অংক আর পদার্থবিদ্যা যে জায়গাটায় পৌঁছে একাকার হয়ে যায়, সেই জায়গাটা নিয়ে সহজ ভাষায় কিছু লেখা বড়োই কঠিন কাজ, কারণ এই দুটি বিষয়ের কোনটিকেই ‘সহজ’ বলা চলে না। মুহম্মদ জাফর ইকবাল একটি জাদু কলমের অধিকারী বটে, কিন্তু আলোচ্য বইয়ে তিনি এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা নিয়ে কিছু লিখতে গেলে হয় দিস্তা-দিস্তা অংক কষতে হয়, নইলে ‘হাতে রইল পেন্সিল’ গোছের ভাবনায় মনকে দার্শনিক হওয়ার পথে ঠেলে দিতে হয় এই আশায় যে রূপক আর উপমা দিয়েই যদি অন্ধের হস্তীদর্শন হয়! এই বইটিতে তিনি প্রথম পদ্ধতিটি বেছেছেন, অর্থাৎ প্রচুর অংক কষেছেন এবং বইয়ের শেষে আমাদের জন্যে দস্তুরমতো অনুশীলনী-ও দিয়েছেন! কিন্তু এই সব করে কাজের কাজ, মানে আমাদের নিরেট মাথায় “থিওরি অফ রিলেটিভিটি” বা আপেক্ষিকতাবাদ কি ঢোকানো গেছে?
বাকিদের কী প্রতিক্রিয়া জানিনা, তবে আমার অন্তত পাতার-পর-পাতা জুড়ে বীজগণিত আর ত্রিকোণমিতি দেখে প্রথমে হাই উঠেছে, পরে মাথা ধরেছে, এবং শেষে এটাই মনে হয়েছে যে বইটার নাম হওয়া উচিত ছিলঃ 1/√(1 – v2/c2)
কেন আমার এবম্বিধ ভাবনা? জানতে চাইলে বইটা পড়তে হবে।
তবে আমার এটাই মনে হল যে, এই বিষয়টি নিয়ে যারা পড়াশোনা করেন, তাঁদের কাছে ক্যালকুলাস একটি পরিচিত বিষয়। সেক্ষেত্রে সচেতনভাবে ক্যালকুলাস বাদ দিয়ে এত কথা কেন লেখক বলতে গেলেন? আর যদি ওনার উদ্দেশ্য হয়ে থাকে স্পেশ্যাল থিওরি অফ রিলেটিভিটির মূল কথাগুলো আমাদের কাছে স্পষ্ট করা, তাহলে কল্পবিজ্ঞান থেকে শুরু করে ধর্মগ্রন্থ, সবেতেই মজুত সময় ও স্থানের সংকোচন-প্রসারণের ভূরি-ভূরি কাহিনির মধ্যে কিছু তুলে দিলেই আমাদের মতো গোলা লোকও ব্যাপারটা বুঝে ফেলত।
রেকমেন্ড করতে পারছি না। দুঃখিত।