Jump to ratings and reviews
Rate this book

মেঘেদের দিন

Rate this book
আজ রাতে হঠাৎ করেই প্রচন্ড গরম পড়েছে। চারপাশটা কেমন স্থির, নিস্পন্দন। কোথাও গাছের পাতা অব্দিও নড়ছে না। যেন প্রলয়ঙ্করী কোনো ঝড়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রকৃতি। মারুফ খানিকটা সরে এলো তানিয়ার কাছে। তানিয়া প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বলল, ‘আমার খুব ভয় করছে মারুফ’।
মারুফ অবাক গলায় বলল, ‘ভয়!’
‘হুম’।
‘কিসের ভয়?’
‘আমি জানি না মারুফ। কিন্তু আমার প্রচণ্ড ভয় করছে। আমি তোমাকে বোঝাতে পারব না’।
‘ধুর বোকা। এখানে ভয় কিসের?’
তানিয়ার মুখ শুকিয়ে গেছে। সে শুকনো গলায় বলল, ‘আমি জানি না। কিন্তু আমি টের পাচ্ছি, কোনো একটা ভয়াবহ বিপদ ঘটতে যাচ্ছে’।
‘কিসের বিপদ?’
‘আমি জানি না। কিন্তু সত্যি বলছি। ভয়াবহ কোনো বিপদ’।
মারুফের আচমকা মনে হলো তানিয়া যা বলছে তা সত্য। তানিয়ার ভয়টাকে আর অমূলক বা হেসে উড়িয়ে দেয়ার মতো কোনো বিষয় মনে হচ্ছে না তার কাছে। বরং মনে হচ্ছে অমোঘ কোনো সত্য। সে ঘাড় ঘুরিয়ে চারপাশে তাকালো। মাথার ওপর দুটো আমগাছের ডাল কেমন অশরীরী উপস্থিতির মতো ছড়িয়ে আছে। একটা বাঁদুর বা অন্য কোনো নিশাচর পাখির ডানা ঝাপটানোর শব্দে আচমকা কেঁপে উঠল চারপাশ। ভেঙে খানখান হয়ে গেল রাতের নৈঃশব্দ্য। সেই শব্দে কেঁপে উঠল তানিয়াও। সে দুহাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল মারুফকে। তারপর মারুফের কানের কাছে মুখ নিয়ে ভয়ার্ত কণ্ঠে বলল, ‘আমি আর এখানে থাকব না মারুফ। এক মুহূর্তও না’।

96 pages, Hardcover

First published December 1, 2019

2 people are currently reading
165 people want to read

About the author

Sadat Hossain

40 books381 followers
Sadat Hossain (born 29 June 1984) is a Bangladeshi author, screenwriter, film-maker, and novelist. Sadat Hossain was born In Madaripur, Dhaka, Bangladesh. He studied anthropology at Jahangirnagar University. He was a photojournalist in a newspaper. Then the editor told him that he should write the story of those photos. Eventually, with these, he published his first book in 2013 named Golpochobi. Then, he started to write short stories. In 2014 Janalar Opashe published. In 2015 Aarshinagor is the first book when people recognize him in 2015.[4] Besides writing he has interest in filmmaking as well. He has a production house named ‘ASH’ Production house, released a number of visual contents like short films, dramas, music videos, documentaries, etc.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
31 (10%)
4 stars
89 (28%)
3 stars
115 (37%)
2 stars
54 (17%)
1 star
20 (6%)
Displaying 1 - 30 of 45 reviews
Profile Image for Tiyas.
473 reviews139 followers
October 26, 2023
উপন্যাসের মুখ্য চরিত্র মারুফ ও তানিয়া। দুজনেই আসে মারুফের নানাবাড়ি, নীলতলিতে। উদ্দেশ্য সহজ। মধুচন্দ্রিমার মোড়কে অনাড়ম্বর স্মৃতিরোমন্থন। সাথে, স্মৃতির আদরে, নবপরিণত প্রেমের ভিত মজবুত করা। মারুফ চায় তার সেই ফেলে আসা ছেলেবেলার ছবিগুলোকে আবার নতুন করে জাগিয়ে তুলতে। তানিয়াও নিজতালে ক্রমশ মিশে যায় বৃষ্টিমেদুর গ্রামের অচিন আলোছায়ায়। চরিত্র ভিড়ে তারা সাথে পায়, এগারো বছরের বুড়ি, বুড়ির বাপ হারান ও সুবিধাবাদী হারু ব্যাপারীদের।

স্বল্পদৈর্ঘ্যের ক্ষীণতনু বই। আমার সাদাত হোসেইনে হাতেখড়ি। ঘোর বর্ষাকালের পটভূমিতে লেখকের গ্রাম্যজীবন ও পরিবেশের বর্ণন সুন্দর। সেই নিরিখে ধ্রুব এষ অঙ্কিত প্রচ্ছদখানি যথাযথ; মন আদ্র করে দ্রুত। ঠিক যেন বর্ষার অমোঘ খামখেয়ালিপনা। ভিজতে সবাইকে হবেই, তা হোন না আপনি, নিরস কোনো কাঠখোট্টা ক্যারিকেচার। প্রকৃতির নিয়মে কারোর রেহাই নেই। বৃষ্টির সজল বর্ষণে কোথাও কাব্য, তো কোথাও কষ্ট। আবার কোথাও অবিরত বারিধারাও নেভাতে পারে না প্রতিহিংসার আগুন। এইতো জীবনের মূল তত্ত্ব। এই বই থেকে এটাই সবথেকে বড় পাওনা।

তবুও, বইটি আমার খুব একটা ভালো লাগেনি। কেন লাগেনি, তার কোনো পুঁথিগত উত্তর নেই। বইটির আপেক্ষিক বিশেষত্বহীনতা, আমায় ব্যাক্তিগতভাবে টানেনি। চকচকে মোড়কে পরিবেশিত হয়েও, এই বইয়ের অন্তর্নিহিত রিক্ততা, আমায় হতাশ করেছে। উপন্যাসটি থেকে নতুন কিছুই পাই না। ভাববেন না, উন্নাসিকতায় বলছি। এটা আদতে কোনো দোষ নয়। মাঝে মধ্যে 'ওল্ড ওয়াইন ইন এ নিউ বটল' মন্দ লাগে কি? তবে এই বইয়ের ক্ষেত্রে সবটাই ভীষণ অমৌলিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বইয়ের মূল ত্রুটি এখানেই।

লেখক, গ্রামবাংলার হিংস্র লোলুপতার প্রতিকৃতি এঁকেছেন ঠিকই। কিন্তু তাতে পর্যাপ্ত বহুমাত্রিকতা কোথায়? ওদিকে গল্পের গতিপ্রকৃতি স্তরহীন। বেজায় সরলরৈখিক। যেকোনো পোড় খাওয়া পাঠকেরই পরিণতি আন্দাজ করতে বেশি বেগ পেতে হবে না। সেই অর্থে, পুরো ব্যাপারটাই খুব একটা রিওয়ার্ডিং নয়। এছাড়াও, কোথাও গিয়ে যেন মন বলে, মারুফের সৎ-মামা দ্বয় আলাল ও দুলাল খাঁয়ের সংলাপ ভীষণ হুমায়ূনী ছায়ায় লেখা। ব্যাপারটা হয়তো বা লেখক সচেতনভাবেই করেছেন। বা করে থাকেন। আমি ওনার অন্য কোনো কাজের সাথে খুব একটা পরিচিত নই, তাই ঠিক বলতে পারছি না।

সব মিলিয়ে, জনপ্রিয় লেখকের বই ধরেছিলাম অসাধারণত্ব-এর খোঁজে, ফিরছি কিছুটা খালি হাতে। স্বাভাবিকভাবে, হতাশা প্রযোজ্য। নইলে পুরোটাই সাবজেক্টিভ। যার যেটা ভালো লাগে, যার যেটা লাগে না।

২/৫
Profile Image for Ahmed Abrar.
732 reviews12 followers
January 7, 2020
মারুফের চরিত্র অতি নাটুকে লেগেছে মাঝেমাঝেই। হুমায়ূন আহমেদের মতন লেখনভঙ্গিমা থেকে লেখককে বেরিয়ে আসতে হবে। 'বিষ্ময়' 'পরিপক্ক' এরকম দৃষ্টিকটু বানানের ভুল অন্যপ্রকাশের সম্পাদনাশূন্যতাকে আরেকবার মনে করিয়ে দিল। বইয়ের কভার বইয়ের সাথে এঁটে দেওয়া উচিত; অন্ততপক্ষে ব্লার্বের অংশটুকু। তা না হওয়ায় বই বারবার পড়ে যাচ্ছিল স্লিপ কেটে।
আর লেখককে যতি চিহ্নের ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে। দাঁড়ি দিয়ে অধিকাংশ বাক্য শেষ হয় না। ড্যাশ, কোলন বা সেমিকোলনের ব্যবহার করে ঋদ্ধ করতে হবে। সংলাপপ্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে বর্ণনার‌ আবেশ ধরে রাখতে হবে।
শুভকামনা লেখককে।
Profile Image for Rifat.
502 reviews332 followers
July 16, 2020
ছোট পরিসরের গল্প। পরিচিত প্লট; সম্পদের লোভ আর অযাচিত বিপদ, হীন মানুষের লোলুপ দৃষ্টি। মূলত বর্ষার দিনের গ্রামেই কাহিনী গড়ায়, এজন্যই বইয়ের নাম হয়তো মেঘেদের দিন। শেষের কাহিনী বিদ্ঘুটে না হওয়ায় ভালোই লেগেছে।
মারুফ তার স্ত্রী তানিয়াকে সঙ্গে করে নিয়ে আসে নানার বাড়িতে মূলত গ্রামের বৃষ্টি দেখানোর জন্য।নানা বেচে নেই , আছেন দুই সৎ মামা আলাল আর দুলাল যাদের কেউই চায় না অযাচিত মেহমান হয়ে কেউ সম্পত্তিতে ভাগ বসাক। মারুফের আসাটা তাই তাদের কারোর পছন্দ হয় না । তাই সম্পত্তির এই ভাগীদারকে রাস্তা থেকে সরানোর পরিকল্পনা করে মামাদ্বয়।
শেষটায় ভাগ্য হঠাৎ বাজ পড়ার মতো করে বদলাতে দ্বিধা করে না।
তবে কেমন যেন অন্য লেখকের ছাপ চলে এসেছে!!
Profile Image for Susmita Basak.
93 reviews13 followers
September 21, 2022
#পাঠ_প্রতিক্রিয়া

প্রেম, ভালোবাসা, লোভ, লালসা, ভয়, পাপ, ষড়যন্ত্র সব মিলিয়ে এক অসাধারণ টানটান উপন্যাস এটি।

নবদম্পতি মারুফ ও তানিয়া বিয়ের পর থেকে বহুবার ট্যুরে যাওয়ার প্ল্যান করেও যেতে পারেনি মারুফের ছুটি না পাওয়ার কারণে। কিন্তু বিয়ের ছয়মাস পর অফিস থেকে পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়ায় সে স্থির করে এই ছুটিতে দেশের বাইরে কোথাও না গিয়ে তার নানাবাড়ি অর্থাৎ মামাবাড়ি নীলতলিতে যাবে। সেখানকার পুকুরপাড়, হিজল গাছের তলা, বৃষ্টি তার খুব পছন্দ। যদিও সে তার মামাবাড়িতে খুব একটা সেরকম যায়নি, তবুও এগুলো তার স্মৃতিতে রয়ে গেছে। এদিকে তানিয়াও খুব বৃষ্টি পছন্দ করে, তাই সব মিলিয়ে সে স্থির করলো নীলতলিতেই যাবে।
"কোনো একদিন নীলতলিতে নানাদের সেই হিজল ফুলে ছাওয়া পুকুরের পাশে বসে তানিয়াকে বর্ষাকাল দেখানোর একটা সুপ্ত ইচ্ছে তার ছিল।"

ছইয়লা নৌকা করে মারুফ ও তানিয়া নীলতলিতে তার মামাবাড়িতে পৌঁছায়। কিন্তু যে আশা নিয়ে তারা এখানে এসেছিল, এখানে আসার পর সেই আশা তাদের ভঙ্গ হয়। মারুফ ও তানিয়া উভয়েই বুঝতে পারে তাদের আসাতে এখানকার কেউই অতোটা খুশি হইনি, বরং বিরক্তই হয়েছে। আলাল খাঁ ও দুলাল খাঁ মারুফের সৎ মামা হলেও ছোটোবেলায় এরাই তাকে খুব ভালোবাসতো। অথচ এখন এই মানুষগুলো কত পরিবর্তন হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, গ্রামের মানুষগুলোও কেমন পরিবর্তন হয়ে গেছে। আগের মতো সেই সরল সাধারণ ভাবটা যেন আর নেই। তাহলে কি এখানে আসাটা তাদের ভুল হলো? এখানে এসে কোনো বিপদের সম্মুখীন হতে হবে না তো তাদের?
"তানিয়া প্রায় সঙ্গেসঙ্গেই বলল, আমার খুব ভয় করছে মারুফ।
মারুফ অবাক গলায় বলল, ভয় করছে কেন?
জানি না কিন্তু প্রচন্ড ভয় করছে। আমি তোমাকে বোঝাতে পারব না।
ধুর বোকা। এখানে ভয় কিসের?
তানিয়ার মুখ শুকিয়ে গেছে। সে শুকনো গলায় বলল, আমি জানি না। কিন্তু টের পাচ্ছি, কোনো একটা ভয়াবহ বিপদ ঘটতে যাচ্ছে।
কিসের বিপদ?
আমি জানি না। কিন্তু সত্যিই বলছি ভয়াবহ কোনো বিপদ।"

নীলতলিতে থাকে বুড়ি নামের একটি মেয়ে। সে এক বৃষ্টির দিনে তার হাসের বাচ্চাদের খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ দেখা পায় তার বাবার বন্ধু হারু ব্যাপারী মাঝির অর্থাৎ হারু কাকার। হারু মাঝি বুড়িকে বলে তার নৌকায় আসতে, সে তার হাসের বাচ্চাগুলোকে খুঁজে দেবে। কিন্তু নৌকায় আসার পর হারুর আচরণ বুড়ির ভালো লাগেনি। কিন্তু কেন? হারু কি এমন আচরণ করলো যার জন্য বুড়ি নৌকা থেকে ঝাঁপ দিলো?

অন্যদিকে বুড়ির মা শাফিয়া সন্তানসম্ভবা। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তার সন্তান ভূমিষ্ঠ হবে। কিন্তু সে চায় না তার আর মেয়ে সন্তান হোক। ওদিকে বুড়িও চায় না তার কোনো বোন হোক। কিন্তু কেন?

উপন্যাসটি ঠিক যতোটা সুন্দর, মায়াবী ও ভালোবাসায় পরিপূর্ণ, ঠিক ততোটাই এখানে ফুটে উঠেছে সমাজের রূঢ় বাস্তব চিত্রটি। ফুটে উঠেছে সমাজে নারীদের করুণ পরিস্থিতির দিকটি। কিছু মস্তিষ্ক বিকৃত পুরুষদের জন্য আজও সমাজে নারীদের জীবন দুর্বি���হ। নারীরা কেবল তাদের কাছে ভোগ্যের বস্তু। তাদের এই লোভ লালসার জন্য মায়েরা কন্যা সন্তান জন্ম দিতে ভয় পায়।

এছাড়া ফুটে উঠেছে যে টাকা, পয়সা, সম্পত্তির লোভ কতটা খারাপ করে দেয় একটা মানুষকে সেই দিকটি। এই লোভ আপন মানুষকে পর করে দেয়। একবার এই লোভের বশবর্তী হলে তার কাছে আপন মানুষদের আর কোনো গুরুত্ব থাকে না। তখন লোভের তাড়নায় সে নানান ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে সেই আপন মানুষের ক্ষতি করতেও পিছপা হয়না। উপন্যাসটি পড়তে পড়তে এর হিংস্রতায়, বীভৎসতায় শিউরে উঠছিলাম বারবার। যদিও কাহিনীর নৃশংসতায় মন ভারাক্রান্ত হয়ে উঠেছিল, তবে এর সমাপতনে মন মুগ্ধতায় ভরে গেছে। লেখককে কুর্নিশ জানাই এতো সুন্দর একটি লেখা উপহার দেওয়ার জন্য।

সাদাত হোসাইনের নাম প্রচুর শুনেছিলাম। ইচ্ছে ছিল তার লেখা পড়ার। কিন্তু কি বই দিয়ে শুরু করবো সেটা ভেবে পাচ্ছিলাম না। শেষমেশ স্থির করেছিলাম এটাই নেবো। বইটা কিনে আমি যে কোনো ভুল করিনি তা বইটা কিছুটা পড়ার পরই বুঝতে পেরেছি। এমন টানটান উত্তেজনাময় কাহিনী যা একবার পাঠ শুরু করলে শেষ না করে ওঠা সম্ভব নয়। যেহেতু মেঘলা বাদল দিনেই আমি বইটা পড়েছি, তাই এটি কাহিনীর সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছিল। লেখকের অন্যান্য লেখাগুলোও পড়ার ইচ্ছে রইলো ভবিষ্যতে। শেষে একটাই কথা বলবো, খারাপ সময়ের পর যেমন ভালো সময় আসে, ঠিক তেমনই মেঘের চাদর সরিয়ে সূর্যের আলো একটা সময়ে ঠিক আসবেই।

পাঠকদের বলবো যারা বইটি এখনও পড়েননি, একবার পড়ে দেখুন। আশা করি ভালো লাগবে। পাঠে থাকুন।

সবশেষে বইয়ের একটি প্রিয় অংশ,
"আমায় তোমার আঁচলজুড়ে রেখো,
গন্ধে মেখো আমার বুকের ঘ্রাণ,
ক্লান্ত দিনের হিসেব শেষে,
আমায় দিয়ো তোমার সকল গান।"
Profile Image for Sarwar Sajib.
42 reviews
January 8, 2025
ষড়রিপুর এক রিপু হলো লোভ। লোভের বশবর্তী হয়ে মানুষ হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। মানুষ হয়ে উঠে পশুর থেকে অধম এবং হিংস্র। গ্রামীণ এক প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে লোভকে বিষয়বস্তু হিসেবে রেখে কাহিনী সাজিয়েছেন লেখক। লোভের পাশাপাশি কাহিনীতে স্থান পেয়েছে অন্য আরেক রিপু 'কাম’। গল্পের মূল দুই চরিত্র মারুফ এবং তানিয়া ও গল্পের মূল প্বার্শচরিত্র ১১ বছরের এক চঞ্চল মেয়ে বুড়ি'কে নিয়ে গল্প এগিয়েছে। কিছুদূর এগোনোর পর গল্পের শেষে কি হবে তার অনেকটাই পাঠক বুঝে ফেলবে। এতে করে কোনো কোনো পাঠকের হয়তোবা গল্পের প্রতি আকর্ষণটা কমে যেতে পারে।

লেখকের পড়া প্রথম বই এটি। লেখকের তার নিজের লেখারবমধ্যে হুমায়ুন আহমেদের লেখনশৈলীর ছাপ রেখেছেন। কাহিনীর মধ্যে জড়তা ছিলো। তবে গল্পের মূল চরিত্র মারুফকে লেখক অনেক ছাপোষা হিসেবেই তুলে ধরেছেন। আমার নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে মনে হয়েছে আরেকটু শক্তিশালী করে গড়ে তুললে ভালো হতো। ছোটখাটো বইটিতে কাহিনীর গতিশীলতা শুরু থেকে বজায় ছিলো, তাই পাঠক এক বসায় পড়ে ফেলতে পারবে; যদিও আমি কিছুটা সময় নিয়েই বইটা শেষ করেছি।
Profile Image for Afifa Habib.
89 reviews281 followers
July 19, 2020
গল্পে তেমন কোনও বিশেষত্ব নেই তবে সরলতা র কুটিলতার ভালো একটা মিশ্রণ ছিল।
লেখার ধরন টা সত্যি ই হুমায়ূন আহমেদ এর মতই।
প্রিয় কথা- "সেই একই বাড়ি, তেমনই বৃষ্টির রাত, অথচ মাঝখানে কেবল বয়ে গেছে সুদীর্ঘ সময়। সেই সময় কোথায় যেন বয়ে নিয়ে গেছে সেই মানুষ, সেই অনুভব, সেই স্পর্শগুলো। তারা আর কখনই ফিরবে না। এ যেন চুড়ান্ত মৃত্যুর আগেই আরও অসংখ্যবার মৃত্যু। আরও অসংখ্যবার অনন্ত যাত্রা!"
Profile Image for Dhiman.
200 reviews19 followers
January 2, 2025
আগে কখনো বই পড়িনি। কেন পরিনি এর কোন কারণ নেই। ইচ্ছে হয়নি তাই পড়িনি। কিন্তু এবার বইমেলায় ইচ্ছে আছে ওনার বই কিনার। সেই সূত্রে এই বইটা পড়লাম। বেশ ভালো লাগলো। লেখনি বেশ। আবহ নির্মাণ ভালো। ইমোশন ভালো ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
Profile Image for Mrinmoy Bhattacharya.
226 reviews39 followers
February 12, 2020
‛মেঘেদের দিন’.... উপন‍্যাসটির প্রথম দৃশ‍্যটিই আপনাকে বইটির সাথে বেঁধে ফেলবে । এক বর্ষার দিনে সদ‍্য কৈশোরে প্রবেশ করা নীলতলি গ্রামের দুরন্ত মেয়ে ‛বুড়ি’ তার হাঁসের ছানা খুঁজতে গিয়ে, পিতৃতুল্য হারু ব‍্যাপারী নামক এক জঘন্য মানুষের লালসার শিকার হবার উপক্রম হয় । ঠিক সেইসময় গ্রামে প্রবেশ করে শহুরে দম্পতি মারুফ এবং তানিয়া । নববিবাহিতা স্ত্রীকে গ্রামের বর্ষার সৌন্দর্য দেখানোর জন্য তার মামাবাড়ি নীলতলি গ্রামে নিয়ে এসেছে মারুফ । কিন্তু শৈশবের মধুর স্মৃতি বিজড়িত নীলতলির সাথে বর্তমান গ্রামের মিল খুঁজে পায় না সে । শুধু মানুষের আচরণ নয়, বদলে গেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও । নিজের আত্মীয় পরিজন সহ সমস্ত গ্রামের মানুষদের আচার-আচরণ কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন করতে থাকে ঐ দম্পতিকে । এর মাঝখানেই আছে ‛বুড়ি’, প্রতিটি দৃশ্যেই অদ্ভুত প্রাণোচ্ছলতা বয়ে এনেছে ঐ চরিত্রটি । কিন্তু এতসব প্রতিকূলতার মধ‍্যেও মারুফ ও তানিয়ার নিখাদ প্রেমের দৃশ‍্যগুলো প্রকৃত অর্থেই হৃদয় ছুঁয়ে যায় ।

এ এক জীবনের গল্প । ক্ষয়ে যাওয়া পুরুষতান্ত্রিক সমাজের এক ভয়াবহ রূপ লেখক তুলে ধরেছেন আমাদের সামনে । এটি আমাদের প্রত‍্যেকের পরিচিত গল্প । সমাজের বাস্তব চিত্র সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে লেখক সম্পূর্ণ সফল । প্রতিটি চরিত্রায়ন দুর্দান্ত , প্রতিটি দৃশ‍্যপট চোখের সামনে ফুটে উঠেছে লেখকের কলমের ছোঁয়ায় ।
Profile Image for Ajanta.
123 reviews29 followers
May 22, 2021
ভয়,
অস্বস্তি,
আতংক,
পারিবারিক কোন্দল,
ভালোবাসা,
অভিমান,
নিরাপত্তা,
পাপ,
বিশ্বাসঘাতকতা,
প্রার্থনা,

শেষ পরিনতি ...

সম্পূর্ণ দুই পরিবেশ থেকে উঠে আসা তানিয়া আর শাফিয়ার জীবনে ঝড়ের ধরনে পার্থক্য এই যে একজন ছোট থেকে সমাজের লোলুপ দৃষ্টির শিকার, শিকার হয়ে শিখেছে। আর একজন শিকার হয়ে শেষ হওয়ার অপেক্ষায়।
শাফিয়ার ছোট্ট বুড়ির নিরাপত্তার অনিশ্চয়তা আর অনাগত সন্তান মেয়ে না হওয়ার প্রার্থনার কারন....

.......দীর্ঘশ্বাস।
Profile Image for   Sadiya Oyshi.
43 reviews1 follower
March 7, 2020
ভাল্লাগলোনা, সব লেখা কেমন জানি কুমিরের খাঁজকাটা খাঁজকাটা।
Profile Image for Nusrat Jahan Nafisa.
32 reviews
September 2, 2024
নতুনত্ব নেই, সেই চিরচেনা গল্প আর ছোট্ট পরিসরের গল্প, এক বসায় পড়ার মত৷ তবুও সেটুকুর জন্যই ২ তারা দিলাম, কারন পরিচিত হলেও কঠিন বাস্তবটাই লিখেছেন৷ কিন্তু গ্রামীণ পরিবেশের সুন্দর কিছু বর্ণনা ছাড়া লেখায় আলাদা করে ভাল লাগার মত এলিমেন্টের অভাব আছে ৷ আর কিছু জায়গায় হুমায়ুনীয় ভাব প্রবল ৷ পুরো গল্পটাই টু বি অনেস্ট, মনে হচ্ছিল, হুআ এর বই কেউ যদি অ্য���মেচারলি লেখার চেষ্টা করে, এরকম কিছু একটা রেজাল্ট আসবে ৷ কিন্তু যেহেতু লেখক অ্যামেচার কেউ নন, আর পৃষ্টা হিসাবে বইয়ের মলাটমূল্যটা ভালরকমই রেখেছেন তখন এক্সপেকটেশনটা আরেকটু বেশি থাকে৷


পুনশ্চঃ তবে গ্রামের মানুষকে যারা খুব সহজসরল ভাবেন, তাদের এরকম বই বেশি করে পড়া উচিত ৷
Profile Image for Saika Mehnaz.
164 reviews24 followers
July 7, 2020
এই লেখকের বই এই প্রথম পড়েছি এবং আমি কেবল এটিই বলব: আমি তাঁর আরও বই পড়তে উৎসাহিত।
লেখক কেবল গ্রাম বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে চিত্রিত করেননি, তিনি তুলে ধরেছেন এর অপর এক বাস্তবতা- গ্রামের মানুষের রক্ষণশীল মানসিকতা, গ্রাম্য রাজনীতি এবং দৃঢ় মানসিকতার নারী কিন্তু যার দৃঢ়তা রক্ষণশীল সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পক্ষে যথেষ্ট নয়।
লেখক খুব সহজ, সাবলীল বাংলায় কাহিনীটি লিখেছেন। কিছুটা আনন্দ, কিছুটা বাস্তবতা উপলব্ধি, কিছুটা রসিকতার সংমিশ্রনে লিখা হয়েছে গল্পটি। এই ৩ জিনিসের মিশ্রণ তুলে ধরাটা কঠিন আর বেশ কম বই এই পড়া হয়। তাই আমি এ ধরণের বই পড়তে খুব পছন্দ করি।
Profile Image for Sagar Mallick.
46 reviews8 followers
January 21, 2020
বই মেলা - ২০২০

মেঘেদের দিন - সাদাত হোসাইন

জনপ্রিয় লেখকের বই নিয়ে কিছু বলা বড়ই মুসকিলের ব্যাপার। একদল সবকিছুতেই ভাল তো অন্যদল বলবে খারাপ। কিন্তু অামি অতি সামান্য একজন পাঠক মাত্র। তাই চারপাশের অবস্থা বিবেচনা করে বইটি নিয়ে নিদারুণ দুটি কথা বলে গেলাম।

বর্তমান সময়ে তরুণ পাঠকদের জনপ্রিয় মুখ কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইন। অল্পকিছু সময়ে জনপ্রিয় কিছু বই লিখে দারুণ হয়ে উঠেছেন এই লেখক। এখন বই মেলা মানেই যেন সাদাত হোসাইন। অার ২০২০ বই মেলা উপলক্ষে অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশ পেয়েছে জনপ্রিয় এই লেখকের মেঘেদের দিন বইটি।

এ এক জীবনের গল্প। কোথাও জীবনের সমাপ্তি ঘটে অাবার কোথাও পরিস্ফুটিত হতে থাকে। গল্পের শুরু হয় দশ এগারো বছরের এক মেয়েকে কেন্দ্র করে। যে কিনা বাঁচতে চাই এই সমাজের পুরুষদের কালো থাবা থেকে। কিন্তু তাঁর মায়ের অনাগত সন্তান যেন পুরুষ হয় সেজন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে তার ছিল করুন অাঁকুতি। কিন্তু পুরুষ নিয়ে মেয়েটির এত ভয় কেন? কারণ তার বাবার বন্ধু একদিন জাপটে ধরেছিল তাকে। একমাত্র মায়ের ভরসাতে তার বেঁচে থাকার চেষ্টা। কিন্তু সন্তান জন্মদিতে মৃত্যু হয় মায়ের তাই সেও অাত্মঘাতি হয়।

এদিকে যখন জীবন যুদ্ধে পরাজিত হয় এক মেয়ে তখনি বুড়ির গ্রামে বেড়াতে অাসা মারুফ অার মায়া জন্ম দিতে যায় অারেক জীবনের। বহু বছর পর মারুফ বেড়াতে অাসে মামা বাড়িতে। কিন্তু যখন এল তখন মামাদের চক্রান্তের শিকার হয়ে জীবন যেতে যেতে বেঁচে যায় মারুফের। অার মামার লালাসার হাত থেকে বেঁচে যায় ভগিনীপতি মায়াও। তারপর তারা শহরে ফিরে যায় অার শেষ হয়ে যায় এই গল্প।

অামি নিতান্তই একজন পাঠক। ২০২০ বইমেলা অাসার অাগেই বইয়ের কয়েক মুদ্রণ। ঠিক খানিকটা সেই লোভেই পড়তে বসেছিলাম। কিন্তু লেখক অামাকে বড়ই হতাশ করেছেন। কিন্তু গল্পের মধ্য রয়েছে বর্তমান সমাজের বাস্তব চিত্র। হয়ত হতে পারতো অসাধারণ কোন গল্প কিন্তু লেখার ভাষায় রয়েছে বেশ অপরিপক্কতা।দূর্বল শব্দচয়ন এবং সাদামাঠা কাহিনী প্রবাহ যেন বইটিকে নিষ্প্রাণ করে দিয়েছে। যা লেখকের কাছে কখনোই কাম্য নয়। খুব সাধারণ এই গল্প যেন নিতান্তই অনিচ্ছায় লেখা।

কি জানি এত মারাত্মক সব লেখা প্রকাশের পর তিনি এমন বই কেন লিখলেন! তবে কি সেগুলো অাসলেই মারাত্মক ছিল? সে যায় হোক ৯৬ পাতার এই বই ২২৫ টাকা মূল্যে কেনা ঠিক যেন পাঠকের পকেট ফাঁকা করা। লেখকের জনপ্রিয়তায় হয়তো এই বই হাজার হাজার সংখ্যা বিক্রি হবে। কিন্তু অামার মত যারা নিতান্তই না খেয়ে, পথ হেঁটে টাকা বাঁচিয়ে বই কিনেন তারা লেখক প্রকাশের বিজ্ঞাপনে বিভোর না হয়ে একটু যাচাই বাছাই করে বই কিনবেন।
Profile Image for Humayra Ta Deen Fabi.
74 reviews8 followers
June 28, 2023
আমাদের সবার জীবনেই কিছু ভয়ঙ্কর দিন আসে যা আমরা সবাই ভুলতে চাই। মেঘেদের দিন গল্পটি ও ঠিক এক ভয়াল রাত্রির গল্প, এক অসীম অন্ধকার সময়ের গল্প।

নবদম্পতি তানিয়া আর মারুফ বিয়ের পর বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিস্নাত প্রকৃতির রূপ দেখতে নানাবাড়ি নীলতলির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। তার দুই মামা আলাল ও দুলালের সাথে কাটানো শৈশবের স্মৃতিঘেরা নানাবাড়িতে ওঠে তারা।তাদের আগমন যে ভালোভাবে নেয়নি মামারা এই সন্দেহের বীজ মনের মধ্যে প্রথম থেকেই ফুটতে থাকে তানিয়ার। শৈশবে মামাদের পরম ভালোবাসা পাওয়া মারুফের এমন সন্দেহ অমূলকই মনে হয়। দিন কয়েক বেড়ানোর পর প্রকৃতির এমন অপরূপ সৌন্দর্য আর ঝুম বৃষ্টির সময় পুকুরের হিজল গাছের ফুল দেখে মারুফ সিদ্ধান্ত নেয় এখানে সে একটি ঘর তুলবে আর প্রতি বর্ষা মৌসুমে এই সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে নীলতলি আসবে।
ভাগ্নে মারুফের আসায় সত্যিকার অর্থেই চিন্তিত হয়ে পড়েন মামারা কারণ সম্পত্তির বিশাল একটি অংশের উত্তরাধিকারী মারুফ।

অন্যদিকে খাঁ বাড়ির করাতমিলে কাজ করা হানিফ মিয়ার সন্তানসম্ভবা স্ত্রী একদিন তার একমাত্র কন্যা সন্তান 'বুড়ির' মুখ থেকে জানতে পারে তার বাবার বাল্যবন্ধু পিতৃতুল্য হারু ব্যাপারী তাকে কৌশলে ধর্ষণ চেষ্টা করেছিল কিন্তু কাছেই তানিয়াদের ট্রলার চলে আসায় কোনোমতে বেচেঁ ফেরে বুড়ি।

পরবর্তীতে স'মিলের কর্মচারী ভয়ংকর খুনী ও ধর্ষক হারু ব্যাপারী এবং তার বন্ধু হানিফ মিয়াকে কাজে লাগিয়ে ভাগ্নে ও ভাগ্নে পত্নীকে হত্যার ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র করে মামারা।
মামা আলাল, হারু ব্যাপারী, হানিফ ও জয়নালদের মিলিত পরিকল্পনায় তানিয়া এবং মারুফকে নদীতে ডুবিয়ে মারার কথা থাকলেও হারু ও হানিফ তানিয়াকে ধর্ষণ শেষে হত্যার ছক কষে।স্ত্রী শাফিয়া প্রসববেদনার কথা শুনে ঐ মুহুর্তে হানিফ বাড়িতে গেলে শাফিয়া মৃত্যুর সময় ছোট্ট বুড়ির প্রতি হারুর কাম লালসা ও ধর্ষণ মনোবৃত্তির কথা জানায়। তখনই ট্রলারে ফেরত যায় হানিফ। রাগে ক্ষুব্ধ, ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে রামদার কোপে হারুকে খুন করে হানিফ। হারুর ব্যাপারী ও খাঁ বাড়ীর অনেক দুষ্কর্ম সেবার ফাঁস হয়ে সকলকেই আইনের আওতায় আনা হয়। সৌভাগ্যক্রমে বেচেঁ ফেরে তানিয়া আর মারুফ।
সেই ভয়াল রাতের দুর্ঘটনা শেষে দীর্ঘদিন পর তানিয়া আর মারুফ ঢাকায় ফিরে আসে। বিভীষিকাময় সেই রাতের স্মৃতি ভোলা কঠিন হলেও সময় ধীরে ধীরে তা ভুলিয়ে দেয়।
সময় এক মহৌষধ যা ধীরে ধীরে সব ক্ষতকে মানিয়ে নেয়ার প্রতিকার তৈরি করে। মেঘ আর রৌদ্রের আলোছায়াময় দিন জীবনের এক প্রতিবিম্ব।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Fazle Rabbi Riyad.
87 reviews28 followers
March 17, 2020
আরশিনগর, নির্বাসন, মরণোত্তম আর মেঘেদের দিন - এপর্যন্ত সাদাত হোসাইনের এই চারটি বই পড়া হয়েছে। একমাত্র মরণোত্তম বাদে বাকি তিনটা বইতে খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি ইত্যাদি নৃশংসতার বেশ ভাল রকমের উপস্থিতি বিদ্যমান। আপাতত এই থেকে আমার ধারণা লেখকের গল্পের পটভূমিতে এসব বিষয়গুলি মোটামুটি নরমাল (বাকি বইগুলি না পড়া পর্যন্ত বুঝতে পারছি না)।
আরশিনগর পড়ার পর থেকেই সাদাত হোসাইনের লেখনীর উপর অনেক এক্সপেকটেশন ছিল। যদিও প্রতিটা বই পড়ার সাথে সাথে ক্রমেই আশাহত হচ্ছি। হয়তো সেটা খুব বেশি প্রত্যাশা করার জন্যই।
মেঘেদের দিন বইটা কেমন যেন একটু অদ্ভুত লেগেছে আমার কাছে। পুরো গল্পের মধ্যেই কেমন যেন একটা ঘোর, এক ধরণের অবসাদ বা বিষণ্নতা ভর করে ছিল। হয়তো সেটা গল্পের বেশির ভাগ সময়ের মেঘলা দিনের জন্যই। আর বইয়ের শেষটা কেমন যেন বাংলা সিনেমার মত অলৌকিক লেগেছে আমার কাছে। উত্তেজনায় ভরপুর অথচ শেষে হ্যাপী এন্ডিং - অনেকটা এরকম।

★Actual Rating: 3.5/5★
Profile Image for Saima  Taher  Shovon.
531 reviews209 followers
January 18, 2020
i love this book❣ There are some books that makes you feel empty, this is one of them❣

শাফিয়ার সাথে আমি একমত।
'এই দুনিয়াডা খুব খারাপ।মাইয়া মাইনষের জন্য বেশি খারাপ।'
বা
' মাইয়া মাইনষের শরীল যত বড় হইতে থাহে তাগো দুনিয়াডা ততো ছোট হতে থাকে।কাউরেই বিশ্বাস করল যায়না।'
লেখক যেভাবে সমাজের অনেক লুকোনো সত্য তুলে ধরেছেন তাতে আমি মুগ্ধ। বইয়ের আলাল-দুলাল বা হারূর মতো যদি বাস্তবের গুলো তাদের যোগ্য শাস্তি পেতো-তাহলে পৃথিবীটা আরেকটু বাসযোগ্য হতো। বইয়ের প্রতিটি অংশ ঠিকভাবে ফুটে উঠেছে ❣সাদাতের সিগনেচার - মায়াবী ভালোবাসা -ঠিকই জায়গা করে নিয়েছে লোভ আর অন্ধকারের মাঝে।
নীলতলীর বৃষ্টির বর্ণনা আমাকে আমার গ্রামের বৃষ্টির কথা মনে করিয়ে দেয়।লেখকের বর্ণনা মতো আমিও যেনো পাচ্ছিলাম মাটির সেই ভেজা গন্ধ❣ বৃষ্টির মাটি ছোঁয়ার শব্দ❣
Profile Image for Opu Tanvir.
114 reviews3 followers
April 22, 2020
বইয়ের কাহিনী আগে শোনা যাক । গল্পের শুরুটা হয় বুড়িকে দিয়ে । বুড়ি হচ্ছে হানিফ করাতির মেয়ে । এগার বছরের মত বয়স । বৃষ্টির দিনে তার হাসের বাচ্চা খুজতে বের হয় । এমন সময় তার দেখা হর হারু ব্যাপারীর সাথে । হারু ব্যাপারী তার বাবার সাথে কাজ করে । হারু ব্যাপারী তাকে নৌকাতে তুলে নেয় হাঁসের বাচ্চা খুজতে সাহায্য করবে বলে । কিন্তু নৌকাতে তুলে নিয়েই সে বুড়ির শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দিতে শুরু করে । বুড়ির তখন পালানোর পথ খুজতে থাকে কিন্তু আশে পাশে কাউকেই দেখতে পায় না ।
যখন বুঝতে পারে যে তার আর রক্ষা নেই তখনই খালে আরেকটা নৌকা ঢুকে পড়ে । হারু ব্যাপারি সেই নৌকা দেখে বুড়িকে ছেড়ে দেয় আর বুড়ি সুযোগ বুঝে তখন হারুর নৌকা থেকে লাফ দেয় । সাঁতরে যেতে থাকে নতুন নৌকার দিকে ।

নৌকাতে চড়ে মারুফ আর তানিয়া মারুফের নানা বাড়ি যাচ্ছিলো । মারুফ ২৫ বছর পরে তার নানা বাড়ি আসতেছে । হঠাৎ ছুটি পাওয়ার কারণে সে বউকে নিয়ে মামাদের বাসায় বেড়াতে যাচ্ছে । তানিয়ার খুব বর্ষাকাল পছন্দ । তানিয়াকে নিয়ে বৃষ্টি দেখবে । এই সময়ে নৌকাতে করে চলে আসার কারনে বুড়ি মেয়েটা হারুর হাত থেকে রক্ষা পায় !

মামা বাড়িতে পৌছে মারুফ যেমনটা সমাদর পাবে আশে করেছিল তেমনটা পায় না । তার দুই মামা আলাল আর দুলাল কেমন শীতল আচরন করে । এমন কি মারুফরা কোন ঘরে থাকবে সেটা পর্যন্ত ঠিক করে দেয় না । যাই হোক পরে অবশ্য ঠিক হয়ে যায় ।

কাহিনীর আরেক টা চরিত্র হচ্ছে বুড়ির মা শাফিয়া । তার আবার বাচ্চা হবে । এখন তার মেজাজ একেবারে চিড়চিড়ে থাকে । বুড়ি হারু ব্যাপারীর ব্যাপারটা তার মায়ে বলে দেয় ভয়ে ভয়ে । তার মা অস হায়ের মত কিছুই করতে পারে না । কারন হারু হচ্ছে তার স্বামী হানিফের বন্ধু মানুষ । দুইজনেই একই সাথে আলাল খাঁ অর্থ্যাৎ মারুফের মামার করাত মিল আর চালের আড়তে কাজ করে । দুজনে অনেক কুকাজও এক সাথে করে । হানিফ করাতি হারুর ব্যাপারে কিছু শুনতে চায় না । হারুর চোখ আগে শাফিয়ার দিকেও ছিল ।

মারুফের মা এদিকে ছেলের হাত দিয়ে তার আলাল আর দুলাল খাঁয়ের কাছে একটা চিঠি আর জমির দলিল পাঠায় । আলাল দুলাল হচ্ছে মারুফের সৎ মামা । মারুফের নানার দ্বিতীয় বিয়ে মারুফের মা কোন দিন মেনে নিতে পারে নি । তাই মারুফের মাকে খুশি করতে মারুফের নানা অনেক চেষ্টা করেছে । শেষে মরার আগে সম্পত্তির অনেকটা অংশ লিখে দিয়েছে মারুফের মায়ের নামে । সেই কথাই মারুফের মা লিখে পাঠায় । মারুফের একটা ছোট ভাই আছে, প্রতিবন্ধী । মারুফের বাবাও মারা গেছে । তাই এখন মারুফের মা সম্পত্তির নিতে চায় ।

মুখে মুখে হাসিখুশি কথা বললেও মারুমের মামা মারুফ আর তানিয়াকে মেরে ফেলার বুদ্ধি আটে । দুজনের কেউই সাঁতার জানে না । তাই আলাল খাঁ হানিফ আর হারুকে ঠিক করে যেন যাওয়ার দিন মারুফদের নৌকা যেন ডুবিয়ে দেওয়া হয় । কিন্তু হারুর মাথায় থাকে অন্য বুদ্ধি । সে ঠিক করে ডুবিয়ে দেওয়ার আগে সে তানিয়াকে ভোগ করবে । সেই বুদ্ধি মাফিকই মারুফ আর তানিয়াকে ধরে আবারও শ'মিলে নিয়ে আসে ।

কিন্তু ঝামেলা শুরু হয় অন্য দিক দিয়ে । খবর আসে যে শাফিয়ার অবস্থা বেশ খারাপ । হানিফ বউয়ের কাছে ছুটে যায় । শাফিয়া মারা যায় বাচ্চা জন্ম দিতে গিয়ে । মরার আগে সে হানিফকে বলে যায় হারু ব্যাপারীর কথা । গল্পের শুরুতে হারু ব্যাপারী বুড়ির শরীরে হাত দিয়েছিল সেই ঘটনা । হানিফ আবার ফিরে আসে এবং হারুকে সে রামদা দিয়ে কুপিয়ে মেরে ফেলে ।

মারুফ আর তানিয়াকে উদ্ধার করা হয় । তার দুই মামাকে ধরা হয় । গ্রামের অনেকে আলাল দুলাল খাঁয়ের নামে নানান অভিযোগ দিতে শুরু করে । এমন কি মারুফের নানীও বলে যে আলাল দুলাল নাকি তার বাবাকে মেরে ফেলেছে ।

সব ঝামেলা মিটাতে এক সময় মারুফের মা গ্রামে আসে । বুড়ি আর তার ছোটবোনকে নিয়ে মারুফ আর তানিয়া সহ সবাই আবার ঢাকা ফিরে যায় । হ্যাপি এন্ডিং !

যে কোন বই শুরুতেই যখন কিছুটা পড়া শুরু হয় তখন পাঠকের মনে সামনের সম্ভব্য ঘটনার একটা ছক মাথায় চলে আসে । বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পাঠকের সেই আগেই চিন্তা করা ছক মিলে যায় । তখন সেই গল্প যতই ভাল হোক পাঠকের কাছে মনমুগ্ধকর মনে হয় না। গল্প শুরুতেই যখন মারুফ গ্রামে আসে তখনই আমার মাথায় একটা এন্ডিং এসেছিলো যে নিশ্চয়ই এখন জমি জমার কথা উঠবে এবং মারুমের মামারা তাকে হত্যা করতে চাইবে । এবং কোন ক্রমে সে বেঁচে যাবে। চিরায়িত গল্পের প্লট ! গতদিনের পড়া বইটার মতই সহজ সরল আর ভেজালহীন এবং উত্তেজনা বিহীন কাহিনী ! এমন অনেক গল্প আছে যা পাঠককে চুম্বকের মত আকর্ষন করে । একটা চ্যাপ্টার পড়ার পরেই সামনের চ্যাপ্টারে কি হবে সেটার জানার জন্য মন আকু পাকু করে । এই বইতে এমন কিছুই ছিল না । পড়ার সময়ে আমার কেন জানি বারবাই মনে হয়েছে এর পরে আসলে কি হবে আমি জানি । আগের মত বলবো যারা লেখকের ফ্যান কেবল তাদের কাছেই মেঘের দিন ভাল লাগবে অনেক । কিন্তু যারা তার লেখার ব্যাপারে কোন আবেগ অনুভব করে না (বলছি না তার লেখা অপছন্দ করে, কেবল অন্য আট দশটা লেখকের মতই ভাবে, আমার মত মানুষ) তাদের কাছে এই গল্প ভাল লাগার কোন কারণ নেই ।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Shoaib Akther.
34 reviews
November 7, 2024
বই‌য়ের নাম: মে‌ঘে‌দের দিন
‌লেখক: সাদাত হোসাইন
প্রকাশনী: অন্যপ্রকাশ
মু‌দ্রিত মূল্য: ২৪০ টাকা

আজ হঠাৎ ক‌রেই প্রচন্ড গরম প‌ড়ে‌ছে। চারপাশটা কেমন থম ধ‌রে আছে। স্থির, নিস্পন্দ। কোথাও কো‌নো শব্দ নেই, কম্পন নেই। গা‌ছের পাতা অব্দি নড়‌ছে না। যেন প্রলয়নকারী কোনো ঝ‌ড়ের প্রস্তু‌তি নি‌চ্ছে প্রকৃ‌তি। মারুফ আল‌তো ক‌রে তা‌নিয়ার গা‌লে হাত রাখ‌লো। তা‌নিয়ার কি হ‌লো কে জা‌নে! সে মারু‌ফের ক���ঁ‌ধে এলি‌য়ে পড়‌লো। তারপর ফিস‌ফিস ক‌রে বল‌ল, আমার খুব ভয় কর‌ছে মারুফ।

মারুফ অবাক গলায় বল‌ল, ধুর বোকা! এখা‌নে ভয় কি‌সের ? তা‌নিয়ার মুখ শু‌কি‌য়ে গে‌ছে। সে শুক‌নো গলায় বলল, 'আ‌মি জা‌নিনা। কিন্তু আমি টের পা‌চ্ছি একটা ভয়াবহ বিপদ ঘট‌তে যা‌চ্ছে।'
মারু‌ফের আচমকা ম‌নে হ‌লো তা‌নিয়া যা বল‌ছে তা স‌ত্য। কিন্তু এ কথা কেন তার ম‌নে হ‌লো সে জা‌নে না। ত‌বে তা‌নিয়ার ভয়টা‌কে তার আর অমূলক বা হে‌সে উড়ি‌য়ে দেওয়ার ম‌তো কোন বিষয় ম‌নে হ‌চ্ছে না...

মারুফ আর তা‌নিয়ার অব‌চেতন মন আগাম জা‌নি‌য়ে দি‌চ্ছিল আগামীকাল তা‌দের জীব‌নে নে‌মে আস‌তে যা‌চ্ছে ঘোর অন্ধকার। য‌দিও ভো‌রের আলো ফুট‌তেই সব ভয় দূর হ‌য়ে যায় মারুফ ও তা‌নিয়ার মন থে‌কে। কিন্তু নিয়‌তির নিষ্ঠুর খেলায় প‌ড়ে যে ঘোর অশ‌নি সং‌কেত তা‌দের তাড়া কর‌ছি‌লো তা কিন্তু তখনও পিছু ছা‌ড়েনি।

শহ‌রে বে‌ড়ে ওঠা মারুফ আর তা‌নিয়ার বি‌য়ে হ‌য়ে‌ছে ছয় মাস। মারু‌ফের নতুন চাক‌রি তাই বাই‌রে বেড়া‌নোর জন্য লম্বা ছু‌টি সে পা‌চ্ছিল না। এরম‌ধ্যে হঠাৎ ক‌রে ক‌য়েক‌দি‌নের ছু‌টি পাওয়ায় নি‌জের নানা বা‌ড়ি নীলত‌লি‌ তে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মারুফ। বৃ‌ষ্টির মৌসুম চল‌ছে তাই ছোট বেলায় দেখা গ্রা‌মে শান বাঁধা‌নো পুকুর ভ‌র্তি লাল হিজল ফুল কিংবা নৌকা ক‌রে ঘু‌রে বেড়া‌নোর স্মৃ‌তি ম‌নে প‌ড়ে। তা‌নিয়ার এতে মত না থাক‌লেও গ্রা‌মে আসার পর তার মন ভা‌লো হ‌য়ে যায়। বৃ‌ষ্টি স্নাত দি‌নে মারুফ কে এক‌টি কথা বলার প্র‌তিশ্রু‌তি ক‌রে।

গ্রা‌মে আসার পর ই মারু‌ফের সব‌কিছু অচেনা অচেনা লা‌গে। মা‌য়ের সৎ ভাই আলাল ও দুলা‌লের ম‌ধ্যেও অনেক পরিবর্তন এসে‌ছে। তা‌দের আচরণ মারুফ কে তা‌নিয়ার সাম‌নে বিব্রত ক‌রে। ছোট বেলায় সহজ সরল আলাল-দুলাল গ্রা‌মে নানা ব্যবসা বা‌নিজ্য ক‌রে প্রভাবশালী হ‌য়ে উঠে‌ছেন। দুই মামার বু‌দ্ধি দে‌খে মারুফ বি‌স্মিত-ই হ‌য়ে‌ছে।
অন্য‌দি‌কে, মারু‌ফের মা ছে‌লের হা‌তে পৈ‌ত্রিক সম্প‌ত্তির অংশ চে‌য়ে তার দুই ভাই কে চি‌ঠি দেন।

গ্রা‌মে আসার প‌থে মারুফ‌দের দেখা হয় হা‌নিফ করা‌তির মে‌য়ে বু‌ড়ি ও হা‌নিফ করা‌তির বন্ধু হারু ব্যাপারীর সা‌থে। হা‌নিফ ও হারু খুবই খারাপ প্রকৃ‌তির মানুষ। তারা দুজ‌নেই আলাল, দুলা‌লের রাইস মিল ও করাত ক‌লে কাজ ক‌রে। বু‌ড়ির মা শা‌ফিয়া বেগম গর্ভবতী এবং যে‌দিন মারুফ'রা ঢাকায় ফেরার কথা সে‌দিন ই সে গুরুতর অসুস্থ হ‌য়ে প‌ড়ে। তা‌নিয়া চেষ্ঠা ক‌রেও শা‌ফিয়া'র জন্য কিছু কর‌তে পা‌রে‌নি।

ঢাকায় ফের‌ার জন্য নীলত‌লি থে‌কে ‌নৌকায় ক‌রে লঞ্চঘাটে পৌঁছা‌নোর জন্য সন্ধ্যার দি‌কে রওয়ানা দেয় মারুফ-তা‌নিয়া। শা‌ফিয়া‌কে জীবন-মৃত্যুর স‌ন্ধিক্ষ‌নে রে‌খে আসায় বিষন্ন তা‌নিয়া সান্তনা দেওয়ার একপর্যা‌য়ে তীব্র আলোর ঝলকা‌নি‌তে চোখ ঝল‌সে যায় তা‌দের। একটি ট্রলার ছু‌টে আস‌ছে তা‌দের নৌকার দি‌কে। নৌকায় আঘাত কর‌লেই গভীর জ‌লে ত‌লি‌য়ে যে‌তে হ‌বে সাঁতার না জানা নব দ‌ম্প‌তি কে। তাই, অসহা‌য়ের ম‌তো একে অপর‌কে জ‌ড়ি‌য়ে ধ‌রে তারা!

মে‌ঘে‌দের দিন এক‌টি জীবন ঘ‌নিষ্ট উপন্যাস। পুরুষ শা‌সিত সমা‌জের ক‌ঠিন, জ‌টিল ও বাস্তব রুপ গু‌লো লেখক ফু‌টি‌য়ে তুলার চেষ্ঠা ক‌রে‌ছেন। শিশুরা ও যে পুরু‌ষের যৌন লালসার বাই‌রে নয় সেটাও লেখক আরও একবার ম‌নে ক‌রি‌য়ে দি‌য়ে‌ছেন। ‌তাছাড়া নিজ স্বা‌র্থের কার‌নে অন্যের স্বপ্ন কে ভে‌ঙ্গে চুরমার ক‌রে দি‌তে আপনজন'রা যে কতটুকু নি‌চে নাম‌তে পা‌রে তাও লেখক তু‌লে এনে‌ছেন। শেষ পর্যন্ত তা‌নিয়া কি মারুফ কে সেই কথা‌টি বল‌তে পে‌রে‌ছিল যে কথা‌টি বৃ‌ষ্টিস্নাত দি‌নে বলার প্র‌তিশ্রু‌তি দি‌য়ে‌ছিল? জান‌তে হ‌লে প‌ড়ে নি‌তে পা‌রেন সাদাত হোসাই‌নের মে‌ঘে‌দের দিন। আশা ক‌রি ভা‌লো লাগ‌বে...
Profile Image for SABUJ MOROL.
17 reviews1 follower
July 11, 2020
বইয়ের নাম:- মেঘেদের দিন।
লেখক:- Sadat Hossain

"বইয়ের রিভিউ লেখা সহজ কাজ নয়। আমি কখনও
কোনো বইয়েরই রিভিউ দিই না। আজও দেবো না।
শুধু কিছু অনুভূতি ব্যক্ত করবো.....

বর্তমান সমাজ নিয়ে লেখা, "মেঘেদের দিন"
প্রবল বর্ষণ শেষে জেগে উঠেছে আকাশ। সেই আকাশজুড়ে ঝলমল করছে অসংখ্য তারা। কিন্তু বিলের জলে সেই তারাদের প্রতিবিম্ব দেখা যাচ্ছে না। সেখানে দেখা যাচ্ছে টকটকে লাল রক্তের স্রোত।

আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত যেসব ঘটনা ঘটছে তার উপরেই লেখা, মারুফের শহর জীবন কেমন যেনো বিষন্ন লাগতে শুরু করে। ঠিকমত সময় সুজোগ না হওয়ার কারণে যাওয়া হয় না গ্রামে। তার জন্য ছুটি নিয়ে গ্রামের মামুর বাড়ি বেড়াতে যায় মারুফ ও তার স্ত্রী তানিয়া। গ্রামের প্রকৃতি সৌন্দর্য দেখার জন্য মারুফের মনটা আনচন করছে বহুবছর হলো। মারুফের মামুরা গ্রামের খুব প্রভাবশালী লোক। মারুফ গ্রামে গিয়ে আর সেই আগের মত হিজল গাছের লাল পাপড়ি পড়ার শব্দ শুনতে পাইনা আগের মত। আলাল খাঁ, দুলাল খাঁও নেই আগের মত। এই মামুরাই ছোট বেলায় গ্রামের পর গ্রাম চষে বেড়াতেন। আজ মারুফ উপলদ্ধি করতে পারেন যে সে গ্রামে আসার কারণে আলাল খাঁ দুলাল খাঁ বিরক্তকর ভোত মনে করছে। মারুফ শহর থেকে আসার সময় তার মা আলাল খাঁ দুলাল খাঁর জন্য একটা চিঠি পাঠায়ছে। মারুফের মা ছিল আলাল খাঁ দুলাল খাঁ সৎ বইন সেই চিঠিতে লেখা ছিল তার বাবার সম্পদের সমান ভাগে ভাগ করার কথা, সেই থেকে মারুফ ও তানিয়াকে হত্যা করার পরিকল্পনা করলো আলাল ও দুলাল খাঁ। ঠিক সময় মত লোকও ঠিক করা হলো, হানিফ আর হারু ব্যাপারীকে। বুদ্ধি বের করলো মারুফ, তানিয়া শহরে যেতে হলে বিলের মধ্যে দিয়ে নৌকায় যেতে হবে। আর সেই নৌকার উপর দিয়ে ট্টলার উঠিয়ে দেওয়া হবে। কোনো ধরনের প্রমান থাকবেনা, পুলিশেরও সমস্যা নেই। সবাই জানবে যে নৌকা ডুবিতে মারা গেছে।

হানিফ আর হারু ব্যাপারী বন্ধু ছিল। হানিফের একটা চমৎকার মেয়ে ছিল নাম বুড়ি তার প্রতি হারু ব্যাপারীর অশ্লীল নজর ছিল বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন ভাবে বুড়িকে বস করাতে চাইতেন। কোন সময় চকলেট আবার বাড়ি এসে কথা বলে। বুড়ি ঠিক বুঝতে পারতো। বুড়ি সেফালিকেও অনেক বার বলছে, সেফালি ছিলেন বুড়ির মা। সেফালিও হানিফের কাছে অনেক বার বলে ছিলো। কোনো কাজে আসে নাই। হানিফ মনে করতেন কাকু মানুষ একটু দুষ্টুমি করে।

সেফালি বাচ্চা প্রসব হবে গ্রামের অশিক্ষিত, অদক্ষ, দাই ধারা। হুজুরের বিশেষ ধরণের পড়া পানি তাকে খাওয়ানোর চেষ্টা করছেন বৃদ্ধ দাই। অবশেষে হানিফের দেখা পেলো সেফালি। মানুষ নাকি মৃত্যুর আগে সত্যি কথা বলে, তাই হারু ব্যাপারীর অপকর্ম কথা বলে গেলেন সেফালি, সেই শুবাদে ঘটলো উল্টো কাহিনী, হানিফ হারু ব্যাপারীকে টুকরো টুকরো করে ফেলছে! অবশেষে হানিফের জেল হলো, মারুফ তানিয়া বুড়িকে নিয়ে ঢাকা চলে আসলেন।

আসলেই বইটা পড়ে বর্তমানে ঘটে যাওয়া কাহিনী উপলদ্ধি করতে পেরেছি। আমাদের সমাজে একপ্রকার ভদ্রবেশী লোকবাস করে, তাদের ভিতরের মানুষটা কখনো দেখা যায়না চেনা যায়না। তাদের মাঝে মানুষ নামে পশু বাস করে। আজ যৌন হয়রানি শুরু করে, শিশু, বয়স্ক, বিদ্ধ কোনো শ্রেণীর লোক রক্ষা পাচ্ছেনা তাদের কাছে। এমনকি কর্মস্থলে নিরাপত্তা পাচ্ছেনা.....

এই উপন্যাসটি একটু আলাদা হওয়ার পেছনে অন্যতম ভূমিকা পালন করে লেখকের ঘুরিয়ে-প্যাঁছিয়ে বলা কিছু রোমান্টিক বা ভাবোদ্দীপক কথা। যা পাঠককে ভাবনায় ডুবিয়ে দেয়, মুগ্ধতার অপার স্রোতে ভাসিয়ে দেয়। ঠিক তখন অর্থাৎ পড়া অবস্থায় পাঠক নিজের অতীতে ফেলে আসা যে সোনালী স্মৃতিগুলো মনের ক্যানভাসে পুষে রেখেছে, ত��� কল্পনায় পুনরাবৃত্তি হয়ে আনন্দ দেয়। এই রোমান্টিক কথাগুলো দিয়েই পাঠককে বইটি একটানা পড়তে বাধ্য করেছেন লেখক। আমি মনে করি এটা লেখকের অন্যতম স্বার্থকতা।
ছবি কারিগর: Sobuj Morol
বই: নিজের ক্রয় করা।
1 review
April 27, 2022
গ্রন্থ: মেঘেদের দিন
লেখক: সাদাত হোসাইন

'মেঘেদের দিন' পড়ার আগে আমি সাদাত হোসাইন এর আরও দুটো গ্রন্থ পড়েছিলাম। 'আমার আর কোথাও যাওয়ার নেই' ও 'জানালার ওপাশে'। 'মরণোত্তম' উপন্যাসটি কোনো একটি পত্রিকা বা ম্যাগাজিনে পড়েছি। নামটা মনে করতে পারছি না।

এবার মূল প্রসঙ্গে আসা যাক। অনেকদিন পর বই পড়ে অনুভূতি ব্যক্ত করছি। দীর্ঘ বিরতির পর প্রথম গ্রন্থ- 'মেঘেদের দিন'

২০২০ সালে প্রকাশিত হওয়া ৯৬ পৃষ্ঠার এই ছোট উপন্যাসে লেখক চিরায়িত বাস্তবতা তুলে ধরেছেন। লেখকের ভাষায় বললে বলতে হয়, এক অন্ধকার সময়ের গল্প বলেছেন। পুরুষ নিয়ন্ত্রিত সমাজে নারীদের অবস্থা, সম্পত্তির লোভ, কাম, মানুষের ভয়ংকর দিক, স্মৃতিকথাসহ অনেক বিষয় দিয়ে লেখক উপন্যাসটি সাজিয়েছেন।
গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের মধ্যে রয়েছে বুড়ি, মারুফ, তানিয়া, শাফিয়া, হানিফ, হারু, আলাল খাঁ, দুলাল খাঁ।
গল্পের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন না করে আমি শুধু আমার ভালো লাগা, মন্দ লাগা পেশ করছি।

ভালো লাগা: উপন্যাসে আমার শুধু একটি চরিত্র পছন্দ হয়েছে- 'বুড়ি'। বয়স এগারো। পাকনা কথা বেশি বলে তাই তাকে এমন নাম দেওয়া হয়েছে। তিনটি জায়গায় লেখকের মুন্সিয়ানা আমার চমৎকার লেগেছে।

১. বুড়িকে তার বাবার (হানিফ) বন্ধু হারু একবার অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে জাপটে ধরে। এরপর থেকে বুড়ি হারুকে ভয় পায়, দূরে দূরে থাকে। একদিন একটা ঢোঁড়া সাপকে মারে সে। গোখরা সাপকে মারার ইচ্ছে পোষণ করে বলে, ভয় লাগে বলেই মেরে ফেলতে চায়। খারাপ জিনিস মেরে ফেলতে হয়, যেগুলো ক্ষতি করে। লেখক এখানে 'বুড়ি' চরিত্রের মধ্যে দিয়ে সমাজে গোখরা সাপ অর্থাৎ হারুর পরিণতি কেমন হওয়া উচিত উল্লেখ করেছেন দক্ষতার সাথে।

২. বুড়ি তার মা শাফিয়াকে হারুর ব্যাপারে বলে দিলে শাফিয়া তার পেটে থাকা সন্তান যেন ছেলে হয় সেই প্রার্থনা করতে থাকেন। এদিকে বুড়ি প্রশ্ন করে বসে, তার ভাইও যদি হারুর মতো হয়, তখন?
৩. প্রসব বেদনার সময় শাফিয়াকে দেখে ছোট্ট বুড়ি অনুবাধন করে সেও মাকে এত কষ্ট দিয়ে পৃথিবীতে এসেছে। তখন নিজের উপর আর সৃষ্টিকর্তার উপর তার প্রচণ্ড রাগ হয়। সেই সাথে সে খুব করে চায় তার যেন বোন না হয়, তাহলে তাকে প্রসবের বিষম যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে না।
সংবেদনশীলতার সাথে উপন্যাসে লেখক এরকম পরিস্থিতি অবতারণা করিয়েছেন যা প্রশংসার দাবি রাখে।

মন্দ লাগা: দুঃখের বিষয় হলো উপন্যাসে মন্দ লাগার বিষয় এত যে তিক্ত স্বাদে মুখ বিকৃত হওয়ার মতো। কয়েকটা বলছি-

১. এরকম প্রিডিক্টেবল উপন্যাস আমি আগে একটাও পড়েছি কিনা সন্দেহ। ঘটনার পরের ঘটনা কী হবে, চরিত্রের প্রতিক্রিয়া হুবহু আগে থেকে বলে দেওয়া যায়।
২. মারুফ ২৫ বছর পর স্ত্রী তানিয়াকে নিয়ে বৃষ্টি উপভোগ করার জন্য মামাবাড়ি যায়। কিছুদিন যাওয়ার পর গ্রাম্য পরিবেশে মুগ্ধ হয়ে তারা সেখানে থেকে যাওয়ার, কাঠের বাড়ি বানানোর ইচ্ছে পোষণ করে। কিন্তু বৃষ্টির কিংবা গ্রামের সৌন্দর্যের কোনো শক্তিশালী বর্ণনা নেই।
৩. যে চরিত্রটাই লেখক একটু জমিয়ে লিখেছিল অর্থাৎ বুড়ি, তাকেই শেষের দিকে অনুপস্থিত রাখা হয়েছে। তাকে দিয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও হৃদয়বিদারক কিছু ভাবনা বা সংলাপ দেওয়া যেত।
৪. ক্লাইমেক্স মাত্রাতিরিক্ত সাদামাটা। আর পুরো উপন্যাসে বর্ণনা অতীব সাধারণ।

' মেঘেদের দিন' পড়ে আমার আবার প্রশ্ন জাগলো, 'লেখক এত জনপ্রিয় কেন?' উনার ২০১৫ কিংবা ২০১৬ সালের দিকের বই পড়লে নতুন লিখছেন বলে মনকে প্রবোধ দেওয়া যায় কিন্তু ২০২০ সালে এসেও এত ঢিলাঢালা লেখা ব্যক্তিগতভাবে আমাকে আহত করেছে। লেখকের পুরস্কারপ্রাপ্ত গ্রন্থ 'বিভা ও বিভ্রম' এবং ' নিঃসঙ্গ নক্ষত্র' পড়ার ইচ্ছে আছে। আশা রাখছি পুরস্কার চমৎকার লেখার জন্যই পেয়েছেন, জনপ্রিয়তা সেখানে গৌণ। 🙂
70 reviews11 followers
March 22, 2020
Mr. Hossain is one of the bestselling authors in Bangladesh. On each bookfair tons (literally tons) of people keep gathering in front of the publishers tent to buy one of his books. So, for many days I was wondering to buy or collect one of his books to have a taste of his writings. But, on each occasion my attempts failed. Either that be for small budget or preferring other listed books more important.
At last night, I got a chance to read this one - Days of Rain. I found the name to be nice and in linear with the context of the book. The portraits author drawn of village Niltoli is also very attractive. The writing was also good enough to finish it on a hold. The message the author want to convey to his readers is cliche, but the dissemination style is novel such that the reader may feel it is encountered for first time.
However, I felt everything to be quite unrealistic and somewhat flimsy. Women of our country do know what is required to be done in a chained society. In this context, I felt Tania to be largely hypothetical, utterly open but do not know how to react in a situation. The book was also a bit predictable due to its flimsy nature especially before and after the climax. I thought it would be a tragedy but later found it is not.
Finally, I does have some complaints about the publisher. They fixed a price of >200 for a book having only 96 pages. They fixed this price for a country where mass people do not earn more than 650 taka per day and investing for hobbies is considered desecration of money!! It seems absurd. There exists a great responsibility as publishers on these people. They need to turn the people more toward books than facebook to create a developed nation. In summery, this publisher simply want to do business, nothing else. And, I will conclude, Onnoprokash clearly failed the purpose of book publication and appropriate legislative procedures should be established to keep the price in the budget of mass public.
25 reviews
December 9, 2025
বিষয়বস্তু:-
মারুফের ছেলেবেলার সুখস্মৃতি বিজড়িত গ্রাম নীলতলি। বহু বছর পর এক বর্ষাকালে স্ত্রী তানিয়াকে নিয়ে সেখানে বেড়াতে আসে সে, উদ্দেশ্য শহরের মেয়ে তানিয়াকে গ্রামবাংলার বর্ষা দেখিয়ে মুগ্ধ করে দেওয়া। কিন্তু গ্রামে এসে কিছু কিছু ব্যাপারে খটকা লাগে তাদের। নানাবাড়ির সকলের যে আন্তরিক ব্যবহার মারুফের স্মৃতির মনিকোঠায় ছিল এতদিন, আজ তা অনুপস্থিত তো বটেই, বরং তাদের আচরণে কোথাও যেন অস্বাভাবিক ঔদাসীন্য।
অন্যদিকে ঐ গ্রামেরই এক চঞ্চল ফুটফুটে বালিকা বুড়ি। পারিপার্শ্বিক কিছু মানুষজন তার স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠাকে বাধা দিচ্ছে। ভয়ে কুঁকড়ে থাকতে বাধ্য করছে তাকে।
গ্রামের বৃষ্টিভেজা প্রকৃতির স্নিগ্ধতার মধ্যেও তাদের জন্য কোন ভয়াবহতা অপেক্ষা করে আছে? তানিয়া- মারুফ অথবা বুড়ি কি পারবে চারপাশে ওত পেতে থাকা বিপদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে সাদাত হোসাইনের "মেঘেদের দিন" উপন্যাসে ।

পাঠ অনুভূতি: -
ওপার বাংলার লেখক সাদাত হোসাইনের এটিই আমার পড়া প্রথম উপন্যাস। এদেশে তার জনপ্রিয়তার কারণ বেশ বোঝা যায় তার লেখা পড়লেই।
লেখকের নিজের ভাষায়, " 'মেঘেদের দিন' মূলত এক ভয়াল রাত্রি কিংবা আমাদের চারপাশের এক অন্ধকার সময়ের গল্প। সেই রাত্রি কিংবা অন্ধকার সময় কেটে গেলেও যে ঝলমলে সূর্যের দিন আসে, তেমন নয়।"
"মেঘেদের দিন" থ্রিলার নয়, সাধারণ মানুষের গল্প। গ্রামবাংলার বৃষ্টি আর ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ মিশে রয়েছে সমগ্র উপন্যাস জুড়ে। তার পাশাপাশি রয়েছে কর্দমাক্ত পাঁকের দুর্গন্ধ , রক্তের গন্ধ। তবে শেষে কিছুটা থ্রিলের ছোঁয়াও পাওয়া যাবে।
যা যা ভালো লেগেছে :- উপন্যাসের প্রায় পুরোটাই ভালো লাগা —
(১) আমি বৃষ্টি ভালোবাসি। গ্রামবাংলার প্রকৃতির সঙ্গে বৃষ্টির অপূর্ব বর্ণনা রয়েছে এখানে। (যা মাঝেমাঝে "পথের পাঁচালী" র কথা মনে করিয়েছে)
(২) চাইল্ড মলেস্টেশনের মতো ঘটনা যে সব জায়গাতেই আকছার ঘটছে এবং বেশিরভাগক্ষেত্রেই তা লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে যায়, এই কদর্য সত্যিটিই লেখক সাদাত হোসাইনের কলমে আরও একবার উঠে এসেছে। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদও উচ্চারিত হয়েছে উপন্যাসে।
(৩) উপন্যাসটিতে সাদা, কালো এবং ধূসর - তিন রকমের চরিত্রই পাঠক খুঁজে পাবেন। প্রতিটি চরিত্রই বেশ বাস্তবসম্মত ও গুরুত্বপূর্ণ।
(৪) আলাদা করে বলতে হয় বইয়ের প্রচ্ছদের কথা। সহজ, সুদৃশ্য ও বেশ অন্যরকম একটি প্রচ্ছদ, যা সহজেই দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

যা যা খারাপ লেগেছে :- ব্লার্ব এর জায়গায় উপন্যাসের কয়েকটা লাইন তুলে দেওয়া হয়েছে, এতে উপন্যাসের বিষয়বস্ত খুব একটা স্পষ্ট হয়ে ওঠেনি। উপন্যাস সম্পর্কে কিছু লেখা থাকলে তা দেখে কিনতে সুবিধা হয়, আর কিছুই না।
Profile Image for Sumaiya Tasfia.
13 reviews2 followers
March 14, 2024
বই: মেঘেদের দিন
লেখক: সাদাত হোসাইন 

বেশিরভাগ উপন্যাসে চিরাচরিত গ্রাম বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর মানুষের সারল্যের কথাই উল্লেখ থাকে। কিন্তু এই গ্রামের মানুষই ক্ষেত্র বিশেষে যে কতটা ভয়ঙ্কর আর উন্মাদ হতে পারে সেটারই একটা ঝলক ফুটে উঠেছে এই বইটিতে৷ 

বইয়ের মেইন ফোকাস দূর্বিষহ নারীজীবন। যেখানে একটা নারীর জন্মই জেনো পরম পাপ। যেখানে তার জীবনের সবথেকে বড় প্রতিকূলতা হিংস্র পুরুষের লালসা আর ভয়াল থাবা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে চলা।

সুন্দর ছবির মতো গ্রাম নীলতলি। যেখানে বাবাসম হারুকাকু থেকেও নিরাপদ নয় এগারো বছরের মেয়ে বুড়ি। যেখানে বুড়ির মা শাফিয়াকে প্রতিদিন বেঁচে থাকার জন্য  করে যেতে হয় অমানুষিক কষ্ট। এমনকি সন্তান জন্মদানের মতো কঠিন সময়েও সে পাশে পায়না তার স্বামীকে। গলা পর্যন্ত মদ খেয়ে, জুয়া খেলে যে এখানে ওখানে পরে থাকে। এই চিত্র গ্রামের নিম্ন আয়ের অনেক পরিবারের নিত্যদিনের ঘটনা। যেখানে প্রতিটা দিন যুদ্ধ করে একজন নারী জীবন পার করে দিচ্ছে। কখনো আবার প্রচন্ড প্রসব যন্ত্রনায় কারো একটুখানি সহায়তায় অভাবে নীরবে প্রাণ হারাচ্ছে। এই গ্রামেই খুব শখ করে মারুফ বেড়াতে আসে বউ নিয়ে। এটা তার নানাবাড়ি। প্রায় পঁচিশ বছর আগে মার সাথে এই গ্রামে এসেছিলো সে। তখন থেকেই এই গ্রাম তার মনে গেঁথে আছে। তাই অফিস থেকে পাঁচ দিনের হঠাৎ পাওয়া ছুটিতে মারুফ ঠিক করে সে তানিয়ে কে নিয়ে নীলতলিতেই আসবে। এখানে তার দুই সৎ মামা আলাল এবং দুলাল খাঁ ছোটবেলায় তাকে অসম্ভব ভালোবাসা দিয়েছিলো। সেগুলো আজও সযত্নে মনে তুলে রেখেছে মারুফ। কিন্তু কেনো এই পঁচিশ বছরে একবারো এদিকে না আসা, কেনো তার মা -সহ কারোরই এখানে কোনো যোগাযোগ নেই সেই ব্যাখ্যাও দিয়ে দিয়েছে লেখক। এখানে এসেই এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদের মধ্যে আটকে যায় মারুফ আর তানিয়া। যেখানে জমিজমা নিয়ে পারিবারিক কলোহের ভয়াবহ বলি হয় তারা। যেখানে শহরের সুন্দরী মেয়ে তানিয়ার উপরেও পরে গ্রামে বসবাস করা হিংস্র, উন্মাদ হারু ব্যাপারির লোলুপ দৃষ্টি। যেখানে তাদের মামা তাদের জন্য সাজায় এক ভয়ংকর মৃত্যু ফাঁদ। এই অন্ধকার মেঘ কেটে মারুফ আর তানিয়ার জীবনে আর কোনোদিন সূর্যের দেখা মেলে কিনা তা জানতে বইটা পড়ে দেখতে হবে পাঠকদের।
Profile Image for Dipanjan Das.
Author 8 books5 followers
June 21, 2021
বইয়ের নাম: মেঘেদের দিন
লেখক: সাদাত হোসাইন
প্রকাশক: অন্যপ্রকাশ
মূল্য: ২২৫/-
আলোচক: দীপাঞ্জন দাস



"স্বপ্নের মত সুন্দর" উপমাটি আমরা প্রায়ই ব্যবহার করি। কিন্তু স্বপ্ন কি সর্বদা সত্যিই সুন্দর হয়? হয়তো হ্যাঁ, হয়তো বা না।
এই উপন্যাসের মূল চরিত্রগুলি হল তানিয়া, মারুফ, আলাল খাঁ, দুলাল খাঁ, হানিফ, শাফিয়া, বুড়ি ও হারু ব্যাপারী। বহু বছর পরে গ্রামের বৃষ্টির মুহূর্ত উদযাপনের আশায় মারুফ সস্ত্রীক তার মামাবাড়িতে এসেছে। চারপাশের মাধুর্য তাদের বেঁধে রেখেছে অপরুপ আবেশে। গ্রামেরই বাচ্চা মেয়ে বুড়ি। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথেই মেয়েরা যে খাদকের তালিকায় চলে আসে, তার অদ্ভুত নিদর্শন দিয়েছেন লেখক। বুড়ির মা শাফিয়ার তাই উপলব্ধি-
"মাইয়া মানুষের শরীর যত বড় হইতে থাহে, তাগো দুনিয়াডা তত ছোট হইতে থাহে। কাউরেই আর বিশ্বাস করন যায় না।"
যাই হোক, মারুফের ছোটবেলার স্মৃতি এই সময়েও সূর্যের আলোর মতই উজ্জ্বল। কিন্তু তার এই স্মৃতি কি একইরকম আলোকোজ্জ্বল থাকবে নাকি কোনও অজানা সমস্যায় হারিয়ে যাবে সবকিছু? এই সবকিছুর সুন্দর বর্ণনা করেছেন লেখক। গ্রাম্য চলিত ভাষার ব্যবহারে লেখনীর উৎকর্ষতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে বলেই আমার মনে হয়েছে। নারীদের সামাজিক সমস্যার করুণতম দিকটি ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন লেখক। তাই হয়তো পোয়াতি অবস্থাতেও শাফিয়া কন্যা সন্তান না হওয়ার প্রার্থনা করেছেন। আশেপাশের প্রতিটা চেনামুখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অচেনা মানুষগুলো কীভাবে সম্পূর্ণ সমাজব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাতে পারে তার জ্বলন্ত নিদর্শন এই গ্রন্থটি। লেখকের এই উপন্যাসটি জীবনের গল্পই বলে আর তার মাধ্যমে লেখক গল্পের জীবনে করেছেন নিরলস বিচরণ। পাঠক সংগ্রহ করলে অবশ্যই ভালো লাগবে বলেই আমার মনে হয়েছে। সবশেষে, স্বপ্ন সুন্দর কি না বিচার করতে বসে তাই লেখকের কথাতেই বলি-
"প্রবল বর্ষণ শেষে জেগে উঠেছে আকাশ। সেই আকাশ জুড়ে ঝলমল করছে অসংখ্য তারা। কিন্তু বিলের জলে সেই তারাদের প্রতিবিম্ব দেখা যাচ্ছে না। সেখানে দেখা যাচ্ছে টকটকে লাল রক্তের স্রোত।"
Profile Image for আহসানুল শোভন.
Author 39 books91 followers
March 13, 2020
বইঃ মেঘেদের দিন
লেখকঃ সাদাত হোসাইন
প্রকাশকঃ অন্যপ্রকাশ
মুদ্রিত মূল্যঃ ২২৫

কাহিনী সংক্ষেপঃ
বিয়ের পর অনেক জায়গায় ঘুরতে যাবার কথা থাকলেও মারুফ তার স্ত্রী তানিয়াকে কোথাও নিয়ে যেতে পারেনি। হঠাৎ পাঁচদিনের একটা ছুটি হাতে পাওয়ায় তানিয়াকে সে নিয়ে এলো নীলতলিতে, যেখানে তার নানার বাড়ি। তানিয়া বৃষ্টি ভালোবাসে, তাই মারুফ চাচ্ছিলো তানিয়া যেন গ্রামীণ পরিবেশে বৃষ্টির সঠিক আমেজটা উপভোগ করতে পারে।

সদ্য এগারোতে পা দেয়া বুড়ির মা শাফিয়া তাকে সবসময় বলেন, পুরুষ মানুষ খারাপ। এদের কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে। তারপরও হাঁসের ছানাদের খুঁজতে জলাতে গিয়ে বিপদে পড়ে বুড়ি। তারই বাপের বন্ধু, পিতাসম হারু কাকা বৃষ্টির মধ্যে তাকে একা পেয়ে করতে শুরু করেন অভব্য আচরণ। হারু কাকার শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পেতে নাভিশ্বাস ওঠে বুড়ির। এমনই সময় হঠাৎ আগমন ঘটে মারুফদের গ্রামে নিয়ে আসা ট্রলারের। এ যাত্রার মতো বেঁচে যায় বুড়ি।

নানার বাড়ি পৌঁছে সবার আচরণ দেখে বেশ অবাক হয় মারুফ। এত বছর পর তাদের দেখে খুশি হবার পরিবর্তে সবাই কেন যেন অখুশি। মারুফের মামাদের কথাবার্তাগুলো কেমন ধোঁয়াশায় ভরা। আসলে কী চলছে নীলতলি গ্রামে?

পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
‘মেঘেদের দিন’ সাদাত হোসাইনের অন্যান্য বইয়ের তুলনায় অনেক ছোট বই, এক বসাতেই পড়ে শেষ করে ফেলার মতো। বইটা ভালোই লেগেছে, যদিও অন্য একটি বইয়ের গল্পের সঙ্গে এই বইটির গল্পের কাঠামোগত খানিকটা মিল রয়েছে। যাই হোক, সেই বইয়ের কথা আমি আলোচনায় আনতে চাচ্ছি না। কাহিনীর শেষে কী হবে বোঝা যাচ্ছিলো, তারপরও পড়তে ��ারাপ লাগেনি। আমার মতে বইয়ের কাজ হলো, পাঠকের অনুভূতিকে নাড়া দেওয়া। ‘মেঘেদের দিন’ কাজটা বেশ ভালোভাবেই করতে পেরেছে। ৯০ পাতা থেকে শাফিয়া হঠাৎ করে শেফালি হয়ে গেছে। পরবর্তী পাতাগুলোতে এই ভুলটা আর ঠিক করা হয়নি। আশা করি, এরপর আর কোনো মুদ্রণ হলে সে মুদ্রণে ভুলটা শুধরে নেওয়া হবে।

—আহসানুল হক শোভন
১৩ই মার্চ, ২০২০
Profile Image for Asiful Haque Tomal.
36 reviews
June 23, 2023
বর্ষাকাল আর গ্রাম যখন এক সুতোয় গাঁথা সৌন্দর্য তখন অনিবার্য। চারিদিকে থৈ থৈ পানি, পরিস্কার সবুজ গাছ, খালে বিলে ভাসমান ছোট ছোট ডিঙি। চোখজোড়াকে দুদন্ড প্রশান্তি দিতে আর কি চাই ? এমনই এক বর্ষাকালে ছোট বেলার স্মৃতিজড়িত নীলতলিতে সস্ত্রীক বেড়াতে আসে মারুফ। উদ্দেশ্য তানিয়াকে নিয়ে বৃষ্টিবিলাস করে ছোট ছুটিটা কাটানো। নৌকা দিয়ে গ্রামে প্রবেশের সময় তাদের ক্ষনিকের সাক্ষাত হয় গ্রামের দুরন্ত কিশোরী বুড়ির সাথে। সেই সাক্ষাত বুড়ির জন্য অন্ধকারে এক চিলতে আলোর ছটার মতোই। এরপরে লেখকের লেখনীতে উঠে আসে বর্ষায় গ্রামের মন মাতানো সৌন্দর্য। যা যে কাউকে বর্ষার আবেশে আবিষ্ট করতে সক্ষম। উঠে আসে গ্রামীণ মানুষের জীবনাচার। জীবনের টানাপোড়েন, প্রভাবশালীদের অপরাজনীতি, সমাজের নিকৃষ্ট কিছু মানুষের নারী লোলুপতা, সবকিছুই কলমের খোঁচায় বাস্তবে রূপ দিয়েছেন লেখক। এই গল্পে আছে ভয়ংকর সুন্দর কিছু দৃশ্য, আছে ভালোবাসা, আছে কিশোরী মেয়েকে নিয়ে মায়ের শঙ্কাঘেরা দিন। আরো আছে চমৎকৃত করার মতো ক্লাইম্যাক্স সাথে হ্যাপি ইন্ডিং। কবি যেমন বলে গেছেন "মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে।" সাদাত হোসাইনের মেঘেদের দিনের শেষেও আছে সূর্যের হাসি। যে হাসি কেবলই আনন্দের, অসম্ভম আনন্দের।
93 reviews18 followers
December 23, 2019
মেঘের দিনে-সাদাত হোসাইন
বইয়ের দাম দেখে নেবার ইচ্ছা জাগছিল, যখন দেখলাম নায়কের নাম(ক্যাপশন পড়ে) আমার নামে, তখন কি আর না কিনে উপায় থাকে। সাদাত হোসাইনের যারা আমরা নিয়মিত পাঠক, তাদের অভ্যাস এমন যে আমরা তাঁর বই পড়ে, আবেগে উদ্বেলিত হব। কিছুক্ষন খোলা আকাশের দিকে চেয়ে থাকব। সেই কাজল কালো চোখের প্রেমে পড়ে থাকব। ছোট পরিসরে হবার দরুন তা ছিল না এতে। ঘটনা পরস্পরার দিকেই নজর ছিল বেশি।
তবে মুল রহস্য অন্য জায়গায়। এই উপন্যাসটি আসলে অন্যদিন ঈদসংখ্যার জন্য। তাতে সাদাত হোসাইন যদি তাঁর সাধারণ ভঙ্গিতে লিখতেন তাতে এক ম্যাগাজিনে হত না। নিঃসন্দেহে।
উপন্যাস টি উপভোগ্য। রোমান্সটাও। তিনি এক হিসেবে প্রেমের কাব্যিক হতে যাচ্ছেন দিনে দিনে। হয়তোবা ১০ বছর পরে হুমায়ুন আহমেদ এর মত কোন এক উপাধিও পেয়ে যেতে পারেন। বুড়ি চরিত্রটি সাংঘর্ষিক। বুড়ি তানিয়া এই সব চরিত্রের মাধ্যমে লেখক গ্রামীন পরিবেশের নিতান্ত সাধারন পরিবেশেও অনেক কিছু বলে গিয়েছেন। চট করে পড়ে নিতে পারেন।
Profile Image for Ruhshan Ahmed Ahmed.
Author 1 book21 followers
September 23, 2020
ছিমছাম সুখপাঠ্য এক বসায় শেষ করার মত গল্প। এক তরুন তার স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে যায় নানার বাড়িতে। সহজ সরল গ্রামের মানুষের যে স্টেরিওটাইপ আমাদের পরিচিত, এই গল্পটা সেরকম নয়। স্বার্থ মানুষকে কতটা নিচে নামাতে পারে, তার একটা উদাহরন পাবেন। আবার নিজের রক্তের প্রশ্নে পিশাচের বিবেকও জাগ্রত হয়, সেটারো একটা চিত্র পাবেন। গ্রামীন প্রকৃতির বর্ণনা যেভাবে লিখা আছে, অনেকটাই অনুভব করতে পারবেন যে সেখানে বসে ঘটনাগুলো দেখছেন।

সাদাত হোসেনের নাম অনেকদিক ধরে শুনছি, তবে এই বইটাই প্রথম পড়লাম। লেখক তার অন্যলেখাগুলো পড়ার বেপারে আগ্রহী করতে পেরেছেন। আমিও পড়ে আনন্দ পেয়েছি। Win win situation :)
Profile Image for Jannatul Anamika.
61 reviews1 follower
March 27, 2025
ফ্রেন্ডের সেল্ফ থেকে কেড়ে নেয়া বইখানা আবার রিভিশন দিতে বসেছিলাম। মেঘেদের দিন পড়ার উত্তম সময় মেঘেরর দিন ছাড়া আর কি? সদ্য টিনেজ এ পা দেয়া একটা মেয়ের দিকে বাবার বয়সী হারু কাকার লোলুপ দৃষ্টি। শহর থেকে বেড়াতে আসা মারুফ তানিয়া দম্পতির ভালোবাসা। সবশেষে নিজের আপন মামাদের নির্মমতার স্বীকার। পরিচিত মানুষদের হঠাৎ অপরিচিত রূপ..
এই বইয়ের একটাই রিভিউ হয়। সাদাত হোসাইন নিজেই তার গল্পের রিভিউ দিয়ে ফেলেছেন। "কবিগুরু তো বলেই গেছেন 'মেঘ দেখে তোরা করিস নে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে।' মেঘেদের দিন - এর আড়ালেও সূর্য হাসে।"

১৯.০৬.২০২২
Profile Image for Bhabna Islam.
33 reviews1 follower
October 18, 2023
গল্পে ভিত গ্রামের বর্ষাকাল। কিন্তু সেই বর্ষাকালের বর্ণনা মন ছুঁতে পারেনি। খুব সুস্বাদু চা যেমন পানির গ্লাসে বেমানান লাগে, ঠিক তেমন লেগেছে।
এই বইয়ে আমার সবচেয়ে ভালো লাগে বুড়িকে। একজন এগারো বছর বয়সী দুরন্ত স্বভাবের মেয়ে। যার পাকনামি কথাবার্তার জন্য তার এই নামকরণ।
তারপর গল্পের কথা বলি। খুব প্রেডিক্টেবল গল্প। কিছুদূর পড়ে বাকিটা আঁচ করেছি, হয়েছেও তাই। পুরো বইয়ে বর্ণনার অভাব লেগেছে অনেক আর ক্লাইমেক্স একদম সাদামাটা। শেষটা আরেকটু উত্তেজনাময় এবং আনপ্রেডিক্টেবল হলে ভালো হতো।
Displaying 1 - 30 of 45 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.