Jump to ratings and reviews
Rate this book

হরবোলা

Rate this book
তিনটা ব্যর্থ অপারেশন আর তিনটা শট শরীরে নেয়া আর্মির গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ শাখার এসপিওনাজ এজেন্ট মাহতাবকে শাখা প্রধান সুধীর দত্ত দিলেন এক নতুন কেস।
দুইজন আনকোরা সাথীকে নিয়ে তাকে বের করতে হবে ঢাকায় ড্রাগসের ব্যবসায় আমদানি হওয়া নতুন র্যাকেট কারা? কেন হাবিব খানের মতো লোকের নেটওয়ার্ক কাজ করছে না? ভেতরের কেউ কি বাইরের শক্তির সাথে যুক্ত?
পাহাড়ের ভয়ংকর আতঙ্কবাদী বিজন সাহু। যার তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও কৌশলের কাছে সেনাবাহিনী হেরে যাচ্ছে বারবার। তার লক্ষ্য এবার সমতল। পারবে কি কেউ তাকে থামাতে?
মঞ্চ প্রস্তুত। নাটকের চরিত্ররা সবাই নিজ নিজ বেশে প্রস্তুত। এবার কেবল পর্দা ওঠার অপেক্ষা।
পাঠকদের স্বাগতম এই অন্ধকার ইতিহাসে—যার কথা কোনো বই অথবা রেকর্ডে নেই; যার উদাহরণ কেবল পড়ানো হয় এসপিওনাজের উঁচু পর্যায়ের ট্রেনিংয়ে।

160 pages, Hardcover

First published January 16, 2020

2 people are currently reading
98 people want to read

About the author

Dibakor Das

16 books39 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
15 (15%)
4 stars
44 (44%)
3 stars
36 (36%)
2 stars
3 (3%)
1 star
2 (2%)
Displaying 1 - 30 of 35 reviews
Profile Image for Rohun.
120 reviews58 followers
March 14, 2021
খুব ই প্রমিসিং স্টার্ট... প্রমিসিং প্লট... প্রমিসিং বিল্ডাপ... সবুজ পাহাড়ের দেশে বাস করা মানুষের গল্প... তারপরে মাঝে এসে ঝুলে যাওয়া এবং শেষের অধ্যায়ের কাজ কর্মে কিছুটা সমস্যা- এসব নিয়ে এপাড় বাংলার সম্পূর্ণ দেশীয় প্রেক্ষাপটের উপর ভিত্তি করে দেশীয় স্পাই থ্রিলার হরবোলা।
Profile Image for Rafia Rahman.
418 reviews220 followers
February 4, 2023
বই: হরবোলা
লেখক: দিবাকর দাস
জনরা: স্পাই থ্রিলার
প্রচ্ছদ: সজল চৌধুরী
প্রকাশনী: ভূমিপ্রকাশ
প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০২০
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬০
মুদ্রিত মূল্য: ২৪০/-

❝উত্তরাধিকার তোমরা যেমন সৃষ্টি করো তেমনি আমরাও তৈরি করি আমাদের উত্তরাধিকার। আমাদের লড়াই কোনোদিন শেষ হবে না।❞

হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে ড্রাগসের চোরাচালান। শুধুই কী ড্রাগস নাকি আড়ালে চলছে অন্য কোনো ষড়যন্ত্র? তরুণ এজেন্ট মাহতাবের হাতে আসে গোপন কেস। এজেন্টদের নেটওয়ার্ক ব্যর্থ হচ্ছে বারবার! ভেতরের কেউ বিশ্বাসঘাতকতা করছে না তো?

পাহাড়ের আতঙ্ক বিজন সাহু। একের পর এক হামলায় বিপর্যস্ত আর্মি বাহিনী। পাহাড়ের নতুন ত্রাস সুলতানের আগমনে কেঁপে ওঠে সবাই! আন্ডারওয়ার্ল্ড ডনদের লাশ পাওয়া যেতে থাকে। পাহাড়ের সুলতান ঢাকায় কেন?

থ্রিল, সাসপেন্স, একশন, কমেডির মিশেলে ঢাকা- চট্টগ্রামের গোপন মিশন নিয়ে দারুণ একটা প্লট। এজেন্ট মাহতাবের আন্ডারে কাজ শুরু করে একটা দল। অন্যদিকে চট্টগ্রামের অপারেশনও চলতে থাকে সমান তালে। কিন্তু চট্রগ্রামের ঘটনাগুলো যে বেশ কয়েকবছর আগের এটা বইয়ের মাঝামাঝি যেয়ে বুঝেছি।

বইয়ে বেশ কিছু চরিত্র রয়েছে। সিক্রেট মিশনের ছয়জন সদস্যের মধ্যে ফোকাস পেয়েছে তিনটি চরিত্র। জাকিরের অপারেশন নিয়ে যতোটা আলোচনা হয়েছে সে-তুলনায় মাহতাব- রাজপালের অনেক কম। রাজপালের অংশে তো আরও কম। শেষে এসে সুধীর দত্ত যে খেল দেখালেন! লেখকের গল্পবলার ধরন, বর্ণনা বেশ ভালো হয়েছে। বইয়ের শেষ অংশ সেরা। কিছু টুইস্ট প্রেডিক্টেবল হলেও উত্তরাধিকার নিয়ে যে টুইস্টগুলো চমকে দেওয়ার মতো। বইয়ের বলার মতো আরও একটা পয়েন্ট হলো, অপ্রয়োজনীয় আলোচনা তেমন চোখে পড়েনি। বেশ দ্রুত গতিতেই কাহিনী এগিয়ে গেছে। সমাপ্তি একটু বেশিই দ্রুত গতিতে টানা হয়েছে। লেখকের ❝মির্জাপুরে মহাতঙ্ক❞, ❝ছায়াবাজি❞ ও পড়া হয়েছে, ❝হরবোলা❞ এখনও পর্যন্ত সেরা কাজ লেগেছে। অল্প কিছু বানান ও নামে ভুল আছে। বইয়ের ওভারঅল প্রোডাকশন ও প্রচ্ছদ ভালো হয়েছে।
Profile Image for রি য়ে ন.
170 reviews25 followers
August 14, 2020
যতটা আশা করেছি তার থেকে ভালো ছিল। বিশেষ করে শেষ ধাক্কাটা বিদেশি উপন্যাসকেও হার মানিয়ে দেয়। যেভাবে শুরু হয়েছিল লেখক ইচ্ছা করলে বিশাল সাইজের একটা বই বের করতে পারতো। তা না করে ছোট সাইজের বেশ ভালো মানের একটা স্পাই থ্রিলার লিখতে সক্ষম হয়েছে।
Profile Image for Shaon Arafat.
131 reviews31 followers
February 13, 2020
মাহতাব সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট। কর্মজীবনে চুড়ান্ত ব্যর্থ। এ পর্যন্ত তিনটা মিশনে অংশ নিয়ে তিনটাতেই ডাব্বা মারছে। গুলিও খাইছে তিনবার। এই মাহতাবকেই দেওয়া হলো নতুন একটা কেস। মিশনে তার অধীনস্থ সঙ্গী হিসেবে দেওয়া হলো নিজ নিজ সেক্টরে সেরা তিনজন সিনিয়র অফিসার এবং সদ্য ট্রেইনিং ফেরত দুইজন আনকোরা এজেন্টকে।

কিসের মিশন? ঢাকায় হুট করে ড্রাগস আমদানি বহুগুণ বেড়ে গেছে। সম্পূর্ণ নতুন একটা সংঘবদ্ধ দল কাজ করছে এর পেছনে। সিক্রেট সার্ভিস কোন কূলকিনারা পাচ্ছেনা। তাদের এতো এতো ইনফর্মার, এতো শক্তিশালী নেটওয়ার্ক কোন কাজেই আসছে না। কিন্তু এভাবে চলতে দিলে তো হবে না! এদের থামাতে হবে! সিক্রেট সার্ভিস শাখা প্রধান সুধীর দত্ত আশংকা করছেন ব্যাপারটা শুধু ড্রাগস কেনা-বেচার না, বরং এর পেছনে আরও ভয়াবহ কিছু লুকিয়ে থাকতে পারে!

এদিকে পাহাড়ের ত্রাস বিজন সাহু সেনাবাহিনীর ঘুম হারাম করে দিচ্ছে। ভিতরে ভিতরে বড় কিছু প্ল্যান করছে, বোঝা যাচ্ছে। কি সেই প্ল্যান, যার জন্য সুলতানকে সে নিজের হাতে তৈরি করে নিচ্ছে?

বছর দুয়েক আগে লেখকের 'পঞ্চম' পড়ছিলাম। ভালো লেগেছিলো। 'হরবোলা'ও ভালো লেগেছে। একই রকম ভাল্লাগা। সমস্যাটা সেখানেই। পুরোপুরি একই রকম ভালো লাগার মানে হচ্ছে এই কয় বছরে লেখকের ডেভেলপমেন্ট শূন্য।

একের অধিক বই লেখা সাম্প্রতিক সময়ের থ্রিলার লেখকদের আমি প্রধানত বিচার করি দু'টি অবজারভেশনের মাধ্যমে। ১) তার মৌলিকত্ব এবং ২) তার তূলনামূলক সামগ্রিক উন্নতি। প্রথম ব্যাপারটাতে দিবাকর দাস বেশ সফলভাবে উতরেছেন। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রেক্ষাপটে 'প্রভাবমুক্ত' একটা মৌলিক স্পাই থ্রিলার লেখার চেষ্টা করায় উনাকে সাধুবাদ জানাতে হচ্ছে। দ্বিতীয় ব্যাপারটাতে যে ভালো করেননি, তা তো আগেই বলা হইছে। এবার আসি অন্য প্রসঙ্গে।

গল্পের পরিব্যাপ্তি খুবই ছোট। বড়জোর ৮০/৯০ পৃষ্ঠায় খুব ভালো ভাবেই শেষ করা যাইতো! এইটাকে ১৬০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়ার আসলে কোন দরকার ছিলো না। আর তাছাড়া বইটা পড়তে যেয়ে আমার বারবার ক্যান জানি মনে হইছে- লেখক যথেষ্ট স্পাই থ্রিলার আগে পড়েননি। এই স্টেটমেন্টকে আমি লজিক দিয়ে ঠিক প্রমাণ করতে পারবো না; মনে হইছে, তাই বললাম আর কি!

আমার আরেকটা অতি গুরুত্বপূর্ণ 'মনে হওয়া' হচ্ছে লেখক সম্ভবত বেশি তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে, সম্পাদনায় মনযোগী হতে পারেননি। অথচ একটা যে কোন ধরনের লেখাকে সফল করে তুলতে হলে, যে বিষয়টা সবচেয়ে জরুরী তা হচ্ছে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে সম্পাদনা।

দিবাকর দাস এসময়ের প্রচন্ড সম্ভাবনাময় একজন লেখক। উনার এই সম্ভাবনা যেন শেষ না হয়ে যায়, সে খেয়াল উনারই রাখতে হবে।
Profile Image for Joy Sarkar.
32 reviews3 followers
March 14, 2021
কল্যাণপুর ব্রীজের নিচে যে লোকটি ডাব বিক্রি করে সে আসলে ডাব ওয়ালা(!) নাও হতে পারে। গোপনে সে হয়ত আপনার প্রতিদিনের কাজকর্মের দিকেই নজর রাখছে। আদতে সে সরকারী গোয়েন্দা সংস্থার লোকও হতে পারে, আবার ভয়ানক কোন সন্ত্রাসী হতে পারে। আসলে হতে পারে অনেক কিছুই। আমাদের চির-চেনা ঢাকার বুকে আরও এক ঢাকা লুকিয়ে থাকে। সাধারণ মানুষ যার খোঁজ জানে না, আর যদি কেউ সে জগৎ এর খোঁজ জেনে যায় তার সামনে দুটো রাস্তা খোলা থাকে, সে জগৎ এ নিজেকে সারা জীবনের জন্য জড়িয়ে ফেলা নতুবা জীবন টাকেই বিসর্জন দিয়ে বসা। এক ওক জন এক এক ছদ্মবেশে আমাদের চারদিকে ছড়িয়ে আছে, হরবোলার মত।

শুরুতে গল্পে গতি কম ছিল, যদিও সময় এর সাথে তা পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। টাইম স্লট এর ব্যাপারটা ধরতে পেরেছি একেবারে শেষ এ এসে, এখানে আর একটু উন্নতি করা যেত। তবে শেষ এর টুইস্ট টা মারাত্মক ছিল। এই বই দিয়ে চোখ বন্ধ করে একটা ওয়েব সিরিজ বানানো যায়। সুধীর দত্তের ক্যারেক্টর টা বেশ ভালো ছিল। আর ক্লাইম্যাক্স এ সুতোর টান টা আর একটু ধীরে ধীরে ছাড়লে 🙂। পাঠক তো চাওয়ার কোন শেষ নাই।
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪.২
Profile Image for Shoroli Shilon.
172 reviews76 followers
March 23, 2023
বেশ প্রমিজিং স্টার্ট!

শুরুর দিকটা ঠিকঠা��� এগোচ্ছিলো। ক্যারেক্টর বিল্ডাপ থেকে প্লট, একদম শেষের টুইস্ট সবকিছুই ভালো ছিলো। এই জনরা আমার কায়দার না তবে খুবই ফার্স্ট পেসড হওয়াতে পড়ে মজা পেয়েছি। স্পাই থ্রিলার হিসেবে লেখক চেষ্টার যে কমতি রাখেনি সেটা বোঝা গেছে; কিছু ফিলোসোফিক্যাল কথাবার্তা বলেছেন সেটাও ভালো লেগেছে।

ভালো লাগেনি যেটা সেটা হচ্ছে কিছু কিছু সংলাপ অতিরঞ্জিত করা। আর এত প্রমিজিং স্টার্ট এর কেনো তীরে এসে তরী ডুবলো? পৃষ্ঠা সংখ্যা বাড়ালে বোধহয় আরেকটু ভালো হত! আর হ্যাঁ, প্লটটা একেবারে "সর্ষের মধ্যে ভূত" খোঁজার মতই। মিনিমাল প্রচ্ছদের এ বইয়ের প্রোডাকশন কোয়ালিটি খুবই ভালো! বানান ভুলজনিত সমস্যাও চোখে না পড়ার মতন!
Profile Image for Zahidul.
450 reviews95 followers
March 28, 2020
“The more identities a man has, the more they express the person they conceal.” ― John le Carré, Tinker, Tailor, Soldier, Spy

-
হরবোলা
-
সুধীর দত্ত, বাংলাদেশ আর্মির এক বিশেষ শাখার প্রধান। বেশ কিছুদিন ধরেই এক বিশেষ কেসের কুলকিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। বেশ নাকানি চুবানি খাওয়ার পরে সেই কেস তুলে দেন সংস্থাটির এক অপেক্ষাকৃত তরুণ অফিসারের হাতে।
-
মাহতাব, বাংলাদেশ আর্মির সেই বিশেষ শাখার এক এসপিওনাজ এজেন্ট। মাত্র দুই বছরের ক্যারিয়ারে তিন বার শট খেয়ে বসে আছে সে। সুধীর দত্ত তার কাছেই দিলেন এই হাই ভোল্টেজ কেস। মাহতাব আর তার টিম নেমে পড়লো সর্বশক্তি নিয়ে সেই কেসে ।
-
বিজন সাহু, পাহাড়ি এলাকার ত্রাস। তার মতো ধূর্ত লোক পাহাড়ে আর দ্বিতীয়টি নেই। পাহাড়ে আধিপত্য বিস্তার করার পড়ে তার নজর পড়ে শহরের কেন্দ্রে। তা দখলের জন্য শুরু করে এক বিশাল প্ল্যান।
-
এখন বাংলাদেশ আর্মির সেই বিশেষ শাখাকে নাকানি চুবানি খাওয়ানো সেই কেসটি কি? মাহতাব এবং তার টিম কি পারবে সেই কেস ক্রাক করতে? বিজন সাহুর আসল প্ল্যান কি ? তা জানতে হলে পড়তে হবে লেখক দিবাকর দাসের এসপিওনাজ থ্রিলার ঘরানার উপন্যাস "হরবোলা"।
-
"হরবোলা" মূলত স্পাই থ্রিলার হলেও পড়তে গিয়ে বেশিরভাগ সময় জেনেরিক স্পাই থ্রিলারের চেয়ে পুলিশ প্রসিডিউরালই বেশি মনে হয়েছে। গল্পের শুরু বেশ আকর্ষণীয়, তবে মাঝে কাহিনী একেবারেই ধীরগতির মনে হয়েছে যেখানে কাহিনী আরো টানটান হওয়া উচিত ছিল। তবে শেষে এসে একের পর এক টুইস্ট দিয়ে কাহিনী গতিময় হয়েছে। তথাকথিত স্পাই থ্রিলারের ফর্মুলায় না হেঁটে লেখক এক দেশীয় ফ্লেভার দিতে পেরেছেন বইটিতে। তারপরেও মনে হয়েছে বেশি বাস্তবঘেঁষা স্পাই থ্রিলার লিখতে গিয়ে ওভারঅল সাসপেন্স এবং একশনের পরিমান কম হয়ে গেছে বইতে।
-
"হরবোলা" বই এর চরিত্রায়নের ভিতরে সুধীর দত্ত ছাড়া আর কাউকে খুব বেশি ক্যারিসমাটিক লাগেনি। বইয়ের খুবই গুরুত্বপূর্ণ দুই ক্যারেক্টার আরো ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলা যেতে পারতো বলে মনে হয়েছে। আর বেশ কয়েকটি চরিত্রের নাম (যেমন রাজপাল এবং রামপাল) একই ধরনের হওয়ায় মাঝে মধ্যেই খেই হারিয়ে ফেলছিলাম যে কোনটা কোন চরিত্র। মাঝে এসে গল্পের টাইমলাইনে বেশ কিছু অসামাঞ্জস্যতা চোখে পড়েছে, শেষে এসে অবশ্য প্রায় সবকিছু ক্লিয়ার হয়েছে।
-
"হরবোলা" বইতে দুয়েকটা বানান ভুল চোখে পড়েছে, এক জায়গায় দুটো চরিত্রের নাম ওলট পালট হয়ে গেছে, বেশ কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্যসুত্র রয়েছে। আশাকরি পরবর্তী মুদ্রণে ব্যাপারগুলো ঠিক করা হবে। বইয়ের বাঁধাই ভালোই, তবে কয়েক ফর্মার প্রতি পৃষ্ঠা লাগানো ছিল একসাথে, যেটা বারবার খুলতে গিয়ে কিছুটা বিরক্তি লেগেছে। বইয়ের প্রচ্ছদ কাহিনী অনুসারে চমৎকার, বিশেষ করে নামলিপিটি।
-
এক কথায়, জেমস বন্ড টাইপের স্পাই থ্রিলার না হয়ে বরঞ্চ এক অন্যধরনের বাস্তবঘেঁষা এসপিওনাজ থ্রিলার হলো হরবোলা। যাদের একটু বাস্তব ঘেঁষা স্পাই থ্রিলার বা পুলিশ প্রসিডিউরাল থ্রিলার পড়তে পছন্দ করেন তারা পড়ে দেখতে পারেন বইটি।
Profile Image for Zakaria Minhaz.
261 reviews24 followers
November 30, 2022
#Book_Mortem 77

#হরবোলা

লেখকঃ দিবাকর দাস
প্রচ্ছদঃ সজল চৌধুরী
প্রকাশনীঃ ভূমি প্রকাশ
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৬০
মূদ্রিত মূল্যঃ ২৪০ টাকা

ঢাকার বুকে নতুন করে গড়ে উঠেছে এক ড্রাগ কার্টেল। কোনোভাবেই ট্রেস করা যাচ্ছে না তাদেরকে। গোয়েন্দা সংস্থার সকল ইনফরমারদের ব্যাপারে তারা বেশ ভালো করেই জানে। কারন সর্ষের মধ্যেই আছে ভূত!! আর্মীর গোয়েন্দা শাখার প্রধান সুধীর দত্ত তাই নতুন একটা টিম গঠন করলেন এই র‍্যাকেটকে ধরার জন্য। এদিকে অশান্ত পাহাড়ের বুকে নতুন করে জেগে উঠেছে এক শক্তি। খোদ আর্মীকে ঘোল খাইয়ে ছাড়ছে এই লোক। কে সে? কেনোই বা হটাৎ করে ঢাকার পুরোনো মাদক ব্যবসায়ীরা খুন হতে থাকলো একে একে?? এইসব কিছু কি একই সূতোয় গাঁথা?

#পাঠ_প্রতিক্রিয়াঃ আগের দুই বইয়ের সাথে এই বইয়ের মাধ্যমে গত তিন দিনে আমেরিকা, জাপান হয়ে অবশেষে নিজ দেশে ঘুরে এলাম! আসলে বই পড়ার এটাই সবচেয়ে বড় উপকার। এক জায়গায় বসে অনেক জায়গায় ঘুরে আসা যায় মাথার মাধ্যমে।

দিবাকর দাদার লেখার সাথে আমার আগেই পরিচয় হয়েছে। এটা আমার পড়া উনার ৩য় বই। যথারীতি চমৎকার লেখনশৈলী এবং বর্ণনাভঙ্গি। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলের বর্ণনায়ন খুবই ভালো লেগেছে আমার। আমি নিজে দীর্ঘ অনেক বছর এই পার্বত্য অঞ্চলে বাস করায় গল্পটার সাথে নিজেকে আরো বেশী রিলেট করতে পেরেছি। অনেকগুলো ব্যাপারেই লেখক মোটামুটি বাস্তবতার কাছাকাছি তুলে ধরতে পেরেছেন। সেই তুলনায় ঢাকার অংশটা কিছুটা ফিকে হয়ে গিয়েছে। তবে এই অংশে আবার সামান্য হিউমারের ছোঁয়া ছিলো, এটা আবার আমার কাছে ভালো লেগেছে। সিরিয়াস টাইপ বইয়ের ফাঁকে ফাঁকে এক আধটু হাসার সুযোগ পেলে মন্দ হয় না। পুরো বইটা শুরু থেকেই ফাস্ট পেসড ছিলো। তার পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের টেনসড এবং দমবন্ধ পরিস্থিতি এবং ঢাকার হালকা চালের পরিস্থিতি মিলিয়ে পড়তে বেশ আরাম লেগেছে। পাশাপাশি ছিলো উনার সিগনেচার কিছু ফিলোসোফিক্যাল আলোচনা।

তবে উনার আগের পড়া দুইটা বইয়ের গল্পের গাঁথুনি এই বইটির চেয়ে স্ট্রং ছিলো। এই বইটা অবশ্য এগিয়ে থাকবে এর এন্ডিং এর দিক থেকে। শেষটায় ব্যাপক তাড়াহুড়ো থাকলেও বেশ ভালো রকমের কিছু টুইস্ট ছিলো। টুইস্ট লাভাররা এই জায়গায় এসে অবশ্যই ভালো আনন্দ পাবেন। যদিও আমি মেজর দুইটা টুইস্টের একটা আগেই ধরে ফেলতে পেরেছিলাম। তবে অপরটা আমার জন্যও চমক হয়ে এসেছে। এই ক্ষেত্রে লেখক কিছুটা চাতুর্যের আশ্রয় নিয়েছেন পাঠকের নজর অন্যদিকে সড়িয়ে রাখার জন্য।

পড়ার সময়ে বইয়ের কিছু জায়গা অতি নাটকীয় লেগেছে, কিছু অসংগতি চোখে পড়েছে; বিশেষ করে প্রতিশোধের ব্যাপারটা অতিরঞ্জিত মনে হয়েছে। তবে এন্ডিং এ গিয়ে লেখক মোটামুটি বেশ অনেকগুলো ব্যাপারেই ভালোভাবে সমাধাণ দিতে পেরেছেন। শুধু ভালোভাবে খোলাসা না করে, হুট করেই টেনে এনেছেন। আরেকটু সময় নিয়ে করলে ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য আরো উপভোগ্য হতো। তবে যারা ফাস্ট পেসড আর টুইস্ট নির্ভর বই পড়তে পছন্দ করেন তারা বইটা পড়ে মজা পাবেন।

#ব্যক্তিগত_রেটিংঃ ৭.৫/১০ (একটা বইয়ের পুরো রিডিং এক্সপেরিয়েন্সটা বিস্বাদ হয়ে যেতে পারে এর এন্ডিং এর কারনে। সৌভাগ্যক্রমে এই বইটা সে দোষ থেকে মুক্ত। লেখকের আগের পড়া বই দুটোর মতো কোনো কাকতালীয় ব্যাপার স্যাপারও এখানে চোখে পড়েনি)

#প্রোডাকশনঃ ভূমির এই বইয়ের প্রোডাকশন এভারেজ টাইপ ছিলো। সম্ভবত ২০২০ সালের বইগুলোতে এই প্রোডাক���নেরই চল ছিলো। যদিও তাতে আমার বিন্দুমাত্র সমস্যা হয়নি। আমি ভালো প্রোডাকশনের তুলনায় কম দামে বই পেতেই বরং আগ্রহী। তবে বুকমার্ক ব্যবহারের অভ্যাস না থাকায়, ১৬০ পেইজের বইতে ফিতা না দেয়াটা আমার জন্য সমস্যা সৃষ্টি করেছে। প্রচ্ছদটাও খুবই সাদামাটা লেগেছে।

#পরিশিষ্টঃ লেখকের অপার সম্ভাবনা রয়েছে আমাদেরকে দূর্দান্ত কিছু উপহার দেয়ার। আমার মনে হয় উনার আরো একটু সময় নিয়ে আরো বড় কলেবরে কিছু লেখা উচিত। যেখানে সবই পারফেক্টলি সম্পন্ন করতে পারবেন তিনি।
Profile Image for Syeda Banu.
99 reviews52 followers
March 28, 2020
চোরে চোরে মাসতুতো ভাই একটা কথা আছে! আন্ডারওয়ার্ল্ড যারা নিয়ন্ত্রণ করে, তারা পুলিশকে যেমন মুঠোয় রাখে, পুলিশের কাছেও তাদের ঠিকুজিকোষ্ঠীর খবর আছে।


কিন্তু প্রশাসন এবার একটু বেকায়দায়। ঢাকা শহরে ড্রাগসের ব্যবসা শুরু করেছে নতুন এক চক্র। যাদের অস্তিত্ব টের পাওয়া যাচ্ছে ঠিকই বাতাসে, কিন্তু বাগে পাচ্ছে না খোদ আর্মির গোয়েন্দা বিভাগও। যারা ধরা পড়ছে তারাও যেন এক একটা কানাগলি। গোয়েন্দা প্রধান সুধীর দত্ত সন্দেহ করছেন ড্রাগপেডলিং শুধুই উপরের খোলস, আড়ালে বড় কিছু ঘটতে চলেছে। 


এজেন্ট মাহতাব গোয়েন্দা শাখায় যোগ দিয়েছে বেশীদিন হয়নি। ট্রেনিং পিরিয়েডে রেকর্ড মার্কস পেয়েছিল ছেলেটা। এরমধ্যেই নামের পাশে লিখিয়েছে তিনটি ব্যর্থ কেস আর তিনটে গুলি! মাহতাবকেই কেসটা সোপর্দ করলেন সুধীর দত্ত, সাথে দিলেন তিন সিনিয়র এজেন্ট ও দুই নতুন রিক্রুটের টিম। জাকির ও রাজপালকে নিয়ে ছদ্মবেশ ধরলো মাহতাব। গুপ্তচরেরা ছড়িয়ে পড়লো শহরের আনাচে-কানাচে। 


পাহাড়ে সরল লোকগুলো যাকে রবিনহুড ভাবে, আইনের চোখে সেই বিজন সাহু চিহ্নিত 'আতংকবাদী' নামে। সেনাবাহিনীকে ঘোল খাইয়েছে অনেকবার, ঠান্ডা মাথায় নিয়েছে সৈনিকদের প্রাণ। পাহাড়ের সন্ত্রাস এবার সমতলের দিকে ধেয়ে আসছে। 


মহাপ্রলয় শুরু হতে যাচ্ছে রাজধানীতে!


দিশি স্বাদের এবং বিজাতীয় প্রভাবমুক্ত থ্রিলার আমার কাছে সবসময়ই বেশি আগ্রহ জাগানিয়া মনে হয়। সেরকমই একটি স্পাই থ্রিলার দিবাকর দাসের 'হরবোলা'। আবু ইসহাকের 'জাল' পড়ার পর অবশেষে সেরকম স্বাদের আরেকটি বই পেলাম।


লেখকের সাথে পরিচয় 'অভিমন্যু'র মাধ্যমে। নিঃসন্দেহে এবারে তার লেখনশৈলী আগের চাইতে অনেক পরিপক্ক মনে হয়েছে। উপমা এবং রূপকের ব্যবহারে পড়াটা উপভোগ্য হয়ে উঠেছিল। গল্প যথেষ্ট গতিশীল এবং বৈচিত্র্যময়। চরিত্রগুলো যদিও বেশ ইন্টারেস্টিং ছিল, তবু সেরকম সমানভাবে বিকশিত হয়নি মনে হয়েছে। মাহতাবের চেয়ে পার্শ্বচরিত্র জাকির অনেক বেশি গুরুত্ব পেয়েছে, আবার রাজপাল সেদিক থেকে একেবারেই আড়ালে রয়ে গেছে। পাহাড়ের ত্রাস বিজন সাহু'র শাগরেদ সুলতানের চরিত্রটি আমার ব্যক্তিগত পছন্দের হয়ে থাকবে।


জমজমাট প্লটের ফাঁক ফোঁকরে কিছু বিষয়ে খটকা তো ছিলোই। আন্ডারওয়ার্ল্ডের রাঘব বোয়ালরা খুন হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া নেই - এই ব্যাপারটা ঠিক মেলাতে পারিনি। ঘটনা প্রবাহের সময় উল্লেখ না করে লেখক যে চমকটি রাখতে চেয়েছেন, সেটা বরং পড়তে অসুবিধা সৃষ্টি করেছে। ক্লাইম্যাক্সে মাহতাবের ভূমিকাও খটকা লেগেছে। গল্পের শেষাংশে লেখক বড় কিছু চমক এনেছেন, তবে সেকারণে মাঝের কিছু অংশের কর্মকাণ্ড একেবারে নিরর্থক হয়ে গেছে। চমকের সুতোটা আরেকটু খেলিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়লে আরো উপভোগ্য হতো।


প্রচ্ছদশিল্পী সজল চৌধুরী তার প্রতিটি কর্ম দিয়ে নিজেকেই ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। হরবোলার প্রচ্ছদটি বইয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দারুণ একটি পরিবেশনা। বাঁধাই, পাতার মান সন্তোষজনক হলেও, সম্পাদনায় আরো মনোযোগের প্রয়োজন ছিল। 


লেখক দিবাকর দাস যেভাবে বিভিন্ন রুচির জনরায় সবর পদচারণ করছেন, তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। শুভকামনা তার প্রতি। 


বই: হরবোলা
লেখক: দিবাকর দাস 
প্রকাশনায়: ভূমিপ্রকাশ
প্রকাশকাল: ২০২০
প্রচ্ছদ: সজল চৌধুরী 
পৃষ্ঠাসংখ্যা: ১৬০
মুদ্রিত মূল্য: ২৪০/-
Profile Image for সাঈদ আনাস.
Author 7 books7 followers
February 11, 2022
প্রথম পড়ায় মনে হবে পাহাড়িদের নিয়ে ছড়ানো প্রোপাগাণ্ডা(!) আসলেই ঠিক; ওরা আসলে বিচ্ছিন্নতা চায়, দেশের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য ওরাই দায়ী। আবার খুব মুন্সিয়ানার সাথে লেখক চিন্তার মোড় ঘুরিয়ে দেবেন।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে অতি নাটকীয় মনে হয়েছে ঘটনাপ্রবাহ।
তবে সব মিলিয়ে সুখপাঠ্য বই।

"আতঙ্কবাদীরা অনেকবার আমাদের অস্ত্র আর টাকা ব্যবহার করর ট্রেনিং নিয়েছে, এই প্রথম বোধহয় আমাদের কোনো অফিসার ট্রেনিং পেয়েছে আতঙ্কবাদীদের টাকায়।" লাইনটা ভালো লেগেছে।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Promit Basak.
15 reviews1 follower
October 7, 2020
লেখকের নাম একদম নতুন আমার কাছে। কোন রকম এক্সপেকটেশন ছিল না। তবে লেখার ধরণটা ভালো লেগেছে। শুধু গল্প না, বরং গল্প বলার উপরও কিছুটা জোর দিয়েছেন মনে হলো। শেষের টুইস্টটা আনএক্সপেক্টেড ছিল।
Profile Image for Sourav Sarowar.
11 reviews3 followers
February 1, 2020
❝কিছু আগুন কখনো নেভে না। কোনো অদৃশ্য উৎস থেকে নিয়মিত জ্বালানির যোগান পায় সে পাবক। ধোঁয়া দেখে কখনো সে আগুনের উপস্থিতি বোঝা যায় না। তবে কাছে গেলে উত্তাপ টের পাওয়া যায়।...❞
.
.

বই : হরবোলা
.
লেখক : দিবাকর দাস
.
জনরা : এসপিওনাজ থ্রিলার
.
ব্যক্তিগত রেটিং : ৪/৫

(রেটিং বইয়ের জন্য কোনো মানদণ্ড নয়। এর পুরোটাই রুচিবোধের উপর নির্ভরশীল। তাই চেষ্টা করবেন রেটিং থেকে নয়, বরং আপনার রুচি অনুযায়ী বই সংগ্রহ করতে এবং পড়তে।)
.
.

কাহিনী সংক্ষেপ : (হুবহু ফ্ল্যাপ থেকে)
.

তিনটা ব্যর্থ অপারেশন আর তিনটা শট শরীরে নেয়া আর্মির গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ শাখার এসপিওনাজ এজেন্ট মাহতাবকে শাখা প্রধান সুধীর দত্ত দিলেন এক নতুন কেস।

দুইজন আনকোরা সাথীকে নিয়ে তাকে বের করতে হবে ঢাকায় ড্রাগসের ব্যবসায় আমদানি হওয়া নতুন র‍্যাকেট কারা? কেন হাবিব খানের মতো লোকের নেটওয়ার্ক কাজ করছে না? ভেতরের কেউ কি বাইরের শক্তির সাথে যুক্ত?

পাহাড়ের ভয়ংকর আতঙ্কবাদী বিজন সাহু। যার তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও কৌশলের কাছে সেনাবাহিনী হেরে যাচ্ছে বারবার। তার লক্ষ্য এবার সমতল। পারবে কি কেউ তাকে থামাতে?

মঞ্চ প্রস্তুত। নাটকের চরিত্ররা সবাই নিজ নিজ বেশে প্রস্তুত। এবার কেবল পর্দা ওঠার অপেক্ষা।

পাঠকদের স্বাগতম এই অন্ধকার ইতিহাসে—যার কথা কোনো বই অথবা রেকর্ডে নেই; যার উদাহরণ কেবল পড়ানো হয় এসপিওনাজের উঁচু পর্যায়ের ট্রেনিংয়ে।
.
.

পাঠ প্রতিক্রিয়া :
.
বইটি শুরু করেছিলাম ২১ তারিখ রাতে, কিছুটা পড়া হয়েছিল, এরপরে বাড়ি চলে আসা এবং কাজে ব্যস্ত হয়ে যাওয়ায় আর পড়া হচ্ছিল না। কাল শুক্রবার ছিল এবং কাজও ছিল না ওরকম, তাই আবার পড়তে বসা। পড়ে শেষ করলাম রাতেই। সেই সাথে এই মাসে তিনটি বই পড়া হলো।

গল্পটি একটি খাঁটি দেশী স্পাই থ্রিলার গল্প। দেশের প্রক্ষাপটে কাহিনী গড়েছেন লেখক দারুণ ম���ন্সিয়ানার সাথে। দেশীয় প্রেক্ষাপটে বেশ ভালো পরিসরে একদম বৈচিত্র্যময় স্পাই থ্রিলার গল্প। পাহাড়িদের জনজীবন, আতঙ্কবাদী, আর্মি, পুলিশ, ঢাকা শহরের বিভিন্ন চোরাকারবারি, মাদক, ঘুষ, জঙ্গি এসব বাস্তব ব্যপারগুলোর কথা উঠে এসেছে গল্পে। মাসুদ রানা, জেমস বন্ড বা অন্যান্য বিদেশী স্পাই থ্রিলারের মত ওরকম প্লট না। একদম দেশের বর্তমানকালীন সমস্যাগুলা যা রাজনৈতিক বা কুটনৈতিক প্যাঁচের মধ্যে আটকে থাকে, সেগুলা নিয়েই এই প্লট। যাতে আছে আমাদের সমাজের রাজনৈতিক অবস্থাকে সূক্ষ্মভাবে আঘাত করার মত ব্যপার, যা চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো হয়েছে গল্পের শেষের দিকে এসে।

হলিউড বা সাউথ ইন্ডিয়ান মুভির মত ধুম ধারাক্কা গোলাগুলি বা ফাইট সিন নেই। নেই জেমস বন্ড বা অন্যান্য বিদেশী স্পাইদের ওরকম টেকনোলোজির ব্যবহার। একদম দেশীয় স্বাদে, দেশীয় প্লটে রচনা করেছেন লেখক এই গল্পটি। যার জন্যে গল্পটি রিয়েলিস্টিক লেগেছে বেশি।

গল্পে টানা টান উত্তেজনা ছিল, গতি বেশ ভালো। টানা পড়ে ফেলার মত। কাহিনী বিল্ডআপ ভালো ছিল। কোথাও ঝুলে যায়নি গল্পটি। আর শেষের দিকে এসে গল্পের গতি অনেক বেড়ে গিয়েছে। অনেক জলদিই এন্ডিংয়ে এসে গেছি মনে হচ্ছিলো তখন। আর শেষের কতগুলা টুইস্ট একসাথে দিয়েছেন লেখক, এটা কেমন যেন হয়ে গেছে।

নন লিনিয়ার স্টোরিটেলিংয়ে গল্প এগিয়েছে। প্যারালালি দুইটা টাইমলাইনের মধ্যে সময়ের ব্যবধান বুঝতে পেরেছি অনেক পরে। শুরুর দিকে মনে হচ্ছিলো একই সময়েই গল্প চলছে। কিন্তু শেষের দিকে এসে বুঝতে পেরেছি বিজন সাহুর টাইমলাইনটা যে বর্তমান টাইমলাইনের অনেক আগের ছিল। যদিও এটা নিয়ে প্রথম দিকে কোনো চিন্তা মাথায় আসেনি বা খাপছাড়া লাগেনি। তবে এখানে শুরুর দিকে ওই অধ্যায়ে সময়ের কথা বলে দিলে বুঝতে সুবিধা হতো।

লেখকের লেখনী অনেক ভালো। একদম পাকা হাতের লেখনী। বর্ণনাভঙ্গি, বাক্যগঠন, শব্দচয়ন ভালো লেগেছে। সংলাপগুলোও ভালো ছিল, তবে কিছু জায়গায় মনে হয়েছে সংলাপ আরো শক্তপোক্ত হতে পারতো চরিত্রানুযায়ী।

জায়গার বর্ণনা, অলিগলির দৃশ্যায়ন অনেক ভালো ছিল, বাস্তবিক ছিল। পড়তে পড়তে কল্পনা করছিলাম অলিগলি, প্লাটফর্ম এসব জায়গা।

ক্যারেক্টারগুলা অতটা ডেভেলপ লাগেনি। চরিত্রায়নে আরো কাজ করলে গল্পটা আরো ভালো লাগতো, সুন্দর হয়ে উঠতো। সুলতানের ক্যারেক্টার আরো ভালোভাবে বিল্ডআপ করা হলে ভালো লাগতো, তার চরিত্রায়নে কাজ করা হয়নি বলে মনে হলো। সুধীর দত্তের চরিত্রায়নই সুন্দরভাবে করা হয়েছে। বাকিগুলাতেও একটু ফোকাস দেওয়া যেত।

একটা অধ্যায়ে এসে হারুন হয়ে গেছে হাশেম। তখন কনফিউজড হয়ে গিয়েছিলাম। কারণ তার আগের অধ্যায়েই হাশেম নামের অন্য ক্যারেক্টারের কথা আছে। অবশ্য বুঝে নিয়েছিলাম যে টাইপো ছিল এটা।

নামকরণের ব্যপারটা নিয়ে গল্পে আরো কাজ করা যেত। যদিও যেটুকু বুঝিয়েছেন, নামকরণ এখানে স্বার্থক। ফ্ল্যাপেই লেখক বলেছেন, যিনি বিভিন্ন পশুপাখির ডাক অনুকরণ করতে দক্ষ তাঁকে ‘হরবোলা’ বলা হয়। এরা যে-কারও কণ্ঠস্বর নকল করে তার মতো সংলাপ ও অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে পারেন। যেন একই মানুষের বিভিন্ন রূপ।
স্পাইরা সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশে থেকে অপরাধীদের পাকড়াও করে থাকেন। আবার অপরাধীরাও নানান ছদ্মবেশে অপরাধ করে যায়।... প্রত্যেকেই যেন একেকজন হরবোলা।

লেখকের ভাষ্যমতে, প্রথম দশটি বইয়ে আলাদা দশটি জনরা নিয়ে কাজ করবেন। সেই হিসেবে সপ্তম বইয়ে স্পাই থ্রিলার নিয়ে কাজটা তিনি ভালোভাবেই সম্পন্ন করেছেন। প্রতিটা বইয়েই লেখক যেই এক্সপরিমেন্ট করে দেখাচ্ছেন সেক্ষেত্রে প্রশংসার দাবীদার।

প্রচ্ছদটি ভালো লেগেছে। নিচের দিকে কালোমতন পাহাড়ের সাড়ি, মাঝে একজন মানুষ দাঁড়িয়ে। মাঝে শুটিং গ্রাউন্ড। উপরে এ.কে. ৪৭ এর উপর একটি শহরের চিত্র।
নামলিপিও অনেক সুন্দর হয়েছে। নামের ভেতরেই তিনজন এজেন্ট, সাইলেন্সর লাগানো গুলি। প্রচ্ছদ আর নামলিপিতেই গল্পটি ফুটে উঠেছে। চমৎকার প্রচ্ছদ আর নামলিপি করেছেন সজল চৌধুরী।

বইয়ে বানান ভুল আর টাইপিং মিস্টেক—শব্দ জোড়া বা ভেঙে যাওয়া নেই কোথাও। একবার নাম বিভ্রাট আর সময়ের পার্থক্যের ব্যাপারটা ছাড়া আর কোনো অসামঞ্জস্য লাগেনি। পুরো বইটি একটি চমৎকার জার্নি হবে পাঠকের জন্য।

বইয়ের কভার, ভেতরের ক্রিম কালারের পাতা, ছাপা ও বাঁধাই সবদিক থেকেই ভালো লেগেছে। ভূমিপ্রকাশের এখনকার বইগুলোর প্রোডাকশন অনেক ভালো হয়। এই বইয়ের প্রোডাকশনও অনেক ভালো হয়েছে সবদিক থেকে।

যেসব পাঠক স্পাই থ্রিলার পড়তে ভালোবাসেন, যারা থ্রিলার গল্প ভালোবাসেন, তাদের জন্য অবশ্যপাঠ্য একটি মৌলিক থ্রিলার এটি। বই পড়ুয়াদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রেক্ষাপটের স্পাই থ্রিলারের কাহিনীর গভীরতায় ডুব দেওয়ার জন্য।
.
.

লেখক পরিচিতি :
.
দিবাকর দাশ।
কথা বলতে ভালো লাগে। আড্ডাকে সময় কাটানোর মাধ্যম হিসেবে মানেন। প্রকৌশলে পড়ালেখা করেও মনকে যন্ত্রের চেয়ে বড়ো শক্তিশালী মনে করেন। গল্প করার বিশ্বাস থেকেই লেখেন। কারণ সেই কালো অক্ষরগুলো যতজনে পড়বে ততজনের সাথেই যেন লেখকের আড্ডা দেওয়া হয়ে যাবে।
লেখালেখি শুরু হয়েছিল শখ থেকে। ভয়ে ভয়ে কলম তুলে নেয়া। “দেখি পারি কি না?” তারপর একে একে প্রকাশ পেয়েছে—

* অর্ধশত পদ্য— কবিতা
* মির্জাপুরে মহাতঙ্ক— কিশোর থ্রিলার
* ছায়াবাজি— সিরিয়াল কিলিং মিস্ট্রি
* দ্য নেস্ট অফ স্পাইডার— হিস্টোরিক্যাল ফিকশন
* পঞ্চম— মার্ডার মিস্ট্রি
* অভিমন্যু— রিভেঞ্জ থ্রিলার
* হরবোলা— এসপিওনাজ থ্রিলার

প্রথম দশটি বইতে আলাদা দশটি জনরা নিয়ে কাজ করার পলিকল্পনা তার। সেই হিসেবে একটা হিস্টোমিথোলজিক্যাল থ্রিলার লেখার কাজ চলছে। সামনে একটা শখের চরিত্র তৈরির করার ইচ্ছা আছে।
.
.

এক নজরে...
.
ক্যাটাগরি : মৌলিক
লেখক : দিবাকর দাস
প্রথম প্রকাশ : বইমেলা ২০২০
নামলিপি : সজল চৌধুরী
প্রচ্ছদ : সজল চৌধুরী
বাঁধাই : হার্ডকভার
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১৬০
অধ্যায় : ৩৩
প্রকাশনী : ভূমিপ্রকাশ
মূল্য : ২৪০৳ মাত্র
প্রাপ্তিস্থান :
অনলাইনে বিবিধ, বুকস্ট্রিট, রকমারিসহ বিভিন্ন অনলাইন শপে।
অফলাইনে ভূমিপ্রকাশের শো-রুমসহ, দেশের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন লাইব্রেরিতে।
.
.

ব্যক্তিগত মতামত :
.
রিভিউ এর মাধ্যমে একটা বইকে পুরোপুরি তুলে আনা যায় না। তবে ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা সব পাঠকেরই থাকে, তাই বইটি যে সবার একই রকম লাগবে তা নয়। একেকজনের রুচিবোধ একেক রকম, তাই রিভিউ দিয়ে নয়, বই পড়েই বইকে মূল্যায়ন করুন।

#bokoreview
Profile Image for প্রসেনজিৎ রায়.
1 review1 follower
April 16, 2020
#বই_রিভিউ

বই পরিচিতি:

বই: হরবোলা
লেখক: দিবাকর দাস
জনরা: স্পাই থ্রিলার
প্রকাশনা: Bhumi Prokash
প্রকাশকাল: বইমেলা ২০২০
প্রচ্ছদ: সজল চৌধুরী
মলাট মূল্য: ২৪০ টাকা

কাহিনী সংক্ষেপ:

তিনমাস ধরে ঢাকায় একটা নতুন ড্রাগসের র‍্যাকেট পরিচলনা করছে একটা নতুন গ্যাং। শুধুমাত্র ড্রাগসের ব্যাবসাই যাদের মূল টার্গেট থাকে তারা একটা নির্দিষ্ট সার্কেল মেনে চলে। কিন্তু অদ্ভুত ভাবে এই র‍্যাকেট সেই সার্কেল পুরপুরি পূর্ণ করছে না, একটা নির্দিষ্ট অবস্থানে এসে থেমে যাচ্ছে। তাহলে কি এই র‍্যাকেটের মূল্য উদ্যেশ্য ড্রাগস নয়! নাকি ড্রাগসের আড়ালে আরও কোন ভয়ানক সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচলনা করা এদের টার্গেট! এদের পরিকল্পনা এতই নিখুঁত যে এই গ্যাং সম্পর্কে জেনেও এদের ছায়ার হদিসও করতে পারছে না কেউ, আর্মির গোয়েন্দা সংস্থার বাঘা বাঘা কর্মকর্তারা এদের মাস্টারমাইন্ডের কাছে ঘোল খেয়ে যাচ্ছে৷ কীভাবে সম্ভব! কীভাবে ওরা জেনে যাচ্ছে এদের প্রতিটা পদক্ষেপ!!

সিনিয়রদের ঘোল খাওয়া শেষে আচমকাই এই কেসের দ্বায়িত্ব এসে পরে আর্মির গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ শাখার এসপিওনাজ এজেন্ট মাহাতাব এর উপর। এমন এক মানুষকে এই কেস দেয়া হয়েছে যে কিনা একদম নতুন, দুই বছরের ক্যারিয়ারে বিগত তিনটা অপরেশনেই সে টানা ব্যর্থ, এবং তিনবারেই তার শরীর চিড়ে চলে যায় বুলেট। অল্পের জন্য রক্ষা পায় প্রাণ। দুইজন একদম আনকোরা সাথীকে নিয়ে শুরু হয় মাহাতাব এর ফিল্ডওয়ার্ক, তার নতুন চ্যালেঞ্জ৷ কিন্তু কী আছে তার ভাগ্যে? কেনই বা সুধীর দত্তের মত এমন এক দূরদর্শী আর তুখোড় অভিজ্ঞ গোয়েন্দা প্রধান এমন একজন ব্যর্থ মানুষকে গোয়েন্দা সংস্থার ইতিহাসেরই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেসটা তুলে দিলেন!!

অন্যদিকে পাহাড়ের রাজত্ব চালাচ্ছে এক ভয়ংকর আতঙ্কবাদী বিজন সাহু। এই মানুষটার তীক্ষ্ণ বুদ্ধি আর কৌশলের কাছে সেনাবাহিনী বার বার নাকানিচুবানি খাচ্ছে। কিছুতেই ধরা তো যাচ্ছেই না, বরং সেনাবাহিনীকে টোপ দিয়ে এক দিনেই দশ জন সহ এক মাসেই নিয়ে নিয়েছে ১৭ জন সেনা সদস্যের প্রাণ। এই ধংসযজ্ঞের শেষ কোথায়? কোথায় থামবে বিজন সাহু? কে থামাবে তাকে? কে ই বা হয়ে উঠবে তার যোগ্য উত্তরাধিকার?

হুট করেই ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের আলোরন সৃষ্টি করেছে এক নাম- সুলতান। নামটা কানে আসার পর গোয়েন্দা সংস্থারই অনেকের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে হুট করেই খুন হয়ে বসেন ড্রাগের কেসের তদন্তে থাকা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সিনিয়র সদস্য হাবিব খান। যার হাতে ছিলো ঢাকা শহরের সব থেকে বড় ইনফরমার নেটওয়ার্ক। সাথে সেদিনই খুন হন তার অন্যতম একজন ইনফরমার! কে করলো এই খুন? তাহলে কি সুলতানের ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়ে গেছে? কী আছে বাকিদের ভাগ্যে? সবকিছুর পেছনে বসে কে খেলছে এই খেলা? বিজন সাহু? সুলতান, নাকি অন্যকেউ? নাকি গোয়েন্দা সংস্থায়ই লুকিয়ে আছে বড় কোন লঙ্কাখেকো বিভীষণ?

টানটান উত্তেজনার এই নাটকের প্রতিটা চরিত্র প্রস্তুত, প্রস্তুত নাট্যমঞ্চ। এবার শুধু এই গল্পের পর্দা ওঠার পালা। কী আছে এই অন্ধকার গল্পে? সেনাবাহিনী কি পারবে এই গল্পের রহস্য উদগাটন করতে? নাকি সেনাবাহিনীর খাতায় যুক্ত হবে ইতিহাসের অন্যতম বড় এক ব্যর্থতার কলঙ্কজনক অধ্যায়?

তাই নিয়েই এই গল্প, "হরবোলা'।

ব্যাক্তিগত অভিমতঃ

সাধারণত খুব বেশি ভালো না লাগলে আমি সচরাচর কোন বই নিয়ে লিখতে বসিনা। সেখানে এই বইটা নিয়ে লিখতে আমি দ্বিতীয় বার বইটা পড়েছি। কেন পড়েছি? কী আছে এই বইয়ে?
আছে একটা গল্প। আজে নিজস্বতা। আজে ভীষণ চেনা গন্ধ- কারণ এই গল্পটা পুরোটাই আমাদের গল্প, আমার দেশের গল্প।
সাধারণত দেখা যায় থ্রিলার লেখকদের বেশিরভাগ গল্পের প্লট থাকে বিদেশী কেন্দ্রিক। যার সাথে সচারাচর দেশি বা নিজেদের গন্ধটা থাকে না৷ এই বইটি তার পুরো ব্যতিক্রম৷ এই গল্পের পাতায় পাতায় নিজস্বতা। সাথে অসাধারণ দক্ষতায় লেখক যেভাবে পুরো গল্পটা বেঁধেছেন তাতে শেষ টুইস্টের আগ পর্যন্ত কেউ কল্পনাও করতে পারবে না যে এই গল্পটার টুইস্ট এমনটা হতে পারে! গল্পটা শুরু করার পরেই লেখক হ্যাচকা টানে গল্পটার মধ্যে আমাকে ঢুকিয়ে নিয়েছেন (সম্ভবত বেশিরভাগ পাঠকের ক্ষেত্রেও এটাই ঘটবে), এটা লেখকের সব থেকে বড় কৃতিত্ব। অসাধারণ গল্পের বাঁধন, আর পুরো মাথা ঘুরিয়ে দেবার মত টুইস্ট দিয়ে লেখক তার প্রথম স্পাই থ্রিলার, তথা তার সাত নম্বর বইটিকে করে তুলেছেন সবার থেকে আলাদা।

ভূমিকায় লেখক লিখেছেন, এই গল্পের একটা সত্যি ভিত্তি আছে, যা তিনি শুনেছিলেন আর্মির এক রিটায়ার্ড অফিসারের থেকে। যার কোন বই বা রেকর্ড নেই, যার উদাহরণ কেবল পড়ানো হয় এসপিওনাজের উঁচু পর্যায়ের ট্রেনিংয়ে। তার উপর ভিত্তি করে বাকিটা কল্পনার আশ্রয় নিয়ে লেখক সাজিয়েছে পুরো গল্পটা। লেখক এমন একটা গল্প সাজিয়েছেন, তা এ পর্যন্ত লেখা তার নিজের তো বটেই, সম্ভবত হয়ে উঠেছে বাংলা স্পাই থ্রিলার জনরারই অন্যতম সেরা বই।

বইটা পড়তে গিয়ে এ মুহুর্তেও কোথাও, কোন অধ্যায় বা কোন প্যারাকে দূর্বল মনে হয়নি, এমনকি খুঁজে পাওয়া যায়নি সাধারণ কোন প্রিন্টিং মিস্টেকও! গল্প এগিয়েছে নিজের গতিতে, লেখক নাটাই হাতে রেখে বাতাসের গতি বুঝে দক্ষ হাতে গল্পের সুতো ছেড়েছেন, আবার দক্ষতার সাথে গুটিয়ে নিয়েছেন হাতে, কোথাও গল্পের ঘুড়ি সামান্য বেঁকেও যায়নি।

বইয়ের রেটিং আসলে একটা কল্পিত সংখ্যাতত্ত্ব মাত্র। লেখক যতটা ভালোবাসা আর মেধা দিয়ে গল্পটাকে ফুটিয়ে তুলেছেন, একটা সংখ্যা দিয়ে বিচার করে আমি তাকে ছোট করতে চাইনা। তবে এই বইটা পড়ে একটা কথাই বলবো, দীর্ঘদিন পর এত ভালো কোন দেশীয় থ্রিলার পড়লাম, যার রেশ থেকে যাবে বহুদিন।

Profile Image for Mohammad Kamrul Hasan.
368 reviews15 followers
April 7, 2020
📚 বই নিয়ে আলোচনা

‘হরবোলা’ শব্দটির অর্থ হচ্ছে যে ব্যক্তি মুখ দিয়ে সবরকমের আওয়াজ করতে সক্ষম। আমরা সাধারণত হরবোল বলতে বুঝি, যে ব্যক্তি বিভিন্ন ধরনের পাখির ডাক অবিকল নকল করতে সক্ষম।
তবে লেখক ”দিবাকর দাস” তার “হরবোলা” বইতে এই শব্দের আরো চমৎকার প্রয়োগ দেখিয়েছেন।

চলুন ঘটনার কিছটা জেনেনি,
গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ শাখার এসপিওনাজ প্রধান সুধীর দত্ত অত্যন্ত চিন্তিত। তিনি মনে করছেন ভবিষ্যতে দেশে বড়রকমের কোনো পরিবর্তন ঘটাতে যাচ্ছে কোনো অপরাধী সংগঠন। কিন্তু তিনি তাদের কিছুই করতে পারছে না৷ তিনি খেয়াল করেছেনে দেশে ইদানীং নতুন এক দল মাদকের ব্যবসা করছে, তবে তারা খুব সুচতুর। তাদের কোনোভাবেই ধরতে পারছেন না। যেনো আমি মাছ ধরার জন্য জাল ফেলছি মাছ ভর্তি কোনো জলাতে, কিন্তু জাল টানার পর দেখাযায় সেখানে কোনো মাছ নেই।
সুধীর দত্তের বিগত সময়ে ঘঠন করা সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবার পর নতুন করে তিনি আবারও একটি টিম ঘঠন করলেন।
তবে এতে রেখেছেন অনেক বৈচিত্র্য।
পাঁচ সদস্যের এই টিমে আছে ব্যর্থ অপারেশন রেকর্ডধারী ‘মাহতাব’, যিনি আবার এই দলের নেতৃত্বে আছেন। আছেন একদম নতুন দুই এজেন্ট ‘জাকির’ ও ‘রাজপাল’ যাদের আবার এটাই প্রথম মিশন। আছেন সংস্থার দুই স্থানীয় অভিজ্ঞ সদস্য ‘হাবিব খান' ও ‘ওমর ফারুক’।

মাহতাবের নেতৃত্ব হাবিব খান সরাসরি মেনে নিতে না পারলেও তাকে সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দেন। এদিকে মাহতাব নতুন দুই সদস্য নিয়ে নিজেই নেমে পড়েন মাঠে। নিখুঁত ছদ্মবেশ ধারণ করেন তিনজনই। তদন্তে একসময় একটি নাম উঠে আসে, ‘সুলতান’। শোনা যায় এই সুলতান আবার কুখ্যাত পাহাড়ি দস্যু বিজন সাহুর ডান হাত। ততকালীন সময়ে এই দস্যুকে নিয়ে দারুণ বিভ্রতকর অবস্থায় ছিলো সেনাসদস্যরা। এখন তার যায়গায় ত্রাস ছড়াচ্ছে সুলতান। তদন্তে আরো জানা যায় যে এই সদস্যদের মাদক ব্যবসা করাটা হচ্ছে নিছক লোক দেখানো। আদতে তার গভীরে রয়েছে আরো বড় কিছু।
মাহতাব, জাকির, রাজপাল একসময় সুলতানের খুব নিকটে গিয়েও তাকে আবার হারিয়ে ফেলে। তার মানে আরো একটি ব্যর্থ মিশন রচিত হলো।

আচ্ছা জালে কি তবে কোনো ছিদ্র রয়ে গেলো। দলের কেউ আবার তথ্য পাচার করছে নাতো? তবেকী আবারও ব্যর্থ হবে প্রশাসন? সেই সাথে সুধীর বাবুর সব প্রচেষ্টা?

গল্পের একপর্যায়ে উন্মোচন হবে দেশের অভ্যান্তরিন কিছু জটিলতার দৃশ্য, সেই সাথে বিজন সাহুর মতো জঘন্য মানুষের মনোভাব, যা সত্যি পাঠকে ভাবাবে।

এবার বলি গল্পের কিছু চরিত্র নিয়ে,
এক সুধীর দত্ত আর বিজন সাহু ছাড়া বাকি চরিত্র আমার কাছে তেমন শক্তিমান মনে হলো না। মনে হলো তারা যা কিন্তু গল্পে তারা তা নন। তারপর আছে নাম বিভ্রাটের সমস্যা। যেমন আমি মাঝে মাঝে ‘রাজপাল আর রামপালকে’ ঘুলিয়ে ফেলছিলাম।
সুলতান, মাহতাব খুব গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, কিন্তু সে অনুযায়ী তাদের কর্মকান্ডের প্রকাশ তেমন দেখলাম না। আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি এখানে আরো অনেক কাজ করতে পারতেন এই দুজনকে নিয়ে।

গল্পের প্লটি কেমন?
আমারা কাছে প্লটি চমৎকার লেগেছে। মারদাঙ্গা কোনো সিন নেই তবে আছে উত্তেজনা। অন্যান্য গল্পের এসপিওনাজ চরিত্রদের মতো এতোটা একশান হিরো না থাকলেও আছে দেশের প্রক্ষপটে গড়া কিছু চরিত্র। যা গল্পটাকে অনেকটাই বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে।

গুনগত মান কেমন ছিলো?
দিবার দাসের লেখার হাত চমৎকার। আমি তাকে নিয়ে ভবিষ্যত স্বপ্ন দেখি। এসপিওনাজ থ্রিলার হিসাবে হরবোলা কোনো আহামরি গল্প ছিলো না। তবে তার লেখার মাধ্যমে আপনাকে গল্পের শেষ পর্যন্ত ধরে রাখবে।

থ্রিলার সাহিত্যে অবদান রাখবেকী বইটি?
অবদান রাখবে কি রাখবে না তা বলতে পারছিনা। তবে এটা সত্যিযে বইয়ের কাহিনীর ভিত্তি কিন্তু সত্য। মানে পাহাড়ি অঞ্চলের এই সন্ত্রাসী রাজ্য, মাদকের অভয়ারণ্য, অবুঝ পাহাড়িদের চিন্তাধারা, তাদের দূর্বলতার সুযোগ নেয়া কিছু অতি কুৎসিত মানুষ, আর সব শেষ তাদের প্রতিহত করতে বাংলাদেশ প্রশাসন সহ সেনাবাহিনীর নাকানিচুবানি খাওয়ার নিত্য করুণ দৃশ্য গুলোর প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকলো যেনো এই হরবোলা।

সমালোচনা!
লেখক বইটি লেখার ক্ষেত্রে কিছুটা মনেহয় অসাবধান হয়েছেন, কারণ গল্পের টাইম ম্যান্টেন্যান্স এলোমেলো। যেমন এই সুলতান ছোট আবার পরের অধ্যায় সুলতান অপারেশনে যাচ্ছে। তারপর চরিত্র নাম বিভ্রাটের সমস্যা পূর্বে বলেছি। প্রধান চরিত্রে বিশদ বর্ণনার অভা��বোধ করেছিলাম প্রতিনিয়তই। তবে এসবকিছুই গল্পের ফ্লোতে ভেসে যাবে বলে আশাকরি। আর লেখককে ভবিষ্যতে এসবে নজর রাখার অনুরোধ রাখছি।

সবশেষে---!!!
“ভূমি প্রকাশ" থেকে লেখক ”দিবাকর দাসের” লেখা “হরবোলা” বইটি প্রকাশ হয় ২০২০ এর বই মেলাকে কেন্দ্র করে। বইয়ের প্রোডাকশন ভালো, তবে বাইন্ডিং অনেক টাইট। যারদরুণ বই মেলে ধরতে সমস্যা হচ্ছিল।

ধন্যবাদ।
© মোহাম্মদ কামরুল হাসান
সময় - ০৪/০৪/২০২০ ইং
📚 বই হোক আপনার, আপনি বইয়ের 📚
Profile Image for Ashik Sarwar.
Author 5 books50 followers
March 24, 2020
বই : হরবোলা (স্পাই থ্রিলার)
লেখক : দিবাকর দাস
প্রকাশনি : ভূমিপ্রকাশ
মুদ্রিত মূল্য: ২৪০ টাকা
পৃষ্টা: ১৬০

কাহিনী সংক্ষেপ:
মাত্র দুই বছর হলো এই বিশেষ সিক্রেট সার্ভিস টিমে ঢুকেছে মাহতাব। ট্রেনিংয়ের সময় সব বিষয়ে রেকর্ড মার্ক তাকে সাহায্য করেছে এখানে আসতে। তবে বাস্তব আর প্রশিক্ষণ যে এক না তা এই দুই বছরের মধ্যেই টের পেয়ে গেল সে। তিনটে ব্যর্থ অপারেশন আর তিনটে শট শরীরে নেওয়া।
একেবারে উপরের স্তর থেকে সুধীর দত্ত ডেকে পাঠালেন ওকে। ব্যর্থতার শাস্তি মাথা পেতে নিয়ে সে পেল এক নতুন কেস। তিরস্কারের বদলে পেল সম্মান। তবে একটু পরেই বুঝল এই কেস সমাধান করা তার জন্য অসম্ভবের কাছাকাছি।
ঢাকায় কারা নিয়ন্ত্রণ করছে ড্রাগসের ব্যবসা? কেন হাবিব খানের মতো লোকের নেটওয়ার্ক কাজ করছে না? ভেতরের কেউ কি তাহলে বাইরের শক্তির সাথে যুক্ত? প্রশ্নগুলো মাথায় নিয়ে দুই আনকোরা সাথীকে নিয়ে মাঠে নামলো মাহতাব। তারপর...
পাহাড় জয় করে সমতলে হানা দিচ্ছে বাংলাদেশের আতঙ্কবাদের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর আতঙ্কবাদী। তার লক্ষ্য ঢাকা। লক্ষ্য অর্জনে তিনি পাঠিয়েছেন এদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে দক্ষ গুপ্তচরকে। তবে সে গুপ্তচর সেনাবাহিনীর নয়, কাজ করে তাদের বিরুদ্ধে।
সেনাবাহিনীর আতঙ্ক সেই গুপ্তচর এবার যুদ্ধে নামলো বাংলাদেশের সুসংঘটিত এসপিওনাজ শক্তির বিরুদ্ধে। ঘোলা হয়ে উঠলো জল। মাছ শিকারে ব্যস্ত হয়ে পড়লো অনেকে। কার কোঁচ কার গায়ে বেঁধে তার ঠিক নেই।
মঞ্চ প্রস্তুত হলো। নাটকের চরিত্ররা সবাই নিজ নিজ বেশে প্রস্তুত। এবার কেবল পর্দা ওঠার অপেক্ষা।
পাঠকদের স্বাগতম এই অন্ধকার ইতিহাসে। যার কথা কোন বই অথবা রেকর্ডে নেই। যার উদাহরণ কেবল পড়ানো হয় এসপিওনাজের উঁচু পর্যায়ের ট্রেনিংয়ে।

পাঠ্য প্রতিক্রিয়া:

দিবাকর দাদার লেখার সাথে পরিচিত হই পঞ্চমের মাধ্যমে৷ এরপর পড়া হয়েছে তার বেশ কয়েকটা বই৷ এক কথায় বলা যায় তিনি বেশ ভাল লিখেন। এবারের বইমেলাও বের হয়েছে দেশীয় প্রেক্ষাপটে লেখা তার স্পাই থ্রিলার হরবোলা৷ সেই বইটি পড়ে আমার কাছে কেমন লাগলো? হরবোলার সাথে আমার পথাচলার কিছু ক্ষুদ্র পাঠ্যনূভুতি না হয়ে শেয়ার করা যাক পাঠকদের সাথে৷

মাঝে মাঝে অল্প শব্দে ঝাল চানাচুর কুড়মুড়ে মজাদার লাগে। তাই রসগোল্লার মত তাড়িয়ে তাড়িয়ে বই গেলার সাথে সাথে চানাচুরের মত কুড়মুড় করেও বই চিবিয়ে খাওয়া দরকার৷ একটানা মোটাসোটা বই পড়ে ক্লান্ত পাঠক যখন হরবোলা ধরবে অবশ্যই ভিন্ন রকম একটা স্বাদ পাবে৷ এই গল্পে যে জিনিষ আমার কাছে ভাল লেগেছে গল্পের আবহ তৈরি করা৷ দুই টাইম লাইনে বেশ গতিশীল বেগে গল্প এগিয়ে গেছে৷ সে ক্ষেত্রে লেখক সার্থক৷

গল্পের প্রয়োজনে সুধীর দত্ত, মাহতাব, রাজপাল, জাকির, হাবিব খান ও অন্যান্য অনেক চরিত্রই এসেছে৷ তবে গতি দিতে গিয়ে চরিত্রায়নের দিকটা উহ্য রেখে গেছেন লেখক৷ মনে হয়েছে কিছু কিছু চরিত্রের আরও বেশি ডেভেলপমেন্ট দরকার ছিল। সুলতান, রাজপাল চরিত্র দুইটা মনে হল শেষের দুইটা কড়া টুইষ্ট এর জন্যই অল্পেই তাদের গল্প বলে গেল। জাকির চরিত্রটা প্বার্শ হিসাবে একটু বেশিই ফুটেজ খেয়ে গেছে৷ তবে বলতে হবে শেষের দুইটা টুইষ্ট বেশ ভাল ছিল। এই বইটার কলেবর আর এক্টু বড় হলে বোধ হয় চরিত্র গুলো আরও ডেভেলপমেন্ট এর জায়গা পেত৷ অতি বেশি মাসুদ রানা বা স্পাই থ্রিলার গেলার ফলে প্রথম দিকে গল্পটা এতটা টানেনি৷ তবে শেষের ৩০ পেজ বলবো বেশ রোলার কোস্টার একটা রাইড ছিল৷ মৌলিক স্পাই থ্রিলার লেখার প্রচেষ্টা কে অবশ্যই সাধুবাদ জানাই৷

অনেকে পড়তে গিয়ে হয়তো আশাহত হতে পারেন৷ এখানে স্পাইদের বাস্তবিক জীবনের প্রেক্ষাপট ফুঁটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে৷ স্পাই শব্দটা কর্ণকুহরে প্রবেশ করার মাত্রই মস্তিকে যে খেয়াল আসে ধুমাধার মারপিট, সুন্দরী কন্যার সাথে ফষ্টিনষ্টি আর শেষে ভিলেন কে বেদম মার৷ কিন্তু এখানে এই রকম কোন প্যাকেজ পাবেন না। বাস্তব জীবনের স্পাইদের যদি পুরষ্কার দেবার ব্যবস্থা হত অস্কার গুলো কোন অভিনেতার ঝুলিতে যেত না। একজন স্পাই এক জীবনে অনেক গুলো চরিত্রের সাথে বাস করে৷ সেই বাস্তবিক জগৎতের সামান্য ছিঁটেফোটা পেতে হলে পড়তে হবে হরবোলা।

এবার আসি ভূমির প্রোডাকসন নিয়ে৷ প্রথমেই প্রচ্ছদম্যান সজল ভাই কে জানাই হৃদয় ছেঁড়া ভালোবাসা৷ উনি প্রতিনিয়ত উনার কাজের মাধ্যমে আমাদের হৃদয় ছিড়ে ফেলছেন৷ বইয়ের বাইন্ডিং, পেজ কোয়ালিটি বেশ ভাল ছিল৷ সবচেয়ে যে জিনিষটা ভাল লেগেছে চিকন সুতার বুকমার্ক। এই জিনিষটা সব বইতে দেওয়া উচিত৷ মোটা সুতার বুকমার্ক গুলো আগুনে না পুড়ালে একটু টান লাগলেই ফর্দাফাই হবার একটু ক্ষীণ সম্ভবনা থাকে৷ ভূমির প্রোডাকসন কোয়ালিটি সব সময়ই ভাল হয়৷ আশা করি ভবিষৎতেও এই ধারা বজায় রাখবে৷

হরবোলার সাথে আমার বেশ ভাল সময় কেটেছে৷ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঘরে থাকুন, বই পড়ুন৷ সময় যে কি ভাবে হাওয়ার সাথে উড়ে যাবে টেরই পাবেন না৷ পরিশেষে লেখকের পরের বইয়ের জন্য রইলো শুভ কামনা।
Profile Image for Arif  Raihan Opu.
219 reviews7 followers
July 4, 2020
অনেক দিন ধরে পাহাড়ের আতঙ্কের নাম বিজন সাহু । যদিও আর্মি বরাবরই ব্যর্থ এর মধ্যে একটা অপারেশনে নিহত হয়েছে এক অফিসারসহ দশ সৈনিক । এ নিয়ে অনেক তোলপাড় চলছে । আর্মি এ নিয়ে তার ব্যর্থতার ঝুলি ভারী করেছে অন্য দিকে বিজন সাহুর শক্তি বুদ্ধিমত্তা ও পরিকল্পনা সব কিছু মাত করে দিচ্ছে বারবার ।

ইন্টিলিজেন্স ডিপার্টমেন্টের হেড সুধীর দত্ত ভিষণ চিন্তায় মগ্ন । তার কপালে ভাজ পরেছে । যদিও তিনি সেটাকে আমলে নিচ্ছেন না । কারন কখন কি করতে হবে সেটা তিনি জানেন । তাই অযথা তাড়াহুড়ো করা তার কাছে সম্ভব নয় । তিনি খুব শান্ত ধীর স্থির । তাকে দেখে কেউ হঠাৎ করতেই বুঝতে পারবে না যে তিনি আসলে কি করতে চাইছেন ।

ঢাকায় বড় ধরনের কিছু হতে যাচ্ছে । কিন্তু কি সেটা? মাফিয়া বা আন্ডার ওয়ার্ল্ডের মধ্যে কি চলছে । কোথাও এটা কিছু হচ্ছে তবে সেটা এখনই বোঝা যাচ্ছে না । সময় হয়ত সব বলে দেবে । কিন্তু তাতে কি খুব বেশি দেরি হয়ে যাবে । হয়ত সব কিছুর পরিবর্তন হবে । যেমন করে হরবোলারা তাদের স্বর পরিবর্তন করে ।

হ্যা এতখন যে বইটি নিয়ে বলছিলাম তার নাম হচ্ছে “হরবোলা” । বইটির লেখক হচ্���ে দিবাকর দাস । বইটি একটি স্পাই থ্রিলার বই ।

প্রথম প্লট বা কাহিনী বিন্যাস নিয়ে যদি বলি তবে অবশ্যই দারুন প্লট । বাংলাদেশের স্পাই বলতে আমরা মাসুদ রানা কেই বেশি জানি । তাই প্লটের ক্ষেত্রে এটি সত্যি প্রশংসার যোগ্য । কারন স্পাই থ্রিলার যত পড়েছি তার মধ্যে একটা থ্রিলিং ব্যাপার হচ্ছে ছদ্মবেশ । হ্যা টাই আমাকে সবচেয়ে কাছে টানে । মানুষের মাঝে থেকেও নেই । এই ব্যাপারটা আমাকে দারুন আনন্দ দেয় ।

লেখক এজন্য আমার কাছে অবশ্যই প্রশংসা পাবেন । এবার বলি কাহিনী বিন্যাস নিয়ে, যদিও এটা নিয়ে আমার আসলেই একটু সংশয় আছে । লেখক আসলে কি করতে চেয়েছেন সেটা বুঝে উঠতে আমার সময় লেগেছে । স্পাই থ্রিলার মুল ব্যাপারটা থেকে তার কাহিনীর মধ্যে । এখানে সেটার অনেক কিছু আমার মনে হয়েছে তিনি মিস করেছেন ।

প্রথমেই যদি বলি, সেটা হচ্ছে সময় । তিনি কোন সময় থেকে কোন সময়ে গিয়েছেন সেটা বর্ননা নেই । হঠাত করেই সময়ের পরিবর্তন হচ্ছে । পাচ বছর আগের এবং পরের সময়ের পরিবর্তন তিনি উল্লেখ করেননি । কেন তা জানি না । তিনি সময় এক বার পিছিয়েছেন আবার এগিয়ে এনেছেন । এই এক সময়ের জন্য সব কিছু একটা খাপ ছাড়া লেগেছে । কোথায় কি হচ্ছে সেটা ঠিক ভাবে বুঝতে পারিনি ।

যেমন এক জায়গাতে উল্লেখ আছে সাহু একটা বাড়ির ছাদের রয়েছে । অথচ উল্লেখ নেই তিনি কবে কোথায় কিভাবে আসলেন ওই বাড়িতে । এরপর ফোনে করে অপারেশন পাইথনের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু সেটা কে করবে? আর ওই ফোন আলাপের শেষ লেখা ছিল সুলতান বলেছে তাহলে কি ধরে নিতে পারি সাহু সব কিছু সুলতানের উপর ছেড়ে দিয়েছে ।

অন্যদিকে অপারেশন পাইথন যেটার কথা বলা হচ্ছে সেখানে যারা মারা গিয়েছে তারা নিশ্চয়ই সাধারন কেউ নয় । তাদের নাম পরিচয় কিছুই দেয়া হয়নি । যদি তারা আন্ডারওয়ার্ল্ডের কেউ হবে তারপরও তাদের নাম পরিচয় তো থাকবে । সেটার কোন উল্লেখ করা হয়নি ।

এবার আসি ক্যারেক্টার প্রসঙ্গে এক সুধীর বাবু ছাড়া আর সবাই মোটামুটি ভাবে বলা যায় তেমন জায়গা পায়নি । তার চরিত্রের গঠন সুন্দর হয়েছে । বাকি যারা ছিল তাদের গুলো আরও ভাল হতে পারত । এছাড়া সুলতানের চরিত্রে গভীরতা আরও দরকার ছিল । বাকি চরিত্র গুলো নিয়ে আরও খেলা করা যেতো । গভীরতা কম ।

টুইষ্ট নিয়ে বলি এবার, আমার কাছে মনে হয়েছে টুইষ্ট গুলো হঠাৎ করেই চলে এসেছে । আবার সব কিছুর জন্য ই একটা সময় আসে । সেটা কি গল্পের শেষে কিনা জানি না । তবে স্পাই থ্রিলারে আমার জানা মতে বা যতদূর পড়েছি তাতে টুইষ্ট গুলো মাঝে মাঝে আসে । যদিও এখানে এক সাথে অনেক চরিত্রের দরুন হয়ত এমন হয়েছে । সেটা লেখক ভাল ব্যাখ্যা করতে পারবেন । আমি সাধারন পাঠক মাত্র । স্পাই থ্রিলারে যেকোন কিছু হঠাৎ করেই হয় না । সেগুলোর জন্য একটা বিল্ড আপ থাকা দরকার । যেটা এখানে মিসিং রয়েছে ।

“হরবোলা” আসলে স্পাই থ্রিলার হলেও আবার নয় । কারন এখানে আপনি নিউক্লিয়ার ওয়েপেন, বা সমুদ্রের নিচে কোন ল্যাব অথবা গোপন কোন ল্যাবে তৈরি মানব ইতিহাস ধ্বংস করে দেয়ার মত কোন অস্ত্র পাবেন না । তবে হবে আপনি বইটি আনন্দের জন্য পড়তে পারেন । যদিও আমার পড়তে কষ্ট হয়েছে । এখানে আপনি টানটান উত্তেজনা আশা করতে পারেন না । যদিও বা নামটা আমাকে আকৃষ্ট করেছে । তবে বইটি আরও ভাল হতে পারত । হঠাৎ করেই শেষ হয়েছে । যে আমার কাছে ব্যক্তিগত ভাবে ভাল লাগেনি ।

সবশেষে, স্পাই থ্রিলিং না হলেও ভাল । মোটামুটি স্পাইসি ।
Profile Image for Mohaiminul Bappy.
Author 11 books123 followers
March 25, 2020
পাঠ প্রতিক্রিয়া- হরবোলা
লেখক- দিবাকর দাস
জনরা- ডিটেকটিভ থ্রিলার

গল্প এক নতুন গজিয়ে ওঠা ড্রাগ র‍্যাকেট ও সম্ভাব্য টেরোরিস্ট গ্রুপ নিয়ে, যাদের ধরতে এন্টি টেরোরিস্ট ডিপার্টমেন্ট লেগে পড়ে। মাহতাব নামের একজন অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, যার ট্রেনিং রেকর্ড ভাল হলেও পর পর কয়েকটা কেসে ব্যর্থ হয়েছে। শুরু হয় তদন্ত ও অন্যান্য ব্যাপার স্যাপার।

বইটা ভাল লেগেছে। ছিমছাম একটা গল্প। পাতায় পাতায় থ্রিল নেই, তবে সাবলীল বর্ণনা আছে। বাস্তবে তদন্তগুলো কেমন করে হয়, সেটা বোঝাতে চেষ্টা করেছেন লেখক। এই প্রয়াস প্রতীয়মান। সেজন্যই গল্পের মাঝখানে একটু ধীরগতির মনে হবে উপন্যাসটিকে। শ’ দেড়েক পৃষ্ঠার উপন্যাস হলেও উপন্যাসটিকে দীর্ঘ মনে হতে পারে। প্রচলিত থ্রিলারে যেমন টানটান উত্তেজনা থাকে, পাঠক এখানে তার কিছুটা অভাব বোধ করলেও বইটি সার্থক। কারণ লেখক দেখাতে চেয়েছেন বাস্তবের কেসগুলোতে কত ধীরগতিতে অগ্রগতি ঘটে, একটা কেস সমাধান করতে কি পরিমাণ নাকানি চুবানি খেতে হয় পুলিশকে। অনেক কাঠ খড়-পোড়ানোর পর একটার পর একটা অপরাধী ধরা পড়ে কিন্তু দেখা যায় তাদের কেউই নির্দিষ্ট অপরাধটির সঙ্গে জড়িত নয়, তাদের অপরাধ অন্যকিছু।

বইটিতে কোন প্রোটাগনিস্ট নেই। কখনো মনে হবে মাহতাব মুখ্য চরিত্র, কখনো মনে হবে জাকির, কখনো সুধীর দত্ত। সেনাবাহিনীর ছোট খাটো অপারেশনগুলোকেও মুখ্য বলে মনে হবে। একটা মাত্র মুখ্য-চরিত্র কেন্দ্রিক নয় উপন্যাসটি। এটা নতুন ধরনের এক্সপেরিমেন্ট মনে হলো। হ্যা, এমন গল্পও তো হতে পারে যেখানে কোন নায়ক নেই। ক্রিস্টোফার নোলানের ডানকার্ক সিনেমা যেমন, প্রধান চরিত্র কোনটা খুঁজে বের করা মুশকিল! হরবোলায় গল্প এগিয়েছে অনেক ছড়িয়ে ছিটিয়ে। মুখ্য চরিত্র না থাকলেও চরিত্রের অভাব নেই। অনেক অনেক চরিত্র আসবে বইয়ে। কিছু চরিত্র দুয়েক পাতায় ফুরিয়ে যাবে, কিছু যাবে শেষ পর্যন্ত। অল্প পরিসরে এত চরিত্রের আনাগোনায় পাঠক কিছুটা হাঁসফাঁস করতে পারেন। তবে টুইস্টে এসে অনেক কিছু অর্থবোধক মনে হবে। না, টুইস্ট আমি ধরতে পারিনি। অনুমান করেছিলাম এ কয়েকটা চরিত্রের মধ্যে কেউ একজন কালপ্রিট হবে, তবে গল্পের প্যাঁচঘোঁচ আগে বুঝতে পারিনি। সব মিলিয়ে একটা সার্থক উপন্যাস। যেমনটা দেখাতে চেয়েছেন লেখক, তেমনটাই দেখাতে পেরেছেন। একটু বেশি বা কম হয়নি কোথাও।

খারাপ লেগেছে গল্পের কনসিস্টেন্সি বা সামঞ্জস্যহীনতা। গল্প অনেক ছড়ানো ছিটানো লেগেছে। শুরুতে গোছালো লাগলেও যত সামনে এগিয়েছে, ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেছে গল্পের ফোকাস। শেষে অবশ্য ফিরে এসেছে আবার। তবে এত অল্প পরিসরে এত চরিত্রের আনাগোনা, চরিত্র বিন্যাসে কম সময় দেওয়া, অনেকগুলো স্বল্প-দীর্ঘ টাইমলাইনে গল্প বলা, এ বিষয়গুলো গল্পকে কিছুটা একঘেয়ে করে তুলেছে। হয় বইটা দীর্ঘ করা যেত, না হয় চরিত্র ও ঘটনার ঘনঘটা আরেকটু কম এবং পরস্পরের কাছাকাছি রেখে গল্প বলা যেত। গল্পের উপভোগ্যতা কমেছে এ কারণে। এছাড়া ছোট দুয়েকটা খটকা আছে, যেমন- জাকির মনে মনে ভাবে, প্রথম এসাইনমেন্টেই কুলি বানিয়ে দেওয়া হয়েছে তাকে! আর জাকিরের প্রেমিকা তাকে কুলি অবস্থায় দেখে ভাবে, ছেলেটার মধ্যে একটু পাগলামি আছে, আগে একবার ভিক্ষুক হয়েছিল আর এখন আবার কুলী! তাহলে জাকিরের প্রথম এসাইনমেন্ট আসলে কী ছিল!

বইটির জনরা নিয়ে বলতে গেলে, অনেকে এটাকে স্পাই বা এসপিওনাজ বলে দাবী করেছে। স্পাই বলতে আমরা যেমন ইন্টারন্যাশনাল স্পাইং বুঝি বা বিদেশী শত্রু মোকাবেলায় বুদ্ধিবৃত্তিক-কৌশলগত গোয়েন্দাগিরি বুঝি, এখানে সেটা দেখানো হয়নি। এ গল্প দেশের ভেতরের অভ্যন্তরীণ শত্রু মোকাবেলার গল্প। একজন মাত্র স্পাই সব করে বেড়াচ্ছে, এমন না। অনেকে কাজ ভাগ করে নিয়ে আলাদা আলাদা ভাবে গোয়েন্দাগিরি করেছে এখানে। গোয়েন্দাগিরির কৌশল ডিবি পুলিশের মতো অনেকটাই। তাই এটাকে স্পাই থ্রিলারের ক্যাটাগরিতে ফেলতে আমি একটু দ্বিধা করব। ডিটেকটিভ থ্রিলার বললে একটু স্বস্তি পাই।

সর্বোপরি, ভাল একটা বই, সময় নষ্ট হবে না এটা পড়ে মোটেও। থ্রিল এবং টুইস্ট আশাহত করবে না পাঠককে। একটা নতুন ধরনের কাজ। এই জনরায় পরবর্তীতে লেখক আরও ভাল কিছু করবে বলে আশাবাদী আমি। বইয়ের চাইতেও, লেখার প্রয়াসটুকুকে আমি সাধুবাদ জানাই।

এ বইয়ের রেটিং- ৩/৫
Profile Image for Bimugdha Sarker.
Author 15 books89 followers
February 1, 2020
"স্পাই থ্রিলার ভাল লাগে?"
প্রশ্নটা করলে অধিকাংশ বই পড়ুয়াই হাত তুলবে৷ স্পাই থ্রিলার কে না ভালবাসে! ( ব্যতিক্রম আছে)। তা সেটা ইয়ান ফ্লেমিং এর জেমস বন্ড হোক, কিংবা আমদের মাসুদ রানা হোক৷
আচ্ছা, এটা আর প্রশ্ন করছিনা, কিন্তু এটা সত্য যে, বিদেশি বই পড়তে গিয়ে আমরা অনেকসময়ই ভাবি, "ইশ এরকম যদি আমাদের দেশে লেখা হত! ধুমধারাক্কা মাইর পিট, সিডাকটিভ নায়িকা, হায়েনার মত হিংস্র ভিলেন-- ইশ! কেন যে হয়না! আমাদের দেশে আসলে সবাই দুর্বল লেখক ব্লা ব্লা। '' স্পাই থ্রিলার এর ক্ষেত্রে এর কিছুটা চাহিদা পূরন করেছে মাসুদ রানা৷ কিন্তু সেটা আমি পড়তে গিয়ে অল্পবিস্তর ধাক্কা খেয়েছি৷ এরকম ত হতে দেখিনি, এটা ত আমাদের দেশে হয়না--- মোটকথা আমরা বাস্তবতার সাথে মিল খোজার চেষ্টা করেছি৷ যাই হোক পাচশ মাসুদ রানা ক্রস হয়ে গিয়েছে, তাই আজকাল বাস্তব মাসুদ রানা খোজার কেউ ট্রাই করে না আজকাল, যেমনটা ধ্বংসপাহাড়, স্বর্নমৃগ তে পাওয়া গিয়েছিল৷ সেই জনরায় এড হয়েছেন আরেক প্রিয় লেখক নাবিল মুহতাশিম৷ তার বাজিকর সিরিজটাও ঐ পথে হাটছে। তবে বাস্তবসম্মত বাংলাদেশি স্পাই থ্রিলার কিন্তু লেখা কম হচ্ছে৷ এরকম আক্ষেপ পূরনের জন্যই এসেছে দিবাকর দাস এর লেটেস্ট বই 'হরবোলা'।

হরবোলা একেবারে এ দেশের আদি ও অকৃত্তিম স্পাই থ্রিলার৷ না, এখানে নিউক্লিয়ার ওয়েপন চুরি হয়না, প্রেসিডেন্টকে কেউ কব্জায় নেয়না, পানির শতমাইল নিচে ভিলেন বেস নেই৷ বরং আমাদের দেশের পাহাড়ি আদিবাসিদের সাথে conflit, চোরাচালান, মাদক, ঘুষ-- সম্পূর্ন ব্যাপারটা পড়ার সময় আপনার মনে হবে, " আরে, এটা ত হচ্ছে এদেশে! '' আপনারা বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা, আমার কাছে এই হরবোলা বইটার কিছু কিছু এতটাই বিশ্বাসযোগ্য লেগেছে যে, আমি চোখ বুজে কল্পনা করছিলাম কিছু কিছু জায়গার৷ উদাহরন দিয়েই বলি, জাকির গিয়ে যখন রেলে কুলির কাজ নেয় কিংবা ঢাকা শহরের অলিগলির যে বিবরন পড়ছিলাম -- প্রচন্ড নস্টালজিক লাগছিল। আর বেস্ট ব্যাপার হলো, এখানে প্রেম ভালবাসা ব্যাপারটা নেই বললেই চলে 🤢

দিবাকর দাসের লেখা গতবছর থেকেই খুজছিলাম, বড় বই দেখে একটু থমকে গিয়েছিলাম, এটার সাইজ ছোট দেখেই চট করে কিনে ফেললাম৷ বিশ্বাস না করলে নাই, বইটা আমি পড়ার সময় হাত থেকে নামাতে পারিনি৷ ( অথচ আজকাল আমার বই এর এটেনশন স্প্যান কমে গিয়েছে৷ আগে গার্বেজ বইও পড়তাম, আজকাল আমার ভাল না লাগলে সেটা শেলফেই রেখে দিই৷ সে কারনে 'জাদুকর' বইটা পাচ চাপ্টার পড়ে রেখে দিয়েছি)


একটু আক্ষেপ জানাই---

বইটার মধ্যে আচমকা যেসব ট্যুইস্ট এসেছে, যে ক্যারেক্টার বাজিমাত করার জন্য এসেছে, তার ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টটা আমার কম লেগেছে৷ 🙄 সম্পূর্নই আমার মতামত, তবে কিছুটা হলেও ভাল্লাগতো৷ হঠাৎ উড়ে এসে জুড়ে বসেছে সে৷ আর শুরুর দিকে বিজন সাহুর টাইমলাইন টা বুঝে উঠতে পারিনি৷ সেটা কি বর্তমানের সাথে সমান্তরালে চলছিল কিনা তা নিয়ে প্রথমে প্রশ্ন ছিলনা, শেষে সুলতান এর বড় হওয়া দেখে বুঝলাম ওটার টাইমলাইনটা৷

আর সর্বশেষ ব্যাপারটা হয়ত আমারই, কিন্তু পুরো বইয়ে টানটান উত্তেজনার ফিলটা তেমন পাইনি, পেয়েছি শেষ দুই কি তিন চাপ্টারে৷ হয়ত এটা বেশি বেশি বিদেশি স্পাই থ্রিলার গেলার ফলাফল, কিন্তু যেহেতু এটা আমার রিভিউ, তাই আমার মতামতটাই জানালাম৷ শেষ চাপ্টারগুলোর মধ্যেই ছিল থ্রিল, ছিল ট্যুইস্ট।

ইনবক্সে দাদাকে বইটা পড়েই নক দেবার সময় উত্তেজনার চোটে বলে বসেছিলাম, সুধীর দত্ত এর চরিত্র নিয়ে নেক্সট সিরিজ আকারে লিখতে৷ কিন্তু একটু ঠান্ডা হবার পর বুঝতে পারলাম, আসলে তাতে মজা পাব না একদম৷ একটা স্পাই থ্রিলার চলে স্পাই নিয়ে৷ শুধু রাহাত খান দিয়ে যেমন মাসুদ রানা সিরিজ অর্থহীন, তেমনই ব্যাপারটা দাড়াবে৷

অনেককিছুই লিখে ফেললাম৷ অনেকদিন রিভিউ লেখিনা, টাইম পাইনা৷ কিন্তু বছরের প্রথম পড়া থ্রিলার এটি, তাই না লিখে থাকতে পারলাম না৷ দাদার নেক্সট লেখা পড়ব৷ অভিমন্যুটা কেউ গিফট করুন৷

পার্সোনাল রেটিং -৭/১০
( রেটিংটা সম্পূর্নই আমার মতামত৷)
Profile Image for তান জীম.
Author 4 books285 followers
January 26, 2020
দিবাকর দাসের আমার পড়া প্রথম বই।

সবুজে ঢেকে থাকা পাহাড় আর তার বুকে বাস করা মানুষগুলো একদম আলাদা। আমাদের সবচাইতে কষ্টটা হয়তো তাদের জন্য কিছুই না। কারণ তাদেরকে বেঁচে থাকতে হয় প্রতিকূল অবস্থা মোকাবেলা করে। প্রকৃতির ভয়ংকর ছোবল, আতংকবাদীদের দ্বারা মোহগ্রস্ত হওয়া, আবার সেই আতংকবাদীদের বিপক্ষে আর্মিদের রেইডে জানের ভয় হাতে নিয়ে বেঁচে থাকাটাই তাদের কাছে জীবন। তো এই উপন্যাসের মূল কয়েকটি চরিত্রের একটি হলো বিজন সাহু, পাহাড়ী আতংকবাদী৷ যার বুদ্ধির কাছে বারবার নাকানী চুবানী খাচ্ছে পাহাড়ে দায়িত্বরত আর্মিরা। বেপরোয়া এই বিজন সাহু মনে মনে ফন্দি আঁটছে পাহাড় ছেড়ে সমতলকে তালুবন্দী করার৷ যেটার প্রভাব পড়বে রাজধানী ঢাকাতেও। কিন্তু পাহাড়ের মানুষ হয়ে সে কিভাবে ঢাকায় ত্রাস কায়েম করবে?

ওদিকে ঢাকায় দেখা দিয়েছে নতুন ড্রাগ র‍্যাকেট। হয়তো এটা বড় কোন বিষয় হতো না, কিন্তু আর্মির গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ শাখার বড় বাবু সুধীর দত্ত বেশ চিন্তিত এই ড্রাগ র‍্যাকেট নিয়ে। কারণ এদেরকে কোন ভাবেই ট্রেস করা যাচ্ছে না। তার মানে তার গোয়েন্দা বাহিনীর মধ্যে কারো কাছ থেকে সব তথ্য লিক হচ্ছে। তার মনে হচ্ছে নতুন ড্রাগ র‍্যাকেট আসলে চাইছে ড্রাগ ব্যবসা ও তার দিকে সবার মনোযোগ কেড়ে নিতে। এই সুযোগে তারা আরো বড় কিছু হাসিলের মাস্টারপ্ল্যান করছে। কি সেই বড় কিছু? তাহলে কি ঢাকার বুকে আসতে চলেছে বড় কোন পরিবর্তন? সুধীর বাবু আর তার টিম কি পারবে ঘরের শত্রু বিভীষণকে চিহ্নিত করে সে পরিবর্তন সামাল দিতে?

উপন্যাসটাকে আসলে এক কথায় কোন ভালো/খারাপ তকমা দেয়া যাবে না। কিছু কিছু দিক বেশ ভালো আবার কিছু কিছু দিক দূর্বল, আরো শক্তিশালী হতে পারতো। তবে একটা ফ্যাক্ট আমার বেশ ভালো লেগেছে৷ সেটা হলো, দেশীয় প্রেক্ষাপটে স্পাই থ্রিলার লেখার প্রয়াসটা। এটা নিঃসন্দেহে বেশ চ্যালেঞ্জিং। এবং লেখক মোটামুটি ভাবে উতরে গেছেন বলা যায়।

প্লটটা খুবই ছোট। যদিও লেখা বেশ সাবলীল ছিলো তা সত্ত্বেও আমি বলবো লেখক অনেক বেশী টেনে নিয়ে গিয়েছেন লেখাকে। অনেক জায়গায় উপন্যাস ঝুলে গিয়েছে, বিরক্তির উদ্রেক সৃষ্টি করেছে। নিচে পয়েন্ট আকারে লিখলাম-

*উপন্যাসের কিছু জায়গায় নাম বিভ্রাট সৃষ্টি হয়েছে। এটাকে এডিটিং মিসটেক বলে চালিয়ে দেয়া যেত কিন্তু একই নাম দু জায়গায় চলে আসায় বেশ খানিকটা সময় ধন্দে পড়তে হয়েছে।

*লেখক জাকিরের ছদ্মবেশ দিতে গিয়ে তাকে পুরান ঢাকার অধিবাসী বানিয়েছেন। কিন্তু স্রেফ পরিচয়ের সময়ই তাকে পুরান ঢাকার ভাষায় কথা বলতে দেখা যায়। বাকিটা সময় তার ডায়ালগগুলো পুরান ঢাকার মানুষের মত না হয়ে, একদম সাধারণ নিম্নবিত্ত মানুষের মত মনে হচ্ছিলো। লেখকের এদিকে আরো একটু মনোযোগ দেয়া উচিৎ ছিলো বলে আমার মনে হয়।

*মেয়��দের সা���সজ্জ্বার সরঞ্জামের মধ্যে তিনি 'মেনিকিউর, পেডিকিউর' উল্লেখ করেছেন। এগুলো বিউটি ট্রিটমেন্টের প্রসেস, কোন প্রোডাক্ট নয়।

*সবচাইতে দূর্বল মনে হয়েছে শেষটা। লেখক কি মনে করে যেন দমাদম কয়েকটা টুইস্ট ছেড়েছেন। ধাপাধাপ এতগুলা টুইস্ট আমার কাছে পার্সোনালি ভালো লাগেনি।

ভালো লাগার চাইতে খারাপ লাগাটা মোটেও বেশি নয়। আমি আগেই বলেছি, দেশীয় প্রেক্ষাপটে স্পাই থ্রিলার লেখাটা বেশ বড় চ্যালেঞ্জ। লেখক চ্যালেঞ্জটা নিয়েছেন এবং চেষ্টা করেছেন। হয়তো পুরোপুরি সফল হননি কিন্তু একেবারে ব্যর্থও হননি। ভবিষ্যতে লেখক যেন আরো ভালো লিখতে পারেন এবং আমাদের কিছু মাস্টারপিস উপহার দিতে পারেন সে উদ্দেশ্যেই এত কথা বলা। কারণ আমার মনে হচ্ছে, উনি পারবেন, ওনার লেখনীর মাঝে সে ধার রয়েছে। প্রয়োজন একটু ঝালাইয়ের। শুভকামনা রইলো।
1 review1 follower
February 28, 2020
হরবোলা - দিবাকর দাস
ভুমি প্রকাশ
বই মূল্য -২৪০/-
গ্রন্থ মেলা ২০২০

পরিচিতিঃ

"হরবোলা"। বিভিন্ন পশুপাখির ডাক দক্ষতার সাথে অনুকরণ করতে পারে যারা তাদের কে হরবোলা বলে। যারা পাহাড়ে স্পাই বা চর হিসেবে থাকে, সেটা হোক অপরাধীর স্পাই কিংবা আর্মির স্পাই তাদের কে এইসব কাজে দক্ষ হতে হয়। কারন তারা পাখির সুরে সুরে বার্তা পাঠায় নিজ নিজ দলের লোক কে।

থ্রিলার অংশবিশেষঃ
আর্মির গোয়েন্দা বিশেষ শাখার প্রধান সুধীর দত্ত। এন্টি টেরোরিজম নিয়েই এই শাখার কাজ হলেও সুধীর দত্তের নারকোটিক্সে অসাধারণ জ্ঞান আর অভিজ্ঞতা থাকায় ওপাশের কর্তাব্যক্তিরাও তার কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে থাকেন। এই বিশেষ শাখায় কর্মরত সব এজেন্ট ই আন্ডার কভার। তাদের প্রত্যেক কেই ছদ্দবেশে কাজ করতে হয়। নিজের পরিচয় গোপন রাখা এসপিওনাজ বা স্পাইদের প্রধান দায়িত্ব। এই দায়িত্ব তাদের যোগদান + ট্রেনিংয়ের সময়েই মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া হয়ে থাকে। চাইলেও এর বাইরে তাদের যাওয়ার উপায় নেই।
অফিসের জুনিয়র এজেন্ট মাহতাবের ডাক পরে সুধীর দত্তের রুমে একটা নতুন কেসের ব্যাপারে। ড্রাগসের একটা নতুন র‍্যাকেট তৎপর ঢাকায় ৩ মাস ধরে। যাদের ব্যাপারে সিনিয়র হাবীব খানের স্টং নেটওয়ার্ক ও কাজ করছেনা। সুধীর দত্তের ধারনা এরা ড্রাগসের ব্যবসা সামনে রেখে আড়ালে বড় কোন পরিকল্পনা আঁটছে ঢাকায়।

অন্যদিকে পাহাড় তথা পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তপ্ত। ওখানকার ভয়ংকর আতঙ্কবাদী বিজন সাহুর সাথে সেনাবাহিনীর কেউ পেরে উঠছেনা। নিজের সতীর্থদের ওদের কাছে বলি হওয়া দেখা ছাড়া তাদের কোন কৌশলই কাজে লাগছেনা। ধীরে ধীরে পাহাড় পুরো নিয়ন্ত্রনে নিয়ে এসে সাহুর দৃষ্টি এখন ঢাকায় রাজত্ব করার। আর সেই উদ্দেশ্যেই সে নিজের দক্ষ একজন উত্তোরাধিকারি তৈরি করেছে যার নাম "সুলতান"। নামের সাথে মিল রেখেই তার কাজ চলতে থাকে।

কেস একটাই। একদিকে সুধীর দত্তের আন্ডার কভার এজেন্ট "মাহতাব" আর অন্যদিকে পাহাড়ি বিজন সাহুর "সুলতান" দুজনই দুজনের কৌশল খাটিয়ে, ছদ্দবেশে দুজনের আধিপত্যের সমাপ্তি ঘটানোয় বদ্ধ পরিকর। কিন্তু ভেতর থেকে কেউ একজন ইনফরমার হিসেবে কাজ করছে। যার কারনে "সুলতান" সফল হলেও এজেন্ট মাহতাব বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন।।

কে এই সুলতান?
কে এই আন্ডার কভার এজেন্ট মাহতাব?
কে আসলে ইনফরমার?

জানতে হলে পড়তে হবে এই স্পাই থ্রিলার টি।

ব্যক্তিগত পর্যালোচনা

দিবাকর দাসের লেখা আমার পড়া এটা প্রথম উপন্যাস। এর আগে আমার দেশের কোন রাইটার্সেরই স্পাই বা গোয়েন্দা বিশেষ শাখা নিয়ে কোন লেখা আমার পড়া হয় নাই। অবশ্য সহজে কেউ এইসব বিষয়ে লিখতেও পারবেনা। কারন এইসব স্পাইদের তাদের পরিচয় গোপন রেখেই কাজ করতে হয়, এমনকি রিটায়ার্ড করার পরেও তারা কাউকে কোন কিছু বলতে পারেনা। কারন তাদের কাছে দেশের অনেক গোপনীয় তথ্য থাকে যা না জানানোর শিক্ষাই তাদের দেয়া হয় ট্রেনিং এ। এরা কোন পিছুটান তৈরি করেনা। পরিবারকে ঠিকঠাক এরা কখনোই সময় দিতে পারেনা। এদের সময়, কাজ, দায়িত্ব পুরোটাই দেশের জন্য হয়ে থাকে।
সাধারণ মানুষেরা শুধু পুলিশ চরিত্র কে দেখে তাদের রক্ষাকর্তা হিসেবে কিন্তু পুলিশের চেয়েও বিশাল দক্ষ হয় এই স্পেশাল টিম গুলো যা আমরা জানিনা। যেখানে পুলিশ ব্যর্থ হয় সেখানে এই স্পেশাল টিম গুলো কাজ করে কিন্তু কাজ করে দিয়েই তারা আন্ডার কভারে চলে যায়, মিডিয়ায় এদের কোন নিউজ আসেনা। তাই সাধারণ মানুষ কিছুই জানতে পারেনা।
আর এজন্যই দিবাকর দাস কে কৃতজ্ঞতা জানাই এই বিশেষ এজেন্ট দের নিয়ে স্পাই থ্রিলার টি পড়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য এবং এটিকে চিত্রনাট্য রূপে রূপান্তরিত করতে পারলে খুব ভালো একটা সিনেমা তৈরি হবে ধারনা করছি ব্যক্তিগত ভাবে।
বিষয়টি লেখক সিরিয়াসলি নিবেন অনুরোধ করছি।
Profile Image for Shirin  Ritu.
53 reviews12 followers
September 1, 2020
বই: হরবোলা
জনরা: স্পাই থ্রিলার
লেখক: দিবাকর দাস
প্রকাশনি: ভূমিপ্রকাশ
প্রচ্ছদ: সজল চৌধুরী
মূল্য: ২৪০ টাকা
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬০


সংক্ষিপ্ত রিভিউ:

তিনটা ব্যর্থ অপারেশন ও তিনটা শট শরীরে নেয়া আর্মির গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ শাখার এসপিওনাজ এজেন্ট মাহতাব যখন নিজের ব্যর্থতায় চাকরি হারানোর ভয়ে আচ্ছন্ন হয়ে আছে, ঠিক তখনই শাখা প্রধাণ সুধীর দত্ত তাকে দিলেন নতুন এক কেস।

একটা নতুন র‍্যাকেট ঢাকা শহরে ড্রাগসের কাজ শুরু করেছে। কে বা কারা জড়িত সে সম্পর্কে স্বয়ং গোয়েন্দা সংস্থাও জানে না। সুধীর দত্তের ধারণা ড্রাগসের আড়ালে তারা কোনো সন্ত্রাসী হামলা চালাতে পারে৷ ড্রাগস সাপ্লাই নামমাত্র লোকদেখানো৷ কিন্তু হুট করে আগত এই ড্রাগস সাপ্লাইয়ার কারা? হাবিব খানের মতো বাঘা ইনফরমার নেটওয়ার্কের হোতাও কেন তাদের খুঁজে পাচ্ছে না? এর সাথে কি ভেতরের কেউ জড়িত?

পাহাড় থেকে উঠে এসেছে নতুন আতঙ্ক। বিজন সাহুর মতো ভয়াবহ সন্ত্রাসীর ছত্রছায়ায় যে বেড়ে উঠেছে। তার কৌশলের কাছে সেনাবাহিনী হেরে যাচ্ছে বারবার। বিজন সাহুর এ উত্তরাধীকারী কে হতে পারে?

মাহতাব কি পারবে এই অসম্পূর্ন কেস সমাধান করতে? তার জন্য কি কেউ ওত পেঁতে আছে? পুরো কাহিনি জানতে হলে পড়তে হবে "হরবোলা"।


চরিত্র বিশ্লেষণ:

এ বইয়ের মূল চরিত্র নিঃসন্দেহে মাহতাব। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাকে নিয়েই কাহিনি এগিয়েছে। নতুন কেস পাওয়ার পর থেকে শেষ হওয়া পর্যন্ত আমরা একজন দায়িত্ববান, কৌশলী মাহতাবকে দেখতে পাই। মাহতাব জীবনে প্রথম একটা বড় কেস পায়, যেখানে তার আন্ডারে আরো তিনজন সিনিয়র ও দুজন জুনিয়র অফিসার কাজ করে৷ সিনিয়র হাবিব খান ও জামশেদ আলী তাকে তেমন সাহায্য করতে না চাইলে সে বাকি তিনজনকে নিয়ে কাজ শুরু করে দেয়। ঘটনাপ্রবাহে ছদ্মবেশে বেশকিছু ঘটনা ঘটতে থাকে যাতে মাহতাবের দূরদর্শীতার পরিচয় পাওয়া যায়।

এরপর গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র সুধীর দত্ত। সুধীর দত্ত হচ্ছেন শাখা প্রধান। তার চরিত্রের গুরুত্ব শেষের দিকে আরো ভালোভাবে বুঝা যায়৷ পুরো বই পড়ার পর যেকোনো পাঠক এ ব্যাপারে একমত হবেন। তাকে নিয়ে আমার মনোভাব বলতে গেলে স্পয়লার দিতে হবে তাই আর বলা যাবে না।

এবার বিজন সাহুর ব্যাপারে বলি৷ বিজন সাহু পাহাড়ের ভয়ংকর আতঙ্কবাদী। পাড়ারে ত্রাস ছড়ানোর পর যার মূল লক্ষ্য শহরের দিকে। শহরের একদম ভিতরে আঘাত হানার মতো যথেষ্ট মালমশলা থাকলেও নেই তার উত্তরাধিকার৷ পাহ���ড়ের বুকে ঘটনাক্রমে পেয়ে যান এমন একজনকে, যাকে তিনি ট্রেনিং দিয়ে উপযুক্ত সন্ত্রাসী করে তোলেন।

সুলতান, নামটার মধ্যেই বেশ ভারিক্কি এক ব্যাপার আছে। নামের মতো মানুষটাও সবার মনে জায়গা করে নেয়, জন্ম দেয় আতঙ্কের। সন্ত্রাসী হিসেবে এই চরিত্রকে বেশ ভালো লেগেছে। "কথা কম, কাজ বেশি"— এই কথাটা সুলতানের বেলায় খাটে।

বাকি চরিত্রগুলোও কাহিনির সাথে খাপে খাপ মিলে। কোনো চরিত্রের বর্ণনা অতিরিক্ত মনে হয়নি।


পাঠ প্রতিক্রিয়া:

পুরো বই দুই দিনে পড়ে শেষ করেছি৷ একবার পড়া শুরু করার পর আর হাত থেকে রাখা যায় না। শুরু থেকে শেষ অনেক কাহিনির মারপ্যাচ আছে যে কারনে এই বই গ্যাপ দিয়ে পড়লে বুঝতে সমস্যা হবে। পাঁচ বছর আগের পরের কাহিনির জন্য শেষের দিকে একটু খটকা লাগছিলো। এক কিশোর হুট করে যুবক হয়ে গেছে এটা মেলাতে পারছিলাম না কিছুতেই৷ শেষের দিকে মেলানোর পর শান্তি পেয়েছি। ১৮০ পৃষ্ঠার বই, অথচ মনে হয়েছে ধরলাম আর শেষ হয়ে গেলো। কাহিনির বর্ণনাভঙ্গিই ভালো লেগেছে। সবকিছুই ভালো ছিলো শেষ পর্যন্ত। প্রথমদিকে একজনকে সন্দেহ হচ্ছিলো, শেষে অন্যজন কালপ্রিট হওয়ার ঘটনা নাটকীয়ভাবে দেখানো হয়েছে, এটা ভালো লেগেছে অনেক। আর লেখকের লেখা তো সবসময়েই ভালো লাগে৷ লেখকের জন্য অনেক শুভকামনা।
Profile Image for Shaon Arafat.
81 reviews4 followers
July 15, 2025
২০২০ সালের ভ্যালেন্টাইন'স ডে-তে পড়ে লেখা প্রতিক্রিয়া।
---------------------------------------
মাহতাব সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট। কর্মজীবনে চুড়ান্ত ব্যর্থ। এ পর্যন্ত তিনটা মিশনে অংশ নিয়ে তিনটাতেই ডাব্বা মারছে। গুলিও খাইছে তিনবার। এই মাহতাবকেই দেওয়া হলো নতুন একটা কেস। মিশনে তার অধীনস্থ সঙ্গী হিসেবে দেওয়া হলো নিজ নিজ সেক্টরে সেরা তিনজন সিনিয়র অফিসার এবং সদ্য ট্রেইনিং ফেরত দুইজন আনকোরা এজেন্টকে।
কিসের মিশন? ঢাকায় হুট করে ড্রাগস আমদানি বহুগুণ বেড়ে গেছে। সম্পূর্ণ নতুন একটা সংঘবদ্ধ দল কাজ করছে এর পেছনে। সিক্রেট সার্ভিস কোন কূলকিনারা পাচ্ছেনা। তাদের এতো এতো ইনফর্মার, এতো শক্তিশালী নেটওয়ার্ক কোন কাজেই আসছে না। কিন্তু এভাবে চলতে দিলে তো হবে না! এদের থামাতে হবে! সিক্রেট সার্ভিস শাখা প্রধান সুধীর দত্ত আশংকা করছেন ব্যাপারটা শুধু ড্রাগস কেনা-বেচার না, বরং এর পেছনে আরও ভয়াবহ কিছু লুকিয়ে থাকতে পারে!
এদিকে পাহাড়ের ত্রাস বিজন সাহু সেনাবাহিনীর ঘুম হারাম করে দিচ্ছে। ভিতরে ভিতরে বড় কিছু প্ল্যান করছে, বোঝা যাচ্ছে। কি সেই প্ল্যান, যার জন্য সুলতানকে সে নিজের হাতে তৈরি করে নিচ্ছে?
বছর দুয়েক আগে লেখকের 'পঞ্চম' পড়ছিলাম। ভালো লেগেছিলো। 'হরবোলা'ও ভালো লেগেছে। একই রকম। সমস্যাটা সেখানেই। পুরোপুরি একই রকম ভালো লাগার মানে হচ্ছে এই কয় বছরে লেখকের ডেভেলপমেন্ট শূন্য।
একের অধিক বই লেখা সাম্প্রতিক থ্রিলার লেখকদের আমি প্রধানত বিচার করি দু'টি অবজারভেশনের মাধ্যমে। ১) তার মৌলিকত্ব এবং ২) তার তূলনামূলক সামগ্রিক উন্নতি। প্রথম ব্যাপারটাতে দিবাকর দাস বেশ সফলভাবে উতরেছেন। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রেক্ষাপটে 'প্রভাবমুক্ত' একটা মৌলিক স্পাই থ্রিলার লেখার চেষ্টা করায় উনাকে সাধুবাদ জানাতে হচ্ছে। দ্বিতীয় ব্যাপারটাতে যে ভালো করেননি, তা তো আগেই বলা হইছে। এবার আসি অন্য প্রসঙ্গে।
গল্পের পরিব্যাপ্তি খুবই ছোট। বড়জোর ৮০/৯০ পৃষ্ঠায় খুব ভালো ভাবেই শেষ করা যাইতো! এইটাকে ১৬০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়ার আসলে কোন দরকার ছিলো না। আর তাছাড়া বইটা পড়তে যেয়ে আমার বারবার ক্যান জানি মনে হইছে- লেখক যথেষ্ট স্পাই থ্রিলার আগে পড়েননি। এই স্টেটমেন্টকে আমি লজিক দিয়ে ঠিক প্রমাণ করতে পারবো না; মনে হইছে, তাই বললাম আর কি!
আমার আরেকটা অতি গুরুত্বপূর্ণ 'মনে হওয়া' হচ্ছে লেখক সম্ভবত বেশি তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে, সম্পাদনায় মনযোগী হতে পারেননি। অথচ একটা যে কোন ধরনের লেখাকে সফল করে তুলতে হলে, যে বিষয়টা সবচেয়ে জরুরী তা হচ্ছে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে সম্পাদনা।
Profile Image for Mohammad.
7 reviews4 followers
March 22, 2020
লেখনশৈলী, শব্দচয়ন, বাক্যগঠন ভালো কিন্তু গল্পটা কোনভাবেই স্পাই থ্রিলার বলা যায় না। গল্পে রয়েছে বেশ বড় মাপের তথ্যগত গোলযোগ।
মূল চরিত্র সুলতান, বারো বছর বয়সে ভয়ঙ্কর আতঙ্কবাদী বিজন সাহুর দলে যোগ দেয় কারণ সেই সময়ে সুলতানের বাবা লেফটেন্যান্ট তারেক এক অপারেশন করতে গিয়ে বিজন সাহুর দলের হাতে মারা যায়।
একজন আর্মি লেফটেন্যান্টের বয়স কত হতে পারে?
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য বয়স: ১৯ – ২৪ বছর
যদি আমি ধরে নেই লেফটেন্যান্ট তারেকের বয়স ২৪ (যা অফিশিয়ালি সর্বোচ্চ) তাহলেও তার ছেলের বয়স ১২ কেমন করে হয়? এটা একটা উদাহরণ মাত্র। এই রকমের আরও হাজারো ভুলে আছে হরবোলার মাঝে যা খুঁজতে যাওয়া পাঠকের সময় এবং অর্থ দুটোরই অপচয়।
ওহ, হ্যাঁ! আর্মিতে বিয়ে করার বৈধ অনুমতি পেতে হলে নিদেনপক্ষে ক্যাপ্টেন হতে হয়। একজন লেফটেন্যান্ট র‍্যাঙ্কের অফিসার বৈধভাবে বিয়ে করতে পারেন না!
টুইস্টগুলোও আমার কাছে আহামরি লাগেনি - তেলেগু সিনেমার টুইস্টের মতো লেগেছে (বিশেষ কোন সিনেমা না, জেনেরিকভাবে বললাম), পাঠককে অতিমাত্রায় বিস্মিত করে জগাখিচূড়ী পাকানো টাইপের টুইস্ট রেখেছেন ।
Note: Facebook গ্রুপের বিভিন্ন পোস্টে এই বইয়ের যে পরিমাণ গুণগান করা হয়েছে , আসলে বইটা সত্যিকারে পড়ার সময় পাঠকের মনে খারাপ লাগাই স্বাভাবিক।আমার খুব আবাক লাগলো একটা জিনিসে, বইটা প্রকাশ হওয়ার প্রায় দুইমাস পর আমি গল্পের মধ্যে ভুল ইনফর্মেশন প্রকাশ করি এই পোষ্টের মধ্যে দিয়ে। গত দুই মাসে এই ভুলটা অন্যকোনো পোষ্টে আসেনি, তার মানে আমার এইটা মনে হওয়া খুব স্বাভাবিক যে আগের রিভিউ গুলা বই না পড়ে দেওয়া হয়েছে। জিনিসটা একটু অস্বাভাবিক বলে আমার মনে হয়। লেফট্যানান্ট আর হনারারি লেফট্যানান্ট দুইটা ভিন্ন জিনিস।গল্পের মধ্যে লেফট্যানান্ট আর ভুল প্রকাশ হওয়ার পর হনারারি লেফট্যানান্ট বলাটা পাঠক হিসাবে মানা দুঃখজনক। এই বইয়ের মধ্যে আর কি ভুল আছে?এই বিষয়ে আমি আর আলোচনা করতে আগ্রহী না, কারন এই বইটা একবার পরার সময় আমার মনে হয়েছে হরবোলা বইটা পড়া আর সময়ের অপচয় দুইটা সমাথক শব্দ। লেখককে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে আক্রমণ করার জন্য এই লেখা না, পাঠক যেন আজেবাজে বই না পড়ে ভাল মানের বাংলা মৌলিক থ্রিলার পড়ে এই জন্য আমার এই লেখা ।
Profile Image for Shrabonti Debnath.
31 reviews
June 8, 2023
বই:হরবোলা
লেখক:দিবাকর দাস
ঘরানা: স্পাই থ্রিলার
প্রথম: প্রকাশ ফেব্রুয়ারী ২০২০
প্রকাশনী: ভূমি প্রকাশ
পৃষ্ঠা: ১৬০
মুদ্রিত মুল্য: ২৪০ টাকা
ফরমেট: হার্ডকভার

কাহীনিসংক্ষেপঃ

আর্মির গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ শাখার প্রশান সুধীর দত্ত।এন্টি টেরোরিজম নিয়ে কাজ করা এই শাখার কাজ। এই অফিসে কাজ করা অফিসার মাহতাবের ঘাড়ে এবার তিনি দিলেন বিশেষ এক দায়ীত্ব।ঢাকার বুকে হোট করেই বেড়ে গেছে ড্রাগ ব্যাবসা।সুধীর দত্ত ভাবছেন ড্রাগ ব্যাবসার সাথে সাথে দলটি আরো সক্রিয় ভাবে অনেক গভীর কাজ করছে।যা হলে খুবই ভয়াবহ ব্যাপার হতে পারে। এই তদন্তের কাজে মাহতাব কে সাহায্য করবে হাবিব খান,জামশেদ আলী,ওমর ফারুক,রাজপাল মোহান্ত ও জাকির হোসেন।
এতো মানুষ থাকতে মাহতাব কেই কেন এতো বড় দায়িত্ব দেওয়া হলো?

অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিজন সাহুর স্মাগলিং এর ব্যবসা দিনে দিনে বেড়ে চলেছে।তার দুই হাত সুদেশ ও রামপাল। বিজন সাহু কে ধরতে গিয়ে প্রান হারায় লেফটেন্যান্ট তারেক।কিছুতেই তাকে ধরতে পারা যাচ্ছিলো না।বাড়ে বাড়ে আর্মির লোকদের ঘুল খাওয়াচ্ছিলো এই বিজন সাহু।বিজন সাহুর তীক্ষ্ণ বুদ্ধির কাছে বারবার সেনাবাহিনীর লোকেরা হার মেনে যাচ্ছিলো।পাহাড়ের বুকে রাজত্বের পর তার লক্ষ্য এখন সমতল ভূমি। সে ঢাকার বুকে ত্রাস সৃষ্টি করতে চায়।আর তার এই খেলার তুরুপের তাস সুলতান।সুলতানের আসল পরিচয় কেউ জানেনা।কিন্তু সুলতানের কাজে সন্তুষ্ট হয়ে তাকে এতোবড় দায়িত্ব দিলো বিজন সাহুর মত লোক।

ব্যাক্তিগত মতামতঃ
দিবাকর দাসের লিখা হরবোলা বইটি আমার পড়া তার প্রথম বই।বইটিতে দারুনভাবে লেখক তার সুনিপূন হাতের ছোয়ায় অসাধারন এক বই পাঠকের হাতে তুলে দিয়েছেন।বইয়ের শুরুটা সাধারন ভাবে শুরু হলেও ভিতরে ছিলো চমক আর চমক।শুরুটা পড়ে কেউ শেষটা অনুমান করতে পারবে না।বিশেষ করে বইয়ের শেষটা ছিলো অসাধারন।মুগ্ধ হয়ে পড়ে শেষ করলাম হরবোলা।
Profile Image for Shahajahan  Milon.
6 reviews
April 6, 2023
ফোর্থ ইয়ার ফাইনাল এক্সাম শেষ করে পড়া প্রথম বই। এক্সস্টেড ছিলাম, এখানে ওখানে ওড়াওড়ি করছিলাম আর ফাঁকে ফাঁকে এই বইখানা পড়ছিলাম।

প্রথম কয়েক পাতা পড়ে মনে হয়েছিল এই বইটাও অন্যান্য আর দশটা বাংলাদেশি স্পাই থ্রিলারের মত মাসুদ রানা থেকে অনুপ্রাণিত। তবে পরে যেয়ে আর এটা মনে হয়নি।

কাহিনীর বিস্তার এবং ক্যারাক্টার ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কয়েকটা কথা বলব।

সবগুলো চরিত্র সমান এক্সপোজার পায়নি। পাবে না, এটাই স্বাভাবিক। তবে কয়েকটা চরিত্র একেবারেই কম আলোচিত হয়েছে। যেমন ওমর ফারুক, জামশেদ খান।

লেখকের গল্প বলার ধরণ চমৎকার। সাবলীল। পাঁচ-দশ পৃষ্ঠা পড়ে ফেলা যায় মুহূর্তেই। কিন্তু গল্পটা যেখানে শেষ হয়েছে, লেখাটাকে আর উপন্যাসের কাতারে ফেলা যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে তাড়াহুড়ো করে কিছু ঘটনা সেন্সর করে শেষ করা হয়েছে। আরো ৫০-৬০ পৃষ্ঠার মত অনায়াসে লিখে ফেলা যেত বলে আমার মনে হয়।

এখন রেটিং দেওয়ার পালা। স্পাই থ্রিলার পড়ার সময় আমার চাওয়া থাকে চারটা জিনিস। গতিময় ঘটনার বর্ণনা, শক্ত ভিলেইন, চরম সংকট আর পারফেক্ট টুইস্ট। লেখক মোটামুটি সবগুলো জায়গাতেই উতরে যেতে পেরেছেন শুধুমাত্র সংকটটাকে তীব্র করে দেখানো ছাড়া। এজন্য হাফ নম্বর কাটা গেল। আর তাড়াহুড়ো করে শেষ করা হয়েছে বলে মনে হওয়ায় আরো হাফ কাটা।

রেটিং- ৪/৫
Recommendation- Recommended
Profile Image for Hasan.
Author 11 books89 followers
May 5, 2021
“ এই ছোকরার মতো উত্তরাধিকার তোমরা যেমন সৃষ্টি করো তেমনি আমরাও তৈরি করি আমাদের উত্তরাধিকার। আমাদের লড়াই কোনদিন শেষ হবে না।”
‘হরবোলা’ একটি এসপিওনাজ থ্রিলার। আর্মির বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ ফোর্সের এসপিওনাজ এজেন্ট মাহতাবের কাছে হঠাৎ একদিন বড় একটা কেস আসে। শাখা প্রধান সুধীর দত্ত কেন তাকে কেসটা দিয়েছে সেটা বুঝে উঠতে পারে না মাহতাব। কারণ পিছনে তার তিন তিনটে ব্যর্থ কেস। প্রত্যেকবারই গুলি খেয়ে আহত হয়েছে সে।
গল্পে আচমকাই চলে যায় দুর্গম পাহাড়ে। বিজন সাহু নামে ভয়ংকর এক আতঙ্কবাদীকে দেখা যায়। বিজন সাহুর কৌশলের কাছে বারবার হেরে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। কিন্তু এই বিজন সাহুর সাথে ঢাকার সিক্রেট সার্ভিসে আসা নতুন কেসের যোগসাজশ কী?
মাহতাব, জাকির , হাবীব, হারুন, জাহাঙ্গীর, সুলতান… এমন অসংখ্য নামের সাথে এগোতে থাকে গল্প। কখনও কমলাপুর, কখনও কনফারেন্স রুম, কখনও বা পুরান ঢাকায়। এই বই নিয়ে আমি যাকিছু লিখতে চেয়েছিলাম সব ভুলে গিয়েছি ফিনিশিংটা পড়ে। এতটা আনপ্রেডিক্টেবল হবে চিন্তাও করিনি। বিশ-ত্রিশ পৃষ্ঠা বাকি থাকতে রহস্য সমাধান করে ফেলেছি মনে করে খুব খুশি হয়েছিলাম। শেষে যে ধাক্কাটা খেলাম… ভাইরে ভাই। বেশিকিছু লেখতে পারছি না স্পয়লার হয়ে যাবে বলে।
Profile Image for Ghumraj Tanvir.
253 reviews11 followers
June 20, 2020
হরবোলা (স্পাই থ্রিলার)
লেখকঃ দিবাকর দাস
প্রচ্ছদঃসজল চৌধুরী
মুদ্রিত মূল্যঃ ২৪০ টাকা
পৃষ্ঠাঃ১৫৯
প্রকাশনীঃ ভূমি প্রকাশ

পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ

স্পাই থ্রিলার কথাটা শুনলেই জেমস বন্ড অথবা মাসুদ রানার কথা মাথায় আসে। এই বইটা ওই রকম চকচকা কোন স্পাই থ্রিলার নয়, তবে দেশীয় পটভূমিতে ঢাকাকে কেন্দ্র করে অপরাধ জগতকে নিয়ে লিখা সুপাঠ্য একটি বই। লেখক অহেতুক কোন ঘটনার সংযোগ করে বইটিকে দীর্ঘ করেনি,তাই খুব দ্রুত গতিতে কাহিনি এগিয়ে গেছে।
দিবাকর দাসের লেখার সাথে পরিচয় করোনাকালীন সাধারন ছুটিতে ভূমি প্রকাশ কর্তৃক প্রদান "পঞ্চম" বইটির পিডিএফ পড়ার মাধ্যমে। "পঞ্চম" পড়ে দিবাকরদার ফেন/পাখা হয়ে যাই।আশা করি দিবাকরদার বাকি বইগুলোও পড়ে ফেলবো।
"হরবোলা" নিয়ে একটাই আফসোস - আরো অনেক কিছু ডিটেইলস এড করতে পারতেন দিবাকরদা যা পঞ্চমের ক্ষেত্রে ছিলো।
শুভ কামনা এবং ধন্যবাদ দিবাকর দাদা এবং ভূমি প্রকাশকে।
Profile Image for Kowshik Debnath.
Author 1 book48 followers
March 1, 2020
ভালো বই। লেখনশৈলী, শব্দচয়ন, বাক্যগঠন ভালো। টুইস্টও ভালো ছিল। তবে চরিত্রগুলোর ডেভেলপমেন্ট কম হইছে। আর কাহিনীর টাইমলাইনটা ধরতে একটু কষ্ট হইছে। কোনটা আগের ঘটনা, কোনটা পরের তা উল্লেখ করা দরকার ছিলো। এক দু'বার চরিত্রের নাম বদলে গিয়েছিল। আর নামগুলোর ভিন্নতা থাকলে সুবিধা হতো। হাশেম, হারুন, হাবিব। একই আদ্যক্ষরের কারণে লেখক নিজেই একবার হাশেম আর হারুনের মধ্যে গুলিয়ে ফেলেছিলেন। আর কোনো ড্রব্যাক চোখে পড়েনি। ওভারঅল ভালো একটি বই, উপভোগ করার মতোই।
Profile Image for K.M. Ettahad.
79 reviews
June 11, 2020
নাহ শেষের দিকে এরকম টুইস্টের জন্য আমি সত্যিই প্রস্তুত ছিলাম না! অসাধারণ! অসাধারণ! শুধু শুধু ফালতু বর্ণনা না বাড়িয়ে, বইয়ের মেদ কমিয়ে, অল্প কথাতেও যে এত সুন্দর করে এসপিওনাজ / স্পাই থ্রিলার লেখা যায়, তার প্রমান পেলাম! যদিও কিছু ক্ষেত্রে বেশ কিছু ভুল চোখে পড়েছে। তাও সবশেষে লেখক কে ধন্যবাদ এরকম একটি বই আমাদের উপহার দেয়ার জন্য!
Profile Image for উচ্ছ্বাস তৌসিফ.
Author 8 books70 followers
January 26, 2020
খাঁটি দেশি এসপিওনাজ থ্রিলার। দারুণ গতিশীল গল্প, অথচ বিল্ডআপের পেছনে সময় ও পাতা ব্যয়ে কোনোরকম কার্পন্য করেননি লেখক। আর, এর সবটা উসুল করে দিয়েছেন শেষে এসে। সবচেয়ে বড় কথা, গল্পটা অবাস্তব হয়ে যায়নি।

এরকম চমৎকার গল্পের জন্য লেখকের অবশ্যই সাধুবাদ প্রাপ্য।
Displaying 1 - 30 of 35 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.