Syed Ali Ahsan (26 March 1920 – 25 June 2002) was a Bangladeshi poet, writer and university academic. He was awarded Ekushey Padak (1982) and Independence Day Award (1987) by the Government of Bangladesh. In 1987, he was selected as the National Professor of Bangladesh. He was credited as the official English translator of the National Anthem of Bangladesh.
বহুজনের সান্নিধ্যে এলে, বিভিন্ন মতের মানুষের সাথে মিশলে অভিজ্ঞতার ঝুলিটি খালি থাকে না। ভালো-মন্দ, ঘটন-অঘটনে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে জীবন। এমন সমৃদ্ধ জীবনের অধিকারী হওয়া সোজা নয়। সরল নয় ঋজু,বক্র জীবনপথকে পাঠকের সামনে নিরাসক্তভাবে বলা যাওয়া। অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান তার আত্মজীবনী 'জীবনের শিলান্যাস'-এ তার ঘটনাবহুল জীবনকথার বেশ খানিকটা স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন পাঠকের সাথে।
সৈয়দ আলী আহসানের আত্মকথা পড়তে গিয়ে বুঝেছি মানব হৃদয়ের দ্বান্দ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি কাকে বলে। সৈয়দ আলী আহসান অনেকগুলো ঘটনা বর্ণনা করেছেন যেগুলোর সাথে যৌনতার সম্পর্ক নিবিড়। তার বিগতজীবনে সংস্পর্শে যেসব রমণীর এসেছেন, তাদের কথা খুবই খোলামন নিয়ে লিখেছেন। তা পড়তে গিয়ে বিব্রত হইনি এমনটি বলব না। আত্মকথায় সাধারণত এতটা অবমুক্ত নিজেকে কেউ করেন না। সৈয়দ আলী আহসানের লেখার মধ্যে এই গুণটি লক্ষ করেছি।
তিনি একইসাথে নারীর মন, কাম প্রভৃতি বিষয়কে উদারভাবে উপস্থাপন করেছেন। আবার একই ব্যক্তি বারবার ধর্মকে উপজীব্য করেছেন। ধর্মীয় মানসিকতাকে আঁকড়ে ধরতে চেয়েছেন আপ্রাণভাবে। বুঝতে পারছিলাম না আসলে সৈয়দ আলী আহসানের আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গি কী।
এই আত্মজীবনীর সময়কাল লেখকের জন্ম থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আগপর্যন্ত। আজীবন ক্ষমতার কাছাকাছি থেকেছেন। পশ্চিম পাকিস্তান কর্মজীবনের একটি বড় সময় কাটিয়েছেন। পশ্চিমা দেশগুলোর টাকায় সাহিত্যসভা করার সুযোগ পেয়েছেন বহুবার। রাজনীতিকে পাশ কাটিয়ে গিয়ে পুরো গ্রন্থকে আবদ্ধ রাখতে চেয়েছেন নির্দিষ্ট গন্ডিতে। মনে প্রশ্ন জেগেছে কেন তার এই লুকোচুরি?
আত্মসমালোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত, আত্মকথা লেখার সময়। নতুবা শুধু পরের ভুল-ত্রুটি চোখে পড়ে। স্মৃতিতে চলে আসে। নিজেকে অপাপবিদ্ধ মনে করবার মতো ভ্রান্তিবিলাস গ্রাস করে। পাঠকের মনে জন্ম নেয় লেখকের লেখার সত্যাসত্য নিয়ে ধোঁয়াশা। সৈয়দ আলী আহসানের লেখায় তার নিজেকে অন্বেষণ করবার চেষ্টা দেখিনি। অনেককিছুই এড়িয়ে গিয়েছেন। তাতে তুষ্ট হইনি।