থ্রিলার জার্নাল (ই ম্যাগ)
পৃষ্ঠাঃ ৩৫৮
মূল্যঃ স্বেচ্ছামূল্য (পাঠকেরা ২০ থেকে ৫০০ পর্যন্ত যেকোনো মুল্য ঐচ্ছিকভাবে প্রদান করতে পারেন)
প্রকাশকালঃ ৬ ডিসেম্বর ,২০১৮
অবশেষে শেষ করলাম ৩৫৮ পেজের বিশাল এই জার্নালটি। বড় কোনো বইয়ের ক্ষেত্রে একবার গল্পে প্রবেশে:র পর, একবসাতেই অনেকখানি পড়ে ফেলা যায়। তবে সংকলনের ক্ষেত্রে একটি গল্প থেকে আরেকটি গল্পে যেতে মনোযোগ পুনর্স্থাপন করতে হয়। তাই জার্নালটি বলতে গেলে ধীরে ধীরে সময় নিয়েই উপভোগ করেছি।
জার্নালটির কথা বলতে গেলে, প্রথমেই বলতে হয় এর সৌন্দর্যতা নিয়ে। এর ডিজাইনিং, প্রতিটি গল্পের শুরুতে ইলাস্ট্রেশনের কাজ, রঙের মার্ধুয্যতা, ঝকঝকে প্রতিটি পৃষ্ঠা প্রথমেই সবার মন কেড়ে নিতে বাধ্য। বইটি পড়তে পড়তে অনেক সময়, পড়া থামিয়ে এর দৃস্টিনান্দনিকতায় মুগ্ধ হয়েছি। বইটির ডিজাইনিংয়ের সাথে জড়িত সকলেই তাই সত্যিকার অর্থে প্রশংসার দাবিদার। ধন্যবাদ আপনাদের সকলকে জার্নালটিকে এত মনোমুগ্ধকর উপায়ে আমাদের কাছে উপস্থাপনের জন্য।
স্বেচ্ছামুল্যঃ স্বেচ্ছামুল্যের প্রসঙ্গটি এডমিনেরাই অনেক সুন্দর করে ব্যাখা করে দিয়েছেন। তাই আমি আর ব্যাখায় যাচ্ছি না। এই কন্সেপ্টটি অনেক পছন্দের। অনেক ভালো লেগেছে বিষয়টি।
এবার আসি বইয়ের মুল বিষয় লেখাগুলি নিয়ে। অনেক লেখাই মন ছুয়ে গেছে, কিছু কিছু গড়পড়তা মনে হয়েছে। আমার নিজের বোঝার অসামর্থ্যতাও হতে পারে, তাই অনুরোধ রইল ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
পাপ (শরীফুল হাসান): গল্পবাঁকের প্রথম লেখা এবং তাতেই বাজিমাত করেছেন সাম্ভালাখ্যাত শরীফুল হাসান। ৫জন ব্যক্তির পাপের হিসাব নিতে মরিয়া কেউ একজন। কি বা তাদের পাপ, কোথায় বা তাদের যোগ। লেখকের লেখনী নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই, অসাধারন। শুরুটাও সুন্দর, মাঝে কিছুটা একঘেয়েমিতা চলে আসলেও, ফিনিশিং ভালো লেগেছে। ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪.৫/৫
ডেজা ভু (ডিউক জন): প্রথম গল্পটি পড়ে বাকিগুলো নিয়েও উচ্চাশায় ছিলাম। তবে দ্বিতীয় গল্পতে এসেই হতাশ হয়েছি। গড়পড়তা মনে হয়েছে। এই ধরনের গল্প আগেও পড়েছি। একেবারেই ছোট গল্প, জার্নালের মাঝের দিকে এর অবস্থান দিলে হয়ত কিছুটা ভালো হতো।
দ্য প্যারাগন (তৌফির হাসান ঊর রাকিব): এটি লেখকের আপকামিং সুপার ন্যাচারাল থ্রিলারের প্রথম অধ্যায়। যেহেতু প্রথম অধ্যায় মাত্র তাই মন্তব্য করা খুব বেশি যৌক্তিক হবে না। তবে ভালো লেগেছে, বর্ণনা কিছুটা দীর্ঘায়িত মনে হয়েছে। লেখকের প্রকাশিতব্য বইটির জন্য শুভকামনা।
মেঘজন্তু (মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী): জীববিজ্ঞান অনুষদ পেয়েছে নতুন কিছু প্রাণীর সন্ধান। মিথিক্যাল এই প্রাণীর আবির্ভাব হয়ে দাড়িয়েছে চট্টগ্রাম শহরবাসীর জন্য হুমকির কারন।
অসাধারন গল্প। দারুন প্লট। জার্নালের অন্যতম সেরা বলতেই হয়। যদিও মনে হয়েছিল লেখক লেখাটি আরো দীর্ঘায়িত করলেই পারতেন। কিন্তু ছোট গল্পের এটিই স্বার্থকতা যে, শেষ করার পরেও মনে হবে, এখনি কেন সমাপ্তি? ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪.৭৫/৫
দা লস্ট মাইন (আগাথা ক্রিস্টি, অনুবাদঃ ওয়াসি আহমেদ): মোটামুটি লেগেছে। খুব একটা আহামরি নয়, আবার খারাপের কাতারেও ফেলা যায় না। অনুবাদ প্রসঙ্গেও একই মন্তব্য।
চাঁদ দেখা কমিটি (জুবায়ের আলম): ভালো লেগেছে। সুন্দর লেখনী। এক নাগাড়ে পড়ে যেতে কোনো অসুবিধে হয় নি। তবে পড়ার সময় কিছুটা খটকা লেগেছিল একটি প্রসঙ্গে। সাধাসিধে প্রেমিক, মোসাদ্দেকের স্যুটকেসের প্রতি আগ্রহী হওয়া এবং ধারনা করে বসা সেখানে মুল্যবান কিছু আছে... কেমন যেনো যায় না ব্যাপারটা। আর এন্ডিংটাও কিছুটা ক্লিশে লেগেছে বলতে হয়। ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪/৫
শেষ খেলা (নেওয়াজ নাবিদ): সুন্দর গল্প। চমৎকার প্লট। সাবলীল লেখনী। ভালো লেগেছে। গোরস্থান থেকে শেষের অংশ বেশিই ভালো ছিল।
তবে জার্নালের সবচে বড় খটকা আমার কাছি ছিল এই গল্পেই। (*****স্পয়লার এলার্ট******) মেমোরি কার্ড উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এই গল্প। সাবিহা মেমোরি কার্ডটি গিলে ফেলার পর তার এক্সিডেন্ট হয়। রিগান গোরস্থানে যায় সাবিহার লাশ কেটে সেই মেমোরি কার্ড উদ্ধারের জন্য। তবে রিগান চরিত্রকে যেমন দেখানো হয়েছে,সে এত কম বুদ্ধিসম্পন্ন নয় যে, কেউ একজন মেমোরি কার্ড গিলে ফেললে, তার পেট থেকে সেটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের আশা করবে।
তবে লেখক জানিয়েছেন, তিনি নিজে ৩/৪জন চিকিৎসকের সাথে কথা বলেছেন। তারা সকলেই মত দিয়েছেন এমতাবস্থায় কার্ডটি মোটামুটি ঠিক থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
ওভারঅল গল্পটি দারুন ছিল বলতেই হবে। বিশেষত বাহার আর রিগানের স্নায়ুযুদ্ধ। এক কথায় দারুন।
ফ্লাশ ফিকশন- “কে”(ওয়াসিফ নুর): ভালো লেগেছে। তবে প্লটটা পরিচিত। এরকম একই ধাচের গল্প যেন আগেও কোথাও পড়েছি।
কাল সময় (বাপ্পী খান): দুর্দান্ত ছিল। টাইম ট্রাভেল, সময়ের মারপ্যাচ, গ্রান্ডফাদার প্যারাডক্স। সবকিছুই একলেখাতে। পুরো জার্নালে সায়েন্স ফিকশন জনরাতে ফেলা যায় এমন গল্প সম্ভবত এটিই একমাত্র। গল্পটি ৩বার পড়ে মোটামুটি আয়ত্বে এনেছি। তারপরের ক্ষনেই আবার মনে হয়েছে, ঠিক বুঝেছি তো? ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪.৫/৫
দ্য ডেভিল’স বোনস (জেমস রলিন্স/স্টিভ বেরি, অনুবাদঃ কৌশিক দেবনাথ): গল্পটি মোটামুটি লেগেছে। অনুবাদ বেশ ভালো ছিল। তবে মাঝেমাঝে কিছু লাইনে একটু অসস্তি লেগেছে। সব মিলিয়ে এভারেজ বলা যায়।
চক্রব্যুহ (সাগরিকা রায়): এই বিশাল জার্নালের একমাত্র অ্যাকশন থ্রিলার সম্ভবত এটিই। কিছুটা আন্ডারওয়ার্ল্ডের ফ্লেভার ছিল। চলনশই বলা যায়। আরেকটু বেশি আশা করেছিলাম। লেখনী আরেকটু সাবলীল হলে হয়ত ভালো হতো। বেশ দ্রুত গতিতে কাহিনী এগিয়ে গেছে। একটু কম হলে অবশ্য ভালো হতো। তবে অ্যাকশন থ্রিলার হিসেবে মেনে নেওয়াই যায়। ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৩.৭৫/৫
কারাগার (আসিফ রুডলফাজ): মাস্টারপিস। আমার কাছে জার্নালটির সেরা লেখা। অসাধারন প্লট, চমৎকার টুইস্টে ভরা প্রিজন এক্সপেরিমেন্টে বিহেভিয়ার চেঞ্জ নিয়ে লেখা গল্পটি। লেখনী ছিল ঝকঝকে। সবমিলিয়ে এক কথায় দারুন। ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪.৯/৫
গোধূলী বেলায়, অনেকদিন আগে, একটি পার্কে(অৎসুইশি, অনুবাদঃ কৌশিক জামান): বেশ ভালো লেগেছে গল্পটি। চমৎকার লেখনী। সহজ প্লট। অনুবাদ বলে মনে হয় নি কোথাও। জার্নালের বিগত অনুবাদগুলো নিয়ে যেই আক্ষেপটা ছিল, কৌশিক জামান তার অনুবাদে সেটি দূর করেছেন।
সুহাস এবং তার সন্দেহ বশবর্তী হয়ে করা অনর্থক কাজগুলো (হাসান মাহবুব): গল্পটি ঠিক বুঝতে পারি নি, লেখক কি বুঝাতে চেয়েছেন। বেশ বিরক্তিকর ও লেগেছে। তাই এই দাবি করতে পারি, প্লট আরেকটু সরল এবং লেখনী সাবলীল করা উচিত ছিল।
অবাধ্য (সানজিদ পারভেজ): শয়তানের সাথে শয়তানি। বেশ ভালো লেগেছে। গল্পে বেশকয়েকটি টুইস্ট ছিল এবং বলতেই হবে দারুন ছিল। কিছুটা হরর ঘরানার বলা যায়। লেখনীও ভালো। ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪.২৫/৫
পুক (আহসানুল হক রুদ্র): জার্নালের অন্যতম সেরা আরেকটি লেখা। ‘গল্প পুরন’ সেগমেন্টের। এডিটরদের ধন্যবাদ অসাধারন গল্পটিই নির্বাচন করার জন্য। প্লট কিছুটা পরিচিত। হুমায়ুন আহমেদের “পোকা” বইটির সাথেও মিল পাওয়া যায়। তবে বিষয়বস্তু দারুন ছিল। আর লেখকের লেখার হাত অসাধারন বলতেই হয়। ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪.৫/৫
শীতঘুম (রাজীব চৌধুরী): সহজ প্লটে লেখা সাদামোটা একটি গল্প। ছোটগল্প হিসেবে খারাপ না। লেখনী এবং গল্পের গতিও স্বাভাবিক। তবে সমাপ্তিটা ভালো লাগে নি। বেশ ক্লিশে এবং অনুমেয় মনে হয়েছে। ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৩.৫/৫
বোয়্যামবন্দী (আহসানুল হক শোভন): ভালো লেগেছে। লেখকের লেখার হাত এবং গল্পের উপস্থাপন ভঙ্গী চমৎকার। প্লটটাও বেশ ভাল। ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪.২৫/৫
সিরিন (নীলাদ্রি মুখার্জী): সুন্দর প্লটে সুন্দর গল্প। বিশেষত এন্ডিংটা চমৎকার। যা ছোট গল্পের প্রধান গুন। এছাড়া থ্রিল আমেজটাও ধরে রাখতে পেরেছেন লেখক।
( ***স্পয়লার এলার্ট *** পাঠক দম্পতির নিজেদের বাসা এতসহজেই ছেড়ে দিলেন, এর ব্যাখ্যা হিসেবে কেবলমাত্র “সাধারন প্রেত নয় বুঝিয়ে বলাতে” এতটুকু বলে লেখক নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না। )
তবে সবমিলিয়ে জার্নালের অন্যতম পছন্দের গল্প। ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪.৫/৫
দ্বিতীয় প্রেমিকা (অনামিকা নন্দী): বেশ ভালো গল্প। বিভ্রান্তির খেলা। গল্পের টুইস্টগুলোও দারুন ছিল। বেশ উপভোগ্য। ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪.২৫/৫.
(তবে ২৬৬পেজে যেখানে সময় রাত ৪:১৫ এবং ৪:৪৫ এর কথা বলা হয়েছে, সেটা কি ভোর ৪:১৫? তাই যদি হয়ে থাকে, তবে সেই সময়ে ধ্রুব তার প্রেমিকা’কে দেখা করার কথা কীভাবে বলতে পারে? আমার মনে হয়, সময়ের এখানে কোথাও ভুল হয়েছে)
সতী (ইমরান হাসান): মোটামুটি লেগেছে। ঠিকঠাক বলা যায়। তবে লেখকের থেকে সামনের লেখাগুলোতে আরেকটু সাবলীল লেখনী আশা করছি।
রক্তের দাগ (সিহান নাইম): ডিটেক্টিভ থ্রিলার। লেখক জানিয়েছেন গল্পটির কিছু অংশ ডিটেকটিভ কোনান নামক এনিমে থেকে অনুপ্রাণিত। যদিও পড়ার সময় সবসময় ই মৌলিক বলেই মনে হয়েছে। ছোট গল্প হিসেবে বেশ ভালো ছিল। ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪/৫
দ্য লেফট/রাইট গেম-প্রথম পর্ব (নিওন টেম্পো, অনুবাদঃ যারীন আনজুম কথা) ধারাবাহিক গল্প হিসেবে প্রকাশিত হবে। এটি ছিল প্রথম পর্ব। তবে আসল মজা হয়ত আগামী পর্বগুলিতে থাকছে। কারন এটি বেশ গড়পড়তা লেগেছে। তবে অনুবাদ ছিল দারুন।
পর্দার আড়ালে- গল্প ধাঁধা (অনন্যা নাজনীন): ডিটেকটিভ গল্প। যেখানে খুনিকে ডিটেক্ট করার দায়িত্ব পাঠকের উপরেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ভালো লেগেছে এই সেগমেন্টটা। যদিও খুনি কে? এটা কেবল আন্দাজ ই করতে পেরেছি।
ডেথ নোটঃ জার্নালের চুম্বক অংশ। অসাধারন লেগেছে। সমাপ্তি এরচেয়ে ভাল অন্য কিছু হতে পারতো না বলে আমি মনে করি। যেহেতু এটি অধ্যায় এক, অর্থাৎ আগামী সংখ্যাগুলোতে পরবর্তী অধ্যায়গুলো আসছে বলা যায় <3 নিঃসন্দেহে বলতে পারি, এটি জার্নালের অন্যতম মূল আকর্ষণ হয়ে থাকবে।
এবার অন্যান্য সেগমেন্টগুলো নিয়ে সংক্ষেপে একটু বলি।
কমিক্সবাজিঃ অজ্ঞাত জগত ভালো লেগেছে। অনুবাদ বেশ প্রানবন্ত ছিল। অন্যদিকে ‘দ্য নেমলেস সিটি’ এভারেজ মনে হয়েছে। আর ডেথনোটের কথা তো বলেই ফেলেছি। অসাধারন!
থ্রিলার নাটিকাঃ পুরো জার্নালে যেখানে একশন সিকুয়েন্স বা ফাইটিং সিনের অভাববোধ করছিলাম অনন্যা নাজনীনের "বিগ্রহ" নাটিকাটি সেই অভাব খানিকটা পুরন করেছে। ফাইটিং সিনের অংশটির বর্ণনা দারুন ছিল। আর থোর এবং আর্টেমিস'কে বাংলাদেশি প্রেক্ষাপটে নিয়ে আসার দুঃসাহস :O লেখক সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। ওভারঅল, ভালো লেগেছে নাটিকাটি। ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪.২৫/৫
থ্রিলার সমাচারঃ এই সেগমেন্টটি দারুন মনে হয়েছে আমার কাছে। অনেককিছু জেনেছি লেখাগুলি থেকে। তবে এই সেগমেন্টে লেখাগুলো বেশিই হয়ে গেছে বলে মনে হয়েছে। রুপন্তী শাহরিন এর ‘থ্রিলার মানেই আবেগ’ , সালেহ আহমেদ মুবিনের ‘ফ্যান্টাসি এবং আরো ফ্যান্টাসি’ , সিহান নাইমের ‘থ্রিলারের মর্যাদা, মর্যাদার থ্রিলার, প্রকাশিতব্য বইয়ের খবর। অনেক ভালো লেগেছে। তবে DR. Konan Doyle এর ইন্টারভিউ, প্রিজন ব্রেক ইন্ডিয়া, আবার চরিত্র সমীপে সেগমেন্টটি - এগুলি কিছুটা বিরক্তিকর লেগেছে, এবং অতিরিক্ত ও মনে হয়েছে।
সত্যি বলতে এই ধরনের লেখাগুলি থ্রিলার বইয়ের যে থ্রিলটা সার্বক্ষনিক থাকা উচিত তা অনেকটাই নষ্ট করে দেয়। তাই এগুলি সীমিত রাখা, এবং বইয়ের শুরু এবং শেষে দেয়ার অনুরোধ রইল।
মুনতাসির ধ্রুব এর থ্রিলার কাব্য এবন ওয়াসিফ নুরের ক্যানভাসে থ্রিলার দুটি ভালো লেগেছে। এগুলো যেহেতু একেবারেই নতুন, তাই আরো কাজ প্রয়োজন।
পাঠ পর্যালোচনা সেগমেন্টের বই রিভিউগুলি বেশ ভালো ছিল। তবে আরো বেশি বেশি বাংলা থ্রিলারের রিভিউ আশা করছি পরবর্তী সংখ্যাগুলি থেকে। যেহেতু এখন আমাদের দেশেও বেশ ভালো মানের বাংলা মৌলিক থ্রিলার তৈরি হচ্ছে, তাই আমাদের উচিত সেগুলিরও পৃষ্ঠপোষকতা করা।
চরিত্র পরিচিতি সেগমেন্টটিও মন কাড়ার মত। জাহিদুল ইসলাম রাজুর রবার্ট ল্যাংডন এর চরিত্র পরিচিতি বেশিই জোস ছিল। সালেহ আহমেদ মুবিনের "ম্যাগনাস চেইস" এর চরিত্র পরিচিতিও বেশ প্রশংসার দাবিদার।
আর জার্নালের প্রথম সংখ্যায় মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন স্যারের উপস্থিতি ছাড়া হয়ত এটি অসম্পূর্ণই থেকে যেতো। কারন উনাকে বাংলা মৌলিক থ্রিলারের পথিকৃৎ ই বলা চলে।
আগামী সংখ্যাগুলোর কোনো একটিতে উনার একটি সাক্ষাৎকার আশা করছি। পরবর্তী সংখ্যাগুলিতে একজন একজন করে আরো কিছু প্রখ্যাত থ্রিলার লেখকদের ইন্টারভিউও যোগ করা যায়।
সবমিলিয়ে দারুন ছিল থ্রিলার জার্নালের প্রথম সংখ্যা। ডিজাইনিং থেকে শুরু করে এডভারটাইসিং, ব্যবস্থাপনা, সবকিছুতেই দারুন প্রফেশনালিজম। চমৎকার এই থ্রিলার জার্নালটিতে যদি কোনোকিছুর অভাব থেকে থাকে, তবে তা হলো “থ্রিল” এর। বলছি না যে থ্রিল ছিল না, তবে যতটা আশা করেছিলাম ততটা ছিল না।
এডিটরদের প্রফেসনলাজিম যেখানে জার্নালটিকে অন্যমাত্রায় নিয়ে গেছে, সেখানে লেখার মান আরো ভালো আশা করা অন্যায় দাবি হবে না। এক্ষেত্রে আমি মনে করি, ৩৫৮ পেজের বিশাল জার্নাল থেকে, ২০০-২৫০ পেজের মধ্যে দারুন জমজমাট, শ্বাসরোদ্ধকর থ্রিলার জার্নাল পেতে পারি আমরা।
লেখকদের মধ্যে বেশিরভাগই নবীন। তাই দায়িত্বপ্রাপ্তরা চাইলেই অনেক দায়সাড়া ভাবে কাজ করতে পারতেন। তারা কিন্তু তা করেন নি। বেশ বড় পরিসরে, প্রফেশনালি জার্নালটি তৈরি করেছেন তারা। নবীনদের জন্য দারুন প্লাটফর্ম। এটি হওয়া উচিত অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং। তাই কোয়ান্টিটি থেকে লেখার কোয়ালিটির দিকে সামনে আরো বেশি নজর দেওয়ার অনুরোধ রইল।
সবমিলিয়ে আমি থ্রিলার জার্নালের প্রথম সংখ্যাটি পড়ে স্যাটিস্ফাইড। লেখক এবং এডিটরদের অনেক অনেক ধন্যবাদ এমন চমৎকার একটি জার্নাল আমাদের কাছে পৌছে দেওয়ার জন্য। পরবর্তী সংখ্যার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।
এতক্ষন ধৈর্য্য নিয়ে পড়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ সকলকে। যারা এখনো জার্নালটি পড়েন নি, দ্রুত পড়ে ফেলুন। Happy Reading 😊