দুনিয়াকে ঘিরে অনেক স্বপ্ন তোমার! তুমি চাও, তুমিই হবে দুনিয়ার সবচেয়ে সফল ব্যক্তি। কিন্তু আফসোস, যে দুনিয়ার পেছনে তোমার এত ছোটাছুটি, যার জন্য তোমার এত পদক্ষেপ আর পরিশ্রম ব্যয়; সে দুনিয়ার স্বরূপ সম্পর্কে জানার সময়টুকুও তোমার হয়নি। হে পথিক, তোমার আগে আরও অনেকে দুনিয়ার এ পথ অতিক্রম করেছে। দুনিয়ার সামগ্রী অর্জনের জন্য তোমার চেয়েও বেশি চেষ্টা করেছে, এমন মানুষও বহু গত হয়েছে। কিন্তু কোথায় আজ তারা? কোথায় তাদের দুনিয়া অর্জন? শোনো, ‘দুনিয়া এক ধূসর মরীচিকা। দুনিয়া এক অন্ধকার রাত্রি। দুনিয়া অন্বেষণকারী সমুদ্রের পানি পানকারীর ন্যায়—যতই সে পান করে, ততই তার তৃষ্ণা বৃদ্ধি পায়।’…
সূরা আশ-শাম্স (الشّمس), আয়াত: ৯-১০, "যে নিজেকে শুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয়। আর যে নিজেকে কলুষিত করে, সে ব্যর্থ মনোরথ হয়।"
এই আয়াতদ্বয়ের মধ্যেই জীবনের মূল শিক্ষা নিহিত। যে ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহ প্রদত্ত হেদায়াতের আলোকে শুধরে নিবে সেই দুনিয়া ও আখিরাতে মুক্তি লাভ করবে। আর যে নিজের জীবনকে গোমরাহী ও পথভ্রষ্টতায় কুলষিত করতে থাকবে সে তার দুনো জাহান বরবাদ করবে।
দুনিয়ার এই জীবন কারো জন্য ভোগবিলাসের বস্তু আর কারো জন্য আখিরাতের শস্যক্ষেত। যার জন্য যেটাই হোক সবাই এ বিষয়ে একমত যে, এখানে আমরা একসময় ছিলাম না আর এমন একসময় আবারও আসবে যে আমরা এখানে আর থাকবো না।
আমরা যারা ঈমান এনেছি আল্লাহ ও তার রাসূলের উপর, আমরা এটা বিশ্বাস করি যে এ দুনিয়া আমাদের জন্য শুধুমাত্র পরীক্ষা ক্ষেত্র কোনো স্থায়ী ঠিকানা নয়। খুব শীঘ্রই এই পরীক্ষার সময় ফুরিয়ে যাবে আর ফলাফল হিসেবে আমাদের দেয়া হবে হয় অনন্তকালের সুখশান্তি না হয় অনন্তকালের আযাব।
আপনি আমি আমরা ঠিক এই মুহুর্তে যে জায়গায় অবস্থান করছি একশত বছর আগে হয়তোবা তা অন্যকারো মালিকানাধীন ছিল বা আরো আগে হয়তোবা খুব প্রতাপশালী কোনো এক বাদশাহের বাদশাহীতে ছিল যার কোনো নাম নিশানাই আজ আর নেই। অথচ একসময় হয়তোবা এমন ছিলো যে তার বাদশাহি কখনো শেষ হবে বলে কেউ কল্পনাও করতে পারে নি।
আজ থেকে একশত বছর পরের কথাই বা চিন্তা করি। এই যে আমাদের বাসা বা আমার বেডরুম যেটা কিনা আমার বাবা নির্দিষ্টভাবে আমার জন্যই নির্মাণ করেছিলেন। একশত বছর পরে কেইবা এখানে থাকবে আর কেউ থাকলেও সে আদৌ কি আমাকে স্মরণ রাখবে। নাকি ভুলে যাবে ঠিক যেভাবে আমি আমার পুর্বপুরুষদের অনেককেই আজ ভুলে বসেছি।
এই দুনিয়ায় আমাদের দেয়াই হয়েছে পরীক্ষার জন্যে এর বেশি কিছু নয়। কিন্তু এই বাস্তবতা ভুলে গিয়ে যদি আমরা অঢেল ধনসম্পদ অর্জন করা, নিজের নাম সমুচ্চ করা, ভোগবিলাসে মত্ত থাকা নিয়ে পরে থাকি, যার কোনো কিছুই স্থায়ী নয়, তবে আখিরাতে এর জন্য আমাদেরকে ভয়াবহ মাশুল দিতে হবে। যদি কেউ অনন্তকালের জন্য সম্মানিত হতে চায় তার উচিত আখিরাতের জন্য পাথেয় সংগ্রহ করা আর নিজের জান্নাতের পথ সুগম করা।
এটা রিভিউ হচ্ছে না কি হচ্ছে নিজেই জানি না.....যাইহোক,বইটি আমাদের সামনে আরো অনেক সুন্দর সুন্দর ও মূল্যবান কথার দ্বারা দুনিয়ার স্বরুপ তুলে ধরবে। আমাদের উদ্ধুদ্ধ করবে এই জীবন (এর না জানা সময়) ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই যাতে আমরা আখিরাতের সম্বল যোগাড় করে নেই। আরও উদ্ধুদ্ধ করবে নিজেকে বাচিঁয়ে রাখতে এই দুনিয়া থেকে যা কিনা এক ধুসর মরিচিকা যার কোনো কিছুই স্থায়ী নয় এবং যার কোনো কিছুই নিখুঁতও নয়।
বইটির অনুবাদ খুবই সুন্দর হয়েছে মাশাআল্লাহ, সুখপাঠ্য। আমি মনে করি আমাদের সকলের এ ধরনের দু'একটি বই অবশ্যই পড়া উচিত। দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা ও দুনিয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা কিছুটা হলেও কমবে ইনশাআল্লাহ আর আখিরাত ও তার জন্যে আমলের প্রতি একটু হলেও আগ্রহ বাড়বে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ বইয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে উত্তম প্রতিদান দিন। আমীন। সকল প্রশংসা বিশ্বজাহানের একক স্রষ্টা ও প্রতিপালক আল্লাহর।
দুনিয়ার জীবনটা আসলেই তুচ্ছ, বইটি পড়ে সে বিশ্বাস আরো প্রবল হলো। এই তুচ্ছ জীবন নিয়ে কতো ভাবনা! এ করবো, সে করবো। আরো কতো কী!! অনন্ত জীবন যেখানে সুখের হাতছানি দিচ্ছে, তার দিকে ফিরেও তাকাচ্ছি না। আহা, কী গাফেল বান্দা আমরা! সালাফদের কাছে দুনিয়ার জীবন কী পরিমাণে তুচ্ছ ছিলো, তা ভাবলেও অবাক লাগে। তার ধারেকাছেও তো ঘেষতে পারছি না আমরা! হায়, আফসোস!!!