' লোকে বলে আগেরদিনে প্রতিমাদের বুকে দয়ামায়া ছিল, হায়, ঈশ্বরই জানেন ওঁরা কবেকার কথা বলছেন।। '
বাংলা শায়েরি একদিকে। অন্যপর্বে মূল উর্দু শায়েরি সংযোজন করেছেন আবু সয়ীদ আইয়ুব।
খুবই চমৎকার বই। প্রাণজুড়ানো এবং মনভোলানো। আবু সয়ীদ আইয়ুবের ভাষাগত দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো অর্বাচীনতা দেখাতে চাইনা। তবে অনুবাদের ভাষার ক্ষেত্রে কিছুটা রক্ষণশীল ছিলেন বলেই মনে হল। এই শাব্দিক রক্ষণশীলতা নিয়ে অবশ্য তিনি সুনীল, শক্তি এঁদের খোঁচা দিতে ছাড়েন নি।
কবিতার অনুবাদ করা বরাবরই কঠিন। উর্দু কবিতার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আরও কঠিন কারণ ভাষা হিসাবে উর্দুতে প্রচুর nuance আছে। সেইভাবে literal অনুবাদ করার চেষ্টাটা মন্দ হয়েছে বলা যাবেনা। তবে শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের অনুবাদের মতো পড়ে এতো বেশি আরাম পাওয়া হয়নি। অনুবাদ যৎকিঞ্চিত অস্বস্তি সবসময় তৈরী করে। তবে যেটুকু স্বস্তি এই বইয়ে পাওয়া গেছে তার সবটাই তকী মীরের কল্যাণে। মীর বিরাট কবি, সন্দেহ নাই। গালিবের বাইরেও উর্দু কবিতায় কাউকে ওস্তাদ মানা যায় এবং তিনি মীর তকি মীর।
উর্দু কাব্যে সবচেয়ে সন্মানের আসন লাভ করা কবি গালিব লিখেছেন- তুমি একাই উর্দু ভাষার উস্তাদ নও গালিব লোকে বলে পুরা কালে মীর নামেও একজন ছিলেন ।
মীর তকী মীর- উর্দু ভাষার প্রথম শক্তিমান কবি । উর্দু কবিতার জগতে মীর "খুদা এ সুখন"- তথা কাব্যেশ্বর নামে অভিহিত হয়েছেন, অষ্টাদশ শাতাব্দীর উজ্ঝ্বলতম কবি তিনি । তাইতো আরেক জায়গায় গালিব লিখেছেন- সে নিজেই বেরসিক যে নিজে মীরের গুনমুগ্ধ নয় ।
মীর শুধু কবি বা শায়েরি করেছেন তা নয়। তিনি তার একটি স্মৃতিচারণ গ্রন্থ লিখেছেন যেখানে তিনি তার জীবনের স্মৃতিগুলো কে বর্নণা করে গিয়েছেন। এই বইটি হচ্ছে "জিক্র -ই- মীর"। বইটি আত্মজীবনী না হলেও এর কাছাকাছি পর্যায়ের বলা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এতে মীরের স্মৃতি উল্লেখ করা হয়েছে।
"মীরের গজল থেকে" বইটিতে মীরের গজল গুলো অনুবাদ করা হয়েছে। যদিও আবু সয়ীদ আইয়ুব এই বইটি শেষ করে যেতে পারেননি। শেষ করেছেন তার স্ত্রী গৌরী আইয়ুব।
প্রতিটি কাব্য সুন্দর ভাবে অনুবাদ করা হয়েছে সেই সাথে উর্দু গুলোকে উল্লেখ করে হয়েছে।
"তুমি কি ছিলে মীর, সে সময় কেউ জানেনি আজও তুমি চির ভাস্বর মীর তকী মীর"