অতিপ্রাকৃত উপন্যাস হলেও গল্পে থ্রিলিং ব্যাপার গুলো কম ছিলো।এর বদলে স্থান করে নিয়েছে ইতিহাসের কিছু অংশ। গল্পের প্রধান দু চরিত্রের একজন সেই হাতকাটা তান্ত্রিক অপরজন একজন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধার কথনে আমরা জানতে পারব মুক্তিযুদ্ধের সময়কার সাধারণ মানুষের গল্পগুলো, শরণার্থী শিবিরের সেই মানুষগুলোর অসহায় অবস্থা! এসব গল্প বাবা ও ঠাকুমার মুখে শুনে আসা ঘটনা গুলোই যেন বইটিতে পূর্ণতা পেল।মুক্তিযুদ্ধের সময়কার যোদ্ধাদের ট্রেনিং ও যুদ্ধকালীন ঘটনাগুলোর কিয়দংশ সম্পর্কে পাঠক জানতে পারবেন। হাতকাটা তান্ত্রিকের মুখ থেকে শোনা ঘটনাগুলোও প্রাচীন ভারতের কিছু ঐতিহাসিক ও কল্পনার মিশেলে লেখা।কিছু কিছু স্থানে অতিপ্রাকৃত কথাবার্তা উঠে এসেছে তবে গল্পকে নেহাৎ এই জাতীয় লেখা বললে ভুল করা হবে বলে মনে হয়!
লেখকের লেখা আগেও পড়া হয়েছে, কিন্তু সেগুলোর তুলনায় এটা যেন আশায় গুড়েবালি। মানে কাহিনীর শুরু আছে, শেষ নেই। ধুম করে শেষ করে দিলেন। আর শেষের পরিশিষ্টের হাতামাথা কিছুই বোঝা যায়নি।
বইটি পড়ে খুবই হতাশ হলাম। এর আগে এই লেখকের লেখা পড়েছি ভালো লেগেছিলো,তাই আশাও করেছিলাম অনেকখানি। সত্যি বলতে কি গল্পটা পড়ছি তো পড়ছিই - না আছে রহস্য,না আছে থ্রিল,না আছে তন্ত্র মন্ত্রের কোনো গা ছমছমে ঘটনা। শুধু নামেই পড়ে গেলাম... আর আমার মতে এটাকে অতিপ্রাকৃত উপন্যাসের তালিকায় ফেলা যায় না।
এখানে যিনি গল্পটা বলছেন আসলে কিন্তু এটা তাঁর জীবনের গল্প না,আসলে তাঁর হাতে আসা এক ডায়েরি পাঠ করেছেন মাত্র। যেখানে সমীর নামে এক মুক্তিযোদ্ধার গল্প উঠে এসেছে। যে তার ট্রেনিং চলাকালীন এক হাতকাটা তান্ত্রিকের দেখা পায়,যে আসলে একজন কাপালিক সাধু। সেই সাধু তাকে ৩০০বছর আগের অতীতের এক কাহিনি শুনিয়েছিল। এই সাধুর বর্ণনা তেই উঠে এসেছে - খান্ডালার ভাঙ্গা দালানের ইতিহাস,নবাব শাহ ইউসুফ জাই এর কাহিনি, মুনী কন্যা অব্জার করুন কাহিনি, যক্ষ দেবতা কুবের, গোমুখী যজ্ঞের মন্দির, গ্রীক দেবী অ্যাথিনার পূজারী ডেমিট্রিয়াস, নাগা সন্ন্যাসী,কাপালিকের শাস্তি হিসাবে বাঁ হাতের কুনুই থেকে কেটে বাতিল করা,আবার সেই কাপালিকের গরুমুখি যক্ষের বরলাভ ইত্যাদি ইত্যাদি। সবশেষে পরিশিষ্ট অংশে,বক্তা বলেছেন তিনি কিভাবে কোথায় পেলেন এই ডায়েরি। এবার এই গল্প সত্যি কি মিথ্যে পাঠক বিচার করবে।
একদম মন ভরলো না পড়ে। অনেক ভালো করে গুছিয়ে,জমাটি প্লট দিয়ে সাজানো যেত। পড়ার পর মনে হচ্ছে শুধু শুধু সময় নষ্ট।
এই উপন্যাসিকাকে কোন ক্যাটাগরিতে ফেলা যায়, জানি না। যদিও অতিপ্রাকৃত উপন্যাসিকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জনাব তৈমূরের কয়েকটি লেখা আগেও পড়েছি। বেশ সুন্দর বর্ণনা থাকে। এটাতেও ছিল। তবে এতবড় একটা গল্প/উপন্যাসিকা পড়ার সময়/পর বিশেষ কোন অনুভূতি জাগেনি। না ভয়, না রোমাঞ্চ, না শিহরণ, না ভাললাগা। জাস্ট রচনার মত পুরোটা পড়ে গেলাম। লেখকের ব্যর্থতা এখানেই।