বারগেন্ডির আকাশে আঁধার হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এক হিংস্র অস্তিত্ব, মাটিতে যার পায়ের ছাপ পড়ে না কখনো। অস্বাভাবিক বীভৎসতা আর বুদ্ধিমত্তা তাকে পৃথিবীর অন্য যেকোনো জানোয়ারের চেয়ে আলাদা করে রেখেছে।
এদিকে বারগেন্ডির শক্তিশালী কুহকীরা হারিয়ে যাচ্ছে রহস্যময় কোনো উপায়ে। এরা কোথায় যাচ্ছে, কারোই জানা নেই। যদিও বারগেন্ডির অধিপতি সম্পূর্ণ নিশ্চিত যে এই সবকিছুই হচ্ছে তাকে সিংহাসনচ্যুত করার ষড়যন্ত্র মাত্র। তার শুধু দরকার একটা প্রমাণ, যেটা পেলেই নিজের সমস্ত ক্রোধ ঢেলে দেবেন শত্রুর উপর, ধুলোয় মিশিয়ে দেবেন পুরো একটি অঞ্চলকে...
ঘটনার জালে জড়িয়ে সেই প্রমাণটা তার হাতে তুলে দিতে বাধ্য হলো সাইকেরিয়াস নামের এক এসাসিন, যে বারগেন্ডিতে এসেছিল স্রেফ একটা খুন করার উদ্দেশ্যে। সূচনা হলো এক ভয়াবহ যুদ্ধের, যে যুদ্ধকে ব্যবহার করা হয় নোংরা উদ্দেশ্য সাধনের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে।
সাইকেরিয়াস কি স্বপ্নেও ভেবেছিলো যে বারগেন্ডিতেই তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সে?
Asraful Shumon is a bangladeshi fantasy author and editor. He is from the port city of Chittagong, currently living in the same city. Developing a story and drawing it in papers through ink and blot has been his passion since 2014. His early career started online, and after writing several novella, novelette and short stories, he decided to take his passion seriously. His debut novel 'Dragomir' was published in January, 2016, which was a high/epic fantasy mixed with metafictional technique. His second epic fantasy novel 'Kuashia: Spellmaker er onushondhan', the first book of 'Kuashia' pentalogy, was published in 2018. His other two series's are 'Aleya', set in bangladeshi mythological settings and 'mother nature', set in both bangladeshi and world mythological settings.
Besides writing, he likes to spend time reading books, listening to music, humming self-made tunes, watching movies and taking tours.
Things we lose have a way of coming back to us in the end, if not always in the way we expect.” ― JK Rowling, Harry Potter and the Order of the Phoenix
- অন্তিম শিখা - সাইকেরিয়াস, একজন এসাসিন তথা ভাড়াটে খুনি। এক কন্ট্রাক্টের কারণে সে আসে বারগেন্ডি নামক এক রাজ্যে। কিন্তু সেখানে এসে ফেসে সে যায় এক গভীর রহস্যের ফাঁদে। তাকে বন্দী করে নিয়ে আসা হয় রাজ্যের ন্যাচার টেম্পলে। - রেইনা, বারগেন্ডি রাজ্যের ন্যাচার টেম্পলের একজন কুহকী তথা ন্যাচার ম্যাজিশিয়ান। সেখান থেকে গত একমাস ধরেই কুহকীরা হারিয়ে যাচ্ছে। টেম্পলের মুখ্য কুহকী সিলা তাকে আর সাইকেরিয়াসকে এই রহস্যভেদের দায়িত্ব দেন। - এখন বারগেন্ডি রাজ্যে যে অন্ধকার সময় ঘনিয়ে আসছে তার নেপথ্যে কে? কে করছে রাজ্যজুড়ে নৃশংস কিছু খুন ? কুহকীরাই বা কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে ? সাইকেরিয়াস আর রেইনা কি পারবে এই রহস্য ভেদ করতে? তা জানতে পড়তে হবে লেখক আশরাফুল সুমনের গ্রিমডার্ক ফ্যান্টাসি ঘরানার বই "অন্তিম শিখা"।
"অন্তিম শিখা" মূলত গ্রিমডার্ক ফ্যান্টাসি ঘরানারা একটি বই। সাধারনত এই ঘরানার বইগুলোতে ফেইরী টেইল টাইপের গল্প বলা হয় না, যথেষ্ট ডার্ক ঘরানার স্টোরিলাইন থাকে গল্পগুলোতে। গ্রিমডার্ক ফ্যান্টাসির সাথে বইটিতে ইয়ং এডাল্ট ফ্যান্টাসির ভাইবও পেয়েছি। বইয়ের ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং, সেটিংস, প্লট সবগুলোই দারুন, তবে লেখনী বাকিগুলোর মতো এত দারুনভাবে ফুটে উঠেনি, কিছু যায়গায় লেখনী একেবারেই পাঠকবান্ধব ছিল না। আর গল্পের মাঝে "বাও", "শ্রাগ" এরকম ইংরেজি শব্দের অনর্থক প্রয়োগ ছিল দৃষ্টিকটু, মনে হচ্ছিল কাঁচা হাতের অনুবাদ করা কোন ইংরেজি নভেল পড়ছি। বইটি শেষ হবার পড়েও কিছু ব্যপারে ধোঁয়াশা যায়নি। - "অন্তিম শিখা" গল্পের ভিতরে সবচেয়ে ইম্প্রেসিভ মনে হয়ে হয়েছে কুহকী রেইনাকে। সাইকেরিয়াসকে একদম শেষ অংশ বাদে সে তুলনায় অনুজ্জ্বল মনে হয়েছে। বাকি চরিত্রগুলোও কাহিনী অনুসারে ঠিকঠাক। "অন্তিম শিখা" বইতে গল্পের কাহিনী অনুসারে এর ওয়ার্ল্ড, ম্যাজিকের প্রয়োগ, ম্যাজিকাল বিস্টের প্রয়োগ যথাযথ। তবে আমার মনে হয়েছে যেভাবে এত বড় ওয়ার্ল্ডটি বিল্ডআপ করা হয়েছে বইয়ের কাহিনী সেই ওয়ার্ল্ডের উপর ঠিক জাস্টিস করতে পারেনি, এ ধরনের ওয়ার্ল্ড আরো বড়, বিস্তৃত কাহিনী ডিজার্ভ করে। - "অন্তিম শিখা" বইয়ের বাধাই, কাগজ ভালোমানেরই মনে হয়েছে। "অন্তিম শিখা" বইটির প্রচ্ছদ অত্যন্ত সুন্দর হয়েছে, কিন্তু প্রিন্টের পড়ে সম্ভবত এর সৌন্দর্যের সবটুকু ফুটে উঠেনি। বইয়ের ব্যাককভারের লেখাগুলোও অস্পষ্ট। বইটির সম্পাদনা অবশ্য বেশ চমৎকার হয়েছে, বানান ভুল চোখেই পড়েনি বইটিতে। - এক কথায়, গ্রিমডার্ক ফ্যান্টাসি হিসেবে "অন্তিম শিখা" মোটামুটি ভালো বই, যাদের এ ধরনের ফ্যান্টাসি ঘরানার বই পড়তে পছন্দ তারা বইটি পড়ে দেখতে পারেন। আশা করি সামনে এই বইটির লেখক সহ দেশের আরো লেখকরাও এ জনরায় আরো বিস্তৃতভাবে কাজ করবেন।
এই বইটা এত আন্ডার-রেটেড কেন?! এই বইটা দেশীয় মৌলিক ফ্যান্টাসিগুলোর মাঝে অন্যতম একটা বই হওয়া উচিত। বইটা ছোটো হলেও মৌলিক ফ্যান্টাসি হওয়ার জন্য কোনো কিছুর কমতি ছিল না। রহস্যও ভালো মতোই ছিল। এত অখাদ্য আজকাল পাঠক গিলে নিচ্ছে অথচ এই বইটা সম্পর্কে বেশির ভাগ পাঠক জানে না৷ দুঃখ জনক! আমি পুরোটা সময় উপভোগ করে গেছি। বইটার প্লটটাও দারুণ লেগেছে। যাই হোক, ফ্যান্টাসি লাভারদের বইটা একবার অন্তত পড়ে দেখা উচিত।