বড়ো হয়ে শরৎচন্দ্র যতই পড়ি, খালি মনে হয় পড়ার বয়সটা শেষ হয়ে গেছে, টিনএজ বয়সেই শরৎচন্দ্র ঠিক আছে (অন্তত আমার কছে)।
সমাজে যার টাকা আছে, সে-ই সমাজ, সে-ই সমাজের রীতি নীতি। এই বইয়ের মূল শিক্ষা এটিই।
বইয়ের ভালো লাগা লাইন:
যাহার প্রাসাদ তুল্য অট্রালিকা নদী গর্ভে ভাঙ্গিয়া পড়িতেছে সে আর খান কতক ইট বাঁচাইবার জন্য নদীর সহিত কলহ করিতে চাহে না।
দোষ-লজ্জা প্রতি সংসারে আছে। মানুষের দীর্ঘ-জীবনে তাকে অনেক পা চলতে হয়, দীর্ঘ-পথটির কোথাও কাদা, কোথাও পিছল, কোথাও বা উঁচু-নীচু থাকে, তাই বাবা, লোকের পদস্খলন হয়; তারা কিন্তু সে কথা বলে না, শুধু পরের কথা বলে। পরের দোষ, পরের লজ্জার কথা চিৎকার করে বলে, সে শুধু আপনার দোষটুকু গোপনে ঢেকে ফেলবার জন্যেই। তারা আশা করে, পরের গোলমালে নিজের লজ্জাটুকু চাপা পড়ে যাবে।
পরকে আপনার করা যায়; কিন্তু যে আপনার, তাকে কে কবে পর করতে পেরেছে?