দীর্ঘ চার বছর ধরে লেখা হয়েছে বৃক্ষচারী গল্পগ্রন্থের দশটি গল্প। গল্পগুলোতে আছে প্রেম, প্রকৃতি এবং মানুষের মনোজগৎ। বাংলা সাহিত্য থেকে হারিয়ে যেতে বসা 'স্যাটায়ার' - এর সন্ধান পাওয়া যাবে অন্তত তিনটি গল্পে। কোনও গল্পে পাঠক হবেন বিষন্ন, কোনও গল্প পাঠকের সামনে উন্মুক্ত করবে নতুন ভাবনার দরজা। একটি ব্যতীত সব গল্পই বাংলাদেশের স্বনামধন্য সাহিত্য পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। বৃক্ষচারী মূলত একটি গল্প সংকলন। লেখক নিজে লেখালিখি নিয়ে উচ্চাভিলাষী। বাংলা সাহিত্য কে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে নিয়ে যাবার যে সপ্ন দেখেন সেই সপ্নের প্রতিফলন পাওয়া যাবে বৃক্ষচারী গল্পগ্রন্থের অনেক গল্পে। যারা এক ভিন্নস্বাদের গল্প পড়তে চান - তারা হতাশ হবেন না।
মাসউদুল হকের জন্ম ১৯৭৪ সালে। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় পদচারণা করলেও তাঁর আগ্রহের জায়গা মুলত কথাসাহিত্য। তবে কথাসাহিত্যের নির্দিষ্ট কোন গণ্ডিতে নিজেকে আটকে রাখতে চান না। ফলে তাঁর প্রতিটি গল্প বা উপন্যাসের বিষয়বস্তু হয় ভিন্ন। কথাসাহিত্যের প্রতিটি শাখায় কাজ করার স্বপ্ন নিয়ে তিনি লেখালিখি করেন। প্রতিনিয়ত নিজেকে নতুন নতুন সাহিত্যিক চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড় করানাে এবং সেই চ্যালেঞ্জ থেকে উত্তরণের চেষ্টাই মাসউদুল হকের সাহিত্য রচনার মূল প্রেরণা। পড়াশােনা করেছেন কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিভিল সার্ভিস কলেজে। একাডেমিক পড়াশােনার বিষয় সমাজকর্ম এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক। তবে আগ্রহের বিষয় দর্শন, ইতিহাস এবং রাজনীতি। প্রথম উপন্যাস ‘দীর্ঘশ্বাসেরা হাওরের জলে ভাসে’র জন্য ২০১২ সালে পেয়েছেন এইচএসবিসি-কালি ও কলম তরুণ কথাসাহিত্যিক পুরস্কার। তাঁর গল্প অবলম্বণে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ‘ঘ্রাণ’ দেশের বাইরে একাধিক চলচ্চিত্র উৎসবের পাশাপাশি ২০১৬ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ স্বল্প দৈর্ঘ্য ছবির মর্যাদা পেয়েছে। মাসউদুল হক পেশায় সরকারি চাকুরে।
সত্যি বলতে বৃক্ষচারী বইটা নিয়ে প্রত্যাশা কম ছিল। কিন্তু প্রথম গল্পটি অর্থাৎ ফিনিক্স পাখির (সম্ভাব্য) জন্মকথা পড়তে গিয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে কিছুটা ভাবাবেগের মুখোমুখি হলাম। মনে পড়ে গেলো আমার বাবার গ্রাম ফেলে শহরে আসা আর আমার শহর ফেলে প্রবাসে আসার কথা। এই একমুখী যাত্রার ভবিষ্যতে আমার সন্তানের গতিপথ কোন দিকে হবে আর সেই যাত্রায় কোন গল্প আমি তাকে শোনাবো তা বেশ ভাবালো। সূর্যবালার অন্তর্ধান, মান অথবা মন নিয়ন্ত্রণ এবং বিশ্বরেকর্ড সমাচার - তিনটি স্যাটায়ার গল্প নতুন কোন ভাবনার দরজা উন্মুক্ত করেছে কিনা বুঝতে পারিনি কিন্তু উপভোগ করেছি। বাঙ্গালির তির্যক সমালোচনা করতে যে লেখক ভালোবাসেন তা বেশ বোঝা যায়। বাকি গল্পগুলোও মন্দ নয়।