বই ভাল। কিন্তু কয়েকটা লাইন এখানে দিলামঃ 'প্রচুর শিক্ষাজ্ঞানও ভদ্রলোককে কান্ডজ্ঞানহীন হওয়া থেকে বাঁচাতে পারে নি। নইলে কি আর এলেম শেখার জন্য বরেণ্য আলেমদের কাছে না গিয়ে প্যান্ট শার্ট অলা ডাক্তারের কাছে পড়ে আছেন!'
এবার অন্য প্যাড়ায়ঃ 'নামাজে ভদ্রলোক মহিলাদের মত বুকে হাত রেখে পড়ছেন। জামিল নিচু কণ্ঠে জহির কে বলল, দেখে নে! এসবই ডাক্তার সাহেবের লেকচারের সুফল'
না.. মানে... আমি আসলে কি বলব। একটা উপন্যাসেও যদি আপনার এভাবে বিষোদগার করা লাগে... তাইলে ভাল লাগে বলেন? আলেম উলামা দের কাছে ইলম শেখা বাঞ্চনীয়, তাই বলে জাকির নায়েক আপনার কোন ক্ষেতের মূলা চুরি করলেন? তারপর আবার সেই হাত বাঁধার পুরনো কাসুন্ধী।
লেখার মানের জন্য ৩ তারা দিতাম। কিন্তু সেটা এক তারায় (আসলে একও দেয়ার ইচ্ছা ছিল না, গুডরিডসে পয়েন্ট ১ দেয়ার সিস্টেম নাই তাই...) নেমে আসার জন্য এই ধরণের একটা লাইন ই যথেষ্ঠ।
মাহিন মাহমুদের বই এ সহ দু'টো পড়লাম। আমার কাছে পূণ্যময়ী বইটাই বেশ লেগেছে। যদিও এই বইটিও ভালো। কয়েক জায়গায় চোখ দিয়ে আপনা আপনিই পানি পড়ছিলো৷ তবে জাকির নায়েককে নিয়ে ওনার মন্তব্য আমার ভালো লাগে নি। এ কারণেই ফাইভ স্টার দিলাম না। শেষটায় এভাবে কাহিনি মিলিয়ে দিবে, ভাবতেই পারি নি।
নেত্রকোনা রেলষ্টেশনের বসার জায়গাগুলোর অবস্থা কাহিল। সবগুলোই টোকাই আর হকারদের দখলে। জামিল অনেক খুঁজেটুজে একটাতে বসে পড়ল। ট্রেন আসতে আরো একঘন্টা লেট হবে। জামিলের পাশের চেয়ারগুলোতে তেরো চৌদ্দ বছর বয়সি দু'টা টোকাই বসে বসে বাদাম খাচ্ছে। ওদেরকে দাওয়াত দেয়া যেতে পারে। বাংলাদেশে টোকাইরা দ্বীনের আলো থেকে বঞ্চিত। এদের নিয়ে ভাবার কেউ নেই। জামিল ডাকল, -'এই শোনো!' জামিলের ডাক শুনে একজন তাকাল। অন্যজন একমনে টপাটপ বাদাম সেঁটেই যাচ্ছিল। -'ছার। কিছু কইবেন?' -'তোমাদের নাম কী?' -'আমার নাম টিপু। এইডার নাম মন্টু।' -'তোমরা নামাজ পড়?' মন্টুর বাদাম খাওয়া শেষ। সে চুপ করে তাকিয়ে আছে। টিপু বলল, -'না পরিনাহ। আব্বায় অই পরেনা! আমি ত পোলাপাইন।' -'তোমার আব্বা কি করে?' -'কিছুই করে না। ঘুরে আর খায়। তয় একটা কাম করে! খালি জুয়া খেলে।' -'বলো কি! জুয়া খেলা তো ভালো কাজ না। তোমরাও খেল নাকি?' মন্টুর এবার জবান খুলেছে। সে বলল, -'আমরা এইতান খেলিনাহ। কিরকেট খেলি। এই খেলা মজা আছে!' জামিল বলল, -'ক্রিকেট খেলাও খুব ভালো কাজ না। যা হোক, নামাজ কিন্তু পড়তে হবে! তোমাদের উপর নামাজ ফরজ হয়ে গেছে। না পড়লে আল্লাহ দোজখে নিবে।' টিপু কিছুক্ষন চুপ থেকে বিষয়টা নিয়ে ভাবল। তারপর বলল, -'ক্যামনে পইরাম? নামাজ তো পারি না। আপনে হিগাইয়া দ্যান!' ছেলেগুলো সরল ধরনের। সব কিছু অকপটে স্বীকার করে নিচ্ছে। কিছু না জানলেও শিখার আগ্রহ আছে। জামিল ওদের আগ্রহ দেখে খুশি হয়ে বলল, -'শিখবে? চল আমরা প্রথমেই অজু করাটা শিখি।' টোকাই দু'টা জামিলের দিকে মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে থেকে অজু করা শিখছে। নতুন কিছু শেখার আনন্দে ওরা দু'জনই বেশ আনন্দিত। জামিল হাত পা নেড়ে টোকাইদের অজু করা শেখাল। মন্টু ছেলেটা বেশ ট্যালেন্ট। সে একবার দেখেই অজু শিখে ফেলল। টিপু বলল, -'হুজুর! আমারে আরেকবার দেখাইয়া দ্যান।' জামিলের ফোন বাজছে। স্ক্রীণে সেই নাম্বারটা। যেটা থেকে একটা মেয়ে বেশ কয়েকদিন আগে ফোন করে হুমকি দিয়েছিল। বলেছিল, 'তোর জীবনটা আমি নরক বানিয়ে ছাড়ব।'
গল্পাংশঃ আঁধার মানবী।
অসাধারণ পরিসমাপ্তির জন্য পাঁচ স্টার না দিয়ে পারলাম না।
আমরা উপন্যাসের একটা বড় অংশজুড়ে দেখতে পাই কল্পনাভিসারী মন ও অতীতপ্রীতির কথা দিয়ে নারী-পুরুষের রোমান্সের কাহিনী।যা পড়ে আমরা আরও আবেগপ্রবণ এবং রোমান্টিক লাভারস হয়ে উঠি।অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহ বহির্ভূত এসকল প্রেমের সম্পর্ক হারাম।তো সেই যায়গা থেকে মাহিন মাহমুদের "আঁধার মানবী" বইয়ে ফুটে উঠেছে আল্লাহর জন্যে সৃষ্ট ভালোবাসায় পবিত্র প্রেমের পরিণয়ের ঘটনাপ্রবাহ এবং আলোর পথযাত্রা।
জামিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া জেনারেল শিক্ষিত হলেও তাঁর দিন-রাত একটাই ফিকির, ভার্সিটিতে দ্বীনের আলো ছড়ানো।অন্যদিকে একই ভার্সিটির নাস্তিকতার আধাঁরে থাকা এক মানবী আলোর পথে বেরিয়ে আসার অবলম্বন হিসেবে বেছে নেয় জামিলকে।আঁধার মানবীর আলোর পথে ফেরার নানান চড়াই উতরাই ও ট্রাজেডি নিয়েই এই উপন্যাসের আদ্যোপান্ত।
ইসলামিক উপন্যাস । বইটি পড়ে কিছুটা দ্বীনের পথে মোটিভেশন , ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা , মায়া । আসলে ইসলামিক উপন্যাস হিসেবে বইটি অসাধারণ । যারা ধর্মের মোটা মোটা বই পড়তে অনিচ্ছুক তারা এটি পড়তে পারেন । অবশ্যই ভালো লাগবে ১০০%
লেখকের প্রথম বই হিসেবে বইটি দারুণ এবং প্রশংসার দাবিদার। 2019-এ এটা আমার প্রথম পড়া বই। ইসলামিক উপন্যাস পড়ি না তবে এটা ভালো লেগেছে। লেখার মান ভালো কিন্তু পর্বগুলা ছোট ছোট 223 পৃষ্ঠার বই অথচ পর্ব 68।
ইসলামিক-মহলে মাহিন মাহমুদ খুব জনপ্রিয় একজন লেখক। এত এত রিভিউ, আলোচনা-সমালোচনা যার বই ঘিরে তার লেখা না পড়লে হয় না বলেই দুটি বই খরিদ করে���িলাম বছরখানেক আগে। আঁধার মানবী আর প্রাসাদপুত্র।। আমার লিস্টের একাধিক ব্যক্তির থেকেও ভদ্রলোকের লেখার খুব প্রশংসা শুনি! কিন্তু উনার লেখা আমাকে পুরোপুরি হতাশ করল। লেখক হুমায়ূন আহমেদের লেখা ভেজে খেয়েছেন বলে মনে হল। অনুকরণটা ভালোই করেছেন । বর্তমানে ইসলামিক লেখকরা গদ্য-প্রবন্ধে অনেক শক্তিশালী হলেও উপন্যাসে কেউ আহামরি কিছু উপহার দিতে পারিনি আমার মনে হয়। যতগুলো উপন্যাস পড়লাম একটাও তেমন ভালো লাগেনি।
ইসলামিক ভাবধারার উপন্যাস, এককালে ফেসবুকে পর্ব আকারে লেখার পর বই আকারে বের হয়।
সাদামাটা সেই পুরোনো গল্প! ঢাবি পড়ুয়া একজন নাস্তিকের মেয়ে জেরিন আর একজন প্র্যাক্টিসিং মুসলিম ছেলে জামিলকে নিয়েই উপন্যাসটা শুরু। . বাবার মতো নাস্তিকতায় জর্জরিত ছিল জেরিন, ইসলামিক মাইন্ডের মানুষের প্রতি ছিল সুতীব্র বিদ্বেষ। পারিবারিক ধর্মবিরোধীতা মননে-মগজে ধারণ করা জেরিন পাইনি কখনও আলোর দেখা। কিন্তু একসময় কিছু ঘটনা মুসলিমদের ব্যাপারে ভাবতে বাধ্য করে, ইসলাম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয় এবং জেরিনের ভিতর ঘটে ব্যাপক পরিবর্তন। জামিলের প্রতি জেরিনের দুর্বলতা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়, ঘটনাক্রমে তা বিয়েতে রূপ নেয়। বিয়ে পরবর্তী পরিণতি হয় পুরনো শত্রুতার কারণে জামিলের মৃত্যু! . . জেরিনের বাবা হাসান ফারুকের জীবনের নানান অতীত সামনে আসে একসময়। জেরিন জানতে পারে নূরজাহান নামে তার এক বোন আছে গ্রামে থাকে। গ্রামে নূরজাহানের বিয়ে ঠিক হয় জামিলের সাথে। বোনের কথা ভেবে জামিলকে বিয়ে করা থেকে বিরত হয় নুরজাহান। . মেয়ের ইসলামের দিকে এগিয়ে চলা ভালোভাবে নিতে পারেনি জেরিনের বাবা হাসান ফারুক। কৌশলে জামিলকে জেল পর্যন্ত নিয়ে যান তিনি। মেয়ের সাথে ঝাগড়ার ফলে করে ফেলেন স্ট্রোক। হাসপাতালের বিছানায় হয় মৃত্যু! . . . উপন্যাসটাই জামিল চরিত্রটাকে অতিরঞ্জিত করে তুলে ধরছে লেখক। এটা যে কারও বিরক্তিকর মনে হবে। আমার কাছে বোরিং লাগছে।
যতটুকু মনে পড়ে একসময় বইয়ের কিছু অংশ নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছিল। বইয়ের কিছু জায়গায় লেখক নিজের বিদ্বেষী মনোভাব পোষণ করেছেন। যেমন- জাকির নায়েকের লেকচার দেখা, নামাযে বুকে হাত বাধা নিয়ে। এই পয়েন্টগুলো এড়িয়ে গেলেই ভালো হইতো।
আশা রাখি লেখক নেক্সট ভালো কোনো বই উপহার দিবে পাঠকদের। শুভ কামনা লেখকের জন্যে। যদি কোনোভাবে হাতে আসে পড়ে দেখব।
কিমধিকমিতি...
বই - আঁধার মানবী লেখক - মাহিন মাহমুদ প্রকাশনী - মাকতাবাতুল হাসান সংস্করণ - ২য়, অক্টোবর ২০১৮ মূল্য - ২৪০/- পৃষ্ঠা - ২২৩ ব্যক্তি রেটিং - ১.৫/৫