প্রায় একমাস ধরে পড়ে শেষ করলাম এই বইটি। আমি একটা জিনিস লক্ষ্য করে খুব আশ্চর্য হলাম, যখন জীবনে মানসিক চাপ চারদিক থেকে গলা টিপে ধরে, তখন ছোটদের সাহচর্য, তাদের জন্য লেখা সাহিত্য বা অন্য যেকোনো কিছু মনকে খুব হালকা করে দেয়, শরীরে আর মনে একটা নতুন উদ্যম জাগায়। এই বইটা পড়া আমার জন্য সেরকমই একটা সুখযাত্রা ছিল।
🍁বই:- জগুমামা রহস্য সমগ্র
🍁লেখক:- ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায়
🍁প্রকাশনা:- পত্রভারতী
🍁মুদ্রিত মূল্য:- ২৯৯ টাকা
"ওরা কী গরিব, অশিক্ষিত! কিন্তু কী পবিত্র! চিরকালই কি ওরা পড়ে থাকবে এমন অন্ধকারে?"
জগুমামা হলেন বিশ্ববন্দিত বিজ্ঞানী ড: জগবন্ধু মুখোপাধ্যায়। তিনি ভাগ্নে টুকলু কে নিয়ে প্রায়ই বেড়িয়ে পড়েন নানান রহস্য সমাধান আর এডভেঞ্চারে। অনন্ত সরখেলের উপস্থিতি উত্তেজনা পূর্ণ রহস্য কাহিনী গুলিতে যোগ করে হাস্যরসের স্নিগ্ধতা। এই বইটিতে রয়েছে আটটি রহস্য কাহিনী যার প্রতিটাই জগুমামা সমাধান করেছেন বিজ্ঞানের প্রয়োগের মাধ্যমে। আমি আমার সবচেয়ে প্রিয় তিনটি কাহিনী নিয়ে নিম্নে আলোচনা করলাম।
👉হাত:- রাঁচি থেকে হুন্ড্রু (হাজার চেষ্টা করেও কীবোর্ডে ঠিক বানানটা এলো না) জলপ্রপাত যাওয়ার রাস্তায় একসিডেন্ট হয় জগুমামার বন্ধু বিজ্ঞানী দুবের। নেপথ্যে রয়েছে একটি কাটা হাত। আসল ঘটনা কি?
👉ছায়ামূর্তি:- এই কাহিনীর প্রতি আমার একটু পক্ষপাতিত্ব রয়েছে এর প্রেক্ষাপটের কারণে। লাদাখ আমার স্বপ্নের জায়গা। ঘুরেও এসেছি ২০২১ এ। ওরকম রোমহর্ষক জায়গায় রহস্য কাহিনী একটা আলাদা মাত্রা পাবেই।
লাদাখের মিংথুলা গ্রামে নাকি দেবদেবীরা নেমে এসেছেন বসবাসের জন্য। সেখানকার অধিবাসীরা বাধ্য হয়েছে গ্রাম ছেড়ে দিতে। একটা মিলিটারি ট্রাক ও খাঁদে পড়ে গিয়েছে। রহস্য টা কি?
👉রুকটুকার পাড়ে :- টুকলু জলপাইগুড়িতে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে গিয়েছে। সকালবেলায় রুকটুকার পাশে বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটতে গিয়ে তাঁদের চোখে পড়ে একটি মৃতদেহ যাঁর মুখ অপরাধীরা থেঁতলে দিয়েছে। রহস্য সমাধানে ডাক পড়ে জগুমামার।
বাকি নভেলা গুলোও বেশ ভালো। একনাগাড়ে পড়ে ফেলা যায়। কিশোর সাহিত্য ভালোবাসলে অবশ্যই পড়ুন।
"ঠিক ভয় কীসের? অজানাকে জানার, অচেনাকে চেনার নেশায় কত মানুষ যুগ-যুগ ধরে বেরিয়ে পড়েছেন ঘর ছেড়ে।"