Jump to ratings and reviews
Rate this book

पन्डितमशाइ

Rate this book

Unknown Binding

First published January 1, 1916

6 people are currently reading
176 people want to read

About the author

Sarat Chandra Chattopadhyay

319 books936 followers
Complete works of Sarat Chandra (শরৎ রচনাবলী) is now available in this third party website:
http://sarat-rachanabali.becs.ac.in/i...

Sarat Chandra Chattopadhyay (also spelt Saratchandra) (Bengali: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) was a legendary Bengali novelist from India. He was one of the most popular Bengali novelists of the early 20th century.

His childhood and youth were spent in dire poverty as his father, Motilal Chattopadhyay, was an idler and dreamer and gave little security to his five children. Saratchandra received very little formal education but inherited something valuable from his father—his imagination and love of literature.

He started writing in his early teens and two stories written then have survived—‘Korel’ and ‘Kashinath’. Saratchandra came to maturity at a time when the national movement was gaining momentum together with an awakening of social consciousness.

Much of his writing bears the mark of the resultant turbulence of society. A prolific writer, he found the novel an apt medium for depicting this and, in his hands, it became a powerful weapon of social and political reform.

Sensitive and daring, his novels captivated the hearts and minds of thousands of readers not only in Bengal but all over India.

Some of his best known novels are Palli Samaj (1916), Charitraheen (1917), Devdas (1917), Nishkriti (1917), Srikanta in four parts (1917, 1918, 1927 and 1933), Griha Daha (1920), Sesh Prasna (1929) and Sesher Parichay published posthumously (1939).

"My literary debt is not limited to my predecessors only. I'm forever indebted to the deprived, ordinary people who give this world everything they have and yet receive nothing in return, to the weak and oppressed people whose tears nobody bothers to notice and to the endlessly hassled, distressed (weighed down by life) and helpless people who don't even have a moment to think that: despite having everything, they have right to nothing. They made me start to speak. They inspired me to take up their case and plead for them. I have witnessed endless injustice to these people, unfair intolerable indiscriminate justice. It's true that springs do come to this world for some - full of beauty and wealth - with its sweet smelling breeze perfumed with newly bloomed flowers and spiced with cuckoo's song, but such good things remained well outside the sphere where my sight remained imprisoned. This poverty abounds in my writings."

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
107 (33%)
4 stars
125 (39%)
3 stars
72 (22%)
2 stars
12 (3%)
1 star
2 (<1%)
Displaying 1 - 16 of 16 reviews
March 20, 2023
বিয়ে তো সব পুরুষ করে,প্রকৃত প্রেমিক হয়ে ওঠে কয়জন!!! সব মেয়েতো বিয়ের পর আদর-সোহাগ পেয়ে থাকে,ভালোবাসার খোঁজ পায় কয়জন!!
পন্ডিত মশাই, পড়ে এই প্রশ্নগুলো মাথায় ঘুরছে!!
যুগযুগ হতে সমাজের রীতিনীতির জন্য কত মেয়ে কে বঞ্চনা সহ্য করে আসতে হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে।একজন পুরুষ চাইলে হাত ধরতে পারে তার প্রিয়তমার স্ত্রীর, তার জন্যে তার সাহস থাকা দরকার কিন্তু চাইলে ও তো সমাজ কে উপেক্ষা করা যায় না!!
পুতুল খেলার বয়সে কুসুমের বিয়ে হয় বৃন্দাবনের সাথে।কুসুমের মা এবং বৃন্দাবনের বাবার কলহের জন্য কুসুমকে পতিগৃহ ছাড়তে হয়।বৃন্দাবনের বাবা তার ছেলের দ্বিতীয় বিয়ে দেন। অন্য দিকে কুসুমের মা
হিন্দুদের কী নীতির মাধ্যমে(কন্ঠি বদল)কুসুমের বিয়ে দেন এবং সে হয়ে যায় এক বৈরাগীর স্ত্রী, ছয়মাসের মাথায় সে অধম এই নরাধমের মায়া ত্যাগ করে।কুসুম হয়ে যায় বিধবা(যদি ও পরে জানা যায় এই কন্ঠী বদল হয় নি।
শাস্ত্র মতে,সে এখনো বৃন্দাবনের স্ত্রী কিন্তু তখন অনেক বছর হয়ে গেছে)।পরে হিন্দুধর্মের বৈধব্য রীতি মানতে হয়,যদিও সে সব মানে তা নয়।
সে পড়ালেখা করেছে তার নিজস্ব মতামতের স্বাধীনতা রয়েছে তারপরেও সে অবহেলিত।
বৃন্দাবন এখন প্রাপ্তবয়স্ক তার পিতা গত হয়েছেন। সে কুসুম কে দেখে, তার প্রেমে পরেছেন তাই সে তাকে ঘরে আনতে চান। সে এই কথা কুসুমের বড় ভাই কে বলে।এক দুপুরে বৃন্দাবন তার মা মরা ছেলে কে নিয়ে কুসুমদের গৃহে আসে।কুসুম তার ছেলে কে মাতৃস্নেহে গ্রহণ করে। বৃন্দাবনের মা তার পরিত্যাগ করা পুত্র -বধূ কে আশীর্বাদ করেন।কিন্তু অভিমানী কুসুম তা গ্রহণ করতে পারে নি।
সে চেয়েছিল তার স্বামী ভুলের জন্য ক্ষমা চাবে,বা তার বাবার ভুলের জন্য কুসুমের মনে যে অভিযোগ, অভিমান তা ভাঙবার চেষ্টা করবেন।
কিন্তু তার কিছু হল না!! তাদের মাঝে যোগাযোগ ছিল শুধু চরণ(বৃন্দাবনের ছেলে)কে কেন্দ্র করে।চরণ, কুসুম কে মা ডাকে।কিন্তু কুসুমের যে ভালবাসা তার স্বামী কে ঘিরে অন্যদিকে বৃন্দাবনের যে আকুতি -উৎকন্ঠা কুসুম কে নিয়ে তা প্রকাশ করে না। কুসুম আর বৃন্দাবনের
বুক ফাটে তো মুখ ফুটে না।
এর মধ্যে অনেক তিক্ততা, মহামারী, পুত্র-মা হারিয়ে বৃন্দাবন সংসার ত্যাগ করার বাসনা করে আর এই প্রথমবার কুসুম সব ভুলে তার স্বামীর ছায়া সঙ্গী হওয়ার জন্য প্রস্তুত।বৃন্দাবন আপত্তি করলে,কুসুম বলে সে তার ভুলে ছেলে হারিয়েছে, স্বামী হারাতে পারবে না।
#সমাজে বিধবা নারীর কত কষ্ট তা কুসুম কে দ্বারা লেখক তুলে ধরেছেন।সমাজে ব্রাহ্মণদের আধিপত্য এবং নিচুস্তর লোকদের প্রতি তাদের মনোভাব তুলে ধরেছেন এই উপন্যাসে।
হয়তো বিধবাবিবাহ চালু হয়েছে, হয়তো ব্রাহ্মণদের দৃষ্টি -ভঙ্গি পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু নারীদের অবস্থানের খুব বেশি কী পরিবর্তন হয়েছে!!এখনো কী মেয়েদের কে কথা শুনতে হয় না,অবহেলিত হতে হয় না, এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে।আজ ও হাজার কুসুম রাগে,অভিমানে ডুকরে কেঁদে উঠে হয়তো তার পরিস্থিতি ভিন্ন,কিন্তু তার পরিণাম একই।
পরিশেষে, শরৎ বাবুকে শ্রদ্ধা জানাই এই জন্য যে,একজন পুরুষ হয়ে যে ভাবে একজন নারী কে বুজেছেন, অনেক নারীই সেটা পারে না।🙏🙏🙏
Profile Image for Mrittika Deb.
13 reviews25 followers
February 12, 2017
This book, to me, is about a battle between love and ego, and the consequences we face when we let our ego win. The protagonist, Brindabon was separated from his wife by his father at a very young age But as he grows up, he realizes that what his father did was wrong and tries to win over his wife's heart. But her pride is very much wounded by the insults inflicted on her and her family by her father-in-law. And the story is about whether Brindabon would be able to win her back or not.

And half way into the story, we also see Bridabon as a dedicated teacher who gives free education to the poor kids in his village. His philosophy is if you want to help the poor, you need to accept them the way they are and not question their prejudices. You can't be judgmental of their way of living if you want to make a true connection with them. But as the story progresses, he does take a stand against the prejudices that are embedded in his community and causing real damage to the people. And he pays a personal price for doing so.

I really enjoyed the first half of the story. The author does a really great job creating a tension between Brindabon and his wife. But later on, some of the events become repetitive. The characters appear to be stuck in one place and are unable to move the story forward. And toward the end, too many unexpected things happen all at once, but they hardly evoke any emotion.
Profile Image for Samiatul Sami.
19 reviews3 followers
January 21, 2021
'পন্ডিতমশাই' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধায়ের লেখা উপন্যাস। উপন্যাসটির পটভূমি আর প্রকাশকালের মাঝে অবিচ্ছেদ্য এক ধরণের মিল আছে। মূলত ১৯১৪ সালের সময়টাতে, যখন বঙ্গদেশের সন্তানেরা মোটামুটি পড়ালেখা শিখে শহরমুখী হচ্ছে, সে সময়টার গ্রাম অঞ্চলের পটভূমিতে লেখা একটি উপন্যাস 'পন্ডিতমশাই'।

'পন্ডিতমশাই' নামটি শুনে উপন্যাসটি সম্বন্ধে যদি কেউ আন্দাজ করবার চেষ্টা করে থাকেন, তবে ভুল করবেন। নামটি এসেছে মূলত উপন্যাসের একটি চরিত্র থেকে যার নাম বৃন্দাবন অধিকারী। বৈষ্ণ সম্প্রদায়ের বৃন্দাবন মূলত নীচু শ্রেণির মানুষের পড়ালেখার নিমিত্তে তার নিজের খরচে নিজ গৃহে একটি পাঠশালা খুলে বসে, যেটির জন্যে বাচ্চাদের পড়ালেখার সরঞ্জামের টাকা অব্দি ধনী বৃন্দাবন দিত৷ দেশমৃত্তিকার জন্যে গভীর দায়িত্ববোধসম্পন্ন এই স্ব-প্রণোদিত 'পন্ডিতমশাই' এর নামেই উপন্যাসটির নাম হলেও উপন্যাসের প্রধান চরিত্র পঞ্চদশী কিশোরী কুসুম৷

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যাদের অন্যান্য উপন্যাসের নারী চরিত্রের সাথে কুসুমের কিঞ্চিৎ মিল খুঁজে পাওয়া যায়৷ কুসুমের বাল্য ইতিহাস তার অজানা, সেই অজানা ইতিহাস সে সময়কার গ্রামসমাজ এমন নোংরামিতে ভরপুর রেখেছে যে উপন্যাসের শেষদিকে কুসুমের মাঝে তীব্র অস্তিত্ব-সংকট চোখে পড়ে৷ কুসুম মূলত দৃঢ়চেতা এবং নিজ খেয়ালকে গুরুত্ব দেওয়া এক কিশোরী। নিজেকে নিয়ে সে সদা পরিষ্কার থাকলেও তার আত্মাভিমান তাকে উপন্যাসের শুরুতেই মিলনাত্মক পরিণতিতে পৌছাতে দেয়নি৷ অবশ্য, এই তীব্র রূপের অধিকারী কিশোরীর এমন আত্মাভিমান জন্ম না নিলে খুব সম্ভবত এই উপন্যাসটি এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেত না৷

কুসুমের ভাই কুঞ্জ। কুঞ্জের চরিত্রে উপন্যাসে তিন ধরণের পরিবর্তন চোখে পড়ে। প্রথমদিকে সে ছোটবোনের স্নেহানুগত হলেও মাঝামাঝি দিকে তার মাঝে চিরায়ত বাঙালিসমাজের একটা ছাপ আমরা দেখতে পাব৷ মানুষ অর্থযশ আর খ্যাতিতে বদলে যায়, কুঞ্জের ক্ষেত্রেও তার কোনরকম নড়চড় হয়নি৷ যদিও তার ছোটবোনের প্রতি তীব্র স্নেহ্ন তাকে শেষ দিকে উপস্থাপন করেছে অন্যভাবে৷ কিভাবে জানতে হলে পড়তে হবে উপন্যাসটি।

এই তিন প্রধান চরিত্র নিয়ে উপন্যাসটি গড়ে উঠলেও এতে আরো কিছু শক্তিশালী চরিত্রের আনাগোনা দেখা যায়৷ কিন্তু সেগুলো নিতান্তই গড়ে উঠেছে উপন্যাসের প্রয়োজনে৷

উপন্যাসটির আরো গভীরে গেলে আমরা দেখতে পাব পুরো কাহিনীতে কুঞ্জনাথ চরিত্রটি সর্বদা থেকে গেলেও মূল উপন্যাসটি গড়ে উঠেছে কুসুম ও বৃন্দাবনকে ঘিরেই। এটুকুতে যদি কেউ এটিকে রোমান্টিক জনরার উপন্যাস বলে মনে করেন, অবশ্যই ভুল করবেন। এটি মোটেও রোমান্টিক উপন্যাস নয়, আবার পুরোদস্তুর সামাজিক উপন্যাসও নয়। মূলত পুরো উপন্যাস জুড়েই বৃন্দাবন ও কুসুমের জটিল মনস্তত্ত্ব নিয়ে খেলা করা হয়েছে। উপন্যাসের প্রথমেই কুসুম ও বৃন্দাবনের মধ্যে যে সম্পর্ক উল্লেখ করা হয়েছে সেটিও পুরো উপন্যাসে অনিশ্চয়তার দোলাচলে পাক খেয়েছে। পাঁচ বছর বয়সে কুসুমের সাথে বৃন্দাবনের বিয়ে হবার পর যে তা অনাকাঙখিত এক কারণে মাত্র কিছুদিন পরই ভেঙে যায়। এরপরই কুসুমের জীবনে এমন এক ঘটনা ঘটে যেটি কিনা সত্যি সত্যিই ঘটেছিল কিনা জানতে অপেক্ষা করতে হবে উপন্যাসের শেষ অব��দি।

বলা হয়নি, এ উপন্যাসে কুসুমের অপরিসীম মাতৃহৃদয়ের এক গল্প আমরা জানতে পারব। তবে সেটি কার জন্যে জানতে হলে আমাদের পড়তে হবে আস্ত উপন্যাসটি। কুসুমের আত্মাভিমান কিংবা পর্বতপ্রমাণ অভিমানের সাথে বৃন্দাবনের মোড় খাওয়া চরিত্রটি উপন্যাসের সাথে বেশ ভালভাবেই যাচ্ছিল। শেষ অব্দি উপন্যাসটিকে বিরহের ছকে ফেলে দিলেও মিলনাত্মক বলা যায় কিনা সে ব্যাপারে ঘোর সন্দেহ আছে। খুব সম্ভবত এর দায়ভার শরৎচন্দ্র পাঠকের উপরেই ছেড়ে দিয়েছেন।

একদিনেই পড়ে শেষ করে ফেলেছি। আপনিও পড়তে পারেন।
Profile Image for Sajid.
457 reviews110 followers
June 23, 2019
অসম্ভব হৃদয়াবেগ সম্পূর্ণ একটি উপন্যাস।মানুষের মহান চরিত্র ও নিষ্ঠুর চরিত্র–এই দুটি বিষয়েই খুব পরিস্ফুট ভাবে বোঝানো হয়েছে। স্বামীর প্রতি স্ত্রীর যেইরুপ ভালোবাসা এই বইয়ে প্রকাশ পেয়েছে;তা চিরকাল অনবদ্য হয়ে থাকবে।
একটি মেয়ে তাঁর স্বামীকে ঠিকভাবে চেনে না,জানে না;তবুও তাঁর মনের তলদেশে স্বামীর প্রতি যেই শ্রদ্ধা,ভালোবাসা ও করুণা প্রকাশ পেয়েছে তাও এই বইয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।আবার একজন পুরুষের আদর্শ দিকটিকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে–মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা,দেশের শিক্ষা অবস্হার প্রতি গূঢ় মনোভাব সবই সু্ন্দরভাবে বোঝানো হয়েছে।শুধু নিজ ইচ্ছায় ও ভালোবেসে শিক্ষার ভার স্কন্ধে তুলে নিলে হয়না;বরং গরীব,অসহায় মানুষদের নিজের মানুষ হয়ে তাঁদের বিপদে-আপদে সাহায্য করতে হয়।গরীব মানুষের প্রতি মনিবের ন্যায় ভালোবাসা নয়;বরং তাঁদের আপন মানুষ হয়ে ভালোবাসলেই শিক্ষার স্বার্থকতা উপলব্ধি করা যায়।
মূলত এই উপন্যাসে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে বৃন্দাবন চরিত্রটি।উপন্যাসের শেষের দিকে তাঁর আদর্শটিই যেনো সমস্ত বইয়ের মূল বার্তাকে বহন করে;আমার কাছে তাঁর বলা কয়েকটা বাক্যই এই উপন্যাসের মূলভাব ছিল।
Profile Image for Shotabdi.
820 reviews204 followers
November 17, 2020
তৎকালীন নারীচরিত্র অঙ্কনে সত্যিই আর কেউ শরৎ এর মতো পারদর্শী ছিলেন না। কুসুম এক অতি সাধারণ নারী চরিত্র, যার বুক ফাটলেও মুখ ফোটেনা, যে মস্তিষ্কের চেয়ে অনেক বেশি চলে আবেগ দিয়ে এবং নিজের বিবেচনার দোষেই শেষমেশ ছেলেটিকে হারায় এবং স্বামীর পায়ে মাথা রাখতে বাধ্য হয়।
অপরদিকে, নামচরিত্রটি বেশ ভালো লেগেছে। বৃন্দাবন এর চিন্তাভাবনা, ব্যক্তিত্ব, শিক্ষা সবই যথেষ্ট আধুনিক এবং মানবিক। একই সাথে যে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও বটে।
তখনকার সময়ের ব্রাহ্মণ্যবাদের করাল ছায়া সত্যিই অসহ্যকর। কেবল ব্রাহ্মণ হওয়ার জন্য যে কত অবিচার করতে পারা যেত, ভাবলেও ঘৃণাবোধ হয়।
শরৎ এর ভাষা দারুণ সহজ, অপরাজেয় কথাসাহিত্যিক তো আর এমনি এমনি হননি তিনি।
Profile Image for Nuhash.
221 reviews8 followers
March 19, 2023
"পণ্ডিত মশাই" বইটি সম্পর্কে কি বলবো জানি না? আমার চোখ দিয়ে এখনো জল গড়িয়ে পড়ছে। বুকের ভেতরটা জ্বলে যাচ্ছে। এত অভিমান, রাগ, বিদ্বেষ ভগবান মানুষকে না দিলেও পারতো! সহ্য করার শক্তি থাকুক, কিন্তু নিজেকে গড়ে তুলে আবার মাটিতে মিশে যাওয়ার শক্তি ইশ্বর কাউকে না দিক! আমার মাঝে কি চলছে বুঝাতে পারব না?কুঞ্জে নীরব চোখে বোনের সংসার দেখা, আমার ভগ্নহৃদয়ে জলস্রোত বয়ে দেয়। কি হত, মেয়েটা তার স্বামীকে পেলে? নারী তুমি কেন রাগের মৃদঙ্গে নিজের প্রাণপ্রিয় জিনিসটা হারাও। একবার বলো নারী?

চরণ যখন মারা যায় আমার মাথায় বজ্রপাত হয়। আমার চারদিকে হাজারো মৌমাছি যেন আমাকে দংশন করছে। ছেলেটা তো শুধু মাকে চেয়েছিল, কিন্তু সে মা কেন দূরে? একটিবার যদি অভিমান ছেড়ে চরণকে কুসুম কোলে তুলে নিত তাহলে কিইবা ক্ষতি হতো। ছেলেটার মা-মা বলে ক্রন্দন আমার বক্ষবিদীর্ণ জ্বালা করে। আমি আদিম জগতের মতো নিষ্ঠুর হয়ে যদি থাকতে পারতুম। তবে যদি এই জ্বালা পোড়ায়।

কুসুমের দুঃখে আমি যতটা বিচলিত ছিলাম তার থেকে বেশি বিচলিত মেয়েটার ভাগ্যের জন্য। এত সুযোগ থাকার পরও মেয়েটা নিজের জিনিস আপন করতে পারে নি। বৃন্দাবন তাকে এক বুক সমুদ্র ভালোবাসা দিয়েছিল, সে তাকে দিল নিষ্ঠুরতা। কেন কুসুম, পুরুষের ভালোবাসা তুমি বুঝলে না? সে তো তোমাকে স্বচ্ছ, নির্জীব কলমি লতার মতো করে ভালোবেসেছিল, তুমি বিনিময়ে তাকে ঘৃণা দিলে। মানুষ নিষ্ঠুর হয়, কিন্তু তুমি যে নিষ্ঠুরতা দেখালে তাকে তুমি শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করলে আমার চোখে।

একজন লেখকের সার্থকতা পাঠককে কাঁদানো, তাকে গল্পে মনোনিবেশ করানো। আমি শরৎচন্দ্রের এই গুণে মন্ত্রমুগ্ধ সর্বদা। তার সামাজিকতা কোথাও মিলে না। সব চরিত্র তার দেখা। তার নিজের সমাজ থেকে তুলে আনা। এত সুন্দর করে বলেন যে, মনে হয় আকাশ ফেটে চৌচির হয়ে গেলও তার দেখা বেদনা কেউ স্পর্শ করতে পারবে না। আমি তাকে মনেপ্রাণে ভালবাসি, এই ভালোবাসায় কারো অধিকার নেই। শুধু আমার নিজস্ব।
Profile Image for Taz.
25 reviews2 followers
April 20, 2024
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা দেবদাস এবং পরিণীতা বইগুলি পড়ার সময় বইয়ের নায়কদের প্রতি আমার প্রচন্ড রাগ হচ্ছিল। এককেটা মেরুদণ্ডহীন এবং খুবই দুর্বল পার্সোনালিটির ছেলে, আবেগপ্রবন (নেতিবাচক অর্থে), যারা নিজের মনের কথা বলতে পারেনা, যারা নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে না এবং যারা অন্যের দ্বারা ইনফ্লুয়েন্সড হয় ইত্যাদি। আমি ধরে নিয়েছিলাম শরৎচন্দ্রের সব প্রধান ছেলে চরিত্রই মনে হয় এই জাতের।

কিন্তু পন্ডিত মশাই বইটা পড়তে যাওয়ার সময় আমি বইয়ে আমাদের নায়িকার স্বামী, বৃন্দাবনের চরিত্রটা আমার খুবই ভালো লেগেছে। একজন আত্মমর্যাদা সম্পন্ন, দৃড়চেতা একটা ছেল, যে আসলেই ভালবাসতে জানে। যে বোঝে কোথায় কি করতে হবে কোথায় কি বলতে হবে।

বরং এক্ষেত্রে নায়িকা কুসুমকে আমার জটিল মনে হয়েছে। কুসুমের মনকে আমরা বুঝতে পারছিলাম কিন্তু বেচারা বৃন্দাবনের পক্ষে তো বোঝা কোনভাবেই সম্ভব না। মনে করি এটাই মনে হয় যুগে যুগে সব ছেলেদের একটা বড় চ্যালেঞ্জ।

মোটকথা বইটা আমার খুবই ভালো লেগেছে।
Profile Image for Asfia Niger.
25 reviews13 followers
July 13, 2024
শরৎচন্দ্র মানেই কি সকরুণ বিবরণ তৎকালীন সমাজব্যবস্থার৷ সরলতা, গরলতা ও জটিলতা মিশ্রিত তখনকার সমাজে জাতপাত অভিমান নিয়ে কত কান্ড-কারখানা। শরৎচন্দ্রের যেকোন উপন্যাস পড়লে চোখ না ভিজে কখনো পড়া শেষ করি নি। বৃন্দাবন নামক পন্ডিতমশাই আর তার বিবাহিত স্ত্রী কুসুম কোন এক জটিলতায় তারা একসাথে থাকেন না। উপন্যাসের শেষে সেই জটিলতার জট সমাধান হয় কিন্তু তখন আর কিছু করার থাকে না। এদিকে বৃন্দাবনের সচেতন ও প্রতিবাদী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য একদিন তার ভাগ্যে বিরাট শোক কাহিনী রচনা করে। দিন শেষে বৃন্দাবন সমাজকে দোষারোপ করে না। কলুষিত সমাজকে পেছনে রেখে কুসুমকে নিয়ে অজানা পথে পাড়ি দেয়।
Profile Image for Abir Latifee.
9 reviews
September 5, 2021
এই বইটা পড়েই আমার শরৎচন্দ্রের জাদুকরী জগতে প্রবেশ হয়। বইটা অনেক মুগ্ধ করেছিলো আমাকে। এটার পর একটানা মাতালের মতো পড়ে গিয়েছি শরৎবাবুর অনেক গল্প-উপন্যাস...

সাহিত্যানুরাগী সবার বইটা পড়া উচিত। নিঃসন্দেহে সুন্দর কিছু সময় যাবে পড়ার সময়।
6 reviews
May 25, 2024
শরৎচন্দ্রের এ উপন্যাসটি নিয়ে মানুষের মাঝে কতটা প্রভাব ফেলেছে জানিনা, তবে আমার মনে হয় এর প্রভাবটা আরও বৃহত্তর হওয়া নিতান্তই প্রয়োজন। কারণ, এই উপন্যাসেই বৃন্দাবন চরিত্রের মাধ্যমে সমাজে এক বিশেষ বার্তা প্রদান করেছেন যেটা তারই নিজ পুত্র চরণের মৃত্যুর পর পরিস্ফুটিত হয়।
Profile Image for Sharan Dey.
7 reviews
August 29, 2024
আহা! শরৎচন্দ্রের সেই চিরপরিচিত থ্রিল ধরনের লেখনী, রোমান্টিকতা, বর্ণপ্রথা, ড্রামাটিক,যথাযথ নারী চরিত্র রূপায়ন,সমাজের প্রতি একেকটা বার্তা,শেষে গিয়ে প্রচন্ড মন খারাপের কান্না। সব মিলেমিশে একাকার।
Profile Image for Atik Rahman.
31 reviews2 followers
January 7, 2016
শরৎচন্দ্রের উপন্যাসগুলোতে একটা আলাদা সাসপেন্স আছে। যার কারনে পড়তে ভাল লাগে। যাইহোক এই উপন্যাসে চরণকে শেষ দৃশ্যে মেরে ফেলাটা উচিত হয় নাই মনে হচ্ছে। কুসুম বা বৃন্দাবন বা অন্য যে কেউই হোক মারা যেত, এতটা খারাপ হয়ত লাগত না। কিন্তু চরণ!! ছোট বাচ্চা, মা না পেয়ে মা ডাকতে ডাকতেই মারা গেল!! নাহ, ব্যাপারটা খারাপই হয়েছে। এমনটা না করলেও পারত লেখক... :-/ চার তারকা শুধুই চরণের জন্য। নইলে ২টার বেশি দিতাম না। :-/
Profile Image for Shamim Reza.
20 reviews
March 18, 2018
শরৎ বাবুর লেখা নিয়ে মন্তব্য করার মত মেধা বা জ্ঞান কোন্টাই আমার নেই। তবুও সাধারন পাঠক হিসেবে বলা আর একটু বড় হলে উপন্যাসটা মন্দ হত না।
Displaying 1 - 16 of 16 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.