজনের বিভিন্ন আবেগকে ব্যবহার করে বিভিন্ন রকমের চেতনা ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত নিজেদের আখের গুছাতে তখন এই দু'জন সৃষ্টি করেন সেই ক্যাওস, যার নাম "জাদুঘর"। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা, মেধা, মননের সমন্বয়ে গঠিত এই গুপ্তসংঘটি দেশে ক্যাওসের নবযৌবন দান করলো।
এক একটি আদর্শের পিছনে যখন এক একটি কুৎসিত চেহারা প্রকট হয়ে আসে তখন সেইসব আদর্শকে কারাগার ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। সবাই আলোর কথা বলে, মহাসড়কে তীব্র গতিতে ধেয়ে আসা ট্রাকের হেডলাইটের মতো আদর্শ নামক আলো যখন সবার চোখ ধাঁধিয়ে দেয় তখন ঐ দু'জন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র অন্ধকারের পথ ধরলো সিস্টেমকে ন্যায়সঙ্গত করার উদ্দেশ্যে। একের পর এক দুর্বৃত্তের লাশ পড়তে থাকলো। মারা পড়তে লাগলেন অত্যন্ত হাই প্রোফাইল পিপলরা। ঢাকা শহর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত কেপে উঠলো জাদুঘরের স্ট্র্যাটেজির সামনে। এমনকি দেশ-বিদেশের সরকার এবং নামকরা সব ইন্টেলিজেন্স এই জাদুঘরের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠলো। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিস্টেম ঠিক করতে গড়ে ওঠা গুপ্তসঙ্ঘ পরিণত হলো ইন্টারন্যাশনাল পাওয়ার প্লেয়ারে। কিন্তু এরকম অগাধ ক্ষমতা কি এই "জাদুঘর" কেই করাপ্ট করে ফেলবে না তো? একটার একটা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে রাস্ট্রের পাওয়ারের সকল স্টেইক হোল্ডারদের আতংকে পরিণত হলো জাদুঘর।
ঘটনাচক্রে পার্বত্য চট্টগ্রামে পৌছে গেলো এক খুনী। বাংলাদেশের এই অঞ্চল পলিটিক্যালী একটু বেশী কমপ্লিকেটেড। এই গল্প যতো এগিয়ে যাবে হয়তো অনেক বাঙ্গালী বিব্রতবোধ করতে পারেন, অথবা হতে পারেন ক্ষুব্ধ। বাঙ্গালী হয়েও নিজেদের মনে হতে পারে ১৯৭১ সনের পাকিস্তানী আর্মীর সিম্প্যাথাইজার। কারণ সত্য সবসময় তেঁতো। পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার উপর করা নির্মম অত্যাচারের চিত্র এখানে পাওয়া যায়। একই সাথে লেখক পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাবলীল বর্ননা দিয়েছেন। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামে ঐ খুনীর কাজ কি? বিভিন্ন ঘটনায় জড়িয়ে রকিব মোটামোটি ঐ অঞ্চলের ইতিহাস জেনে যান যা মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় তেমন আসে না। বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীরাও এসব নিয়ে দু'কলম লিখেন না। তাঁরা এখনো আছেন ৫০ বছর আগে হওয়া অন্যায় নিয়ে।
এদিকে ঢাকায় কলোটেরাল ড্যামেজও কম হয়নি। সরকার হন্যে হয়ে খুজছে জাদুঘরের প্রধানকে। এই হাই আইকিউর অল্প বয়সী ছোকড়া বারবার থেকে যাচ্ছেন ধরাছোয়ার বাইরে। রক্ত ঝরছে, প্রচুর হতাহত হচ্ছে বিভিন্ন ধরণের ক্ষমতাধররা। কিন্তু পিনপয়েন্ট প্ল্যানিঙ এবং টেকটিকসের কাছে বারবার ধরা খাচ্ছে সরকারের বিভিন্ন বাহিনী। পারবেন কি তারা এই গুপ্তসঙ্ঘকে ঠেকাতে?
লেখক কিশোর পাশা ইমনের লিখা এই একটি বই-ই আমার পড়া আছে। বাংলাদেশে এতো ভালো থ্রিলার রাইটার আছেন সেটা হয়তো আমি অনেকের পরেই জানলাম। সাহসী এই লেখক আলোয় নিয়ে এসেছেন অনেক অপ্রিয় সত্যকে। লেখকের স্টোরিটেলিঙের ক্ষমতা অসাধারণ। বাংলাদেশের বিভিন্ন বাস্তবতাকে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের ডায়াসে এত সুন্দর করে লেখক ফিট করেছেন যা পড়লে যেকোন থ্রিলার পাঠক আমার মতে মুগ্ধ হবেন। গল্পের প্লট বেশ ভালো, একই সাথে মাথা ঘুড়িয়ে দেয়ার মতো টুইস্টতো আছেই। লেখকের সহজাত লিখার এই ক্ষমতা তাকে অনেকদূর নিয়ে যাবে বলে আমার ধারণা। আমি বিগত কয়েক বছরে এর চেয়ে ভালো থ্রিলার বই খুব সম্ভবত পড়িনি। গল্প কয়েক লেয়ারে লেখা। আমার মতে এই বই একটি মাস্টারপিস। যথাসাধ্য স্পয়লারমুক্ত রিভিউ লিখার চেষ্টা করেছি। লেখকের প্রতি শুভকামনা রইলো। থ্রিলারের পাশাপাশি কিছু মানবিক বিপর্যয় তিনি এমনভাবে লিখেছেন, পাঠক ক্ষণিকের জন্য হলেও বিপন্ন বোধ করবেন।
বইয়ের নাম : জাদুঘর পাতা আছে এই এখানে লেখক : কিশোর পাশা ইমন। জনরা : থ্রিলার। প্রকাশনা : বাতিঘর প্রকাশনী। প্রকাশকাল : ফেব্রুয়ারী ২০২০। প্রচ্ছদ : বাপ্পী খান। পৃষ্টা সংখ্যা : ৪৪৬ পেজ মলাট মূল্য : পাঁচশত টাকা।
২০১৯ সালে শিক্ষাঙ্গানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিলো আবরার হত্যা। এছাড়াও প্রতিনিয়ত আমাদের সোনালী ক্যাম্পাস গুলোতে হচ্ছে নানান রকম অত্যাচার। বিশ্ববিদ্যালয় এর সোনালী ক্যাম্পাসে সাধারন শিক্ষার্থীরা যায় লেখাপড়া করতে কিন্তু, ১ম বর্ষ না যেতেই বুঝতে পারে সোনালী ক্যাম্পাসের আসল রুপ। দুর্নীতি অনিয়ম, অনচার অত্যাচার শিক্ষক দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, প্রসাশনের উদাসীনতা, হল বানিজ্য, কথা বললেই মুখ বন্ধ করার ছাত্র রাজনীতি সহ, ৫০ বছরের ঐতিহ্যের আরো কত কত ভয়ংকর রূপ তার আদ্য সীমানা নেই। এসব বিষয় নিয়ে কে কথা বলবে? কেউ না, কারন কথা বললেই চুপ করিয়ে দেয়ার উপায় ক্ষমতাশীনদের জানা আছে।
বিশ্ববিদ্যালয় তথা পুরো দেশের এই অনিয়ম অবিচার কারোই অজানা নয়। এই সিস্টেমিস কে চেঞ্জ করার জন্য সুনাম ধন্য বিশ্ববিদ্যালয় এর দুই ছাত্র এর মাথায় আসলো ভিন্ন কিছু। তারা পর্দার আড়ালে থেকে গঠন করলো একটি ভিন্ন ধরনের সংঘঠন, নাম জাদুঘর। জাদুঘর এর কাজ এই সকল অনিয়ম অবিচার এর বিরুদ্ধ এ লড়াই করা। কিন্তু গঠনটা সহজ হলেও পথটা সহজ না, তাই তো লোকচক্ষু এর অন্তরালে বেশ কিছু ফ্রিল্যান্সার ও প্রোগ্রামারদের নিয়ে তারা অনিয়ন সিক্রেট সাইডে ওয়েব এর মাধ্যমে সব করলো। ভার্চুয়াল জগত এর জাদুঘর একচুয়াল জগতকে নিয়ন্ত্রণ করছে ।
অন্যদিকে জাদুঘর এর সাথে সম্পৃক্ত এক লোক রাকিব, পালিয়ে বেরাচ্ছে চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে। সেখানে তাকে খুঁজছে পুলিশ। আশ্রয় নিয়েছে এক চাকমা নেতার বাসায়।
এদিকে জাদুঘর একেক করে অনিয়ম গুলো মুছে সাফ করে দিয়ে রেখে যাচ্ছে তাদের ছাঁপ,
"জাদুঘর এর পাতা আছে এই এখানে রক্তের ঝিকিমিকি আঁকা যেখানে "।
আপত দৃষ্টিতে এই হলো গল্প সংক্ষেপ। লেখক এখানে ডাবল টাইমলাইনে দুটি গল্প তুলে এনেছেন এবং শেষে দুটো গল্পকে দারুণ ভাবে জুড়ে দিয়েছেন। প্রথম টাইমলাইনে লক্ষ্য করা যায় যে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন, হাহাকার, জাদুঘর প্রতিষ্টা, এবং তাদের কর্মকান্ড। এরি মাঝে ফুঁটে এসেছে সমাজ এর নির্মম বাস্তবতা, ট্যাবো আর লেখকের নিজস্ব কিছু মতাদর্শ। যা সত্যিকার অর্থেই প্রশংসা রাখে। অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় ফুঁটে উঠেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীদের নির্মম অত্যাচার, ধর্ষন, লুটতরাজ, কিংবা পাহাড় এর কালো রাজনীতি, আর দূর্নীতি। সুতরাং একথা বলতেই হয় যে লেখক সত্যি খুব সেনসেটিভ বিষয় নিয়ে এবার টাচ করেছেন। এক্ষেত্রে লেখক এর সাহসিকতা দাবি রাখে।
এবার আসি নিজের কথা, বাংলাদেশে এই অনিয়ম অবিচার ইত্যাদি বিষয় গুলো অজানা নয় কারোই। কিন্তু এই সব বিষয় নিয়ে ঘরোয়া পরিবেশ থ্রিলার কিংবা গল্প তুলনামূলক ভাবে নেই বল্লেই চলে। এর আগে আমি লেখক এর "যে হীরোকখন্ডে ঘুমিয়ে কুকুরদল " বইটি পড়েছিলাম। লেখক ঐ বইতে বিশ্ববিদ্যালয় লাইফের হাজারো বাস্তবতা নিয়ে এসেছেন, কিছুটা ফাঁক ফোকর থাকলেও এবার তা পূরণ করেছেন এই বই দিয়ে। ব্যাক্তিগত ভাবে বলতে গেলে বলবো বইটা আমার কাছে দারুণ লেগেছে। কারন আমার চাহিদা অনুসারে বইটা ছিলো। কি নেই বইটিতে হাহাকার, অনিয়ম অবিচার, সমাজ বাস্তবতা, প্রেম, পরক্রিয়া,সেক্স, ড্রাগ, সাইকলজিক্যাল ডিসঅর্ডার সব। আর্মিদের বিষয়টা দারুণ ভাবে টার্চ করেছে, হয়ত আর্মিদের প্রতি আমার অন্তরে ঘৃণা সৃষ্টি হলো। আবার সাইকলজিক্যাল বিষয়গুলোও দারুণ ছিলো। গতানুগতিক থ্রিলার এর মতো একশন কিংবা রহস্য এর পিছনে ছুঁটা না হয়�� ভিন্ন কিছু তৈরি করেছেন লেখক কিশোর পাশা ইমন। লেখক পুরো বইতে দেখিয়ে দিয়েছেন সমাজ এর ভয়ংকর অবস্থাটা। এতো কিছুর পরও লেখক দিনশেষে গল্পের টুইস্ট দিতে ভুলেননি। বলা যায় যে গল্পে লেখক মাথা নষ্ট করা একটি টুইস্ট দিয়েছেন।
তাই একথা সত্যি যে লেখক কিশোর পাশা ইমন প্রতিনিয়ত তার নিজেকে নিজেই ছাঁড়িয়ে যাচ্ছেন। আর এই বইটা টপকাতে লেখকের ভালোই বেগ পেতে হবে। কেননা এটার সিকুয়েল আনবেন তিনি।
খারাপ লাগার বিষয় হলো, কিছুটা টেনে বড় করা মনে হয়েছে গল্পটা, শেষের দিকে হুটকরে প্লটগুলো পরিবর্তন। তবে ফিনিশিংটা ঠিক রেখেছেন। আর টুইস্ট টা যদিও মাথা নষ্ট করার মতো বিষয় ছিলো কিন্তু আমি আগেই ধরে ফেলছি।
বাতিঘরের বই নিয়ে পাঠক শ্রেণীর ব্যাপক অভিযোগ থাকলেও এবার বাতিঘর কিছুটা বইয়ের গঠনগত দিকে দৃষ্টি দিয়েছে। ক্রিম কালার পেজ কিংবা ভালো ফন্ট। কিন্তু এই বইয়ে দেখলাম বানান ভুলটা এখনো আছে, কিছু ক্ষেত্রে ি কার ী কার এর ব্যবহার কিংবা এক অংশের কার অন্য অংশে আবার অযথা প্যারা মেকিং সত্যি দৃষ্টিকটু। আর ৪০০+ পেজ বই হিসাবে বাঁধাই দূর্বল।
সর্বাপরি বলবো আপনি যদি থ্রিলার পাঠক হন তবে আমার পঁচা রিভিউ দেখে নয়, চোখ বন্ধ করে বইটি নিয়ে বসে যান, কেননা বইটি ছুঁটলে আপনারই মিস হবে।।
“জাদুঘর পাতা আছে এই এখানে রক্তের ঝিকিমিকি আঁকা যেখানে”।
এবারের বই মেলার বইগুলোর মধ্যে এটেনশন দাবি করার মতো একটা বই কিশোর পাশা ইমনের ‘জাদুঘর পাতা আছে এই এখানে’। বইয়ের জনরা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। তবে এতে আপনি একই সাথে সমাজের বিভিন্ন অসংগতি, বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতি, অসুস্থ মানসিকতা, আদিবাসীদের প্রতি সেনাবাহিনীর নৃশংসতার ধারণাও পাবেন। আমার পড়া লেখকের প্রথম বই এটা। পুরো বইয়েই বেশ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন লেখক। সচরাচর এত স্পষ্ট ভাষায় কোনো লেখক তার বইয়ে অথরিটির সমালোচনা করেন না।
বাংলাদেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কী হয়, তা যারা পড়েন তারা ভালো করেই জানেন। অবশ্য না পড়লেও সম্প্রতি বুয়েটে আবরার হত্যাকাণ্ড থেকে ভালোই অনুমান করতে পারবেন সবাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহপাঠীকে বড়ভাইদের কাছে অত্যাচারিত হতে দেখে এক ছাত্র ঠিক করে গড়ে তুলবে এক গুপ্তসংগঠন। এই সংগঠন কাজ করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম দূর করার জন্য। শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সীমাবদ্ধ থাকলেও পরবর্তীতে এর কার্যপরিধি বৃদ্ধি পায়। নাম ছড়িয়ে পড়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। সংগঠনের নাম দেয়া হয় ‘জাদুঘর’। জাদুঘরের থাকে একটা গোপন ওয়েবসাইট যা কেবল ডার্ক ওয়েবেই দেখা মিলে। এই ওয়েবসাইট থেকেই জাদুঘরের সদস্যদের নির্দেশ দেয় প্রতিষ্ঠাতা ফ্রিউইলার। কেউই জানে না এই ফ্রিউইলার কে।
বইয়ে একইসাথে দুই গল্প চলতে থাকে। একদিকে জাদুঘরের উত্থানের গল্প, অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলে সেনাবাহিনীর সাথে আদিবাসীদের লড়াইয়ের গল্প। আমরা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীদের অত্যাচার নির্যাতনের কথা বলি। কিন্তু বর্তমানে আমাদের সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে আদিবাসীদের সাথেও একই আচরণ করছে না? তার কতটুক জানি আমরা? এক দেশ থেকে আরেক দেশের মাঝে যে সীমান্ত থাকে, পাহাড়ের ঘন জঙ্গলে এই সীমান্ত কি আদৌ কাজ করে?
লেখক গল্পের সাথে সাথে সমাজের অনেক অসংগতি তুলে ধরার পাশাপাশি বেশ কিছু সমাধানের কথাও বলেছেন। সবগুলোর সাথে আমি অবশ্য একমত না। লেখকের ব্যক্তিগত বিশ্বাস দর্শনই তার উপন্যাসে উঠে এসেছে। কেপি ইমনকে বছরদুয়েক হলো ফলো করি। বিভিন্ন সময়ে তার দেয়া অনেক স্ট্যাটাস থেকে যতটা ধারণা পেয়েছি, এখানে মূল চরিত্রটা যেন লেখককেই উপস্থাপন করে। মূল চরিত্রটা অবশ্য বর্ণনাও করা হয়েছে উত্তম পুরুষে। বইয়ে খারাপ দিক বলতে অনেক টাইপো আর ভুল বানান। আর সেক্স জিনিসটাকে খুব ক্যাজুয়ালভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশে এখনো বিষয়টা অত ক্যাজুয়াল কী না আমার জানা নেই। পরকীয়াকেও জাস্টিফাই করার চেষ্টা দেখলাম। বিষয়টা আমার ব্যক্তিগতভাবে ভালো লাগেনি।
একইসাথে থ্রিলার, সাইকোলজি, রাজনীতি, ইতিহাস নিয়ে পড়তে চাইলে পড়ে দেখতে পারেন এটা। প্রায় সাড়ে চারশ পৃষ্ঠা হলেও একদমই বোরিং লাগবে না।
বইয়ের প্রথম লাইন থেকে "hooked" হওয়া বলতে যা বোঝায় এই বইটি পড়তে গিয়ে ঠিক তাই হয়েছিল। দুটি সমান্তরাল কাহিনী পাশাপাশি এগিয়ে যায় বইয়ের শুরু থেকে। যার একটির জন্ম দেশখ্যাত মহসিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে, আর আরেকটি গল্প ক্রমে ডাল পালা ছড়াতে শুরু করে রাঙামাটির পাহাড়ী জনবসতিতে। মাইলের হিসেবে কতদূরে দুটো ঘটনা, অথচ গল্পগুলো কোথাও এসে এক হয়ে গিয়েছে। কিভাবে সেটা নিয়েই বইটার পুরোটা। একদম টান টান উত্তেজনা নিয়ে পুরো বইটা পড়ে শেষ করেছি। আর ১০ পেজ, আর ৫ পেজ করতে করতে এক নিমিষে ১২০ পেজ শেষ করে ফেলেছিলাম। বইটার গল্প কাল্পনিক আর সত্যের মিশ্রণ। ন্যায় অন্যায়, দেশপ্রেম, সংখ্যাগরিষ্ঠ আর সংখ্যালঘুর সংঘাত, ক্ষমতা আর সবকিছুর মাঝে একটু একটু করে দানা বাঁধা জঙ্গীবাদ এই বইয়ের গল্প। অনেক জায়গা ছিল মুগ্ধ হয়ে পড়েছি শুধু, কিছু জায়গায় অবাক হয়ে গিয়েছি, কিছু জায়গা বিশ্বাস ই করতে পারিনি যে এমনও হয়! লেখকের দুর্দান্ত লেখনী, প্লট লেখার ক্ষমতা এত অসাধারণ। এক মূহুর্তের জন্যও মনে হয়নি বই রেখে অন্য কিছু করি। (তব্ব করতে হয়েছে ) "এই যে এতগুলো নারী-পুরুষকে ধরে এনেছেন, একটা গ্রাম জ্বালিয়েছেন, হত্যা করেছেন কিছু নিরীহ মানুষ, ভাবছেন গ্রেটার গুডের দোহাই দিয়ে আপনি নিজেদের স্বান্তনা দিতে পারবেন? না দাদা, এসবই জঙ্গীবাদ কার্যক্রম। একটা ইউনিফর্ম দিয়ে পাছা ঢাকলেই তা হালাল হয়ে যাচ্ছেন" "ক্যাম্পাসেএ মান ইজ্জত রাখার জন্য অনেক কিছুই স্বীকার করতে রাজী হয়নি তৎকালীন ছাত্রছাত্রী। ভেবেছে এটাই ক্যাম্পাস। দিন এভাবেই যাওয়া উচিত" এই দুইটা লাইন এত বেশি ভালো লেগেছে।
তবে অভিযোগ কিছু আছে। প্রথম অভিযোগ বাতিঘর এর প্রতি। তারা কয়েকটা জায়গায় খুবই silly কিছু টাইপিং মিসটেক করেছে। বানান ভুল না, টাইপ করে চেক না করায় এই ভুলো গুলো হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগ লেখকের প্রতি মুরং ইয়াং কেন "সাহাব" বলে সম্বোধন করল? আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে এটা মনে হয়নি সঠিক রিপ্রেজেন্টেশন। তারা স্যার বা সাহেব বলে সাধারণত। তবে আমি ভুল হতে পারি। হয়ত লেখককে কেউ কখনো এভাবে ডেকেছে।
দুইটা ভিন্ন ধারার কাহিনী চলে গেছে সমান্তরালে। এক কাহিনীর মূল চরিত্র গুপ্ত সঙ্ঘ জাদুঘরের দুই হোতা। তুমুল প্রতিভাবান দুই ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র, ঘুণে ধরা সমাজকে বদলে দিতে তৈরি করলো 'জাদুঘর।' কীভাবে এই দুই চরিত্রের পরিচয়, জাদুঘরের শুরু, এক্সিকিউশন ক্রমান্বয়ে বলা হয়েছে।
অপর কাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে লুকিয়ে থাকা এক ভাড়াটে খুনীর। রকিব নামের এই লোক হঠাৎ করেই আবিষ্কার করলো সে কীভাবে কীভাবে যেন রাঙামাটি চলে এসেছে আর কেন এসেছে, কিংবা পেছনের কোন স্মৃতি কিছুই তার মনে নেই। যেহেতু পাহাড়ে বাঙালি আর আদিবাসীদের দ্বন্দ্ব স্বাভাবিক একটা ঘটনা, কাজেই রকিব পরিণত হলো এক লাভজনক ঘুঁটিতে।
ব্যক্তিগতভাবে জাদুঘরের কাহিনীর চাইতে পাহাড়ি কাহিনীটা আমাকে টেনেছে বেশি। ঘুণে ধরা সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে বন্দুক হাতে নেয়ার কাহিনী এর আগেও বিভিন্ন উপন্যাসে এসেছে। কিন্তু এই উপন্যাসের মূল সম্পদ পাহাড়ে শান্তির নামে আসলে কী চলছে তার একটা খন্ডচিত্র। আর কিছুর জন্য যদি লেখককে ধন্যবাদ না ও দেই, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর উপর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যে নির্মোহ বর্ণনা তিনি দিয়েছেন তার জন্যই তিনি একশোবার তালি পাবেন। এবং এই লেখার যদি পঞ্চাশ ভাগও সত্যি হয় তাহলে একজন বাঙালি হিসাবে তা আমাদের জাতির জন্য লজ্জার।
দুই পাতা পর পর রগরগে সেক্সের বর্ণনা একটুও ভালো লাগেনি। উপন্যাসটা একটানা পড়ে গেলে রীতিমতো অসুস্থ আর ক্লান্ত লাগে এসব পড়তে।
সবমিলিয়ে উপন্যাসটা বেশ ভালো। অ্যাকশন, ট্যুইস্ট, টেকনোলোজি, পলিটিক্যাল ইস্যু খুব ভালো উঠে এসেছে। কাহিনী আরেকটু সংক্ষিপ্ত হলে আরো ঝরঝরে লাগতো।
বইটার নাম দেখে খুব একটা বেশী কিছু অনুমান করা যায় না৷ নামের কারনেই হয়ত পড়ি নাই এদ্দিন। কিন্তু কেপির অন্যান্য বই পড়ে এটা পড়ার আগ্রহ জাগল মনে। তাই তুলে নেয়া।
অন্যায় আর অবিচার জিনিসটা জ্ঞানবুদ্ধি হওয়ার পরেই আমরা সবাই বুঝা শুরু করি। আর আমার ধারণা ছোট থেকে সব মানুষই ন্যায় বিচারের পক্ষেই থাকে। বয়স হবার সাথে সাথে আমাদের স্বার্থ চলে আসে আর তখন আমরা হয় বিচারবুদ্ধির অবনমন করি অথবা মেনে নেই অন্যায়গুলা। আমাদের ন্যায়বিচারের ধারণা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই সবচে পরিনত পর্যায়ে থাকে বলেই আমার ধারণা। কারণ তখন খাই অন্যের কামাই, মস্তিষ্ক থাকে পরিনত। বড় বড় লেকচার দিতে মুখে বাজে নাহ। এতগুলো প্যাচাল পাড়ার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এইটা বুঝা, কে কখন কোন কাজটা করতে পারে৷ এই গল্পের নায়ক পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে, তুখোড় মেধাবী কিন্তু আবেগ কম বা বলা যায় অন্যরকম। তা এই ছেলে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন অন্যায় অবিচার রুখে দিতে তার বন্ধু অর্ণবের সাথে মিলে দাড়া করায় একটা সিস্টেম। ওয়েববেইসড এমন সিস্টেমে সমমনা মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করতে থাকে। আর ভয়াবহ শাস্তি দিতে থাকে অন্যায়কারীদের। প্রথমে ক্যাম্পাস আর পরে পুরো দেশকেই নিয়ে আসে টার্গেটে।
উপন্যাসের মূল থিম এইটাই। বড্ড সরল সাধারণ হয়ে গেল বিষয়টা। আসলে ভিতরে অনেক প্যাচ। বইটা পড়লে বুঝা যায় আমাদের নায়ক অনেক বিচিত্র। সে কালবেলার অনিমেষের মত আইডোলজির নিয়ে যুদ্ধে নামে নাই। বইয়ের ন্যারাটিভ অনুযায়ী ক্লিনিক্যালভাবে সে একজন সাইকোপ্যাথ। কিন্তু আমরা জেনারেলি সাইকোপ্যাথকে যেভাবে দেখেছি, এ এমন নয়। অন্যান্য সাইকোপ্যাথের নৃশংসতা নিস্পাপের দিকে, আর এর নৃশংসতা অপরাধীর দিকে। অবশ্য আমার জানামতে সাইকোপ্যাথরা প্রেমে ভালবাসায় পড়ে না। এ আবার তমালিকার প্রেমে হাবুডুবু খাইল। আবার সাইকোপ্যাথরা খুব একটা ভুলভাল করে না। সব প্লানই খুব হিসাব করে নেয়। সে হিসেবে রিসোর্টের হামলাটা জাস্টিফায়েড নাহ। আমার মনে হল নায়ক একটা ভয়ংকর বুদ্ধিমান সোসিওপ্যাথ। সে যাই হোক, এই উপন্যাসটা ব্যতিক্রম এদিকেই। ভিন্ন দুইটা জনরাকে এক করে একটা বিশাল গল্প ফাদা হয়েছে। সবদিক থেকে চিন্তা করলে বইটা আনন্দদায়ক। পড়তে বিরক্ত কখনই লাগে নাই। চুম্বকের মতই আটকে রেখেছিল। অনেকে রিভিউ পড়ে মূল টুইস্ট ধরে ফেলতে পারে বলে গল্পের প্লট সম্পর্কে আর অধিক কিছু না বলাই ভাল। আর হ্যাঁ, বইটা একটু বড়দের। না মানে শুধু যৌনতার দিকে নয়, নৃশংসতার দিকেও।
জ্বালাময়ী ভাষণের সম্পৃক্ততা বজায় রাখা আগুনঝরানো কোনো বই─শেষ কবে পড়েছেন? যে বইয়ের পাতায় পাতায়─ঘুণাক্রান্ত সমাজের অপরিশোধিত আখ্যান এবং শত কিংবা সহস্রাধিক লাঞ্ছনা-ব্যঞ্জনা সহ্য করা একটি জাতির বেঁচে থাকার অমলিন সংগ্রামের গল্প লেখা রয়েছে? যদি মনে করতে না পারেন; তবে অসুবিধা নেই। লেখক কেপি ইমনের ‘জাদুঘর পাতা আছে এই এখানে’ আপনার ভেতরে নিষ্ক্রিয় হওয়া অগ্নিকে আবারও উস্কে দিতে এমন একটি বইয়ের রচনা করে বসেছেন।
জাদুঘর পাতা আছে এই এখানে রক্তের ঝিকিমিকি আঁকা যেখানে...
যদি ভাবেন শুধু রক্তের খেলা আর সংগ্রামের গল্প লিখতেই লেখকের কালঘাম বেরিয়ে একাকার অবস্থা হয়েছে─এমনটা নয়। সমাদৃত শান্তিরক্ষা বাহিনির সুনামে আলোকিত অবয়বের বিপরীতে সবুজে ঘেরা রাজ্যের অন্তরালে পাশবিক উৎপীড়নে লুকানো গল্প─মিথ হয়েও তা যেন বহুলাংশে সত্য। লেখক এক শোষিত সমাজের অন্ধকারাচ্ছন্ন আবহকে আলোকিত করার সংকল্প নিয়ে─ঘুণেধরা এই সমাজের অরাজকতার যত আঁতুড়ঘর ভেঙে দিতে তৈরি করেছেন এমন একটি জাদুঘর।
এই জাদুঘরে পরিত্যক্ত কোনো স্মারক বা স্মৃতি সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত হয় না। হয়─সমাজের যত অনিয়ম, অসংগতি, অনাচার ও অপব্যবহার মেরামত করার কাজে। তবে কি জাদুঘর-এর পেছনে রয়েছে এমন কেউ─যে সর্বজনমান্য? যার অভিজ্ঞতা আর আত্মবিশ্বাসের প্রবলতা অন্য যে-কোনো ক্ষমতাধর ব্যক্তি থেকে বহুগুণে কাম্য?
এই দেশে যেসব খবর নিয়ে কেউ কেউ মাথা ঘামায় আবার অনেকে ঘামায় না; তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে─উপজাতিদের ওপর হামলা এবং এর পেছনে মূল হোতাদের কারসাজি। টুকরো টুকরো করে যে খবর এধার-ওধার ঘুরে বেড়ায়─তাতে চোখ বুলানোর বিশেষ প্রয়োজন কারও হয়তো পড়ে না; এমনকি তা জানতে আকর্ষণ বোধও জাগ্রত হয় না। কারণ, এই দেশে ‘ভাইরাল টপিকের’ ভাণ্ডার অফুরন্ত। সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার এই দেশে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা; একই ঘটনা যখন উপজাতিদের সাথে ঘটে─তা নিয়ে আন্দোলন বা সোচ্চার হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা খুব একটা প্রকটিত যেমন না; তেমন প্রসারিতও না। তারা যেন দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়েও পরজীবংশ (পরজীবীর বংশ)। অথচ স্বাধীনতার কথা বললে, সবার সমান অধিকার রয়েছে এই দেশের প্রতি। কিন্তু বলির মঞ্চে, মাথা শুধু তাদেরই পেতে দিতে হয়। ─কেন?
স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে এই দেশের হালহকিকতের অবস্থার উন্নতি কতটা হয়েছে; তা হাতে গুনে বলে দেওয়ার মতো। উন্নতি হয়েছে যতটা─অবনতি হয়েছে তার চেয়েও বেশি। সত্যের মৃত্যু না থাকলেও; এই দেশে সত্য নিয়ে কিছু বললে─তিরোহিতের ঘণ্টা বাজতে শুরু করে। যার বহু রূপ-কাণ্ড ইতোমধ্যে সমাজ স্বীকৃত। বেশ গভীর আলোচনা মনে হলেও; জাদুঘর বইতে রয়েছে এরও অধিক কিছু। এই বইয়ের আলোচনা করতে বসলে প্রথমে যে বিষয়গুলো নিয়ে সবাই লিখবে বা লিখেছে তা হলো─দুটো সময়সারণির যুগপৎ মেলবন্ধনে প্রথম ও উত্তমপুরুষে বর্ণিত অতীত ও বর্তমানে স্রোতের বিপরীতে চলা কাহিনি। অথবা জাদুঘর নামক গুপ্তসংঘ─সমাজের কোন কোন বিষয়ে পরিবর্তনের সংকল্প নিয়ে কার্য সম্পাদন করে যাচ্ছে─তা নিয়ে অল্পবিস্তর আলোচনার কথাও ক্লেশহীনতায় উঠে আসবে। চরিত্রায়ন এই উপন্যাসে অনবদ্য। মনস্তাত্ত্বিক বাক্যালাপ নিয়ে লিখতে গেলে—এই লেখা বৃহত্তর থেকে বৃহত্তম পর্যায়ে পৌঁছোবে। রহস্য-রোমাঞ্চ জনরায় পাঠক যখন তীর্থের কাকের মতো কোনো প্রবল ধাক্কার আশায় বসে থাকে─তাদের চেহেরায় খুশি বজায় রাখতে লেখক সেই যজ্ঞেরও আয়োজন করে রেখেছেন। মনস্তাত্বিকের খেলা─এই উপন্যাসের শেষ খেলা হিসেবে বিবেচিত হবে; যা আগামীতে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তবে এই বই নিয়ে যে ব্যাপক মারামারি ও হানাহানির কথা প্রচলিত; তা কি অমূলক?
ক্লান্ত দেহে শ্রান্ত হওয়ার কোনো বাণী; লেখক অনুসরণ করেছেন কি-না জানা নেই। জাদুঘর উপন্যাস পড়তে গিয়ে অনুভব করেছি; এই বইয়ের আগাগোড়া ক্লান্তি-হীন এক লেখকের উজ্জীবিত হওয়ার বিরামহীন বাক্যের সমারোহে বেষ্টিত। যেখানে শব্দেরা টিন পরা চশমা ভাঙার আন্দোলনে নামে; বাক্যেরা রাজপথে একত্রিত হওয়ার কাব্য রচনা করে। সেই কাব্য রচয়িতা হচ্ছে উক্ত উপন্যাসের মূল নায়ক।
বাংলাদেশের অনিয়ম আর অবিচারের সমাজ বদলে দেওয়ার জন্য নানান মুনির আছে নানান মত। কেউ মনে করেন গণতন্ত্রের সঠিক প্রয়োগ জনগণকে এ-থেকে মুক্তি দেবে, কেউ ভাবেন ইসলামি প্রজাতন্ত্রই একমাত্র সমাধান। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই ছাত্র মনে করলো ভিন্ন কিছু। তাদের বিশ্বাস, নষ্ট হয়ে যাওয়া সিস্টেমকে একেবারে ধ্বংস করেই গড়ে তুলতে হয় নতুন কিছু। এই দুজন ছাত্রের একজন অর্ণব; আরেক জন ‘আমি’। কে এই আমি? এই আমি হতে পারে লেখক, এই আমি হতে পারেন আপনি অথবা এই আমি হয়তো আমি-ই। লেখক এই আমি’র একটা নাম দিয়েছেন; উপন্যাসের শেষ পর্যায়ে যা উন্মোচিত হয়। তবে এই আমি’র সাথে যে সখ্যতা ও বন্ধুত্ব─উপন্যাসের শুরু থেকে তৈরি হয়; তা একেবারে শেষ পর্যন্ত অবধারিত থাকে।
‘যম্মিন দেশে যদাচার’ প্রবাদের ব্যবহার জাদুঘর উপন্যাসে বেশ কয়েক বার করা হয়েছে। পুরো বইয়ের এই একটি প্রবাদ বাক্য নিয়ে কেন লিখতে বসলাম; তা আপনার ভাবনায় ঘাই নাও মারতে পারে। যা নিয়ে কোনো পাঠক কিছুই বলেনি তা হলো─লেখক যে বিষয় নিয়ে জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেছেন; তার সাথে একমত কি-না। শুধু লেখা ভালো, চরিত্র গঠন দুর্দান্ত, দয়ামায়া-হীন শব্দ ও রাখঢাক ব্যতীত বাক্যের ব্যবহার নিয়ে প্রশংসার ফুল-বৃষ্টি করলেও; মতামতের একাত্মতা অথবা বিরোধিতা তেমন কাউকে করতে দেখলাম না। শুধুমাত্র মনস্তাত্ত্বিক খেলা, নগ্ন সত্য উন্মোচন, অবহেলিত জীবন, ভালোবাসার কাঙালপনাকে বড়ো করে দেখানো এই উপন্যাসের একমাত্র উদ্দ্যেশ্য ছিল না। পুরো সমাজকে যদি বদলাতে হয়, সর্বপ্রথম প্রয়োজন─সংগ্রাম। সংগ্রাম হবে আর রক্ত ঝরবে না; তা কী করে হয়? তবে কি এই সংগ্রামে─নিরীহ মানুষের রক্তে রাঙানো মঞ্চের কোনো যৌক্তিকতা আছে? যুদ্ধ যে দেশে হোক না কেন; নিরীহ মানুষের বলিদান সেখানে অনস্বীকার্য। এই সত্য লুকানো না। বরং এটাই বাস্তবতা। বাস্তবতার প্রত্যকটি বিন্দু জাদুঘর উপন্যাসে নিহিত।
যে দেশে আমাদের বসবাস তাও রক্ত দিয়ে অর্জিত। আগামীতে কোনো সংগ্রামের আয়োজন হলে─রক্ত দিয়ে সেই মঞ্চের ক্যানভাস রাঙানো হবে। কোনো আন্দোলনের ডাক দেওয়ার বিপরীত অর্থ—রক্ত ঝরানো। হোক সেটা শহরে, গ্রামে অথবা কোনো পাহাড়িয়া স্থানে। অদ্ভুত ভাবে এই উপন্যাসে শহরের বাতাবরণ যেমন রয়েছে; তেমন পার্বত্য অঞ্চলে ঘটে যাওয়া নানান রোমহর্ষক ঘটনার আবির্ভাব হয়েছে। দুটো গল্প পৃথক্কৃত হলেও সামঞ্জস্যতা নির্ণীত।
জাদুঘর কি সব পাঠকের পড়ার উপযোগী বই?
যেসব পাঠক উদারনীতিক সমীকরণে বিশ্বাসী─তাদের জন্য জাদুঘর অবশ্যই পাঠ্য। তবে রাষ্ট্রের তিক্ত সত্য ধারণ না করতে পারা স্তাবক এবং সুশীল ধারায় বিশ্বাসি পাঠকগণ─উক্ত বইয়ের সামীপ্যে না থাকায় উত্তম। তবে, একটা কথা─‘আস্কে আমার মন ভালো নেই’-এর মতো বলব না। বলব─প্রত্যেক রুচিবাগীশের এই উপন্যাস পড়া প্রয়োজন। সমালোচনা করার জন্য হোক অথবা যুক্তিতর্ক দিয়ে বাক-বিতন্ডা করার প্রয়াসে; এই বইয়ের স্বাদ নেওয়া উচিত বলে মনে করি।
জাদুঘর শুধু দেশের সমাজকে বুড়ো আঙুল দেখানোর ডামডোলে সীমাবদ্ধ থেকেছে─এমনও না। এই বইয়ের কালো অধ্যায়গুলোতে সংগ্রামের কথা থাকলে, গভীর আলাপনে ভালোবাসার সাথে মনস্তাত্ত্বিক এক যুদ্ধের ভিন্ন রূপের অবতারণা ঘটেছে। যেমন─
❝চেহেরা বা মাসলের সাথে একটা মানুষ দশ ঘণ্টা বসে থাকতে পারে না। তাকে বসতে হয় মানুষটার মস্তিষ্কের সাথে। এই মস্তিষ্কটা যদি গাধা হয়ে থাকে, তাহলে তার সাথে দীর্ঘ সময় বসে থাকা যায় না।❞
মানসিক শান্তি-অশান্তির অনেক ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের সরব উপস্থিতি যে একমাত্র কাম্য──তা ঘটা করে বলে দিতে হয় না। এই নিয়ে উপন্যাসে আরও যৌক্তিক কিছু আলোচনা রয়েছে। জাদুঘর যতটা গল্প নির্ভর ঠিক ততটাই সংলাপ নির্ভর। কঠিন সব সংলাপ। শক্ত কাঠির খোঁচা খেলে অনুভূতি যেমন চাগিয়ে ওঠে, সংলাপ পড়লে আপনার অবস্থা ঠিক তেমনই হবে। কঠিন সংলাপের উদাহরণ টেনেছি ভিন্ন একটি কারণে। কথায় কথায় গালি দেওয়া যে বাঙালিদের অতি প্রিয়─তা যেন আরও বেশি করে উপলব্ধি করতে পেরেছি উক্ত উপন্যাস পড়ে। শুধু এই একটি জায়গায় আরেকটু প্রভেদের প্রয়োজন ছিল।
আলোচিত হোক বা সমালোচিত; সিনেমার মারামারি হোক বা বইয়ের─এই নিয়ে আলোচনা করা অর্থহীন মনে হয়। তবে এমন অভাবনীয় কিছু বইয়ের পাতায় থাকলে মানসনেত্র দেখতে বড়ো ভালো লাগে। সহিংসতা─সমর্থন করার মতো কোনো বিষয় না হলেও; সহিংসতা ছাড়া সবকিছু যেন অপূর্ণ। জাদুঘরে যদি এমন সহিংসতা না থাকত; তবে তা অপূর্ণ থেকে যেত। তাই নয় কি?
সাদৃশ্যতা নিয়ে সমালোচনা কেন হলো?
‘কিরি’ নাম ‘ডেথ নোটের’ ‘কিরা’ থেকে এসেছে; গল্পের সমাপ্তি ‘ফাইট ক্লাব’-এর মতো মনে হয়েছে। এমন ধারণা না আমার জন্মেছে না মনে একবার হলেও উঁকি দিয়েছে। অথচ ডেথ নোট আর ফাইট ক্লাব দুটোই আমার দেখা। একটি বই পড়তে বসলে; যাবতীয় সব চিন্তাভাবনা এক পাশে রেখে পড়া উত্তম। নাহয় এমন অনেক কিছু মনে হতে পারে। আর যদি কিয়দংশ মিলকরণ থাকে; তবে তা কাকতালীয় মানতে আমার নারাজ না কেন? বারবার অনুপ্রাণিত বা নকলের মতো কীওয়ার্ড ব্যবহার করতে হয় কেন?
প্রাচীন কালে যুদ্ধের হাতিয়ার ছিল─তীর, ধনুক আর তলোয়ার। আর বর্তমানে গোপনাস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র-সহ যাবতীয় অত্যাধুনিক যুদ্ধ সামগ্রী। উক্ত উপন্যাসে এই অস্ত্র ব্যবহারের নৈপুণ্যতা লক্ষণীয়। যদি এই বইয়ের সমালোচনা নিয়ে আলোচনা করতে হয় তবে─প্রত্যকটি বিষয় নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা যাবে। সেদিকে আপাতত যাচ্ছি না। কিন্তু কোনো পাঠকের যদি এই বই নিয়ে বিশদ আলোচনা করার খায়েশ জাগে; তবে তাঁকে স্বাগত।
বইয়ের সম্পাদনা প্রসঙ্গে আসলে, খুব বেশি ত্রুটি চোখে না ধরা পড়লেও বানানের কারণে অসুবিধা ভালোই হয়েছে। পরবর্তী সংস্করণে এমন ত্রুটিবিচ্যুতি কমিয়ে নিয়ে আসা ভালো। জাদুঘর সিরিজের দ্বিতীয় বইয়ের প্রচ্ছদের সাথে প্রথম বইয়ের প্রচ্ছদ পরিবর্তন করাতে ভালো হয়েছে। যদিও এখন এসব প্রচ্ছদ, বাঁধাই জ্বালাতন করে না। কিন্তু ভেতরের সম্পাদনা আর বানান পরিমার্জিত থাকা প্রয়োজন।
উক্ত বইয়ের বিষয়বস্তু এতই বেশি যে, আলোচনার জন্য বিশালাকার যযাতির প্রয়োজন। যারা সিরিজটি পড়তে আগ্রহী বা দ্বিধাদ্বন্দে ভুগছেন; তাদের উদ্দেশ্যে বলব—যত দ্রুত সম্ভব শুরু করেন। মৌলিক নন-ফিকশনের সমম্বয়ে এমন ফিকশনমূলক সাহসী কাজ একমাত্র কেপি ইমন দ্বারা সম্ভব।
বইটি বাতিঘর প্রকাশনী থেকে ২০২০ সালের ফেব���রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়েছে। প্রচ্ছদ করেছেন বাপ্পী খান। মুদ্রিত মূল্য ৫০০ টাকা মাত্র।
এই বইটা পড়ার অপেক্ষা অনেকদিনের! অবশেষে পড়া হলো এবং আশাহত হইনি। কেবল শেষের দিকে গিয়ে মনে হলো, হুট করে যেন শেষ হয়ে গেল! গল্পটা আরেকটু শোনার বাকি ছিল, আর লেখক যেন তাড়াহুড়ো করে মাঝপথে সেটা থামিয়ে দিল।
যাইহোক, আমি থৃলারপ্রিয় নই কিন্তু এই গল্পটা আমাকে নতুন করে যেন থৃলার গল্পের প্রতি ভালোলাগা তৈরি করল। তবে এই ভালোলাগার চেয়েও, বই পড়ার সময় সবচেয়ে বড় যে অনুভূতিটা হচ্ছিল তা হলো আমি যেন আমাদের সময়ের কথা, আমাদের কথা পড়ছিলাম! এমনটা অন্য কোনো বই পড়ার ক্ষেত্রে হয়নি। সাথে আরেকটা সুন্দর অনুভূতি ছিল! মনে হচ্ছিল, আমি লেখকের কাছ থেকে একটা গল্প শুনছি, রুপকথার গল্প নয় একটা সত্য-বাস্তব গল্প! সবমিলিয়ে অসাধারণ একটা অনুভুতি।
কাহিনী সংক্ষেপ : কোনো একটা সিস্টেমে তা একটা ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানের সিস্টেম হোক বা রাষ্ট্রের মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের,অর্ডার যখন নষ্ট হয়ে যায়,তখন সিস্টেমটার ধীরে ধীরে ঘুণে ধরা একটা কাঠের আসবাবের মতোই ভেঙে যেতে থাকে।ঘুণে ধরা আসবাবের ক্ষেত্রে কী হয়?প্রথম প্রথম কিন্তু চোখে পড়ার মতো ক্ষতি হয় না।হয়তো আপনার ব্যবহার্য আসবাবটির আশেপাশে সামান্য পরিমাণ কাঠের গুঁড়ো পড়ে থাকতে দেখেন আপনি।নিস্তব্ধ ��াতে হয়তো মৃদু আওয়াজ পান।কিন্তু তা আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় না।কারণ ঘুণপোকা তো আর কাঠঠোকরা পাখি নয় যে জোরে জোরে কাঠ ঠুকরে পাড়া জাগিয়ে তুলবে।ঘুণেরা কাজ করে বড় নিঃশব্দে।নীরবে।নিভৃতে।এতোটাই শান্ত তাদের কাজের প্রক্রিয়া যে,এক -আধবার খেয়াল করলেও তাদের কাজ বন্ধ করার জোরালো তাগিদ অনুভব করেননা আপনি ভেতর থেকে।আজ করবো,কাল করবো বলে শেষটায় যখন তাদের নিধনের উদ্যোগ নিতে দেয়ালের সাথে লাগোয়া আসবাবটি দেয়াল থেকে সরিয়ে আনেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দেখে মাথায় হাত পড়ে আপনার।কারণ বাইরে থেকে এর আন্দাজও করতে পারেননি আপনি।তাদের কাজের ধরণটাই এমন।ছোট ছোট আঘাতে বড় সগৌরবে দাঁড়ানো নির্মাণকেও বিদ্রুপাত্মক ভাবে টলিয়ে দিতে পারে তারা। রাষ্ট্রযন্ত্রেও যখন এমন ঘুণধরা শুরু হয়,তখন প্রশাসন কী সাধারণ নাগরিকের চোখে ধরা পড়ে না।পড়লেও বর্তমানে তা হুমকির কারণ নয় ভেবে এড়িয়ে যান তারা।এভাবে অলক্ষ্যে থাকা এই কার্যক্রমটির ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রের সিস্টেমটা ধসে পড়তে থাকে একটু একটু করে।একটা পর্যায়ে এতোটাই ধসে পড়ে যে সেটাকে সিস্টেমেটিক উপায়ে আর চেক দেয়া সম্ভব হয় না।
বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই ছাত্র রাষ্ট্রের এ সমস্যার মোকাবিলার জন্য ভাবলো এক নতুন মোড়কে মোড়া এক পুরনো পদ্ধতি যা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তাদের হাতে লাগলো বহু দোষী - নির্দোষী মানুষের রক্ত।কিছু সাফল্যও পেল তাদের হিসেবে মতো। বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্বের নানা মহলেও আলোড়ন তুললো তারা। তারা কী পারবে ঘুণে ধরা সিস্টেমকে উপড়ে ফেলতে বা শোধন করতে? নাকি নিজেরাই ধসে যাবে শেষটায় পুরো প্রক্রিয়াটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পেরে?
জানতে হলে পড়তে “জাদুঘর পাতা আছে এই এখানে”।
ব্যক্তিগত মতামত : যারা ভূমিপ্রকাশ থেকে বেরোনো দিবাকর দাসের লেখা ‘হরবোলা’ নামক এসপিওনাজ থৃলারটি পড়েছেন,তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আর পার্বত্য এলাকার মধ্যকার রসায়নের মুদ্রার নিরাপদ পিঠের চিত্রটা সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন।আমার মতে “জাদুঘর পাতা আছে এই এখানে” আপনাকে মুদ্রার অপর পিঠটা সম্পর্কে ধারণা দেবে, যেটা হয়তো জানতে ভাল লাগবে না আপনার। উপন্যাসটা আমাকে আগে পড়া তিনটা উপন্যাসের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।সমরেশ মজুমদারের ‘গর্ভধারিণী’, গ্রন্থকারের নিজের একটা উপন্যাস “যে হীরকখন্ডে ঘুমিয়ে কুকুরদল” আর চাক পালাহনিউকের “ফাইট ক্লাব”। লেখকের “যে হীরকখন্ডে ঘুমিয়ে কুকুরদল” অপেক্ষা এ উপন্যাসটির লেখনী আমার কাছে তূলনামূলকভাবে অধিকতর ম্যাচিউর মনে হয়েছে।ছাঁচ বা প্যাটার্নটাও ভালো লেগেছে উপন্যাসের।বিশুদ্ধ সাসপেন্স কতোটা ছিল তা সম্পর্কে আমি নিশ্চিত নই।তবে টুইস্টের কমতি ছিল না। যৌন ব্যাপারগুলো প্রাসঙ্গিক মনে হয়নি,মনে হয়েছে সেগুলো জাস্ট নিজের ধ্যান-ধারণাগুলো জোর করে ইন্জেক্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে। হীরকখন্ড যাদের ভালো লেগেছে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর “বললে চাকরি থাকবে না” লেভেলের একটা অধ্যায় জানতে আগ্রহীদের প্রতি আমন্ত্রণ থাকবে উপন্যাসটি পড়ার।
লেখক পরিচিতি : রাজশাহীতে জন্মানো, ঢাকায় বেড়ে ওঠা এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগ পড়ে আসা লেখক কিশোর পাশা ইমন বর্তমানে অগমেডিক্স বাংলাদেশে কর্মরত আছেন মেডিকেল হেলথ কেয়ার প্রফেশনাল হিসেবে।
লেখকের নিজস্ব ওয়েবসাইট Kpimon.com এ তার সকল লেখালেখি সম্পৃক্ত তথ্য এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লেখা পাওয়া যাবে।
ক্যাটাগরি : উপন্যাস
প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০২০
সর্বস্বত্ত : লেখকের
প্রচ্ছদ : বাপ্পী খান (প্রচ্ছদ খুব একটা ভালো লাগেনি)